নিত্যানন্দ দাস রচিত প্রেমবিলাস থেকে জানা যায় যে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর সঙ্গমের কাছে অবস্থিত গোয়াস গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন শ্রীনিবাস আচার্য্যের এক শিষ্য হরিরাম আচার্য্য। নরহরি চক্রবর্তী তাঁর ভক্তিরত্নাকরে জানিয়েছেন যে এই হরিরাম আচার্য্য ছিলেন “সংকীর্ত্তন-রস-লম্পট”! সুতরাং তিনি যে পদকর্তাও হতে পারেন তা মেনে নেওয়া যায়, এই অভিমত প্রকাশ করেছিলেন শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর সম্পাদক সতীশচন্দ্র রায়।
হরিরাম দাসের কারণাভাস মান-এর “অপরূপ গৌরাঙ্গের লীলা” ( ৫৮৬-পদসংখ্যা) পদটি রয়েছে পদকল্পতরুর ২য় শাখার ২২শ পল্লবে। সেই পল্লবেই একই বিষয়ের উপর রচিত পদকর্ত্তা গোপীকান্তের দুটি পদ সন্নিবেশ করা হয়েছে, “রাধা মাধব সহচরি সাথ” (৫৯৭-পদসংখ্যা) এবং “ঢূঁড়য়ে সবহু সখীগণ মেলি” (৫৯৮-পদসংখ্যা)। বৈষ্ণবদাস এই পিতা-পুত্র পদকর্তাদের দুজনকেই তাঁর বিশাল গ্রন্থে স্থান দিয়ে তাঁদের সম্মানিত করেছেন।
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক, শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
“. . . বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই।”
আমরা মিলনসাগরে কবি হরিরাম দাসের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।
নিত্যানন্দ দাসের প্রেমবিলাসে হরিরাম আচার্য্য - পাতার উপরে . . . ১৯১৩ খৃষ্টাব্দে বাবু যশোদালাল তালুকদার দ্বারা প্রকাশিত, নিত্যানন্দ দাসের “প্রেমবিলাস” গ্রন্থের বিংশ বিলাস, ২০৫-পৃষ্ঠায় শ্রীনিবাস আচার্য্যের শাখা বর্ণনায় হরিরামের উল্লেখ এই ভাবে রয়েছে যা থেকে তাঁর নিবাস জানা যায় . . .
"হরিরাম আচার্য্য-শাখা পরম পণ্ডিত। রাঢ়ী শ্রেণী বিপ্র ইহা জগতবিদিত॥ গঙ্গা পদ্মার সঙ্গম যেবা স্থান হয়। তথায় গোয়াস গ্রাম তাঁহার আলয়॥"
নরহরি চক্রবর্তীর নরোত্তম বিলাসে হরিরাম ও গোপীকান্ত পিতা-পুত্র - পাতার উপরে . . . ১৯১৩ খৃষ্টাব্দে কিশোরী দাস বাবাজী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত নরহরি চক্রবর্তী দ্বারা আনুমানিক অষ্টাদশ শতকের প্রথমদিকে, বিরচিত “নরোত্তম বিলাস” গ্রন্থের পরিশিষ্ট, গ্রন্থকর্ত্তার পরিচয়, ১২২-পৃষ্ঠায় থেকে জানা যায় যে . . .
১। হরিরাম আচার্য্যের পুত্রের নাম গোপীকান্ত। ২। নরহরি চক্রবর্তীর দীক্ষাগুরু নৃসিংহ চক্রবর্ত্তী ছিলেন এই পাতার হরিরাম দাস ভণিতার কবি-পদকর্তা হরিরাম আচার্য্যের পুত্র গোপীকান্তের শাখাভুক্ত। অর্থাৎ নরহরি চক্রবর্তীও ছিলেন গোপীকান্তের শাখাভুক্ত...
"শ্রীভট্টের প্রিয় শিষ্য শ্রীনিবাসাচার্য্য। সর্বত্র বিদিত যাঁর অলৌকিক কার্য্য॥ আচার্য্যের শিষ্য রামচন্দ্র কবিরাজ। যাঁর গুণগায় সুখে বৈষ্ণব সমাজ॥ যার ভেদবুদ্ধি নরেত্তম কবিরাজ। তাঁর সর্বনাশ প্রভু করেন অব্যাজ॥ শ্রীনিবাস নরোত্তম ভেদবুদ্ধি যার। সে পাপীর কোনকালে নাহিক নিস্তার॥ এবে কোন কোন পাপী ভেদবুদ্ধি করে। এ হেতু লিখিলুঁ এথা দুঃখিত অন্তরে॥ শ্রীকবিরাজের শিষ্য হরিরামাচার্য্য। যেঁহ রামকৃষ্ণ আচার্য্যের জ্যেষ্ঠ আর্য্য॥ শ্রীহরি রামের পুত্র শ্রীগোপী কান্ত। পিতার সেবক যেঁহ পরম সুকান্ত॥ শ্রীগোপীকান্তের শিষ্য রামভদ্র হন। রামভদ্র সকল শাস্ত্রেতে বিচক্ষন॥ শ্রীগোপীকান্তের পৌত্র শ্রীল মনোহর। শ্রীগোপীকান্তের শিষ্য সর্বাশে সুন্দর॥ শ্রীরামভদ্রের পুত্র শ্রীল রামনিধি। শ্রীমনোহরের শিষ্য গুণের অবধি॥ শ্রীমনোহরের পুত্র শ্রীনন্দকুমার। হইল পিতার শিষ্য অতি শুদ্ধাচার॥ শ্রীরামনিধির পুত্র শ্রীনৃসিংহ নাম। নন্দকুমারের শিষ্য চেষ্টা অনুপাম॥ মোর ইষ্টদেব শ্রীনৃসিংহ চক্রবর্ত্তী। জন্মে জন্মে সে চরণ সেবি এই আর্ত্তি॥"
হরিরামের পুত্র গোপীকান্ত সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায় পদকর্তা গোপীকান্ত সম্বন্ধে ৫১-পৃষ্ঠায় প্রথমে জগবন্ধু ভদ্র মহাশয়কে উদ্ধৃত করেছেন, যা আমরা উপরে তুলে দিয়েছি। এর পর তিনি লিখেছেন . . .
“. . . যাহা হউক, গোপীকান্তের ২৩৮২ সংখ্যক পদে তিনি শ্রীনিবাস আচার্য্য প্রভুর চরিত্রাস্বাদন করিয়াছেন।
গোপীকান্তের এই বর্ণনা ও ভণিতার কলির প্রার্থনা অধিক পরবর্ত্তী সাধারণ একজন বৈষ্ণব পদকর্ত্তার বলিয়া মনে হয় না ; ইহা যেন শ্রীনিবাস আচার্য্যের সমসাময়িক কোন ভক্তের বর্ণনা ও প্রার্থনা। শ্রীনিবাস আচার্য্য ও রামচন্দ্র কবিরাজের মধ্যে গুরু-শিষ্য সম্বন্ধ থাকিলেও উভয়ের বয়সে অধিক পার্থক্য ছিল না। সুতরাং রামচন্দ্র কবিরাজ গোপীকান্তের পিতার গুরু হইলে, তিনি সম্ভবতঃ বাল্য-কালে শ্রীনিবাস আচার্য্যকে প্রাচীন অবস্থায় দেখিয়া থাকিবেন। বালকের হৃদয়ে আচার্য্য প্রভুর উজ্জ্বল গৌরবর্ণ প্রেমময় মূর্ত্তিটী একটা মোহ সৃষ্টি করিয়া দিয়াছিল ; তাই বুঝি তিনি পরবর্ত্তী সময়ে তাঁহার সেই ক্ষীণ স্মৃতিটাকে চির-কাল হৃদয়ে জাগরূক করিয়া রাখার জন্যই নিত্য-লীলা-প্রবিষ্ট আচার্য্য প্রভুর শ্রীচরণে ব্যাকুল-হৃদয়ে এই কাতর-প্রার্থনা জানাইয়াছেন । এই ভাবে দেখিলেই গোপীকান্তের এই পদটার প্রকৃত রসাস্বাদন করা যায়। সুতরাং আমরাও বিরুদ্ধ প্রমাণের অভাবে এই গোপীকান্তকে পদকর্ত্তা হরিরামের পুত্র বলিয়াই ধরিয়া লইয়াছি। হরিরাম দাসের দুইটি পদ পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হইয়াছে। ইহার মধ্যে তাঁহার ৫৮৬ সংখ্যক অপরূপ গৌরাঙ্গের লীলা ইত্যাদি পদটি প্রতিবিম্ব-দৃষ্টে শ্রীরাধার হেতু মানের গৌরচন্দ্র বটে। তাঁহার পুত্র গোপীকান্তের ৫৯৭ ও ৫৯৮ সংখ্যক পদ দুইটিও দিনান্তরের সেই নির্হেতু বিচিত্র মান ও উহার বিচিত্র অবসানের বর্ণনাত্মক। বোধ হয় পিতা ও পুত্র উভয়েই মানের পালা চরনা করিয়াছিলেন। বৈষ্ণবদাস উহা হইতে পদ উদ্ধৃত করিতে যাইয়া, পিতা ও পুত্র উভয়েরই সম্মান রক্ষা করিয়াছেন। উক্ত পদগুলি একই বিষয়ের এবং পদকল্পতরুতে একই স্থলে (২য় শাখার ২২শ পল্লবে) সন্নিবেশিত হইয়াছে ; ইহা হইতেও আমাদিগের পূর্বোক্ত অনুমান সমর্থিত হইতেছে। পদকল্পতরুর উদ্ধৃত পিতা ও পুত্রের এই পদগুলি পড়িলে পিতা অপেক্ষা পুত্রেরই অধিক কৃতিত্ব স্বীকার করিতে হয়। “পুত্রাদিচ্ছেৎ পরাজয়ং” এই সমীচীন নীতি অনুসারে এ জন্য পিতা হরিরামেরই ভাগ্যের প্রশংসা করিতে হইবে ; কেন না, “পুত্রে যশসি তোয়ে চ নরাণাং পুণ্যলক্ষণম্”।”
এখানে হরিরামকে “সংকীর্ত্তন-রস লম্পট পটু” বলেছেন নরহরি চক্রবর্তী। এ রকম “সংকীর্তন-রসে লম্পট” তথা পণ্ডিত ব্যক্তির পক্ষে পদ রচনা করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এবং বৈষ্ণব বিনয়ের রীতিতে তাঁর ভণিতায় “দাস” ব্যবহার করার সম্ভাবনা প্রথাসিদ্ধ স্বাভাবিক। তাই হরিরাম আচার্য্য যে পদকর্তা হরিরাম দাস ছিলেন তা মেনে নিতে আমাদের কোন অসুবিধে নেই।
পুনশ্চ--- হরিরাম আচার্য্য-শাখা পরম পণ্ডিত। রাঢ়ী শ্রেণী বিপ্র ইহা জগতবিদিত॥ গঙ্গা পদ্মার সঙ্গম যেবা স্থান হয়। তথায় গোয়াস গ্রাম তাঁহার আলয়॥ ---প্রেমবিলাস। [ নিত্যানন্দ দাসের প্রেমবিলাসের বিংশ বিলাস, ২০৫-পৃষ্ঠা ]
ভক্তিরত্নাকর প্রণেতা নরহরি চক্রবর্ত্তীর মতে হরিরাম আচার্য্য “সংকীর্ত্তন-রস-লম্পট” ছিলেন। সুতরাং ইনি নিজেও যে, পদ-রচনা করিয়া গিয়াছেন, ইহা খুব সম্ভবপর বটে।"
কবি হরিরাম দাস - বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে তাঁর দুটি পদ রয়েছে। কারণাভাস মান-এর “অপরূপ গৌরাঙ্গের লীলা” ও নিত্যানন্দের গুণ বর্ণনার “নিতাই করুণাময় অবতার”।
হরিরাম দাস সম্বন্ধে জগদ্বন্ধু ভদ্রর উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . জগদ্বন্ধু ভদ্র তাঁর সংকলিত গৌরপদ-তরঙ্গিণী (মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত ২য় সংস্করণ) পদাবলী সংকলনের পদকর্ত্তৃগণের পরিচয়ের, ২৬০-পৃষ্ঠায় হরিরাম দাসকে রামচন্দ্র কবিরাজ দ্বারা এবং তাঁর অনুজ রামকৃষ্ণকে নরেত্তম ঠাকুর দ্বারা দীক্ষাদানের ঘটনার বর্ণনায় লিখেছেন . . .
“হরিরাম আচার্য্য। ইনি রাঢ়ীশ্রেণীর ব্রাহ্মণ। পিতার নাম শিবাই আচার্য্য, বাড়ী গঙ্গা ও পদ্মার সঙ্গমস্থলে গোয়াস নামক গ্রামে। তাঁহার কনিষ্ঠ ভ্রাতার নাম রামকৃষ্ণ। হরিরাম পরম পণ্ডিত ছিলেন। একদিন নরোত্তম ঠাকুর ও রামচন্দ্র কবিরাজ একসঙ্গে নানাবিধ শাস্ত্রালাপ করিতে করিতে ধীরে ধীরে পদ্মায় স্নান করিতে যাইতেছিলেন। সেই পথে দুইটি ব্রাহ্মণকুমার ছাগ-মেষাদি সঙ্গে লইয়া আসিতেছিলেন। ঠাকুর মহাশয় ও রামচন্দ্রের শাস্ত্রালাপ শুনিয়া সে ব্রাহ্মণযুবকদ্বয় অত্যন্ত আকৃষ্ট হইয়া বলাবলি করিতে লাগিলেন, লোকমুখে শুনিনু মহিমা দূর হৈতে। আজি সুপ্রভাত হৈল দেখিনু সাক্ষাতে॥” এই কথা বলিয়া ছাগাদি দূরে রাখিয়া, তাঁহারা অতিশয় সশঙ্কিত হইয়া নরোত্তম ও রামচন্দ্রের নিকটে আসিলেন। তাঁহাদিগকে দেখিয়া নরোত্তম ঠাকুর সুমধুর বাক্যে তাঁহাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলেন। শুনি বিপ্র কহে--- “মোর নাম হরিরাম। আমার কনিষ্ঠ এই রামকৃষ্ণ নাম॥”
ছাগাদি কিনিতে হেথা আইনু শুভক্ষণে। ঘুচিল অজ্ঞানতম এ পদ দর্শনে॥ এবে এই বিপ্রাধমে কর অঙ্গীকার। ঘুষুক জগতে যশ তোমা দেঁহাকার॥
এই কথা বলিয়া তাঁহারা ভূপতিত হইয়া প্রণাম করিলেন, এবং নয়নজলে ভাসিতে লাগিলেন। তাঁহাদের দশা দেখিয়া নরোত্তম ও রামচন্দ্রের করুণার উদয় হইল এবং নরোত্তম রামকৃষ্ণকে ও রামচন্দ্র হরিরামকে আলিঙ্গণ করিয়া শান্ত করিলেন। শেষে পদ্মাবতীতে স্নান করিয়া, তাঁহাদিগকে লইয়া মনে উল্লাসে শ্রীগৌরাঙ্গের মন্দিরস্থ প্রাঙ্গণে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। সে দিবস শাস্ত্রমতে সর্ব্ব সুমঙ্গল ছিল, এবং মনেও অত্যন্ত অনুরাগ বৃদ্ধি পাইয়াছিল। সুকরাং তিলার্দ্ধ বিলম্ব না করিয়া সেই দিনই হরিরামকে রামচন্দ্র কবিরাজ এ রামকৃষ্ণকে নরোত্তম ঠাকুর মন্ত্রদীক্ষা দিলেন। তখন---
এখানে কিছুদিন থাকিয়া ভ্রাতৃদ্বয় বৈষ্ণব শাস্ত্রাদি অধ্যন করিলেন তত্পরে বিজয়াদশমীর পর দিবস গৃহে ফিরিলেন। পিতা প্রথমে পুত্রদ্বয়ের উপর অতিশয় ক্রোধান্বিত হইয়াছিলেন। শেষে তাঁহাদিগের নিকট বৈষ্ণবধর্ম্মের শ্রেষ্ঠত্ব বুঝিতে পাইয়া ক্রমে নিজেও নরোত্তমের চরণাশ্রয় করিলেন।
হরিরাম শ্রীমদ্ভাগবতের সুন্দর আবৃত্তি ও ব্যাখ্যা করিতেন এবং নানা স্থানে শ্রীগৌরাঙ্গের প্রেমভক্তি প্রচার করিতেন। শেষে কৃষ্ণরায় নামক বিগ্রহের সেবা গ্রহণ করেন। যথা ভক্তিরত্নাকরে---
অন্যত্র--- শ্রীমদ্ভাগবতাদিক গ্রন্থ কথন, অনুপম বৈষ্ণব অমৃতধার। শ্রীশ্রীকৃষ্ণরায় সঞ্জীবন, ভণব কি হরি হরি মহিমা অপার॥
তাহার পর নিজেদের পরিচয় দিয়া বলিলেন ; যথা প্রেমবিবিলাসে---
হরিরাম আচার্য্য-শাখা পরম পণ্ডিত। রাঢ়ীশ্রেণী বিপ্র ইহ জগত বিদিত॥ গঙ্গা-পদ্মার সঙ্গম সেরা স্থান হয়। তথায় গোয়াসগ্রামে তাঁহার আলয়॥
হরিরামের পিতা শাক্ত ছিলেনষ হরিরাম ও তাঁহার ভ্রাতা রামকৃষ্ণও সেই ভাবে ভাবান্বিত ছিলেন। কি প্রকারে তাঁহারা বৈষ্ণবধর্ম্ম গ্রহণ করেন, তাহা নরোত্তমবিলাসে বিবৃত আছে ; এই বিবরণ তাহা হইতে গৃহীত হইল।"