কবি কৃষ্ণদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
শরত-চান্দ জিনি গোরা-মুখ চান্দ
কবি কৃষ্ণদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ৮ম পল্লব, শরত্কালোচিত বিরহ, পদসংখ্যা ১৭৪৩। এই পদটি, ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৫৩৬-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শরত্কালোচিত-বিরহঃ

তদ্ভাবাক্রান্তঃ শ্রীমহাপ্রভু।

.        ॥ সিন্ধুড়া॥

শরত-চান্দ জিনি গোরা-মুখ চান্দ।
শারদনিশাকর হেরি হেরি কান্দ॥
সময় শরদ সুখ সোঙরি সোঙরি।
কান্দয়ে গৌরাঙ্গ পহুঁ ফুকরি ফুকরি॥
বিদরিয়া যায় হিয়ে সে মুখ দেখিতে।
মূঢ় যেহো নারে সেহো ধৈরজ ধরিতে॥
কান্দিয়া আকুল যত প্রিয় অনুচর।
কৃষ্ণদাস কহে মুঞি বড়ই পামর॥

ই পদটি, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৯২-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গৌরাঙ্গের ক্রন্ধনকে নিয়ে গীতটি, এখানে বিষ্ণপ্রিয়ার
ক্রন্দন কে নিয়ে বর্ণিত হয়ে গেছে।

অথ শরত্কালং ভূতবিরহবর্ণন তদুচিত গৌরচন্দ্র॥

॥ রাগিণী শ্রীগান্ধার ও সিন্ধুরা। তালো সমুচিত গীয়ন্তি॥

শরদচান্দ জিনি গোরামুখচাঁন্দে।
শারদ নিশাকর হেরি হেরি কান্দে॥
শরদ সমঅ সুখ শোঙরি শোঙরি।
কান্দে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী ফুকুরি ফুকুরি॥
বিদরিআ জায় হিয়া সে মুখ দেখিতে।
মূঢ় জেহ নারে সেহ ধৈরজ ধরিতে॥
কান্দিআ আকুল জত প্রিয় অনুচরী।
কৃষ্ণদাস বলে দুখ সহিতে না পারি॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নবদ্বীপে শুনি সিংহনাদ
কবি কৃষ্ণদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৭শ পল্লব, গৌরাঙ্গের
নৃত্যাদি লীলা, পদসংখ্যা ২০৮৯। এই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩৬-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকেলি॥

নবদ্বীপে শুনি সিংহনাদ।
সাজল বৈষ্ণবগণ                                     করি হরি সংকীর্ত্তন
মূঢ়মতি গণিল প্রমাদ॥ ধ্রু॥
গৌরচন্দ্র মহারথী                                    নিত্যানন্দ সেনাপতি
অদ্বৈত যুদ্ধের আগুয়ান।
প্রেম-ডোর ফাঁস করি                                বান্ধিল অনেক ঐরি
নিরন্তর গর্জ্জে হরিনাম॥
শ্রীচৈতন্য করে রণ                                   কলি-গজে আরোহণ
পাষণ্ড-দলন বীর-বানা।
কলি-জীব তরাইতে                                 আইল প্রভু অবনীতে
চৌদিকে চাপিয়া দিল থানা॥
উত্তম অধম জন                                     সভে পাইল প্রেম-ধন
নিতাই-চৈতন্য-কৃপা-লেশে।
সমুখে শমন দেখি                                      কৃষ্ণদাস বড় দুখী
না পাইয়া প্রেমের উদ্দেশে॥

ই পদটি, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীচৈতন্য যুদ্ধরূপে বর্ণন॥

নবদ্বীপে শুনি সিংহনাদ।
সাজিল বৈষ্ণবগণ                                  করি হরিসংকীর্ত্তন
মূঢ়মতি গণিল প্রমাদ॥
গৌরচন্দ্র মহারথী                                নিত্যানন্দ সেনাপতি
অদ্বৈত যুদ্ধের আগুআন।
প্রেমডোর ফাঁস করি                             বান্ধিল অনেক বৈরী
নিরন্তর গর্জ্জে হরিনাম॥
শ্রীচৈতন্য করে রণ                                কলিযুগে আরোহণ
পাষণ্ডদলন বীরবানা।
কলি জীব তরাইতে                              আইল প্রভু অবনীতে
চৌদিকে চাপিএ দিল থানা॥
উত্তম অধম জন                                  সভে পাইল প্রেমধন
নিতাই চৈতন্য কৃপালেশ।
সমুখে শমন দেখি                                   কৃষ্ণদাস বড় দুখী
না পাইল প্রেমের উদ্দেশে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রেম-সিন্ধু গোরা রায় নিতাই তরঙ্গ তায়
কবি কৃষ্ণদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৪শ পল্লব,
শ্রীঅদ্বৈতের গুণ-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩৪৩।

॥ ধানশী॥

প্রেম-সিন্ধু গোরা রায়                                নিতাই তরঙ্গ তায়
করুণা-বাতাস চারি পাশে।
প্রেম উথলিয়া পড়ে                                  জগত হাফান ছাড়ে
তাপ তৃষ্ণা সভাকার নাশে॥
দেখ দেখ নিতাই চৈতন্য দয়াময়।
ভক্ত-হংস-চক্রবাকে                                পিব পিব বলি ডাকে
পাইয়া বঞ্চিত কেন হয়॥ ধ্রু॥
ডুবি রূপ সনাতন                                    তোলে নানা রত্ন ধন
যতনে গাঁথিয়া তার মালা।
ভক্তি-লতা-সূত্র করি                                লেহ জীবন কণ্ঠ ভরি
দূরে যাবে তপনের জ্বালা॥
লীলা-রস সংকীর্ত্তন                                      বিকসিত পদ্ম-বন
জগত ভরিল যার বাসে।
ফুটিল কুসুম বন                                          মাতিল ভ্রমরগণ
পাইয়া বঞ্চিত কৃষ্ণদাসে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪, ২২-পৃষ্ঠায় এবং ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৫-পৃষ্ঠায় এভাবে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

প্রেম-সিন্ধু গোরা রায়                                নিতাই তরঙ্গ তায়
করুণা-বাতাস চারি পাশে।
প্রেম উথলিয়া পড়ে                                জগত হাকাল ছাড়ে
তাপ তৃষ্ণা সবাকার নাশে॥
দেখ দেখ নিতাই চৈতন্য দয়াময়।
ভক্ত হংস চন্দ্রমাকে                              পিব পিব বলি ডাকে
পাইয়া বঞ্চিত কেন হয়॥ ধ্রু॥
ডুবি রূপ সনাতন                                   তোলে নানা রত্ন ধন
যতনে গাঁথিয়া তার মালা।
ভক্তি-লতা সূত্র করি                                লেহ জীব কণ্ঠে ভরি
দূরে যাবে আপনার জ্বালা॥
লীলা রস সংকীর্ত্তন                                     বিকসিত পদ্মবন
জগত ভরিল যার বাসে।
ফুটিল কুসুম-বন                                         মাতিল ভ্রমরগণ
পাইয়া বঞ্চিত কৃষ্ণদাসে॥

ই পদটি, ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”,
১৮৮-পৃষ্ঠায় এভাবে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম সিন্ধু গোরা রায়,                                নিতাই তরঙ্গ তায়,
করুণা বাতাস চারি পাশে।
প্রেম উথলিয়া পড়ে,                                  জগত হাকাল ছাড়ে,
তাপ তৃষ্ণা সবাকার নাশে॥
দেখ দেখ নিতাই চৈতন্য দয়াময়।
ভক্ত হংস চন্দ্রমাকে,                             পিবি পিবি বলি ডাকে,
পাইয়া বঞ্চিত কেন হয়॥
ডুবি রূপ সনাতন,                                    তোলে নানা রত্নধন,
যতনে গাঁথিয়া তার মালা।
ভক্তিলতা সূত্র করি,                                    লহ জীব কণ্ঠভরি
দূরে যাবে আপনার জ্বালা॥
লীলা রস সংকীর্ত্তন,                                     বিকসিত পদ্মবন,
জগত ভরিল যার বাসে।
ফুটিল কুসুম বন,                                        মাতিল ভ্রমরগণ,
পাইয়া বঞ্চিত কৃষ্ণদাসে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঝুলে ঝুলে ঝুলে শ্যাম
কবি কৃষ্ণদাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা-
১৪৬। এই পদটি তাঁরা নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুখি থেকে পেয়েছিলেন।

॥ কেদার॥

ঝুলে ঝুলে ঝুলে শ্যাম॥ ধ্রু॥
বৃন্দাবনে-কুঁজ-                                 ভবনমে মোহন
রঙ্গকি রঙ্গ-হিঁডোরে।
বাদর গরজত                                   দামিনি দমকত
বরিখত থোরহি থোরে॥
কোয়েলিয়া অলি                                কুহুকত গুঞ্জত
দাদুর-হংস-কলোরে।
ঝুণ্ডহি ঝুণ্ডন                                      নওল সখীগণ
ঝুক ঝুক দেত ঝকোরে॥
নব-নব কুঞ্জমে                               ঝুলয়ে ঝুলন ফুলে
নিরখই যুগল-কিশোর।
বরজ-বধূয়ন                                     তোড়ই ডারত
দেয়ত প্রাণ অকোর॥
দুর্ল্লভ জোড়ী                                কিশোর-কিশোরি
শোভ-সিন্ধু হিঁডোর।
কৃষ্ণদাসকে                                    ব্রজ-বাস দী জে
নাগর নন্দ-কিশোর॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শান্তিপুরের বুড়া মালী বৈকুণ্ঠ বাগান খালি
কবি কৃষ্ণদাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১০-পৃষ্ঠা।

॥ সুহই॥

শান্তিপুরের বুড়া মালী                                  বৈকুণ্ঠ বাগান খালি
করিয়া আনিল এক চারা।
নিতাই মালীরে পাঞা                                চারা তার হাতে দিয়া
যতনে রপিতে কৈল “নাড়া”॥
নদীয়া উত্তম স্থান                                     তাহাতে করি উদ্যান
রপিল চৈতন্য-তরু মালী।
বাঢ়ে তরু দিনে দিনে                                     শাখাপত্র অগণনে
গজাইল যত্নে জল ঢালী॥
পাইয়া ভকতি-জল                                        নাম প্রেম দুই ফল
প্রসবিল সে তরু সুন্দর।
সেই দুই ফলের আশে                              জীব-পাখী নিত্য আসে
কোলাহল করে নিরন্তর॥
আনন্দে নিতাই মালী                                  লইয়া মাথায় ডালি
দুই ফল সবারে বিলায়।
নাই জাতি-ভেদাভেদ                                   সবার মিটিল খেদ
ফলাস্বাদ সকলেতে পায়॥
ধর লও লও বলি                                     আনন্দে নিতাই মালী
আচণ্ডালে ফল বিলাইল।
যেই যায় সেই পায়                                  যে না চাহে সেও পায়
যবনেও ফল আস্বাদিল॥
কি মোর করম ফেরে                                না হেরিনু সে তরুরে
না চিনিনু সে মালী দয়াল।
কৃষ্ণদাস দুরাশয়                                        দন্তে তৃণ ধরি কয়
ধিক্ ধিক্ এ পোড়া কপাল॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নদীয়ার ঘাটে ভাই কি অদ্ভুত তরী
কবি কৃষ্ণদাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৩-পৃষ্ঠা।

.        ॥ ধানশী॥

নদীয়ার ঘাটে ভাই কি অদ্ভুত তরী।
নিতাই গলুইয়া তাতে চৈতন্য কাণ্ডারী॥
দুই রঘুনাথ শ্রীজীব শ্রীরূপ সনাতন।
পারের নৌকায় এরা দাঁড়ি ছয় জন॥
কে যাবি ভাই ভবপারে বলি নিতাই ডাকে।
খেয়ার কড়ি বিনা পার করে যাকে তাকে॥
আতরে কাতর বিনা কে পার করে ভাই।
কিন্তু পার করে সভে চৈতন্য নিতাই॥
কৃষ্ণদাস বলে ভাই বল হরি হরি।
নিতাই চৈতন্যের ঘাটে নাহি লাগে কড়ি॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ফাগু খেলত গোরা দ্বিজরাজ
কবি কৃষ্ণদাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২১৮-পৃষ্ঠা।

.   ॥ বসন্ত, একতালি॥

ফাগু খেলত গোরা দ্বিজরাজ।
কুঙ্কুম মারত দুহু দোঁহা অঙ্গে॥
মারে পিচরাকি গুলি গুলাল।
ফাগুমে দুহুঁ তনু লাল হি লাল॥
খেলে ব্রজে জনু কানু পেয়ারী।
দুহুঁ বদনে ঘন হোরি হোরি॥
চৌদিকে ভকত ফাগু যোগায়।
কোহি নাচহ কোহি আনন্দে গায়॥
কৃষ্ণদক চিতে রহল শেল।
হেন সুখসময়ে জনম না ভেল॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বুকে বুকে মুখে লাগিয়া থাকয়ে
কবি কৃষ্ণদাস
রামগোপাল দাস (গোপাল দাস) দ্বারা ১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
"শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, দ্বাদশ কোরক, পৃষ্ঠা-১৭৩।

অথ স্বয়ং বাক্য---
তত্র পদম্---

বুকে বুকে মুখে                                 লাগিয়া থাকয়ে
তভু মোরে সদাই হারায়।
বুক চিতিয়া                                     হিয়ার মাঝারে
আমারে রাখিতে চায়॥
মরম কহিলু                                    মো পুনি ঠেকিলু
সে জনা পিরিতি ফাঁদে।
পিরিতি করিয়া                                ভাবে সে রহিলুঁ
ভালে সে পরাণ কান্দে॥
হার নহে পিয়া                                   গলায়ে পরয়ে
চন্দন নহো মাথে গায়।
পাইয়া রতন                                    জতনে বান্ধিতে
রাখিতে সোয়াস্ত না পায়॥
সাজাঞা কাছাঞা                              মুখানি মোছাঞা
আদরে বৈসালা কোলে।
দীপ লঞা হাতে                                 চাহিতে চাহিতে
তিতিল নয়ান জ্বলে॥
মুখানি মোছাঞা                                 সিন্দুর বনাঞা
আল্ বাঞা বান্ধয়ে কেশ।
কৃষ্ণদাস কহে                                    এসব ভাবিতে
পাঁজর হৈল শেষ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাচে গোরা প্রেমে ভোরা
কবি কৃষ্ণদাস
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯২৪
সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, বিংশ ক্ষণদা -
শুক্লা পঞ্চমী, পৃষ্ঠা-১৫২।

শ্রীগৌরচন্দ্রস্য

॥ তুড়ী॥

নাচে গোরা                                  প্রেমে ভোরা
ক্ষণে বলে হরি।
ক্ষণে বৃন্দাবন                                করয়ে স্মরণ
ক্ষণে ক্ষণে প্রাণেশ্বরী॥
যাবক-বরণ                                   কটির বসন
শোভা করে গোরা-গায়।
কখন কখন                                  যমুনা বলিয়া
সুরধুনী-তীরে ধায়॥
তা থই তা থই                                 মৃদঙ্গ বাজই
ঝন ঝন করতাল।
নয়ন-অম্বুজে                                   বহে সুরনদী
গলে দোলে বনমাল॥
আনন্দ-কন্দ                                       গৌরচন্দ্র
অকিঞ্চনে বড় দয়া।
কৃষ্ণদাস                                        করত আশ
ও পদ-পঙ্কজ-ছায়া॥

ই পদটি, “দীন কৃষ্ণদাস” ভণিতায় পাওয়া গিয়েছে, ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, পৃষ্ঠা-৫৩৫-এ এইরূপে।

শ্রীগৌরচন্দ্র

॥ তুড়ি॥

নাচে গোরা                                  প্রেমে ভোরা
ক্ষণে ক্ষণে বলে হরি হরি।
ক্ষণে বৃন্দাবন                                করয়ে স্মরণ
ক্ষণে ক্ষণে প্রাণেশ্বরী॥
যাবকবরণ                                   কটির বসন
শোভা করে গোরা গায়।
কখন কখন                                  যমুনা বলিয়া
সুরধুনীতীরে ধায়॥
তাথই তাথই                                 মৃদঙ্গ বাজই
ঝনঝন করতাল।
নয়নঅম্বুজে                                  বহে সুরনদী
গলে দোলে বনমাল॥
আনন্দ-কন্দ                                     গৌরচন্দ্র
অকিঞ্চনে বড় দয়া।
( দীন ) কৃষ্ণদাস                               করত আশ
ও পদপঙ্কজছায়া॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মোহন ললিতা করত আরতি
কবি কৃষ্ণদাস
১৮৮৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৩২পৃষ্ঠা।

.        ॥ কল্যাণ॥

মোহন ললিতা করত আরতি।
গুগ্ গুলু অগুরু ধূপ পরিপূরিত সুললিত কপূরকে বাতি॥ ধ্রু॥
শ্যাম গৌর দুহুরূপ ঝল মল অধরে সুরঙ্গিম হাস।
নিরখিতে গোপ গোপী তনু পুলকিত জয় জয় ধ্বনি পরকাশ॥
কর কমলোপরি ভ্রমই দীপাবলি দুহুঁমুখ সৌরভ শোভা।
কৃষ্ণদাস চিত ভাই অবিরত বরণি না পারই শোভা॥

ই পদটি, ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সংগৃহীত এবং রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু” সংকলনের ১১৩-পৃষ্ঠায়
এভাবে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ কল্যাণ॥

মোহন ললিতা করত আরতি।
গুগ গুল অগুরু ধূপ পরিপূরিত সুললিত কপূরকে বাতি॥ ধ্রু॥
শ্যাম গৌর, দুহুরূপ ঝল মল, অধরে সুরঙ্গিম হাস।
নিরখিতে গোপ-গোপী, তনু পুলকিত, জয় জয় ধ্বনি পরকাশ॥
কর কমলোপরি ভ্রমই দীপাবলি দুহুঁমুখ সৌরভ-শোভা।
কৃষ্ণদাস চিত, ভাওই অবিরত, বরণি না পায়ই শোভা॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর