মুসলমান বৈষ্ণব কবি সম্বন্ধে যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্যর উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . .
১৯৪৫ সালে, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য তাঁর সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান কবি” গ্রন্থে, কেন
কিছু মুসলমান কবি বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন হলেন তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে, গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন . . .
“. . . রাম ও কৃষ্ণের উপর দেবত্ব আরোপিত হওয়ায় সেই-সকল কাহিনী (রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদি) ইঁহারা
তাঁহাদের নবলব্ধ ধর্ম্মের আদর্শের সহিত সামঞ্জস্য করিয়া মানিতে পারিলেন না। তাই কালক্রমে এদেশীয়
মুসলমানদের নিকট বহুদেবতার পূজক হিন্দুদের ধর্ম্মকাহিনী পাঠের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হইয়া উঠিল। চর্চ্চার
অভাবে এইজাতীয় অধিকাংশ কাহিনীই মুসলমানরা কালক্রমে ভুলিয়া গেলেন। কিন্তু চৈতন্যযুগে যখন প্রেমের
প্রবল বন্যায় বঙ্গদেশ প্লাবিত, তখন তাহা মুসলমানদের আঙ্গিনার মধ্যেও প্রবেশ করিল। প্রায় সেই সময়ই
প্রেমপূর্ণ বৈষ্ণব-হৃদয়ের উচ্ছ্বাস পদাবলীরূপে পরিস্ফুট হইয়া নৃত্যে ও সঙ্গীতে বাঙ্গালার গগন-পবন মুখরিত
করিয়া তুলিল। এই প্রেমসঙ্গীত-মন্দাকিনী শুধু হিন্দুর গৃহপাশেই প্রবাহিত হয় নাই, মুসলমানদের আঙ্গিনার
পাশ দিয়াও প্রবাহিত হইয়াছে। তাহার ফলে হিন্দুরা এই মন্দাকিনীর পূতবারি পানে যেরূপ কৃতার্থ হইয়াছেন,
মুসলমানরা সেইরূপ না হইলেও প্রেমতৃষ্ণা নিবারণের জন্য এই ধারা হইতে যে সময় সময় বারি গ্রহণ
করিয়াছেন, তাহাতে সন্দেহের অবকাশ নাই। হিন্দু কবিরা এই ভাবগঙ্গায় স্নাত হইয়া জাহ্নবীর অশেষ
বীচিবিভঙ্গতুল্য অসংখ্য কবিতায় প্রেমিক-প্রেমিকার শাশ্বতমূর্ত্তি রাধাকৃষ্ণের লীলা বর্ণনা করিয়াছেন।
মুসলমানদের মধ্যে কেহ কেহ এই ভাবের প্রভাবে প্রভাবিত হইয়া রাধাকৃষ্ণ নাম উল্লেখ করিয়া প্রেমের কথা
গাহিয়াছেন।”
আমরা মিলনসাগরে কবি অনন্ত-এর বৈষ্ণব পদাবলী তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।
কবি অনন্ত-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
কবি অনন্ত আচার্যের-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
কবি অনন্ত দাস-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
কবি অনন্ত রায়-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১২.৬.২০১৯
...
অন্যদিকে এক অনন্ত রায়ের উল্লেখ রয়েছে “রসিকমঙ্গল” গ্রন্থে।
শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর সম্পাদক সতীশচন্দ্র রায়ের মতে সাধারণত “রায়” উপাধির সঙ্গে “আচার্য্য” উপাধি সংযুক্ত
দেখা যায় না। তাই তিনি মনে করতেন যে “অনন্ত রায়” এবং “অনন্ত আচার্য্য” সম্ভবত ভিন্ন ব্যক্তি।
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) সংকলিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থের অনন্ত ভণিতার "গোরা নাচে প্রেমবিনোদিয়া"
পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”-তে বলরাম দাস ভণিতায় দেওয়া রয়েছে।
মুসলমান বৈষ্ণব কবি সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . .
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক, শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, জলধর সেন
সম্পাদিত “ভারতবর্ষ” পত্রিকার কার্তিক, ১৩২৩ সংখ্যায় (অক্টোবর ১৯১৬), তাঁর “বৈষ্ণব-কবিগণের
পদাবলী” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
“মুসলমান কবিগণ এক-সময়ে কবিতাকারে রাধাকৃষ্ণের প্রেম-বর্ণনায় প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন,---এখন এই
ভেদবুদ্ধির দিনে এ কথা নিতান্ত বিচিত্র বলিয়াই বোধ হইবে। কিন্তু বিচিত্র বোধ হইলেও, তাহা একান্ত সত্য
কথা,---তাহাতে বিস্মিত হইবার কিছুই নাই। মুসলমান কবিগণ সত্যসত্যই রাধাকৃষ্ণের প্রেমসুধা-পানে
বিভোর হইয়াছিলেন। সেই সুধাপানে কেহ-কেহ অমরতাও লাভ করিয়া গিয়াছেন। তাঁহাদের লীলারস
প্রকটনে অনেকে এমনই তন্ময়চিত্ত হইয়াছিলেন যে, ভণিতাটুকু উঠাইয়া দিলে---কবিতাটি হিন্দুর, কি
মুসলমানের রচনা, তাহা চিনিয়া লওয়া অসম্ভব বিবেচিত হইবে। জাতিধর্ম্মের ব্যবধানে থাকিয়া একজন
কবির এরূপ প্রসংশা-লাভ করা সামান্য গৌরবের কথা নহে। সৈয়দ মর্ত্তুজা, নাছির মহাম্মদ, মীর্জ্জা ফয়জুল্লা
প্রভৃতি কবিগণের পদাবলী কবিত্বে ও মাধুর্য্যে যে-কোন হিন্দু বৈষ্ণব-কবির পদাবলীর সহিত তুলনীয়।”
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . .
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক, শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র
সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের
একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
“. . . বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ
আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই।”
এই কবিদের পরিচয় নিয়ে ব্রজসুন্দর সান্যালের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . .
ব্রজসুন্দর সান্যাল তাঁর “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”-এর “জীবনী আলোচনা”-তে লিখেছেন . . .
“ . . . ‘মুসলমান বৈষ্ণব কবির’ বর্ত্তমান খণ্ডে সৈয়দ আলাওল, মীর্জা ফয়জুল্লা, মীর্জা কাঙ্গালী, সৈয়দ
আইনদ্দিন, নাছির মহম্মদ, সৈয়দ নাছিরদ্দিন, সেরচান্দ বা সেরবাজ, এবাদোল্লা, আবাল ফকির, মোছন আলী,
মহম্মদ হানিফ এবং আলিমদ্দিন,---এই দ্বাদশ জন কবির পদাবলী প্রকাশিত হইল। ইহাঁদের মধ্যে মহাকবি
আলাওলের বৃত্তান্ত পৃথকভাবে লিপিবদ্ধ হইল। অবশিষ্ট কবিগণের সম্বন্ধে আমাদের গবেষণার হুল কিছুমাত্র
প্রবেশ করিতে পারে নাই। প্রাচীন কবিগণ সাহিত্য-সংসারে একান্ত কুহেলিকাচ্ছন্ন। তাঁহাদের জীবনী
জানিবার অভিলাষ করা আর অন্ধকারে ঢিল ছোড়া প্রায় সমানই বটে!”
কবি অনন্ত আচার্য্য - পাতার উপরে . . .
কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃতের আদি লীলায় তিন জায়গায় অনন্ত আচার্যের উল্লেখ রয়েছে।
ছুচ্ছুন্দরীবধ কাব্য খ্যাত জগবন্ধু ভদ্রের গৌরপদতরঙ্গিণী তে পদকর্ত্তৃগণের পরিচয়ে, ৭৩-পৃষ্ঠায় জানিয়েছেন
যে তিনি মনে করেন যে কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃতে উল্লিখিত অনন্ত আচার্য্যদ্বয় (তিনি নিম্নে
দেওয়া ২৫৮ ও ৩০৭ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত) একই ব্যক্তি। ৩০৪-পৃষ্ঠায় তৃতীয়জনের নাম ভাগবতাচার্য্যের সঙ্গে
যেভাবে রয়েছে, তাতে আমাদের মনে হচ্ছে যে ইনিও একই ব্যক্তি।
এই অনন্ত আচার্য্য বৃন্দাবনে গিয়ে গোবিন্দের অধিকারী হয়েছিলেন। ভক্তিরত্নাকরের ১৩শ তরঙ্গে রয়েছে
এর উল্লেখ যা নীচে দেওয়া হলো।
আমাদের কাছে কবির কোনো ছবি নেই। কেউ আমাদের যদি একটি ছবি পাঠান তাহলে আমরা কতজ্ঞতাস্বরূপ এখানে প্রেরকের নাম উল্লেখ করবো। আমাদের ইমেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
|
|
|
কবি অনন্ত দাস - পাতার উপরে . . .
কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃতের আদি লীলায় এক জায়গায় অনন্ত দাসের উল্লেখ রয়েছে, যা আমরা
নীচে দিয়েছি। ইনিই সংশ্লিষ্ট কবি বা পদকর্তা ছিলেন কি না তা জানা যায় না। অনন্ত দাসের পদ সর্বপ্রথম
আমরা পাই বিশ্বনাথ চক্রবর্ত্তী ওরফে হরিবল্লভ সংকলিত “ক্ষণদাগীত চিন্তামণি”-তে।
বৈষ্ণবদাসের পদকল্পতরুর "অনন্ত দাস" ভণিতার অন্তত দুটি পদ অন্য গ্রন্থে গোবিন্দদাস ভণিতায় এবং
একটি পদ বলরাম দাসের ভণিতায় পাওয়া গিয়েছে। "পদকল্পতরুর" ৪১১ সংখ্যক "চল চল মাধব করহ
পয়ান" পদটি কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ২০|১৫ সংখ্যাক পদ এবং "পদকল্পতরুর" ৩৫৫
সংখ্যক "চান্দ-বদনি ধনি চলু অভিসার" পদটি, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৪৬৭ সংখ্যক
পদ হিসেবে গোবিন্দদাস ভণিতায় পাওয়া গিয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) সংকলিত
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”-গ্রন্থের "অনন্ত দাস" ভণিতার "আজু রসে বাদর নিশি" পদটি পদকল্পতরুতে
নরোত্তম ভণিতায় ১২৯৬ সংখ্যক পদ হিয়েবে দেওয়া রয়েছে।
কবি অনন্ত রায় - পাতার উপরে . . .
জগবন্ধু ভদ্র তাঁর গৌরপদতরঙ্গিণী তে পদকর্ত্তৃগণের পরিচয়ে, ৭৩-পৃষ্ঠায় এক অনন্ত রায়ের উল্লেখ করেছেন
যাঁর কথা “রসিকমঙ্গল” গ্রন্থে রয়েছে। তিনি দুঃখী কৃষ্ণদাস বা শ্যামানন্দপুরীর প্রশিষ্য ও রসিকানন্দের শিষ্য
ছিলেন বলে উল্লিখিত রয়েছে। অন্য কোনও অনন্ত রায়ের উল্লেখ না পাওয়া পর্ষন্ত এনাকেই অনন্ত রায়
ভণিতার পদকর্তা বলে মেনে নেওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে তিনি চৈতন্য-পরবর্তী কবি।
কবি অনন্ত পণ্ডিত - পাতার উপরে . . .
জগবন্ধু ভদ্রের গৌরপদতরঙ্গিণী তে পদকর্ত্তৃগণের পরিচয়ে, ৭৩-পৃষ্ঠায় তিনি এক অনন্ত পণ্ডিতের উল্লেখ
করেছেন। বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবতের অন্ত্য খণ্ডের ২য় অধ্যায় তে তাঁর উল্লেখ রয়েছে যে শ্রীচৈতন্য
মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণ করার পরে শান্তিপুর থেকে নীলাচল যাবার পথে, আটসারা গ্রামে এক অনন্ত পণ্ডিতের
গৃহে একরাত্রি বাস করেন এবং সারারাত ধরে কৃষ্ণ-কথা ও কীর্ত্তনাদির মধ্যে কালাতিপাত করেন। নীচে. . .
কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃতে অনন্ত আচার্য্যের উল্লেখ - পাতার উপরে . . .
১২৯৬ বঙ্গাব্দে (১৮৮৯ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, জগদীশ্বর গুপ্ত সম্পাদিত, কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃতের
আদি-লীলার অষ্টম পরিচ্ছেদ, গ্রন্থবিবরণং নামাষ্টম পরিচ্ছেদ, ২৫৮-পৃষ্ঠায় এক অনন্ত আচার্য্যের বেশ
বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে যিনি কৃষ্ণদাস কবিরাজকে আদেশ দিয়েছিলেন গৌরাঙ্গের শেষ লীলা বর্ণন
করার . . .
পণ্ডিত গোসাঞির শিষ্য অনন্ত আচার্য্য ;
কৃষ্ণ প্রেমময় তনু, উদার সর্ব্ব আর্য্য।
তাঁহার অনন্ত গুণ কে করু প্রকাশ?
তাঁর প্রিয় শিষ্য এই পণ্ডিত হরিদাস।
চৈতন্য নিত্যানন্দে তাঁর পরম বিশ্বাস ;
চৈতন্য তরিতে চাঁর পরম উল্লাস ;
বৈষ্ণবের গুণ গ্রাহী, না দেখয়ে দোষ ;
কায়মনোবাক্যে করে বৈষ্ণব সন্তোষ।
নিরন্তর শুনে তিঁহ চৈতন্য মঙ্গল ;
তাঁহার প্রসাদে শুনে বৈষ্ণব সকল।
কথায় উজলে সভা যেন পূর্ণচন্দ্র ;
তিঁহ বড় কৃপা করি আজ্ঞা দিল মোরে,
গৌরাঙ্গের শেষ লীলা বর্ণিবার তরে।
১২৯৬ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত, জগদীশ্বর গুপ্ত সম্পাদিত, কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃতের আদি-লীলার
দ্বাদশ পরিচ্ছেদের অদ্বৈতস্কন্ধ শাখা বর্ণন, ৩০৪-পৃষ্ঠায় এক অনন্ত আচার্য্যের উল্লেখ রয়েছে। ইনিই সংশ্লিষ্ট
কবি বা পদকর্তা ছিলেন কি না তা জানা যায় না। . . .
ভাগবতাচার্য্য আর বিষ্ণুদাসাচার্য্য ;
চক্রপাণি আচার্য্য আর অনন্ত আচার্য্য।
১২৯৬ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত, দগদীশ্বর গুপ্ত সম্পাদিত, কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃতের আদি-লীলার
দ্বাদশ পরিচ্ছেদের অদ্বৈতস্কন্ধ শাখা বর্ণন, ৩০৭-পৃষ্ঠায় এক অনন্ত আচার্য্যের উল্লেখ রয়েছে . . .
এই ত কহিল আচার্য্য গোঁসাঞির গণ ;
তিন স্কন্ধ শাখার কৈল সংক্ষেপ গণন।
শাখার উপশাখা, তার নাহিক গণন ;
কিছু মাত্র কহি করি দিগ্ দরশন।
শাখাশ্রেষ্ঠ ধ্রুবানন্দ, শ্রীধর ব্রহ্মচারী ;
ভাগবতাচার্য্য, হরিদাস ব্রহ্মচারী।
অনন্ত আচার্য্য, কবি দত্ত, মিশ্র নয়ন ;
গঙ্গা মন্ত্রী, মামু ঠাকুর, কণ্ঠাভরণ।
নরহরি চক্রবর্ত্তী বিরচিত “ভক্তিরত্নাকর”-এ অনন্ত আচায্যের উল্লেখ - পাতার উপরে . . .
১৯১৩ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, রামদেব মিশ্র সম্পাদিত, নরহরি চক্রবর্ত্তী বিরচিত “ভক্তিরত্নাকর”-এর ১৩শ তরঙ্গ,
শ্রীনিবাসাচার্য্য বিবাহাদিবর্ণন, ১০২০-পৃষ্ঠায় রয়েছে যে অনন্ত আচার্য্য বৃন্দাবনে গোবিন্দের অধিকারীর কর্মে
নিযুক্ত ছিলেন . . .
শুনি বীরচন্দ্রের গমন বৃন্দাবনে।
আগুসরি লইতে আসে সর্ব্বজনে॥
শ্রীজীবগোসাঞি শ্রীচৈতন্যপ্রেমময়।
কৃষ্ণদাস কবিরাজ গুণের আলয়॥
গদাধর পণ্ডিত গোসাঞি শিষ্যবর্ষ্য।
গোবিন্দের অধিকারী শ্রীঅনন্তাচার্য্য॥
তাঁর শিষ্য হরিদাস পণ্ডিত গোসাঞি।
গোবিন্দাধিকারি-গুণ কহি অন্ত নাই॥
কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃতে অনন্ত দাসের উল্লেখ - পাতার উপরে . . .
১২৯৬ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত, জগদীশ্বর গুপ্ত সম্পাদিত, কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃতের আদি-লীলার
দ্বাদশ পরিচ্ছেদের অদ্বৈতস্কন্ধ শাখা বর্ণন, ৩০৫-পৃষ্ঠায় এক অনন্ত আচার্য্যের উল্লেখ রয়েছে . . .
যাদব, বিজয় দাস, দাস জনার্দ্দন ;
অনন্ত দাস, কানু পণ্ডিত, দাস নারায়ণ।
বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবতে অনন্ত পণ্ডিতের উল্লেখ - পাতার উপরে . . .
১৯৩৯ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী সম্পাদিত, বৃন্দাবন দাস বিরচিত “চৈতন্যভাগবত”-এর অন্ত্য
খণ্ড, ২য় অধ্যায়, ৩৮২-পৃষ্ঠায় শ্রীঅনন্ত বা অনন্ত পণ্ডিত সম্বন্ধে রয়েছে . . .
হেন মতে প্রভু তত্ত্ব কহিতে কহিতে।
উত্তরিলা আসি আটিসারা নগরেতে॥
সেই আটিসারা-গ্রামে মহাভাগ্যবান্।
আছেন পরম সাধু --- শ্রীঅনন্ত নাম॥
রহিলেন আসি প্রভু তাঁহার আলয়।
কি কহিব আর তাঁর ভাগ্য-সমুচ্চয়॥
অনন্ত পণ্ডিত অতি পরম উদার।
পাইয়া পরমানন্দ বাহ্য নাহি আর॥
বৈকুণ্ঠের পতি আসি অতিথি হইলা।
সন্তোষে ভিক্ষার সজ্জ করিতে লাগিলা॥
সর্ব্ব-গুণ-সহ প্রভু করিলেন ভিক্ষাষ
সন্ন্যাসীর ভিক্ষা ধর্ম্ম করাইলা শিক্ষা॥
সর্ব্বরাত্রি কৃষ্ণ-কথা-কীর্ত্তন-প্রসঙ্গে।
আছিলেন অনন্তপণ্ডিতগৃহে রঙ্গে॥
শুভদৃষ্টি অনন্তপণ্ডিত প্রতি করি।
প্রভাতে চলিলা প্রভু বলি ‘হরিহরি’॥
অনন্তের কবিত্ব সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . .
সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত গোকুলানন্দ সেন ওরফে বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু
গ্রন্থের ভুমিকার ২০-পৃষ্ঠায় কবি অনন্তের কবিত্ব নিয়ে লিখেছেন . . .
"অনন্ত সুতবি ছিলেন। তিনি একদিকে জ্ঞানদাস প্রভৃতির ন্যায় সরল ভাষায় দুই চারিটি কথায় প্রাণের গভীর
উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করিতে পারিতেন ; অন্য দিকে আবার গোবিন্দ দাসের ন্যায় ভাব-পূর্ণ সুললিত পজ-বিন্যাসেও
অপটু ছিলেন না। অনন্তের “কি হেরিলুঁ কদম্ব-তলাতে” ইত্যাদি ১২৫ সংখ্যক পূর্ব্বরাগের সুললিত পদটী প্রথম
শ্রেণীর কবির অনুপযুক্ত নহেষ ঐ পদের---
কিশোর বয়স বেশ আর তাহে রসাবেশ
. আর তাহে ভাতিয়া চাহনি।
হাসির হিলোলে মোর পরাণ-পুতলী দোলে
. দিতে চাই যৌবন নিছনি॥
ইত্যাদি সরল ও কবিত্বপূর্ণ উক্তি দ্বারা কবি শ্রীরাধার প্রেম ও ব্যাকুলতা অতি অপূর্ব্বভাবে ব্যঞ্জিত
করিয়াছেন। অনন্তের “সজনি, ও কে নাগর তরু-মূলে” ইত্যাদি ১৪৮ সংখ্যক পূর্ব্বরাগের পদটীও অতি সুন্দর।
অনন্তের কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইলুঁ ইত্যাদি ৩৪৮ সংখ্যক পদটীও বেশ প্রশংসনীয়। অনন্তের ব্রজ-বুলীর
পদের সংখ্যা যদিও অল্প, কিন্তু তাঁহার বিকচ সরোজ ভাণ মুখ-মণ্ডল ইত্যাদি ১৬৮ সংখ্যাক ব্রজবুলীর পদে
তিনি যে রচনা-নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়াছেন, উহা বিলক্ষণ প্রশংসনীয়। অনন্তের বাকি পদগুলি যদি লুপ্ত
হইয়াও যায়, তাহা হইলেও অনন্তের এই চারিটী পদ তাঁহাকে পদাবলী-সাহিত্যে অমর করিয়া রাখিবে।
অনন্তে নিজে প্রথম শ্রেণীর কবি না হইয়াও যে, কয়েকটী প্রথম শ্রেণীর কবিতা লিখিতে সমর্থ হইয়াছেন, ইহা
বৈষ্ণব পদাবলী-সাহিত্যে একটা স্মরণীয় ঘটনা বলিয়া গণ্য হইতে পারে।"
অনন্ত দাসের পদকল্পতরুতে প্রকাশিত উপরোক্ত বিখ্যাত পদ “বিকচ সরোজ-ভান মুখ-মণ্ডল” পদটি তারও
অনেক পূর্বে আমরা প্রকাশিত পাই বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”-এর, চতুর্থ ক্ষণদা - কৃষ্ণা চতুর্থী-তে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে, “বরণি না হয় রূপ বরণ
চিকণিয়া” শিরোনামে। রাধামোহন ঠাকুরের “পদামৃতসমুদ্র” সংকলনেও পদটি "বরণি না হয় রূপ বরণ
চিকণিয়া" শিরোনামেই প্রকাশিত হয়েছিল। পদটি সর্বপ্রথম "বিকচ সরোজ-ভান মুখ-মণ্ডল” শিরোনামে
আমরা দেখতে পাই নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) সংকলিত ও বিরোচিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়”-তে। বৈষ্ণবদাসের পদকল্পতরুতে এই পদটি দুবার সন্নিবেশ করা হয়েছে “বিকচ সরোজ-
ভান মুখ-মণ্ডল” শিরোনামে, প্রথমবার পদকল্পতরু ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১ম পল্লব, রূপাভিসার, ২৬৮-
পদসংখ্যায় এবং দ্বিতীয়বার পদকল্পতরু ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা,২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, ২৪৪৩-
পদসংখ্যায়।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥
অনন্ত সম্বন্ধে রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . .
১৯৫৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র (অকিঞ্চন) সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ডের ভূমিকার ৭-পষ্ঠায় কবি অনন্ত সম্বন্ধে রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র
লিখেছেন . . .
"অনন্তদাস, অনন্ত রায় ও অনন্ত আচার্য্য---এই ত্রিবিধ ভণিতার পদই পাওয়া যায়। বৈষ্ণব কবিগণ বিনয়
বশতঃ নিজ নিজ কুলোপাধি গুপ্ত রাখিয়া দাস উপাধি ব্যবহার করিতেন। এজন্য অনন্তদাস ভণিতার
পদগুলির মধ্যে অনন্ত রায় এবং অনন্ত আচার্য---এই দুই ব্যক্তির রচিত কিছু পদ থাকা বিচিত্র নহে।
চৈতন্যচরিতামৃতে এক অনন্ত আচার্যের উল্লেখ আছে। শ্রীমহাপ্রভু ও গদাধর পণ্ডিতের সমসায়িক,
চৈতন্যচরিতামৃতে বর্ণিত, এই অনন্ত আচার্য্যকে পদকর্ত্তা বলিয়া স্বীকার করা যাইতে পারে। চৈতন্য
চরিতামৃতে অদ্বৈত আচার্য্যের শাখা গণনায় এক অনন্তদাসেরও উল্লেখ দেখা যায়। অনন্ত দাসের পদ
রাধামোহন ঠাকুরের পদামৃত সমুদ্রে উদ্ধৃত হইয়াছে।"
কবি অনন্ত - অনন্ত, অনন্ত আচার্য্য,
অনন্ত দাস, অনন্ত রায় এই চার ভণিতায়
তাঁদের পদ পাওয়া গিয়েছে। বৈষ্ণব
কবিদের ভণিতায় অনেক সময়েই তাঁদের
পদবী উল্লেখ করতেন না এবং অনেক
ক্ষেত্রেই আসল পদবী যাই হোক না কেন,
বৈষ্ণব-বিনয়ের দরুণ নিজের উফাধি “দাস”
বলে উল্লেখ করেছেন। তাই “অনন্ত” ও
“অনন্ত দাস” ভণিতার পদ যে কোনও
অনন্তের হতে পারে।
অনন্তের কবিতা ও কবিত্ব সম্বন্ধে বিমানবিহারী মজুমদারের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . .
১৯৬১ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, বিমানবিহারী মজুমদার (নিতাই) তাঁর সম্পাদিত ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য
গ্রন্থে অনন্তদাসের কবিতা ও কবিত্ব সম্বন্ধে, গ্রন্থের ৮৫-পৃষ্ঠায় লিখেছেন . . .
"পদকল্পতরুতে অনন্তদাস-ভণিতায় ৩২টি, অনন্ত আচার্য্য-ভণিতায় ১টি ও অনন্ত রায়-ভণিতায় ১টি পদ ধৃত
হইয়াছে। ক্ষণদা-গীত-চিন্তামণিতে রায় অনন্ত-ভণিতায় দুইটি পদ (১১।২, ২৮।২) পাোয়া যায়, দুইটিই
নিত্যানন্দ বন্দনার, তন্মধ্যে প্রথমটি তরুতে অনন্ত-ভণিতায় আছে। গীতচন্দ্রোদয়ে (পৃঃ ২১৩) অনন্ত রায়
ভণিতাযুক্ত একটি পূর্ব্বরাগের পদ পাওয়া যায়। শুধু অনন্ত-ভণিতা দিয়া ক্ষণদায় (১৬।১) একটি গৌরাঙ্গ-
বন্দনা আছে। অনন্ত আচার্য্যই অনন্তদাস-ভণিতায় পদ রচনা করিয়াছেন, কেননা সপ্তদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়
পাদে রাধাকৃষ্ণ গোস্বামী সাধন-দীপিকায় (পৃঃ ২৫৭) প্রমাণ্য লেখকদের মধ্যে শ্রীমদনন্তাচার্য্য-পাদ-
শ্রীনয়নানন্দপাদাদীনাং পদ্যবল্যাদি’র উল্লেখ করিয়াছেন। এই অনন্তাচার্য্য শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃতে উল্লিখিত
অদ্বৈতশাখার অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্ভব। ইঁহার অনেকগুলি পদ পাওয়া যায়। ক্ষণদায় অনন্তদাসের এমন চারিটি
পদ (৪।৩, ৯।৮, ১০।৩, ১৫।৩) আছে যাহা পদকল্পতরুতে নাই। তাছাড়া অপ্রকাশিত পদরত্নাবলীতে
অনন্তদাসের ১৩টি পদ আছে, তন্মধ্যে একটি (৩৯১) ক্ষণদাতে পূর্ব্বেই প্রকাশিত হইয়াছে।
অনন্তদাসের কবিত্বশক্তি খুব উচ্চস্তরের না হইলেও, তাঁহার পদের শব্দঝঙ্কার ও ব্যঞ্জনাভঙ্গী উপভোগ্য।"
অনন্ত সম্বন্ধে দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . .
দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ১৯৭৭ খৃষ্টাব্দে রচিত বৈষ্মব পদসংকলন গ্রন্থে কবি অনন্ত সম্বন্ধে গ্রন্থের
পরিশিষ্ট, বর্ণানুক্রমিক কবিপরিচয়-তে লিখেছেন . . .
"বৈষ্ণব পদকর্তাদের মধ্যে অনন্ত নামে অন্ততঃ দুজন কবি ছিলেন। দুজনেই অদ্বৈত আচার্যের শিষ্য। একজন
অনন্ত আচার্য। অন্যজন অনন্ত দাস। এঁদের মধ্যে অনন্ত দাসই শ্রেষ্ঠ। বাংলা ও ব্রজবুলি উভয় ভাষাতেই
অনন্ত দাসের রচনা সুখপাঠ্য। দাস ভণিতাহীন দানলীলার পদটি অনন্ত দাসের রচনা।"
দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় অনন্ত রায় সম্বন্ধে কিছু লেখেন নি।