প্রণব রায় চৌধুরীর কবিতা যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
তাজমহল
ছোটো থেকে আমরা জানি আমাদের গর্বের তাজমহল,
সাত আশ্চর্যের এক বলে এখনও লোকেরা দেয় টহল |
জানি আগরার যমুনাতটে অনেক শিল্পীর চোখের জলে
সম্রাট শাহজাহান এই সুন্দর সৌধটি তুমি বানিয়েছিলে
স্মৃতিরক্ষায় মমতাজের যে তোমার সুয়োরাণী ছিল
কেন না সে খুব সুন্দরী ও অকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল |
কিন্তু আসল কথা যদি জানতে চাও, আমায় বিশ্বাস কর,
যা বলি তা মন দিয়ে শোনো, না হলে মিথ্যে জেনেই মর |
সম্রাট চেয়েছিল ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম রাখতে,
প্রেমের গন্ধ মাখানো একটা বিরাট কোনো স্থাপত্য গড়তে |
তাই সে খুন করেছিল তাঁর অনেক বিবির এক বিবিকে,
যে তাঁর প্রাণ দিয়ে ভালবাসতো সেদিনের কোনো কবি কে |
. *************************** উপরে
প্রেমিক
ইতিহাসে খোঁজ মিলেছে মমতাজের প্রেমিক এক কবি
মুঘল হারেমের খোজাদের জীবনী লেখা যার হব্বি |
ওর আচরণে প্রাসাদের সবার, ওর প্রতি সন্দেহ হয়েছিল,
মমতাজের সঙ্গে, শাহজাহান ওকেও গুম খুন করিয়েছিল |
কিন্তু মমতাজের সমাধি যমুনাতীরে আগরার তাজমহলে,
আর ওর কবর, ওর সব জিনিষের সঙ্গে, এক আস্তাবলে |
পুরানো দিল্লীর সেই জায়গা খুঁড়ে, ওর কবর বেরিয়েছে,
কবরের সাথে অনেক হাতে লেখা কাগজও পাওয়া গেছে |
সেই সব লেখা থেকে জানা যায়, অনেক সব অজানা কথা,
হারেমের ভিতরে আছে, কত না চোখের জল, কত না ব্যথা |
অনেক বেগমের কোনোদিনই সম্রাটের সঙ্গে হয়না শয়ন,
খোজাদের সাথেই তাদের করতে হয়ে পুরোটা জীবন যাপন |
নিজেস্য দাস ও প্রেমিক ছিল একই খোজা অনেক বেগমের,
সন্তানের কামনার জন্য একমাত্র উপায় পুরুষ বেশ্যালয়ের |
কোনো খোজার ভালবাসা কোনো বেগম, কারুর অন্য খোজা,
সম্রাটের সাথেও প্রেম ছিল নানা খোজার, কি মজা কি মজা!
মাঝে মাঝে কোনো বেগম নয় কোনো খোজা হারিয়ে যেতো,
আসলে প্রত্যেকেই, সম্রাটের রোষের আগুনে গুম খুন হোতো |
কবির মত কোনো পুরুষ অন্দরমহলে পেতো না ঢুকতে,
কোনো বেগমকে দেখতে, ফরগেট্ এবাউট্ আদর করতে |
তাই দুজনেরই প্রাণ গিয়েছিল গুপ্তচরের ছোরার আঘাতে,
একজনের কবর তাজমহলে, আর একজনের আস্তাবলেতে |
. ***************************
. উপরে
. সিঙ্গুরের অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
. সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
বৃষ্টির দিন
ঘুম যখন ভাঙলো, তখন সবে মাত্র সকাল হয়েছে,
আকাশ মেঘে ঢাকা, সামনের রাস্তায় বিরাট জল জমেছে |
হাসিখুসী বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে জল ছপ্ ছপিয়ে,
খোলা দোকানের সামনে বিরাট সাদা দুধের গাড়ী দাঁড়িয়ে |
লোকেরা অনেক দেরীতে বিছানা ছেড়ে প্রাতঃরাশ করে,
বেশীর ভাগ, বাস-ট্রাম না চলায়, অফিস ফোনে সারে |
বুড়োদের জন্য দুঃখ হয়, স্কুলও নেই, অফিসও নেই,
বাড়ী বসে জল দেখা ছাড়া পড়ার খবর কাগজ শুধুই |
ভাবি এক সময় এদের সবার স্কুলও ছিল, অফিসও ছিল,
তখন কেউ কি বৃষ্টিকে উপভোগ করার সময় পেয়েছিল |
আজ যখন সময় হয়েছে, উপরের থেকে ডাকও এসেছে,
কারুর হার্টব্ লক, কারুর হাই সুগার নিত্য সঙ্গী হয়েছে |
কেউ বা প্রিয়জন বিয়োগে রয়েছে শোকেতে খুবই মুহ্যমান,
কাউকে না পারলেও, অনেক কষ্টে করতে হচ্ছে অর্থোপার্জন |
ভাবতে দুঃখ লাগে, যাদের অরথ আছে শরীরে নেই কষ্ট,
তারাও হাহুতাস করছে, পাওয়া যায়নি তো এখনও কেষ্টো |
কেবল হিসেবে ব্যস্ত কি পায় নি অখচ পাওয়া উচিত ছিল,
ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছে না, কি সুন্দর শোভা চারিদিকে হল |
যা কিছু করেছি বা যা কিছু করব তার কারণ উপভোগ,
এই সৌন্দর্য, যা পাওয়া যায় বিনা পয়সায় কেন করব না ভোগ |
আর পিছু টান থাকলে কি উপভোগ খুব ভালভাবে করা যায়,
নিজেকে সব কিছু থেকে ও সবের থেকে পুরো সরিয়ে নিতে হয়,
যেই একা হয়ে এই বিনা পয়সার শোভা দেখি পুরোপুরি মন দিয়ে,
চিন্তা চলে যায় এই শোভার সৃষ্টি ও রক্ষার কর্তাকে নিয়ে |
ভেবে অবাক! কি অদ্ভুত নিয়মে সবকিছু বাঁধা পড়েছে,
যাতে সব জিনিষ সব সময় পাল্টালেও সমতা ঠিক বজায় রয়েছে |
এই সব সময়ের মধ্যেও কিছু অসাম্য রয়েই গিয়েছে,
যা কি না আমাদের জীবনে নানা রকম বৈচিত্র এনেছে |
কোনো কিছুই পুরো অস্থির নয় আবার পুরো স্থির নয়,
সব মিলিয়েই থাকে সমতা বজায়, আর তার মধ্যে অসাম্যও রয় |
কষ্টকর হলেও বাবনো সম্ভব এমন জিনিষ যা পুরোপুরি সাম্য,
প্রায় অসাধ্য বানানো এমন সাম্য যাতে রয়েছে অল্প অসাম্য |
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কিন্তু রয়েছে সাম্যে আর অসাম্যে আশ্চর্য মিল,
যা হঠাত্ ক'রে হয়ে গেছে, ভাব আমাদের পক্ষে খুব মুশকিল |
তাই বিশ্বাস করতেই হয়, কেউ বা কিছু নিশ্চয় করেছে সৃষ্টি,
যাকে বুঝতে ও জানতে গেলে আমাদের লাগবে তীব্র দিব্যদৃষ্টি |
. *************************** উপরে
গানমেলা
আজ সন্ধ্যায় গিয়েছিলাম বার্ষিক গান মেলাতে,
সময় কাটাতে আর ভাল বাংলা গান শুনতে |
রবীন্দ্রসদন চত্তরে খোলা আকেশের নিচে,
মুক্তমঞ্চে সাপ্তাহিক সান্ধ্য আসর বসেছে |
প্রত্যেকজন শিল্পী দুটো করে গান গাইছে,
আরম্ভ-শেষে তাদের নাম ঘোষিত হচ্ছে |
শিল্পীদের গায়কী রেখেছে সবার সম্মান,
যদিও এটা সম্পূর্ণ বিনা পয়সার অনুষ্ঠান |
বাত্সরিক এই আনন্দ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে,
ভাল গায়ক পরিচিতি পায় দর্শক সমাগমে |
নামী দামী গায়কদেরও তথা থাকে অনুষ্ঠান,
শুনতে হলে মূল প্রেক্ষাগৃহে ঢোকার টিকিট কাটান |
পুরো ব্যাপারটাই হয় সরকারী ব্যাবস্থাপনায়,
সুন্দর বন্দোবস্ত যাতে কোনোরকম ভুল না হয় |
অনেকগুলো বছর ধরে এই অনুষ্ঠান চলছে,
খুব একটা বড়সড় ত্রুটি কোথাও না মিলছে |
ভেবে অবাক হই যে এ ব্যবস্থাও বামফ্রন্টের,
কেন করে না তবে বদল সরকারের মুখের |
. *************************** উপরে
প্রেম
এখন আমার হয়েছে বয়স এত,
তখন এইচ-এস এর পরে হবে আর কত |
বাবা বলতো হয় ষোলো নয় সতেরো,
মা বলতো না না, হবে অনেক কম আরও |
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সবে ঢুকেছি,
টি-স্কোয়ার নিয়ে একা বাসে চলেছি |
এই রকম সময় একদিন আলাপ হয়েছিল,
দাদার কলেজের সোস্যালে এসেছিল |
আমাদের ক্লাসের মৃত্যুঞ্জয় ওর দাদা,
এমনিতে হুল্লোড়ে, বাবার নামে কাদা |
থাকে ওরা নৈহাটিতে ছোট বাড়ীতে,
প্রায় যেতাম সেথা একটু বেরিয়ে আসতে |
ভালবাসতে কখন যেন শুরু করলাম,
তবু তাকে কখনও জানাতে না পারলাম |
সর্বদা ভয় ছিল যদি রিফিউস করে,
বাবাকে বলে ও সবাই আমাকে মারে |
মৃত্যুঞ্জয় শেষ দিকে বছর মিস্ করল,
আমার ওখানে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল |
বোনের বিয়ে ছিল বছর পাঁচেক পরে,
নৈহাটি যেতে হয়েছিল নেমন্তন্ন তরে |
গিয়ে শুনি সে নাকি আগে এক বছর,
থাকতে গিয়েছে মৃত্যুর সঙ্গে ওপার |
মরার আগে দাদাকে সে বলে গিয়েছে,
'আমার বিয়ে অনেক আগে ঠিক হয়েছে |
বাবা বকছে, কিন্তু সে তো আর এল না,
মরা ছাড়া কিছু আর উপায় হল না |'
জানতে চাই সে বরের নাম বলেছে,
সবাই বলে, কেমন নেকামো করছে |
কাঁদি আর ভাবি ফেরার পথে ট্রেনে,
আমার জন্য তার প্রেম সবাই তা জানে |
জানার আমার দরকার কিন্তু আমি জানি না,
কি যে এখন করবো, তা ভাবতে পারি না |
যদিও আজও আমি পারিনি তার কথা ভুলতে,
কিন্তু সে আমার অপেক্ষায় পারিনি বুঝতে |
ঠিক করলাম এক্ষুনি তাকে বিয়ে করবো,
উল্টোদিকের ট্রেন এলেই ঝাঁপিয়ে পরবো |
হঠাত্ জেগে, বুঝি স্বপ্ন দেখছিলাম,
কিছুটা তার সত্যি সেই প্রথম জানলাম |
. *************************** উপরে
আশা
কদিনের জন্যে গিয়েছিলাম ভুটান সিকিম বেড়াতে ,
আশা ছিল ফিরে এসে দেখব ইনবকশ ভর্তি ছড়াতে ।
খুব দুঃখের সঙ্গে এখন দেখি সে গুড়েতে বালি ,
ইনবকশে অন্য চিঠি আছে ছড়ার ব্যাগ খালি ।
ব্রজেশ বলেছিল লিখবে ছড়া শুভ নববর্ষের পরে ,
পরমেশের উচিৎ ছিল লেখা ম্যানিলা থেকে ফিরে ।
রুদ্রও শারীরিক কুশলতা ছড়ায় জানাতে পারতো ,
শুভু বোধহয় এখন ব্যস্ত নয়তো নিশ্চয় লিখতো ।
আবেশ কাবলি সুর্বণ সুযোগের সদ্ব্যবহার করেনি ,
চাঁদুর অন্য কাজের ওজর আছে তাই ও লেখেনি ।
পড়ে যাওয়া দুধের জন্য দুঃখ করে কি লাভ বল ,
নিযেই লিখে যাই না হয় দারুন সার্থপরতাই হল ।
আশা করি পুরোটা না পড়েই মুছে ফেলে দেবে না ,
দয়া করে নিযেদের লেখা ছড়া পাঠাতে ভুলবে না ।
কিন্তু এত করেও তোমাদের যদি জাগান না যায় ,
‘বল হরি হরি বোল ` বলা ছাড়া আর পথ কোথায় ।
. *************************** উপরে
ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান
ঘরের খেয়ে বনের মোষ
তাড়ান নয় সোজা ,
পেটে খেলেই পিঠে সয় ,
নয়ত নেই মজা ।
দিব্যি দিয়ে বলতে গেলেও
লাগে না তো ভয় ,
বনের মোষ নিয়ে খেললে
পিঠে খেতেই হয় ।
বনের থেকেই মারের ভয়
বেশী সময় থাকে ,
কখন মোষ অথবা ঘরেও
গুঁতোর গুটি পাকে ।
কিন্তু এটা সোজা কথা
পেট ভর্তি থাকা দরকার ,
তাই বেশি সময় তাড়ায়
শুধু দেশের সরকার ।
খাবারের কোনো অভাব
যদি নাহি থাকে ঘরে ,
মোষ, যে বনেরই হোক ,
তাড়াতে ইচ্ছা করে ।
কিন্তু যদি খাবারের
কোনো অভাব বোধ হয় ,
বনের মোষ তাড়ান
খুব ইচ্ছা হোলেও নয় ।
পুরোটা সময় দিতে হবে
খাদ্য যোগান প্রক্রিয়ায়
যাতে স্ত্রীপুত্র পরিবার
নিয়ে ভাল থাকা যায় ।
মনের যত ইচ্ছেকে
তখন রাখবে তালা বন্ধ ,
দেখবে শুধু বাড়ীগাড়ী
কিন্তু মনের মধ্যে অন্ধ ।
বর্তমান ও ভবিষ্যতেও খাবার
চিন্তা না থাকলে ,
তবেই যেমন চাই ইচ্ছে-
ঘুঁড়ি ওড়াতে পারলে ।
দেশের সেবা করার ইচ্ছা
তখন যদি কারও হয় ,
ইচ্ছে ভেবেই করতে হবে
দেশ সেবা ভেবে নয় ।
. *************************** উপরে
একা লাগে
বড়ই যে এখন লাগে একা
কারুর যে আর নাই যে দেখা।
ভেবেছিলাম সবাই এবারে ,
বলে হরি , লিখবে ছড়ারে।
বেশীর ভাগই ব্যস্ত আছে ,
কাজটা শুধু বদলে গেছে।
ভাবে ছড়া তারাই লেখে
সময় যাদের অনেক থাকে।
শুভু মাঝে বেশ লিখল ,
প্রেগে গিয়ে কিযে হল।
ও এখন ব্যস্ত বড়ই ,
দেবী-তেনারও নো রিপ্লাই।
ওরা খালি আমায় শুধোয় ,
উত্তর কি দিয়েছে শুভোয়।
রুদ্রর কাছে আছে সময় ,
ছড়া লেখায় অপমান হয়।
ও লিখতে পারে মহাকাব্য ,
আমরা তার কি বুঝব ?
এখন গ্লোবালি চ্যাট করে ,
সবাই লেখা বুঝতে পারে।
পরমেশ ভালই লিখছিল ,
মোষ তাড়াতে ব্যস্ত হল।
তাড়ানো , এটা বলা যায় ,
নিশ্চয় হাত খুলে দেয়। (লেখার)
প্রবালের কিছু সময় আছে ,
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে।
ওকে নিয়ে ভরসা কত ,
এখনই ফ্যান শত শত।
ছড়ার প্রসাদও যদি পেত ,
তারা কি পড়তে পারত।
শুভু শুধু তোকেই বলি ,
নাহয় কটা ছড়া লিখলি।
তবেই হবে ছড়া চালাচালি ,
নাহয় সব দিক হাততালি।
মুখ্য ছড়া লেখা/পড়া নয় ,
সম্পর্ক যেন গভীর হয়।
. *************************** উপরে
বোঝার চেষ্টা (সিঙ্গুরের কবিতা)
গাছ করে খাবার তৈরী যা সে নিজে খায় ও অন্য সব প্রাণীরা খায় ,
সব প্রানীই শ্বাসপ্রক্রিয়ায় অক্সিজেন নেয় যা গাছ ফিরিয়ে দেয় ।
তেমনি ভাবে চাষা মাঠে ফসল ফলায় আর অন্য সবাই মিলে খায় ,
কিন্তু আমরা মানুষ আবার ভারতীয় , তাই নিয়ম মানি না হায় ।
চাষাকে প্রায় খেতেই দিই না, আধপেটা খাইয়ে ভাগচাষ করিয়ে নেই ,
আবার যখন তখন যে কোনো অজুহাতে চাষের জমি কেড়ে নেই ।
তাদের খুব দরকারে টাকা আর চালডাল খুব চড়া সুদে ধার দিই ,
তাদের ফলন সুদাসল হিসাবে কেটে নিয়ে তাদের বাংলা মদে চোবাই।
এই সব চাষাদের বেশীর ভাগই নিরক্ষর ও দারিদ্র্যসীমার নীচে ,
সরকারেও নিজেদের তেমন আধিপত্য নেই তাই পরনির্ভরতাতে বাঁচে ।
বামপন্থাই তাদের কাছে বাঁচার জন্য একমাত্র পরিশুদ্ধ অক্সিজেন ,
কেননা বিশ্ব জুড়ে কৃষক মজদুররাই হল বামপন্থীদের আসল ওজন ।
তাই তারা তুলনামূলকভাবে সুখে আর শান্তিতে ছিল বেশ কিছু বছর ,
যতক্ষণ না বাম সরকারই তাদের কর্মচ্যুত করল - শিল্প ওজর ।
যদিও আমাদের দেশ এখনও পুরোপুরি কৃষিপ্রধান আর উন্নতিশীল,
কেন হটাৎ কৃষির বদলে শিল্পেই আমাদের উন্নতি বোঝা মুশকিল ।
যদিওবা সমষ্টিগতভাবে তা হয় , তাও মেনে নেওয়া যায় না কিছুতেই
কিকারণে সরকার তাদের জমি কিছু শিল্পপতিকে হস্তান্তর করবেই ।
এব্যাপারটা তাও যদি ওদের সবার মনের মতো ও সম্মতিতে হত ,
হয়তো সবদিক ভেবে, সমষ্টির কথা চিন্তা করে মেনে নেওয়া যেত ।
কিন্তু সরকারের আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গীর অভাব ও জোর খাটান ,
তাদের মূলনীতি কি ও তা বামপন্থী রাজনীতি কিনা তুলেছে এ প্রশ্ন।
সাধারণ নাগরিক হিসাবে জানাই, সরকার দেশের লোকের ভাল করুক ,
বিদেশীয় শক্তি বা ব্যক্তিমালিকানার স্বার্থে একেবারেই না চলুক ।
. ***************************
. উপরে
. সিঙ্গুরের অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
. সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
প্রয়োজন
পরে যা আমি লিখতে চাই তার জন্য একটা স্বতঃসিদ্ধহবে যে মানতে ,
প্রকৃতিতে অকারণে যে কিছুই ঘটে না এটা হবে যে স্বীকার করতে ।
এই সব কারণের অনেক কিছুই আমাদের আগে ছিল না জানা বা বোঝা ,
এখন বিঙ্গানের জন্য তার বেশ কিছু কারণ হয়ে গেছে আমাদের খোঁজা ।
কিন্তু অনেক কারণই এখনও আমাদের কাছে রয়ে গেছে যেন গোলকধাঁধাঁ ,
বেশ কিছু ঘটনার কারণ বুঝতে এখনও আমরা হয়ে যাই পুরো হাঁদা ।
যারা ব্যাপারটা বিশ্বাস করে না , স্বতঃসিদ্ধ হিসাবে স্বীকার করে না ,
তারা যেন পরের লাইনগুলো আর কষ্ট করে পড়ে সময় নষ্ট করে না ।
উপরের স্বতঃসিদ্ধ অনুযায়ী যা কিছু আছে, সবই প্রয়োজনপ্রকৃতি মাঝে,
যদিও এখনও আমরা জানিনা অনেক প্রাকৃতিক জিনিষ লাগে কি কাজে ।
কিন্তু জানা আছে , বহু জিনিষের প্রয়োজনেরকারণ আমরা সবে জেনেছি ,
প্রয়োজনজানিনা বলেই কোনো জিনিষ অপ্রয়োজনীয়নয় তা মেনেছি ।
প্রকৃতিতে যখন আমরাও আছি , তা হলে আমাদেরও প্রয়োজন আছে ,
প্রকৃতির মূল কাজ সৃষ্টি যার জন্য অন্য সব ও আমাদের দরকার রয়েছে ।
এখন যদি খুঁজি কি সৃষ্টির কাজ আমরা করছি যার জন্য আমাদের প্রয়োজন,
দেখা যাবে নিরানব্বই দশমিক নয় নয় শতাংশ মানুষের সৃষ্টি তার সন্তান।
খুব অল্পসংখ্যক মানুষের প্রয়োজন মাণব সভ্যতার অগ্রসর ও উন্নতিতে,
আর সব মানুষের প্রয়োজন পরের প্রজন্মের সৃষ্টি ও বংশবৃদ্ধিতে ।
আমাদের প্রকৃতিতে প্রয়োজন বংশবৃদ্ধি, যাতে আমাদের শ্রেণী বাড়তে পারে ,
আমাদের শ্রেনীর এখনও-অজাতকেরা ভবিষ্যতের দিকে হাত বাড়াতে পারে ।
তবে এটা বুঝতে হবে শুধু জন্ম দিলেই আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় না ,
যতক্ষন না নবজাতককে বড় , সুস্থ ও আদর্শ করে গড়ে তোলা হয় না ।
প্রয়োজন তখনই ফুরাবে যখন সে আবার নিজে বংশবৃদ্ধি করতে সমর্থ হবে ,
কি তার প্রয়োজন বুঝতে পারবে ও তার সন্তানকে তা বোঝাতে পারবে ।
এখানে কিন্তু আরও একটা কথা বলে রাখা দরকার বলে মনে হয় আমার ,
বায়োলজিক্যাল সন্তান নয় , পরের প্রজন্মের যেকেউই সন্তান আমার ।
আমার কথাটা বোধহয় এখনও হয় নি সবাইএর কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার,
বলতে চাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন পরের প্রজন্ম সৃষ্টি করার ।
নানা কারণে কারুর যদি নিজস্ব সন্তান না হয় , তবু তার রয় প্রয়োজন,
পরের প্রজন্ম সৃষ্টিতে নানা দিকে নানা রূপ সাহায্য দিয়ে মাণব গঠন ।
. ***************************
. উপরে
প্রশ্ন
পৃথিবীতে এত ধরনের জীব আছে ,
কিন্তু মানুষ ছাড়া কেউই কেন সভ্য নয় ?
অন্য সবার উন্নতিই পরিবেশ নির্ভর,
শুধু মানুষের উন্নতি কেন নিজের হাতে রয় ?
বোঝার সুবিধার জন্য এখানে বলি ,
সভ্য বলতে সমাজবদ্ধ বা একত্রিত হওয়া ,
উন্নতি- শুধু পরিবেশ নির্ভর না হয়ে
নিজের জোরে বাঁচার লড়াই লঘু ও সুখময় হওয়া ।
ইতিহাস আর পুরাতত্ত্ববিদ্যা বলে
অন্য জীবেদের জীবনযাত্রাপ্রণালী চলে এসেছে
একই রকমভাবে বহুদিন ধরে , আর সেখানে
মানুষ অনেক পরে এসেও অনেক পরিবর্ত্তন করেছে ।
যদিও প্রমাণ দেওয়ার মত কোনো
সিদ্ধান্ত বা তত্ত্ব আমার কাছে এখন নেই ,
তবুও উত্তর যদি আমাকে দিতেই হয়
তবে নানা রকম চিন্তা করে ‘জিঙ্গাসু’ দিতে চাই ।
জিঙ্গাসুর মানে ধরেছি স্বার্থশুণ্যভাবে
যাহা কিছু ঘটে বা ঘটিতে পারে তাহা জানার ইচ্ছা ,
যেখানে কৌতুহল নিজের স্বার্থে ও
সুবিধার জন্য কোনো জিনিষ জানার ইছা ।
মানুষ ছাড়াও অনেক জীবের আছে কৌতুহল
তাতে তারা প্রয়োজনভিত্তিককাজ করতে পারে ,
কিন্তু পারে না অবস্থার উন্নতি করতে,
যা জন্মসূত্রে জিঙ্গাসু হওয়ার জন্য মানুষ পারে ।
. ***************************
. উপরে
লাবু
আজ দেখা যাক , এখন কি অবস্থা তার ,
টিয়ার সঙ্গে খেলা বিয়ে হয়েছিল যার ।
বেলতলা ইস্কুলে পড়তো , সঙ্গে মোদের ,
মনে পড়ছে না নাম কোনো মেয়েদের ।
নাম তার ধরা যাক লাবণ্যপ্রভা বসাক ,
ডাক নাম লাবু, এটাই ঠিক করা যাক ।
টিয়ার সাথে শেষ দেখা তার ক্লাশ ফোরে ,
তবুও ভোলেনি সে ক্লাশ থ্রির বিয়েটারে ।
তার ছিল বাবামা ,এক ভাই , দুই বোন ,
তার যখন বয়স ষোল বাবা গত হন ।
আরম্ভ যখন চাকরী , বয়স তখন কুড়ি ,
বৌদি আসার পরেই , মা খালি বলে মরি ।,
বছর না ঘুরতে দাদাবৌদি আলাদা হয় ,
কষ্টে পাত্র পেয়ে বোনের বিয়ে দিয়ে দেয় ।
এর মধ্যে কবার মা , বিয়ের চেষ্টা করেছিল ,
ও প্রত্যেকবার সেসব কথা উড়িয়ে দিয়েছিল ।
বিশ্বাস করতো টিয়া নিশ্চয় কখন আসবে ।
যদি অপেক্ষা না করে, টিয়া কি ভাববে ।
বোনের বিয়ে দেবার সময় , বয়স পঁয়ত্রিশ ,
মা মারা যাওয়ায় বুঝল একা থাকা কি জিনিষ ।
বোন এবার নিয়ে গেল , ওদের বাড়ি থাকতে ,
ছেলেমেয়ে সামলাতে আর কিছু টাকা পেতে ।
চাকরি থেকে দুবছর আগে অবসর নিয়েছে ,
পিএফ বোনঝির বিয়েতে প্রায় শেষ হয়েছে ।
বোনপো চাকরি পেয়েছে ব্যাঙ্গালোরেতে ,
বোন ভগ্নিপতি সেখানে , সংসার সামলাতে ।
এখন লাবু বুঝেছে তার নিজের কিছুই নাইরে ,
ভাড়ায় থাকার জায়গাও চলে যাবে হায়রে ।
লাবু সস্তা বৃদ্ধাশ্রমের খোঁজে বেরিয়েছিল ,
আমার বাড়ি খুঁজে এসে টিয়ার খবর নিল ।
যখন শুনল স্ত্রীপুত্রপরিবার নিয়ে টিয়া কেনিয়ায় ,
মুখটা এমন করল , দেখে কষ্ট হল হায় ।
বছরখানেক পরে , লাবুর সঙ্গে আবার দেখা ,
চেতলার নবনীড় বৃদ্ধাশ্রমে থাকে একা ।
বোনভগ্নিপতি ছেলের সঙ্গে থাকে ব্যাঙ্গালোরে ,
ছেলের এখন হয়নি বিয়ে, তাই ঘরের কাজ করে ।
যে বোনঝির বিয়েতে বছরদুই আগে অনেক খরচ হয় ,
বিয়ের কমাস পরেই তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় ।
বোনঝি টুসি চাকরি করে, মেসে থাকে এখন ,
সে চায় একসাথে থাকতে, দুজনেই একা যখন ।
দেখা হবার পরের মাসে লাবু নবনীড় ছেড়ে দেয় ,
টুসির সাথে টালিগঞ্জে একটা বাড়ি ভাড়া নেয় ।
টুসি সকালে বেরিয়ে যায় ,রাত হয়ে যায় ফিরতে ,
লাবু ঘরের কাজ করে ও অভ্যস্ত হয় টিভি দেখতে ।
টুসির এখন এমন কাজ , ছুটির দিনও বেরোতে হয় ,
সকাল হলেই এক বড় গাড়ি এসে , তুলে নিয়ে যায় ।
লাবু সকালসন্ধ্যে এক গৌড়ীয়মঠে কাটায় ,
গুরুবোনেদের সাথে বেরয় নানা ছুতোনাতায় ।
সেখানে লোকে টুসির সম্পর্কে নানা কথা বলে ,
বসের সঙ্গে তার নাকি আদিরসের সম্পর্ক চলে ।
টুসি যা মাইনে পায় তা তার সাজেই খরচ হয় ,
সংসারখরচের প্রায় পুরোটাই লাবুকে চালাতে হয় ।
এক সোমবার অনেক বেলায় টুসির ঘর বন্ধ রয়েছে ,
পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে দেখে, টুসি দড়িতে ঝুলছে ।
বস এলো তার বউকে নিয়ে , দুঃখ আর রাগ দেখাল ,
ফেরার পথে অনেকটা সময় লোক্যাল থানায় কাটাল ।
পুলিশ কাটাছেঁড়া না করে দাহ করার দিল অনুমতি ,
পাড়ার লোক খুব ঘটা করে মরদেহের করল গতি ।
সারাদিন কিছু খায়নি লাবু, চিন্তায় রাত জেগে থাকে ,
পরদিন ভোর না হতেই , পুলিশ ধরল এসে তাকে ।
কেস সাজাল সে নাকি টুসিকে বিষ দিয়েছে ,
আসল ঘটনা প্রমাণ দরকারমত পালটে নিয়েছে ।
পুলিশ-সাজান ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও পাওয়া গেল ,
লাবুকে আইনঅনুযায়ী , ফাঁসির হুকুম শোনান হল ।
তিনবছর পুলিশ হাজতে, লাবু অনেক লাঞ্ছনা সয়েছে ,
ক্ষয়রোগ আর অচিকিৎসায় তার মর মর অবস্থা হয়েছে ।
রায় বেরলে অসুস্থুলাবু ডাকে জেলে আমাকে ,
‘সে এখনো মরতে পারছে না ‘ বলতে বলে টিয়াকে ।
টিয়া যেন তাকে মরার অনুমতিটা অন্ততঃ দেয়,
নয়ত মরা তার কাছে বাঁচার চেয়েও বেশী দায় ।
. ***************************
. উপরে
রক্ষক যখন ভক্ষক (সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা)
মানুষ নিজের সম্বন্ধে যাই ভেবে থাকুক
একপ্রকার জীব বইতো তারা আর কিছু নয় ।
কিন্তু বেশীরভাগ জীব একা বাঁচতে পারলেও
মানুষকে বাঁচতে গেলে সবাই মিলে বাঁচতে হয় ।।
বাঁচার তাগিদেই মানুষ তার জন্মলগ্নে করেছিল
সৃষ্টি, ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধ সমাজের ।
তার বুদ্ধি আর জিজ্ঞাসু তার জীবনযাত্রার মানে
খুব তাড়াতাড়ি এনে দিয়েছিল উন্নতির জোয়ারের।।
পুরাকালেই সে বুঝেছিল যদিও সে আসলে স্বার্থপর,
নিজের বাঁচার স্বার্থেই, হতে হবে সমাজ নির্ভর।
প্রতিটি মানুষের মনে তাই চিন্তা দুরকমের
ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা আর সমষ্টিগত কাজ কর্মের।।
আরো সে বুঝেছিল নিজে বাঁচার জন্যই
প্রথম স্থান সমষ্টিচিন্তার আর স্বার্থচিন্তা পরে ।
কিন্তু যেহেতু মানুষ আসলে এক স্বার্থপর জীব
চিরদিনই দিয়ে এসেছে সে প্রথম স্থান স্বার্থপরতারে।।
তাই যতক্ষণ না কোনো স্বার্থসিদ্ধির হয়
দরকার , সে মেনে নেয় সমষ্টিচিন্তার আছে অগ্রাধিকার।
কিন্তু যখনই কোনো স্বার্থসিদ্ধির হয়
প্রয়োজন, সমষ্টিচিন্তার থাকে না আর কোনো অধিকার ।।
গণতান্ত্রিক সরকার গড়ার মূল কারণ, যেন
কতিপয়ের স্বার্থসিদ্ধির জন্য না ক্ষুন্ন হয় সমষ্টির বাঁচন ।
সরকারের কাজ তৈরী করা এমন আইন যাতে
ব্যক্তিগত স্বার্থ কোনো কারণেই গ্রাস করেনা সমষ্টিচিন্তন।।
আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান জনবহুল যার বেশীই
এখনও অশিক্ষিত ও দারিদ্র্যসীমার নীচে করে কষ্টে কালাতিপাত ।
একারণেই বৃহত্তম গণতন্ত্র হওয়া সত্ত্বেও
সরকারে নেই তাদের আধিপত্য যেখানে সমষ্টিগতস্বার্থের ধারাপাত ।।
দেখলেই বোঝা যায় আমাদের সরকারে ভিড়
শুধু শিক্ষিত আর দারিদ্র্য সীমার অনেক উপরের ধনী লোকেদের।
যারা ব্যস্ত শুধু নিজের কোলের দিকে কিভাবে
সমষ্টির প্রাপ্য সব কিছু টেনে আনা যায় বোকা বুঝিয়ে ওদের ।।
সত্যি যদি দেশপ্রেম থাকে সরকারে আসীন সেইসব
শিক্ষিত ও বড়লোকেদের, তাদের হওয়া উচিৎ প্রথম ও প্রধান কাজ
সারা দেশ থেকে যেভাবেই হক অশিক্ষা ও দারিদ্র্য
দূর করে, সব দেশের লোককে খুব কাছাকাছি আনার মেজাজ ।।
যতই দেশের সব লোকের মধ্যে ব্যবধান ঘুচে যাবে
ততই তাদের মধ্যে দেশপ্রেম আর সমষ্টিগত চিন্তা জাগ্রত হবে ।
সেভাবেই হবে মানুষ হিসাবে বাঁচার সার্থকতা, তাতে
যায় তো যাক না পিছিয়ে সেই বাসনা ‘আরও উন্নত হতে হবে’ ।।
আমাদের এখন প্রধান দরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ
করে সবাইকে শিক্ষিত ও দারিদ্র্য সীমার উপরে নিয়ে আসার ।
ততদিন পর্যন্ত ভুলে থাকা অন্য উন্নতির সোপান,
যাতে প্রদেশ নয়, লোকে খালি ভাবে পুরো দেশটা আমার ।।
এই অবস্থায় সরকারের জোর করে বাস্তুচ্যুত করে
কৃষিজমি অশিক্ষিত ও গরিবের হাত থেকে শিল্পপতিকে দেওয়া
একেবারেই যেন অত্যাচারী জমিদারের উপেনের দুবিঘা
জমি অসৎউদ্দেশে ও স্বাথসিদ্ধিতে না বলেই কেড়ে নেওয়া ।।
সরকারের এখন প্রথম কাজ সব দেশবাসীকে সব রকম
ভাবে দেশপ্রেমিক ও সমষ্টি সম্বন্ধে দায়িত্ত্বশীল করে তোলা।
কৃষি দরকার না শিল্প দরকার এ চিন্তা এখনকার
মতোহাঁড়িতে ঢুকিয়ে ঘরের চালে শিকেয় তুলে রাখতে না ভোলা।।
তাও যখন সরকার বন্দুকের জোরে ও শিল্পবিপ্লবের
মুখোস পরিয়ে কৃষকের জমি গায়ের জোরে শিল্পপতিদের দিচ্ছে।
তাও আবার এমন ভোগ্যপণ্য তৈরী করার জন্য
যার ব্যবহারের কোনোসুযোগ সেই কৃষকেরা না পাচ্ছে ।।
জনসাধারণ এখনও জানেনা কেন এই জোর আর
কিই বা দেশের সমষ্টিগত লাভ এধরণের ভোগ্যপণ্য সৃষ্টিতে ।
তাই তাদের মন চলে যায় সঠিক কারণ অনুসন্ধানে
বোঝা যায় এ সবই হচ্ছে কোনো বিদেশী শক্তিরইঙ্গিতে ।।
. *************************** উপরে
প্যারাডক্স (সিঙ্গুরের কবিতা)
ছোটোবেলা থেকে শুনি বাংলাপ্রদেশ সুজলা সুফলা আর শস্যশ্যামলা,
অল্প আয়াসে হয় অনেক ফলন, আবহাওয়া নিয়েও নেই কোনমামলা ।
তাই এ প্রদেশের উন্নতি সারা দেশে ছিল স্বাধীনতাকালেবেশী বেশ ,
তখন বলা হত আজ যা বাঙলা বলে কাল তাই বলবে সমস্ত দেশ ।
সবাই জানে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালীর নেতৃত্ত্বে বেশী সবার থেকে,
নিজের প্রাণপরিবার তুচ্ছ করে করেছে তারা সদা বিব্রত বৃটি