বৈষ্ণবদাস সংকলিত পদকল্পতরুর সম্পাদক সতীশচন্দ্র রায় মনে করতেন যে এই গ্রন্থের “রামচন্দ্র দাস” ভণিতার পদ-দুটি বংশীবদন ঠাকুরের পৌত্র, রামচন্দ্র দাস গোস্বামীর রচিত। নিঃসন্দেহে ষোড়শ শতকের কবি।
রামচন্দ্র ভণিতার পদকর্তা সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . বৈষ্ণবদাস সংকলিত পদকল্পতরুর সম্পাদক সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থের ৫ম খণ্ডের ভূমিকায় আলাদা করে “রামচন্দ্র” ভণিতার কবির সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে তিনি লিখেছেন . . .
"রামচন্দ্র-ভণিতার ২০৬৪ ও ২১৮৬ সংখ্যক দুইটী পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হইয়াছে। বৈষ্মব সাহিত্যে দুই জন রামচন্দ্রই প্রসিদ্ধ। (১) প্রথম জন গোবিন্দদাস কবিরাজের জ্যেষ্ঠ সহোদর। গোবিন্দদাস প্রসঙ্গে ইহাঁর বিষয় উল্লিখিত হইয়াছে। ইনি শ্রীনিবাসাচার্য্যের প্রিয় শিষ্য এবং নরোত্তম ঠাকুরের অভিন্নহৃদয় বন্ধু ছিলেন। ইনি “স্মরণ-দর্পণ” নামে একখানি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। (২) রামচন্দ্রদাস গোস্বামী। ইনি বংশীবদন ঠাকুরের পৌত্র এবং চৈতন্যদাসের পুত্র। শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর পত্নী জাহ্নবা ঠাকুরাণী রামচন্দ্রকে পোষ্য পুত্ররূপে গ্রহণ ও পরে মন্ত্র-দান করেন। রামচন্দ্র অকৃতদার ছিলেন। তাঁহার অদ্ভুত সাধন-শক্তি সম্বন্ধে অনেক অলৌকিক কাহিনী প্রচলিত আছে। ইনি ১৮৫৬ শকে জন্মগ্রহণ করিয়া পঞ্চাশ বত্সর বয়সের কালে অপ্রকট হন। “করচা-মঞ্জরী”, “সম্পুটিকা” ও “পাষণ্ডদলন” নামে ইহাঁর রচিত তিনখানা গ্রন্থ আছে।
আলোচ্য পদ-দ্বয় গৌরাঙ্গবিষয়ক। আমাদের অনুমান হয়, রামচন্দ্র কবিরাজ অপেক্ষা পূর্ব্ববর্ত্তী পদ-কর্ত্তা রামচন্দ্র গোস্বামিই এই পদ-দ্বয়ের চরয়িতা।"
রামচন্দ্র ভণিতার পদকর্তা সম্বন্ধে জগবন্ধু ভদ্রর উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ- তরঙ্গিণী”-এর (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) পদকর্তার পরিচয়-এ রামচন্দ্র ভণিতার কবি সম্বন্ধে লিখেছেন . . .
“বৈষ্ণব সাহিত্যে দুই জন রামচন্দ্রের নাম আছে। দুই জনই প্রসিদ্ধ। যথা,--- (১) রামচন্দ্র কবিরাজ - ইনি বিখ্যাত মহাকবি গোবিন্দ কবিরাজের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা, শ্রীনিবাসাচার্য্যের একজন প্রধান ও প্রিয় শিষ্য এবং নরোত্তম ঠাকুর মহাশয়ের অভিন্ন-হৃদয় বন্ধু ছিলেন। অগাধ পাণ্ডিত্য ও শাস্ত্র- জ্ঞানের জন্য ইনি বৃন্দাবনের গোস্বামীদিগের নিকট ‘কবিরাজ’ উপাধি লাভ করেন। ইঁহার বহু সংখ্যক শিষ্য ছিল। (২) রামচন্দ্র দাস গোস্বামী - ইনি বংশীবদন ঠাকুরের পৌত্র ও চৈতন্যদাসের পুত্র। মরলী-বিলাস প্রভৃতি বৈষ্ণবগ্রন্থে আছে যে, বংশীবদনের শেষ পীড়ার সময় তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র চৈতন্যদাসের পত্নী বিশেষ যত্ন সগকারে তাঁহার সেবা শুশ্রূষা করেন। বংশীবদন ইহাতে সন্তুষ্ট হইয়া পুত্রবধুকে বলেন যে, তিনি তাঁহার পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করিবেন। বংশীবদনের সেই প্রকাশ হইতেছেন রামচন্দ্র গোস্বামী। জাহ্নবা ঠাকুরাণী ইঁহাকে পোষ্যপুত্ররূপে গ্রহণ করেন এবং নিজেই তাঁহাকে জীক্ষা দেন।”