কবি প্রতাপাদিত্যর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি প্রতাপাদিত্যর পরিচিতির পাতায় . . .
সো বরকামিনী নীর নাহারতি
কবি রাজা প্রতাপাদিত্য
কবি রাজা প্রতাপাদিত্য এই কবিতাটি ১৮০১ সালে শ্রীরামপুর থেকে ছাপা ও প্রকাশিত, রাজা রামমোহন রায়ের শিষ্য রাম রাম বসুর, অন্যতম প্রথম বাংলাভাষায় রচিত গদ্য রচনা, “রাজা প্রতাপাদিত্যচরিত্র” গ্রন্থের ২৫-পৃষ্ঠায় উল্লিখিত সম্রাট আকবরের সমস্যার কথায়। কবিতাটি সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা কবির পরিচিতির পাতায় দেওয়া রয়েছে।

শোবর কামিনী নীর নাহারতি।
রিত ভালিহেঁ।
চিরমচরকে গচপর বাবিকে।
ধারেছ চল্ল চলিহেঁ।
রায় বেচারি আপন মনমে।
উপমাও চারি হেঁ।
কেছুঙ্গ মরোরতি সেত ভুজঙ্গিণী।
জাত চলি হেঁ।

“রাজা প্রতাপাদিত্যচরিত্র” গ্রন্থের “টিপ্পনী”-র পৃষ্ঠা-৯৬ এ অমূলাচরণ বিদ্যাভূষণ মহাশয় দ্বারা কৃত অর্থ দেওয়া রয়েছে এইরূপে . . .

সো বর কামিনী    নীর নাহারতি।
রিত ভালি হেঁ।
চির মচরকে    গচপর বাবিকে
ধাবেছ চল্ল চলি হেঁ।
রায় বেচারি    আপন মনমে।
উপমা ও চারি হে।
কে ছঙ্গ মরোরতি    শ্বেত ভুজঙ্গিনী।
জাত চলি হেঁ।

সো = সেই, বরকামিনী = শ্রেষ্ঠ রমণী, নীর = জল, নাহারতি = স্নান করিতেছে, রিত = রীতি, ভালি = ভাল, চির = বস্ত্র, মচরকে = নিঙ্গাড়িয়া, গচপর = ঘাটের উপর, বাবিকে = বাপীকে = পুষ্করিণীর, ধাবেছ = ধারে ধারে, চল্ল চলি = চলিয়া যাইতেছে, রায় বেচারি = রায় বেচারা, আপন = আপনার, মনমে = মনে, ও চারি = বিচার করিতেছে, ছঙ্গ = সঙ্গ, মরোরতিকে = মূর্ত্তির, (অর্থাৎ মূর্ত্তিসহ = মূর্ত্তিমতী) জাত চলি = চলিয়া যাইতেছে।

সেই শ্রেষ্ঠ কামিনী জলে স্নান করিতেছে, এ রীতি ভাল বটে। তাহার পর ঘাটের উপর বস্ত্রখানি নিঙ্গাড়িয়া পুষ্করিণীর ধারে ধারে চলিয়া যাইতেছে। (সম্ভবতঃ মস্তকের কেশজাল বস্ত্রাবৃত করিয়া নিঙ্গাড়াইতে ছিল) রায় বেচারা আপনার মনে বিচার করিয়া এই উপমা স্থির করিল যেন, মূর্ত্তিমতী শ্বেত ভুজঙ্গিনী চলিয়া যাইতেছে।

ই কবিতাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সালে) প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র মিত্র প্রণিত “যশোহর-খুলনার ইতিহাস”, ২য় খণ্ডের, ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ – আগ্রার রাজনীতি ক্ষেত্র, ১১৭-পৃষ্ঠার পাদটীকায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কবিতাটি সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা কবির পরিচিতির পাতায় দেওয়া রয়েছে।

শো বর কামিনী নীর নাহারতি রিত (রীত) ভালি হেঁ
চির মচরকে গচপর বাবিকে, ধারেছু চল্ল চলি হেঁ।
রায় বেচারি আপন মনমে উপমা ওচারি হেঁ।
কে ছঙ্গ মরোরতি সেত (শ্বেত) ভুজঙ্গিনী, জাত চলি হেঁ॥”

---রাম রাম বসুর “রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র,” মূল গ্রন্থ ৬২পৃঃ।

অর্থাৎ সেই শ্রেষ্ঠরমণী জলে স্নান করিতে ছিলেন, এ রীতি ভাল। পরে পুষ্করিণীর ঘাটের উপর বস্ত্র নিঙ্গড়াইয়া উহার ধারে ধারে চলিয়া যাইতে চিলেন। তাহা দেখিয়া রায় বেচারা আপন মনে এই উপমা স্থির করিলেন যেন মূর্ত্তিমতী শ্বেত ভুজঙ্গিনী চলিয়া যাইতে ছিলেন।
---নিখিল বাবুর প্রতাপাদিত্য” ৯৬--৭ পৃঃ।

বিশ্বকোষে (১২শ খণ্ড, ২৬৩ পৃঃ) “চির মচরকে" স্থলে “চির আঁচারকে”, “গচপর“ স্থলে “গঠপর” ও “কে ছঙ্গ মরোরতি” স্থলে “কৈছন মরাবতী' আছে। “চির আঁচরকে” অর্থে বস্ত্রাঞ্চল বুঝায় “চিরমচরকে” থাকিলে চির - বস্ত্র, মচরকে নিঙ্গড়াইয়া ; গচপর ও গঠপর উভয়েরই একই অর্থ - ঘাটপর বা ঘাটের উপর। বাবিকে - বাপীকে - পুষ্করিণীর।

ই সমস্যাপূরণ কবিতাটি, ১৯৬১ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা প্রকাশিত, বিমানবিহারী মজুমদারের “গোবিন্দদাসের পদাবলী ও তাঁহার যুগ” পদাবলী সংকলনের “গোবিন্দদাসের যুগ” প্রবন্ধের, প্রথম অধ্যায়, ৩৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কবিতাটি সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা কবির পরিচিতির পাতায় দেওয়া রয়েছে।

সো বরকামিনী নীর নাহারতি
রিত ভালি হেঁ।
চিরমচরকে গচপর বারিকে
ধীরেছু চল্ল চলিহেঁ॥
রায় বেচারি আপন মনমে
উপমা ও চারিহেঁ॥
কৈছঙ্গ মরোরতি সেত ভুজঙ্গিনী
জাত চলিহে।

*********************











*
বন্ধুর লাগি কোন দেশে যাইমু
কবি প্রতাপ আদিত্য
ভারতবর্ষ পত্রিকার জৈষ্ঠ, ১৩২৬ বঙ্গাব্দের (১৯১৯ সাল) সংখ্যায় প্রকাশিত আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ-এর অপ্রকাশিত প্রাচীন বৈষ্ণব পদাবলী প্রবন্ধ, ৭৯৭-পৃষ্ঠায় এই পদটি দেওয়া রয়েছে। তিনি লিখেছেন যে এই কবির তিনি কোনো পরিচয় পাননি। পদটি তাঁর হিসাবে ১৬৪৯ শকাব্দের বা ১৭২৭ খৃষ্টাব্দের পূর্বের ও এই প্রবন্ধ প্রকাশনার থেকে ১৯১ বছরের পূর্ববর্তী রচনা।

॥ রাগ – নট॥

বন্ধুর লাগি কোন দেশে যাইমু।
রজনী প্রভাত হৈলে কার মুখ চাইমু॥ ধু॥
ভোখে ভাত নহি খাম্ পিয়াসে ন খাম্ পানি।
জ্বলিয়া জ্বলিয়া উঠে হৃদের আগুনি॥
সুতিলে ন আইসে নিদ্রা বসিলে পোড়ে হিয়া।
বিষ খাই মরি যাইমু কালার বলাই লৈয়া॥
প্রতাপ আদিত্যে কহে বিড়ম্বন আছে।
মিছা মিছা ভুলি রৈলুল এ ভব মায়া রসে॥

*********************