প্রবীর বলের রচনা -                                                                      পাতার উপরে . . .   
তাঁর রচিত গানের মাত্র আটটি গান রেকর্ড হয়ে সর্বসমক্ষে এসেছে তাঁর “আমি মানুষ” ক্যাসেটে।

তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে তিনি আমাদের দেখিয়েছেন, তাঁর লেখা গানের খাতা ভরা গান। সবই  
গণসঙ্গীত। দেশ-বিদেশের নানা ঘটনার সূত্রে লেখা গান। সমাজের খেটে খাওয়া মানুষের উপর সংঘটিত
অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তোলা কণ্ঠস্বর। তাঁর বামপন্থী চিন্তাধারায় কখনও মরচে পড়ে নি।

গণসঙ্গীতের বর্তমান ধারা সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “নতুন গান কই? পুরানো গানই  
চলছে।”

তাঁর গানের খাতার সব গানেই তিনি সুর দিয়েছেন। কিন্তু কোনো স্বরলিপি করা হয় নি। দুঃখের বিষয় এই
যে তাঁর অধিকাংশই কোনো কবিতা বা গানের বই আকারে আজও প্রকাশিত হয় নি। তাঁর গানগুলির
স্বরলিপির একটি সংকলন হওয়া খুব প্রয়োজন।

আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ এই জন্য যে তিনি তাঁর রচিত বেশ কিছু গান এখানে প্রকাশিত করার অনুমতি
দিয়েছেন। তাঁর “আমি মানুষ” ক্যাসেটের ৮টি গান বাদে, বেশীরভাগ গান, এখানেই প্রথম প্রকাশিত হচ্ছে।
আমরা আরও কৃতজ্ঞ তাঁর কাছে, তাঁর এই অসুস্থ অবস্থায়, দীর্ঘ সময়ের সাক্ষাত্কারটি নেবার অনুমতি  
পেয়ে।

আমরা কবি রাজেশ দত্তর কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ, এই পাতাটি তৈরী করার সবরকম তথ্য, ছবি, গান
আমাদের দেবার জন্য তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে। আমরা কৃতজ্ঞ
কবি বিপুল চক্রবর্তীর কাছে যিনি কবি
প্রবীর বলের "আমি মানুষ" ক্যাসেটটি আমাদের দিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে। আমরা আরও
কৃতজ্ঞ
শ্রী চিররঞ্জন পালের  (+৯১৯৪৩৪৫১৬৮৯৮) কাছে তাঁর নানাভাবে এই পাতাটি তৈরী করতে সাহায্য
করার জন্য


মিলনসাগর কবি ও গীতিকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য বা বিভেদ বা বৈষম্য মানে না। তাই  মিলনসাগরে
যিনি গীতিকার তিনিই কবি।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি প্রবীর বলের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টাকে সার্থক মনে করবো।


কবি প্রবীর বলের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


উত্স     
  • “এবং জলার্ক” পত্রিকা থেকে জুন ১৯৯৭এ প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত, “যুদ্ধ জয়ের গান” গ্রন্থে,
    প্রবীর বলের সঙ্গে “পূবের আওয়াজ থেকে সাম্প্রতিক: প্রবীর বল” শিরোনামের সাক্ষাত্কার, ২০শে
    ডিসেম্বর ১৯৯৫।
  • প্রবীল বলের সঙ্গে ২৬শে আগস্ট ২০১৮ তারিখে নেওয়া একটি সাক্ষাত্কার। মিলনসাগরের পক্ষে
    সাক্ষাত্কারটি নিয়েছিলেন মিলন সেনগুপ্ত।    


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২৯.৮.২০১৮
এই পাতার সংশোধিত সংস্করণ - ১.৯.২০১৮
"স্মরণে মননে গণশিল্পী প্রবীর বল" লেখাটির
PDF মিলনসাগরে রাখা - ২৬.১০.২০২১।



...
শিক্ষা জীবন ও নকশালবাড়ী আন্দোলন   
প্রবীর বলের প্রথম গান গাওয়া   
সঙ্গীতশিক্ষা গণসঙ্গীতের দল ও সঙ্গীত জীবন    
গণসঙ্গীতকার প্রবীর বলের ক্যাসেট “আমি মানুষ”   
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের “বাংলা জ্বলছে” সিডিতে প্রবীর বলের গান    
প্রবীর বলের কর্ম জীবন কম্পিউটর প্রযুক্তির প্রথম সারিতে   
কাস্টমস্ ফুটবল টীমের খেলোয়ার   
দুরারোগ্য ক্যানসারের শিকার এই কণ্ঠশিল্পী   
প্রবীর বলের রচনা    
*
কবি প্রবীর বল - জন্মগ্রহণ করেন
কলকাতায়। পিতা সুবোধ বল ও মাতা
মীনা বল দুজনেই গণসঙ্গীত গাইতেন
এবং কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তাঁরা থাকতেন বেহালায়। পিতা চাকরী
করতেন কলকাতা পোর্টট্রাস্টে। ১৯৮২
সালে তিনি বাণী বলের সঙ্গে বিবাহসূত্রে
আবদ্ধ হন। বাণীদেবীও বামপন্থী  
আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের
এক পুত্র অর্কনাভ এখন সুপ্রতিষ্ঠিত।
ভর্তি হন। পারিবারিক গণসঙ্গীতের পরিবেশের সূত্রে তিনি নকশালবাড়ী আন্দেলনের গণসাংস্কৃতিক দিকের
মানুষজনদের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

ষাটের দশকের শেষ দিকে, নকশালবাড়ী কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে, মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে
বিভাজন হয়ে যায়। এক দিকে সি.পি.আই.এম. দল যাঁরা সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে এগোচ্ছিলেন এবং
অন্যদিকে নকশালবাড়ী আন্দোলনকারীরা যাঁরা নিজেদের সি.পি.আই (এম.এল) অর্থাৎ মার্কসিস্ট-লেনিনিস্ট
বলতেন। কলকাতার অলিতে গলিতে দুপক্ষের মধ্যে বোমা-গোলা-গুলি সহকারে খণ্ডযুদ্ধ নিত্যকার ব্যাপার
হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তেমনই একটি সংঘাতময় ক্ষণে তাঁর ডান পা ঘেঁষে গুলি চলে যায় এবং এমন ক্ষত ক’রে,
যার দাগ আজও মিলিয়ে যায় নি।

এই পটভূমিকায় প্রবীর বল নকশালবাড়ী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ায়, পড়াশুনা আর শেষ করে উঠতে পারেন
নি।
*
প্রবীর বলের প্রথম গান গাওয়া -                                                      পাতার উপরে . . .   
“এবং জলার্ক” পত্রিকার সঙ্গে, ২০শে ডিসেম্বর ১৯৯৫ তারিখের সাক্ষাত্কারে, প্রবীর বল নিজেই জানিয়েছিলেন
যে, কবির শৈশবে, পিতা সুবোধ বল তাঁকে তাঁর সাইকেলের সামনের রডের উপর বসিয়ে এবং মাকে  
পিছনের কেরিয়ারে বসিয়ে একের পর এক মিটিঙে গান গেয়ে বেড়াতেন। এমন গণসঙ্গীতের পরিবেশে মানুষ
হয়ে, কবি তাঁর হাফপ্যান্ট পড়া অবস্থা থেকেই নানা মিটিং-এ একক গান গেয়েছেন। তিনি গাইতেন  
গণসঙ্গীতকার
অজিত পাণ্ডের “ও নুরুলের মা চোখের জলে” গানটি। সাধারণতঃ গানটি অজিত পাণ্ডে,  
মিটিঙে উপস্থিত থাকলে নিজেই গাইতেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে গানটি গাইবার দায়িত্ব এসে পড়তো কিশোর
প্রবীর বলের উপরে।

গানের মাধ্যমেই তাঁর নকশালবাড়ী আন্দোলনের রাজনীতিতে প্রবেশ। তাঁদের বাড়ীতে যাতায়াত ছিল
কবি
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, হরিদাস মালাকার, বিমল চ্যাটার্জী, সরোজ দত্ত প্রমুখদের। একবার পুলিশ  তাঁদের  
ধরেন, কিন্তু তাঁদের "বিপজ্জনক" মনে না হওয়ায় আক্রা-মেটিয়াবুরুজ অঞ্চলে থাকার ব্যবস্থা করে দেন
যাতে তাঁরা আর বেহালা অঞ্চলে না থাকেন।
*
সঙ্গীতশিক্ষা, গণসঙ্গীতের দল ও সঙ্গীত জীবন -                                    পাতার উপরে . . .   
মূলতঃ গায়ক প্রবীর বল, পিতা-মাতার গানের পরিবেশে থেকেই গান শিখেছেন। আক্রা-মেটিয়াবুরুজ   
এলাকার অরুণ প্রকাশ চ্যাটার্জী তাঁকে ২-৩বছর প্রথাগত গানের তালিম দিয়েছিলেন, যা তাঁকে আগামীতে
গানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাহায্য করেছিল।

কবি-গণসঙ্গীতকার হিসেবে প্রবীর বল, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে দল গড়ে গান পরিবেশন করেছেন। ১৯৭৬
সালের পরে বেহালার সন্তোষপুরে কয়েকজন মিলে “যান্ত্রিক” নামের একটি গণসঙ্গীতের দল তৈরী করেন।
১৯৭৭ সালে, শুভেন্দু হালদার, চন্দন, তাপস মাইতি ও স্বপ্না দাস মিলে শুরু করেন নতুন গণসঙ্গীতের দল  
“পূবের আওয়াজ”। ১৯৯০-৯১ সাল পর্যন্ত দলটি গণসঙ্গীতের দল হিসেবে সক্রিয় থেকে শেষে নাটকের  দল
হয়ে যায়। তাঁরা বেশীরভাগ গাইতেন
লিল চৌধুরী, বিজন ভট্টাচার্য, হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান। পরে প্রবীর বল,
নিজের সুরে
সুকান্ত ভট্টাচার্যর “হিমালয়” এবং তাঁর নিজের সুরে-কথায় এবং এক বন্ধুর লেখা গানও গাইতে
শুরু করেন। গাইতেন গণসঙ্গীতকার
বিপুল চক্রবর্তীরঝিম ঝিম নিশা লাগে”, “বিরুদ্ধতার চাবুক” , "কেন খরা
ও বন্যা" প্রভৃতি  গানও (গানগুলি ক্লিক করে শুনুন বিপুল চক্রবর্তীর কণ্ঠে)। এছাড়া গাইতেন দিলীপ বাগচীর
হিমালয়ের সোনা গলা জলে” গানটিও (ক্লিক করে শুনুন নিশান্তিকা গণসঙ্গীত গোষ্ঠীর প্রকাশিত সি.ডি.  
"তরাইয়ের গান" থেকে
)।

গণসঙ্গীতকার দিলীপ বাগচীর সঙ্গে দেখা হবার পর তিনি নিজে গানটি গেয়ে শুনিয়েছিলেন। প্রবীর বলও তাঁর
করা সুরে এই গানটি দিলীপ বাগচীকে শোনান। শোনার পরে দিলীপ বাগচী বলেছিলেন, “ভাল হয়েছে গাইতে
পার”। একবার, উত্তরবঙ্গের সুশ্রুতনগরে অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ পাড়ার একটি অনুষ্ঠানে, তাঁদের
গান শুনে
হেমাঙ্গ বিশ্বাস তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।

আসামের কার্বি-আংলাং-এ গিয়ে একসঙ্গে কিংবদন্তী কবি ও গায়ক
ভূপেন হাজারিকার সঙ্গে গান গেয়েছেন।

একবার বম্বেতে সেন্ট্রাল রেভিনিউ ডিপার্টমেন্টের একটি গানের অনুষ্ঠানে তাঁর গাওয়া ভজন শুনে
পণ্ডিত  
যশরাজ
তাঁকে জড়িয়ে ধরে আশীর্বাদ করেছিলেন।

সেন্ট্রাল রেভিনিউ ডিপার্টমেন্টের সর্বভারতীয় অনুষ্ঠানগুলিতেও তিনি গান গেয়ে সুনাম অর্জন করেছিলেন।
তাঁর গৃহে, সযত্নে রাখা আছে তাঁর কর্মজীবনে পাওয়া, তাঁর গানের অনুষ্ঠানের বহু সাম্মানিক স্মারক।

গণসঙ্গীতকার হিসেবে তিনি গান গেয়ে বেরিয়েছেন পূর্ব ও পূর্বোত্তর সহ সারা ভারতবর্ষ জুড়ে। কলকাতা,
বম্বে, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, কোচিন, ভূবনেশ্বর ও আসামের বিভিন্ন শহরে তিনি গান গেয়েছেন।

সি.পি.আই.এম.এল (লিবারেশন) পার্টির গণ-সাংস্কৃতিক শাখা “পশ্চিমবঙ্গ গণসংস্কৃতি পরিষদ”-এর সঙ্গে  তিনি
দীর্ঘকাল যুক্ত। তাঁদেরই সৌজন্যে, ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয় “আমি মানুষ”, তাঁর একমাত্র গানের ক্যাসেট।

প্রবীর বলের গায়কীতে প্রয়াত মহান শিল্পী মান্না দের মুন্সিয়ানার ধারা লক্ষ্য করে সেই কথা তুলতে তাঁর স্ত্রী
বাণী দেবী বললেন যে, যখন তিনি আক্রা-মেটিয়াবুরুজ অঞ্চলে থাকতেন, সেই তরুণ বয়েসে, তিনি বিভিন্ন
অনুষ্ঠানে মান্না দের গাওয়া গানও গাইতেন। গান শুনে খুশি হয়ে শ্রোতারা তাঁকে টাকার মালা
পরিয়ে পুরস্কৃত করতেন।
*
গণসঙ্গীতকার প্রবীর বলের ক্যাসেট “আমি মানুষ” -                              পাতার উপরে . . .   
১৯৯৫ সালে সাগরিকা থেকে প্রকাশিত হয় “আমি মানুষ” নামে প্রবির বলের একটি গণসঙ্গীতের ক্যাসেট।
ক্যাসেটটি দীর্ঘকাল আর পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষে কবি বিপুল চক্রবর্তী তাঁর সংগ্রহ থেকে এই ক্যাসেটটি
আমাদের খুঁজে বার করে দিয়েছেন। মিলনসাগরে আমরা এর জন্য কবি বিপুল চক্রবর্তীর কাছে কৃতজ্ঞ  
থাকলাম।

ক্যাসেটটিতে যে যে গান রয়েছে তা নীচে দেওয়া হলো। গানগুলি শুনতে নীচে গানের জানালায় যেতে হবে।

সাইড এ
১। এই দেশে এই মাটির বুকে
২। হৃদয় আমার জুড়াস না
৩। আমি মানুষ
৪। বরফে বারুদ ঢেকো না
৫। আনত নয়নে

সাইড বি
৬। কোনখানে ঐ কোনখানে
৭। প্রতিদিন বাঁচার লড়াই
৮। প্রতিরোধের আওয়াজ
৯। কমরেড বলে ডাক দিলে কেউ (কথা ও সুর অশোক দে)

উপরোক্ত শেষ “কমরেড বলে ডাক দিলে কেউ” গানটি, লিখেছিলেন কবি অশোক দে। ক্যাসেট কোম্পানির
কর্মকর্তাদের ভুলে একথা সেখানে লেখা হয়নি। ১৯৯০ সালের প্রকাশিত,
কবি সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত     
“গণসঙ্গীত  সংগ্রহ”-এ এই গানটি অশোক দের নামেই দেওয়া রয়েছে। আমরা দেখেছি যে এই গানটি কবি
প্রবীর বলের গানের খাতায় লেখা রয়েছে। কিন্তু তিনি গানটি দেখা মাত্রই বলেন, এই গানটি তাঁর লেখা নয়।

এই ক্যাসেটটি রেকর্ড করার সময় প্রবীর বল আরও একটি গান গেয়ে রেকর্ড করেছিলেন। গানটি ছিল
কবি
নীতীশ রায়ের। কিন্তু ক্যাসেটের স্থানাভাবে সেই গানটি ক্যাসেটে দেওয়া সম্ভব হয়নি। “এবং জলার্ক”   
পত্রিকার সঙ্গে, ২০শে ডিসেম্বর ১৯৯৫ তারিখের সাক্ষাত্কারে, প্রবীর বল নিজেই এই কথা জানিয়েছিলেন।
দুঃখের বিষয় এই যে এতকাল পর আমাদের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময় তিনি আর সেই গানটি মনে করতে
পারলেন না।

“আমি মানুষ” ক্যাসেটের যন্ত্রশিল্পীরা ছিলেন . . .
সিন্থেসাইজার - গৌতম সোম, সুভাষ মণ্ডল, অক্টোপ্যাড - সিদ্ধার্থ চ্যাটার্জী, বাঁশী - উদয় দে,
তবলা - জয় নন্দী, সুমন দাস, ঢোলক - বাবুয়া লোধ, অ্যাকস্টিক গীটার - দেবব্রত রায়,
ব্যানজো - তাপস রায়, পারকাসন - সমীরণ আচার্য্য, অ্যাকস্টিক ও বেস গীটার - মধু মুখোপাধ্যায়।

যন্ত্রানুষঙ্গ পরিচালনা করেছিলেন মধু মুখোপাধ্যায়, শব্দগ্রহণ করা হয় স্টুডিও জে এম ডি সাউন্ড-এ,
শব্দযন্ত্রী ছিলেন সমীর দাস ও সফি।
*
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের “বাংলা জ্বলছে” সিডিতে প্রবীর বলের গান -    পাতার উপরে . . .   
২০০৬ সালের অগাস্ট মাসে শুরু হয় সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন। বাম-ডাম সব মতাদর্শের মানুষই এই
আন্দোলনে সরাসরি অংশ গ্রহণ করেছিলেন। বহু মানুষ কবিতা, গান ও ছবি এঁকেও প্রতিবাদ করেছিলেন।
রচিত হয়েছিল বহু প্রতিবাদী গান ও কবিতা। সেই বিশাল প্রতিবাদী সাহিত্যের একটি বড় অংশ  
মিলনসাগরের সংরক্ষিত করা হয়েছে . . .         

সেই আন্দোলনে, ২০০৮সালের জানুয়ারী মাসে,
কবি মানিক মণ্ডলের নির্দেশনায়, দেবাশিস  রায়ের সুরে,
অমিত রায়ের সঙ্গীতায়োজনে এবং দুষ্টকবির কথায় প্রকাশিত হয়েছিল একটি জনপ্রিয় ভিডিও ও অডিও
সিডি “
বাংলা জ্বলছে” (এখানে ক্লিক করে সব ক'টি গান ও আবৃত্তি শুনতে পারবেন)। সেই সিডিতে প্রবীর
বলের কণ্ঠে দুটি গান রয়েছে। একটি একক “
অসীম যাতনা”  এবং একটি অমিত রায়ের সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে
বাংলা জ্বলছে তাই জ্বলুক”।

এই সিডির সবগুলি গানই জনপ্রিয়তা লাভ করে। অমিত রায় ও প্রবীর বলের গাওয়া “
বাংলা জ্বলছে তাই
জ্বলুক” গানটি তো গ্রামে-গঞ্জে-রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বিরোধীরা মাইকে মাইকে বাজাতেন। একক প্রবীর
বলের “
অসীম যাতনা” গানটি দীর্ঘ আট মিনিটের হলেও, সুর, কথা এবং সর্বোপরি তাঁর গায়কীর জোরে  
শ্রোতাদের টেনে রেখে, মন ভরিয়ে দিতে সমর্থ হতো! পরিবর্তনের পরে “বাংলা জ্বলছে” সিডির গান কোথাও
শোনা,  গাওয়া বা বাজানো না হলেও, আন্দোলন চলাকালীন, বিরোধীদের দ্বারা সিঙ্গুর-অবরোধের সময়,  
আন্দোলনকারীদের স্টল থেকে সিডিটি কেনার জন্য দীর্ঘ লাইন পড়তে দেখা গেছে!

এই আন্দোলনে তিনি কেবল গানই গান নি, তাঁর, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল
এবং আন্দোলন চলাকালীন তাঁর সেখানে যাতায়াত ছিল। নকশালবাড়ী বা নন্দীগ্রাম, তাঁর মতে কোন  
আন্দোলনে যদি মানুষকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়, তবে সে আন্দোলন এক নতুন মাত্রা লাভ করে।
*
প্রবীর বলের কর্ম জীবন কম্পিউটর প্রযুক্তির প্রথম সারিতে -                     পাতার উপরে . . .   
তিনি কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৭৫ সালে, কলকাতার পিয়ারলেস কোম্পানিতে ডাটা-এন্ট্রি-প্রসেসিং বিভাগে
যোগ দিয়ে। তখন বিশ্বে কমপিউটর, সবে পরীক্ষাগার ও ইউনিভার্সিটি ছাড়িয়ে কিছু কিছু কাজ-কর্মে  
ব্যবহৃত হওয়া শুরু হয়েছিল বড় বড় সংস্থায়। ল্যাপটপ তখনও সুদূর ভবিষ্যতের গর্ভে, পি.সি-র  
(পারসোনাল কম্পিউটার) দেখা তখনও মেলেনি!

এর পর, ১৯৮২ সালে তিনি ভারত সরকারের বহিঃশুল্ক বিভাগে (কাস্টমস্) কম্পিউটর ও ডাটা-এন্ট্রি-
প্রসেসিং বিভাগে যোগ দিয়ে, সেই বিভাগের পত্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন।

কলকাতাতেই এই কাজ ভারত সরকার প্রথম শুরু করেছিলেন। এখান থেকেই পরে তা দিল্লী, বম্বে, চেন্নাই ও
অন্যান্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময়ে তিনি কাস্টমসের কর্মচারীদের এই নতুন প্রযুক্তির প্রশিক্ষক
হিসেবেও কাজ করেছিলেন। ক্রমে তিনি বিভিন্ন বিভাগীয় পরীক্ষা-প্রশিক্ষণের স্তর পার হয়ে, সারা ভারতের
বিভিন্ন জায়গায় দক্ষতা ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ ক’রে ২০১৭ সালে, কাস্টমস্ বিভাগের গেজেটেড অফিসারের
পদে অবসর গ্রহণ করেন।
*
কাস্টমস্ ফুটবল টীমের খেলোয়াড় -                                                  পাতার উপরে . . .   
তিনি খেলাধূলায় তুখোড় ছিলেন। বিশেষ করে ফুটবলে। সেই ধারা কর্মজীবনেও বজায় রেখেছিলেন এবং
তিনি কাস্টমস্-এর ফুটবল দলের খেলোয়াড় হয়েছিলেন। সেই সূত্রে পাওয়া বিভিন্ন সাম্মানিক স্মারক এখনও
সযত্নে রাখা তাঁর গৃহে, সেই উজ্জ্বল দিনগুলির কথা মনে করিয়ে দেয়।

মাঝে মাঝে অবাক হই যখন ভাবি যে প্রবীর বল একাধারে নকশাল আন্দোলন---যেখানে তাঁর প্রাণ-সংশয়
হয়েছিল, সঙ্গীত ও গণসঙ্গীত, প্রযুক্তির আধুনিকতম সারিতে থেকে কর্মজীবন কাটানো এবং খেলাধুলা,
জীবনের এই সব ক’টি দিকই, তিনি দিগভ্রষ্ট না হয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন এক জীবনেই। প্রতিটি
ক্ষেত্রেই তিনি, সাধারণ থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে অসাধারণত্বে, নিজের মেধাকে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন।
*
দুরারোগ্য ক্যানসারের শিকার এই কণ্ঠশিল্পী -                                      পাতার উপরে . . .   
কর্মজীবনের শেষ দিকে এসে তাঁর দুরারোগ্য ক্যানসার রোগ ধরা পড়ে। ব্যাধির কষ্টের চেয়ে গান না গাইতে
পারার কষ্ট আরও অনেক গুণ। কোনও কণ্ঠশিল্পীর, এর থেকে কঠিন সাজা আর কি হতে পারে?

তাঁর বন্ধুবর্গ, পরিচিত জনেরা তাঁর সুন্দর ব্যবহার ও ব্যক্তিজীবনের সততায় মুগ্ধ। আমরা দেখেছি যে,
কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যখন তিনি অন্য কারও গান গেয়েছেন, তখন তিনি গানের সুর ও সুরকারের ভাবনাচিন্তা
কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, তিনি যতই নবীন বা অনামী হোন না কেন।
*
“এবং জলার্ক” পত্রিকা থেকে জুন ১৯৯৭এ প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী
সম্পাদিত, “যুদ্ধ জয়ের গান” গ্রন্থে, ২০শে ডিসেম্বর ১৯৯৫ তারিখে নেওয়া
প্রবীর বলের সঙ্গে “পূবের আওয়াজ থেকে সাম্প্রতিক: প্রবীর বল”
শিরোনামের সাক্ষাত্কারটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
এর জন্য আমরা তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ . . .
"স্মরণে মননে গণশিল্পী প্রবীর বল"
সাহিত্য সংস্কৃতি ও সমাজ বিষয়ক দ্বিমাসিক পত্রিকা "সম্প্রীতি মনন"-এর
প্রবীর বল স্মরণ সংখ্যার পিডিএফ কপি। প্রকাশকাল: মার্চ - অক্টোবর
২০২০। যুগ্ম সম্পাদক - অমিত দাগুপ্ত ও দীপক মিত্র।
শিক্ষা জীবন ও নকশালবাড়ী আন্দোলন-
প্রবীর বলের স্কুল জীবন কাটে কলকাতার
বেহালার কিশোর ভারতী হাইস্কুলে। সেখান
থেকে ১৯৭৩ সালে তিনি হায়ার সেকেণ্ডারী
পরীক্ষায় ( তখন ১১ ক্লাস ) উত্তীর্ণ  হয়ে  
কলকাতার, বালিগঞ্জের সাউথ সিটি কলেজে