কবি দেবী রায় - জন্ম গ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার হাওড়া জেলায়। পিতা যুগলকিশোর রায় ও
মাতা রঞ্জনা দেবী।

কবি ১৯৫৮ সালে স্কুল ফাইনাল পাশ করেন এবং ১৯৬০ এ আই.এ. পাশ করে লাইব্রেরী সায়েন্স নিয়ে বি.এ.
পড়েন। তিনি হিন্দী ভাষায় প্রবীণ ও প্রাজ্ঞ পরীক্ষাও পাশ করেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ডাক বিভাগে কর্ম
জীবন কাটান।

১৯৬১ সালে কৈশোর থেকে যৌবনে সদ্য পা দেওয়া কয়েকজন ছেলের মনে হয়েছিল যে,
 স্বদেশী
আন্দোলনের সময় জাতিয়তাবাদী নেতারা যে সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা টকে
গিয়ে পচতে শুরু করেছে উত্তর ঔপনিবেশিক কালখণ্ডে | ওসওয়াল্ড স্পেংলার এর লেখা
"The Decline of the
West"
বইটির মূল বক্তব্য থেকে মলয় রায়চৌধুরী প্রভৃতিরা এই আন্দোলনের দর্শন গড়ে তুলেছিলেন | তাঁদের
মনে হয়েছিল যে দেশভাগের ফলে পশ্চিমবঙ্গ এই ভয়ংকর অবসানের মুখে পড়েছে, এবং উনিশ শতকের
মনীষীদের পর্যায়ের বাঙালীর আবির্ভাব আর সম্ভব নয় | তাঁদের মনে হয়েছিল যে কিঞ্চিদধিক হলেও,
এমনকি যদি ডিরোজিওর পর্যায়েও না হয়, তবু হস্তক্ষেপ দরকার, আওয়াজ তোলা দরকার, আন্দোলন
প্রয়োজন |

সেই ভাবনা মতো
মলয় রায়চৌধুরী এবং তাঁর দাদা সমীর, দুই বন্ধু দেবী রায় এবং শক্তি চট্টোপাধ্যায় কে
নিয়ে, অন্যান্য তরুণ লেখক কবি শিল্পীদের নিয়ে এই আন্দোলন শুরু করেন যা
হাংরিয়ালিস্ট আন্দোলন নামে
খ্যাত হয় | এই কবিদের বলা হয় হাংরি জেনারেশন | নভেম্বর ১৯৬১ সালে প্রথম হাংরি বুলেটিন প্রকাশিত
করা হয় পাটনা থেকে এবং সেখানে বাংলা ছাপাবার প্রেস না পাওয়ায় বুলেটিনটি প্রকাশিত করা হয়
ইংরেজীতে | অতি স্বল্প কালের মধ্যেই হিন্দী ও নেপালী ভাষাতেও এই আন্দোলন ছড়িয়েছিল |  

এই নব ধারার প্রতিষ্ঠান-বিরোধী কবিতার আন্দোলন প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হয়। তাঁদের রচনাকে
অশ্লীলতার দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। পশ্চিমবঙ্গের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের
রাজত্যকালে, ১৯৬৪ সালে,
মলয় রায়চৌধুরী,  প্রদীপ চৌধুরী,  সুভাষ ঘোষ,  দেবী রায়, শৈলেশ্বর ঘোষ ও
সমীর রায়চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ এনে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় | ফলে এই
আন্দোলন ১৯৬৫ সালেই শেষ হয়ে যায়।


কিন্তু দেবী রায় থেমে যান নি। তিনি পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে তাঁর জায়গা করে নিয়েছেন একজন
প্রতিষ্ঠিত কবি হিসেবে। আমরা তাঁর হাংরিয়ালিস্ট-পরবর্তী কবিতা, "এক টুকরো মেঘ" কাব্যগ্রন্থ থেকে
নিয়েছি।

তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে "কলকাতা ও আমি" (১৯৬৫), "মানুষ মানুষ" (১৯৭১), "সাম্প্রতিক তিনজন"
(১৯৭৩), "দেবী রায়ের কবিতা" (১৯৮০), "ভ্রুকুটির বিরুদ্ধে একা" (১৯৮৩), "উন্মাদ শহর" (১৯৮৪), "এই সেই
তোমার দেশ" (১৯৮৬), "পুতুল নাচের গান" (১৯৮৭), "সর্বহারা, তবু অহংকার" (১৯৯০), "ভারতবর্ষ তোমায়
খুঁজছে" (১৯৯৩), "আগুনের গান" (২১শে ফেব্রুয়ারী, বাংলাদেশ), "নির্বাচিত কবিতা" (১৯৯৮), "এক ফুঁয়ে
জীবন" (২০০২), "প্রসঙ্গ : দেবী রায়" (২০০৪), "কবিতা সমগ্র ১" (২০০৫), "কবিতা সমগ্র ২" (বৈশাখ ১৪১২),
"পদ্মা গঙ্গার কবিতা" (১৪১৩), "হৃদয় নিয়ে জেরবার" (২০০৭), "ঘচাং ফুঃ" (২০০৮), "ঐ সুদূরের হাতছানি"
(২০০৮), "অস্ত্র এখনো বই" (১৯৯৫), "পণ্ডিত নই, প্রেমিকমাত্র" (১৯৯৮), "অন্তরঙ্গ কথাবার্তা" (১৯৯৮), "গদ্য
সংগ্রহ" (২০০৮) প্রভৃতি।

হিন্দী থেকে অনুবাদ করেছেন "শ্রীকান্ত বর্মার কবিতা" (১৯৯০), "শ্রীকান্ত বর্মা" (১৯৯৮)।


আমরা
মিলনসাগরে তাঁর কবিতা তুলতে পেরে আনন্দিত |



কবি দেবী রায়ের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


উত্স : দেবী রায়, কাব্যগ্রন্থ "এক টুকরো মেঘ", ২০০৯


আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in     

এই পাতা প্রকাশ ১৮.৯.২০১১