| কবি দ্বিজ মাধবের বৈষ্ণব পদাবলী |
| বোলে বনমালী শুন গোয়ালিনি কবি দ্বিজ মাধব ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৪৪- পৃষ্ঠা। পদটি তিনি পেয়েছিলেন বাঁকুড়ার পুথি থেকে। ॥ ধানশী॥ বোলে বনমালী শুন গোয়ালিনি কেনে পাতিয়াছ রোল। পার করি দিব বিকিরে যাইবে আগে ফুরাও মোর বোল॥ সমূহ রমণী নহ একাকিনী বিবেচনা মতে কবা। যাহার যেমন আছয়ে পসরা বুঝিয়া শুঝিয়া লবা। শুন্যাছ রমণি কি বলিছি আমি ইনা কথার কি না ফল। যমুনা-পাথারে যদি হবে পার বুঝিয়া ছিলে সে ভাল॥ তুমি হে কাণ্ডারী আমরা তো ভারী দেওয়া নেওয়ার ইথে কি। দেওয়া নেওয়া জান তোমরা দু-জন মোরা ভার বহিতেছি॥ নায়্যা কিছুই না কর খণ্ডা। জন জন প্রতি বুঝিলুঁ কহিলুঁ পাইবে ধরম-গণ্ডা॥ গোপীর বচন শুনি মনে মনে হাসে দেব বনমালী। দ্বিজ মাধব কয় রস অতিশয় রাধা-কানুর ধামালী॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ বোলে বনমালী শুন গোয়ালিনি কেনে পাতিয়াছ রোল। পার করি দিব বিকিরে যাইবে আগে ফুরাও মোর বোল॥ সমূহ রমণী নহ একাকিনী বিবেচনা মতে কবা। যাহার যেমন আছয়ে পসরা বুঝিয়া শুঝিয়া লবা। শুন্যাছ রমণি কি বলিছি আমি ইনা কথার কি না ফল। যমুনা পাথারে যদি হবে পার বুঝিয়া বেতন ফেল॥ তুমি হে কাণ্ডারী আমরা তো ভারী দেওয়া নেওয়ার ইথে কি। দেওয়া নেওয়া জান তোমরা দু-জন মোরা ভার বহিতেছি॥ নায়্যা কিছুই না কর খণ্ডা। জন জন প্রতি বুঝিয়া কহিলুঁ পাইবে ধরমগণ্ডা॥ গোপীর বচন শুনি মনে মনে হাসে দেব বনমালী। দ্বিজ মাধব কয় রস অতিশয় রাধাকানুর ধামালী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কানু বোলয়ে রাধে মোর ছোট না কবি দ্বিজ মাধব ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৪৪- পৃষ্ঠা। পদটি তিনি পেয়েছিলেন বাঁকুড়ার পুথি থেকে। ॥ ধানশী॥ কানু বোলয়ে রাধে মোর ছোট না। পসরা এড়িয়া ধনি কেরোয়াল বা॥ রাই বোলে আমি হই অবলার জাতি। কেরোয়াল বাহিতে আমি নাহি জানি ভাঁতি॥ নাগর বোলয়ে রাধে কিছুই না জান। পরের পো খানি শুধু ভুলাইয়া আন॥ কহিছে কাণ্ডারী শুন হে গোরি তেজহ সুনীল সাড়ী। নব-ঘন বলি বাড়িবে পবন রাখিতে নারিব তরি॥ ধনি তেজহ বসন তোর। তরঙ্গ বাড়িবে বিষম হইবে না খানি ডুবিবে মোর॥ কহিছে নাগরী শুনহে কাণ্ডারী তুমি যে কহিলে ভাল। নব ঘন জিনি তোমার বরণ কেমনে ঘুচাবে কাল॥ আছয়ে উপায় কহিয়ে তোমায় যদি শোন মোর বোল। কালিয়া-মুরতি ঘুচাইবে যদি শিরে দিয়ে ঢালি ঘোল॥ এ কথা শুনিয়া অবনভ হৈয়া রহিল চতুর নায়্যা। দ্বিজ মাধব কহ পার করি দেহ বিকি-কিনি যায় বয়্যা॥ এই পদটির প্রথম ছয়টি পংক্তি বাদ দিয়ে, ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৮-পৃষ্ঠায়। আমরা দুটি রূপেই স্বতন্ত্র পদ হিসেবে তুলছি পাঠকের সুবিধের জন্য। ॥ ভাটিয়ারী॥ কহিছে কাণ্ডারী শুন হে গোরি তেজহ সুনীল সাড়ী। নবঘন বলি বাড়িবে পবন রাখিতে নারিব তরি॥ ধনি তেজহ বসন তোর। তরঙ্গ বাড়িবে বিষম হইবে লা-খানি ডুবিবে মোর॥ কহিছে নাগরী শুনহে কাণ্ডারী তুমি যে কহিলে ভাল। নবঘন জিনি তোমার বরণ কেমনে ঘুচাবে কাল॥ আছয়ে উপায় কহিয়ে তোমায় যদি শোন মোর বোল। কালিয়া মুরতি ঘুচাইবে যদি শিরে দিয়ে ঢালি ঘোল॥ এ কথা শুনিয়া অবনত হৈয়া রহিল চতুর নায়্যা। দ্বিজ মাধব কহ পার করি দেহ বিকিকিনি যায় বয়্যা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কহিছে কাণ্ডারী শুন হে গোরি কবি দ্বিজ মাধব দাস ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৮- পৃষ্ঠা। ॥ ভাটিয়ারী॥ কহিছে কাণ্ডারী শুন হে গোরি তেজহ সুনীল সাড়ী। নবঘন বলি বাড়িবে পবন রাখিতে নারিব তরি॥ ধনি তেজহ বসন তোর। তরঙ্গ বাড়িবে বিষম হইবে লা-খানি ডুবিবে মোর॥ কহিছে নাগরী শুনহে কাণ্ডারী তুমি যে কহিলে ভাল। নবঘন জিনি তোমার বরণ কেমনে ঘুচাবে কাল॥ আছয়ে উপায় কহিয়ে তোমায় যদি শোন মোর বোল। কালিয়া মুরতি ঘুচাইবে যদি শিরে দিয়ে ঢালি ঘোল॥ এ কথা শুনিয়া অবনত হৈয়া রহিল চতুর নায়্যা। দ্বিজ মাধব কহ পার করি দেহ বিকিকিনি যায় বয়্যা॥ এই পদটি আগে ছয়টি পংক্তি জুড়ে, ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৪৪-পৃষ্ঠায় পদটি এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন বাঁকুড়ার পুথি থেকে। আমরা দুটি রূপেই স্বতন্ত্র পদ হিসেবে তুলছি পাঠকের সুবিধের জন্য। ॥ ধানশী॥ কানু বোলয়ে রাধে মোর ছোট না। পসরা এড়িয়া ধনি কেরোয়াল বা॥ রাই বোলে আমি হই অবলার জাতি। কেরোয়াল বাহিতে আমি নাহি জানি ভাঁতি॥ নাগর বোলয়ে রাধে কিছুই না জান। পরের পো খানি শুধু ভুলাইয়া আন॥ কহিছে কাণ্ডারী শুন হে গোরি তেজহ সুনীল সাড়ী। নব-ঘন বলি বাড়িবে পবন রাখিতে নারিব তরি॥ ধনি তেজহ বসন তোর। তরঙ্গ বাড়িবে বিষম হইবে না খানি ডুবিবে মোর॥ কহিছে নাগরী শুনহে কাণ্ডারী তুমি যে কহিলে ভাল। নব ঘন জিনি তোমার বরণ কেমনে ঘুচাবে কাল॥ আছয়ে উপায় কহিয়ে তোমায় যদি শোন মোর বোল। কালিয়া-মুরতি ঘুচাইবে যদি শিরে দিয়ে ঢালি ঘোল॥ এ কথা শুনিয়া অবনভ হৈয়া রহিল চতুর নায়্যা। দ্বিজ মাধব কহ পার করি দেহ বিকি-কিনি যায় বয়্যা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুন প্রভু জগদীশ তুআ পদে অহর্ন্নিশ ভণিতা - দ্বিজ মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ৩-পৃষ্ঠা। ॥ শ্রীরাগ॥ শুন প্রভু জগদীশ, তুআ পদে অহর্ন্নিশ, রহু মোর বহুত প্রণাম। নির্ম্মল তোমার যশ, গাইমু অশেষ রস, ইহা বিনা আর নাহি কাম॥ প্রভু উর উর হেন, জয় যদুনন্দন, আসরে করহ অধিষ্ঠান। যে হয় তোমার দাস, পূরহ তাহার আশ, শুনিয়া আপন গুণগান॥ ধ্রু॥ তুমি প্রভু দেব ভূপ, অনাদি কারণরূপ, সৃজন পালন ক্ষয়কারী। ত্রিভুবনে মহাশয়, কসিক করুণাময়, গোপ-রমণী মনোহারী॥ মধু মুর আদি করি, বধিলে যতেক অরি, ধরণী তারিলে বারেবার। কলিযুগে শ্রীচৈতন্য, প্রেমরসে করিলে ধন্য, দ্বিজ মাধব কহে সার॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |