| কবি কৃষ্ণদাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| সুন্দরী তোহে লাগি আকুল কানাই কবি কৃষ্ণদাস ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ৪৩পৃষ্ঠা। ॥ ভাটিয়ারী॥ সুন্দরী তোহে লাগি আকুল কানাই। মাধবি কুসুম কুঞ্জে ঘন আন্ধিয়ার পুঞ্জে বৈঠল বেশ বনাই॥ ধ্রু॥ কুসুম শয়ন করি আবেশে অবশ হরি তুয়া রূপ সৌঙরে। তুয়া রূপ হেরি হেরি চৌদিগে ফিরি ফিরি নাম ধরি মুরলী পুরে॥ দেখনা মধুর নিশি উজর পূর্ণিমা শশী চৌদিগে পিক কুল নাদ। মলয় পবন বায় সেহেন নাগর তায় যৌবন করল পরমাদ॥ বেশ বনাহ কত নাকর বিলম্ব এত মুরলী না শুনে ঐ কানে। তরুলতা আদি যত অনুরাগে পুলকিত কৃষ্ণদাস রস গানে॥ এই পদটি এইভাবেও সাজানো যায় . . . সুন্দরী তোহে লাগি আকুল কানাই। মাধবি কুসুম কুঞ্জে ঘন আন্ধিয়ার পুঞ্জে বৈঠল বেশ বনাই॥ ধ্রু॥ কুসুম শয়ন করি আবেশে অবশ হরি তুয়া রূপ সৌঙরে। তুয়া রূপ হেরি হেরি চৌদিগে ফিরি ফিরি নাম ধরি মুরলী পুরে॥ দেখনা মধুর নিশি উজর পূর্ণিমা শশী চৌদিগে পিক কুল নাদ। মলয় পবন বায় সেহেন নাগর তায় যৌবন করল পরমাদ॥ বেশ বনাহ কত নাকর বিলম্ব এত মুরলী না শুনে ঐ কানে। তরুলতা আদি যত অনুরাগে পুলকিত কৃষ্ণদাস রস গানে॥ এই পদটি, ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সংগৃহীত এবং রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু” সংকলনের ১৮৪-পৃষ্ঠায় এভাবে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারী॥ সুন্দরী, তোহে লাগি আকুল কানাই। মাধবি কুসুমকুঞ্জে, ঘন আঁধিয়ার পুঞ্জে, বৈঠল বেশ বনাই॥ ধ্রু॥ কুসুম শয়ন করি, আবেশে অবশ হরি, তুয়া রূপ সঙরে। তুয়া রূপ হেরি হেরি, চৌদিকে ফিরি ফিরি, নাম ধরি মুরলীপুরে॥ দেখনা মধুর নিশি, উজর পূর্ণিমা শশী, চৌদিগে পিককুলনাদ। মলয় পবন বায়, সে হেন নাগর তায়, যৌবন করল পরমাদ॥ বেশ বনাহ কত, না কর বিলম্ব এত, মুরলী না শুন ঐ কানে। তরুলতা আদি মত, অনুরাগে পুলকিত, কৃষ্ণদাস রস গানে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জত সহচরী লয়া পিচকারি বটুরে মঙ্গলে বেঢ়ি কবি কৃষ্ণদাস দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৭১-পৃষ্ঠা। ॥ রাগ তালো যথা॥ (॥ বসন্ত রাগ পরিমিত তালো॥ ) জত সহচরী লয়া পিচকারি বটুরে মঙ্গলে বেঢ়ি। উভারএ ধারা শ্রাবণের পারা জেনহি বাদর করি॥ বিনোদিনী শ্যাম খেলে অনুপাম চন্দন গোলাপ ভরি। সুগন্ধি চুরণ দেই পুনপুন দোঁহে দোহা অঙ্গ ডারি॥ চতুরিম কান পুরিয়া সন্ধান মণি পিচকারি ধরি। তাক করি মারে পীন পয়োধরে বেকত কাঁচলি কারি॥ অব দরসন বটুয়া মঙ্গল দিয়া নাচে কাঁকতালি। হারি বলে বোল করে উচ্চরোল জিতল জিতল বলি॥ পুনহি বসনে করি আবরণে রাধিকা কমলমুখী। যূথসহ করি অষ্ট সহচরী বলে সহ সহ দেখি॥ ডারে পিচকারি চৌদিগেতে বেঢ়ি নয়নে গতি না ভেল। সহিতে নারিয়া সুলভ মিলিয়া বটুয়া পলাএ গেল॥ তবে কৃষ্ট পরে কত ধারা গেরে তাহার নাহিক ওর। ঘন বলে ডাকি রাখ চন্দ্রামুখী শরণ লইনু তোর॥ সুনি ইহ প্যারি সভারে নিবারি বন্ধুর সমুখে জাই। দেই অঞ্চল মুখখানি মোছল কৃষ্ণদাস গুণ গাই॥ এই পদটি এইভাবেও সাজানো যায় . . . জত সহচরী লয়া পিচকারি বটুরে মঙ্গলে বেঢ়ি। উভারএ ধারা শ্রাবণের পারা জেনহি বাদর করি॥ বিনোদিনী শ্যাম খেলে অনুপাম চন্দন গোলাপ ভরি। সুগন্ধি চুরণ দেই পুনপুন দোঁহে দোহা অঙ্গ ডারি॥ চতুরিম কান পুরিয়া সন্ধান মণি পিচকারি ধরি। তাক করি মারে পীন পয়োধরে বেকত কাঁচলি কারি॥ অব দরসন বটুয়া মঙ্গল দিয়া নাচে কাঁকতালি। হারি বলে বোল করে উচ্চরোল জিতল জিতল বলি॥ পুনহি বসনে করি আবরণে রাধিকা কমলমুখী। যূথসহ করি অষ্ট সহচরী বলে সহ সহ দেখি॥ ডারে পিচকারি চৌদিগেতে বেঢ়ি নয়নে গতি না ভেল। সহিতে নারিয়া সুলভ মিলিয়া বটুয়া পলাএ গেল॥ তবে কৃষ্ট পরে কত ধারা গেরে তাহার নাহিক ওর। ঘন বলে ডাকি রাখ চন্দ্রামুখী শরণ লইনু তোর॥ সুনি ইহ প্যারি সভারে নিবারি বন্ধুর সমুখে জাই। দেই অঞ্চল মুখখানি মোছল কৃষ্ণদাস গুণ গাই॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |