| কলকাতায় জলের কল, ফুটপাথ, ড্রেণ প্রভৃতি হইলে কোন অজ্ঞাত কবি লিখেছিলেন . . . |
| যুবরাজ কলিকাতায় আসিলে তাঁহার সম্বর্দ্ধনায় কুলনারীদের লক্ষ্য করিয়া সংবাদপত্রে এইরূপ কবিতা বাহির হইয়াছিল . . . |
| সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |


| পুরাতন কলকাতার ছড়ার দেয়ালিকা |
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে লিখি কথা | আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার স্বাধীনতা || |

| এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে স্ক্রল করে! This page scrolls sideways, Left-Right ! |
| যে কোনো কবিতায় ক্লিক্ করলেই সেই কবিতাটি আপনার ব্রাওজারের ডান দিক ঘেঁষে ফুটে উঠবে |
| ইংরাজ কোম্পানীর কর্ম্মচারীরা সকল বিষয়েই কেমন কৌশল সহকারে ব্যবসা করিত, তাহা সকলেই বেশ জানিত | তাই সে সময় হিন্দুস্থানারা এই কথা বলিত— “সাহেব মেরা বেনিয়া, করে সকল ব্যাপার | বিন ডারি বিন্ পলরা, যোখে সকল সংসার |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |
| |||||
| ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যায়, শ্রী হরিহর শেঠ-এর “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ থেকে আমরা প্রায় ৫০টি পুরাতন কলকাতার ছড়া পেয়েছি। ভালো-মন্দ বিভিন্ন সেকালের প্রচলিত মতবাদে পুষ্ট এই ছড়ার বেশকিছু আবার এ যুগে একেবারেই রাজনৈতিকভাবে বেঠিক! ভালো-মন্দ যাই হোক মিলনসাগরে, আমরা তা তুলে দিয়েছি কারণ এটাই আমাদের ইতিহাস! অন্য কোনো সূত্রে আরও "পুরাতন কলকাতার ছড়া" পেলে এখানেই তোলা হবে। |


| নবাব রেজা খাঁর অত্যাচার ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর উপলক্ষে কোন কবি এইরূপ লিখিয়াছিলেন--- “নদ নদী খাল বিল সব শুকাইল, অন্নাভাবে লোক সব যমালয়ে গেল | দেশের সমস্ত মাল কিনিয়া বাজারে, দেশ ছারখার গেল রেজা খাঁর ডরে | একচেটে ব্যবসায় দাম খরতর, ছিয়াত্তরে মন্বন্তর হ’ল ভয়ঙ্কর | পতি পত্নী পুত্র ছাড়ে পেটের লাগিয়ে, মরে লোক অনাহারে অখাদ্য খাইয়ে |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |


| কান্ত বাবুর প্রাধান্য ও প্রতিপত্তি কিরূপ ছিল, তাহা নিম্নলিখিত ছড়া হইতে বুঝিতে পারা যায়। “কান্তবাবু হ’য়ে কাবু হাবুডুবু খায়, তুড়ুং লাগাতে তায় ক্লেভারিং যায় | হেষ্টিংস্ যাহার হাতে তারে করে কাবু, বাঙলায় হেন লোক আছে কে হে বাবু ?” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |


| দেশের লোক কলিকাতায় কোম্পানীর কর্ম্মচারী ও উমেদারগণের গুণ দেখিয়া বলিত . . . “জাল জুয়াচুরি মিথ্যাকথা | এই তিন নিয়ে কলিকাতা ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |


| ক্লাইবের কলিকাতায় অবস্থান-কালে একটি পুত্র হয় | নবাব মীরজাফর পুত্রের জন্য একটি হিন্দুস্থানী মুসলমানী দাই দিয়াছিলেন | সে শিশুকে কোলে করিয়া যখন ঘুম পাড়াইত, তখন বলিত . . . “দেখো মেরি জান কোম্পানি নিশান, বিবি গৈয়ে দমদমা উড়ি হৈ নিশান, বড়া সাহেব ছোটা সাহেব বঙ্কা কাপ্তেন, দেখো মেরি জান, লিয়া হৈ নিশান |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |


| সেকালে কলিকাতা প্রধানতঃ ব্যবসার স্থানই ছিল। দেশ ছাড়িয়া লোক কলিকাতায় বাস করিতে যাইত। সেই উপলক্ষে কবি লিখিয়াছেন . . . “ধন্য হে কলিকাতা ধন্য হে তুমি | যত কিছু নূতনের তুমি জন্মভূমি || দিশি চাল ছেড়ে দিয়ে বিলাতের চাল | নকলে বাঙালী বাবু হল যে কাঙাল || রাতারাতি বড়লোক হইবার তরে | ঘর ছেড়ে কলিকাতা গিয়ে বাস করে ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |


| হিন্দু কলেজ স্থাপিত হইলে দেশে একটা আন্দোলনের সৃষ্টি হয় | তখন হিন্দুর ছেলেরা প্রথম প্রথম বড় কেহ কলেজে যাইত না | এই বিদ্যালয়-সম্পর্কে রাজা রামমোহন রায়কে লক্ষ্য করিয়া এই মত কবিতা রচিত হইয়াছিল . . . “খানাকুলের বামুন একটা করেছে স্কুল, জাতের দফা হলো রফা থাকবে না ক কুল |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |


| মহারাজ নন্দকুমারকে লক্ষ্য করিয়া এই ছড়া বাঁধা হইয়াছিল . . . “ভাদুরের নন্দকুমার, লক্ষ ব্রাহ্মণের কল্লে সুমার, কেউ খেলে মাছের মুড়ো কেউ খেলে বন্দুকের হুড়ো |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |


| সেকালের সৌখিন বাবুদের বুলবুলির লড়াই প্রভৃতিকে কটাক্ষ করিয়া কবিতা রচিত হইয়াছিল . . . “দুর্গাপূজা ঘন্টা নেড়ে খোকা হাল বাজে ঢাক | কাকাতুয়া ছেড়ে দিয়ে খাঁচায় পুল্লে কি না কাক || বিষয়-কর্ম্ম গোল্লায় গেল, লড়িয়ে কেবল বুলবুলি | প্রকৃতি বিকৃতি হায় হায় ! মারা গেল লোকগুলি ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |


| প্রথম প্রথম কলিকাতার অবস্থা এমন ছিল যে,পশ্চিমের সিপাহীগণ পেটের জন্য কলিকাতায় আসা অপেক্ষা দেশে থাকিয়া মৌহা খাওয়া পছন্দ করিত | তাহারা বলিত . . . “দাদা হো’য় খা’জ হো’য় আর হো’য় হৌ হোহা | কলকাতা নাহি যাও, খাও মৌহা ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |


| দেউলিয়া আইন জারি হওয়ার পর কলিকাতায় মাড়োয়ারী মহাজনের আমদানী বৃদ্ধি হইয়াছিল বলিয়া প্রকাশ | তখন খোট্টারা (অবজ্ঞার্থে বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের হিন্দীভাষী লোক) বলিত . . . “নালিশ হুয়া তাগাদা ছুটা ঘর ঘর রূপেয়া বাটো বরে ভাগ্ সে ডিগ্রী হুয়া কাগজ লেকে চাটো |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| সিরাজের ভয়ে হেষ্টিংস্ কাশিমবাজারে কৃষ্ণকান্ত নন্দীর ( কান্তবাবু ) গৃহে গোপনে আশ্রয় লওয়া প্রসঙ্গে রসসাগর কৃষ্ণকান্ত ভাদুড়ী নিম্নলিখিত কবিতাটি লিখিয়াছিলেন . . . “হেষ্টিংস্ সিরাজ ভয়ে হয়ে মহাভীত, কাশিমবাজারে গিয়া হন উপনীত | কোন্ স্থানে গিয়া আজ লইব আশ্রয়, হেষ্টিংসের মনে এই নিদারুণ ভয় | কান্ত মুদি ছিল তাঁর পূর্ব্বে পরিচিত, তাঁহারি দোকানে গিয়া হন উপস্থিত | নবাবের ভয়ে কান্ত নিজের ভবনে সাহেবকে রেখে দেয় পরম গোপনে | সিরাজের লোকে তাঁর করিল সন্ধান, দেখিতে না পেয়ে শেষ করিল প্রস্থান | মুস্কিলে পড়িয়ে কান্ত করে হায় হায়, হেষ্টিংসে কি খেতে দিয়া প্রাণ রাখা যায় ? ঘরে ছিল পান্তাভাত, আর চিংড়ি মাছ কাঁচা লঙ্কা, বড়ি পোড়া, কাছে কলাগাছ | কাটিয়া আনিল শীঘ্র কান্ত কলাপাত, বিরাজ করিল তাহে পচা পান্তা ভাত | পেটের জ্বালায় হায় হেষ্টিংস তখন চব্য চুষ্য লেহ্য পেয় করেন ভোজন | সূর্য্যোদয় হল আজ পশ্চিম গগনে, হেষ্টিংস্ ডিনার খান কান্তের ভবনে |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |


| হেয়ার সাহেব সেকালে কিরূপ জনপ্রিয় ছিলেন, তাহা কবিবর দীনবন্ধু মিত্রের “সুরধুনী কাব্যে” লিখিত নিন্ম-লিখিত কবিতা হইতে বুঝিতে পারা যায় . . . “দেখ মাতা গোলদীঘি, বড় রক্ত জোর, বিরাজে দক্ষিণ দিকে হেয়ারের গোর | দীন দুঃখী শিশুদের পরম আত্মীয়, বঙ্গের বদান্য বন্ধু প্রাতঃস্মরণীয় | বাঙ্গালীর উন্নতির নির্ম্মল নিদান, যার জন্য করেছেন সর্ব্বস্ব প্রদান |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |


| চিত্পুর, কলিকাতা, কালীঘাট ভিন্ন ভিন্ন গ্রাম ছিল কবিকঙ্কন চণ্ডী হইতে এইরূপ বুঝা যায় | উহাতে লেখা আছে . . . “ত্বরায় চলিল তরী তিলেক না রয় চিত্পুর শালিখা সে এড়াইয়া যায় | কলিকাতা এড়াইল বেনিয়ার বালা বেতোড়েতে উত্তরিল অবসান বেলা | # # # # # কালীঘাট এড়াইল বেনিয়ার বালা কালীঘাটে গেল ডিঙ্গা অবসান বেলা |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |
| ১ “সাবাস ভবানীপুর সাবাস তোমায় | দেখালে অদ্ভুত কীর্ত্তি বকুল-তলায় || পুণ্য দিনে বিশে পৌষ বাঙ্গলার মাঝে | পর্দ্দা খুলে কুলবালা সম্ভাষে ইংরাজে || কোথায় কৈশবদল, বিদ্যাসাগর কোথা | মুখুয্যের কারচুপিতে মুখ হৈল ভোঁতা || হরেন্দ্র নরেন্দ্র গোষ্টী ঠাকুর পিরালি | ঠকায়ে বাঁকুড়াবাসী কৈল ঠাকুরালি || ধন্য মুখুয্যের বেটা বলিহারি যাই | সস্তা দরে মস্ত মজা কিনে নিলে ভাই || ও যতীন্দ্র, কৃষ্ণদাস একবার দেখ চেয়ে | বকুল-তলায় পথের ধারে কত শত মেয়ে || কাল, ফিকে, গৌর, সোণা --- হাতে গুয়াপান | রূপের ডালি খুলে বসি পেতেছে দোকান || ধন্য হে মুখুয্যে ভায়া বলিহারি যাই | বড় সাপ্টাদরে সাৎ করিলে খেতাব সি, এস্, আই ||” |
| ২ “হেদে ও সহরবাসি আর কি হাসি হাস্ বি রেড়ো ব’লে দেখনা চেয়ে বকুলতলায় দাঁড়িয়ে রাণীর ছেলে || চৌঘুড়িতে সঙ্গে করে সাদা মোসাহেব | নাড়ীটেপা ফেয়ার সাহেব, বারটেল নায়েব || আর কেনলো ঘোম্ টা খোল কবির কথা রাখো | লাইট্ পেয়ে রাইট্ হয়ে পার হলো সাঁকো || ভয় কি তাতে লজ্জা কি তায় কাল বদনখানি | দেখ্ বে খালি চক্ষে চেয়ে যুবা নৃপমণি || কবজা তুলে দেখ্ বে বাজু দেখবে কানের দুল | দেখ্ বে কন্ঠি কন্ঠহার পিটের ঝাপা ফুল || আয় এয়োগণ করবি বরণ প’রে চরণ চাপ | শিবের বিয়ে নয়লো ইহা ধরবে নাকো সাপ || এগিয়ে এস বুড় ঠাক্ রুণ সাৎপোয়াতির মা | তক্ত পাবেন তোমার তিনি তাও কি জান না || |
| ৩ কবি হৈল হত ভোম্বা হিন্দুর পর্দ্দা ফাঁক | পালিয়ে যেতে পথ পায়না ঘোরে কলুর চাক || বাঙ্গালার বিশে পৌষ বড় পুণ্য দিন বাঙ্গালী কুলকামিনী হইল স্বাধীন ||” |

| সেকালের খ্যাতনামা সাহেব অধ্যাপক ডিরোজিওর ছাত্রগণের দুর্বিনীত ও অন্যায় ব্যবহারে বিরক্ত হইয়া সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক জয়গোপাল তর্কালঙ্কার মহাশয় এই শ্লোকটি লিখিয়াছিলেন . . . “দক্ষিণারঞ্জনো রামো রসিকং কৃষ্ণমোহনঃ | তারাচাঁদো রাধানাথো গোবিন্দশ্চন্দ্রশেখরঃ || হরচন্দ্রো রামতনুঃ শিবচন্দ্রশ্চ মাধবঃ | মহেশোহমৃতলালশ্চ প্যারীচাঁদো মধুব্রতাঃ || ফিরিঙ্গী পুঙ্গব শ্রীমদ্ ডিরোজিও কুশেশয়ে | মধুপানরতাঃ সম্যগ্ দিগ্ বিদিগ্ জ্ঞানবর্জ্জিতাঃ ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |
|
| সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| কোন একজন বাবুকে লক্ষ্য করিয়া সেকালে কোন কবি, ( সম্ভবতঃ ভোলা ময়রা ) নিম্নলিখিত কবিতাটি রচনা করেন . . . “বাবু বটে ঈশ্বর বাবু, বাবু শম্ভু রায়, উমেশ বাবু শুঁট্ কো বাবু, ব’সে আছেন কেদারায় | বাবু তো বাবু লালা বাবু, কোলকাতায় বাড়ী, বেগুন পোড়ায় নুন দেয় না যে ব্যাটা, সে হাড়ি পিঁপড়ে টিপে গুড় খায়, মুফতের মধু আলি, রাগ ক’রো না, রায় বাবু গো, দুটো সত্য কথা বলি --- সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| সে কালে গাঁজা খাওয়াটা খুব প্রবল ছিল | গুলি, চণ্ডুরও স্থানে স্থানে আড্ডা ছিল | সেই সময় এই ছড়াটি লিখিত হয় . . . “বাগবাজারে গাঁজার আড্ডা, গুলীর কোন্নগরে, বটতলার মদের আড্ডা, চণ্ডুর বৌবাজারে, এই সব মহাতীর্থ যে না চোখে হেরে, তার মত মহাপাপী নাই ত্রিসংসারে |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| প্রাচীন কলিকাতায় যে হাট পত্তন হইয়াছিল, চণ্ডী কাব্যে তাহার সম্বন্ধে এইরূপ লেখা আছে | ধালিপাড়া, মহাস্থান, কলিকাতা কুচিনান, দুই কূলে বসাইয়া বাট পাষাণে রচিত ঘাট, দুকুলে যাত্রীর নাট কিঙ্করে বসায় নানা হাট | সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| সেকালে বাঙ্গালা পদ্যে ইংরাজী শব্দের অর্থ শিখান হইত, তাহার নমুনা . . . “গাড্ ঈশ্বর, লাড্ ঈশ্বর, কম মানে এস, ফাদার বাপ, মাদার মা, সিট্ মানে ব’স | ব্রাদার ভাই, সিষ্টার বোন, ফাদার সিষ্টার পিসী, ফাদার ইন্ ল মানে শ্বশুর, মাদার-সিষ্টার মাসী আই মানে আমি, আর ইউ মানে তুমি, আস্ মানে আমাদিগের গ্রাউণ্ড মানে জমি | ডে মানে দিন, আর নাইট্ মানে রাত, উইক্ কে সপ্তাহ বলে, রাইস্ মানে ভাত | পম্ কিম্ লাউ কুমড়ো, কোকম্বর শসা | ব্রিঞ্জেল বার্ত্তাকু, আর প্লোমেন্ চাষি ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| কতিপয় প্রসিদ্ধ লোকের প্রসিদ্ধির কারণ উল্লেখ করিয়া তখনকার লোক ছড়া বাঁধিয়াছিল . . . “বনমালী সরকারের বাড়ী গোবিন্দরাম মিত্রের ছড়ি | আমির চাঁদের দাড়ি | হুজুরি মল্লের কড়ি |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |
| রূপভেদে . . . নন্দরামের ছড়ি উমিচাঁদের দাড়ি | হুজুরি মল্লের কড়ি বনমালি সরকারের বাড়ী || |
| রূপভেদে . . . গোবিন্দ রামের ছড়ি উমিচাঁদের দাড়ি নকুবড়ের কড়ি মথুর সেনের বাড়ী || |
| গঙ্গাভক্তি-তরঙ্গিণী, কবিকঙ্কন ও ঘটক-কারিকা গ্রন্থে কালীঘাটের নিম্নলিখিত মত উল্লেখ আছে . . . |
| ১ “চলিল দক্ষিণ দেশে, বালি ছাড়া অবশেষে, উপনীত যথা কালীঘাট | দেখেন অপূর্ব্ব স্থান, পূজা হোল বলিদান, দ্বিজগণে করে চণ্ডীপাঠ ||” . গঙ্গাভক্তি তরঙ্গিনী | |
| ২ “বালুঘাট এড়াইল, বেনের নন্দন, কালীঘাটে গিয়া ডিঙ্গা দিল দরশন | তীরের প্রমাণ যেন চলে তরীবর, তাহার মেলানি বাহে মাইননগর ||” . কবিকঙ্কন | |
| ৩ “লক্ষ্মীর আরাধ্য কালী, যাহে স্থিরামতি অদূরে বড়িশা তথা করিলা বসতি | যতকালে কালীঘাটে কালিকার স্থিতি লক্ষ্মীনাথে কুলভাঙ্গে সাবর্ণের মতি | কালীঘাট কালী হ’ল চৌধুরি সম্পত্তি | হালদার পূজক এই ত তার বৃত্তি || ক্রমে জ্ঞাতি কুটুম্বে দেয় যতেক বৃত্ত কুলীন কূল নাশে সবে হল প্রবৃত্ত | মানসিংহ যদা যায়, পুনঃ কাশীবাসে কহে গুরু আজ্ঞা সিদ্ধ, গুরু অভিলাষে | জানুক না জানুক অস্ত্রের কেহ বিদ্যা সৈন্যের রক্ষণে পটু চৌধুরী অনবদ্যা |” . ঘটক-কারিকা | |
| সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| ওয়ারেন্ হেষ্টীংস সম্বন্ধে নিম্ন লিখিত ছড়াটি বোধ হয় বেনারসের চেত সিংহের ব্যাপারের সময় রচিত হইয়াছিল . . . “হাতিপর হাওদা, ঘোড়াপর জীন্, জল্ দি যাও, জল্ দি যাও, ওয়ারেন্ হেষ্টিন্ |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয় বিধবা-বিবাহের উদ্যোগী হইয়াছিলেন, তখন এই কবিতাটি কেহ লিখিয়াছিলেন . . . বেঁচে থাক বিদ্যাসাগর চিরজীবী হ’য়ে সদরে করেছে রিপোর্ট বিধবাদের হবে বিয়ে | কবে হবে এমন দিন প্রচার হবে এ আইন, দেশে দেশে জেলায় জেলায় বেরোবে হুকুম বিধবা রমণীর বিয়ের লেগে যাবে ধূম সধবাদের সঙ্গে যাবো বরণডালা মাথায় লয়ে | আর কেন ভাবিস লো সই, ঈশ্বর দিয়াছেন সই এবারে বুঝি ঈশ্বরেচ্ছায় পতিপ্রাপ্ত হই রাধাকান্ত মনোভ্রান্ত দিলেন না কই সই, লোক মুখে শুনে আমরা আছি লোক লাজ ভয়ে | এমন দিন কবে হবে বৈধব্য যন্ত্রণা যাবে আভরণ পরিব সবে লোকে দেখবে তাই আলোচাল কাঁচকলার মুখে দিয়ে ছাই এয়ো হ’য়ে যাব সবে বরণ ডালা মাথায় লয়ে | সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| বিদ্যাসাগর মহাশয়ের পাণ্ডিত্যের কথা লইয়া এই মত কবিতা একজন রচনা করিয়াছিলেন . . . “কি কারণে তোষামোদ করিব সকলে | পিপাসা যাবেনা কভু গোষ্পদের জলে | বিশেষতঃ বারি বিনে কিছু নাই ডর | একাকী ঈশ্বর সম বিদ্যার সাগর ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| অক্ষয়কুমার দত্তের সম্বন্ধে এইরূপ কবিতা আছে . . . “কালে না পারিবে কিছু করিতে আমার | পেয়েছি কপাল গুণে অক্ষয় কুমার || তাহার বাসনা সবে শুনিবারে পায় | অক্ষয় যশের মালা পরাইবে মায় ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| রাজা রামমোহন রায়ের নামে এই মত ছড়া বাঁধিয়াছিল . . . “সুরাই মেলের কুল, বেটার বাড়ী খানাকুল, বেটা সর্ব্বনাশের মুল ওঁ তত্সৎ বলে বেটা বানিয়েছে স্কুল ও সে জেতের দফা, করলে রফা মজালে তিন কুল |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| কবি ঈশ্বর গুপ্ত স্ত্রী-শিক্ষা প্রচলিত হওয়ায় এইরূপ লিখিয়াছিলেন . . . “যত ছুঁড়ী গুলো তুড়ী মেরে কেতাব হাতে নিচ্চে যবে, এ বি শিখে, বিবী সেজে, বিলাতী বোল কবেই কবে ; আর কিছুদিন থাকরে ভাই ! পাবেই পাবে দেখ্ তে পাবে, আপন হাতে হাঁকিয়ে বগী, গড়ের মাঠে হাওয়া খাবে |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| কবি ঈশ্বর গুপ্ত কৈশরে যখন প্রথম কলিকাতা যান তখন লিখিয়াছিলেন . . . “রেতে মশা দিনে মাছি, এই নিয়ে কলকাতায় আছি |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| কুমারী মেরী কারপেন্টার কলিকাতায় আসিলে এইরূপ কবিতা রচিত হইয়াছিল . . . “অতি লক্ষ্মী বুদ্ধিমতী এক কবি এসেছে, ষাট বত্সর বয়স তার বিবাহ না করেছে ; করে তুলেছে তোলাপাড়ী এবার নাইকো ছাড়াছাড়ি, মিস্ কারপেন্টার সবল স্কুল বেড়িয়ে এসেছে | কি মাদ্রাজ কি বোম্বাই সবই দেখেছে, এখন এসে কলকাতাতে ( এবার ) বাঙ্গালীদের নে পড়েছে | উত্তরপাড়া স্কুল যেতে, বড়ই রগর হলো পথে, এটকিনসন উড্রো আর সাগর সঙ্গেতে নাড়াচাড়া দিলে ঘোড়া মোড়ের মাথাতে, গাড়ী উল্টে পল্লেন সাগর, অনেক পুন্যে গেলেন বেঁচে ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| ইংরাজি কথা শিখানের জন্য সেকালে নামতার মত ঘোষান হইত যথা . . . “ফিলজফার ---বিজ্ঞলোক, প্লৌম্যান---চাষা পমকিন---লাউ কুমড়ো, কুকুম্বার--- শশা ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |
|

| কবি ভোলা ময়রা সে-কালের বড়লোকদের ধাঁজ, ধরণ চেহারা প্রভৃতি তাঁহার গানের মধ্যে গাহিয়াছিলেন . . . “আমি ময়রা ভোলা, ভিঁয়াই খোলা, বাগবাজারে রই, নই কবি কালিদাস তবে খোসামুদের মাথা খাই | বাবুতো, লালাবাবু কোলকাতাতে বাড়ী, বেগুন পোড়ায় নুন দেয় না সে ব্যাটা ত হাঁড়ী || পিঁপড়ে টিপে গুড় খায়, সুকতের মধু অলি | মাপ কর গো রায় বাবু দুটো সত্য কথা বলি | মোষের মত মুন্সী বাবু মসীর মত কালো | পান খেয়ে ঠোঁট রাঙ্গায় চেহারাখানা ভালো || পূর্ব্বজন্মের পুণ্য ফলে পান খেতে পাই | লক্ষ্মীছাড়া বাসী মড়া যার পানের কড়ি নাই ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| বাগবাজারের গোকুল মিত্রের নিকট বিষ্ণুপুরের রাজা তাঁহার গৃহদেবতা মদনমোহনকে বাঁধা দিয়া এক লক্ষ টাকা কর্জ্জ লইয়াছিলেন | পরে তিনি আসলের পরিবর্ত্তে একটি নকল বিগ্রহ লইয়া যান | সে সম্বন্ধে নিম্নলিখিত ছড়া দুইটি শুনা যায় . . . “সুবুদ্ধি রাজার কুবুদ্ধি ঘটিল সোণার মদন মোহন বাঁধা দিয়ে গেল ||” অপরটি— “কারুর কিছু হারিয়েছে বাগবাজারের মদন মোহণ পালিয়েছে ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| আহীরীটোলায় নিমাই চরণ গোস্বামীর ( যাঁহার নামে নিমুগোস্বামীর লেন্ হইয়াছে ) বাটীতে বহু ধুমধামের সহিত চৈত্র মাসে রাসোত্সব হইত | এই উপলক্ষে ৪০-৫০টি বাঁশ একত্র করিয়া আটচালা হইত | তাহা হইতে লোকে গান বাঁধিয়াছিল . . . “জন্ম মধ্যে কর্ম্ম নিমুর চৈত্র মাসে রাস | আলোর সঙ্গে খোঁজ নাইক বোঝা বোঝা বাঁশ ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| কৃষ্ণদাস মল্লিকের পৌত্র দর্পনারায়ণ মল্লিক মুসলমান উত্পীড়নে ত্রিবেণী হইতে ১৭০৩ খ্রীষ্টাব্দে কলিকাতায় আসিয়া বাস করেন | তাহা হইতে প্রবাদ আছে . . . “কায়েত মরে খেয়ালে, বেণে মরে দেয়ালে। জোলা মরে তাঁতে, কাঙ্গালী বাঙ্গালী মরে মাছ আর ভাতে |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| সে কালের সমাজ-চিত্র ও লোকের মনোভাব নিম্নলিখিত ছড়ায় বুঝা যায় . . . “গুরুমশায়ের মার ধোর ঘুচে গেল জারি জুরি , ডফ্ কেরি পাদরীরা সবায় পড়ায় ধরি ধরি | বিলিতি খানা খাইয়ে তারা ছেলেদের মাথা খেলে, মুরগী ভেড়ার ছেনাগুলো কাঁটা চামচেয় গেলে |” ############################### “টেবিল চেয়ার ছেড়ে আর কেও যে চায় না খেতে, আসন পেতে বসলে খেতে বলে ‘ধুলো পড়ে পাতে |’ শুক্ নো ডাবা গঙ্গায় দিয়ে ধরে সবে গুড়গুড়ী, হেঁকে চলে পাল্কী ছেড়ে বেনীয়ান বাবু করে গাড়ী |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| এইরূপ জনপ্রবাদ --- রাণী রাসমণির স্বামী রাজচন্দ্র মাড়ের পিতা পীরিতিরাম, কায়েত হইবার চেষ্টায় বিফল-মনোরথ হইয়া বলিয়াছিলেন . . . “দুলোল হল সরকার, ওঙ্কুর হলো দত্ত আমি কিনা থাক্ বো যে কৈবত্ত সেই কৈবত্ত ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| মহারাণী স্বর্ণময়ী দেওয়ান রাজীবলোচনের কথায়, কাত্যায়নী গুরু বিনোদীলালের কথায় ও রাসমণি ধনা খানসামার কথায় দানাদি সত্কার্য্য করিয়াছিলেন, তাহা নিম্নলিখিত ছড়ায় প্রকাশ পায় . . . “ঠাকুরে বিনোদিলাল, চাকরে ধনাই, দেওয়ানে রাজীব রায়, বলিহারি যাই ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের মৃত্যুর পর তাঁহার জ্যেষ্ঠতাত পুত্র স্বভাব কবি মহেশচন্দ্র লিখিয়াছিলেন . . . “সাত মেড়াতে জড় হ’য়ে নষ্ট করলে ‘প্রভাকর’, জন্মে কলম ধরেনিকো ‘রাম’ হল এডিটার | আগা পাছা বাদ দিয়ে শ্যাম হ’ল কমাণ্ডর |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| ওরিয়েন্ট্যাল সেমিনারির ছেলেরা তাদের হেডমাষ্টার ও অন্যান্য শিক্ষকদের নামে নিম্নলিখিত ছড়া বাঁধিয়াছিল . . . “গুড্ সাহেবের লম্বা ঠাং, তার নীচে ঈশ্বর ব্যাং, ঈশ্বর ব্যাং বড় দানা, তার নীচে গুপে কানা |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| ইংরাজদের কাছে বাঙ্গালীর লাঞ্ছনা দেখিয়া কোন কবি লিখিয়া গিয়াছেন . . . “তাঁতীর শোভা তাঁতখানা, দর্জ্জির শোভা সূতো বাঙ্গালীর শোভা বেত্রাঘাতে, জুতো আর গুঁতো ||” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |

| ভবিষ্য পুরাণে গোবিন্দপুর ও সুরধুনী তটে কালীর নাম উল্লেখ আছে . . . “তাম্রলিপ্তে প্রদেশচ বর্গভীমা বিরাজতে | গোবিন্দপুর প্রান্তেচ কালী সুরধুনী তটে |” সংগ্রাহক – হরিহর শেঠ | “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” নামক প্রবন্ধ, ভারতবর্ষ পত্রিকার পৌষ ১৩৩৭ ( ডিসেম্বর ১৯৩০ ) সংখ্যা থেকে নেওয়া | |