কবি দ্বিজ হরিদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
দুতিমুখে শুনইতে ঐছন রীত
কবি দ্বিজ হরিদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৬ষ্ঠ
পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ-প্রকারান্তর, পদসংখ্যা ১২৯।

.        ॥ বালা ধানশী॥

দুতিমুখে শুনইতে ঐছন রীত।
সব অঙ্গ পুলকিত চমকিত চিত॥
কহইতে গদগদ কণ্ঠহি বোল।
সখি-মুখ নিরখই অন্তর দোল॥
ইঙ্গিত জানি বনায়ল বেশ।
সিন্দূর দেয়ল বান্ধল কেশ॥
সব সখি-গণ মেলি কয়ল পয়ান।
নিশবদে চললিহুঁ কোই না জান॥
চলইতে পদ দুই থরহরি কাঁপ।
হেরইতে পন্থ নয়নযুগ ঝাঁপ॥
ঐছনে মিলল নাগর পাশ।
পহিল মিলন কহে দ্বিজ হরিদাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১২৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ বালা ধানশী॥

দুতিমুখে শুনইতে ঐছন রীত।
সব অঙ্গ পুলকিত চমকিত চিত॥
কহইতে গদগদ কণ্ঠহি বোল।
সখীমুখ নিরখই অন্তর দোল॥
ইঙ্গিত জানি বনাওল বেশ।
সিন্দূর দেয়ল বান্ধল কেশ॥
সব সখি-গণ মেলি করল পয়ান।
নিশবদে চললিহ কোই না জান॥
চলইতে পদদুই থরহরি কাঁপ।
হেরইতে পন্থ নয়নযুগ ঝাঁপ॥
ঐছনে মিলল নাগর পাশ।
পহিল মিলন কহে দ্বিজ হরিদাস॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন
পদালী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের প্রথম মিলন।

দুতী মুখে শুনইতে ঐছন রীত।
সব অঙ্গ পুলকিত, চমকিত চিত॥
কহইতে গদ গদ কণ্ঠ হি বোল।
সখী মুখ নিরখিয়া অন্তর দোল॥
ইঙ্গিত জানি বনাওল বেশ।
সিন্দূর দেয়ল বাঁধল কেশ॥
সব সখীগণ মেলি করল পয়ান।
নিঃশবদে চললহি কোই না জান॥
চলইতে পদ দুই থর থরি কাঁপ।
হেরইতে পথ নয়ন যুগ ঝাঁপ॥
ঐছনে মিলল নাগর পাশ।
পহিল মিলন কহে দ্বিজ হরিদাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত,
বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৯-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

দুতীমুখে শুনইতে ঐছন রীত।
সব অঙ্গ পুলকিত চমকিত চিত॥
কহইতে গদগদ কণ্ঠহি বোল।
সখীমুখ নিরখই অন্তর দোল॥
ইঙ্গিত জানি বনায়ল বেশ।
সিন্দূর দেয়ল বান্ধল কেশ॥
সব সখীগণ মেলি করল পয়ান।
নিশবদে চলহু কোই না জান॥
চলইতে পদ দুই থরহরি কাপ।
হেরইতে পন্থ নয়নযুগ ঝাপ॥
ঐছন মিলল নাগর পাশ।
পহিল মিলন কহে দ্বিজ হরিদাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আইস আইস সুবদনি রসময়ি রাধা
কবি দ্বিজ হরিদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৩য়
পল্লব, রূপাভিসার, পদসংখ্যা ২৯৮।

.        ॥ পঠমঞ্জরী॥

আইস আইস সুবদনি রসময়ি রাধা।
দরশনে দুরে গেও মনসিজ-বাধা॥
তুহুঁ মোর সবরস নয়ানের তারা।
তো বিনে সকল দিগ লাগে আন্ধিয়ারা॥
করে ধরি রাই বৈসায়ল বামে।
পীত-বাসে মোছই রাই-মুখ ঘামে॥
পন্থকি দুখ পুছত বরকান।
আনন্দে মগন দুহুঁ কিছু নাহি জান॥
অপরূপ রাধা-কানু-বিলাস।
দূরহিঁ নেহারত দ্বিজ হরিদাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত,
বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬৮-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

আইস আইস সুবদনী রসময়ী রাধা।
দরশনে দুরে গেও মনসিজ বাধা॥
তোহ মোর সবরস নয়ানের তারা।
তো বিনে সকল দিগ লাগে আন্ধিআরা॥
করে করে ধরি রাই বৈসাইল বামে।
পীতবাসে মোছই রাইমুখ ঘামে॥
পন্থ কি দুখ পুছত বর কান।
আনন্দে মগন দোঁহে কিছুই না জান॥
অপরূপ রাধা কানু বিলাস।
দূরহি নেহারত দ্বিজ হরিদাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঋতু-পতি রাধামাধব সঙ্গ
কবি দ্বিজ হরিদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৩য় পল্লব, পুনশ্চ হোরি-লীলা,
পদসংখ্যা ১৪৬৮।

পুনশ্চ দিনান্তরে।

॥ তথারাগ॥ ( বসন্ত )

ঋতু-পতি রাধামাধব সঙ্গ।
বিবিধ বিলাস                                হোরি-রস-রঙ্গিত
আবিরে অরুণ দুহুঁ অঙ্গ॥ ধ্রু॥
অরুনিভ শ্যাম-                                কলেবর-দরপণে
রাইক প্রতিবিম্ব লাগি।
ভরমহি আন                                রমণি মনে মানিয়া
মানিনি ভেলি বিরাগী॥
রসিক সুনাগর                                রাইক মান হেরি
মিনতি করত কর জোরি।
পীত বসন গলে                                  সাধই পদতলে
রাই রহল মুখ মোড়ি॥
প্রিয়-সহচরি যত                               কতয়ে বুঝায়ত
সুখ সঞে কাহে বিপরীত।
দ্বিজ হরিদাস                              কহত কাহে রোখলি
প্রেমক ঐছে চরীত॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৭৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ঝিজিট॥

ঋতু-পতি রাধামাধব সঙ্গে।
বিবিধ বিলাস হেরি রস রঙ্গিত
আবিরে অরুণ শ্যাম অঙ্গে॥ ধ্রু॥
অরুনিত শ্যাম কলেবর দরপণ
রাইক প্রতিবিম্ব লাগি।
ভরমহি আন রমণি মনে জানিয়ে
মানিনী ভেল বিরাগী॥
রসিক সুনাগর রাইক মান হেরি
মিনতি করত কর যোড়ি।
পীত বসন গলে সাধই পদতলে
রাই রহল মুখ মোড়ি॥
প্রিয় সহচরি যত কত বুঝায়ত
সুখ সঞে কাহে বিপরীত।
দ্বিজ হরিদাস কহত কাহে রোখলি
প্রেমক ঐছন রীত॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৭৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্ত রাগ - তাল পরিমিত॥

ঋতুপতি রাধামাধব সঙ্গ।
বিবিধ বিলাস হোরি রসরঙ্গিত আবীরে অরুণ দোহু অঙ্গ॥
অরুণিত শ্যাম কোলে বড় দরপণ রাইক প্রতিবিম্ব লাগি।
ভরমহি আন রমণী মনে মানিয়ে মানিনী ভেল বিরাগী॥
রসিক সুনাগর রাই বিমুখ হেরি মিনতি করত কর জোড়ি।
পীত বসন গলে সাধই পদতলে রাই রহল মুখ মোড়ি॥
প্রিয় সহচরী জত কতএ বুঝাঅত সুখ সঞে কাহে বিপরীত।
দ্বিজ হরিদাস কহত কাহে রোখলি প্রেমক ঐছে চরিত॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এ ধনি মানিনি মান নিবারো
কবি দ্বিজ হরিদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৩য় পল্লব, পুনশ্চ হোরি-লীলা,
পদসংখ্যা ১৪৬৯।

॥ তথারাগ॥ ( বসন্ত )

এ ধনি মানিনি মান নিবারো।
আবিরে অরুণ শ্যাম-                                অঙ্গ-মুকুর পর
নিজ প্রতিবিম্ব নিহারো॥
তুহুঁ এক রমণি-                                   শিরোমণি রসবতি
কৌন ঐছে জগ মাহ।
তোহারি সমুখে                                  শ্যাম সঞে বিলসব
কৈছন রস-নিরবাহ॥
ঐছন সহচরি-                                     বচন শ্রবণে ধরি
সরমে ভরমে মুখ ফেরি।
ইষত হাসি মনে                                       মান তেয়াগল
উলসিত দোঁহে দোঁহা হেরি॥
পুন সব জন মেলি                             করয়ে বিনোদ কেলি
পিচকারি করি নিজ হাতে।
দ্বিজ হরিদাস                                     আবির যোগায়ত
সকল সখাগণ সাথে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোবিন্দ জয় জয় গোপাল গদাধর
কবি দ্বিজ হরিদাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী” দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রথম পরিশিষ্ট, নানা ভাবের সঙ্গীত, পদসংখ্যা ২৬, ৩৪২-পৃষ্ঠা।

.        ॥ ধানশী॥

গোবিন্দ জয় জয় গোপাল গদাধর।
কৃষ্ণচন্দ্র কর কৃপা করুণাসাগর॥
জয় গুরু গোবিন্দ গোপেশ গিরিধারী।
শ্রীরাধিকার প্রাণধন মুকুন্দ মুরারি॥
হরিনাম বিনে রে গোবিন্দনাম বিনে।
বিফলে মনুষ্য জন্ম যায় দিনে দিনে॥
দিন যায় বৃথা কাজে রাত্রি যায় নিদে।
না ভজিলাম রাধাকৃষ্ণচরণারবিন্দে॥
কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু।
মিছা মামায় (মায়ায়?) বদ্ধ হৈয়া বৃক্ষ সমান হৈনু॥
কালকলি পাপপ্রপঞ্চ প্রাক্তনযশে।
নাহি মজে হায় জীব কৃষ্ণনাম রসে॥
কৃষ্ণনাম ভজ জীব আর সব মিছে।
পলাইতে পথ নাই যম আছে পিছে॥
কৃষ্ণনাম হরিনাম বড়ই মধুর।
যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর॥
যে নাম শ্রবণে হয় পাপ বিমোচন।
দ্বিজ হরিদাস কহে নাম সংকীর্ত্তন॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভাদ্রকৃষ্ণা-অষ্টমীতে দেবকী-উদরে
কবি দ্বিজ হরিদাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী” দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রথম পরিশিষ্ট, নানা ভাবের সঙ্গীত, পদসংখ্যা ১১৭, ৩৬৫-পৃষ্ঠা।
এই পদটি এখনো যেকোনো দশকর্মা ভাণ্ডারে, “শ্রীনরোত্তম দাস বিরচিত শ্রীশ্রীকৃষ্ণের
 
অষ্টোত্তর শতনাম” নামে, কিছুটা ভিন্নরূপে, পাওয়া যায়, যদিও এটি দ্বিজ হরিদাসের রচনা
বলে আমরা জগবন্ধু ভদ্রর গৌরপদ-তরঙ্গিণীতে পাই। মিলনসাগরে তা পড়তে, “হিন্দু দেব-
দেবীদের কবিতায় অষ্টোত্তর শতনাম”-এর পাতায় যেতে,
এখানে ক্লিক করুন . . .    

.        ॥ ধানশী॥

ভাদ্রকৃষ্ণা-অষ্টমীতে দেবকী-উদরে।
জন্মিলেন শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র শ্রীমথুরাপুরে॥
শিশুরূপে আলো করে কারা অন্ধকারে।
মথুরায় দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে॥
বসুদেব থুইলা নিয়া নন্দঘোষের ঘরে।
নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে॥
নন্দঘোষ থুইলা নাম শ্রীনন্দনন্দন।
যশোদা রাখিলেন নাম যাদু বাছাধন॥
উপানন্দ নামে রাখে সুন্দর গোপাল।
ব্রজবালক নাম রাখে ঠাকুর রাখাল॥
সুবল রাখিলা নাম ঠাকুর কানাই।
শ্রীদাম রাখিল নাম রাখাল রাজা ভাই॥
ননীচোরা নাম রাখে যতেক গোপিনী।
কালসোনা নাম রাখে রাধাবিনোদিনী॥
কুব্জা রাখিল নাম পতিতপাবন হরি।
চন্দ্রাবলী থুইলা নাম মোহন-বংশীধারী॥
অনন্ত রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া।
কৃষ্ণনাম রাখে গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া ॥
কণ্বমুনি নাম রাখে দেব চক্রপাণি।
বনমালী নাম রাখে বনের হরিণী॥
গজদন্তী নাম রাখে শ্রীমধুসূদন।
অজামিল নাম রাখে দেব নারায়ণ॥
পুরন্দর নাম রাখেন দেব শ্রীগোবিন্দ।
কুন্তীদেবী রাখে নাম পাণ্ডব-আনন্দ॥
দ্রৌপদী রাখিল নাম দেব দীনবন্ধু।
পাপী তাপী রাখে নাম করুণার সিন্ধু॥
সুদাম রাখিলা নাম দারিদ্র্যভঞ্জন।
ব্রজবাসী নাম রাখে ব্রজের জীবন॥
দর্পহারী নাম রাখে অর্জ্জুন সুধীর।
পশুপতি নাম রাখে খগারাজবীর॥
যুধিষ্ঠির নাম রাখে দেব যদুবর।
বিদুর রাখিল নাম কাঙ্গালের ঠাকুর॥
বাসুকী রাখিলা নাম দেব সৃষ্টিস্থিতি।
ধ্রুবলোকে নাম রাখে ধ্রুবের সারথি॥
নারদ রাখিলা নাম ভক্ত-প্রাণধন।
ভীষ্মদেব নাম রাখে লক্ষ্মী-নারায়ণ॥
সত্যভামা নাম রাখে সত্যের সারথি।
জাম্বুবতী নাম রাখে দেব যোদ্ধাপতি॥
বিশ্বামিত্র রাখে নাম সংসারের সার।
অহল্যা রাখিল নাম পাষাণ-উদ্ধার॥
ভৃগুমুনি নাম রাখে জগতের হরি।
পঞ্চমুখে রামনাম জপে ত্রিপুরারি॥
কুঞ্জকেশী নাম রাখে বলী সদাচারী।
প্রহ্লাদ রাখিলা নাম নৃসিংহ মুরারি॥
দৈত্যারি দ্বারকানাথ দারিদ্য-ভঞ্জন।
দয়াময় দ্রৌপদীর লজ্জা নিবারণ॥
স্বরূপে সবার হয় গোলোকেতে স্থিতি।
বৈকুন্ঠে ক্ষীরোদশায়ী কমলার পতি॥
রসময় রসিক নাগর অনুপাম।
নিকুঞ্জবিহারী হরি নবঘনশ্যাম॥
শালগ্রাম দামোদর শ্রীপতি শ্রীধর।
তারকব্রহ্ম সনাতন পরম ঈশ্বর॥
কল্পতরু কমললোচন হৃষীকেশ।
পতিতপাবন গুরু জ্ঞান উপদেশ॥
চিন্তামণি চতুর্ভূজ দেব চক্রপাণি।
দীনবন্ধু দেবকীনন্দন যদুমণি॥
অনন্ত কৃষ্ণের নাম অনন্ত মহিমা।
নারদাদি ব্যাসদেব দিতে নারে সীমা॥
নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার।
অনন্ত কৃষ্ণের নাম মহিমা অপার॥
শঙ্খভরি সুবর্ণ গোকোটি কর দান।
তথাপি না হয় কৃষ্ণনামের সমান॥
যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।
নামের সহিত আছেন আপনি শ্রীহরি॥ @

এরপর কোন কোন গ্রন্থে এই চার পংক্তি আছে, যার মধ্যে শেষ দুই লাই আমরা পাই এই
কবিরই “গোবিন্দ জয় জয় গোপাল গদাধর” পদে
। . . .    

শুন শুন ওরে ভাই নাম সংকীর্ত্তন।
যে নাম শ্রবণে হয় পাপ বিমোচন॥
কৃষ্ণ নাম ভজ জীব আর সব মিছে।
পলাইতে পথ নাই যম আছে পিছে॥

ব্রহ্মা আদি দেব যারে ধ্যানে নাহি পায়।
সে হরি বঞ্চিত হৈলে কি হবে উপায় ॥
হিরণ্যকশিপুর উদরবিদারণ।
প্রহ্লাদে করিলা রক্ষা দেব নারায়ণ॥
বলীরে ছলিতে প্রভু হইলা বামন।
দ্রৌপদীর লজ্জা হরি কৈলা নিবারণ॥
অষ্টোত্তর শতনাম যে করে পঠন।
অনায়াসে পায় রাধা-কৃষ্ণের চরণ॥
ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণ কর নন্দের নন্দন।
মথুরায় কংসধ্বংস লঙ্কায় রাবণ॥
বকাসুর বধ আদি কালিয় দমন।
দ্বিজ হরিদাস কহে নাম-সংকীর্ত্তন॥

এই পদটি এখনো যেকোনো দশকর্মা ভাণ্ডারে, “শ্রীনরোত্তম দাস বিরচিত শ্রীশ্রীকৃষ্ণের
অষ্টোত্তর শতনাম” নামে, কিছুটা ভিন্নরূপে, পাওয়া যায়, যদিও এটি দ্বিজ হরিদাসের রচনা
বলে আমরা জগবন্ধু ভদ্রর গৌরপদ-তরঙ্গিণীতে পাই। মিলনসাগরে তা পড়তে, “হিন্দু দেব-
দেবীদের কবিতায় অষ্টোত্তর শতনাম”-এর পাতায় যেতে,
এখানে ক্লিক করুন . . .   

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর