কবি বাদল সরকারের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
পা ডুবিয়ে পা ডুবিয়ে পাথরে পাথরে চলে গেছি
কবি বাদল সরকার
বাদল সরকারের “শেষ নেই” নাটকের সুমন্তর কণ্ঠে কবিতা। আমরা শুধু কবিতার অংশটুকু তুলে দিলাম নাটকের অন্য ডায়লগ ও বিবরণী বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.৫.২০২৬।
কবি বাদল সরকার
বাদল সরকারের “শেষ নেই” নাটকের সুমন্তর কণ্ঠে কবিতা। আমরা শুধু কবিতার অংশটুকু তুলে দিলাম নাটকের অন্য ডায়লগ ও বিবরণী বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.৫.২০২৬।
সুমন্ত॥ ---
পা ডুবিয়ে পা ডুবিয়ে পাথরে পাথরে চলে গেছি
নদী পার হয়ে,
ওদিকে আড়ালে বনে
ঝোপে ঝোপে আলোছায়া বেয়ে
আঁকাবাঁকা পথহীন পথে চলে গেছি
পেছনে না চেয়ে।
এপারে যে বসে আছে
জলের সতর্ক পাবে---
সেও আমি।
আমারই কুকুর খোঁজে শিকারী বাতাসে
পলাতক গন্ধের ইসারা,
আমারই বল্লমে কাঁপে সাপের প্রতীক্ষা-তীক্ষ্ণ জিভ,
আমারই ধারালো চোখ খোঁজে
ওপারের বনে
পাতার চালুনি-ছাঁকা আলোর পরতে---
যে পথে এখনই গেছি আমি
পাথরে পাথরে
পা ডুবিয়ে পা ডুবিয়ে নদী পার হয়ে।
****************************
পা ডুবিয়ে পা ডুবিয়ে পাথরে পাথরে চলে গেছি
নদী পার হয়ে,
ওদিকে আড়ালে বনে
ঝোপে ঝোপে আলোছায়া বেয়ে
আঁকাবাঁকা পথহীন পথে চলে গেছি
পেছনে না চেয়ে।
এপারে যে বসে আছে
জলের সতর্ক পাবে---
সেও আমি।
আমারই কুকুর খোঁজে শিকারী বাতাসে
পলাতক গন্ধের ইসারা,
আমারই বল্লমে কাঁপে সাপের প্রতীক্ষা-তীক্ষ্ণ জিভ,
আমারই ধারালো চোখ খোঁজে
ওপারের বনে
পাতার চালুনি-ছাঁকা আলোর পরতে---
যে পথে এখনই গেছি আমি
পাথরে পাথরে
পা ডুবিয়ে পা ডুবিয়ে নদী পার হয়ে।
****************************
আমি যেতে চাই যাওয়া ছাড়িয়ে
কবি বাদল সরকার
বাদল সরকারের “শেষ নেই” নাটকের সুমন্তর কণ্ঠে কবিতা। আমরা শুধু কবিতার অংশটুকু তুলে দিলাম নাটকের অন্য ডায়লগ ও বিবরণী বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.৫.২০২৬।
কবি বাদল সরকার
বাদল সরকারের “শেষ নেই” নাটকের সুমন্তর কণ্ঠে কবিতা। আমরা শুধু কবিতার অংশটুকু তুলে দিলাম নাটকের অন্য ডায়লগ ও বিবরণী বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.৫.২০২৬।
লোকটা॥---
দেখুন, কোর্টটা রসিকতা করবার জায়গা নয়!
[ স্থমন্ত হঠাৎ জোয় গলায় আবৃত্তি করে উঠলো ]
সুমন্ত॥ ---
আমি যেতে চাই যাওয়া ছাড়িয়ে
আরো দূরে দূরে হারিয়ে
নিজেকে পেরিয়ে ওপারে,
আমি পেতে চাই খুঁজে খোলা-চোখ বুঁজে
অদেখা নিজের না-চেনা না-বোঝা ধোঁকারে!
[ সুমতি॥ --- যাও! যাও! খোঁজো! ]
সুমন্ত॥ ---
আমি যাবেো ভেসে কিছু না দেখে
সম্মুখে কিছু না রেখে
ভুলে ফেলে ধাবো থামাকে,
আমি পিছনের ঠেলা খেয়ে সারাবেলা
নিজেরই তাড়ায় খুঁজে খুঁজে যাবো আমাকে।
[ সুমতি॥ --- খোঁজো! সুমন্ত, খোঁজো! ]
সুমন্ত॥ ---
আমি কোনো ধার শোধ না করে
পালাবো হঠাৎ ধাঁ করে
কোথাও না থাকা বিদেশে,
আমি যাবো রাতে দিনে ভুল পথ চিনে
শেষ ভেঙে দেওয়া সীমাছাড়া উপনিবেশে।
[ সুমতি॥ --- যাও যাও সুমন্ত, আরো যাও! ]
সুমন্ত॥ ---
ওরে 'আমি' নিয়ে তোরা কে আছিস।
কবরের ঘুমে কে বাঁচিস
পাথরের খাঁজে ঝিমিয়ে?
যদি লুঠে নিতে চাস ফাঁকির খালাস
এই বেলা পালা ‘আমি’র দেয়াল ভিঙিয়ে!
সুমতি॥ ---
(উৎসাহে) ঐটা বলো সুমন্ত, ঐ যে---সে কথা যদি এখনো শোনা যায়---
লোকটা॥---
কি পেয়েছেন আপনি---
সুমন্ত॥ ---
সে কথা যদি এখনো শোনা যায়
বাতাসে যদি দোলানি আজো লাগে,
আমি তো তবু পীড়িত দোটানায়
প্রহরী মন বৃথাই শুধু জাগে।
আঁচল-ভরা বকুল কেন চুপ
ছড়ানো ধূলো সেই তো ছিল ভালো
কি ভেবে এতো সেজেছো অপরূপ?
আকাশে দেখো---
****************************
দেখুন, কোর্টটা রসিকতা করবার জায়গা নয়!
[ স্থমন্ত হঠাৎ জোয় গলায় আবৃত্তি করে উঠলো ]
সুমন্ত॥ ---
আমি যেতে চাই যাওয়া ছাড়িয়ে
আরো দূরে দূরে হারিয়ে
নিজেকে পেরিয়ে ওপারে,
আমি পেতে চাই খুঁজে খোলা-চোখ বুঁজে
অদেখা নিজের না-চেনা না-বোঝা ধোঁকারে!
[ সুমতি॥ --- যাও! যাও! খোঁজো! ]
সুমন্ত॥ ---
আমি যাবেো ভেসে কিছু না দেখে
সম্মুখে কিছু না রেখে
ভুলে ফেলে ধাবো থামাকে,
আমি পিছনের ঠেলা খেয়ে সারাবেলা
নিজেরই তাড়ায় খুঁজে খুঁজে যাবো আমাকে।
[ সুমতি॥ --- খোঁজো! সুমন্ত, খোঁজো! ]
সুমন্ত॥ ---
আমি কোনো ধার শোধ না করে
পালাবো হঠাৎ ধাঁ করে
কোথাও না থাকা বিদেশে,
আমি যাবো রাতে দিনে ভুল পথ চিনে
শেষ ভেঙে দেওয়া সীমাছাড়া উপনিবেশে।
[ সুমতি॥ --- যাও যাও সুমন্ত, আরো যাও! ]
সুমন্ত॥ ---
ওরে 'আমি' নিয়ে তোরা কে আছিস।
কবরের ঘুমে কে বাঁচিস
পাথরের খাঁজে ঝিমিয়ে?
যদি লুঠে নিতে চাস ফাঁকির খালাস
এই বেলা পালা ‘আমি’র দেয়াল ভিঙিয়ে!
সুমতি॥ ---
(উৎসাহে) ঐটা বলো সুমন্ত, ঐ যে---সে কথা যদি এখনো শোনা যায়---
লোকটা॥---
কি পেয়েছেন আপনি---
সুমন্ত॥ ---
সে কথা যদি এখনো শোনা যায়
বাতাসে যদি দোলানি আজো লাগে,
আমি তো তবু পীড়িত দোটানায়
প্রহরী মন বৃথাই শুধু জাগে।
আঁচল-ভরা বকুল কেন চুপ
ছড়ানো ধূলো সেই তো ছিল ভালো
কি ভেবে এতো সেজেছো অপরূপ?
আকাশে দেখো---
****************************
কল্যানীয়াসু
কবি বাদল সরকার
বাদল সরকারের “শেষ নেই” নাটকের সুমন্তর কণ্ঠে কবিতা। আমরা শুধু কবিতার অংশটুকু তুলে দিলাম নাটকের অন্য ডায়লগ ও বিবরণী বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.৫.২০২৬।
কবি বাদল সরকার
বাদল সরকারের “শেষ নেই” নাটকের সুমন্তর কণ্ঠে কবিতা। আমরা শুধু কবিতার অংশটুকু তুলে দিলাম নাটকের অন্য ডায়লগ ও বিবরণী বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.৫.২০২৬।
সুমন্ত॥ ---
(আপন মনে) কল্যানীয়াসু,
জিজ্ঞাসু আত্মা আসে না তোমার কাছে
প্রশ্নের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে
জবাবের দাবী জানিয়ে।
তোমার আছে শান্তি, আছে কল্যাণ,
তোমার কাছে ক্লান্তির অবসান
স্নিগ্ধ বিশ্রামে।
সুমতি॥ ---
এইটুকু? ]
সুমন্ত॥ ---
তাই যখন চোখে নামে
দিন শেষের অলস আবেশ,
যখন থাকে না প্রশ্নের রেশ
মনের কোনো কোণায়---
সুমতি॥ ---
প্রশ্নের রেশ? কি প্রশ্ন? ]
সুমন্ত॥ ---
যখন আঁধার ঘনায়
দীপজ্বালা ঘরের সীমানায়
ঘুম-ঢালা নিরালায়---
সুমতি॥ ---
কি --- কি প্রশ্ন সুমন্ত? ]
সুমন্ত॥ ---
তখন খুঁজি তোমায়
সমস্ত প্রাণ দিয়ে
কল্যাণীয়ে।
****************************
(আপন মনে) কল্যানীয়াসু,
জিজ্ঞাসু আত্মা আসে না তোমার কাছে
প্রশ্নের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে
জবাবের দাবী জানিয়ে।
তোমার আছে শান্তি, আছে কল্যাণ,
তোমার কাছে ক্লান্তির অবসান
স্নিগ্ধ বিশ্রামে।
সুমতি॥ ---
এইটুকু? ]
সুমন্ত॥ ---
তাই যখন চোখে নামে
দিন শেষের অলস আবেশ,
যখন থাকে না প্রশ্নের রেশ
মনের কোনো কোণায়---
সুমতি॥ ---
প্রশ্নের রেশ? কি প্রশ্ন? ]
সুমন্ত॥ ---
যখন আঁধার ঘনায়
দীপজ্বালা ঘরের সীমানায়
ঘুম-ঢালা নিরালায়---
সুমতি॥ ---
কি --- কি প্রশ্ন সুমন্ত? ]
সুমন্ত॥ ---
তখন খুঁজি তোমায়
সমস্ত প্রাণ দিয়ে
কল্যাণীয়ে।
****************************
এক---দুই---তিন
কবি বাদল সরকার
বাদল সরকারের “এবং ইন্দ্রজিৎ” নাটকের নেপথ্যে সমবেত সঙ্গীত। আমরা শুধু কবিতার অংশটুকু তুলে দিলাম নাটকের অন্য ডায়লগ ও বিবরণী বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.৫.২০২৬।
মাসীমা॥ ---
যতো সব অলক্ষুণে কথা। আয় খেতে আয়। ভাত ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। (মাসীমার প্রস্থান। নেপথ্যে একটি সমবেত সঙ্গীত---প্রথম আস্তে, তারপর আরো জোরে। ইন্দ্রজিৎ মাসীমা যেদিকে গেছেন---সে দিকে বেরিয়ে গেল।)
গান॥ ---
(গানের মধ্যে লেখকের প্রবেশ। গানের শেষ লাইনটি গলা মিলিয়ে গাইতে গাইতে লেখক পাদপ্রদীপের কাছে একপাশে এসে দাঁড়িয়েছে।)
****************************
কবি বাদল সরকার
বাদল সরকারের “এবং ইন্দ্রজিৎ” নাটকের নেপথ্যে সমবেত সঙ্গীত। আমরা শুধু কবিতার অংশটুকু তুলে দিলাম নাটকের অন্য ডায়লগ ও বিবরণী বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.৫.২০২৬।
মাসীমা॥ ---
যতো সব অলক্ষুণে কথা। আয় খেতে আয়। ভাত ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। (মাসীমার প্রস্থান। নেপথ্যে একটি সমবেত সঙ্গীত---প্রথম আস্তে, তারপর আরো জোরে। ইন্দ্রজিৎ মাসীমা যেদিকে গেছেন---সে দিকে বেরিয়ে গেল।)
গান॥ ---
এক---দুই---তিন
এক---দুই---তিন---দুই---এক---দুই---তিন
এক---দুই---তিন---দুই---এক---দুই---তিন
চার---পাঁচ---ছয়
চার---পাঁচ---ছয়---পাঁচ---চার---পাঁচ---ছয়
চার---পাঁচ---ছয়---পাঁচ---চার---পাঁচ---ছয়
সাত---আট---নয়
সাত---আট---নয়---আট---সাত---আট---নয়
সাত---আট---নয়---আট---সাত---আট---নয়
নয়---আট---সাত---ছয়---পাঁচ---চার---তিন---দুই---এক
এক---দুই---তিন---দুই---এক---দুই---তিন
এক---দুই---তিন---দুই---এক---দুই---তিন
চার---পাঁচ---ছয়
চার---পাঁচ---ছয়---পাঁচ---চার---পাঁচ---ছয়
চার---পাঁচ---ছয়---পাঁচ---চার---পাঁচ---ছয়
সাত---আট---নয়
সাত---আট---নয়---আট---সাত---আট---নয়
সাত---আট---নয়---আট---সাত---আট---নয়
নয়---আট---সাত---ছয়---পাঁচ---চার---তিন---দুই---এক
(গানের মধ্যে লেখকের প্রবেশ। গানের শেষ লাইনটি গলা মিলিয়ে গাইতে গাইতে লেখক পাদপ্রদীপের কাছে একপাশে এসে দাঁড়িয়েছে।)
****************************
দিকে দিকে ঐতিহাসিক পাথুরে নয়ন মেলা
কবি বাদল সরকার
বাদল সরকারের “এবং ইন্দ্রজিৎ” নাটকের লেখকের কণ্ঠে কবিতা। আমরা শুধু কবিতার অংশটুকু তুলে দিলাম নাটকের অন্য ডায়লগ ও বিবরণী বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.৫.২০২৬।
লেখক॥ ---
কবি বাদল সরকার
বাদল সরকারের “এবং ইন্দ্রজিৎ” নাটকের লেখকের কণ্ঠে কবিতা। আমরা শুধু কবিতার অংশটুকু তুলে দিলাম নাটকের অন্য ডায়লগ ও বিবরণী বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.৫.২০২৬।
লেখক॥ ---
দিকে দিকে থাক ঐতিহাসিক পাথুরে নয়ন মেলা,
ছন্দবাঁধনে আবর্তনের চলুক অনাদি খেলা,
আলো আঁধারির চক্রধাঁধায় কালের শোণিতধ্বনি
দিবারাত্রের খণ্ডচয়নে গেঁথে যাক বন্ধনী,
অজানা দিশায় আগামী অতীত ভুলে যাক সন্ধান,
আমি তো বর্তমান।
কী হবে মিথ্যা সূক্ষ্ম হিসাবে পুরোনো সংখ্যা গুণে?
কী হবে স্বপ্নে ভবিষ্যতের তন্তু-আঁচল বুনে?
রাত্রিদিনের ছন্দে কখনো যাবে না তো কেটে তাল,
বৃথা কেন তবে মনের দেউলে ভরে তোলা জঞ্জাল?
হৃৎস্পন্দন সময়ের তালে বেঁধে নিতে যদি পারো
পরোয়া থাকে না কারো।
[ (অমল-বিমল-কমলের প্রবেশ)
দাঁড়াও। এখন না। এখনো সময় আসে নি।
(অমল-বিমল-কমলের প্রস্থান)
এক মৃহূর্ত। এক মুহূর্ত---আবর্তনকে অস্বীকার করো। পুরো অঙ্কটা অস্বীকার করো। এক মুহূর্ত। একটি বর্তমান মুহূর্ত। জীবন। ]
নির্বোধ মনে অবুঝ অঙ্কে তবু উত্তর খোঁজা,
তবু সংখ্যার চক্ররাশিতে ভারি করে তোলা বোঝা।
অনেক দিনের হিসাবে শূন্য---সে কথা যায় না মানা,
অল্পদিনের ক্ষুদ্র গণনে তাই তো গণ্ডী টানা।
প্রকৃতিপত্রে শিশু অক্ষরে জীবনের ভাষা তাই
এখনো তো লিখে যাই।
****************************
ছন্দবাঁধনে আবর্তনের চলুক অনাদি খেলা,
আলো আঁধারির চক্রধাঁধায় কালের শোণিতধ্বনি
দিবারাত্রের খণ্ডচয়নে গেঁথে যাক বন্ধনী,
অজানা দিশায় আগামী অতীত ভুলে যাক সন্ধান,
আমি তো বর্তমান।
কী হবে মিথ্যা সূক্ষ্ম হিসাবে পুরোনো সংখ্যা গুণে?
কী হবে স্বপ্নে ভবিষ্যতের তন্তু-আঁচল বুনে?
রাত্রিদিনের ছন্দে কখনো যাবে না তো কেটে তাল,
বৃথা কেন তবে মনের দেউলে ভরে তোলা জঞ্জাল?
হৃৎস্পন্দন সময়ের তালে বেঁধে নিতে যদি পারো
পরোয়া থাকে না কারো।
[ (অমল-বিমল-কমলের প্রবেশ)
দাঁড়াও। এখন না। এখনো সময় আসে নি।
(অমল-বিমল-কমলের প্রস্থান)
এক মৃহূর্ত। এক মুহূর্ত---আবর্তনকে অস্বীকার করো। পুরো অঙ্কটা অস্বীকার করো। এক মুহূর্ত। একটি বর্তমান মুহূর্ত। জীবন। ]
নির্বোধ মনে অবুঝ অঙ্কে তবু উত্তর খোঁজা,
তবু সংখ্যার চক্ররাশিতে ভারি করে তোলা বোঝা।
অনেক দিনের হিসাবে শূন্য---সে কথা যায় না মানা,
অল্পদিনের ক্ষুদ্র গণনে তাই তো গণ্ডী টানা।
প্রকৃতিপত্রে শিশু অক্ষরে জীবনের ভাষা তাই
এখনো তো লিখে যাই।
****************************
নাগরদোলার আবর্ত-ছাঁদে গড়া
কবি বাদল সরকার
বাদল সরকারের “এবং ইন্দ্রজিৎ” নাটকের লেখকের কণ্ঠে কবিতা। আমরা শুধু কবিতার অংশটুকু তুলে দিলাম নাটকের অন্য ডায়লগ ও বিবরণী বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.৫.২০২৬।
****************************
কবি বাদল সরকার
বাদল সরকারের “এবং ইন্দ্রজিৎ” নাটকের লেখকের কণ্ঠে কবিতা। আমরা শুধু কবিতার অংশটুকু তুলে দিলাম নাটকের অন্য ডায়লগ ও বিবরণী বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.৫.২০২৬।
লেখক॥ ---
অমল রিটায়ার করে। তার ছেলে অমল চাকরি করে। বিমল অসুখে পড়ে। তার ছেলে বিমল চাকরি করে। কমল মারা যায়। তার ছেলে কমল চাকরি করে। এবং ইন্দ্রজিৎ। এবং ইন্দ্রজিতের ছেলে ইন্দ্রজিৎ। ঐখানে ফুটপাথে একটা সাত বছরের ছেলে দাঁড়িয়ে থাকে। তার হাতে কাঠের বাক্স, কোলে একটা এক বছরের ভাই। এখানে ফুটপাথে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে। তার নাম লীলা। ঐদিকে আকাশে সিঁদুরে রঙ। তার নিচে বসে মানসী জীবনকে ভালবাসতে চায়। অনেকগুলো জীবন। অনেক জানা অজানা অচেনা অজ্ঞতা আলো অন্ধকার। খণ্ড খণ্ড টুকরো টুকরো অণু পরমাণু সব যোগ করে নাগরদোলার পরম আবর্তন।
অমল রিটায়ার করে। তার ছেলে অমল চাকরি করে। বিমল অসুখে পড়ে। তার ছেলে বিমল চাকরি করে। কমল মারা যায়। তার ছেলে কমল চাকরি করে। এবং ইন্দ্রজিৎ। এবং ইন্দ্রজিতের ছেলে ইন্দ্রজিৎ। ঐখানে ফুটপাথে একটা সাত বছরের ছেলে দাঁড়িয়ে থাকে। তার হাতে কাঠের বাক্স, কোলে একটা এক বছরের ভাই। এখানে ফুটপাথে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে। তার নাম লীলা। ঐদিকে আকাশে সিঁদুরে রঙ। তার নিচে বসে মানসী জীবনকে ভালবাসতে চায়। অনেকগুলো জীবন। অনেক জানা অজানা অচেনা অজ্ঞতা আলো অন্ধকার। খণ্ড খণ্ড টুকরো টুকরো অণু পরমাণু সব যোগ করে নাগরদোলার পরম আবর্তন।
নাগরদোলার আবর্ত-ছাঁদে গড়া
আমি এলোমেলো আকাশে এনেছি নেশা
অজ্ঞ বাতাস চেতনার বিষে মেশা,
না জানা ছন্দে ভাঙাচোরা বোঝাপড়া!
এদের কথা আমাকে বলতে হবে!
এদের নাটক আমাকে ভাষায় গাঁথতে হবে!
ভাষা তো প্রাচীন, ক্ষতবিক্ষত কথা,
আলো দিশাহারা শিথিল অপ্রকাশে,
সমাধি মৌন জড়তার নাগপাশে,
চিতাবহ্নিতে প্রদীপ্ত বাচালতা।
[ ইন্দ্রজিৎ শেষ করে চলে গেছে। আবার ঘণ্টা। ]
আমি এলোমেলো আকাশে এনেছি নেশা
অজ্ঞ বাতাস চেতনার বিষে মেশা,
না জানা ছন্দে ভাঙাচোরা বোঝাপড়া!
এদের কথা আমাকে বলতে হবে!
এদের নাটক আমাকে ভাষায় গাঁথতে হবে!
ভাষা তো প্রাচীন, ক্ষতবিক্ষত কথা,
আলো দিশাহারা শিথিল অপ্রকাশে,
সমাধি মৌন জড়তার নাগপাশে,
চিতাবহ্নিতে প্রদীপ্ত বাচালতা।
[ ইন্দ্রজিৎ শেষ করে চলে গেছে। আবার ঘণ্টা। ]
ঘণ্টা বাজছে। একটি পরমাণু খসে গেছে। আর একটি পরমাণুকে ডাকছে। তিনটি পরমাণু ডাকছে। আরো রাশি রাশি পরমাণু মিলে মিশে তালগোল পাকিয়ে বিরাট এক পৃথিবী ঘুরছে আর ঘুরছে। আর একের পর এক সেকেন্ড মিনিট ঘণ্টা ঘুরে ঘুরে যাচ্ছে। [ আবার ঘণ্টা। অমল-বিমল-কমল অধৈর্য ] ঘণ্টা বাজছে। আবার বাজবে। তবু পৃথিবী আছে। তবু শতাব্দী আছে। আমার পৃথিবী! আমার শতাব্দী! নাগরদোলা চুলোয় যাক। আমরা আছি। অমল বিমল কমল। এবং ইন্দ্রজিৎ। এবং আমি। আমরা আছি। এখন আছি। পৃথিবীতে আছি।
[ অমল বিমল কমল অধৈর্য হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। ঘন ঘন ঘণ্টা দিচ্ছে। কিন্তু ওদের ওখানে আবছায়া। তীব্র সন্ধানী আলো লেখককে কুড়িয়ে নিয়েছে। ]
[ অমল বিমল কমল অধৈর্য হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। ঘন ঘন ঘণ্টা দিচ্ছে। কিন্তু ওদের ওখানে আবছায়া। তীব্র সন্ধানী আলো লেখককে কুড়িয়ে নিয়েছে। ]
আমি বিভক্ত, আমি অণুখণ্ডিত,
গুঁড়ো দিয়ে গাঁথা জটিল ঐক্যতান।
বুড়ো শতাব্দী আজো পেতে আছে কান,
চূর্ণ পৃথিবী এখনো অপরাজিত!
গুঁড়ো দিয়ে গাঁথা জটিল ঐক্যতান।
বুড়ো শতাব্দী আজো পেতে আছে কান,
চূর্ণ পৃথিবী এখনো অপরাজিত!
[ দপ করে আলো নিভে গেলো। মঞ্চ অন্ধকার। ছায়ার মতো যবনিকা সরে আসছে অন্ধকারে। একটা চাপা মিলিত কঠে আবৃত্তি চলছে--- ]
মিলিত কণ্ঠ॥ ---
মিলিত কণ্ঠ॥ ---
বুড়ো শতাব্দী আজো পেতে আছে কান॥
চূর্ণ পৃথিবী এখনো অপরাজিত।
বুড়ো শতাব্দী আজো পেতে আছে কান,
চূর্ণ পৃথিবী এখনো অপরাজিত।
চূর্ণ পৃথিবী এখনো অপরাজিত।
বুড়ো শতাব্দী আজো পেতে আছে কান,
চূর্ণ পৃথিবী এখনো অপরাজিত।
****************************
