কবি লোচনদাসের লোচন ও লোচনাদাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী
*
কণ্টক নগরে গেলা দ্বিজ বিশ্বম্ভর
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কণ্টক নগরে গেলা দ্বিজ বিশ্বম্ভর।
যেখানেতে বসিয়া ভরতী ন্যাসিবর॥
সন্ন্যাসী দেখিয়া প্রভু নমস্কার করে।
সম্ভ্রমে উঠায়া ন্যাসী নারায়ণ স্মরে॥
কোথা হইতে আইলা তুমি যাবে কোথা কারে।
কি নাম তোমার সত্য কহ ত আমারে॥
প্রভু কহে শুন গুরু ভারতী গোসাঞী।
কৃপা করি নাম মোর রেখেছে নিমাই॥
বলিয়া আনন্দে কহে মনেতে উল্লাস।
তোমার নিকটে আইলাম দেওত সন্ন্যাস॥
লোচন বোলে মোর সদা প্রাণে ব্যথা পায়।
গৌরাঙ্গ সন্ন্যাস নিবে এত বড় দায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এথা বিষ্ণুপ্রিয়া চমকি উঠিয়া
ভণিতা দাস লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

এথা বিষ্ণুপ্রিয়া                        চমকি উঠিয়া
পালঙ্কে বুলায় হাত।
প্রভু না দেখিয়া                     কাঁদিয়া কাঁদিয়া
শিরে করে করাঘাত॥
এ মোর প্রভুর                        সোণার নূপুর
গলায় সোণার হার।
এ সব দেখিয়া                         মরিব ঝুরিয়া
জিতে না পারিব আর॥
মুঞি অভাগিনী                        সকল রজনী
জাগিল প্রভুরে লৈয়া।
প্রেমেতে বাঁধিয়া                   মোরে নিদ্রা দিয়া
প্রভু গেল পলাইয়া॥
কাঞ্চন নগর                            গেল বিশ্বম্ভর
জীব উদ্ধারিবার তরে।
এ দাস লোচন                             দগদগি মন
শচী না পাইলা দেখিবারে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

এথা বিষ্ণুপ্রিয়া,                       চমকি উঠিয়া,
পালঙ্কে বুলায় হাত।
প্রভু না দেখিয়া,                    কাঁদিয়া কাঁদিয়া,
শিরে করে করাঘাত॥
এ মোর প্রভুর,                        সোণার নূপুর,
গলায় সোনার হার।
এ সব দেখিয়া,                        মরিব বুঝিয়া,
জিতে না পারিব আর॥
মুঞি অভাগিনী,                        সকল রজনী,
জাগিনু প্রভুরে লৈয়া।
প্রেমেতে বান্ধিয়া,                 মোরে নিদ্রা দিয়া,
প্রভু গেল পলাইয়া॥
কাঞ্চন নগর,                            গেল বিশ্বম্ভর,
জীব উদ্ধারিবার তরে।
এ দাস লোচন,                            দগদগি মন,
শচী না পাইলা দেখিবারে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৪৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুরা॥

এথা বিষ্ণুপ্রিয়া                      চমকি উঠিয়া
পালঙ্কে বুলায় হাত।
প্রভু না দেখিয়া                  কান্দিয়া কান্দিয়া
শিরে মারে করাঘাত॥
এ মোর প্রভুর                        সোনার নূপুর
গলার সোনার হার।
এ সব দেখিয়া                        মরিব বুঝিয়া
জিতে না পারিব আর॥
মুঞি অভাগিনী                      সকল রজনী
জাগিল প্রভুরে লৈয়া।
প্রেমেতে বান্ধিয়া                মোরে নিদ্রা দিয়া
প্রভু গেল পলাইয়া॥
কাঞ্চন নগর                          গেল বিশ্বম্ভর
জীব উদ্ধারিবার তরে।
এদাস লোচন                           দগদগি মন
শচী না পাইল দেখিবারে॥

ই পদটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ নিমাঞি সন্ন্যাস
॥ রাগিণী সিন্ধুরা - তাল দশকুশী॥

এথা বিষ্ণুপ্রিয়া, চমকি উঠিয়া, পালঙ্কে বুলায় হাত।
প্রভু না দেখিয়া, কান্দিয়া কান্দিয়া, শিরে হানে করাঘাত॥
এ মোর প্রভুর, সোনার নূপুর, গলার সোনার হার।
এ সব দেখিয়া, মরিব বুঝিয়া, জিতে না পারিব আর॥
মুঞি অভাগিনী, সকল রজনী, জাগিলুঁ প্রভুরে লৈয়া।
প্রেমেতে বান্ধিয়া, মোরে নিদ্রা দিয়া, প্রভু গেল পলাইয়া॥
কাঞ্চন নগর, গেল বিশ্বম্ভর, জীব উদ্ধারিবার তরে।
এ দাস লোচন, দগদগি মন, শচী না পাইলা দেখিবারে॥

ই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত, মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী - একতালা॥

এথা বিষ্ণুপ্রিয়া,                        চমকি উঠিয়া
পালঙ্কে বুলায় হাত।
প্রভু না দেখিয়া,                     কাঁদিয়া কাঁদিয়া
শিরে হানে করাঘাত॥

॥ কাটা গান্ধার - ধরা॥

এ মোর প্রভুর,                       সোণার নূপুর,
গলার সোণার হার।
এ সব দেখিয়া,                       মরিব বুঝিয়া
জিতে না পারিব আর॥
মুঞি অভাগিনী,                       সকল রজনী,
জাগিনু প্রভুরে লৈয়া।
প্রেমেতে বাঁধিয়া,                মোরে নিদ্রা দিয়া,
প্রভু গেল পলাইয়া॥
কাঞ্চন নগর,                          গেল বিশ্বম্ভর,
জীব উদ্ধারিবার তরে।
এ দাস লোচন,                          দগ দগি মন,
শচী না পাইল দেখিবারে॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”,
১৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিমাই সন্ন্যাস

এথা বিষ্ণুপ্রিয়া                       চমকি উঠিয়া
পালঙ্কে বুলায় হাত।
প্রভু না দেখিয়া                   কান্দিয়া কান্দিয়া
শিরে মারে করাঘাত॥
এ মোর প্রভুর                        সোণার নূপুর
গলায় সোণার হার।
এ সব দেখিয়া                        মরিব ঝুরিয়া
জীতে না পারিব আর॥
মুঞি অভাগিনী                        সকল রজনী
জাগিল প্রভুরে লৈয়া।
প্রেমেতে বান্ধিয়া                  মোরে নিদ্রা দিয়া
প্রভু গেল পলাইয়া॥
কাঞ্চন নগর                            গেল বিশ্বম্ভর
জীব উদ্ধারিবার তরে।
এ দাস লোচন                            দগদগি মন
শচী না পাইলা দেখিবারে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এতদিনে সদয় হইল মোরে বিধি
ভণিতা দাস লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

এতদিনে সদয় হইল মোরে বিধি।
আনি মিলায়ল গোরাগুণনিধি॥
এতদিনে মিটল দারুণ দুখ।
নয়ন সফল ভেল দেখি চাঁদমুখ॥
চির উপবাসী ছিল লোচন মোর।
চাঁদ পাওল যেন তৃষিত চকোর॥
বাসুদেব ঘোষ গায় হোরাপরবন্ধ।
লোচন পাওল যেন জনমের অন্ধ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অক্রোধ পরমানন্দ নিত্যানন্দ রায়
ভণিতা দাস লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ - লোভা॥

অক্রোধ পরমানন্দ নিত্যানন্দ রায়।
অভিমানশূন্য নিতাই নগরে বেড়ায়॥
চণ্ডাল পতিত জীবের ঘরে ঘরে যাঞা।
হরিনাম মহামন্ত্র দিছে বিলাইয়া॥
যারে দেখে তারে কহে দন্তে তৃণ ধরি।
আমারে কিনিয়া লহ বল গৌরহরি॥
এত বলি নিত্যানন্দ ভূমে গড়ি যায়।
রজত-পর্ব্বত যেন ধূলায় লোটায়॥
হেন অবতারে যার রতি না জন্মিল।
লোচন বলে সেই ভবে এল আর গেল॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

অক্রোধ পরমানন্দ নিত্যানন্দ রায়।
অভিমান শূন্য নিতাই নগরে বেড়ায়॥
চণ্ডাল পতিত জীবের ঘরে ঘরে যাঞা।
হরিনাম মহামন্ত্র দিচ্ছে বিলাইয়া॥
যারে দেখে তারে কহে দন্তে তৃণ করি।
আমারে কিনিয়া লহ বল গৌর হরি॥
এত বলি নিত্যানন্দ ভূমে গড়ি যায়।
রজত পর্ব্বত যেন ধূলায় লুটায়॥
হেন অবতারে যার রতি না জন্মিল।
লোচন বলে সেই ভবে এল আর গেল॥

ই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত, মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী রাগ - বড়দাস পাঁড়িয়া॥

অক্রোধ পরমানন্দ নিত্যানন্দ রায়।
অভিমান শূন্য নিতাই নগরে বেড়ায়॥
চণ্ডাল পতিত জীবের ঘরে ঘরে গিয়া।
হরিনাম মহামন্ত্র দিচ্ছেন বিলাইয়া॥
যারে দেখে তারে বলে দন্তে তৃণ ধরি।
আমারে কিনিয়া লহ কহ গৌর হরি॥
এতবলি নিত্যানন্দ ভূমে গড়ি যায়।
সোণার পর্ব্বত যেন ধূলাতে লোটায়॥
হেন অবতারে যার রতি না জন্মিল।
লোচন বলে সেই পাপী এল আর গেল॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অক্রোধ পরমানন্দ নিত্যানন্দ রায়।
অভিমান শূন্য নিতাই নগরে বেড়ায়॥
চণ্ডাল পতিত জীবের ঘরে ঘরে যাঞা।
হরিনাম মহামন্ত্র দিচ্ছে বিলাইয়া॥
যারে দেখে তারে কহে দন্তে তৃণ করি।
আমারে কিনিয়া লহ বল গৌর হরি॥
এত বলি নিত্যানন্দ ভূমে গড়ি যায়।
রজত পর্ব্বত যেন ধূলায় লুটায়॥
হেন অবতারে যার রতি না জন্মিল।
লোচন বলে সেই ভবে এল আর গেল॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাস্তিকতা অপধর্ম্ম জুড়িল সংসার
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

নাস্তিকতা অপধর্ম্ম জুড়িল সংসার।
কৃষ্ণপূজা কৃষ্ণভক্তি নাহি কোথা আর॥
দেখিয়া অদ্বৈত প্রভু বিষাদিত হৈলা।
কেমনে তরিবে জীব ভাবিতে লাগিলা॥
নেত্র বুজি তুলসী প্রদানি বিষ্ণুপদে।
হুঙ্কারি দিলেন লম্ফ আচার্য্য আহ্লাদে॥
জিতিলুঁ জিতিলুঁ মুখে বলো বার বার।
জীব নিস্তারিতে হবে গৌর অবতার॥
এ কথা শুনিয়া নাচে সাধু হরিদাস।
লোচন বলে খসিল জীবের মোহপাশ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মৃগনয়নী কি আরে ধনী চাঁদবদনী
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার অভিসার
॥ তখারাগ॥

মৃগনয়নী কি আরে ধনী চাঁদবদনী।
রাজহংসী জিনি চলে সখী আশে পাশে।
কনকের লতা জেন দুলিছে বাতাসে॥
চলিতে চরণে কত পদ্ম পড়ি যায়।
লাখে লাখে অলিরাজ চুম্বয়ে তায়॥
হাতে পদ্ম পায়ে পদ্ম পদ্মগন্ধ গায়।
পাদপদ্মে চাঁদের উদয় চকোর ভ্রম ধায়॥
চকোর ভ্রম এক ঠাঁই দুঁহে লাগল দ্বন্দ্ব।
ভ্রমর কহে কমল ফুটেছে চকোর কহে চন্দ॥
তড়িৎবরণী খঞ্জনয়নী সুচামর কেশী।
পদ্মমুখী কনকপুতলী কোটি শরতের শশী॥
ললিতা বিশাখা সখী ফুলসাজি হাতে।
অঞ্জলি অঞ্জলি ফুল ফেলাইছে রাজপথে॥
চিত্রা চম্পকলতা করেতে চন্দন।
শ্রম জানি রাই অঙ্গে করিছে লেপন॥
তুঙ্গবিদ্যা ইন্দুরেখা হাতে ফুলধনু।
অই কুঞ্জে বাজে বাঁশী ঘের ঘের কানু॥
মধুর মধুর নূপুর বাজে শুনি লাজ যায় দূর।
লোচন বলে মিলবে শ্যাম হিয়া কর পূর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মৃগনয়নী কি আরে ধনী চাঁদবদনী॥
রাজহংসী জিনি চলে সখী আশে পাশে।
কনকের লতা জেন দুলিছে বাতাসে॥
চলিতে চরণে কত পদ্ম পড়ি যায়।
লাখে লাখে অলিরাজ চুম্বয়ে তায়॥
হাতে পদ্ম পায়ে পদ্ম পদ্মগন্ধ গায়।
পাদপদ্মে চাঁদের উদয় চকোর ভ্রম ধায়॥
চকোর ভ্রম এক ঠাঁই দুঁহে লাগল দ্বন্দ্ব।
ভ্রমর কহে কমল ফুটেছে চকোর কহে
.                                        চন্দ॥
তড়িৎবরণী খঞ্জনয়নী সুচামর কেশী।
পদ্মমুখী কনকপুতলী কোটি শরতের
.                                        শশী॥
ললিতা বিশাখা সখী ফুলসাজি হাতে।
অঞ্জলি অঞ্জলি ফুল ফেলাইছে
.                                        রাজপথে॥
চিত্রা চম্পকলতা করেতে চন্দন।
শ্রম জানি রাই অঙ্গে করিছে লেপন॥
তুঙ্গবিদ্যা ইন্দুরেখা হাতে ফুলধনু।
অই কুঞ্জে বাজে বাঁশী ঘের ঘের কানু॥
মধুর মধুর নূপুর বাজে শুনি লাজ
.                                        যায় দূর।
লোচন বলে মিলবে শ্যাম হিয়া কর
.                                        পূর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজ যমুনার জলে গেছিলাম সজনি
আজ যমুনা গিছিলাম সজনি
আজু যমুনা গিছিলাম সজনি
যমুনার জলে যাইতে সজনি
ভণিতা লোচনদাস
কবি লোচন দাস
এই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা
সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ১২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

আজু যমুনা                        গিছিলাম সজনি
শ্যামেরে দেখিঞাছি।
সভে দুটি আখি                  দিঞাছে বিধাতা
রূপ নিরখিব কি॥
পহিলে মোর মনে                        নব জলধর
নামিঞাছে তরুমুলে।
দেখিতে দেখিতে                  হে দে আচম্বিতে
দু আখি ভরিল জলে॥
ইন্দ্রধনু জিনি                         চূড়ায় টালনি
উড়িছে ভ্রমরাজাল।
আখি পালটিঞা              না পাল্যাম দেখিতে
ঘোঙ্ঘটা হইল কাল॥
অঙ্গের সৌরভে                    নাসিকা মাতল
আভরণ কেবা চিনে।
ঝলমল বই                          অন্য নাহিঁ সই
সদাই পড়িছে মনে॥
নাহি পরিচয়                        বংশী সব কয়
এত বড় পরমাদ।
ও রাঙ্গা চরণের                     নূপুর শুনিতে
লোচনদাসের সাধ॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

আজ যমুনার জলে, গেছিলাম সজনি, শ্যামেরে দেখিয়াছি।
সবে দুটী আঁখি, দিয়াছে বিধাতা, রূপ নিরখিব কি॥
পহিল মোর মনে, নবজলধর নেমেছে তরুর মূলে।
দেখিতে দেখিতে, হেদে আচম্বিতে, দু আঁখি ভরল জলে॥
ইন্দ্রধনু জিনি, চূড়ার টালনি, উড়িছে ভ্রমরাজাল।
আঁখি পালটিয়া, না পেনু দেখিতে, ঘোঁগট হইল কাল॥
বিজুরি বলিয়া, রহিনু ভালিয়া, অনুক্ষণ রূপ হেরি।
কদম্ব-হিল্লোলে, বংশী আলাপনে, চাহিতে চেতন চুরি॥
নাহি পরিচয়, বংশী সব কয়, একি হ’ল পরমাদ।
ও রাঙ্গা চরণে, নূপুর হইতে, লোচন দাসের সাধ॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


যমুনার জলে                             যাইতে সজনি
কালা রূপ দেখিয়াছি।
সবে দুটী আঁখি                        দিয়াছে বিধাতা
রূপ নিরখিব কি॥
পহিলে মোর মনে                           নব জলধর
নাম্যাছে তরুর মূলে।
দেখিতে দেখিতে                        হেদে আচম্বিতে
দুআঁখি ভরল জলে॥
ইন্দ্র-ধনু জিনি                             চুড়ার টালনি
উড়িছে ভ্রমরা জলে।
আঁখি পালটিয়া                        না পেলুঁ দেখিতে
ঘোঙ্গট হইল কাল॥
বিজুরি বলিয়া                           রহিলুঁ ভাবিয়া
অণুখণ রূপ হেরি।
কদম্ব-হিলনে                           বংশী আলাপনে
চাহিতে চেতন চুরি॥
নাহি পরিচয়                          বংশী সবে কয়
একি হ’ল পরমাদ।
ও রাঙা চরণে                            নূপুর হইতে
লোচনদাসের সাধ॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ - জপতাল॥

যমুনার জলে,                        যাইতে সজনি
কালা রূপ দেখিয়াছি।
সবে দুটী আঁখি,                   দিয়াছে বিধাতা,
রূপ নিরখিব কি॥
পহিলে মোর মনে,                        নব জলধর,
নাম্যাছে তরুর মূলে।
দেখিতে দেখিতে,                    হেদে আচম্বিতে,
দু আঁখি ভরল জলে॥
ইন্দ্রধনু জিনি,                         চুড়ার টালনি,
উড়িছে ভ্রমরা জাল।
আঁখি পালটিয়া,                    না পেলুঁ দেখিতে,
ঘোমটা হইল কাল॥
বিজুরি বলিয়া,                        রহিলুঁ ভাবিয়া,
অনুখণ রূপ হেরি।
কদম্ব হেলনে,                        বংশী আলাপনে,
চাহিতে চেতন চুরি॥
নাহি পরিচয়,                        বংশী সবে কয়,
একি হল পরমাদ।
ও রাঙ্গা চরণে,                           নূপুর হইতে,
লোচন দাসের সাধ॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


আজ যমুনা                        গিছিলাম সজনি
শ্যামেরে দেখিঞাছি।
সভে দুটি আঁখি                  দিঞাছে বিধাতা
রূপ নিরখিব কি॥ ১॥
পহিলে মোর মনে                        নব জলধর
নামিঞাছে তরুমূলে।
দেখিতে দেখিতে                    হেদে আচম্বিতে
দু আঁখি ভরিল জলে॥ ২॥
ইন্দ্রধনু জিনি                         চূড়ার টালনি
উড়িছে ভ্রমরাজাল।
আঁখি পালটিঞা                না পাল্যাম দেখিতে
ঘোঞটা হইল কাল॥ ৩॥
অঙ্গের সৌরভে                      নাসিকা মাতল
আভরণ কেবা চিনে।
ঝলমল বই                           অন্য নাহি সই
সদাই পড়িছে মনে॥ ৪॥
নাহি পরিচয়                        বংশী সব কয়
এ ত বড় পরমাদ।
ও রাঙ্গা চরণের                        নূপুর শুনিতে
লোচনদাসের সাধ॥ ৫॥

টীকা -
১। শ্রীকৃষ্ণের রূপ দুইটি মাত্র চোখ দিয়া দেখা যায় না---তাই বিদ্যাপতি বলিয়াছেন, সুরপতির নিকট সহস্র
লোচন মাগিব---যাহাতে প্রাণ ভরিয়া শ্রীকৃষ্ণের রূপ দেখিতে পারি।
২। শ্রীকৃষ্ণকে দেখিয়া রাধার মনে হইল, বুঝি গাছের তলায় মেঘ জমিয়াছে, আর সেই মেঘের বর্ষণও হইল
রাধার দুই চোখে।---রূপ দেখিয়া আনন্দে তাঁহার চক্ষু সজল হইল।
৩। সে কালে ঘোমটায় মুখ ঢাকা থাকিত, তাই রাধা ফের ভাল করিয়া কৃষ্ণরূপ দেখিতে পারিলেন না।

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদসঙ্কলন”, ৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ।

আজ যমুনা                        গিছিলাম সজনি
শ্যামেরে দেখিঞাছি।
সভে দুটি আঁখি                   দিঞাছে বিধাতা
রূপ নিরখিব কি॥
পহিলে মোর মনে                        নব জলধর
নামিঞাছে তরুমূলে।
দেখিতে দেখিতে                   হেদে আচম্বিতে
দু আঁখি ভরিল জলে॥
ইন্দ্রধনু জিনি                         চূড়ায় টালনি
উড়িছে ভ্রমরাজাল।
আঁখি পালটিঞা                না প্যালাম দেখিতে
ঘোঞটা @ হইল কাল॥
অঙ্গের সৌরভে                     নাসিকা মাতল
আভরণ কেবা চিনে।
ঝলমল বই                           অন্য নাহি সই
সদাই পড়িছে মনে॥
নাহি পরিচয়                        বংশী সব কয়
এ ত বড় পরমাদ।
ও রাঙ্গা চরণের                      নূপুর শুনিতে
লোচনদাসের সাধ॥

@ ঘোঞটা - ঘোমটা

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যে চরণারবিন্দ অঞ্জ কমলাকরয়ে খোজ
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯২৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত, তারাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য্য সংকলিত, “বাঙ্গালা
প্রাচীন পুথির বিবরণ”, ৩য় খণ্ড, ৩য় সংখ্যা, ৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চৈতন্যমঙ্গল - সূত্রখণ্ড।
রচয়িতা লোচন বা ত্রিলোচন দাস।
সূত্রখণ্ড॥ মল্লার রাগ॥

যে চরণারবিন্দ অঞ্জ :                কমলা করয়ে খোজ :
তুলসি থাকয়ে নিরবধি।
যে চরণ পরসিঞা :                  শিবের সিরসি হঞা :
তিন লোক তারে সুরনদি॥ ১॥
ধনি ধনি তুমি বসুন্ধরে।
বেদে করে অন্যসন :                      হেনক চরণ ধন :
সে বিহার তোমার উপরে॥
যে চরনারবিন্দমধু :                  নখ ছলে পিয়ে বিধু :
আসিঞা ত দস ভাগ হয়।
ভক্ত অলিকুল জত :                  মধুলোভে অভিরত :
আর্ত্ত হঞা জে চরণে রয়॥ ২॥
বাল মুকুন্দ হই :                            বটপত্রপূটে সুই :
পাদাম্বুজ ধরি করাম্বুজে।
দিঞা বদনারবিন্দ :                     পিয়ে সুধা মকরন্দ :
শিল তারয়ে চরনরজে॥ ৩॥
যে চরণ পঙ্কজ :                        শিব সনকাদি অজ :
ভাবিয়ে না পায় মন মাঝে।
সে সকট করি ধ্বংস :                কালি নাগে অবতংস :
বলি রাজার মস্তকে বিরাজে॥ ৪॥
সকল সম্পদ পদ :                        যে চরণা[র]বিন্দ :
দস সত সিরে গুণ গায়।
লোচন কহয়ে গুণ :                        হেনক চরণ ধন :
লোক ভাগ্যে তোমাকে বেড়ায়॥ ৫॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঠাকুর বৈষ্ণবগণ করোঁ এই নিবেদন
ভণিতা দাস লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৪৯৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথাসম্ভব রাগতালাভ্যাং॥

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ করোঁ এই নিবেদন মো বরি অধম দুরাচার।
দারুণ সংসার নিধি তাহে ডুবাইল বিধি চুলে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান্ না শুনে ধরম জ্ঞান সদাই করম ফাঁসে বান্দে।
না দেখোঁ তারণ লেশ যত দেখ সব ক্লেশ অনাথ কাতরে তেঞি কান্দে॥
কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ অভিমান যত আপন আপন স্থানে টানে।
আমার ঐছন মন ফিরে যেন অন্ধজন সুপথ বিপথ নাহি জানে॥
এ দাস লোচনে কয় দেখি শুনি লাগে ভয় বিষম সংসারে মোর বাস।
না দেখোঁ তারণ পথ অসতে মজিল চিত এ ভব তরাঞা নেহ পশ॥

ই পদটি এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র
রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ,
৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০৯৪-পদসংখ্যায়, "
নরোত্তম দাসের" ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ              করোঁ এই নিবেদন
মো বড় অধম দুরাচার।
দারুণ সংসার নিধি         তাহে ডুবাওল বিধি
চুলে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান              না শুনে ধরম-জ্ঞান
সদাই করম-ফাঁসে বান্ধে।
না দেখোঁ তারণ-লেশ        যত দেখোঁ সব ক্লেশ
অনাথ কাতরে তেঞি কান্দে॥
কাম ক্রোধ লোভ মোহ          মদ অভিমান সহ
আপন আপন স্থানে টানে।
আমার ঐছন মন             ফিরে যেন অন্ধ-জন
সুপথ বিপথ নাহি মানে॥
না লইলুঁ সত-মত               অসতে মজিল চিত
তুয়া পায়ে না করিলুঁ আশ।
নরোত্তম দাস কয়          দেখ্যা শুন্যা লাগে ভয়
এই বার তরাইয়া লেহ পাশ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তোমরা নাকি বল আমি কানুর সনে আছি
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

তোমরা নাকি বল আমি কানুর সনে আছি।
এবোল বলিতে মুখে না হানিল মাছি॥ ধ্রু॥
যে দিগে কানুর ঘর সে মুখে না বসি।
সতী সাধে সে মুখের বায় না পরশি॥
কে ধরিল হাতে নোতে কে দেখিল কোথা।
মিছামিছি বিরালিনী তোলায় নানা কথা॥
না জানিয়া না শুনিয়া এবোল বলে কে।
পুত খাইনির মাথা খেয়ে ভাজা গেল দে॥
এরূপ যৌবন আমি কোথা লইয়া থোব।
মিছা কথা লাগি মাগো কত আমি সব॥
লোচন বলে আগো দিদি কারে তোমার ডর।
শ্যাম নাগর লইয়া তুমি সুখে কর ঘর॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
২০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

তোমরা নাকি বল আমি কানুর সনে আছি। এ বোল বলিতে মুখে নাহিল মাছি॥ ধ্রু॥
যে দিগে কানুর ঘর, সে মুখে না বসি। সতী সাধে সে মুখের বায়ু না পরশি॥
কে ধরিল হাতে নাতে কে দেখিল কোথা। মিছামিছি বিবাদিনী তুলয়ে নানা কথা॥
না জানিয়া না শুনিয়া এ বোল বলে কে। পুত খাইনির মাথা খেয়ে ভাজা গেল দে॥
এরূপ যৌবন আমি কোথা লইয়া থোব। মিছা কথা লাগি মাগো কত আমি সব॥
লোচন বলে আগো দিদি কারে তোমার ডর। শ্যাম নাগর লইয়া তুমি সুখে কর ঘর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর