কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত - জন্মগ্রহণ করেন কলকাতায়। পিতা লালমোহন সেন এবং মাতা মায়া সেন। ১৯৮১ সালে তিনি বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হন মিলন সেনগুপ্তর সাথে। তাঁদের কন্যা সাগরকন্যা।

কবিতা যেন কবির পরিবারের বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত সম্পদ! কবির ঠাকুরদা ছিলেন মূলঘরের কবি শচীন্দ্রনাথ সেন। তাঁর ভাই ছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ডাক্তার কবি মহেন্দ্রনাথ সেন যিনি সন্ত কবীর দাসের দোহার বাংলা পদ্যানুবাদ করেন। কবির বড় কাকা ছিলেন চর্যাগীতিকোষ ও শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন খ্যাত ছান্দসিক অধ্যাপক কবি নীলরতন সেন। কবির এক পিসীমা কবি চম্পা রায়চৌধুরী। কবির ছোট কাকা অধ্যাপক কবি নবেন্দু সেন। কবির অন্য এক পিসীমা কবি ডলি দাশগুপ্ত। কবির বোন দিল্লীর জাকিরহুসেন কলেজের অধ্যাপক কবি শর্মিষ্ঠা সেন

কবির পিতা লালমোহন সেন স্বাধীনতার পূর্বে ছিলেন রয়াল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের বৈমানিক রেডিও অফিসার। ফেব্রুয়ারী ১৯৪৬ এর বিখ্যাত নৌবিদ্রোহের ঠিক আগ দিয়ে ১৯৪৬ সালের জানুয়ারী মাসে, বর্তমান পাকিস্তানের কোহাট এয়ারফোর্স বেস-এ, একজন ভারতীয় অফিসারকে একজন বিটিশ এয়ারম্যান স্যাল্যুট করতে অস্বীকার করার প্রতিবাদে, সেখানে একদিনের টুল-ডাউন স্ট্রাইক পালন করেন সেই এয়ার বেসের সব ভারতীয় কর্মচারী। সেদিন হ্যাঙ্গার থেকে কোনো বিমান বার করা যায়নি। এই স্ট্রাইক সেই সময়ই ভারতের অন্যান্য প্রান্তের এয়ার বেসগুলিতেও ছড়িয়ে গিয়েছিল। সেই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেবার অপরাধে, চারজন বাঙালী ও ২ জন পাঞ্জাবী, মোট ছয়জন অফিসারকে কোর্ট মার্শাল করা হয়। লালমোহন সেন ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম, যিনি প্রথমে কোহাট জেলে এবং পরে কলকাতার আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে কারাবরণ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা উপলক্ষ্যে জেনারেল অ্যামনেস্টির ফলে তাঁরা কারামুক্ত হন। তাঁদের এই বিদ্রোহের পরেই ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ঘটে যায় বিখ্যাত সর্বজনবিদিত নৌবিদ্রোহ। ঐতিহাসিকরা স্বীকার করেন যে এই নৌবিদ্রোহ ভারতের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল। কি এক অজ্ঞাত কারণে নৌবিদ্রোহের পূর্বে ঘটে যাওয়া RAF Strike বা Mutiny-র কথা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অবদান, কোনো প্রচারই লাভ করেনি। এরপর লালমোহন সেন স্বাধীন ভারতের সিভিল এভিয়েশন ডিপার্টমেন্টের কাজে যোগ দিয়ে ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দর-শহরে কাজ করেন।

কবির শিক্ষাজীবন পিতার বদলির চাকরির জন্য ভারতের বিভিন্ন শহরের বিভিন্ন স্কুলে কাটে। যার মধ্যে শুরুটা দমদম এয়ারপোর্ট প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস ১। এর পর দিল্লীর বিদ্যাভবন গার্ল্স স্কুলে ক্লাস ৫ ও ৬. দিল্লীর বেঙ্গলি বয়েজ স্কুলে ক্লাস ৭ ও ৮, কলকাতার দমদমের ক্রাইস্ট চার্চ গার্ল্স হাই স্কুলে ক্লাস ৯, এর পরে ক্লাস ১১ এর হায়ার সেকেণ্ডারি পরীক্ষা পাশ করেন পোর্টব্লেয়ারের রবীন্দ্র বাংলা বিদ্যালয় থেকে। এখানে আমরা উল্লেখযোগ্য মনে করছি যে পোর্টব্লেয়ারের রবীন্দ্র বাংলা বিদ্যালয়টি একটি কো-এডুকেশন স্কুল। স্কুলের ফাইনাল ইয়ার অর্থাৎ ক্লাস ১১ এ স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকেই স্কুল ক্যাপ্টেন নির্বাচিত করেছিলেন, ছেলে-মেয়ে সবার জন্য। সেই স্কুলের আর্ট টিচার ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী স্বপ্নেশ চৌধুরী (মিলনসাগরে তাঁর আর্টের পাতা . . .), যিনি পরে কলকাতার "অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস" এর সভাপতি হয়েছিলেন। তাঁকে সাগরিকার স্কুলের প্রাক্তনীদের সভার ছবিতেও দেখা যাচ্ছে।

স্কুল পাশ করার পর তিনি কল্যানী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিদ্যা বা বোটানিতে সান্মানিক স্নাতক হন। কবি স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দার্জ্জিলিং গভমেন্ট কলেজ থেকে।

পাশাপাশি কবির সঙ্গীতজীবনও কম উল্লেখনীয় নয়। তাঁর প্রথম সঙ্গীত গুরু ছিলেন তাঁর বটুক জেঠু, যিনি সবার কাছে ছিলেন বটুকদা এবং গণসঙ্গীত জগতের জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র। মিলনসাগরে রয়েছে “বটুকদার কবিতা ও গণসঙ্গীতের পাতা” এবং “শতবর্ষে জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র”। কবি সাগরিকা, পরবর্তী জীবনে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিক্ষা লাভ করেন শ্রীমতী সুচিত্রা মিত্র (মিলনসাগরে তাঁর কবিতার পাতা . . . ) এবং শ্রীমতী সুমিত্রা চট্টোপাধ্যায়ের (মিলনসাগরে তাঁর সঙ্গীতের পাতা . . .) কাছে । বর্তমানে কবি যুক্ত রয়েছেন সুমিত্রা চট্টোপাধ্যায়ের “কোরক” সঙ্গীত গোষ্ঠীর সঙ্গে, যাঁরা নিয়মিত সঙ্গীতানুষ্ঠান করে চলেছেন।

কবির ব্যক্তিগত জীবন কাটে প্রচণ্ড সংঘর্ষ ও ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। স্বামী জাহাজে কর্মরত ছিলেন বলে সংসারের সমস্ত কাজ তাঁকে একা হাতে করে যেতে হয়। কবির শ্বশুরমশায় বেনু সেনগুপ্ত, যাঁর লেখা বিগত শতকের ৫০এর দশকের, "দেশ" পত্রিকা সহ প্রায় সকল প্রথম সারির বাংলা ও ইংরেজী পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতো, শাশুড়ীমাতা কবি দীপালী সেনগুপ্তা ও নিজের কাকীমার ক্যানসার রোগের চিকিৎসা ও পরিচর্যা, নিজের পিতার বার্ধক্যজনিত ব্যাধির চিকিৎসা, কন্যার লেখা-পড়া, স্কুল-কলেজ সবকিছুই তাঁকেই একা হাতে সামলাতে হয়েছে। কবির শ্বশুরমশায় বেনু সেনগুপ্ত-র বিগত শতকের ৫০এর দশকের কিছু প্রকাশিত লেখা মিলনসাগরে পড়তে এখানে ক্লিক করুন...

কবি তাঁর পরিবারে তিনজন ক্যানসারের রোগী সামলাবার পরেও ১৯৯৮ সালে তাঁদের জলপাইগুড়ির পাণ্ডাপাড়াস্থিত বাড়ীতে শুরু করেন তাঁর স্বামীর মাতামহ শ্রী মধুসূদন দাশগুপ্তর নামাঙ্কিত পাণ্ডাপাড়া মধুসূদন ক্যানসার সোসাইটিশ্রী মধুসূদন দাশগুপ্তর নামে জলপাইগুড়ির বেরুবাড়ী অঞ্চলে রয়েছে মধুবাবুর ধাম, যেখানে ১৯৩৫ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে, প্রতিবছর কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর সময়ে “মধুবাবুর মেলা”, যে পূজার দায়িত্বে থাকেন সেখানকার হিন্দুদের সাথে মুসলমানরাও। কবি ২০১০ সাল পর্যন্ত, প্রতি বছর জলপাইগুড়িতে, তাঁদের বাড়ীতে, অনুষ্ঠিত করেছেন সবার জন্য বিনামূল্যে ক্যানসার নির্ণয় শিবির। কলকাতার 6G, Elgin Rd, Kolkata 700020 তে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ক্যানসার সোসাইটির চিকিৎসকগণ সেখানে গিয়ে রোগী দেখেছেন। শেষ শিবিরটি সম্পূর্ণ রূপে পরিচালনা করেন, সেই বছরেই সোশ্যাল ওয়ার্ক নিয়ে স্নাতকোত্তর M.S.W. ডিগ্রী পাওয়া, কবিকন্যা সাগরকন্যা রায়

এত কিছু সামলাবার পরেও সাগরিকা তাঁর জীবনে সঙ্গীতকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। মিলনসাগরে তাঁর সঙ্গীতের পাতায়, তাঁর রবীন্দ্রসঙ্গীতের সিডি "গানগুলি মোর শৈবালেরই দল" এর গান শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .

এই কর্মবহুল জীবনে, সময় দিয়েছেন লেখালেখিতেও। লিখেছেন গবেষণামূলক লেখা। ২০১৫ সালে কবি রাজেশ দত্ত সম্পাদিত প্রখ্যাত পত্রিকা 'আবাদভূমি'তে, কবি রজনীকান্ত সেনের জন্ম সার্ধশতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি 'রঙ্গরসিক রজনীকান্ত' (PDF কপি) প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে 'মিলনসাগর' ওয়েবসাইটে কবি অতুলপ্রসাদ সেনের জন্ম সার্ধশতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি 'ছিন্ন বীণার নন্দনগান' (PDF কপি) প্রকাশিত হয়েছে। এরই সাথে সাথে তাঁর ফেসবুকেও লেখালেখি করে থাকেন। সেখানে তাঁর বিভিন্ন লেখার মধ্যে "জাহাজ নিয়ে জানাজানি, জাহাজ MV Andamans...পর্ব-১" পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .

এরই ফাঁকে ফাঁকে লিখেছেন কবিতা। মিলনসাগরের সহ-প্রতিষ্ঠাত্রী হয়েও এত বছর ধরে তিনি আমাদের, তাঁর কোনো কবিতার পাতা তৈরী করতে দেন নি। কিন্তু আমাদের ওয়েবসাইটের প্রায় ২৫ বছর হয়ে আসাতে, আমরা একরকম জোর করেই তাঁর এই কবিতার পাতা তৈরী করলাম। আমরা তাঁর ১৩ টি কবিতা এখানে তুলে দিতে পেরেছি।

মিলনসাগরে কবি সাগরিকা সেনগুপ্তর কবিতার পাতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।


কবি সাগরিকা সেনগুপ্তর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


কবির সঙ্গে যোগাযোগ . . .
কবির ইমেল . . .  
smtsagarikasengupta@yahoo.co.in

কবির ফেসবুক . . .
https://www.facebook.com/smtsagarikasengupta



         



আমাদের ই-মেল
: srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ
: +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭       



এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১২.৭.২০২৪।

^^ উপরে ফেরত