| রবীন্দ্রজীবনীকার কবি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা |
| নরনারায়ণে নমি কবি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য্য ও ক্ষিতীন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত, “রামধনু” পত্রিকার পৌষ ১৩৪৫ (জানুয়ারী ১৯৩৯) সংখ্যায় প্রকাশিত। প্রথম উষার স্বর্ণকিরণে বন্দনা-গান গাহিল যারা, হৃদয়-দেউলে হোমানল জ্বালি মানবের পূজা করিল তারা ; সৃষ্টি-দিনের প্রথম প্রভাকে মানুষের যারা গাহিল জয়, নহে নহে তার ক্ষুদ্র কখনো, তুচ্ছ তাহারা কখনো নয়? আজিকে তাদের পায় হৃদয় আমার অর্ঘ্যকুসুম অঞ্জলি দিতে চায়। বিশ্বের যত কবি ঊষার মুখের ঘোমটা খুলিয়া দেখাল প্রভাত-রবি। নটরাজে আনি নৃত্যছন্দে রূপে রসে আর বর্ণে গন্ধে প্রাণময়ী করি শোনাল যাহারা---ফোটাল স্বর্গছবি, প্রণাম আমার তাদের চরণে---বিশ্বের যত কবি। বৈজ্ঞানিকের দল বিষের সিন্ধু মন্থন করি তুলিল অমৃত-ফল ; দুর্ব্বিপাকের দুর্গ-চূড়ায় বিজয়-পতাকা যাহারা উড়ায়, মৃত্যুর সাথে করে কোলাকুলি, সত্য যাদের বল, আমার অর্ঘ্য তাদের লাগিয়া---বৈজ্ঞানিকের দল! নাম যার জানা নাই, পতিতেরে যারা বুকেতে নিয়েছে, মানুষে বলেছে ভাই। দুর্গত দীন আতুরের লাগি ভিক্ষাপাত্র লইয়াছে মাগি, জীবনেরে করি হেলায় তুচ্ছ, মরণ করেছে পণ, প্রণাম আমার তাদের চরণে---তারা নরনারায়ণ। . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বর্ষ বোধন কবি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য্য ও ক্ষিতীন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত, “রামধনু” পত্রিকার বৈশাখ ১৩৪৬ (মে ১৯৩৯) সংখ্যায় প্রকাশিত। আজ বোশেখের প্রথম দিনে তোমারই গাই বন্দন। বর্ষ নবীন, হউক তোমার জয় ; যাক্ মুছে যাক্ গত কালের জল্পনা ও কল্পনা, হারিয়ে-যাওয়া লজ্জা, ক্ষতি, ভয়। তোমার রথের ঘর্ঘরানি শুনছি বসে আজ কানে, ভাস্ ছে চোখে আস্ ছে-কালের ছবি, রিক্ত হিয়া উঠ্ ছে ভরে রূপে, রসে আর গানে, তাই তো তোমায় প্রণাম জানায় কবি। চল্ তে পথে কুড়িয়ে-পাওয়া সঙ্গী যারা যায় চলে ভবের হাটে কেনা-বেচার শেষে, তাদের লাগি ঝুরছে আঁখি, লুকাই তাহা কোন্ ছলে কেমন করে কান্না ঢাকি হেসে! সব ভুলে আজ সবার সাথে তবুও করি বন্দনা, বর্ষ নবীন, গাই তোমারি জয়, আঁকছি বসে তোমার তরে আগমনীর আল্পনা, ভুলেছি আজ লজ্জা, ক্ষতি, ভয়। . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |