কবি রমেশচন্দ্র সেনের কবিতা
*
সোণার ভারত
কবি রমেশচন্দ্র সেন
কবিতাটি দেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী সম্পাদিত “নব্যভারত” পত্রিকার চৈত্র ১৩১৬ (মার্চ ১৯১০)
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও পত্রিকায় কবির নাম রমেশচন্দ্র সেনগুপ্ত দেওয়া
রয়েছে, কবিতার ভাব ও ভাষা দেখে আমরা নিশ্চিত যে ভুলবশত কবির উপাধি
সেন এর বদলে সেনগুপ্ত দেওয়া হয়েছিল, যা আকছার হয়ে থাকে। কবির তখন ১৬ বছর
বয়স। ১৯১১ সালে, কবির ১৭ বছর বয়সে, তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “সাহিত্য সেবক সমিতি”।
যেখানে নিজের নিজের রচনা পড়েছেন অন্যান্যদের সাথে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়,
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শিবরাম চক্রবর্তী, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, কামিনী রায় প্রমুখরা।

চরণ চুমিয়া চঞ্চলে চলে
.                চির চঞ্চল সিন্ধু,
লোণার এদেশে সোণার জ্যোছনা
.                বিতরেন সদা ইন্দু।
শৈল বিরাজে মস্তকোপরি
.                মাথার মুকুট হেন,
বিধাতা ইহারে স্বরগ সম্পদে
.                ভূষিত করেছে যেন।
চারণ গাইছে বীরত্ব গীতি
.                অতুল মহিমাময়,
এ সোণার দেশে বেদসঙ্গীত
.                এখনও গীত হয়।
এরি দর্শন---মোহিয়া জগত
.                স্তব্ধ করেছে সবে,---
আমার দেশের মতন দেশটী
.                নাই আর এই ভবে।
যদিও মোদের কীর্ত্তি লুপ্ত
.                যদিও সুপ্ত মোরা,
তবুও মোদের জ্ঞানের আলোক
.                সারাটা পৃথিবীযোড়া।
আমাদেরি জ্ঞানে এ বিশ্বে জ্ঞান,
আমাদেরি ধ্যানে এ বিশ্বে ধ্যান,

আমাদেরি গীত দুনিয়ায় গীত,
.                কিসে বা আমরা হীন,
আজ নয় মোরা পরপদানত
.                আজ নয় পরাধীন।
মনে থাকে যেন জননী মোদের
.                শ্রেষ্ঠ স্বর্গ হতে,
তাহলে আমরা পড়িব না আর
.                পাপ-পঙ্কিল-স্রোতে।
মনে থাকে যেন এ দেশ মোদের
.                সোণার তৈরি করা।
আমাদের সোণা ছড়ানো রয়েছে
.                সারাটা ভূবন যোড়া।

এখানে কবির নাম দেওয়া রয়েছে “শ্রীরমেশচন্দ্র সেনগুপ্ত”।
আমাদের বিবেচনায় ইনিই রমেশচন্দ্র সেন। বদ্যিদের মধ্যে “সেন” পদবীযুক্তরা সাধারণত
“সেনগুপ্ত”-ই হতেন কিন্তু কেউ কেউ “সেন” লিখতেন এবং কেউ কেউ “সেনগুপ্ত” লিখতেন।
বিবাহ-শ্রাদ্ধের মত অনুষ্ঠানাদিতে কেউ কেউ নিজেদের “সেনশর্মা” বা “সেনশর্মণ” বলতেন।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
নিষ্কামপূজা
কবি রমেশচন্দ্র সেন
কবিতাটি দেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী সম্পাদিত “নব্যভারত” পত্রিকার চৈত্র ১৩২২ (১৯১৬)
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। কবির তখন ২২ বছর বয়স। ১৯১১ সালে, কবির ১৭ বছর
বয়সে, তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “সাহিত্য সেবক সমিতি”। যেখানে নিজের নিজের রচনা
পড়েছেন অন্যান্যদের সাথে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শিবরাম
চক্রবর্তী, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, কামিনী রায় প্রমুখরা।

একটী কামনা সফল হয়েছে,
.                বেড়েছে কামনা শত ;
যত পাইয়াছি প্রভুর নিকটে
.                পুনঃ চাহিয়াছি তত।
বাসনা কামনা ভুলিয়া যখন
.                পূজেছি চরণ তার,
বেদনা যাতনা সব ভেসে গেছে
.                চাহিতে হয়নি আর।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
যমুনা
কবি রমেশচন্দ্র সেন
এই কবিতাটি কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার আষাঢ় ১৩২৩ (জুন ১৯১৬) সংখ্যায়
প্রকাশিত হয়েছিল। আমরা কবিতাটি পেয়েছি শোধগঙ্গা ওয়েবসাইটে ২০০৮ সালে প্রকাশিত ডঃ
তপনকুমার রায়ের “রমেশচন্দ্র সেন : জীবন ও সাহিত্য” নামক গবেষণা-পত্রের “পরিশিষ্ট” থেকে।

যমুনে মোর, তোমারি তটে, তোমারি জনকল্লোলে
ধরিত কাণু মোহন বেণুতান,
সে গান শুনি ভক্ত তার ভাসিত আঁখিনীরে,
আকুল হ'ত রাধার মনপ্রাণ।
ভক্তি দল তোমারি জলে ফুটিত সেই তানে,
সে তানে রাধা পাইত শ্যামে তার,
হটিত ধেনু, সে তান শুনি তেমারি গোঠে মাঠে
হেরিল গোপী পারাবার।
বিহগ বসি তরুর শাখে শুনিত সেই গান
সে ধ্বনিতে ধরিত সেও তান।
প্রকৃতি যেন নিথর হয়ে দেখিত কালোরূপে,
কালোর মাঝে মিলাত তার প্রাণ।
তাহার পর গিয়েছে চলে বরষ শত শত,
শ্রাম ত মোর মরে নি আছে সেথা।
তোমারি তটে, তোমারি গোঠে, তোমারি জলকল্লোলে
রাধার সনে কহিত যেথা কথা।
ভক্তি দিয়া বেঁধেছ শ্যামে তোমারি জলকল্লোলে,
তোমারি তটে সে গায় আজও গান।
ভক্ত তায় তোমারি নীরে এখনো তারে দেখে,
তোমারি তটে এখনো শোনে তান।
ভক্ত কৰি শ্যামের গান ছড়িয়ে দেছে দেশে,
সে গানে পাই তোমারি যেন সারা।
যমুনে মোর, তোমারি তটে দেখাও শ্যামে আজি,
সে তানে মোরে আপনা কর হারা।
যমুনে মোর, তোমারি তটে শুনিতে দাও বাঁশী,
মর এ ধরা অমর হয়ে যাবে।
শ্যামের দাস ভক্ত তব মুক্তি ফেলে দিয়ে,
শ্যামের প্রেমে বাঁধন শুধু পাবে।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর