.
কবির পরিবার ও ব্যক্তি জীবন - ^^ উপরে ফেরত
এই বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার, অধুনা বাংলাদেশের বগুড়া জেলায়। সেটাই বেশীরভাগ ওয়েবসাইটে লেখা থাকলেও আনন্দাবাজার পত্রিকা ও The Wall এ ডঃ বাবুল মণ্ডলের লেখায় আছে যে কবি কলকাতায় তাঁর মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা বীরেন্দ্রনাথ এবং মাতা সুনীলা দেবী। পিতা এবং তাঁর জ্যাঠামশাই ধীরেন (আনন্দবাজার পত্রিকাতে - হেমচন্দ্র) খাসনবিশ ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁরা জেল খেটেছিলেন। তাঁর জ্যাঠামশাইকে ব্রিটিশরা ফরিদপুর জেলে হত্যা করে। (কবির পিতা ও জ্যাঠামশাইয়ের কারাবাস সম্বন্ধে আর কোনো তথ্য যদি কারও কাছে থাকে, আমাদের কাছে পাঠাতে অনুরোধ করছি। আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ প্রেরকের নাম সহ তা এখানে উল্লেখ করবো।)
টিভি৯বাংলা.কম ওয়েবসাইটে কবির খুড়তুতো বোন বৈশালী রায়ের একটি সাক্ষাৎকার থেকে জানা যাচ্ছে যে তাঁদের পরিবারের আসল পদবি খাসনবিশ। কবি, চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময় থেকে মজুমদার পদবি ব্যবহার করতে শুরু করেন। তাঁর আত্মীয়স্বজনের জমি ছিলো উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সের মেটেলি, বাতাবাড়ি ও ময়নাগুড়িতে। কবির ছোট ভাই অরুণ খাসনবিশ মেটেলি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
১৯৬৫ সালে “একটুকু বাসা” এবং “আলোর পিপাসা” ছবিতে প্রথম তরুণ মজুমদারের সঙ্গে কাজ করেন অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়। তারপরই তাঁরা বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। ২১.৭.১৯৬৭ তারিখে তরুণ মজুমদার ও সন্ধ্যা রায়ের রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়। তার এক বছর পর বিয়ে হয় আনুষ্ঠানিক ভাবে। দুর্ভাগ্যবশতঃ প্রায় ২৫ বছর বিবাহিত জীবনের পরে ৯০এর দশকে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। নায়িকা সন্ধ্যা রায়, তরুণ মজুমদারের অন্তত ২০টি ছায়াছবিতে অভিনয় করেছেন। .
কবির পরিবারের বগুড়ার বাস তুলে কলকাতায় আসা - ^^ উপরে ফেরত
কবিদের আদিনিবাস বগুড়া ছিলো মুসলমানপ্রধান এলাকা। কিন্তু কোনো দিন তাঁদের মনে হয়নি যে হিন্দু ও মুসলমান দুটি আলাজা জাতি। আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি শৈশবের স্মৃতিচারণমূসক সাক্ষাৎকারে তরুণ মজুমদার জানিয়েছিলেন যে তাঁদের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই জসীমউদ্দীন রোজ স্কুলে ধুতি পড়ে আসেতেন এবং স্কুলের সরস্বতী পূজাতে নিজে তদারকি করতেন। তাঁর সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরার অভ্যাস জসীমউদ্দিন স্যারকে দেখেই।
কালিওকলম.কম ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সুশীল সাহা ও শৌভিক মুপোপাধ্যায়কে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে কবি জানান যে ১৯৪৫ সালে তাঁরা সবকিছু ছেড়ে কলকাতায় চলে আসতে বাধ্য হন, কারণ বাইরে থেকে অচেনারা গিয়ে হিন্দুদের উপরে অত্যাচার শুরু করেছিলো।
এই একই ঘটনা আমরা দেখতে পাই ঢাকা জেলার বেজগাঁও থেকে দেশভাগের সময়ে চলে আসা ডাঃ শশিমোহন সেনগুপ্তর বেলাতেও। স্থানীয় মুসলমানরা তাঁদের সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু বাইরে থেকে যাওয়া অবাঙালী মুসলমানেরা তাঁদের বাধ্য করে ছেড়ে আসতে। এই ঘটনাটি আমরা উল্লেখ করেছি মিলনসাগরের “মুক্তিযুদ্ধের গান ও কবিতার দেয়ালিকার” ভূমিকার পাশে দেয়া “মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মিলনসাগর.কম এর পরিচালক মিলন সেনগুপ্তর কী সম্পর্ক?” লেখাটিতে। সেই লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .।
সম্ভবত এটাই ছিলো দেশভাগের সময়ে পূর্ববাংলার সিংহভাগ গ্রাম ও শহরের অবস্থা। .
কবির শিক্ষাজীবন - ^^ উপরে ফেরত
কবির শিক্ষাজীবন শুরু হয় বগুড়ার করোনেশন হাইস্কুলে। সেখানে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা দিয়ে স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। ম্যাট্রিকুলেশনে স্ট্যান্ড করেন ৭ম হয়ে। স্কলারশিপ পান। তারই জেরে ইন্টারমিডিয়েটে এপারে এসে কলকাতার সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল মিশন কলেজে ভর্তি হন এবং থাকা-থাওয়া বিনামূল্যে হয়ে যায়। সেখান থেকে আই.এসসি. (Intermediate of Science) পাশ করে, কেমিস্ট্রি অনার্স নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক হন।
.
কবির চলচিত্র জীবন - ^^ উপরে ফেরত
কবির কৈশোর থেকে সিনেমার প্রতি যে আকর্ষণের সৃষ্টি তা তীব্র হয় কলেজে পড়ার সময় থেকেই। ছাত্রজীবনেই সাহিত্য, সিনেমা, বাম আন্দোলন এবং ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, সলিল চৌধুরী, হেমাঙ্গ বিশ্বাস, সুচিত্রা মিত্র, দেবব্রত বিশ্বাস প্রমুখদের দেখা ও জানার সুযোগ হয়।
চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে তাঁর প্রথম যোগাযোগ শুরু হয় তাঁর মামার এক বন্ধুর স্টুডিওতে, কলকাতার পার্ক সার্কাসের ঝাউতলা লেনে। পাঁচ-ছয় দিন পরেই টেকনিশিয়ানদের আপত্তিতে তাঁকে সেই স্টুডিও ছাড়তে হয়।
এরপর তিনি একটি ফিল্ম পাবলিসিটি কনসার্নের চাকরিতে যোগ দেন, যাঁদের সঙ্গে মহানায়িকা কানন দেবীরও যোগাযোগ ছিল। তিনিই তরুণ মজুমদারকে তাঁর ইউনিট "শ্রীমতী পিকচার্স"-এ বিনা মাইনের অ্যাপ্রেন্টিস হিসেবে নিয়েছিলেন। তখন তৈরি হচ্ছিল “মেজদিদি” ছায়াছবি। এখানেই তাঁর পরিচয় হয় অন্য দু'জন অ্যাপ্রেন্টিস শচীন মুখার্জি এবং দিলীপ মুখার্জির সঙ্গে। কানন দেবীর আশীর্বাদ এবং উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের অভয়দান ও প্রেরণায়, তাঁরা তিনজন মিলে, যৌথভাবে, 'যাত্রিক' নামে পরিচালনার জগতে প্রবেশ করলেন। তাঁদের পরিচালিত প্রথম ছবি উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত “চাওয়া পাওয়া” (১৯৫৯)। এরপর “স্মৃতিটুকু থাক” (১৯৬০), “কাঁচের স্বর্গ” (১৯৬২), “পলাতক” (১৯৬৩) প্রভৃতি ছবি। এর পরে তিনি নিজের একক পরিচালনায় সিনেমা তৈরি করা শুরু করেন।
১৯৬৫ সালে তিনি তাঁর এককভাবে পরিচালিত “আলোর পিপাসা” ও “একটুকু বাসা” ছবি দুটি নির্মাণ করেন। তাঁর পরিচালিত অন্যান্য বাংলা ছবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য, “বালিকা বধূ” (১৯৬৭), “নিমন্ত্রণ” (১৯৭১), “কুহেলি” (১৯৭১), “শ্রীমান পৃথ্বীরাজ” (১৯৭৩), “ফুলেশ্বরী” (১৯৭৪), “ঠগিনী” (১৯৭৪), “সংসার সীমান্তে” (১৯৭৫), “গণদেবতা” (১৯৭৮), “দাদার কীর্তি” (১৯৮০), “শহর থেকে দূরে” (১৯৮১), “অমর গীতি” (১৯৮৪), “ভালবাসা ভালবাসা” (১৯৮৫), “পথভোলা” (১৯৮৬), “আগমন” (১৯৮৮), “পরশমণি” (১৯৮৮), “আপন আমার আপন” (১৯৯০), “পথ ও প্রাসাদ” (১৯৯১), “আলো” (২০০৩), “ভালোবাসার অনেক নাম” (২০০৭)-সহ আরও বেশ কিছু কাহিনিচিত্র।
তিনি হিন্দিতে “রাহগির” (১৯৬৯) এবং “বালিকা বধূ” (১৯৭৬) ছবিদুটি তৈরি করেন। ১৯৯৪ সালে ওড়িয়া ভাষায় তিনি “আকুহা কথা” নামে একটি কাহিনচিত্র নির্মাণ করেন। তিনি কয়েকটি তথ্যচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ও টেলি-ধারাবাহিকও তৈরি করেন। তথ্যচিত্রের মধ্যে উল্লেখ্য --- ১৯৮৫ সালে “অরণ্য আমার”, ২০০১ সালে “রাঙামাটির পথ”, ২০০৫ সালে “ও আমার দেশের মাটি” এবং ২০১৮ সালে “অধিকার”। তাঁর পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিদুটি হল, “ডাক দিয়ে যাই” (২০০৯) ও “তবু মনে রেখো” (২০১৮)। ইটিভি বাংলা চ্যানেলে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে ৫২ পর্বের “দুর্গেশনন্দিনী” টেলিধারাবাহিক পরিচালনা করেন ২০১৪-২০১৫ সময়কাল পর্যন্ত।
.
তরুণ মজুমদারের নির্মিত ছায়াছবির গান - ^^ উপরে ফেরত
সংগীত, কবি তরুণ মজুমদারের নির্মিত ছায়াছবির চিরন্তন সম্পদ।
তাঁর পরিচালিত সব কটি বাংলা ও হিন্দি কাহিনিচিত্রের (১৯৫৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল) গানের সংকলন শুনতে এই ইউটিউব প্লে-লিস্টে ক্লিক করুন। ইউটিউব অন্বেষণে সংগ্রাহক ও সংকলক: রাজেশ দত্ত। এখানে ক্লিক করুন . . .
.
কবির প্রাপ্ত সম্মাননা ও পুরস্কার - ^^ উপরে ফেরত
তরুণ মজুমদার চারটি জাতীয় পুরস্কার, সাতটি বি.এফ.জে.এ (বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন) সম্মান যার মধ্যে ১টি সেরা গীতিকারের জন্য (১৯৮৯), পাঁচটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ও একটি আনন্দলোক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ভারত সরকার তাঁকে ১৯৯০ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেন।
.
কবি তরুণ মজুমদারের কবিতা - ^^ উপরে ফেরত
তিনি তাঁর সিনেমার জন্য বেশ কিছু গান নিজেই লিখেছিলেন। আমরা কবি রাজেশ দত্তর কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ তিনি এই কবির লেখা দশটি গান আমাদের পাঠিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে 'ফুলেশ্বরী', 'ঠগিনী', 'সংসার সীমান্তে', 'গণদেবতা', 'পরশমণি, 'আগমন', 'আপন আমার আপন' এবং 'পথ ও প্রাসাদ' ছায়াছবির গান।
কবি তরুণ মজুমদার 'পরশমণি' ছায়াছবির জন্য ২টি গান লিখেছিলেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে শিল্পী অমিত কুমার, ডায়না দাস ও সুজাতা সরকারের কণ্ঠে। ১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত, তাঁর পরিচালিত, তাপস পাল, শতাব্দী রায়, সন্তু মুখোপাধ্যায় অভিনীত এই ছবির জন্য ১৯৮৯ সালে তিনি “সেরা গীতিকার” হিসাবে “বি.এফ.জে.এ” বা “বেঙ্গলি ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোশিয়েশন” পুরস্কারে ভূষিত হন। এই পুরস্কারই তাঁর কবিতা ও গানের মানের উচ্চতা ইঙ্গিত করছে।
এছাড়া কবি তরুণ মজুমদারের রচিত আরও গান ও কবিতা রয়েছে কি না তা আমাদের জানা নেই। যদি কেউ তা আমাদের পাঠান, তাহলে আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ প্রেরকের নাম উল্লেখ করে তা এই পাতায় সংযোজন করব।
.
লেখক তরুণ মজুমদার - ^^ উপরে ফেরত
চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি কবি তরুণ মজুমদারের লেখালেখি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর রচিত দু-খণ্ডের স্মৃতিকথাধর্মী বই “সিনেমাপাড়া দিয়ে” (প্রকাশক দেজ পাবলিশিং, ২০২১) একটি আকর গ্রন্থ। সুখপাঠ্য এই বইটিতে তিনি সিনে-জগতে তাঁর সুবিস্তৃত জীবনের যাত্রাপথের সুন্দর বর্ণনা করেছেন সহজ, স্বচ্ছন্দ ভাষায়, সাবলীল লেখনীতে স্বল্প কথায়। এ বইয়ে তিনি তাঁর চলচ্চিত্র জীবনের বহুবিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন বৈঠকি আঙ্গিকে। “দেজ পাবলিশিং” থেকে চলচ্চিত্র ও শিল্পকলা বিষয়ে ২০১৭ সালে ও ২০১৮ সালে প্রকাশিত তাঁর লেখা আরও দু'টি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম “বাতিল চিত্রনাট্য” এবং “নকশিকাঁথা”।
কবি তরুণ মজুমদার ছিলেন একাধারে চলচ্চিত্রের কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা এবং গীতিকার।
.
জীবনাবসান ও মরণোত্তর দেহদান - ^^ উপরে ফেরত
কবি তরুণ মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যা ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। ২০২২ সালের ১৪ জুন থেকে কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মাঝে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়, কিন্তু ২রা জুলাই থেকে অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। অবশেষে ৪ জুলাই ২০২২ (সোমবার) বেলা ১১টা ১৭ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মরণোত্তর দেহদানের তাঁর ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে “এসএসকেএম হাসপাতাল”-এ দান করা হয় তাঁর চোখের কর্নিয়া ও মরদেহ।
.
বন্ধুবর হেমন্ত মুখার্জীর মূর্তি এবং তরুণ মজুমদার - ^^ উপরে ফেরত
২৬.৯.১৯৮৯ তারিখে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে ১৯৯৮ সালে তাঁর স্মৃতিতে, প্রখ্যাত ভাস্কর শিল্পী সুরজিৎ দাসের তৈরি করা, অরুন্ধতী হোম চৌধুরী, শিবাজী চট্টোপাধ্যায় , শ্রী চন্দ্রমৌলীর নেতৃত্বে "গীতগীতাঞ্জলি" সংস্থার উদ্যোগে কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ে তাঁর একটি ১১ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এঁদের সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন পরিবহন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর স্ত্রী শ্রীমতী রমলা চক্রবর্তীর সংস্থা "পথের পাঁচালী"ও।
মূর্তিটি নির্মাণের কাজ চলার সময় তরুণ মজুমদার, প্রচণ্ড কর্মব্যস্ততার মধ্যেও একদিন গিয়েছিলেন, তাঁর প্রয়াত বন্ধু হেমন্তর মূর্তি কেমন তৈরি হচ্ছে, তা দেখতে, চিরাচরিত ধুতি-পাঞ্জাবি পড়েই। শিল্পী সুরজিৎ দাসের সঙ্গে আলাপ-পরিচয়ের পরেই তিনি মুর্তিটি নানা ভাবে দেখতে শুরু করেছিলেন। সামনে থেকে, দূর থেকে। হঠাৎ তিনি ঝপ্ করে মূর্তির সামনে বসে পড়লেন মেঝেতেই, মূর্তিটি নীচের থেকে কেমন লাগে তা দেখতে! শিল্পী সুরজিৎ দাস তো অবাক হয়ে তাঁকে বসবার জন্য কিছু দিতে চাইলেন। কিন্তু তরুণবাবু তাঁকে আশ্বস্ত করে নিজের নিরীক্ষণ শেষ করলেন। তিনি মূর্তিটির প্রশংসা করেছিলেন এবং খুব খুশি হয়েছিলেন। এই ছোট্ট ঘটনাটি দেখে বুঝতে পেরেছিলাম যে, তরুণ মজুমদার যখন কোনো কাজ করতেন, তখন তিনি তা কতটা মন ও হৃদয় দিয়ে করতেন এবং তখন তাঁর জামা-কাপড় ইত্যাদি সবকিছু তাঁর কাছে গৌণ হয়ে যেত।
উপরে উল্লিখিত হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিটি কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ে প্রতিষ্ঠার সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রে সচিত্র-সংবাদ-সহ (যেখানে তরুণ মজুমদারকেও দেখা যাচ্ছে) শিল্পী সুরজিৎ দাসের আরও বহু চেনা-অচেনা দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম দেখতে মিলনসাগরে তাঁর পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
কলকাতার "প্রতিদিন" পত্রিকার ৬ জুন ১৯৯৮ তারিখের সংখ্যায় প্রকাশিত, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মূর্তির প্রতিষ্ঠার খবর, যেখানে ছবিতে হেমন্তপত্নী শ্রীমতী বেলা মুখোপাধ্যায়ে শ্রীমতী রমলা চক্রবর্তী, মৃণাল সেন এবং তরুণ মজুমদারকে দেখা যাচ্ছে, পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . . ।
এই বিরাট কর্মযজ্ঞে, এই লেখকের (মিলন সেনগুপ্ত), শিল্পী সুরজিৎ দাসের শিক্ষানবিশ হিসেবে, তাঁর দক্ষিণ কলকাতার বৈষ্ণবঘাটাস্থিত বাসভবন ও স্টুডিওতে কাজ করার এবং তরুণ মজুমদারকে নিকট থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।
আমরা মিলনসাগরে চলচ্চিত্রকার ও কবি তরুণ মজুমদারের কবিতা ও তাঁর জীবন ও কর্মযজ্ঞ আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে আমাদের এই প্রচেষ্টাকে সার্থক মনে করবো। এই পাতা কবি তরুণ মজুমদারের প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
কবি তরুণ মজুমদারের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
উৎস ---
-
"তরুণ মজুমদারের চলচ্চিত্র -- বাংলা সাহিত্যের নবরূপায়ণ (১৯৬৫ -- ২০০৭)", কবি ও চলচ্চিত্রকার তরুণ মজুমদারের চলচ্চিত্র সৃজন নিয়ে ২০১৮ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ বাবুল মণ্ডলের গবেষণা পত্রের PDF, শোধগঙ্গা-ওয়েবসাইট।
- শ্রীতরুণ মজুমদার (১৯৩১-২০২২), ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, আনন্দবাজার পত্রিকা।
- কবরে মৌলবি, স্তোত্র পাঠে পণ্ডিতমশাই, তরুণ মজুমদার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, আনন্দবাজার পত্রিকা।
- চলচ্চিত্র জগতে ইন্দ্রপতন, প্রয়াত বর্ষীয়ান পরিচালক তরুণ মজুমদার, শোকস্তব্ধ বাংলা, বেঙ্গলি.এবিপিলাইভ.কম।
- মুখোমুখি তরুণ মজুমদার, সুশীল সাহা ও শৌভিক মুপোপাধ্যায়, কালিওকলম.কম ।
- মজুমদার নন আসলে ‘খাসনবিশ’, কেন পদবী বদল? টিভি৯বাংলা.কম ।
- তরুণ মজুমদার : “জীবনপুরের পথিক”, ডঃ বাবুল মণ্ডল, www.thewall.in।
- Tarun Majumdar demise: Sandhya Roy remembers her husband. ottplay.com .
- মিলনসাগরে শিল্পী সুরজিৎ দাসের ভাস্কর্যের পাতা . . .।
- প্রতিদিন, ৭ই জুন ১৯৯৮, সংবাদ - দক্ষিণ কলকাতায় সাদার্ন অ্যাভিনিউ ও শরৎ চ্যাটার্জী অ্যাভিনিউয়ের মোড়ে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পূর্ণাবয়ব মূর্তির উন্মোচন অনুষ্ঠানে হেমন্তপত্নী শ্রীমতী বেলা মুখোপাধ্যায়ে শ্রীমতী রমলা চক্রবর্তী, মৃণাল সেন ও তরুণ মজুমদার।
- মায়েস্ত্রো তরুণ মজুমদার স্মরণে ‘বঙ্গদর্শন-শনিবারের কড়চা’, বঙ্গদর্শন.কম।
- মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মিলনসাগর.কম এর পরিচালক মিলন সেনগুপ্তর কী সম্পর্ক?।
- তরুণ মজুমদারের পরিচালিত কাহিনিচিত্রের প্রচার পুস্তিকা, বাংলাসিনেমা১০০.কম।।
- শ্রীতরুণ মজুমদার (১৯৩১-২০২২), ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, আনন্দবাজার পত্রিকা।
আমাদের ই-মেল : srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ : +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২২.৮.২০২৫