কবি ভবতোষ শতপথীর কবিতা
কবি ভ
বতোষ শতপথীর
পরিচিতির পাতায় . . .
*
ছানা ভুলানো ছড়া
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
একটা ছানা ডাব্ লা লাড়ে
. ইষ্টিসনে
আর একটা খায় লাড়ু মিঠায়
. কপাট কুণেঁ।
ডাহিন্যে বাঁয়েঁ দেইখ্ ছি দুটাই
. মানুষ ছানা
কেউ ফুলবাবু, কার কপালে
. ছিঁঢ়হা টেনা।
কেউ বা বাগাল, গরু চরায়
. বাপে পুতে
মুনিষ ভাথুয়া খাইট্ ছে কেউবা—
. পেটের ভাতে।
যে যার জ্বালা নিজেই বুঝে
. আর কে বুঝে ?
বইস্ বার টুকু জায়গা পালে
. শুতে খুঁজে॥
. ********************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ভ
বতোষ শতপথীর
পরিচিতির পাতায় . . .
*
পাহাড় ধারের গাঁ
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
পাহাড় ধারের গাঁ ! হামার লদী পারের গাঁ !
বিজ্ লী বাতি নাঁয় রাস্তায়, পিচে পুড়ে নাঁয় পা।
কাঁটা-লাটা-বুদার বাদাড়, ঠুঁঠ্ হা গাছের গড়া
ভাঙা লদীর মস্ত কাতা, রাজা বাঁধের আড়া।
ভখা গরীব গাঁ ! হায়রে, বকা লকের ছা !
দিন মাঁস্যা পুয়াতি, রইদে হেঁস্ ফেঁসাছে মা !
আত্ ড়া ধারের গেঁঢ়্ হি ঘুঘলি পাত্ ড়ি ধারের পাত
খালা খালি টিপ্ লে, হাটে বিকলে হবেক ভাত।
সুখের লাগার লহর পহর গাহিইছে রসের গান
গরীব মানুষ উড়াছে ত্যুঁষ কুথায় পাবিস্ ধান ?
চিকন-চাকন ছঁঘ্যন্ –মঁঘ্যন্ টক্ টক্যা যৈবন
ভইখ্ল্যা জুয়ান বহু-বিটি, শুখনা বাছাধন।
মানুষ চষ্যেঞ মানুষ বাঁচে, কার যে কন্ টা দেশ !
বুইঝ্ তে লারি গগায়ঁ মরি ! কবে হবেক শেষ ??
. ********************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ভ
বতোষ শতপথীর
পরিচিতির পাতায় . . .
*
হক্ কথা
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
দর্ মরা দিন রক্ ত ঝরা ব়্যাত
হাভাত ঘরের ভঁথায় গালে হাত
উপাস দিছে জয়্যান বহু-বিটি
থরায় মরা মানুষ, মুলুক, মাটি।
পড়া আকাশ এক ফঁটাউ নায়ঁ জল,
হালের গরু বিকব হাটে চল্
রুয়া- পুতা মিছাটাই হায়রান
শুখাঁয় যাছে, জরু-গরু-ধান
মাথা কুইড়্ ল্যেও কুঁয়ায় নায়ঁখ জল
ইঠিন সেঠিন অচল জলের কল,
আছে বল্ দা নায়ঁ বহে রে হাল,
তার দুখ্ ত আছেই চিরকাল।
ভর্ খর্ নাচে ছিঁড়্ লে রে মাদ্যঅল
নাচিস্ না আর ছ্যইল্ গিঁদা ঘিন্ ছ্যইল্
দাঁতে কাঠি দিয়েঁ হাঁইসছ্যে লক---
হক্ কথাটা হবেকেই ত হক্ !!
. ********************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ভ
বতোষ শতপথীর
পরিচিতির পাতায় . . .
*
পহিল খুখ্ ড়া ডাকছ্যেএ
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া
হাড় কিপ্ টা মঁড়ল মড়া
দে ধাস্যেঁএ দে। আঁগুন জুঁম্ ঢ়া !
পিঠা পড়ার লেখেন পুডুর মুখ !
ডবল সুদে টাকা খাটাঁয় !
পাকা কইর্ ল বাপে-বেটায় !
হাম্ রা মইর্ ছি ধূলা ঝাটাঁয়
. গটা জীবন দুখ !
মায়াঁ-মরদ, মুনিষ-কামিন,
এক কাঠাও নায় নিজের জমিন
উজ্ ড়্যা কামের কি আছে ভাই, দাম !
যেদিন জুটে, সেদিন জুটে
বেশীর ভাগ দিন বেকার কাটে
ভখে লঁউট্যেঁ ভাঙা খাট্যেএ
. শুনি “লাল সেলাম” !
পহিল পহিল ভালবাস্যেঁএ
ভাত-তরকারি খাওয়ায় ঠাস্যেঁএ
কতরকম ‘পলোসি’ যে জানে,
লৈতন লৈতন দমে আদর !
পুন্না হলে ঘাটের পাথর
সিনান বেলায় ঠেং ঘুষেএ--- লক জনে !
হাম্ রা আছি পাড়াগাঁয়ে
অদের চইখে মানুষ লহে
হাম্ রা কাঁদল্যএ, অর্ হা বেদম হাঁস্যে !
সিরাঁয় আসছ্যেএ--- অদেরঅ দিন !
জাইগ্ ছ্যেএ দেশের ভায়-বহিন !
ভউরের পহিল্ খুখ্ ড়া ডাকছ্যেএ শেষে !
. ********************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ভ
বতোষ শতপথীর
পরিচিতির পাতায় . . .
*
সরজমিন
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
বুঝ্ ল্যে হে সাঁঘাত !
বুলান গড়ার বঢ়্ হনা গুঢ়াটা
পহিল আষাঢ়েই লাগায় দিলহি !
আটদিন যাতে নাঁয় যাতে---
হি হালি হল্যঅ হে !
যেমন লৈতন মেঘ ভাঙ্যএ পইড়ছ্যেএ !
ধূরের লে থানালে,
কাল্যাআ ভমরের লেখেন !
ভাদব়্যাআ উহুকে বহুটা নাঁয় পাইরথ্
রাইতে ঘুমহাতে !
কেনে পাইরবেক ? দো-জিব্ হা ছিল ন ?
দুটা জিব্ হে নিকাশ টাইন্ ছ ন ?
ধুলা জব্ রার উপ্ রেই ভঁতার শুয়্যেঁ পইড় থ !
গুচ্ছেখ কাল্যাআ চুইল আওলায় দিয়ে
লোঅট-পোঅট খাথ্যঅ !
তেখন হামার মনে হথ্যঅ যে,
বুলান ধারের টেট্-টেরান ধান বিলটা
হামার সঁখেই শুয়্যেঁ আছে।
বুঝ্ ল্যেএ হে সাঁঙাত !
ভাদর গেল, আশিন গেল, কার্ত্তিকের
মাঝামাঝি শিস্ গিলা আগ্ ঝলকা দিয়েঁ
উঠল্যঅ !
মনে মনে ভাব্ লি, ইবার দুঃখু ঘুচ্ ল্যঅ !
কি আর বইলবঅ সাঁঙাত ! দুখের কথা ?
একদিন ভউরে বিল যায়েঁ দেখি,
রাইতেএ কন্ শালারা আদ-পাকা ধান
গিলা কাট্যেঁ লেগেছ্যেএ !
এত কষ্টের রকত্-জল-করা ধান গিলা
লিয়েঁ পালআলঅ কে ?
ডেঙা-পর্ হা পরাণ জেঠা
ঠেঙা ঠুক্যেঁএ ঠুক্যেঁ পাশকে আল্যঅ !
চুপু চুপু কানে কানে বইলঅ,
কবে তর বাপ ন কি জমিনটা
হেন্ ড্ –নট দিয়েঁ ছিল, মাহাজনের ঠিন্ !
মাহাজনের পুষা গুন্ ঢা গিলা আস্যোঁএ
ধান কাট্যেঁ দখল লিল জউরে !
কি আর কর্ বিস্ বাপ ?
সউব কপাল ! লকে বলে ন—
“আকাশকে খুঁটা নায়ঁ, বড় লক কে
উত্তর নাঁয় !”
বহুটা কষ্ট পায়্যেঁএ, পায়্যেঁএ
একটা মরাছানা পর্ শব্ কইর্ ল্যঅ !
কি বইল্ ব হে সাঁঙাত !
সে সউব দিনের গত কথা মনে হলে
কাঁচা রকতে ---- আঁগুন ধব়্যেঁএ যায় !!
. ********************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ভ
বতোষ শতপথীর
পরিচিতির পাতায় . . .
*
হুকুড় গড়ুম্
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
হুকুড় গড়ুম্ ধম্ সা মাদ্যল বাঁদ্ না মকরে !
তলের মাটি উপর হছে টাঁইড়্যে-টিকরে !
আঁগুন লাগুগ মুখ্ পড়াদের তেলুয়া গতরে
বিহন পুড়া সিরাঁয় গেল, ভখা ভাদরে।
গির্ হা গিলা ভাতুয়া খাটাঁয়, ডুবায় বেতন ধান
ইধার উধার বেদম আঁধার গটা বছর টান
বহু-বিটি, ছানা-পনার ঝরছ্যেএ চইখের জল
থাম্ মহনা, থামা ঝুম্যুর, আন্ সাট্যা মাদ্যল !
কুল্ কুলি দে কুল্ হি কুল্ হি কাঁড়-কাঁড়বাশ আন্
খালভরাদের গালমারা শুন, সব শালা সমান
ঝিমাঁয় ঝিমাঁয় থিথাঁয় থাকা মহিচ্যা লকের কাজ
মরদ যদি বঠিস্ , রাগে হুঁক্ ব়্যেএ উঠ্ ন আজ !
রগ্ দা রগ্ দি চলুক ইবার, চলুক গুড়দা-গোল
মাটি-কাঁপাঁয় চলুক ঝাঁপান, বাজুক্ বিষম ঢোল !!
. ********************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ভ
বতোষ শতপথীর
পরিচিতির পাতায় . . .
*
ডেড় বিঘা জমিন
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
জানিস্ চুনু ভায় ?
বাঁধ নামার ঐ যে আড়ে লম্বে দেড় বিঘার সোল গুঢ়াটা
গটাটা একদিন হামদের ছিল।
শুনিস্ নাঁয় ? এখন তক গাঁয়ের সব লকেই বলে
যদুর গুঢ়া।
যদু তর্-হামার ঠাকুদ্দাদার নাম ন ?
বাপে বইল্ থ, দাদু ন কি আকাল বছর
মহাজনের ঠিন্ এক আঢ়্ হা ধান দাদন লিঁয়েছিল
চাইর্ ডবল বাইড়্ কষ্যেঁ যেখন বেজাঁয় হয়েঁ গেল
তেখন দাদুয়ে নাঁয় পাইর্ ল দিতে।
কুথা পাবেক এত ধান, যে শদ কইর্ বেক।
তুই ত তেখন আলছানা। হামার টুকু টুকু
মনে পড়ে, ঐ জমিনটায় একদিন
লাল ফতেঙ্গা গাঁড়্যেএ দিয়েঁ, ঢোল বাঁজায়
যেমন বিহা ঘর হছে লেখেন---
হামদের পুব্বা-পুরুষের জমিনটা
মাহাজনে নীলাম কব়্যেঁএ লিল।
হামদের আর এক ছটাঁকও জমিন কুথাউ নাঁয়
বাপ মুনিষ খাট্যেঁএ, খাট্যেঁএ বেদম কাহিল হয়্যেঁএ
গেল। মুহেঁর লে রকত্ উঠেঁএ বাপ টাট্ কাই
মব়্যেঁএ গেল।
মায়েঁ আর কি কইর্ বেক ?
কটা-ভাচা কব়্যেঁএ, তকে-হামকে---
এক ডুভি মাঁড়-ভাত দিথ।
জানিস্ চুনু ভায় ? মাঁয় ন, এক একদিন
রাঁধা ঘরের কুনে বস্যেঁএ
ফুঁফায় ফুঁফায় কাঁইদথ।
হামি জিগাস কইর্ লে বইল্ থ,
পেট টা দুখাছে রে মুনু !
চুনু ভায়, তুই ত এখন ভুখল জুয়ান হয়েঁছিস,
পঢ়্ হা লেখা কইর্ ছিস।
তিন-চাইর্ টা পাশ কইর্ লে আপিসার হয়েঁ
যাবি
তেখন মেমের লেখেন বহু বিহা কব়্যেঁএ
কইলকাতা পালাঁয় যাবিস্ নাঁয় ত ?
. ********************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ভ
বতোষ শতপথীর
পরিচিতির পাতায় . . .
*
শিরি চুনারম মাঁহ্ ত
কবি ভবতোষ শতপথী
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যগ্রন্থ “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
হামার নাম শিরি চুনারাম মাঁহ্ ত হুজ্যুর !
সাকিম গড়্ গড়্যা লালা
থানা বর্ হা ডাঁগা
জেলটাত ভুল্যেঁয়ে গেছি--- মনে হছে নাঁয় !
----টুকু জউরে বইল্ বে হুজ্যুর।
এক বারেই কালা নাঁয়, তবে টুকু চ্যার্ আড়্ কালা বঠি
কি বইল্ লে হুজ্যুর ---- বাপের নাম ?
ঈশ্বর অধর মাঁহ্ ত, কবেই মব়্যেঁয়ে ভুত হয়্যেঁ গেছে।
মঁড়ল ঘরের উ জমিনটা—
হামার ঠাকুদ্দাদায় ভাগে চাষ কইর্ থঅ
বাপের ঠিনে শুন্যেঁয়েছি ---
যে বছর জরিপ আল্যঅ—
মঁড়লরা বেস্ত বিনতি কব়্যেঁয়্যেঁ বইল্ ল ---
দেখ্ অধরা, জরিপের আপিসার আমিন আল্যে---
বল্ বিস্ যে, মঁড়ল বাবুরাই চাষ খচ্চা দেই
হামি মুনিষের লেখেন্ খাঠ্যেঁয়ে চাষ-আবাদ কব়্যেঁ দি !
জমিনের চাষটা বাবুদেরেই বঠে !
হামি দেখাশুনা করি, চাষ বেহেরার লেখেন।
ই দলের উ দলের লিডারগিলা, ফাঁকে ঝুঁক্যেঁ আস্যেঁয়েঁ---
বাপ্ কে ফুস্ ফুসানি মন্তর দিথঅ।
বাপ বইল্ থঅ, ধূর্ হে ! পরের বাপ্ কে বাপ্ বইল্ ব নায়ঁ !
হামি তেখন গাঁয়ের তেঁত্যল্ তলের পাট্ শালায় পঢ়্ হি হুজ্যুর !
--- ‘কর’ ‘খল’ ‘ঘট’ ‘জল’।
ভাগ চাষের কথা নাঁয় বুইঝ্ তে পারি
গিয়ান হতে বুইঝ্ লি, হামার বাপ্ লকটা বেদম বকা ছিল,
করম আর ধরম কইর্ তে কইর্ তে ---
নাঁয় খাতে পাঁয়, মব়্যেঁয়েঁ গেল।
মইর্ ল ত সিব়্যালঅ, হমার কাঁধে জঁয়্যাল্ পইড়্ লঅ।
মঁড়ল ঘরে হাম্ কে ডাক্যেঁয়ে লিয়েঁ বইল্ লঅ ---
“কিরে চুনা ! বাপ ঠাকুদ্দাদার লেখেন উজা রাস্তায় চলবিস্ ত ?”
হামি না জবাপি হয়্যেঁ গেল্ হি !
খানিকখন থিথায়ঁ, সুস্তি জবাপ দিল্ হি---
তুম্ রা ঠিক্ থাইক্ লে, হাম্ অ ঠিক্ ব়্যহিবঅ !
লকে-জনে শুন্ ছি, হালে-হালে একটা লৈতন অ্যান হয়্যেঁছে---
মালিকের একভাগ, আর চাষীর তিনভাগ।
ঐ হিঁসাবেই হামঅ ভাগ ধান দিব ই-বছর লে !
মঁড়ল বাবু রাগে গর্ গরায়ঁ, ভুয়া বিলায়টার লেখেন বাহিব়্যাঁয় গেল।
যাতে যাতে বল্যেঁয়ে গেল, ঠিক্ আছে-- দেখা হবেক আদালতে !
তুঁই কত চাল্লাক--- আর হাম্ রা কত ?
পেটে দানা নায়ঁ, ফিছায় টেনা নাঁয়, তভুঅ ফি বছর
অদের ভাগ ধান মাপ্যেঁয়ে দিয়েঁছি হুজ্যুর্ !
এক পাইঅ বাকি রাখি নায়ঁ !
হাম্ কে রসিদঅ দেয় নায়ঁ, খাতায় উআশীলঅ করে নায়ঁ !
শুধা মিছায় চ্যার বছরের বাকি দেখায়ঁ—
লালিশ ঠুক্যেঁয়েঁ দিয়েঁছে কোউটে।
কাজ কাম কাম্ হ্যাঁয় কব়্যেঁয়েঁ হ্যাজ্ রান্ দিছি –
আর হাইরান হচ্ছি ডেড়-দুবছর হল্যঅ।
হ্যামার উকিল-মুক্তার কেউ নায়ঁ হুজ্যুর !
কুথা পাব দু-তিন কুড়ি টাকা, যে উকিল মুক্তার লাগাব ?
খাঁঠি বিচার কর হুজ্যুর ! লেজ্জ্য বিচার কর !!
টুকু জউরে বইল্ বে হুজ্যুর্ !
আঘুয়েই বল্যেঁয়েছি ন, টুকু আড়্ কালা বঠি !
কি বইল্ ছ হুজ্যুর্ ? জমিনটা ছাঢ়্ হাঁয় লিতে পাইর্ বেক নাঁয় !
মিছা মামলা টিস্ মিস্ হঁয়্যেঁ গেল ?
তবে গলা ঝাড়্যেঁয়ে একবার দমে জউরে চেঁচায়ঁলি হুজ্যুর---
শিরি চুনারাম মাঁহ্ ত জীৎকার !!
বাপ-ঠাকুদ্দাদায় কী জ্যুতের নামটা রাখ্যেঁয়ে ছিল---
চুনা পুঁঠির সঁঘে রামনাম মেশাঁয়ঁ চু-না-রা-ম !
শালা, গায়ের লে, ন তার নামের লে---
অ্যাঁশটানি বাস উইঠ্ ছে --- গটা জীবন !!
রুঁজি-পুঁজি সউব সিব়্যাঁয়ঁ, ছিল্ হি “চুনারাম”--- হয়্যেঁ গেল্ হি চুনা !
ই দুন্যায়াটায় দেইখ্ ছি---
. ম্যাঁয়্যার মালিক মরদ আর মরদের মালিক টাকা।
টাকা-পইসা, জাইগা-জমিন নায়ঁ থাইক্ লে---
বাঁচ্যেঁ থাকাটা কি হায়রাণ হে বোহ্ নাই !
শালা, গাঁয়ে-ঘরের জ্যাত কুটুম গিলাঅ নাঁয় ভালে !
কুকুর-বিলায়ের লেখন ‘হাড়ি’ ‘হাড়ি’ কব়্যেঁয়ে খেদ্যেঁ দেই।
কুস্ মীর কথাই বল্ না !
এক ছটর লে উঠা-বসা, ঘঁষা-পেষা কব়্যেঁয়ে ভালবাসা হল্যয় !
দেখ্যেঁয়েঁ দেখ্যেঁয়েঁ বাঢ়্ হালি, রাইতে কতবার স্বোপ্ নালি,
তার কি ন বিহা হয়্যেঁ গেল---
ঢের ধূরে---- বড়লকের ঘরে।
কুস্ মীর বাপে বইল্ ল নাঁয়ঁ-নায়ঁ, চুমার সঁঘে বিটির বিহা দিব নাঁয়
উয়ার চাল-চুল্ হা কিছুই ন্যায়ঁ।
বিটি ছানাটাকে লদীর জলে ভাসায়ঁ দিতে নায়ঁ পাইর্ বঅ !
ঠিকেই ত বল্যেঁয়েঁছে কুস্ মীর বাপে ----
হামার খুখ্ ঢ়া বাঁধা দড়িঅ নায়ঁ।
পরের বিটিকে খাওয়াব-পর্ হাব কি ?
সেদিন লে ছাথির ভিথ্ রে আঁগুন হদ্ কিছে ত হদ্ কিছেই !
চইখে কি আর তর্ হা থানায়ঁ পাবিস ?
মনের আঁগুন মনেই সল্ গিছেঁ !
রাইতে টুকু সুস্তি ঘুমাতে পারি নায়ঁ !
দেশে কি মশার উত্প্যাত্ হয়্যেঁছে হে !
শালা, মশায় কি আর মানুষ বাছে ?
রগা-ভগা যেমনেই হোক্—ফ্যাঁক্ পালে রকত্ চুষ্যেঁয়েঁ লিয়েঁ---
পেট টিল্ কব়্যেঁয়্যে --- ভন্ ভনায়ঁ উড়্যেঁয়ে পালায় !
ঢের দিন বাদে—
একদিন আচ্ কা দেখা হয়্যেঁ গেল কুস্ মীর সঁঘে।
শ্বশুর ঘর লে—বাপের ঘর অস্যেঁয়েঁছে !
ক’লে একটা পদ্মফুল্যের লেখেন বেটা ছানা।
হামার দিগে আঙ্যুল্ বাঢ়্ হায়ঁ দেখায়ঁ দিছে ---
হায়্ দেখ্ ন রে --- বাবু, তর্ আর একটা মামা !
ভালবাসা ভেস্তাঁয় গেলে----
যার বাপ হবার কথা--- সে মামা হয়্যেঁ যায়।
হায়্ রে কপাল ! হামি ঘড়ায় কি চইঘ্ ব ?
ঘড়া হামার পিঠেই চঘ্যেঁয়েঁ বইস্ লঅ।
শিল নঢ়্ হায় কপালটাকে ঠুক্যেঁয়ে ফাটায়ঁ দিতে মন হয়।
আর, রাগে গর্ গরায়ঁ --- গলা ফাটায়ঁ ভগবানকে ডাক্ ইতে---
মন করে--- অ ভগা---- ভগা হে---
কন্ ঠিনে লুকালি, হামার ডরে ?
লাগ্যাল্ পালে এক্কেই চটে অদ্ রায়ঁ দিব ---
ভইখল্যা ---- ঠকান্ মাথাটা॥
. ********************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ভ
বতোষ শতপথীর
পরিচিতির পাতায় . . .
*
মন গুমারে টুসু বস্যেঁছে
কবি ভবতোষ শতপথী
টুসু
গান।
সোমনাথ নন্দী ও মুরারি সিংহ সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থ “লোককবি ভবতোষ” থেকে নেওয়া।
তাল---দ্রুত দাদরা
. মন গুমারে টুসু বস্যেঁছে ---
. কুচ্ কা চুলে গেঁদা ফুলে---
. জল্ দি জুড়া বাঁধ্যেঞ্ দে॥
টুসুমনি আল্লাদিনী কথা সইতে নাঁঞ পারে---
কিসের আশায় কাঁদেঞ ভাঁসায় পর দেশে পরের ঘরে॥
হামার টুসুর একটায় বেটা ----
. লে গো তরহা কলে লে॥
আর গো তর্ হা কাজল পর্ হা সিথাঁয় সিঁদুর দে পরহাঁঞ ---
লক্ষ্মীবারে শ্বশুর ঘরে হামার টুসু যাবেক্ নাঁঞ।
বাপ যাবেক্ নাঁঞ ---- ভায় যাবেক নাঁঞ
পঁহচাতে বল্ যাবেক কে॥
. ********************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ভ
বতোষ শতপথীর
পরিচিতির পাতায় . . .
*
কাঁসাই লদীর এক গলা জলে
কবি ভবতোষ শতপথী
টুসু গান।
সোমনাথ নন্দী ও মুরারি সিংহ সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থ “লোককবি ভবতোষ” থেকে নেওয়া।
কাঁসাই লদীর এক গলা জলে
মকর ডুব দিব ভর সকালে
পিঠা খাব ধুল্যাট যাব
ঝুম্যর গাহ্ ব ঝাঁপতালে॥
ছাপা শাঢ়ী ফর্ কায় বুঢ়ি
পাড়ার লক্ বেদম্ হাঁসে
পাউডার লেস্যেঁ ছক্ রি সাজে
মু বাঁকাঁয় মুচ্ কি হাসে
চাঁউড়ি বাঁউরি মকর আখ্যান
দেখ্ ইতে দেখইতে যায় চল্যেঁ॥
হাঁড়ি উভ্ ড়া পরব গেলে
হামার দশা যেই কে সেয়
পড়া বরাত ধার হাঅলাত
দিনেই আমি দিনেয় খায়
মুনিষ খাটা বাপের বেটা
ঢন্ কিছে খালে-বিলে॥
. ********************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর