কবি তরুণ সান্যালের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
তাপসী মালিকের জন্য ব্যালাড
               তরুণ সান্যাল

এইখানে ছিল সরস্বতীর স্রোত দূর যাত্রায়
জাহাজ ভাসিয়ে পৌঁছে যেতাম বালি না সুমাত্রায়,
             ডাকাবুকো যুবা বিজয় সিংহ
             যেন মৈনাক পাহাড় শৃঙ্গ,
সঙ্গী সঙ্গে ছাড়িয়ে বঙ্গ সিংহলে বাঁধে ঘর
আজকে সিঙ্গুর, যা ছিল দেখছো প্রত্ন-সিংহগড় |

টাটাদের নিয়ে কথা কাটাকাটি, পারস্য থেকে ওরা,
গুজরাটে কবে ডেরা বেঁধেছিল আত্মরক্ষা করায়,
             বলেছিল তারা ভারতে মাটিতে
             গড় গড়বে না বিরোধ ঘাঁটিতে,
পারসিকদের জনবসতিও হবে শান্তিতে গড়া,
আজ দেখো কথা খেলাপি সিঙ্গুরে ধরাকে ভাবছে সরা |
             আর কালিমাটি আদিবাসী গ্রাম
             ভেঙে দিয়ে লেখে টাটাদের নাম,
লোহার আকর কয়লা বাখর জামসেদজীর ধ্বজা
সাপ আড়কাঠি লুঠে নেয় মাটি কে আর তখন ওঝা |

রাঢ় বঙ্গের বুক বরাবর সিংগগড়ের মাটি,
বাঙালির বাসই গড়তে চলেছে পুঁজিদম্ভের ঘাঁটি |
             'কমুনিস্ট-খুনি' সালেমের সাথে
             দেশী বিভিষণ হাত রেখে হাতে
ভাগচাষি মেরে জমির মালিক চষা মাটি করে চাটি,
ত্রিশ তঙ্কায় মা মাটি বিকায় পোড়ায় ধানের আঁটি |
             ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
             পঞ্চাশে গেল জমি গা-গতর
তবু তে-ভাগার দাবীতে মরেছি ধরেছি শক্ত লাঠি
গ্রাম বধুরাও ধরেছে কাটারি বটি বল্লম ঝাঁটি |

লাল নিশানের ভক্ত এখন টাটাদের দাস দাসী
ভুলেছিতো রায়বেঁশে নাচ হয়ে বাঁশ-ডলা বুক চাষি,
              জোতদার নয় হচ্ছে গাঁ ছাড়া
              পাট্টা বিকোয় এপাড়া ও পাড়া
ভুখা ভাগচাষি বা খাই খালাসি ক্লিস্ট সিঙ্গুরবাসী
ঢোল মহরতে শনির মদতে নাচন সর্বনাশীর |
              পোড়াচ্ছে বাড়ি ধানের পালই
              হাজার পুলিশ খুনি হৈ চৈ
বুড়োবুড়ি শিশু নারী মরে ঐ মুখে তথাগত হাসি
বন্দি সিঙ্গুর বুঝছে শিখছে রাষ্ট্রই সন্ত্রাসী |

মেধা তো ছিলেন গুজরাটে আদিবাসীর আশার বাতি
মারাঠা ভঊবনে তুলা চাষিদের বামশক্তির সাথী,
              তাঁর গতিরোধ ঘটেছে সিঙ্গুরে
              মহাশ্বেতাকে ঠেলে দেয় দূরে,
একশো চুয়াল্লিশের বিষের খরিশের মাতামাতি,
অরুন্ধতীর দিল্লী-ধর্না কাটায় ভয়ের রাতি |

নারীশক্তির এ উজ্জীবন মোদীর গদির সখা
গুজরাট করে সিঙ্গুর, উরাকও বুশ হয়ে একরোখা,
               তাপসী মালিক নমুনা নারীর
               মোদীরা সিঙ্গুরে পোড়াচ্ছে বাড়ি
ওয়াশিংটন সেবক দেখছে বাড়াভাতে পড়ে পোকা
পুঁজির ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর চলে মাঠময় তাল ঠোকা |

তরুণ-তরুণী এখনো অন্ধ ধন্ধে রয়েছো চুপ?
ওরা তো ওজরে সরায় নজর পেতেছে খুনের যূপ |
               তোমরা গড়বে নতুন ভারত
               ওরা বেইমান আটকাবে পথ
ভগত সিং-এর শতবর্ষেও ওরা ধরে বহুরূপ,
বিশ্বায়নের বাঁধনে সিঙ্গুরও হবে না অন্ধকূপ |

বাজারে ডঙ্কা কে করে শঙ্কা মিছিল কম্বু শাঁখে
কোটি কোটি হাত বিশ্বের সাথ নতুন জমানা ডাকে
               বুলেটে লাথিতে কে জিতিবে কবে
               জানি মানুষেরই জয় হতে হবে,
দ্যাখো ইতিহাস হতেছে প্রকাশ সিঙ্গুরে পথের বাঁকে
বাম মুখোশের গোপনে বিশ্বপুঁজির নাকিব হাঁকে |

          **************                    
.                                                                           
উপরে
.                                              সিঙ্গুরের কবিতার সূচিতে . . .
১।     তাপসী মালিকের জন্য ব্যালাড  (সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা)   
২।     
পাপকথন  (সিঙ্গুর নন্গীগ্রামের কবিতা)    

  
মিলনসাগর
*
পাপকথন                 
তরুণ সান্যাল

চৈত্রের পূর্ণিমা কেমন দরিয়ায় মাতন নাচায়
একটি ঢেউ উঠে এল তার ঘাড়ে বাইসন মহিষ
দৌড়ে আসছে তীর ধরতে, জ্যোত্স্না হয়তো বাড়বাগ্নি চায়
দীর্ঘ একটি সাদা হলকা আর তার ফিসফাস শিস
যা রে নন্দীগ্রাম ঐ হলদী নাচায় রক্ত ও লবণ,
ক্ষার শুষে নিচ্ছে ডাঙা মানুষের হাড় রসায়নে---
দূর এই শহরতলিও গলা শুকোয়, বলি যা "ওরে মন্ পবন
ঐ ফেনায় আয়না করে মুখ দেখিস অয়নে শয়নে |"
এখন বাগুইআটি বাসিন্দা আমার মধ্য রাতে
ঢেউ খেলে না, কলকাতার ট্র্যাফিকের অসহ্য গোলামি
কানে আসছে দূর থেকে বাঁশির হঙ্কের হল্লা তাতে
সুনামি সমুদ্রে ঘটে, এখানে দক্ষিণী হাওয়া দামি |
সমুদ্র ভরাট হয়ে পূর্ণিমায় টানা টান জোয়ার
এখানে সে জ্যোত্স্না তবু রূপকথার আশ্চর্য ভূবন
ক-দশক পরে এই মৃত্জগৎ সমুদ্র হওয়ার
খবর নিজেই হবে, মেরুদেশে বরফ লবণ
মেশামেশি হয়ে হবে আকাশের ঘেমে ওঠা তাপে
জ্যোত্স্না ও পূর্ণিমা থাকবে, মানুষই, থাকবে না তার তাপে |



        **************                    
.                                                                           
উপরে
.                                             সিঙ্গুরের কবিতার সূচিতে . . .
*