কবি পার্থপ্রতিম চৌধুরী - শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক, লেখক, সিনেমাটোগ্রাফার, চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার, সঙ্গীত পরিচালক এবং কবি জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার কলকাতার এক প্রতিষ্ঠিত বনেদি পরিবারে। পিতা বিশ্বনাথ চৌধুরী কলকাতার শিয়ালদহ কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট পদে অবসর গ্রহণ করেন এবং মাতা জ্যোতির্ময়ী দেবী ছিলেন দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশন স্কুলের শিক্ষিকা। ১৯শে জানুয়ারী ১৯৬৪ সালে তিনি বুলবুল দেবীর সঙ্গে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হন। তাঁদের এক পুত্র তৃনাঞ্জন ৫ই মার্চ ২০২০ তারিখে পরলোক গমন করেন।
.

কবি পার্থপ্রতিম চৌধুরী - শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক, লেখক, সিনেমাটোগ্রাফার, চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার, সঙ্গীত পরিচালক এবং কবি জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার কলকাতার এক প্রতিষ্ঠিত বনেদি পরিবারে। পিতা বিশ্বনাথ চৌধুরী কলকাতার শিয়ালদহ কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট পদে অবসর গ্রহণ করেন এবং মাতা জ্যোতির্ময়ী দেবী ছিলেন দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশন স্কুলের শিক্ষিকা। ১৯শে জানুয়ারী ১৯৬৪ সালে তিনি বুলবুল দেবীর সঙ্গে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হন যিনি ছিলেন সিনেমার কসটিউমস ডিসাইনার ও অভিনেত্রী। তাঁদের এক পুত্র তৃনাঞ্জন ৫ই মার্চ ২০২০ তারিখে পরলোক গমন করেন।

কবির ছেলেবেলা কেটেছে বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্তর্গত ময়মনসিংহ জেলায়, ব্রহ্মপুত্র নদের কোলে। পিতা ১৯৪৪ সালে বদলি হয়েছিলেন ময়মনসিংহ জেলায়। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের সময়ে তাঁরা কলকাতায় ফিরে আসেন।

বিকো লরী কোম্পানীর (Biecco Lawrie Limited, BLL) অ্যাসিস্টেন্ট জেনারেল ম্যানেজার ইন্দ্রনীল চৌধুরী ছিলেন কবির ছোট ভাই। মিলনসাগরে কবি ইন্দ্রনীল চৌধুরীর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন...

.


কবি পার্থপ্রতিম চৌধুরীর শিক্ষা জীবন -     ^^ উপরে ফেরত
কবি পার্থপ্রতিম চৌধুরী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক হন। সেখানে তাঁর সহপাঠিদের মধ্যে ছিলেন আগামি দিনের বিখ্যাত নাট্যকার-পরিচালক বাদল সরকার, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত ও মনোজ মিত্র।

.


নিজের কথায় কলেজ জীবন ও উত্তমকুমার -   ^^ উপরে ফেরত
কবির মৃত্যুর পরে, ২০০৪ এ শিবাদিত্য দাশগুপ্ত ও সুগত সিংহ দ্বারা, তাঁর রচনাবলীর সংগৃহীত ও সম্পাদিত “রেখাহীন মানচিত্র”-এর “যুগান্তরের নায়ক” অধ্যায়ে তাঁর কলেজ জীবন ও উত্তমকুমারের প্রতি তাঁর আকর্ষণ নিয়ে লেখা থেকে কিছুটা...

“যখন আমরাও হিরো॥ আমি কলেজি আমলের কথা বলছি। স্কটিশে পড়তাম। '৫৪ থেকে '৫৮। কো-এডুকেশন। বুঝতেই পারছেন। একেই কলেজি বয়েসটাতে সবাই মোটামুটি নতুন দাড়ি-কামানো গালে ব্রণ খুঁটতে-খুঁটতে আর চুল সাজাতে-সাজাতে নিজেদের স্বয়ং নায়ক-টাইপের কিছু ভাবে, ভেবে হালকা চালে প্রায় ডানা লাগিয়েই চলে, আর আমরা তো ছিলাম ঐ বয়সে বহুবিধ এক্স প্রাস নিয়ে। কবিতা গল্প নাটক লিখতাম, নাটকে হিরোর পার্ট বাঁধা ছিল, কলেজ ম্যাগাজিন এডিট করতাম, সোশ্যাল সেক্রেটারি ছিলাম, শক্ররা বলত কমপক্ষে সে আমলে ডজনদুয়েক প্রেম আমার। অতএব প্রেমিকও ছিলাম, তার উপরে চলচ্চিত্রজগতের কীর্তিমান পরিচালক অসিত সেনের সঙ্গে সহকারীর কাজ করতাম, নিজের চলচ্চিত্র-পত্রিকাও ছিল, ন্যাচারালি নিজেকে একটু এলোমেলোভাবে বিস্তৃত করে একটা নায়ক-নায়ক মতিগতি আমার ঐ বয়সে কিছুই বিচিত্র ছিল না।

তখনই, তখন থেকেই উত্তমকুমারের সঙ্গে ছিল আমাদের খুব নিকটসম্পর্ক। প্রতি শুক্রবার তিনি যত নিত্যনতুন রূপে আবির্ভূত হতেন, আমরাও ততই ভিড় জমাতাম। প্রথম দিন প্রথম শোতে উত্তম-সুচিত্রার ছবি দেখা চাই-ই। সে আমলে যদ্দুর মনে পড়ে উত্তমকুমার এবং সোনায় সোহাগার মতো উত্তম-সুচিত্রা নামটি একত্রে জপমালা হয়েছিল। যেন দুটি একই নাম, একই রূপকথার একই রঙ! তবে বরাবরই আমার পক্ষপাতিত্ব ছিল উত্তমকুমারের প্রতি, কেননা আমিও তখন পাড়ার-বেপাড়ায়, বিভিন্ন অ্যামেচার গ্রুপে এবং কলেজে নাটকে নামতাম নায়ক হিশেবেই, সুতরাং চলতি সময়ের ঐ আশ্চর্য নায়কটি আমার অবচেতন মনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন। ফার্স্ট ইয়ারে ঐ কায়দায় হাঁটতাম, চুল ওলটাতাম, সেকেন্ড ইয়ারে ঐভাবে ঘাড় ঘোরাতাম এবং করেকটা জামাও তৈরি ছিল উনি যেসব ধরনের জামা পরতেন, সেই কায়দায়।

সে আমলে উত্তমকুমারের অভিনয় সম্পর্কে অতটা খতিয়ে দেখিনি, বুঝতামও কম। তবু এখনকার ছেলেদের মতো গুরু-গুরু বলে হুঙ্কার না-ছেড়েও এই নায়কটির গতি আমাদের একধরনের অন্ধভক্তি ছিল। প্রথম আশ্চর্য হয়েছিলাম স্টারে শ্যামলী নাটকে উত্তমকুমারকে দেখে। আশ্চর্য সহজ সাবলীল আর প্রাণবন্ত মনে হয়েছিল সেদিন শিল্পীকে। শ্যামলী’র নায়ক বহু দিন পর্যন্ত আমাকে ইনফ্লুয়েন্স করেছিল। তার পর...”

মিলনসাগরে কবি মহানায়ক উত্তমকুমারের কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন...


.


পার্থপ্রতিম চৌধুরীর থিয়েটার জীবন -      ^^ উপরে ফেরত
পার্থপ্রতিম চৌধুরী নাট্যজগতে প্রবেশ করেন তাঁর কলেজ জীবনেই। ১৯৫৭ সালে তিনি “সুন্দরম” নামের একটি নাট্যগোষ্ঠি শুরু করেন। পরে যোগ দেন মনোজ মিত্র।

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের The Wall ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখা “শর্মিলা-অপর্ণার নয়নের মণি ছিলেন এই পরিচালক, নেশার কবলে পড়ে অকালে ফুরিয়ে যায় প্রতিভা” প্রবন্ধে আমরা তাঁর থিয়েটার নিয়ে কিছু কথা জানতে পারছি। তিনি লিখেছেন...

“...এরপর 'সুন্দরম' নাট্যগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও পার্থপ্রতিমের নাম উল্লেখযোগ্য। মনোজ মিত্র 'সুন্দরম' গোষ্ঠীতে যোগ দেন পরে। শুরুটা করেছিলেন পার্থ।

সত্যজিতের দ্বারা এতটাই তিনি প্রভাবিত ছিলেন যে 'পথের পাঁচালী'র চিত্রধর্মী মঞ্চায়ন ঘটান 'সুন্দরম'-এর প্রথম প্রযোজনা 'সেই আমাদের অপু' নাটকে। তারপর 'খাঁচা', 'শব্দরূপ ধাতুরূপ', 'চার দেওয়ালের গল্প', 'কৃষ্ণচূড়ার মৃত্যু', 'সম্রাট কনিষ্ক', 'মলাটের রং মুহূর্ত', 'ফিঙ্গারপ্রিন্ট', 'সর্পিল', 'ধারাবিবরণী' একের পর এক 'সুন্দরম'-এর প্রযোজনায় শুধু পার্থপ্রতিমেরই নাটক!...”

The Wall ওয়েবসাইটে শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরো লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন...

এছাড়াও আমরা ২০১১সাল নাগাদ অভিষেক দাস অভিনীত, পার্থপ্রতিম চৌধুরীর লেখা একটি স্বল্পদীর্ঘ নাটক লাশ কাটা ঘর এর ভিডিও পেয়েছি ইউটিবে। সেটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .

.


পার্থপ্রতিম চৌধুরীর কর্মজীবন -        ^^ উপরে ফেরত
কবির মৃত্যুর পরে, ২০০৪ এ শিবাদিত্য দাশগুপ্ত ও সুগত সিংহ দ্বারা সংগৃহীত ও সম্পাদিত “রেখাহীন মানচিত্র”-এর “শুরুর কথায়” তাঁর কর্মজীবন ও সৃষ্টিশীলতা নিয়ে তাঁরা লিখেছেন...

“পার্থপ্রতিম চৌধুরীর কর্মজীবনের সময়সীমা হচ্ছে ১৯৫৮ থেকে ১৯৯৫। ১৯৫৮-তে এর শুরু হয় তখন সদ্যপ্রতিষ্ঠিত সুন্দরম নাট্যগোষ্ঠীর নাট্য-পরিচালক হিশেবে। ১৯৬৩-তে শুরু হয় তাঁর চলচ্চিত্রজীবন। ১৯৭৮-৭৯ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তাঁর স্বক্রিয়তার পর্ব। তার পর তিনি কিছু বাণিজ্যিক নাটক ও চলচ্চিত্রের কাজ করেছেন, তবে তার মধ্যে তাঁর স্বকীয়তার ছাপ তত স্পষ্ট নয়। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার যে এই পর্বেই তিনি লেখালেখির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

পাথপ্রতিমের সৃষ্টিকর্মের মূল বৈশিষ্ট্য হল বিষয়ের সঙ্গে হৃদয়ের একাত্মতা, দেখার বিশেষ ভঙ্গির সঙ্গে আবেগের তুমুল উৎসার, সেই সঙ্গে আছে প্রকাশের নিজস্ব ভাষা । গভীর সাহিত্যবোধ, আবহকে ভিন্ন মাত্রায় ব্যবহার এবং দৃশ্যগঠনের নৈপুণ্যে তিনি তৈরি করতে পারতেন আন্তরিক অনুভবের এক কাব্যিক কোলাজ। সময়ের উত্তাপে নিজেকে পুড়িয়ে, নিজেকে প্রকাশের যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে তিনি কখনও নাটক লিখেছেন, কখনও তৈরি করেছেন চলচ্চিত্র, আবার কখনও বা সাজিয়েছেন শব্দের সারি। ছয় ও সাতের দশকই ছিল তাঁর প্রকৃত বিকাশের সময়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তবু কোন বিশেষ দলীয় রাজনীতির প্রতি দায়বদ্ধতা ছিল না পার্থপ্রতিমের, বরং চারপাশের মানুষজন ও প্রবাহিত সময় তার শিরা-উপশিরায় যে-উন্মাদনা তৈরি করত তা-ই বিচিত্র রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় প্রকাশিত হত তাঁর কাজে। প্রতিষ্ঠা, পুরস্কার বা মিডিয়ার দাক্ষিণ্যলাভের কোন গাণিতিক ছক তাঁর ছিল না, হয়তো সে কারণেই আজ তিনি বিস্মৃত। এ কাজ করতে গিয়ে আমাদের তাই বারবার মনে হয়েছে যে আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতির মূল ধারা যখন দিশাহীন উচ্চাশায় আজ ভয়াবহভাবে আক্রান্ত, তখন পার্থপ্রতিমের মতো প্রবল হৃদয়বৃত্তিই আমাদের ফুসফুসে হয়তো সেই প্রয়োজনীয় অক্সিজেন যোগাতে পারে। আসুন, তাঁর উচ্ছৃ্ঙ্খলতা আর অপচয়িত প্রতিভার গল্পকথা বন্ধ করে আজ তাঁর কাজে আমাদের প্রকৃত মনোযেগ কেন্দ্রীভূত করি, সন্ধান করে দেখি তার মনো-মানচিত্রের অবয়ব, যাকে হয়তো কোন রেখার বাঁধনে বাঁধা যায় না। ---কলকাতা, জানুয়ারি ২০০৪।”

.


পার্থপ্রতিমের অভিনয় দিয়ে সিনেমা জগতে প্রবেশ -     ^^ উপরে ফেরত
তাঁর সিনেমাজগতে আসা পরিচালক হিসেবে নয়, অভিনেতা হিসেবে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকান্ত অবলম্বনে, কানন দেবীর 'শ্রীমতী প্রোডাকশন'-এর শেষ ছবি 'ইন্দ্রনাথ, শ্রীকান্ত ও অন্নদাদিদি' ছবিতে পার্থপ্রতিম অভিনয় করেছিলেন ইন্দ্রনাথের ভুমিকায়, কানন দেবীর সঙ্গে। ছবিটি রিলীজ হয় ৩রা অক্টোবর ১৯৫৯। এ ছাড়াও তাঁর বেশ কিছু সিনেমায় তিনি ছোট পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ও করেছেন।

১৯৭৪ সালে তিনি ঋত্বিক ঘটকের 'যুক্তি তক্কো আর গপ্পো' সিনেমায় অভিনয় করেন। মিলসাগরে কবি ঋত্বিক ঘটকের কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন...

.


পার্থপ্রতিম চৌধুরীর সিনেমা -         ^^ উপরে ফেরত
কলেজে পড়তে পড়তেই সিনেমা জগতে তিনি বিখ্যাত পরিচালক অসিত সেনের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত। এই সময়ে তিনি প্রায় ৮-৯টা ছবিতে কাজ করেছিলেন। অজয় করের 'পরিণীতা' ছবির চিত্রনাট্যকারও ছিলেন পার্থপ্রতিম। গীতিকার রূপেও বহু গান লিখেছিলেন তিনি। পার্থপ্রতিম চৌধুরীর সিনেমার মধ্যে রয়েছে . . .

১৯৬৩ মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর প্রথম পরিচালিত ও লেখা, শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত ছবি “ছায়াসূর্য”। শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন যে এই ছবিতেই শর্মিলা ঠাকুরের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্রায়ন 'ঘেঁটু'। সারাজীবনে শর্মিলা অন্য কোনও ছবিতে এত ভিন্ন ধর্মী চরিত্রে আর কখনও অভিনয় করেননি! যে ব্যাপারটি স্বয়ং সত্যজিৎ রায়কেও ভাবিয়েছিল, তা হল ঘেঁটুর প্রেমিকের চরিত্রে অরুণ মুখোপাধ্যায়ের মুখ সারা ছবিতে একটিবারও না দেখানো। বেকার যুবকের অবহেলিত চরিত্রটির মধ্য দিয়ে এই ছিল সমাজের প্রতি পরিচালকের প্রতিবাদী প্রকাশভঙ্গি। সত্যজিৎ রায় তো সাংবাদিকদের কাছে ঘোষণাই করে দিলেন, তাঁর পদাঙ্ক অনুসারী পরিচালক রূপে পার্থপ্রতিমই হবেন যোগ্য ধারক!
১৯৬৫ তাঁর পরিচালিত শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত ছবি “শুভ ও দেবতার গ্রাস”।
১৯৬৫ তাঁর পরিচালিত তনুজা অভিনীত ছবি “দোলনা”।
১৯৬৮ তাঁর পরিচালিত শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় আর অপর্ণা সেন অভিনীত ছবি হংসমিথুন। অপর্ণা সেন পরিচালক হওয়ার পর বলেছিলেন, 'পার্থপ্রতিমের কাছ থেকেই আমার ক্যামেরার কাজ, পরিচালনার হাতেখড়ি হয়েছিল।
১৯৬৯ পার্থপ্রতিমের চিত্রনাট্যে. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে, অজয় কর পরিচালিত. সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ছবি “পরিণীতা”।
১৯৭৪ পার্থপ্রতিমের চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনায়, বিমল করের উপন্যাস অবলম্বনে অপর্ণা সেন, শর্মিলা ঠাকুর এবং মহানায়ক উত্তমকুমারের ডিগ্ল্যামারাইজড চরিত্রে প্রথম অভিনয়ে “যদুবংশ”।
১৯৮২ পার্থপ্রতিম পরিচালিত রণজিত মল্লিক ও মুনমুন সেন অভিনত “রাজবধু”। এই ছবিতে তিনি অনেকগুলি গানও রচনা করেছিলেন।
১৯৮২ পার্থপ্রতিমের চিত্রনাট্যে ছবি “ত্রয়ী”।
১৯৮৩ পার্থপ্রতিমের রচিত কয়েকটি গান নিয়ে ছবি “চেনা অচেনা”।
১৯৮৪ পার্থপ্রতিমের চিত্রনাট্য, সঙ্গীত পরিচালনা, আলোকচিত্র পরিচালনা, চিত্রগ্রহণ, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনায় “পূজারিণী”।
১৯৮৪ পার্থপ্রতিমের কাহিনী, চিত্রনাট্য, সঙ্গীত পরিচালনা, “সরগম”।
১৯৮৬ পার্থপ্রতিমের পরিচালনায় ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ছবি “শুভ কেমন আছো” এই ছবিতে তিনি রেকর্ডে বাজিয়ে শুনিয়েছেন ১৯৮০ সালে রচিত দেবব্রত বিশ্বাসের গান “ক্যারে হেরা আমারে গাইতায় দিল না” গানটি। মিলনসাগরে দেবব্রত বিশ্বাসের গান ও কবিতার পাতায় যেতে . . .
১৯৮৯ শকুন্তলা বড়ুয়া ও প্রসেঞ্জিৎ অভিনীত, পার্থপ্রতিম চৌধুরীর প্রধান চিত্রগ্রাহক, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনায় “মনে মনে”।
১৯৯৪ পার্থপ্রতিম চৌধুরীর কাহিনী-চিত্রনাট্য-সংলাপ-গীতরচনা-সঙ্গীত এবং পরিচালনা করা সিনেমা “বৌমনি”। এই সিনেমায় সহকারী সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন কবির ভাইপো, বর্তামনে স্বনামধন্য সঙ্গীত পরিচালক দীপ্তনীল চৌধুরী।

.


পার্থপ্রতিম চৌধুরীর কেরিয়ারের শেষে -     ^^ উপরে ফেরত
শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর www.thewall.in ওয়েবসাইটের প্রবন্ধের শেষে লিখেছেন...

“...দর্শক থেকে গুণীজনেরা, সকলেই ভেবেছিলেন, বাংলা ছবির নতুন পথিকৃৎ হবেন। কিন্তু পার্থর অন্যধারার ছবি বক্সঅফিস সাফল্য পেত না। ধীরেধীরে তাঁর চাহিদা কমতে থাকল প্রযোজকদের কাছে। নিজস্ব ধারার কাজ ছেড়ে শেষের দিকে বাণিজ্যিক মোড়কে ছবি করতে শুরু করলেন পার্থপ্রতিম। মুনমুন সেনকে প্রথম বাংলা ছবিতে নায়িকা করে 'রাজবধূ' ছবি করলেন পার্থপ্রতিম। উৎপল দত্ত, ছায়া দেবীর সঙ্গে মুনমুন স্ক্রিন শেয়ার করেন। কিন্তু এ ছবি বক্সঅফিসে দর্শক নিল না। মুনমুনকে নিয়ে বানালেন 'পূজারিণী' আর 'সরগম'। শুরুর দিকে এমন সব ভাল ছবি করেছিলেন মুনমুন পার্থর সঙ্গেই। মিঠুন-দেবশ্রী-সৌমিত্র-র 'ত্রয়ী' ছবির চিত্রনাট্যকারও ছিলেন পার্থপ্রতিম। শেষ ছবি ছিল প্রসেনজিৎ-শতাব্দীর 'মনে মনে'।

পার্থপ্রতিম মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন। আড্ডা বা চিত্রনাট্য পড়া মানেই মদ ছিল প্রথম উপকরণ। তার উপর ছিল অবসাদ। যা চাইছেন, তা করতে পারছেন না। করলেও দর্শক নিচ্ছে না। এসবের মধ্যেই নেশার জীবনে ধীরে ধীরে ডুবে যেতে থাকলেন এই প্রতিভাবান পরিচালক। নানা ধরনের কাজ করতে গিয়ে ছবির মানও পড়তে থাকে তাঁর। খবরের বাইরে চলে যান এই পরিচালক। ১৯৯৪ সালের ৮ এপ্রিল, সবার চোখের আড়ালে নীরব প্রস্থান ঘটে পার্থপ্রতিম চৌধুরীর।

বাংলা ছবির ইতিহাসে যাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে থাকা উচিত ছিল, প্রচারের বাইরে থেকে তিনি হারিয়ে যান বিস্মৃতির আড়ালে।”

.


যদুবংশ সম্পর্কে পার্থপ্রতিম চৌধুরী -     ^^ উপরে ফেরত
মন্তাজ ফিল্মস এর “যদুবংশ” সিনেমার বিজ্ঞাপনী লীফলেটে তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছবিটি সম্বন্ধে তিনি নিজে লিখে গিয়েছেন ...

“একটি ছবি, সৎ সুস্থ বলিষ্ঠ এবং আপোষহীন ছবি করার জন্যে এ দেশে সংগ্রাম সাধনা আর উপেক্ষার বহু ইতিহাসই আছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রেক্ষাগৃহে আরামকেদারায় বসে অবসর চিত্তবিনোদনের ইচ্ছে মাথায় নিয়ে আপনারা তার কতটুকু বা জানেন! "যদুবংশ” তৈরী করার বাসনা এবং সেই অনুসারে তার সমস্ত পরিকল্পনা করা হয়েছিল আজ থেকে পাচ বছর আগে। বছর খানেক কাটলো বিভিন্ন প্রযোজকদের খেয়ালখুশীর আবর্তে। আর বছর দুই সরকারী সাহায্য অর্থাৎ এফ, এফ, সি,র আশায়। সেদিক থেকে নিরাশার পর তিনবছর পরে সুযোগ এল। বাকি দু' বছরে ছবি তৈরী শেষ হলো আমাদের বর্তমান পরিবেশকের অকৃত্রিম ও আন্তরিক সহায়তায়, শিল্পী ও সতীর্থ কলাকূশলীদের প্রতিমুহুর্তের ত্যাগস্বীকারে। এই পাঁচবছরে সমাজের নানা পরিবর্তন, তবু যদুবংশের যুগ আজও শেষ হয়নি বলেই আমার বিশ্বাস। হারিয়ে যাওয়া পঞ্চপ্রদীপের মঙ্গলালোক আজও আমরা খুঁজছি। এই ছবিতে তাই কোনো গল্প নেই। আছে কিছু মানুষ। জীবনের কিছু রৌদ্রছায়া। কিছু অচলায়তন। সূর্য কৃপা বুললি অভয় গননাথ তাই সাম্প্রত সময়ের প্রচ্ছদপটের মুখ আর আমরাও তাদের মুখোশ। গল্প যা, তা ছবিতে জীবন পেয়েছে কিনা, সেটা আপনাদের বিচার্য।”

.


যদুবংশ সম্পর্কে গল্পের লেখক বিমল কর -         ^^ উপরে ফেরত
মন্তাজ ফিল্মস এর “যদুবংশ” সিনেমার বিজ্ঞাপনী লীফলেটে আমরা পাই লেখক বিমল করের মন্তব্য...

"পার্থপ্রতিম চৌধুরীর ছবি 'যদুবংশ" দেখেছি। আমি সমালোচক নই, অন্তত সিনেমার ; আমার মতামত বিশেষজ্ঞের নয়, সাধারণ দর্শকের। 'যদুবংশ' দেখার পর আমি বিচলিত বোধ করেছি। এর কারণ এই নয় যে, ওই ছবির কাহিনী আমার লেখা ; লেখার মধ্যে যা ছিল অপ্রত্যক্ষ, ছবিতে তা প্রত্যক্ষ করলাম। এমন উগ্র মেজাজের ছবি আমাদের বাংলা দেশে করা হয় না, এত উচ্চস্বর, ক্রুদ্ধ ছবিই বা কোথায়? অথচ আজ আমরা এমন একটা পরিবেশের মধ্যে বেঁচে আছি যা দেখলে মনে হয়, চারদিকেই এক অসুস্থ, বিকৃত, হিংস্র এবং প্রায় উন্মত্ত অবস্থা বিরাজ করছে। ছবিতে পার্থপ্রতিম দুঃসাহসের সঙ্গে এই পরিবেশ এবং আবহাওয়া সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। শুধু পরিবেশ নয়, প্রত্যেকটি চরিত্র এবং খুঁটিনাটির মধ্যে তিনি বার বার এখনকার সামাজিক অবক্ষয়, তার দৈন্য, তার শূণ্যতা বোঝাবার চেষ্টা করেছেন। অত্যন্ত সৎ এবং আবেগময় না হলে এমন বিষয়কে ছবিতে তুলে ধরার চেষ্টা করা যায় না। পার্থপ্রতিম, আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই, অত্যন্ত বলিষ্ঠ এবং সচেতনভাবে সে চেষ্টা করেছেন এবং সফল হয়েছেন। তাঁর দক্ষতা সামান্য নয়, চরিত্রগুলিকে সজীব এবং স্বাভাবিক রেখেই তিনি নাটকীয় উদ্বেগ ও আবেগ সৃষ্টি করতে পেরেছেন, ছবিগুলির মধ্যে প্রয়োজনীয় তাৎপর্য যোগ করতে সক্ষম হয়েছেন। এ ছবির বৈশিষ্ট্য লক্ষ করার মতন নজর আশা করি কিছু দর্শকের থাকবে । প্রচলিত ছবির রীতি, নীতি, গড়ন প্রায় সবই তিনি ভেঙে নিজের বিশ্বাস ও ধারণা মতন এই ছবিটি করেছেন! জানি না, দর্শক তাঁর ছবিটি কী ভাবে নেরেন, তবে সাধারণের যদি ভাল লাগে তকে পার্থপ্রতিমের মতন আমিও খুশী হব।"

.


পার্থপ্রতিম চৌধুরীর লেখা, কবিতা ও গান -      ^^ উপরে ফেরত
“রেখাহীন মানচিত্র”-এর সংগ্রাহক ও সম্পাদক শিবাদিত্য দাশগুপ্ত ও সুগত সিংহ পার্থপ্রতিম চৌধুরীর লেখার উৎস সম্বন্থে লিখেছেন ...

“...’এপিক থিয়েটার’, ‘পটভূমি’, ‘চিত্রভাষ’, ‘ঘরোয়া’, ‘আনন্দলোক, ‘অভিনয়’, ‘অযান্ত্রিক’, ‘সিনে সেলুলয়েড’, ‘সুন্দরম’ ইত্যাদি পত্রিকা এবং অসীম ঘোষ সম্পাদিত ‘চলচ্চিত্রকখা’ ও স্বদেশ বসু সম্পাদিত ‘গঙ্গাপদ বসু স্মারক সংকলন’ থেকে।... তপন চক্রবর্তীর চেষ্টায় আমরা পেয়েছি তাঁর বহু-আলোচিত একাঙ্ক নাটক ‘ভিসুভিয়াসের মৃ্ত্যু’।... চলচ্চিত্র-সম্পাদক রথীশ সাহা তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে ব্যবহা করতে দিয়েছেন ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’--- একটি বিদেশি ছায়াছবির চিত্রনাটা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা হয়েছিল এই নাটক, তারপর তা অনুদিত ও অভিনীত হয় বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায়।...”

তাঁর কবিতা লেখা নিয়ে শোনা যায় যে তিনি নাকি - “বারে বসে ন্যাপকিনের ওপর কত কবিতা লিখেছেন। মদের বোতল নিয়ে লিখতে বসে একদমে মদও শেষ, লেখাও শেষ!”

গীতিকার রূপেও তিনি বহু গান লিখেছিলেন। দূরদর্শনের প্রথম যুগের ধারাবাহিকে গান লিখতেন পার্থপ্রতিম।

ইনটারনেটের ইউটিউব.কম, সারেগামা,কম, ফেসবুক.কম, গানা.কম প্রভৃতি ওয়েবসাইটে তাঁর বিভিন্ন সিনেমার ভিডিও ও অডিও থেকে তাঁর ২১টি গান শুনে শুনে তুলেছি, যার কিছু কিছু কথা হয়তো ভুল থাকতে পারে। এর জন্য আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।



কবির ছোট ভাই মিলনসাগরের কবি ইন্দ্রনীল চৌধুরীর পুত্র, স্বনামধন্য মিউজিক ডিরেক্টর, কবির ভাইপো দীপ্তনীল চৌধুরীর দেওয়া তথ্যাদি ও উৎসাহদানে, এই পাতা করা সম্ভব হলো। আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ রইলাম।

আমরা মিলনসাগরে কবি পার্থপ্রতিম চৌধুরীর কবিতার পাতা তৈরী করে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে আমাদের এই প্রয়াস সার্থক হবে। এই পাতা কবি পার্থপ্রতিম চৌধুরীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ।

বাঙালীদের বহু বদনাম আছে। তাঁরা অলস, তাঁরা আড্ডাবাজ, ফাঁকিবাজ, আরও অনেক কিছু। কিন্তু বাঙালীর যে ভাল গুণগুলি আছে, তার মধ্যে একটা হলো কবিতা লেখা! প্রায় সব বাঙালীই জীবনে দু-এক লাইন কবিতা লেখেন বা লিখেছেন। মিলনসাগরে আমাদের চেষ্টা সেই কবিতার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বাঙালীদের মিলনসাগরের কবিদের সভায় ধরা। মিলনসাগরের বাংলা কবিতার কালানুক্রমিক সূচী আসলে বাঙালীর ইতিহাস হয়ে উঠছে, কবিদের জীবনীর মধ্য দিয়ে।



কবি পার্থপ্রতিম চৌধুরীর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন



আমাদের ই-মেল
: srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ
: +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭



এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২৩.৫.২০২৬


উৎস ---
  • শিবাদিত্য দাশগুপ্ত ও সুগত সিংহ দ্বারা, পার্থপ্রতিম চৌধুরীর রচনাবলীর সংগৃহীত ও সম্পাদিত দ্রন্থ “রেখাহীন মানচিত্র”, ২০০৪।
  • শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের, “শর্মিলা-অপর্ণার নয়নের মণি ছিলেন এই পরিচালক, নেশার কবলে পড়ে অকালে ফুরিয়ে যায় প্রতিভা”, www.thewall.in
  • আমরা কৃতজ্ঞ, গল্প-প্রবন্ধকার, চলচ্চিত্র আলোচক, অনুবাদক, ডকুমেন্টারি ডিরেক্টর, প্রযোজক এবং কবি সোমা ভট্টাচার্যর কাছে কারণ তিনি আমাদের ঋত্বিক ঘটক কে নিয়ে অতি মূল্যবান তথ্য দিয়েছেন।
  • মন্তাজ ফিল্মস এর “যদুবংশ” সিনেমার বিজ্ঞাপনী লীফলেট, banglacinema100.com
  • en.wikipedia.org Partha Pratim Chowdhury.
  • nettv4u.com Partha Pratim Chowdhury.

^^ উপরে ফেরত