কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত - জন্মগ্রহণ করেন অধুনা পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার ডিমডিহা গ্রামে তাঁর
মাতুলালয়ে। কবির পিতা শশধর দাশগুপ্ত এবং মাতা সর্ব্বাণী দেবী। কবির কাকা গৈবীনাথ দাশগুপ্ত, ১৯৮৯
সালে সঙ্গীত নাটক একাদেমী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। কবির জন্মের সময় পুরুলিয়া জেলা ১৯৪৫ সালে,
বিহার প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। ১৯৫৬ সালের The States Reorganisation Act এর অন্তর্গত
ব্যবস্থাপনায় তা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তাই কবির জন্ম ১৯৪৫ সালের বিহার প্রদেশেই।
কবির শিক্ষাজীবন শুরু হয় পুরুলিয়ার মধুতটী স্কুলে। সেখানে অষ্টম শ্রেণী অবধি পড়ে তিনি গোদিবেরো শ্রী
রাম চন্দ্র আদর্শ বিদ্যালয় (Godibero SRCA Vidyalaya) থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর প্রি.ইউনিভারসিটি
পড়ে রসায়ণ শাস্ত্রে অনার্স নিয়ে স্নানক হন বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ
করেন রসায়ণে স্নাতকোত্তর M.Sc. ডিগ্রী।
স্কুলজীবনে কবি খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবল খেলায় পারদর্শিতার সাক্ষর রেখেছিলেন। তিনি স্কুল,
জোনাল এবং জিলা স্তরের ফুটদল দলে খেলেছেন এবং পুরুলিয়া জেলার ফুটবল দলেও নানা টুর্নামেন্টে
খেলার কৃতীত্ব অর্জন করেছেন।
১৯৬৮ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Burdwan) স্নাতকোত্তর স্তরে রসায়ণ বিভাগের ছাত্র
থাকাকালীন কবি তড়িৎ দাশগুপ্ত ও তাঁর এক বন্ধুর উপর দায়িত্ব দেওয়া হয় বর্ধমান শহরের বিজ্ঞান
বিষয়ক গ্রন্থাগারের উন্নতিকল্পে বিজ্ঞানী আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে কলকাতায় তাঁর গৃহ থেকে বর্ধমানে নিয়ে
গিয়ে পুনরায় তাঁর গৃহে পৌঁছে দেবার। সেই ঘটনাটির সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন কবির ফেসবুকে লেখা
স্মৃতিচারনায়। বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে খুব কাছ থেকে দেখে লেখা, তাঁর জীবন সম্বন্ধে নানা তথ্য সমৃদ্ধ
এই লেখাটি ঐতিহাসিক কারণেই অমূল্য বলে আমরা মনে করছি। কবির ফেসবুকে, কবির স্মৃতিচারণায়
“সত্যেন বোসের সাথে কয়েক ঘণ্টা” লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .।
কর্মজীবনে কবি বেছে নেন অধ্যাপনার জীবন। শুরু করেন পশ্চিমবঙ্গের সৈনিক স্কুল পুরুলিয়ায় (Sainik
Schooll Purulia) রসায়ণের অধ্যাপক হিসেবে ১৯৬৯ সালে। এরপর ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি
পড়ান পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং-এর ডঃ গ্রাহামস হোমস স্কুলে (Dr Graham's Homes School, Kalimpong)। এর
পর তিনি যোগ দেন কলকাতার লা-মার্টিনিয়ার ফর বয়েস স্কুলে (La Martiniere for Boys School, Kolkata),
১৯৮৭ সালে এবং সেখান থেকেই ২০০৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
শিক্ষক জীবনের শেষে, ২০১২ সালে, পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার মানবাজারে, মান-বীর ইনটারন্যাশনাল
স্কুল (Man-Bir International School) একটি ইংরাজি মিডিয়াম স্কুলের প্রতিষ্ঠায় তিনি অংশ নেন। এই স্কুলের
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সৌরভ বক্সি। তিনি এই অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের সমাজের মুলস্তরে নিয়ে আসার উদ্দেশে
প্রচণ্ড পরিশ্রম ও জীবনের সমস্ত সঞ্চয়কে কাজে লাগিয়ে এই স্কুলটির পরিচালনার উদ্দেশে তড়িৎ দাশগুপ্তকে
নিয়ে যান এবং এঁদের প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ স্কুলটি আজ একটি নুতন মাত্রা পেয়েছে এবং স্বকীয় মর্যাদায়
শিক্ষাদানে উজ্জ্বলতার সাথে বিরাজ করছে। কবি আজও এই স্কুলের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
কবি তাঁর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, সময় সময় সবার কাজে লাগা বা
সাহায্য করা কে খুব বড় কাজ বলে মনে করেন। তা তিনি তাঁর নিজের জীবনেও মেনে চলেন এবং সর্বদা
সচল স্বাস্থের অধিকারী হয়ে থাকার চেষ্টা করেন।
শিক্ষক কবি তড়িৎ দাশগুপ্তর সৈনিক স্কুল পুরুলিয়া (Sainik School Purulia) থেকে পাশ করা কৃতী ছাত্রদের
মধ্যে রয়েছেন . . .
ভারতের প্রাক্তন বায়ুসেনা অধ্যক্ষ এয়ার চীফ মার্শাল অরুপ রাহা,
(Air Chief Marshal Arup Raha),
নেফিউ রিও, পাঁচবার নাগাল্যাণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী,
( Neiphiu Rio, Five times Chief Minister of Nagaland),
পরলোকগত ভানপুরা পীঠের জগতগুরু শঙ্করাচার্য দিব্যানন্দ তীর্থ মহারাজ যাঁর পূর্বাশ্রমের নাম দিনকর শর্মা,
(Deceased His Holiness Jagatguru Shankaracharya of Bhanpura Peeth Divyanand Teerth Maharaj, whose
original name was Dinkar Sharma),
ডঃ শশাঙ্ক চ্যাটার্জী, খ্যাতনামা প্লাস্টিক সার্জেন,
(Dr Shashanka Chatterjee, well known Plastic surgeon),
মেজর জেনারেল কুলদীপ সিং সালারিয়া যিনি একবার দিল্লীর গণতন্ত্র দিবসের প্যারেডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন,
(Major General Kudeep Singh Salaria who led the Republic Day Parade, New Delhi)।
ডঃ শুভময় মুখার্জী, খ্যাতনামা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং লোকহিতৈষী সমাজসেবী,
(Dr Shubhomoy Mukherjee Well known Child specialist and philanthropist) প্রমুখ।
কবির কালিম্পং-এর ডঃ গ্রাহামস হোমস স্কুলের (Dr Graham's Homes School, Kalimpong) কৃতী ছাত্রদের
মধ্যে রয়েছেন . . .
জাস্টিস শেরিং ওয়াংচুক, ভুটানের প্রাক্তন চীফ জাস্টিস
(Tshering Wangchuk, Former Chief Justice of Bhutan),
শেরিং তোবগে, ভুটানের প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী
(Tshering Tobgay, Former prime minister of Bhutan),
সোনাম ফিন্টসো ওয়াঙ্গদি, ভুটানের জাতীয় পরিবেশ কমিশনের সেক্রেটারি
(Sonam Phintsho Wangdi, Secretary for National environment commission, in service),
ট্যানদিন জাম্টশো, ড্রুক এয়ারওয়েস এর প্রাক্তন ম্যানেজিং ডাইরেকটর,
(Tandin Jamtsho, Former Druk air managing director),
দোরজি ওম, যুব উন্নয়ন সেন্টারের ডাইরেকটর,
(Dorji Om, Director of youth development centre),
সোনাম তেনজিং ভুটিয়া, সিকিম পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল,
(Sonam Tenzing Bhutia, Inspector Genaral, Sikkim Police) প্রমুখ।
কবির প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ১লা বৈশাখ ১৪২৮ তারিখে (১৫ই এপ্রিল ২০২১) প্রকাশিত
“বাতায়ন” (নিশান প্রকাশন, ৫২ বাদু দ্বিতীয় প্রধাণ সরণি, কলকাতা ৭০০১২৮)। গ্রন্থটির অলঙ্করণ করেছেন
কবির ছাত্র শিল্পী বিপ্লব কুণ্ডু। মিলনসাগরে শিল্পী বিপ্লব কুণ্ডুর পেইন্টিংস এর পাতায় যেতে এখানে ক্লিক
করুন . . .।
কবি তড়িৎ দাশগুপ্তর ৫টি কবিতা এর পূর্বে তোলা হয়েছে মিলনসাগরের “করোনা ভাইরাস ও পরিযায়ী
শ্রমিকের দেয়ালিকায়” ২০২০ সালের করোনাকালে এবং তাঁর ৩টি কবিতা তোলা হয় ২০২১ সালের
সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত মিলনসাগরের “প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকায়”।
তাঁর কবিতায় সামাজিক অন্যায়-অবিচার এবং বিজ্ঞানের মানুষ হিসেবে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রতিবাদ
শুনতে পাই। এই শিক্ষক কবির “শিক্ষক জীবন” কবিতাটি আরেকজন শিক্ষক কবিশেখর কালিদাস রায়ের
বিখ্যাত “ছাত্রধারা” কবিতাটি মনে করিয়ে দেয়। মিলনসাগরে কবিশেখর কালিদাস রায়ের কবিতার পাতায়
যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
এই পাতা মিলনসাগরে কবি তড়িৎ দাশগুপ্তর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
উত্স -
- কবির সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া সক্ষাৎকার। মিলনসাগরের পক্ষে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিলন
সেনগুপ্ত।
কবির সঙ্গে যোগাযোগ -
কবি তড়িৎ দাশগুপ্তর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
২০টি কবিতা নিয়ে এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১১.৭.২০২২
. ^^ উপরে ফেরত
...