কবি ভবতোষ শতপথীর কবিতা
*
জল পড়েছে
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য ” থেকে নেওয়া।

এমন ঘরে জন্ম দিলি, কেন আমার মা !
সারাটা রাত জল পড়ছে ; পাতা নড়ছে না।
অনেক শ্রাবণ পেরিয়ে গেল, উথালপাথাল ঝড়
গুঁড়িয়ে দিল বাঁশের বেড়া,  উড়িয়ে নিল খড়।

আমি হ’লাম ছন্নছাড়া,  ছেড়ে নিজের গ্রাম
ছিলাম হারু, হলাম হরেন--- বদলে গেল নাম।
দুঃসময়ে শহর আমায় দিয়েছে আশ্রয়,
দু’তিন টাকার দিন মজুরী, আত্ম-পরিচয়।

অনেক দুঃখে রাতারাতি হলাম দেশান্তর,
রইল পড়ে বাস্তুভিটে, করুণ কুঁড়েঘর।
কাজের ফাঁকে যখন তখন উড়নচণ্ডী মন,
সে সব স্মৃতি স্মরণ করে ক’রছে জ্বালাতন।

আমের মুকুল, মহুয়া ফুল, রাতের ঝুমুর গান,
মরণ বাঁচন, নাড়ীর বাঁধন দেশের মাটির টান।
এমন ঘরে জন্ম দিলি,  কেন আমার মা !
সারাজীবন ঘুরে ঘুরেও শান্তি পেলাম না।

.                   *****************

.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বেশ করেছি
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।

বেশ করেছি, সব বেচেছি
বাঁচার তাগিদে।
শেষ সম্বল ভালোবাসা,
বেচবো নগদে।

টিপ দিয়েছি, সই করেছি
দু’পিঠ দলিলে।
জানিয়ে সেলাম, সামিল হলাম,
মস্ত মিছিলে।

সুখের মুখে ছাই দিয়েছি
দুঃখের দায় ভাগ ;
এই জীবনের প্রতি আমার
অন্য অনুরাগ ;

চাঁদ উঠেছে, ফুল ফুটেছে,
আমার তাতে কি ?
শূন্য ঘরে অন্ধকারে—
একলা বসেছি।

.                   *****************

.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিসর্গ ঝাড়গ্রাম
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।

শোচনীয় শালবনে আলু-থালু টিলার আড়ালে,
লোধা ললনার কন্ঠে,--- ক্ষুধিত দিনের পদাবলী।
মাথায় কাঠের বোঝা, নবজাত শিশুটি আঁচলে,
মহুয়া ডালের সাথে, মলিন লতার কোলাকুলি।

লাল, নীল, ঘাসফুলে বিজড়িত ধুলোর শপথ
পায়ে পায়ে দলে যায়, ঘর-ছাড়া উদাস পথিক।
দুখিনী খালের পারে সেই গ্রাম, গ্যাছে কোন পথ ?
বহুদিন পরে এসে,  মনে নেই, যাবো কোন দিক।

কপোত শিকারী আসে, চুপি চুপি তীর ধনু হাতে,
পাহাড় ডুংগরীর ধারে ঘাম ঝরা নিদাঘ দুপুরে !
মাথায় বেসাতি নিয়ে যুবতী চলেছে দূর হাটে
বেহুলা মাঠের বাঁশী বেজে উঠে বেহাগের সুরে।

আদিবাসী রূপসীর লাল জবাফুলের খোঁপায় !
ঝরে পড়ে রাঙা রোদ ! বর্ণময় বেলা ডুবে যায়॥

.                   *****************

.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ছড়া
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।


ফিরে যা        বাউণ্ডুলে বর
মেয়েটা         সঙ্গে যাবে না।
শরীরে          তৃষ্ণা সহ জ্বর
অসুখে          নিষেধ মানে না।

ধুঁকছে           গোমরামুখো বাপ,
ভাইটা          যাবজ্জীবন জেল,
বোনটা          মানুষ চেনে না—
ভাগ্যে           ভানুমতীর খেল্ ।

বলছি,          শান্তিপুরে যা
সেখানে,        সুস্থ পরিণাম
এখানে,          শান্তি পাবি না
ঝরবে,          অশ্রু-রক্ত-ঘাম।

মেজাজে        আজব কথা কয়
শুনেছে          মোড়ল দাদার বউ
এ পাশে         এমন পুরুষ নেই
মেয়েকে         জব্দ করে কেউ।

.                   *****************

.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঢেম্ না মঙ্গল
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।

ঢেম্ না ডাঁঢ়া ডাঁঢ়ারে
.           খরিসের লেখেন
পেল্ কু ঢেম্ না তর্ মাথায় যে
.           লাঁথ্যায় দিছে বেঙ।
( হায়রে ) ঢেম্  নীর সঁঘে রঁগে রঁগে
.           টিল্ হায় বাঁধ্ লিস্ ঘর
খল্যস্ ছাঢ়া চিকন অ ঢেম্ নার
.           খর্ খস্যা গতর।
গাঢ়া-ঢঢ়ায় লুকাঁয় বুলিস্
.            ঢেম্ না নেঁকা চদা
লাগ্যাল্ পালে চামড়া ছুল্যেঞ
.            লিবেক চামটু লধা।
ঢেম্ না পালা, পালারে
.            চাঁড়ে চাড়েঁ পালা
গাঢ়া-ঢঢ়া হাঁথ্যাঞ ইবুলছে
.            কুথায় ঢেম্ না শালা।
( হায় হায় ) হাঁসা ঢেম্ নীর ভালবাসা
.            পরপুরুষের সঁঘে
লিলজ ঢেম্ না ফঁস্ ফঁসাছিস্
.             ডরে ন কি রাগে ?        
ঢেম্ না পালা, পালারে
.             বাহ্যুল হয়্যেঁ যা
কাঠবাপ বল্যেঞ ডাইক্ ছে তকে
.            লকের হাথের ছা।
এতদিন যে লুকাঞ ছিল্ হিস্
.             গাঁয়ের ঝপে-ঝাঢ়ে
বল্ ন কেনে পালাঞ আলিস্
.             চক্ চক্যা শহরে
( হায়রে ) কাঁথ গাঢ়াটায় ঝিম্যাঞ ঝিম্যাঞ
.            স্বোপনায়ঁ ছিল্ হিস্ কত
শহর আস্যেঞ ভুল্যেঞ গেলিস্
.            গাঁয়ের কথা যত।
ঢেম্ না রে তর্ ঢেম্ নামিটা
.            বুইঝ্ ল দেশের লকে
বিষ নাঞখে যার কি হবেক আর
.            কামড়ালে হামাকে।
ছেরকু লহি ঝুম্যুর গাহি
.            দুহারিদের সঁঘে
ধম্ কালে তর কমর ভাঁগোঞ
.            দিবঅ একেই ডাঁগে।
য্যাস্ না ঢেম্ না ব়্যাত্ কানা
.            ঢেম্ নি খুঁইঝ্ তে ব়্যাতে
লাটায় কাঁটায় লট্ পটাবিস্
.           আড়-পাত্ লা পীরিতে।
ঢেম্ না, য্যাস্ না, য্যাস্ না,
.           নিশা রাইতের বেলা
বনুআ নেলে রগ্ দাঞ মাইর্ বেক্
.            বুঝ্ বিস্ তেখন ঠেল্ হা।
বুদা গড়ায় ফুস্যর ফাস্যর
.            আচ্ কা কাছড়া মাড়া
নিয়াঁয় লাগ্যেঞ ঠেং-হাথ ভাগোঞ
.            মর্ বিস্ বেধ্যামড়া।
ঢেম্ না রে তর্ লইড়্ তে চইড়্ তে
.             কতখন যে লাগে
যৈবন জ্বালায় জ্বইল্ তে জ্বইল্ তে
.             ঢেম্ নি পালায় রাগে।
মিঠা কথায় চিড়া ভিজাঞ
.              ভুইল্ বেক কি রে মায়্যাঁ
বিষ্টু তেজ তর্ নাঞ খে যেখন
.              কেনে কর্ লিস বিহা।
পেটাঞ পেটাঞ ঢঢ়্ রআ ঢেম্ নার
.              হল্যঅ যে পেট দুখা
ঢেম্ নি ডঁগ্ রে ড্যাহি-ডুংগ্ রি
.              ঢেম্ না গাঢ়া-রাখা।
দেইখ্ ছি টাট্ কা কলিকাল—
দমে দমে বিকাছেরে—
.               চিকনঅ ঢেম্ নার ছাল।
লধা দেইখ্ লে পালায় ঢেম্ না
.               ডরে ঢেঁক্যুর উঠে
বন-জঙ্গলে খালে-বিলে
.              জাহান লিঞ ছুঠে।
ঢেম্ নার ঢেম্ নির খর্ হাকি দেয়
.              তবু ছাঢ়াছাঢ়ি
ঢেম্ না বাঁচ্যেঞ রহিইতে রহিইতে
.             ঢেম্ নি হল্যঅ রাঁড়ি।
কি বইল্ ব আর লাজের কথা
.             বইল্ তে ছ্যাথি ফাটে
হায়রে ঢেম্ না নিসন্ত্যন্যা—
.              হাঁঢ়ি ভঁইগ্ ছিস্ হাঠে।
ঢেম্ নি কাঁদিস্ না লো কাঁদিস্ না
.              খরিশ সাপের কিরা
আইস্ ছে হাঠে কিন্যেঞ দিবঅ
.              খঁপার রূপার তারা।
নদী পারে রাস্তার ধারে
.               ঢেম্ নার সঁঘে দেখা
বইল্ ল ঢেম্ নি রিঁগ্যায় দিলঅ
.               হামি এক-বকা।
ঢেম্ না ডাঁঢ়া,  ডাঁঢ়ারে
.               মাথা উঁচাঞ ডাঁঢ়া
তকে দেখ্যেঞ দাঁতে কাঠি দিয়্যেঞ
.               হাঁইস্ ছে ঢঁঢ়া।
জ্যাত সাপ গিলা ভেঁগাছে রে—
.               হিঝ্ ঢ়া হলিস্ দেশে
হল্যদ্-ডরা ছিট্ কা বিট্ কা
.               হল্ হল্যা সাপ হাঁসে।
সাপের ভাখি গাহছি সাখি
.               জয় মা বিষহরি
ঢেম্ নার কুলে জনম দিলে
.               ভাভ্যেঞ ভাত্যেঞ মরি।
সাপের কুলে জনম দিলে
.               বিষ দিলে নায়ঁ কেনে
ঢেম্ না ঢেম্ নি হিনস্ থা হয়
.               সক্যল্ সাপের ঠিনে।
সাপের ছভি মন্ সা দেবী,
.               জয় মা বিষহরি
আঁড়্ রাঁয় বুইল্ ছি আঁঢ়্ রা কবি
.              বিষের জ্বালায় মরি।
ডাহিন্যে বাঁয়ে ঢেম্ না লিঞে
.              সাপের কুড়ে বাসা
গাঢ়ায় ঢঢ়ায় ফঁস্ ফঁসাছে
.              ঢেম্ না বালি হাঁসা।
ডরে ডাঁরায় আড়ে থানায়
.              নাম্ হায়-উঠায় মাথা
ঢঢ়ের সঁঘে সাঁঘাত পাতায়
.              ছি-ছি লাজের কাথা।
পেল্ কু ঢেম্ না উজা থানা
.              সঝা হয়্যেঞ ডাঁঢ়া
বাঁড়্যাঁ দেহরি কইর্ বেক পূজা
.               বুঢ়ার লাতিছঁড়া।
ঢেম্ না খুঁইঝ্ ছে ঢেম্ নিকে
.               ( আর ) ঢেম্ নি খুঁঝে ঢেম্ না
ঢেম্ না ঢেম্ নির ইহা হছে
.               বাইজছে বিহার বাজনা।
ঢেম্ নি হছে টহ্যল্ বিক্যল্
.               লৈতন যৈবন-জ্বরে
জড়্ লাইগ্ তে কি খরিস সাপে
.               ডাইক্ ছে ঠারে-ঠুরে।
ঢেম্ না করে তর্ লসিব খারাপ
.               নিজের মানুষ পর
বিহার বহু পালায়ঁ গেল
.               দহরা সাঁঘা কর্।
লুপুং ঢেম্ না মাঁয়্যা মুঁহা—
.               বিহা কর্ লিস্ কেনে
মাঁয়্যার জীবন মাটি হল্যঅ—
.               মহিচ্যা লকের ঠিনে।
খরিস্ সাপের ঢেম্ নি ভুলাঞ
.               হল্যঅ পগ্যার পার
বিষদাঁত নায়ঁ খে চিকনঅ ঢেম্ নার
.              ফঁস্ ফঁসানি সার।
ঢেম্ নার ঢং দেখ্যেঞ
.               লাজায়ঁ মরি গো—
ডিস্ কো বাজনার তালে লাচে ‘রক্ এ্যাণ্ড রোলে’
.               লকে বলে, বলিহারি গো—
দেশী ঢেম্ না বিলাতী হয়
.                বিলাতী হয় দেশী
হায়রে ঢেম্ না বার বনিয়্যা---
.                 জনম দিন লে খাসি।
লেংটা লাচে, লাচেরে---
.                লিলজ লেংটা লাচ
ঢেম্ না মঙ্গ্যল চইদ্দ মাদ্যল
.                 মাইর্ ছে লেঁজের ছ্যাট্।
কলির আখ্ ড়া আখ্ ড়ায় কাড়া
.                বাগালে গায় গান
ঢেম্ না মঙ্গল গায় গাঁয়ের দল
.                খাল ঢঢ়ায় ভাসান
উঠায়ঁ বারি বল হরি
.                হরি বল এই ঠিনে
শেষের সম্ব্যল লটা-কম্ব্যল
.                 উঠালি শেষ দিনে।

.                   *****************

.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দরবারী ঝুম্যুর
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া

আইস্ ছে যাছে মানুষ গিলা—
ভটের বাজার লোটের খেলা—
ঢেম্ না গুরুর ঢেম্ না চেলা
.                জল্ দি যা বাহিরাঁয়ঁ—
.   হামকে কি হবেক্ শিখাঁয়—
.   হামকে কি হবেক বুঝাঁয়---
দেশী খুখ্ ড়া বিলাতি ডাক--- ডাইক্ তে পার্ ব নায়ঁ---

.        মাটি মায়ের চইখের জল—
.        ফুরাঁয়ঁ গেল বন জঙ্গল—
কেঁদ্ পাকা আর ভুঁড়্যুর ফল একটাও পাওয়া দায়।

.        বন কুঁদ্ রি আর কাড়্ হান্ ছাতু—
.        একদিন কুড়্ হাঁয় আইন্ থঅ লধা ফাতু—
মহুলবনি গাঁয়ে একটাও মহুল গাছ নাঁয় ভায়।

.                   *****************

.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মেয়েটা
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।

মেয়েটার মা মরেছে অনাহারে
বাপ মরেছে জেলে,
কপালগুণে বর জুটেছে
বিশ্ব বাউণ্ডুলে।

সারাটা দিন টো-টো করে
হরেক রকম পেশা,
দিনের বেলায় ধান্দাবাজি
রাত্রে মদের নেশা।

যায় না জীবন, হয় না মরণ
বেঁচে থাকার জ্বালা,
বিশ বছর বয়সের বিয়ে
জীবন ঝালা-পালা।

ভবিষ্যতের ভাবনা ভেবে
দিন আসে, দিন যায়,
মানুষ জনের মধ্যে থেকেও
ভীষণ অসহায়।

চলার পথে মেলামেশা
কে আপন ?  কে পর ?
ভাবতে বসে সেই মেয়েটার
তৃষ্ণাসহ জ্বর।

মানুষ দেখে শুনে
পরপুরুষের সঙ্গে পালায়
রাত বারোটার ট্রেনে।

.                   *****************

.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মেলা
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।

আমন ধানের গন্ধ ম্- ম্ করে
কিষাণের ঘরে,
দুঃখিত ক্ষেতের খড় তুলে আনে
নিজস্ব খামারে,
মহুয়া মাতাল মন আন্ চান্ ---
করে মাঝরাতে
নতুন কাপড় জামা এ’বছর---
আছে কি বরাতে ?
টুসু সংগীতের সুর হাটে-মাঠে-
ঘাটে কারা গায় ?
মকর পরব আসে, সাড়া জাগে—
পাড়ায় পাড়ায়,
মাধুরী মাহাতো আর চাঁপা
সরেনের পরিচয়
কোনদিন মুছে দিতে পেরেছে কি—
কুটিল সময়।

চাষীর পুরোনো ঋণ যেন দীন
দ্রৌপদীর শাড়ি
যতো টানে তত বাড়ে, অযথা
নেহাত বাড়াবাড়ি
দুঃশাসন মহাজন, জের টানে---
থাতায় পাতায়।
প্রাণাধিক ধান মেপে, খাতক ঘাতক
চলে যায় !
মকরের মুখরতা মোহিনী মেলায়
যাওয়া-আসা
বছরে একটি বার সকলের
সাথে মেলা-মেশা।

মানুষে মানুষে সেতু বন্ধনের
সফল প্রয়াস
দু’দিন আনন্দময়, বেদনা তো—
আছে বারো মাস।

দু’মাস নামাল খেটে দেহাতী যুগল
ফিরে আসে
কোমরে দু’কুড়ি টাকা, মহাজন—
মনে মনে হাসে
ডোরা কাটা লাল শাড়ি কিনে দিতে
নগদ ফুরায়
হৃদয় রাঙাতে গেলে জীবনের
রং বদলায়।

মানুষের মেলা ভাঙে
মেলার মানুষ যায় চলে,
ভীড়-ভাঙা ভালো-লাগা
ভালোবাসা স্মৃতির অতলে।

.                   *****************

.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভাদরিয়া ঝুম্যুর
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া

.                                ১
বল্ মা গো,  মা হঁয়্যেঁ তুই সহ্ বি-কেমন কব়্যেঁ ?
তর্ নিজের ছানা কাছ্যাড় খাচ্ছে পরেরি দুয়ারে।

.        পেটে নাঁয় যার দানাপানি—
.        সে কি বইল্ বেক ঝুম্যুর শুনি ?
গিয়ান হারায়ঁ জুঁঠা খাছে মানুষে কুকুরে।

.        ভখে শুখাঁয় গেছে নাড়ি—
.        বুঢ়ায়ঁ গেল জআন্ বহ্ ড়ি—
মহুল্ সিঝা জইনহ্যার্ গুঁড়ি নাঁয়খ কিছুই ঘরে।

.        যার্ হা বইল্ ছে --- ‘খর্ হা—খর্ হা’ –
.        অর্ হা কি ভায় ভখে মরা ?
রাইতে-দিনে উপাস্ করা ---- আকাল্ বছরে ।


.                                ২
.        মলভুঁয়ে মাদ্যল্ বাইজ্ ল ---
.        ধলভুঁয়ে ধুল্যাট্ হ’ল্যঅ---
বাঁশবনে ডম্ হ’ল্যঅ কানা, --- মরি হায়রে হায়,---
.        রাগে জইল্ ছে জাম্ বনি-থানা।

.        বিনপুরের বনে ঝাইড়ে---
.        জইল্ ছে আঁগুন আড়ে খাড়ে—
দলকাঁয় দিছে জনম্ মাটি পহিল্ বেটাছানা।

.        মুখে মাখ্যেঁ চুনকালি—
.        দেশ ছাড়্যেঁ বিদেশে আ’লি ---
লংকাপড়া কুথায় ছিলি--- সউবেই আছে জানা।
দেশের মানুষ মাইন্ বেক্ নাঁয় আর মানা।
মরি হায়রে হায়, হুকুড় গড়ুম্ তাঁ-হাঁ-রে তা-না-না।

.                                ৩
জল্ ভরা মেঘ --- আহা কাজল্ পর্ হা রাণী,
হামার ঘরে বাদল,  বাহিব়্যে বাদল---
ভাতের টানাটানি----হায়রে,  মন কাঁদঅ অকারণে
.                     মন ভাবঅঁ অকারণে
.        সে ত’ ভাবের পরশমণি।

.        তলা গুঢ়ায়ঁ টাইন্ ছি তলা---
.        আইড়্ ধইর্ তে হয় আড়বেলা—
হামার ঘরে জ্বালা,  বাহিব়্যে জ্বালা,----
.                     টাইন্ ছি কল্ হুর্ ঘানি।

.        টাটায় ছিলি গেঙের কুলি
.        চাস্ কইর্ তে ভায় গাঁয়ে আ’লি।
হামার বঁহু টিপ্ ছে খালাখালি --- হামি ত’ জাল বুনি।

.        ভুল্ কব়্যেঁ ছি  ভাদর্ মাসে –-
.        পিরিত্ করি পাকা পুষে ---
আঁগুন লুকাঁয় ছিল তুঁষে --- হামি ত’ নাঁয় জানি।

.                   *****************

.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঝুম্যুর
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া


তাঁ-- হাঁ-- রে ------  তা—না—না—তা—না,
তাঁ—হাঁ—রে----     তা –না—না—রে !
চ্যইখ্ থাক্ ত্যেউ  দেখ্ ত্যেএ পায় না---- কানা- রে !

লেখা—পড়্ হা শিখ্যেঁএ ছঁড়া, দেশের কি লাভ হল্যঅ রে !
যে যার লিজের ঘর্-ঘাট্ গুছায়ঁ লিল রে !

তাঁ-হাঁ-রে---- তা-না-না  তা-না,
তাঁ-হাঁ-রে --  তা-না-না-রে !
পেটে নায়ঁ ভাত ! পর্ হা ছিঁড়া টেনা রে !
উপর কুল্ হি,--- নামঅ কুল্ হি, গটাই বুল্যেঁএ আল্ হি রে !
ধার-হাউলাত্ কুথাউ নায়ঁ যে পাল্ হি রে !

বাঁদনা-মকর পিঠা-লাঠা,  ভাল—মন্দ খাল্ হি রে !
পরব গেলে শুখ্ না উপাস দিল্ হি রে !

তাঁ-হাঁ-রে --- তা-না-না   তা-না,
তাঁ –হাঁ- রে ---- তা-না-না-রে !
চাইখ্ থাক্ ত্যেএ দেইখ্ তে পায় নায়ঁ--- কানা—রে !!

.                   *****************

.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর