কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
*
সাবধান! সাবধান!
আসিছে নামিয়া ন্যায়ের দণ্ড,
রুদ্র দৃপ্ত মূর্তিমান॥
ঐ শোন তাঁর গরজে কম্বু অম্বুধি যথা উচ্ছলে,
প্রলয় ঝঞ্ঝা ইরম্মদে মৃত্যু ভীষণ কল্লোলে।
হুঙ্কার শুনি গভীর মন্দ্র,
কাঁপিছে তারকা সূর্য চন্দ্র,
বিদরে আকাশ স্তব্ধ বাতাস---
শিহরি উঠিছে জগৎ প্রাণ॥
ভ্রুকুটি কুটিল রক্ত নেত্রে চিত্র ভানু উজ্জ্বলে,
উঠিছে কিরীটি গরিমা দীপ্ত ভেদিয়া সূর্য মণ্ডলে।
অগণিত করে ঝলছে কৃপাণ তপ্ত রক্ত করিতে পান ;
বলদর্পির চরণাঘাতে---
ত্রিভুবন ভীত কম্পমান॥
ত্রিভূবন জুড়ি বিরাট দেহ,
ভেবেছ কি আর পলাইবে কেহ,
এথনো চরণে শরণ লহ---
নতুবা নাহি রে পরিত্রাণ॥

.              ****************    
.                                          
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
সাবধান! সাবধান!
কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৯৮৮ - ১৯৩১)। সুর - চারণকবি মুকুন্দদাস। শিল্পী - সবিতাব্রত দত্ত। গানটি কবির লেখা "দাদাঠাকুর" নামের নাটকে যা চারণকবি
মুকুন্দদাস "আদর্শ" নামে মঞ্চস্থ করতেন। কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় এবং চারণকবি মুকুন্দদাস দুজনেই মহাত্মা অশ্বিনীকুমার দত্তর স্নেহভাজন ছিলেন এবং সেই
সূত্রে বন্ধুস্থানীয় ছিলেন। ডঃ জয়গুরু গোস্বামী সম্পাদিত “চারণকবি মুকুন্দদাস” (১৯৭২) গ্রন্থ থেকে গানটি নেওয়া হয়েছে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Sabitabrata Dutta -
Topic YouTube Channel
. গানটি ইউটিউবে শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . . । গানটি মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকায় শুনতে এখানে ক্লিক করুন...
এই গানটি সম্বন্ধে ডঃ জয়গুরু গোস্বামী তাঁর সম্পাদিত “চারণকবি মুকুন্দদাস” (১৯৭২) গ্রন্থের ৩০১-
পৃষ্ঠায় লিখেছেন . . .
“এই গানটির রচয়িতা কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। সুরকার ও যাত্রা-গীতিকার চারণ-কবি মুকুন্দদাস।
কিন্তু গানটি মুকুন্দদাসের নামে চলিয়া আসিতেছে। মুকুন্দপুত্র শ্রীকালীপদ দাস মহাশয় তাঁহার সংগৃহীত
“চারণ-কবি মুকুন্দদাসের গীতাবলী” গ্রন্থে এহ গানটি মুকুন্দদাসের গান বলিয়া চিহ্নিত করিয়াছেন
(গীতসংখ্যা - ৩৩, পৃষ্ঠা - ২৫-২৬, ১ম সংস্করণ ১৩৬৩) . . . . . . . কিন্তু কার্যতঃ এই গানটি “কবিরত্ন”
হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের। ভণিতায় কাহারও নাম না থাকায় এবং বহু যাত্রা-আসরে মুকুন্দদাস কর্তৃক
নাটকীয় ভঙ্গীতে কম্বুকণ্ঠে গীত হওয়ায় হেমকবি নেপথ্যে চলিয়া গিয়াছেন। হেমকবি দাদাঠাকুর নামে
একখানি বই লিখিয়া মুকুন্দদাসকে দেন যাহার ভিতরে “সাবধান! সাবধান!” প্রভৃতি গান রহিয়াছে।
মুকুন্দদাস বইটির কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করিয়া, নিজের লেখা কিছু গান তাহাতে যুক্ত করিয়া
“দাদাঠাকুর” নামের পরিবর্তে “আদর্শ” নাম দিয়া সমাজে প্রচার করিয়া বইখানিকে জনপ্রয় করিয়া
তোলেন।”
*
উদ্বোধন
কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৯৮৮ - ১৯৩১)
১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য্য কাব্য-ব্যাকরণ-পুরাণ-কৃত্যতীর্থ দ্বারা সঙ্কলিত ও সম্পাদিত,
“মাতৃবন্দনা, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত ও কবিতার সঙ্কলন” থেকে নেওয়া।

আবার যখন গান ধরেছি, গাইবো সেই গান,
বুকটা যাতে ফুলে ওঠে,
শিরায় যাতে অগ্নি ছোটে
তন্দ্রা যাতে যায় গো টুটে মাতায় যাতে প্রাণ!
অগ্নিগিরির গর্ভমাঝে সাগর গর্জ্জনে,
সিংহনাদের ঝড়ের বুকে, মেঘের তর্জ্জনে,
এদের ভেতর ওতপ্রোত,
রয়েছে সে সুরের স্রোত,
আজকে সে যে বাহির হবে, করবে প্রলয়-ভভিযান।
খধূপ সব ঊর্দ্ধে উঠে, আকাশ লুটে নেবে,
চন্দ্র-সূর্য্য অবাক হয়ে থাকবে চেয়ে সবে,---
পাখা মেলি পাখীর মতন,
বিদারিয়া ঊর্দ্ধ গগন
বিশ্বরাজের চরণতলে লভিবে নির্ব্বাণ।
গান গেয়েছি অনেক বটে, তারে কি কয় গান?
আকাশ-পৃথ্বী হ'লো না যার টলটলায়মান?
ভূমিকম্প জলোচ্ছ্বাস,
উঠলো না যার ঘূর্ণিবাতাস,
লক্ষ প্রাণের সম্মুখে যার ডাকলো নাক বান।

.              ****************    
           
.                                  
                                                             সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তুমি
কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৯৮৮ - ১৯৩১)
বিধুভূষণ গোস্বামী ও সত্যেন্দ্রনাথ ভদ্র সম্পাদিত, ঢাকা থেকে প্রকাশিত, “ঢাকা রিভিউ ও সম্মিলন” পত্রিকার
পৌষ ১৩১৮ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১১) প্রকাশিত কবিতা।

নিশার মতন                 গভীর তুমি
সন্ধ্যার মতন শান্ত ;
মধ্যাহ্ন সম                    দীপ্ত, প্রখর
প্রভাতের মত কান্ত।
বজ্র কঠোর                 ভয়াল, ভীষণ
ভৈরব-ভীম রুদ্র ;
কুসুম কোমল                 স্নিগ্ধ মধুর
বালুকণা প্রায় ক্ষুদ্র।
ভূধর সমান               সুবিশাল তুমি
গভীর সাগর সম ;
আঁধারের মত              নিবিড়, সঘন
জ্যোৎস্নার হত কম্র।

.              ****************               
.                                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অসময়ে
কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কবিরত্ন
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার মাঘ ১৩২১ (জানুয়ারি ১৯১৫) সংখ্যায় প্রকাশিত
কবিতা।

যবে তুমি ছিলে কাছে,                 বুঝিতে পারিনি তবে
তোমারে যে এত ভালবাসি ;
অবিরল-সঙ্গমাঝে                         অজানিত প্রেমটুকু
ছিল যেন চির পরবাসী।
বিরহের মাঝে আজি                    আঁখি জলে অসময়ে
দে'ছে প্রেম আপনারে ধরা ;
কিন্তু হায়! তুমি প্রিয়া,                 আর তাহা দেখিবে না
এ যে মোর মিছে কেঁদে মরা !

.              ****************               
.                                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
পরিণতি
কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৯৮৮ - ১৯৩১)
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩২৫ (মে ১৯১৮) সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা।

(১)
সার্থক হয়েছে মোর নয়নের জল
যত ব্যথা, ক্ষতি, দুঃখ হয়েছে সফল।
একি দেখি আজি নাথ তব কণ্ঠদেশে
মণিমালা হয়ে' অশ্রু উঠিতেছে হেসে!

(২)
হৃদয়ের ক্ষত-মুখে যত রক্ত-ধারা
ঝরিয়াছে দিবারাতি বাধাবন্ধহারা
একি দেখি আজি তব চরণ-কমলে
অলক্তক হয়ে' তাহা গরবে উজলে !

(৩)
আমার কালিমা যত তোমার নয়নে
অঞ্জন হইয়া শোভে নিকষ বরণে
কাতর বিলাপ মোর তোমার বীণায়,
রাগিণী হইয়া বাজে সুখ-বেদনায়!

.              ****************               
.                                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মরণানুভূতি
কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কবিরত্ন
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার আষাঢ় ১৩২৫ (জুন ১৯১৮) সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা।

দিবসের আঁখি পরে, নিদ্রা ব্যাধি হানি'
যায় যবে রক্তরবি ; বিশ্ব দেয় টানি
গাঢ় কৃষ্ণ-যবননিকা, বিচিরতাময়
অগণন দৃশ্য 'পরে, করে সমুদয়
একীভূত, এক শুধু মহা অন্ধকারে ---
তখনি হৃদয় নিজের অজ্ঞাতসারে
কম্পিত হইয়া উঠে ভয়ে কি বিস্ময়ে ;
মুদি'আসে আঁখি, বাণী যায় মূক হয়ে'
থেমে আসে যেন ধীরে প্রাণের স্পন্দন
মরণেরে অনুভব করে এ জীবন !

.              ****************               
.                                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হৃদয়-ভাণ্ডার
কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কবিরত্ন
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার ভাদ্র ১৩২৫ (অগাস্ট ১৯১৮) সংখ্যায় প্রকাশিত
কবিতা।

গভীরা রজনী ভাগে,             কেহ কোথা নাহি জাগে
জোছনার কোলে শুয়ে প্রকৃতি-বালিকা
ঘুমাইছে নিরালায়                 কৌমুদী মাখিয়া গায়
ভালে পরি' চন্দ্রমার দিব্য ললাটিকা।

সুষমা উছলি যায়,                 কেহ নাহি দেখে তায়
সৌন্দর্য্যের অজস্রতা, ব্যর্থ অপব্যয়!
স্থির শান্ত নভোময়                 জাগিছে জ্যোতিষ্কচয়
আর শুধু জেগে আমি, এ হেন সময়!

হেনকালে ওরে প্রাণ,                 আয় তোর মর্ম্মস্থান
খুঁজে দেখি ; তোর এই গোপন-ভাণ্ডারে
কোথা কি সঞ্চিত আছে---     কেহ কোথা নাহি কাছে---
কেহ কিছু জানিবে না এ বিশ্ব-সংসারে।

আপনাতে আপনার,                 আসিবার, ডুবিবার
এই শুধু যোগ্যকাল---প্রশান্ত গম্ভীর
চঞ্চল, দিনের মাঝে                 রত হয়ে' শত কাছে
আপনা হারায়ে ফেলি উন্মাদ অস্থির।

এ যে অতি পুরাতন,                  গ্রন্থ---চির সনাতন
অদ্ভুত রহস্য এর বিচিত্র অক্ষর
প্রতিদণ্ডে লহমায়,                      কত বর্ণ গরিমায়
ফুটিতেছে অবিরত ভাবের লহর।

চিরস্তন এ ভাণ্ডার,                  কিছু না হারায় তার
অনাদি কালের এক বিরাট সঞ্চয়
পরিপূর্ণ হয়ে আছে                  মহাকাল বসি কাছে
নির্নিমেষ প্রহরায় মেলি আঁখিদ্বয় !

.              ****************               
.                                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
গোপাল
কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৯৮৮ - ১৯৩১)
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার কার্ত্তিক ও অগ্রহায়ণ ১৩২৫ (অক্টোবর-নভেম্বর
১৯১৮) সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা।

হেরিলাম সন্ধ্যাবেলা সেই গো-পালকে
পুরাতন, পরিচিত। অস্পষ্ট আলোকে
ঘুরিতেছে ত্রস্তপদে অশ্রপূর্ণ আঁখি
---আদরে, আগ্রহে নাম ধরে ‘ডাকি’ ‘ডাকি’---
ক্ষুদ্র এক দলচ্যুত হৃত বৎস তরে
শত গাভী দূরে রাখি ব্যাকুল অন্তরে !
কৌতুহলে জিজ্ঞাসিনু তাঁরে---উপেখিয়া
শত ধেনু, ক্ষুদ্র এক বৎসরের লাগিয়া
ঘুরিতেছ কেন এত? কহিল রাখাল---
“হারায়ে গিয়াছে সে যে, ছেড়ে গেছে পাল!”
চিনিসু গোপালে তবে ; এই গোপালন।
কাঁদিয়া স্মরিনু মনে --- “পতিতপাবন !”

.              ****************               
.                                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বর্ষশেষে
কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কবিরত্ন
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার বৈশাখ ১৩২৬ (এপ্রিল ১৯১৯) সংখ্যায় প্রকাশিত
কবিতা। বানান যেমনটি পাওয়া গেছে।

অনন্ত কালের চোখে একটি নিমেষ ---
দিবা শেষ হয়ে' আসে ; আলোকের শেষ।
শেষ হ'ল মধুমাস। ধরার নয়ন
মুদি' আগে ধীরে ; শেষ বিদায়-চুম্বন
ভাতিছে ললাটে তার সন্ধ্যা-তারা-রূপে
জীবনের শেষ-সাধ চলে গেছে চুপে !

শেষ দিন বরষের। এই শেষ বার
খেয়া-তরী লয়ে' নেয়ে চলিল ওপার
শেষ শিখা-শ্মশান বহ্ণির, নদী তীরে,
নিবে' আসে। সর্ব্বশেষে চলিয়াছে ধীরে
মুছি শেষ অশ্রুনীর আপনার জন
শেষ করি উচ্চকণ্ঠে করুণ ক্রন্দন।

কি ভাবিছ বসি' ? সব শেষ হয়ে' আসে
শুধু শেষ হয়নি পথের! পথ-পাশে
কেন চাহো বিছাতে শয়ন ; উঠ যাত্রী
অন্তহীন অজানিত পথে আসে রাত্রি।
লক্ষ্য নাই, অমিশ্রাম@ হইবে চলিতে
ক্লান্ত দেহে রিক্তকরে দ্বিধাপূর্ণ চিতে!
দূর কর অসার কল্পনা, মিথ্যা আশা
কোথা গৃহ? বুক ভরা লয়ে' ভালবাসা

রয়নি' বসিয়া কেহ তব প্রতীক্ষায়
জ্বালি দীপ, রচি শয্যা নিঃসঙ্গ সন্ধ্যায়।

কি দেখিছ ঊর্দ্ধে চাহি? অনন্ত আকাশে
কি অর্থ খুণজিয়া মরে হতাশে তরাসে
শ্রান্ত-পক্ষ আঁখি-পাখী তব? চিরস্থির---
মানবের সুখে দুঃখে অটল গম্ভীর
আসিবে না হোথা হ'তে সদর-আশ্বাস
ওযে এক অট্টহাস্য, মহা উপহাস !
আছে পথ, লক্ষ্য তার নাহি। আছে কাল
নাহি শেষ। বুনিতেছি কলনার জাল
জীবন-উদ্দেশ্য সম বর্ষ শেষ সেবে
এ যে চির বর্ত্তমান কোথা শেষ হবে
কে করিছ হিসাব-নিকাশ? না জানিয়া
শেষ ফল, কিবা হবে ভালোমন্দ দিয়া?
নাহি সুখ, নাহি দুঃখ, পাপপুণ্য নাহি!
নাই কিছু নাই ! কালার্ণবে অবগাহি
চলেছি অতলে। এই সত্য---চলিয়াছি
আর কিছু নাই থাক্‌, আমি কিন্তু আছি।

@ অমিশ্রাম - আমাদের অনুমান এই শব্দটি “অবিশ্রাম” হবে। সম্ভবত মুদ্রণপ্রমাদ।

.              ****************               
.                                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মালা গাঁথা
কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কবিরত্ন
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার আষাঢ় ১৩২৬ (জুন ১৯১৯) সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা।

সে দিন প্রভাত                         বড়ই কোমল
তরল আলোক ঢালা
কানন মাঝারে                         গিয়াছিনু সাধে
গাঁথিতে ফুলের মালা।

প্রিয়ের গলায়                         দোলাইয়া সুখে
ফুলের কোমল হার
নিয়ড়ে বসিয়া                        সোহাগ করিয়া
হেরিব শ্রীমুখ তাঁর।

বাছনি করিয়া                          বনে বনে কত
খুঁজিলাম পাতি পাতি
কোন্‌ ফুলে তাঁরে                      মানাইবে ভালো
কোন্‌ ছাঁদে মালা গাঁথি?

হেরিনু গরবী                          গোলাপ রাণীরে
হেরিনু চম্পা-বঁধু
রজনীগন্ধা                                 টগর করবী
বুক ভর সুধা মধু।

গন্ধের রাজা                             গন্ধ রাজেরে
মনে না ধরিল মম
অবশেষে গেনু                       শেফালির কাছে
---পেলব মধুর কম---

ছুঁইতে শেফালি                         পড়িল ঝরিয়া
ঝুর ঝুর করি তলে
তিতাইল দেহ                         হায়রে আমার
শিশির-অশ্রু-জলে।

শেফালির পানে                       চাহিয়া আমার
ঝরিল নয়ন বারি
আর তো হল না                    মালা গাঁথা মোর
কুসুম ছিঁড়িতে নারি!

হেরিনু আকাশ                        হেরিনু কুসুম
চাহিনু প্রভাত পানে
সকলি তো ভালো                      নিঠুরতা শুধু
প্রকৃতিরে বাজ হানে।

ক্ষম মোরে বঁধু                    মালা গাঁথা আজি
হ'ল না হ'ল না আর
কুসুম দলিয়া                          কুসুমের গলে
কেমনে দি' উপহার?

.              ****************               
.                                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর