| কবি দ্বিজ মাধবের বৈষ্ণব পদাবলী |
| সবে ধন রাম কানাই ভণিতা - দ্বিজ মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ৬০-পৃষ্ঠা। ॥ শ্রীরাগ॥ সবে ধন রাম কানাই। হারায়্যা পায়্যাছি তোমা আর কেহ নাই॥ শ্যাম সুন্দর কানু, সজল জলদ তনু, পুলকিত প্রফুল্ল বদন। যেন নিশি পরভাতে, উদয় দিবসনাথে, প্রকাশ পাইল পদ্মবন॥ সকল ব্রজের লোক, হরল যে রোগ-শোক, পাইয়া পরাণধন হরি। হরষিত সব জন, ঘন চুম্ব আলিঙ্গন, উল্লসিত বল্লব-নাগরী॥ কেহ নাচে কেহ গায়, কেহ বা দাণ্ডায়্যা চায়, মা-বাপের পরম উল্লাস। নিরখি হরির আঁখি, ভরিয়া তাহারে দেখি, পীয়ে রূপ না যায় পিয়াস॥ কেহ ঘনাইয়া কাছে, যত বিবরণ পুছে, প্রেমে হৃদয় উতরোল। নবনব অনুরাগে, বেড়িল গোপিনী ভাগে, ভূঙ্গে যেন বেড়িল কমল॥ শিশুগণে ধাই ধাই, সম্বোধিয়া ভাই ভাই, হাম্বারবে গাভী বত্স ফেরে। দ্বিজ মাধব কহে, দেবগণ রহি চাহে, পুরীখণ্ড কালিদহ আরে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নহে তীর্থ জলময় দরশনে পাপক্ষয় ভণিতা - দ্বিজ মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২৮৬-পৃষ্ঠা। ॥ ধানশী রাগ॥ নহে তীর্থ জলময়, দরশনে পাপক্ষয়, বহে দেবশিলা মূর্ত্তিময়ী। এই সব দিনে দিনে, বেদবিধি নিষেবণে, তুমিত বিলাসকারী হই॥ শুন শুন যেবা হয়, ভুবনে সাধুজন, দরশনে পতিত পাবন॥ ধ্রু॥ আঁখি ভরি সব তারা, মুরলীর শূন্য ধারা, বাণী শুনে সব ভেদকারী। না করি সেবন জ্ঞান, যেন বিধি দরশন, ক্ষেণেকে ক্ষেণেকে জ্ঞানহারী॥ যাহার এ ধাতু কায়, শ্রবণে বন্দিত হয়, সুত দারে হয় সমবন্ধী। তীর্থবুদ্ধি হয় জলে, মিথ্যা বুদ্ধি ধীরকুলে, সেই গোক্ষুরের হয় শুদ্ধি॥ দ্বিজ মাধবের বাণী, শ্রীভাগবত জানি, সোঙরণে অক্ষত বিনাশিনী। শ্রীচৈতন্য গুণ, পাপ বিনাশন, ক্ষেমব সে প্রকাশ অবনী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হাটে বাটে সব শুনি একরব ভণিতা - দ্বিজ মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২১-পৃষ্ঠা। গোপীগণের আনন্দ-প্রকাশ। ॥ সিন্ধুড়া রাগ॥ হাটে বাটে সব, শুনি একরব, নৃত্য গীত জয়ধ্বনি। শঙ্খ মৃদঙ্গ, বীণা বেণী দুন্দুভি, ঘন ঘন ধ্বনি শুনি॥ আজু যশোদা, পুত্র প্রসবিল, সুখ পাইল শুনিয়া। শ্রবণে নয়নে, দ্বন্দ্ব দূরে যাউক, চল দেখি আসি গিয়া॥ বুঢ়া বয়সে, নন্দঘোষে, দেখিল পুত্রের মুখ। প্রাণ ধন জন, সকল সফল, খণ্ডিল সকল দুখ॥ নিজ ঘরে যেন, হৈল উপপদ্ম, হেন লয় মোর মনে। কি আর বিলম্ব, কর সখগণ, সফল হইল নয়নে॥ গোপ-কন্যাগণ, হয়্যা একমন, কৌতুকে আবাল বৃদ্ধা। দ্বিজমাধব কহে, প্রভুর উত্সব হয়ে, কাহার মনে নাহি শ্রদ্ধা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |