| নীল চাষের গীতের দেয়ালিকা |
| যে কোনো কবিতায় ক্লিক্ করলেই সেই কবিতাটি আপনার ব্রাওজারের ডান দিক ঘেঁষে ফুটে উঠবে |
| |||||
| হায় কি চীজ বানাইছে কোম্পানী প্রচলিত গান, অজ্ঞাত কবি ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত, কেদারনাথ মজুমদার সম্পাদিত “সৌরভ” পত্রিকার ফাল্গুন ১৩২৫ (ফেব্রুয়ারী ১৯১৯) সংখ্যায় সংগ্রাহক রাজেন্দ্রকুমার মজুমদার শাস্ত্রী, বিদ্যাভূষণ এর “নীলের গীত” প্রবন্ধে প্রাপ্ত গীত। নীল প্রস্তুতের সময়ের সারি ও জারীগান। এই গানগুলিতে মানেজার সাহেব ও দেওয়ানজী প্রভৃতিকে গালাগালি করে গান করলেও তারা কিছু বলতেন না। তা শুনে হাসতেন আর উপভোগ করতেন। হায় কি চীজ বানাইছে কোম্পানী, সারদিন কাম করি পেটে নাই দানা পাণি। মাগ পোলা লয় ঘরে থাকতে কই পারি। পা ফেলিতে সরদারেরা দেয় মাথায় বারি। কছিমদ্দির ভাইরে লৈয়া গেল সাহেবের সরদারে। পাড়া পড়সী ডোকরাইয়া কান্দে আইজ বাঁচে কি মরে। কথা বার্তা না শুনে সে দেওয়ানজী বেট। সাহেব বড় পাজি তাই করছে আরো লেঠা। সাহেবত মানুষ নয় সে যে একটা জন্তু। আমরা মরি দুঃখ নাই মাগ পোলা মরে কিন্তু। শালা বেটা শুনে না কথা আরো গর্জ্জে উঠে। গালি দিতে মারে কিল, লাঠি পড়ে পীঠে। সাবাস দেওয়ান মহেশ বটে সে যে মস্ত শালা। কিল খাবার আগে সরে পড় এই বেলা। কাজ নাই মহেশ দেওয়ান বড় পাজি। তারে সিধা কইরা দিছে রহিমদ্দিন কাজি। |
|
|
|
|
| দৌলত মুদী কইরা কুদি প্রচলিত গান, অজ্ঞাত কবি ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত, কেদারনাথ মজুমদার সম্পাদিত “সৌরভ” পত্রিকার ফাল্গুন ১৩২৫ (ফেব্রুয়ারী ১৯১৯) সংখ্যায় সংগ্রাহক রাজেন্দ্রকুমার মজুমদার শাস্ত্রী, বিদ্যাভূষণ এর “নীলের গীত” প্রবন্ধে প্রাপ্ত গীত। নীল প্রস্তুতের সময়ের সারি ও জারীগান। এই গানগুলিতে মানেজার সাহেব ও দেওয়ানজী প্রভৃতিকে গালাগালি করে গান করলেও তারা কিছু বলতেন না। তা শুনে হাসতেন আর উপভোগ করতেন। দৌলত মুদী কইরা কুদি বেদখল করলো কুঠীর সরদার। নাছির মামুদ করছে আমোদ কেটা ঘাড়ে ধরে তার। বেটা বটে তিন চারটা নাছির মামুদ তার হকুক১ দার। সে বেটা শালা দেয় কাণ মলা হুসিয়ার হও তোমরা তাবেদার। দেওয়ানজী বেটা করছে লেঠা লম্বা দাড়ি ছিড়ে তারে কর বাট। সাহেব শালা পাজি অরো কথা শুনে না মোটে কার নালিসেও শালা করে চোট পাট। ১ হুকুক - “হুকুক দার” লেখা আছে। মুদ্রণপ্রমাদের কারণে “হুকুম দার” হতেও পারে। |
| দুঃখীর দুঃখের কথা বলিয়া জানাব কত প্রচলিত গান, অজ্ঞাত কবি ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত, কেদারনাথ মজুমদার সম্পাদিত “সৌরভ” পত্রিকার ফাল্গুন ১৩২৫ (ফেব্রুয়ারী ১৯১৯) সংখ্যায় সংগ্রাহক রাজেন্দ্রকুমার মজুমদার শাস্ত্রী, বিদ্যাভূষণ এর “নীলের গীত” প্রবন্ধে প্রাপ্ত গীত। নীল প্রস্তুতের সময়ের সারি ও জারীগান। এই গানগুলিতে মানেজার সাহেব ও দেওয়ানজী প্রভৃতিকে গালাগালি করে গান করলেও তারা কিছু বলতেন না। তা শুনে হাসতেন আর উপভোগ করতেন। |
| দুঃখীর দুঃখের কথা বলিয়া জানাব কত অরণ্যেরোদন জানি সব বৃথা কারে ক সে সব দুঃখের কথা আসিল শাউন ভাড্র কখন বৃষ্টি-কখন রৌদ্র রোদের চোটে ফেটে বায় মেদিনী হায় কি দারুণ নীল পয়দা করছে কোম্পানী। দুঃখীর দুঃখের কথা---------- আষাঢ় মাসে সুসার নাই করজা করে ভাত খাই সে সময়ে খাওনের টানা টানি জানত যায় না বাঁচানী। দুঃখীর দুঃখের----------- আশ্বিন কার্ত্তিক দুই মাস ক্ষেতে হলে পাঠ ধান সে সময় যৎ কিঞ্চিৎ আমদানী। দিন ভরা কাজ কলে মিলে না দু'য়ানী দুঃখীর------------- |
| পাট ধান সব ফুরাইল, মহাজন ক্রোক করিল ক্ষেতে তে প্যাদা মোতায়নী। নীলের সরদারেও করে টানা টানি দুঃখীর------------- মাথার ঘাম পায় পড়ে এ দুঃখ কি বুঝে পরে কে বুঝিবে গরিবের কাহিনী দেখি নীলের সরদারের আমদানী দুঃখীর------------- সাহেব গুণ্ডা, দেওয়ান মিত্র তাতে নাই অষুধ পত্র মরণের বাকী কি আছে কাটাঘায়ে লুণ ছিটা দিছে দুঃখীর------------- আছি আছি লানা নাই ক্ষতি বৃদ্ধি কিছু নাই যার কাছে যাই হই অপমানী সাহেব কয় যাও নীল কাটানি। দুঃখীর দুঃখের কথা বলিয়া জানাব কত অরণ্যে রোদন জানি সব বৃথা কারে কব সে সব দুঃখের কথা। |
| মনরে তোরে পাইছে শত নীলের ভূতে প্রচলিত গান, অজ্ঞাত কবি ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত, কেদারনাথ মজুমদার সম্পাদিত “সৌরভ” পত্রিকার ফাল্গুন ১৩২৫ (ফেব্রুয়ারী ১৯১৯) সংখ্যায় সংগ্রাহক রাজেন্দ্রকুমার মজুমদার শাস্ত্রী, বিদ্যাভূষণ এর “নীলের গীত” প্রবন্ধে প্রাপ্ত গীত। নীল প্রস্তুতের সময়ের সারি ও জারীগান। এই গানগুলিতে মানেজার সাহেব ও দেওয়ানজী প্রভৃতিকে গালাগালি করে গান করলেও তারা কিছু বলতেন না। তা শুনে হাসতেন আর উপভোগ করতেন। |
| মনরে তোরে পাইছে শত নীলের ভূতে ঘরের কার্য্য নষ্ট করল নীল কুঠির দুতে মনরে তোরে পাইয়ে সাত নীলের ভূতে। মাথার ঘাম পায় ফেলাইয়া দু’কড়া হয় আমদানী বাদ সাধিয়া তাও চায় কেড়ে নিতে যতই কুদি কতই কাঁদি ডেরে১ আসে কাটা ঘায় নুণ দিতে মনের সাধে কাঁদব কেউ না রবে সঙ্গে যেতে মনরে তোরে পাইছে---------- ভাদরিয়া রোদের চোটে শক্ত মাথা ও ফাটে বেটারা কয় বেগার দিতে। কর নীলের আমদানী ভয় দেখায় কালাপাণি সাগর পার করে চায় নিতে টানা টানি করে সাত ভূতে। মনরে---------- |
| জবাবের মত জবাব পেলে চাপট মারে দুই গালে ধপ্ ধপানি হয় সতেক কিলে জ্বর নাই জারী নাই নীল আন আমা ঠাঁই এমনি সাদা কথা সাহেব বলে। কার্দ্দানী করে সকলে মনরে---------- বস্ত্র নাই গায় দিতে কেঁপে মরি ভরা শীতে বেটারা কয় পয়নাল কাটিতে সাদা কথায় কাট নীল তাতে নাই মারকিল কবে প্যাদা করবে কম জল দিয়া তা ভরিতে পেটের পীলা কেপে উঠে তাদের কন্ কনানিতে মনরে---------- ঘরে নাই অন্ন মুঠি কথা কয় পরি পাটী ঘাড়ে ধরে আসে মারতে তিন ভূতে কাজের কথায় আলসি করলে জুতা লাঠি বকশিশ মিলে পেটের পীলা ফাটে তাদের লাথিতে। জের বার হয়ে মরি তাদের চোখ রাঙ্গানিতে মনরে তোরে পাইছে সাত নীলের ভূতে। |
| নীলকর-বিষধর বিষপোরা মুখ কবি দীনবন্ধু মিত্র। কবির ১৮৬০ সালে রচিত “নীলদর্পণ” নাটকের শেষ দৃষ্যের অন্তিমের গান। নীলকর-বিষধর বিষপোরা মুখ, অনল শিখায় ফেলে দিল যত দুঃখ? অবিচারে কারাগারে পিতার নিধন ; নীলক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হলেন পতন ; পতিপুত্রশোকে মাতা হয়ে পাগলিনী, স্বহস্তে করেন বধ সরলা কামিনী ; আমার বিলাপে মার জ্ঞানের সঞ্চার, একেবারে উথলিল দুঃখ-পারাবার, শোকশূলে মাখা হলো বিষ বিড়ম্বনা, তখনি মলেন মাতা, কে শোনে সান্ত্বনা। কোথা পিতা, কোথা পিতা, ডাকি অনিবার, হাস্যমুখে আলিঙ্গন কর একবার। জননী জননী বলে চারিদিকে চাই, আনন্দময়ীরয মূর্ত্তি দেখিতে না পাই ; মা বলে ডাকিলে মাতা অমনি আসিয়ে, বাছা বলে কাছে লন মুখ মুছাইয়ে, অপার জননী স্নেহ কে জানে মহিমা, রণে বনে ভীতমনে বলি মা, মা, মা, মা, সুখাবহ সহোদর জীবনের ভাই, পৃথিবীতে হেন বন্ধু আর দুটী নাই ; নয়ন মেলিয়া দাদা, দেখ একবার, বাড়ী আসিয়াছে বিন্দুমাধব তোমার। |