সতীশচন্দ্র রায়ের হিন্দী সাহিত্য -                                                     পাতার উপরে . . .    
শেষ জীবনে তিনি পদাবলী সাহিত্যের আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে হিন্দী সাহিত্যের আলোচনায় নিযুক্ত ছিলেন।
সংস্কৃতে অসাধারণ জ্ঞান ছিলো বলে তাঁর পক্ষে হিন্দী সাহিত্য অধ্যয়ন এবং সেই ভাষায় মৌলিক গবেষণা-
পূর্ণ রচনা লিখতে তিনি সক্ষম হয়েছিলেন। প্রয়াগের হিন্দী-সাহিত্য-সম্মেলনের মুখপত্র “সম্মেলন পত্রিকা”,
লক্ষ্ণৌর “সুধা”, এলাহাবাদের “মনোরমা”, বিহারের “বালক”, মুজঃফরপুরের “লেখমালা”, ইন্দোরের “বীণা”
এবং কলকাতা থেকে প্রকাশিত “বিশাল ভারত” প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর লেখা হিন্দী ভাষায় প্রবন্ধ ছাপা হয়।
হিন্দী রচনার মধ্যে সুধা পত্রিকায় প্রকাশিত “বঁগলা সাহিত্য কে ক্রম বিকাস কা দিগ্দর্শন”, সম্মেলন পত্রিকায়  
প্রকাশিত “অলংকার ঔর কবিতা” প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ। কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত “কমলা”
মাসিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে লেখেন “
মহাকবি সুরদাসের পদাবলী”। ১৩৩২ বঙ্গাব্দে (১৯২৫) সাহিত্য
পরিষৎ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর “হিন্দী সাহিত্যে বিহারীলালের সতসঈ” নামক সুবিস্তৃত প্রবন্ধে তিনি
কবি  
বিহারীলালের সতসঈ কাব্য ও পণ্ডিত পদ্মসিংহ শর্ম্মা কর্ত্তৃক সম্পাদিত উক্ত কাব্যের প্রসিদ্ধ-সংস্করণের
বিশদরূপে আলোচনা করেন।

তিনি প্রয়াগের হিন্দী সাহিত্য সম্মেলনের একজন স্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ভরতপুরে হিন্দী
সাহিত্য সম্মেলনের অধিবেশনে যোগদান করে “বিদ্যাপতি কে উপর হিন্দী সংসার কা অনাদর ঔর উসকা
সংশোধন” শীর্ষকমৌলিক গবেষণা পত্র পাঠ করেছিলেন। ইংল্যাণ্ডের “চওশার সোসাইটি” বা “শেকস্পিয়ার
সোসাইটি”-এর মতো তাঁর ইচ্ছা ছিল ভারতেও একটি “বিদ্যাপতি সঞ্জীবনী সমিতি” তৈরী করার।  
বিদ্যাপতির উপর হিন্দী ভাষায় তাঁর বহু প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি সতীশচন্দ্র রায়ের কবিতা আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে  এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।



কবি সতীশচন্দ্র রায়ের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।      


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১২.৭.২০১৭
পরিবর্ধিত সংস্করণ - ১৪.১১.২০১৭
...       
সতীশচন্দ্র রায়
১লা কার্ত্তিক ১২৭৩ - ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৮
১৭ অক্টোবর ১৮৬৬ - ১৯ / ২৯ মে ১৯৩২
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু এবং পদরসসার     
তিন জন সতীশচন্দ্র রায়   
প্রথম সতীশচন্দ্র রায় ও রবীন্দ্রনাথ   
সতীশচন্দ্র রায়ের বাংলা রচনা সম্ভার ও সাহিত্য যজ্ঞ   
সতীশচন্দ্র রায়ের হিন্দী সাহিত্য  
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
*
*
*
*
<< কবির ছবিটি পেয়েছি শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ড থেকে
সতীশচন্দ্র রায় নামের দুজন কবি পাই। প্রথম সতীশচন্দ্র জন্মগ্রণ করেন
১৭. ১০. ১৮৬৬ তারিখে। দ্বিতীয় সতীশচন্দ্র জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮২ সালে।
এই পাতা প্রথম সতীশচন্দ্র রায়ের কবিতার পাতা
দ্বিতীয় সতীশচন্দ্রের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন
কবি সতীশচন্দ্র রায় - আনুমানিক ১৭৫০ সালে, পদকর্তা বৈষ্ণদাস সংকলিত ও বিরচিত, ৩১০১টি
পদবিশিষ্ট, “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” নামের সর্ববৃহৎ বৈষ্ণব পদাবলীর সংকলনের সম্পাদক। তাঁর নিজের রচিত
কোনো বৈষ্ণব পদাবলী আমরা এখনও পাই নি। তবুও, আমরা তাঁর রচিত কবিতার পাতা, বৈষ্ণব  
পদাবলীর সূচীতেও রাখছি কারণ তাঁকে ছাড়া বাঙালীর, বৈষ্ণব পদাবলীর প্রাপ্তিসংখ্যা অর্ধেকেরও কম হয়ে
যেতো। তাঁকে বাদ দিয়ে বৈষ্ণব পদাবলীর কথা ভাবা যায় না। আধুনিক যুগে, বৈষ্ণব পদাবলীকে বাঙালীর
হৃদয়ে পৌঁছে দেবার তিনি অন্যতম ভগীরথ! তিনি তাঁর জীবনের প্রায় ৪০ বছর, কেবল বৈষ্ণব পদাবলীর
চর্চা, অধ্যয়ন, গবেষণা, সম্পাদনা ও প্রকাশনা করে অতিবাহিত করেছেন।

তিনি জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার ঢাকা জেলার নারায়ণগঞ্জ মহকূমার ধামগড় গ্রামের ব্রাহ্মণ জমিদার
বংশে।

স্কুলের পড়া ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে শেষ করে ঢাকা কলেজ থেকে এফ.এ.
(First Arts) পাশ করে
কলকাতার জেনারেল অ্যাসেম্বলি ইনস্টিটিউট থেকে সংস্কৃতে অনার্স নিয়ে প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান
অধিকার করে স্নাতক হন। এর পর তিনি কলকাতার সংস্কৃত কলেজ থেকে এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম স্থান
অধিকার করে সোণামণি বৃত্তি লাভ করেন।

এম.এ. পাশ করার পরে কিছুদিন তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজে সংস্কৃতের অধ্যাপকের কাজ করেন।  
পড়াশুনা ও গবেষণার পক্ষে ঐ চাকরি অন্তরায় হয়ে উঠছিল বলে তিনি চাকরিটি ছেড়ে দেন। বৈষ্ণব  
পদাবলীর চর্চা, অধ্যয়ন ও গবেষণায় জীবনের ৪০ বছর তিনি ব্যয় করেন যা নিঃসন্দেহে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
তিনি একজন সুনিপুণ ভাষাতত্ববিদ্ ছিলেন। সংস্কৃত, প্রাকৃত, হিন্দী, মৈথিল, উর্দ্দূ এবং অল্প-বিস্তর ফার্সী,
গুজরাটী ও ওড়িয়া ভাষা তিনি জানতেন। যোগেশচন্দ্র রায়ের “বাঙ্গালা শব্দকোষ” এবং বসন্তরঞ্জন রায়
বিদ্বদ্বল্লভের “শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের” সমালোচনায় তিনি তাঁর ভাষাতত্বজ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিযদের সহ-সভাপতি হয়েছিলেন ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে (১৯৩০ খৃষ্টাব্দ)। সঙ্গীতশাস্ত্রেও তিনি
পারদর্শী ছিলেন। মৃদঙ্গ ও তবলাবাদক হিসেবেও তাঁর খ্যাতি ছিল।
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু এবং পদরসসার -                                                    পাতার উপরে . . .    
তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি অবশ্যই আনুমানিক ১৭৫০ সালে,
পদকর্তা বৈষ্ণদাস সংকলিত ও  বিরচিত,
৩১০১টি পদবিশিষ্ট, শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের সম্পাদনা। এই কাজটি তিনি আসলে দুইবার সম্পন্ন করেন!
প্রথমবার ১৩০৪ বঙ্গাব্দে ( ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দ ), কলকাতার ভারত-গ্রন্থ-প্রচার-সমিতির তরফে
(Indian Publication
Society)
, প্রাচীন পুথি থেকে শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর একটি সংস্করণ প্রকাশ করেন। এরপর বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
থেকে তিনিই সম্পাদন করেন শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর সটীক সংস্করণ, পাঁচ খণ্ডে। এই গ্রন্থের প্রকাশনার সময়কাল
ছিল ১৩২২ - ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ ( ১৯১৫ - ১৯৩১ খৃষ্টাব্দ )। এছাড়া তিনি ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে (১৯২৬ সালে) প্রকাশিত
করেন ৬২৩টি পদ ও শব্দসূচী বিশিষ্ট, “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” সংকলন। এই বইটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
কর্ত্তৃপক্ষ তাঁদের বি.এ. শ্রেণীর তালিকাভুক্ত করেছিলেন।  

শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর কাজ করার সময়, উনবিংশ শতকে সংকলিত, ১৭০০ পদ বিশিষ্ট,
নিমানন্দ দাসের
“পদরসসার” পুথিটি তিনি, পুথির মালিকের কাছ থেকে এই শর্তে পেয়েছিলেন যে তিনি অল্পদিনের মধ্যেই
পুথির কাজ শেষ করে ফেরত দিয়ে দেবেন। কিন্তু পুথিটি পদে পদে কাজে লাগবে জেনে তিনি তাঁর মুক্তার
ন্যায় হস্তাক্ষরে পুথিটি নকল করে রাখেন একটি বাঁধানো খাতায়। পুথিটি ফেরত দিয়ে আসার  কয়েক
বছরের মধ্যেই মালিকের কাছ থেকে পুথিটি চুরি যায় এবং সম্ভবত চিরদিনের জন্য তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
সতীশচন্দ্রের হাতে লেখা অনুলিপিটি তাঁর মৃত্যুর পরে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের হাতে তুলে দেওয়া হয়
সংরক্ষণের জন্য।    
মিলনসাগরে তিন জনের মধ্যে দুই সতীশচন্দ্র রায়ের কবিতা -                   পাতার উপরে . . .   
এই নামে তিনজন মনীষীকে আমরা পাই। তাঁদের মধ্যে,
তৃতীয় সতীশচন্দ্র রায় ( ২৪.৫.১৯৮৮ - ১৯.৪.১৯৬০ )
ছিলেন শ্রীহট্টের শিক্ষাবিদ। তিনি শেষ জীবনে হরিদাস নামানন্দ নামে সাধক হয়ে গিয়েছিলেন। কর্মজীবনে
তিনি লাহোর, ঢাকা, কলকাতা (সিটি কলেজ), শ্রীহট্ট, গৌহাটি প্রভৃতি স্থানের বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা
করেছেন। তাঁর রচনাসম্ভারে, ভগবদ্গীতার ব্যাখ্যা সহ বিভিন্ন ধর্ম-ভিত্তিক গ্রন্থের উল্লেখ থাকলেও, তাঁর  
কোনো কাব্যগ্রন্থ ছিল কি না সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। যে কবিতা আমরা এই পাতায়
প্রকাশিত করছি, সেই কবিতা তিনিই যে লেখেন নি, এ কথা আমরা জোর দিয়ে বলতেও পারছি না। কিন্তু
প্রাপ্ত তথ্য সেই দিকেই নির্দেশ করছে। তাই মিলনসাগরে এঁর কোনো কবিতার পাতা নেই।

দ্বিতীয় সতীশচন্দ্র রায় ( ১৮৮২ - ১৯০৪ ), ছিলেন রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্য লাভ করা পদ্য ও গদ্যকার। এপ্রিল
১৯০৪ এর “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় ( বৈশাখ ১৩১১ সংখ্যা ) “স্বর্গীয় সতীশচন্দ্র রায়”-এর দুটি কবিতা প্রকাশিত
হয়েছিল ঠিক তাঁর মৃত্যুর পরেই। তাই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ১৯০৪ সালের পূর্বে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায়
নামের কবির কবিতা আমরা বাদ দিয়ে দিয়েছি। কারণ যেটুকু তথ্য আমাদের কাছে রয়েছ তার  উপর
ভিত্তি করে, ওই কবিতা, কোন্ সতীশচন্দ্রের, তা এখন আর আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব হবে না।  
দ্বিতীয় সতীশচন্দ্র রায়ের কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .

আমরা, ১৯০৪ সালের অনেক পরে, বিজয়চন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত “বঙ্গবাণী” পত্রিকায় প্রকাশিত (১৯২৫
সালে), সতীশচন্দ্র রায়ের মাত্র দুটি কবিতাকে এখানে তুলেছি শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর সম্পাদক, সতীশচন্দ্র রায়ের
কবিতা হিসেবে। ইনি আমাদের
প্রথম সতীশচন্দ্র রায়।  

প্রথম সতীশচন্দ্র রায় - মিলনসাগরে যাঁকে আমরা প্রথম কবি সতীশচন্দ্র রায় বলে সম্বোধন করেছি, তিনি
ছিলেন পদকর্তা বৈষ্ণদাস সংকলিত ও বিরচিত, ৩১০১টি পদবিশিষ্ট, “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” নামের সর্ববৃহৎ
বৈষ্ণব পদাবলীর সংকলনের সম্পাদক। শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর জীবনীতে রয়েছে যে,
তিনি
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের মৃত্যু উপলক্ষ্যে, “দেশবন্ধু প্রশস্তিঃ” নামে একটি শ্লোক লিখে তাঁর হিন্দী পদ্যানুবাদ
সহ মহাত্মা গান্ধীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। ঠিক ওই সময়কালে, বঙ্গদর্শন পত্রিকার শ্রাবণ ১৩৩২ (অগাস্ট
১৯২৫) সংখ্যায় প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায়ের লেখা,  দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন কে উত্সর্গ করা  “শ্রদ্ধাঞ্জলি” নামের
একটি কবিতা, আমরা পেয়েছি। এই কবিতাটি
দ্বিতীয় সতীশচন্দ্র রায়ের পক্ষে লেখা সম্ভব  নয় কারণ  তিনি
তার ২১ বছর আগেই পরলোক  গমন  করেছিলেন। যিনি
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের মৃত্যুতে, সংস্কৃতে ও হিন্দীতে
কবিতা লিখে মহাত্মা গান্ধীকে পাঠাতে পারেন, তিনি বাংলা ভাষায়, একই বিষয়ে একটি কবিতা লিখে
সেকালের সম্ভ্রান্ত পত্রিকা “বঙ্গবাণী”-তে পাঠিয়েছেন, এতে বিস্মিত হবার মতো আমরা কিছুই দেখছি না।   
সতীশচন্দ্র রায়ের বাংলা রচনা সম্ভার ও সাহিত্য যজ্ঞ -                        পাতার উপরে . . .    
সতীশচন্দ্র রায়, সংস্কৃত ও বাংলার একজন সুকবি ছিলেন এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্কৃতে সুন্দর
শ্লোক রচনা করিতে পারিতেন। তাঁর রচনাসম্ভার বিশাল।

কলেজ শেষ করে তিনি মহাকবি কালিদাসের “মেঘদূত” কাব্যের পদ্যানুবাদ করেন। এর পর তিনি   
জয়দেবের “গীতগোবিন্দ”  ও “রসমঞ্জরী”-এর পদ্যানুবাদ প্রকাশিত করেছিলেন। ইংরেজী সাহিত্যের Goethe
Shelley-র কয়েকটি গীতি-কবিতা ও Milton-এর “On his Blindness” নামক প্রসিদ্ধ সনেটের  তিনি
পদ্যানুবাদ করেন, যা তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয় নি। ময়ূরভট্টের “সূর্য্য-শতক” কাব্যের, “সরলা” নামের
একটি অতি প্রাঞ্জল সংস্কৃত টীকা সহ, পদ্যানুবাদ, প্রকাশ করতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু তা মাঝ পথে থেমে
যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরোধে তিনি ভবানন্দ-রচিত হরিবংশ নামক প্রাচীন কাব্য সম্পাদনা করেন। মৃত্যুর
অল্প কয়েক বছর আগে তিনি ঢাকা-মিউজিয়ামের, নলিনীকান্ত ভট্টশালীর বিশেষ আগ্রহে তাঁর নিজের  
সংগৃহীত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুখিশালা থেকে প্রাপ্ত প্রায় ১৫টি প্রাচীন, হাতে লেখা পুথি, মিলিয়ে  
“গোপালচরিত” নামক একটি সংস্কৃত কাব্য, সম্পাদন করে গিয়েছেন। এই “গোপালচরিত” কাব্যের রচয়িতা
কে তা নিঃসন্দেহে বলা যায় না। কোন কোন প্রাচীন পুথিতে
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে এই “গোপালচরিত”-এর
গ্রন্থকার বা রচয়িতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।  এ  ছাড়া তাঁর  সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “নায়িকা-
রত্নমালা”।
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*
সতীশচন্দ্র রায় ও রবীন্দ্রনাথ -                                                        পাতার উপরে . . .   
রবীন্দ্রনাথ নিজে, মাত্র ২৪ বছর বয়সে, পদকর্তা বলরাম দাসের উত্তরসূরী, বিমানবিহারী মজুমদারের পিতা
শ্রীশচন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে মিলে, ১৮৮৫ সালে, "পদরত্নাবলী" নামের একটি বৈষ্ণব পদাবলীর সংকলন
প্রকাশিত করেছিলেন। সতীশচন্দ্র রায়কে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বৈষ্ণব সাহিত্যের একজন যথার্থ রসগ্রাহীরূপে,
শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। রবীন্দ্রনাথ, সতীশচন্দ্রর থেকে মাত্র চার বছরের বড় ছিলেন। একটি চিঠিতে
রবীন্দ্রনাথ তাঁকে লেখেন . . .

আপনার সম্পাদিত ‘অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী’ উপহার পাইয়া কৃতজ্ঞ হইলাম। বৈষ্ণবসাহিত্য প্রকাশ কার্য্যে
আপনার অধ্যবসায়, গবেষণা ও নৈপুণ্য বঙ্গসাহিত্যের প্রভূত উপকার করিয়াছে। এ সম্বন্ধে আপনার কৃতিত্ব
সাহিত্যরসিক মাত্রেই স্বীকার করিবেন
।”---পদরত্নাবলী, পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, গ্রন্থপ্রসঙ্গ, ১৪২৩ (২০১৬)