আমরা মিলনসাগরে  কবি রসিকানন্দের বৈষ্ণব পদাবলী তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে  
এই  প্রচেষ্টার সার্থকতা।



কবি রসিকানন্দের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - .১.২০১

...
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
কবি রসিকানন্দ - বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থে রসিকানন্দের একটি মাত্র পদ রয়েছে। শ্রীচৈতন্যের
সন্ন্যাস বিষয়ক পদ।
দুঃখী কৃষ্ণদাস বা শ্যামানন্দের উড়িস্যার এক শিষ্যের নাম ছিল রসিকানন্দ। শ্যামানন্দ
ছিলেন নরোত্তম ঠাকুরের সমসাময়িক। সেই সূত্রে রসিকানন্দ ষোড়শ শতকের শেষভাগে থেকে সপ্তদশ
শতকের প্রথমভাগে বর্তমান ছিলেন।

তারাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য্য সঙ্কলিত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ, ৩য় খণ্ড, ৩য় সংখ্যা”,
১৩৫-পৃষ্ঠায় (বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ৩৪৫ সংখ্যক পুথি),
নরহরি সরকার ঠাকুরের অনুসারী বা শাখাভুক্ত,
শ্রীনিবাস আচার্য্যের শ্বশুর গোপাল চক্রবর্তীর কনিষ্ঠ পুত্র রামচন্দ্রের শিষ্য রসিকানন্দের
“রাধাকৃষ্ণলীলামৃতরসপুর” পুথির খোঁজ পাই।
সেখান থেকে একটি মাত্র পদ পেয়ে এখানে তোলা হলো।

বিভিন্ন সংকলন থেকে সংগৃহীত রসিকানন্দের পদাবলীর মধ্যে, কোন পদটি কোন রসিকানন্দের তা
গবেষণার বিষয়।
রসিকানন্দকে নিয়ে জগবন্ধু ভদ্রের উদ্ধৃতি      
রসিকানন্দকে নিয়ে সতীশচন্দ্র রায়ে উদ্ধৃতি     
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি   
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
রসিকানন্দ দাস, রসিকানন্দ
.
.
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি -                                   পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক,
শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র
সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের
একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
“. . .
বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ
আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই
।”
.
রসিকানন্দকে নিয়ে জগবন্ধু ভদ্রের উদ্ধৃতি -                                          পাতার উপরে . . .   
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত
জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) এর পদকর্তার পরিচয়ের ২২৮-পৃষ্ঠায় “মুরারি” নামক পদকর্তার
পরিচয়দানের সময়ে ছয় জন মুরারি-র উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন রাজা
 অচ্যুতের
দ্বিতীয় পুত্র “মুরারি দাস”। এই রাজা অচ্যুতের প্রথম পুত্রের নাম ছিল “রসিকানন্দ”। এঁরা দুই ভাই-ই
 
শ্যামানন্দ পুরীর মন্ত্র শিষ্য ছিলেন। নরহরি চক্রবর্তী বিরোচিত নরোত্তমবিলাসে আছে . . .
“শ্রীশ্যামানন্দের শিষ্য রসিক-মুরারি।”

(৫) মুরারি দাস --- রাজা অচ্যুতের দ্বিতীয় পুত্র, জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম রসিকানন্দ। তিনি ১৫১২ শকে   
(১৫৯০খৃষ্টাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন।
 মুরারি  তাঁহার  দুইবত্সরের ছোট। ইঁহারা দুই ভ্রাতা শ্যামানন্দ পুরীর   
মন্ত্রশিষ্য। যথা, নরোত্তম বিলাসে---“শ্রীশ্যামানন্দের শিষ্য রসিক-মুরারি।”
খেতরীর মহোত্সবে ইঁহারা দুই ভ্রাতা
যোগদান করিয়াছিলেন
।”  

উক্ত গ্রন্থের ২২৮-পৃষ্ঠায় পদকর্তা রসিকানন্দ দাস সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

রসিকানন্দ দাস - রসিকানন্দ ও ইঁহার কনিষ্ঠ ভ্রাতা মুরারি বিখ্যাত শ্যামানন্দপুরীর প্রধান শিষ্য ছিলেন। যথা
নরোত্তম-বিলাসে---“শ্রীশ্যামানন্দের শিষ্য রসিক-মুরারি।” ইঁহারা করণ-কায়স্থ। পিতার নাম রাজা অচ্যুতানন্দ
ও মাতার নাম ভবানী। অচ্যুতানন্দ সুবর্ণরেখা-নদীতীরস্থ রঙ্গীগ্রামের অধীশ্বর ছিলেন। ১৫১২ শকে
(১৫৯০খৃষ্টাব্দ) কার্ত্তিক মাসের ১০ই তারিখ রবিবারে রসিকানন্দ জন্মগ্রহণ করেন। ইঁহার দুই বত্সর পরে
তাঁহার কনিষ্ঠ ভ্রাতা মুরারির জন্ম হয়। ইঁহারা উভয় ভ্রাতা অল্প বয়সেই নানা বিদ্যায় পারদর্শী হইয়াছিলেন।
. . . . ভক্তিরত্নাকরে আছে, সুবর্ণরেখা নদীর সন্নিধানে ঘন্টশিলা (বর্ত্তমানে ঘাটশিলা) নামক স্থানে রসিক ও
মুরারি দুই ভ্রাতা কিছুদিন বাস করেন। এখানে শ্যামানন্দ পুরী ভ্রাতৃদ্বয়কে কৃপা করিয়া রাধাকৃষ্ণ যুগলমন্ত্রে
দীক্ষা দেন
। . . .”
.
রসিকানন্দকে নিয়ে সতীশচন্দ্র রায়ে উদ্ধৃতি -                                        পাতার উপরে . . .   
সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডে ভূমিকার ১৯৮-পৃষ্ঠায় রসিকানন্দের সম্বন্ধে
লিখেছেন . . .

রসিকানন্দ ভণিতার শুধু একটী মাত্র (২২২৪ সংখ্যক) পদ পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হইয়াছে। আমরা মুরারী
দাসের প্রসঙ্গে শ্যামানন্দ পুরীর প্রসিদ্ধ শিষ্য রসিকানন্দেরও পরিচয় দিয়াছি। শ্যামানন্দ নরোত্তম ঠাকুরের
সমসাময়িক। তিনি খৃষ্ঠীয় ষোড়ষ শতকের শেষ-ভাগের লোক ; সুতরাং রসিকানন্দও প্রায় সেই
সময়ে অর্থাৎ ষোড়শ শতকের শেষ ও সপ্তদশ শতকের প্রথম ভাগে বর্ত্তমান ছিলেন বলিয়া জানা যাইতেছে।
রসিকানন্দের আলোচ্য পদটী শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাসবিষয়ক একটি সুন্দর বাঙ্গালা পদ ; ইহাতে শ্রীগৌরাঙ্গের
কাটোয়ায় সন্ন্যাস গ্রহণকালে নাপিত কর্ত্তৃক কেশ-মুণ্ডন অতি মর্ম্মস্পর্শী ভাবে বর্ণিত হইয়াছে। আমাদের
বিবেচনা হয় যে, বৈষ্ণব চূড়ামণি শিশিরকুমার ঘোষ মহাশয় তাঁহার “অমিয় নিমাই-চরিত” গ্রন্থের কেশ-
মুণ্ডনের করুণ কাহিনী বর্ণন করার সময়ে রসিকানন্দের এই পদ হইতে বিশেষ সাহায়্য পাইয়াছিলেন। সে
সময় পর্য্যন্ত শ্রীমহাপ্রভুর সন্ন্যাস গ্রহণের সাক্ষাৎ-দ্রষ্টা দুই চারি জন দীর্ঘজীবী জীবিত ছিলেন ;
রসিকানন্দ বোধ হয়, তাঁহাদিগের মুখে সেই করুণ-কাহিনী শুনিয়াই কেশ-মুণ্ডনের এরূপ একটা জীবন্ত চিত্র
দিতে পারিয়াছেন। এরূপ বিষয়ে কাল্পনিক বর্ণন ধৃষ্টতা মাত্র। পরমভক্ত রসিকানন্দের পক্ষে উহা অসম্ভব।
সুতরাং কেশ-মুণ্ডনের সাক্ষাৎ দ্রষ্টার লিখিত বিবরণ না পাইলেও রসিকানন্দের এই বিবরণ প্রায় সেইরূপই
প্রামাণিক ও মূল্যবান্ বটে
।”

শ্যামানন্দের সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে
সতীশচন্দ্র রায় লিখেছেন যে নরহরি চক্রবর্তী রচিত, তাঁর ভক্তিরত্নাকর  
গ্রন্থের
"ও মোর পরাণ বন্ধু" পদটিতে শ্যামানন্দের জীবনের প্রধান ঘটনাবলি সম্বন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
সেখানে শেষের পংক্তিতে রয়েছে যে রসিকানন্দ শ্যামানন্দের শিষ্য ছিলেন . . .

নরহরি কহে কভু (প্রভু)                রসিকানন্দের প্রভু
.                হবে কি এ নয়ন-গোচর॥


(সম্পূর্ণ পদটি মিলনসাগরে নরহরি চক্রবর্তীর পদাবলীর পাতায় পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . . )