রসকল্পবল্লী গ্রন্থ সম্বন্ধে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি -                            পাতার উপরে . . .  
কবি রামগোপাল দাস, তাঁর রচিত ও সংকলিত “রসকল্পবল্লী” গ্রন্থে সংকলন করেন যোড়শ শতকের
নরহরি
সরকার, গোবিন্দ আচার্য, বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, বংশী ঠাকুর, জ্ঞানদাস, লোচনদান, যদুনাথ দাস, কবিরঞ্জন
ঠাকুর, কৃষ্ণদাস প্রমুখ কবিদের পদাবলী। সংকলিত ষোড়শ শতকের শেষ ভাগের পদকর্তাদের  মধ্যে  
রয়েছেন
শ্রীনিবাস আচার্য, নরোত্তম ঠাকুর, গোবিন্দদাস কবিরাজ, গোবিন্দ চক্রবর্তী, বল্লভ চৌধুরী,  
কবিশেখর প্রমুখগণ।

হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এই গ্রন্থের মুখবন্ধে আরও লিখেছেন, “গোপালদাস সুকবি ছিলেন। চণ্ডীদাসের নামে
প্রচলিত ‘থির বিজুরি বরণ গোরী পেখলু ঘাটের কূলে’ পদটি গোপালদাসের রচিত। ইঁহার রচিত আরও  
কয়েকটি উত্কৃষ্ট পদ আছে। ‘কালিয় দমন জগতে তুয়া ঘোষই সহচরি শুনই কানে’ ---গোপালদাসের  এই
পদটি গোবিন্দদাসের নামে চলিতেছে। গোপালদাসের গ্রন্থ হইতে শ্রীখণ্ডের তিনজন কবির নাম পাওয়া যায়।

কবিরঞ্জন দামোদর কবি।
যশোরাজখান আদি সবে রাজসেবি॥

দামোদর গোবিন্দ কবিরাজের মাতামহ, ইঁহার সুবিখ্যাত গ্রন্থ সঙ্গীতদামোদর।  কবিরঞ্জন একজন বিখ্যাত
কবি। যশোরাজখানের একটিমাত্র পদ পাওয়া গিয়াছে এবং এই পদে গৌড়েশ্বর হুসেন শাহের নাম আছে।  
গোপালদাস  রচিত  শ্রীনরহরি  সরকার ঠাকুরের এবং শ্রীরঘুনন্দন ঠাকুরের শাখানির্ণয় কবিতা পাওয়া
গিয়াছে।


[ থির বিজুরি বরণ গোরী পেখলু ঘাটের কূলে পদটি আমাদের কবিতার পাতায় তোলা হয়েছে। কিন্তু   
‘কালিয় দমন জগতে . . .’ কবিতাটি কোনো গ্রন্থে বা সংকলনেই গোপালদাসের ভণিতায় পাইনি। তাই পদটি
আমরা
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন থেকেই মিলনসাগরে তুলে দিয়েছি।  
এখানেও
গোবিন্দদাসের ভণিতাতেই গানটি দেওয়া হয়েছিল ১৯৪৬ সালে সংকলনের প্রকাশনার সময়ে।
আমরাও সেভাবেই গানটিকে তুলেছি।
]

ভূমিকায় রয়েছে, “পক্বপল্লীর রাজা নরসিংহের যে সকল পদ এই সংকলন গ্রন্থে (রসকল্পবল্লী) পাওয়া যায়,
সেই সকল পদে নৃসিংহ ভূপতি, ভুপতি সিংহ প্রভৃতি ভণিতা পাওয়া যায়।”

আমরা প্রতিটি পদে, সেই পদের উত্স-গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছি। একাধিক ক্ষেত্রে একাধিক রূপে পাওয়া  
একই পদ তুলে দিয়েছি তুলনার জন্য।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি গোপাল দাসের বৈষ্ণব পদাবলী তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে
এই প্রচেষ্টাকে সার্থক বলে মনে করবো।


কবি গোপাল দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।    



আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২৯.৩.২০১৭।
এই পাতার পরিবর্ধিত সংস্করণ - ৩১.০৮.২০১৯।

...
কবি গোপাল দাস - এর পুরো নাম রামগোপাল দাস। তিনি গোপালদাস ভণিতায় পদ রচনা করতেন।
তাঁর প্রধাণ কীর্তি, ১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে রচিত “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ রসকল্পবল্লী” অথবা  “রসকল্পবল্লী” নামের,
বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন। কবি গোপাল দাস জন্মগ্রহণ করেন বর্ধমান জেলার, কাটোয়ার
শ্রীখণ্ড গ্রামে। অল্পবয়সে কবির পিতা  শ্যামরায়ের মৃত্যু হলে, মাতা চন্দ্রাবলী দেবী তাঁকে মানুষ করেন।
বোধহয় পিতার মৃত্যুর পরেই তিনি তাঁর মাতামহ গৌরাঙ্গদাসের কাছে চলে আসেন। রামগোপালের  
প্রমাতামহের নাম মধুসূদন। মধুসূদন সঙ্কীর্ত্তনে  খোল বাজাতেন এবং এই সব অনুষ্ঠানে রঘুনন্দন ঠাকুর নৃত্য
করতেন।

রামগোপাল দাসের পুত্রের নাম
পীতাম্বরদাস, যিনি “রসমঞ্জরী” ও “অষ্টরসব্যাখ্যা” নামে দুটি ছোট গ্রন্থ রচনা
করেছিলেন। সেই গ্রন্থ থেকেও আমরা গোপালদাসের রচিত পদাবলী এখানে তুলে দিয়েছি।   

কবির দীক্ষাগুরু ছিলেন শ্রীরঘুনন্দন ঠাকুরের বংশের
 শ্রীরতিপতি ঠাকুর। তাঁর অন্যান্য শিক্ষাগুরুর মধ্যে
যাঁদের নাম পাওয়া গিয়েছে তাঁরা হলেন ব্রজদেবীদাস ঠাকুর, শ্রীরূপ ঘটক (প্রেমবিলাস, ভক্তিরত্নাকর ও  
পদকল্পতরুতে উল্লেখিত), রামেশ্বর ভট্টাচার্য্য,
গিরিধর চক্রবর্তী (গিরিধর দাস হতেও পারেন), জয়রামদাস,
গৌরগতিদাস এবং পিতৃব্য রাধাকৃষ্ণদাস।

তাঁর প্রধাণ কীর্তি, ১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে রচিত “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ রসকল্পবল্লী” অথবা  “রসকল্পবল্লী” নামের,
বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন।
রসকল্পবল্লী রচনার উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্ধৃতি   
রামগোপাল দাসের আত্মপরিচয়    
রামগোপাল দাসের রসকল্পবল্লী গ্রন্থের রচনাকাল   
রসকল্পবল্লী গ্রন্থ সম্বন্ধে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি   
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি    
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
.
রসকল্পবল্লী রচনার উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্ধৃতি -                                             পাতার উপরে . . .  
১৯৪৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে,
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল এই গ্রন্থের
সম্পাদনা করে মুদ্রিত সংস্করণের  প্রকাশনা করেন।

এই গ্রন্থের এই গ্রন্থের রচনাপ্রসঙ্গে, ভূমিকায় তাঁরা লিখেছেন, ---

সে যুগে সংস্কৃতচর্চা বিশেষভাবে চলিতেছিল, তাই শিক্ষিতমহলে গোস্বামিগণের বৈষ্ণবীয় তত্ত্ব ও রস সম্বন্ধে
সংস্কৃত ভাষায় লিখিত গ্রন্থগুলির প্রচার ও প্রসার হইয়াছিল।

পরবর্ত্তি কালে যে সব বৈষ্ণব সংস্কৃত ভাল বুঝিতেন না বা জানিতেন না, তাঁহারা ঐ সকল
গ্রন্থের অধ্যয়নসুখে বঞ্চিত হইতেন। এই সকল বৈষ্ণবের অনুরোধে রামগোপালদাস ভাষায় (বাংলা ভাষায়)
রসশাস্ত্রের ব্যাখ্যানের ভার গ্রহণ করেন। রসকল্পবল্লীর সূচনায় গ্রন্থরচনার উদ্দেশ্য এইরূপ ব্যক্ত রহিয়াছে---
দুই চারি বৈষব মোরে কৈল উপরোধ।
সংস্কৃত বুঝিতে মোর নাহি কিছু বোধ॥
ভাষা করিয়া রস বুঝাহ আমারে।
অতএব সংক্ষেপে কহি না হয় বিস্তারে॥

ভাষায় (বাংলাভাষায়) রসশাস্ত্রের সংক্ষেপ ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে রামগোপালদাস রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী রচনা শুরু
করেন।
”   

হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এই গ্রন্থের মুখবন্ধে লিখেছেন, “কিরূপে গ্রন্থ রচনার সূত্রপাত হইয়াছিল কবি তাহা  
বলিয়াছেন। যাজীগ্রামের শ্রীল শ্রীনিবাস আচার্য্য ঠাকুরের একজন প্রিয়পাত্র ছিলেন, নাম শ্রীরামচরণ চক্রবর্ত্তী
ঠাকু, নিবাস ফরিপুর গ্রামে। একজন সেবককে তিনি শ্রীরাধাকৃষ্ণমন্ত্র দানপূর্ব্বক গোপালদাসের হাতে সেই  
সেবকের শিক্ষার ভার অর্পণ করেন। এই শিক্ষা উপলক্ষ্যেই গ্রন্ঙখানি রচিত হয়। সাতই  কার্ত্তিক
বৃহষ্পতিবার কৃষ্ণা দশমীতে গ্রন্থ লেখা সম্পূর্ণ হইয়াছিল। রচনা শেষ হয় তার পূর্ব্বদিন বুধবারে।

.
রামগোপাল দাসের আত্মপরিচয় -                                                      পাতার উপরে . . .  
১৯৪৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে,
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পালের
সম্পাদনায় প্রকাশিত, রামগোপাল দাস বিরোচিত শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ রসকল্পবল্লী গ্রন্থে, রামগোপাল দাস তাঁর
আত্মপরিচয় নামক পদে তিনি তাঁর পিতৃ-মাতৃ-গুরুকুল ও শিক্ষাগুরুদের এবং গ্রন্থ রচনার আরম্ভ
ও সমাপ্তির বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন . . .

অল্পকালে পিতৃবিয়োগ না হইল অধ্যয়ন।
মাতা চন্দ্রাবলী দাসী করিল পালন॥
মাতামহ গৌরাঙ্গদাস মহাবংশ হয়।
প্রমাতামহ মধুসূদনদাস বৈষ্ণব আশ্রয়॥
কৃষ্ণ সংকীর্ত্তনে তেহোঁ করেন বাজন।
যাতে নৃত্য করেন প্রভু শ্রীরঘুনন্দন॥
খণ্ডের সম্প্রদা বলি নীলাচলে কহেন।
চৈতন্যচরিতামৃতে আছয়ে বিবরণ

.
রামগোপাল দাসের রসকল্পবল্লী গ্রন্থের রচনাকাল -                                   পাতার উপরে . . .  
১৯৪৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে,
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পালের
সম্পাদনায় প্রকাশিত, রামগোপাল দাস বিরোচিত শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ রসকল্পবল্লী গ্রন্থে, রামগোপাল দাস তাঁর
আত্মপরিচয় নামক পদে তিনি তাঁর পিতৃ-মাতৃ-গুরুকুল ও শিক্ষাগুরুদের এবং গ্রন্থ রচনার আরম্ভ
ও সমাপ্তির বিস্তারিত বিবরণের সঙ্গে এই গ্রন্থের রচনাকাল জানিয়ে গিয়েছেন . . .

আরম্ভ করিল গ্রন্থ প্রথম বৈশাখে।
বাণ অঙ্গ শর ব্রহ্ম নরপতি শাকে॥
সপ্তমাস অবলম্বন কার্ত্তিকে সংপূর্ণ।
বুধবার দীপযাত্রা হইল পরসন্ন॥
শ্রীবৃন্দাবনচন্দ্রের সেবা মধ্যাহ্ন আরতি।
পুস্তক হইলে কৈল্যাঙ দণ্ডবত নতি॥
কেতুগ্রামে আরম্ভ সম্পূর্ণ বৈদ্যখণ্ডে।
শ্রীবৈষ্ণব গোসাঞি দর্শন পাইলা সেই দণ্ডে


“বাণ অঙ্গ শর ব্রহ্ম নরপতি শাকে” এই সূত্র থেকে বেদের ষড়ঙ্গ ধরলে ১৫৬৫ শকাব্দ (১৬৪৩ খৃষ্টাব্দ) হয়।
আয়ুর্বেদের অষ্টাঙ্গ ধরলে ১৫৮৫ শকাব্দ (১৬৬৩ খৃষ্টাব্দ) হয় এবং ভক্তির নবাঙ্গ ধরলে ১৫৯৫ শকাব্দ (১৬৭৩
খৃষ্টাব্দ) হয়।
সতীশচন্দ্র রায় ১৫৬৫ শকাব্দ কাল সঠিক মনে করেছিলেন। নলিনীকান্ত ভট্টশালী ১৫৯৫ শকাব্দ
সঠিক মনে করেন। কিন্তু যেহেতু কবি বৈদ্য ছিলেন এবং বৈদ্যদের আয়ুর্বেদ অষ্টাঙ্গ প্রসিদ্ধ ছিল, তাই  
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যয় ১৫৮৫ শকাব্দকেই গ্রহণ করেছিলেন। গ্রন্থটি রচনা করতে সাতমাস সময় লেগেছিল।  
লেখা শুরু করা হয়েছিল বৈশাখ মাসে এবং শেষ হয় কার্তিক মাসের, বুধবারের অমাবস্যায় গ্রন্থটির রচনা
সম্পূর্ণ হয়।
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
গোপালদাস, গোপাল,
শ্রীগোপালদাস, রামগোপাল দাস,
.