কবি দ্বিজ মাধবের বৈষ্ণব পদাবলী
*
এই সব রূপে সারিসারি গোপনারী
কবি দ্বিজ মাধব
আনুমানিক অষ্টাদশ শতকে রচিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত (একাধিক বার),
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৭০-পৃষ্ঠা।

.        ॥ রাগিণী তাল॥

এই সব রূপে সারিসারি গোপনারী।
হেরি লাজ ভয় হরিপদ অনুসারী॥
ছিদ্রাঙ্ক ধ্বনি বেণু দূতী প্রায় হয়ে।
লয়ে যায় আগেআগে পথ দেখাইয়ে॥
কিবা সে চান্দের সারি সারি চলি জায়।
কিবা সে বিজুরিমূর্তি মতি হৈল তায়॥
কিবা পঙ্কজের বন লাবণ্য বলায়।
ভাসি ভাসি চলি জায় হেন মনে লয়॥
কিবা কনকের সব পুথলি চলিল।
কিবা চম্পকের মাল্য হয় বা জানিল॥
কিবা কুমুদিনী সব কামের পাথারে।
ভাসি ভাসি আসি পড়ে চান্দের সাগরে॥
এই রূপে সকল কামিনী এক কালে।
আসিয়া মিলিল শীঘ্র শ্রীরাম গোপালে॥
সভারে করুণা দিঠে চাহে ভগবান।
সভে চায় মহাপ্রভু রামের বয়ান॥
চন্দ্রকান্ত মণি জেন ইন্দুমুখী পেয়ে।
পুরিতে লাগিল দেখ একত্তর হয়ে॥
রসের সাওরে মত্ত হল বলদেবা।
রসিক নাগরী নিত্য পদে করে সেবা॥
রোমহর্ষ হইয়ে সে আর্ঘ্য নিবেদিলা।
শ্রমজল পাদ্য দিয়া সম্মুখে দাড়াইলা॥
অধর নৈবিদ্য দিয়া রহে বিদ্যমান।
ভোগ নিবেদিয়া জেন করয়ে ধেয়ান॥
এইরূপে পরমানন্দ মহোত্সব।
তা দেখিয়া সুরগণ বধূ মিলি সব॥
পুষ্পবৃষ্টি করে সব কেহু নাচে গায়।
মহা মহা যোগী মুনিগণ স্তুতি বেদ গায়॥
চিন্তিয়া চৈতন্যচান্দের চরণকমল।
দ্বিজমাধব কহে শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল॥

ই পদটির শেষ দুটি পংক্তি আর দ্বিজ মাধব বা মাধবাচার্য রচিত শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল কাব্যের
“উদ্ধব শ্রীকৃষ্ণে সংবাদ” পদটির শেষ দুটি পংক্তি প্রায় এক। প্রশ্ন জাগে যে শ্রীকৃষ্ণমঙ্গলের
রচয়িতা দ্বিজ মাধব আর শ্রীপদমেরুগ্রন্থের সংকলক দ্বিজ মাধব কি একই ব্যক্তি ? আমরা
এই পদটিকেও একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবে রাখছি।

উদ্ধব শ্রীকৃষ্ণে সংবাদ।

হেনমনে মায়া পাতিয়া গোবিন্দাই।
দেখিয়া উদ্ধব মনে চিন্তিলা তথাই॥
ত্রিদশের নাথ প্রভু সংসারের সার।
ভারাবতরণে কৃষ্ণ পৃথিবীউদ্ধার॥
ব্রহ্মশাপ মনে চিন্তি মায়া ত পাতিয়া।
পৃথিবী ছাড়িব হেন মনেতে চিন্তিয়া॥
নিজ দাস করি মোরে বলে সর্ব্বজনে।
কপট করিয়া মোরে বল নারায়ণে॥
এত বলি উদ্ধব কৃষ্ণের পাশে গিয়া।
কান্দিতে কান্দিতে বলেন চরণে ধরিয়া॥
উদ্ধব ক্রন্দন শুনি শ্রীমধুসূদন।
হাসিতে হাসিতে বলে মধুর বচন॥
চিন্তিয়া চৈতন্যচন্দ্রে-চরণকমল।
দ্বিজ মাধব কহে শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মধুপূর্ণমাসি নিশি পূর্ণমি সুন্দর শশী
কবি দ্বিজ মাধব
আনুমানিক অষ্টাদশ শতকে রচিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত (একাধিক বার),
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৭২-পৃষ্ঠা।

.                ॥ রাগিণী তাল॥

মধুপূর্ণমাসি নিশি পূর্ণমি সুন্দর শশী। তাহে বিহরয়ে বলচন্দ্র।
মল্লিকা মালতী জ্যোতি মধুরি মধুর তথি সমীর বহয়ে মন্দমন্দ॥
অতি পরিসর স্থল কান্তিকুল ঝলমল প্রতি তরুতলে চিত্রলেখা।
তাহাতে রামের হাসি কুন্দ প্রকাশিত রাশি সুখমুক্তি দিল জেন দেখা॥
ক্রমবন্ধে নাচি জায় কেহ হারি জিনি তায় কেহ প্রশংসিয়ে ভাল।
বলদেব নৃত্য করে সর্বনারী চিত্ত হরে পাতে জেন মাধূর্যের জাল॥
কেহু মৃদু গান করে কেহু তারে তাল ধরে কেহু প্রেমে করে কোলাকোলি।
চৈতন্যচরণ ধরণ হৃদয়ে করি স্মরণ দ্বিজ মাধব রস বলি॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এই সব রূপে রাস বেহার করিয়া
কবি দ্বিজ মাধব
আনুমানিক অষ্টাদশ শতকে রচিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত (একাধিক বার),
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৭২-পৃষ্ঠা। এই পদটিই এই গ্রন্থের শেষ পদ। এবং এই পদের নীচে লেখা
রয়েছে “ইতি গৌরাঙ্গ হে কৃপাঙ্কুরু মাধব দীনবরে॥” এ থেকেই এই গ্রন্থের গবেষক-
সম্পাদক . . .  মনে করেন যে এই পদমেরুগ্রন্থ-টি এই দ্বিজ মাধবেরই রচনা ও সংকলন।  

.                ॥ রাগিণী তাল॥

এই সব রূপে রাস বেহার করিয়া। জলবেহারের লাগি বোলয়ে ডাকিয়া॥
আইস আইস যমুনা করিব জলকেলি। কালিন্দী না আইসে তথা মহামত্ত বলী॥
তবে রাম হলে তারে কৈল আলিঙ্গন। ভয় পেয়ে কালিন্দী সে কৈল জে স্তবন॥
কৃপা করি কালিন্দীরে বেহার করি রাম। তীরে উঠি স্তব পড়ে আনন্দের ধাম॥
তবে গোপী করি বেশ কৈল মহাশয়। নিকুঞ্জের মাঝে মহাযোগপীঠ হয়॥
সভে মেলি রাম সঙ্গে চলু সেই ঠাঞি। কত কত উপহার ভুঞ্জে তাঁহা জাই॥
সুখেতে বঞ্চিয়া নিশি হেরি অবসান। নিজ নিজ গৃহ তঁহি করল পয়ান॥
বলরামের রাসলীলা হইল সমাধান। দ্বিজ মাধব করূ এই রস গান॥

ইতি গৌরাঙ্গ হে কৃপাঙ্কুরু মাধব দীনবরে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিপিনে গমন দেখি হয়্যা সকরুণ আখি
কবি দ্বিজ মাধব
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ২০-পৃষ্ঠা। এই
পদটি একাধিক সংকলনে, “মাধব দাস” ভণিতাতেও পাওয়া গিয়েছে। পাঠকের সুবিধের জন্য সেই
পদগুলিকে এখানেও, নীচের দিকে দেওয়া হয়েছে।

॥ কামোদ॥

বিপিনে গমন দেখি হয়্যা সকরুণ আখি কান্দিতে নন্দরাণী।
গোপালের কোলে লয়্যা প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া রক্ষ্যা মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥
এদুখানি রাঙ্গাপায় ব্রহ্মা রাখুন তায় জানু রক্ষ্যা করুণ দেবগণ।
কটিতট সূর্য্যবর রক্ষ্যা করুণ যজ্ঞেশ্বর হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥
ভুজ যুগ নখাঙ্গুলী রাখিবেন বনমালী কণ্ঠ রাখুন দিদিমণি।
পৃষ্ঠদেশ হয় গ্রীব মস্তক রাখুন শিব অধঃঅঙ্গ রাখুন চক্রপাণি॥
জল স্থল গিরি বনে রাখিবেন জনার্দ্দনে দশদিগ দশদিকপাল।
যত শত্রু হউক মিত্র রক্ষ্যা করুণ সর্ব্বত্র নহে তুমি হইও ভারকোল॥
এইসব মন্ত্রপড়ি প্রতি অঙ্গে হাত ধরি গোমুত্রের ফোঁটা ভালে দিল।
এ দ্বিজ মাধবে কয় নন্দরাণী প্রেমময় বলরামের হাতে সমর্পিল॥

ই পদটি আনুমানিক ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ কামোদ॥

বিপিনে গমন দেখি, হ’য়ে সকরুণ আঁখি, কান্দিতে কান্দিতে নন্দরাণী।
গোপালেরে কোলে লইয়ে, প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া রক্ষ্যা মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥
এ দুখানি রাঙ্গা পায়, ব্রহ্মা রাখুন তায়, জানু রক্ষা করুণ দেবগণ।
কটিতট সজঠর, রক্ষা করুণ যজ্ঞেশ্বর, হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥
ভুজযুগ নখাঙ্গুলী, রাখিবেন বনমালী, কণ্ঠ রাখুন দিদিমণি।
পৃষ্ঠদেশ হয়গ্রীব, মস্তক রাখুন শিব, অধঊর্দ্ধ রাখুন চক্রপাণি॥
জল স্থল গিরি বনে, রাখিবেন জনার্দ্দনে, দশদিক দশদিকপাল।
যত শত্রু হউক মিত্র, রক্ষ্যা করুন সর্ব্বত্র, নহে তুমি হইও তার কাল॥
এইসব মন্ত্র পড়ি, প্রতি অঙ্গে হাত ধরি, গোময়ের ফোঁটা ভালে দিল।
এ দ্বিজ মাধবে কয়, নন্দরাণী প্রেমময়, বলরামের হাতে সমর্পিল॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ২৫৭-পৃষ্ঠায়, “মাধব দাস” ভণিতায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

বিপিন গমন দেখি                                হৈয়া সকরুণ আঁখি
কান্দিতে কান্দিতে নন্দরাণী।
গোপালেরে কোলে লৈয়া                         প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া
রক্ষা মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥
এ দুখানি রাঙ্গাপায়                               ব্রহ্মা রাখিবেন তায়
জানু রক্ষা করু দেবগণ।
কটি তট সুজঠর                                   রক্ষা করু যজ্ঞেশ্বর
হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥
ভুজ যুগ নখাঙ্গুলী                                   রক্ষা করু বনমালী
কণ্ঠ মুখ রাখ দিনমণি।
মস্তক রাখুন শিব                                     পৃষ্ঠ দেশ হয়গ্রীব
অধঃ ঊর্দ্ধ রাখুন চক্রপাণি॥
জল স্থলে গিরিবনে                                রাখিবেন জনার্দ্দনে
দশদিকে দশদিক্ পাল।
যত শত্রু হউক মিত্র                                  রক্ষা করু সর্ব্বত্র
নহে তুমি হও তার কাল॥
এই সব মন্ত্রপড়ি                                  প্রতি অঙ্গে হস্ত ধরি
গোময়ের ফোঁটা ভালে দিল।
এ দাস মাধব কয়                                   নন্দরাণী প্রেমময়
বলরামের হাতে সমর্পিল॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের
মহাজন পদালী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১৬২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গলমিশ্র সারঙ্গ - ডাঁসপাহিড়া॥

বিপিন গমন দেখি,                                হৈয়া সকরুণ আঁখি
কান্দিতে কান্দিতে নন্দরাণী।
গোপালেরে কোলে নিয়া                        প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া
রক্ষা মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥
এ দুখানি রাঙ্গা পায়                             ব্রহ্মা রাখিবেন তায়,
জানু রক্ষা করু দেবগণ।
কটি তট সুজঠর,                                  রক্ষা করু যজ্ঞেশ্বর
হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥
ভুজ যুগ নখাঙ্গুলী,                                   রক্ষা করু বনমালী
কণ্ঠ মুখ রাখু দিনমণি।
মস্তক রাখুন শিব                                      পৃষ্ঠদেশ হয়গ্রীব
অধ ঊর্দ্ধ রাখুন চক্রপাণি॥
জল স্থলে গিরি বনে                                রাখিবেন জনার্দ্দনে
দশ দিকে দশ দিকপাল।
যত শত্রু হউ মিত্র                                    রক্ষা করু সর্ব্বত্র
নহে তুমি হও তার কাল॥
এই সব মন্ত্রপড়ি                                   প্রতি অঙ্গে হস্ত ধরি
গোময়ের ফোঁটা ভালে দিল।
এ দাস মাধব কয়                                     নন্দরাণী প্রেমময়
বলরামের হাতে সমর্পিল॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২ খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ পল্লব, সখ্য-রস---
গোষ্ঠে গমন, পদসংখ্যা ১১৮২ এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

বিপিন গমন দেখি,                                হৈয়া সকরুণ আঁখি
কান্দিতে কান্দিতে নন্দরাণী।
গোপালেরে কোলে লৈয়া                         প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া
রক্ষা-মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥
এ দুখানি রাঙ্গা পায়                                ব্রহ্মা রাখিবেন তায়
জানু রক্ষা করু দেবগণ।
কটিতট সুজঠর                                      রক্ষা করু যজ্ঞেশ্বর
হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥
ভুজ যুগ নখাঙ্গুলি                                     রক্ষা করু বনমালী
কণ্ঠা মুখ রাখু দিনমণি।
মস্তক রাখুন শিব                                        পৃষ্ঠদেশ হয়গ্রীব
অধ ঊর্দ্ধ রাখু চক্রপাণি॥
জল স্থলে গিরি বনে                                রাখিবেন জনার্দ্দনে
দশ দিকে দশ দিকপাল।
যত শত্রু হউ মিত্র                                     রক্ষা করু সর্ব্বত্র
নহে তুমি হও তার কাল॥
এই সব মন্ত্র পড়ি                                   প্রতি-অঙ্গে হস্ত ধরি
গোময়ের ফোঁটা ভালে দিল।
এ দাস মাধব কয়                                     নন্দরাণী প্রেমময়
বলরামের হাতে সমর্পিল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২৭২-পৃষ্ঠায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠাষ্টমী যাত্রা
॥ মঙ্গল॥

বিপিন গমন দেখি,                                হৈয়া সকরুণ আঁখি
কান্দিতে কান্দিতে নন্দরাণী।
গোপালেরে কোলে লৈয়া                         প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া
রক্ষা-মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥
এ দুখানি রাঙ্গা পায়                              ব্রহ্মা রাখিবেন তায়
জানু রক্ষা করু দেবগণ।
কটিতট সুজঠর                                    রক্ষা করু যজ্ঞেশ্বর
হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥
ভুজ যুগ নখাঙ্গুলি                                   রক্ষা করু বনমালী
কণ্ঠমুখ রাখু দিনমণি।
মস্তক রাখুন শিব                                       পৃষ্ঠদেশ হয়গ্রীব
অধ ঊর্দ্ধ্ব রাখু চক্রপাণি॥
জল স্থলে গিরি বনে                                রাখিবেন জনার্দ্দনে
দশ দিকে দশ দিকপাল।
যত শত্রু হউক মিত্র                                   রক্ষা করু সর্ব্বত্র
নহে তুমি হও তার কাল॥
এই সব মন্ত্র পড়ি                                  প্রতি অঙ্গে হস্ত ধরি
গোময়ের ফোঁটা ভালে দিল।
এ দাস মাধব কয়                                    নন্দরাণী প্রেমময়
বলরামের হাতে সমর্পিল॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

বিপিন গমন দেখি,                                  হৈয়া সকরুণ আঁখি,
কান্দিতে কান্দিতে নন্দরাণী।
গোপালেরে কোলে লৈয়া                          প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া,
রক্ষা-মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥
এ দুখানি রাঙ্গা পায়,                                ব্রহ্মা রাখিবেন তায়,
জানু রক্ষা করু দেবগণ।
কটিতট সুজঠর,                                     রক্ষা করু যজ্ঞেশ্বর,
হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥
ভুজ যুগ নখাঙ্গুলী,                                    রক্ষা করু বনমালী,
কণ্ঠ মুখ রাখ দিনমণি।
মস্তক রাখুন শিব,                                       পৃষ্ঠদেশ হয়গ্রীব,
অধ ঊর্দ্ধ রাখুন চক্রপাণি॥
জলে স্থলে গিরি বনে,                                রাখিবেন জনার্দ্দনে,
দশ দিকে দশ দিক্পাল।
যত শত্রু হউক মিত্র,                                    রক্ষা করু সর্ব্বত্র,
নহে তুমি হও তার কাল॥
এই সব মন্ত্র পড়ি,                                  প্রতি অঙ্গে হস্ত ধরি,
গোময়ের ফোঁটা ভালে দিল।
এ দাস মাধব কয়,                                    নন্দরাণী প্রেমময়,
বলরামে হাতে সমর্পিল॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমার সুন্দর নায়, যে বা আসি দেয় পায়
কবি দ্বিজ মাধব
আনুমানিক ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৮৪-পৃষ্ঠা।

॥ শ্রীরাগ॥

আমার সুন্দর নায়, যে বা আসি দেয় পায়, হাসিয়া গণয়ে ষোল পোণ।
তোমরা ত তরুণী নিতম্ব কুচ, অতি গুরু উচ্চ এক নায়ে ভরা তিন জন॥
লক্ষের পসরা তোর, নায়ে পার হবে মোর, ইহাতে পাইব আমি কি।
আপন বুঝিয়া বলহ, পিছে যেন নহে কলহ, শোন সব গোয়ালার ঝি॥
তুমি ত যুবক মেয়ে, আমিত যুবক নেয়ে, হাস্য পরিহাসে গেল দিন।
ওকূলে মানুষ ডাকে, খেয়া কামাই মিছে পাকে, এক্ষণ হৈত খেয়া তিন॥
এখন একবোল বলুক রাই, আগে দেয় কিছু খাই, না বাহিতে গায় হউক বল।
দ্বিজ মাধব কয়, রসিক যাদব রায়, নায় কর স্বকাজ সফল॥

ই পদটি সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, ৬৩-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী সুহই - তাল একতালা॥
গোপীদের কথা শুনিয়া শ্রীকৃষ্ণ (নাবিক) বলিতেছেন।

আমার সুন্দর না, যেবা আসি দিবে পা, হাসিয়া গণয়ে ষোল পোণা।
এ তব নিতম্ব কুচ, অতি গুরুতর উচ, এক নায়ে ভরা তিন জনা॥
লাখের পসরা তোর, নায়ে পার হবে মোর, ইহাতে পাইব আমি কি।
এখনি বুঝিয়া বল, পাছে যেন নহে কল, এই জীবিকায় আমি জী॥
শুন বিনোদিনী রাই, আগে দেও কিছু খাই, না’ বাহিতে গায়ে ইউক বল।
এখন একবোল বলুক রাই, আগে দেয় কিছু খাই, না বাহিতে গায় হউক বল।
এ দ্বিজ মাধবে কয়, রসিক অতিশয়, পাছে মিছে হইবে সকল॥

ভাবার্থ -
নাবিক রূপে শ্রীকৃষ্ণ বলিতেছেন--- আমাকে কি দিবে আগে বল, পাছে যেন গোলমাল না হয়। দেখি আমার
না’খানি কেমন সুন্দর। আর এক কথা আগে কিছু দাও, খাইলে পরেই নৌকা বাহিতে শক্তি হইবে ইত্যাদি।
--- সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “পদামৃত লহরী”॥

ই পদটি আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ
মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে
(ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থের, ৭৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

নৌকা খণ্ড
॥ বরাড়ী রাগ॥

আমার সুন্দর না।
যেবা আসি দেয় পা॥
হাসিয়া গণয়ে ষোল পণ।
তোমার নিতম্ব কুচ,                                অতি গুরুতর উচ,
এক নায়ের ভরা দশ জন॥
হেদেলো গোআলার,                                      মায়্যা বুঝিল,
বড়ই তুমি ঢাঁট।
দান ফুরাইয়া,                                      হেদেলো গোয়ালিনি,
নাএ চড়সিয়া ঝাট॥
লাখের পসরা তোর,                             নাএ পার হবে মোর,
ইহাতে পাইব আর কি।
বুঝিয়া উচিত বল,                                পিছে যেন নহে ফল,
এই জীবিকায় আমি জী॥
তুমিত যুবতী মায়্যা,                             আমিত যুবক নায়্যা,
হাস পরিহাসে গেল দিন।
ও পারে মানুষ ডাকে,                         খেয়া নিয়া মিছা পাকে,
এতক্ষণে হৈত ভরা তিন॥
খীর নুনী দুগ্ধ দই,                                আগে আন কিছু খাই,
নৌকা বাহিতে হইক বল।
দ্বিজ মাধবে কয়,                                      রসিক যাদবরায়,
মিছা পাকে হারাবে সকল॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সর্ব্ব শুভোদয় হইল পরম শোভন
কবি দ্বিজ মাধব
আনুমানিক ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১-পৃষ্ঠা।

.         মঙ্গলাচরণ।
.        ॥ শ্রীরাগ॥

সর্ব্ব শুভোদয় হইল পরম শোভন।
প্রসন্ন সকল দিক গ্রহতারাগণ॥
নদ নদী সরোবর সকল নির্ম্মল।
সরস হইল তরু প্রসন্ন অনল॥
জয় জয় যদুসিংহ করিল প্রকাশ।
কোটী কোটী চন্দ্র জিনি প্রসন্ন আকাশ॥
মাসি ভাদ্রপাদ রাশি সিংহ সুলক্ষণ।
অসিত অষ্টমী তিথি রোহিণী সলক্ষণ॥
দ্বিতীয় প্রহর রাত্রি অতি ঘোরময়।
গভীর নিনাদ অতি পয়োদ উদয়॥
স্বর্গেতে দুন্দুভি বাজে গন্ধর্ব্বেতে গায়।
সিদ্ধগণ স্তব করে অপ্সরা নাচয়॥
সুরগণ আনন্দেতে কুসুম বরিষে।
দ্বিজ মাধব কহে মনের হরিষে॥

ই পদটি আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে,
মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী
কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও
প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ১৫-পৃষ্ঠা।

.           মঙ্গলাচরণ।
.        ॥ মহারট্টী রাগ॥

সর্ব্ব শুভকর কাল পরম শোভন।
প্রসন্ন শুভ রাশি গ্রহ তারাগণ॥
নদ নদী সরোবর সলিল নির্ম্মল।
প্রসন্ন সকল দিগ প্রসন্ন অনল॥
জয় জয় যদুবীর করিল প্রকাশ।
কোটি কোটি চন্দ্র যেন উদয় আকাশ॥
মাসি ভাদ্রপদে রাশি মহেশবাহন।
অসিত অষ্টমী রোহিণী শুভক্ষণ॥
দ্বিতীয় প্রহর নিশি অতি ঘোরচয়।
গম্ভীর নিনাদ ঘন পয়োদ-উদয়॥
কংস বংশ বীণা বেণী ঝাঝরি মুহুরি।
মৃদঙ্গ পণব কপিনাস সুমাধুরী॥
শঙ্খ দুন্দুভি বাদ্য পরমহরিষে।
উল্লসিত সুরকুল কুসুম বরিষে॥
হরল সকল তাপ এ মহীমণ্ডল।
প্রেমে আমোদ করে পুণ্য পরিমল॥
কলিযুগে চৈতন্য সেই অবতার।
দ্বিজ মাধব কহে কিঙ্কর তাহার॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
স্থান অতি উজ্জ্বল পরম
কবি দ্বিজ মাধব
আনুমানিক ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২৩৪-পৃষ্ঠা।

.        ॥ কাম কুম্ভ॥

স্থান অতি উজ্জ্বল পরম।
যেমন রাধা মাধবের মন॥
আড়ে থাকি দেখে ,খীগণ।
কিবা হরি করে আচরণ॥
পাদ্য দিল ছরমের জলে।
পূজা করে আঁখি উত্পলে॥
অর্ঘ্য দিল গায়ের পুলকে।
নয়নের জলে অভিষেকে॥
অধর নৈবেদ্য দিয়ে দান।
করযুড়ি করে নিবেদন॥
দান দিল চক্ষু লক্ষ মণি।
চেতন পাইল তবে ধনি॥
চেতন পাইয়ে যোড়ি করে।
কহে কিছু গদগদ স্বরে॥
কত সুধা কর বরিষণ।
এ দ্বিজ মাধবকি বচন॥

.        *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শঙ্খ দুন্দুভি বাজে নাচে দেবগণ
কবি দ্বিজ মাধব
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, ১৬-পৃষ্ঠা।

॥ রাগিণী ভাটিয়ারী - তাল লোফা॥

শঙ্খ দুন্দুভি বাজে নাচে দেবগণ।
জয় জয় হরিধ্বনি ভরিলা ভুবন॥
ভাদ্র কৃষ্ণাষ্টমী তিথি নক্ষত্র রোহিণী।
দশদিক সুমঙ্গল শুভক্ষণ জানি॥
জনমিলা ব্রজপুরে ব্রজেন্দ্র নন্দন।
অন্তরীক্ষে দেবী করে পুষ্প বরিষণ॥
পঞ্চগব্য পঞ্চামৃতে গন্ধাদি সাজায়া।
অভিষেক করে দেবী জয় জয় দিয়া॥
অপ্সরা নাচয়ে গান করে গন্ধর্ব্ব।
মঙ্গল জয়কার দেই দেব পত্নী সর্ব্ব॥
কত কত কোটি চাঁদ জিনিয়া উদয়।
এ দ্বিজ মাধবে কহে আনন্দ হৃদয়॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন
পদালী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেহাগ - জপতাল॥

শঙ্খ দুন্দুভি বাজে নাচে দেবগণ।
জয় জয় হরি ধ্বনি ভরিল ভুবন॥
ভাদ্র কৃষ্ণাষ্টমী তিথি নক্ষত্র রোহিণী।
দশদিক সুমঙ্গল শুভক্ষণ জানি॥
জনমিলা ব্রজপুরে ব্রজেন্দ্র-নন্দন।
অন্তরীক্ষে দেব করে পুষ্প বরিষণ॥
পঞ্চগব্য পঞ্চামৃত গন্ধাদি সাজায়া।
অভিষেক করে দেবি জয় জয় দিয়া॥
অপ্সরা নাচয়ে গান করয়ে গন্ধর্ব্ব।
মঙ্গল জয়কার দেই দেবপত্নীসর্ব্ব॥
কত কোটী চান্দ জিনিয়া উদয়।
এ দ্বিজ মাধব কহে আনন্দ হৃদয়॥

.        *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখী সাথে চলে পথে রাই বিনোদিনী
কবি দ্বিজ মাধব
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন  পদালী  
সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২৬০-পৃষ্ঠা।

॥ পাহাড়ী শ্রীরাগ - মণ্ঠক তাল॥

সখী সাথে চলে পথে রাই বিনোদিনী
বিষাদে বিকল হিয়া কহয়ে কাহিনী॥
কৃষ্ণ নাম যশ গুণ প্রেম আলাপনে।
রহিয়ে রহিয়ে যায় চিন্তে মনে মনে॥
কৃষ্ণময় দশদিশ হেরই নয়নে।
স্বভাব-কুটিল প্রেমা হইল উদ্দীপনে॥
কি বলিতে কিবা বলে কি করিতে কি।
দ্বিজ মাধবে কহে নিছনি দি॥

ই পদটির প্রথম দুটি পংক্তি প্রায় এক রেখে, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, গোকুলানন্দ সেন
(বৈষ্ণবদাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরচিত, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত, “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”
সংকলনের সটীক সংস্করণ, ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩০শ
পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা-২৫৮৩টি-তে “
কবি শেখরের” ভণিতা রয়েছে।
পুরো পদটি এভাবে রয়েছে।

.        ॥ শ্রীরাগ॥

সখী সাথে চলে পথে রাই বিনোদিনী
বিষাদে বিকল হৈয়া কহয়ে কাহিনী॥
এ নারী-জনমে হাম কৈলুঁ কত পাপ।
সেই ফলে সদাই পাইয়ে মন-তাপ॥
ননদিনী কুবাদিনী প্রতি বোলে ভাজে।
শাশুড়ী সঘনে মোরে আঁখি ঠারে তাজে॥
স্বামী সোহাগে কভু না ডাকিল মোরে।
নিশ্বাস ছাড়িতে নারি দেবরের ডরে॥
পোড়া সে পাড়ার লোক দেখিয়া ডরাই।
আপনা বলিয়া বলে হেন কেহু নাই॥
পরাধীন হৈয়া প্রেম কৈলুঁ পর সনে।
জানিয়া শুনিয়া ঝাঁপ দিয়াছি আগুনে॥
এ কবি শেখর কয় না করিহ ডর।
গোপনে ভুঞ্জিবে সুখ না জানিবে পর॥

.        *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ওহে কানাই ভালাই লইয়া যাও গোঠে হে
কবি দ্বিজ মাধব
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদালী সংকলন
“শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩৩৭-পৃষ্ঠা।

॥ বরাড়ী - মধ্যম একতালা॥

ওহে কানাই                                                          .
ভালাই লইয়া যাও গোঠে হে।
তোমার যে রীত-নীত                            দেখিতে লাগয়ে ভীত
কতই কতই মনে উঠে হে॥
তুমি ত রাজার পো                                ধনে কেনে এত মো
বিভা দিতে বলো তোমা তাতে হে।
বাঙন হইয়া কেন                                ঘোষের সোয়াস্ত নাই
ব্রজপুরে বধ না মিলিল হে।
বসন চুরির কথা                                শুনি সবে পাইল ব্যথা
তেঁই কন্যা তোমারে না দিল হে॥
সে দুখে দুখিত হইয়া                             বেড়াও রমণী চাইয়া
গো-ধন চরাবার ছলা করি হে।
আমরা যেমন হই                                 তোমার অবেদ্য নাই
এখানে না লাগে ভারি ভুরি হে॥
( তোমার )                                         .
কুটিল নয়ান শরে                                   জগত মোহিত করে
তারে কিছু মোরা না ডরাই হে।
রাধার চরণ বলে                                    সব আছে করতলে
দ্বিজ মাধবে জান নাই হে॥

.        *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর