*
গেন্দ্রনাথ মিত্রের রচিত বৈষ্ণব পদাবলী ?       
কীর্তনের প্রতি তাঁর অবদান      
অপর্ণা দেবীকে কীর্তন শিক্ষাদান    
তাঁর উদ্যোগে স্কুল স্থাপন    
দিলীপ কুমার রায়ের কীর্ত্তন শিক্ষা ও তাঁর খগেনকাকা   
রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের রচনাসম্ভার   
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?       
তিনি বিদ্যালয়সমূহের পরিদর্শকের পদও অলঙ্কৃত  করেছিলেন ১৯৩২সাল পর্যন্ত। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের
“রামতনু লাহিড়ী অধ্যাপকের” পদটি শুরু করা হয় তাঁকে দিয়েই। তিনিই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম
রামতনু লাহিড়ী অধ্যাপক। এই পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। ( কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ওয়েবসাইটে, বাংলা বিভাগের পাতা
।)

কবি, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক, পরিষৎ পত্রিকার সম্পাদক, রবিবাসরের সভাপতি, রাধানগর
সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি, মুম্বাইয়ে ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের সভাপতি এবং ১৯৩৬ সালে নরওয়েতে
অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ভাষা কংগ্রেসে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হয়েছিলেন।
তাঁর রচিত বৈষ্ণব পদাবলী ?                                                       পাতার উপরে . . .   
তিনি কেবল বৈষ্ণব পদাবলী ও কীর্তন সংগ্রহ ও সম্পাদনা করেই ক্ষান্ত হন নি, সম্ভবত রচনা  করেছেন
বৈষ্ণব পদাবলী, “অকিঞ্চন দাস” ভণিতায়। সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত "সংসদ বাঙালি
চরিতাভিধান", ১ম খণ্ডের ১৭৫-পৃষ্ঠায় রয়েছে যে তিনি অকিঞ্চন দাস নাম ব্যাবহার করতেন। আমরা  
প্রামাণিক ভাবে রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের “অকিঞ্চন দাস” ভণিতার কোন পদ পাইনি। তাঁর নিজের  
সম্পাদিত ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদালী সংকলন  
“শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৬০৮-পৃষ্ঠায় অকিঞ্চন দাস ভণিতার “জয় জয় শচীর নন্দন গোরারায়” পদটি পেয়ে
আমরা এখানে তুলেছি। কেউ যদি আমাদের কাছে প্রমাণ সহ তাঁর রচিত বৈষ্ণব পদাবলী, অকিঞ্চন দাস
ভণিতায়  পাঠান তা হলে আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর নাম এই পাতায় প্রকাশ করবো।

১৯৪১ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্রের “কীর্তন প্রবেশিকা”, ১০৯-পৃষ্ঠায় "করুণ দুটি অরুণ দিঠি" গানটি  
প্রথমে "সংহতি" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। গানটিতে সুরারোপ করেন শশাঙ্কশেখর চট্টোপাধ্যায়। এই গানটি,
গ্রন্থের পরিশিষ্টে, আধুনিক কালের
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়অশ্বিনীকুমার দত্তের গানের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে বলে
ধরে নিতে পারছি যে গানটি "অকিঞ্চন দাস" ভণিতায় স্বয়ং রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রেরই লেখা। এই গ্রন্থে
কোথাও বলা হয়নি যে তিনিই এই অকিঞ্চন দাস।
এই পাতায় ভণিতা -
অকিঞ্চন দাস
*
কীর্তনের প্রতি তাঁর অবদান -                                                          পাতার উপরে . . .   
আধুনিক কালে কীর্তনকে শহরাঞ্চলে প্রচলিত করার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি  সঙ্গীতজ্ঞ
হিসেবে গানও রচনা করে গিয়েছেন। তিনি “কীর্তন” (১৯৪৫), “কীর্তনগীতি-প্রবেশিকা” (১৯৪১ নামের দুটি
গ্রন্থও রচনা করেছিলেন।


খগেন্দ্রনাথের কীর্তন গানে মুগ্ধ হ'য়ে, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁকে তাঁর কন্যা অপর্ণা দেবীকে কীর্তনের
শিক্ষাদানের অনুরোধ করেন। খগেন্দ্রনাথ সেই অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন।
*
রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের রচনাসম্ভার -                                     পাতার উপরে . . .   
তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে “নীলাম্বরী” (১৯১২), “কানের দুল” (১৯২১), মুদ্রাদোষ (১৯২২), বিবি-বৌ (১৯২৬),
সারী (১৯২৯), দার্শনিক প্রবন্ধ "সুখ-দুঃখ" (১৯৩২), “কীর্তন” (১৯৪৫), ২৯টি স্বরলিপি সম্বলিত “কীর্তনগীতি-
প্রবেশিকা” (১৯৪১), উপন্যাস "রূপতৃষ্ণা" (১৯২৬),
“Dynamics of Faith” (১৯৫২) ইত্যাদি। তাঁর
সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে "মালাধর বসুর শ্রীকৃষ্ণ বিজয়" (১৯৪৪), নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসীর সঙ্গে, পাঁচ
খণ্ডে, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত মাধুরী” (১৯৩৭), সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ
চৌধুরীর সহ-সম্পাদনায় “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন) ১৯৫২” প্রভৃতি।

কবি, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক, পরিষৎ পত্রিকার সম্পাদক, রবিবাসরের সভাপতি
র পদ অলংকৃত
করেছেন
১৯৩৯-৪০ সাল নাগাদ তিনি "শ্রীভারতী" পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন
পত্রপত্রিকায় তাঁর গল্প, গীত ও কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।

আমরা কৃতজ্ঞ কবির দৌহিত্রী শ্রীমতী মঞ্জু মিত্রের কাছে যিনি, কবির এই ছবিটি আমাদের দিয়েছেন। তিনি
কবির জীবন ও কর্মযজ্ঞ নিয়ে একটি সাক্ষাত্কারও আমাদের দিয়েছেন ৫.১.২০১৮ তারিখে, তাঁর গল্ফ-গ্রীনস্থ
বাসভবনে


আমরা
মিলনসাগরে  কবি রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর কবিতা ও বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে
পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।


কবি রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


উত্স -
নীচে দেওয়া
উত্স গ্রন্থাবলী ছাড়াও . . .

কবির দৌহিত্রী শ্রীমতী মঞ্জু মিত্রের সঙ্গে একটি সাক্ষাত্কার, ৫.১.২০১৮  তারিখে, তাঁর গল্ফগ্রীনস্থ বাসভবনে।
মিলনসাগরের পক্ষে সাক্ষাত্কারটি নিয়েছিলেন মিলন সেনগুপ্ত।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২৭.৬.২০১৭  
পরিবর্ধিত সংস্করণ - ৯.১১.২০১৭
কবির ছবি সহ পরিবর্ধিত সংস্করণ - ৭.১.২০১৮
দিলীপ কুমার রায়ের উদ্ধৃতি সহ পরিবর্ধিত সংস্করণ - ৩১.১.২০১৮
...  
                                     
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
কবি রায় বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র - জন্মগ্রহণ
করেন অবিভক্ত বাংলার যশোহর জেলার, ধুলগ্রামে।
পিতা দীননাথ মিত্র এবং মাতা রাজলক্ষ্মী দেবী।
কবি
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৮৯৯ সালে দর্শশাস্ত্রে এম.
এ. পাশ করে, ১৯০১-১৯২৮ সময়কালে, রাজশাহী,
কৃষ্ণনগর ও প্রেসিডেন্সী কলেজে অধ্যাপনা করেন।
*
তাঁর উদ্যোগে স্কুল স্থাপন -                                                             পাতার উপরে . . .   
১৯১৬-য় রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের উদ্যোগে নাটোর রাজপরিবারের অর্থ সাহায্যে স্কুলটি স্থাপিত হয়
রানী ভবানী স্কুল। এক শতবর্ষ-প্রাচীন রানী ভবানী স্কুলে সর্বশিক্ষা মিশনের উদ্যোগ ও সহায়তায় ২০১২-য়
যুক্ত হয় পথশিশুদের আবাসিক স্কুল। এতে বর্তমানে রয়েছে ১০০ জন শিশু। ১৯৬৭-তে গোয়াবাগানে স্কুলের
নিজস্ব ভবন তৈরি হয়। প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু-র শিক্ষক বেণীমাধব দাস,
বীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, যতীন্দ্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
*
দিলীপ কুমার রায়ের কীর্ত্তন শিক্ষা ও তাঁর খগেনকাকা -                          পাতার উপরে . . .   
১৮৮২ শকাব্দ বা ১৯৬০ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, কবি দিলীপকুমার রায়ের “স্মৃতিচারণ” গ্রন্থের ১ম পর্ব, ৮ম
অধ্যায়টি (৭৮-৮৭ পৃষ্ঠা), তাঁর খগেনকাকা অর্থাৎ অধ্যাপক খগেন্দ্রনাথ মিত্রকে নিয়েই লেখা। তিনিই দিলীপ
রায়কে কীর্তন গান শিক্ষায় উদ্ভুদ্ধ করেন এবং নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসীর কাছে নিয়ে যান কীর্তন শিক্ষার জন্য।
এখান  থেকে আমরা জানতে পারি
দিলীপকুমার রায়ের সাঙ্গীতিক জীবনে, অধ্যাপক খগেন্দ্রনাথ মিত্রের
প্রগাঢ় প্রভাব সহ খগেন্দ্রনাথের সুমার্জিত ব্যক্তিত্ব ও কীর্তনের সাঙ্গীতিক দিক নিয়ে চিন্তা ভাবনা।
দিলীপকুমার রায়  লিখেছেন . . .

এবার পিতৃদেবের (কবি দ্বিজ্ন্দ্রলাল রায়) আরো দুএকটি বন্ধুর কথা বলি---যাঁদের কাছে থেকে আমার
বালক-মন দিনের পর দিন শুধু যে আনন্দের পাথেয় আহরণ করত তাই নয়, এমন অনেক নির্দেশ পেত যার
ফলে পরজীবনে আমি লাভবান হই।

এঁদের মধ্যে সব আগে মনে পড়ে খ্যাতনামা অধ্যাপক শ্রীখগেন্দ্রনাথ মিত্রের কথা। সুরধামে তিনি মাঝে
মাঝেই এসে
পিতৃদেবের হাসির গানের দোয়ার দিতেন তাঁর অভিন্নহৃদয় বন্ধু শ্রীযতীন্দ্রনাথ বসুর সঙ্গে।
এঁদের দুজনকে একসঙ্গে দেখলেই মনে পড়ত “অত্যাগসহনো বন্ধুঃ” পদটির কথা। বন্ধু তো নয়, যেন দোসর---
নিত্যসাথী : উভয়ই শালীনতায় নিখুঁৎ, বেষভূষায় অনবদ্য, কথালাপে প্রিয়ম্বদ, রসবোধে জনপ্রিয়। পিতৃদেবের
বিখ্যাত হাসির গানের দোয়ার ছিলেন এঁরা দুজনেই। খগেনকাকা কীর্তনও গাইতেন সুন্দর
। . . .”

খগেন্দ্রনাথের কীর্তনের সাঙ্গীতিক দিকের চিন্তা ভাবনা ও নিজের কীর্তন শিক্ষার গোড়ার কথা জানাতে গিয়ে
লিখেছেন . . .
“. . .  
খগেনকাকা আমাকে স্নেহ করতেন ও আমার কণ্ঠস্বরের বিশেষ অনুরাগী ছিলেন--- তাঁর একটি রচনায়
সোচ্ছ্বাসেই লিখেছিলেন : “এরকম কণ্ঠ আমি বেশি শুনি নি।” তাই আমার ঔদ্ধত্যে দুঃখ পেলেও বোঝাতেন
ধীর যুক্তি দিয়ে---কেন কীর্তন সঙ্গীতের দিক দিয়েও মহনীয়।  তিনি বলতেন প্রায়ই : “মন্টু, যারা কীর্তন শেখে
তারা প্রায়ই কণ্ঠ না সেধে কীর্তন গায় ব’লেই কার্তনের সাঙ্গীতিক প্রতিষ্ঠার হানি হয়েছে। কিন্তু মার্জিতকণ্ঠ
কীর্তনী কীর্তনের মধ্য দিয়ে শুধু ভাবের নয়---সুরের ইন্দ্রজালও সৃষ্টি করতে পারেন। তাই আমি চাই তোমার
কণ্ঠ নিয়ে তুমি মন দিয়ে কীর্তন শেখো ও কীর্তনকে সুরের দিক দিয়েও সমৃদ্ধ করে তোলো। তুমি পারবে
যদি শ্রদ্ধা নিয়ে কীর্তন শেখো . . . ইত্যাদি।
কিন্তু সে-সময়ে উচ্চাঙ্গ কীর্তন আমি শুনিনি, কাজেই খগেনকাকার এ-কথায় কান দিই নি। পিতৃদেবের
দেহান্তের পরে বি.এস.সি. পাস ক’রে গণেশ দাস ও রেবতীমোহন সেনের অপূর্ব কীর্তন শুনে অভিভূত হ’য়ে
যখন উচ্চাঙ্গ কীর্তনে তালিম নেব ঠিক করি, তখন খগেনকাকাই আমাকে নিয়ে যান তাঁর গুরু নবদ্বীপ
ব্রজবাসী মহাশয়ের কাছে।
. . .  বাংলা কীর্তনের প্রতি আমার শ্রদ্ধাবান্ হওয়ার আদি কারণ
পিতৃদেবের কীর্তনানুরাগ হ’লেও আমি
ছেলেবেলায় ওস্তাদি সঙ্গীতের এম্ নি গোঁড়া হ’য়ে উঠেছিলাম যে তাঁর মতামত আমার কাছে প্রামাণ্য হওয়া
সত্ত্বেও আমার কীর্তনে এত শীঘ্র রুচি হ’ত না যদি সে-সময়ে খগেনকাকার মিষ্ট কণ্ঠে মধুর কীর্তন না শুনতাম।
শুধু তাঁর মিষ্ট কীর্তন শুনে আমার মন ভিজে উঠেছিল ব’লেই নয়, তিনি আমাকে আন্তরিক স্নেহ করতেন
ব'লেও আরো তাঁর কীর্তনপ্রীতি আমাকে একটি একটু ক’রে কীর্তনের দিকে টেনেছিল আমার অজান্তে। (কে
না জানে---যাকে যে-অনুপাতে ভালোবাসা যায় তার মতামত আমাদের মনকে সেই অনুপাতেই প্রভাবিত
করে?) কিন্তু শুধু এখানেই নিদানের শেষ নয়---আরো কারণ ছিল। মানুষের মন নানা ভাবে নানা কারণে
নানা দিকে মোড় নেয়। খগেনকাকার মতন বোদ্ধা আমার কণ্ঠের অনুরাগী ছিলেন---এতে আমার কিশোর
আত্মাভিমান বেশ একটু নধরকান্তি হ’য়ে উঠেছিল বৈকি। তাই বেশ খুশি হ’য়েই ঝুঁকেছিলাম উচ্চাঙ্গ কীর্তন
শিখতে। দেখাই যাক না---কীর্তনে কিছু সুরের পাথেয় মেলে কি না!
দ্বিতীয় কথা, আমি যখন ওস্তাদি সঙ্গীতের মোহে প’ড়ে ভেসে যাব যাব করছি সে-সময়ে খগেনকাকা একদিন
বলেছিলেন আমার মামিমাকে :  “আহা, এমন কণ্ঠ নিয়ে মণ্টু যদি মন দিয়ে কীর্ত শিখত তবে সারা বাংলার
প্রাণ জুড়িয়ে যেত। কিন্তু ওস্তাদি সঙ্গীতে দুচারটি শৌখিন সমজদার হাজাক জয়ধ্বনি করলেও ওতে  
ভাবপ্রবণ বাঙালির মন ভিজবে না।” আশ্চর্য, ঠিক এই কথাই
রবীন্দ্রনাথ আমাকে বলেন দশ বত্সর পরে।
কিন্তু সে অন্য কথা
।”
*
পর্ণা দেবীকে কীর্তন শিক্ষাদান -                                                     পাতার উপরে . . .   
অধ্যাপক খগেন্দ্রনাথ মিত্রের কীর্তন গানে মুগ্ধ হ'য়ে, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁকে তাঁর কন্যা অপর্ণা দেবীকে
কীর্তনের শিক্ষাদানের অনুরোধ করেন। খগেন্দ্রনাথ সেই অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন।
অপর্ণাদেবী নবদ্বীপচন্দ্র
ব্রজবাসীর কাছেও কীর্তন শীক্ষালাভ করেছিলেন।