আমরা  মিলনসাগরে  কবি নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রর কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা। এই পাতা, সেলুলার জেলে দুঃসহ বন্দী জীবন কাটানো স্বাধীনতা সংগ্রামী কবি নগেন্দ্রনাথ
চন্দ্রর প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধার্ঘ্য।



উত্স -   
  • বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, "দ্বীপান্তরের কথা", ১৯২০।   
  • উল্লাসকর দত্ত, "আমার কারা জীবনী", ১৯৩৭।    
  • হেমচন্দ্র কানুনগো, "বাংলায় বিপ্লব প্রচেষ্টা", ১৯২৮।
  • মদনমোহন ভৌমিক, আন্দামানে দশ বছর, ১৯৫৮।
  • যোগেশচন্দ্র বাগল, "মুক্তির সন্ধানে ভারত", ১৯৪০।
  • উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, "নির্বাসিতের আত্মকথা", ১৯২১।
  • উমা মুখোপাধ্যায় ও হরিদাস মুখোপাধ্যায়, "শ্রীঅরবিন্দ ও বাংলায় বিপ্লব", ১৯৭২।
  • তারিণীশঙ্কর চক্রবর্ত্তী, “বিপ্লবী বাংলা (১৭৫৭-১৯১২)”
  • নলিনীকিশোর গুহ, “বাংলায় বিপ্লববাদ", ১৯২৯।
  • সুপ্রকাশ রায়, "ভারতের বৈপ্লবিক সংগ্রামের ইতিহাস", ১৯৪৯।  
  • সৌমেন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়, "স্বদেশী আন্দোলন ও বাংলা সাহিত্য", ১৯৬০।
  • উমা মুখোপাধ্যায়, "স্বদেশী আন্দোলন ও বাংলার নবযুগ", ১৯৬১।
  • চিনময় চৌধুরী, "রাজরোষে আদালতের আঙিনায়", ১৯৬২।  
  • নলিনী দাস, "স্বাধীনতা সংগ্রামে দ্বীপান্তরের বন্দী", ১৯৭১।
  • Cellular Jail - Andaman & Nicobar Islands.        
  • Nangla Political Dacoity Case, National Archives, www.abhilekh-patal.in     
  • সেলুলার জেলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নামের ফলকের ছবি  www.cabaltimes.com
  • সেলুলার জেলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নামের সূচি   www.literacyparadise.com


কবি নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন



আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১৫.২.২০২১                                                            ^^ উপরে ফেরত   
...
কবি নগেন্দ্রনাথ চন্দ্র (চন্দ) - ছিলেন ভারতের
স্বাধীনতা  সংগ্রামের  অগ্নিযুগের  মানুষ, যিনি  ১৯১০
সাল  থেকে  ন্যাংলা  রাজনৈতিক  ডাকাতি বা  খুলনা
ষড়যন্ত্র মামলায় ৭বছরের জন্য দ্বীপান্তরে
কালাপানি-তে
অর্থাৎ আন্দামানের সেলুলার জেলে কারাবরণ করেন।
খুলনা ষড়যন্ত্র মামলার  রায়  থেকে  জানা  যাচ্ছে  যে  
নগেন্দ্রনাথ চন্দ্র, নগেন্দ্র নাথ সরকার ও কালিদাস ঘোষ
ছিলেন খুলনার শোদিপুর
(Shodipure)  গ্রামের বাসিন্দা।
তাঁর লেখা “এস মা পল্লীরাণী” কবিতাটি  
কবি বিধুভূষণ বসু  সম্পাদিত  খুলনার বাগেরহাট থেকে প্রকাশিত,
“পল্লীচিত্র” পত্রিকার  আষাঢ়  ১৩১৬-র  সংখ্যায়  (জুন ১৯০৯)  প্রকাশিত হয়।  আন্দামানের  পোর্টব্লেয়ারে  
অবস্থিত সেলুলার জেলে শ্বেতপাথরের ৪নং  ফলকে  ২৬ নম্বরে  কবির  উপাধি ইংরেজীতে “চন্দ” দেওয়া
রয়েছে। পাশে দেওয়া ছবিতে দ্রষ্টব্য।

তাঁর ব্যক্তিগত জীবন  সম্বন্ধে আমাদের  কাছে বিশেষ  কোন তথ্য নেই।  সেলুলার জেলে বন্দী থাকার কালে
তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা এমনকি কথাও বলতে পারতেন না। পরিচিতদের সঙ্গে দুচারটে
কথা হলেও, অপরিচিত  অন্যান্য  বন্দীদের  সঙ্গে  তাঁদের  প্রায়  কোনই  যোগাযোগ হতো না। সম্ভবত এই
কারনেই একাধিক সেলুলার  জেলে  বন্দী  স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে বা সেলুলার জীবনের
স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থে আমরা  আলিপুর  ষড়যন্ত্র  মামলার কয়েকজন বন্দীর উল্লেখ পেলেও, কবি নগেন্দ্রনাথ
চন্দ্রের কোনও উল্লেখ পাই না।

আমরা জানিনা কবি নগেন্দ্রনাথ চন্দ্র নিজে কোনও আত্মজীবনীমূলক বা অন্য কোনও গ্রন্থ লিখেছিলেন কি না।
কেবল তাঁর ৫টি কবিতা বিভিন্ন সেকালের পত্র-পত্রিকায়  আমরা খুঁজে পেয়েছি।  যদি কেউ আমাদের কবির
একটি ছবি এবং  তাঁর  সম্বন্ধে  আরও  তথ্য  দিয়ে  সাহায্য  করেন  তাহলে আমরা তাঁর কাছে চিরকৃতজ্ঞ
থাকবো এবং এই পাতায় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবো
।  

মামলায় উল্লিখিত  কবির  নিবাস  অধুনা  স্বাধীন  বাংলাদেশের, খুলনা জেলার, শোদিপুর
(Shodipur) গ্রামটি
আমরা গুগল ম্যাপে খুজে পাইনি। ইংরেজদের দলিলে গ্রামের নামের বানানটি ভুলও থেকে থাকতে পারে।  
বাংলাদেশের  কোনো  পাঠক  যদি  এই  গ্রামটির  আসল  বা সঠিক নাম ও বর্তমান অবস্থা অর্থাৎ  গ্রামটি
এখনও  আছে  নাকি  নদী  গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে, এই সব সম্বন্ধে তথ্য জানান, তাহলে আমরা তাঁর কাছেও
চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলাই মূখ্যত সর্বজনের মধ্যে  প্রচার  লাভ  করে,  মূখ্যত মামলার সঙ্গে জড়িত বিখ্যাত
ব্যক্তিত্বদের জন্যই। প্রায় সমকালেই ঘটে যাওয়া,  খুলনা  ষড়যন্ত্র  মামলা  বা  নাংলা  রাজনৈতিক ডাকাতি
মামলা বা আরো যে সব বিপ্লবীদের দ্বারা সংঘটিত, ব্রিটিশের  বিরুদ্ধে  সশস্ত্র  আন্দোলনের  মামলার কথা
বিশেষজ্ঞ বাদে, সাধারণ বাঙালীরা তেমনভাবে জানিই না।  এই  মামলা  সম্বন্ধেও  তেমন  বিস্তারিত কোনো
লেখা খুঁজে পাইনি এখনো। তাই যেখানে যা পেয়েছি, বিশেষতঃ যেখানে কবির নামের উল্লেখ রয়েছে, এখানে
তা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছি

কবি নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রর বিরুদ্ধে “পল্লীচিত্র” পত্রিকার মামলা   
কবি নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রর দ্বীপান্তর খুলনা ষড়যন্ত্র মামলায়   
কবির সঙ্গে সেলুলার জেলে বন্দী অন্যান্য স্বাধিনতা সংগ্রামী  
ন্যাংলা ষড়যন্ত্র মামলা সম্বন্ধে তারিণীশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর উদ্ধৃতি  
ন্যাংলা ষড়যন্ত্র মামলা সম্বন্ধে নলিনীকিশোর গুহর উদ্ধৃতি    
কবি নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রর কবিতা    
কবি নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রর বিরুদ্ধে “পল্লীচিত্র” পত্রিকার মামলা -                      পাতার উপরে . . .   
কবির  লেখা “এস মা পল্লীরাণী”  কবিতাটি  ছাপার  জন্য  ব্রিটিশ  সকরার  খুলনা জেলার বাগেরহাট থেকে
প্রকাশিত, “পল্লীচিত্র” পত্রিকার সম্পাদক
কবি বিধুভূষণ বসু, প্রেসের মালিক অবনীমোহন দেব এবং রচয়িতা
কবি নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রর  বিরুদ্ধে  রাজদ্রোহের মামলা করে। সেই মামলার সরকারী নথির
PDF পড়তে এখানে
ক্লিক করুন . . .

তা থেকে যা জানা যায় তা মোটামুটি এই যে,  মামলায় খুলনার ম্যাজিস্ট্রেট, প্রেসটি বাজেয়াপ্ত করার এবং
সম্পাদক
কবি বিধুভূষণ বসুর ২ বছর এবং প্রেসের  মালিক  অবনীমোহন দেবের  ২ মাস  হাজতবাসের
সাজা  শোনান। ১৯০৯ সালের  ডিসেম্বরে,  ছোটলাট,  মার্সি পিটিশন নামঞ্জুর করলে, মামলা  কলকাতা
হাইকোর্টের বিচারপতি  হ্যারিংটন  
(Justice Harington)  ও  বিচারপতি  টিউনন (Justice Teunon) এর
এজলাসে ওঠে। জাসটিস হ্যারিংটন রায় দেন যে নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করা হোক। জাস্টিস টিউনন
রায় দেন যে নিম্ন আদালতের রায় অপরিবর্তিত  থাকে।  তাই  মামলা  তোলা  হয়  বিচারপতি  মুখার্জীর
(Justice Mukerjee) এজলাসে,  যিনি  জাসটিস হ্যারিংটনের  সঙ্গে  সহমত পোষণ করেন। তাই হাইকোর্টের
এই রায়ে “পল্লীচিত্র” পত্রিকার সম্পাদক
কবি বিধুভূষণ বসু,  প্রেসের  মালিক  অবনীমোহন দেব এবং কবি  
নগেন্দ্রনাথ  চন্দ্র  ছাড়া পেয়ে যান।  কিন্তু কবি তখন  বিচারাধীন ন্যাংলা রাজনৈতিক ডাকাতি মামলায়।  
পরে সেই মামলায় তাঁর  ৭ বছর সাজা হয় এবং তাঁকে কালাপানি অর্থাৎ আন্দামানের সেলুলার জেলে
দ্বীপান্তরে পাঠানো হয়। তিনি সেখানে ১৯১০ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত বন্দী জীবন কাটিয়েছিলেন। পল্লীচিত্র
মামলায় এঁদের আইনজ্ঞ ছিলেন বাবু নরেন্দ্রকুমার বসু এবং বাবু শচীন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ।

“খুলনা ষড়যন্ত্র মামলা”
(Khulna Conspiracy Case) বা “ন্যাংলা ডাকাতী মামলার” রায় থেকে জানা যাচ্ছে যে
নগেন্দ্রনাখ চন্দ্র, নগেন্দ্রনাথ সরকার ও কালিদাস ঘোষ ছিলেন শোদিপুর
(Shodipure) গ্রামের বাসিন্দা। এই
রায়েও  বলা  হয়েছে  যে  নগেন্দ্রনাথ চন্দ্র কোন একটি পত্রিকায় রাজ-বিরোধী লেখার
(Seditious literature)
লেখক।  এই  রাজ-বিরোধী লেখাটিই,  নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রের “পল্লীচিত্র” পত্রিকায় তাঁর লেখা “এস মা পল্লীরাণী”
কবিতাটি যা ছাপার জন্য মামলা চলেছিল, যার সম্পাদক ছিলেন
কবি বিধুভূষণ বসু
*
কবি নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রর দ্বীপান্তর খুলনা ষড়যন্ত্র মামলায় -                          পাতার উপরে . . .   
দেশকে ব্রিটিশ শাসনের থেকে  মুক্ত  করতে  অর্থের  জন্য আন্দোলনকারীরা ডাকাতীর আশ্রয় নিয়েছিলেন।
পুলিশের খাতায় চোখ বোলালেই দেখা যায় যে ভদ্র সমাজের বা ভদ্রলোকেরা বা ভদ্র পরিবারের ছেলেরা এই
ডাকাতী করতেন।

তেমনই একটি ছিল ১৯০৯ সালের ১৬ই অগাস্ট  তারিখের  রাতে  সংঘটিত  ন্যাংলা রাজনৈতিক ডাকাতী।
পাঁচজনের একটি দল, খুলনা জেলার ন্যাংলা গ্রামের মথুরানাথ পোদ্দারের বাড়ীতে ডাকাতী ক’রে ১০৭১ টাকা
মূল্যের অর্থ ও সামগ্রী লুঠ করে নিয়ে যায়, রিভলভার দেখিয়ে।  কেস নথি থেকে জানা যায় যে, তাঁরা নাকি
হাতে মশাল জ্বালিয়ে এসেছিলেন এবং বাইরে “জয় কালী” এবং “আল্লাহ আল্লাহ” স্লোগান দিচ্ছিলেন।

এই  ন্যাংলা  রাজনৈতিক  ডাকাতী  বা  খুলনা ষড়যন্ত্র মামলা  কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হ্যারিংটন
(Justice Harington),  বিচারপতি হল্মউড (Justice Holmwood) এবং  বিচারপতি দাস-এর  (Justice Dass)
১৯১০ সালের ৩০শে অগাস্ট এর রায়ে অবনীভূষণ চক্রবর্তী, বিধুভূষণ দে, কালিদাস ঘোষ, নগেন্দ্রনাথ চন্দ্র
(এই পাতার কবি), শচীন্দ্রনাথ মিত্র ও অশ্বিনীকুমার বসুর ৭ বছরের দ্বীপান্তরের কারাবাসের সাজা এবং
সুধীরচন্দ্র দে, নগেন্দ্রনাথ সরকার ও প্রিয়নাথ ওরফে কিনু পাই এর ৫ বছরের দ্বীপান্তরের কারাবাসের সাজা
এবং ব্রজেন্দ্রনাথ দত্ত ও সতীশচন্দ্র চ্যাটার্জীর ৩ বছরের দ্বীপান্তরের কারাবাসের সাজা ঘোষণা করা হয়।
সেই মামলার দলিল-দস্তাবেজ (কিছু পাতা নেই)
PDF পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .

আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলাই মূখ্যত সর্বজনের মধ্যে প্রচার  লাভ  করে,  মূখ্যত  মামলার সঙ্গে জড়িত বিখ্যাত
ব্যক্তিত্বদের জন্যই। প্রায় সমকালেই ঘটে  যাওয়া,  খুলনা  ষড়যন্ত্র  মামলা  বা নাংলা রাজনৈতিক  ডাকাতি
মামলা বা আরো যে সব বিপ্লবীদের দ্বারা সংঘটিত, ব্রিটিশের বিরুদ্ধে  সশস্ত্র  আন্দোলনের  মামলার  কথা
বিশেষজ্ঞ বাদে, সাধারণ বাঙালীরা তেমনভাবে জানিই না।  এই  মামলা  সম্বন্ধেও  তেমন বিস্তারিত  কোনো
লেখা খুঁজে পাইনি এখনো। তাই যেখানে যা পেয়েছি, বিশেষতঃ যেখানে কবির নামের উল্লেখ রয়েছে, এখানে
তা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছি

*
ন্যাংলা ষড়যন্ত্র মামলা সম্বন্ধে তারিণীশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর উদ্ধৃতি -                    পাতার উপরে . . .   
তারিণীশঙ্কর চক্রবর্ত্তী তাঁর “বিপ্লবী বাংলা (১৭৫৭-১৯১২)” গ্রন্থের “ষড়যন্ত্র মামলা”, অধ্যায়ের ২৩৪-পৃষ্ঠায়
ন্যাংলা ডাকাতী মামলা সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

হাওড়া ষড়যন্ত্র মামলার প্রায় সমসাময়িক সময়ে ন্যাংলা ষড়যন্ত্র মামলার উদ্ভব হয়। ১৯০৯ খৃষ্টাব্দের ১৬ই
আগষ্ট ন্যাংলাতে (খুলনা জেলা) মথুর পোদ্দারের বাড়ীতে ডাকাইতি সম্পর্কে কয়েকটি স্থানে খানাতল্লাসী হয়।
তন্মধ্যে ১৬৫ নং আহিরীটোলা স্ট্রীট এবং ১৫ নং জোড়াবাগান স্ট্রীটের গৃহ তল্লাসী করিয়া বিধুভূষণ দে,
অশ্বিনীকুমার বসু, ব্রজেন্দ্রকুমার দে এবং কালিদাস ঘোষকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তল্লাসী করিয়া এই সকল
গৃহ হইতে বিপ্লবাত্মক প্রচারপত্র ও পুস্তিকা পায়---তন্মধ্যে “মুক্তি কোন পথে” গ্রন্থমালার পুস্তকগুলিও তাহারা
হস্তগত করে। রাজদ্রোহের গন্ধ পাইয়া পুলিশ ন্যাংলা ষড়যন্ত্র মামলা খাড়া করিয়া অবনীভূষণ চক্রবর্তী,
নগেন্দ্রনাথ সরকার, নগেন্দ্রনাথ চন্দ, মোহিনী মোহন মিত্র, প্রিয়নাথ গুঁই, সুধীরকুমার দে, কানাইহলাল চক্রবর্ত্তী,
মন্মথনাথ মিত্র প্রভৃতি মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট তিনজনকে মুক্তি দেন এবং
অবশিষ্ট ১৩ জনের মামলা তিনজন জজ লইয়া গঠিত হাইকোটের স্পেশাল বেঞ্চে ১৯১০ খৃষ্টাব্দের ২রা জুন
প্রেরণ করেন। ঐ বৎসর ১০ই আগষ্ট মামলার রায় বাহির হয়। বিচারে সম্রাটের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ষড়যন্ত্রের
অপরাধে ১১ জনের শাস্তি হয় এবং দুইজন মুক্তিলাভ করে। শাস্তিপ্রাপ্ত বন্দিগণের মধ্যে অবনী চক্রবর্ত্তী,
শচীন মিত্র, অশ্বিনী বসু, বিধুভূষণ দে, নগেন্দ্র চন্দ ও কালীদাস ঘোষের প্রতি সাত বৎসর করিয়া দ্বীপান্তরের
আদেশ হুয়। অবশিষ্ট কয়জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়
।”

[ “মুক্তি কোন্ পথে” গ্রন্থটি অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য্যর লেখা যা ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল।]
*
ন্যাংলা ষড়যন্ত্র মামলা সম্বন্ধে নলিনীকিশোর গুহর উদ্ধৃতি -                      পাতার উপরে . . .   
নলিনীকিশোর গুহ তাঁর ১৯২৯ সালে প্রকাশিত “বাংলায় বিপ্লববাদ" গ্রন্থের, ষড়যন্ত্র মামলা অধ্যায়ের ২১৪-
পৃষ্ঠায় ন্যাংলার ঘটনা নিয়ে লিখেছেন . . .

১৬ই আগষ্ট খুলনা জেলার ন্যাংলায় ১০৭০ টাকার ডাকাতি হয়। মামলায় একজনের সাত বত্সর সাজা হয়।
১৬ই হইতে ৩০শে আগষ্ট পর্য্যন্ত ন্যাংলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়। ছয় জনের সাত বত্সরের দ্বীপান্তর বাস হয়।
তিন জনের পাঁচ বত্সর এবং দুই জনের তিন বত্সরের সাজা হয়
।”

পুনরায়  ঐ  গ্রন্থের  পরিশিষ্টে,  ষড়যন্ত্র মামলার  অধ্যায়ে  “খুলনা ষড়যন্ত্র মামলা” সম্বন্ধে ২০২-পৃষ্ঠায় তিনি
লিখেছেন . . .

খুলনা জেলায় ন্যাংলা ডাকাতির পরে পুলিশের তদন্তের ফলে এই ষড়যন্ত্র প্রকাশ হইয়া পড়ে। বিধুভূষণ দে
প্রভৃতি ধৃত হয়।  এগারজনের হাইকোর্টের বিচারে রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধোদ্যমের অপরাধে সাজা হয়।  এই
মামলা  সম্পর্কে  জোরাবাগান  ও  আহেরিটোলায়  খানাতল্লাস  করিয়া  “মুক্তি কোন্ পথে”  প্রভৃতি  বহু
রাজদ্রোহমূলক কাগজ পত্র পুলিশ হস্তগত করে। অস্ত্র শস্ত্র আমদানীর কথাও প্রকাশ হয়
।”

[ “মুক্তি কোন্ পথে” গ্রন্থটি অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য্যর লেখা যা ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল।]
*
কবির সঙ্গে সেলুলার জেলে বন্দী অন্যান্য স্বাধিনতা সংগ্রামী -                   পাতার উপরে . . .   
কবি যে সময়কালে বন্দী ছিলেন সেলুলার জেলে, সেই সময়ে অন্যান্য যাঁরা সেই জেলে বন্দী ছিলেন, তাঁদের
মধ্যে রয়েছেন . . .

অবনীভূষণ  চক্রবর্তী,  অবিনাশ  ভট্টাচার্য্য,  অমৃতলাল  হাজরা,  আশুতোষ  লাহিড়ী,  অশ্বিনীকুমার  বসু,
কবি বারীন্দ্রকুমার ঘোষ,  ভূপেন্দ্র নাথ ঘোষ, বিভূতিভূষণ সরকার, বিধুভূষণ দে, বিধুভূষণ সরকার, কবি
বীরেন সেন, ব্রজেন্দ্রনাথ দত্ত, গোবিন্দচন্দ্র কর, গোপেন্দ্রলাল রায়, হরেন্দ্র ভট্টাচার্য্য, হেমচন্দ্র দাস (কানুনগো),
হৃষিকেশ কাঞ্জিলাল, ইন্দুভূষণ রায়, যতীন্দ্র নাথ নন্দী, জ্যোতিষচন্দ্র পাল, কালিদাস ঘোষ, খগেন্দ্রনাথ চৌধুরী
ওরফে সুরেশ চন্দ্র,  কিনুরাম পাই  ওরফে  প্রিয়নাথ,  ক্ষীতিশচন্দ্র সান্যাল,  মদনমোহন  ভৌমিক,  
কবি
নগেন্দ্রনাথ চন্দ (আমাদের  এই  পাতার কবি, কবির উপাধি সেলুলার জেলের ৪ নং ফলকে “চন্দ্র”-এর বদলে
“চন্দ” দেওয়া রয়েছে), নগেন্দ্রনাথ সরকার, ননীগোপাল মুখার্জী,  নিখিলরঞ্জন গুহ রায় (২য়বার ১৯৩২-৩৮),
নিকুঞ্জবিহারী পাল,  নিরাপদ রায়,  ফণীভূষণ রায়,  পুলিনবিহারী দাস,  শচীন্দ্রনাথ দত্ত,  শচীন্দ্রলাল (নাথ)
মিত্র, সানুকুল চ্যাটার্জী,  সতীশচন্দ্র চ্যাটার্জী (ভট্টাচার্য্য), সত্যরঞ্জন বসু, সুধীরচন্দ্র দে,  সুধীরকুমার সরকার,  
সুরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, সুরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, ত্রৈলোক্য চক্রবর্তী, উল্লাস্কর দত্ত, উপেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী প্রমুখরা।

আমরা নামগুলি যেভাবে  সেলুলার জেলের  ফলকে  দেওয়া  রয়েছে, ঠিক সেইভাবেই তুলে দিলাম, অর্থাৎ
ইংরেজী  বর্ণক্রমে।  সেলুলার  জেলে  বন্দী  সকল   স্বাধীনতা  সংগ্রামীদের  নামের  ফলকগুলি  দেখতে  
কাবালটাইমস ওয়েবসাইটের
এই লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন . . .

আন্দামানের পোর্টব্লেয়ার শহরে অবস্থিত সেলুলার জেলে, বাংলা থেকে মোট ৩৯০ জন (একটি
RTI থেকে
জানা যায় এই সংখ্যা ৩৯৮) সাজাপ্রাপ্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যে আমরা এই কবির নাম পাই। ১৯০৯-
১৯২১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যে (সেলুলার জেলে কবির নামাঙ্কিত শ্বেতপাথরের ফলকটির ছবি
দেখুন)। কবির নাম এই ৪নং শ্বেতপাথরের ফলকের শেষ নাম। পাশে দেওয়া ছবিতে ক্লিক করলে তা বড়
হয়ে ফুটে উঠবে।  সেই ছবির নীচে কবির নাম দেখতে পাবেন। সম্পূর্ণ তালিকা দেখতে লিটারেসি-
প্যারাডাইস ওয়েবসাইটের
এই লিংকটিতে ক্লিক করুন . . .
*
কবি নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রর কবিতা -                                                         পাতার উপরে . . .   
আমরা আমাদের সংগ্রহে,  “মালঞ্চ” পত্রিকার  মাঘ ১৩২৪ (জানুয়ারী ১৯১৮), শ্রাবণ ১৩২৫ (জুলাই ১৯১৮),
আশ্বিন ১৩২৫ (সেপ্টেম্বর ১৯১৮) এবং “প্রবাসী” পত্রিকার মাঘ ১৩২৪ (জানুয়ারী ১৯১৮) সংখ্যায়  একজন
কবি নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রের ছোট-বড় মিলিয়ে,  পাঁচটি কবিতা  প্রকাশিত পাই এবং  এখানে কবির পাতায় তা
তুলে দিয়েছি।

অর্থাৎ এই কবি এবং সেলুলার জেলে  সাজাপ্রাপ্ত  স্বাধীনতা সংগ্রামী নগেন্দ্রনাথ চন্দ্র যদি একই  ব্যক্তি হন,
তাহলে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামী  নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রর  কবিতার পাতাই করতে সমর্থ হয়েছি। আমাদের দৃঢ়
বিশ্বাস যে এঁরা এক ও অভিন্ন ব্যক্তি। যে কারণবশত আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি তা হলো এই যে,
তাঁর কবিতাগুলি মালঞ্চ ও প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল ১৯১৮ সালের জানুয়ারী মাস থেকে। খুলনা
ষড়যন্ত্র মামলার নথিপত্র থেকে আমরা জানতে পারছি যে ১৯১০ সালের ১০ই অগাস্ট হাইকোর্টের রায়ে কবি
নগেন্দ্রনাথ চন্দ্রর ৭ বছরের দ্বীপান্তরের সাজা হয়।  সুতরাং তাঁর সাজা ১৯১৭ সালের অগাস্টে শেষ হবার
কথা। সেই ক্ষেত্রে ১৯১৮ সালের মধ্যে ছাড়া পেয়ে  ফিরে এসে,  তাঁর পক্ষে বিভিন্ন  পত্রিকায় কবিতা লিখে
পাঠানো নিতান্তই সম্ভব ছিলো।  তিনি এই সময়কালে  তাঁর  সেলুলার জেলের সাজা খেটে বাংলায় ফেরেত
এসে বসবাস করছিলেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।

দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যে,  তাঁর লেখা যে  কবিতাটি পল্লীচিত্র পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল, সেই কবিতাটি,
সম্পূর্ণরূপে বাংলায়,  আমরা  এখনও  কোত্থাও খুঁজে পাইনি। সম্ভবত উত্তর কলকাতার চৈতন্য লাইব্রেরীতে
“পল্লিচিত্র”  পত্রিকার  ঐ  সংখ্যাটি (অন্তত কয়েকটি সংখ্যা)  থাকতে পারে বলে আমাদের অনুমান। কিন্তু
দুর্ভাগ্যবশত, করোনা মহামারীর কালে তা আমরা সংগ্রহ করে উঠতে পারি নি। এই দুর্যোগ শেষ হলেই তা
আমরা যোগার করার চেষ্টা করবো।

বাংলায় কবিতাটি না পেলেও সরকারী দলিলে, কবিতার একাধিক ইংরেজী অনুবাদ পেয়েছি, যা আমরা
এখানে তুলে দিয়েছি।

যে পাঁচটি কবিতা “মালঞ্চ” ও “প্রবাসী” পত্রিকায় আমরা পেয়েছি, সেই কবিতাগুলির বিষয় স্বদেশী চিন্তার
থেকে ভিন্ন হলেও সুখপাঠ্য।
*