| দেয়ালিকা ৬ |
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে লিখি কথা | আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার স্বাধীনতা || |

| এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে স্ক্রল করে! This page scrolls sideways, Left-Right ! |
| যে কোনো কবিতায় ক্লিক্ করলেই সেই কবিতাটি আপনার ব্রাওজারের ডান দিক ঘেঁষে ফুটে উঠবে |
| কবিদের ভরসার দিন বুঝি শেষ। কখন কি লিখে ফেলে ক্লেশে অক্লেশ॥ সে পাপের বোঝা কেন আমরা বহি ? ছাপোষা প্রকাশক, অ-ধর্মী নহি॥ তাই, দেয়াল শোধনে দিনু গোময়-ঘুঁটে। পাপ-স্খলন হইলে কিছু, দোষ কি তাতে! . দুষ্টকবি আমাদের ই-মেল: srimilansengupta@yahoo.co.in তাহলে আর দেরী কেন? ছড়ার ছররা ছড়িয়ে, দেয়াল তুলুন ভরিয়ে...! . রাজেশ দত্ত কবিদের পাতায় যেতে তাঁদের নামের উপর ক্লিক করুন |
| |||||
|
| অজ্ঞাত কবি ফেসবুক প্রাপ্তি ২৪-৭-২০১৬ |

| ভাল লাগে ডালমুঠ বাংলার পাঁইট জনটানা রিকশায় হিলতোলা বাইট আমি নাগরিক দেখি দিনরাত শহরের শিয়রে যে অতিপাত গান লিখি পদক পুরস্কার বিদেশ যাত্রার ডাক মিডিয়ার নাচানাচি নিন্দামন্দা এভাবেই আমার ধান্দা কবি নাম নিয়ে যুগযুগ (করে)খাক! |
| কৌশিক ভাদুড়ী মিলনসাগরে কবির পাতা ফেসবুক প্রাপ্তি ১২-৮-২০১৬ |
ভারতী নিজের মাভাষা ভুলে প্রসার ভারতে চেয়েছো জাতীয় নদী বহে খরস্রোতে সম্মুখে পতন থাকলে হয় মতিভ্রম পচা ভাদ্রমাসে ভাবো রয়েছো শরতে দযা নয়, ভিক্ষা নয়, চাই অধিকার যুক্তরাষ্ট্রে বঙ্গ সহ ওডিশা বিহার প্রতি অঙ্গরাজ্যে নবভারতের গান গাহে পাখি নানা ভাষা ভারতী প্রসার.... |
| প্রসূন ভৌমিক মিলনসাগরে কবির পাতা ফেসবুক প্রাপ্তি ১৬.৮.২০১৬ |

| সপ্তাশ্ব ভৌমিক ফেসবুক প্রাপ্তি ২৭.৮.২০১৬ |
| রেহান কৌশিক ফেসবুক প্রাপ্তি ২৭.৮.২০১৬ |

| ইমন ফেসবুক থেকে প্রাপ্তি ১৮.৯.২০১৬ |

| ॥ গাধাতামামি॥ কিছুকিছু গাধা আছে যত্র ও তত্র, কারো কারো মস্তকে ছেঁড়া রাজছত্র ! কারো ঘিলু খটখটে, মগজেতে ঘুঁটে কেউ বাঁচে চিটফান্ড-পদে মাথা কুটে । কোনো গাধা সাংসদ, কেউ মাস্টার বেশ কিছু ক্ষমতাতে সাঁটা প্লাস্টার । কোনো গাধা প্রশাসনে গো-শাসনে বন্দী সিন্ডিকেটেতে শত ভৃঙ্গী ও নন্দী । এতো প্রকারের গাধা থাকলে কি হবে, গাধা তো গাধাই ভাই, ঘোড়া কেউ কবে ? শুধু এক ব্যাপারেতে গাধাদের মিলঃ এঁটোপাতা চেটে খাওয়া করেনি বাতিল , নিখুঁত কাতিল !!! ।। শুভ জোয়ারদার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ।। |
| শুভ জোয়ারদার মিলনসাগরে কবির পাতা প্রাপ্তি ২৫.৯.২০১৬ |
| ॥ হিমি-ফরমূলা॥ হিমিপিসি ছিল বাল্যবিধবা মহিলা নিষ্ঠাবতী তিনকুলে তার ছিলনা কো কেউ, আচারে বিচারে সতী । অশ্লেষা-মঘা-অম্বুবাচীর তিথি মেনে সব কর্ম যেখানে আমিষ সেখানে কারফু, মনেতে কঠিন বর্ম । সেই পিসিমাই ঢলানি হলেন, মাছে-মাসে দিলো মন মুখে পমেটম, ক্লাবেতে প্লাবন, রিসর্টে বৃন্দাবন ! আসলে পিসির খিদে ছিল পেটে, শত্রুর মুখে ছাই দিয়েছেন পিসি, তাই দিবানিশি রসেবশে মাখা ফ্রাই ! হিমিপিসিমার ফরমূলা আজ খাচ্ছে বুদ্ধিজীবীরা কবি অভিনেতা শিল্পী গায়ক , বিখ্যাত বাবুবিবিরাঃ পেটে খিদে বলে বেহায়া হয়েছে, রাজার ভজনা করিয়া চেটেপুটে খান, লেবু চটকান, প্রতিবাদে গড় করিয়া , নিজের ছায়াকে ডরিয়া !!! ॥ শুভ জোয়ারদার ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬॥ |
| শুভ জোয়ারদার মিলনসাগরে কবির পাতা প্রাপ্তি ২৫.৯.২০১৬ |
| এই তো সেদিন পরিবর্তন আনলো জোয়ার মনে, ভাবলো সবে “নিলাজ প্রদর্শন”-টা যাবে থেমে! কী যে ব’লে দু কান ম’লে ডুব দিলো বাংগালি, আড়ালে যা চলতো, এখন চলছে খোলাখুলি! ভুলিয়ে সারদাকে, নারদাকে গুলিয়ে দিয়ে গন্ধ ঢাকে উন্নয়ণের ধূপ-ধুনো জ্বালিয়ে। থীমের পূজোর পোয়াবারো, টাকার খেলায় মেতে। প্রজার উপরী পাওনা --- মুখ্যমন্ত্রী কাটলে ফিতে। নেয় না নালিশ থানায় গেলে, দলের মত্ না পেলে, ব্যস্ত পুলিশ উন্নয়ন-উত্সবের জাঁতাকলে! ক’টা বছর সুযোগ পেয়ে ফুর্তি করার তালে দেশ ডুবেছে সিণ্ডিকেট আর তোলাবাজির চালে! পেটোয়া ক্লাবের ঠাকুর-মিছিল, লাল-সরণী পরে ভিক্ষে পাওয়া দু-লাখ ফেরত দিচ্ছে ধামা ধ’রে! এ শরতেও দুগ্গা মায়ে দুষ্টকবি কয়--- লজ্জা দে মা, শরম দে মা, একটু দে মা ভয়॥ . ********************* ১০.২০১৬ |
| বেণীমাধব যখন আলিমুদ্দিন "আলিমুদ্দিন, আলিমুদ্দিন, বিপ্লব কবে পাবো? আলিমুদ্দিন, তুমি কি আর মানুষের কথা ভাবো? আলিমুদ্দিন, বিপ্লব বাঁশি তমাল তরুমূলে বাজিয়েছিলে, আমি তখন মাধ্যমিক ইস্কুলে। ছোট থেকেই এসএফআই করি, শ্রেণী সংগ্রাম, ভোটে তখন রিগিং করো, আগুনের নন্দীগ্রাম। আমি তখন অবাক হই, লজ্জায় হই লাল, আনলে কুমির আলিমুদ্দিন, কাটলে তুমি খাল। আলিমুদ্দিন, আলিমুদ্দিন, আদর্শ তো ভালো, ভাবনা জুড়ে জ্বলেছিল সমাজতন্ত্রের আলো। তোমার জন্য এক দৌড়ে ব্রিগেড ময়দানে, আলিমুদ্দিন, আমার বাবা কাজ করে দোকানে। কুঞ্জে অলি গুঞ্জে তবু ফুটেছে মঞ্জুরি, দলে দলে প্রোমোটার আসলো ভুরি ভুরি। আমি তখন শ্রেণী সংগ্রাম, আমি তখন লাল, ধীরে ধীরে আলিমুদ্দিন পাল্টে গেলো হাল। আলিমুদ্দিন, আলিমুদ্দিন, এই কদিনের পরে, সত্যি বলো, সে সব কথা এখনও মনে পড়ে? সে সব কথা বলেছো পোলিট বুড়োটা-কে, আমি দেখি বামের পাশে সুবিধাভোগী থাকে। |
|
| দেখেছিলাম আলোর নীচে, নিকষ সেই কালো, স্বীকার করি দুজনেই হয়েছো জমকালো। পুড়িয়ে দিলো চোখ আমার, ঘুরিয়ে দিলো চোখ, বাড়িতে ফিরে বলেছিলাম শিক্ষা দেবে লোক। রাতে এখন ঘুমোতে যাই স্বপ্ন ভাঙা ঘরে, মেঝের পরে লাল পতাকা, একা গুমড়ে মরে। আমার পরে যে কমরেড, চোরা পথের বাঁকে, মিলিয়ে গেছে, জানি না কোন দলে সে থাকে। আজ তো গেল, কাল কি হবে, কালের ঘরে শনি, সব পাড়ারই দখল নেয় সবুজ দিদিমনি। তবু আগুন, আলিমুদ্দিন, আগুন জ্বলে কই? কেমন হবে আমিও যদি আজ সুবিধাভোগী হই?" |

| বললে মেয়ে " হায় রে পুরুষ, হায়, ঠাকুর দেখতে নিয়ে গিয়ে ফেললে বেকায়দায় ? বুক যে কাঁপে ভয়ে কীসের জোরে থাকবো বেঁচে কার মুখেতে চেয়ে ... গলায় ঢালে বিষ আমরা তখন দেদার বাজি ফোটাচ্ছি দশ দিশ । নেতিয়ে গেলি মেয়ে দেখল না কেউ চেয়ে হায় রে মেয়েমানুষ আমরা তখন ফুর্তি করে ওড়াচ্ছিলেম ফানুস |
| মৃদুল শ্রীমানী ফেসবুকের ছড়া প্রাপ্তি ০৮.১১.২০১৬ |
| অর্থের অভাবে মৃত স্ত্রীকে কাঁধে নিয়ে, মৃত মায়ের শোকে ক্রন্দনরতা মেয়েকে সঙ্গী করে দশ কিমি পথ অতিক্রম করতে হল দানা মাঝিকে ২৫.৮.২০১৬ তারিখে, উড়িস্যার কালাহাণ্ডি জেলায়। কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায় নি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পাবার পরে অ্যামবুসেন্স আসে। এই প্রসঙ্গে অরিজিৎ টুবাই-এর ফেসবুকের পোস্টটিও তুলে দেওয়া হলো . . . প্রেম মানে 'দানা মাঝি'.. দানা মাঝি মৃত স্ত্রীকে নিয়ে ১২ কিলোমিটার পথ হাঁটলেন। সরকারি অবহেলাই ভারতের অবর্ণ মানুষের প্রাপ্য, নতুন করে কিছু বলার নেই। আমি শুধু ভাবছি ভালোবাসার কথা। ১২ কিলোমিটার হাঁটলেও ওনার পরিকল্পনা ছিল ৬০ কিলোমিটার হাঁটার কারণ ওনার গ্রাম হাসপাতাল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে। উনি হাঁটছেন এই খবর রটে যাওয়ায় সরকারি বাবুরা তড়িঘড়ি এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে যাতে করে বাকি রাস্তাটুকু ওনাকে পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু উনি মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ৬০ কিলোমিটার হাঁটবার । নিজের গ্রামে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীর সৎকার করবেন বলে। কতখানি ভালোবাসা থাকলে মানুষ এরকম দানবিক পরিশ্রম করে? জানি না। আমরা ভালোবাসা বলতে বুঝি কবিতা, গান, বিরহ। শ্রীকৃষ্ণ আর রাধার খুনঁসুটিপূর্ণ প্রেম, অথবা কুমারসম্ভবে হর পার্বতীর যৌন প্রেম অথবা রবীন্দ্রনাথের গানে কবিতায় যে প্রেমের বহুমাত্রিক প্রকাশ আমরা দেখতে পাই এই সবকিছুর মধ্যে কোত্থাও ভারতের আপামর খেটে খাওয়া শ্রমিক মানুষদের খুঁজে পাবে না কেউ। শ্রমজীবী মানুষের ভালোবাসার প্রকাশ, প্রেমের প্রকাশের মধ্যেও শ্রম মিশে থাকে, লড়াই মিশে থাকে বোধয়। স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে করে ৬০ কিলোমিটার হাঁটার শক্তি শ্রমজীবী মানুষের প্রেমেই থাকে, কালিদাস থেকে রবীন্দ্রনাথে সেই প্রেম খুঁজলে পাওয়া যাবে না। সত্যি বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য আমাদের দেশ, একজন তার স্ত্রীকে ভালোবেসে কোটি টাকার উড়োজাহাজ উপহার দেয়, অন্যজন বউ কে ভালোবেসে বউ এর লাশ কাধে নিয়ে হেটে যায়......!!!! |
| চাটুজ্যে যা পেয়েছিলেন, কবীরে কি হ্রস্বমান ? “তোমাকে চাই” শুনতে তো কেউ হয়নি হিন্দু-মুসলমান। এত পেয়েও কেন তিনি ঘোমটা ছেড়ে বোরখা চান? “সংস্কৃতি”-র প্রেম ভালো না মুহব্বতের মুসলমান! “সংস্কৃতি:-র চাটুজ্যেতেও হয়নি দেহের মনের স্নান! সপ্ত ঘাটের জল পান করে হলেন পানির মুসলমান। “সংস্কৃতি”-র গানের বাজার কেবল হিন্দু এপার পান। ওপার বাংলা বাজার দ্বিগুণ, কবীর যখন মুসলমান। মানতে হবে কবীর-কণ্ঠ যখন সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম। পুরস্কারের ঝুলিতে তাঁর এম.পি. আসন সসম্মান। এম.পি. কোটার বখরা নিয়ে কল্লে “ছিঃ! ছিঃ!” দিদির নাম। বঙ্গ-বিভূষণের পরেই “আমি মমতার ডোবারম্যান”! কবীর সুমন কবীর সুমনই, এখন তিনি মুসলমান, আরও সরেস কিছু পেলেই ছুট্টে হবেন আগুয়ান। ভারতবর্ষে সংখ্যালঘুর গ্যারান্টি দেয় সংবিধান। নখ-দাঁত-হীন “সংস্কৃতি”-কে যেমন ইচ্ছা মারুন বাণ। দুষ্টকবি হাড়বজ্জাত অবচেতনের দেয় সে টান খুলতে মনের অন্ধকূপের গুপ্ত দানোর সুপ্ত প্রাণ। এমন মানুষ, এমন কথা, এমন খোঁচা প্রবহমান। তাই সভয়ে দেখছি রাজ্যে মোদীভক্তরা বর্ধমান। |
| দুষ্টকবি ১৭.১.২০১৭ |
| মাতৃদেবী ‘সংস্কৃতি’, আম্মা তুমি মুসলমান, সংস্কৃতির ধারকরা সব গম্ভীর মুখে হাঁটতে যান। স্বামীজিরা ‘সংস্কৃতি’, মৌলানারা মুসলমান, সংস্কৃতির ধারকরা সব গম্ভীর মুখে হাঁটতে যান। উপনিষদ ‘সংস্কৃতি’ কোরান হলো মুসলমান, সংস্কৃতির ধারকরা সব শান্তি মিছিলে হাঁটতে যান। জল বলাটা সংস্কৃতি, পানি বললেই মুসলমান, সংস্কৃতির ধারকরা সব গম্ভীর মুখে হাঁটতে যান। চাটুজ্যেটা সংস্কৃতি, কবীর সুমন মুসলমান, সংস্কৃতির ধারকরা সব গম্ভীর মুখে হাঁটতে যান। ঘোমটা তুমি সংস্কৃতি, বোরখা তুমি মুসলমান, সংস্কৃতির ধারকরা সব কুরুক্ষেত্রে হাঁটতে যান। এমনিতে যারা দিব্যি বলেন বাঙালি আর মুসলমান, অমনি তারা গম্ভীর মুখে কুরুক্ষেত্রে হাঁটতে যান। |
| কবীর সুমন মিলনসাগরে কবির পাতা তোলা হয়েছে ১৭.১.২০১৭ |

| অভিশাপ সময়ে অষুধ, নইলে বেড়ে যায় সবরকম রোগই ভিখ পেতে পেতে তুমি রাজা হয়ে ওঠো, গেঁয়ো যোগী। উঠেই নির্দেশ দাও, ধর্মের তলব দিকে দিকে মৃগয়ায় খুঁজে ফেরো অন্য কোনও ধর্মের নারীকে। যে হরিণ মৃত, তারও মাংসে তুমি চাও অধিকার এমন রাজত্বে মৃত্যু সহজে তো হবে না তোমার। বাতাসে হাপর নামে, দেশ জুড়ে অধর্মের ছাই . . . প্রতি নির্বাচনে আমরা শতাব্দীপিছিয়ে ফিরে যাই। যেখানে পুরুষ ধর্ম ধর্ম-পুরুষের অন্য নাম আর আমি নারীর মৃত্যু পার করেও শিকার হলাম। আমাকে ধর্ষণ করবে যদ্দিন কবর থেকে তুলে --- কন্ডোম পরানো থাকবে, তোমার ওই ধর্মের ত্রিশূলে! |
| শ্রীজাত ফেসবুকের ছড়া রচনা ১৯.৩.২০১৭ |
| শ্রীজাতর জন্য একটি কবিতা . . . ছুটছে অশ্বমেধ-ঘোড়া, রং তার আঁধারেরও কালো। সাধু রঙা কেতনের খোদ্ সাধু আজ রাজা জমকালো॥ অশোকের পরে আজ ফের পুষ্যমিত্র সংঘী। সনাতন-শান্তি মুখে। কর্মেতে ঘোর জঙ্গী॥ “দেশভক্তি” ও “দেশদ্রোহী”-র, শুনি গৈরিক নব ব্যাখ্যা। গোস্তের কানাঘুষো শুনে, যাবে কার প্রাণ! তার অপেক্ষা ? স্বেচ্ছায় বিক্রীত জ্ঞানী। দেশ জুড়ে বুদ্ধির ঢেঁকি। এরই মাঝে শ্রীজাতোর নির্ঘোষ। শিরদাঁড়া এখনো দেখি বাকি॥ মৃতা-ধর্ষণে নেই দোষ, ত্রিশূলের কন্ডোমে রুষ্ট! এমন হিন্দু দেখে ভাই বুক ফাটে কবিদুষ্টর॥ সেকুলারী-আস্কারা ঘষে, ঘৃণা হিন্দুর মনে মনে। নেতা-নেত্রীরা শোধরাও, নইলে, মুছে যাবে আগামী দিনে॥ শক হুন দল মোগলের, এক দেহে লীন হওয়া দেশ। আর ক’দিনেই আখরিক “হিন্দুস্তান” হবে বেশ॥ দুষ্টকবি ২২.৩.২০১৭ |
| দুষ্টকবি ২২.৩.২০১৭ |
| শহীদ নাম ছিল তার উন্নয়ন আকাশ জোড়া বিজ্ঞাপন, এই শহর আর পোষায় না লন্ডন হবে কলকাতা । উঠছে ব্রীজ, জ্বলছে আলো, গরীব মায়ের কপাল ভালো। সংস্কৃতির বেলুন ওড়ে, শিল্পী আসে, শিল্প গড়ে। পুঁজির টাকা ভাগের মাসি শিল্পপতির অট্টহাসি। সেই হাসিতে আগুন জ্বলে আজ বাজারে, হাসপাতালে পুড়ছে কত মরছে কার? হয়না তখন আবিস্কার। হঠাৎ করে ভর দুপুরে, কান ফাটানো শব্দ করে ব্রীজগুলো সব ঝাপিয়ে পড়ে- স্কন্ধকাটার নেত্য করে যাত্রীবোঝাই গাড়ির ওপর - প্রাণের শিবির রক্তসফর। |
| শাশ্বতী ভট্টাচার্য |
| ব্রীজের তলায় আটকে থাকা হাত-পা গুলো রক্তমাখা। দোমড়ানো সব আস্ফালন নাম দিয়েছি উন্নয়ন। চ্যানেল জুড়ে গরম ফাইট - ফটোয় ভরা সোশাল সাইট, তারপর সব দয়াল নেতা ভাষণ জোড়া টাকার কথা, ক্ষতিপূরণ এর চমৎকার ভোটটা দিলেই অঙ্গীকার- 'লন্ডন হবেই কলকাতা' লাশগুলোর আর কি চিন্তা? উন্নয়নের জন্ম দিলো.... শহীদ হয়ে মানুষগুলো।। |
| আমার শহর আমার শহর বাকরুদ্ধ অনুভবহীন অসাড় পিষ্ট হল স্বপ্নগুলো আকাশ ছাওয়া আঁধার আমার শহর রক্তস্নাত প্রতিশ্রুতি চুরমার সেতুর নীচে মৃতস্বজন শুনছোকি হাহাকার? আমার শহর রাজনীতি মৃতদেহ দরদাম রক্ত নিয়েও দলাদলি ভাবছো ডান না বাম? আমার শহর ভাঙা সেতু রক্তের জাত খোঁজা আঘাত সয়েও টান করা পিঠ শিরদাঁড়াটা সোজা। |
| অজ্ঞাত কবি |
| অ্যামাজন সাপুড়ে ফ্লিপকার্ট বাপুরে, আয় বাবা খুঁজে দে ফাঁকা ট্যাঁক বুঝে দে- যে ফোনের তালা নেই, অ্যাপ্সের জ্বালা নেই, হোয়াটস অ্যাপে ডাকে না, হ্যাং হয়ে থাকে না , করে শুধু হেল্পই কম তুলে সেলফি, করে নাকো ছটফট চার্জ হয় চটপট, সেই ফোন জ্যান্ত, এক পিস আন তো, দরজায় টোকা দে কিনে নেব নগদে ।। |
| অজ্ঞাত কবি |
| পাতা সমাচার নিম পাতাতে ঔষধি গুন তুলসী পাতায় সুখ, পান পাতাতে বিয়ের কনে লজ্জায় ঢাকে মুখ। ডাল ফোঁড়নে কারি পাতা চাটনি ধনে পাতায়, তেজ পাতাতে নাইরে তেজ কিইবা আসে যায়। বেল পাতাতে হয়রে পূজো তালপাতাতে বাঁশী, কলাপাতায় ইলিশ পাতুরী খেতে যে ভালবাসি। লাউয়ের পাতা, পালং পাতা মূলার পাতা হলে, পাতার পরিচয় যায়রে ঘুচে শাকই সবাই বলে। খাতার পাতায় যায়রে লেখা চোখের পাতায় ঘুম, মনের পাতায় অনেক স্মৃতি থাকলো নাহয় গুম্। |
| অজ্ঞাত কবি |
| হাত পাতায় লজ্জা ভীষণ কান পাতায় দোষ, হাঁড়ি পাতা দৈয়ের স্বাদ খেলেই বলে জোশ্। কাঁঠাল পাতা পেলে ছাগল চিবায় মনের সুখে, তামাক পাতা পেলে মানুষ ধোঁয়া ছাড়ে মুখে! বিছুটি পাতা ঘষলে গায়ে বোবাও কথা বলে, আড়ি পাতা দোষের কাজ দেখলেই গা জ্বলে। জীবন পাতার সবুজ রঙ সময়ে হয় ফিকে, শুকিয়ে গেলে যাবে ঝরে কেউ রবেনা টিকে। ফাঁদ পাতা এই দুনিয়াতে সবাই ধরা পড়ে, কচু পাতায় জলের মতো জীবন নড়ে চড়ে। |
| এখনও তো হাত পা চলে মাঝেমধ্যে কোমর ব্যথা চুল যদিও গেছে পেকে দিব্য আমার চলছে মাথা মাঝে মাঝে কাজের ফাঁকে একটা শুধু চিন্তা আসে আরো বুড়ো হব যখন থাকবে কি কেউ আমার পাশে ? বাচ্চারা সব হচ্ছে বড় জীবন তাদের মেলছে পাখা কঠিন , বড় কঠিন হবে বুড়োর জন্য সময় রাখা অসুখ বিসুখ হবে যখন হয়তো তারা থাকবে পাশে দিন চালানোর সমস্যা নেই আসবে টাকা প্রতি মাসে ভয়টা আমার অন্যখানে স্মৃতির সাথে একা থাকা তখন হাতে নেই কোনো কাজ সারাটা দিন সময় ফাঁকা |
| অজ্ঞাত কবি |
| বয়েসকালের ন্যুব্জ শরীর জরদগব অসুখ বিষে বাইরে ডাকে দোয়েল পাখি নতুন হওয়া ধানের শিষে তখন আমার বয়স্ক কান ডাক শুনতেও যন্ত্র লাগে তখন যেন মনে আমার নতুন করে ছন্দ জাগে একলা থাকায় ভয়টা কিসে থাকুক সবাই অনেকটা দূর আমার মনের সঙ্গী হতে তৈরী আছেন রবিঠাকুর বয়েসকালের অবসরে মজবো মজায় কাব্যরসে ইচ্ছে মতন মন রাঙাবো শক্তি সুনীল শঙ্খ ঘোষে মরণ যখন টানবে কাছে উঠতে হবে আসরশেষে রবির গানের রেশটা রেখে যাব চিরঘুমের দেশে |
| যদি যদি, ইলিশ মাছের আমেজ পেতুম কল্মীশাকে, তবে, “জয় মা” ব’লে জাপ্টে নিয়ে রাম বাবাকে, মাংস ছেড়ে পালিয়ে যেতুম হরিদ্বারে, ফলার খেয়ে তৃপ্তি পেতুম গঙ্গা পারে। যদি, শিক-কাবাবের গন্ধ পেতুম কুমড়ো ভাতে, তবে, জৈন হ’য়ে কল্পসুতো বাগিয়ে হাতে দিগম্বরের মূর্তি ধরে ডাইনে বামে আস্থা চ্যানেল ভরিয়ে দিতুম যোগ ব্যায়ামে। |
| অজ্ঞাত কবি |
| যদি, চিংড়ি মাছের মস্তি পেতুম থানকুনিতে, তবে, নিমাই সেজে ঢোল বাজাতুম ডানকুনিতে, চুল কামিয়ে দু’চোখ বুজে “কেষ্ট” ব’লে বষ্টুমীকে বসিয়ে নিতুম দুষ্টু কোলে। যদি, মানকচুতে চিকেন কারির স্বাদটা পেতুম, তবে, আমিষ ছেড়ে ঘাস বিচালি চিবিয়ে খেতুম, তরকারি আর ফলার খেয়ে তৃপ্ত মুখে কাটিয়ে দিতুম জীবনটাকে গুপ্ত সুখে।। |
|
| #valentinesday ভ্যালেনটাইনস ডে, ২০১৭ এসেছে ফাগুন, ক্যাঁতায় আগুন ভ্যালেন্টাইনও আসছে সবাই নাকি সবাইকে তাই ভয়ানক ভালোবাসছে শুধু উদয়ন স্বভাবেতে জেদি পাথরেতে মুড়ে প্রেমিকার বেদি পুলিশের সাথে লুকোচুরি খেলে মুচকি মুচকি হাসছে! |
| অজ্ঞাত কবি |
| এ্যালেনের চিংড়ির কাটলেট মিত্রতে কোবরেজী ফিশফ্রাই দিলখুসা কেবিনেতে চেখো চপ কফিহাউসে তে কফি খাওয়া চাই। কুকিজারে প্যাটিস আর পেস্ট্রি Ralli সিং এ গোলাপের শরবত নিজামের রোল নিয়ে বসে যাও ধীরে ধীরে করে খাও তরিবৎ। গুপ্ত ব্রাদার্সে গোলগাপ্পা এলগিনে শর্মার কচুরী হলদীরামেতে ছোলা ভাটুরা ভাজাভুজী পেয়ে যাবে প্রচুর ই। রকমারী দোসা যদি খেতে চাও সঙ্গেতে ইডলী ও সম্বর রাজে যাও, কমলা বা প্রেমাতে লেক মার্কেটে পাবে বিস্তর। আমিনীয়া গিয়ে খাও রেজালা ভোরবেলা সাবিরের পায়া খাও চিৎপুরে ঢুকে পড় রয়্যলে ভালো মাংসের চাঁপ যদি চাও। |
| অজ্ঞাত কবি |
| সিরাজের বিরীয়ানী লা জবাব আরসালানেতে যত মোগলাই যা যা তুমি খেতে পারো খেয়ে নাও এ্যাম্বারে তন্দুরী চেখো ভাই। ট্যাংরায় সস্তায় চাইনীজ থাই খেতে গ্র্যান্ডের বানথাই ম্যাকডোনাল্ডস্ এ হ্যামবার্গার অলিপাবে বীফস্টেক খেতে যাই। কস্তুরী রেঁস্তোরা যদি যাও ঝাল ঝাল বাঙালের রান্না আস্ত বাঙালী যদি হতে চাও যেতে হবে ভজহরী মান্না। বিজলীর কি দারুণ ফিশ্ রোল ডোমিনোতে পিজা নিয়ে বসে যাও কিনে আনো শ্রীহরির ল্যাংচা শর্মার রাবডী তে ফেলে খাও। মিঠাইতে ভাঁড়ে করা মিঠে দই নকুডের জলভরা সন্দেশ বলরামে বেক্ট্ রসগোল্লা মৌচাকে মৌচাক খেতে বেশ। |
| টুংনামে সস্তায় চাইনীজ বড় বাজারেতে পাবে ভালো ঘোল, লেকে গিয়ে কুড়িখানা ফুচকা তারপরে সাতদিন ভাত ঝোল। কলকাতা খাদকের স্বর্গ, খুঁজে দ্যাখো এ পাড়া ও সে পাড়া , লেডিকেনি,জিবেগজা,এগরোল চানাচুর, তেলেভাজা, পাকোড়া ।। |
| রাস্তায় তুমি যাচ্ছো মনের সুখে উড়ন্ত কাক পটি করে দিল মুখে তুমি রাগলে না, করলে না মুখ ফ্যাকাশে। ভাবলে --- ভাগ্গিশ্ গরুরা ওড়ে না আকাশে! |
| অজ্ঞাত কবি |
| তফাৎ নেই সাংস্কৃতিক সমসময়, এপ্রিল ২০১৬ সংখ্যায় প্রকাশিত। সাজলজ্জার ধার ধারে না সংসদীয় রাজনীতি, ঘুষের খেলা। প্রতারণা --- সক্কলের এক রীতি। চরকা, পদ্ম, হাতুড়ি কাস্তে কিংবা ফুল --- সবুজ ঘাসে, একই গানের গায়ক তারা একই মঞ্চে সবাই নাচে। কালো পাঁঠা, সাদা পাঁঠা যে পাঠাই বাছবে ভাই ছাল ছাড়ালে তাদের মধ্যে দেখবে কোন তফাৎ নাই! |
| সেলফি তোলো সেলফি তোলো, জীবন ভোলো জগৎ ভোলো, কে বা এলো কে বা গেল, তাতে না হয় বয়েই গেল, দেখতে তোমায় লাগছে ভালো, মিষ্টি হেসে সেলফি তোলো। |
| কবি কাকলী রায় ঘোষ |
| সেল্ফির গান কবি কাকলী রায় ঘোষ |
| ট্রেন লাইনে বাম ডাইনে প্রাণের ঝুঁকি, তাতেই বা কি? নদীর বুকে হাস্য মুখে, পথের মাঝে পাহাড় খাঁজে, ঝোপে ঝাড়ে ঝিলের পাড়ে, পার্কে বসে নজর কাড়ে, সেলফোন টি বাগিয়ে ধরে দেখতে দে না কেমন হলো, সেলফি তোলো সেলফি তোলো। |
| গিন্নী ন্যাকা, কর্তা বোকা, রঙ্গ দেখে অঙ্গে ছ্যাঁকা, দেঁতো হাসি কিংবা রেগে, সেলফি ওঠে ঝড়ের বেগে। টাকলু দাদু গুঁফো মামা, মডার্ন কাকার ব্র্যান্ডো জামা, হেয়ার কাটে গগন ফাটে, |
| পাড়ার হটি খোলা চুলে, হিরোর বাইক স্পীডে তুলে, ওল্ড প্রেমিক ও দুঃখ ভুলে সেলফি তোলে হ্নদয় খুলে। প্রথম ধুতি প্রথম শাড়ি, প্রথম প্রেমের মিষ্টি আড়ি, সেলফি নিতে কাড়াকাড়ি, একটা চুমু বাড়াবাড়ি! ও মেরি জান ঘোমটা খোলো... সেলফি তোলো সেলফি তোলো। |
| ডিপ্ লিপস্টিক কাজল চোখে, জিভ ভেঙিয়ে ছুঁচো মুখে, ওয়াও বেবি হট্ নাকি কুল্ লাগছো তুমি কি বিউটিফুল, কমেন্ট দিলো রাঙা মূলো, সেলফি তোলো সেলফি তোলো। |
| বর কনেতে এক মনেতে, বাসর ভুলে সেলফি তোলে, ফুলের মালা খুলে ফেলে, প্রেম পিরীতি শিকেয় তুলে, এই দিন টাও দেখতে হলো! সেলফি তোলো সেলফি তোলো। |
| হালকা ভোরে ঘুমের ঘোরে, রোদে পুড়ে ভর দুপুরে, নিশুত রাতে বাড়ির ছাতে, কিংবা মাঠে পুকুর ঘাটে, সেলফি ওঠে লাইক জোটে, সেলফি ছাড়া দিন যে জোলো, সেলফি তোলো সেলফি তোলো। |
| ডিস্কো থেকে গড়ের মাঠে, বাইরে গেলে কি বা খেলে, বিরিয়ানী .. ফ্রাই কি পেলে? সিনেমা হলে শপিং মলে, জোড়ায় জোড়ায় দলে দলে, বন্দী কর সেলফি তুলে, যাচ্ছো ভুলে? কানটা মলো, সেলফি তোলো সেলফি তোলো। |
| কুর্তি কালো লাগছে ভালো, ফেসবুক যে করছে আলো, নীলচে শাড়ি দুষ্টু ভারি, ফ্লোরাল টপে কিউট নারী, হলদে ড্রেসে মিষ্টি হেসে ঝগড়া করে ভালবেসে, ব্রেকাপ হলো সেলফি তোলো, সেলফি ছাড়া বৃথাই গেল। |
| মরছে মানুষ ডুবছে জলে, সবার সাথেই সেলফি চলে, ব্যাঙ্ক ডাকাতি গন্ডগোলে, চলন্ত ট্রেন উল্টে গেলে, ভেঙে পড়া উড়ালপুলে, ভূমির কাঁপন, বন্যা হলে, খরায় গেলে রসাতলে, রণে বনে কিংবা জলে, গোমুখ্যুরা নেতা হলে, ঘুষ খাইয়ে চাকরি পেলো, সেলফি তোলো সেলফি তোলো। |
| অফিস কলেজ খেলার মাঠে, হাটবাজারে শ্মশানঘাটে, পারলে শুয়ে মরার খাটে, বল্ হরিবোল চিতায় তোলো, শেষ বারটি চোখ তো খোলো, চুল্লী পিছে সেলফি তোলো। |
| সুকুমার রায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে... দেশপ্রেমের ছড়া অজ্ঞাত কবি (যদি) "দেশপ্রেমিক" নাচে!!! খবরদার চাইবে না কেউ চাকরি তাহার কাছে চাইবে না কেউ ভাত বা রুটি চাইবে না কেউ খেতে (থাকো) চার পা তুলে সিনেমা হলে 'জনগণ' তেই মেতে! (যদি) "দেশপ্রেমিক" কাঁদে-!!! খবরদার! বাড়িতে যেন মাংস কেউ না রাঁধে গোরুর খুরে মাথা খুঁড়ে তুমুল অট্টনাদে ভোজপুরি গান চালিয়ে দিও বেডরুমে আর ছাদে!! (যদি) "দেশপ্রেমিক" হাসে!!! সাবসিডির ঐ চিন্তা যেন কারও মনে না আসে। থাকবে খাড়া ব্যাঙ্ক লাইনে তুলবে মেপে টাকা জানবে ওসব আম্বানিদের জন্য আছে রাখা। |
| অজ্ঞাত কবি ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপের কবিতা |
| (যদি) "দেশপ্রেমিক" ছোটে!!! সবাই যেন সাতসকালে যোগা করতে ওঠে। ভক্তি ভরে গেলাস ভরে পান কোরো গো-চোনা বুঝবে সুফল প্রাতঃকৃত্যে বেরোবে ভরি সোনা!! (যদি) "দেশপ্রেমিক" ডাকে!!! চেঁচিয়ে বলবে "সব বদমাশ পাশের দেশেই থাকে।" যুদ্ধ-রসদ-নেতার মাইনে মন্ত্রী-ট্যুর বিদেশে নাই বা পেলে কিছুই তবু ট্যাক্সো দিও হেসে। তুচ্ছ ভেবে এসব কথা করছ যারা হেলা তাদের ঘরে পৌঁছে যাবে চাড্ডি পরা চ্যালা বাঁদরামি আর গুন্ডামি তে বিরক্ত যেই হলে অমনি তোমায় দাগিয়ে দেবে "দেশদ্রোহী" বলে। |
| কবি অরূণাচল দত্তচৌধুরী |
| কবি পার্থ দাশগুপ্ত |
| কবি বকুল বৈরাগী |
| কবি বিপুল চক্রবর্তী |
| কবি শুভ জোয়ারদার |
| কবি শুভ জোয়ারদার |







| কবি ডঃ অরুণাচল চত্তচৌধুরী |
| দুষ্ট কবি |

| পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা কবি ডঃ অরুণাচল দত্তচৌধুরীর হেনস্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ |
| ডঃ অরুণিমা ঘোষ |
| পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা কবি ডঃ অরুণাচল দত্তচৌধুরীর হেনস্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ |

| সৌমেন্দু সাউ |
| পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা কবি ডঃ অরুণাচল দত্তচৌধুরীর হেনস্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অপদার্থতা ঢাকতে করেছ ফতোয়া জারি আমি ডাক্তার, তাই সত্য কি চাপতে পারি? নির্বোধ আস্ফোলনে, আমাকে সরিয়েছ তুমি তোমার অকর্মণ্যতায় রাজ্য আজ ডেঙ্গির জন্মভূমি। কবিতায় কশাঘাত ডেঙ্গি লুকানো অপদার্থদের। |
| প্রদীপ কুমার সাহা |
| পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা কবি ডঃ অরুণাচল দত্তচৌধুরীর হেনস্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তোমার জন্যে আমরা হন্যে হয়ে খুঁজি একখানি যান,যার চালে নেই কারসাজি! যাহার টায়ারে মায়ার বাহারে 'সততা' ছুট- করেনি শহরে কাহারও প্রেমের শব্দ লুঠ! মজা আর গানে চেয়ে দূরপানে ছুটবে যান- তদ্দিনে তার বুদ্ধি'র গোড়া মহাশ্মশান!! |
| সুশোভন সেন |
| পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা কবি ডঃ অরুণাচল দত্তচৌধুরীর হেনস্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ( নিবেদন) ঘুরছে সূর্য আকাশে দেখো হাতে হাত ধরে মুখচেপে রাখো, সমাধান সব একদিকে রেখে পৃথিবী আজকে স্থির, থামিয়ে সময় রুদ্ধ দুয়ার অচলায়তন নীড়। খণার বচনে এসেছে আজকে পরিবর্তনের পাল! নিজের তরে লুকিয়ে গেলে ধরবে কে তার হাল? অলোকসজ্জা ফোয়ারা চলে নড়কের সব কীট, বগাড়ম্বর বাড়ছে,কমছে শয্যাশায়ীর সীট। বলতে গিয়ে ভুল করোনা আসবে হাজার তীর, বাতুল হয়ে ফিরবে শেষে অন্ধ লিও বীর। আজকে যারা অমোঘ শীর্ষে কালকে মাথানত, থার্মপলীতে উঠছে প্রাচীর, রসদ মনুষ্যত্বের ক্ষত। অরুণাচলে লিওনাইডাস / খায় রঙবেরঙের গুঁতো-- চেষ্টা করে গড়তে মালা, হাতে মানবপ্রেমের সুতো। গোপন নক্সা ফাঁস করে কেউ, বুদ্ধিমানের কাজ? ঠেকাও দেখি বুকের জোরে হার্মাদেদের রাজ! মেঘ উঠবে শহড় জুড়ে বৃষ্টি নামার ঢল/ ভিজবে তুমি, ভিজব আমি, আসমুদ্র হিমাচল ।। |
|

| তুই কি সিপিএম? - এ কি ব্লেম! তাহলে তৃণমূল? - একদম ভুল। কংগ্রেস করিস নাকি ? - ওটা এখনও বাকি। তবে কি মোদী বাবার ভক্ত ? - না, ভণ্ডামি করাও শক্ত । তাহলে কি মার্কসবাদী মাও? - না, নিশ্চিন্তে ঘুমাও। তাহলে কি আম আদমীর আপ? - রক্ষা কর বাপ! তবে কি ধান্দাবাজ বুদ্ধিজীবি ? - এ ভাবেও খিস্তি দিবি! তাহলে নির্ঘাত নিপাট নিরপেক্ষ? - নারে বাবা, সেটা তর্ক সাপেক্ষ । সব বুঝলাম। তাহলে ভোট দিস কাকে? -খারাপের মধ্যে কম খারাপ বুঝি যাকে। কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন শেখর মজুমদার |
| অজ্ঞাত কবি ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপের কবিতা |
| দেশপ্রেমের ছড়া (যদি) "দেশপ্রেমিক" নাচে!!! খবরদার চাইবে না কেউ চাকরি তাহার কাছে চাইবে না কেউ ভাত বা রুটি চাইবে না কেউ খেতে (থাকো) চার পা তুলে সিনেমা হলে 'জনগণ' তেই মেতে! (যদি) "দেশপ্রেমিক" কাঁদে-!!! খবরদার! বাড়িতে যেন মাংস কেউ না রাঁধে গোরুর খুরে মাথা খুঁড়ে তুমুল অট্টনাদে ভোজপুরি গান চালিয়ে দিও বেডরুমে আর ছাদে!! (যদি) "দেশপ্রেমিক" হাসে!!! সাবসিডির ঐ চিন্তা যেন কারও মনে না আসে। থাকবে খাড়া ব্যাঙ্ক লাইনে তুলবে মেপে টাকা জানবে ওসব আম্বানিদের জন্য আছে রাখা। |
| (যদি) "দেশপ্রেমিক" ছোটে!!! সবাই যেন সাতসকালে যোগা করতে ওঠে। ভক্তি ভরে গেলাস ভরে পান কোরো গো-চোনা বুঝবে সুফল প্রাতঃকৃত্যে বেরোবে ভরি সোনা!! (যদি) "দেশপ্রেমিক" ডাকে!!! চেঁচিয়ে বলবে "সব বদমাশ পাশের দেশেই থাকে।" যুদ্ধ-রসদ-নেতার মাইনে মন্ত্রী-ট্যুর বিদেশে নাই বা পেলে কিছুই তবু ট্যাক্সো দিও হেসে। তুচ্ছ ভেবে এসব কথা করছ যারা হেলা তাদের ঘরে পৌঁছে যাবে চাড্ডি পরা চ্যালা বাঁদরামি আর গুন্ডামি তে বিরক্ত যেই হলে অমনি তোমায় দাগিয়ে দেবে "দেশদ্রোহী" বলে। |
| অরুনাভ অধিকারীর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে |
| অসময় সতর্ক থাকলেও পান থেকে খসে যাবে চুন দরকার নেই তাতে অত বেশি মাথা ঘামানোর। কী বা হয় কথা বলে? আরে বাবা, নিজে তো বাঁচুন। তবেই না দেখা যাবে জীবনের রঙিন প্রহর। ছেঁদো কথা রেখে দিন। এঁদো গলি, রাজপথ জুড়ে হাজার প্রহরী রোজ দল বেঁধে দিয়েছে টহল যদি কেউ সখ করে এর মাঝে নিজে যায় পুড়ে সে' দোষ রাজার নয়, তাতে কেন এত কোলাহল? তবু যারা চেঁচিয়েছে তাদেরকে মাথা গুণে গুণে পাওনা মেটানো হবে, অসময়ে সেইটাই রীতি। আপনি ভদ্রলোক। এ'নিয়ম বুঝে… দেখে… শুনে… গা বাঁচিয়ে চলেছেন। বাধ্যের যেমন প্রকৃতি। সেই আপনারও ঘরে গুঁড়ি মেরে ঢুকে যায় ভয় তবেই বুঝুন স্যার, কত গাঢ় এই অসময়। |
| ডঃ অরুণাচল দত্তচৌধুরী |
| শুভ জোয়ারদার |

ভয়টয় দূর হোক যার শুধু পাউরুটি তার ঝোলাগুড় হোক বিভেদ-কুকুর এলে তেমনই মুগুর হোক পৃথিবীর ভালো হোক কম জঞ্জালও হোক ফেয়ার-অ্যান্ড লাভলি-কে না কিনুক পাবলিকে কালো মানুষেরা মাথা উঁচু করে কালো হোক। |
| নতুন বছরের ছড়া: ২০১৮ ভোর হোক, আলো হোক চুলো হোক, চালও হোক সাঁওতাল বেঁচে থাক পাশে জিন্দালও হোক সতেরোর ভুলগুলো আঠেরোয় ঠিক হোক হাতে হাত ঠেকে গেলে পুরোনো ম্যাজিক হোক প্রেম হোক, ইয়ে হোক চাকুরের ডিএ হোক আইবুড়ো কবিদের আঠেরোয় বিয়ে হোক মোড়ে মোড়ে চপও হোক ঘরে ঘরে জবও হোক যাদবপুরের মোড়ে 'হোক কলরব'ও হোক |
| কবি মুক্তিপ্রকাশ রায় |
| মিলনসাগরের কৈফিয়ত অজ্ঞাত কবির এই কবিতাটি, বিভিন্ন সোসিয়াল মিডিয়াতে ঘুরে বেড়াচ্ছে! প্রথমে ভেবেছিলাম কবিতাটি এখানে তুলবো না কারণ আমরা নিজেদের "সেকুলার" মনে করি! কিন্তু ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখলাম যে আসলে কবি এখানে মুসলিমদের দোষারোপ করছেন না। করছেন তাঁদের যাঁরা মুসলিমদের ভোট পাবার জন্য দেশের আইনকেই, একপেশেভাবে ব্যবহার করছেন, নির্লজ্জভাবে। হ্যাঁ হিন্দুরা এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে বড়ভাইয়ের ভূমিকায় - তাঁদের অনেক দায়ীত্ব নিয়ে চলার কথা, যাতে কোনো সময়ই ছোট ভাইয়েদের অস্বস্তি বা ভয়ের জীবনযাপন করতে না হয়। কিন্তু ছোট ভাইদেরও বোঝা উচিত যে এই দেশে বড়ভাইরাও যে দুধে ভাতে নেই। তাঁদেরও যে অসীম যাতনা নিয়ে জীবন কাটাতে হয়। একথা ছোট ভাইদের উপলব্ধি করার সময় এসে গেছে। তাঁদের উচিত এই সব রাজনৈতিক ঠগবাজ এবং তাঁদের সম্প্রদায়ের তাঁবেদার নেতা এবং অবশ্যই তাঁবেদার ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর কাজ শুরু করা। না হলে দেশ চালানোর চাবিকাঠি যে উগ্র বড়ভাইদের হাতে চলে যেতে বসেছে। পাকাপাকিভাবে চলে গেলে সেকুলার বড়ভাইরা যে আর কিছুই করে উঠতে পারবেন না। আসলে, চলেই গিয়েছে। ২০১৯-এও যদি তাঁরা জিতে আসেন তাহলে স্বয়ং উপরওয়ালাও কিচ্ছু করতে পারবেন না। সেকুলার সেকুলার মানে, হিন্দুরা বাদ, মুসলিমে দিই তোল্লা, সেকুলার মানে, পুরোহিত বাদ, ভাতা পায় শুধু মোল্লা। সেকুলার মানে, রাম থেকে রং, আকাশীটা আসমানি, সেকুলার মানে, মা’টা আম্মা, ফুফা ফুফু আর নানী। সেকুলার মানে, জালি টুপি পরে ইফতার পার্টি দেওয়া, সেকুলার মানে, প্রতিবাদী প্লেটে বীফ-বিরিয়ানি খাওয়া। সেকুলার মানে, ভারত তোমার টুকরো টুকরো হবে, সেকুলার মানে, কন্ডোমকে ত্রিশূলে নাকি চড়াবে। সেকুলার মানে, তসলিমা হলে, দূর করে দাও দূর, সেকুলার মানে, শ্রীজাত লিখলে সমর্থনের সুর। সেকুলার মানে, হজে মারা গেলে কড়কড়ে দশ লাখ, সেকুলার মানে, গেল গেল রব, মারা গেলে আখলাখ। সেকুলার মানে, মাদ্রাসাতে – ইসলাম পরিচয়, সেকুলার মানে, হিন্দুর স্কুলে গীতা, রামায়ণ নয়। সেকুলার মানে, মহরম হলে, দুর্গা ভাসান বন্ধ, সেকুলার মানে, ধূলাগড় হলে, চোখ থাকলেও অন্ধ। ওহে সেকুলার , অনেক হয়েছে, থামাও ভণ্ডামি, ইশান কোনে মেঘ জমেছে, দেখতে পাচ্ছি আমি॥ |
| অজ্ঞাত কবি |
| ঝোলে ঝালে অম্বলে ঝোলে ঝালে অম্বলে লেপ কাঁথা কম্বলে, বোনাসের সম্বলে বাঙালী সরকারি চাকুরে বাবা জ্যাঠা কাকু-রে আর রবি ঠাকুরের বাঙালী সিল্ক আর কটনে মুরগি ও মটনে অঘটনে ঘটনে বাঙালী বোশেখের পচা ঘামে কাসুন্দি কাঁচা আমে নুন মাখা কালোজামে বাঙালী টিভি চাই বেডরুমে এক্সপার্ট ভাত-ঘুমে গলা ছাড়ে বাথরুমে বাঙালী খাসা অনুসরণে পাকা অনুকরণে পোশাকের ধরণে বাঙালী |
| অজ্ঞাত কবি সোসিয়াল মিডিয়া |
| মুখপোড়া মিনসে নেই আর দিন সে ধুতি ছেড়ে জীনসে বাঙালী হাই হিল চটিতে দাঁ আর বটিতে বাঙাল আর ঘটিতে বাঙালী মিঠে কড়া বুলিতে পিঠে আর পুলিতে ঠাকুমার ঝুলিতে বাঙালী ফেবারিট সানডে ক্রিকেটে ওয়ানডে গোল খেয়ে কাঁদে ঐ বাঙালী সন্ত্রাস ভীতিতে চোখা রাজনীতিতে আর সম্প্রীতিতে বাঙালী দাঁড়ি কমা হসন্তে বেহাগ আর বসন্তে মান্না ও হেমন্তে বাঙালী |
| আমি তুমি আর কে অন্ধকারে কার কে ময়দানে পার্কে বাঙালী ভয় খুনোখুনিতে পিকে আর চুনীতে হুজুগে ও নাচুনীতে বাঙালী ওল্ড এজ হোমে হায়! বাবা মাকে কে পাঠায় ভিটে বেচে ফ্ল্যাটে যায় বাঙালী রাগে মুখ ভার করে দুয়ে দুয়ে চার করে মাসান্তে ধার করে বাঙালী গিন্নির ঘ্যান্ ঘ্যান্ শুধু খরচের প্ল্যান সত্যজিতের ফ্যান বাঙালী মরে না হতোদ্যমে ভাঁটা নেই উদ্যমে সুচিত্রা উত্তমে বাঙালী |
| পালা লোমহর্ষক চিত্ত আকর্ষক যাত্রার দর্শক বাঙালী কৌতুক ও নকশায় ঠাট্টা ও তামাশায় অম্ল ও আমাশায় বাঙালী হাসি হাততালিতে সু-রসের ডালিতে মুজতবা আলী-তে বাঙালী কবিতার বারোমাসে সুনীল শক্তি আসে জীবনানন্দ দাসে বাঙালী নবাবের শিষ্য ট্যাঁক ফাকা নিঃস্ব মুখে মারে বিশ্ব বাঙালী ভাবখানা সব জানে থাকা চাই সব খানে তবু তো নোবেল আনে বাঙালী॥ |
| গরুদের ও আধার হবে গরুদের ও আধার হবে যেই না গ্যাছে কানে, গাধারা সব ভীষণ খেপে বল্লে এটার মানে? ইস্কুলে সব ব্যাক-বেন্চার, আমরা তো এক দলে! ওদের শুধু আধার দেবে কোন অধিকার বলে? আধার মোরা চাইছি নাকো ভোটার কার্ডেই হবে, এখন বলো হিসেব করে পাচ্ছি সেটা কবে? ছাগল-পাঁঠা আড়াল থেকে দেখছিলো সব মজা, দুলিয়ে দাড়ি লাইন দিয়ে এগিয়ে এলো সোজা। |
| অজ্ঞাত কবি সোসিয়াল মিডিয়া |
| বললে "দাদা আমরা মোটেই কম যাই না কিছু, সব সময়েই গাধা-গরুর সঙ্গে পিছু পিছু। মনে আছে ?মাষ্টার-মশাই কান টি ধরে ক্লাসে, গরু-গাধা-ছাগল হেঁকে চড় কষাতেন কষে? দিন টা এখন পাল্টে গ্যাছে আমরা প্রথম সারি, লেখাপড়া করলে জেনো দু:খ আছে ভারী। গরু গাধা ছাগল আমি যেই হই না কেন, আধার-ভোটার-ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড-ই আসল জেনো। কার্ড আমাদের পেতেই হবে কার্ড-ই জীয়ন-কাঠি, কার্ড যদি না থাকলো, তবে বেঁচে থাকাই মাটি। |
| GST (পাঁচালীর সুরে ) শুণ শুণ ভক্তগণ শুণ দিয়া মন কর-এর মাহাত্য আজ করি বরনন- আদি কালে নাম তার সেলস ট্যাক্স ছিল, পাল্টাইয়া ভ্যাট নাম মনমোহন রাখিল- ইনপুট ও আউটপুটে, দাপুটে ভীষণ, পিছনে জুড়িয়া যাইত যখন তখন- তারই সহোদর ছিল সার্ভিস ট্যাক্স, এক্সাইজ, ইহাদের গুনে সবের দাম হইত রাইজ- আরও কত শত ভাই ছিল নানা ধামে, সকলকে বাঁধিল মোদী জি-এস-টি নামে- |
| অজ্ঞাত কবি সোসিয়াল মিডিয়া |
| পারসেন্টে পারসেন্টে চড়ে দাম হয় ভারী, শাড়ির দোকানে তবু শত শত নারী- অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসাব লইয়া ছিঁড়িছেন চুল, না বুঝিলে শ্যাম যাইবে এবং যাইবে কূল- ফুল, বিল্ল, শঙ্খ লইয়া মন্ত্রী অপেক্ষায়, জন্ম লইবে কর নব পয়লা জুলাই- আসিয়া বসিবেন তিনি আমাদের ঘাড়ে, টানিয়া লইবেন অর্থ নানান প্রকারে- বোঝানো হইবে সবই জনগণের জন্য আমরাও না বুঝিয়া করিব ধন্য ধন্য- |
| গরীব থাকিবে গরীব বড়লোক বড়, ভক্তি ভরে কর জোড়ে সেই পূজাই কর- প্রভাতে ও সন্ধ্যাকালে করিব বন্দনা, তার লাগি ট্যাঁকে পাই যতই যন্ত্রণা- সকলে মিলিয়া তাই বল এক স্বরে, জগত ভরিয়া যাক জি-এস-টি করে- জয় হোক জয় হোক জি-এস-টি বাবার প্রণাম করিয়া সবে থাম এইবার॥ |
| বামফ্রন্টের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই আজ আর নেই, কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেলগুলো সেই আজ আর নেই । লক্ষণ বিজেপিতে , রেজ্জাক তৃণমূলে আজ তারা সব দেখি খবরে সিনিয়র নেতা ছিল অশোক ঘোষদা ঐ, ঘুমিয়ে আছে যে আজ কবরে। কাকে যেন ছয় মেরে ব্যাট বল সব ছেড়ে মিশ্র-দা ভাট শুধু বকে যায়। বিমানদা ধুঁকছে দুরন্ত অবসাদে জীবন করে নি তাকে ক্ষমা হায় । বৃন্দাই আজ শুধু সবচেয়ে সুখে আছে শুনেছি তো বিলিওনেয়ার স্বামী তার, হীরে আর জহরতে আগাগোড়া মোড়া সে গাড়ীবাড়ী সবকিছু দামী তার। ভালো পার্টি বোঝা ছেলে অনিলটা মাথাতে যত ছলা কলা সব আঁটতো; আর চোখ ভরা কথা নিয়ে নির্বাক শ্রোতা হয়ে বুদ্ধদা বসে শুধু থাকতো । একটা টেবিলে সেই তিন চার ঘন্টা দামি সিগারেট ঠোঁটে জ্বলতো, |
| অজ্ঞাত কবি |
| কখনো ইন্দিরা আর কখনো বা মমতা; এই নিয়ে তর্কটা চলতো। রোদ ঝড় বৃষ্টিতে যেখানেই যে থাকুক, আলিমুদ্দিনে এসে জুটতাম, চারটেতে শুরু করে, জমিয়ে আড্ডা মেরে সাড়ে সাতটায় ঠিক উঠতাম । মোটা সোটা চেহারা গালেতে ঝাপসা দাড়ি মুছে গেল ঋতদার নামটা, একটা ভোটও তার হোল না কোথাও জেতা, পেলনা সে প্রতিভার দামটা। অফিসের সোশালে ‘অ্যামেচার’ নাটকে গৌতম অভিনয় করতো, আর কাগজের রিপোর্টার অভিকটা এসে রোজ কী লিখেছে তাই শুধু পড়তো । সেই বামফ্রন্ট নেই আজ টেবিলটা তবু আছে সাতটা পেয়ালা আজোও খালি নেই, একই সে বাংলা জুড়ে এসেছে মমতা রাজ শুধু সেই আমাদের ই রেলা নেই; কত আশা ফুটেছিল এই আলিমুদ্দিনে, কত ভোটে গোহারা যে হেরে যায়; ভাবি এ কী দিন এলো হবে কী যে সামনে. আলিমুদ্দিনটা না শেষে ধ্বসে যায়॥ |
| বামফ্রন্টের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই |
| এক লক্ষ চোরকে চিনি এক লক্ষ চোরকে চিনি, কিন্তু কাউকে ধরব না। মহান চাষীর ধর্ম এটাই… এই মাটিতে চোর বোনা। উর্বর খুব এই যে মাটি, বাছাই করা বীজ সারে খুব করেছি তত্ত্বাবধান, চোরগুলো তাই খুব বাড়ে। লকলকিয়ে উঠল চারা সিন্ডিকেটের জল খেয়ে এ'বার বৃক্ষ আমায় খাবে। থামবে কি আর অল্পে এ? সিভিক ভোলা তুলছে তোলা। অফিস কলেজ বন্দরে ইস্কুলে আর মেলায় খেলায়… প্রকাশ্যে আর অন্দরে। হাওয়াই চটি… সংস্কৃত শ্লোক… হিজাববেশের কি দরকার? ভোট দেবতার আরাধনায়? যাচ্ছি না সে তর্কে আর। বিপদ বাধায় গান্ধীবুড়োর চশমা এবং চরকাটা নইলে সবাই মাসতুতো ভাই, শাড়ির ভাঁজে চোরকাঁটা। সিণ্ডেকেট আর তোলার ভোলা, পাড়ায় পাড়ায় দেশ জুড়ে। পুকুরচুরির অঢেল টাকা উপচে পড়ে ভাণ্ডারে। সবাইকে তার ভাগ দিতে হয়। নিক্তি মেপেই যায় ঘুমে। নইলে বোমা চলবে গুলি… লাশ পড়ে যায় বীরভূমে। |
| অজ্ঞাত কবি |
| প্রিয় রমা প্রিয় রমা কমা তুমি আমার হৃদয়ে জাগিয়েছিলে দোলন সেমিকোলন ভেবেছিলাম তোমার সাথে দেব সাগর পাড়ি দাঁড়ি কিন্তু তুমি ওর সাথে চলে গেলে বিবেকানন্দ পার্ক এক্সক্লামেশন মার্ক তখনই বুঝেছি প্রেম টেম সব ঢপ। ফুল স্টপ। |
| অজ্ঞাত কবি সোসিয়াল মিডিয়া |
| এই সে'দিনও ঢাক পিটিয়ে দিচ্ছিল এই বিকট ইয়ে হঠাৎ কেন ডেঙ্গি কথা করছে স্বীকার কোর্টে গিয়ে? জিভের গোড়ায় বেজায় মিথ্যে। ক্লাব অনুদান পাগলু নৃত্যে ভোটের হিসেব। আজকে বুঝি ভয় জেগেছে ও'টার চিত্তে? অন্য রাজ্যে ভ্রমণ পাড়ি , দেয় যারা সব দেগঙ্গারই? বাদুড়িয়ার বসিরহাটের? এ' গুল কি কেউ মানতে পারি? তার চাইতে বল্ না সোজা ইচ্ছে করেই চক্ষু বোজা কার্নিভ্যাল আর মেলায় খেলায় যায়নিকো রাজধর্ম খোঁজা। |
| কোর্টে দেওয়া হলফনামা… ফালতু হাসির গল্প থামা জ্বরের কারণ পুজোয় নাকি বাইরে ঘুরতে গিসল মামা। 'যাচ্ছিস যা লালপাহাড়ি, সঙ্গে কিন্তু নিস্ মশারি', পিসির হুকুম।( সেই যে পিসি, ভাইপোরা যার বদের ধাড়ি)। সেই মশারিই গেছিস ভুলে? ভিন রাজ্যের মশক ছুঁলে, ঘটার যে'টা ঘটল সে'টাই, ডেঙ্গি ছিল তাদের হুলে। কামড়াল তো, তার পরে কী? অবাক হয়ে সবাই দেখি সবার গাত্রে জ্বরের তাড়স। চেঁচায় পিসি রিপোর্ট মেকি। |
| গুল্প-সমগ্র কবি ডঃ অরুণাচল দত্তচৌধুরী ডেঙ্গি মুকাবিলায় সরকারের ভূমিকা এবং প্রতিক্রিয়া নিয়ে মুখ খোলা এবং এই কবিতাটি লেখার জন্য তাঁকে সাসপেণ্ড করা হয় ১০.১১.২০১৭ তারিখে। |
| নববর্ষ যতই বলো নতুন বছর তেমন কিছই নয়, সপ্তাহ মাস দিনগুলি সব আগের মতই হয়। সোম, মঙ্গল, বুধগুলি সব যেমন ছিল আগে, এবারও সেই একই রকম কেমন যেন লাগে! নতুন বছরই হবে যখন সবই নতুন হোক, উল্টে পাল্টে দিন গুলি সব আবার শুরু হোক। নতুন সূর্য, নতুন চন্দ্র নতুন গ্রহ তারা মাথার উপর ছাদ নেই যার, ঘর ফিরে পাক তারা। অন্ন বস্ত্র নেই ঘরে যার নয়া সালে কি হবে তার? নতুন আলো, নতুন আশা লাগুক সবার মনে নতুন বছর ধন্য হবে সবার সম্মলনে॥ |
| কবি বিদ্যুৎ চৌধুরী। |
| সদ্য সদ্য হয়েছি বৃদ্ধ সদ্য সদ্য হয়েছি বৃদ্ধ, হৃদয়ের রোগ করেছে বিদ্ধ, কাবাব পরটা সবই নিষিদ্ধ, উদাস হয়েছি দু:খে তাই। আহা বিরিয়ানী কোথায় গেলি রে? মাটন কোর্মা কি করে ভুলি রে? রেজালা কি করে মুখেতে তুলি রে? কার কাছে গেলে জবাব পাই? সঙ্গে এসেছে শর্করা রোগ নির্বাসনে তে গ্যাছে রাজভোগ, হাতছানি দিয়ে ডাকে জলযোগ, কি করি? যাবার উপায় নাই। তেলেভাজা বলে কেন রে এলি না? কাটলেট বলে আমাকে খেলি না? চাউমিন বলে ট্যাংরা গেলি না? তোকে তো আমরা সবাই চাই। |
| অজ্ঞাত কবি সোসিয়াল নেটওয়ার্কের কবিতা |
| পিজা, বার্গার আড়চোখে চায়, শিষ দিয়ে বলে আয় কাছে আয়! পীড়িত হৃদয় করে হায় হায়! বলে বেঁচে আর কি হবে ভাই? হতভাগা ঐ করলা সেদ্ধ স্বাদ-হীন সব বিকট খাদ্য থালার ওপর নাচানাচি করে বলতো আপদ কি দুরছাই। বাড়ীতে হচ্ছে সিঙাড়া,কচুরী মাংসের কারী, লুচি ভূরী ভূরী আমার জন্যে শুধু ঝোল-ভাত বাকি রা চাখছে চপ আর ফ্রাই। তাই তো ভেবেছি করে বিদ্রোহ দুর করে এই জীবনের মোহ মোগলাই, চীনে, সব খাবো কিনে হোক না মৃত্যু, নরকে ঠাঁই। |