কবি রাসসুন্দরী দেবীর কবিতা ও গীত
*
মঙ্গলাচরণ
কবি রাসসুন্দরী দেবী
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, তাঁর গ্রন্থের প্রথম সংস্করণের শুরু এই কবিতাটি দিয়ে করেছিলেন।


বন্দে সরস্বতী মাতা,                        তুমি বল বুদ্ধিদাতা,
গন্ধর্ব্ব কিন্নর তব বাধ্য।
সদয় হইয়া মনে,                              বৈস মম হৃদাসনে,
প্রণমিব পদে যথাসাধ্য॥
অবোধ অবলা কন্যা,                        নিজগুণে কর ধন্যা,
যাতে মম পুরে অভিলাষ।
এই আশা করি মনে,                        তব প্রিয়পতি সনে,
আমার কণ্ঠে কর বাস॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কোথা বাঞ্ছাকল্পতরু প্রভু বিশ্বেশ্বর
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ভাগের প্রথম রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয়
১২৭৫ বঙ্গাব্দে (১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে
(১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন” এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী,
প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


.                জীবন-চরিত

কোথা বাঞ্ছাকল্পতরু প্রভু বিশ্বেশ্বর।
হৃদয়ে বসিয়া মম বাঞ্ছা পূর্ণ কর॥
অজ্ঞান অধম আমি তাহে নারী ছার।
তব গুণ বর্ণিবারে কি শক্তি আমার॥
তবু তব কীর্ত্তন করিতে সাধ মনে।
রাসসিন্দরীকে দয়া কর নিজগুণে॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ধন্য ধন্য প্রভু তুমি ধন্য ত্রিভূবনে
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ভাগের দ্বিতীয় রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয়
১২৭৫ বঙ্গাব্দে (১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে
(১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন” এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী,
প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


ধন্য ধন্য প্রভু তুমি ধন্য ত্রিভূবনে।
কত ধন্যবাদ দিব এ এক বদনে॥
ধন্য তব দয়া, ধন্য নিয়ম তোমার।
ধন্য তুমি মায়ারূপে বেপেছ সংসার॥
ধন্য তব অপরূপ সৃষ্টি মনোহারী।
ধন্য তব কৌশলের যাই বলিহারি॥
ধন্য এই চন্দ্র সূর্য্য ধন্য বসুমতী।
ধন্য পশু পক্ষী ধন্য বৃক্ষ বনস্পতি॥
কত মনোহর রূপে পৃথিবী উজ্জ্বল।
তাহে পবনের গতি অতি সুশীতল॥
সুরধুনি-প্রবাহিনী নদী শত শত।
সৌরভ-বাহিনী কত বর্ণিব বা কত॥
রাসসুন্দরীর জন্ম ধন্য করি গণি।
শ্রবণে পরশে তব নামামৃত-ধ্বনি॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমি অতি মূঢ়মতি, না জানি ভকতি স্তুতি
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ভাগের তৃতীয় রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


আমি অতি মূঢ়মতি,                         না জানি ভকতি স্তুতি
বিষন্ন বিষেতে জরা মনে।
তাহাতে শকতিহীন,                           মৃত্যু প্রায় নিশিদিন,
আছি নাথ তব অদর্শনে॥
লজ্জা ভয় অঙ্গ দয়,                                 বিবন্ধ দয়াময়,
কি করিব না করি উপায়।
অধিনীর অনুরোধে,                             ত্বরায় প্রকাশ হৃদে,
কৃপা করি ওহে দয়াময়॥
করুণার কল্পতরু,                                কৃপাসিন্ধু বিশ্বগুরু,
কর দৃষ্টি করুণা নয়নে।
অকূল তরঙ্গে পড়ি,                            ভাসিছে রাসসুন্দরী,
তোমার চরণ-তরি বিনে।

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওহে প্রভু বিশ্বেশ্বর, বিশ্বব্যাপী বিশ্বম্ভর
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ভাগের চতুর্থ রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


ওহে প্রভু বিশ্বেশ্বর,                           বিশ্বব্যাপী বিশ্বম্ভর
বিশ্বের ঈশ্বর বিশ্বময়।
জননীর কোল ত্যজি,                        অতিশয় দুঃখে মজি,
তোমারে ডাকি হে পেয়ে ভয়॥
বন্ধুগণ অদর্শনে,                              অধৈর্য্য হয়েছি মনে,
আশঙ্কায় কাঁপিছে হৃদয়।
কেঁদেছি জননী বোলে,                      আপনি নিয়াছ কোলে,
তোমারে ডেকেছি অবিশ্রাম।
অম্নি এসে কোলে করি,                          নিবারি নয়নবারি,
পূর্ণ করিয়াছ মনস্কাম॥
সঙ্গে সঙ্গে আছ সদা,                          পড়িলে বিপদে কদা,
হস্ত ধরি করেছ উদ্ধার।
অতূল করুণা তব,                           ভুলিয়া আছি সে সব,
ধিক্ ধিক্ জীবন আমার॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জন্মিয়া ভারত ভূমে, মজিয়া মোহের ঘুমে
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ভাগের ষষ্ঠ রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


জন্মিয়া ভারত ভূমে,                          মজিয়া মোহের ঘুমে
হেলায় হারাই চিরদিন।
না পাই উপায় তার,                           কোথা প্রভু বিশ্বাধার,
দয়া কর আমি হে সুদীন॥
তুমি প্রভু বিশ্বময়,                              তোমাতে প্রলয় লয়,
শুদ্ধ তত্ত্ব কে জানে তোমার।
কি করিব বরণন,                                   পঞ্চমুখে পঞ্চানন,
অনন্ত না পান অন্ত যাঁর॥
আগম নিগম যত,                               কোরাণ পুরাণ কত,
করে তব তত্ব নিরূপণ।
কিন্তু কি জানিবে তারা,                      তোমার কৌশল ধারা,
শুদ্ধ তত্ত্ব জানে কোন জন॥
চরাচর ত্রিসংসারে,                        কে তোমা জানিতে পারে,
তুমি নাহি জানালে আপনি।
আমি কোন শক্তি ধরি,                      তোমাকে জানিতে পারি,
তাহে ছার অবলা রমণী॥
সত্ত্বারূপে অহরহ,                                  সর্ব্বস্থলে তুমি রহ,
এই মনে ভরসা আমার।
দিয়াছি চরণে ভার,                             কর বা না কর পার,
জানা যাবে মহিমা তোমার॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কোথা রৈলে দীননাথ ওহে দয়াময়
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ভাগের সপ্তম রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


কোথা রৈলে দীননাথ ওহে দয়াময়।
হের দুঃখিনীর দুঃখ হইয়া সদয়॥
করুণাসাগর পিতা করুণানিধান।
এ দুঃখ সাগর হ’তে কর পরিত্রাণ॥
বিষয় বিষেতে মোর জেগেছে হৃদয়।
তোমারে ভুলিয়া আছি কি হবে উপায়॥
অনাথ নিতান্ত আমি কে করে সান্ত্বনা।
তোমা বিনা কে জানিবে মনের যন্ত্রণা॥
আমার যে অপরাধ সংখ্যা নাহি তার।
জানিতে পারি না কিসে হব ভব পার॥
দেখিতেছি তব দয়া অসীম অতুল।
ভরসা হতেছে তাই পাব বুঝি কূল॥
কিন্তু হায় যখন ভাবিয়া দেখি চিতে।
জানি না সরল মনে তোমারে ডাকিতে॥
তখন হৃদয় হ’য়ে চিন্তাই প্রবল।
আমারে করে হে নাথ নিতান্ত বিহ্বল॥
অকূল সমুদ্রে হেরি বিষাদিত মন।
রক্ষা কর এ বিপদে বিপদভঞ্জন॥
থাকিতে তুমি হগো পিতা ডাকিব কাহারে।
কাহারি বা সাধ্য আছে রক্ষা করিবারে॥
দয়াময় নাম তব দয়ার সাগর।
তবে কেন দুঃখে এত হয়েছি কাতর॥
বলবুদ্ধিহীন আমি না সরে বচন।
তরঙ্গে তরণী হয়ে দেহ দরশন॥
সহে না সহে না নাথ বিলম্ব সহে না।
রাসসুন্দরীর দুঃখ হেরি প্রকাশ করুণা॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তুমি জীবনের কান্ত, তুমি আদি তুমি অন্ত
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ভাগের অষ্টম রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


তুমি জীবনের কান্ত,                         তুমি আদি তুমি অন্ত,
অন্তরাত্মা জানহ সকল।
মনে যদি থাকে ছল,                          হাতে হাতে দাও ফল,
ফলদাতা তুমি হে কেবল॥
কে আর আছে এমন,                        তোমা বিনা অন্য জন,
কে জানিবে মনের বেদনা।
বিশেষ বলিব কত,                            জানিতেছ তুমি নাথ,
করিও না এতে প্রবঞ্চনা॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওহে প্রভু কৃপাসিন্ধু, অনাথ জনের বন্ধু
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ভাগের নবম রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


ওহে প্রভু কৃপাসিন্ধু,                             অনাথ জনের বন্ধু
অখিলের বিপদভঞ্জন।
ডাকিতেছি প্রাণপণে,                        শুনে কি শুন না কানে,
বধির হয়েছে কি করণ॥
তোমার পালিত সৃষ্টি,                            একবার কর দৃষ্টি,
আছি নাথ চাতকিনী প্রায়।
জানিয়া মনের কথা,                            কেন কর কপটতা,
আর কত জানাব তোমায়॥
নির্দ্দয় দুর্জ্জন জনে,                            স্মরণ করিলে শুনে,
তুমি নাথ দয়ার সাগর।
আমি নারী পরাধীনা,                        তাতে পুনঃ শক্তিহীনা,
কৃপণতা আমারি উপর॥
এই চরাচরে কত,                           আছে পাপী শত শত,
মুক্তিপদ পাইবে সকলি।
ছাড়ি এ অবলা জনে,                           উদ্ধারিবে জগজনে,
দেখিব কেমন ঠাকুরালী॥
তুমি ব্রহ্মাণ্ডের পতি,                           পতিত জনের গতি,
নাম ধর পতিতপাবন।
রাসসুন্দরীর হাতে,                           পারিবে না ছাড়াইতে,
দিতে হবে অভয়চরণ॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওহে মন ভোলা, হইয়া বিভোলা
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ভাগের দশম রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


ওহে মন ভোলা,                         হইয়া বিভোলা
ভুলিয়া রয়েছ কিসে।
বিভবেতে পশি,                            মধুর কলসী,
জারিছে দুষ্কৃতি বিষে॥
যদি পড়ে খসি,                         কেন রৈলে বসি,
তখন কি হবে বল।
ভাঙ্গিল এ মেলা,                        আর নাহি বেলা,
পসার তুলিয়া চল॥
ভবের বাজারে,                         বাণিজ্যের তরে,
এসেছিলে তুমি বটে।
ঘিরিয়া সঘনে,                           আছে দস্যুগণে,
কখন কি জানি ঘটে॥
মহাজনের মাল,                           রাখ কত কাল,
হিসাব করিতে হবে।
হুঁসিয়ারে থেকো,                       তিলে তিলে জেগ,
নিতে না পারে ঐ সবে॥
বাছিয়া কিনিতে,                          দর বুঝে নিতে,
দিবস হইল শেষ।
রাসসুন্দরী মত,                        আছে যে কিঞ্চিত,
লয়ে চল নিজ দেশ॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর