| কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| শুনিয়া ভকতদুখ বিদরিয়া যায় বুক ভণিতা বাসু ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ শুনিয়া ভকতদুখ বিদরিয়া যায় বুক চলে গোরা সহচর সাথে। তুরিতে গমন যার নিমেষে যোজন পার ভকত মিলন নদীয়াতে॥ গদাধর পড়িয়াছে নরহরি তার কাছে আর কার মুখে নাহি বাণী। দেখিয়া ভকতদশা কহে গদাধর ভাষা ধরণী লোটাঞা ন্যাসী মুনি॥ হায় কি করিলাম কাজ সন্ন্যাসে পড়ুক বাজ মোর বড় হৃদয় পাষাণ। নাহি যায় নীলাচলে থাকিব ভকত মেলে ইহা বলি হরল গেয়ান॥ সঙ্গে সহচর ছিল ধাই গৌরাঙ্গ নিল রাখিলেন গদাধর কোরে। পরশ পাইয়া দুহুঁ কথা কহে লহু লহু ভাসিলেন আনন্দ পাথারে॥ শ্রীগৌরাঙ্গ মুখ দেখি শীতল হইল আঁখি পরশেতে হিয়া জুড়াইল। আর না ছাড়িয়া দিব হিয়ার মাঝারে থোব বাসু ঘোষের আনন্দ বাড়িল। এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন । ॥ ধানশী॥ শুনিয়া ভকত দুখ বিদরিয়া যায় বুক চলে গোরা সহচর সাথে। তুরিতে গমন যার নিমেষে যোজন পার ভকত মিলন নদীয়াতে॥ গদাধর পড়িয়াছে নরহরি তার কাছে আর কার মুখে নাহি বাণী। দেখিয়া ভকতদশা কহে গদাধর ভাষা ধরণী লোটাঞা ন্যাসী মুণী॥ হায় কি করিলাম কাজ সন্ন্যাসে পড়ুক বাজ মোর বড় হৃদয় পাষাণ। নাহি যায় নীলাচলে থাকিব ভকত মেলে ইহা বলি হরল গেয়ান॥ সঙ্গে সহচর ছিল ধাই গৌরাঙ্গ নিল রাখিলেন গদাধর কোরে। পরশ পাইয়া দুহুঁ কথা কহে লহু লহু ভাসিলেন আনন্দ পাথারে॥ শ্রীগৌরাঙ্গ মুখ দেখি শীতল হইল আঁখি পরশেতে হিয়া জুড়াইল। আর না ছাড়িয়া দিব হিয়ার মাঝারে থোব বাসু ঘোষের আনন্দ বাড়িল। মন্তব্য - গৌরাঙ্গ যে সন্ন্যাসের পর একবার নবদ্বীপে এসেছিলেন --- এই পদটিতেও সেই ইঙ্গিত আছে। এখানে অন্তরঙ্গ ভক্তদের মধ্যে গৌরাঙ্গের আগমন যে কি প্রবল আবেগ সৃষ্টি করেছিল তারই চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। তবে গৌরাঙ্গ সত্যই ‘হায় কি করিলাম কাজ’ --- ইত্যাদি বলেছিলেন বলে মনে হয় না। ---চিত্রা রায়॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অরুণ বসনে বিবিধ ভূষণে ভণিতা বাসুদেব ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ সালে, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, ষড়্ বিংশ ক্ষণদা - শুক্লা একাদশী, ২০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য। ॥ বালা সুহই॥ অরুণ বসনে বিবিধ ভূষণে শিরেতে পাগ নটপটিয়া। চৌদিকে হেরি বাহু-যুগ তুলি নাচত হরি বল বলিয়া॥ নিতাই রঙ্গিয়া নাচে। অরুণ-নয়নে ও চাঁদ বদনে কত না মাধুরী আছে॥ ধ্রু॥ চলন সুন্দর মত্ত করিবর নপূর ঝঙ্কৃত করিয়া। ভাবে অবশ নাহি দিগ পাশ গৌর বলি হুঙ্কারিয়া॥ যতেক ভকত ধরণী লুঠত হেরিয়া ও চান্দ-বয়ানিয়া। বাসুদেব ঘোষ এ রসে বঞ্চিত মাগ প্রেম-রস দানিয়া॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বালা সুহই॥ অরুণ বসনে বিবিধ ভূষণে শিরেতে পাগল লটপটিয়া। চৌদিকে ফিরি ফিরি বাহুযুগ তুলি নাচত হরি হরি বলিয়া॥ নিতাই রঙ্গিয়া নাচে। অরুণ-নয়নে ও চাঁদবয়ানে কত না মাধুরী আছে॥ ধ্রু॥ চলন সুন্দর মত্ত করিবর নূপুর ঝঙ্কৃত করিয়া। ভাবে অবশ নাহি দিগপাশ গৌর বলি হুহুঙ্কারিয়া॥ যতেক ভকত ধরণী লোটত হেরিয়া ও চাঁদবয়ানিয়া। বাসুদেব ঘোষ কাতর বঞ্চিত মাগহুঁ প্রেমরস দানিয়া॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বালা সুহই॥ অরুণ বসনে বিবিধ ভূষণে শিরে পাগ নটপটিয়া। চৌদিগে হেরি বাহুযুগ তুলি নাচত হরি বোল বলিয়া॥ নিতাই রঙ্গিয়া নাচে। অরুণ নয়নে ও চাঁদবদনে কত না মাধুরী আছে॥ চলন সুন্দর মত্ত করিবর নূপুর ঝঙ্কৃত করিয়া। ভাবে অবশ নাহি দিগ পাশ গৌর বলি হুঙ্কারিয়া॥ যতেক ভকত ধরণী লুঠত হেরি ও চাঁদ বয়ানিয়া। বাসুদেব ঘোষ এ রসে বঞ্চিত মাগে প্রেম-রস জানিয়া॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিতাই আমার পরম দয়াল ভণিতা বাসু ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ নিতাই আমার পরম দয়াল। আনিয়া প্রেমের বন্যা জগত করিল ধন্যা ভরিল প্রেমের নদীখাল॥ ধ্রু॥ লাগিয়া প্রেমের ঢেউ বাকী না রহিল কেউ পাপী তাপী চলিল ভাসিয়া। সকল ভকত মেলি সে প্রেমেতে করে কেলি কেহ কেহ যায় সাঁতারিয়া॥ ডুবিল নদীয়াপুর ডুবে প্রেমে শান্তিপুর দোহে মিলি বাইছালি খেলায়। তা দেখি নিতাই হাসে সকলেই প্রেমে ভাসে বাসু ঘোষ হাবুডুবু খায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীনিত্যানন্দ ॥ সিন্ধুড়া॥ নিতাই আমার পরম দয়াল। আনিয়া প্রেমের বন্যা জগত করিল ধন্যা ভরিল প্রেমেতে নদী খাল॥ ধ্রু॥ লাগিয়া প্রেমের ঢেউ বাকী না রহিল কেউ পাপী তাপী চলিল ভাসিয়া। সকল ভকত মেলি সে প্রেমেতে করে কেলি কেহ কেহ যায় সাঁতারিয়া॥ ডুবিল নদীয়াপুর ডুবে প্রেমে শান্তিপুর দোহে মিলি বাইছ খেলায়। তা দেখি নিতাই হাসে সকলেই প্রেমে ভাসে বাসু ঘোষ হাবুডুবু খায়॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ নিতাই আমার পরম দয়াল। আনিয়া প্রেমের বন্যা জগত করিল ধন্যা ভরিল প্রেমেতে নদী খাল॥ ধ্রু॥ লাগিয়া প্রেমের ঢেউ বাকী না রহিল কেউ পাপী তাপী চলিল ভাসিয়া। সকল ভকত মেলি সে প্রেমেতে করে কেলি কেহ কেহ যায় সাঁতারিয়া॥ ডুবিল নদীয়াপুর ডুবে প্রেমে শান্তিপুর দোহে মিলি বাইছালি খেলায়। তা দেখি নিতাই হাসে সকলেই প্রেমে ভাসে বাসু ঘোষ হাবুডুবু খায়॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নব অনুরাগিণী নব অনুরাগী ভণিতা বাসু ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি মাত্র চার পংক্তির। তার মধ্যে শেষ দুটি পংক্তি, “হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে” পদটির শেষ দুটী পংক্তির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। ॥ ভূপালী॥ নব অনুরাগিণী নব অনুরাগী। মিলল দুহুঁ তনু গলে গল লাগি। তহিঁ প্রিয় গদাধর ধরিয়া করল কোর কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া। পুন অট্ট অট্ট হাসে জগ-জন মন তোষে বাসুঘোষে মরয়ে ঝুরিয়া॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভূপালী॥ নব অনুরাগিণী নব অনুরাগী। মিলল দুহুঁ তনু গলে গল লাগি। তহি প্রিয় গদাধর বসিয়া করিল কোর কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া। পুন অট্ট অট্ট হাসে জগজন মন তোষে বাসু ঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| খেলাইতে যাবি গোরাচাঁদ ভণিতা বাসুদেব ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। খেলাইতে যাবি গোরাচাঁদ। সকল বালক সঙ্গে, সুরধুনী তীরে রঙ্গে, নাচবি গায়বি হরিনাম॥ এ বোল শুনিয়ে রঙ্গে, সকল বালক সঙ্গে, চলি গেলা সুরধুনী- তীরে। ধবলী শ্যামলী বলি, ঘন ঘন ফুঁকারই, ক্ষণে ক্ষণে গরজে গভীরে। শ্রীদাম সুদাম, দাদা বলরাম, বলি ডাকে গোরারায়। গৌরাঙ্গের ভাব দেখি, কান্দে যত পণ্ড পাখী, বাসুদেব ঘোষ রস গায়॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। খেলাইতে যাবি গোরাচাঁদ। সকল বালক সঙ্গে সুরধুনী তীরে বত্স নাচবি গায়বি হরিনাম॥ এ বোল শুনিয়ে রঙ্গে সকল বালক সঙ্গে চলি গেলা সুরধুনীতীরে। ধবলী শ্যামলী বলি ঘন ঘন ফুকরই ক্ষেণে ক্ষেণে গরজে গভীরে॥ শ্রীদাম সুদাম দাদা বলরাম বলি ডাকে গোরা রায়। গৌরাঙ্গের ভাব দেখি কান্দে যত পণ্ডপাখী বাসুদেব ঘোষ রস গায়॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |