কবি রজনীকান্ত সেন-এর "শেষ দান" কাব্যগ্রন্থের গান ও কবিতা
|
আমরা ভূম্যধিকারী বঙ্গে
কবি রজনীকান্ত সেন
শেষ দান (১৯২৭) কাব্যগ্রন্থের গান ও কবিতা
জমিদার
আমরা ভূম্যধিকারী বঙ্গে,
সদা এয়ার-বন্ধু-সঙ্গে
কত ফুর্তিতে করি সময়-হত্যা,
. তাস, পাশা, চতুরঙ্গে।
মোদের highly furnished room,
তাতে দিন-রাত ‘দেরে তুম্’
ঐ তবলার চাঁটি, ‘বাহবার’ চোটে
. নাই পড়শীর ঘুম।
চলছে সুন্দর টানাপাখা,
তার ঝালরে আতর-মাখা,
আর হরদম পান-তামাক চলছে,
. গল্প চলছে ফাঁকা।
আছে ডজন চারেক চাকর,
ব’সে, মাচ্ছে মাছি ও মাকড়,
(দেখ) তাদেরো মাথায় আলবার্ট টেরী
. (ভুড়িটিও বেশ ডাগর)
. তারাও রসিক নাগর।
মোদের আছে পেয়ারের ভৃত্য,
তারা যোগায় মেজাজ নিত্য ;
আর উদর পুরিয়া প্রসাদ পাইয়া
. ‘বা! খুশি’ তাদের চিত্ত।
বাইরে সমাজের ধারো ধারি,
বাড়িতে পুজোর জমক ভারি ;
আবার half a score বাবুর্চি আছে,
. রেঁধে দেয় চপ, কারি।
রোজ ছানা ও মাখন চলে,
আমরা রোদে গেলে যাই গ’লে,
ওই কস্তুরী দিয়ে দাঁত মাজি, আর
. আঁচাই গোলাপ জলে।
দেশে কত দুখী ভাতে মরে,
তাদের দেইনে পয়সাটি হাতে ক’রে ;
তারা গেট থেকে পেয়ে অর্ধচন্দ্র
. রাস্তায় প’ড়ে মরে।
কিন্তু D.M., D.S., D.J.
এলে, ভয়ে ঘেমে উঠি ভিজে.
তাদের খানা দেই আর বুট চাটি,
. (আহা) নতুবা জনম মিছে।
খেয়ে, স্কুলে severe beating,
ওই First Book of Reading,
হাঁ, প’ড়েছিনু বটে, এখনো ভুলিনি---
. “The blind man is bleating,”
যত সাহেব-সুবোর সনে
বলি ইংরেজি প্রাণপণে
ওই First Book-এর বিদ্যের চোটে,
. তারাও প্রমাদ গণে।
Brain-এ সয় নাক’ গুরু চাপ্ টা
আর প’ড়েই বা কোন্ লাভটা?
‘Yes’, ‘no’ আর ‘very good’ দিয়ে
. বুঝালেই হ’লো ভাবটা।
আমরা এত যে আরামে থাকি,
তবু কোন রোগ নাই বাকি---
Dyspepsia, Debility, আর
. কিছু কিছু ঢেকে রাখি।
ক’রে প্রজার রক্ত শোষণ,
করি মোসাহেব-দল পোষণ ;
আর প্রজার বিচার আমলারা করে,
. কোথায় আপীল মোসন?
করি হাতিতে চড়িয়া ভিক্ষে,
কেহ না দিলে পায় সে শিক্ষে,
তারা ভিক্ষে-খরচা দিতে, জমি ছেড়ে
. উঠেছে অন্তরীক্ষে।
তবু ঘোচে না ঋণের দায় ;
ওই খেয়ালেই তো মাথা খায়!
দেখ, সুবিধা ঘটিলে, দু’চার হাজার
. এক রেতে উড়ে যায়।
ঋণ-শোধের উপায় কুত্র?
শুধু অধঃপাতের সূত্র।
বাবা করেছিল, আমি উড়ালাম,
. বাবার যোগ্য পুত্র!
ঠিক বলেছিল Darwin,
We are very sanguine,
মোদের জীবনটা এক চিরবাঁদ্ রামী,
. সম্মুখে শুধু ruin!
এই ছোট Autobiography
প’ড়ে, কে কি ভাবে তাই ভাবি---
কমলা গো! তুমি কার হাতে দিলে
. তোমার ঝাঁপির চাবি?
ওরে মন, তোর জ্যোতিষে, হারায় দিশে
কবি রজনীকান্ত সেন
শেষ দান (১৯২৭) কাব্যগ্রন্থের গান ও কবিতা
সৃষ্টির কৌশল
ওরে মন, তোর জ্যোতিষে, হারায় দিশে
. অবাক্ চেয়ে আকাশ-পানে,
ওরে ঐ কোটি বছর, রবির ভিতর
. পুড়ছে কি তা মালিক জানে!
এত কাঠ কোথায় থাকে, কে দেয় তাকে,
এমনি ক’রে চাবি দিয়ে
কবি রজনীকান্ত সেন
শেষ দান (১৯২৭) কাব্যগ্রন্থের গান ও কবিতা
১৫ আষাঢ় ১৩১৭, রাত্রি, হাসপাতালের শয্যায় লেখা।
বিশ্ব-যন্ত্র
. এমনি ক’রে চাবি দিয়ে
. দিয়েছে এই বিশ্ব-যন্ত্র ঘুরিয়ে,
. কোটি কোটি বছর যাচ্ছে,
. তবু চাবির দম যায় নাক’ ফুরিয়ে!
. বলিহারী, বাহবা, ওস্তাদের কেরামৎ!
নীল নভঃতলে চন্দ্র তারা জ্বলে
কবি রজনীকান্ত সেন
শেষ দান (১৯২৭) কাব্যগ্রন্থের গান ও কবিতা
মধুমাস
. নীল নভঃতলে চন্দ্র তারা জ্বলে,
. হাসিছে ফুলরানী ফুলবনে।
. হরষ-চঞ্চল সমীর সুশীতল
. কহিছে শুভ কথা জনে জনে।
. মধুর মধুমাসে আকুল অভিলাষে
কি মধু-কাকলি ওরে পাখি
কবি রজনীকান্ত সেন
শেষ দান (১৯২৭) কাব্যগ্রন্থের গান ও কবিতা
গানটির স্বরলিপি আমরা পাই কল্যাণী কাজী কৃত "১০১টি সুনির্বাচিত রজনীকান্তের গানের
স্বরলিপি" গ্রন্থ থেকে। সেখানে রাগ ও তালের উল্লেখ না থাকায়, সেই স্বরলিপি থেকেই তা
আমাদের জানিয়েছেন সঙ্গীতজ্ঞ দেবাশিস রায়।
বিরহ
॥ পরজ ও বসন্তের ছোঁওয়া, দাদরা॥
. কি মধু-কাকলি ওরে পাখি,
নয়ন-মনোহারিকে! গহন-বনচারিকে
কবি রজনীকান্ত সেন
শেষ দান (১৯২৭) কাব্যগ্রন্থের গান ও কবিতা
অভিসারিকা
॥ তিলক কামোদ, ঝাঁপতাল॥
. নয়ন-মনোহারিকে! গহন-বনচারিকে!
ঐ শোন কারে ডাকে
কবি রজনীকান্ত সেন
শেষ দান (১৯২৭) কাব্যগ্রন্থের গান ও কবিতা
প্রেমের ডাক
. ঐ শোন কারে ডাকে?
চল ফিরে চল, তারে পাওয়া যাবে না
কবি রজনীকান্ত সেন
শেষ দান (১৯২৭) কাব্যগ্রন্থের গান ও কবিতা
আশাহত
॥ বেহাগ, একতালা॥
চল ফিরে চল, তারে পাওয়া যাবে না!
মা, তোর স্নেহ-গগনে উদিল
কবি রজনীকান্ত সেন
শেষ দান (১৯২৭) কাব্যগ্রন্থের গান ও কবিতা
পরিণয় মঙ্গল
মা, তোর স্নেহ-গগনে উদিল
. আজি ফুল্ল যুগল চাংদ গো ;
অবিরল ধারে বহিছে সুধা
. নাহি মানে কোন বাঁধ গো।