কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
হেদে রে পরাণ নিলজিয়া
হেদে রে পরাণ নিল জিয়ে
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

হেদে রে পরাণ নিল জিয়ে। এখন গেলি তনু তেজিঞে॥
সন্ন্যাসী হইআ পহু গেল। এ জনমের মতন ফুরাইল॥
আর কি গৌরাঙ্গ চাঁন্দে পাবি। মিছা প্রতিআশে কেন রবি॥
সুনি বিষ্ণুপ্রিয়া মুখ বাণী। বাসু কহে উতু পড়ু প্রাণি॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ
॥ ভূপালী॥

হেদে রে পরাণ নিলজিয়া।
এখন না গেলি তনু তেজিয়া॥
গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেছে মোর।
আর কি গৌরব আছে তোর॥
আর কি গৌরাঙ্গচাঁদে পাবে।
মিছা প্রেম-আশ-আশে রবে॥
সন্ন্যাসী হইয়া পহুঁ গেল।
এ জনমের সুখ ফুরাইল॥
কাঁদি বিষ্ণুপ্রিয়া কহে বাণী।
বাসু কহে না রহে পরাণি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস লীলা
॥ ভূপালী॥

হেদে রে পরাণ নিলজিয়া।
এখন না গেলি তনু তেজিয়া॥
গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেছে মোর।
আর কি গৌরব আছে তোর॥
আর কি গৌরাঙ্গচাঁদে পাবে।
মিছা প্রেমআশ আশে রবে॥
সন্ন্যাসী হইয়া পহুঁ গেল।
এ জনমের সুখ ফুরাইল॥
কাঁদি বিষ্ণুপ্রিয়া কহে বাণী।
বাসু কহে না রহে পরাণি॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

হেদে রে পরাণ নিল জিয়া।
এখন না গেলি তনু তেজিয়া॥
গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেছে মোর।
আর কি গৌরব আছে তোর॥
আর কি গৌরাঙ্গচান্দে পাবে।
মিছা প্রেম-আশ আশে রবে॥
সন্ন্যাসী হইয়া পহুঁ গেল।
এ জনমের সুখ ফুরাইল॥
কাঁদি বিষ্ণুপ্রিয়া কহে বাণী।
বাসু কহে না রহে পরাণী॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
অচৈতন্য শ্রীচৈতন্য সার্ব্বভৌম ঘরে
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

অচৈতন্য শ্রীচৈতন্য সার্ব্বভৌম-ঘরে।
গোপীনাথ পাশে বসি পদসেবা করে॥
সার্ব্বভৌম প্রভুমুখ আছে নিরখিয়া।
ইনি কোন্‌ বস্তু কিছু না পায় ভাবিয়া॥
নরসিংহরূপ প্রভুর দেখে একবার।
বটুক বামনরূপ দেখে পুনর্ব্বার॥
পুন দেখে মত্স কূর্ম্ম বরাহ আকার।
পুন ভৃগুরাম হস্তে ভীষণ কুঠার॥
দুর্ব্বাদলশ্যামরূপ দেখয় কখন।
কখন মুরলীধর নীরদবরণ॥
এ সব দেখিয়া তাঁর সন্দেহ ঘুচিল।
ষড়্ ভূজরূপে প্রভু উঠি দাণ্ডাইল॥
শচীর দুলাল যেই সেই ননীচৌর।
অন্তরেতে কালা কানু বাহিরেতে গৌর॥
ভূমে পড়ি দণ্ডবৎ করে সার্ব্বভৌম।
বাসু ঘোষ বলে আর কেন মিছা ভ্রম॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭২-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নীলাচলে শ্রীগৌরাঙ্গ
॥ সুহই॥

অচৈতন্য শ্রীচৈতন্য সার্ব্বভৌম ঘরে।
গোপীনাথ পাশে বসি পদসেবা করে॥
সার্ব্বভৌম প্রভুমুখ আছে নিরখিয়া।
ইনি কোন্‌ বস্তু কিছু না পায় ভাবিয়া॥
নরসিংহরূপ প্রভুর দেখে একবার।
বটুক বামনরূপ দেখে পুনর্ব্বার॥
পুন দেখে মত্স কূর্ম্ম বরাহ আকার।
পুন ভৃগুরাম হস্তে ভীষণ কুঠার॥
দুর্ব্বাদলশ্যামরূপ দেখয়ে কখন।
কখন মুরলীধর নীরদ বরণ॥
এ সব দেখিয়া তাঁর সন্দেহ ঘুচিল।
ষড়্ ভূজরূপে প্রভু উঠি দাণ্ডাইল॥
শচীর দুলাল যেই সেই ননীচৌর।
অন্তরেতে কালা কানু বাহিরেতে গৌর॥
ভূমে পড়ি দণ্ডবৎ করে সার্ব্বভৌম।
বাসু ঘোষ বলে আর কেন মিছা ভ্রম॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ সুহই॥

অচৈতন্য শ্রীচৈতন্য সার্ব্বভৌম-ঘরে।
গোপীনাথ পাশে বসি পদসেবা করে॥
সার্ব্বভৌম প্রভুমুখ আছে নিরখিয়া।
ইনি কোন বস্তু কিছু না পায় ভাবিয়া॥
নরসিংহ রূপ প্রভুর দেখে একবার।
বটুক বামন রূপ দেখে পুনর্ব্বার॥
পুনঃ দেখে মত্স, কূর্ম্ম, বরাহ আকার।
পুনঃ ভৃগুরাম হস্তে ভীষণ কুঠার॥
দুর্ব্বাদল শ্যামরূপ দেখায় কখন।
কখন মুরলীধর নীরদবরণ॥
এ সব দেখিয়া তাঁর সন্দেহ ঘুচিল।
ষড়ভূজরূপে প্রভু উঠি দাঁড়াইল॥
শচীর দুলাল যেই সেই ননীচৌর।
অন্তরেতে কালা কানু বাহিরেতে গৌর॥
ভূমে পড়ি দণ্ডবত করে সার্ব্বভৌম।
বাসুঘোষ বলে আর কেন মিছা ভ্রম॥

মন্তব্য -
কৃষ্ণই যে গৌরাঙ্গ রূপে জন্ম নিয়েছেন কবির এই আন্তরিক বিশ্বাসটি, সার্বভৌম কর্তৃক
নানাবিধ অবতার দর্শনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই এখানে
বাহুল্যমাত্র। কবি কর্ণপূর রচিত চৈতন্যচরিতামৃত (১২।২৪) বৃন্দাবনদাসের চৈতন্যভাগবত,
কৃষ্ণদাসের চৈতন্যচরিতামৃত, জয়ানন্দের চৈতন্যমঙ্গল কাব্যে সার্বভৌমের দ্বারা গৌরাঙ্গের
ষড়ভুজ মূর্তি দর্শনের উল্লেখ আছে। কিন্তু মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, বামন অবতার দর্শনের
উল্লেখ নেই।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
শুনিয়া ভকতদুখ বিদরিয়া যায় বুক
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শুনিয়া ভকতদুখ                   বিদরিয়া যায় বুক
চলে গোরা সহচর সাথে।
তুরিতে গমন যার                নিমেষে যোজন পার
ভকত মিলন নদীয়াতে॥
গদাধর পড়িয়াছে                  নরহরি তার কাছে
আর কার মুখে নাহি বাণী।
দেখিয়া ভকতদশা                 কহে গদাধর ভাষা
ধরণী লোটাঞা ন্যাসী মুনি॥
হায় কি করিলাম কাজ           সন্ন্যাসে পড়ুক বাজ
মোর বড় হৃদয় পাষাণ।
নাহি যায় নীলাচলে                থাকিব ভকত মেলে
ইহা বলি হরল গেয়ান॥
সঙ্গে সহচর ছিল                     ধাই গৌরাঙ্গ নিল
রাখিলেন গদাধর কোরে।
পরশ পাইয়া দুহুঁ                    কথা কহে লহু লহু
ভাসিলেন আনন্দ পাথারে॥
শ্রীগৌরাঙ্গ মুখ দেখি                 শীতল হইল আঁখি
পরশেতে হিয়া জুড়াইল।
আর না ছাড়িয়া দিব            হিয়ার মাঝারে থোব
বাসু ঘোষের আনন্দ বাড়িল।

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৭৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন


॥ ধানশী॥

শুনিয়া ভকত দুখ                 বিদরিয়া যায় বুক
চলে গোরা সহচর সাথে।
তুরিতে গমন যার                নিমেষে যোজন পার
ভকত মিলন নদীয়াতে॥
গদাধর পড়িয়াছে                 নরহরি তার কাছে
আর কার মুখে নাহি বাণী।
দেখিয়া ভকতদশা                কহে গদাধর ভাষা
ধরণী লোটাঞা ন্যাসী মুণী॥
হায় কি করিলাম কাজ          সন্ন্যাসে পড়ুক বাজ
মোর বড় হৃদয় পাষাণ।
নাহি যায় নীলাচলে             থাকিব ভকত মেলে
ইহা বলি হরল গেয়ান॥
সঙ্গে সহচর ছিল                   ধাই গৌরাঙ্গ নিল
রাখিলেন গদাধর কোরে।
পরশ পাইয়া দুহুঁ                  কথা কহে লহু লহু
ভাসিলেন আনন্দ পাথারে॥
শ্রীগৌরাঙ্গ মুখ দেখি               শীতল হইল আঁখি
পরশেতে হিয়া জুড়াইল।
আর না ছাড়িয়া দিব           হিয়ার মাঝারে থোব
বাসু ঘোষের আনন্দ বাড়িল।

মন্তব্য -
গৌরাঙ্গ যে সন্ন্যাসের পর একবার নবদ্বীপে এসেছিলেন --- এই পদটিতেও সেই ইঙ্গিত আছে। এখানে
অন্তরঙ্গ ভক্তদের মধ্যে গৌরাঙ্গের আগমন যে কি প্রবল আবেগ সৃষ্টি করেছিল তারই চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
তবে গৌরাঙ্গ সত্যই ‘হায় কি করিলাম কাজ’ --- ইত্যাদি বলেছিলেন বলে মনে হয় না।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
অরুণ বসনে বিবিধ ভূষণে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ সালে, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, ষড়্
বিংশ ক্ষণদা - শুক্লা একাদশী, ২০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য।
॥ বালা সুহই॥

অরুণ বসনে                        বিবিধ ভূষণে
শিরেতে পাগ নটপটিয়া।
চৌদিকে হেরি                      বাহু-যুগ তুলি
নাচত হরি বল বলিয়া॥
নিতাই রঙ্গিয়া নাচে।
অরুণ-নয়নে                        ও চাঁদ বদনে
কত না মাধুরী আছে॥ ধ্রু॥
চলন সুন্দর                          মত্ত করিবর
নপূর ঝঙ্কৃত করিয়া।
ভাবে অবশ                       নাহি দিগ পাশ
গৌর বলি হুঙ্কারিয়া॥
যতেক ভকত                        ধরণী লুঠত
হেরিয়া ও চান্দ-বয়ানিয়া।
বাসুদেব ঘোষ                     এ রসে বঞ্চিত
মাগ প্রেম-রস দানিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা সুহই॥

অরুণ বসনে                        বিবিধ ভূষণে
শিরেতে পাগল লটপটিয়া।
চৌদিকে ফিরি ফিরি                বাহুযুগ তুলি
নাচত হরি হরি বলিয়া॥
নিতাই রঙ্গিয়া নাচে।
অরুণ-নয়নে                        ও চাঁদবয়ানে
কত না মাধুরী আছে॥ ধ্রু॥
চলন সুন্দর                        মত্ত করিবর
নূপুর ঝঙ্কৃত করিয়া।
ভাবে অবশ                      নাহি দিগপাশ
গৌর বলি হুহুঙ্কারিয়া॥
যতেক ভকত                     ধরণী লোটত
হেরিয়া ও চাঁদবয়ানিয়া।
বাসুদেব ঘোষ                     কাতর বঞ্চিত
মাগহুঁ প্রেমরস দানিয়া॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৫২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা সুহই॥

অরুণ বসনে                        বিবিধ ভূষণে
শিরে পাগ নটপটিয়া।
চৌদিগে হেরি                        বাহুযুগ তুলি
নাচত হরি বোল বলিয়া॥
নিতাই রঙ্গিয়া নাচে।
অরুণ নয়নে                         ও চাঁদবদনে
কত না মাধুরী আছে॥
চলন সুন্দর                          মত্ত করিবর
নূপুর ঝঙ্কৃত করিয়া।
ভাবে অবশ                        নাহি দিগ পাশ
গৌর বলি হুঙ্কারিয়া॥
যতেক ভকত                         ধরণী লুঠত
হেরি ও চাঁদ বয়ানিয়া।
বাসুদেব ঘোষ                      এ রসে বঞ্চিত
মাগে প্রেম-রস জানিয়া॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নিতাই আমার পরম দয়াল
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

নিতাই আমার পরম দয়াল।
আনিয়া প্রেমের বন্যা                জগত করিল ধন্যা
ভরিল প্রেমের নদীখাল॥ ধ্রু॥
লাগিয়া প্রেমের ঢেউ             বাকী না রহিল কেউ
পাপী তাপী চলিল ভাসিয়া।
সকল ভকত মেলি           সে প্রেমেতে করে কেলি
কেহ কেহ যায় সাঁতারিয়া॥
ডুবিল নদীয়াপুর                ডুবে প্রেমে শান্তিপুর
দোহে মিলি বাইছালি খেলায়।
তা দেখি নিতাই হাসে          সকলেই প্রেমে ভাসে
বাসু ঘোষ হাবুডুবু খায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দ
॥ সিন্ধুড়া॥

নিতাই আমার পরম দয়াল।
আনিয়া প্রেমের বন্যা                জগত করিল ধন্যা
ভরিল প্রেমেতে নদী খাল॥ ধ্রু॥
লাগিয়া প্রেমের ঢেউ              বাকী না রহিল কেউ
পাপী তাপী চলিল ভাসিয়া।
সকল ভকত মেলি            সে প্রেমেতে করে কেলি
কেহ কেহ যায় সাঁতারিয়া॥
ডুবিল নদীয়াপুর                  ডুবে প্রেমে শান্তিপুর
দোহে মিলি বাইছ খেলায়।
তা দেখি নিতাই হাসে            সকলেই প্রেমে ভাসে
বাসু ঘোষ হাবুডুবু খায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৫২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

নিতাই আমার পরম দয়াল।
আনিয়া প্রেমের বন্যা                জগত করিল ধন্যা
ভরিল প্রেমেতে নদী খাল॥ ধ্রু॥
লাগিয়া প্রেমের ঢেউ              বাকী না রহিল কেউ
পাপী তাপী চলিল ভাসিয়া।
সকল ভকত মেলি             সে প্রেমেতে করে কেলি
কেহ কেহ যায় সাঁতারিয়া॥
ডুবিল নদীয়াপুর                  ডুবে প্রেমে শান্তিপুর
দোহে মিলি বাইছালি খেলায়।
তা দেখি নিতাই হাসে            সকলেই প্রেমে ভাসে
বাসু ঘোষ হাবুডুবু খায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নব অনুরাগিণী নব অনুরাগী
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি মাত্র চার পংক্তির। তার মধ্যে শেষ দুটি পংক্তি,
হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে” পদটির শেষ দুটী পংক্তির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

॥ ভূপালী॥

নব অনুরাগিণী নব অনুরাগী।
মিলল দুহুঁ তনু গলে গল লাগি।
তহিঁ প্রিয় গদাধর             ধরিয়া করল কোর
কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া।
পুন অট্ট অট্ট হাসে           জগ-জন মন তোষে
বাসুঘোষে মরয়ে ঝুরিয়া॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৫৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

নব অনুরাগিণী নব অনুরাগী।
মিলল দুহুঁ তনু গলে গল লাগি।
তহি প্রিয় গদাধর           বসিয়া করিল কোর
কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া।
পুন অট্ট অট্ট হাসে           জগজন মন তোষে
বাসু ঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
মরমে লেগেছে গোরা না যায় পাসরা
মরমে লাগিল গোরা না যায় পাসরা
কি হেরিলাম গোরারূপ না যায় পাসরা
মরমে লাগল গোরা না যায় পাসরা
মরমে লাগল গোরা না জায় পাসরা
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ / নরহরি দাস
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৪৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নরহরি
ভণিতাতেও পাওয়া গিয়েছে। সেই পদটি সবার নীচে দেওয়া হয়েছে।

রূপানুরাগ
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ সুহই - বড় দশকুশী॥

মরমে লেগেছে গোরা না যায় পাসরা।
নয়নে অঞ্জন হৈয়া লাগিয়াছে পারা॥
জলের ভিতরে ডুবি সেথা দেখি গোরা।
ত্রিভুবনময় গোরাচাঁদ হইল পারা॥
তেঞি বলি গোরারূপ অমিয় পাথার।
ডুবিল তরুণী-মন না জানে সাঁতার॥
বাসুদেব ঘোষে কহে নব অনুরাগে।
সোণার বরণ গোরা-রূপ হিয়া মাঝে জাগে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
গৌরচন্দ্র
॥ রাগিণী শ্রীরাগমিশ্র - তাল সোমতাল॥

মরমে লাগিল গোরা না যায় পাসরা। নয়নে অঞ্জন হৈয়া
লাগিয়াছে পারা॥ জলের ভিতর ডুবি সেথা দেখি গোরা।
ত্রিভুবনময় গোরা চাঁদ হৈল পারা॥ তেঞি বলি গোরা রূপ
অমিয়া পাথার। ডুবিল তরুণী মন না জানে সাঁতার॥ বাসুদেব
ঘোষ কহে নব-অনুরাগে। সোনার বরণ গোরাচাঁদ হিয়া মাঝে
জাগে॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”. ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তদুচিত গৌরচন্দ্রিকা
॥ সুহই - বড় দশকুশী॥

মরমে লাগিল গোরা না যায় পাসরা।
নয়ানে অঞ্জন হৈয়া লাগি রৈল পারা॥
জলের ভিতরে ডুবি সেথা দেখি গোরা।
ত্রিভুবনময় গোরাচাঁদ হইল পারা॥
তেঞি বলি গোরারূপ অমিয়া পাথার।
ডুবিল তরুণীর মন না জানে সাঁতার॥
বাসুদেব ঘোষ কহে নব অনুরাগে।
সোণার বরণ গোরাচাঁদ হিয়ার মাঝে জাগে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ - বড় দশকুশি॥

মরমে লাগল গোরা না জায় পাসরা।
নয়নে অঞ্জন হইয়া লাগিয়াছে পারা॥
জলের ভিতরে ডুবি সেথা দেখি গোরা।
ত্রিভুবনময় গোরাচাঁদ হইল পারা॥
তেঞি বলি গোরারূপ অমিয়া পাথার।
ডুবিল তরুণীমন না জানে সাঁতার॥
বাসুদেব ঘোষ কহে নব অনুরাগে।
সোনার বরণ গোরারূপ হিয়ার মাঝে জাগে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য়সংস্করণ ১৯৩৪, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১৪-
পৃষ্ঠা। শ্রীখণ্ড থেকে প্রকাশিত শ্রীল রাখালানন্দ ঠাকুর শাস্ত্রীর সম্পাদনায় “শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গমাধুরী”
নামক পত্রিকায় শ্রীনরহরি সরকার ঠাকুরের, ১০৮টি পদের মধ্যে এই পদটিও
গৌরপদতরঙ্গিণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

॥ শ্রীরাগ - বড় দশকুশি॥

কি হেরিলাম গোরারূপ না যায় পাসরা।
নয়নে অঞ্জন হৈয়া লাগিয়াছে গোরা॥
জলের ভিতর যদি ডুবি, জলে দেখি গোরা।
ত্রিভুবনময় গোরাচাঁদ হৈল পারা॥
তেঁই বলি গোরারূপ অমিঞা পাথার।
ডুবিল তরুণী মন না জানে সাঁতার॥
নরহরি দাস কয় নব অনুরাগে।
সোণার বরণ গোরাচাঁদ হিয়ার মাঝে জাগে॥ @

টীকা -
@ - কোন কোন সংগ্রহে এই পদে বাসুদেব ঘোষের ভণিতা আছে।
---জগদ্বন্ধু ভদ্র / মৃণালকান্তি ঘোষ, গৌরপদতরঙ্গিণী॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
অবনত মাথে বসি, ঝামর বদনশশী
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৩৩-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাধিকার পূর্ব্বরাগ।

অবনত মাথে বসি, ঝামর বদনশশী, কহিলে না কহে কোন বাণী। কি
ভাব উদয় মনে, প্রেমধারা দুনয়নে, কপাল উপরে ধরে পানি॥ বাউল সমান
গোরা রায়। সুধামাখা হরিনাম, নাহি করে একক্ষণ, কিবা লাগি ধরণী
লোটায়॥ ধ্রু॥ কার’ কথা নাহি শুনে, সদা চায় চাঁদপানে, ঘন ঘন মুদয়ে নয়ান।
ক্ষণে করে যোড় পানি, ক্ষণে কর বুকে হানি, কিবা রূপ করয়ে ধেয়ান॥
সহচর সঙ্গ ছাড়ি, ক্ষিতি তলে রহে পড়ি, নাহি করে কীর্ত্তন বিলাস। বাসুদেব
ঘোষ কয়, বিরস বদনে রয়, নবপ্রেম কারিয়া প্রকাশ॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
খেলাইতে যাবি গোরাচাঁদ
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

খেলাইতে যাবি গোরাচাঁদ। সকল বালক সঙ্গে, সুরধুনী তীরে রঙ্গে, নাচবি
গায়বি হরিনাম॥ এ বোল শুনিয়ে রঙ্গে, সকল বালক সঙ্গে, চলি গেলা সুরধুনী-
তীরে। ধবলী শ্যামলী বলি, ঘন ঘন ফুঁকারই, ক্ষণে ক্ষণে গরজে গভীরে।
শ্রীদাম সুদাম, দাদা বলরাম, বলি ডাকে গোরারায়। গৌরাঙ্গের ভাব দেখি,
কান্দে যত পণ্ড পাখী, বাসুদেব ঘোষ রস গায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৫৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

খেলাইতে যাবি গোরাচাঁদ।
সকল বালক সঙ্গে                  সুরধুনী তীরে বত্স
নাচবি গায়বি হরিনাম॥
এ বোল শুনিয়ে রঙ্গে                সকল বালক সঙ্গে
চলি গেলা সুরধুনীতীরে।
ধবলী শ্যামলী বলি                     ঘন ঘন ফুকরই
ক্ষেণে ক্ষেণে গরজে গভীরে॥
শ্রীদাম সুদাম                              দাদা বলরাম
বলি ডাকে গোরা রায়।
গৌরাঙ্গের ভাব দেখি             কান্দে যত পণ্ডপাখী
বাসুদেব ঘোষ রস গায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গৌরাঙ্গের দশা দেখি রামানন্দ রায়
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৪৬-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরচন্দ্র

গৌরাঙ্গের দশা দেখি রামানন্দ রায়। কৃষ্ণ তনু পরিজঙ্ক লিখিয়ে দেখায়॥
সে রূপ দেখিঞে প্রভু ভাবেতে বিভোর। মূরছিত হঞে পড়ে ধরণী উপর॥
সহচরগণ হেরি চমকিত মনে। কৃষ্ণ নাম দেয় রায় গৌরাঙ্গের কাণে॥ কৃষ্ণ
কথা শুনি প্রভু চৌদিকে চায়। বাসুদেব ঘোষ আসি ধূলা ঝাড়ে
গায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর