কবি তড়িৎ দাশগুপ্তর কবিতা
*
শিক্ষানীতি যুগে যুগে
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১
.৭.২০২২।

শিক্ষা নহে পণ্যদ্রব্য, মূল্যের অতীত
জানি সুনিশ্চিত
এ জাতীর মেরুদণ্ড, ধারকবাহক
হয়ে সহায়ক
দীনতা, নীচতা লুপ্ত করি অবশেষে
চলে নির্বিশেষে।

গ্রহিত হয়েছে সে তো, নিষ্ঠা সহকারে
যুগযুগ ধরে
সত্যের সন্ধানে, শিক্ষা চলে অবিরত
হয় না সীমিত
বিদীর্ণ করিয়া দেয়, সে অজানা পথ
থামে না সে রথ।

বৃহস্পতি পুত্র কচ স্বর্গলোক ছাড়ি
যে শিক্ষার লাগি,
এসেছিল হয়ে অনুরাগী,
দৈত্যপুরে উন্মুক্ত প্রান্তরে
বিশ্ব প্রকৃতির সাথে, করি পরিচয়
হইতে উদয়।

গুরুকুল, টোল শিক্ষা ব্রহ্মচর্য মেনে
একান্ত গোপনে
রীতি, নীতি, উপদেশ, প্রথা আচরণ
করিয়া স্মরণ
স্তরে স্তরে বাঁধা ছিল শিক্ষার উদ্যোগ
করিতে প্রয়োগ।

যুগ যুগ ধরে চলে, এই পরিণতি
হোল তার ইতি
যবে বোঝা গেলো, শিক্ষাই বাড়াবে স্থিতি
কমাবে দুর্গতি
জীবিকার সাথে হোল শিক্ষার বন্ধন
নূতন জীবন।

বিদ্যালয় এলো পরে, খুলে গেলো দ্বার
শিক্ষার আধার
কক্ষ মাঝে বদ্ধ হোল, শিক্ষার চেতনা
করিতে সাধনা
নিরন্তর পড়ে থাকা, বিদ্যার সন্ধানে
শুধু আনমনে।

ইংরেজি মাধ্যমে আছে অনেক সুযোগ
এই অভিযোগ
সাথে নিয়ে, বাংলা হয়ে আছে উপেক্ষিত
করিতে উদ্দীপ্ত,
কিছু কি নূতন চিন্তা আসিবে সামনে
ভাবি মনে মনে।

জন্মগত অধিকার যে শিক্ষার তরে,
কৌতুহল ভরে
ছুটিয়াছে এতদিন, ধীর পদক্ষেপে
অনন্ত আবেগে
সে আশা হবে কি পূর্ণ, আসিবে কি জয়
হব কি নির্ভয়।
বৈচিত্রের মাঝে ঐক্য, শুনি এই বাণী
তাই সত্য জানি
নূতন শিক্ষার নীতি, করিতে সংস্কার,
আনিবে জোয়ার
শিক্ষা মাঝে থাকিবে কি, ভাষার বিভেদ
রবে না তো খেদ।

শিক্ষা মানে বিভাজন, স্বজন পোষণ
হউক বর্জন
বন্ধ হোক ভাষা নিয়ে, সমস্ত হতাশা
যেন পাই আশা
শিক্ষানীতি হোক, এক নূতন সোপান
চলুক সন্ধান।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
করোনার শেষ প্রহর
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরের
"করোনা ভাইরাস ও পরিযায়ী শ্রমিকের দেয়ালিকায়" এই কবিতাটি পড়তে  
এখানে ক্লিক করুন . . .
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৮.২০২০।

ক্রোধ জ্বালা বাড়ে নিত্যদিন
অহরহ জাগিতেছে মনে, কবে আসিবে সুদিন।
কবে পাব সমাপ্তির পথ
ভঙ্গ হবে মারণ রোগের, এই চলমান রথ।
ক্ষুদ্র পরমাণু তুমি, কোন অস্ত্রে রয়েছ সজ্জিত
রক্তচক্ষু অহঙ্কারে মত্ত
চরিত্র বদল করে,
অচেনা অদৃশ্য মূর্তি ধরে
প্রতি ঘরে ঘরে
ছড়িয়াছ কোন অধিকারে,
স্বপ্ন সব করেছ মলিন
এনেছ দুর্দিন।

স্তব্ধ আজ বিপন্ন প্রকৃতি
করোনার রুদ্ররোষে বিদীর্ণ হয়েছে সব স্মৃতি।
অশান্তিতে পূর্ণ আজি মন
বসে সব গৃহকোণে থেমে গেছে যত উন্নয়ন।
পুত্র, কন্যা, বন্ধু সব অকস্মাৎ চলে গেছে দূরে
দুরত্ব বজায় রাখিবারে,
সাথেতে এসেছে মাস্ক,
পরিহার করি সব লাজ
ভোগান্তি অশেষ
অক্সিজেন বাজারে নিঃশেষ,
পরীক্ষায় কত যে অমিল
হয়েছে মুস্কিল।

মন্দা সাথে এসেছে আকাল
উর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্য, নিম্নমুখী জীবিকার হাল।
এরি মধ্যে আনিয়েছে গতি
আসল নায়ক যাঁরা মনে আসে তাঁহাদের স্মৃতি।
মহান কর্মের সাথে যুক্ত যাঁরা, করিব স্মরণ
মৃত্যু যারা করেছে বরণ
দিবা রাত্রি যুদ্ধ করি,
জয়লাভে ভাসায়েছে তরী

প্রাণ বিসর্জন
সব কিছু করিয়া বর্জন
সর্বস্তরে স্বাস্থ্যকর্মী যত,
হয়েছেন গত।

বিজ্ঞানীরা সমবেত হয়ে
ভেঙে দেবে সে শৃঙ্খল, মুক্ত করি যাহা আসে ধেয়ে।
সমাপ্তির পথে এ দুর্দিন
কেটে যাবে অধীর প্রতীক্ষা, এসে যাবে ভ্যাকসিন।
পৃথিবীর বৈজ্ঞানিক, একত্রিত করেছে সবারে
তোমায় পরাস্ত করিবারে,
পরিহার করি লাজ
সম্পন্ন করিব সব কাজ
করিব সাধন,
সব কিছু করিয়া লঙ্ঘন
সর্বসুখে থাকিবে জগৎ
ইহাই শপথ।

.              ****************              
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
দামামা
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১
.৭.২০২২।

তখন ছোট ছিলেম আমি স্কুলে পড়তাম
দল বেধে ছুটির পরেই ঘরে ফিরতাম।

রাস্তায় দেখি একদিন বেজায় ব্যস্ত লোক
ছোটোছুটি করে সবাই মনের মধ্যে শোক।

সামনে দেখি পড়ে আছে অচেনা একজন
লোকমুখে শুনছি সেটা সাপেরই দংশন।

বলছে সবাই ওঝা এসে মন্ত্র পড়ে দেবে
মুহূর্তের সাথে মৃতদেহ জ্যান্ত হয়ে যাবে।

দেখতে গেলাম সামনে ওঝার কেরামতি
নানা রকম জিনিসে সে করছে মাতামাতি।

নানা রকম মশলা আর সঙ্গে জড়িবুটি
আসছে খাবার ঘন ঘন নেই কোন ক্রুটি।

ফু ফা ফা করছে ওঝা দেখছে সবাই চোখে
সাপ নাকি বিষ তুলে নেবে আস্ত নিজ মুখে।

অনেক চেষ্টা করল ওঝা ফল শূন্য হোল
বললো শেষে হলুদটায় খুব ভেজাল ছিল।

কেউ বলছে ওঝাই ঠিক কেও বলে ভ্রান্ত
চুপটি করে বসে কেও থাকে শুধুই শান্ত।

এই প্রথার হয় নি শেষ চলে রমরমা
কুসংস্কারের অন্ধকারেই বাজছে দামামা।

.              ****************              
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
একালের কথা
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১
.৭.২০২২।

গত দুই দশকের মাঝে
এসেছে জোয়ার কত, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি সাথে।
শিক্ষা মাঝে শুরু হল নূতন প্রয়াস,
চারিদিকে ভেসে উঠে দারুন উচ্ছ্বাস
পরম উল্লাস।
হারালো শৈশব তারা, সামনে সারিতে আছে যারা
আমাদের ভবিষ্যৎ, নূতন প্রজন্ম এরা।
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব
সঙ্গে সাথে প্রিন্টার আরও কত অ্যাপ।
এসেছে নতুন বিজ্ঞাপন,
চোখ ঝলসানো সেই কোচিং সেন্টারের আমন্ত্রণ
বিচলিত করে,
কোথা যাই, কিযে করি, শ্রেষ্ঠ শিক্ষা লব্ধ করিবারে।

শিক্ষাক্ষেত্রে এই বিবর্তনে,
বিধ্বস্ত পড়ুয়া আজ ছুটে চলে শুধু প্রাণপণে।
আসে কত অঙ্গীকার, কত স্বপ্ন সাথে
আসে সে তো, পূর্ণতার ডালি নিয়ে হাতে
সামনে দাড়িয়ে।
বিরাট অঙ্কের বিনিময়ে, সিলেবাস পূর্ণ করে দেবে
দরকারে সমস্ত দায়িত্ব তারা নেবে,
মাতা পিতা খুশি সব জেনে
প্রয়োজনে অর্থ দিতে কুণ্ঠা নাই মনে।
সাঁতার, গিটার সাথে গান
ফটোগ্রাফি, পিয়ানো, অঙ্কন মাঝে হইবে সম্মান
পায়নি সুযোগ
পিতা মাতা, সন্তানের মাঝে তাহা করিবে প্রয়োগ।

চলা ফেরা অতি গর্ব ভরে
কভু দেখা হয়, কুশল জানিতে চাই, সকলেরে
“হাই”, “হ্যালো” বলে চলে যায় ঊর্ধ্বশ্বাসে
মোবাইলে চোখ রেখে অসীম বিশ্বাসে
ভুলে যায় সব।
ভুলে বাল্যকাল, কৃষ্টি, সৃষ্টি, অতীতের সে সংস্কৃতি
মাসি, পিসি, মামী আন্টি হয় রাতারাতি
মেসো, মামা, কাকা, পিসে সব
হঠাৎ তাঁরা, আংকেলে হয়েছে সরব
ভাই, বোন হারায় নিমিত্তে
অহঙ্কারে বিদ্ধ হয়ে, থাকে ওরা বিচ্ছিন্ন জগতে
ভেসে চলে তারা,
শুরু আছে শেষ নাই, সেই পথে, হয়ে আত্মহারা

অবশেষে আসে ফলাফল,
তথ্য আসে, কেহ বা সফল আর কেও বা নিষ্ফল।
সফলতা পেয়ে, তারা ভর্তির দাবিতে
ছুটে চলে, সেই স্থানে দুরন্ত গতিতে
নির্দিষ্ট কলেজে।
পড়া শেষে চলে যায় ভিন রাজ্যে, অথবা বিদেশে
দেখা যায় নাকো আর, এ দরিদ্র দেশে
একাকিত্ব, নির্জনতা মাঝে,
কাটায় জীবন, কিছু বাকি যারা সত্যি মেধা আছে,
উঠে আসে সুউচ্চ শিখরে
আর যারা থেকে যায়, নাম উঠে বেকারের ঘরে
অসহ্য যন্ত্রণা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হবে তাহা, ছিল না কল্পনা।

বিস্ময়ের নাই পরিসীমা
একালের উন্নতির পরিমাপ, সে এক গরিমা
রাস্তা, ঘাট, বিদ্যুৎ, চিকিৎসার গতি
উন্নত মানের শিক্ষা এনেছে প্রগতি
এসেছে পূর্ণতা।
চন্দ্র, সূর্য, যত গ্রহ আয়ত্বে এসেছে একালে,
পরমাণু বোমা সেও, মোদের কবলে।
নেট, ফেসবুক, টুইটারে
এসেছে বিপ্লব সমাজের প্রতিস্তরে।
ডিজিট্যালে চলে গেছি মোরা
তবু আজ মনে হয় সব কাজ হয় নিকো সারা
অশনি সংকেতে,
জনসংখ্যা, অপুষ্টি, অশিক্ষা, মিলায়েছে সেই স্রোতে।

.              ****************              
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সেকালের কথা
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১
.৭.২০২২।

বহু বর্ষ কেটে গেছে অশান্ত পৃথিবী মাঝে
মনে আসে নূতন আলোকে
পুরাতন সে স্পন্দন নিত্য হয় জাগরণ
জেগে উঠে অপূর্ব পুলকে।
সেই সুর ভেসে আসে অনন্ত আকাশে
সুখ স্মৃতি উঁকি দেয় নূতন আবেশে
আনন্দের বার্তা হয় আবর্তিত মনের মন্দিরে
জাগে আজ হৃদয় মাঝারে।

জীবনের কত কথা মনে হয়ে আছে গাঁথা
পুরাতন স্মৃতি জাগে মনে
সে সকল অনুভূতি জাগায় যে কত স্মৃতি
জমে আছে হৃদয়ের কোণে।
আত্মীয় স্বজন সব করিয়া আপন
শুধু প্রীতি, ভালোবাসা করেছি অর্জন
বিভেদ বুঝিনি কভু, শুধু সুখ মধূর্য্যের ডালা
হয়ে আছে পূর্ণতার মালা।

একসাথে বসবাস তাতে ছিল যে সুবাস
ছিল অতি মধুর জীবন
সে কথা ভাবিলে মনে, স্বস্তি আসে নিজ প্রাণে
মনে আসে অপূর্ব প্লাবন।
কত না ভাই বোন একসাথে ধাওয়া
স্বজনদের মাঝে কত কিছু পাওয়া
মাসী, পিসী, মামী যত আর সব আত্মীয়স্বজন
মিলে মিশে কাটিত জীবন।

যাহাই পড়িত পাতে খেতে হোত মাথা পেতে
পছন্দের ছিল না প্রকাশ
'বিলাসের কোন কথা উচ্চাশার কোন বাধা
ছিল নাকো কোন দীর্ঘশ্বাস।
দুঃখ হোক, সুখ হোক একসাথে মোরা
চলিয়াছে চলমান জীবনের ধারা
আজও সুখ দুঃখের মাঝে, কিম্বা বিপদের দিনে
সবাই দাঁড়ায় মনে প্রাণে।

আজ শুধু আসে মনে একান্তই সংগোপনে
'সব কিছু মনে দেয় হানা
সেই সুর আসে দ্বারে অনন্ত আকাশ পারে
মনে হয় শুধুই কল্পনা।
সকলকে সঙ্গী করে চলিতাম ধীরে
হারা জেতা যত কিছু বাঁধা ছিল শিরে
মূল্যবোধ সঙ্গে নিয়ে অবিরাম কাটিত জীবন
ভাঙ্গিত না মোদের বন্ধন।

ছোট ছিল সিলেবাস পড়ত না নাভিশ্বাস
ছিল নাকো বিরাট উচ্চাশা
বড়দের কাছ থেকে জানা যেত সব তাতে
কেটে যেত সমস্ত হতাশা।
প্রাইভেট মাস্টার হোত না দরকার
স্নেহভরা বড়োদের খোলা ছিল দ্বার
হিংসা, লোভ, প্রতারণা, না ছিল দ্বেষ, ঘৃণা, বঞ্চনা
ছিল শুধু অভয়, সাম্তনা।

পড়াকে সাথে নিয়ে খেলাধুলা সঙ্গ করে
ব্যস্ততাতে কাটিত সময়
আবৃত্তি, কবিতা, পদ্য সংস্কৃতির মাঝে বদ্ধ
সব স্মৃতি আজও অক্ষয়।
এগিয়ে যেতাম ধীরে সকলের সাথে
হারজিৎ ভুল ভ্রান্তি চলে যেত ভেসে
সীমিত পরিধি মাঝে করিতাম বিচরণ মোরা
তারি মাঝে হয়ে আত্মহারা।

বর্ষ শেষ হোত গত অনেকেই চলে যেত
উচ্চশিক্ষা লাভ করিবারে
পড়ে থাকিতাম মোরা ছোট যারা ছিল তারা
পূর্বসূরীদের পথ চেয়ে।
রেশ এর থেকে যেত বহুদিন ধরে
স্মৃতি সব মুছিত না আলো বা আঁধারে
নিজ নিজ যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেত সব
পূর্ণ হোত মোদের গৌরব।

.              ****************              
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শিক্ষক জীবন
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১
.৭.২০২২।

শিক্ষা শেষে শিক্ষক জীবন,
করিলাম পদার্পণ
দিগন্ত, বিস্তীর্ণ পথে হাঁটা
ভেদ করে কাঁটা।
এই সেই চলমান জগতের সাথে আনন্দেতে,
কেটেছে ছাত্রের মাঝে পরম তৃপ্তিতে
নিত্য নতুন উল্লাসে,
অপার আনন্দে, অনন্ত আভাসে।
কত স্মৃতি বিজড়িত মনে
একান্ত গোপনে,
জাগে আজ কত শত স্মৃতি
কত অনুভূতি আনে আনন্দের দ্যুতি।
অনেকে প্রশ্ন করে “এতদিন একই, বস্তু নিয়ে,
জীবন কাটিয়ে
কি গৌরবে, কি আনন্দে কাটালে জীবন
যাতে ভরে মন”
বলেছি তাদের “বস্তু এক, ছাত্র ভিন্ন”
সেটাই অনন্য।

আজি এই অবসর দিনে
ছাত্ররা রেখেছে মনে,
ডেকেছে তাদের অনুষ্ঠানে
কিংবা নিমন্ত্রণে।
দেখা হয়ে যায় সেই পুরাতন ছাত্রদের সাথে
রাস্তা কিংবা বাজারের মাঝে, অতর্কিতে
ফিরিয়া তাকিয়ে মোর পানে
নমস্কার করে অতি সন্তর্পনে,
“স্যার, চিনিতে পারেন” কহে মোরে
দিশাহারা হয়ে,
আমি তাকাই তাহার পানে
ছাত্র বোঝে, পরিচয় দেয় ততক্ষণে
ভাবি, কত না সম্পদ অর্জন করেছি পৃথিবীতে
নিজের অজান্তে
স্বপ্ন সম মনে হয় এদের সাফল্য
করে যে প্রফুল্ল
দূর হয়ে যায় যা আছে হীনমন্যতা
যত সংকীর্ণতা

বহু আগে হয়েছে সমাপ্ত
শিক্ষাদান, আজি ব্যাস্ত
মন চলে, কিসের অন্বেষণে
একান্ত গোপনে
ছুটে চলে যায়, শিক্ষা লাভে কত শিশু কত স্তরে
এসেছিল ছাত্র হয়ে নূতন শিক্ষার তরে
দুরন্ত, বদমাইশ, দুষ্ট
তীক্ষ্ণমেধা, বুদ্ধিদীপ্ত, শিষ্ট
বিদ্যা লাভ করিতে অর্জন,
করে সমাপন
বিদ্যাশেষে ফিরে গেছে তারা
লক্ষ্যভেদে অচিরেই উঠে গেছে ওরা
বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেশ থেকে দেশান্তরে শেষে
অসীম উল্লাসে
আমাদের শিক্ষাদানে করেছে সম্মান
দিয়ে প্রতিদান
প্রতিস্তরে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে নিজ গুনে
কৃতিত্ব অর্জনে।

.              ****************              
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কর্মকাল
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১
.৭.২০২২।

মধুময় বাল্যকাল চলে গেছে,
অতি সন্তর্পনে
শুরু হয় বিদ্যালাভ পৌঁছে যাই
কিশোর জীবনে।
বিদ্যালাভে তৃপ্ত হয়ে আনন্দিত মনে
চলে আসি অজান্তেই অজানা যৌবনে।
ডাক আসে কর্মক্ষেত্র থেকে
অন্দরে প্রবেশ করি সফল ও পূর্ণতার খোঁজে,
জয় হবে ছিল সে বিশ্বাস
শূন্যতার মাঝে পূর্ণ হবে আকাশ বাতাস।
সহজ ছিল না সে পথের রেখা
নিত্য তারে খুঁজে গেছি সে সব ভাগ্যের লেখা
আপন আবেগে কর্তব্যের টানে
এগিয়ে চলতে হয় আপনার মনে,
ফিরে তাকানোর কভু হয় নি সুদিন
সোজা পথে চলিয়াছি সে তো অন্তহীন।

চেষ্টা শেষে অবশেষে একদিন
খুলে যায় দ্বার
আসে যে আলোর আভা কেটে যায়
সব অন্ধকার।
অকস্মাৎ কর্মমাঝে হলাম বন্ধন
সকলের আশীর্বাদ করিয়া অর্জন।
নিদারুণ প্রবল উচ্ছ্বাসে
চিনত যেন নিমিত্তেই পূর্ণ হোল নূতন উল্লাসে
মাতা পিতা সকলের মাঝে
অতঃপর পরিচিত হতে হয় বর বধূ সেজে
রাগ, তাপ, ত্যাগ করিয়া বর্জন
সুখ, দুঃখ ভাগ করে কাটাতে জীবন।
অঙ্গীকার সাথে, কর্তব্য পূরণে
সর্বদাই থাকি ব্যস্ত কিছু নাই মনে।
হাজার ঝামেলা আসে কর্তব্য সাধনে
পূর্ণ তা করিতে হয় কর্তব্যের টানে।

পূর্ণতার মাঝে শেষে ধেয়ে আসে
আনন্দের ক্ষণ
মাতা কিংবা পিতা রূপে প্রতিষ্ঠিত
হলাম যখন।
অহরহ লেগে থাকা সে পথ অজানা
কিছু মেলে, সব কিছু যায় নাকো চেনা।
সে এক বিচিত্র অনুভূতি
মন প্রাণ নেচে উঠে জেগে উঠে বাঁচিবার স্তুতি
বাড়িয়েছি সাহায্যের হাত সকলের মাঝে
কখনো ভরেছে পূর্ণতার থালা
কখনো বা এসেছে আঘাত বাড়িয়েছে জ্বালা।
ধীরে ধীরে বড়ো হয় সন্তান সন্ততি
নিজ পায়ে দাঁড়ানোর নেয় তো প্রস্তুতি।
প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওরা বাড়ায় উচ্ছ্বাস
স্বস্তি আসে মনে জাগে চরম উল্লাস।

.              ****************              
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
করোনার বিড়ম্বনা
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১
.৭.২০২২।

করোনাকে ভয় করো না
শুনছি বারে বারে
মনের থেকে সরে নাকো
থাকছি অন্ধকারে।

কোথা থেকে এলো আপদ
ভাবে জগৎবাসি
ঠিকানা তো নেই কোথাও
ভাষণ রাশি রাশি।

কপালগুণে করোণার
জম্ম নয় এ দেশে
কতই না বিদ্রুপ, হোত
কি না বলতো হেসে।

বিজ্ঞানের বিস্ময়কর
আছে যে সব দেশ
মুখ পুড়েছে সবাকার
বেড়েই চলে ক্লেশ।

বিজ্ঞানের সে জয়যাত্রা
সব হয়েছে স্তব্ধ
নিত্য নতুন তত্ত্বতেও
হয়নি ওরা জব্দ।

স্যানিটাইজার ও মাস্ক
আর কত কি কাণ্ড
অচেনা তুমি হে করোনা
সব করলে পণ্ড।

'জব্দ করেছ, অবিচারে
করেছ সঙ্গীহীন
মাস্ক এনে বাধ্য করলে
হলাম অর্বাচীন।

অভিশাপের মাঝে দেখি
আশীর্বাদের বাণী
সজীব করলে বিশ্বকে
সেকথা মোরা মানি।

চিড়িয়াখানায় পশুরা
যেমন জালে বদ্ধ
লকডাউনের কৃপায়
মোরা হলাম জব্দ।

কাজেতে কোথায় না গিয়ে
তাকে করেছি রপ্ত
ধনীদের চেয়ে আজও
গরীব পাকাপোক্ত।

মুনি, ঋষি, পণ্ডিতদের
জ্ঞান হয়েছে শূন্য
স্বাস্থকর্মীরা কাজ মাঝে
হয়েছেন অনন্য।

ফিরে যাও তুমি করোনা
রাখ তোমার শক্তি
মুক্ত করে দাও মোদের
আসুক মনে স্বস্তি।

.              ****************              
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রাজনীতি
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
রচনা ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯। মিলনসাগরে প্রকাশ ১
.৭.২০২২।

অনেক দিন আগের কথা,
ছন্দহীন মানুষের দল,একসাথে চেয়ে নিরাপত্তা
সৃষ্টি করে নুতন সমাজ,
সঙ্গবদ্ধ হয়ে বাঁচার, সেএক অভিনব সাজ।
শৃঙ্খলায় বদ্ধ করে,আনা হোল  নুতন শাসন
শুরু হল রাষ্ট্রের গঠন,
সংগঠিত প্রশাসন,
রাষ্ট্র মাঝে এল জাগরণ,
কত কি বঞ্চনা,
মুছে দিতে সমস্ত যন্ত্রণা।
এ শাসনে থাকিল না আশা,
সবই নিরাশা,
কত বাদ, তন্ত্র, পন্থী, নীতি
পূর্ণতার বার্তা নিয়ে, এ সমাজে এল রাজনীতি।
রাজনীতি বিষাক্ত নর্দমা,
চরম দূষণ,জঘন্য জঞ্জালে ভরা, নেই পরিসীমা।
ভোট দিতে কারো মনে ভীতি
কেহ বলে চাহিব না, করিব না এই রাজনীতি।
ঘরে আমি বসে রব,অন্যেরা করিয়া দেবে সব
ত্রুটি হলে হইব সরব,
নিজেকে আড়ালে রেখে,
স্বস্তি নাই রাজনীতি থেকে,
জীবন অঙ্গনে,
বাঁধা রবে অচ্ছেদ্য বন্ধনে।
যতই চাইবে তুমি মুক্তি,
নেই তো নিষ্কৃতি,
এ বন্ধন অতি সর্বনাশা,
আলো নেই শুধু অন্ধকার, কেড়ে নেয় সব আশা।
বিষাক্ত জঞ্জাল যত সব,
না দেখার ভান করে,যদি সব থাকিবে  নীরব,
নর্দমার পরিষ্কার কাজ
কে করিবে দূষণমুক্ত,মুছে দিয়ে সব লাজ।
সুধী, জ্ঞানী, মেধা যত উঁচুস্তরে বসে আছে যারা,
দুর্নীতির প্রতিবাদে তারা,
সুশাসন অন্বেষণে ,
এক সাথে আসুক প্রাঙ্গনে,
প্রবল বঞ্চনা,
মুছে দিয়ে সমস্ত যন্ত্রণা।
দুর্নীতির করে অবসান,
বাড়িয়ে সম্মান,
সমাজে আসুক নব দিশা,
সকলের সাথে,সবাকার মাঝে আসুক প্রত্যাশা।
মুখ ফিরে যদি সব থাকি,
সমাজের সংশোধনে,সকলেই মারি নাকো উঁকি
সমাজের দুর্নীতির সাথে,
যদি না জানাই প্রতিবাদ,যদি চলি উল্টো পথে,
চলে যাবে দেশ দুর্বৃত্তের হাতে, হবে অঘটন
উপেক্ষিত হবে জনগণ।
রাজনীতি করে যাঁরা,
নীতি ও আদর্শে পূর্ণ তারা
তাঁহাদের কাছে,
ভালো এঁরা সমাজের মাঝে
জানাব মোদের সমর্থন,
পূর্ণ হবে মন,
কর্মপন্থা করিব স্মরণ,
এটুকু দেখাই যদি, দেশে হবে নব  জাগরণ।

.              ****************              
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হারানো বাল্যকাল
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
বর্তমান কালে শিশুদের মানসিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে লেখা। রচনা ১২ই এপ্রিল, ২০২১।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১
.৭.২০২২।

হে নিষ্ঠুর বসুন্ধরা,ছিনিয়ে নিয়েছ বাল্যকাল
সব যেন পাল্টে গেছে, জীবনের একাল সেকাল
এসেছে সংকট শিশুমনে
চিন্তাগ্রস্ত,মৌনমুখী,প্রতিবাদী থাকে সর্বক্ষনে
মুক্তচিন্তা করে বিসর্জিত
একগুয়ে,অহঙ্কারী মন, সর্বদাই রয়েছে অশান্ত।
কৈশোরের আনন্দ নির্মূল
মূল্যবোধে টানাটানি হারায়েছে যেন সব কূল
মনে হয় সব অপ্রতুল।
পাল্টে গেছে জীবনের ধারা
সতেজ তারুণ্য লুপ্ত, বাকরুদ্ধ হয়ে আছে তারা
বেড়েছে বিচ্ছেদ সবা মাঝে
তারা আছে
সব কিছু দিয়ে বিসর্জন,
জানেনা কিভাবে তারা, করিবে অর্জন
হবে জাগরণ।
শুধু চাপ, হীনমন্যতা,নাকি শুধু উচ্চাভিলাষ
জীবনের শুরুতেই কেন পড়ে, এত নাভিশ্বাস
হারিয়েছে আপন শৈশব
হারিয়েছে যতকিছু ধরিত্রীর সমস্ত গৌরব
পড়ে থাকে এক গৃহকোণে
মোবাইল,ল্যাপটপ, একাকীত্ব সঙ্গে নিয়ে মনে।
হতাশাই, উচ্চাশাই সার
সৃষ্টি,কৃষ্টি,সামাজিক মেলামেশা রুদ্ধ সব দ্বার
কিসে হবে এর প্রতিকার।
কে ফেরাবে হারানো বিশ্বাস
কে পারে খন্ডিতে তাহা, মনে আছে যত অবিশ্বাস।
এদিকে আনিতে হবে কাছে
সবা মাঝে,
ফিরিয়া অনিতে হবে শ্বাস,
বিনাশ করিতে হবে সব অবিশ্বাস
ফেরাতে আশ্বাস।
মানিব না আমাদের প্রজন্মের  এই অস্থিরতা
পূর্ণতা আনিতে হবে ভেঙে দিয়ে সমস্ত শুন্যতা,
সে পথ খুবই সুকঠিন
জানি তাহা, সব বাধা ভেদ করে, আনিব সুদিন।
পর্বত সমান উচ্চাশার
হোক অবসান, বড় সিলেবাস হোক পরিহার।
বাবা মা'র সুউচ্চ প্রত্যাশা,
বন্ধ হোক কঠিন শাসন, মোটা নম্বরের আশা।
নিয়মিত খেলাধুলা করা,
সমাজের মূলস্রোতে ফেরা
বন্ধুদের সাথে মেলামেশা,বিতর্কে জড়িয়ে পড়া।
এই মন্ত্রে হোক সুভাসিত
উদ্ভাসিত,
মনে প্রাণে স্বস্তির নিশ্বাস
তাহাদের সবা মাঝে, আসুক বিশ্বাস
ইহাই আশ্বাস।

.              ****************              
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর