| কবি রাসসুন্দরী দেবীর কবিতা ও গীত |
| নাথ হে জানাব কত, দীনের দিন তো গত কবি রাসসুন্দরী দেবী “আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ভাগের দ্বাদশ রচনার প্রারম্ভ। কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে (১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন” এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন। নাথ হে জানাব কত, দীনের দিন তো গত মনের আক্ষেপ রৈল মনে। কত সাধনার কর্ম্ম, মনুষ্য দুর্ল্লভ জন্ম, গত হ’ল নিদ্রায় সঘনে॥ হায় রে দারুণ মোহ, কেন বা করিলি দ্রোহ নিদ্রা হ’তে না দাও চেতন। তোর সনে কিবা বাদ, কেন ঘটাও এ বিষাদ, শত্রুতা করিলি কি কারণ॥ এ শত্রুতা তোমা সনে, স্বপ্নেও না ভাবি মনে, জানি তুমি পরম বান্ধব। পাতিয়া মায়ার জাল, মুগ্ধ রাখ এত কাল, এখন তা ব্যক্ত হ’ল সব॥ এসে পিতা দয়াময়, ডেকে ডেকে ফিরে যায়, রেখেছিলি এ মোহ বন্ধনে। এ দেহে পেলাম নারে, আর কি পাইব তাঁরে, ধিক্ ধিক্ ধিক্ এ জীবনে॥ সদানন্দ মহানন্দ পেয়ে যার দল। অবধান করিবে পেয়ে যার ফল॥ ভদ্র কুলোদ্ভবা আমি বিশেষ অবলা। বিষয় কর্ম্মেতে মগ্ন সদা মনভোলা॥ নাহি জানি ভাল মন্দ মতামত যত। পিঞ্জরেতে বন্দী আছি বনপশু মত॥ মনের আক্ষেপ হেতু লিখি কোন মতে। বলিব কি বর্ণজ্ঞান শূন্য এ জগতে॥ সাধু জন নিকটেতে করি পরিহার। দোষ ক্ষমা করি গুণ করিবে প্রচার॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জগতের প্রাণধন, বিশ্বব্যাপী নিরঞ্জন কবি রাসসুন্দরী দেবী “আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ভাগের ত্রয়োদশ রচনার প্রারম্ভ। কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে (১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন” এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন। জগতের প্রাণধন, বিশ্বব্যাপী নিরঞ্জন, বিশেষ প্রকাশ তুমি মানব-হৃদয় হে। তব গুণ প্রকাশিত, নাহি স্থান অবিদিত, তব দয়া ভুবন-ভূষিত দয়াময় হে॥ পাষাণ দুর্ম্মতি যারা, ফিরে শান্তি হয়ে হারা, তবু তব প্রেমনীর করে বরষণ হে। তুমি চৈতন্যের মূল, নাহি তব সমতুল, অকূলে পড়েছি নাথ, আমি অচেতন হে॥ ভবের তরঙ্ক-রঙ্গ, হেরিয়ে কাঁপিছে অঙ্গ, এ সময় কোথা প্রভু দয়ার সাগর হে। ডাকিতেছি সকাতরে, প্রভু প্রেমরত্নাকরে, দুখিনীরে দুখার্ণবে, পতিত না কর হে॥ দেবঋষি বেদে কয়, তুমি দীনদয়াময়, দয়াময় নামে যেন কলঙ্ক না হয় হে। নামের কলঙ্ক আর, ভয়ান্বিত অবলার, রক্ষা হেতু ওহে নাথ করহ উপায় হে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তুই শমন কি করিবি জারি, তুই শমন কি করিবি কবি রাসসুন্দরী দেবী “আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ভাগের ষোড়শ রচনার প্রারম্ভ। কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে (১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন” এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন। তুই শমন কি করিবি জারি, তুই শমন কি করিবি, আমি কালের কাল কয়েদ করেছি। মন বেড়ি তার পায়ে দিয়ে, হৃদ্-গারদে বসায়েছি॥ শমন রে তুই যা রে ফিরি, হবে না তোর শমনজারী, আমি সদর দেওয়ানী আদালতে ডিগরিজারী ক’রে নিছি॥ মিছা কেন করিস লেঠা, মানি না তোর তলপচিঠা, আমি বাকীর কাগজ উসুল দিয়ে দাখিল ক’রে ব’সে আছি॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এস গো মা সরস্বতী পুরুক অভিলাষ কবি রাসসুন্দরী দেবী “আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের প্রথম রচনার প্রারম্ভ। কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে (১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন” এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন। এস গো মা সরস্বতী পুরুক অভিলাষ। নারায়ণ সঙ্গে আমার কণ্ঠে কর বাস॥ পতি সঙ্গে এস আমার হৃদ্ সিংহাসনে। পাদ স্পর্শে ধন্য হই জীবনে মরণে॥ প্রসন্ন বদনে বৈস হয়ে কুতূহলী। মানের সাধে যুগল পদে দিই পুষ্পাঞ্জলি॥ চৈতন্য-চরিত-সিন্ধু, তরঙ্গের এক বিন্দু, তার কণা লিখে কৃষেণদাস। রাসসুন্দরী মূঢ়মতি, তাহে শূন্য প্রেমভক্তি, যুগল-চরণ অভিলাষ॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাসের মন! বলি শোন্, পাগল হলি কি কারণ কবি রাসসুন্দরী দেবী “আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের তৃতীয় রচনার প্রারম্ভ। কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে (১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন” এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন। রাসের মন! বলি শোন্ , পাগল হলি কি কারণ, পাগলে কি জানে কোন ক্রম। সত্য ত্রেতা দাপর কলি, চার যুগেতে এলি গেলি, এখনও তোর ভাঙ্গলো নারে ভ্রম॥ যিনি জগৎ কারণ, বিশ্বব্যাপী নিরঞ্জন, সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় যাহাতে। নাই তাঁর স্থানাস্থান, আছেন তিনি সর্ব্বস্থান, অবিদিত নাই ত্রিজগতে॥ শুন মন বলি তাই, তাঁর পরে আর নাই, সেই বস্তু গোলোকের ধন। সেই হরি দয়াময়, বসাইয়া হৃদয়, জ্ঞান নেত্রে কর দরশন॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |