| কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কবিতা |
| উদ্বোধন কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৯৮৮ - ১৯৩১) ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য্য কাব্য-ব্যাকরণ-পুরাণ-কৃত্যতীর্থ দ্বারা সঙ্কলিত ও সম্পাদিত, “মাতৃবন্দনা, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত ও কবিতার সঙ্কলন” থেকে নেওয়া। আবার যখন গান ধরেছি, গাইবো সেই গান, বুকটা যাতে ফুলে ওঠে, শিরায় যাতে অগ্নি ছোটে তন্দ্রা যাতে যায় গো টুটে মাতায় যাতে প্রাণ! অগ্নিগিরির গর্ভমাঝে সাগর গর্জ্জনে, সিংহনাদের ঝড়ের বুকে, মেঘের তর্জ্জনে, এদের ভেতর ওতপ্রোত, রয়েছে সে সুরের স্রোত, আজকে সে যে বাহির হবে, করবে প্রলয়-ভভিযান। খধূপ সব ঊর্দ্ধে উঠে, আকাশ লুটে নেবে, চন্দ্র-সূর্য্য অবাক হয়ে থাকবে চেয়ে সবে,--- পাখা মেলি পাখীর মতন, বিদারিয়া ঊর্দ্ধ গগন বিশ্বরাজের চরণতলে লভিবে নির্ব্বাণ। গান গেয়েছি অনেক বটে, তারে কি কয় গান? আকাশ-পৃথ্বী হ'লো না যার টলটলায়মান? ভূমিকম্প জলোচ্ছ্বাস, উঠলো না যার ঘূর্ণিবাতাস, লক্ষ প্রাণের সম্মুখে যার ডাকলো নাক বান। . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তুমি কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৯৮৮ - ১৯৩১) বিধুভূষণ গোস্বামী ও সত্যেন্দ্রনাথ ভদ্র সম্পাদিত, ঢাকা থেকে প্রকাশিত, “ঢাকা রিভিউ ও সম্মিলন” পত্রিকার পৌষ ১৩১৮ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১১) প্রকাশিত কবিতা। নিশার মতন গভীর তুমি সন্ধ্যার মতন শান্ত ; মধ্যাহ্ন সম দীপ্ত, প্রখর প্রভাতের মত কান্ত। বজ্র কঠোর ভয়াল, ভীষণ ভৈরব-ভীম রুদ্র ; কুসুম কোমল স্নিগ্ধ মধুর বালুকণা প্রায় ক্ষুদ্র। ভূধর সমান সুবিশাল তুমি গভীর সাগর সম ; আঁধারের মত নিবিড়, সঘন জ্যোৎস্নার হত কম্র। . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অসময়ে কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কবিরত্ন কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার মাঘ ১৩২১ (জানুয়ারি ১৯১৫) সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। যবে তুমি ছিলে কাছে, বুঝিতে পারিনি তবে তোমারে যে এত ভালবাসি ; অবিরল-সঙ্গমাঝে অজানিত প্রেমটুকু ছিল যেন চির পরবাসী। বিরহের মাঝে আজি আঁখি জলে অসময়ে দে'ছে প্রেম আপনারে ধরা ; কিন্তু হায়! তুমি প্রিয়া, আর তাহা দেখিবে না এ যে মোর মিছে কেঁদে মরা ! . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পরিণতি কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৯৮৮ - ১৯৩১) কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩২৫ (মে ১৯১৮) সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। (১) সার্থক হয়েছে মোর নয়নের জল যত ব্যথা, ক্ষতি, দুঃখ হয়েছে সফল। একি দেখি আজি নাথ তব কণ্ঠদেশে মণিমালা হয়ে' অশ্রু উঠিতেছে হেসে! (২) হৃদয়ের ক্ষত-মুখে যত রক্ত-ধারা ঝরিয়াছে দিবারাতি বাধাবন্ধহারা একি দেখি আজি তব চরণ-কমলে অলক্তক হয়ে' তাহা গরবে উজলে ! (৩) আমার কালিমা যত তোমার নয়নে অঞ্জন হইয়া শোভে নিকষ বরণে কাতর বিলাপ মোর তোমার বীণায়, রাগিণী হইয়া বাজে সুখ-বেদনায়! . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হৃদয়-ভাণ্ডার কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কবিরত্ন কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার ভাদ্র ১৩২৫ (অগাস্ট ১৯১৮) সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। গভীরা রজনী ভাগে, কেহ কোথা নাহি জাগে জোছনার কোলে শুয়ে প্রকৃতি-বালিকা ঘুমাইছে নিরালায় কৌমুদী মাখিয়া গায় ভালে পরি' চন্দ্রমার দিব্য ললাটিকা। সুষমা উছলি যায়, কেহ নাহি দেখে তায় সৌন্দর্য্যের অজস্রতা, ব্যর্থ অপব্যয়! স্থির শান্ত নভোময় জাগিছে জ্যোতিষ্কচয় আর শুধু জেগে আমি, এ হেন সময়! হেনকালে ওরে প্রাণ, আয় তোর মর্ম্মস্থান খুঁজে দেখি ; তোর এই গোপন-ভাণ্ডারে কোথা কি সঞ্চিত আছে--- কেহ কোথা নাহি কাছে--- কেহ কিছু জানিবে না এ বিশ্ব-সংসারে। আপনাতে আপনার, আসিবার, ডুবিবার এই শুধু যোগ্যকাল---প্রশান্ত গম্ভীর চঞ্চল, দিনের মাঝে রত হয়ে' শত কাছে আপনা হারায়ে ফেলি উন্মাদ অস্থির। এ যে অতি পুরাতন, গ্রন্থ---চির সনাতন অদ্ভুত রহস্য এর বিচিত্র অক্ষর প্রতিদণ্ডে লহমায়, কত বর্ণ গরিমায় ফুটিতেছে অবিরত ভাবের লহর। চিরস্তন এ ভাণ্ডার, কিছু না হারায় তার অনাদি কালের এক বিরাট সঞ্চয় পরিপূর্ণ হয়ে আছে মহাকাল বসি কাছে নির্নিমেষ প্রহরায় মেলি আঁখিদ্বয় ! . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মালা গাঁথা কবি হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কবিরত্ন কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার আষাঢ় ১৩২৬ (জুন ১৯১৯) সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। সে দিন প্রভাত বড়ই কোমল তরল আলোক ঢালা কানন মাঝারে গিয়াছিনু সাধে গাঁথিতে ফুলের মালা। প্রিয়ের গলায় দোলাইয়া সুখে ফুলের কোমল হার নিয়ড়ে বসিয়া সোহাগ করিয়া হেরিব শ্রীমুখ তাঁর। বাছনি করিয়া বনে বনে কত খুঁজিলাম পাতি পাতি কোন্ ফুলে তাঁরে মানাইবে ভালো কোন্ ছাঁদে মালা গাঁথি? হেরিনু গরবী গোলাপ রাণীরে হেরিনু চম্পা-বঁধু রজনীগন্ধা টগর করবী বুক ভর সুধা মধু। গন্ধের রাজা গন্ধ রাজেরে মনে না ধরিল মম অবশেষে গেনু শেফালির কাছে ---পেলব মধুর কম--- ছুঁইতে শেফালি পড়িল ঝরিয়া ঝুর ঝুর করি তলে তিতাইল দেহ হায়রে আমার শিশির-অশ্রু-জলে। শেফালির পানে চাহিয়া আমার ঝরিল নয়ন বারি আর তো হল না মালা গাঁথা মোর কুসুম ছিঁড়িতে নারি! হেরিনু আকাশ হেরিনু কুসুম চাহিনু প্রভাত পানে সকলি তো ভালো নিঠুরতা শুধু প্রকৃতিরে বাজ হানে। ক্ষম মোরে বঁধু মালা গাঁথা আজি হ'ল না হ'ল না আর কুসুম দলিয়া কুসুমের গলে কেমনে দি' উপহার? . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |