কবি দ্বিজ মাধবের বৈষ্ণব পদাবলী
*
কুঞ্জর সুন্দর মুখ এ তিন লোচন
ভণিতা - দ্বিজ মাধব
কবি মাধব আচার্য
আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ
মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন
১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল”
কাব্যগ্রন্থ, ৪-পৃষ্ঠা।

.        গণেশ-বন্দনা

কুঞ্জর সুন্দর মুখ এ তিন লোচন।
মদগল গণ্ডস্থল চলই সঘন॥
হিমকর-রুচি এক দশন উজ্জ্বল।
স্থুল খর্ব্ব দেহভার বিশাল উদর॥
প্রণমহুঁ গণপতি গৌরীর নন্দন।
পরম বৈষ্ণব দেব বিঘ্নবিনাশন॥
মূষিক বাহন রক্ত চীর পরিধান।
প্রসন্ন বদন দেব করুণানিধান॥
লোহিত চরণ চারু নব দিনকর।
লম্বিত কুটিল জটা মুকুট উপর॥
তপস্বীর বেশেতে সম্বিত চারিভূজে।
আগু আবাহন যারে করি শুভকাজে॥
সব অবতার শেষ কলি পরবেশ।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্যচন্দ্র গুপ্ত যতিবেশ॥
প্রেমভকতিরস করেন প্রকাশ।
কহে দ্বিজ মাধব তাহার দাসের দাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সকল গোআলা কান্দে হইয়া আকুল
ভণিতা - দ্বিজ মাধব
কবি মাধব আচার্য
আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ
মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন
১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল”
কাব্যগ্রন্থ, ৫৮-পৃষ্ঠা।

.        পয়ার।

সকল গোআলা কান্দে হইয়া আকুল।
সেই রোলে হয়্যা গেল বড়ই তুমুল॥
কেহ গড়াগড়ি কেহ রড়ারড়ি ধায়।
সেই বিষজলে কেহ প্রবেশিত চায়॥
কৃষ্ণের মহিমা সবে জানেন হলধর।
ঈষত হাসিয়া তিঁহ ধাইল সত্বর॥
ঊর্দ্ধবাহু করি বলে নিষেধ উত্তর।
স্হির হও গোপ সব নহিও কাতর॥
বিষজলে প্রবেশ করিবা অকারণ।
এখনি উঠিব প্রভু নন্দের নন্দন॥
আমার বচন শুন রহিয়া ক্ষণেক।
আপন নয়ানে দেখিবা পরতেখ॥
স্বরূপে আমার বাক্য যদি হয় মিছা।
তবে পাছু যেই কর আপনার ইচ্ছা॥
এ বোল শুনিয়া সভে হইলা স্থকিত।
রহিলা ক্রন্দনমুখী চাহিয়া সেই ভিত॥
জলের ভিতর থাকি নন্দের নন্দন।
শুনিয়া বিলাপ গোপগোপীর ক্রন্দন॥
আপনার প্রিয়স্থান গোকুল নগর।
বন্ধুবান্ধব সব কান্দিয়া বিকল॥
অনাথ দেখিয়া সব সখী সহচরে।
ব্যথিত হইয়া প্রভু নন্দের সুন্দরে॥
মুহূর্ত্তেক ছিলা সবে ভুজঙ্গ-বন্ধনে।
অবহেলে ঠেলিয়া উঠিলা বিদ্যমানে॥
সেই ত ঠেলায় কালি পাসরে আপনা।
চৈতন্য পাইয়া পুন মারিলেক ফণা॥
সঘন নিশ্বাস এড়ে চাহে এক দিঠি।
বদন ভিতরে যেন জ্বলন্ত দিউটী॥
চরণ যুগল জিহি লিহিছে সঘন।
দেখিয়া গোপাল তারে রুষিলা তখন॥
শুন শুন আরে ভাই হয়্যা একমন।
শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল দ্বিজ মাধব-রচন॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সবে ধন রাম কানাই
ভণিতা - দ্বিজ মাধব
কবি মাধব আচার্য
আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা
রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী
১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ৬০-পৃষ্ঠা।

॥ শ্রীরাগ॥

সবে ধন রাম কানাই।
হারায়্যা পায়্যাছি তোমা আর কেহ নাই॥
শ্যাম সুন্দর কানু,                                     সজল জলদ তনু,
পুলকিত প্রফুল্ল বদন।
যেন নিশি পরভাতে,                                   উদয় দিবসনাথে,
প্রকাশ পাইল পদ্মবন॥
সকল ব্রজের লোক,                                হরল যে রোগ-শোক,
পাইয়া পরাণধন হরি।
হরষিত সব জন,                                       ঘন চুম্ব আলিঙ্গন,
উল্লসিত বল্লব-নাগরী॥
কেহ নাচে কেহ গায়,                              কেহ বা দাণ্ডায়্যা চায়,
মা-বাপের পরম উল্লাস।
নিরখি হরির আঁখি,                               ভরিয়া তাহারে দেখি,
পীয়ে রূপ না যায় পিয়াস॥
কেহ ঘনাইয়া কাছে,                                   যত বিবরণ পুছে,
প্রেমে হৃদয় উতরোল।
নবনব অনুরাগে,                                  বেড়িল গোপিনী ভাগে,
ভূঙ্গে যেন বেড়িল কমল॥
শিশুগণে ধাই ধাই,                                   সম্বোধিয়া ভাই ভাই,
হাম্বারবে গাভী বত্স ফেরে।
দ্বিজ মাধব কহে,                                      দেবগণ রহি চাহে,
পুরীখণ্ড কালিদহ আরে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নহে তীর্থ জলময় দরশনে পাপক্ষয়
ভণিতা - দ্বিজ মাধব
কবি মাধব আচার্য
আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা
রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী
১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২৮৬-পৃষ্ঠা।

॥ ধানশী রাগ॥

নহে তীর্থ জলময়,                                   দরশনে পাপক্ষয়,
বহে দেবশিলা মূর্ত্তিময়ী।
এই সব দিনে দিনে,                                বেদবিধি নিষেবণে,
তুমিত বিলাসকারী হই॥
শুন শুন যেবা হয়,                                     ভুবনে সাধুজন,
দরশনে পতিত পাবন॥ ধ্রু॥
আঁখি ভরি সব তারা,                              মুরলীর শূন্য ধারা,
বাণী শুনে সব ভেদকারী।
না করি সেবন জ্ঞান,                                যেন বিধি দরশন,
ক্ষেণেকে ক্ষেণেকে জ্ঞানহারী॥
যাহার এ ধাতু কায়,                                শ্রবণে বন্দিত হয়,
সুত দারে হয় সমবন্ধী।
তীর্থবুদ্ধি হয় জলে,                               মিথ্যা বুদ্ধি ধীরকুলে,
সেই গোক্ষুরের হয় শুদ্ধি॥
দ্বিজ মাধবের বাণী,                                  শ্রীভাগবত জানি,
সোঙরণে অক্ষত বিনাশিনী।
শ্রীচৈতন্য গুণ,                                           পাপ বিনাশন,
ক্ষেমব সে প্রকাশ অবনী॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হাটে বাটে সব শুনি একরব
ভণিতা - দ্বিজ মাধব
কবি মাধব আচার্য
আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা
রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী
১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২১-পৃষ্ঠা।

গোপীগণের আনন্দ-প্রকাশ।
॥ সিন্ধুড়া রাগ॥

হাটে বাটে সব,                                  শুনি একরব,
নৃত্য গীত জয়ধ্বনি।
শঙ্খ মৃদঙ্গ,                                  বীণা বেণী দুন্দুভি,
ঘন ঘন ধ্বনি শুনি॥
আজু যশোদা,                                    পুত্র প্রসবিল,
সুখ পাইল শুনিয়া।
শ্রবণে নয়নে,                                 দ্বন্দ্ব দূরে যাউক,
চল দেখি আসি গিয়া॥
বুঢ়া বয়সে,                                          নন্দঘোষে,
দেখিল পুত্রের মুখ।
প্রাণ ধন জন,                                     সকল সফল,
খণ্ডিল সকল দুখ॥
নিজ ঘরে যেন,                                   হৈল উপপদ্ম,
হেন লয় মোর মনে।
কি আর বিলম্ব,                                    কর সখগণ,
সফল হইল নয়নে॥
গোপ-কন্যাগণ,                                   হয়্যা একমন,
কৌতুকে আবাল বৃদ্ধা।
দ্বিজমাধব কহে,                            প্রভুর উত্সব হয়ে,
কাহার মনে নাহি শ্রদ্ধা॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যমুনার মাঝে আসি কাঁপাইল নায়
কবি দ্বিজ মাধব
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১৪৫-পৃষ্ঠা। পদটি তিনি পেয়েছিলেন বাঁকুড়ার পুথি থেকে।

.        ॥ ভাটিয়ারী॥

যমুনার মাঝে আসি কাঁপাইল নায়।
কেরোয়াল ছাড়ি কৃষ্ণ মুরলী বাজায়॥
এক-ভিত হয়্যা নাচে দেয় করতালি।
বাহ বাহ বলি হাসে দেব বনমালী॥
তা দেখিয়া গোপীগণের ভয়ে প্রাণ কাঁপে।
কক্ষা কর রক্ষা কর উচ্চ-স্বরে ডাকে॥
আকুল হইয়া দ্বিজ মাধবেতে গায়।
ভাল সময় পায়্যা নায়্যা মুরলী বাজায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ভাটিয়ারী॥

যমুনার মাঝে আসি কাঁপাইয়া নায়।
কেরোয়াল ছাড়ি কৃষ্ণ মুরলী বাজায়॥
একভিত হয়্যা নাচে দেয় করতালি।
বাহ বাহ বলি হাসে দেব বনমালী॥
তা দেখিয়া গোপীগণের ভয়ে প্রাণ কাঁপে।
কক্ষা কর রক্ষা কর উচ্চস্বরে ডাকে॥
আকুল হইয়া দ্বিজ মাধবেতে গায়।
ভাল সময় পায়্যা নায়্যা মুরলী বাজায়॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর