.
.
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে!
This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
.            প্রতিবাদী
.        কবিতার
.    আগের
পাতায় যেতে
.    এখানে.
.
        ক্লিক
.               করুন
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার জেলের,
যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম
নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মিলনসাগরের এই প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার কবিদের সাজানো
হয়েছে পাতার পর পাতা কালানুক্রমিকভাবে বাঁ থেকে ডান দিকে।
পাঠকের সুবিধার জন্য কবিদের সূচীটি বর্ণানুক্রমিক রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার সূচীতে যেতে >>>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এই পাতার প্রতিবাদী কবিরা ---
প্রতুল মুখোপাধ্যায় (১৭)
পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় (২)
রত্না ভট্টাচার্য (১)
গাজী মাজহারুল আনোয়ার (১)
উৎপল সাহা (১)
অমৃত মিত্র (২)
তুষিত মৈত্র (১)
দিলীপ কুমার বসু (৭)
মালিনী ভট্টাচার্য (১)  
স্নিগ্ধা বন্দ্যোপাধ্যায় (১)
গীতা চট্টোপাধ্যায় (২)
শীলা চক্রবর্তী (৩)
জিয়াদ আলি (১)
সর্দার আমজাদ আলী (১)
সৃজন সেন (৫)
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (২)
শুভেন্দু মাইতি (২)
সুনীতি দেবনাথ (১)
পিয়াসা দাশগুপ্ত (১)
মুরারি মুখোপাধ্যায় (৩)
মেঘনাদ (৯)
পিনাকেশ সরকার (১)
নির্মলেন্দু গুণ (২)  
মিহির চৌধুরী (২)
প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী (৫)
তড়িৎ দাশগুপ্ত (৩)
অজয় চট্টোপাধ্যায় (১)
প্রণব রায়চৌধুরী (১)
আশুতোষ মজুমদার (১)
আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই,
আমি আমার আমিকে চিরদিন এই বাংলায় খুঁজে পাই
আমি বাংলায় দেখি স্বপ্ন, আমি বাংলায় বাঁধি সুর
আমি এই বাংলার মায়াভরা পথে হেঁটেছি এতটা দূর
বাংলা আমার জীবনানন্দ বাংলা প্রাণের সুখ
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।

আমি বাংলায় কথা কই, আমি বাংলার কথা কই
আমি বাংলায় ভাসি, বাংলায় হাসি, বাংলায় জেগে রই
আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
আমি সব দেখে শুনে ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিত্কার
বাংলা আমার দৃপ্ত স্লোগান ক্ষিপ্ত তীর ধনুক,
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।

আমি বাংলায় ভালবাসি, আমি বাংলাকে ভালবাসি
আমি তারি হাত ধরে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে আসি
আমি যা'কিছু মহান বরণ করেছি বিনম্র শ্রদ্ধায়
মেশে তেরো নদী সাত সাগরের জল গঙ্গায় পদ্মায়
বাংলা আমার তৃষ্ণার জল তৃপ্ত শেষ চুমুক
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আমি বাংলায় গান গাই
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। বাংলা ভাষার আজ এই চূড়ান্ত দুর্দিনে, এই গানটির চেয়ে বেশী শক্তিশালী প্রতিবাদী গান আর
কয়টি আছে? রচনাকাল ১৯৯৪ সাল। কবিকণ্ঠে গানটির ভিডিও, সৌজন্যে
Gathani Music YouTube Channel.
.
.
.
মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার
. . . . পরের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন
প্রতিবাদী            .
কবিতার        .
পরের    .
পাতায় যেতে
এখানে    .
ক্লিক         .
করুন              .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার জেলের,
যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম
নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মিলনসাগরের এই প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার কবিদের সাজানো
হয়েছে পাতার পর পাতা কালানুক্রমিকভাবে বাঁ থেকে ডান দিকে।
পাঠকের সুবিধার জন্য কবিদের সূচীটি বর্ণানুক্রমিক রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার সূচীতে যেতে >>>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার
আগের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ডিঙা ভাসাও সাগরে সাধী রে, ডিঙা ভাসাও সাগরে
পূবের আকাশ রাঙা হ'ল সাথী, ঘুমায়ো না আর জাগো রে
ডাঙার টানে পরাণ ছিল বাঁধা কেন রে বন্ধু এতোকাল
গরজি গুমরি ডাকে শোনো ওই তরঙ্গ উথাল পাথাল
পাল তুলে দাও, হাল ধর হাতে দুস্তর সাগর হবো পার
জাগায়ে মাতন ঢেউয়ের নাচন, মরণ বাঁচন একাকার।
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ডিঙা ভাসাও
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গানটি শুনুন, সৌজন্যে Dinga Bhashao - mh
music
archive - Indian, Legend YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মুক্ত হবে প্রিয় মাতৃভূমি
সেদিন সুদুর নয় আর -
দেখ লাল সূর্যের আলোয় লাল
পূর্ব সমুদ্রের পার।
সে আলো ছড়ায় দিগ্বিদিকে
কেটে যায় রাতের আঁধার।
লাল সূর্যের আলোকধারায়
করবে মাতৃভূমি মুক্তির স্নান,
উঠবে গেয়ে মুক্তির গান
যুগ যুগ নিপীড়িত মজুর কিষান।
উড়বে হাওয়ায় আকাশছোঁয়া
গৌরব উজ্জ্বল রক্তনিশান -
সেই আলোভরা দিন আনতে হবে
ঢাল কমরেড সব শক্তি তোমার।
মুক্ত হবে প্রিয় মাতৃভূমি
সেদিন সুদুর নয় আর
মহান ভারতের জনতা মহান -
ভারত হবেই জনতার।
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মুক্ত হবে প্রিয় মাতৃভূমি
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গানটি শুনুন, সৌজন্যে Lal Salam YouTube
Channel.  
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এই তপ্ত অশ্রু দিক শক্তি
এই শোকের আগুন জ্বালাক দ্বিগুণ
চিরশত্রুর পরে ঘৃণার আগুন
জ্বলুক জ্বলুক দাবানল।
দাবানল জ্বলুক দাবানল ----
দিকে দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ুক
বিপ্লবের  দাবানল।

শোনো শহীদের ডাক              সাহসী হও
সংগ্রামের পথে                     সাহসী হও
হাজার বাধার মুখে                সাহসী হও
আত্মত্যাগের পথে                 সাহসী হও
উন্নতশির চল জয়যাত্রায়
হও মুক্তিপণে অবিচল।
দাবানল জ্বলুক ------
সামনে মোদের কত বীর শহীদ
মুক্তিযুদ্ধে দিল জীবনবলি
এস তাদের পতাকা তুলে উর্দ্ধে’ তাদেরই
রক্ত চিহ্ন ধরে এগিয়ে চলি।
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এই তপ্ত অশ্রু দিক শক্তি
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত “যুদ্ধ জয়ের গান”
থেকে নেওয়া। অনুপ্রেরণা থাকিন থান টুন, মাও-সে-তুঙ।
.
শোনো শহীদের ডাক             সাহসী হও
সংগ্রামের পথে                    সাহসী হও
হাজার বাধার মুখে               সাহসী হও
আত্মত্যাগের পথে                সাহসী হও
উন্নতিশির চল জয়যাত্রায়
হও মুক্তিপণে অবিচল
দাবানল জলুক।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
দেশে নববিধান----
দেশে নববিধান আসিতেছে জননী সাবধান
তিন সন্তানের জন্ম দিলেই চরম অপমান
আর উপায়ও নেই-----

আর উপায় ত নেই, মায়ের কাজে সবেতন ছুটি
বারবার দু বারের পর হবেনাত উটি
এবার বুঝবে ঠেলা----

এবার বঝবে ঠেলা সারাবেলা খেটে খেটে মরে
বাচ্চা বাড়ুক পেটে কিংবা কাঁদুক ঘরে
নইলে মাইনে কাটা

নইলে মাইনে কাটা শুকনো ডাটা চিবাও শুকনো মুখে
দেশের ভালো বুঝবে না তো, শেখো থেকে ভুখে
তারা যা খুশি তাই----

তারা যা খুশি তাই করতে পারে পুরুষ মহারাজ
তারা করবে শাসন, জন্মশাসন সেটা তোমার কাজ
খাও জড়িবুটি ইটিউটি যা হয় তা করো
সন্তান বন্ধ, ভ্রূণ বধ বা নিজে প্রাণে মরো
নইলে দেশের বিপদ
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
দেশে নববিধান  কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত
“যুদ্ধ জয়ের গান” থেকে নেওয়া। গানের প্রেরণা - মৈত্রেয়ী চট্টোপাধ্যায়। রচনা - ৮মার্চ ১৯৯৪। দেশের কোনো প্রদেশে সম্প্রতি ২টির
বেশী সন্তান হওয়াকে বন্ধ করার ঠিক এই রকম একটি আইন করার চেষ্টা দেখে বোঝা যায় গানটি এখনও কত প্রাসঙ্গিক!
.
নইলে দেশের বিপদ বাঁচার কি পথ নিজেরা শেখালো
গরীবগুলো যত কমে দেশের তত ভালো
জয় মালঘুসবাবা বোকাহাবা বুঝেছি এই সত্য
গরীব দেশে চান তোমার পচাগলা তত্ত্ব
আহা গরীব মরুক

আহা গরীব মরুক ধনী বাঁচুক কথা চাছাছোলা
গান ফুরাল এবার চলো খাই কোকাকোলা, এই শেয়ালদায়
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মায়ের জাত বোনের জাত
প্রিয়ের জাত ঝিয়ের জাত
মেয়েছেলে মেয়েমানুষ
.           ও সব বুলি থাক
ওদের মানুষ বলে ভাবছে কারা
.                 সেটাই দেখা যাক।
আহা নয়, উহু নয়
অশ্রু মুহুর্মুহু নয়
.           ও সব তোলা থাক
ওদের যন্ত্রণাটা বুঝছে কারা
.           সেটাই বোঝা যাক।
নারী ত বেচারী নয়
দয়ার ভিখারী নয়
পড়তে যেমন জানে তেমন লড়তে জানে নারী
থাকবে কারা তাদের পাশে
.           জানাটা দরকারী।
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মায়ের জাত বোনের জাত
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত,
স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত “যুদ্ধ জয়ের গান” থেকে নেওয়া। রচনা - ৮মার্চ
১৯৯৫।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সাত দিন তার পেটে কিছুই পড়ে নি এক জল ছাড়া,
ভাতের জন্য কেঁদে কেঁদে যেদিন হল প্রাণহারা,
মরে বাঁচলো মেদনীপুরের, গাঁয়ের বৌ অঞ্চলা।
কোন অমানুষ বলতে পারে এমন মিথ্যা নির্জলা?
না খেয়ে সে মরবে কেন? ছিল না তার পেট খালি,
দেখা গেছে ফেল করেছে হৃৎপিণ্ড শ্বাসনালী
কী বলবো আর? এ রাজ্যতেই আছে এমন অসৎ লোক
চাইছে যারা এ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক
যতই চলুক ভুল প্রচার আর ওল্টাবে না জনমত
কৃষি মোদের ভিত্তি এবং শিল্প মোদের ভবিষ্যৎ!

খাদ্যটাদ্য ওসব নিয়ে রাজ্যে তো সমস্যা নেই,
দেশ গড়া চাই নতুন করে আসলে উদ্দেশ্য এই।
পুঁজিপতির মর্জিমাফিক নতুন করে শিল্পায়ন---
চাষের জমির জন্য এখন অশ্রুপাতের নেই কারণ!
যা চাইছে তা দিতে হবে, তোয়াজ একটু করতে হয়
নইলে তারা বসবে না তো এ রাজ্যে আর এটাই ভয়!
পুঁজিবাদের রাস্তা ধরেই এগোতে হয়, এটাই পথ
কৃষি মোদের ভিত্তি এবং শিল্প মোদের ভবিষ্যৎ
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কৃষি মোদের ভিত্তি এবং শিল্প মোদের ভবিষ্যৎ
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। পশ্চিম মেদিনীপুরের বিনপুর-২ ব্লকের অঞ্চলা প্রামাণিকের মৃত্যুর কথা মনে রেখে
লেখা। এই কবিতাটি কানোরিয়া জুট এন্ড ইন্ডাক্ট্রিজ লিমিটেড সংগ্রামী শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত, দোলা সেন সম্পাদিত,
“কানোরিয়ার পর সিঙ্গুর” পুস্তিকায় ১৭ নভেম্বর ২০০৬ এ প্রকাশিত।
.
খেতে পরতে থাকতে পাবে সুস্থ থাকবে গরীব সব,
শিক্ষা পাবে কাজও পাবে কতদিন আর চলবে ঢপ!
খরচ আছে, হ্যাপা আছে, তবুও সব নিন্দেবাজ
বলবে, এ তো করার কথাই, এ কি বলার মত কাজ?
দেশি পুঁজি, ফরেন পুঁজি --- সবাই এসো রাজ্যে আজ
তোমাদেরই টাকার খেলায় রাজ্য পরুক নতুন সাজ
শিল্প গড়ো, ব্যবসা করো, হোটেল, হাব আর শপিং মল
বলবে সবাই রাজ্যখানা বদলে হোল কী উজ্জ্বল
ধনীর মুখে ধন্য ধন্য শুনতে কিন্তু লাগছে বেশ
লালঝাণ্ডার তলায় কেমন পুঁজিঘোড়ার চলছে রেস
পুরনো দিন গেছে ঝারে, ফিরে পাচ্ছি মান ইজ্জত
কৃষি মোদের ভিত্তি এবং শিল্প মোদের ভবিষ্যৎ।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
স্বদেশ এখন ছাল ছোলা এক ছাগল
স্কন্ধকাটা উলটে আছে ঝুলে |
টেংড়ি সিনা রাং চাপ গর্দান---
কী চাই সেটা বলতে হবে খুলে |
মিলনসাগর.কম্ মিলনসাগর.কম্   
স্বদেশ বিক্রী হবে এমন ভাবে
বেশ খানিকটা "বিশেষ" হয়ে যাবে
বিশেষ নিয়ম বিশেষ অর্থনীতি
বিশেষ স্থান বিশেষ পরিচিতি |
মিলনসাগর.কম্ মিলনসাগর.কম্   
"বিশেষ" মানে বিদেশ বলা যায়
দেশের বিধান স্তব্ ধ  সে জায়গায় |
বিশ্বায়নের বাজনা উঠছে বেজে,
আসছে স্বদেশ SEZ এর সাজে সেজে |
মিলনসাগর.কম্ মিলনসাগর.কম্   
এখন শুধুই উন্নয়নের আর
ভোগের মন্ত্র, আর সব জান ভুলে
গরীব গুর্বো শেষ যদি হয় হোক
নতুন যুগের দুয়ার যাচ্ছে খুলে |
মিলনসাগর.কম্ মিলনসাগর.কম্   
কী বলছেন ? স্বদেশ হল মা---
কোথায় আছেন ? হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ !
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
স্বদেশ এখন
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। এই কবিতাটি 'পর্বান্তর' পত্রিকার মে-আগষ্ট ২০০৭
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
.
মিথ্যে আবেগ পোষেন কিসের জন্য---
বুঝতে হবে স্বদেশ হলো পণ্য |
মিলনসাগর.কম্ মিলনসাগর.কম্       
স্বদেশ এখন ছাল ছোলা এক ছাগল,
"গেলো, গেলো" কে জুড়ে দেয় কান্না,
স্বদেশ যাচ্ছে ধনপতির ডিসে,
কেমন সুবাস, কত রকম রান্না |
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
তিনি চলেন শিল্প গড়তে, দখল করে চাষের জমি।
বাগড়া দিচ্ছে বিরোধীরা, স্বভাব ওদের এরকমই।
জানা তো চাই, শুভকর্মের সমর্থনে আছেন কারা,
নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন, মানবপ্রেমিক ম্যকনামারা।
মানবপ্রেমিক? ও লোকটা তো ভিয়েতনামের মানুষ খুনী।
রাখেন না তো কোনো খবর, উনি এখন পরম গুণী।

উন্নয়নের ভাবনা নিয়ে তিনি থাকেন সদাই বিভোর।
ভুলতে হবে অতীত এখন, পুরোনো সব শেকড় বাকড়
উপড়ে তুলে ফেলতে হবে, এখন শুধুই এগিয়ে চলা।
পুঁজির সাথে সংস্কার চাই, শিখছি নতুন ছলাকলা।

মার্ক্স এঙ্গেলস লেনিন স্তালিন মাও গ্রামশি সবাই বাসি।
বাজার-রাজার রাজ্য জুড়ে বিশ্বায়নের বাজছে বাঁশি।
গ্রন্থেই থাক সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদের গাড়ি চড়ে
হাওয়ার দিকে না এগুলে মুখ থুবড়ে থাকব পড়ে।

দলের নামটা বদলাতে নেই, লাগবে কেমন ফাঁকা ফাঁকা,
রেখেই দিলাম লাল পতাকা, হাতুড়ি আর কাস্তে আঁকা।
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শুভকর্ম
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। এই কবিতাটি অরুণ ভট্টাচার্য
সম্পাদিত, “আকিঞ্চন” পত্রিকার আশ্বিন ১৪১৪ (সেপ্টেম্বর ২০০৭)
সংখ্যায়, সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
লগ্নি হবে? যাবেন কোথায়?
আসুন এখানেই!
পুঁজিপতির এমন গোলাম
আর কোত্থাও নেই।

আগে আসুন, চেপে বসুন,
টাকা দেবেন পরে।
শ্যস্য শ্যামল জমি দেব---
পোড়া ছাইয়ের দরে!
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
লগ্নি হবে? যাবেন কোথায়?
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। এই কবিতাটি কানোরিয়া জুট এন্ড ইন্ডাক্ট্রিজ
লিমিটেড সংগ্রামী শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত, দোলা সেন সম্পাদিত, “কানোরিয়ার
পর সিঙ্গুর” এর সংকলন-২ পুস্তিকায় ২১ ফেব্রুয়ারী ২০০৭ এ প্রকাশিত হয়েছিল।
.
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বৃহত্তর স্বার্থে তোদের উচিত সরে পড়া।
মূল সমস্যা দেখছি তোদের বাঁচতে ইচ্ছে করা।
উন্নয়নের নিয়মই এই, ব্যাপারটা তো সোজাই।
মরতেই হয় কয়েকজনকে, কেমন করে বোঝাই?
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বৃহত্তর স্বার্থে তোদের উচিত সরে পড়া
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। এই কবিতাটি কানোরিয়া জুট এন্ড ইন্ডাক্ট্রিজ
লিমিটেড সংগ্রামী শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত, দোলা সেন সম্পাদিত, “কানোরিয়ার
পর সিঙ্গুর” পুস্তিকায় ১৭ নভেম্বর ২০০৬ এ প্রকাশিত।
.
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আগে বলতাম, “খুব হুঁশিয়ার, ঘুরে বেড়ায় হায়না।
ঢুকলে পাড়ায়, খুন না করে বেরুতে আর চায় না।
দেখছি এখন, ভালোই তারা মানুষ টানুষ খায় না।
মারছে যাদের, তাদের তো ঠিক মানুষ বলা যায়না।
আগে বলতাম, "দূর হয়ে যা”, এখন বলি, “আয়না”।
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আগে বলতাম খুব হুঁশিয়ার, ঘুরে বেড়ায় হায়না
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। এই কবিতাটি কানোরিয়া জুট এন্ড ইন্ডাক্ট্রিজ
লিমিটেড সংগ্রামী শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত, দোলা সেন সম্পাদিত, “কানোরিয়ার
পর সিঙ্গুর” পুস্তিকায় ১৭ নভেম্বর ২০০৬ এ প্রকাশিত।
.
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পেতে ছিলাম জবর ফাঁদ
এবার কোথায় যাবে চাঁদ
কাজটা হোলো লোকও মোলো
(তোল এবার ফয়দা তোল
দলের হবে দুগুণ বল
খুঁচিয়ে আনো চোখের জল
পথে এবার নামো সাথী
হাতে নিয়ে মোমবাতি।
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পেতে ছিলাম জবর ফাঁদ
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। পশ্চিম মেদিনীপুরের সরদিহা এবং
খেমশুলির মাঝে ২৮.৫.২০১০ তারিখের জ্ঞানেশ্বরী রেল দুর্ঘটনার পর লেখা।
এই দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ মারা যান।
.
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
লড়াই করো, লড়াই করো, লড়াই করো, লড়াই
যতদিন না বিজয়ী হও
যদি একবার হারো, বারবার লড়ো,
বারবার লড়ো, বারবার
যতদিন না বিজয়ী হও

কিসের ভয়, হবেই জয়
দূর করে ফেলো যত সংশয়
এবার তৈরি হও
এই তো যুক্তি জনগণের
এ পথে মুক্তি জনগণের
অমিত শক্তি জনগণের
তুমি তো তাদেরই একজন
তুমি একাকী কখনও নও

তাদেরই সঙ্গে এক হয়ে আজ মুক্তি শপথ নাও
যুদ্ধে শামিল হও আজ, যুদ্ধে শামিল হও
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
লড়াই করো, লড়াই করো, লড়াই করো
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। কবিকণ্ঠে গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে Inzamamul Haque YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
দেশের লোকে শুকিয়ে মরুক, দেশ এগিয়ে চলেছে
দেশের লোকে যাকগে চুলোয়,  দেশ এগিয়ে চলছে।

রাজধানীতে এবার জব্বর খেলার আসর বসেছে
জাঁকজমক দেখাতে রাণী সাদা হাতি পুষেছে।
দেশের-----

খানদানী রাজধানী এবার নতুন সাজে সেজেছে
দেশ জুড়ে লেগেছে মোচ্ছব, ঢাকের বাদ্যি বেজেছে।

ভিখিরিরা রইল জেলে বুলডোজারে ঝোপড়া সাফ,
সায়েব বলে ‘বিউটিফুল’ আর গরীব বলে ‘বাপরে বাপ’।

লাখ লাখ বেকার ভুখা মানুষ শুনতে লাগে এক ঘেঁয়ে
রঙ তামাসা কাকে বলে ড্যাবডেবিয়ে দেখ্ চেয়ে।

কে বলে বিদেশীর চোখে মোদের দেশের নাই সম্মান
শুনছ, সবাই বলছে সাব্বাস, এবার তো জুড়োলো প্রাণ?

চাষীর জমি জবরদখল, এশিয়াড ভিলেজ বসেছে
হক্কের পাওনা চাইতে কিষান বুড়ো আঙুল চুষেছে।
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এশিয়াড---’৮২  কথা -- প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত “যুদ্ধ জয়ের গান” থেকে নেওয়া। রচনা - নভেম্বর ১৯৮২।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
ইন্দ্রপ্রস্থ গড়তে মজদুর মরণের সাথে যুঝেছে
কঠিন শ্রমের বিকল্প নাই হাড়ে হাড়ে বুঝেছে

ভারী ওজন তুলতে মরে রাজস্থানের মীরা বাঈ
আরো কত মরল এমন, বাবুদের খাতায় হিসাব নাই।

কত মজদুর হাড়গোড় ভেঙে গ্রামে ফিরে এসেছে।
ক্ষতিপূরণ? সে আবার কি? কন্ট্রাক্টরে হেসেছে।

খোলা মাঠে, নালার ধারে মজদুরগুলোর দিন কাটে,
জল কথাও নেই, তেষ্টা পেলে ডোবার সবুজ জল চাটে।

সবচে’ কম মজুরীর কথা  আইনের বইয়ে রয়েছে
সেই মজুরী চাইতে মজদুর পুলিশের লাঠি খেয়েছে।

( বাঘা ) কারবারী আর আমলা মিলে পুকুরচুরি করেছে,
তেলা মাথা তেলে জবজব ভুঁড়োর ভুঁড়ি বেড়েছে।

( আহা ) এমন আনন্দের দিনে তুলোনা বেসুরো তান
দেখো দেশের ভাবমূর্তি কভু যেন হয়না ম্লান।

( ভাবো ) কত বড়ো লাভ হল এই এশিয়াডের শিক্ষাতে
নওজোআনের মাতন এবার বইবে দেখো ঠিক খাতে।
খেলার কথায় মাতোরে ভাই, তাতেই নেশা তাতেই প্রাণ
ভুখা গরীবের বোবা কান্নায় কক্ষনো পেতোনা কান।

খেরারই ময়দানে মাতো খুব কষে দাও হাততালি
লড়াইয়ের ময়দানে গেলেই তোমার জন্যে জেল খালি।

সরকারের করো জয়জয়াকার, নাচো সবাই হাত তুলে
সবার আগে দেশের সম্মান, তুচ্ছ ব্যাপার যাও ভুলে।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ঘর পুড়েছে সব গিয়েছে বলেন তো যাই কোথা?
দেশের বড় শত্রু এখন সাম্প্রদায়িকতা !
সাম্প্রদায়িকতা দূর হোক সাম্প্রদায়িকতা
সব চেয়ে বড় শত্রু এখন সাম্প্রদায়িকতা
জনগণের কাছে আমরা রাখছি আবেদন
রুখুন সাম্প্রদায়িকতা একসাথে প্রাণপণ।
নেতারা সব ভাষণ দিচ্ছেন ময়দানে মিনারে,
বুদ্ধিজীবী ব্যস্ত এখন ওয়ার্কশপ সেমিনারে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে কী করে যায় আনা?
--- শোনপাপড়ি না কি বললেন, তা দেন না দু’চারখানা।
যুগ যুগ সঞ্চিত বিষ দূর করা দরকার
করতে হবে নতুন করে চেতনা সঞ্চার।
চেতনা সঞ্চার নতুন চেতনা সঞ্চার
জনগণের মধ্যে নতুন চেতনা সঞ্চার
কোথা থেকে এল কী করে হয় দূর ?
এ বিষয়ে অসংখ্য মত, বিতর্ক প্রচুর।
ব্যাপারটাকে দেখতে হবে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে ---
কী হবে আর দেখে শুনে না খেয়ে প্রাণ গেলে
আপনারা ঐ দেখাদেখি ভাবাভাবি করুন
চলেছি ভাত রুটির খোঁজে, এবার সরে পড়ুন।
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ঘর পুড়েছে সব গিয়েছে বলেন তো যাই কোথা?
কথা - কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত “যুদ্ধ জয়ের
গান” থেকে নেওয়া। রচনা - ১৭.১.১৯৯৩।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
মুখ্যু মানুষ, তবু বলি, বুঝতে চান তো বুঝুন
বিষ যদি বা থাকে সেটা অন্য কোথাও খুঁজুন।
কার পকেটে বিষের প্যাকেট, আমরা সেটা জানি।
কার ইশারায় সারা দেশে চলল হানাহানি ?
খুঁজতে থাকুন, আমরা কিন্তু দেখছি পরিস্কার
আচ্ছা তবে আসুন, খোদা হাফিজ, নমস্কার।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
জন্মিলে মরিতে হবে এ এ জানেতো সবাই
তবু মরনে মরনে অনেক ফারাক আছে ভাই রে
সব মরন নয় সমান, সব মরন নয় সমান
জন্মিলে মরিতে হবে এ এ জানেতো সবাই
তবু মরনে মরনে অনেক ফারাক আছে ভাই রে
সব মরন নয় সমান,সব মরন নয় সমান।
রক্তচোষার উস্কানিতে, জনতার দুষমনিতে
রক্তচোষার উস্কানিতে, জনতার দুষমনিতে
সারা জীবন গেলে কেটে মরণ যদি আসে
সেই মরণের ভার দেখে ভাই পাখির পালক হাসে রে
সব মরন নয় সমান, সব মরন নয় সমান।
জীবনো উসর্গ করে,সব হারা জনতার তরে
মরণ যদি হয়, ওরে তাহার ভারে হার মানে ঐ পাহাড়
হিমালয়।
সব মরন নয় সমান, সব মরন নয় সমান।
জন্মিলে মরিতে হবে এ এ জানেতো সবাই
তবু মরনে মরনে অনেক ফারাক আছে ভাই রে
সব মরন নয় সমান, সব মরন নয় সমান।
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
জন্মিলে মরিতে হবে কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)।
আমরা কৃতজ্ঞ “বাঁধ ভাঙার আওয়াজ” ব্লগের কাছে যেখান থেকে আমরা এই
কবিতাটি পেয়েছি। সেই ব্লগে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
চেয়ে দেখো আজ
ভারতের গ্রামে গ্রামে মুক্তির সংগ্রামে
লাখো লাখো কিসান
আসছে, চেয়ে দেখো আজ
ভারতের গ্রামে গ্রামে মুক্তির সংগ্রামে
লাখো সাখো কিসান
আসছে, চেয়ে দেখো আজ
ঝড় আসছে ঝড় আসছে
কিষাণ বিদ্রোহের ঝড় আসছে
ঝড় আসছে ঝড় আসছে
কিষাণ বিদ্রোহে ঝড় আসছে
শত বাধা দূরে ঠেলে
জীর্ণকে ছুঁড়ে ফেলে
প্রচণ্ড ঘূর্ণি তুফান
আসছে, চেয়ে দেখো আজ

মারমুখী হয়ে আজ জঙ্গী কিসান
ভাঙ্গে বন্দীকারা ওড়ে রক্ত নিশান
মারমুখী হয়ে আজ জঙ্গী কিসান
ভাঙ্গে বন্দী কারা ওড়ে রক্ত নিশান
মুছে দিতে শোষণের শেষ চিহ্ন আজ
জেগে ওঠে লক্ষ মারণজয়ী গান
কবি প্রতুল
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
চেয়ে দেখো আজ কথা ও সুর - কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪২)। কণ্ঠ - পল্লব কীর্ত্তনীয়া ও অন্যান্য। শতরূপা স্যান্যাল পরিচালিত
"আততায়ী" ছবির গান। প্রায় ৫০ বছর আগে নির্মিত এ গান আজ এই বিশ্বায়নের যুগে আরও তীব্রভাবে সমসাময়িক। কৃতজ্ঞতা,  অ্যাঞ্জেল ভিডিও।
ভিডিওটি সৌজন্যে
Pallab Kirtania YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
মুছে দিতে শোষণের শেষ চিহ্ন আজ
জেগে ওঠে লক্ষ মারণজয়ী গান
দিন আসছে দিন আসছে
অত্যাচারের শেষ দিন আসছে
দিন আসছে দিন আসছে
অত্যাচারের শেষ দিন আসছে
বিপ্লবী সাথীদের কাছে তাই কিষাণের
সংগ্রামী আহ্বান
আসছে চেয়ে দেখো আজ
“বন্ধু কোরো না দেরী উত্তর দাও
আজ বলতে হবে তুমি কোন পথ চাও
বন্ধু কোরো না দেরী উত্তর দাও
আজ বলতে হবে তুমি কোন পথ চাও
আমাদের সাথে থেকে শক্তি যোগাবে নাকি
শুরু হবে চীৎকার --- থামাও থামাও?”
থামবে না সংগ্রাম যে যাই জানুক
মরিয়া শত্রু যত আঘাত আনুক
শঙ্কিত নয় আজ জঙ্গী কিষাণ
আছে বন্দুক বল্লম তীর ধনুক।

ঢেউ আসছে ঢেউ আসছে
বিপ্লবী চেতনায় ঢেউ আসছে
ঢেউ আসছে ঢেউ আসছে
বিপ্লবী চেতনায় ঢেউ আসছে
শোষণের বাঁধ ভাঙে
জল ভরা মরা গাঙে
উদ্দাম জীবনের বান
আসছে চেয়ে দেখো আজ
ভারতের গ্রামে গ্রামে মুক্তির সংগ্রামে
লাখো লাখো কিসান
আসছে, চেয়ে দেখো আজ
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পায়ের নিচে ফুঁসছে মাটি
মাথার ওপর রক্তমাখা আকাশ
তাকাস, তোরা যাত্রাপথে মাথার ওপর তাকাস

এক একটা ঝড় বজ্র হানে হেই ঈশানে, হুই ঈশানে
এক একটা ঝড় উপড়ে ফেলে টেলিগ্রাফের তার
জাতগোলামীর শেকল ছিঁড়ে উপদ্রুত টিলার ধারে
গলছে বরফ, হেই সামালো, হেই উঠেছে অধিকারের ঝড়
সশস্ত্র হাত উপড়োতে চায়, উপড়োতে চায় দুঃশাসনের গড়
সেইখানে তার জয়
সেইখানে তার মানুষ নামের আসল পরিচয়

.        রক্তে মানুষ সাচ্চা যদি
.        তুফানে ধায় রক্ত নদী
.        চোখ জ্বালিয়ে আঁধার জ্বালে
.        তার দু’ চোখে অন্ধকারের ক্ষয়
.        নইলে মানুষ, শুধুই মানুষ, মাছির চেয়ে কানা
.        নইলে মানুষ, শুধুই মানুষ, জুতোর তলায় কাদা

পায়ের নিচে ফুঁসছে মাটি
মাথার ওপর রক্তমাখা আকাশ
তাকাস, তোরা যাত্রাপথে মাথার ওপর তাকাস।
কবি পার্থ
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
দিন আসছে কথা - কবি পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় (৩১.১.১৯৪৩ - ১৭.৩.২০৫)। সুর - মলয়
মুখোপাধ্যায়।২০১২ সালে প্রকাশিত, জসি বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত “গণবিষাণের
গানের স্বরলিপি ১৯৭৭ থেকে ২০১১” সংকলনের গান।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সুজলা সুফলা ব’লে কার জন্মভূমি খ্যাত !
তুমি শুধু নির্মমতা দেখেছো দু’বেলা।
দুধের শিশুকে দুধ দিতে গিয়ে তবু
নারীও দেখেছে তার বুকের কলসে আর দুধ নেই,
.                         যা আছে তা বিষ শু---ধু বিষ !

পবিত্র গঙ্গার জলে ভেসে যায় নীল শিশু
ভেসে যায় আত্মনাশা ক্ষুধার শরীর।
কবি পার্থ
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কার জন্মভূমি!
কথা - কবি পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় (৩১.১.১৯৪৩ - ১৭.৩.২০৫)।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
প্রাণের সবুজে অনাগত কুঁড়ি কথা কয়
আমরা করবো জয়
আসে এ নতুন দিনের বার্তা
এবার শুরু জয়যাত্রা॥

আমাদের মাঠে মাঠে আজ বিদ্রোহ ফসলে ফসলে
বিক্ষোভ জেগে ওঠে যন্ত্রে যন্ত্রে
আজ কারখানা কলে
রক্তে রক্তে আজ বিদ্যুৎ বেগ প্রতি ধমনীতে
থর থর কম্পন জাগে আজ
পুরাতন পৃথিবীর মাটিতে মাটিতে
প্রাণের শপথে নতুন প্রভাত কথা কয়
শেকল ছেঁড়ার গানে চারিদিকে ওঠে কলতান
গোলামীর হবে অবসান॥

বাঁচার শপথে কোটী প্রাণ আজ সংহত
মৃত্যুকে মেরে মেরে প্রতিদিন করি প্রতিহত
মুক্তির লাল ফুল বিপ্লবী ডালে ডালে শত শত
ভাবীকাল আমাদের শক্র হবেই পরাজিত
আমাদের হাতে নূতন ইতিহাস কথা কয়
আসে ঐ নতুন দিনের বার্তা
এবার শুরু জয়যাত্রা॥
কবি রত্না ভট্টাচার্য
প্রাণের সবুজে অনাগত কুঁড়ি কথা কয় কথা ও সুর - কবি
রত্না ভট্টাচার্য (জন্মকাল অজ্ঞাত)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
জয় বাংলা বাংলার জয়
জয় বাংলা বাংলার জয়
হবে হবে হবে হবে নিশ্চয়
কোটি প্রাণ এক সাথে জেগেছে অন্ধ রাতে
নতুন সূর্য ওঠার এই তো সময়
জয় বাংলা বাংলার জয়
জয় বাংলা বাংলার জয়

বাংলার প্রতি ঘর ভরে দিতে চাই
মোরা অন্নে, অন্নে
আমাদের রক্ত টগবগ দুলছে
মুক্তির দীপ্ত তারুণ্যে, তারুণ্যে
এই পথ
হয় হোক রক্তের প্রচ্ছদপট
হয় হোক রক্তের প্রচ্ছদপট
তবু করি না করি না করি না ভয়
জয় বাংলা বাংলার জয়
জয় বাংলা বাংলার জয়

অশথের ছায়ে যেন রাখালের বাঁশরি
হয়ে গেছে একেবারে স্তব্ধ
চারিদিকে শুনি আজ নিদারুণ হাহাকার
আর ঐ কান্নার শব্দ
কবি
গাজী মাজহারুল
আনোয়ার
জয় বাংলা বাংলার জয় গাজী মাজহারুল আনোয়ার (জন্ম ২২.২.১৯৪৩)। সুর - আনোয়ার পারভেজ। সমবেত অজ্ঞাত কণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি
সৌজন্যে
Golden Song Lyrics YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
অশথের ছায়ে যেন রাখালের বাঁশরি
হয়ে গেছে একেবারে স্তব্ধ
চারিদিকে শুনি আজ নিদারুণ হাহাকার
আর ঐ কান্নার শব্দ
শাসনের নামে চলে শোষণের  সুকঠিন যন্ত্র, যন্ত্র
বজ্রের হুংকারে শৃঙ্খল ভাঙতে
সংগ্রামী জনতা অতন্দ্র, অতন্দ্র, আর নয়---
তিলে তিলে বাঙালির এই পরাজয়
তিলে তিলে বাঙালির এই পরাজয়
আর করি না করি না করি না ভয়
জয় বাংলা বাংলার জয়
জয় বাংলা বাংলার জয়
ভুখা আর বেকারের মিছিলটা যেন ওই
দিন দিন শুধু বেড়ে যাচ্ছে
রোদে পুড়ে জলে ভিজে অসহায় হয়ে আজ
ফুটপাথে তারা ঠাঁই পাচ্ছে
ভুখা আর বেকারের মিছিলটা যেন ওই
দিন দিন শুধু বেড়ে যাচ্ছে
রোদে পুড়ে জলে ভিজে অসহায় হয়ে আজ
ফুটপাথে তারা ঠাঁই পাচ্ছে
বার বার ঘুঘু এসে খেয়ে যেতে দেবো নাকো
আর ধান, আর ধান
বাংলার দুশমন তোষামোদী-চাটুকার
সাবধান সাধান সাবধান, এই দিন---
সৃষ্টির উল্লাসে হবে রঙিন
সৃষ্টির উল্লাসে হবে রঙিন
তাই মানি না মানি না কোনও সংশয়
জয় বাংলা বাংলার জয়
জয় বাংলা বাংলার জয়

মায়েদের বুকে আজ শিশুদের দুধ নেই
অনাহারে তাই শিশু কাঁদছে
গরীবের পেটে আজ ভাত নেই ভাত নেই
দ্বারে দ্বারে তাই ছুটে যাচ্ছে
মায়েদের বুকে আজ শিশুদের দুধ নেই
অনাহারে তাই শিশু কাঁদছে
গরীবের পেটে আজ ভাত নেই ভাত নেই
দ্বারে দ্বারে তাই ছুটে যাচ্ছে
মা-বোনের পরণে কাপড়ের লেশ নেই
লজ্জায় কেঁদে কেঁদে ফিরছে, ফিরছে
ওষুধের অভাবে প্রতিটি ঘরে ঘরে
রোগে শোকে ধুঁকে ধুঁকে মরছে
অন্য চাই বস্ত্র চাই বাঁচার মত বাঁচতে চাই
অত্যাচারী শোষকেরা---
মুক্তি নাই মুক্তি নাই মুক্তি নাই
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওরা যদি অপরাধী হয়
আমরা
আমরা সবাই অপরাধী
এখানে সটান দাঁড়িয়ে বলছি শোনো :

ওরা যাদের ঘৃণা করে
তাদের অভিশাপ দিই আমরা প্রতিদিন
ঘৃণা করি আর ঘনিয়ে আনতে তাদের ধ্বংস
প্রতিদিন আমরা এগিয়ে যাচ্ছি দ্রুত

যা কিছু প্রাচীন আর ভয়াল
ঝকঝকে দাঁতে সাজানো চোয়াল ওরা লোপাট করতে চেয়েছিল
আর যা কিছু নতুন করে গড়তে
আমাদের আঙুলে আঙুলে কাঁপছে সে শপথ

ওরা যদি অপরাধী হয়
আরো স্পষ্ট করে বলি শোনো :
ঘৃণা করি বিচারের প্রহসন
আর এখানে বিচারক কোটি জনতা।
কবি উৎপল সাহা
রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি চাই
কবি উৎপল সাহা (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত
"শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা"
পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
১.
বিকেল জোড়া বুট ও বুলেটের শব্দ ফুলের দোকানে
সংহার সহর্ষ সহস্র। আরামে জনতা নিদ্রা যায়। ফুল গলায়।
নন্দিতা কবে আসবে? নববর্ষ, অভিনন্দন
জানাই তোমায় শংখ ও খই ছিটিয়ে। মৃত্যু
সে তো নিত্য, শুধু জীবন অনিত্য। চিত্ত থৈ থা নাচে।
কে বাঁচে কে মরে তাতে মাছের বাজারে কিছু দাম ওঠাপড়া
কখনো হয় না। শুধু পথ আটকে যাচ্ছে ধীরে ধীরে মৃতদেহে।
সোনার মতন সব ছেলেমেয়ে ধীরে ধীরে পথঘাট মুড়ে দিচ্ছে সোনা দিয়ে
ছোট ছোট কালীমূর্তি ফুটপাথে বিক্রী হচ্ছে,
কদাকার বুড়ো।

স্থূল আঙুলের চাপে বাংলাদেশ তৈরী হচ্ছে, দারুণ রিলিফ।
নন্দিতা কবে আসবে? দেহমনে তৈরী হয়ে বিপ্লবের প্রতীক্ষায় আছি।
শুধু পথ আটকে যাচ্ছে ধীরে ধীরে মৃতদেহে।
অগত্যা জনতার নিদ্রা ধর্মঘট করে বিছানায় শুয়ে আছে।
কবি
দিলীপ কুমার বসু
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বিবাহের আগে
কবি দিলীপ কুমার বসু (জন্ম ১২.৯.১৯৪৩)। রচনা মে ১৯৭১। বরানগরের গঙ্গায় শব ভেসে যাওয়া দেখে। কবির
চয়ন করা কবিতার অংশ বিশেষ।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে

দ্বার খুলে দাও দেবতা। পথে অসংখ্য সৈন্য।
মহিষে মহিষে একাকার। কী যে গোলমাল।
চারিদিকে আলো, দেবতা। বুকে সহস্র শব্দ
সমবেদনায় নিঃসাড়। কত প্রয়োজন।

চীৎকার চাই দেবতা । বুকে বিদ্রোহী বৃক্ষ।
ফুলে ভরে দাও প্রতিকার। জলে জলাকার।
লগ্ন এসেছে দেবতা। দ্বার খুলে দাও দেবতা।

মহিষশৃংগে আলোক ঝুলাও, পুষ্পে বারুদরেণু।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মাননীয় সদস্যবৃন্দ! গুরুতর রাজকাজ ফেলে
আমার কথায় কান লাগান একটু
সেবকের কিছু নিবেদন আছে।
ছোটবেলা থেকে নিদারুণ অভাবের ভেতর
মানুষ হয়েছি বলে
কথাগুলো কী রকম এঁকে বেঁকে গেছে ;
আমাকে আড়ালে তাই অনেকেই তেতোবড়ি বলে।
জ্ঞান হওয়া থেকেই আমার ভীষণ সাপ মারার নেশা ছিল
আজও আছে।
পিচ্ছিল শরীর দেখলে আমি আর কিছুতেই স্থির থাকতে পারি না
পেশীর ভেতর রক্ত সঞ্চালন দ্রুত হয়
কপালের শিরাগুলো দপদপ করতে থাকে
পিচ্ছিল শরীরের মাথা যতক্ষণ না আমার হাতে ছেঁচে যায়
স্থির থাকতে পারি না।
হায়! সাপ মারার নেশাই আমার হয়েছে কাল
আমার ক-অক্ষর গোমাংস
প্রায়শই ছোটমুখে বড় বড় কথা এসে যায়।
মুর্খের অশেষ দোষ, মহান্‌ সদস্যবৃন্দ!
নিবেদনে বাচালতা প্রকাশ পেলে
নিজগুণে ক্ষমা করবেন আশা করি।

মহান্‌ সদস্যবৃন্দ! গৌরচন্দ্রিকায় অভ্যস্ত নই আমি
কবি অমৃত মিত্র
পার্লামেন্টের সদস্যবৃন্দকে খোলা চিঠি কবি অমৃত মিত্র (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১১ সালে প্রকাশিত,
সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার
পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
হক কথা সোজাসুজি বলে ফেলা আমার স্বভাব।
আমি শুধু আপনাদের পূর্বপ্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই
স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনারা
হ্যাঁ, আপনারাই একদিন বড়োগলায় বলেছিলেন
স্বৈরাচারী জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে আপনাদের আপসহীন অভিযান
চলবে, চলতেই থাকবে
অত্যাচারিত ভারতবর্ষের শান্তিপ্রতিষ্ঠায়
আপনাদের অগ্রবর্তী বাহিনী
প্রথমেই উপড়ে ফেলবে নারকীয় হিটলারী জেলখানা।
বলেছিলেন
এ দেশের মাটিতে যতদিন একটি মানুষও
বিনা বিচারে বন্দী থাকবে
ততদিন গণতন্ত্র মিথ্যা, স্বাধীনতা মিথ্যা, শাস্তিপ্রতিষ্ঠার কথাও
বেমানান---
আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে শেষ পর্যস্ত।

মাননীয় সদস্যবৃন্দ! স্মরণ করুন
মাতৃভূমিকে ভালোবাসার অপরাধে সোমেনের জেলে যাওয়ার পর
সোমেনের বৃদ্ধা মা
দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে রোদ্দুরের ভেতর একটানা হাঁটতে হাঁটতে
এক বিশাল লাইনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়েছিলেন ভোটপত্র হাতে ;
তাঁর ভোটদান ছিল স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে
সমস্ত পশুত্বের বিরুদ্ধে। তার সুন্দর, ক্ষমাহীন আক্রোশে ভরা
নির্ভয় ভোটদান, গুটিকয় মানুষের
নিজেদের ঘাড় থেকে ডিনামাইটের মামলা উপড়ে ফেলে
স্বাধীন আর স্বচ্ছন্দ হবার জন্যে নয়
গুটিকয় মন্ত্রী বানানোর জন্যেও নয়;
তাঁর ভোটদান ছিল মনুষ্যত্বের স্বপক্ষে মাতৃহৃদয়ের
এক আশ্চর্য ভালোবাসায় উজ্জ্বল !
মাননীয় সদস্যবৃন্দ! সোমেনের মা
আজও ফিরে পায়নি বিনা বিচারে আটক থাকা তার ছেলেকে।
প্রতিদিন খবর আসছে
তার মা আবার ভোটপত্র হাতে এগিয়ে আসছেন দীর্ঘ লাইনের
শেষপ্রান্তে দাড়াবেন বলে।
প্রতিদিন ঈশান কোণে জড়ো হচ্ছে তার প্রবল অভিশাপ,
অত্যাচারী আর মিথ্যাচারীরর বিরুদ্ধে, মেঘের মতো
যে মেঘ থেকে আকস্মিক বজ্রপাত হয়
যে মেঘ থেকে হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় ওঠে ;
সেই মেঘ আস্তে আস্তে ছেয়ে বাবে দশদিক এপার ওপার।
সাবধান সদসাবৃন্দ! মায়ের অভিশাপ মাথায় করে
আজ কেউ শান্তিতে মরে নি
পাপের রাজত্বে মহাপ্রলয়ের দিন আস্তে আস্তে ঘনিয়ে আসছে।

মাননীয় সদস্যবৃন্দ! জ্ঞান হওয়া থেকেই
আমার ভীষণ সাপ মারার নেশা ছিল
আজও আছে
কেননা প্রতিটি সাপ
বিশ্বাসঘাতক।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
একদিন কথাচ্ছলে হয়তো বা শিশুরা জানবে
এইখানে জেলখানা ছিল
গোল হয়ে বসে তারা গল্প শুনবে বৃদ্ধদের কাছে
এখন সেখানে পার্ক, লাল নীল বেঞ্চ, ঘাস
মৌসুমী ফুলের আবহাওয়া।

একদিন কথাচ্ছলে হয়তো বা শিশুরা জানবে
এইখানে জেলখানা ছিল
গলের ভূত নয়, মানুষের মতো ঠিক, মানুষও নয়
এইখানে একদিন সত্যিসত্যি ভূতপ্রেত দানোদত্যি ছিল
তাদের মুঠোয় ছিল খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান শহর কারখানা
শ্যাওড়া গাছ নয়, শহরের সবচেয়ে দামী দালান থেকে
তারা আসতো নেমে
আর কানাগলি থেকে বড়রাস্তা পর্যন্ত
সর্বত্র
থমথম করতো এক অবর্ণনীয় ভয়।
যারা চাইতো খাবার, কিংবা কাপড়, কিংবা ঘর
কিংবা যারা কিছুই চাইতো না
যারা হাসতো, যারা কাঁদতো, যারা গল্প করতো
যারা ভয় পেতো, কিংবা পেতো না
তাদের সবার ঘাড় মটকে তারা রক্ত খেতো।
তারা ভীষণ সাহসী ছিল।
কবি অমৃত মিত্র
শিশুদের জন্য, একটি স্বপ্ন
কবি অমৃত মিত্র (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা
সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
কিন্তু কালো ছাতা দেখে ষাঁড় যেমন ভয় পায়
ক্ষেপে ওঠে
লাল কিছু দেখলেই তারা তেমন ভয় পেতো, আঁতকে উঠতো---
সময় সময়
তারা নিজেদের গুঁতিয়ে ফেলতো দিগৃবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে।
তারা দিনকে করতো রাত, আর রাতকে দিন।
ভোজবাজীতে
কবরের লাশ তুলে এনে ময়দানে বক্তৃতা দেয়াতো
তাদের অতিরঞ্জিত পতাকা বইবার জন্যে
এক এক পয়সায় তারা কিনে নিতো জোয়ান পুরুষ
এবং সারাদিন তাদের কোন কাজ ছিল না বলে
তারা কুলীর চেয়েও ক্লান্ত হতো
বিশ্রামের জান্যে প্রতিদিন তাদের দরকার হতো মদ
এবং এক একটি আনকোরা মেয়েমানুষ...

কিন্ত এখন তা নেই, মাঝখানে কী সব ঘটে গেছে!

হয়তো বা একদিন কথাচ্ছলে শিশুরা জানবে
এইখানে জেলখানা ছিল
এখন যেখানে পার্ক, লাল নীল বেঞ্চ, ঘাস
শিশুদের খেলার উদ্যান।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
যাদের
ফিরে আসবার আর কোন প্রশ্নই ওঠে না
তাদের
প্রত্যেকের জীবন নিয়ে
এক একটা মহাকাব্য লেখা হোক
অন্যদের জন্য
আমাদের জীবন পণ।

জেলখানার ওপরে চাঁদ
অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে বন্দীদের বয়স বছর।

আমাদের সব থেকে প্রিয় মানুষেরা
আমাদের কাছে নেই,
সময়
আমাদের অস্থির জানলা পার হয়ে
দ্রুত চলে যায়

পাহাড়ের ওপরে
সমস্ত প্রজাপতিকে উড়িয়ে দিতে গেলে
কারাগারের ভেতরে-থাকা প্রিয়জনদের
একান্ত প্রয়োজন।
কবি তুষিত মৈত্র
সাথীদের জন্য না দেবার মত কিছুই থাকতে পারে না
কবি তুষিত মৈত্র (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা"
কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
মানুষের বন্ধ-করে-রাখা সাহস
অন্ধকারের গভীর থেকে
বেরিয়ে আসুক---
এ দেশের খাঁটি মানুষেরা।

যে কোন মূল্যেই হোক
ওদের আমরা ফিরে পেতে চাই।
সাথীদের জন্য
না দেবার মত কিছুই থাকতে পারে না।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ম'রে গেল হাজার ছেলে, জেলে আছে হাজার হাজার
কী আশ্চর্য! তবুও তোর স্পর্ধা দেখি রাজা-সাজার
জন্ম থেকেই দাবার ঘুঁটি জবর জবর প্রতিদ্বন্দ্বী
মন্ত্রী দিয়ে খেলছে এবং আঁটছে নিত্য নতুন ফন্দী
কেউবা বলছে ধন্য ধন্য!
আমরা দেখছি এ জঘন্য
রাজার খেলা বন্ধ করতে
হাজার ছেলে মরতে মরতে
যুদ্ধ করছে, চায় না আপোষ, চায়না সন্ধি।

বন্দীরে তোর বন্ধ হাতের হাতকড়াতে মরচে ধরে
বধ্যভূমে অবাধ্যতার গভীর রক্ত পড়ছে ঝ'রে
বুকের মধ্যে বন্ধ খাঁচায়
আমরা বন্দী ভালোবাসায়
আশায় থাকি, ভালোবাসাই ভয় ভাঙতে বাধ্য করে।

ভয় ভাঙছে, ভুল ভাঙছে, ভাঙছে নদীর কূল
ছাপিয়ে দুকূল উপচে পড়ে এই জলস্রোত
কবি তুষিত মৈত্র
বন্দীমুক্তি প্রসঙ্গে
কবি কমল বল (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার
কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই জনস্রোত
ভাঙছে একূল ওকূল
ভাঙুক তবে ভাঙুক কারা
বধ্যমঞ্চে রক্তধারা
মিলিয়ে আসুক ; অন্ধকারে ফুটুর হাজার ফুল।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
তোমার পায়ের কাছে
প্রতিমা লুটিয়ে আছে,
গম্বুজ, সবুজ, গোপুরম্‌, গাভী,
রক্তপাত, রাজনীতি, আদিগন্ত দাঁত,
হাস্যহীন সকল নবাবী।

সর্ব ক্ষুদ্রতারে দহ, তুমি,
সর্ব মঙ্গলেরে লহ, তুমি,
তোমার পায়ের কাছে
হাতগুলি লুটিয়েই আছে
ছন্দের বন্ধন ভেঙে ছড়িয়ে নানান দিকে
ভারতবর্ষের মাটি, শিলালেখে,
পাহাড়ে পাহাড়ে
আমার সুরগুলি ক্ষুধায় কাতর,
আমি দেখি কিন্তু পাই না তোমারে।

হা রে
একী ছিন্ন, একী ভিন্ন সুর,
দরবেশ, মসজিদ,
তারা নাকি ভারতবর্ষ নয়,
তারা নাকি উদাস, হতাশ,
বাতাসে বাতাসে সর্বনাশ,
বলো, এই পরবাসে রবে কে?
কবি
দিলীপ কুমার বসু
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
দীনের পঙ্ক্তি থেকে
কবি দিলীপ কুমার বসু (জন্ম ১২.৯.১৯৪৩)। ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে বাবরী মসজিদ ধ্বংসের পরে লেখা প্রতিবাদ।
১লা জানুয়ারী ২০০৯ তারিখে প্রকাশিত কবির “ভাঙা ছন্দ পঙ্ ক্তি পদ” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
অববাহিকায়
দাঁড়িয়ে একটি ছোট,
যার নাম আয়েষা রেখেছি
তার ভবিষাৎও
তোমার পায়েই নত,
টগ্লা বা ইমন নামে সাত ভাই চম্পার দল
ঘিরে তাকে ব্যক্তিগত হাসে, খেলে,
নদী, ঝর্ণা সবই অনর্গল,
তবে,
পাব কবে

তোমার যে চরণের কাছে,
মন্দির, মসজিদ, চাষা-বৌ,
হিমপ্লাবী মুকুটপাহাড়
সাইরেন, শঙ্খ, গির্জা,
লুটিয়েই আছে?

শাসক ও শোষিতের বিষাক্ত বা
বিষক্লিষ্ট শতকোটি মাটির প্রতিমা,
এদেশের মাটিতেই এসে
এদেশের মাটিতেই মেশে।
তারপর মাটি ভেদ করে জাগো একদিন
শুদ্ধ ও মলিন
নম্র মুখশ্রীতে।
চরণধুলার চিহ্ন চোখে লেগে আছে,
বিহ্বল সেই চোখে গান

ঝরে, পাহাড় চূড়ায়।
ঝরে সমতলে,
বর্ষাধোয়া অরণ্যে অরণ্যে,
দক্ষিণের মালভূমি ধুয়ে,
মানুষ ও মানুষীর অবিন্যস্ত কপালের চুল ছুঁয়ে
ঝরে অববাহিকায়।

স্বপ্ন এই,
কিন্তু আমি কই?
কতদূর যাব?
দরবারী কানাড়ার রাতে?
খিলে খিলে মল্লারের হাওয়া
যখন নাড়িয়ে যায়?

ভাঙা ছন্দ, এলোমেলো স্বরে
প্রণামের হিন্দুভাষা নড়ে,
তোমার পায়ের কাছে
মুখ থুবড়ে হাঁটু ভেঙে-পড়া,
ঊর্ধমুখ দু'খানি গা-ঘেঁষা পাতা
ক্লিষ্ট হাত মেলেছে অন্বরে।

আমার সমস্ত বাক্‌ ভূলুঠিত মাটির প্রতিমা
মাটি মেখে পড়ে থাকে,
তোমাকেই চায় ;
তুমি, কত হাজার বছর ধরে মানুষের শ্রী এবং
শ্রীহীনতা, তুমি
মহানির্মাণের শ্রম, তুমি
লৌকিক, আলোকিত ভূমি
মরু-আলো, অন্ধকার জল,
তুষার ও নববইকোটিদল পদ্মে গড়া
আজ যার চরণের বেদী
সেই তুমি কোথায় চলেছ?

আমাকে কোথায় নিয়ে যাও?
চৈত্রে, কোন্‌ নির্মাণের চৈত্যে,
ফুলমাখা অজানা ঝোপের
পাশ দিয়ে মানুষ চলার পথে?
মানুষেই তোমাকে যে চিনি।

আমি জানি জানি,
তুমি আমারি আমারি,
আজানে বা উজানগঙ্গায় বল, একই কথা ;
আর কোনো কথা নেই,
তবে আমি কেন দেব খণ্ড, খঞ্জ,
উদ্ধতের হাতে মূর্তিহীন আমার দেবতা?
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বজ্র দিয়ে ঢাকো অন্ধকার
সহিতে পারি না আর
অবিরল খটখট বিরল-মানুষহীন দেখা চোখে ঝিলমিল রুপালির আলো,
কবিতার স্রাবগুলি অন্ধ ধূর্ত সুযোগসন্ধানী
বারবার ভেঙে পড়ছে পাথরের অবহেলা ফিরিরে উৎক্ষিপ্ত-করা, সবটাই
.                                        ট্যুরিস্টের জানি

জলপ্রপাতকে দেখা, যদিও সবটাই এক দারুণ পতন।
মন, কোথা গেলি মন?
আনো ঝড়, ডাকো অন্ধকার
ভুলে যাও সকল উচ্চাশা
চোখে আনো পাখিদের বাসা,
ভুল হোক্‌ ঠিক হোক্‌ তোমার চুম্বন থাক মেধা পাটকরের তরে,
যে অন্ধকারের লাগি, যার লাগি আলোক বিবাগী,
যার করতলে সব ফুল চাপা পড়ে আগুনের কণা হয়ে জ্বলতে থাকে
সেই হাত চেয়ে নাও এক প্রয়োজনবোধে হিংস্রতায়
চেপে ধর প্রত্যাশার গলা
ভোলো কোন্ রাক্ষসেরা কাকে বলছে কাব্যকলা
তোলো দুই হাতে ছুঁড়ে ফেলতে বাজারী কানমলা,
রবীন্দ্রনাথের পায়ে বসে পড়,
বৃদ্ধ মার্কস্‌, অসুস্থ লেনিন---
তাঁদের চোখেই খোঁজো বজ্র-অন্ধকার-টুপি পরা এক মজার সঙের মতো দিন,
শঙ্কর গুহনিয়োগীকে খোঁজো
কবি
দিলীপ কুমার বসু
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বজ্র দিয়ে ঢাকো অন্ধকার
কবি দিলীপ কুমার বসু (জন্ম ১২.৯.১৯৪৩)।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
অবাধ্য বাদ্যের তালে বিদ্যুৎবিচ্ছুরিত আলো বিন্ বিন্---
তার মর্ম বোঝো।

এতদিন কেটে গেল,
ছাই হওয়ার সময় ঘনালো
তবু চাই না নকল প্রপাত
একেবারে চাই না বাড়া ভাত
যখন ক্ষুধায় খা খা, ভালো কি সত্যিই লাগে খসে-পড়া অঙ্গরাখা,
চাই বজ্রে-অন্ধকারে ভাসা পাখিদের আলোকিত বাসা ;

পাখি, এসো
বাসা হ’তে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে
ঘুরতে থাকো অলৌকিক
আমার দু’চোখ ধন্য হোক একখা বলতে পেরে আমি তোমাদেরকে চাওয়া লোক---
ব্যর্থ চাই, কিন্তু জলে ভেসে যাইনি যেমন ভেসেছে, ভাসছে এত লোক---
ভুল করে কেউ ভাবে 'সবাই'।

পাখির বাসার দিকে চোখ রাখো
মূর্খ উদ্দেশ্যের দিকে বহে গিয়ে তীর
তাকে মেরো নাকো।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ঘর মানে মাটির পুতুল,
অথবা পাথর একটু, সংগ্রহের ফুল ;
ঘর মানে অরণ্যের গাছালি বা শহরে দেয়াল,
আকাশের ছাদ : হল্ কা  রোদ, বৃষ্টি, উল্কাপাত।

ঘর মানে যেমন-তেমন থালা, কিছু রুটি-ভাত।

ঘর মানে এসবের সাথে
জৈব কিছু আকর্ষণ, গান আনমন, গাল---
হাতাহাতি, কখনো বা তারা সাথী ; রাষ্ট্রের নিয়ম,
উদয়াস্ত মন-ভাঙা পরিশ্রম,
ভালো লাগা, দিন শেষে ‘ভালো-লাগা’ খুঁজে-ফেরা যে হাড়-হাভাতে।

এভাবে সপ্তাহ-ঋতু-বছরেরা ফেরে
এদেশে অন্তত। ঘনিষ্ঠতা ক্রমে চলে বেড়ে
ছিন্ন-ভিন্ন মানুষের, অতসী, নয়নতারা
পুতুল বা পাথরের মুখ চেয়ে জেগে থাকে কীসের পাহারা।
কবি
দিলীপ কুমার বসু
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ঘর
কবি দিলীপ কুমার বসু (জন্ম ১২.৯.১৯৪৩)। ১লা জানুয়ারী ২০০৯ তারিখে
প্রকাশিত কবির “ভাঙা ছন্দ পঙ্ ক্তি পদ” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
চুপ থাকার একটা অর্থ ছিল,
কিন্তু বাতাসে অনর্থ।

মুখ খুলতেই হয়। রাশি রাশি মিথ্যে কথা
নানারকম রুমাল, পর্দা, টেবিল-ঢাকনির মতো,
ধর্ষিতা দেহটিকে ঢাকতে চায়।

সে কি লজ্জা-নিবারণ?
সে কি ত্রাস-আচ্ছাদন?

অনর্থ বাতাসে
লুণ্ঠিত চুল থেকে চিরুনিটি ধীরে খুলে আসে।
কবি
দিলীপ কুমার বসু
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
একটি কবিতা
কবি দিলীপ কুমার বসু (জন্ম ১২.৯.১৯৪৩)
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আজন্ম দেখে যাচ্ছি বহ্ন্যুৎসব, যে উৎসবে মানুষ অরণি :
শিখ পোড়ে, বউ পোড়ে, মুসলমান-হিন্দু পোড়ে, হরিজন-গ্রাম পুড়ে যায়,
গর্ভবতী হতে থাকি সে ধর্ষণে, আহা শিশু, দোষ তো করে নি
তারা কোনো, পুরুষ হয়েও আমি মা যে হতেই থাকি সকাল-সন্ধ্যায়।
যে মমতা দিয়ে সব লালনে ফকীর হয় পুরুষ-স্ত্রীলোক
তার পরিবর্তে ফেরে মুখে থাপ্পড়ের মতো কদাকার ভয়ঙ্কর শোক
বহুবার ; দু-চারটি স্নিগ্ধতার হাসি ; পাঁকে-ফুলে মাখামাখি
এদেশে ভীষন তাপ শেষ হয় না, অনিবার এ কালবৈশাখি
গাছপালা ভেঙে ফ্যালে, মন ভাঙে, দেহ তো ভঙ্গুর-ই ; ---

রাক্ষস বিবাহে সিঁথি রক্তে ঢাকে, বিদ্যুতে গরলে হয় বিনিময় প্রণয়-অঙ্গুরী।
রচনার কারুকার্যে সমাজ, রাষ্ট্র ও শিল্পে বন্দীশালা তৈরি হ'তে থাকে,
বাসুদেব মানুষেরা বড় হয় না, ছোট ছোট যুদ্ধ করে এ কোণে, ও ফাঁকে,
আমার এমুহূর্তের ‘শোহর’ও তচি-কাঁচা কচুকাটা করে আর আগুন জ্বালায়
ধর্মের ‘ধৃ’ ধাতু নিয়ে নানা অস্ত্র ধারণেতে পারঙ্গম ওঁরও পৌরুষ ছায়,
সেই মহিমায় স্তব্ধ এই সামান্য আমি, বুকও শুকিয়ে যায়, আরো বৃদ্ধ তাই ;
অতি ক্ষীণ একটি কণ্ঠ কোথায় ডাকছে শুধু ‘এদিকে ফেরাও চোখ, ও জ্যাঠামশাই।’
তাতে কিছু বদলায় না, চল্লিশের, সত্তরের দশকে দেখেছি আমি
মৃতদেহ বাড়তে থাকে, বাড়িগুলো পুড়ে ওঠে, কোনো আল্লাহ্‌ কোনো অন্তর্যামী
নন্দীগ্রামে, দিল্লীতে, গুজরাটে এসে মাখায় না আতর চন্দন
জেলখানা পাকা হয়, হাতকড়ি, বেড়ি দিরে তৈরি হয় ছন্দের বন্ধন।
কবি
দিলীপ কুমার বসু
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আজন্ম দেখে যাচ্ছি বহ্ন্যুৎসব
কবি দিলীপ কুমার বসু (জন্ম ১২.৯.১৯৪৩)। ২০০৫ - ২০০৮ সালে রচিত “অথবা অখণ্ডিত” কাব্য উপন্যাসের অংশ। অগাস্ট
২০১০ সালে কবির “কথানদীর বাঁকে বাঁকে” কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
ভূতগ্রস্ত এ-শহরে গুটিশুটি লুকিয়ে এক কোণে বসে তাপ্তী নদী আধা-স্বপ্নে ভাবি
গৈরিক-শ্যামল রঙে হতে থাকে অগ্নিবর্ণ রক্তনেত্র খুন ও খারাবি।
হতশ্রী ও হতবুদ্ধি আমারও যেন কিছু রাগ হয়,
ভৈরবীর সাথে মিশে পোড়া মুখ, অন্ধ চোখ জেগে ওঠে ভোরের সময়
এই রাগ হাতে নিয়ে আনমনা সে আলোয়, বেদনায় অনির্দেশ্য হাঁটি,
রাগী অভিনেতাদের চোখে---এমন ভাবাই চলে---তাকায় আমার দিকে পুলিশের ঘাঁটি।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সবাই এগোবার কথা বলেছিল। আমরা বলেছিলাম।
পথে বাধাও ছিল একাধিক, তবে পথটা ছিল ঠিক।
সবাই লড়াইয়ের কথা বলেছিল। আমরা বলেছিলাম।
দিনের আলো যখন এসেই পড়ল, পাহাড়ের ছায়ায় লুকোইনি মুখ,
আর, পাহাড়ও তখন অটল নয়, কারুরই অটল থাকার উপায় ছিল না
জাহাজঘাটায় আর শহরে-গ্রামে, মেঘে-মেঘে, গাছতলায় খবর ছিল
.                                --- চলাতেই সুখ
দিন কাটে, একদিন দেখা গেল বাধা অসংখ্য, সমুদ্র রণতরীর মতোই ;
স্পষ্ট হল, সহজে ভরসা হারিয়ে বুক শূন্য হয় কাটা-ফসল মাঠের মতো ;
আর যদিও বাধা একাধিক, তবু পথটা ছিল ঠিক !
অনেকে পিছোবার কথা বলেছিল। অনেকে অটল ছিলাম আমরা :
ধিক্কার দিয়ে বলেছি, ‘তোমরাই বাধা।’ --- চিত্কার করে বলেছি।
বুকের শূন্য মাঠে সে চিৎকারে হাওয়ার ঘূর্ণি উঠেছে যদিও।

এখন বিশ্ব টলছে, পিছোচ্ছে। আমরা টলছি।
এখন কারা কার বিরুদ্ধে লড়াই করছে জানি না, এখন নিজের মুষ্টি নিজের
.                                বুকে পড়ছে প্রায়ই,
এখন আমরা, মানুষ নাম যাদের, সভ্যতার নাবিক,
জানি বাধা অতলান্তিক, যদিও পথটা ঠিক ;
সবাই পিছোবাব কথা বলছে আজ। আমরা বলছি।
রাজনীতি কথাটাকে আমরা ঘষে-মেজে তুলেছিলাম, এখন নোংরা করছি।
এখন জানি এগোনোর পরেও থাকে পিছানোর সম্ভাবনা
এখন জানি এগোনোর মায়া সৃষ্টি ক'রে কেউ, কারা পিছোয়, তা-ও হয় ;
কবি
দিলীপ কুমার বসু
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পশ্চাদপসরণের সময়ে সক্রেটিস কবি দিলীপ কুমার বসু (জন্ম ১২.৯.১৯৪৩)। কবির “পশ্চাদপসরণের সময়ে সক্রেটিস”
নাটকের একটি গান।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
তবু, শুধু চলতে-চাওয়া দলের মানুষকেই চালানো যায়, ভুলপথে হলেও।
আর চলতে চায় বলেই তৎক্ষণাৎ পাশের মানুষ চৌকি দেয়।
এই যে অমরা টলছি, তবু যেন পৌঁছোই নির্ভুল ;
রাজনীতি কারও মৌরসীপাট্টা নয়, কোনো কিছুই নয়---হওয়া সাংঘাতিক।

আর, যদিও বাধা লক্ষাধিক, তবু পথটা জানি ঠিক।

আমরা পাশাপাশি আছি, কাঁধ মিলিয়ে, ঠেলাঠেলি করে ;
এগোনো শুরু হয়েছে যখন, তখন তা অফুরান।
আমরা এখন জানি প্রত্যেক জিনিসের তার বিপরীতে রূপান্তর হয়,
কিন্তু তা সব সময়েই নূতন রূপ, পুরোনো আর ফেরে না কখনোই,
তাই কোনো পিছিয়ে যাওয়াও এগিয়েছি যে, তাকে নাকচ করে না,
রওনা দেওয়া মানেই পৌঁছোনো, যেমন দিয়েছি আমরা, কিন্তু দেরিই বা কেন?
.                                নষ্ট করো সময়হননের ক্ষতি।
কত অপরূপ গল্প বলা আছে আকাশের তারায় প্রাচীন,
কত রূপকথা আছে মানুষেরও এগোবার পথে নিত্যদিন।
আজ রাতে পীরিআস বন্দরের তরীগুলি সারি দিয়ে জেগে ;
অমরবিশ্বের চোখ মানুষের চলা দ্যাখে কৌতুকে-উদ্বেগে।
কত যাওয়া, ম্লান ফেরা, আবিষ্কার, সংশোধন, কাটাকুটি খেলা
আমার সভ্যতা করছে, সমাজ উঠছে গড়ে জটিল, সুরেলা।

তারপরে অন্যদিন, আগামী শতক কোনো, নতুন কাহিনী।
সেদিনের তরীগুলি অন্য বন্দরের ঘাটে সার দেবে জানি।
জ্ঞান ও সাহস দিয়ে, প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে মানুষ তখনো
সেরাতে তারার নিচে মানুষের মুক্তির গল্প গড়বে কোনো।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওগো        বাঙালির মেয়ে তোমরা স্নেহলতার কথা ভুলো না॥
.             স্নেহলতা স্নেহের ডালি মা বাপের বুকজোড়া,
.             মেয়ে জনম নিয়ে দেখে কপালই তার পোড়া,
ওগো        বাঙালির মেয়ে তোমরা . . .
.             পণের দায়ে ঋণে বাঁধা এই কথা না শুনি
.             বাপের দুঃখে মেয়ের বুকে জ্বলিল আগুনই,
ওগো        বাঙালির মেয়ে তোমরা . . .
.             উনিশ শত তেরো সনে ঘৃণার জীবন ফেলে
.             বিয়ের দিনে মরে কন্যা গায়ে আগুন জ্বেলে,
ওগো        বাঙালির মেয়ে তোমরা . . .
.             লাথি মেরে করো রে দূর পণের এ জঞ্জালি
.             বিয়ের জন্য যে বর পণ্য দাও গালে চুনকালি,
ওগো        বাঙালির মেয়ে তোমরা . . .
কবি মালিনী ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ওগো বাঙালির মেয়ে
কথা ও সুর - কবি মালিনী ভট্টাচার্য (জন্ম ১৪.১০.১৯৪৩)
আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত
গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আজ আকাশ কেন এত লাল
কে তুলেছে এত নিশান
বসন্তের বজ্রনির্ঘোষে
সূর্যমুখী মানুষের অভিযান।

জীবনের জন্যে ভালবাসার জন্যে
আমাদের এ গান গাওয়া
সূর্যমুখী মানুষ সূর্য সন্ধানে সূর্য অভিযানে যাওয়া।

ঐ দেখো সহযোদ্ধারা চলেছে
পেছনের সাথথীকে সামনে টেনে নাও
দুয়ার বন্ধ করে যারা কাঁদছে
তাদের একবার ডেকে যাও।

শস্যের শিল্পীরা ঐ খামারে
আগুনরাঙা শ্রমিক বয়লারে
তাদের হাতে কিংশুক নিশান
বাজে গণভেরী রুদ্র বিষাণ
ধান তোলবার অস্ত্র
হাতে হাতে তারা নিয়েছে বিদ্যুৎ ছন্দে।
কবি স্নিগ্ধা
বন্দ্যোপাধ্যায়
আজ আকাশ কেন এত লাল
কবি স্নিগ্ধা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। সুর - সমরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা গানটি পেয়েছি
১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
হলুদ আকাশ রক্তিম হলো
মরা নদীতে এলো বাণ
তুষার পাহাড়ে ঢল নামে
জাগে জীবন সমুদ্র তুফান
ভাঙাগড়ার দ্বন্দ্বে নব সৃষ্টি আনন্দে
পাবো শ্রেণীহীন জীবনের সন্ধান।

জীবনের জন্যে ফসলের জন্যে
আমাদের এ গান গাওয়া
আঁধার টুকরো করে পরকে আপন করে
সূর্য অভিযানে যাওয়া॥
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কুকুর পেরিয়ে গেল হাঁটুভর কানাস্রোত জল
চোখের চোঁয়ানো রেখা ওই তোর বৈতরণী নদী
বিষপিঁপড়ে ছেয়ে ফেলছে দেহময় জামরুল গাছ
শক্তমুঠি চেপে ধরছে পিছুটানে ফিরতে চাস যদি।
এইখানে দাহ হবি, এবার চিতায় আরোহণ
এইখানে দাহ হবি, এবার স্মৃতিতে আরোহণ
এইখানে দাহ হবি, ---রক্তওষ্ঠ, তামরস-নাভি
মুখের কাপড় তুলে শেষ দেখা দেখ্‌, তোর স্বামী!
কবি গীতা চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
সতীদাহ
কবি গীতা চট্টোপাধ্যায় (৭.১১.১৯৪৩ - ৭.৭.২০১০)। ১৯৯১ সালে প্রকাশিত উত্তম দাশ
ও মৃত্যুঞ্জয় সেন সম্পাদিত “আধুনিক প্রজন্মের কবিতা” কাব্য সংকলনের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
তবে এবার পথে নাবো, আমিও নাববো।
.        ধ্বজায় রক্ত লেগে থাকে, লেগেই থাকে
মোচন করো, ত্রুটি মোচন, যুগোর সাক্ষ্যে
.        সময় এবং ঋতু বদল অসম্ভাব্য ?

দেখোনি কি দূর্গে ফাটল, পরিখাহীন
.        নিরাপত্তা বেড়া ভেঙে জনতরল
শূন্যে মুঠি আর ছোঁড়া নয়, মুঠি শূন্য
.        নিসর্গে ঠিক লেগে আছে অস্ত্র গরল।

বাড়াতে হাত টুকরো টুকরো ধ্বজা পূজায়
.        দেখবে নিশান হারিয়ে যাচ্ছে নানা রঙিন
ছেলেখেলা মশালবাহী সেনাদলের
.        ভয় দেখানো ; রাষ্ট্রনেতার উঁচু সঙিন।

প্রতিবাদী নিজেই বরং নিজের বিনাশ
.        এসো তবে আকাশভাঙা সর্বনাশে
কোথায় যাচ্ছ, ইতিহাসের গরঠিকানায়
.        আনবো ছাইয়ের মেঘের ভারী প্রতিভাসে।
কবি গীতা
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ধ্বজা পূজা কবি গীতা চট্টোপাধ্যায় (৭.১১.১৯৪৩ - ৭.৭.২০১০)। ২০১৩ সালে প্রকাশিত, নমিতা চৌধুরী ও
অনিন্দিতা বসু সান্যাল সম্পাদিত “মহিলা কবিদের বাংলা কবিতা সংকলন ১৪০০-২০০০ দামিনী” কাব্যসংকলন
থেকে নেওয়া।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
ধ্বজা পূজা মানে তো ওই অস্ত্রপূজা ?
.        যে ছায়ারে ধরবো বলে সর্দারেরই
মেজ ছোট বড় সকল একাধারে
.        মদের ভাঁড়ার অস্ত্রশালা মন্দিরেরও।

জুজুর পুতুল সেজে আছো ধ্বজা আড়াল
.        কাকে নিরাপত্তা বলে লাগাতার খুন
একটি একটি প্রমাণ লোপাট দেখবে মাটি
.        এমন ভেজা, নিজেরই পা হড়কে করুণ।

ফাঁকার মধ্যে দাঁড়িয়ে একা কালপুরুষের
.        ভীষণ ঢালে ঢেকে যাচ্ছে যা অপ্রাপ্য
দুরাকাঙ্খের বৃথা ভ্রমণ, ধ্বজা ছিঁড়ে
.        তবে এবার পথে নাবো আমিও নাববো।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
শুধু চোখে চোখ রেখে নয়
মুখ মন অনুপুঙ্খ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দ্যাখো
দ্যাখো চেয়ে চেনো কি না
জমের অরুচি আমি অহল্যা পাষাণী
আমাকে চিনবে ঠিক জানি
নেহাৎ খেলার ছলে একবার নয় বারবার
দেবতার অনুচর রাজা বেইজ্জৎ করেছে আমাকে
বিবস্ত্র বিক্ষত আমি পাঞ্চালী বটে
ভয় ডর চিত্তে নেই মোটে
ভুলে গেছো বোলো না আমাকে
বাতাসির বন্ধু আমি পোয়াতি অহল্যা
হকের তেভাগা চাই
পেট চিরে ওরা নেয় ছেলে
রাজার জল্লাদ জমি রক্তে ভাসায়
আবার এসেছি ফিরে রক্তভেজা পায়ে

বলছো বটে আমাকে চেনো না
রাজপথে মিছিলে দেখেছো
প্রীতিলতা, প্রতিভা, অমিয়া আমি
দ্যাখো খুঁজে বুকের তলায়
নপুংশক দস্যুর বুলেটের ক্ষত
আমার স্পর্দ্ধার কাছে শত্রু জানুনত
কবি শীলা চক্রবর্তী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আমার মৃত্যু হবে না কবি শীলা চক্রবর্তী (জন্ম ২০.১২.১৯৪৩)। কবিতাটি কবি পাঠ করেছিলেন ১০.৯.২০২১ তারিখে
ইউটিউবের
Exclusive Concept নির্মিত একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের শেষে। ভিডিওটিতে কবিকণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন
সৌজন্যে
Mekhla Emotive YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
গেলগেল রব সব হারাবার ভয়ে
উন্মাদ রাজা সান্ত্রী ছোটায়
রাতের অন্ধকারে
সঙ্গীন নিয়ে ওরা সারসার
ভাঙাবেড়া বাঁধ ধারে!

চাই বেড়াবেড়ি রাজাপুর চাই
চাই তালপাটি হরিপুর চাই
রাজা বুভুক্ষু হায়না
হয় জমি দাও নইলে রক্ত
যত্সামান্য বায়না !

শিরায় শিরায় রক্ত নেশায়
হায়না হয়েছে উন্মাদ
হুংকার তুলে মেদিনী কাঁপায়
হালুম হুলুম পাটোয়ার চাই
কিষাণ-মজুর বরবাদ!

ছিঁড়ে কেড়ে নিতে
মাটি জল ফুল
প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি
ঘৃণা প্রতিরোধ আগুনে আগুনে
হিংস্র পশুকে চিনি !
কবি শীলা চক্রবর্তী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বাষ্প জমাই  কবি শীলা চক্রবর্তী (জন্ম ২০.১২.১৯৪৩)। রচনা ১৫.৩.২০০৭।
কবিতাটির মিলনসাগরে প্রকাশ কাল মার্চ ২০০৮।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
বসুন্ধরায় অযূত মানুষ
আমরা রয়েছি থাকবে আকাশ
পর্বত-গিরি খনি গহ্বর
মাটি জমি আর ঘাস!

সূর্যের সাথে সৌর মিতালী
আমাদের হাতে সোনালী শিষের দোলা
দুটি পাতা আর একটি কুঁড়িতে
স্পর্শ পাগল কালো হিরে নিয়ে
চিমনির ধোঁয়া তোলা।

গোলক শাবির শাবিনা মায়ার
.                  লাশ ছুঁয়ে আজ
নন্দীগ্রাম তোলপাড় কান্নায়
জমাই বাষ্প, আবাদ করবো
ধূপগুড়ি থেকে পাথর প্রতিমা
অশ্রু আকূল ভাইবোন ছুটে আয়!
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
তোমার বিজ্ঞ ফরমান শুনে
আমি মনে মনে হাসি
চোদ্দ বছর বনবাস জ্বালা
আইন আদালতী নানা ছলাকলা
তবু রিরংশা মূল্য মেটাতে
আজ কার হবে ফাঁসি?

তোমাকে বলতে হবে
কেন্দা গেরামে
ডাইনি ঠাউরে
মনি মূর্মুকে
হত্যা করেছে যারা
তাদের ফাঁসিটা কবে?

না - না ছাড় নেই
পণের পীড়নে-দেবযানী আর
সুরূপা গুহর করুণ মরণে
আমরা অনেকে
হাজার হাজার গুহ-বনিকের
ফাঁসিটা চাই।
কবি শীলা চক্রবর্তী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ফাঁসি কবি শীলা চক্রবর্তী (জন্ম ২০.১২.১৯৪৩)। রচনা ৬.৮.২০০৪। কবিতাটির মিলনসাগরে প্রকাশ কাল মার্চ ২০০৮।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
হোকনা পুরনো বাসি
সেই যে তরুণ সতেজ প্রবীর
সে জেন কি কথা বলতে চেয়েছে
একটি বুলেটে কার্জন-ঘাসে
যারা প্রবীরের রক্ত মেশালো
হবে তো তাদের ফাঁসি?

পারিনা, তবুও ভুলতে হবে
কিশোর প্রেমের অলকের কথা
বিক্ষোভ করে একদিন শুনি
সে গেছে জেলে ....
বন্দী শিবিরে যারা অলকের কলজে নিল
সেই খুনিদের ফাঁসিটা কবে?

শপথ করেছো দেবে না ফাঁকি
ভিক্টোরিয়ার চটকলে ছিল
লক্ষ্মীর বেটা জোয়ান ভিখারী
মনে আছে, নাকি ভুলে গেছো
ঘর থেকে ডেকে লোপাট করেছে যারা
সেই খুনিদের ফাঁসি আছে বাকি।
খেলার নেশায় যারা মাতোয়ারা
ফরাক্কা ভাঙ্গো গঙ্গা ভাঙন
গফুর-বাসনা ওদের ভাসিয়ে
রিলিফ রিলিফ হল্লা মাচিয়ে
ফি-বছর মাতে প্রবঞ্চকেরা
খুনীর শাস্তি পাবেতো তারা?

আজ সোচ্চারে বলতে হবে
চাঁইবাসা থেকে কোরাপুটে ঘুরে
পোড়া ছাই মাখা ভূপালের হাসি
অবহেলা অবলীলায় ছন্দে
খুন ক'রে - খুনি পয়দা করে
সে জল্লাদেরা ঝুলবে কবে?

শাক দিয়ে বুঝি মাছ ঢাকা যায়
অশোক কাননে গুটিকয় ডাকু
তাদের ঘরের প্রতি ইঁটে আর কড়ি বরগায়
হাতে-পায়ে-জিভে খুনের রক্ত
প্রতিক্ষায় প্রতিদিন আমি
ফাঁসি দিতে চাই তাদেরও গলায়।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
হিমেল হাওয়ায় আজো রাইফেলের শব্দে প্রতি রাতে
হঠাৎ অন্ধকারে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়
ঘুমুতে পারি না আর এইখানে স্বদেশে ও ঘরে
সময় সংসার ঘর ক্রমাগত লুটোপুটি খায়।
চোখ মেলে দরজা খুলে দেখি
আমাদের চারপাশে তাক করে বসে আছে
পশুর মতোন চোখ জ্বেলে রাখা হিংস্র শ্বাপদেরা।

মানবতা ---- হেঁকে হেঁকে যারা সব এতো দিন ধরে
অহিংসা অহিংসা বলে ভনিতায় বুকে আঁকে চাঁদ
তাদেরই বশংবদ বাণী বাহকের দল দ্যাখো
আমাদের চারপাশে বসে আছে ঘাতকের মতো,
প্রসারিত দৃষ্টির নিকটে
দেখা যায় বাঁধা আছে বাতাবী লেবুর সেই গাছে
অতি প্রিয় আশিসের বৃদ্ধ মা ও বাবা,
রক্তের অঢেল স্রোতে গাছ-তলা মাটি ভিজে আছে
আশিসের বৃদ্ধ বাবা এবং মায়ের সারা দেহ
অসংখ্য গুলির দাগে একেবারে ঝাঁঝরা হয়ে গ্যাছে।

অমল পৃথিবী তুমি----- এ আমায় কোথায় এনেছো !
এখানে তো স্বাধীনতা হীনতায় উপেক্ষিত
যৌবনের স্বাদ
এখানে জীবন আখ-মাড়াইয়ের যাঁতা-কলে পেষা
কবি জিয়াদ আলি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
অমল পৃথিবী
কবি জিয়াদ আলি (জন্ম ১৯৪৩)।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এখানে জীবন সেই কিনু গোয়ালার
গলির মধ্যে মরা শুধু এক বেড়ালের ছানা।
সমস্ত হৃদয় আজ চৌচির হয়ে ফেটে পড়ে
তছনছ হয়ে যায় মানবিক এ-মহাবাগান।

অমল পৃথিবী তুমি---- এ আমায় কোথায় এনেছো !
রক্তমাখা কপোতাক্ষে আমি আর তাকাতে পারি না,
বাঙলার শিশুর দেহ ভেসে যায় খড়ের নৌকায়
বাঙলার শিশুর দেহে বসে আছে শকুনের ছানা----
অমল পৃথিবী তুমি কী সান্ত্বনা দিচ্ছ আমায় !

আমার সমুখে মরে চাষীবউ, কলের মজুর,
আমার সমুখে মরে হারানের বিধবা দুলালী,
আমার সমুখে নারী--- নাচঘরে বিবস্ত্রা নায়িকা,
আমার সমুখে রক্ত--- পিশাচের রক্ত-হোলি খেলা।
আমার সমুখে দ্যাখো পড়ে আছে অতি প্রিয়
আশিসের মা
আমার সমুখে দ্যাখো পড়ে আছে
প্রিয়তম প্রেয়সী আমার।

অমল পৃথিবী দ্যাখো নগরীর নগ্ন প্রাচীপটে
ক্রুশবিদ্ধ মহম্মদ ঝুলে থাকে
হতাশ পথিক,
অমল পৃথিবী দ্যাখো মহাদেব ন্যাংটা হয়ে গ্যাছে
অমল পৃথিবী দ্যাখো ভাঁওতা-ভূত জেসাসের পাশে
আফিম ব্যাপারী সেই ঈশ্বরের
মৃতদেহ ভাসে।
এ সব অবশ্য মূল্যে ভুলে যাও---- চালাকির দেবতা মহান
কিছুই পারে না দিতে
শুধু কিছু মৌন অবসাদ-----
অমল পৃথিবী তুমি---- কী আমায় বোঝাবে এখন ?

অমল পৃথিবী তুমি গর্জে ওঠো শহরে বন্দরে,
অমল পৃথিবী তুমি রহমান কামারের ঘরে ঢুকে পড়ো,
অমল পৃথিবী তুমি মাঠে নামো দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে
জীবন চাষীর হালে লাঙলের শক্ত ফলা ধরো।
অমল পৃথিবী তুমি এনট্রি নাও সারা দেশ জুড়ে।

অমল পৃথিবী তুমি কী আমায় সান্ত্বনা দেবা----
প্রতিটি রাতেই দেখি বোমারু হাওয়ায় ছোটে গুলি
প্রতিটি রাতেই আজ আমাদের ঘুম ভেঙে যায়,
ঘুমুতে পারি না আর এইখানে
স্বদেশে ও ঘরে,
এখন বাতাস যেন হেঁকে যায় গেরিলা পৃথিবী
জেগে ওঠে, কথা বলে মানবিক আকাঙ্ক্ষার আয়ু
জেগে ওঠে সারা দেশ মুক্তির আশায়।

অমল পৃথিবী তুমি ঘুমায়ো না, ঘুমায়ো না আর।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ঋণ খেলাপির টাকা আমি
মকুব করেছি ;
তা'তে তোমার বাবার হলো কি ?
এ তো তোমার বাবার টাকা নয়,
আমার যখন যেটাই মনে হয়
করতে পারি আমি,
আর কেউ না এই ভারতের
আমিই তো ভূস্বামী ।
যখন খুশী করবো যেটা
সেটাই মেনে নেবে
হুকুম পেলে লেংটো হয়ে
হাততালি ও দেবে ।
বুঝলে ভারতবাসী
তোমরাই তো দিলে আমায়
অরফিয়ুসের বাঁশি ।
করোনাতে,ভুখমারী তে
মরলে আমার কি ?
এই ভারতের আমি ই রাজা
রামের রাজত্বি।
চালাই কেমন দেখছ খোকার দলে ,
মৃত্যু মিছিল দাঁড়িয়ে দেখিস
জয় হরিবোল বলে।
কবি
সর্দার আমজাদ আলী
সন্ন্যাসী  কবি সর্দার আমজাদ আলী (জন্ম ১৯৪৩)। প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদীর কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই তো সবে শুরু,
নাগপুরেতে বাজায় কাঁসি
মোহন আমার গুরু ।
আমার হুকুম চলবি মেনে
এই ফরমান দিলাম,
এই ভারতের রাজা আমি
নরেন আমার নাম।
আর এক নরেন ছিল বটে
সে বেটা সন্ন্যাসী,
ঘর ছেড়ে সে গেরুয়া পরে
হয়নি কাশীবাসী,
বউ ছিল না ছাড়বে টা কি
দুনিয়া ঘুরে ঘুরে ,
আমার মতো পেরেছে কি
যেতে প্রমোদ টুরে !
শোনো ভারত বাসী,
হুকুম পেলেই উদোম হয়ে
বাজাবে ঢোল কাঁসি ।
আমি রাজা রাজ্যে আমার
তোমরা সব গোলাম ,
দুনিয়া জুড়ে খাতি আমার
নরেন্দ্র ভাই নাম ।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমার বয়স তখন কতোই বা !
চার কিংবা পাঁচ।
অথচ আমার স্মৃতিকে আজও অন্ধকার করে দেয়
সেই সময়ের এক রাশ কালো ধোঁয়া
কুণ্ডলী পাকিয়ে পাকিয়ে যে ধোঁয়া-
আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছিল,
আমাদের বাড়ির শেষপ্রান্তে
বুড়ো বটগাছটার নিচে দাঁড়িয়ে
সবাই ভিড় করে সেই ধোঁয়া দেখছিল,
আমিও মায়ের কোলে চড়ে সেই ধোঁয়া দেখছিলাম,
সবাই আতঙ্কে ‘রায়ট লাগছে, রায়ট লাগছে’ বলে
ছোটাছুটি করছিল

এবং তার কদিন পরেই
সদ্য-বিবাহিত দাদা-বৌদির সঙ্গে
আমাকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল।
আমি ছেড়ে এসেছিলাম আমার মাকে, আমার বাবাকে
আমি ছেড়ে এসেছিলাম আমাদের সেই বুড়ো বটগাছ,
টিনের চালাওয়ালা গোবরলেপা বেড়ার ঘর,
বাড়ির পেছনের পুকুর,
পুকুরপাড়ের নোনা গাছ
এবং আমার প্রিয় কাজলা দিদিকে,
ছেড়ে এসেছিলাম আমার মাতৃভূমিকে,
আমার জন্মভূমিকে।
কবি সৃজন সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মাতৃভূমির জন্য কবি সৃজন সেন (জন্ম ১৯৪৩/১৯৪৪)। এই কবিতাটি আবৃত্তি শুনুন মাহিদুল ইসলাম-এর কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে আবৃত্তিমেলা। Abrittimela YouTube
Channel. আমরা কৃতজ্ঞ বাংলাপোয়েমস.ওয়ার্ডপ্রেস.কম ওয়েবসাইটের কাছে যাঁদের থেকে আমরা এই কবিতাটি নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
আর সেদিনের পর থেকে
একদিনের জন্যও আমি আর ওই জন্মভূমিতে
ফিরে যেতে পারিনি,
একবারের জন্যও না।
এখন আমার স্মৃতিতে সব কিছু ঝাপসা-
সেই ঘর, সেই গাছ, সেই কাজলাদিদি,
… সব, সব !

চাঁদপুর থেকে স্টিমারে,
স্টিমারে করে গোয়ালন্দ,
গোয়ালন্দ থেকে ট্রেন,
দর্শনায় আমাদের বাক্স-প্যাঁটরা ওলোট-পালট
এবং অবশেষে, এক সন্ধেবেলা শিয়ালদা স্টেশনে।
তারপর ঘোড়ার গাড়ি,
ঘোড়ার গাড়ি চেপে প্রেমচাঁদ বড়াল স্ট্রিট,
প্রেমচাঁদ বড়াল স্ট্রিটের সাড়ে তিন হাত চওড়া এক অন্ধ গলি
সেই অন্ধগলির এগারোর বি নম্বর বাড়িতে একটি ঘর
সেই ঘরের দাদাবৌদির সঙ্গে খাঁচায় বন্দি আমি।
আমি, যার মুখে তখনও নোয়াখাইল্যা ভাষার টান,
আমি, যাকে দেখলেই প্রাইমারি স্কুলের ছেলেরা
কানের উপর উপুড় হয়ে চিৎকার করে বলত-
‘বাঙালো রস খাইল ভাঁড় ভাঙিল,
পয়সা দিল… ও… না…’
সেই আমি চারদিকের ওই টিটকারির ভয়ে নিজের
বাঙালপনাকে গোপন করার জন্য
প্রাণপণ চেষ্টা করতে করতে
ধীরে ধীরে যখন অন্য মানুষ হয়ে উঠছিলাম
ঠিক তখনই আমার জন্মভূমি থেকে
বাবার একখানা চিঠি এসেছিল,
সবাই সে চিঠি নিয়ে
জোরে জোরে আলোচনা করছিল
এবং আমি শুনেছিলাম-
ঢাকায় নাকি গুলি চলেছে, গুলি !
বহু বছর পরে জেনেছিলাম
সেই গুলি চলেছিল তাদের ওপর
যারা আমাদের মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা করতে
ওপার বাংলায় লড়াই শুরু করেছিল,
শুনেছিলাম-
তারা নাকি পুলিশের বন্দুকের সামনে
জামার বোতাম খুলে
চিৎকার করে গাইছিল-
“ওরা আমার মুখের কথা কাইড়্যা নিতে চায়”,
আর সেই ‘মুখের কথা’র গৌরব রক্ষা করতেই
তারা নাকি পুষ্পাঞ্জলির মতই
তাদের প্রাণকে সমর্পণ করেছিল।
আর এপার বাংলায় আমি
আমার সমস্ত বাঙালপনাকে ঝেড়ে ফেলে তখন
ধীরে ধীরে হয়ে উঠছি
কেতাদুরস্ত অন্য এক মানুষ,
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে
একটার পর একটা ক্লাস টপকে
আমি রণপায়ে এগিয়ে চলেছি,
ইংরাজিতে কথা বলায়, চালচলনে, আদব কায়দায়
আমি তখন সবাইকে মুগ্ধ করতে পারি,
রাম ব্যানার্জি লেনের বাড়ি ছেড়ে
আমরা উঠে এসেছি কলকাতার এক অভিজাত পাড়ায়,
কেউ আর আমায়
‘বাঙাল’ বলতে সাহস পায় না,
বরং একটু সমীহ করেই চলে,
আমার দাদা-বৌদি
আমাকে নিয়ে গর্ব করে,
আমাদের ভূতপূর্ব বাঙাল জীবনকে
আমরা তখন রীতিমতো ঘৃণা করতে শিখে গেছি।
তারপর থেকে আমার জীবনে শুধুই চড়াই …
আমি এখন এক সাহেবি কোম্পানির
নামি অফিসার,
যে কোম্পানির অভিভাবক
এক নামজাদা বহুজাতিক কোম্পানি,
সেই কোম্পানির স্বার্থে
আমি এখন দেশে-বিদেশে উড়ে বেড়াই,
অধিকতর বিদেশী ব্যবসা,
অধিকতর বিদেশী চুক্তি,
অধিকতর বিদেশী পরামর্শ, কমিশন ইত্যাদি
অর্জনের মধ্য দিয়েই
আমার আজকের বিকাশ, আমার প্রতিপত্তি।
আমার ছেলেমেয়েরা আমাকে ‘ড্যাডি’ বলে ডাকে
মাকে ‘মাম্মি’,
আমার মত ওরাও এখন শুদ্ধ করে
বাংলায় বথা বলতে পারে না,
শুদ্ধ করে লিখতে পারে না
মাতৃভাষায় কয়েকটা লাইন,
আমার ছেলেমেয়েদের কাছে
বাংলা ভাষা একান্তই বিদেশী !
সেবার লন্ডনে
এক জাপানি শিল্পপতিকে
বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে
তার মাতৃভাষা জাপানিতে
অন্যদের সঙ্গে যখন অনর্গল কথা বলতে দেখেছিলাম
তখন আমার বুকের ভেতরে
কেমন যেন একটা কষ্ট হচ্ছিল,
ইংরাজিতে কথা বলতে না পারার জন্য
ওই মানুষটির ভেতরে কোনও লজ্জা ছিল না,
বরং মাতৃভাষায় কথা বলতে পারার অহমিকায়
মানুষটিকে যেন উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখেছিলাম,
আমার ভেতরে সেই অভিজ্ঞতার যন্ত্রণা
একটা কান্না হয়ে গুমরে গুমরে উঠছিল,
আমার মনে হচ্ছিল-
আমার কোনও মাতৃভূমি নেই,
আমার কোনও মাতৃভাষা নেই,
আমি যেন এক শিকড়বিহীন চিরবিদেশী !
তাই-
মাতৃভাষার জন্য যারা জীবন দেয়
তারা কেমন মানুষ
আজ আমার ভীষণ জানতে ইচ্ছে করে,
আমার বুকের মধ্যে
সেই বাংলাদেশের জন্য
সেই বাংলা ভাষার জন্য
একটুখানি বাঙালী হয়ে ওঠার জন্য
একটা ভয়ংকর যন্ত্রণা টনটন করে ওঠে !
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ডাসহৌসি জুট মিলের জঙ্গী শ্রমিক
কমরেড বিশ্বনাথ
আমার কানে কানে ফিস্ ফিস্ করে বলেছিল---
‘মে-ডে’কো লেকর আচ্ছা একঠো পোয়েট্রি লাখ দিয়ে কমরেট,
হামলোগ পোষেটার বনা কর কাল
কারখানা গেট মে সাঁট দেগা!’

একাত্তরের ভারতবর্ষের রক্ত-উন্মাদনা নিয়ে
মজদুর মহল্লার একটি ছোট্ট ঘরে লুকিয়েছিলাম,
সত্তর দশকের মধ্যে ভারতবর্ষকে মুক্ত দেখার স্বপ্নকে বুকে
আঁকড়ে ধরে
আমার সামনে ছট্ ফট্ করছিল কমরেড বিশ্বনাথ,
আমি দু’লাইনের একটি কবিতা তার হাতে লিখে
দিয়েছিলাম,
কমরেড মহা উত্সাহে ভাঙা ভাঙা বাংলায়
চিত্কার করে সেই লাইন দু’টি পড়েছিল---
‘এবার বোসন্তে গোর্জায় মেঘ,
আসমান লালে লাল,
মে-ডে এবার যুদ্ধ জোয়ের
বদলা নেবার কাল!’
এবং ‘বহুত আচ্ছা হুয়া’ বলে বিশ্বনাথ
একবার হেসে কবিতাটি নিয়ে
উল্কার মত
রাতের অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছিল।
কবি সৃজন সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মে ডে’তে কিছুতেই আর কবিতা লিখতে পারি না  কবি সৃজন সেন (জন্ম ১৯৪৩/১৯৪৪)। রচনা জুলাই ১৯৮৬।
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও কবি অতীন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত “মে-দিনের কবিতা” (মে ১৯৮৬) কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
তার পরদিন
পয়লা মে।
ভোর হোতে না হোতেই শ্রমিক মহল্লাতে ছড়িয়ে পড়েছিল
একটা চাপা আনন্দ,
সমস্ত সিকিউরিটির চোখকে ফাঁকি দিয়ে
ম্যানেজারের হলুদ কোয়ার্টারের ছাদের ওপরে
কে বা কারা উড়িয়ে দিয়েছিল
একটি লাল পতাকা,
কারখানা গেটে জ্বলজ্বল করে জ্বলছিল একটি লাল পোষ্টার,
আর, সন্ধ্যাবেলা
কারখানার গেটের সামনে
প্রকাশ্য রাস্তায়
বলি দে’য়া মোষের মত
রক্ত মেখে ছট্ ফট্ করতে করতে
স্থির হয়ে গিয়েছিল
কোম্পানির কুখ্যাত দালাল,
বহু শ্রমিকের গুপ্ত ঘাতক---
সর্দার গোপাল সিং।

সে রাতে মিল মহল্লা হয়ে উঠেছিল
গেষ্টাপো অধিকৃত
যেন কোনো জার্মান শ্রমিক অঞ্চল।
পুলিশ ও গুণ্ডাবাহিণীর আক্রমণে
জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল
কমরেড বিশ্বনাথের ঘর ও তত্সংলগ্ন বস্তি,
চলেছিল অবাধ লুটতরাজ,
খুন হয়েছিল সাত সাতজন শ্রমিক,
আর নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল
শ’খানেক নারী-পুরুষ আর শিশুকে।

তিনদিন পরে এক রাত্রিতে
সাত মাইল দূরের এক গ্রামের ঘরে
সারা অঙ্গে অন্ধকার জড়িয়ে
বিশ্বনাথ আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল।
তার চোখেমুখে নিঃসব্দে হা হা করছিল যুদ্ধজয়ের হাসি,
বিশ্বনাথ আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল---
‘কৈ নয়া পোয়েট্রি লিখা হায় কমরেট?’
আমি ওর মুখের দিকে তাকাতেই
ওর চোখে দপ্ করে জ্বলে উঠেছিল ক্রোধের আগুন,
দাঁতে দাঁত চেপে ও আমাকে বলেছিল---
‘বহুত কমরেটকো মার দিয়া কুত্তালোগ!
হামলোগকো বদলা লেনা হি পড়েগা।’

দুরন্ত নদীতে বাঁধ দিয়ে
আসন্ন প্লাবন রুখবার আকাঙ্খা নিয়ে
আমি বিশ্বনাথকে বলেছিলাম---
‘খুন কা বদলা খুন নেহি ভাই,
জমানাকো বদল ডালো!’
আমার মুখে ঐ কবিতা শুনে
বিশ্বনাথ কেমন যেন অবাক হয়ে গিয়েছিল,
আমার দিকে নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে
আমার মুখের মানচিত্রকে ভালো করে পড়বার
চেষ্টা করেছিল,
তারপর ম্লান অথচ দৃপ্তকণ্ঠে সে আমাকে বলেছিল---
‘শান্তি-বুলি মত বোলো ভাই,
দুষমনকো মৎ ডরো!’
এবং তারপরেই হো হো করে হেসে
আমার পিঠে সজোরে এক চাপড় মেরে বলেছিল---
‘চলতা হ্যায় কমরেট,
ফির মিলেঙ্গে!’

সেই বিশ্বনাথ ফিরে আর আমার সঙ্গে দেখা করতে
কোনোদিন আসেনি।
চারপাঁচ দিন পরে
শ্রমিক মহল্লারই কোন এক বাড়ীতে
সশস্ত্র গুণ্ডাবাহিণীর আক্রমণে
অভিমন্যু হয়ে গিয়েছিল বিশ্বনাথ
আর ধরা পড়ে আমি গিয়েছিলাম জেলে।

জেলখানায় তারপর
তিন তিনটে মে-ডে’কে আমি অতিক্রম করেছি,
জেলের কৃষ্ণচূড়া গাছটার বুকে
ফুল ফোটা ও ফুল ঝরা দেকেছি তিন তিন বার,
একবার কালবৈশাখীতে
ফুলশুদ্ধু ভেঙে পড়তে দেখেছি
সে গাছের বিরাট এক ডালকে।
তারপর একদিন জেলের বাইরে বেরিয়ে এসে দেখলাম
পরিত্যক্ত রণভূমিতে
আহত নিহত যোদ্ধাদের হাড়মাংস চিবিয়ে খাচ্ছে
অসংখ্য ঘেয়ো কুকুর,
---আনন্দে যারা দিশেহারা!

ঠিক সেই সময়,
এক ফুটন্ত বৈশাখী দুপুরে,
কমরেড বিশ্বনাথের বৌ পার্বতীয়া আমার সঙ্গে
দেখা করতে এসেছিল,
দু’চোখে এক নদী স্নেহ মায়া ভালোবাসা নিয়ে  
সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল
আমার আর অন্যান্য কমরেডদের সমাচার।
তারপর ধীরে ধীরে সেই নদীতে ঝড় উঠলো,
ফুলে উঠলো সে নদীর জল,
পার্বতিয়ার দু’চোখে জ্বলে উঠলো প্রতিহিংসার আগুন,
আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে
পার্বতিয়া আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলো---
‘কমরেট, কাল মে-ডে হ্যায় না?
লিখা হ্যায় কৈ নয়া কবিতা?’
পার্বতিয়ার সেই জ্বলন্ত দৃষ্টির সামনে
আমি কেমন নিষ্পদ হয়ে গিয়েছিলাম,
আমার গলা দিয়ে কোন স্বর উচ্চারিত হচ্ছিল না,
পার্বতিয়া আমার দু’কাঁধে হাত দিয়ে
প্রবল ঝাঁকুনি দিতে দিতে বলেছিলো---
‘কাল তো মে-ডে হ্যায় কমরেট!
খুন কা বদলা খুন নেহি লেগা কাল?
কমরেট কো খুন কা বদলা?’

এবং তারপর দিন মে-ডের বিকেলে
গরমতলাও বস্তির রাস্তায়
এক তরুণের হাতে গর্জে উঠেছিল একটি পাইপ গান,
লাফ দিয়ে ছুটে পালিয়ে বেঁচেছিল
কমরেড বিশ্বনাথের হত্যাকারী যমুনা সিং,
আর ডাকু ডাকু চিত্কার আর হৈ-হট্টগোলের মধ্যে
ইনকিলাব ধ্বনি দিতে দিতে
চিরকালের জন্য স্থির হয়ে গিয়েছিল
অভিমন্যুর ছেলে পরীক্ষিৎ,
কমরেড বিশ্বনাথের ছেলে বীরেন্দ্রনাথ,
---শহীদ বাপ্ কা লেড়কা বনে গিয়েছিল
দোসরা শহীদ!

অতীনদা, আপনার সঙ্গে বীরেনদার সম্পাদিত
মে-দিনের কবিতা সংকলনের জন্য
আমার কাছে দেবার মত কোন কবিতা নেই,
মে-ডে’কে নিয়ে সেই দিন থেকে আমি আর কোন কবিতা
লিখতে পারি না,
কেননা
প্রতিটি মে দিবসে
কালবৈশাখীর আলুথালু মেঘের চুল নিয়ে
আমার সামনে এসে দাঁড়ায়
শহীদ জায়া ও শহীদ জননী পার্বতীয়া,
আমার দুকাঁধে হাত রেখে
প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দিতে দিতে সে আমাকে জিজ্ঞাসা করে---
‘আজ তো মে-ডে হ্যায় না কমরেট?
লিখা হ্যায় কৈ নয়া কবিতা?
বদলা লেনেকা কবিতা?’

অতীনদা, আমি সেই কবিতা কিছুতেই লিকতে পারিনা,
কোন্ কবিতা লিখবো আমি---
বদলা নেবার কবিতা
না
জমানা বদলের কবিতা?
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
দাশ নগরের শ্রমিক ভাই
হট্ নগরের চাষী
রায়দীঘিতে ছড়িয়ে গেলে
রাঙা ফুলের রাশি!

দেশপ্রেমে রাঙা সে ফুল
বুকের রক্তে তাজা
সব চাষীদের হৃদয়পুরে
আজকে সাথী রাজা!

সাথীর স্মৃতি ঝল্ সে ওঠে
টাঙ্গি বল্লম বন্দুকে
শোষকশ্রেণীর পরাণ-পাখী
লুকাবে কোন্ সিন্দুকে?

শহীদ-জায়া ফুল্লরা বৌ
কাঁদছো কেন? না, না---
অশ্রুকে আজ বারুদ করো
কান্না যে আজ মানা!

মাগো তোমার বুকের মানিক
কাড়লো আজি যারা
রক্ত নিতে সেই খুনেদের
হাতে নাও আজ খাঁড়া!
কবি সৃজন সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বন্দীর বন্দনা : শহীদ সাথীর স্মৃতিতে কবি সৃজন সেন (জন্ম ১৯৪৩/১৯৪৪)।
কবি অর্জুন গোস্বামী সম্পাদিত  “রক্ত ঝরাতে পারিনাতো একা” (২০০৫) কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
অন্ধ কারা বেঁধেছে আমায়
ঠাণ্ডা লীতল ঘরে
তোমার পাশে মাগো আমি
যাবোই পৌঁছে ভোরে!

সাথীহারা বেদনাতে
উঠছে ফুলে আমার ক্রোধ
বুকের রক্ত আমিও দেবো
শীতের দেশে আনবো রোদ!
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
গ্রামে গ্রামে ঘোরে ওরা রাইফেল কাঁধে
একে ধরে, ওকে ধরে, ফেলে নানা ফাঁদে,
পুলিশি গারদে মেরে করে জিজ্ঞাসা---
তোদের কি খিদে পায়, পায় কি পিপাসা?
না খেতে পেলে শেষে মরে যাস বুঝি?
তাইতো তোদের আমরা রাত-দিন খুঁজি,
নিশ্চয়ই তোরা সব নকশালী, জঙ্গি,
স্বভাবে ভীষণ উগ্র, উগ্র---ভাবভঙ্গি,
তোরা নেই মূল স্রোতে, তাই তোরা ভ্রষ্ট,
তোদের করলে খুন খুশি হয় রাষ্ট্র!
কবি সৃজন সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
গ্রামে গ্রামে ঘোরে ওরা রাইফেল কাঁধে
কবি সৃজন সেন (জন্ম ১৯৪৩/১৯৪৪)। ২০০৭ সালে প্রকাশিত কবির
“বাছাই হুল” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ছিঁড়ে ফেললেও দাঁড়ি আমার
কৃষি আইন বাতিল করবো না.
আদানি আর আম্বানিদের
ক্ষতি হোক তা চাইবো না।

ওরা আমার ভোটের খুঁটি
ওরা আমাদের আশা ভরসা,
সত্যি কথা বলতে কি---
আমরা সবাই ওদের পোষা।
কবি সৃজন সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ছিঁড়ে ফেললেও দাঁড়ি আমার
কবি সৃজন সেন (জন্ম ১৯৪৩/১৯৪৪)
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মা গিয়েছে মরে, কিন্তু
কোলের ছেলে জ্যন্ত,
সাড়া পেতে মায়ের কাপড়
টানছে অবিশ্রান্ত,
ভাইরাল আজ ঐ ছবিটা
দেশের ঘরে ঘরে,
চতুর্দিকে আহ্‌ আহ্‌ আহ্‌,
ছড়ায় কোরাস স্বরে।

সেই কোরাসে আমিও আছি,
কি আর করি বল,
পাল্টা কিছু করে দেখাব
নেই দেহে সে বলও,
একটা লতা ছেঁড়া সোজা,
দশটি লতা হোলে,
পাকিযে দড়ি সোঁদর বনের
বাঘও বাঁধা চলে,
কবি সৃজন সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আফশোষ গীতিকা কবি সৃজন দেন (জন্ম ১৯৪৩/১৯৪৪)। করোনাকালে পরিযায়ী শ্রমিকের চূড়ান্ত দুর্দশা নিয়ে প্রতিবাদ।
প্রসঙ্গত -২৭.৫.২০২০ তারিখের “দ্য হিন্দু” সংবাদপত্রের, পাটনা সংস্করণ থেকে জানা যায় যে বিহারের কাঠিহার-এর মহিলা আরভিনা
খাতুন, গুজরাটের আমেদাবাদ থেকে বিহারের মুজফ্ফরপুর স্টেশনে, দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠার পরে শুরু করা “শ্রমিক স্পেশাল
ট্রেনে”, ২ থেকে ৪ দিনের যাত্রাকালে, সম্ভবত অনাহার ও অসহ্য গরমের কারণে মারা যান। তাঁর দুই পুত্রকে একটি ভাইরাল ভিডিওতে
দেখা যায়। অবোধ শিশু পুত্রকে দেখা গেছে মৃত মায়ের গায়ের চাদর নিয়ে টানাটানি করে মাকে জাগানোর চেষ্টা করতে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
কিন্তু সেই "দশ" হওয়াটাই
আজকে কঠিন বড়ো,
তার চে' সোজা সুযোগ বুঝে
সটান সরে পড়ো।

সরতে সরতে, সরতে সরতে
দেয়ালে ফিঠ ঠেঁকে
বুঝতে পারি মেরুদন্ড
কবেই গেছে বেঁকে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সবচেয়ে সহজ জিনিসটা জানো
তোমার সময় তো এসেই গেছে
দেরী হয়ে যায় না কখনো
জানো অ আ ক খ, তাই শুধু যথেষ্ট নয়
শুরু কর, সব কিছু জানতেই হবে
নেতৃত্ব নিতে হবে তোমাকেই।

শেখো, যে মানুষ আশ্রমে আছ
শেখো, যে মানুষ জেলখানায় আছ
শেখো ঘরের বৌ, রান্নাঘরে আছ
শেখো বয়স যার ষাট
বিদ্যালয়ে খোঁজো, যারা ঘর ছাড়া
তীক্ষ্ণ কর উপহাস, যারা ভয়ে ভীত
ক্ষুধার্ত মানুষ হাতে নাও বই এটাই হাতিয়ার
তোমার
নেতৃত্ব নিতে হবে তোমাকেই।
কবি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
লেখাপড়ার জয়গান
কবি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (জন্ম ১.৩.১৯৪৪)। বের্টোল্ট ব্রেখ্ট এর “In Praise of Learning” কবিতার
অনুবাদ। ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত কবির “চেনা ফুলের গন্ধ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
প্রশ্ন করতে ভয় পেয়ো না, ভাই
অন্যের কথা নিয়ো না মেনে
নিজেকেই দেখতে হবে সব
নিজে যা জানো না
তা তুমি জানই না
যোগ করো হিসাব নিকাশ
তোমাকেই দিতে হবে দাম
আঙুল বসাও সব কিছুতেই --

প্রশ্ন করো, কি করেই বা এল এটা?
নেতৃত্ব নিতে হবে তোমাকেই ।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
তুমি বলেছিলে সূর্য উঠবে,
চলো যাই,
সেই সব অজানা পথ ধরে
মুক্ত করতে তোমার প্রিয়
কুমির-গড়ন সবুজ স্বদেশ।

চলো যাই
সব অপমান ছুঁড়ে ফেলে --
চোখের উপর অন্ধকার বিদ্রোহী তারা
আমরা জিতব,
মৃত্যুকে হঠাব বন্দুকের মুখে।

গুলির আওয়াজে
অরণ্য কাঁপবে বিস্ময়ে
শান্ত আমরা
দাঁড়াব তোমার পাশে।
তোমার কণ্ঠস্বর চারিদিকে - জমির লড়াই,
সুবিচার, রুটি, স্বাধীনতা।
তোমার সুরে গলা মিলিয়ে
আমরা তোমার পাশে।
কবি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ফিদেলের জন্য গান কবি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (জন্ম ১.৩.১৯৪৪)। আর্নেস্টো চে
গুয়েভারা-এর
“Song to Fidel” কবিতার অনুবাদ। ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত কবির “চেনা ফুলের
গন্ধ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
শত্রুকে নিখুঁত আক্রমণে
দিনান্তের শেষে,
শেষ যুদ্ধের জন্য
আমরা তোমার পাশে।

বুনো জন্তুটা চাটবে তার ক্ষত
কিউবার বর্ষার ঘায়ে ক্ষিপ্ত
আমরা তোমার পাশে
দাঁড়াব গৌরবে।

কখনো ভেব না, আমাদের সততা
ওরা করবে শেষ।
রঙচঙে মাছির দলের উপহার নয়,
আমরা চাই --
ওদের বন্দুক, বুলেট, পাথর
আর কিছু নয়।

যদি লোহাও দাঁড়ায় মাঝে
কিউবার অশ্রু আবরণ
ঢাকা দেবে গেরিলার হাড় মাংস
আমেরিকার ইতিহাসের যাত্রায়
এর বেশি কিছু নয়।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মঈনুদ্দীন কেমন আছো
বড্ড বেশী ঘুম পাচ্ছে
মঈনুদ্দীন ঘুমকে তাড়াও
সময় এখন খ্যামটা নাচছে

মঈনুদ্দীন জেগে আছো
সময়গুলো পিছলে যাচ্ছে
মঈনুদ্দীন জোর পা চালাও
ধর্ম এখন মানুষ খাচ্ছে

মঈনুদ্দীন মইনুদ্দীন মইনুদ্দীন
বাঘের ছানা
টেউগুলো আজ আকর ছাড়ছে
বাঘের ঘরে ঘোঘের হানা

মঈনুদ্দীন যাচ্ছো কোথায়
এতই সহজ পালিয়ে বাঁচা
তোমার জন্য তৈরী আছে
শক্ত পোক্ত বাঘের খাঁচা

বাঘের খাঁচা বাঘের খাঁচা বাঘের খাঁচা
দেশটা জুড়ে
মঈনুদ্দীন রুখে দাঁড়াও
মাথা তোলো আকাশ জুড়ে
কবি শুভেন্দু মাইতি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মঈনুদ্দীন কেমন আছো কথা, সুর ও শিল্পী - কবি শুভেন্দু মাইতি (জন্ম ১৯৪৪)। “মঈনুদ্দীন কেমন আছ”
(১৯৯৫) সি.ডি.-র গান। গানটি শুনে লেখা। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে
Shubhendu Maity - Topic YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বড় দুঃখ পাইয়া রে
ও বাংলার বাউল
গান ভুইলাছে
উপবাসী শুক শারি
কৃষ্ণ নাম ভুইলাছে

গঙ্গে মাঝি গায়না ভাটিায়ালী
আবদার মন পাড়ে না মন
উথালি পাথালি
শহরের বাবু আউলের গান গায়
আউল ভুখে মরতাছে
ও বাংলার বাউল
গান ভুইলাছে

বড় দুঃখ পাইয়া রে
ও বাংলার বাউল
গান ভুইলাছে
কবি শুভেন্দু মাইতি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বড় দুঃখ পাইয়া রে কথা, সুর ও শিল্পী - কবি শুভেন্দু মাইতি (জন্ম ১৯৪৪)। “মঈনুদ্দীন কেমন আছ”
(১৯৯৫) সি.ডি.-র গান। শুনে লেখা। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে
Shubhendu Maity - Topic YouTubeChannel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
কোথায় গেল লালন জালাল
হাসন রোজা শরত ভাই
বলতে পারো কোথায় গেলে
প্রাণের সে গান শুনতে পাই

ছৌনাচ না পুরুলিয়ার চাষা
আজ ভদ্দরলোকে মুখোশ পড়ে
নাচ দেখায়রে খাসা
মোদের তুসু ভাদু সারি জারি
অন্ধকারেই ডুবাছে
ও বাংলার বাউল
গান ভুইলাছে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
অনেক কিছু বোধের অন্তরালে মায়াবী ছায়ার মত
ঝিম ধরে শুয়ে থাকে।
কিছু কিছু বলে ফেলতে ইচ্ছে করে শব্দ দিয়ে
কবিতার মত উচ্চারণ করে।
এই সেদিন অনুভবে যা এলো
ঠিক স্বচ্ছ স্পষ্ট স্ফটিক স্ফুলিঙ্গ হয়ে
তোমাদের দিকে তাকিয়ে
নিঃসঙ্গ উচ্চারণে বলে ফেলবো ভাবছিলাম,
বিশ্বাস করো সত্যিই ভাবছিলাম

দেশটা আমার এখনো অনেক দেশ থেকে ভালো,
বলার আগে মক্সো করছিলাম ঠিক কিভাবে বলবো।
তারপর
মনের ভেতরে চৌখুপি এক ঘরে কথা
নিঃশব্দে সাজিয়ে ফেললাম
পরিষ্কার এবার দেশের পেটের ভেতরকার
বিদেশের গোপন ব্যাংক নম্বর থেকে
সকল কালো টাকা ঘুষের টাকা ' মার ঝাড়ু মার
ঝাড়ু মেরে ঝেটিয়ে বিদেয় কর '...
বলার জন্য উসখুস করছি,  কিন্তু
রাত পোশাকে ডিমনিটাইজেশন
উল্লসিত প্লাবিত জনগণ
স্বচ্ছ ভারত খেলিবে মৃদু পবনে,
কবি সুনীতি দেবনাথ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কনসেনট্রেশন ক্যাম্প
কবি সুনীতি দেবনাথ (জন্ম ২৮.১.২৯৪৫)।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
আমার বলার আগে এরপর কি হলো
খোলা বইয়ের পাতা
অনলাইনের বিজলী চমক বিনা বেতনে
মাসের পর মাস যা আগে দেখিনি
চলছে চলবে কবিতা নাচবে কত বলবো?
আশ্চর্য প্ল্যানিং কাশ্মীর পাকিস্তানের সঙ্গে
যুদ্ধ লেগেই গেলো, লাগলো না।
হিসেবটা রাখতে পারিনি মৃতদের মধ্যে
জঙ্গি বেশি না জওয়ান
জয় ভারত বলবোই ... আর কিছু  তো বলা হলো না,

আমার ভেতরে এক কনসেনট্রেশন ক্যাম্প,
বাইরে বিশাল আরেক।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আজ নয় কাল নয়
আসবে দিন কোনো দিন।

আঁধারহীন আলোর দিন
ফাগুন দিন...।

ঘুচবে দিন অন্নহীন
শীতের রাত বস্ত্রহীন

ঘুচবে দিন কর্মহীন
ঝড়ের রাত বরফহীন

সস্ত্রহীন স্বপ্নদিন
কান্নাহীন গানের দিন!
কবি পিয়াসা দাশগুপ্ত
আজ নয় কাল নয় কবি পিয়াসা দাশগুপ্ত (জন্মকাল অজ্ঞাত)---১।
সুর - মেঘনাদ। গানটি রয়েছে ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও
সংকলিত “গণসংগীত সংগ্রহ” সংকলনে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ভালবেসে চাঁদ হয়ো নাকো
পারো যদি সূর্য হয়ে এসো
আমি তার উত্তাপ নিয়ে নিয়ে
আঁধার অরণ্য জ্বেলে দেবো।

ভালোবেসে নদী হয়ো নাকো
পার যদি বন্যা হয়ে এসো
আমি তার আবেগ বয়ে নিয়ে
হতাশার যত বাঁধ ভেঙে দেবো।

ভালোবেসে ফুল হয়ো নাকো
পারো যদি বজ্র হয়ে এসো
আমি তার শব্দ বুকে ধরে
লড়াইয়ের বার্তা দিকে দিকে ছুঁড়ে দেবো।
কবি মুরারি মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ভালোবেসে চাঁদ হয়ো নাকো কথা - কবি মুরারি মুখোপাধ্যায় (২৫.৫.১৯৪৫ - ২৪.৭.১৯৭১)। সুর - কবি পরেশ
ধর। গানটি রয়েছে ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত “গণসংগীত সংগ্রহ” সংকলনে। নকশালবাড়ী
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কবিকে ১৯৬৯ সালের অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ বহড়াগোড়া-চাকুলিয়া অঞ্চল থেকে গ্রেফতার করা হয়।
সেই সূত্রে তাঁর কারাবাস হয় বিহারের হাজারিবাগ জেলে। ১৯৭১ সালের ২৪শে জুলাই তারিখে দুপুর আড়াইটায়, বিহারের
হাজারিবাগ জেলে কারারক্ষীদের গুলি চলে যাতে শতাধিত আহতের সঙ্গে ১৬ জন বন্দী নিহত হন। কবি মুরারি মুখোপাধ্যায়
সেই ঘটনার নিহতদের মধ্যে ছিলেন।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
ভালবেসে পাখি হয়ো নাকো
পারো যদি ঝঞ্ঝা হয়ে এসো
আমি তার শক্তির ছোঁয়া পেয়ে
পাপের প্রাসাদটা ভেঙে দেবো।

চাঁদ নদী ফুল তারা পাখি
দেখা যাবে কিছুকাল পরে
কেননা এ-অন্ধকারে শেষ যুদ্ধ এখনো বাকি
এখন আগুন চাই আমাদের ভাঙা কুঁড়ে ঘরে।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
যদিও মৃত্যু আছে পৃথিবীতে
লোনা জল সমুদ্রের গভীরতা নিয়ে
যদিও প্রতিটি রাত
কান্নার জোয়ারে যায় ভেসে,
তবু আমি বাঁচতে চাই।
দিনের প্রচুর আলো
ছোট হতে হতে অবলুপ্ত হয়ে যায়
কারখানার গাঢ় অন্ধকারে
তবু আমি বাঁচতে চাই।
অনেক কথার বোঝা
আটকে যায় বুকে
কোননা ঠোঁট রক্তহীন,
( ব্যথিত হৃদয় মোর
কেঁপে ওঠে চমকে চমকে )
তবু আমি বাঁচতে চাই।
কবি মুরারি মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
প্রতিবাদ কবি মুরারি মুখোপাধ্যায় (২৫.৫.১৯৪৫ - ২৪.৭.১৯৭১)। “মুরারি স্মৃতিরক্ষা কমিটি”-র পক্ষ থেকে প্রকাশিত অমল
রায়ের সম্পাদনায় কাব্যসংকলন “মৃত্যু নেই” ( ৭০ দশকের শেষ দিকে ) থেকে নেওয়া। নকশালবাড়ী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত
কবিকে ১৯৬৯ সালের অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ বহড়াগোড়া-চাকুলিয়া অঞ্চল থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সূত্রে তাঁর কারাবাস
হয় বিহারের হাজারিবাগ জেলে। ১৯৭১ সালের ২৪শে জুলাই তারিখে দুপুর আড়াইটায়, বিহারের হাজারিবাগ জেলে
কারারক্ষীদের গুলি চলে যাতে শতাধিত আহতের সঙ্গে ১৬ জন বন্দী নিহত হন। কবি মুরারি মুখোপাধ্যায় সেই
ঘটনার নিহতদের মধ্যে ছিলেন।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
হয়তো সফল হবো
.        কিংবা হবো না
নিঃসাড়ে পড়ে থাকবো
অন্ধকারে, রক্তঝরা মুখে,
তবু আমি বাঁচতে চাই
এই কটা দিন
সমাজের প্রতিবাদ হয়ে
আমি বাঁচতে চাই।
এই কবিতাটির অন্য একটি পাঠও পাওয়া গেছে, যাতে ( ) বন্ধনীস্থিত লাইন দুটি নেই। তবে এই পাঠই পরিমার্জিত ব’লে মনে হয়। ---সম্পাদক, “মুরারি
স্মৃতিরক্ষা কমিটি” থেকে প্রকাশিত কাব্যসংকলন।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
দগ্ধ প্যাণ্ডেলের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছি আজ আমি
দগ্ধ মানবতা নিয়ে ঘৃণায় বিক্ষুব্ধ হয় চোখ
দগ্ধ রাতে, অন্ধকারে, লজ্জা আসে নামি
এবং এ শুভ লগ্নে প্রতিজ্ঞার নবজন্ম হোক।
অত্যাচার জমে জমে বিক্ষোভের ইতিহাস হয়,
ইতিহাস বিধাতার আরো কিছু বাকী আছে বুঝি,
তবু জানি শেষ যুদ্ধে আনবোই জয়
তাইতো আগুন দেখে আগুনেরই কাছে পথ খুঁজি।
শ্মশানের ভষ্মস্তুপে জাগাবোই নতুন জীবন,
এরই জন্যে অশ্রু মুছে একতার জয়গান গাই ;
প্রতিজ্ঞার ইতিহাসে ক্ষোভ ঘৃণা অপূর্ব মিলন
এবং বেদনা নিয়ে কথা বলে যেতে চাই----
বিশ্বাস অমৃত পুত্র মারলে মরে না,
আগুনে প্যাণ্ডেল পোড়ে, মন তো পোড়ে না।
কবি মুরারি মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মৃত্যু নেই কবি মুরারি মুখোপাধ্যায় (২৫.৫.১৯৪৫ - ২৪.৭.১৯৭১)। মরণোত্তর প্রকাশ, নিশান পত্রিকায় নভেম্বর-ডিসেম্বর
১৯৭১। আড়িয়াদহ অঞ্চলে একটি বিন্ধ্যবাসিনী বালিকা বিদ্যালয়ের শতবার্শিকী উত্সবের মণ্ডপ ভাড়াটে গুণ্ডারা পুড়িয়ে দিলে
মুরারি এই কবিতাটি লেখেন। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত “সত্তরের শহীদ লেখক শিল্পী”, সংকলন থেকে
এই কবিতাটি আমরা পেয়েছি। নকশালবাড়ী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কবিকে ১৯৬৯ সালের অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ বহড়াগোড়া-
চাকুলিয়া অঞ্চল থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সূত্রে তাঁর কারাবাস হয় বিহারের হাজারিবাগ জেলে। ১৯৭১ সালের ২৪শে
জুলাই তারিখে দুপুর আড়াইটায়, বিহারের হাজারিবাগ জেলে কারারক্ষীদের গুলি চলে যাতে শতাধিত আহতের সঙ্গে ১৬ জন
বন্দী নিহত হন। কবি মুরারি মুখোপাধ্যায় সেই ঘটনার নিহতদের মধ্যে ছিলেন।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কালো রাত নাই সয় রাত আসে ভয় হয়
রাত বাড়ে, বাড়ে ভয় এই বুঝি জান যায়।
পালিয়ে যাবো কোথা ভারতে বা দুনিয়ায়
হাত ছাড়া কে আছে আমার
শ্রম বেচে খাই, বাঁচি আমি, বাঁচে পরিবার।
কোথা ছিল মসজিদ না কি ছিল মন্দির
জেহাদ কী তাও জানা নাই, দিন আনি দিন খাই
আল্লার নাম জপে যাই।
বাপ তার বাপ ছিল গুজরাটে কবে থেকে
জানার সময় অ্যাতো নাই
বোমা বন্দুক অদেখা, আমি এক গুজরাটি-মুসলিম ভাই।
হে দেশ মালিক মোরা অতি দীন
আমাদের রাত্রে ঘুমোতে দিন
কাজে-কর্মে কাটে যেন দিন
আমি ভারতীয় হতে পারি মুসলিম॥
কবি মেঘনাদ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
গুজরাট
কবি মেঘনাদ (জন্ম ১.৫.১৯৪৫)। গুজরাট গণহত্যা নিয়ে লেখা গান। গানটি শুনুন নীচে প্লেয়ারে ক্লিক করে। কবির গানের
ওয়েবসাইট
মেঘনাদ.অর্গ . . .। কবিকণ্ঠে গানটি শুনুন প্লেয়ারে ক্লিক করে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কে তার জবাব দেবে
বিষাক্ত বাতাসে হাজার হাজার প্রাণ
দিল রাত অন্ধকারে।

সারাদিন হাড়ভাঙা
খাটুনির দাঁড় টানা
ক্লান্ত চোখে নামে রাত্রির তন্দ্রা
আর চোখ খুললো না
আর ঘুম ভাঙলো না
কেন কোলাহল বন্ধ হল অকালে
কে জবাব দেবে।

দোসরা ডিসেম্বর, উনিশশো চুরাশি
কুয়াশাভরা রাত্রিনিশি।
ভূপাল নগরীর অন্ধকারে
ইউনিয়ন কারবাইড কারখানা হতে
অভিশপ্ত এক দানব নামে
মিশে যায় ভূপালের ভারী বাতাসে
হানে যত মজুরের লাল হৃদয়ে
হাজার হাজার প্রাণ লুটিয়ে পড়ে
কে তার জবাব দেবে।
কবি মেঘনাদ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কে তার জবাব দেবে কবি মেঘনাদ (জন্ম ১.৫.১৯৪৫)। ভূপাল গ্যাস ট্র্যাজিডির প্রতিবাদ। গানটি রয়েছে ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র
সম্পাদিত ও সংকলিত “গণসংগীত সংগ্রহ” সংকলনে। কবির গানের ওয়েবসাইট
মেঘনাদ.অর্গ . . .। কবিকণ্ঠে গানটি শুনুন প্লেয়ারে ক্লিক
করে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
আর লাগবে না বুলডোজার
লাগবে না রাইফেল
বস্তী সংস্কারে।
আর লাগবে না প্রচার
লাগবে না বিচার
পরিবার উন্নয়নে
তুর্কম্যান সেট আর
ঘটবে না ঘটবে না
সংস্কার শান্তি পথে
রক্তপাতহীন শান্তিপথে।
আমি জানি এ কিসের ভয়ানক ছায়া
এ যে রসায়ন যুদ্ধের মহড়া।
যেমন ঘটেছে ভিয়েতনামে
আর ঘটেছে আফগানিস্থানে।
কে তার জবাব দেবে।
সারি সারি মৃতদেহ
নেই তাতে বিদ্বেষ
হিন্দু না মুসলিম
কার দেশ কার দেশ।
উঁচু নীচু জাতপাত
নেই তার কোনো রেস
ঐক্য গড়েছে মেহনতি লাস বেশ।

ঘটতো দাঙ্গা যদি ২রা রাত্রি
আমিও হতাম সেই দাঙ্গার যাত্রী
হাতেতে নিতাম এক কেরোসিন বালতি
জ্বালতাম উঁচু শ্বেত প্রাসাদ-এ।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
গহন আঁধার ভাঙে গো
সূর্য ওঠে কিষ্টা-ভূমার ডাকে।
শোন চাষী, শোন মজুর,
শোন দেশবাসী,
তোমার লাগি এ দুই ভাইজান
গলায় পরলো ফাঁসী।
তোমার লাগি এই পরাণ জাগে
কলে ক্ষেত্রে খামারে।

দেশবাসী আবার শপথ নাও,
সূর্য তোমার নয়কো অনেক দূরে,
আঁধার রাতে কিষ্টা ভূমার ডাক
আর সহে না পরাণটা যে জ্বলে।

শোন চাষী শোন মজুর,
শোন দেশবাসী,
আমার মায়ের পায়ের শেকল
আজও আছে লাগি।
তার লাগি হাজার পরাণ কাঁদে
.                  ভুখে দুখেতে।
কবি মেঘনাদ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
গহন আঁধার ভাঙে গো কথা ও সুর -- কবি মেঘনাদ (জন্ম ১.৫.১৯৪৫)। গানটি রয়েছে ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র
সম্পাদিত ও সংকলিত “গণসংগীত সংগ্রহ” সংকলনে। কবির গানের ওয়েবসাইট
মেঘনাদ.অর্গ . . .। কবিকণ্ঠে গানটি শুনুন প্লেয়ারে ক্লিক
করে। কিষ্টা গৌড় ও ভূমাইয়া, অন্ধ্রপ্রদেশের এই দুই আদিবাসী গরীব চাষীর রাজনৈতিক কারণে জরূরী অবস্থায় সময়ে ১লা ডিসেম্বর
১৯৭৫--এ ফাঁসী হয়। ইংরেজ শাসনের অবসানের পর এই প্রথম রাজনৈতিক বন্দীর ফাঁসী হয়েছিল।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেশবাসী আবার শপথ নাও
সূর্য তোমার নয়তো অনেক দূরে
আঁধার রাতে কিষ্টা ভূমার ডাক
আর সহে না পরাণটা যে জ্বলে॥
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
অনেক রক্তের বিনিময়ে, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে
.               পেয়েছি আমরা স্বাধীনতা
প্রায় পঞ্চাশ বছর তবু ঘুচলো না তার অধীনতা॥
খাদ্য সবার কথা ছিল কর্ম সবার কথা ছিল
শিক্ষা স্বাস্থ্য বাসস্থানের সুরাহা হবার কথা ছিল
পড়লো না ভাত কেন সবার পেটে, জুটলো না কাজ কেন সবার হাতে
.             গৃহহীন, শীর্ণ, নিরক্ষরতা॥
স্বনির্ভরতার কথা ছিল      সম্পদশালিনীর কথা ছিল
নৈতিকতার কথা ছিল       অধিকার সুবিচার কথা ছিল
.             আজও কেন ভিখ্ মাগি ধনীর দ্বারে
.             আমাদের ধন কেন পরের ঘরে
.             নীতিহীন অনাচার পাশবিকতা॥
রক্ষক কেন ভক্ষক হ’ল, শাসন ত্রাসে দেশ শ্মশান হল
দেশপ্রেম আর দেশসেবা আজ শুধু রইল মুখের কথা।
.            পুণ্যবস্তু পণ্য হল ভ্রষ্ট কর্ম নিয়ম হ’ল
.            খুন রাহাজানি পেল আইন ছায়া॥
কবি মেঘনাদ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
অনেক রক্তের বিনিময়ে কথা ও সুর -- কবি মেঘনাদ (জন্ম ১.৫.১৯৪৫)। স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত যুদ্ধ জয়ের গান
থেকে নেওয়া। রচনা -- আগষ্ট,  ১৯৯৪।কবির গানের ওয়েবসাইট
মেঘনাদ.অর্গ . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
ভারত আবার জগত সভায় শ্রেষ্ঠ হবার কথা ছিল
ধনধান্য পুষ্পভরা সুজলা সুফলা কথা ছিল
.            কোটি মেহমতি ঘরে বেকারী ক্ষুধা
.            ঋণের বোঝায় দেশ নত মাথা
.            অগ্রগতি মুখের কথা॥
শপথ নিলাম ওগো ভারতমাতা
করবো না নত আর মোদের মাথা
ভুলিনি আমরা রক্ত ত্যাগের দান
ঘুচাবো আমরা অধীনতা॥
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এসেছে সময় আবার হাঁকো
.                 ভারত ছাড়ো ভারত ছাড়ো
নতুন রূপে বিদেশী শাসন আবার এলো॥
এই ডাকেতে একদিন ছিল ভারত উত্তাল
শহীদ রক্তে ভারত ভূমি হয়েছিল লালে লাল।
বৃটিশ শাসন দণ্ড ভারতে কেঁপেছিল থরো থরো
.                  ভারত ছাড়ো, ভারত ছাড়ো॥
দুই শ বছর বৃটিশ শাসনে আমরা সয়েছি কত
পরাধীনতার লাঞ্ছনা আর অপমান কতশত
জেনেছি আমরা প্রাণের চেয়েও স্বাধীনতা দামী বড়ো॥
.                  ভারত ছাড়ো, ভারত ছাড়ো॥
স্বাধীনতা রক্ষার ভার নিল যারা ভাই কাঁধে
আপন স্বার্থে গাটছড়া বাধে বিদেশী শোষক সাথে
খাল কেটে তারা আনছে কুমীর করতে শোষণ আরো
.                  ভারত ছাড়ো, ভারত ছাড়ো॥
ইংরেজ গেল মার্কিন এলো গ্রাস করে দুনিয়ারে
সাহায্য নামে গরীব দেশের সম্পদ লুঠ করে
মুক্তিকামী মানুষ মারতে অস্ত্র করে সে জড়ো
.                   ভারত ছাড়ো, ভারত ছাড়ো॥
যতই দেখাক অস্ত্র ডলার  হারে জনতার কাছে
চীন আর ইন্দোচীনের শিক্ষা দুনিয়ার মনে আছে
৪২-কে স্মরণ করে আবার সে হাঁক ছাড়ো॥
কবি মেঘনাদ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এসেছে সময় আবার হাঁকো
কথা ও সুর - কবি মেঘনাদ (জন্ম ১.৫.১৯৪৫)। স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত যুদ্ধ জয়ের গান থেকে
নেওয়া। কবির গানের ওয়েবসাইট
মেঘনাদ.অর্গ . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওমা ও তুই আর কান্দিস না
তোর কান্না আমার আর যে সয় না॥
চোখের জল চোখে শুকায় মেঘ তো না
কঠিন আকাশ, কঠিন মাটি, ধূলির কণা॥
রত্নগর্ভা তুই ছিলি মা, অঙ্গভরা হীরা পান্না
সন্তান ছিল আমোদ সুখে দুখ অচেনা
এখন তাদের ভাষায় আছে ভরপুর কান্না॥
মাঠে বইতো সবুজ বন্যা     গতর চিকন কালোসোনা,
সকাল সাঁঝে কলের বাঁশির মধুর বাজনা
সব যে হল ধূসর নীরব মৃত্যুর ধরণা !!

( তোর ) স্নিগ্ধ চোখে আগুন জ্বাল মা
বাজা মা তোর রণের শিঙা
কোটি কড়া হাতে অস্ত্র তুলে না
রক্তধারার পিছে আসবে সুখের বন্যা॥
কবি মেঘনাদ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ওমা ও তুই আর কান্দিস না
কথা ও সুর -- কবি মেঘনাদ (জন্ম ১.৫.১৯৪৫)। স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত যুদ্ধ জয়ের গান
থেকে নেওয়া। কবিকণ্ঠে গানটি শুনুন প্লেয়ারে ক্লিক করে। কবির গানের ওয়েবসাইট
মেঘনাদ.
অর্গ . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ও সোনা নদী রে
আঁকাবাঁকা পথে পথে
চলো আপন মনে।

( তোমার ) দুকূল সোনাহীরায় ভরা
শাল মহুলের সবুজ ঘেরা
তবু দেখি ক্ষুধার জ্বালা
আঁধার পরান রে॥
তোমার সন্তান কালো সোনা
ভিটাছাড়া বোবা কালা
দানব এলো বন্ধ হলো
মাদল দোলা রে॥
( একদিন )  তোমার বুকে ঢেউ-এ বন্ধু
জেগেছিল লক্ষ বাহু
( আজ )     নিথর চোখে দেখো শুধু
মরণ খেলা রে॥
কবি মেঘনাদ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ও সোনা নদী রে
কথা ও সুর -- কবি মেঘনাদ (জন্ম ১.৫.১৯৪৫)। স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত যুদ্ধ জয়ের গান
থেকে নেওয়া। রচনা - ১৬ই ডিসেম্বর,১৯৮৫। কবিকণ্ঠে গানটি শুনুন প্লেয়ারে ক্লিক করে। কবির
গানের ওয়েবসাইট
মেঘনাদ.অর্গ . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
চটকদারী বিজ্ঞাপনে
হরেক কথা ভুলো না
মিঠে কথা রঙের খেলায়
দাবীর কথা ভুলো না
এ যে রঙ মাখানো ছলচাতুরী
মন ঘোরানোর ছলনা॥

টিভিতে দেখো নাচে ললনা
কতই তাদের ছলাকলা
মিথ্যে কথা ষোলআনা
গেলে পুত্র কন্যা
ভাবে ঘর বাপ মা আমার কেন
এমন হল না
হিরো হিরোইন মতো
মনে হয় না ভারতীয়
অঙ্গভঙ্গী আর নৃত্য
ভাদ্র মাসের কুকুর মতো॥
রোষের আগুন নিভায়
জাগায় ভোগের কামনা
ছেলে মেয়ের পড়াশুনা
ব্যাঘাত করার এক ছলা
পরিবারের গল্প গুজব
কবি মেঘনাদ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
চটকদারী বিজ্ঞাপনে
কথা ও সুর -- কবি মেঘনাদ (জন্ম ১.৫.১৯৪৫)। স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত যুদ্ধ জয়ের গান থেকে নেওয়া। রচনা--৩১শে
জানুয়ারী , ১৯৯৪। কবির গানের ওয়েবসাইট
মেঘনাদ.অর্গ . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
বন্ধ করার এক কলা
ভাবের মিলন না হলে ভাই
ঘরের ঐক্য হবে না॥

পড়লে বই করলে চিন্তা
বাড়লে মোদের চেতনা
বাড়লে মনের চেতনা তা
দেশের মালিক চাইবে না
চায় যে নদীর পথ ঘোরাতে
এটা কি বোঝ না॥

অন্যভাবে বাঁচতে চাওয়া
এটা মোদের অধিকার
যেটুকু ভাই পেয়েছি তা
নয়রে দয়া দানের ভার
তাই রোষ দেখাতে ঘরের জিনিসপত্র
ভেঙো না॥
দেশের মালিক যা করে বলে
চোখ বুজে তা মেনো না
“কেন” প্রশ্ন রেখো মনে
দুহাত তুলে দিও না ॥
কষ্টিপাথর না ঘষে ভাই
কাউকে মাথায় তুলো না
ছবি বাক্সে যা কিছু করে
হাঁ করে তাই গিলো না
কঠোর শাসন করো মনেরে
টুপি মাথায় পরো না
বাঁচার লড়াই প্রতিদিনই
এটা ভুলো না
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমার এতো দেহের রক্ত নাই মা
ভিজাবো তোর বুক
আমার এতো চোখের জল নাই মা
নিভাবো তোর বুকের আগুন।

তোর  সবুজ যে রূপ ধূসর হইলো
কোমল দেহ পাথর হইলো
সে আগুনে আমার কপাল
পুড়িয়া গেল, মা গো।

ক্ষেত জ্বললো পেট জ্বললো
জ্বললো দেহখান্
অভাগীর কপাল পুড়লো
পুড়লো না শয়তান।

হাতে নিয়ে ভিক্ষাপাত্র
ঘুরবো না আর যত্রতত্র
দেহ আমার শুকনো বারুদ
জ্বালাবো আগুন।
কবি মেঘনাদ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
দেহ আমার শুকনো বারুদ
কথা ও সুর -- কবি মেঘনাদ (জন্ম ১.৫.১৯৪৫)। সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত গণসংগীত
সংগ্রহ থেকে নেওয়া। কবির গানের ওয়েবসাইট
মেঘনাদ.অর্গ . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মাকে কারা তুলছে চিতায় এই নিশুতি অন্ধকারে
মুখোশ এঁটে শেষবিচারে

দিকদিগন্ত হারিয়ে এখন মধ্যযামে ঘোর কুয়াশা
সাত জুয়ারী খেলছে পাশা

এদের মধ্যে আমায় কেন ঠাউরে নিলে শ্মশানযাত্রী
দুচার বিন্দু জলের জন্য রোগীর মতো প্রবল আর্তি

আর কতকাল চলতে পারে
মাকে ওরা জটলা বেঁধে খুন করেছে রাজদুয়ারে

মুখের ফেনা ওপড়ানো চোখ রক্তে ভাসা নীল প্রতিমা
শুদ্ধ হতে
আমার হাতের আগুন চায়
অন্য পাশে মুখোশ এঁটে কোন বাহিনী দাঁড়িয়ে ঠায় ?
কবি পিনাকেশ
সরকার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পশ্চিমবাংলা : ১৯৭১
কবি পিনাকেশ সরকার (জন্ম ৭.৫.১৯৪৫)। রচনা ১৩.০৪.১৯৭১, রাত ১২টা।
কবিতাটি কবি মিলনসাগরকে দেন তাঁর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারের সময়ে,
১৩.১১.২০১০ তারিখে, তাঁর বাসভবনে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
তোমার ছেলেরা মরে গেছে প্রতিরোধের প্রথম পর্যায়ে,
তারপর গেছে তোমার পুত্রবধূদের হাতের মেহেদী রঙ,
তারপর তোমার জন্মসহোদর, ভাই শেখ নাসের
তারপর গেছেন তোমার প্রিয়তমা বাল্যবিবাহিতা পত্নী,
আমাদের নির্যাতিতা মা।

এরই ফাঁকে একসময় ঝরে গেছে তোমার বাড়ির
সেই গরবিনী কাজের মেয়েটি, বকুল।
এরই ফাঁকে একসময় প্রতিবাদে দেয়াল থেকে
খসে পড়েছে রবীন্দ্রনাথের দরবেশ মার্কা ছবি।
এরই ফাঁকে একসময় সংবিধানের পাতা থেকে
মুছে গেছে দু’টি স্তম্ভ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র।
এরই ফাঁকে একসময় তোমার গৃহের প্রহরীদের মধ্যে
মরেছে দু’জন প্রতিবাদী, কর্ণেল জামিল ও নাম না-জানা
এক তরুণ, যাঁর জীবনের বিনিময়ে তোমাকে বাঁচাতে চেয়েছিলো।

তুমি কামান আর মৃত্যুর গর্জনে উঠে বসেছো বিছানায়,
তোমার সেই কালো ফ্রেমের চশমা পরেছো চোখে,
লুঙ্গির উপর সাদা ফিনফিনে ৭ই মার্চের পাঞ্জাবী,
মুখে কালো পাইপ, তারপর হেঁটে গেছো বিভিন্ন কোঠায়।
সারি সারি মৃতদেহগুলি তোমার কি তখন খুব অচেনা ঠেকেছিলো?
তোমার রাসেল? তোমার প্রিয়তম পত্নীর সেই গুলিবিদ্ধ গ্রীবা?
তোমার মেহেদীমাখা পুত্রবধুদের মুজিবাশ্রিত করতল?
কবি নির্মলেন্দু গুণ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
সেই রাত্রির কল্পকাহিনী কবি নির্মলেন্দু গুণ (জন্ম ২১.৬.১৯৪৫)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের হত্যা নিয়ে কবিতা। আমরা কৃতজ্ঞ জাগোনিউজ২৪.কম ওয়েবসাইটের কাছে। এই
কবিতাটি আমরা সেখান থেকেই পেয়েছি। সেই পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
রবীন্দ্রনাথের ভূলুন্ঠিত ছবি?
তোমার সোনার বাংলা?

সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামবার আগে তুমি শেষবারের মতো
পাপস্পর্শহীন সংবিধানের পাতা উল্টিয়েছো,
বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে এক মুঠো মাটি তুলে নিয়ে
মেখেছো কপালে, ঐ তো তোমার কপালে আমাদের হয়ে
পৃথিবীর দেয়া মাটির ফোঁটার শেষ-তিলক, হায়!
তোমার পা একবারও টেলে উঠলো না, চোখ কাঁপলো না।
তোমার বুক প্রসারিত হলো অভ্যুত্থানের গুলির অপচয়
বন্ধ করতে, কেননা তুমি তো জানো, এক-একটি গুলির মূল্য
একজন কৃষকের এক বেলার অন্নের চেয়ে বেশি।
কেননা তুমি তো জানো, এক-একটি গুলির মূল্য একজন
শ্রমিকের এক বেলার সিনেমা দেখার আনন্দের চেয়ে বেশি।
মূল্যহীন শুধু তোমার জীবন, শুধু তোমার জীবন, পিতা।

তুমি হাত উঁচু করে দাঁড়ালে, বুক প্রসারিত করে কী আশ্চর্য
আহবান জানালে আমাদের। আর আমরা তখন?
আর আমরা তখন রুটিন মাফিক ট্রিগার টিপলাম।
তোমার বক্ষ বিদীর্ণ করে হাজার হাজার পাখির ঝাঁক
পাখা মেলে উড়ে গেলো বেহেশতের দিকে…।
… তারপর ডেডস্টপ।
তোমার নিষ্প্রাণ দেহখানি সিঁড়ি দিয়ে গড়াতে, গড়াতে, গড়াতে
আমাদের পায়ের তলায় এসে হুমড়ি খেয়ে থামলো।
– কিন্তু তোমার রক্তস্রোত থামলো না।
সিঁড়ি ডিঙিয়ে, বারান্দার মেঝে গড়িয়ে সেই রক্ত,
সেই লাল টকটকে রক্ত বাংলার দূর্বা ছোঁয়ার আগেই
আমাদের কর্ণেল সৈন্যদের ফিরে যাবার বাঁশি বাজালেন।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আগুন লেগেছে রক্তে মাটির গ্লোবে,
যুবক গ্রীষ্মে ফাল্গুন পলাতক।
পলিমাখা চাঁদ মিছিলে চন্দ্রহার
উদ্বত পথে উন্নত হাত ডাকে,
সূর্য ভেঙেছে অশ্লীল কারাগার।
প্রতীক সূর্যে ব্যাকুল আগ্নি জ্বলে,
সাম্যবাদের গর্বিত কোলাহলে
আগুন লেগেছে রক্তে মাটির গ্লোবে।
রক্তক্ষরণে সলিল সমাধি কার?
মানুষের মুখে গোলাপের স্বরলিপি
মৃত্যু এনেছে নির্মম দেবতার।
পুরোভাগে হাঁটে মুক্ত-ভূমন্ডল…
আগুন লেগেছে রক্তে মাটির গ্লোবে।
মানুষের হাতে হত্যার অধিকার?
পুষ্পের নিচে নিহত শিশুর শব,
গোরস্তানেও ফসফরাসের আলো
অর্জুন সবে স্বপ্নের সম্ভবে,
আগুন লেগেছে রক্তে মাটির গ্লোবে।
কবি নির্মলেন্দু গুণ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
উন্নত হাত
কবি নির্মলেন্দু গুণ (জন্ম ২১.৬.১৯৪৫)। আমরা কৃতজ্ঞ ফেসবুকের "কবিতা" নামের
পাতা থেকে। সেই পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
লোকের রুচি কোথায় গেছে---
ছবিটা দেখেছ? কি আছে, আঁ।
কি চেহারা! একে আবার রেপ করেছে।
ভাঁজ করা কাগজ গরম চা
কিছু চশমা চশমা বিহীন কেউ বা
লেখাপড়া জানা ভদ্দরলোকের আলোচনায়
আলোচনায় শহর শহরতলীর আড্ডায়
ভেসে বেড়ায় তাপসী মালিক। "কিন্তু
চোখটা দেখেছ, কি তীব্র চাউনি!"
কি দেখে? কা'কে দেখে?
সতেরো আঠারো --- কুমারী মন
রজস্বলা মাটির মেয়ে --- দেখেছিল
স্বপ্নের আকাশ বাতাস

গাছপালা আশপাশ
সবুজ ধানের ক্ষেত স্বজন সুজনের
পরিচিত মুখ। চেয়েছিল সাধারণ সুখ।
বুকের সবুজে পাঁচিল ওঠায়
স্বপ্নগুলো ডানা ঝাপটায়,
চোখের কোটরে জ্বলে হাজারো উনান।
দশের উত্তাপ গায়ে মেখে
কবি মিহির চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ন হন্যতে কবি মিহির চৌধুরী (জন্ম ৫.১১.১৯৪৫)। সিঙ্গুরে, আন্দোলনকারী তাপসী মালিককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারা
হয়। বিচারের নামে প্রহসনে, অভিযুক্ত অপরাধীরা সব বেকসুর খালাস হয়ে যায়। তদানীন্তন সরকার পক্ষের কবি-
সাহিত্যিক-ফিল্ম-মেকারগণ মিলিত হয়ে মৃতা তাপসী মালিকের চরিত্রহননের খোলাখুলি চেষ্টা করেন লেখালেখি ক’রে,
সিনেমা তৈরী করে, নাটক লিখে উপস্থাপন করে। তাঁদের মধ্যে খ্যাতনামা বিশিষ্ট নারী বুদ্ধিজীবীরাও ছিলেন!
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
রজঃস্বলা ভূমিকন্যা পায়ে পায়ে---
পথ চলে মিছিলে মিছিলে,
উদ্ধত হাতের মুঠি প্রতিবাদে দোলে।
ভূমিকন্যা তাপসীর পথের পাঁচালীর
পাতাগুলির আয়ু হানাদার ঠিক করে দেয়,
সূর্যসাক্ষী রেখে রজঃস্বলা ভূমিকন্যাকে
পাশবিক ধর্ষণ শেষে
দেহবৃন্তের পাতা সব খুবলে উপড়ে
সর্বভুক আগুনে পুড়িয়ে
শিল্পায়নে আহুতি হয় শেষ।
মাংসপিণ্ড ধোঁয়া পুড়ে গেছে মাটি
পেট্রল ডিজেল
ভূমিকন্যা মিশে গেছে মাটির গভীরে
পরিব্যাপ্ত আত্মায় জেগে থাকে
তাপসী মালিক।
ভূমি রাক্ষস নিধনের
ডাক জাগে মাটির গভীরে,
তাপসী ভেসেই চলে, বলে যায়---
ভারতকথা
ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ভয় আর লোভের চাদরে মোড়া
ত্রিশ বছরে পতিত মানব জমিন্
তাই তোমাদের চোখে
ফসল পতিত
পতিত চাষি
পতিত মজদুর
১৪৪ ধারা....খুঁটি....কাঁটাতার
পুঁজি পালাবে না আর
কি আশ্চর্য
সেখানে পুঁতেছ তুমি আধপোড়া লাশ
ধর্ষিতা মেয়ের
শীতের হিমেল রাতে
জমির পাহারাদার
লাশ হয়ে গেছে ---। তবুও
উজ্জ্বল বণিকসভায়
মিডিয়ায়
ভেসে থাকে হাসিভরা হানাদার মুখ।
কবি মিহির চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
জমির লড়াই ২০০৭ কবি মিহির চৌধুরী (জন্ম ৫.১১.১৯৪৫)। ২০০৭ সালে প্রকাশিত কবির “দাঁড়িয়ে আছি”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। সিঙ্গুরে, আন্দোলনকারী তাপসী মালিককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারা হয়। বিচারের নামে প্রহসনে,
অভিযুক্ত অপরাধীরা সব বেকসুর খালাস হয়ে যায়। তদানীন্তন সরকার পক্ষের কবি-সাহিত্যিক-ফিল্ম-মেকারগণ মিলিত
হয়ে মৃতা তাপসী মালিকের চরিত্রহননের খোলাখুলি চেষ্টা করেন লেখালেখি ক’রে, সিনেমা তৈরী করে, নাটক লিখে উপস্থাপন
করে। তাঁদের মধ্যে খ্যাতনামা বিশিষ্ট নারী বুদ্ধিজীবীরাও ছিলেন!
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
কিন্তু আজ মানব জমিনে
ফাটল ধরেছে
ভয় আর লোভের চাদর
ছিঁড়ে যাচ্ছে
এক পা দু'পা করে চলছে মানুষ
চিরন্তন ফসলের ডাকে
রোদ্দুর বিছানো পথে
প্রতিবাদ হাঁকে।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
উদ্দীপ্ত মধ্যাহ্নে দেখি নির্বাসিত নির্যাতিত শ্রান্তিহীন কৃষকের মুখ
এতটুকু ছোট আশা, মাটির সে ভালবাসা একমাত্র সুখ।
মধুশ্রাবী বাক্যমালা না জুড়ে জঠর জ্বালা
তবুও নিশ্চিন্ত হয়ে কথা শোনে সারাবেলা।
সম্মেলনে যারা আসে তারা সব নানা বেশে
সামান্য ক্লান্তির পর ভীষণ অস্থির,
এখনই যেতে হবে শহরের দ্বার দেশে
সংবাদের শিরোনামে আমরা উজীর।
এমনি করেই কাটে তিরিশ বছর
লাল সাদা কালোদের নানান আসর।
মুক্তি চাই, মুক্তি হবে, মুক্তি দিব আনি
এমনই প্রচন্ড মিথ্যা আরো কত বাণী।
গঙ্গা সাক্ষী, সূর্য সাক্ষী, মহাকাল---
মিথ্যাচারে শেষ হ’ল হাজার সকাল।

এখন মধ্যাহ্নবেলা দুরন্ত এ রোদ।
এখনও কি হবে নাগো শেষ প্রতিশোধ ?
আমি প্রভু, কাজ মোর তোমার শোষণ
তোমাদেরই মূল কাজ আমার নিধন।
যতদিন মুখ বুজে সহ্য করে যাবে
ততদিন জঠরেতে অগ্নিদগ্ধ হবে।
তাই আজ শেষ হোক বঞ্চনার গান
তোমাদেরই সংগ্রামে তোমাদের প্রাণ।
কবি প্রিয়রঞ্জন
দাশমুন্সী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শোষণ কবি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী (১৩.১১.১৯৪৫ - ২০.১১.২০১৭)। ১৯৮১ সালে
প্রকাশিত কবির “ভোরের সানাই” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবে কোন ত্রেতাযুগে
দশরথ-প্রতিশ্রুতি মেনে
অযোধ্যার রামচন্দ্র গিয়েছিল বনে।
তারপর যগান্তের স্রোতস্বিনী
বাল্মীকির শ্রুতিধারা নিয়ে
সভ্যতার নিলয়ে নিলয়ে,
পাথবার মানবহৃদয়ে
অযোধ্যাকে বাসযোগ্য করে।

আকাশেতে দূরবীন রেখে
নক্ষত্রের মহাসভা দেখি।
মর্ত্যলোক থেকে বাঁচার প্রত্যয় নিয়ে
অজানা সে সৌরলোকে ছুটি।
প্রকৃতির, বিজ্ঞানের সাথে,
শাস্রের প্রবাদের সাথে
আমাদের বর্ণগন্ধ একাকার করে
আমরা সবাই সবেতে মিলাই।

নমাজের কাল শুরু হতে
কিছুক্ষণ বাকী।
গির্জার ঘণ্টা বাজে দরে।
গায়ত্রীর উচ্চারণ এইমাত্র
স্তব্ধ হল বুঝি
কবি প্রিয়রঞ্জন
দাশমুন্সী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
অযোধ্যা সায়াহ্নে কবি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী (১৩.১১.১৯৪৫ - ২০.১১.২০১৭)। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত কবির “অযোধ্যা সায়াহ্নে”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
অঙ্গীকার ভেঙে
বাল্মীকির অযোধায়
দুযোঁগের অন্ধকার নামে।
নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রিত আত্মীয় যারা
অকম্মাৎ অনাদৃত অনাহূত ভাবে।
কোথা যেন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হল ভেবে
হাতের রাখীর বাঁধ খুলে যায় ধীরে।
তপাসিয়া, বোম্বাই, কানপুর, সুরাট শহরে
রক্তে ভেজা দূর্বাঘাস দেখে
অযোধ্যায় জাগ্রত রাম
পুনর্বার যাত্রা করে বনে।

সিঁথির সিঁদুর পিলসুজের প্রদীপ,
বোরখা ঢাকা মুখ
পরম্পর ভাগ্যহীনা হয়ে,
আমাদের বারান্দায়
গোধূলীতে অশ্রুপাত করে।
ঈশ্বরের ভালবাসা শেষ,---
আতিরিক্ত অভিশাপ আমাদের গ্রান্থির ভেতর,
রাবণ প্রাসাদ থেকে পাতালের রাক্ষসের দূত
দানবের আত্মার প্রতিনিধি লাগে।
কর্মযোগ নয়,
ভক্তিযোগ নয়,
নির্বোধের আস্ফালন দেখে
বৈদিকের মনুষ্যত্ব
অযোধ্যাকে উপহাস করে।
প্রভাতের আগে
সূর্যদেব সায়াহ্নের কাছে
প্রায়শ্চিত্তে মাথা নীচু করে।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বাল্মীকির চেয়েও
ইদানীং মহাসত্য মনোহর যোশী।
পদ্মফুলের ছাপে
ব্যালটের ভবিষ্যতে মন খুশী খুশী,
ভ্রাতৃহত্যা শেষে রক্তে রাঙা হোলি
সর্বনাশের রথ উড়ায় সে ধূলি---
বোম্বাইয়ের কবরখানায়
সুরাটের লাশকাটা ঘরে,
তপসিয়া পার করে
কাশ্যপ পাড়ার শিবমন্দিরে।
আমাদের অন্তর্যামী
আমাদের দানবীয় কোপে
নিশিদিন অভিশাপ আনে।
প্রায়শ্চিত্ত যদি কিছু থাকে,
চল যাই অযোধ্যাকে ছেড়ে
রাজঘাটে মাথা নীচু করে,
বাপুর আত্মার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিই
হাত জোড় করে,
মানুষের অন্তরে,
নীলাকাশে সাগরে তুফানে॥
কবি প্রিয়রঞ্জন
দাশমুন্সী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
অভিশাপ কবি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী (১৩.১১.১৯৪৫ - ২০.১১.২০১৭)। ১৯৯৩
সালে প্রকাশিত কবির “অযোধ্যা সায়াহ্নে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ফানুস উড়ছে অনেকক্ষণ
কোম্পানীর বিজ্ঞাপন নিয়ে।
কালাহাণ্ডি, পুরুলিয়া থেকে
অনাহারে মৃত্যুর প্রতিবাদে
মানুষ জমছে দুপুর থেকে।
অপুষ্টি না অনাহার---?
এককথায় উপোস ক'রে মরা
নাকি অল্প অল্প খেয়ে
তিলে তিলে শেষ হয়ে বাওরা?
বিতর্কের শেষ নেই...
সংসদে, রাজপথে
মেট্রোচ্যানেলের মানুষ
ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক নিয়ে
অনেকক্ষণ ক্লান্ত, ব্যস্ত।
শেয়ার কেলেংকারীর চেয়েও
'কিছু ভাল খবর 'নিয়ে
সংবাদদাতা, সাথী, বন্ধুরা
বিবিসির কাছে
তুলে ধরে প্রতিদিন।
ময়দানে ক্যামেরার ক্লিক্
ফানুস উড়ছে,
লেন্সে পুরো আসছে না।
আসছে না ...
কবি প্রিয়রঞ্জন
দাশমুন্সী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ফানুস কবি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী (১৩.১১.১৯৪৫ - ২০.১১.২০১৭)।
১৯৯৩ সালে প্রকাশিত কবির “অযোধ্যা সায়াহ্নে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কুরুক্ষেত্রে বাসুদেব নেই---
ইন্দ্রপ্রস্থ ছেড়ে
যুধিষ্ঠির চলে গেছে
অগস্তের পথে
'বিষ্যাচল পরিক্রমা শেষে
হস্তিনাপুরের শোক---
গান্ধারীর সমাধির কাছে
যমুনাকে সাক্ষী করে
পৃথিবীকে দেখে।
তুরস্কের বাতাস তো শেষ ;
কামাল পাশার ভাষা
মসজিদের গম্বুজ পোরিয়ে
খিলাফত বন্দোবস্তে
কোথাও তোলে না ধ্বনি।
যতটকু শুনি---
সবটাই মনে হয়
জল্লাদের বাণী।

মুন্সী প্রেমচাঁদ
সংবিধান সদগতি দেখে
নির্বাসিত ইকবাল সাথে
যোজন যোজন দূরে
সরযূকে ছেড়ে
কবি প্রিয়রঞ্জন
দাশমুন্সী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
সভ্যতার গান কবি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী (১৩.১১.১৯৪৫ - ২০.১১.২০১৭) ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত কবির
“অযোধ্যা সায়াহ্নে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
চলে গেছে সাহারার দিকে।
কোথাও কি মোমবাতি নেই?
পিলসুজের সলতে
'দিয়াশলাইয়ের বারুদ
কোনকিছুই কি অবশিষ্ট নেই?
এখন এই বিস্ফোরণে
কোথায় যে যাই?
বন্ধু কেউ নেই।

প্রয়াগ অন্ধকারে
কুম্ভমেলা সেরে
কার জন্য শান্তি চাই
অরণ্যের সংসারে
পুরোহিত ডেকে?

তবুও নিশ্চিত
বঙ্গাব্দ শেষে
রবি ঠাকুরের দেশে
ছাতিমতলার গান
ওই বুঝি ইমারতে আসে।
শব্দভরা বাতাসেরা
টরেটক্কা করে
অযোধ্যায় মথুরায়
পিণ্ডি আর তেহেরান ঘুরে
তারবার্তা পৌঁছে দেয় প্রতি ঘরে ঘরে
বাঁচার সম্মান---
“বিশ্ববীণা রবে বিশ্বজন মোহিছে"
সভ্যতার গান।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
"স্বাধীনতা আন্দোলন" দীর্ঘ ইতিহাস,
শুরু হয় "সিপাহী বিদ্রোহে"
রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে, থামেনি প্রয়াস
মৃত্যু কত হয়েছে নিগ্রহে,
ব্রিটিশের রুদ্ররেশ, করেছে হরণ
নির্যাতন, নিষ্পেষণ কত,
কারাগারে কত হত্যা,কত নির্বাসন
আরো কত হয়েছে যে হত।

বিপ্লবীরা চলে গেছে অতি অনাদরে
মিলে গেছে, কোন অন্তরালে
নেই কো তাদের দেখা, যত দেখি ফিরে
চলে গেছে মনের আড়ালে,
দীক্ষিত থেকেছে তারা, কাজ ছিল ধর্ম
সে লড়াই করিয়া অর্জন
জীবনের জয়গানে, শুধু ছিল কর্ম
দিয়ে গেছে সব বিসর্জন।

কিছু ভাষা,কিছু ইচ্ছা এই ভিত্তি করে
ভাগ হয়ে এলো পাকিস্তান
রাজ, রাজত্বের দাবি অবসান করে,
প্রতিষ্ঠিত হোল সংবিধান
কালো মেঘ এলো সাথে, দেশ বিভাজনে
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
স্বাধীনতা কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত (জন্ম ২৬.১২.১৯৪৫)। রচনাকাল ১৪.০৮.২০২০। কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত,
“বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবি নিজে বিজ্ঞানের অধ্যাপক।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
শুরু হল সর্বনাশা দাঙ্গা
কত মূল্য দিতে হোল মনুষ্য নিধনে,
অজানা থেকেছে তার সংখ্যা।

শুরু হল দেশগড়া বিরাট প্রস্তুতি
সর্বস্তরে আনন্দের ধারা,
এল কল কারখানা, গড়ার সংস্কৃতি
বিদ্যুতের হাল হোল ফেরা
ব্যাংক, কলিয়ারী হোল বিকেন্দ্রীকরণ
অন্ধকার কেটে এলো আলো,
কৃষি,শিক্ষা,স্বাস্থ্য নিয়ে কত আয়োজন
কর্মের সংস্থান কিছু হোল।

সমাজের নিন্মস্তরে পড়ে আছে যারা,
খাদ্য, বস্ত্র, অর্থহীন হয়ে
মূল্যহীন স্বাধীনতা, বহন করেছে তারা
দীর্ঘদিন, বিনা পরিচয়ে
সেই সব নিচে থাকা মানুষের কাছে
যেতে হবে, দিতে হবে আশা
থাকিতে হইবে সাথে, সকলের মাঝে
বুঝে নিতে তাহাদের ভাষা।
স্বাধীনতা সকলের খুলে দিক দ্বার,
বন্ধ হোক স্বজন পোষণ
হানাহানি ভুলে সমাজে বঞ্চিত যারা
এক সাথে হোক উত্তরণ,
স্বাধীনতা হোক আজ অতি স্বপ্নময়
মিটে যাক সমস্ত প্রত্যাশা,
কেটে যাক, ধুয়ে যাক সব অবক্ষয়
পূর্ণ হোক সকলের আশা।

সকলের সাথে হোক সবার বিকাশ,
সাথে নিয়ে এই অঙ্গীকার
ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, রাখিব বিশ্বাস
নত হয়ে, করিব স্বীকার
থাকিব না গৃহকোণে, নিশ্চিন্ত নীরবে,
জীর্ণতার শীর্ণতার মাঝে
মেলে দিয়ে ডানা আজি, একান্ত গৌরবে
মিশে যাব সকলের কাছে।
স্বাধীনতা নয় শুধু ভোগ করিবার
হোক এ সম্প্রীতির আধার
স্বাধীনতা নয় শুধু ভজন পুজন
ইহা নয় করিতে লুণ্ঠন
স্বাধীনতা মানে নয শুধু ভ্রস্টাচার
ইহা হোক শান্তির প্রচার
স্বাধীনতা মানে নয় নোংরা রাজনীতি
মনে প্রাণে আসুক প্রগতি।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
দুই দশকের আরো কিছু আগে
অসীম আগ্রহে
শুনেছিনু গণেশ দেবতার, দুগ্ধ পানের কথা
উন্মুক্ত জনতা,
আসে মন্দির প্রাঙ্গণে
দেখিতে তা নিজন্ব নয়নে
সংস্কৃতিতে পূর্ণ এই কল্লোলিনী শহরের হাল
পাল্টে দিল যত তাল।
রাত যত বেড়েছে সেদিন
উদ্দাম জনতা ছুটে, শিক্ষা দীক্ষা করেছে মলিন,
প্রচার মাধ্যমে বাড়িয়ে কল্পনা
নিছক যন্ত্রনা
টিভি সাথে এসে বাড়াল প্রচার, জনতার মাঝে
এসে অতি কাছে,
নানা রঙে বার্তা সব
হইল প্রচার, করিতে নীরব
অসংখ্য মানুষ, ভক্তি ভরে আসে মন্দির প্রাঙ্গণে
নিজ ইচ্ছা করি সমাধানে
অবাস্তব, সেই বার্তা জেনে
নীরবে দেখিতে চায় দুগ্ধপান, অতি সংগোপনে।

মুখ্যমন্ত্রী নিজে মুখ খুলিলেন
সহাস্যে বলেন,
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
গণেশের দুগ্ধপান কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত (জন্ম ২৬.১২.১৯৪৫)। কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮
(১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবি নিজে বিজ্ঞানের (রসায়ন) অধ্যাপক।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
"গণেশ যদি দুধ খায়", কিছুই করিবার নাই
আমরা সবাই
অকারণে, এ ব্যস্ততা
বন্ধ কর এ সব বারতা।
মাঝ রাত্রে এক ছাত্র টেলিফোনে করিল স্মরণ
দিয়ে পূর্ণ বিবরণ
নিয়ে গেল তাদের বাড়িতে
অবিশ্বাস্য গণেশের দুগ্ধপান আমাকে দেখাতে
ব্যার্থ হোল মিটিল না কোন আশা
সমস্ত প্রত্যাশা।

সেদিনের কলকাতা নিঃস্ব রিক্ত, শুধু নীরবতা
সমস্ত সভ্যতা,
ত্যাগ করে ঘরে ফিরে
ব্যর্থতার আত্মগ্লানি নিয়ে
ভুলে গেছি বিজ্ঞানের তত্বে মোরা করিতে সম্মান
পদে পদে তাই অপমান
লক্ষ্য হোক ফেরাতে সন্মান
কুসংস্কারে বদ্ধ থাকা চিরতরে হোক অবসান।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আদিম কালের দুঃস্বপ্নের ইতিহাস
করিতে বিনাশ,
সঙ্গিসাথী হয়ে, সমস্ত জনতা করিল প্রয়াস
ছন্নছাড়া জীবনের আনিতে বিকাশ।
একাকিত্ব জীবনের ছন্দহীন সে সমস্ত দিন,
সৌহার্দ্য, মমত্ববোধে আনিতে সুদিন
প্রতিষ্ঠিত হোল এ সমাজ,
হিংসা, লোভ, ক্রোধ, দীনতা, হীনতা না করি বিরাজ।
এলো নুতন জীবন,
ন্যায়, নীতি, ধর্ম সব করিয়া আপন।
খুলে গেলো দ্বার,
কেটে গেলো যত অন্ধকার
এলো শিক্ষা, স্বাস্থে, নিরাপত্তার পথ
কাটাতে সংকীর্ণতা, নিয়ে সে সপথ
হোল জাগরণ
নুতন স্পন্দন।

সমাজের জাগরণে শ্রেষ্ঠ অলংকার
শিক্ষার প্রসার।
এলো যে ইহা, অন্তরের শক্তিকে করিতে প্রকাশ
চেতনা জাগ্রত হোল, আলোর আভাস।
জাতপাত কত শত কুসংস্কার, উচ্চ, নীচ, শ্রেণী
ছোট বড়, সব দ্বন্দ্ব মেটাতে অগ্রণী,
কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত
সমাজ ও শিক্ষক কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত (জন্ম ২৬.১২.১৯৪৫)। কবির ১লা বৈশাখ ১৪২৮ (১৫.৪.২০২১) তারিখে প্রকাশিত, “বাতায়ন”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবি নিজে বিজ্ঞানের (রসায়ন) অধ্যাপক।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
শিক্ষকের হোল আবর্তন
সমাজের উচ্চে স্থান, খুলে দিতে রুদ্ধ বাতায়ন।
নির্জীব সংস্কার যত
দগ্ধ করে আনে, সে যে নূতন মহত্ত।
শিক্ষা নয় পণ্য,
মূল্যের অতীত তা অনন্য।
স্নেহ, নিষ্ঠা, জীবন সঞ্চার সাধনে
সবার কাছে এলো, সবার কল্যানে
এঁরাই শিক্ষক
মোদের রক্ষক।

চূর্ণ হোল অহংকার, থাকিল না রেশ
অচিরেই শেষ।
অহঙ্কারে মত্ত হয়ে, উন্মুক্ত জনতা ছুটে যায়
জরাজীর্ণ সমাজেতে খুঁজিতে উপায়।
লোভ, ক্রোধ, দুর্নীতি, বিদ্বেষ সমাজে বেড়েছে আজ
মনে হয়, হতাশাই করিছে বিরাজ।
সঙ্গে সাথে আছে যে বেদনা,
দীনতা, শীর্ণতা, বিসর্জিত আজ সমস্ত চেতনা।
অস্থিরতা, আকুলতা
মাঝে কাটিছে জীবন, ইহাই সত্যতা।
শিক্ষা হোল পণ্য
হোল স্বপ্নভঙ্গ, সব শৃন্য।
পড়ে গেল শিক্ষার মান অহর্নিশে
ভাল সব মুছে গেল, অতি নিমেষে
হতাশার মাঝে,
কেউ নেই কাছে।

বিপন্ন, বিধবস্ত এই শিক্ষা ও সমাজ
প্রতিস্তরে আজ।
এসেছে হতাশ, পড়েছে প্রশ্নের মুখে শিক্ষানীতি,
শিক্ষক সমাজ, পঠন পাঠন, রীতি।
ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন পর্ষ্যদ, ভিন্ন শিক্ষার মাঝে যত
সুউচ্চ উচ্চাশা সব হয় পরাজিত,
পূর্ণতার হয় না বিকাশ
ক্লান্ত হয়ে, ধেয়ে যায় অন্য প্রান্তে পাইতে আশ্বাস।
নানা পরীক্ষার মাঝে
বিচলিত, হারায় বিশ্বাস তার সাথে
শিক্ষক পারে না দিতে,
অভয় আশ্বাস, সকল ছাত্রের হিতে।
ভিন্ন স্তর থেকে আসে ছাত্রের দল
একসাথে পড়ানো, আসে না সুফল
বড়া জটিলতা
আসে সংকীর্ণতা।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
নিরন্তর যুদ্ধ চলছে
উত্তর থেকে দক্ষিণে
পূব থেকে পশ্চিমে।
কে নেবে ছিঁড়ে ভেড়ার
পসম, বানাবে কম্বল,
ভয় দেখিয়ে ভেড়ার মালিককে দিয়েই।
কে নেবে প্রকৃতির মজুত
যত ভাণ্ডার মিথ্যের জাল বুনে,
নেশায় বুঁদ করে লুঠে নিয়ে যাবে বারবার।
নিরন্তর যুদ্ধ চলছে---
শুধু নিজের পকেট ভরতে
যার শিল যার নোড়া
তারই ভেঙে দাঁতের গোড়া।
ওদিকে পাহাড় এদিকে নদী
মাঝেতে বিক্ষিপ্ত বনজঙ্গল---
তারই মাঝে চলছে লড়াই
ছিনিয়ে নেবার লড়াই শুধু চাই
আরো চাই বাড়তির ওপরেও চাই।
এটাই নিয়ম এটাই হয়ে আসছে
তাই যুদ্ধ চলছে নিরন্তর !
কবি অজয় চট্টোপাধ্যায়
নিরন্তর . . . .   
কবি অজয় চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ২৮.১২.১৯৪৫)। রচনা ১১.৯.২০২১। কবি
একজন গল্পকারও।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ছোটোবেলা থেকে শুনি বাংলাপ্রদেশ সুজলা সুফলা আর শস্যশ্যামলা,
অল্প আয়াসে হয় অনেক ফলন, আবহাওয়া নিয়েও নেই কোনমামলা ।
তাই এ প্রদেশের উন্নতি সারা দেশে ছিল স্বাধীনতাকালেবেশী বেশ ,  
তখন বলা হত আজ যা বাঙলা বলে কাল তাই বলবে  সমস্ত দেশ ।
সবাই জানে স্বাধীনতা  সংগ্রামে বাঙালীর নেতৃত্ত্বে বেশী সবার থেকে,
নিজের প্রাণপরিবার তুচ্ছ করে করেছে তারা সদা বিব্রত বৃটিশশক্তিকে।
সেই বাঙালীই স্বাধীনতাউত্তর কাজে দিয়েছে ফাঁকি ভুলে গিয়েছে দেশপ্রেম,
কারণ তাদের তখন নতুন বন্ধু কৃষক ও মজদুরের পরিত্রাতা সিপিএম ।
আধপেটা খাওয়া অশিক্ষিত কৃষক মজদুরদের তখনকার নতুন বন্ধু বলে ,
তোমরাই প্রাণ তোমরাই আশা ভরসা  আমাদের এই সর্বহারাদের দলে ।
তাদের ভোটের জোর ও  বিপক্ষের অপদার্থতায় বন্ধু বসে সিংহাসনে,  
মাঝে একবার শুধু সারথি পালটে চল্লিশ বছর  চলেছে সেই রথ সমানে ।
কলকারখানা সব লাটে উঠল , কেন্দ্রীয় সরকার সবচেয়ে বড় শত্রু হল ,  
ইংরাজী পড়ান বন্ধ হল , অনেক মদের দোকান আর সিবিএসই স্কুলহল ।
যে কম্পুটার এখন তাদের  নিত্য সঙ্গী তার কাজে ব্যবহার পিছান হল ,
কাজ না করেই মাইনে বাড়ল, পার্টি ও পার্টির লোক ফুলে ফেঁপে উঠল ।
মিছিলে যোগদান লোকের একমাত্র কাজ হল, এল পাইয়ে দেবার রাজনীতি ,
দেশপ্রেম উবে গেল , ঘটল বাংলা ও বাঙালীর অপুরণীয় বিরাট সব ক্ষতি।
আগের প্রায়সব সিদ্ধান্ত হল  ঐতিহাসিক ভুল এটা নতুন সারথি জানাল ,
ভুল শোধরাতে মেরে খোঁড়া করা  শিল্পঘোড়াকে একেবারে ওড়াতে চাইল ।
ক্ষমতা, লোভ, অর্থের জোরে তারা আজ একথা ভুলে গেছে বেমালুম,
তারা রাজা নয় আর ওই গরিব অশিক্ষিত চাষারাও করতে পারে হালুম ।
আজ তারা শিল্পপতিদের বন্ধু হয়ে করতে চাইছে গরিব চাষাদের সর্বনাশ,
কি লজ্জার কি দুঃখের তাদের নাকি আদর্শ কৃষক-মজুর-দরদী কার্ল মার্ক্স।
কবি প্রণব রায়চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
প্যারাডক্স প্রণব রায়চৌধুরী (জন্ম ১৯৪৫)। সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ ও পরবর্তী আন্দোলনের
পরিপ্রেক্ষিতে লেখা কবিতা।    
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
স্পষ্টতঃ দেখতে পাই, ঘাসে শেওলা
খুঁজে খুঁজে, সমাজ বিবর্ণ বেশ্যার অন্তরালে
মিছিলের দিকে পা এগোয় ;
বিকলাঙ্গ মনের জাগ্রত বাহিনী, জনতার মিছিল
সবে সোরগোল দিয়ে উঠে উঠে
ময়দানে কী ভীড় জমে ওঠে

তাই দেখে মনে পড়ে কোনদিন
কোন দিনকার মিছিলের মুখ।
আবার সেই মিছিলের মুখ।
বিবর্ণ  বেশ্যার অন্তরালে
সমাজে।
আমি এই সমাজ নিয়ে আছি
বিকলাঙ্গ মনের জাগ্রত মিছিলে॥
কবি আশুতোষ মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পুণ্যস্নানের সুরা নিয়ে কবি আশুতোষ মজুমদার (১৯৪৫/৪৬ - ৯.৩.১৯৭১)। কবি,
১৯৭১ এর সিপিআই(এম) বনাম সিপিআই(এমেল) উগ্র দ্বন্দ্বের ফলে পুলিশের এনকাউনটারে
গুলিবিদ্ধ হয়ে থানায় নির্যাতনের ফলে মারা যান। ১৫ই অগাস্ট ১৯৬৫ তারিখে প্রকাশিত, এশিয়া
পাবলিশিং-এর গীতা দত্তের প্রকাশনায়, বিদ্যুত চক্রবর্তীর প্রচ্ছদ ও অঙ্গসজ্জায়, “বাবা ও মাকে”
উত্সর্গ করা, পঞ্চাশ পৃষ্ঠায় ২২টি কবিতা নিয়ে কবির কাব্যগ্রন্থ “সন্দেহের তির্যক
চোখে সাতরঙ” থেকে নেওয়া কবিতা। আমরা কবিতাটি পেয়েছি স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত,
‘সত্তরের শহীদ লেখক শিল্পী’ ১৯৯৮ থেকে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
গর্ভবতীর পেটে লাথি আর কোদালের বাঁট
ময়নাগুড়ির ফুটেজ পেলাম কর্কশ আনকাট।
বীরভূমেতে সিভিকপুলিশ নষ্ট করে মাকে,
ওসি সাহেব কেস না নিয়ে মিউচুয়ালে ডাকে।

রাজ্যি জুড়ে বাহ্যিকরা, তোলাবাজির ধুম,
হুগলী দেখুন, চুগলি দেখুন মিডিয়াদের বুম!
ওদিক দেখুন করপোরেটের ডবিট মকুব করে
গরীবদিগের গলায়দড়ি আচ্ছেদিনের তরে।

প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি হাওয়ায় গেছে ভেসে
প্রত্যেকদিন অস্বচ্ছতা নির্মম একপেশে।
মন যে কালো, ধন যে কালো, কালো তামাম দেশ
চুলোতে যাক স্বচ্ছভারত, কিসের সে আদেশ?
বিষ্ঠামাখা বেশ!!!
কবি শুভ জোয়ারদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বিষ্ঠার স্বচ্ছতা
কবি শুভ জোয়ারদার (জন্ম ২৩.৭.১৯৪৬)। রচনা ৩.৮.২০১৭।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বুদ্ধিজীবী মানে আগে বুদ্ধজীবী ছিলাম,
মাঝে কদিন বদলে জামা লিভ-ক্যাজুয়াল নিলাম।
বিপ্লবীরস শুকিয়ে এখন ফেবিকলের আঠা
প্রতিষ্ঠানের নরমপায়ে সুকতলাবৎ সাঁটা।

বুদ্ধিজীবী মানে হলো আগুনঝরা কথাঃ
নাট্যকার বা অভিনেতা গায়ক নায়ক প্রথা।
একটা দুটো যুক্ত কিংবা মুক্তদাড়ির ছবি !

বুদ্ধিজীবী ক্রুদ্ধ হলেই শুদ্ধ হবেন আড়ালে
মাসকাবারি বৃদ্ধি হবে হিসাবে পা বাড়ালে।
দেশটা এখন পিকটোরিয়াল, প্যালেটেবেল সব
ডিরেক্টার ও ডিক্টেটারের আঁতেল-উৎসব,
ফ্যানটাসটিক জব !!!
কবি শুভ জোয়ারদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
চামচে হাতার দিন
কবি শুভ জোয়ারদার (জন্ম ২৩.৭.১৯৪৬), রচনা ১৩.৭.২০১৮।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
অসৎ চাষী কিছুকিছু বোধহয় কোথাও আছে
সেই কারনে সৎচাষীদের পাড়া সিঁথির কাছে।
সিঁথি তো নয় বরাহনগর ; শুয়োর নগর নয়,
শূকরপাড়ায় সৎচাষীরা কেমন করে রয়?

একাত্তরের কলিকাতার অলিতে ও গলিতে
“কেষ্ট” হাজার হারিয়ে গেল রাজকোটালের বলিতে।
ভেবেছিলাম স্বর্গ যাবো, পৌঁছে গেলাম মর্গতে
জল্লাদ আর পাহারাদার, অট্টহাসি খড়্গতো।

রাজা আছেন মন্ত্রী আছেন আছেন দাবার বোড়ে
বারাসাতে ভোরবেলাতে বারোটা লাস পড়ে।
লাসভর্তি গরুরগাড়ি কুঠিঘাটের জলে
বরা'নগর---শুয়েরনগর একাত্তরের ফলে,
যুক্তি রসাতলে !!!
কবি শুভ জোয়ারদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
একাওরের লাস
কবি শুভ জোয়ারদার (জন্ম ২৩.৭.১৯৪৬), রচনা ১২.৭.২০১৮।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
তোমার হাতে শান্ত্রিসেপাই লাঠি বন্দুক যত
আমার শুধু রোগা দুহাত, খালি
এতটা দিন সেহাত জোড় করে কেবল নত
মুখে ঠুকেছি সেলাম আর তুমি
রাগ করেছ, সেলামটাও শিখিনি ঠিকমতো

এবারে তাই শেখাবে বলে আমারে সহবৎ
কখনো লাঠি, কোথাও গুলি ছুঁড়ে
আমাকে তুমি বোঝাতে চাও তুমিই ঈশ্বর
কাড়বে জমি, তবুও নাকে খৎ
দিইনি তাই বাঁচাটাকেই বাতিল করে দেবে !

গুলির পর গুলি ছুটছে, মেয়েটি পথে পড়ে
গুলির পর গুলি ছুটছে, ছেলেটি ধানখেতে
বাচ্চাটিরে হিঁচড়ে ধরে ছিঁড়েছ তার দেহ
নদীর জলে শরীর ভাসে, তাদের নাম নেই
কবি সব্যসাচী দেব
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বাঁচা মরা কবি সব্যসাচী দেব (জন্ম ২২.৯.১৯৪৬)। এই কবিতাটি "পুর্বান্তর" পত্রিকায় মে-আগস্ট ২০০৭ এর
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
তবুও বাঁচি ধানখেতের পাশে
তবুও বাঁচি পথের ধুলো মেখে
তবুও বাঁচি কবর আর চিতাভস্ম ছুঁয়ে
তবুও বাঁচি সিঙ্গুরে নন্দীগ্রামে

আমার বাঁচা আমার মরা নিজেরই ইচ্ছেয়
এবার দেখ ফিরিয়ে দিই তোমার মার যত

কীসের ছায়া তোমার মুখে ! তুমিও ভয় পাও !
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
নরক নেমেছে গ্রামে গ্রামে
টিভির চ্যানেলে তার ছবি

জীবনানন্দের কবিতায়
মেয়েটির জননেন্দ্র ফোঁড়ে

আজ তিনি প্রধান অতিথি
শিশুটির দু'পা ধরে ছিঁড়ে

সঙিনে বিঁধেছে কার দেহ
আমরাই শেষ সত্য, তিনি

ধর্ষণ বিষুদ্ধ শিল্প, তাও
আগুনে পবিত্র হয় সব

এখনো মানো যদি কথা
এর পর খাঁখাঁ জনপদ

এখন নদীও স্রোতহীন
পাড়াগাঁর বধূটির মুখ

সেই রক্তে হাত পোড়ে, তবু
নন্দনবিলাসী মহারাজ,
কবি সব্যসাচী দেব
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শবসাধনা কবি সব্যসাচী দেব (জন্ম ২২.৯.১৯৪৬)। এই কবিতাটি "লুব্ধক" পত্রিকার
২০০৭ এর পঁচিশে বৈশাখ এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এ রকমই চেয়েছেন তিনি
মৃদুরবে বেজেছে শিঞ্জিণী

উদ্ভাসিত তার হাসিমুখ
তারই পাঠানো বন্দুক

বেপরোয়া খুব মজা হবে
ক্যাডারেরা মাতে উত্সবে

নামহীন ওরা শুধু "ওরা"
বলেছেন বাকিরা ক্যাওড়া

জেনেছে পুলিশ, ক্যাডারেরা
চারপাশে বুলেটের বেড়া

নরক নামুক আজ তবে
এরপর শুধু শিল্প হবে

চৈত্রের শুকনো বাতাসে
নুয়ে পড়ে রক্তমাখা ঘাসে

মেতে ওঠে শবসাধনায়
নরকের দরজা খুলে যায়।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ভুতুড়ে গাছের ডালে একলা ঝুলে থাকে
মরা চাঁদ, শেষ রাতে ফাল্গুনের মাঠে
জীবনানন্দের পঙত্তি হাওয়ায় হাওয়ায়
উড়ে যায় ; এই মাঠে এক দিন ছিল
ধানের সোনালি গন্ধ, এখন সেখানে
রক্তের কালো ধারা গড়িয়ে নেমেছে।

তুমি হাঁটো সঙ্গে নিয়ে নরক-প্রহরী
চারপাশে ঘিরে থাকা সস্তা ভাঁড়েরা
তোমাকে বাহবা দেয় | শুভ্র পোষাকের
পবিত্রতা খুঁজে নেয় নিপুণ বিক্ষণে
মেতে ওঠে --- জয় প্রভু, শরণাগতকে
মনে রেখো, তুমি শিল্প, তুমি সংস্কৃতি।

তুমি উগড়ে দিতে থাক, মধুর হাসিতে
নরকের স্বস্তিবাণী, হঠাৎ কাঁপুনি
দস্তানা সরে যায়, তোমার দু'হাত
রক্তমাথা, শবগন্ধে স্তম্ভিত বাতাস।

আবার আকাশে ওঠে, ফাল্গুনের রাতে
পুরনো কাস্তের মত পুরনো সে-চাঁদ |
কবি সব্যসাচী দেব
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি কবি সব্যসাচী দেব (জন্ম ২২.৯.১৯৪৬)। এই কবিতাটি
মে ২০০৭ এ শ্রেয়া পাবলিকেশনস্ এর "নন্দীগ্রাম থেকে কলিঙ্গনগর" পুস্তিকায় প্রকাশিত
হয়েছিল। সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আকাশকে তুমি বাধতে চেয়েছে খাঁচায়
আকাশ কি তবু কিছুতেই ধরা পড়ে?
প্রভুরা ভাবছে তারাই দাসকে, নাচায়
স্পার্টাকাসরা মরে, তবু ফের লড়ে

শিকলে বেঁধেছ হাত পা তবুও কেন
ভয়ে ভয়ে থাকো প্রতিদিন বারোমাস
দিগন্তে লাল আগুনের আভা, জেনো
সেখানেই লেখা তোমার সর্বনাশ

তোমার দুহাতে বন্দুক গুলি আর
আইন বিচার, জেলখানা শত শত
ব্যারিকেডে লিখি প্রেমের কবিতা, তার
হাসিমুখ, বুকে যদিও গভীর ক্ষত

কত বা মারবে? মার খেতে খেতে রোজ
একজন থেকে হয়ে ওঠা বহুজন
গরাদের ফাঁকে রোদ্দুর দেয় খোঁজ
বাইরে আকাশে আগমনী ক্ষণে ক্ষণ

আজ তবে সেই আগমনী বেজে যাক
লৌহকপাট ভেঙে হোক চুরমার
জেলের পাঁচিল মাটিতে লুটিয়ে থাক
মুক্ত প্রাণের সুর হোক দুর্বার
কবি সব্যসাচী দেব
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মুক্তির গান কবি সব্যসাচী দেব (জন্ম ২২.৯.১৯৪৬)। ২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি
সব্যসাচী দেব সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এই ভারতবর্ষের
সামগান গাওয়া নীল আকাশের নীচে
ওরা কারা
মানুষ আর পশুদের সংজ্ঞাকে গোলায় ?
ওরা কারা
রাক্ষসের অহংকারে যজ্ঞের সমিধে
ছড়ায় শোণিত, মাংস, কলুষতা, পাপ ?

ভারতবর্ষের যারা সবচেয়ে ভারতীয়।
যারা
প্রকৃতিপুঞ্জের মত স্থায়ী, শান্ত, বীর, অসহায়
তারা ছাই---
সময়ের সবচেয়ে কুত্সিত অসুখে।

সেই ছাই-এর গৌরব গায়ে মেখে
সামন্ততন্ত্রের শব
নগরপালের বেশে মঞ্চের ওপরে ঘোরো ফেরে,
হাততালি আর কুর্ণিশ আর বশ্যতার শব্দে
রৈ রৈ করে ওঠে প্রক্ষাগার, সফলতা, সাজ।
কবি শুভ বসু
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বশ্যতার গণতন্ত্রে কবি শুভ বসু (১৯৪৬ - ২৬,৫,২০১৪)। কবি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদনার
সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কবির “রাত যায় পূবে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।

বিহারের পাটনা জেলার অন্তর্গত বেলচি গ্রামে একদল লোক তেরোজন হরিজনকে পুড়িয়ে মারে। আরো
একজনকে তারা প্রথমে গুলি করে ও পরে আগুনে ফেলে দেয়।  
.                                                                 ---সংবাদ, ৪ঠা জুন ১৯৭৭
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এদিকে শহর জুড়ে গণতন্ত্র জমে।
পেশাদার কলমচির অতর্ব মুদ্রায়
গণতন্ত্র নৃত্যপরা, ফিটফাট বাবু
সে গণতন্ত্রের তৃপ্তি মাদুলির মত বুকে রেখে

নির্বিকার হেঁটে যায়---অক্ষম, ক্ষয়াটে।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ফুলনের ঘৃণার ইস্পাত
বিদ্যুতে কঠিন ক’রে হাসে,

যেন খুব হিংস্র বনে
সুঁদরি আর গরাণের
নিরন্ধ্র কঠিন অন্ধকারে
বাঘের প্রচণ্ড সাদা দাঁতের ঝিলিক,

যা শুধু গম্ভীর চণ্ড মৃত্যু আর
রুধিরের লোনা স্বাদ জানে।

আমি তাকে বলি মন্ত্রের মত : বিদ্যুৎ
আরো যত পার হিংস্রতা হ’য়ে ওঠ

এ্যান্টেনাযুথের সভ্যতায়
প্রতি পলকেই ঝলসে উঠুক নীল
তোমার বিষের মত্তকঠিন দংশন।
কবি শুভ বসু
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ফুলনের ঘৃণার ইস্পাত কবি শুভ বসু (১৯৪৬ - ২৬,৫,২০১৪)। কবি পরিচয় পত্রিকার
সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কবির “বিষপ্রহর” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। ষাটের দশকে নীচু জাতের ফুলন
দেবীর উপর, উঁচু জাত ঠাকুরদের দ্বারা করা বলাৎকারে নাটকীয় প্রতিহংসা-পরায়ণ উত্থানের
পরিপ্রেক্ষিতে রচিত কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
শহরগুলিতে কোনো সাড় নেই
ওরা কি সবাই মৃত, পেছনের ফাটকের একটু ওধারে
আমাদের দরদ আর মমতার ছোঁয়ার অভাবে
নিঃসঙ্গ চুপচাপ সব মেশিনের মত ?

বিবেকের স্বচ্ছটাবশত
এখন ওদের গোল দ্রাক্ষাবৎ প্রহরগুলিতে
জয়পুরি বোম্বে ডায়িং-এর
তুলনামূলক স্মার্ট আলোচনা চলে।

খবরের কাগজের ফ্রেমে
অতিকায় ব্রেসিয়ার একলপ্তে খেয়ে নেয়
মানুষের খবরে অনর্থক নশ্বর গৌণতা।

যেসব আঙুল আগে আশ্চর্য জাদুতে
মেশিনের শরীরেও জননের রোমাঞ্চ আনত,
তারা পাঁচজন মিলে এখানে ওখানে কৌটো নাড়ে,
আধুলি বা সিকির আকারে
টুংটাং ঝরে পড়ে শহরের চৌকস আবেগ।
কবি শুভ বসু
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
একজন লক আউটের শ্রমিক কবি শুভ বসু (১৯৪৬ - ২৬,৫,২০১৪)। কবি পরিচয়
পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কবির “স্বপ্নে ও বিভ্রমে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এসব সত্ত্বেও সেই তিনজন,
যারা খুব হতাশায় জীবনের দায় মিটিয়েছে,
তারা কেন এ টুকু বুঝল না
শহরের ভানুমতী আশ্চর্য বিবেক
একদিন লোকসভায় তুলকালাম কাণ্ড করে দেবে,

রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যের স্বাস্থবতী মা লক্ষ্মীর
স্মিতহাস্য প্রশ্রয়ে আদরে
রিমঝিম রিমঝিম শব্দে নেচে উঠবে আবার মেশিন।
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এতদূর থেকেও লোকটার নাকে মানুষপোড়ার গন্ধ ;
পৃথিবী পুড়ছে . . .
তামা, খার আর হীরকখনির তারপাশে, ঘুমন্ত গ্রামগুলি থেকে---
তুষারস্তূপ, জলস্রোত কিংবা অরণ্যঘেরা বাগিচাগুলি থেকে . . .
ভেসে আসছে মানুষপোড়ার গন্ধ ;
পুড়ছে নগ্নপদ কৃষক . . . কালিমুখ মজুর,
বস্তির কাদায় হামাগুড়ি দিয়ে বড় হতে-থাকা শিশু,
পরাগরোণুর মতো ক্ষণসুন্দরী নারী . . .
আর, সকলের সাথে পুড়ছে উজ্জ্বল সঙ্গীতের পাণ্ডুলিপিগুলি।

নির্বাক, ক্লান্ত সূর্য . . .
আপনার স্বপ্নের সামনে পাহাড়ের মতো এক অন্ধকারের দেওয়াল।
তবু চোখ মেললেই
পৃথিবীর এপার-ওপার স্পষ্ট চোখে পড়ে আপনার।
দেখছেন : লক্ষ কোটি মানুষ --- এখনও বন্দী ;
তাদের সামনে লোহার গারদ নেই,
আছে অদৃশ্য বীণার সূক্ষ্ম তারগুলি . . .
পুঁজির দেবতার ইঙ্গিতমাত্রই
ঝংকার উঠছে এক-একটি তারে . . .
ধর্ম
বর্ণ
ভাষা
দেশ
মাটি
কবি অনির্বাণ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পৃথিবী পুড়ছে কবি অনির্বাণ দত্ত (জন্ম ১৯৪৬)।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
উন্মাদনার আগুনে ভুলিয়ে রাখা মৃত্যু।

পৃথিবী পুড়ছে . . .
মাদকের মতো আলিঙ্গনে জড়িয়ে-জড়িয়ে ধরছে শীতঘুম ;
ঝলসানো ওই মানুষগুলোর---ঘুম ভাঙানোর জন্যেই
নেলসন, আপনার ক্লান্তিহীন মাদলের সঙ্গে
বাজছে
দুনিয়াজোড়া ম্যাণ্ডিলিন!
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ফেব্রুয়ারির একুশ সেতো ফাগুন মাসের আট
পলাশ রাঙা প্রভাতী আলোয় রাঙানো পূবের মাঠ।
ফেব্রুয়ারি একুশ সেতো রক্তিম বর্ণমালা,
শালুক ফুলে, কলমী লতায়, সাজানো মায়ের ডালা।

ফেব্রুয়ারি-একুশ আমার রক্ত-জবার ফুল,
মুক্তি শপথে ভেসে ওঠা কবি রবীন্দ্র নজরূল।
ফেব্রুয়ারি একুশ সেতো শিকল ভাঙার গান,
মাতৃভাষার নতুন শপথে জেগে ওঠা এক প্রাণ।

ফেব্রুয়ারি একুশ জানি আটই ফাগুন মাস,
আগুন জ্বালানো বিদ্রোহীদের এক-বুক নিশ্বাস।
ফেব্রুয়ারি একুশ আমার মাতৃভাষার-ই জয়,
হারমানতে শেখেনি বাঙালি, শেখেনি পরাজয়।

ফেব্রুয়ারি একুশ সেতো পূবের সূর্য ওঠা,
বিশ্ব-দরবারে গরবিনী ভাষা, রক্তিম ফুলে ফোটা।
কবি নিতাই মৃধা
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ফেব্রুয়ারির একুশ কবি নিতাই মৃধা (জন্ম ৫.২.১৯৪৭)। এই কবিতাটি
কবি মিলনসাগরকে ইমেলালাপে পাঠিয়েছেন।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
শুভ জোয়ারদার (৩)
সব্যসাচী দেব (৪)
শুভ বসু (৩)
অনির্বাণ দত্ত (১)
নিতাই মৃধা (১)
কমল বল (১)
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ম'রে গেল হাজার ছেলে, জেলে আছে হাজার হাজার
কী আশ্চর্য! তবুও তোর স্পর্ধা দেখি রাজা-সাজার
জন্ম থেকেই দাবার ঘুঁটি জবর জবর প্রতিদ্বন্দ্বী
মন্ত্রী দিয়ে খেলছে এবং আঁটছে নিত্য নতুন ফন্দী
কেউবা বলছে ধন্য ধন্য!
আমরা দেখছি এ জঘন্য
রাজার খেলা বন্ধ করতে
হাজার ছেলে মরতে মরতে
যুদ্ধ করছে, চায় না আপোষ, চায়না সন্ধি।

বন্দীরে তোর বন্ধ হাতের হাতকড়াতে মরচে ধরে
বধ্যভূমে অবাধ্যতার গভীর রক্ত পড়ছে ঝ'রে
বুকের মধ্যে বন্ধ খাঁচায়
আমরা বন্দী ভালোবাসায়
আশায় থাকি, ভালোবাসাই ভয় ভাঙতে বাধ্য করে।

ভয় ভাঙছে, ভুল ভাঙছে, ভাঙছে নদীর কূল
ছাপিয়ে দুকূল উপচে পড়ে এই জলস্রোত

এই জনস্রোত
ভাঙছে একূল ওকূল
ভাঙুক তবে ভাঙুক কারা
বধ্যমঞ্চে রক্তধারা
মিলিয়ে আসুক ; অন্ধকারে ফুটুর হাজার ফুল।
কবি কমল বল
বন্দীমুক্তি প্রসঙ্গে কবি কমল বল (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল
ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার প্রতিবাদী কবিরা ---
প্রতুল মুখোপাধ্যায় (১৭)
পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় (২)
রত্না ভট্টাচার্য (১)
গাজী মাজহারুল আনোয়ার (১)
উৎপল সাহা (১)
অমৃত মিত্র (২)
তুষিত মৈত্র (১)
দিলীপ কুমার বসু (৭)
মালিনী ভট্টাচার্য (১)  
স্নিগ্ধা বন্দ্যোপাধ্যায় (১)
গীতা চট্টোপাধ্যায় (২)
শীলা চক্রবর্তী (৩)
জিয়াদ আলি (১)
সর্দার আমজাদ আলী (১)
সৃজন সেন (৫)
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (২)
শুভেন্দু মাইতি (২)
সুনীতি দেবনাথ (১)
পিয়াসা দাশগুপ্ত (১)
মুরারি মুখোপাধ্যায় (৩)
মেঘনাদ (৯)
পিনাকেশ সরকার (১)
নির্মলেন্দু গুণ (২)  
মিহির চৌধুরী (২)
প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী (৫)
তড়িৎ দাশগুপ্ত (৩)
অজয় চট্টোপাধ্যায় (১)
প্রণব রায়চৌধুরী (১)
আশুতোষ মজুমদার (১)
শুভ জোয়ারদার (৩)
সব্যসাচী দেব (৪)
শুভ বসু (৩)
অনির্বাণ দত্ত (১)
নিতাই মৃধা (১)
কমল বল (১)