কবি রাসসুন্দরী দেবীর কবিতা ও গীত
*
হে প্রভু মদনগোপাল কাঙালের ঠাকুর
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের পঞ্চম রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয়
১২৭৫ বঙ্গাব্দে (১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে
(১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন” এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী,
প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


হে প্রভু মদনগোপাল কাঙালের ঠাকুর।
নির্ধনের ধন তুমি দয়ার সাগর॥
তুমি হে ব্রহ্মাণ্ডপতি পতিত পাবন।
পতিতের গতি তুমি ব্রহ্ম-সনাতন॥
ও পদ ভজনহীন আমি দুরাচার।
অধমতারণ নাম জানা যাবে এইবার॥
কখন কোথায় নাথ কোন্ ভাবে রহ।
কে তোমায় জানিতে পারে যদি না জানাহ॥
প্রেম নাহি, ভক্তি নাহি, শক্তি নাহি আর।
তোমাকে জানিতে নাথ কি সাধ্য আমার॥
তুমি প্রভু কর্ণধার জগতের গুরু।
মনোবাঞ্ছা পূর্ণ কর বাঞ্ছাকল্পতরু॥
যাগ যজ্ঞ তন্ত্র মন্ত্র কিছুই না জানি।
অন্যের অনেক আছে আমার কেবল তুমি॥
যাহা কিছু মুখে বলি যা ভাবি অন্তরে।
সকলি জানিবে তোমায় পাইবার তরে॥
ভজন জানি না হে পদ্মপলাশ-লোচন।
নিজগুণে রাসসুন্দরীরে দেও হে দর্শন॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তুমি নারায়ণ, লক্ষ্মীকান্ত, মাধব মধুসূদন
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের ষষ্ঠ রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয়
১২৭৫ বঙ্গাব্দে (১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে
(১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন” এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী,
প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


তুমি নারায়ণ, লক্ষ্মীকান্ত, মাধব মধুসূদন।
ভব পরাভব, অনন্ত অশক্ত, তব লীলা গুণ বর্ণন॥
তুমি গোবিন্দ, গৌরচন্দ্রস গোপাল গোবর্দ্ধন।
ভব পরাভব, অনন্ত অশক্ত, তব লীলা গুণ বর্ণন॥
তুমি রাধাবল্লভ, রাঘবকিশোর, রঘুবর রঘুনন্দন।
ভব পরাভব, অনন্ত অশক্ত, তব লীলা গুণ বর্ণন॥
তুমি যদিকুল ধন, যশোদা নন্দন, কৃষ্ণ কংসনাশন।
ভব পরাভব, অনন্ত অশক্ত, তব লীলা গুণ বর্ণন॥
তুমি শমন দমন, শ্রীশচী নন্দন, তুমি হে জগৎ জীবন।
ভব পরাভব, অনন্ত অশক্ত, তব লীলা গুণ বর্ণন॥
তুমি পরম ঈশ্বর, পিতাম্বর, পদ্মপলাশ-লোচন।
ভব পরাভব, অনন্ত অশক্ত, তব লীলা গুণ বর্ণন॥
তুমি বলিকে ছলিলে, তিন পদ দিয়া, করিলে দান গ্রহণ।
ভব পরাভব, অনন্ত অশক্ত, তব লীলা গুণ বর্ণন॥
রাসসুন্দরী অতি অধম দুর্ম্মতি, জানে না সাধন ভজন।
ভব পরাভব, অনন্ত অশক্ত, তব লীলা গুণ বর্ণন॥
আমায় করো না নিরাশ, ওহে শ্রীনিবাস, দিতে হবে রাঙ্গা চরণ

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
দেখতে এসে ভবের মেলা, দেখি সব মেলা মেলা
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের সপ্তম রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


দেখতে এসে ভবের মেলা,                    দেখি সব মেলা মেলা,
মনোহারি দোকান মেলা।
নানা রত্ন অলঙ্কারে,                           রাখিয়াছে থরে থরে,
সাজাইয়া রংমহলা।
আয়না চিরুণ মতির মালা,                  দোকান করেছে আলা,
তাই দেখে ভুললো নয়ন ভোলা।
সাধ ছিল বেঁধে ভেলা,                        পার হ’ব হেলে হেলা,
থাকিল তাহা মাধায় তোলা।
থাক্ তে পিতা কৃপাসিন্ধু,                   কিন্ তে এলাম রসসিন্ধু,
ঐ দোকানে তোলা তোলা।
রাসসুন্দরীর ভাগ্যগুণে,                    মন ভুলেছে ঐ দোকানে,
ধন খুঁজ্ তে গেল বেলা।

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওহে নাথ, জগৎ তাত, সুদর্শনধারী
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের অষ্টম রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয়
১২৭৫ বঙ্গাব্দে (১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে
(১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন” এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী,
প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


ওহে নাথ, জগৎ তাত, সুদর্শনধারী,
দাও দরশন হৃদয়-রতন হৃদি বেদনা নিবারি।
সদয় হৃদয়ে এসে হৃদি-সিংহাসনে,
মন-পুষ্প চন্দনেতে পূজিব চরণে।
তুমি হে মনের মন দেহের সারথী,
যেদিকে চালাও রথ তথা যায় রথী।
অনিত্য বাসনা দিয়া করো না বঞ্চন,
রাসসুন্দরীর যেন তব পদে রহে মন।

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
চলিতে শকতিহীন জীর্ণ কলেবর
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের নবম রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয়
১২৭৫ বঙ্গাব্দে (১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে
(১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন” এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী,
প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


চলিতে শকতিহীন জীর্ণ কলেবর।
দাঁড়াইলে চতুর্দ্দিকে দেখি অন্ধকার॥
সেই শরীরে অকস্মাৎ বিধ বিড়ম্বনা।
হস্ত পদ পূর্ব্বের মত চলিতে চাহে না॥
ক্রমে ক্রমে সময় মতে ওই দশা ঘটিল।
দশেন্দ্রিয় সঙ্গে ছিল সব ছেড়ে চলিল॥
লোভ বেটা ছাড়ে না সঙ্গ ঘটিয়াছে দায়।
উদর ভায়া ব্যকুল হয়ে সবার পানে চায়॥
কন্যারত্ন সযতনে নিযুক্ত সেবায়।
যখন যা প্রয়োজন সম্মুখে যোগায়॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওহে প্রভু বিশ্বব্যাপী, বিশ্বময় বিশ্বরূপী
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের দশম রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


সংসারযাত্রা


ওহে প্রভু বিশ্বব্যাপী,                             বিশ্বময় বিশ্বরূপী,
কত রূপে কত অবতার।
মহাদেবে করে মোহ,                        মোহিনী রূপেতে মোহ,
তব মায়া কে হইবে পার?
তুমি হে মনের মন,                               জানিছ সবার মন,
অগোচর নাহি চরাচর।
শিবভক্ত শিরোমণি,                           নিজ দাস মনে জানি,
আলিঙ্গিয়া হৈলে হরিহর॥
তুমি প্রভু গুণবন্ত,                           কে পায় তোমার অন্ত,
আদি অন্ত অনন্ত অব্যয়।
তুমি হে ত্রিলোকপতি,                          অর্জ্জুন রথে সারথী,
ভক্র স্থানে আছ পরাজয়॥
অন্যে কে জানিতে পারে,                ভক্ত জানে ভক্তির জোরে,
আছ ভক্ত হৃদি-সিংহাসনে।
রাসসুন্দরী পদাশ্রিত,                           করুণা কর কিঞ্চিত,
দাহ্যপদে রেখ হে চরণ॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রক্ষ হে পুণ্ডরীকাক্ষ রাক্ষসের রিপু
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের একাদশ রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয়
১২৭৫ বঙ্গাব্দে (১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে
(১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন” এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী,
প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


সংসারযাত্রা

রক্ষ হে পুণ্ডরীকাক্ষ রাক্ষসের রিপু।
নরসিংহরীপে বধ হীরণ্যকশিপু॥
নম প্রভু রামচন্দ্র রাজীব লোচন।
বামেতে জানকী দেবী দক্ষিণে লক্ষণ॥
দয়ার সাগর দীন দয়াময় নাম।
রঘুকুলোদ্ভব নব দুর্ব্বাদল শ্যাম॥
না জানি ভকতি স্তুতি আমি নারী ছার।
তব গুণ বর্ণিবার কি শক্তি আমার॥
তুমি হে দেবের দেব, দেব নারায়ণ।
তুমি ব্রহ্মা, তুমি বিষ্ণু, তুমি পঞ্চানন॥
তুমি ইন্দ্র, তুমি চন্দ্র, তুমি দিবাকর।
বাঞ্ছার বরণ তুমি, তুমি ধনেশ্বর॥
তপস্বীর তপ তুমি, মুনিগণের সিদ্ধি।
প্রলয় পালন তুমি, তুমি জলনিধি॥
তুমি সৃষ্টি, তুমি স্থিতি, তোমাতে প্রলয়।
সত্ত্ব রজঃ তম গুণে তুমি বিশ্বময়॥
তোমার সৃজন প্রভু এ তিন ভুবন।
তোমা পরে রক্ষা হেতু আছে কোন্ জন?
থাকিতে তুমি হে নাথ ডাকিব কাহারে ?
কাহারি বা সাধ্য আছে রক্ষা করিবারে?
মহিমা গভীর বীরমিহির তত্সজ্জ।
রাসসুন্দরীকে দেও হে ঐ পদপঙ্কজ॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওহে কৃষ্ণ রাধাকান্ত, কে জানে তোমার অন্ত
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের দ্বাদশ রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


সংসারযাত্রা

ওহে কৃষ্ণ রাধাকান্ত,                         কে জানে তোমার অন্ত,
তুমি আদি অন্তের অন্তর্যামী।
পুরাণেতে আছে ব্যক্ত,                           ভবাদি স্তবে অসক্ত,
নারী জাতি কি জানিব আমি॥
দেহ ইন্দ্রিয় আছে যত,                            তব চরণে অর্পিত,
জ্ঞান বত, তুমি যজ্ঞ দান।
না জানি ভরতি স্তুতি,                           অবলা অজ্ঞান, মতি,
তুমি হে সম্বল ধন প্রাণ॥
ভরসা ঐ পদারবিন্দু,                             অধমতারণ দীনবন্ধু,
ভবসিন্ধু করহে উদ্ধার।
তব নাম কৃপালেশে,                             সলিলে পাষাণ ভাসে,
শিলা হতে আমি কত ভার॥
তুমি ভকতবত্সল,                                  ভকত জনার বল,
ভক্তাধীন নাম হৃষীকেশ।
কিন্তু তাই ভাবি মনে,                         আমি পাব কোন গুণে,
নাহি মম প্রেম ভক্তি লেশ॥
তথাপি মনের সাধ,                              পুরাইতে হবে নাথ,
কৃপাসিন্ধু হে রাধা রমণ।
বহুদিন অভিলাষী,                           রাসসুন্দরী দাসের দাসী,
দিতে হবে যুগল চরণ॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সত্য ত্রেতা দ্বাপর পরে, যুগধর্ম্ম অনুসারে
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের ত্রয়োদশ রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


সত্য ত্রেতা দ্বাপর পরে,                         যুগধর্ম্ম অনুসারে,
সদর্পেতে কলি রাজা হয়।
সাধুকে না করে গণ্য,                        পাপে পূর্ণ মতিচ্ছন্ন,
ঘোর কলি অন্ধকারময়॥
কলি রাজা আগমনে,                         সঙ্গে সৈন্য অগণনে,
পাপ, তাপ, ক্রোধ, হিংসা যত।
উড়িল কলির ধ্বজা,                          শাসনে রহিল প্রজা,
ধর্ম্ম, কর্ম্ম, যাগ, যজ্ঞ হত॥
জীবের দুর্দ্দশা হেরি,                           পূর্ণচন্দ্র গৌরহরি,
শচী গর্ভে হইলা উদয়।
মোহাবর্ত্ত হৈল নাশ,                             ত্রিজগতে উল্লাস,
জগভরি হরিধ্বনি হয়॥
এলে হরিনাম সঙ্গ,                         রঙ্গে ভঙ্গে গোরসিংহ,
হুহুঙ্কার বিশাল গর্জ্জনে।
নাম দাপে যম কাঁপে,                        কলির দর্প হইল খর্ব্ব,
কলি রহিল শশঙ্কিত মনে॥
ভক্তে অনুগ্রহ করি,                             ভকতবত্সল হরি,
নামামৃতে ভাসালে অবনী।
হরিনাম সংকীর্ত্তনে,                            আনন্দিত ত্রিভুবনে,
গগন ভেদিয়া হরি ধ্বনি॥
পেতে হরিনামের খেলা,                   মাতালে মাতালে মেলা,
হাসে কান্দে নাচে উভরায়।
নিজ নামানন্দে মত্ত,                          না জানি আপন তত্ত্ব
হরিনাম জীবেরে বিলায়॥
বাজে খোল, বীণা, বংশী,                   মাঝে নাচে গৌরশশী,
হরিধ্বনি ব্রহ্মাণ্ড ভেদিয়া।
ব্রজলীলা প্রেমরস,                            ছিল অতি অপ্রকাশ,
নিজে এনে প্রকাশে নদীয়া॥
গোলোকের প্রেমধন,                            হরিনাম সংকীর্ত্তন,
স্নেহের নাম ছিল গোপনেতে।
নিজে এসে গৌরহরি,                     পাগলা নিতাই সঙ্গে করি,
যেচে যেচে বিলায় জগতে॥
পাপী তাপী ছিল যত,                           হৈল মহা ভাগবত,
ভক্তি তত্ত্ব সদা অধ্যয়ন।
নিজ শাস্ত্র পরিহরি,                            যবনে বলয়ে হরি,
নাম মদে মাতিল ভুবন॥
ভাসিল ধরণী প্রেমে,                          তারকব্রহ্ম হরিনামে,
ধন্য ধন্য কলিযুগ ধন্য।
ঐ পদ সতত হেরি,                         বাঞ্ছা করে রাসসুন্দরী,
পূর্ণ কর শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কলিযুগ করি ধন্য, নবদ্বীপে অবতীর্ণ
কবি রাসসুন্দরী দেবী
“আমার জীবন”, দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় ভাগের চতুর্দ্দশ রচনার প্রারম্ভ।
কবির লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশিত আত্মজীবনী “আমার জীবন” প্রকাশিত হয় ১২৭৫ বঙ্গাব্দে
(১৮৬৮)। আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি কবির ৮৮ বছরে, ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) লেখা “আমার জীবন”
এর দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, যার ভূমিকা লিখেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গ্রন্থ পরিচয় লিখেছিলেন
দীনেশচন্দ্র সেন। রাসসুন্দরী দেবী, প্রতিটি রচনাই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।


কলিযুগ করি ধন্য,                              নবদ্বীপে অবতীর্ণ,
সাঙ্গ পাঙ্গ গৌরাঙ্গসুন্দর।
আর কি ভাব উদয় মনে,                  মায়াপুরে তুলসী বনে,
হয়েছে হে গৌরকিশোর!
নবদ্বীপ ত্যজ করি,                           সন্ন্যাসীর বেশ ধরি,
জগন্নাথে ছিলা অধিষ্ঠান,
তাহাতে করিয়া কুহ,                        নিহমে গোপনে রহ,
বেদ বিধি না পায় সন্ধান।
তুমি না জানালে জানে,                    কে আছে এ ত্রিভুবনে,
ছিন্ন ভিন্ন হইল মেদিনী,
জীবে হ’য়ে কৃপাবাণ,                        শমনে করিতে ত্রাণ,
নিজগুণে প্রকাশ আপনি।
কিশোর কিশোরী রূপ,                       মায়াপুরে অপরূপ,
পুনরপি হয়েছ যুগল,
হেরিয়ে ভকতগণ,                            আনন্দে হ’য়ে মগন,
কান্দে, নাচে, বলে হরিবোল।
তুমি প্রভু ইচ্ছাময়,                            যখন যে ইচ্ছা হয়,
সেইরূপ দাঁড়াও সাজিয়া,
রাসসুন্দরীর মনোগত,                        তব পদে অবিরত,
লেগে থাকে চন্দন হইয়া॥

.             ****************              
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর