কবি তড়িৎ দাশগুপ্তর কবিতা
*
স্বাধীনতা
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
রচনাকাল ১৪.০৮.২০২০। কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। কবি নিজে বিজ্ঞানের (রসায়ন) অধ্যাপক। মিলনসাগরে "প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকায়" এই
কবিতাটি পড়তে
এখানে ক্লিক করুন . . .। মিলনসাগরে প্রকাশ মার্চ ২০২২।

"স্বাধীনতা আন্দোলন" দীর্ঘ ইতিহাস,
শুরু হয় "সিপাহী বিদ্রোহে"
রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে, থামেনি প্রয়াস
মৃত্যু কত হয়েছে নিগ্রহে,
ব্রিটিশের রুদ্ররেশ, করেছে হরণ
নির্যাতন, নিষ্পেষণ কত,
কারাগারে কত হত্যা,কত নির্বাসন
আরো কত হয়েছে যে হত।

বিপ্লবীরা চলে গেছে অতি অনাদরে
মিলে গেছে, কোন অন্তরালে
নেই কো তাদের দেখা, যত দেখি ফিরে
চলে গেছে মনের আড়ালে,
দীক্ষিত থেকেছে তারা, কাজ ছিল ধর্ম
সে লড়াই করিয়া অর্জন
জীবনের জয়গানে, শুধু ছিল কর্ম
দিয়ে গেছে সব বিসর্জন।

কিছু ভাষা,কিছু ইচ্ছা এই ভিত্তি করে
ভাগ হয়ে এলো পাকিস্তান
রাজ, রাজত্বের দাবি অবসান করে,
প্রতিষ্ঠিত হোল সংবিধান
কালো মেঘ এলো সাথে, দেশ বিভাজনে
শুরু হল সর্বনাশা দাঙ্গা
কত মূল্য দিতে হোল মনুষ্য নিধনে,
অজানা থেকেছে তার সংখ্যা।

শুরু হল দেশগড়া বিরাট প্রস্তুতি
সর্বস্তরে আনন্দের ধারা,
এল কল কারখানা, গড়ার সংস্কৃতি
বিদ্যুতের হাল হোল ফেরা
ব্যাংক, কলিয়ারী হোল বিকেন্দ্রীকরণ
অন্ধকার কেটে এলো আলো,
কৃষি,শিক্ষা,স্বাস্থ্য নিয়ে কত আয়োজন
কর্মের সংস্থান কিছু হোল।

সমাজের নিন্মস্তরে পড়ে আছে যারা,
খাদ্য, বস্ত্র, অর্থহীন হয়ে
মূল্যহীন স্বাধীনতা, বহন করেছে তারা
দীর্ঘদিন, বিনা পরিচয়ে
সেই সব নিচে থাকা মানুষের কাছে
যেতে হবে, দিতে হবে আশা
থাকিতে হইবে সাথে, সকলের মাঝে
বুঝে নিতে তাহাদের ভাষা।

স্বাধীনতা সকলের খুলে দিক দ্বার,
বন্ধ হোক স্বজন পোষণ
হানাহানি ভুলে সমাজে বঞ্চিত যারা
এক সাথে হোক উত্তরণ,
স্বাধীনতা হোক আজ অতি স্বপ্নময়
মিটে যাক সমস্ত প্রত্যাশা,
কেটে যাক, ধুয়ে যাক সব অবক্ষয়
পূর্ণ হোক সকলের আশা।

সকলের সাথে হোক সবার বিকাশ,
সাথে নিয়ে এই অঙ্গীকার
ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, রাখিব বিশ্বাস
নত হয়ে, করিব স্বীকার
থাকিব না গৃহকোণে, নিশ্চিন্ত নীরবে,
জীর্ণতার শীর্ণতার মাঝে
মেলে দিয়ে ডানা আজি, একান্ত গৌরবে
মিশে যাব সকলের কাছে।

স্বাধীনতা নয় শুধু ভোগ করিবার
হোক এ সম্প্রীতির আধার
স্বাধীনতা নয় শুধু ভজন পুজন
ইহা নয় করিতে লুণ্ঠন
স্বাধীনতা মানে নয শুধু ভ্রস্টাচার
ইহা হোক শান্তির প্রচার
স্বাধীনতা মানে নয় নোংরা রাজনীতি
মনে প্রাণে আসুক প্রগতি।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
গণেশের দুগ্ধপান
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবি নিজে
বিজ্ঞানের (রসায়ন) অধ্যাপক। মিলনসাগরে "প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকায়" এই কবিতাটি পড়তে
এখানে ক্লিক করুন . . .। মিলনসাগরে প্রকাশ মার্চ ২০২২।

দুই দশকের আরো কিছু আগে
অসীম আগ্রহে
শুনেছিনু গণেশ দেবতার, দুগ্ধ পানের কথা
উন্মুক্ত জনতা,
আসে মন্দির প্রাঙ্গণে
দেখিতে তা নিজন্ব নয়নে
সংস্কৃতিতে পূর্ণ এই কল্লোলিনী শহরের হাল
পাল্টে দিল যত তাল।
রাত যত বেড়েছে সেদিন
উদ্দাম জনতা ছুটে, শিক্ষা দীক্ষা করেছে মলিন,
প্রচার মাধ্যমে বাড়িয়ে কল্পনা
নিছক যন্ত্রনা
টিভি সাথে এসে বাড়াল প্রচার, জনতার মাঝে
এসে অতি কাছে,
নানা রঙে বার্তা সব
হইল প্রচার, করিতে নীরব
অসংখ্য মানুষ, ভক্তি ভরে আসে মন্দির প্রাঙ্গণে
নিজ ইচ্ছা করি সমাধানে
অবাস্তব, সেই বার্তা জেনে
নীরবে দেখিতে চায় দুগ্ধপান, অতি সংগোপনে।

মুখ্যমন্ত্রী নিজে মুখ খুলিলেন
সহাস্যে বলেন,
"গণেশ যদি দুধ খায়", কিছুই করিবার নাই
আমরা সবাই
অকারণে, এ ব্যস্ততা
বন্ধ কর এ সব বারতা।
মাঝ রাত্রে এক ছাত্র টেলিফোনে করিল স্মরণ
দিয়ে পূর্ণ বিবরণ
নিয়ে গেল তাদের বাড়িতে
অবিশ্বাস্য গণেশের দুগ্ধপান আমাকে দেখাতে
ব্যার্থ হোল মিটিল না কোন আশা
সমস্ত প্রত্যাশা।

সেদিনের কলকাতা নিঃস্ব রিক্ত, শুধু নীরবতা
সমস্ত সভ্যতা,
ত্যাগ করে ঘরে ফিরে
ব্যর্থতার আত্মগ্লানি নিয়ে
ভুলে গেছি বিজ্ঞানের তত্বে মোরা করিতে সম্মান
পদে পদে তাই অপমান
লক্ষ্য হোক ফেরাতে সন্মান
কুসংস্কারে বদ্ধ থাকা চিরতরে হোক অবসান।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সমাজ ও শিক্ষক
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবি নিজে
বিজ্ঞানের (রসায়ন) অধ্যাপক। মিলনসাগরে "প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকায়" এই কবিতাটি পড়তে
এখানে ক্লিক করুন . . .। মিলনসাগরে প্রকাশ মার্চ ২০২২।

আদিম কালের দুঃস্বপ্নের ইতিহাস
করিতে বিনাশ,
সঙ্গিসাথী হয়ে, সমস্ত জনতা করিল প্রয়াস
ছন্নছাড়া জীবনের আনিতে বিকাশ।
একাকিত্ব জীবনের ছন্দহীন সে সমস্ত দিন,
সৌহার্দ্য, মমত্ববোধে আনিতে সুদিন
প্রতিষ্ঠিত হোল এ সমাজ,
হিংসা, লোভ, ক্রোধ, দীনতা, হীনতা না করি বিরাজ।
এলো নুতন জীবন,
ন্যায়, নীতি, ধর্ম সব করিয়া আপন।
খুলে গেলো দ্বার,
কেটে গেলো যত অন্ধকার
এলো শিক্ষা, স্বাস্থে, নিরাপত্তার পথ
কাটাতে সংকীর্ণতা, নিয়ে সে সপথ
হোল জাগরণ
নুতন স্পন্দন।

সমাজের জাগরণে শ্রেষ্ঠ অলংকার
শিক্ষার প্রসার।
এলো যে ইহা, অন্তরের শক্তিকে করিতে প্রকাশ
চেতনা জাগ্রত হোল, আলোর আভাস।
জাতপাত কত শত কুসংস্কার, উচ্চ, নীচ, শ্রেণী
ছোট বড়, সব দ্বন্দ্ব মেটাতে অগ্রণী,
শিক্ষকের হোল আবর্তন
সমাজের উচ্চে স্থান, খুলে দিতে রুদ্ধ বাতায়ন।
নির্জীব সংস্কার যত
দগ্ধ করে আনে, সে যে নূতন মহত্ত।
শিক্ষা নয় পণ্য,
মূল্যের অতীত তা অনন্য।
স্নেহ, নিষ্ঠা, জীবন সঞ্চার সাধনে
সবার কাছে এলো, সবার কল্যানে
এঁরাই শিক্ষক
মোদের রক্ষক।

চূর্ণ হোল অহংকার, থাকিল না রেশ
অচিরেই শেষ।
অহঙ্কারে মত্ত হয়ে, উন্মুক্ত জনতা ছুটে যায়
জরাজীর্ণ সমাজেতে খুঁজিতে উপায়।
লোভ, ক্রোধ, দুর্নীতি, বিদ্বেষ সমাজে বেড়েছে আজ
মনে হয়, হতাশাই করিছে বিরাজ।
সঙ্গে সাথে আছে যে বেদনা,
দীনতা, শীর্ণতা, বিসর্জিত আজ সমস্ত চেতনা।
অস্থিরতা, আকুলতা
মাঝে কাটিছে জীবন, ইহাই সত্যতা।
শিক্ষা হোল পণ্য
হোল স্বপ্নভঙ্গ, সব শৃন্য।
পড়ে গেল শিক্ষার মান অহর্নিশে
ভাল সব মুছে গেল, অতি নিমেষে
হতাশার মাঝে,
কেউ নেই কাছে।

বিপন্ন, বিধবস্ত এই শিক্ষা ও সমাজ
প্রতিস্তরে আজ।
এসেছে হতাশ, পড়েছে প্রশ্নের মুখে শিক্ষানীতি,
শিক্ষক সমাজ, পঠন পাঠন, রীতি।
ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন পর্ষ্যদ, ভিন্ন শিক্ষার মাঝে যত
সুউচ্চ উচ্চাশা সব হয় পরাজিত,
পূর্ণতার হয় না বিকাশ
ক্লান্ত হয়ে, ধেয়ে যায় অন্য প্রান্তে পাইতে আশ্বাস।
নানা পরীক্ষার মাঝে
বিচলিত, হারায় বিশ্বাস তার সাথে
শিক্ষক পারে না দিতে,
অভয় আশ্বাস, সকল ছাত্রের হিতে।
ভিন্ন স্তর থেকে আসে ছাত্রের দল
একসাথে পড়ানো, আসে না সুফল
বড়া জটিলতা
আসে সংকীর্ণতা।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
করোনা ও বেকারত্ব
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
রচনাকাল ২৯.০৬.২০২০। কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবি নিজে বিজ্ঞানের (রসায়ন) অধ্যাপক। মিলনসাগরের "করোনা ভাইরাস ও
পরিযায়ী শ্রমিকের দেয়ালিকায়" এই কবিতাটি পড়তে  
এখানে ক্লিক করুন . . .
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৬.২০২০।

বিশ্বব্যাপী বেকারত্ব, বাড়ছে ক্রমেই ক্ষত
মূল্য বৃদ্ধির চাপ করেছে আহত,
অস্তিত্ব সংকটে আজ, হাতে নেই কোনো কাজ
শান্তি আজ চলে গেছে রয়েছি শঙ্কিত।
রেলকে কেন্দ্র করে, কত লোক কাজ করে
তাদের হাতে আজ নেই কোন কাজ,
বেকার হয়েছে তারা, বদ্ধ ঘরে দিশাহারা
পড়ে আছে সমাজের এককোনে আজ।
শহর তলীর লোক, কাজেতে করেনি যোগ
নেই কোনো কাজের আশ্বাস,
যারা আসে নিত্যদিন, হোয়েছেন কর্মহীন
নিভে গেছে সমস্ত উচ্ছ্বাস।
বন্ধ হয়ে আছে ট্রেন,নেই কোনো লেনদেন
স্তব্দ হয়ে আছে দীর্ঘদিন,
পরিচারিকারা আজ, হারিয়েছে সব কাজ
ছেয়ে গেছে জীবনে দুর্দিন।
উন্মুক্ত হয়েছে দ্বার, ব্যবসা খাচ্ছে মার
নেই কোন ক্রেতার সন্ধান
কোন কিছু কিনিবার, ইচ্ছা নাই জনতার
ঘরেতে পড়ে আছে হয়ে মুহ্যমান।
বিনোদন শিল্প যত, খুলেছে নিজের মত
এখানেও করোনা হয়েছে ঘাতক,
মানসিক অবসাদে, ইচ্ছে নেই সে আমোদে
বাড়িবন্ধী হয়েছেণ সমস্ত দর্শক।
সবচেয়ে অঘটন, বিপর্যস্ত পর্যটন
দুরাবস্থা হয়ে আছে পড়ে নাভিশ্বাস,
লক্ষ লক্ষ কর্মী যত, হয়েছেন আশাহত
সামনে নেই কোন বিশেষ আশ্বাস।
কি বিরাট কর্মকাণ্ড, হয়ে আছে লন্ডভন্ড
বিশ্বব্যাপী শাখা প্রশাখায়,
কবে যাবে এ অশান্তি, কিভাবে যাবে যে ভ্রান্তি
খুজে তার নিশ্চিত উপায়।
হোটেল,রেস্তোরাঁ আর ভুরি ভুরি গাড়ী
তুঙ্গে থাকে ব্যাস্ততার মনে থাকে স্বস্তি,
আজ এর মান্যতা, শশ্বানের শুন্যতা
মনেতে জাগায় আজ চরম অশান্তি।
বড় বড় অট্টালিকা, নির্মাণে পড়েছে বাধা
শ্রমিকরা ধারে কাছে নাই,
পরিযায়ী শ্রমিকেরা, করণার ভয়ে তারা
চলে গেছে নিজ গৃহে তাই।
অবাঞ্ছিত ছিল যারা, কাঙ্খিত আজকে ওরা
আজকে করতে হবে তাদের আহ্বান,
ফিরেই আসবে ওরা, বদ্ধ থাকবে না তারা
কর্মক্ষেত্রে তারা আজ হইবে মহান।
ট্রেন গাড়ী কিছু নেই, আমদানি রপ্তানি নেই
তলানি এসেছে ব্যবসায়ে,
মজুরদের যত আশা, বাড়িয়েছে হু হতাশা
বসে আছে ব্যাথিত হৃদয়ে।
দূর পাল্লার গাড়ী, বন্ধ হয়েছে পাড়ি
স্টেশন চত্বরে আজ শুধুই দুর্ভোগ,
হাজারো ট্যাক্সির আজ, বন্ধ হয়েছে কাজ
বেকারত্বে ভরে গেছে নেমেছে দুর্যোগ।
মেট্রোর স্টেশন সাথে, অটো সব যুক্ত থাকে
রাস্তা থেকে অটো আজ নিয়েছে বিদায়,
মেট্রো হীন অবস্থায়, অটো নেই রাস্তায়
অটো চালকেরা তাই আজ লুপ্তপ্রায়।
গ্রাম গঞ্জ স্তব্ধ আজ, সেখানেও নেই কাজ
ভয়েতে কুণ্ঠিত হয়ে থাকে রাত্রিদিন,
নেই কোন কারবার, আছে শুধু হাহাকার
গ্লানি মুক্ত হতে তারা খুজিছে সুদিন।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
করোনা ও আমাদের পড়াশুনা
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
রচনাকাল ২৩.০৬.২০২০। কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরের "করোনা ভাইরাস ও পরিযায়ী শ্রমিকের দেয়ালিকায়" এই কবিতাটি
পড়তে  
এখানে ক্লিক করুন . . .। মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৭.২০২২।

শুরুতে যে শিশু
প্রানব্রন্ত হয়ে,
ধীরে ধীরে প্রবেশ করে
স্কুলের গণ্ডিতে।
সে শৈশব আজ
হয়েছে লুণ্ঠিত,
ধুলিত হয়েছে আজ
তাদের অজ্ঞাতে।
মুক্ত বায়ুর সাথে
সবুজের মাঝে
ছিল তার নিত্য
আনাগোনা,
সে সব অতীত আজ
পড়ে আছে সব কাজ
বারান্দা কিম্বা ছাদ
হয়েছে ঠিকানা।
তাহাদের কলকাকলিতে
চারিদিক হোত মুখরিত
মেতে যেত সমস্ত প্রান্তর,
আজ শুধু শূন্যতায় ভরা
অন্ধকারে চারিদিক ঘেরা
বিষাদের মাঝে কাঁদিছে অন্তর।
প্রজন্ম বিষন্ন আজ,
হারিয়েছে সব উচ্ছ্বাস
ভারসাম্য হয়েছে বিধ্বস্ত,
শুন্যতার স্তব্ধতায়
জীর্ণতার গুরুভারে
মোরা আজ হয়েছি আক্রান্ত।
তোমার নির্মম অস্ত্র
ভেদ করিয়াছে আজ
অতি সন্তর্পনে,
নির্বাসিত পড়ুয়ারা আজ
আবাস নিয়েছে তাই
নিজ গৃহকোণে।
তোমার দাপটে আজ
ছিন্নভিন্ন এরা
হারিয়েছে সমস্ত উল্লাস,
সামনে যাবার পথ
রুদ্ধ করেছ তুমি
নেই আজ কিছুতে বিশ্বাস।
পিতা মাতা গুরুজন
সঙ্গে কত পরিজন
চিন্তা ভাবনা কত
বড় দুঃসময়,
বিষাদের ছায়া মনে
আকুল বিকুল প্রাণে,
কোথা থেকে তুমি এসে
হয়েছ উদয়।
কাবু আজ প্রশাসন
কত পথ অন্বেষণ
কোন পথে দেয় নাই আশা,
যাহাই করতে চায়,
সবিতেই বাধা পায়
শুধুই এনেছে নিরাশা।
বিদ্যাশেষে ছাত্র যারা
বেরিয়ে এসেছে তারা
চাকুরীতে এসেছে সফল,
তোমার প্রকোপে ওরা
বদ্ধ ঘরে বন্দি তারা
যাত্রা তাদের হয়েছে নিষ্ফল।
অন্য যারা ছাত্র আছে
সফল হবার কাজে
ব্যাস্ত ছিল কাজের সন্ধানে,
মাথার উপরে আজ
অকস্মাৎ পড়ে বাজ
পন্ড হোল তোমার কল্যাণে।
হে কোরোনা,
অচেনা,আদিম অস্ত্র
তোমার যা হস্তগত,
পরিত্যাগ করে
বন্ধ কর হানা,
মুক্তি চাই,স্বস্তি চাই মোরা ,
আমাদের দৃষ্টি থেকে,
দূরে যাও এখানে থেকো না।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আনলক ১
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
রচনাকাল ২৩.০৬.২০২০। কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত,
“বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১
.৭.২০২২।

ভোট যেমন বিষম বালাই,
পেটের জ্বালাও তাই,
লকডাউনের আনলক ওয়ানে
এরই বার্তা পাই।
বিরক্তি,শূন্যতায় ভরা
লকডাওনের ক্ষ্মণ,
শিথিল হোল অনেকটাই
স্বস্তি পাচ্ছে মন।
খুলেছে বাস,খুলেছে হোটেল
খুলেছে ট্যাক্সি,অটো,
রেস্তোরাঁ, মল সব খুলেছে
সাথে আছে টোটো।
চায়ের দোকান,পানের দোকান
কিছুতে নেই ভীতি,
সর্বদাই ব্যাস্ত মোরা
মানছি না কোন নীতি।
সংক্রমণের সংখ্যা এখন
বাড়ছে ধাপে ধাপে,
এমনি ধারায় চললে পরে
পেরিয়ে যাব বিশ্বকে।
মৃত্যুর হার যদিও এখন
সেই তুলনায় কম,
চিকিৎসা পদ্ধতির ফলে
হয়েছি সক্ষম।
করোনার থাবা যায়নি এখনো
জড়িয়ে আছে এ সংসারে,
ভালোবেসে নয়,আবেগেও নয়
ছুড়ে ফেলে দেব বাহিরে।
করোনা, কোভিড মুক্ত করতে
কত না প্রতিশ্রুতি,
কত ভিটামিন,কত যে ঔষধ
বাড়িতে হয়েছে ভর্তি।
কত ধরনের স্যানিটাইজার
মাস্কের বাহার,
বাজার এখন ভর্তি এসবে
করতে ব্যবহার।
রপ্তানি বাড়াও,আমদানি কমাও
অর্থনীতির যুক্তি,
কেও বা বলছেন সবার আগে
পরিকাঠামোর বৃদ্ধি।
চাকুরী বাড়ানো,বেকারী কমানো
মোদের অঙ্গীকার,
উপায় কিছু না বেরুলে
নামবে অন্ধকার।
কত যে বেকার,হবে যে আবার
হিসেব পাওয়া শক্ত,
খাবার তাগিদে ঘুরছে সবাই
ভাবছে না কোন তত্ত্ব।
আমোদ,প্রমোদ ভুলে গেছে সব
বদ্ধ হোল এ জীবন,
হাঁপিয়ে উঠেছে কেও নেই কাছে
নেই কোন পরিজন।
মাস্ক ব্যবহার দূরত্ব বজায়
এ ছাড়া গতি যে নাই,
শুনছি না মোরা, মানছি না মোরা
বিপদ বাড়ছে তাই।
সুখে থাকো সব এই আবেদন
করি সকলের কাছে,
করোনা মুক্ত হবই আমরা
সে শক্তি মোদের আছে।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
করোনা ও ইমিউনিটি
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
রচনাকাল ১৩.০৬.২০২০। কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরের "করোনা ভাইরাস ও পরিযায়ী শ্রমিকের দেয়ালিকায়" এই কবিতাটি
"বয়স্করা ঘরেই থাকুন" শিরোনামে পড়তে  
এখানে ক্লিক করুন . . .
মিলনসাগরে প্রকাশ ১
.৭.২০২২।

বয়স্করা ঘরেই থাকুন,
বলছে এটাই মানতে,
ইমিউনিটি নেইকো তাদের
করোনাকে মারতে।
আমরা যারা বয়স্করা
আছি ঘরের মাঝে,
কে আনবে ঔষুধ মোদের
কে লাগবে কাজে।
করোনা কে কাবু করা
নয় যে সোজা কাজ,
এ কথাটি মানতে মোদের
নেইকো কোনো লাজ।
আর কত দিন এমনি করে
থাকবো মোরা বদ্ধ,
জানি নাতো কোন পাপে
হয়েছি মোরা জব্দ।
বেশ কিছুদিন বাঁধবে বাসা
শুনছি লোকের মুখে,
মুক্তি যে নাই তাড়াতাড়ি
থাকতে হবে দুখে।
উৎস কোথায় করোনার
চলছে গবেষণা,
নানা যুক্তি মনের মাঝে
করছে আনাগোনা।
বিজ্ঞানীরা খুবই ব্যস্ত
ঔষধ আবিষ্কারে,
পাল্টে দেবে অর্থনীতি
যে দেশ করতে পারে।
উৎসাহী হয়ে চেয়ে আছি মোরা
কবে আসবে ভ্যাকসিন,
সেই সুবাদেই বিজ্ঞানীরা
খাটছেন সারাদিন।
করোনার সাথে মিলে মিশে
ডেঙ্গি হয়েছে দোসর,
বর্ষার মাঝে গুনছি মোরা
অমঙ্গলের প্রহর।
বাইরে করোনা,ভিতরে ডেঙ্গি
বিষম বিড়ম্বনা,
কিভাবে চলবো,কিভাবে কাটাবো
নেইতো মোদের জানা।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বাংলার তিন অধ্যায়
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
রচনাকাল ০৭.০৬.২০২০। কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরের "করোনা ভাইরাস ও পরিযায়ী শ্রমিকের দেয়ালিকায়" এই কবিতাটি
"বয়স্করা ঘরেই থাকুন" শিরোনামে পড়তে  
এখানে ক্লিক করুন . . .
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৬.২০২০।

করোনার অভিশাপে পরিজন
কেহ কাছে নাই।
সংক্রমণ,মৃত্যুমিছিল নিত্যসঙ্গী
হোয়ে আছে তাই।
জীবন,জীবিকার নির্বাচনে
মোরা আজ বিভ্রান্ত।
বাঁচার লড়াইয়ে লড়তে গিয়ে
আমরা হয়েছি ক্লান্ত।
ব্যাবসার মন্দার সাথে
কোপ পড়েছে পকেটে।
দুর্দশার কথা ভেবে
ভাঁজ পড়ছে ললাটে।

এমন সময়ে কোথা থেকে এলে,
হে অচেনা আমফান।
করোনার সাথে নিমেষের মাঝে,
করে দিলে সব খানখান।
সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ,
পৃথিবীর বিষ্ময়,
ঘূর্ণাবর্তে অবলীলাক্রমে
সবই করিলে ক্ষয়।
হাজার হাজার অসহায় লোক
ফেলছে দীর্ঘশ্বাস,
আর্তনাদের মাঝে ওদের
নেই কোন আশ্বাস।
কলকাতার মাঝেও তুমি,
রেখে গেলে গ্রাস।
উপহার দিলে তুমি,
সবুজের লাশ।

মোরা কাজ করি
,দেশ থেকে দেশান্তরে,
ঠিকানা একটা আছে
যাহোক দেশের অন্দরে।
দেশ গড়ি,রাস্তা গড়ি,
থাকি সদাই ব্যাস্ত,
পরিচায়ী শ্রমিক মোরা,
নই মোরা ব্রাত্য।
লকডাউনের জন্য আজ
বন্ধ আছে দেশ,
ফিরতে হবে ঘরে এবার
এটাই নির্দেশ।
কেমন করে ফিরব মোরা
কেও তো জানে না,
বাধ্য হয়ে বেছে নিয়েছি
যে পথ অজানা।
পরিশেষে সরকার এলেন
মোদের মাঝে,
ফেরাবার চেষ্টা হোল আসছি
বাড়ির কাছে।
আসা যাওয়ার বিবরনে
কেও দেবে না কান,
এসেও ঘরে থাকা যাবে না
সেটাই ফরমান।
দুঃখে আছি,কষ্টে আছি,
মোরা সর্বস্বান্ত,
খাবার নেই,কাজ পাবোনা
আমরা খুব ক্লান্ত।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
"করোনা" কে ভয় করো না
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
রচনাকাল ২৭.০৪.২০২০। কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরের "করোনা ভাইরাস ও পরিযায়ী শ্রমিকের দেয়ালিকায়" এই কবিতাটি
পড়তে  
এখানে ক্লিক করুন . . .। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৭.৪.২০২০।

"করোনা" কে ভয় করো না
শুনছি বারে বারে
মনের থেকে সরছে না ভয়
আছি অন্ধকারে।
কথা থেকে এলো এ আপদ
ভাবছে জগতবাসি
কূলকিনারা নেইকো কোথাও
ভাষণ রাশি রাশি।
উৎস যদি হোত করোনার
আমাদের এই দেশে
করত কত বিদ্রুপ না জানি
কি না বলতো হেসে।
বিজ্ঞানের ধ্বজাধারী
আছে যে সব দেশ
মুখ পুড়েছে তাদের সবার
শুধু বাড়াচ্ছে ক্লেশ।
বিজ্ঞানের জয়যাত্রা
একেবারে স্তব্ধ
নিত্য নতুন তত্ত্বে
হয়নি করোনা জব্দ।
পরমাণু বোমা, মিসাইল আর
আরও কতনা কান্ড
অজানা,অচেনা তুমি হে করোনা
সবই করলে পন্ড।
জব্দ করেছ,স্তব্ধ করেছ
করেছ সঙ্গীহীন
মাস্ক পরিধানে বাধ্য করলে
হলাম অর্বাচীন।
অভিশাপের মাঝেও যে পাই
আশীর্বাদের বাণী
সজীব করলে জগৎটাকে
এ কথা আমরা মানি।
চিড়িয়াখানায় পশুরা যেমন
থাকে জালে বদ্ধ
লক ডাউনের কৃপায় আমরা
তেমনি হলাম জব্দ।
কাজের জায়গায় না গিয়েও
কাজকে করেছি রপ্ত
ধনীদের চেয়ে দেখছি
গরীবরা পাকাপোক্ত।
মুনি,ঋষি,পণ্ডিতদের
ভান্ডার হয়েছে শূণ্য
স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজের বাহারে
হয়েছেন অনন্য।
ফিরে যাও হে করোনা
আর দেখিও না শক্তি
মুক্ত করে দাও আমাদের
হোক আমাদের স্বস্তি।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বৃদ্ধকাল
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
রচনাকাল ২৫.০৭.২০২০। কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১
.৭.২০২২।

জীবনের ধারা থামে না সে ,চলে অন্তহীন বেগে
বৃদ্ধকাল আসে অবশেষে
সে তো নহে মূল্যহীন,এসেছে সে উপহার রূপে
মন ভরে নুতন আবেগে।
মুক্ত হয় সমস্ত বেদনা
শেষ হয় সমস্ত যন্ত্রনা,
"বুড়োবুড়ির" নামে, আজ নয় পরিচয়
"প্রবীণ নাগরিক" রূপে হয়েছে উদয়।

"বার্ধকের বারাণসী" অসত্য এ তথ্য ছিল জানি
অহরহ ছিল প্রবঞ্চনা
"আশিতে আসিও না" সত্য নহে এ যুগে সে বাণী
নিঃশেষ হয়েছে সে বঞ্চনা।
রোগ, জ্বালা, ব্যাধি যত শত
সে আজিকে হয়ে গেছে গত
চিকিৎসার মাঝে, পূরণ হয়েছে আশা
গ্রহণ করেছি তা, এনেছে নুতন দিশা।

অতীতের সব জ্বালা,সব দুঃখ সমস্ত দুর্ভোগ
নিত্য যাহা বাজিত যে সুর
কেটে গেছে অন্ধকার, এসেছে নুতন সুযোগ
দুঃখ কষ্ট হয়ে গেছে দুর।
সর্বদাই সাড়া দেয় প্রাণে
হাসি খুশি থাকি আনমনে
চিন্তা নেই , বাধা নেই,নেই কোন হতাশা
বন্ধু বান্ধব সাথে মিশি, থাকে ভালোবাসা।

"জীবন শুরু হয় ষাটের পরে" এই বার্তা ছিল মনে
সেই তত্ত্ব মানিনি তো আগে,
জীবনের সাহান্যের পুণ্যলগ্নে, অন্তিম লগনে
ইহা সত্য তাই মনে জাগে।
তাড়া নেই,নেই কোন কাজ,
ইচ্ছা যাহা করি নাহি লাজ
বৃদ্ধকাল, সে যেন আজ মধুর অধ্যায়
স্নেহভরে বাঁধিব তারে পরম শ্রদ্ধায়।

পুত্র কন্যা সংসারেতে কর্মযোগে ব্যস্ত থাকে তারা
যে জীবন কাটিয়েছি আমি,
সময় খুবই কম তাহাদের কথা বলিবার
সময়ের মূল্য খুব দামী।
ভুলে যাই পুরাতন ব্যাথা
মনে জাগে সুমধুর কথা,
পুত্র, কন্যা, নাতি নাতনী, পরিজন মাঝে
কেটে যাবে এ জীবন আনন্দের সাথে।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর