করোনা ভাইরাস ও পরিযায়ী শ্রমিকের দেয়ালিকা
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
.
দেয়ালে  দেয়ালে  মনের  খেয়ালে
লিখি কথা |
আমি  যে  বেকার,  পেয়েছি লেখার
স্বাধীনতা ||
সুকান্ত ভট্টাচার্য    
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে স্ক্রল করে!
This page scrolls sideways - Left - Right !
ছড়া,
সে যে কোন ধরণেরই হোক না কেন, এই দেয়ালে তুলতে
হলে আমাদের কাছে নিচের ইমেলে পাঠাবেন। আমাদের
ওয়েবসাইটের সম্পাদক মণ্ডলীর অনুমোদন
সাপেক্ষে আমরা তা তুলে দেবো।

সোশিয়াল মিডিয়ার দৌলতে অনেক অনবদ্য সুন্দর
কবিতা আমরা পাচ্ছি। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই
কবির নাম জানা যায়না। সঠিক কবির নাম জানালে
আমরা সেই কবিতার পাশে কবির নাম-প্রেরক কে
কৃতজ্ঞতা জানাবো।

আমাদের ই-মেল:
srimilansengupta@yahoo.co.in    

তাহলে আর দেরী কেন?
ছড়ার ছররা ছড়িয়ে,
দেয়াল তুলুন ভরিয়ে...!
.                                                      রাজেশ দত্ত     
কবিদের পাতায় যেতে তাঁদের নামের উপর ক্লিক করুন
করোনা ভাইরাসের
দেয়ালিকার সূচীতে
যেতে এখানে ক্লিক
করুন . . .   
চীন অথবা আমেরিকা থেকে শুরু হওয়া
করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের
লড়াই, মানুষের জীবন, ভয়, আতঙ্ক,
কান্না, হাসি, ঠাট্টা, সুখ-দুঃখ এবং
সতর্কতা
-
তাই নিয়ে এই পাতার ছড়া ও কবিতা
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ
এখানে তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০২০
শেকল ছেঁড়ো
কবি আর্য তীর্থ

চেন ভেঙে দাও ,শেকল ছেঁড়ো সাবান দিয়ে,
চৌকাঠে দাও দুষ্টুরোগের রথ থামিয়ে।
ট্রেনে বাদুর, বাসের ভেতর চ্যাপ্টা চিঁড়ে,
ভাইরাসে তো খামচে দেবেই এমন ভিড়ে,
ঘরে ফিরে সবার আগে সাবান হাতে,
ধোয়ার পরে তবে কথা লোকের সাথে।
তোমায় না দেয় ভাইরাস তার দূত বানিয়ে
চেন ভেঙে দাও, শেকল কাটো সাবান দিয়ে।

তোমার থেকে আমি , আমার থেকে ওর
হাতের ছোঁয়ায় ভাইরাসেরা ছুটন্ত খুব জোর।
আশেপাশে দেখছো যাদের, শিকলি সবাই,
ও পথ দিয়েই নিঃসাড়ে হয় মানুষ জবাই।
যেই তুমি যাও রাস্তাঘাটে দোকানপাটে,
ঝন ঝন ঝন , তোমার সাথেই শেকল হাঁটে।
কোভিড টিবি সব জীবাণুর একই দাওয়াই.
না ধুলে হাত নিজের হাতে তাদের খাওয়াই।
ভিড়ের থেকে ফিরেই যেও কলের কাছে,
হাতটা ধুলেই তোমার থেকে মানুষ বাঁচে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
সামনে এলেই বন্ধু যাদের জাপ্টে ধরো
এখন তা স্রেফ বোকামি না, ভয়ঙ্করও।
বদলে ফেলো সব চুমুদের উড়ুক্কুতে,
কয়েকটা দিন প্রেমের রেটিং যাক নিচুতে।
হ্যান্ডশেক বা হাই ফাইবও ভুলতে হবে,
মোটের ওপর , ভুগবে তারা যারাই ছোঁবে।
নমস্কারেও হাত ছুঁয়ে যায় আরেক হাতে,
বরং পারো দূরের থেকে হাত নাড়াতে।
চাইছে কোভিড আংটা বনো ওর শেকলে
চেন ভেঙে দাও, শেকল ছেঁড়ো সাবানজলে।

হারবে কোভিড আমরা সবাই একলা হলে।
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা    
কবির মূল সংগ্রহ    
এখানে তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০২০
করো না, কোরো না
কবি আর্য তীর্থ

দিন এসেছে রুটিনগুলো বদলে নেবার
স্টেজ থ্রি দ্বারে, কে জানে কি হবে এবার।
এসো ঘাঁটি রোজনামচার থোড় আর বড়ি
‘করো না’ আর ‘কোরো না’দের লিস্টি করি।
দুধের প্যাকেট জলে ধুয়ো আসার পরেই
কোথায় কোথায় ছুঁয়ে এলো তা জানা নেই।
মোবাইলে তো খবর এখন পাওয়া সহজ
বাদ দিয়ে দাও দশ হাত ঘোরা খবর-কাগজ।
অ্যামাজন ও সুইগিরা থাক বন্ধ কদিন
কাদের ছুঁয়ে কৌটো আসে, বলা কঠিন।
ক্যুরিয়ারে ঘর বয়ে খাম নিয়ে এলে
না খুলে তা একখানা দিন রেখো ফেলে।
কাজের মাসী ঢোকার পরেই সটান কলে
হাত ধোবে সে একটা মিনিট সাবান জলে
কাজের সময় ধরতে মোবাইল কোরো মানা,
( বলা সহজ, মানবে কত আছে জানা)
যে যতবার কলিংবেলে টিং করে যায়
ঠিক ততবার বেলটি মোছার রেখো উপায়
লিক্যুইড সোপ বা সাবানজলে ভেজা ন্যাতা
এখন তা নয় শূচিবাই-এর আদিখ্যেতা।

দু চারদিনের সবজিবাজার একসাথে হোক
ছুঁয়ে দেখে তবেই কেনে ওইখানে লোক।
বাড়ি ফিরেই সবজিকে ধোও কলের জলে,
নিজের হাতেও সাবান দিতে কেউ না ভোলে।
রিমোট মোবাইল কিবোর্ড সাফাই করতে হবে
শত্রু তোমার আঙুলডগা চায় নীরবে।
সাইকেল বা বাইক এখন তোমার বাহন
হাঁটতে শেখো , অটোয় চাপা নয় অকারণ।
যাত্রা শুরু এবং শেষে , পারলে ফাঁকে
জলে ধুয়ে ছুঁয়ে নিও সাবানটাকে।
জিম পুল আর জুম্বা নাচা এখন নিষেধ
বাড়লে মাসল ইম্যুনিটির হয় না প্রভেদ।
কোচিং ক্লাসকে মারো গুলি এই কটা দিন,
ক্রিকেটও বাদ, বাঁচলে পরে তবেই শচীন।
বাড়ি ফিরেই পোশাকগুলো ছিটকে ছেড়ে
সাবানজলে ফেলো কোভিডচিহ্ন ঝেড়ে।
বয়স্কদের হাঁটতে যাওয়াও মুলতুবি থাক
পার্কে এখন বেঞ্চিগুলো মাছি তাড়াক।
যতই মনে হোকনা এসব শূচিবায়ু,
মানলে এসব বাড়বে প্রিয়জনের আয়ু।
স্টেজ থ্রি আসে, তৈরী রেখো প্রতি স্নায়ু..
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ
কবিতাটি আমাদের পাঠিয়েছেন
ডঃ সোমেন ব্যানার্জী

এখানে তোলা হয়েছে  ২৪.৩.২০২০
ভেতর যাও কবি আর্যতীর্থ

দেশ ডেকেছে আজকে তোমায়, ঋণ চুকাও
বাইরে বিপদ, সব নাগরিক ভেতর যাও।
বাঘ বেরোলে নিশুতরাতে যেমন মানা,
এই কটাদিন তেমন ভেবেই বেরিওনা,
রাস্তা থেকে সব জমায়েত দূর হটাও,
দেশকে যদি ভালোবাসো, ভেতর যাও।

তত্ত্বকথার বকমবকম অনেক হোলো,
দোহাই এবার বাস্তবিকের চোখটা খোলো
ভাবছো যদি থাকলে ঘরে চলবে কি আর
মরলে তুমি, বিশ্ব ঠিকই চলবে ডিয়ার,
ঘরের বাকি লোকদেরও কি সেই দশা চাও?
আগে বাঁচো , তারপরে কাজ, ভেতর যাও।

শাহীনবাগের এবার ওঠার সময় হলো,
মারী থামুক , তারপরে ফের আওয়াজ তোলো
করোনা ঠিক বুঝতে চায়না এন আর সি কি
তার কাছে এক সবরকমের দাড়ি টিকি
খুব বোকামো বাইরে বসে বিরোধিতাও,
লড়াই টড়াই পরে হবে, ভেতর যাও।
ধার্মিকেরা হপ্তাদুয়েক একলা থাকুন,
বন্ধ ঘরে একলা নিজের ইষ্ট ডাকুন।
ধর্মস্থানে ঝুলুক কদিন মস্ত তালা
ঘরের ঠাকুর পরুন ফুলের ঝুটো মালা
নিজেই কেন নিজের বাকি আয়ু কাটাও?
আর ক’বছর থাকতে বেঁচে, ভেতর যাও।

বাইরে ঘোরে মহামারী , ওষুধবিহীন
দোহাই তোমার, ঘরে থাকো এই কটা দিন।
লাশের পরে লাশ হয়েছে কত দেশে,
কেউ জানেনা সংখ্যা কোথায় দাঁড়ায় শেষে
যেচে কেন এই দেশে সেই শঙ্কা বাড়াও?
চাইছে ভারত, সব নাগরিক ভেতর যাও।

আজকে সবাই দেশপ্রেমের প্রমাণ দাও।
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা

রচনা - ২৩.৩.২০২০
এখানে তোলা হয়েছে  ২৪.৩.২০২০
করোনায় করণীয়
কবি রাজেশ দত্ত

নাই বা রাখলে হাতে হাত,
অন্তরে হও একসাথ।
বন্ধন গড়ো প্রাণে প্রাণে,
ভরসা থাকুক বিজ্ঞানে।
অজ্ঞানতা, কুসংস্কার
ঘুচিয়ে মনের অন্ধকার
যুক্তিবাদের আলো জ্বালো,
স্বাস্থ্যবিধান মেনে চলো।
রুদ্ধ যখন ঘরের দোর ---
সংহতি দিক মনের জোর।
বন্ধ ঘরেও সজাগ থেকো,
মনের জানলা খুলেই রেখো।
শৃংখল নয়, শৃঙ্খলা থাক --
আতঙ্ক সব দূর হয়ে যাক।
লড়াই চলুক, ভয় কোরোনা।
রুখবোই এ মারণ করোনা॥

সবাই ভালো থেকো।
সাবধানে থেকো।
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ


এখানে তোলা হয়েছে  ২৪.৩.২০২০
কুশপুতুল
কবি আর্যতীর্থ

তোমরা বলো যুদ্ধে যেতে, বর্ম নেই।
উত্তেজনা আটকে আছে হরমোনেই
পুরনো মাস্ক , স্যানিটাইজার গরহাজির,
রোজ সকালে  আউটডোরে দারুণ ভিড়,
শত্রু কোভিড এসব দেখে চনমনেই,
আমরা বোধহয় শহীদ হতেই জন্ম নিই।

PPE কি হাতের মোয়া, অমনি পাবো
ওসব ছাড়াই অগত্যা তাই যুদ্ধে যাবো।
যদিও জানি বর্মবিহীন সংগ্রামে,
হার নিশ্চিত, যুদ্ধ শুধু ঢং নামে,
তবুও কেউ এত কি আর তলিয়ে ভাবো,
হারলে পরে সেই তোমাদের ধমক খাবো।
আসল ব্যাপার, আমরা শুধু কুশপুতুল,
কাঁধের ওপর চাপানো যায় বেবাক ভুল
অস্ত্রে খরচ, স্বাস্থ্যখাতে প্রাপ্য ঢুঁ ঢুঁ
মানি তো নেই, তাই জুটছে বাণীই শুধু,
লড়াই করার সবকিছু আজ অপ্রতুল,
‘ তৈরী ভারত’ , নেতার দেওয়া ভয়াল গুল।

লড়াই করতে মানুষ শুধু তৈরী আজ,
দিচ্ছে না কেউ মাঠে নামার যুদ্ধসাজ।
হাজার কোটির রাফায়েল বা অ্যাপাচে না
PPE আর স্যানিটাইজার চাইছে সেনা,
ফ্রন্টলাইনে অস্ত্র জোগান রাজার কাজ,
ফক্কা সবই, ভুল ছবি দেয় বক্কাবাজ।

ঝুটো লাগে গণতালির ওই আওয়াজ।
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ


এখানে তোলা হয়েছে  ২৪.৩.২০২০
অন্যপক্ষ কবি আর্যতীর্থ

রোদ্দুরে কি একটু বেশি আলো?
পাখি ডাকে একটু যেন জোরে
পৃথিবীও অনেকখানি ভালো,
কাশে না আর বুক ধরে রোজ ভোরে।
চতুর্দিকে ফুরফুরে ভাব ভারী,
গাছরা নানান রঙ মেখেছে চুলে,
বাতাস জুড়ে  বইছে সুবাস তারই,
বেরোয় সবাই আস্তানা দোর খুলে।
বেরোয় হরিণ রোজনামচা মেনে,
খরগোশেরা গর্ততে নেই মোটে,
বেরোয় বাঘও শিকার পাবে জেনে,
মোষ সম্বর গায়ে ঘেঁষে ছোটে।
বলছে কারা বিশ্ব জুড়ে অসুখ?
মানুষ ছাড়া ফাউ নাকি বাদবাকি?
হোমো স্যাপিয়েন্স পাংশু করে মুখ,
দিব্যি আছে বাকি পশুপাখি।
হাওয়া এখন দূষণরহিত প্রায়,
নদীরা সব স্বচ্ছতোয়া আরো,
কোভিড যখন মানুষ মেরে খায়,
ক্ষতি তখন হয়না বাকি কারো।
ঘর ছিনানো মানুষ এখন ঘরে,
গুনতি তবু বাড়িয়ে চলে লাশ,
যদি বা তার বেরোতে ভয় করে,
বাকি কারো যায় আসেনা খাস।

বোধহয় মানুষ সৃষ্টি হওয়ার পরে,
পৃথিবী নেয় বুক ভরে ফের শ্বাস।
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
দুষ্টকবি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .  

এখানে তোলা হয়েছে  ৩০.৩.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
YouTube এ সৈকত সেন রাণার, কবি আর্যতীর্থের "ভেতর যাও" কবিতা পাঠ।
দেবাশিস রায়ের গান
কথা দুষ্টকবি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .  

এখানে তোলা হয়েছে  ৩.৫.২০২০
চিকিত্সক যোদ্ধাদের প্রতি দেবাশিস রায়ের গান। সুর ও কণ্ঠ - দেবাশিস রায়, কথা দুষ্টকবি।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
The Notorious Poet
His Pages in Milansagar . . .  


Wrote on - 2.5.2020
Published on - 3.5.2020
To the Medical Warriors
<<< Back to the Index
To the Last poem >>>
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা    
কবির মূল সংগ্রহ    

এখানে তোলা হয়েছে  ২৯.৩.২০২১
বেওসা কবি আর্যতীর্থ, রচনা ২৯.৫.২০২১।

কোভিড কাদের মারছে এবং কাদের ধরেও মারছে না,
চেষ্টা করেও তাদের কোনো প্যাটার্ন চেনা যাচ্ছে না।
ছক মেলে না কোমর্বিডে , কার কী কখন নেই জানা
এ বাঁশবনে বিজ্ঞানীরা হাতড়ে খোঁজা ডোমকানা।
ওষুধ কতই এলো গেলো , এই আছে এই নেই বলে,
ডাক্তারেরাও হাত তুলে দেন হারিয়ে গেছে খেই বলে।
ভরসা ছিলো কাল ক্লোরোকুইন, আজ আইভারমেকটিনে
কেউ বা হাঁকেন এসব বেকার, সব সমাধান ভ্যাক্সিনে।
একটা ব্যাপার দেখছি বটে, বলছে ওষুধ যখন যা,
ঠিক সে সময় বাজার ঘুরে সেটাই পাওয়া যাচ্ছে না।
হোক না সেটা সি ভিটামিন, কিংবা অ্যান্টিভাইরালই,
হোয়াটসঅ্যাপে রটলে পরেই সব দোকানে স্টক খালি।
অক্সিজেনের এই বাজারে দাম চড়েছে পাঁচ ছ’গুন,
চাইলে রসিদ বলবে দোকান মশাই নিজের পথ দেখুন।
তিনটাকা মাস্ক বেচছে বারো’য়, হুড়মুড়িয়ে কিনছে লোক,
হুজুররা সব সুখেই আছেন, এসব দিকে নেই কো চোখ।
ভুলেও কোনো কোভিড পেলে জিভ চেটে নেয় কর্পোরেট,
জীবিত বা মৃতই বেরোক, লাখ দশেকের তেনার ভেট।
উপরি দাবী হাজার পাঁচেক মৃতদেহের শেষ কাজে
যে যাই বলুক লাগছে মারী কিছু লোকের বেশ কাজে।
কাউকে জানে মারছে কোভিড, বাকির পকেট করছে শেষ
প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে কই, আমরা ভীষণ বাধ্য মেষ।
মহামারীর বেওসাদারি দেখতে এসো আমার দেশ।
.
কবি অশোক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির ফেসবুক . . .   

রচনা মে ১৩, ২০২১
এখানে তোলা হয়েছে  ১৩.৫.২০২১
জলে ভাসছে মনুষ্যত্ব কবি অশোক চট্টোপাধ্যায়
জলে ভাসছে মনুষ্যত্ব,
রাস্তায় মানবতার চিতা
জ্বলছে।
বেপাত্তা অকসিজেন,
লুকোচুরি খেলছে টিকা !
হে বন্ধু সুদামা,
এখনও ওরা তূন থেকে  
বের করছে অস্ত্র; জিঘাংসায়
লক লক করছে
ওদের জিভ
লালার বিষ দেখে
ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে
তরতাজা রক্ত
রাস্তায় জ্বলছে
মানবতার চিতা
মনুষ্যত্ব
ভাসছে জলে
শঙ্কার শেকল গলায় পরে
আমরা কি ওদের
বশ্য
পোষ্য হয়ে যাচ্ছি ?
হে বন্ধু সুদামা
হয় কথা বলো
নয়তো
জাহান্নামে যাও...
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<এই দেয়ালিকার
<<< শুরুতে ফিরতে
.
.
<<<এই দেয়ালিকার
<<< সূচীতে ফিরতে
কবি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক . . .    

এখানে তোলা হয়েছে  ২৯.৫.২০২১
পরিযায়ী কঙ্কাল কবি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়

অন্ধকারকে তাড়া করে
শেষ রাতের গাড়ি এসে থামে।                           
গাড়ি থেকে নেমে আসে শীর্ণকায়
পঞ্চাশোর্ধ একটা মানুষ,  
মানুষ না  
মানুষের কঙ্কাল?
গ্রাম্য স্টেশনের ঘোলাটে আলোয়
রহস্যময় অন্ধকার নেমে আসে।
-কে এই লোকটি?
নিদারুণ নগণ্য এক
পরিযায়ী শ্রমিক।
জীবন ও জীবিকার সন্ধানে
পাড়ি দিয়েছিল ভিন রাজ্যে।
করোনা তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে ,
লকডাউন তার ঘোলাটে ম্লান চোখে
গাঢ় অন্ধকারের কাজল পরিয়ে দিয়েছে।
এখনো তাকে বারো মাইল হেঁটে
বাড়ি পৌঁছাতে হবে।
নিরন্ন উদরে ফুঁসে উঠছে ফুজিয়ামা,
অনশন-ক্লিষ্ট চোখে
ঠাঁই নিয়েছে ভিসুভিয়াস |
অখ্যাত স্টেশনের ছোট্ট ওয়েটিং রুমে
এলিয়ে পড়ে মানুষের মতো
দেখতে এক কঙ্কালসার অবয়ব।
ঘুমের মধ্যেই শুরু হয়
তার পথ চলা,
সে চলছে...
.     শুধু চলছে...
.             আরো চলছে...
চলতে চলতেই দেখতে পায়,
অনাগত ভবিষ্যতের ছবি
পড়ে আছে নিথর, নিষ্প্রাণ ছিন্নভিন্ন এক
কঙ্কালের শব,
তাকে ঘিরে কত ব্যস্ততা,
কত ভীড়, কত ফটো---
জমে ওঠে  শকুনীর
পৈশাচিক মহোৎসব ||
.
কবি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক . . .    

এখানে তোলা হয়েছে  ২৯.৫.২০২১
ভগবান নিদ্রা গিয়েছেন
কবি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়
ক ডাউনে কাজ হারিয়ে
বাড়ির পথ ধরলো,   
ঘুমের ঘোরে ট্রেনের চাকায়  
অকালেতেই ঝরলো।
এই নিয়ে চাপান উতোর
দিল্লী এবং বঙ্গে,
বুদ্ধিজীবিরা ঘন্টাখানেক
সুমনের সঙ্গে।
ভাবছে বসে সব সেয়ানা
ভষ্মলোচন হায়না,
শ্রমিক-মজুর মরেই বাঁচে ,
মারলে পাপ হয়না।
বিদ্রোহী কবি গেয়েছিলেন
কুলি মজুরের গান,
ভগবানের অট্টহাসিতে
কাঁপছিলো শয়তান।
আজো কবি গায়
.                বদলের গান-
ভগবান আজ নির্বিকার,
প্রতিবাদী হলে?-বদলাটা নেবে
প্রসাদ-পাওয়া  চাটুকার ।
শ্রীরামের পাশে কল্পতরু,
মা উমার পাশে  গৌরী সেন,
-এসব দেখে ভগবানও আজ
নিদ্রা  গিয়েছেন!!!
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
অজ্ঞাত কবি
কবিতাটি পাঠিয়েছেন সাগরিকা সেনগুপ্ত
তাঁর ফেসবুক . . .        

এখানে তোলা হয়েছে  ২৯.৫.২০২১
নির্লজ্জ শাসক অজ্ঞাত কবি
আকাশে উড়ছে কত শকুন বা চিল ,
যমুনার জলে মৃতদেহের মিছিল ,
পচা গলা হাত পা বিকৃত মুখ ,
গেরুয়া শাসন গোটা বিশ্ব দেখুক |

দুনিয়া ফেলছে থুতু এদৃশ্য দেখে ,
গেরুয়া বাঁদর তাও গায়ে নেয় মেখে ,
নির্লজ্জ উলঙ্গ ধর্মেই বুঁদ ,
ওরা গোমূত্রে সোনা খোঁজে কিংবা ওষুধ|

ওদের আছেন নেতা সাদা দাঁড়ি বুড়ো ,
অসৎ ভন্ড হিমশৈলের চুড়ো ,
এই অতিমারীতেও  লালসার ঠোঁট ,
চেয়েছে কুম্ভ মেলা ক্ষমতার ভোট |

ডিগ্রি বা পড়াশোনা পুরোটাই ফেক,
দাঁড়ি চুলে ধরেছেন ফকিরের ভেক ,
আড়ালে লুকিয়ে এক ড্রাগনের মুখ ,
মৃতদেহে পান নৈসর্গিক সুখ |

গেরুয়া নেতার মনে আছে কত সাধ ,
হবে হাজার কোটি টাকার বিরাট প্রাসাদ ,
প্রাসাদে থাকবে ক্রীতদাস ক্রীতদাসী ,
আসলে চাকর হবে গোটা দেশবাসী |
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি সুচন্দ্রা মুখোপাধ্যায়
কবিতাটি পাঠিয়েছেন সাগরিকা সেনগুপ্ত
তাঁর ফেসবুক . . .        

এখানে তোলা হয়েছে  ২৯.৫.২০২১
বাঁচো বাঁচাও কবি সুচন্দ্রা মুখোপাধ্যায়
আমিও যা দেখি তুমিও কি দেখো! ওদিকে ছড়িয়ে পুণ্য
সেই পুণ্যেই হাসপাতালের কোনো বেড নেই শূন্য।
লাখে লাখে লোক কুম্ভমেলাতে পুণ্য কুড়োয় খুব
গায়ে গায়ে লেগে, গভীর শ্রদ্ধা, একসাথে দেয় ডুব।

আমিও যা দেখি তুমিও কি দেখো! মিটিং মিছিল ভিড়
এ দল ও দল কাড়াকাড়ি করে ভোট পেতে অস্থির।
গরমে ঘামছে, মাস্ক থুতনিতে, মিথ্যের চাষ হয়
অতিমারী শুধু কথার কথাই সকলেই নির্ভয়।

আমিও যা দেখি তুমিও কি দেখো! লেখাপড়া টুকু থাক
পরীক্ষা তত জরুরী তো নয় জীবনটা ভেসে যাক।
সমস্ত কাজ নিয়মে চলুক লড়ে যাক নেতাসব
র‍্যালিতে হাঁটছে ভাড়া করা লোক, ভোট বড় উৎসব।

আমিও যা দেখি তুমিও কি দেখো! মিডিয়ার চিৎকার
ভাষা দূষণের রাজনীতি আর নেতারা নির্বিকার।
বলে যায় কথা, দোষারোপ শুধু "ঘন্টা"র পরে জিরো
সকলেই দেখি বুক ঠুকে বলে আমরা দেশের হিরো।

আমিও যা দেখি তুমিও দেখছ আখের গোছায় তারা
ক্ষমতার লোভে মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়ে যাচ্ছে ওরা
যতটুকু পারো সচেতন হও, জীবনটা বড় দামী
মাস্ক মুখে নিয়ে নাহয় এখনো সাজলাম তুমি আমি।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির মূল সংগ্রহ . . .   

রচনা ৩০.৫.২০২১
এখানে তোলা হয়েছে  ৩০.৫.২০২১
জয়ী কবি আর্যতীর্থ
বুঝবে না বাইরের লোক, কতখানি ভয় জমে বুকের ভেতরে।
যেদিকে তাকাও শুধু মানুষ-আদলে  সাদা পি পি ই রা ঘোরে,
ওদের মধ্যে কে, কেমন চেহারা, কিছুই যায়না বোঝা, গলা যায় শোনা,
এখানে স্পর্শ বারণ। কে কত ভালো আছে যন্ত্রতে গোনা।
আশেপাশে চেয়ে দেখে জ্বরের কয়েদি। বেড যেন কারাগার কুঠি,
তিন হাত দূরে থেকে ছোঁয়ার বাইরে প্রতিবেশী। জানা নেই কবে হবে ছুটি,
অক্সিমিটার মাপে মেয়াদের দিন। মৃত্যুদণ্ড দিলো ভাইরাস কাকে,
সে খবর হুট করে আসে। পড়শীর মুখগুলো বদলাতে থাকে।
ছেড়ে আসা সংসার রয়েছে কেমন ? জানা যাবে মিনিট পাঁচেকব্যাপী ভিডিওকলে।
চব্বিশ ঘন্টায় ওইটুকু দেখা শুধু বাইরের মুখ।প্রশ্নরা কম পড়ে ফোনের প্যারোলে,
বাবাই কেমন আছে? রিঙ্কুর বাচ্চারা? জ্বর হানা দিয়েছে কি আর?
দুদিকে মুখোশধারী, চার চোখ ভেজা। কতদিন, কতদিন বলো আর অক্সিমিটার!
বাকি  তেইশ ঘন্টা পঞ্চান্ন মিনিট, ফুসফুসে বাইপ্যাপ ঠোসে প্রাণবায়ু ,
বাতাস, বাতাস চাই.. সংলাপ বাকি আছে, সময় ভিক্ষা দাও আরেকটু আয়ু ,
ঘড়ি চালু রাখো প্লিজ। মনিটর গুমরিয়ে ওঠে,  নার্স পাশে ছুটে আসে দ্রুত,
হ্যালো ডক্টর! এগারো নম্বর হঠাৎ খারাপ.. আহ এ সময় কেউ যদি হাতে হাত ছুঁতো...
বিপ বিপ বিপ.. মনিটর বলে বেঁচে আছে , শ্বাসও যেন সহজ অনেকই,
কে যেন দাঁড়িয়ে আছে পাশে। ডাক্তার বললেন জিভখানা বড় করে দেখি,
এসেছেন ফিরে ফের বিস্তর লড়াইয়ের পরে। এবারে হাওয়ায় শ্বাস নিলে,
ছুটি হয়ে যাবে। কোভিডকে হারিয়ে দিয়েছি আপনি ও আমাদের যোদ্ধারা মিলে।
ছুটি, মানে বাইরের রোদ। ছুটি মানে প্রিয় খুনসুটি, চেনা জানলাকে দেখা ভোরে,
মুখোশবিহীন দেখা কয়েকটা মুখ। প্রসন্ন অক্সিমিটার, তবুও কান্না আসে জোরে।
নতুন ভর্তি হলো কেউ।
বুঝবে না বাইরের লোকে, কতটা আতংক ঠাসা বুকের ভেতরে...
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির মূল সংগ্রহ . . .   

রচনা ৩১.৫.২০২১
এখানে তোলা হয়েছে  ৩১.৫.২০২১
সুমারি কবি আর্যতীর্থ

ভাবনা গড়ার কারখানাতে ঝুলছে হঠাৎ বিশাল তালা,
লকডাউনের এফেক্ট বুঝি? বন্ধ রেখে শব্দশালা,
শ্রমিকরা সব গেছেন চলে অন্য কাজে অন্নজ্বালায়,
যে যাই বলুক , ক্যালোরি নেই কবির জোটা গলার মালায়।
ঠিক কতজন গেলেন কবি করোনাতে ভাবতে গেলে,
মৃতের খবর কেউ দিয়ো না। অমনভাবে হিসেব মেলে,
কেবল আদমসুমারিতে। কবির মরণ আয়ুতে নয় কোনোকালেই,
অনটনের করাল দাঁতে চিবিয়ে খেলে কলমটাকে, কবিও নেই।
কিছু  কবির চাকরি গেছে, কিছু  ভোগেন অনন্যোপায় বিষন্নতায়,
দুয়ারে আজ লড়াই সবার, পদ্যহারার সংখ্যা গোনার সময় কোথায়!
চালই ঘরে বাড়ন্ত আজ, মাথার ওপর চাল না থাকার সম্ভাবনা,
উথালপাথাল এ দুর্যোগে মাথার ভেতর ছন্দ খেলা সম্ভবও না।
কজন কবি কোভিডশিকার, বুঝতে সেটা বৃথাই শবের সংখ্যা গোনো,
সরস্বতীর ভাগ্যি বাপের পদ্য লেখার চেষ্টা করে  কেউ এখনো।
এই অশালীন ধর্ষকালে রাষ্ট্র যখন হাত ধুয়েছেন দায়ের থেকে,
আবেগগুলোয় সোহাগ ভরে তখন কে আর খিদেপেটে কাব্য লেখে!
গুনতে হলে সেটাই গোনো, পরিস্থিতির শিকার হলেন কবি কে কে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
কবি উত্থানপদ বিজলী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির ফেসবুক . . .   

এখানে তোলা হয়েছে  ৪.৬.২০২১
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
कवि जूही साकलानी
इस गीत को हमने श्री अमित घोष के
फेसबुक से लिया है।

এখানে তোলা হয়েছে  ৪.৬.২০২০
आसमान बन्द कर सफेद चादर से गीतकार जूही साकलानी, संगीतकार तथा गायक सौमिक सेन
आसमान बन्द कर सफेद चादर से
छोड़ आए नदी के बीच धार में
एक एक करके तारे बुझ गए
फुल और चाँद सारे बुझ गए
इक चीख कंधे पर उठाए
ये दिल शर्मिन्दा जीए जाए
यह भी क्या कोई बात होती है
मुँह छुपा ज़मीन चुप चाप रोती है
राजा के बड़े महल के सपने थे
चिताओं पे सभी तो मेरे अपने थे
जा राजा जा . . .
हमारा दर्द है तुझसे बड़ा
मेरे से बाँट लो साँसें तुम
कुछ कहो न रहो रुआँसे तुम
अपना जीवन तुम्हें कैसे दूँ
क्या तुम्हारा नाम था किस से पूछूँ
ये रात चली जाए
कोई जुगनू रौशन कर जाए
माटी तू पानी तू आग तू
तू था रात तू सुबह है जाग तू
.
राजा नें नये लिबास सिलवाएं हैं
हुक्म देख कर सहमें फूल खिलवाए हैं
जा राजा जा . . .
हमें तेरे चेहरे पे डर दिखा
जा राजा जा . . .
हमें तेरे चेहरे पे डर दिखा
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কবি অনুপম দে
কবির ফেসবুক . . .   

রচনা ৫.৬.২০২১
এখানে তোলা হয়েছে  ৫.৬.২০২১
মহামারী
কবি অনুপম দে

একা আছি, ঘরের এক কোণে -
রাস্তা ফাঁকা, কয়েকটি ছায়ামূর্তি ভেসে ওঠে, আর
মিলিয়ে যায় নিমেষে।
ভয় - মহামারী চলছে! কেউ জানে না কি পরিণতি শেষে॥
ঘর - বাষ্পীয় কিছু? উষ্ণতা কই? ঠিক যেন কঙ্কাল।
না, ঠিক প্রাণহীন নয়, শুধু হৃদয়টা উপড়ে গেছে বহুকাল।
কেউ কি জানে, কি পরিনতি শেষে?
কোন মহামারী ওত পেতে আছে -
কিসের ছদ্মবেশে?
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
রোগীদের আনন্দ দিতেই নাচে মাতলেন আসানসোল জেলা হাসপাতালে কর্মরত নার্স ۔۔ আসানসোল জেলা হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে এক নার্স, কবি হাসন রাজার রচিত মুল
গানের রিমেক, "নয়া দামন" সিলেটি গানের নাচে ঝড় তুললেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। দুঃখের বিষয় এই যে এই দেবদূত সমা দেবকন্যা নার্সের নামটি আমরা জানতে পারিনি।
গানের কথা, সৌজন্যে  
Theguideblogger . . . . . . . .                                                                                                   
আসমানের ও তেরা
বিছানা বিছাইয়া দিলাম
শাইল ধানের নেরা
দামান্দ বও দামান্দ বও
ও দামান্দ বও দামান্দ বও।

Muza.. (পুরুষ কণ্ঠ)
সিলেটি সুন্দরি করলো
মনতো আমার চুরি,
Walking Like A Boss Lady
Shaking All Her Churi Man
Shaking All her Churi.
Know That I’m Gon’ Be The One To
Call You My Wifey
দামান লইয়া আইলে বন্ধু
In A গরুর গাড়ি Baby
সিলেটি ফরারি Baby
সিলেটি ফরারি

বও দামান কওরে কথা
খাওরে বাটার পান
যাইবার কথা কও যদি
কাইট্টা রাখমু কান।
দামান্দ বও দামান্দ বও,
দামান্দ বও দামান্দ বও।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি হাসন রাজা
(আমরা এই গানটির সাথে সব জায়গায় এই কবির
নামটিই পেয়েছি। গানটিতে হাসন রাজার কোনও
ভণিতাও নেই। মিলনসাগরে কবি হাসন রাজার
পাতায় এই গানটি নেই।)

শিল্পী - তোসিবা ও মোজো
গানের রিমেক - মোজো

মিলনসাগরে কবি হাসন রাজার পাতা...   

এখানে তোলা হয়েছে  ৮.৬.২০২১
আইলারে দামান্দের ভাই, হিজলের মুড়া,
আইলারে দামান্দের ভাই. হিজলের মুড়া
ঠুনকি দিলে মাটি পড়ে, ষাইট সত্তইর বুড়া।
দামান্দ বও দামান্দ বও,
দামান্দ বও দামান্দ বও।

আইলারে নয়া দামান, আসমানেও তেরা
বিছানা বিছাইয়া দেও, শাইল ধানের নেরা
দামান্দ বও দামান্দ বও
ও দামান্দ বও দামান্দ বও।

আইলারে দামান্দের বইন, খইবা এক্কান কথা,
কইন্নার মায়ের চেরা দেকিয়া, হইয়া গেলা বুবা।
দামান্দ বও দামান্দ বও,
দামান্দ বও দামান্দ বও।

আইলারে দামান্দের ভাইর বউ, দেখতে বটর ঘাইল
উঠতে বইতে সময় লাগে, করইন আইন চাইন।
দামান্দ বও দামান্দ বও,
দামান্দ বও দামান্দ বও।

আইলারে দামান্দের নানা, বুড়া থুড়থুড়া
হুক্কুর হুক্কুর তামুক খাইন, দাঁত নড়বড়া।
দামান্দ বও দামান্দ বও,
দামান্দ বও দামান্দ বও।
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির মূল সংগ্রহ . . .   

রচনা ৯.৬.২০২১
এখানে তোলা হয়েছে  ৯.৬.২০২১
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর চিরাচরিত নাটুকেপনা ও নৌটঙ্কীতে তাঁর ইচ্ছাকৃত ভুল
পথনির্দেশিকার ফলে, শত সহস্র দেশবাসীর মৃত্যুর পরে, সুপ্রীম কোর্ট এবং বিরোধী
দলনেতৃবৃন্দের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে, কোনো রকম ক্ষমা না চেয়ে, বিনামূল্যে
সকলের জন্য টিকার ঘোষণা করার পরে রচিত কবিতা . . .    
শেষের লড়াই কবি আর্যতীর্থ

সেই যদি ধান ভানলে মনা, লাভ কি শিবের গীতে,
কাল বারোশো দাম ছিলো যার, আজ তাকে দাও ফ্রিতে।
দেশের মানুষ চিল্লে যেটা চাইছিলো খুব এদ্দিন,
হাত ঘুরিয়ে ধরলে সে নাক, নিখরচাতেই ভ্যাক্সিন।’
চলবে ওসব চাপানউতোর ভোট কুড়ানোর ধান্দাতেই,
রাজনীতিতে লাভ দেখে না, এমন কোনো বান্দা নেই।
নির্বাচনের সিঁড়িভাঙায় যিনিই হাসুন শেষ হাসি,
যায় আসেনা, চাইছে জ্বরের নিকেশ এবার দেশবাসী।
সামলিয়ে ঝড় চললে জাহাজ বিনা জ্বরের কুল পানে,
অভিধানে মুছবে তখন পজিটিভের ভুল মানে।
চারখানা মাস নষ্ট হলো তাই ভেবে আর কষ্ট কি,
সেই অতীতে এই আগামী কেউ দেখেছেন স্পষ্ট কি?
সময় এবার কোমর বাঁধার, হাতে সময় নেই আর,
তিন নম্বর এমন হলে সইবে না দেশ সেই মার।
একজনও বাদ গেলে টিকায় বাকির বিপদ রইবে
আর কতদিন ব্রেকিং নিউজ শবের খবর বইবে?
অতীত ঘেঁটে লাভ কিছু নেই, সামনে অনেক কাজ যে,
শেষের লড়াই এবার শুরু, দুন্দুভি ওই বাজছে।
গোলাবারুদ খরচা না হয় কেন্দ্র বনাম রাজ্যে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির মূল সংগ্রহ . . .   

রচনা ১০.৬.২০২১
এখানে তোলা হয়েছে  ১০.৬.২০২১
সব দেখলাম কবি আর্যতীর্থ

সব দেখলাম কোভিডকালে ।
ওই দেখো না জড়িয়ে পড়ে লকডাউনের জটিল জালে,
চললো শ্রমিক পা মিলিয়ে ,
হাতে মাথায় বোঁচকা নিয়ে,
পেরথমবার  জেনেছে সে,
মানুষরা হয় পরিযায়ী অনায়াসে নিজের দেশে।
চললো শ্রমিক ঘরের দিকে,
রুজির আশা ক্রমেই ফিকে,
রুটির ভাঁড়ার ফুরিয়ে আসে,
এক গোটা দেশ রাহুর গ্রাসে
বন্ধ দুয়ার, কারখানা কল,
হায় নাগরিক করবি কী বল,
টানছে আঁচল মৃত মায়ের দ্যাখ না রে ওই ছোট্ট শিশু,
দেখছে না কেউ ওদিক  আদৌ, রাষ্ট্র ভীষণ  পিপুফিশু।
লকের বাধা যেমনি ওঠে,
মালিক শোনায় সোহাগ ঠোঁটে,
আয় রে ফিরে আয় বাছারা ,
যন্ত্র বিকল তোদের ছাড়া,
শ্রমিক তখন  দ্বিধায় ভারী,
এদিক খিদে ওদিক মারী,
বেরোজগারির বিষম ভয়ে আবার পাড়ি দূর শহরে,
যেই এসে যায় ঢেউ দ্বিতীয়,
যাহ রে হাপিস মাইনেটিও,
আবার ফেরো পরিযায়ী রুটিবিহীন নিজের গ্রামে,
সাতটা দশক পেরিয়ে দেশে জি ডি পিতে সন্ধ্যা নামে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
সব দেখলাম কোভিডকালে,
সফরপথে অথইপানি থরথরানো ভগ্নহালে,
মধ্যবিত্ত তথৈবচ,
বেতন কমে তাও অথচ,
হাত পাতে না ফ্রি রেশনে,
তাদের কথা কে আর শোনে,
এদিক কাটে, ওদিক ছাঁটে,
শেষবেলা যায় বাজারহাটে,
স্কুলের মাইনে নাকাল দিতে,
টান পড়েছে আধুলিতে,
মন তবুও ঘাড় কাতে না,
কারোর কাছে হাত পাতে না,
ফি মাসে দেয় কোচিংয়ে ফি’জ,
চলছে মায়ের ডায়ালিসিস,
মাঝের থেকে মাছের থেকে রান্না নামে কলমি শাকে,
শুকনো হাসির ফেসবুকে পোস্ট ভালোই ঢাকে অভাবটাকে।
সব দেখলাম কোভিডকালে,
ওপরতলার রাজারা সব এখন মহারাজার হালে।
সেনসেক্সের সেক্সি নাচে,
ফল ধরেছে টাকার গাছে,
মিলিয়নের কঠিন  জ্বরে,  
অর্থনীতি ভীষণ নড়ে ,
সেই দুলুনির নেই হেথা ঢেউ,
হয়নি গরীব এইখানে কেউ,  
নদীর স্রোতে শবের সারি,
ওদের তখন নতুন গাড়ি,
রোজই আকাশ ছুঁচ্ছে শেয়ার,
এই আকালেও বাড়লো দেশে একশো আরো বিলিয়নেয়ার।
সব দেখলাম কোভিডকালে,
স্বর্গ উঁচু হলো আরো, মর্ত্য নেমে যায় পাতালে।
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির মূল সংগ্রহ . . .   

রচনা ১০.৬.২০২১
এখানে তোলা হয়েছে  ১০.৬.২০২১
পরিস্থিতি কবি আর্যতীর্থ
লকডাউনে ডাউন কেবল মাসের থিতু রোজগারই
কোন জিনিসের দর ডাউনে কেউ দেবে কি খোঁজ তারই?
লক পড়েনি কিছুর দামে, সে কার্ভ নামার নামটি নেই,
জীবিকা আজ করুণ শহীদ, জীবন রাখার দাম দিতেই।
শুনছি নাকি জি এস টি তে আদায় ভাঙে রেকর্ড সব,
আমরা লাভের গুড় দেখি কই, থাকি ছিলাম যে গর্দভ।
কর বয়ে যাই, ভোট দিয়ে যাই, বাধ্যবাধক চুপ থাকা,
প্রশ্নে এখন  হয় জেলে যায়, নয়তো ফটোয় ধূপ রাখা।
সর্ষের তেল দুশোর দিকে, একশো ছোঁবে পেট্রলও,
পেট জুড়ে আজ পেশার দাবি, লকডাউনের গেট খোলো।
আগুন দামে পুড়ছে পুঁজি, লক্ষ্মীর ভাঁড় নিঃশেষে,
যায় না বোঝা জ্বর না খিদে, কোনটা বেশি বিষ দেশে।
চাপানউতোর চলতে থাকে টিকা পাওয়ার প্রত্যাশায়,
আজকে উড়াল আশার ঘুড়ি, কাল হতাশায় গোত্তা খায়।
ফ্রীতে পেতে দম বেরোবে, হাজার দিলে আয় বাছা,
এমন নীতি ধরলে কি আর মারীর থেকে যায় বাঁচা?
সুখেই বাঁচেন দেশে কেবল বিলিয়নেয়ার ব্যবসায়ী,
যতই মারীর প্রকোপ বাড়ে, ততই যেন লাভ স্থায়ী।
খাদের তলায় জিডিপিতে সেনসেক্সের ঊর্ধ্বমুখ,
দেয় বুঝিয়ে ধনীর ঘরে দাগ কাটেনা এই অসুখ।
শুধুই ত্রাণে চলবে কি দেশ, সম্মান নেই ভিক্ষাতে
ঘামের যেন দাম পাওয়া যায়, রাষ্ট্র নজর দিক তাতে।
কাজ কিভাবে চলতে পারে, করুক যতই জ্বর তাড়া,
না ভাবলে তা ঘর-কয়েদে হয়না অভাব ঘরছাড়া।
ভাবেন কে আর , চেনেন না দেশ দেশ চালানোর কর্তারা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
কবি অরিন্দম মন্ডল

এখানে তোলা হয়েছে  ১৭.৬.২০২১
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
পরিযায়ী গান কথা সুর ও কণ্ঠ - পল্লব কীর্তনীয়া
কবি পল্লব কীর্তনীয়া
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা: ৬.২০২০।

এখানে তোলা হয়েছে  ১৯.৬.২০২১।
রেল লাইন ধরে হাঁটছিল কেন ওরা
তিনশো মাইল হাঁটলে ঘুমই তো পাবে
এটুকু জানে না মাথা মোটা মূর্খরা
ট্রেনের লাইনে ট্রেনই কেবল যাবে

রেল লাইন ধরে হাঁটছিল কেন ওরা
তিনশো মাইল হাঁটলে ঘুমই তো পাবে
এটুকু জানে না মাথা মোটা মূর্খরা
ট্রেনের লাইনে ট্রেনই কেবল যাবে

ট্রেনের লাইনে পড়ে আছে পোড়া রুটি
পরিযায়ী চটি চাদরে লুকোনো ক্ষত
স্বাধীন দেশের সামান্য খুনসুটি
এ তো স্বাভাবিক এ তো বিধি সম্মত

ট্রেনের লাইনে পড়ে আছে রোড়া রুটি
থ্যাঁতসানো ঘিলু, রক্ত ইতস্তত
স্বাধীন দেশের সামান্য খুনসুটি
এ তো স্বাভাবিক এ তো বিধি সম্মত

রাজপথে কেন হাঁটছিল ঝাঁকে ঝাঁকে
মানুষ না পোকামাকড়ের মতো লোক
স্বাভাবিক গাড়ি পিষে দেবে আঁকে বাঁকে
রাষ্ট্র শরীরে ছড়াবে কীটনাশক

রাজপথে কেন হাঁটছিল ঝাঁকে ঝাঁকে
মানুষ না পোকামাকড়ের মতো লোক
স্বাভাবিক গাড়ি পিষে দেবে আঁকে বাঁকে
রাষ্ট্র শরীরে ছড়াবে কীটনাশক
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
রাজপথে পথে পড়ে আছে পোড়া রুটি
থ্যাঁতলানো ঘিলু মাংস ইতস্তত
পুলিশের মার সেতো মৃদু খুনসুটি
সেতো স্বাভাবিক সেতো বিধিসম্মত

রাজপথে পথে পড়ে আছে পোড়া রুটি
মজ্জা ঘিলু ও রক্ত অসংযত
পুলিশের মার সেতো মৃদু খুনসুটি
সেতো স্বাভাবিক সেতো বিধিসম্মত

রোজগার নেই খাবার ফুরিয়ে যায়
বাড়ি পৌঁছতে হবে যেভাবেই হোক
মরে গেলে যাবে রাষ্ট্রের নেই দায়
প্রধানমন্ত্রী টুইটে দেবেন শোক

রোজগার নেই খাবার ফুরিয়ে যায়
বাড়ি পৌঁছতে হবে যেভাবেই হোক
মরে গেলে যাবে রাষ্ট্রের নেই দায়
প্রধানমন্ত্রী টুইটে দেবেন শোক

আমাদের ওহো ফেসবুকে বুক ফাটে
কুমীরের কাঁদে টিভিতে ঘন্টাখানেক
হাজার বছর এরা শুধু পথ হাঁটে
খিদে পেটে দেশে দিন খায় দিন আনে

আমাদের আহা ফেসবুকে বুক ফাটে
কুমীরের কাঁদে টিভিতে ঘন্টাখানেক
হাজার বছর এরা শুধু পথ হাঁটে
খিদে পেটে দেশে দিন খায় দিন আনে

হাজার বছর জীবনের সন্ধানে
ওরা ভুখা পথ হাঁটে দিন খায়
দিন আনে দিন আনে দিন আনে
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির মূল সংগ্রহ . . .   

রচনা ২৩.৬.২০২১
এখানে তোলা হয়েছে  ২৪.৬.২০২১
গলগ্রহ কবি আর্যতীর্থ
রাষ্ট্র যতই ভাবুক আমায় সমকালের গলগ্রহ,
আগামীতে দেশ বাঁচাতে কথায় আমার এ বিদ্রোহ।
দেশ ভালো নেই, এই কথাটা বললে জানি পুলিশ আসে,
তার মানে নয় পিঠ বাঁচিয়ে মন ভোলাবো  মোহনভাষে।
বলতে পারো ভারী তো ওই পদ্য লেখো আঞ্চলিকে,
পাঠ করবার লোক পেয়েছো সাকুল্যে ওই পাঁচ ছ’টিকে,
ঢাল তরোয়াল কিচ্ছুটি নেই, নিধিরামও লজ্জা পাবে,
কোন সাধনার মহান বলে প্রতিবাদের শব জাগাবে?
প্রথম কথা , শিরদাঁড়ারা সবাই যদি গেছেই মরে,
ব্যস্ত কেন পুলিশ তবে এফ আই আর আর ধরপাকড়ে?
হঠাৎ করেই ভরলো কি দেশ মীরজাফর আর বিভীষণে?
রোজ এডিশন নতুন বেরোয় কেনই বা আজ সেডিশনে?
দ্বিতীয়ত, আমিও জানি লেখার মূল্য নেইকো কিছুই,
হুজুররা আজ উচ্চে এত , একটা চুলও সাধ্য কি ছুঁই।
তবুও জেনো, এটাই ভেবে প্রদীপ জ্বালায় ছোট্ট শিখা,
কারো মশাল জ্বলবে তাতে, কাটবে রাতের বিভীষিকা।
শেষ কথাতে এটাও ভাবার, সবার আয়ুর শেষ রয়েছে
অন্তিমে চাই দেখতে এটাই , সবার আগে দেশ রয়েছে।
দেশের ভেতর কোথায় কালি, না কয় যদি দেশোয়ালি,
তবে তো তার দেশের প্রেমেই ভণ্ডামি আর বিষম জালি।
কেউকেটা কেউ  ভাবুন যতই  এই কবি তাঁর  গলগ্রহ,
লিখবে কলম রাস্তা দেশের কোথায় পেছল অহরহ।
দেশকে ভালোবাসার মানে অনেক সময় রাষ্ট্রদ্রোহ।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির মূল সংগ্রহ . . .   

রচনা ৪.৭.২০২১
এখানে তোলা হয়েছে  ৪.৭.২০২১
গণনা কবি আর্যতীর্থ

ভারতবাবু রোজ খবরের কাগজে গোনেন কত হলো।

না না সেনসেক্স নয়,
বোরোলিন মাখার সুবাদে জি ডি পির ওঠা পড়া তার গায়েই লাগে না ছাই,
পেট্রোলের দরও নয়, যাহা আটানব্বই , তাহাই একশো,
উহাতে আর কোনো অনুক্ত চমক নাই।
ইউরোর গোল, ডলারে টাকার দাম,
আদানি  আম্বানির সম্পত্তির দৈনিক বৃদ্ধি
বা লাভজেহাদে গ্রেপ্তার কোন প্রদেশে কজন,
এইসবে ভারতবাবুর লবডংকা।
চার লাখ ছুঁই হতভাগ্যদের ক্যালেন্ডারে কোন তারিখে কত সংযোজন,
তিনি দেখেন শুধু সেই কোভিড শিকারের সংখ্যা।
নখের ডগায় হিসেব আছে তাঁর ,
কুড়ির জুলাই বা একুশের এপ্রিলে
কত প্রাণ গেছে ভাইরাসের গ্রাসে,
নির্ভুল বলে দেন ঢেউয়ের ঢেঁকুরে
কটা লাশের গন্ধ ছিলো অমুক প্রদেশ জুড়ে কবে কোন মাসে।

ইদানিং মনে তার লেগে একটা সাংঘাতিক খটকা,
যেটার  শুরু হয়েছিলো নতুন সব্জিওয়ালাটার থেকে।
আলাপে জেনেছিলেন,
এখন যে ঠেলা নিয়ে বাড়ি বাড়ি উচ্ছে পটল মুলো বলে যায় হেঁকে,
আদতে সে কলেজ-পড়ুয়া।
বলা ভালো, প্রাক্তন ছাত্র,
বাবার কাজটা গেছে কারখানা লক হয়ে লকডাউনে,
বাড়িতে রয়েছে ভাই, ক্লাস এইট সে।
কিছুদিন আগেও স্বচ্ছল সংসারে
জ্বালানি জোগানো শক্ত এখন উনুনে ,
কাজেই সে ছেলে আজ সবজি চিনে,
পাইকারে কিনে ভ্রাম্যমান সবজী-দোকানি।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
ভারতবাবু ভাবছেন,
এই ছেলেটার সর্বনাশের জন্য দায়ী কে।
শিকারের মানে সবসময় যে নয় জীবনের হানি,
ব্যাপারটা অবশেষে তাঁর মাথায় ঢুকেছে
এবং তাতে তাঁর হিসেবী মন গুলিয়ে গেছে একেবারে,
সেভাবে যদি কোভিডের শিকারের সংখ্যা গোনা হয়,
আন্দাজ পাচ্ছেন না সেটা কোথায় যেতে পারে।

ভারতবাবু গুনছেন,
কত কোটি স্থানান্তরী শ্রমিক
নিজের দেশে পরিযায়ী বলে গালি খেয়ে
দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে হেঁটে গেছে আশ্রয়ের খোঁজে।
বারো বছুরে জামলো মকদমের মতো
আরো কত মানুষ মুছে গেছে পথে,
ওরা যে জ্বরে মরে নি।
পরিসংখ্যান তাই উহ্য দিয়েছে রেখে কত সহজে।

কতজন  প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া
অক্ষরের সিঁড়ি থেকে পিছলে পড়ে গেলো আজন্ম অন্ধকয়েদে,
ওয়ার্ক ফ্রম হোম করা  কতজনকে
ইমেইলে 'আর প্রয়োজন নেই' বলে কোম্পানি চিঠি দিলো সবিনয় খেদে,
কতজন মহিলার জীবনে গার্হস্থ্য অত্যাচার ও  বৈবাহিক ধর্ষণ
আরো নির্মম ও বিরামবিহীন হয়ে দাঁড়ালো,
আর কতজন বেঁচে থেকেও
জ্বরের হাতে পরিবারের স্তম্ভগুলো হারিয়ে বস্তুত সবই হারালো,
নানা খবরে, বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে
আর আশেপাশে শুনতে পাওয়া দীর্ঘশ্বাসের হাহাকারে
সেসব ছড়িয়ে আছে।
কিন্তু কি আশ্চর্য,
শিকারের তালিকায় ওরা কোত্থাও নেই ।
ব্যাপারটা ভীষণ অদ্ভুত লাগে ভারতবাবুর কাছে।
ইদানিং,
কোভিডের শিকারের সংখ্যা জানতে চাইলে
ভারতবাবু ফ্যালফ্যাল করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন।

তারপর মোবাইল বের করে
সেভ করে রাখা আসমুদ্রহিমাচল ভারতবর্ষের  ম্যাপ দেখিয়ে দেন।

খবরের কাগজে পরিসংখ্যান দেখা উনি ছেড়ে দিয়েছেন।
দুষ্টকবি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .  

রচনা ১.৭.২০২১ (ডক্টর্স ডে)
এখানে তোলা হয়েছে  ৪.৭.২০২১
.
দুষ্টকবি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .  

রচনা ১.৭.২০২১ (ডক্টর্স ডে)
এখানে তোলা হয়েছে  ৪.৭.২০২১
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
অজ্ঞাত কবি   
শুভাশিস মিত্রর ফেসবুক পাতা থেকে
সেই পাতায় যেতে . . .    

এখানে তোলা হয়েছে  ৬.৭.২০২১
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির মূল সংগ্রহ . . .   

রচনা ২৪.৭.২০২১
এখানে তোলা হয়েছে  ২৪.৭.২০২১
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
অ-কারণ কবি আর্যতীর্থ

অক্সিজেনের অফ সিজনে মরলো কিছু মানুষজন,
রাজামশাই দিলেন বলে , মোটেই সেটা  নয় কারণ।
গ্যারান্টি কই বাঁচতো ওরা লাগিয়ে দিলে অক্সিজেন?
ভাগ্যে ওদের মরাই ছিলো, অক্সি তো স্রেফ প্রক্সি দেন।
সবাই জানে , বাতাস জুড়ে অক্সিজেনের রমরমা,
শ্বাস টানলেই  হুস করে তা ফুসফুসময় হয় জমা।
সামান্য এই সহজ কাজই পারলো না যেই বোকার দল
মরাই তাদের ঠিক হয়েছে, যেমন কর্ম তেমনি ফল।

কিছু লোকে ঠ্যাঁটার মতো সহজ ব্যাখ্যা বুঝছে না,
দেশদ্রোহের  কায়দা এসব রাজার লোকের খুব চেনা।
যা কিছু হয় সবকিছুতেই দেখবে ওরা রাজার দোষ,
এমন ব্যাপক হ্যাটা করে  , নাম যেন তাঁর  নন্দ ঘোষ।
বিশ্ব মাঝে এ দেশ সেরা পিটছে ঢেঁড়া সবদিকে,
দেশপ্রেমের কোরাস ধুয়োয় বাকি সবার রব ফিকে
সব বরাহ বলছে তবু সরবরাহ কম নাকি,
অক্সিজেনের অভাব হয়েই বেরিয়ে গেছে দম বাকি।
পোস্টমর্টেম বললো কোথাও অক্সিবিহীন মরলো কেউ?
শবের সাথে প্রমাণগুলোও সব নিয়েছে নদীর ঢেউ।
প্রমাণ যদি না থাকে তো দোষটা কেন দাও শুনি?
পেয়াদা ওই তৈরি আছে, ডাকবো নাকি এক্ষুণি?
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.




তোমরা যারা ভাবছো কেন হুড়োতাড়ায় অক্সি প্ল্যান্ট,
তলিয়ে তারা ভাবছো না কেউ, ভীষণ বোকা ইগনোরান্ট।
ওসব ছিলো আগে থেকেই নিখুঁত  পরিকল্পনায়,
হিংসুটে আর  দুষ্টুরা ঝাল মশলা ঢালে গল্পটায়।
পাঁচ হাজারের সিলিন্ডারের উঠলো যে দাম চল্লিশে,
সবই গুজব, মন্দলোকের  গুলের যত জল মিশে।

অক্সিজেনের অভাব হওয়ার গল্পগুলো সব ঝুটো
শুনলে দিও কানে আঙুল, পড়লে বোজো চোখদুটো।

গঙ্গা বেয়ে শবের সারি? ধ্যাত্তেরি, ও খড়কুটো…
করোনা দিনের গান
কাজী কামাল নাসের (জন্ম আনুমানিক ১৯৬৪)। কথা, সুর, সঙ্গীতায়োজন ও কণ্ঠ - কাজী কামাল নাসের।
কবি কাজী কামাল নাসের
কবির ফেসবুক . . .    

এখানে তোলা হয়েছে  ২৬.৭.২০২১।
কোয়ারান্টাইনে বুঝছি সবাই
একলা হওয়ার মানে
হিংসা-বিভেদ হঠাৎই উধাও
অনিশ্চিতের গানে।
কোয়ারান্টাইনে বুঝছি সবাই
একলা হওয়ার মানে
জাতপাত আর ধর্ম উধাও
অনিশ্চিতের গানে।
এক অন্য পৃথিবী শেখালো হঠাৎ
বাঁচার অন্য মানে
ক্লাস রুমে নয়, ডলফিন আর
পাখিদের কলতানে।

করোনা-বিশ্ব পাল্টে দিয়েছে
চেনা দিন, চেনা রাত
সকলের থেকে তফাতে থাকছি
রাখছি না হাতে হাত।
তবে এ ছবি নেহাতই সাময়িক, জানি
মারী হবে কুপোকাত
যদি ইতিহাস থেকে পাঠ নিয়ে শিখি
নবযুগ ধারাপাত।
মৃত্যু ছাড়িয়ে দাঁড়াবোই রেখে
অন্যের হাতে হাত
মানুষের মতো বাঁচবো এবার বাঁচবোই একসাথ।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
করোনা দিনের গান - ২
কাজী কামাল নাসের (জন্ম আনুমানিক ১৯৬৪)। কথা, সুর, সঙ্গীতায়োজন ও কণ্ঠ - কাজী কামাল নাসের।
কবি কাজী কামাল নাসের
কবির ফেসবুক . . .    

এখানে তোলা হয়েছে  ২৬.৭.২০২১।
এ কেমন দিন, এ কেমন রাত
রাখছি না কেউ কারো হাতে হাত!
আর কতকাল বাঁচবে মানুষ
বয়ে করোনার অভিসম্পাত!

দূরত্ববিধি  মানার অছিলায়
কাছের পড়শি দূরের হয়ে যায়।
এ ভুলের চাকায় মরলে ঘুরে
সমাজে ঘনাবেই বিষম অভিঘাত।

তাই নিচ্ছি শপথ এ কালবেলায়
শরীর দূরে থাক, মন কাছে আয়
বাঁচব সবাই হয়ে সামাজিক
নামাব বুকে প্রেমের জলপ্রপাত।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির মূল সংগ্রহ . . .   

রচনা ১.৮.২০২১
এখানে তোলা হয়েছে  ১.৮.২০২১
বর্ম কবি আর্যতীর্থ

ভাইরাস ঠিক মানুষ বুঝে বদলিয়ে নেয় খেলটাকে,
খেয়াল রাখে প্যান্ডেমিকের শিখায় যাতে তেল থাকে।
অবুঝ মানুষ ফেরায় না হুঁশ, মুখোশ পরে বেজায় না-খুশ,
থুতনিতে মাস্ক নামিয়ে গিয়ে ছড়িয়ে বেড়ায় ডেল্টাকে।

প্যান্ডেমিকের দিকেই হেঁটে যাচ্ছে দেখো লোকজনে,
মুর্গী কটা গেলো পাওয়া কোভিড সেটা রোজ গোনে।
কানের থেকে মাস্ক ঝুলিয়ে, আজ যারা যায় রাস্তা দিয়ে
সে পাগলামি আগামী কাল লোক হারানোর শোক শোনে।

রাষ্ট্রেরা সব ভাবেন যখন  লক  করে সব খালাস দায়,
পৌঁছে গেছে তার ফাঁকে জ্বর সুদান থেকে আলাস্কায়।
লাভ নেই আর ওসবে আজ, বাঁচায় কেবল মাস্ক পরা সাজ,
তাও না করে নিজের হাতেই জীবন কারা জ্বালাস হায়!

চাইছে এ জ্বর ঢেউয়ের গ্রাসে আরো অনেক লাশ পেতে
লকডাউন আজ অস্ত্র ভোঁতা, ধার কিছু নেই খাস এতে।
শামুকমাফিক চলার ধরণ, নিয়েছে আজ টিকাকরণ
সমস্ত লোক পেতে হলে লাগবে অনেক মাস যেতে।

আগ বাড়িয়ে ঝাড়ের থেকে চাইছো কেন বাঁশ খেতে?
বর্ম এখন একটা কেবল, মুখ ঢাকা থাক মাস্কেতে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.




তোমরা যারা ভাবছো কেন হুড়োতাড়ায় অক্সি প্ল্যান্ট,
তলিয়ে তারা ভাবছো না কেউ, ভীষণ বোকা ইগনোরান্ট।
ওসব ছিলো আগে থেকেই নিখুঁত  পরিকল্পনায়,
হিংসুটে আর  দুষ্টুরা ঝাল মশলা ঢালে গল্পটায়।
পাঁচ হাজারের সিলিন্ডারের উঠলো যে দাম চল্লিশে,
সবই গুজব, মন্দলোকের  গুলের যত জল মিশে।

অক্সিজেনের অভাব হওয়ার গল্পগুলো সব ঝুটো
শুনলে দিও কানে আঙুল, পড়লে বোজো চোখদুটো।

গঙ্গা বেয়ে শবের সারি? ধ্যাত্তেরি, ও খড়কুটো…
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
অজ্ঞাত কবি   
জগবন্ধু মুখার্জীর ফেসবুক পাতা থেকে
সেই পাতায় যেতে . . .    

এখানে তোলা হয়েছে  ২.৮.২০২১
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক . . .   

এখানে তোলা হয়েছে  ৯.৮.২০২১
সময়টা এখন
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায়

বাজপাখি সাময়িক গুটিয়েছে নথ
সংক্রমণ শেষে থামা ভোট উৎসব
ইতিমধ্যে ঘরে ঘরে সেঁধালো মড়ক
নদীপথ বেছে নিল ছুঁড়ে দেওয়া শব
ফলাফল উগলালো ভোটের লড়াই
বিরোধী পক্ষ এক, আরেকের গদি
অনুসারে বাটা হবে সিন্ডিকেট খাঁই
আপাতত চিতা কম দায় নিক নদী
শকুনের ঠোঁটে ঠোকরায় নাগরিক
ছেঁড়ে শ্বাদন্তে শবদেহ সারমেয়
গোমূত্রে এই রোগ সেরে যাবে ঠিক
বিধায়ক বিশ্বাসী তাতে নেই সন্দেহ
এদেশের সুচেতনা রাক্ষসের হাতে
নির্বিকার ভাগ্যবাদী রইলে এতক্ষণ
নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ধর্ষকের দাঁতে
তাই ফুঁসে ওঠা চাই, নব জাগরণ
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক . . .   

এখানে তোলা হয়েছে  ৯.৮.২০২১
করোনাকাল
কবি সুতপা বন্দোপাধ্যায়

দুয়ারে সারমেয়
দেখেই অনুমেয়,
মানুষ আসেনা দুয়ারে।
মুখোশ মুখে সেঁটে
থাকে যে দোর এঁটে,
চেনেনা তো কেউ কাহারে!

এমন দিন এল,
কেউ কি ভেবেছিল
সবাই দূরে দূরে রবে!
কারোর হাত ছুঁলে
ঘাবড়ে ঢোঁক গিলে
পালাতে উন্মুখ হবে!

সাবান জল দিয়ে
হাতটা নেয় ধুয়ে
যতবার খুশি চায় সে।
রোগের ভয়ে হায়
খিদেও চলে যায়,
রুচি নাই লুচি-পায়েসে!

আকাশ তবু নীল,
প্রকৃতি অনাবিল,
পাখি আজও গায় গান।
দু'চোখ মেলে দ্যাখো,
মনটা খোলা রাখো,
হবে সবই সমাধান।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
ক্লান্তিবিহীন আজকে ওরা অশ্বমেধের ঘোড়া
সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে  যুক্ত মানুষজন এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত।
কথা- মানস কুমার মাইতি। সুর ও কন্ঠ- তূণীর।

ক্লান্তিবিহীন আজকে ওরা অশ্বমেধের ঘোড়া
বিঘ্ন বাধা জয় করে ভয়
দৃষ্টি কেবল সম্মুখে রয়
কঠিন লড়াই জানি তবু, জিতবে ঠিকই ওরা
ক্লান্তবিহীন ডাক্তারেরা অশ্বমেধের ঘোড়া।
বাদশা বেগম আমির উজির
দরবারে আজ কেউ না হাজির
হাত গুটিয়ে বলছে মুখে, কপাল তোদের পোড়া
সাবধানী দেশ গুনছে প্রমাদ, নিরাপত্তায় মোড়া।
হার না মানা মানুষগুলো  অশ্বমেধের ঘোড়া।
ঝরিয়ে রক্ত শ্রম ঘামে
দিও গো তুলে সবার নামে
ওদের হাতে ফোটানো ফুলে, বানানো ফুলের তোড়া
নতুন করে উঠবে গড়ে ভাঙাও লাগবে জোড়া।
পরিযায়ী ঐ শ্রমিকগুলো  অশ্বমেধের ঘোড়া
ক্লান্তবিহীন ডাক্তারেরা অশ্বমেধের ঘোড়া।
কবি মানস কুমার মাইতি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .    

এখানে তোলা হয়েছে  ১৯.৪.২০২২।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কোভিড যুদ্ধে শহীদ
কবি ডঃ কৌশিক ঘোষ
(২৪. ০৮. ১৯৬২ ~ ০৪. ১১. ২০২১)
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   

এখানে তোলা হয়েছে  ২৪.৪.২০২২
ঘটমান বর্তমান
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ (২৪.০৮.১৯৬২ - ০৪.১১.২০২১)। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সময়ে
তিনি নিজে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ৮ই নভেম্বর ২০২১ তারিখের রাতে, কোভিড-যুদ্ধের প্রথম সারির এই
যোদ্ধা ডঃ কৌশিক ঘোষ কোভিড-যুদ্ধে শহীদ হন।

একটা পৃথিবী জাহাজ সাগরে ভাসে
নোঙর করবে শান্তির বন্দরে
একটা আকাশে অজস্র বারুদ তারা
লেখে ইতিহাস ব্লাকহোল অন্দরে।

পৃথিবীর বুকে অহর্নিশি উল্কাপাত
নক্ষত্রদের আতঙ্কে মুখচুন
অবিরাম বজ্রপাতের আশঙ্কা
পাখিদের সাথে মানুষের মৈথুন।

অমাবস্যা চাঁদ আলো ও ঈর্ষায়
যুদ্ধ থামবে কী কারো জানা নেই
লোহিত সাগরে ঢেউ খুব উত্তাল
আগামী সূর্য উঠবে তবুও ভোরেই।

শান্তির দূত পায়রা সব নিরুদ্দেশ
দেবতা থাকে না ভগ্ন মন্দিরে
মিছিলে দেখি আমজনতার ঢেউ
গণতন্ত্রের নিধন হচ্ছে ধীরে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
যারা শেষ থেকে শুরু করে যাত্রা
প্রান্তরময় ধ্বংসের বীজ বোনে
তৃতীয় ঢেউয়ে কোভিডের প্রস্তুতি
সীমান্তে সেনা আক্রান্ত ড্রোনে।

যবনিকা পড়ে মানবতা অন্তরে
বাতাসে ভাসে বারুদের গন্ধ
আলোর যাত্রী সব আসবে ফিরে
সব পালাবার পথ আজ বন্ধ।
কোভিড যুদ্ধে শহীদ
কবি ডঃ কৌশিক ঘোষ
(২৪. ০৮. ১৯৬২ ~ ০৪. ১১. ২০২১)
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   

এখানে তোলা হয়েছে  ২৪.৪.২০২২
বেশ হয়েছে বেশ
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ (২৪.০৮.১৯৬২ - ০৪.১১.২০২১)। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সময়ে তিনি নিজে কোভিডে
আক্রান্ত হয়ে প্রথমে বাড়িতে, ও পরে ৪ঠা নভেম্বর ২০২১ তারিখে তাঁর শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছিল বলে তাঁকে বালুরঘাট কোভিড
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই রাতেই, কোভিড-যুদ্ধের প্রথম সারির এই যোদ্ধা ডঃ কৌশিক ঘোষ কোভিড-যুদ্ধে শহীদ হন।

বেশ হয়েছে বেশ
হরেক মাল কিনতে মেলায়
টঙ্কা মামার শেষ
মগজ ঘরে কাগজ ভরে
লিখছে অনিমেষ
ছাপবে নাকি দেশ
আরাম করে নিজের ঘরে আমড়া আঁটি চোষ
দেখবি আকাশ বাতাস নদী ফুঁসছে করে রোষ
বাগেরহাটে সূর্য পাটে
সবাই দেখি খিচড়ি ঘাটে
নাটের গুরু বটের ঝুরিই খাচ্ছে শুধু দোল
আজকাল হয় খোল করতাল বাজিয়ে হরিবোল
যাসনে বাপু শোন
এক থেকে এক লাখ অবধি নামতা টাকার গোন
গুনতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে কাঁদাস না রে মন
পার্লারে ভিড় খুব জমেছে
ফেসিয়ালের রেট কমেছে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
পুজোয় কামাই করে পার্লার বানায় নতুন ড্রেস
আহা কী আবেশ..
কলপ করে করছে কালো সবাই পাকা কেশ
এখন সবাই ময়দানেতে খেলবে ঘোড়ার রেস
হেস্তনেস্ত করাই আগে কেউ ঘুমোয় কেউ ঘুমিয়ে জাগে
কম্পজ্বরে লেপ মুড়ি দেয় কবি অনিমেষ
বেশ হয়েছে বেশ
ধুসনি কেন সাবান দিয়ে চোখ মুখ হাত ফেস?
ঢুকবি জেলে নিয়ম ভেঙে কোভিড উনিশ কেস।
কোভিড যুদ্ধে শহীদ
কবি ডঃ কৌশিক ঘোষ
(২৪. ০৮. ১৯৬২ ~ ০৪. ১১. ২০২১)
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   

এখানে তোলা হয়েছে  ২৪.৪.২০২২
বেশ হয়েছে বেশ
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ (২৪.০৮.১৯৬২ - ০৪.১১.২০২১)। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সময়ে তিনি নিজে কোভিডে
আক্রান্ত হয়ে ৮ই নভেম্বর ২০২১ তারিখের রাতে, কোভিড-যুদ্ধের প্রথম সারির এই যোদ্ধা ডঃ কৌশিক ঘোষ কোভিড-যুদ্ধে শহীদ হন।

বেশ হয়েছে বেশ
হরেক মাল কিনতে মেলায়
টঙ্কা মামার শেষ
মগজ ঘরে কাগজ ভরে
লিখছে অনিমেষ
ছাপবে নাকি দেশ
আরাম করে নিজের ঘরে আমড়া আঁটি চোষ
দেখবি আকাশ বাতাস নদী ফুঁসছে করে রোষ
বাগেরহাটে সূর্য পাটে
সবাই দেখি খিচড়ি ঘাটে
নাটের গুরু বটের ঝুরিই খাচ্ছে শুধু দোল
আজকাল হয় খোল করতাল বাজিয়ে হরিবোল
যাসনে বাপু শোন
এক থেকে এক লাখ অবধি নামতা টাকার গোন
গুনতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে কাঁদাস না রে মন
পার্লারে ভিড় খুব জমেছে
ফেসিয়ালের রেট কমেছে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
পুজোয় কামাই করে পার্লার বানায় নতুন ড্রেস
আহা কী আবেশ..
কলপ করে করছে কালো সবাই পাকা কেশ
এখন সবাই ময়দানেতে খেলবে ঘোড়ার রেস
হেস্তনেস্ত করাই আগে কেউ ঘুমোয় কেউ ঘুমিয়ে জাগে
কম্পজ্বরে লেপ মুড়ি দেয় কবি অনিমেষ
বেশ হয়েছে বেশ
ধুসনি কেন সাবান দিয়ে চোখ মুখ হাত ফেস?
ঢুকবি জেলে নিয়ম ভেঙে কোভিড উনিশ কেস।
কোভিড যুদ্ধে শহীদ
কবি ডঃ কৌশিক ঘোষ
(২৪. ০৮. ১৯৬২ ~ ০৪. ১১. ২০২১)
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   

এখানে তোলা হয়েছে  ২৪.৪.২০২২
আমার পূজা
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ (২৪.০৮.১৯৬২ - ০৪.১১.২০২১)। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সময়ে
তিনি নিজে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ৮ই নভেম্বর ২০২১ তারিখের রাতে, কোভিড-যুদ্ধের প্রথম সারির এই
যোদ্ধা ডঃ কৌশিক ঘোষ কোভিড-যুদ্ধে শহীদ হন।

তোমার পূজো প্যান্ডেল ঘুরে নতুন পোশাক পরে
আমার পূজো ইমারজেন্সি ডিউটি করা ঘরে।
আমার পূজো প্রবল জ্বরে কোভিড উনিশ সাথে
তোমার পূজো আলোয় ভরা জলসা করা রাতে।
আমার পূজো কতক্ষনে সুস্থ করতে পারি,
কেউ বা বাঁচে অক্সিজেনে কারোর কাছে হারি।
তোমাদেরই একজন কেউ এক্সিডেন্টে পড়ে,
এম্বুলেন্সে আসে হঠাৎ আমার পূজোর ঘরে।
গভীর রাতে সেলাই করি ফাটা মাথার ক্ষত
তোমরা তখন মনের সুখে ঠাকুর দেখো কত।
নার্স গ্রুপ ডি ও ডাক্তারের পূজোয় মজা বেশী
মধ্য রাতে মাতাল আসে দেখিয়ে যায় পেশী।
ডক্টরস রুমে রেস্ট নেবো কি স্ট্রোকের রোগী এলে
চিকিৎসাতে সাড়া দিলে পূজোর খুশি মেলে।
প্রসব ব্যথা নিয়ে যখন দুর্গা কেঁদে মরে
তখন ভাবি অসুর নিধন করবে কেমন করে?
গরল খেয়ে আমার কাছে নীলকন্ঠ এলে
হাঁফ ছাড়ি ভাই তবুও তো শিবের দেখা মেলে।
এমন করে রোগ সারিয়ে মোদের পূজো দেখা
হাসপাতালের ডাক্তারদের মন্দ ভাগ্য রেখা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
.
কবি সুচন্দ্রা মুখোপাধ্যায়
কবিতাটি পাঠিয়েছেন সাগরিকা সেনগুপ্ত
বির ফেসবুক . . .        

এখানে তোলা হয়েছে  ২৮.৪.২০২২
বুস্টার ডোজ কবি সুচন্দ্রা মুখোপাধ্যায়

ভাঙছে ঢেউ একের পর এক আমরা আছি ভেসে
মাঝদরিয়ায় ঠেলল সে নাও ভীষণ ভালোবেসে।

এই তো এবার গঙ্গাসাগর, সংক্রান্তি, মেলা
ভাসছ যখন ভেসেই থাকো নিজেই বোঝো ঠেলা।

মল খোলা থাক, পাব খোলা থাক, ভোটের মাঠে খেলা,
এসব বড়ই খুশির কথা পাঠশালা দিই তালা।

কি বা হবে এমনটা আর লেখাপড়ার ছুটি...
সমাজজীবন দাবার বোর্ড আর বাচ্চাগুলো ঘুঁটি।

মিটিং মিছিল একটু না হয় হলই বা পথ ঘাটে
বাচ্চাগুলোর ইচ্ছেডানা থাক না সে সঙ্কটে।

খ্রীষ্টমাস ও নতুন বছর  আর যদি না আসে?
শীতের পাড়ায় হৈ হুল্লোড় ভাসছে সে উচ্ছ্বাসে।

শিরদাঁড়া ওই ভাঙলে তবেই বাঁচবে হীরকদেশ
রাজপ্রাসাদে উৎসব আর জলভরা সন্দেশ।

আমরা সবাই রাজার রাজা সবটা বুঝি তাই
শুধু... বাচ্চাগুলোর মনের কথা বোঝার কেহ নাই।

এবার হোক না একটু থামা একটু বোঝার মন
বাচ্চাগুলোর স্বপ্ন ঘিরে সাজিয়ে তোলো ক্ষণ।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির মূল সংগ্রহ . . .   

রচনা ২০.৯.২০২২
এখানে তোলা হয়েছে  ২০.৯.২০২২
মহামারী শুরুর প্রায় তিন বছর পর . . .

খুলতে দাও কবি আর্যতীর্থ

রোজনামচার কোণখামচায় আতিপাতি খুঁজছি ঢেউ,
ঠিক না বেঠিক মুখোশ পরা, আদৌ কি আর বুঝছি কেউ।
সেই যারা সব ভূত ভাগাতেন মুখোশ ছাড়া দেখলে মুখ,
মুখ না মুখোশ করলে জিগেস, কুলুপ মুখে তারাও মূক।

ডেঙ্গি আবার লেঙ্গি মারে ফ্যালসিপেরাম ছুটায় ঘাম,
টাইফয়েডও নেই ভয়েডে, ভোলাচ্ছে জ্বর বাপের নাম।
এদের মাঝে তুচ্ছ কোভিড পুচ্ছ নাচায় আর কোথা,
দরকারি তাই সরকারি সিল বন্ধে মুখোশ-দাসপ্রথা।

তিনটে বছর প্রায় পেরোলো, চিনছি না কেউ কাউকে আর,
অর্ধ মুখের গল্পগুলোয় বাকির ফাঁকি কল্পনার।
খুললে মুখোশ ভীষণ অবাক, মোটেই অমন নয় তো সে,
নতুন কোনো মুখ চিনিনি কোভিডকালের ভয়-দোষে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
তবুও মুখে লাগাই মুখোশ, আতংকে নয় ,অভ্যাসে
কোথাও দেখে দেয় বাহবা, কোথাও আবার সব হাসে।
দুপক্ষেরই যুক্তি আছে, অকাট্য নয় কেউ তারা,
ঠিক না কি ভুল কঠিন বোঝা, নতুন কোনো ঢেউ ছাড়া।

সে ঢেউখানার আবার হানার সম্ভাবনা শূন্য নয়,
সেটা জানা, কিন্তু তাতেও চিন্তা কিছু নেই বোধহয়।
কমবেশি সব দেশের মানুষ ভ্যাক্সিনে আজ রক্ষিত
রক্ষী হয়ে সামলাবে যে তেমন ঢেউয়ের ঝক্কি তো।

পক্ষে এবং বিপক্ষে থাক যুক্তি লেখা য’দিস্তা,
হতেই পারে মুখোশ ছাড়া এখন দোকান অফিসটা।
মালিক যারা, দেন না তবু মুখোশ খোলার নোটিশটা।
কবি ইমন মুখার্জী
কবির ফেসবুক . . .   

রচনা ৭.১০.২০২০
এখানে তোলা হয়েছে  ৭.১০.২০২২
বন্ধ হয়েছে সমবেত হওয়া
কবি ইমন মুখার্জী

বন্ধ হয়েছে সমবেত হওয়া, বাতাস হয়েছে ভারী।
কোলাহল কেড়ে নিয়েছে নিমেষে বিশ্বের মহামারী।
স্বাভাবিক নেই কেউ তো কোথাও, মানবতা বিক্ষত।
অজানা অসুখে মৃত্যুর বুকে হাজার লক্ষ শত।
জীবনটা কতো পলকা, কতোটা হালকা ওজনে মানুষ।
তাইতো ইতালি ছারখার হলো, রক্ত মাংস ফানুস।
সব যোগাযোগ ছিন্ন হয়েছে, স্বজন গিয়েছে দূরে,
মুখোশে লুকোনো মুখ দেখি শুধু  ক্লান্ত বসুধা জুড়ে।
সকলের চোখে আতঙ্ক, সবই মরেছে বাঁচার আগে,
পুব দিগন্তে নবারুণও যেনো অস্বাভাবিক লাগে।
এতো হাহাকার তবুও বন্ধু জীবনেরই গান গেয়ো।
শুধু মনে রেখো মৃত্যুর চেয়ে বাঁচার লড়াই শ্রেয়।
এ শপথ করি -  বাঁচবো আমরা , বাঁচতে আমরা পারি।
জিতবে মানুষ, মানবতা, প্রাণ,  বধ কোরে মহামারী॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবির মূল সংগ্রহ . . .   

রচনা ২০.৯.২০২২
এখানে তোলা হয়েছে  ২০.৯.২০২২
চোদ্দটা মোমবাতি কবি আর্যতীর্থ
চোদ্দটা ভূত খোঁজো চতুর্দশীতে।
প্রাক্তন হলো যারা নিরালা নিভৃতে,
বিশেষ পুরনো নয়, গায়ে আজও চেনা জীবনের গন্ধ,
মরার কারণ সেই করোনার চেনা ঘোষ নন্দ,
সেরকম চোদ্দটা ভূত খুঁজি চলো,
বিবেক নাড়িয়ে গেছে যাদের মরণ,
চোদ্দটা মোম দিয়ে জীবিতরা একদিন করুক স্মরণ।

এক নম্বরে নাও জামলোর নাম।
ভুলে গেছো জানি তাকে, ফের তুললাম,
লঙ্কার ক্ষেত থেকে হেঁটে বাড়ি ফেরেনি দ্বাদশী,
অন্ত্যজ মানুষেরা সুমারির ফাউ,
তাই তার মৃত্যুতে কেউ নয় দোষী।
যে ভারত মরে গেলে কেউ কাঁদেনা,
তাদের প্রতিনিধি ছিলো সে বালিকা,
একখানা মোম দিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা কোরো।
জানি পাপ পোড়াবে না শিখা।

দুই নম্বরে থাক খুনে লাল রুটির ভুখারি।
রেল চলে গিয়েছিলো যাদের ওপরে, শ্রমিকের সেই শব-সারি,
এগারো জনের নাম কেউ জানেনা,
নাকি জানে মুখে আনে না?
লকডাউন হোক বা না হোক, লাইনে চলতে পারে ট্রেন,
সারাদিন হেঁটে যারা ক্লান্তিতে সেটা ভুলেছেন,
সে বোকার খেসারত দেশ কেন দেবে?
মোমবাতি থাক তাই না মেটা হিসেবে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
তিন নম্বরে  চেনামুখ ডাক্তার কেউ।
কেড়ে নিয়ে গেছে যাকে জ্বরের  সুনামি ঢেউ,
টিকা পেয়ে বা না পেয়ে গিয়েছিলো লড়তে যে রাষ্ট্রের বোড়ে।
আদতে যোদ্ধা নয়, তবুও সে নিধিরাম গিয়েছিলো প্রাণপণ লড়ে,
যদিও অন্তিমকালে বুঝেছিলো কেউ নেই সাথে,
সঞ্চয় শেষ হলো বাঁচবার চেষ্টা চালাতে,
পরিবার কিছু পাবে সেই আশা আজও মরীচিকা।
তার নামে জ্বেলো এক মোমবাতি-শিখা।

চার নম্বর মোম পাক সেই লাশ,
জীবিততে পায়নি যে শ্বাসের বাতাস।
চারদিকে হাহাকার, অক্সিজেন নেই কোনো সিলিন্ডারে,
মৃতদের থেকে নল জীবিতরা কাড়ে,
শুধু গুঁজে দিতে শেষ শ্বাস তখনও লড়াই করা প্রিয় ফুসফুসে,
এইভাবে এর আগে মরেনি মানুষে।
জীয়ন্তে অক্ষম দেশ দিতে দম,
চলো তাকে মোম দিই, স্মৃতি দিক ওম।

পাঁচে থাক সেই পরিবার,
রোজগার যার হলো কোভিড-শিকার।
কিছুদিন চেয়েচিন্তে চলে, একদা স্বচ্ছলতায় হাত পাতা মানা,
এই দেশে যে কোনো প্রদেশে আছে ছড়িয়ে ঠিকানা।
একদিন বুঝেছিলো, আর কিছু নেই বেচবারও,
আগামীর অন্ধকার আরো বেশি গাঢ়,
সুতরাং মা বাবা অনায়াস লাশ হয়ে গেছে সম্তান মেরে ।
সেই মৃত মোম পাক, আয়নায় ওরাই তো তুমি আমি যে রে।
ছয়ে সেই জলে ভেজা লাশ,
গঙ্গার বুকে যার একলা সফর।
কোনো এক কালে তার নামপরিচয় ছিলো,আর ছিলো থিতু ঘর,
বেমালুম মুছে গেছে মারীতে সুমারী থেকে।
মোম ছাড়া ওকে আর মনে রাখবে কে?

সাতে কোনো ধার্মিক, পুণ্যের খোঁজে যার যাওয়া জমায়েতে,
রাষ্ট্রই দোর খুলে ভোটের তাগিদে তাকে দিয়েছিলো যেতে,
মৌলবী পুরোহিতে হাত তুলে বলেছিলো  হবেনা কিছুই ।
সত্যিই হয়নি কিছু,
বেঁচে আছে যাবতীয় বোয়াল ও রুই,
শুধু কিছু চুনোপুঁটি নিয়ে গেছে ভাইরাসে।
কতটা পুণ্য নিয়ে গেছে ওইপাশে,
সে হিসেব এখন আর কোত্থেকে পাই,
তার চেয়ে চলো ওই মোমই জ্বালাই।

আটে সেই গ্র্যাজুয়েট ছেলে ,
ব্যর্থ ব্যবসা করে সবজির গাড়ি ঠেলে ঠেলে,
অবসন্ন অবশেষে ক্ষান্ত দিয়েছে ,
শান্তিতে ট্রেনে গলা দিয়ে মরে গিয়েছে।
সুইসাইড লেখা আছে পোস্টমর্টেমে,
হেরে গেলে জীবনের এ স্কুইড গেমে,
মৃত্যুকে ওই বলে চালানোই প্রথা।
দায় আবার কে নেবে বলো অযথা,
ওকে কেউ মরতে বলে নি তো।
একখানা মোম পাক সেই শিক্ষিত।
নয়ে থাক সেই ক্লাস ন’য়ের কিশোরী,  
স্মার্টফোন নেই বলে শিক্ষার থেকে তার দো গজ কি দূরি,
চাষার মেধাবী মেয়ে পারেনি সইতে।
ওড়না দিব্যি পারে গোটা শরীরের ভার বইতে,  
কতভাবে কতবার এইদেশে কন্যারা সেটা জেনে যায় ।
সে জ্ঞান জ্বলতে থাক মোমের শিখায়।

দশে থাক বন্ধু বা প্রিয়জন কোনো।
কাউকে হারায়নি,এইদেশে নেই একজনও,
যদি বা থাকেও কোথাও সেই সৌভাগ্যবান,
পরিচিত মহলে পায় নি সে স্থান।
অসময়ে চলে গেছে এরকম প্রিয়মুখ ফিরুক এই প্রাকদেওয়ালিতে।
অশ্রুর ফোঁটাগুলো বাধা না দাঁড়ায় হয়ে বাতি জ্বেলে দিতে।

এগারোতে প্রিয় আইডল।
গান নাচ অভিনয় সাহিত্যে বিজ্ঞানে ভূপতিত মহীরুহদল,
যাদের যাওয়াতে জানি থিতু হয়ে বসেছে আঁধার,
জাগরুক হোক শোক তবুও আবার।
এসো কথা দিই ওই মোমের শিখাকে,
স্মরণে ও শরণে মনে রাখবো তাঁকে।
দ্বাদশও ভূতই বটে, তবে সে মানুষ নয়।
ওপরে উঠতে লোকে যেই দিক চায়,
মারী ও রাষ্ট্র মিলে কুড়ুল মেরেছে দিয়ে সেই শিক্ষায়।
উপায় হয়নি ভাবা চালাবার স্কুল,
প্রজন্মে থেকে যাবে সেই মহাভুল,
মারী যদি আরো থাকে কিছু কাল,
স্কুল তবে  মিড ডেতে দেওয়া চালডাল,
সব খুলে শুধু স্কুলে তালা দেওয়া হলো।
আমাদের করনীয় আর কিছু নেই, শুধু ওই মোমবাতি জ্বালো।

আনলাকি থার্টিনে সেকুলারিজম। যদিও সে বহুকাল মৃত,
তবুও শবের গন্ধ এর আগে নাক জুড়ে এত আসেনি তো।
সেই তবলিগি থেকে বিভাজন শুরু, তারপর আড়ে ও বহরে,
বেড়েই চলেছে সেটা। রাজনীতি সে আগুন পৌঁছেছে ঘরে।
করোনা যদিও  বিভেদ করেনি কোনো হিঁদু মুসলিমে,
তবুও তা দিয়ে দিয়ে সে ঘোড়ার ডিমে,
সেকুলার পরিচয় লুকাচ্ছে ভারত আজ ভারী লজ্জাতে।
সে ভূতের শ্রাদ্ধটা এইবারে হয়ে যাক মোমবাতি হাতে।
চোদ্দতে থাক সেই ভূত, যে ছিলো বহুকাল পড়েইনি চোখে,
আজ তার শেষ স্বীকৃত। একখানা মোম দাও গণতন্ত্রকে।
উঠো না রে রে করে, জানি ভোট দাও,
সংবিধানের নামে এখনো কসম খাও,
তবুও বেছেছো শেষ কবে বলো ব্যক্তিকে?
অন্ধের মতো ছাপ দিচ্ছো প্রতীকে।
জনগণমন থেকে বহুকাল ছিন্ন রাজারা ,
সব দলে গিজগিজ পাজিদের পা-ঝাড়া,
সেসব স্বীকার করি কজন আর বলো!  
ছেড়ে দাও, তার চেয়ে মোম জ্বালি চলো।

চোদ্দটা নিতান্ত নিরীহ ভূত , কে আর করবে বলো মনে।
ভোট নেই এদের দেখিয়ে। নোট নেই ক্ষতির পূরণে।

চতুর্দশীতে তবু,
এসো জ্বালি চোদ্দটা মোমবাতি তাদের স্মরণে।

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   

এখানে তোলা হয়েছে  ৩১.১.২০২৩
পরিযায়ী মানুষের গাথা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী

পরিযায়ী নতুন নয়
আকাশে মেললে ডানা
পাখিরা পরিযায়ী হয় --
মানুষ পরিযায়ী নয়।

নাম তার রাম ও রহিম
গ্রাম তার বারুইপাড়া
কাজ তার ভিনদেশে ভাই
ধর্ম তার কোনোখানে নাই।

দেশগ্রাম কবেই ছিল
বিহারী বাবা উড়িয়ে ধুলো
বিলাসপুরী মাও তাহার
ঘরে ফিরে জ্বালাত চুলো।

কাজ তো বন্ধ কদিন
চুলো যে জ্বলছে না আর
ভাতেতে আগুন লাগে
অগ্নিমূল্য বাজার।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
বাবা ও মা বলল
ফিরে যাবে দেশ ও বাড়ি
চলছে না বাস ও গাড়ি
পথ হেঁটে জমাবে পাড়ি।

পথে নামল রাম ও রহিম
হাতে বিহার ও বিলাসপুরী
কতটা হাঁটলে পরে
পৌঁছবে ঘর ও বাড়ি।

রাম ও রহিম ক্ষিদেয় মরে
পেটে তার অনেক জ্বালা
ধম্মে কম্মে মন নাই তার
মনে পড়ে ঘরের চালা।

দিন যায় রাতও নামে
ঘর কোথা হে পথের ধামে
দূর থেকে উড়িয়ে ধুলো
রুটি ভরা ট্রাকও আসে।
ট্রাকের চাকা অনেক বড়ো
রাম ও রহিম জড়োসড়ো
বিহার ও বিলাসপুরী
ট্রাকের তলায় গুড় ও মুড়ি।

ঘরে ফেরা হয়না যে আর
রাম ও রহিম হয় জেরবার
অনেক আলো ঝলকায় হায়
ওরা তো ঘরই না পায়।

পরিযায়ী রাম ও রহিম
শাস্ত্রে কিতাবে অনেক কথা
পাখিরা পরিযায়ী হয়
এবার মানুষও বাদ নয়।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   

এখানে তোলা হয়েছে  ৩১.১.২০২৩
ঘুমিয়ে আছে মা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী

জনবহুল স্টেশনের মাঝখানে
স্মৃতিস্তম্ভগুলো নির্বাক দাঁড়িয়ে আছে
আর তার একপাশে শুয়ে আছে
আমার অভাগিনী মৃত মা --

হ্যা, আমি সেই মায়ের কথাই বলছি
যে মা গুজরাট থেকে মুজফফরপুর
কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা হেঁটে
অনাহারে অর্ধাহারে মৃত্যুকে বরণ করেছেন।

মায়ের চাদর নিয়ে খেলছে শিশুটি
যেমন খেলত সে সবকটা দিনে ও রাতে
ঘুমন্ত মায়ের সঙ্গে টুকিটুকি খেলা
মা জাগবে না জেনেও তার খেলা থামেনি।

আমরা কি সত্যিই জানি --
যে মা আর ঘুম ভেঙে উঠবে না!
মায়েরা ঘুমিয়ে পড়ে কখনো কি!
কখনো ঘুমোয় মা!
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
মা  আসলে একটি পবিত্র শব্দ
তার ক্লেদাক্ত হিমেল পায়ে
পাঁজরে পাঁজরে যন্ত্রণায়
কখনো মৃত্যুর লেখা থাকে না।

মৃত মায়ের আঁচলে তাই আড়াল খোঁজে
অবোধ শিশু, দুরন্ত কিশোর আর মানুষেরা
মা কখনো মরে না
সস্তা মাদুরে কালো কম্বলে লুকিয়ে থাকা মৃত্যু
মায়ের ডাক পেলেই তাই
বিষণ্ণ শব্দে চাদর দুলিয়ে চলে যায় একা।
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .  

এখানে তোলা হয়েছে  ২৭.৬.২০২৪
করোনার করুণায়
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়

করোণা করল কোয়ারেনটিন
ভাইরাস করতে ধ্বংস
দেহ ছেড়ে মনটা তখন
ডানা মেলতেই ব্যস্ত।
নাই বা হলো মাঠে যাওয়া  
বারান্দাতেও রোদ্দুর
ছাদ কি সবার ভাগ্যে থাকে
তবে মনের গতি সুদূর।
চোখের পাতা বন্ধ করে
মনের ডানা মেলে
আমি তখন উড়ে গেছি
শিলং পাহাড় ছেড়ে।
রইল পড়ে চটি জোড়া
খাটে উপুর করা বই
চশমাটও গেলাম রেখে  
সাথে আধখাওয়া দুধখই।
আবার তুমি প্রমাণ করলে
মিছে অহং বোধের বড়াই
সবার ওপর মানবধর্ম
তাহার ওপর কিছু নাই।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
বন্ধ চোখের পাতায় ভাসে
কত বিচিত্র সব ছবি
এ কি আমার চেনা শহর
হেথায় আমি থাকি?
পাশের বাড়ির নীরেণবাবু
এমনিতে ফিটফাট
এখন তিনি লুঙ্গি পরে
খাটে পিটছেন তাস।
লকার মাঠের গুণ্ডা ছেনো
জীবন পকেট মেরেই চলে
সেও তো দেখি একইভাবে
তাস পেটাচ্ছে খাটে।
বন্ধ ক্লাব বন্ধ পার্টি
বন্ধ মাল্টিপ্লেক্স
বাংলার ঠেক বন্ধ
আবার বন্ধ যত প্রেস।
হায় করোনা এ কী হলো
খ্যামতা তোমার অসীম
কোটিপতি রিক্সাওয়ালা
এক আসনে বিলীন।