মিলনসাগরে কবি ঋত্বিক ঘটকের কবিতার পাতা তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য।
উত্স -
- সুরমা ঘটক, "ঋত্বিক", আশা প্রকাশনী।
- ঋতবান ঘটক সম্পাদিত "ঋত্বিক ঘটকের গল্প", ১৯৮৭।
- ঋত্বিককুমার ঘটক, "নিজের পায়ে নিজের পথে", সংকলন ও বিন্যাস সন্দীপন ভট্টাচার্য, ২০১০।
- শিশিরকুমার দাশ সম্পাদিত সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী।
- অঞ্জলি বসু সম্পাদিত সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, ২য় খণ্ড।
- বাংলা উইকিপিডিয়া ।
- কবির কবিতা স্ক্র্যাপের দোকানে পাওয়ার সংবাদ The Telegraph, 23.9.2019।
- ঋত্বিক ঘটক ও সুরমা দেবীর বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র কেমন ছিল? দেখে নিন সেই চিঠি, বাংলা হিন্দুস্থান
টাইমস।
- It’s not true that Ritwik took to alcohol out of frustration: The late Surama Ghatak, by Zinia Sen,
timesofindia.indiatimes.com, May 9, 2018
- বেলায়াত হোসেন মামুন, “বাঙালিত্বের অহঙ্কার ঋত্বিক কুমার ঘটক”, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম,
নভেম্বর ৩, ২০১৩।
- "ঋত্বিক ঘটকঃ জীবন, কর্ম ও দর্শন" অরিন্দম গুস্তাভো বিশ্বাস, ৩০ ডিসেম্বর ২০১২-২১ জানুয়ারী ২০১৩,
খুলনা, ঢাকা, etokkhonearindam.blogspot.com।
- "বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ ঋত্বিক ঘটক", অধিকার.নিউজ।
- "জন্ম শতবর্ষের আলোয় সঞ্জীব দত্ত", সাজ্জাদ কাদির, জুলাই ৩১, ২০১৯, খোলাকাগজবিডি.কম।
কবি ঋত্বিক ঘটকের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
১টি কবিতা নিয়ে এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১৪.৯.২০২২
. ^^ উপরে ফেরত
...
কবি ঋত্বিক ঘটক - এর সিনেমা ও জীবনী, বহু
ওয়েবসাইট খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন, যাঁদের মধ্যে
এই পাতার নীচে দেয়া উৎস-তে কয়েকটি ওয়েবসাইটের
নাম উল্লেখ করেছি। মিলনসাগরে আমরা তাই এই কবি
এবং বিশ্ববিখ্যাত ফিল্মমেকারের একটি সংক্ষিপ্ত কবি-
পরিচিতি দিয়ে তাঁর লেখা কবিতা সম্বন্ধে কিছু কথা তুলে
ধরেছি।
কবির পরিবার - পাতার উপরে . . .
কবির পুরো নাম ঋত্বিক কুমার ঘটক। তিনি জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার পাবনা জেলার ভারেঙ্গা
গ্রামে, তাঁদের দেশের বাড়ীতে। তাঁর থেকে মাত্র সাত মিনিট পরে জন্মগ্রহণ করেন তাঁর যমজ বোন প্রতীতি
দেবী। এঁদের ডাকনাম ছিল ভবা ও ভবি। পিতা সুরেশ চন্দ্র ঘটক এবং মাতা ইন্দুবালা দেবী। পিতা সুরেশ
চন্দ্র কর্মসূত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং এরেবারে সাহেবদের মতো জীবনযাপন করেও তিনি কবিতা ও
নাটকও লিখতেন। কবি মণিশ ঘটক ছিলেন কবির বড়দা। লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী ছিলেন কবির বড়দা
মনিশ ঘটকের কন্যা এবং কবির থেকে মাত্র দু মাসের ছোটো। সেই সূত্রে মহাশ্বেতা দেবীর স্বামী কবি বিজন
ভট্টাচার্য ছিলেন কবি ঋত্বিক ঘটকের ভাইঝি জামাই এবং ফ্যাতারু খ্যাত কবি নবারুণ ভট্টাচার্যর তিনি
ছোটদাদু ছিলেন।
১৯৫৫ সালের ৮ই মে রবিবার অর্থাৎ ২৪ বৈশাখ ১৩৬২, সরমা দেবীর সঙ্গে কবি বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন।
তাঁদের দুই কন্যা শুচিস্মিতা ও সংহিতা এবং পুত্র ঋতবান। সরমাদেবীর কাকাবাবু ছিলেন সাহিত্যিক কবি
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঋত্বিক ঘটকের যমজ বোন প্রতীতি দেবীর বিয়ে হয় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী, গান্ধীজীর ডাকে ভারত
ছাড়ো আন্দেলনের সৈনিক, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ, ভাষা আন্দোলনের যোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদ
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তর পুত্র বাংলাদেশের খ্যাতনামা অভিনেতা, শিল্প সমালোচক, কবি, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক ও
সাময়িকী সম্পাদক সঞ্জীব দত্তর সঙ্গে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এবং তাঁর ছোট পুত্র
শহীদ দিলীপ কুমার দত্তকে পাক সেনারা তুলে নিয়ে গিয়ে ময়নামতি সেনানিবাসে হত্যা করে ১৯শে মার্চ
১৯৭১ তারিখে। (মিলনসাগরে মুক্তিযুদ্ধের প্রায় সাতশো কবিতা ও গানের সংকলন . . .)
কবির শিক্ষাজীবন - পাতার উপরে . . .
কবির স্কুলজীবন শুরু হয় পাঁচ বছর বয়সে ময়মনসিংহ মিশন স্কুলে। তারপর কলকাতার বালিগঞ্জ
গভর্নমেন্ট স্কুলে ক্লাস থ্রি থেকে পড়া শুরু করেন। ক্লাস ফোর-ফাইভ থেকে পড়েছেন রাজশাহীর গভমেন্ট
কলেজিয়েট স্কুলে। রাজশাহীতে কিছুদিন পড়ার পর তাঁকে দাদা মনীশ ঘটক, তাঁকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে
পদ্মপুকুর ইনস্টিটিউশন স্কুলে ভর্তি করে দেন। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় তাঁকে কানপুরের টেকনিক্যাল
স্কুলে পাঠানো হয়। সেখানে ঋত্বিক প্রথমবার শ্রমিকদের দুঃখ কষ্ট কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। সেখানে
তিনি শ্রমিকদের ওভারটাইম আদায়ের একটি আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর পরিবার এতে চিন্তিত হয়ে
তাঁকে কানপুর থেকে এনে পুনর্বার কলকাতার পদ্মপুকুর ইনস্টিটিউশনে ভর্তি করে দেন। সেখান থেকেই
ম্যাট্রিক পাশ করার পরে, কবি রাজশাহী কলেজ থেকে আই.এ এবং ১৯৪৮ সালে বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ
থেকে ইংরেজী অনার্স নিয়ে বি.এ ডিগ্রি লাভ করেন।
কবির কর্মজীবন - পাতার উপরে . . .
১৯৫০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজিতে এম.এ কোর্স শেষ করেও পরীক্ষা দেননি পার্টির
(কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইণ্ডিয়া) কাজ করবেন বলে। ১৯৪৮ সালের মধ্যেই তিনি অভিনয় নিয়ে “অভিধারা”
নামে একটি পত্রিকা বার করেন এবং একটি অর্ধসমাপ্ত উপন্যাস রচনা করেন, কয়েকটি গল্পের সঙ্গে।
বিজন ভট্টাচার্য, শম্ভু মিত্র, মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ সবার সাথেই তাঁর চেনা-
পরিচিতি থাকলেও তিনি তখনও গণনাট্য সংঘে যোগ দেন নি। ১৯৪৪ সালে বিজন ভট্টাচার্যের “নবান্ন”
নাটকটি দেখার পরেই তিনি গণনাট্য সংঘ বা আই.পি.টি.এ-তে (IPTA Indian People’s Theatre Association)
যোগদান করেন। ঋত্বিক ঘটকের পরিচালিত নাটকের মধ্যে রয়েছে “জ্বালা”।
শুরু হয় তার সিনেমা তৈরী ও জীবন সংগ্রাম। বহু ওয়েবসাইট খুব সুন্দভাবে তাঁর জীবনী ও সিনেমা তুলে
ধরেছেন, যাঁদের মধ্যে এই পাতার নীচে দেয়া উৎস-তে কয়েকটি ওয়েবসাইটের নাম উল্লেখ করেছি।
মিলসাগরে আমরা তাই এই কবি ও বিশ্ববিখ্যাত ফিল্মমেকারের একটি সংক্ষিপ্ত কবি-পরিচিতি দিয়ে তাঁর
লেখা কবিতা সম্বন্ধে কিছু কথা তুলে ধরেছি।
ঋত্বিক ঘটক ১৯৬৫ সালে অল্প সময়ের জন্য মহারাষ্ট্রের পুনে শহরে বসবাস করেন পুণে ফিল্ম
ইন্সমটিটিউটের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে ও পরবর্তীকালে ভাইস-প্রিন্সিপাল হিসেবে। তাঁর বিশিষ্ট ছাত্র-
ছাত্রিদের মধ্যে উল্লেখনীয় মণি কাউল, কুমার সাহানী, কে.টি. জন, শত্রুঘ্ন সিন্হা, রেহানা সুলতান, মহাজন,
ধ্রুবজ্যোতি প্রমুখরা।
তাঁর “যুক্তিতক্ক আর গপ্পো” ছায়াছবি নির্মাণের কিছুকাল পর ঋত্বিক ঘটক মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে
ফেলেন। এই অবস্থায় প্রায় তিনটি বছর মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যেই তাঁর
লেখালেখি, নাটক ও সিনেমার কাজ চলতে থাকে। ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়। ৬ই ফেব্রুয়ারী তারিখে কিংবদন্তী চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটক মৃত্যু বরণ করেন।
কবির পরিচালিত চলচ্চিত্র - পাতার উপরে . . .
ঋত্বিক ঘটকের পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে . . .
“নাগরিক” (তৈরী ১৯৫২, মুক্তি ১৯৭৭), “অযান্ত্রিক” (১৯৫৮), “বাড়ী থেকে পালিয়ে” (১৯৫৮), “মেঘে ঢাকা তারা”
(১৯৬০), “কোমল গান্ধার” (১৯৬১), “সুবর্ণরেখা” (তৈরী ১৯৬২, মুক্তি ১৯৬৫), “তিতাস একটি নদীর নাম”
(১৯৭৩), “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো” (১৯৭৭)।
স্বল্পদৈর্ঘিক চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্রর - পাতার উপরে . . .
ঋত্বিক ঘটকের স্বল্পদৈর্ঘিক চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্রের মধ্যে রয়েছে . . .
“দ্য লাইফ অফ দ্য আদিবাসিজ” (১৯৫৫), “প্লেসেস অফ হিস্টোরিক ইন্টারেস্ট ইন বিহার” (১৯৫৫), “সিজার্স”
(১৯৬২), “ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান” (১৯৬৩), পুণে ফিল্ম ইনসমটিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল থাকার সময়ে করা
“ফিয়ার” (১৯৬৫) এবং “রঁদেভু” (১৯৬৫), “সিভিল ডিফেন্স” (১৯৬৫), “সায়েন্টিস্টস অফ টুমরো” (১৯৬৭), “ইয়ে
কওন” (হোয়াই / দ্য কোয়েশ্চন, ১৯৭০), “আমার লেলিন” (১৯৭০), “পুরুলিয়ার ছৌ (দ্য ছৌ ড্যান্স অফ
পুরুলিয়া, ১৯৭০), বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে “দুর্বার গতি পদ্মা” (দ্য টার্বুলেন্ট পদ্মা, ১৯৭১) মিলনসাগরে,
মুক্তিযুদ্ধের কবিতা গানের দেয়ালিকায় এই ছবিটি দেখতে . . .
কবির কাহিনী ও চিত্রনাট্যের চলচ্চিত্র - পাতার উপরে . . .
ঋত্বিক ঘটকের লেখা কাহিনী ও চিত্রনাট্যের চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে . . .
“মুসাফির” (১৯৫৭), “মধুমতী” (১৯৫৮), “স্বরলিপি” (১৯৬০), “কুমারী মন” (১৯৬২), “দ্বীপের নাম টিয়ারং”
(১৯৬৩), “রাজকন্যা” (১৯৬৫), “হীরের প্রজাপতি” (১৯৬৮)।
কবির অসমাপ্ত ছায়াছবি ও তথ্যচিত্রর - পাতার উপরে . . .
ঋত্বিক ঘটকের অসমাপ্ত ছায়াছবি ও তথ্যচিত্রের মধ্যে রয়েছে . . .
“বেদেনি” (১৯৫১), “কত অজানারে” (১৯৫৯), “বগলার বঙ্গদর্শন” (১৯৬৪-৬৫), “রঙের গোলাপ” (১৯৬৮),
“রামকিঙ্কর” (১৯৭৫), “আদিবাসিয়োঁ কা জীবন স্রোত” (১৯৫৫)।
ঋত্বিক ঘটকের প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননা - পাতার উপরে . . .
ঋত্বিক ঘটকের প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননার মধ্যে রেয়ছে . . .
ভারত সরকারের ১৯৬৯ সালে পদ্মশ্রী সম্মান। ১৯৫৭ সালে মুসাফির চলচ্চিত্রের জন্য ভারতের ৫ম জাতীয়
চলচ্চিত্র পুরস্কারে তৃতীয় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য সার্টিফেকেট অফ মেরিট। ১৯৫৯ সালে হিন্দী ছায়াছবি
মধুমতী-এর জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকারের ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। ১৯৭০ সালে “হীরের প্রজাপতি” চলচ্চিত্রের জন্য
শিশুতোষ চলচ্চিত্র পুরস্কার, প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক। ১৯৭৪ সালে “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো” চলচ্চিত্রের জন্য
শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৭৪ সালে “তিতাস একটি নদীর নাম”
চলচ্চিত্রের জন্য সেরা পরিচালক বিভাগে বাচসাস পুরস্কার।
ঋত্বিক ঘটকের কবিতা - পাতার উপরে . . .
লেখালেখির মধ্যে থেকেও তাঁর মনে হয়েছিলো যে সিনেমাই সেই মাধ্যম যাতে বেশী সংখ্যক মানুষকে
প্রভাবিত করা যায়। বেলায়াত হোসেন মামুন তাঁর “বাঙালিত্বের অহঙ্কার ঋত্বিক কুমার ঘটক” প্রবন্ধে
লিখেছেন . . .
. . . ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রে আসার কথা ছিল না। তিনি অনেক কিছু হতে পারতেন। যে কোনো
কিছু হয়ে ওঠার প্রতিভা, যোগ্যতা এবং সুযোগ তাঁর ছিল। কিন্তু তিনি হলেন চিত্রস্রষ্টা। কিভাবে? শুনি
তাঁর নিজের কথায় . . .
“আমি প্রথমে কবিতা লিখতাম। তারপর গল্প-উপন্যাসের জগতে এলাম। কিন্তু চারপাশের বদমাইশির বিরুদ্ধে
অনেক চিৎকার আমার মনের মধ্যে সম্বিত দিলো। তখন ভাবলাম নাটকের মাধ্যমে মানুষের সামনে
ঘটনাগুলো সোজাসুজি পৌঁছে দেওয়া যাবে। তাই নাটক নিয়ে পড়লাম। তারপর দেখলাম যে নাটক অত্যন্ত
সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যে ঘোরে। তখন মনে এল সিনেমার কথা। আমার সিনেমায় আসার একমাত্র কারণ হচ্ছে
নিজস্ব উপলব্ধিগুলো আরো সোচ্চারে বলে যাওয়া। এর বেশি কিছু নেই।”
দুর্ভাগ্যবশত তাঁর সেই সময়কার লেখা কোনো কবিতা আমাদের হাতে এসে পৌঁছোয় নি। সম্ভবত হারিয়ে
গিয়েছে। হয়তো আর কখনও পাওয়া যাবে না।
তাঁরও অনেক পরে লেখা একটি কবিতা, ফিল্ম আর্কাইভিস্ট এস.এম.এম. আউসাজা-এর উদ্ধার করা। তিনি
মুম্বাইয়ের একটি ভাঙাচোরা স্ক্র্যাপ মালেরের দোকানে সিনেমার পোস্টার খুঁজতে গিয়ে পেয়ে গিয়েছিলেন
অমূল্য কিছু জিনিস। যার মধ্যে ছিলো পণ্ডিত রবি শংকরের ছবি এবং তাঁর নিজ হাতে লেখা কিছু
মিউজিক্যাল নোটস। এছাড়াও তার মধ্যে ছিল ঋত্বিক ঘটকের নিজের হাতে লেখা ও সই করা একটি
অপ্রকাশিত কবিতা। সংবাদ The Telegraph, 23.9.2019। কবিতাটি আমরা এখনও জোগাড় করতে
পারি নি।
একটি মাত্র কবিতা বা গান আমরা পেয়েছি, ১৯৮৭ সালে ঋত্বিক মেমোরিয়াল ট্রাস্ট দ্বারা প্রকাশিত “ঋত্বিক
ঘটকের গল্প” গ্রন্থের “সড়ক” গল্পের গান।
এই একটি কবিতা দিয়েই মিলসাগরে কবি ঋত্বিক ঘটকের কবিতার পাতা তৈরী করা হলো।