লাল, নীল, ঘাসফুলে বিজড়িত ধুলোর শপথ পায়ে পায়ে দলে যায়, ঘর-ছাড়া উদাস পথিক। দুখিনী খালের পারে সেই গ্রাম, গ্যাছে কোন পথ ? বহুদিন পরে এসে, মনে নেই, যাবো কোন দিক।
মেলা কবি ভবতোষ শতপথী অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
আমন ধানের গন্ধ ম্- ম্ করে কিষাণের ঘরে, দুঃখিত ক্ষেতের খড় তুলে আনে নিজস্ব খামারে, মহুয়া মাতাল মন আন্ চান্ --- করে মাঝরাতে নতুন কাপড় জামা এ’বছর--- আছে কি বরাতে ? টুসু সংগীতের সুর হাটে-মাঠে- ঘাটে কারা গায় ? মকর পরব আসে, সাড়া জাগে— পাড়ায় পাড়ায়, মাধুরী মাহাতো আর চাঁপা সরেনের পরিচয় কোনদিন মুছে দিতে পেরেছে কি— কুটিল সময়।
চাষীর পুরোনো ঋণ যেন দীন দ্রৌপদীর শাড়ি যতো টানে তত বাড়ে, অযথা নেহাত বাড়াবাড়ি দুঃশাসন মহাজন, জের টানে--- থাতায় পাতায়। প্রাণাধিক ধান মেপে, খাতক ঘাতক চলে যায় ! মকরের মুখরতা মোহিনী মেলায় যাওয়া-আসা বছরে একটি বার সকলের সাথে মেলা-মেশা।
মানুষে মানুষে সেতু বন্ধনের সফল প্রয়াস দু’দিন আনন্দময়, বেদনা তো— আছে বারো মাস।
দু’মাস নামাল খেটে দেহাতী যুগল ফিরে আসে কোমরে দু’কুড়ি টাকা, মহাজন— মনে মনে হাসে ডোরা কাটা লাল শাড়ি কিনে দিতে নগদ ফুরায় হৃদয় রাঙাতে গেলে জীবনের রং বদলায়।
মানুষের মেলা ভাঙে মেলার মানুষ যায় চলে, ভীড়-ভাঙা ভালো-লাগা ভালোবাসা স্মৃতির অতলে।