কবি কবিবল্লভ - বহুকাল যাবত “কবিবল্লভ” ভণিতাযুক্ত একটিই পদ পাওয়া গিয়েছিল যার
প্রথম পংক্তি “সখি হে কি পুছসি অনুভব মোয়”। কিন্তু ২০১৭ সালেক এপ্রিল মাসে আমাদের হাতে আসে
দ্বিজ মাধবের সংকলিত পদাবলী সংকলন শ্রীপদমেরুগ্রন্থ-এর প্রতিলিপি। সেই গ্রন্থে আমরা কবিবল্লভের
আরও দুটি পদ পাই এতে তা আমরা এখানে তুলে দিয়েছি।
এই কবি সম্বন্ধে আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে তা এই রকম . . .।
নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত উপরোক্ত "সখি হে কি পুছসি অনুভব মোয়" পদটিকে বিদ্যাপতির সর্ব্বোত্কৃষ্ট পদ বলে মত
প্রকাশ করেছিলেন। তাহলে এই কবি চৈতন্য-পূর্ব কবি হন। কিন্তু সতীশচন্দ্র রায়ের মত বিশেষজ্ঞরা এই
কবিকে শ্রীরূপ গোস্বামীর পরবর্তী কবি বলে অনুমান করেছিলেন। তাহলে কবিবল্লভ চৈতন্য-পরবর্তী যুগের
কবি হন। তাঁদের মতে পদের ভাবের নিরিখে এই পদকর্তা শ্রীরূপ ও শ্রীজীব গোস্বামী দ্বয়ের পরবর্তী।
সতীশচন্দ্র মনে করতেন যে গোবিন্দদাসের “আধক আধ-আধ দিঠি-অঞ্চলে” পদটি কবিবল্লভের “সখি হে কি
পুছসি অনুভব মোয়” পদটিকে লক্ষ্য করে রচিত হয়ে থাকতে পারে। এই “কবিবল্লভ”, “ক্ষণদাগীত চিন্তামণি”
নামক বৈষ্ণব পদাবলীর রচয়িতা ও সংকলক “হরিবল্লভ” বা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী নন, তার কারণ তিনি অনেক
পরবর্তী কবি। কাজেই গোবিন্দদাস তাঁর পদের প্রশংসা করে পদ রচনা করবেন এমন হওয়া অসম্ভব।
তাঁদের অনুমান “বল্লভ” বা “শ্রীবল্লভ” ইত্যাদি ভণিতার কবি, এই কবি হতে পারেন। এই “বল্লভ” কবি
নিঃসন্দেহে বৈষ্ণব-আচার্য নরোত্তম ঠাকুরের শিষ্য ছিলেন। সেটা তাঁর “ও মুখ শরদ-সুধাকর-সুন্দর” পদটির
ভণিতা থেকেই জানা যায় . . .
নরোত্তম দাস আশ চরণে রহু
. শ্রীবল্লভ মন ভোর॥
এই কবি “বল্লভের” পদ পাঠ করতে মিলনসাগরে কবি “বল্লভের” পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
কবি “হরিবল্লভের” পদ পাঠ করতে মিলনসাগরে "হরিবল্লভের" পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
কবি কবিবল্লভের এই একটিমাত্র পদটিই যে একসময় বিশেষজ্ঞগণের তুমুল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছিল তা
নীচের কয়েকটি উদ্ধৃতি থেকে বোঝা যায়।
সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত, বৈষ্ণবদাস সংকলিত, বৈষ্ণব পদাবলীর শ্রীশ্রীপদকল্পতরু, পঞ্চম খণ্ডের,
ভূমিকায় লিখেছেন . . .
“এই পদটিী প্রথমে স্বর্গীয় সারদাচরণ মিত্র মহাশয়ের বিদ্যাপতির সঙ্কলনে বিদ্যাপতির ভণিতা-যোগে
প্রকাশিত হয়। নগেন্দ্র বাবু (নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত) ইহাকে বিদ্যাপতির সর্ব্বোত্কৃষ্ট পদ বলিয়া মত প্রকাশ
করিয়াছেন এবং সারদা বাবুর গৃহীত পাঠ অনুসারে পদটী তাঁহার সংস্করণে সন্নিবেশিত করিয়াছেন
(নগেন্দ্রনাথ গুপ্তের বিদ্যাপতি ঠাকুরের পদাবলী, ১৯০৯, পৃষ্ঠা ৪৯৪, পদসংখ্যা ৮৩৪)। নগেন্দ্র বাবু ঐ পদের
টীকায় লিখিয়াছেন,---‘এই পদ এই আকারে স্রীযুক্ত সারদাচরণ মিত্রের সঙ্কলনে প্রথম প্রকাশিত হয়। তিনি
বহরমপুর হইতে আনীত একখানি হস্তলিখিত পুঁথিতে প্রাপ্ত হন। মিথিলায় প্রায় এই পাঠ প্রচলিত আছে।
পদকল্পতরুর ভণিতায় বিদ্যাপতির নাম নাই।’ নগেন্দ্র বাবু তাঁর ‘পাঠ নির্ণয়’ শীর্ষকের ২’৯০ পৃষ্ঠায় এই
পদের মৈথিল যে পাঠ ‘প্রকৃত’ বলিয়া প্রদর্শিত করিয়াছেন, আলোচনার সুবিধার জন্য উহা নিম্নে উদ্ধৃত হইল,
---
সখি হে কি পুছসি অনুভব মোয়।
সোই পিরিতি অনুরাগ বাখানইতে
. তিলে তিলে নূতন হোয়॥
জনম অবধি হম রূপ নিহারল
. নয়ন না তিরপিত ভেল।
সোই মধুর বোল শ্রবণহি শুনল
. শ্রুতি-পথে পরশ না গেল॥
কত মধু-যামিনি রভসে গমাওল
. ন বুঝল কৈসন কেল।
লাখ লাখ যুগ হিয়ে হিয়ে রাখল
. তৈও হিয় জুড়ন ন গেল॥
যত যত রসিক জন রসে অনুমগন
. অনুভব কাহু ন পেথ।
বিদ্যাপতি কহ প্রাণ জুড়াইত
. লাখে না মিলল এক॥”
সারদা বাবুর উদ্ধৃত পদেও ভণিতার কলি এইরূপ। তবে ‘যত যত রসিক জন’---এই পাঠের বদলে ‘কত
বিদগধ জন’ পাঠ আছে। এখন প্রথমেই জিজ্ঞাস্য এই যে, নগেন্দ্র বাবু এই মিথিলার পদটি মিথিলার কোন্
পুথিতে পাইলেন ? তিনি ইহা মৈথিল তালপত্রের পুথি কিংবা রাগতরঙ্গিণী পুথিতে পাইলে নিশ্চতই তাহা
লিখিয়া, এই পদটি যে বিদ্যাপতির রচিত, সে সম্বন্ধে অন্ততঃ একটা বিশ্বা-যোগ্য প্রমাণও দিতে কুণ্ঠিত
হইতেন না। নগেন্দ্র বাবু মিথিলার উক্ত পুথি দুইখানারবিশুদ্ধতার ও প্রামাণিকতার অনেক প্রশংসা
করিয়াছেন। নগেন্দ্র বাবুর উদ্ধৃত এই মৈথিল রুপান্তরে অনেকগুলি মারাত্মক ছন্দের ভুল আছে। নগেন্দ্র
বাবুর ‘বখানইতে’ স্থলে ‘বখানিতে’, ‘শুনল’ স্থলে ‘শূনল’, ‘তৈও’ স্থলে ‘তউ’ এবং ‘যতযত রসিক জন রসে
অনুগমন’ এই আদ্যান্ত ছন্দোদুষ্ট পংক্তির স্থলে পদকল্পতরুর গৃহীত ‘কত বিদগধ জন রস অনুমোদই’ পাঠ না
ধরিলে এই পদের ছন্দোদুষ্টি যে অনিবার্য্য হইয়া পড়ে, ছন্দোবিৎ পাঠক সহজেই তাহা বুঝিতে পারিবেন।
মিথিলার বিদ্যাপতির অনেক পদ যেমন বাঙ্গালায় আসিয়াছে ; তেমনি বাঙ্গালার অনেক পদও মিথিলায়
গিয়াছে ; সুতরাং মিথিলার যে কোনো হস্ত-লিখিত পুথি বা আধুনিক মৈথিল গীতসংগ্রহ ইত্যাদির ন্যায়
পুথিতে এরূপ বিকৃত একটা পদে বিদ্যাপতির ভণিতা পাইলেই উহাকে অবিচারে বিদ্যাপতির বলিয়া স্বীকার
করা যাইতে পারে না---ইহা সহজেই বুঝা যাইতে পারে।
সারদা বাবুর বহরমপুরের হস্তলিখিত পুথিই বা কত দূর প্রামাণ্য, তাহাও বলা যায় না। আমরা প্রসিদ্ধ
পদকল্পতরুর সকলগুলি পুথি ও পদরসসার পুথিতে সর্ব্বত্রই কবিবল্লভের ভণিতা পাইতেছি।
এতদ্ব্যাতীত এই পদের প্রথম কলিতে এমন একটা চূড়ান্ত ভাব-গত আভ্ন্তরীণ প্রমাণ আছে, যাহাতে এই
পদটাকে শ্রীরূপ গোস্বামীর ‘উজ্জ্ব-নীল-মণি’ গ্রন্থের পরবর্ত্তী রচনা বলিয়া স্বীকার না করিয়া কোন মতেই
উহাকে তাঁহার শতাধিক বত্সরের প্রাচীন কবি বিদ্যাপতির রচনা বলা যাইতে পারে না। আমরা এখন সেই
আভ্যন্তরীণ অকাট্য প্রমাণের সম্বন্ধেই কিঞ্চিৎ আলোচনা করিব।
নগেন্দ্র বাবু তাঁহার সংস্করণের প্রত্যেক পদের প্রায় প্রত্যেক শব্দ ও বাক্যের টীকা করিয়া থাকিলেও যে
জন্যই হউক, আলোচ্য পদের ১ম কলির দুর্ব্বোদ্ধ ‘সোই পিরিতিকেই অনুরাগ বখানিতে’ ইত্যাদি পংক্তি
দুইটির কোনও অর্থ লিখেন নাই। ‘পিরিতি’ ও ‘অনুরাগ’ শব্দ দুইটী একার্থক। সেই পিরিতিকেই অনুরাগ
ব্যাখ্যা করিতে (হয়), ‘(যাহা) তিলে তিলে নূতন হয়’---এই সহজবোধ্য ব্যাখ্যা স্বীকার করিলে মহাকবি
বিদ্যাপতির রচনায় ‘প্রক্রম-ভঙ্গ’ নামক অলঙ্কার-দোষ অপরিহার্য্য হইয়া পড়ে। কবির যদি উহাই বলা
উদ্দেশ্য হইত, তাহা হইলে তাঁহার পক্ষে দুইটী ‘পিরিতি’ বা দুইটী ‘অনুরাগ’ শব্দ প্রয়োগ করা উচিত ছিল ;
যেমন---‘সেই পিরিতিকেই বলি পিরিতিট অথবা ‘সেই অনুরাগকেই বলি অনুরাগ’ ইত্যাদি।কবি এখানে
পিরিতি ও অনুরাগ দুইটিী পৃথক্ শব্দের প্রয়োগ করায়, ঐ বাক্যের অর্থ ইহা নহে, কিন্তু রূপ গোস্বামী
মহোদয়ের উজ্জ্বল-নীলমণি গ্রন্থের বর্ণিত রস-শাস্ত্রের অন্যতম প্রসিদ্ধ পরিভাষিক অনুরাগ শব্দের লক্ষণ
বিবৃত করাই কবির উদ্দেশ্য বটে, এইরূপ নিঃসন্দেহে প্রতীত হয়। উজ্জ্বস-নীল-মণি গ্রন্থে প্রেম বা পিরিতির
পরিণতি অনুরাগ শব্দের লক্ষণ বলা হইয়াছে,---
সদানভূতমপি যঃ কুর্য্যান্নবনবং প্রিয়ম্।
রাগো ভবন্নবনবঃ সোহনুরাগ ইতীর্য্যতে॥
অর্থাৎ যে ‘রাগ’ বা ‘প্রেম’ নব-নব রূপ ধারণ করিয়া সর্ব্বদা অনুভূত প্রিয়জনকেও নব- নব রূপে আস্বাদিত
করায়, তাহাকেই ‘অনুরাগ’ বলা যায়।
রূপ গোস্বামীর পূর্ব্বে আর কোন রস-শাস্ত্রকারই ‘অনুরাগ’ শব্দটীর এরূপ একটা বিশেষ অর্থে ব্যবহার করেন
নাই। বিদ্যাপতির প্রায় সম-সাময়িক মৈথিল কবি ভানুদত্তের সুপ্রসিদ্ধ রস-গ্রন্থ রস-মঞ্জরীতে বা বিশ্বনাথ
কবিরাজের সাহিত্য-দর্পণে অনুরাগের এই বিশেষ লক্ষণ বর্ণিত হয় নাই। আমাদিগের দৃঢ় বিশ্বাস যে, ইহা
উজ্জ্বল-নীল-মণির একটা নিজস্ব শব্দ।
কবিবল্লভের আলোচ্য পংক্তি-দ্বয় যে উজ্জ্বলের উক্ত শ্লোকের একরূপ কথায় কথায় অনুবাদ, তাহা লক্ষ্য
করার বিষয় বটে। এইরূপ অর্থ অস্বীকার করিলে কলিটির প্রকৃত অর্থ বুঝিতে কোনও বাধা হয় না এই
পদের অম্তিম কলিতেও কি জন্য যে বিদগ্ধ জনের রস-শাস্ত্র-জ্ঞান-সূচক পাণ্ডিত্য-পূর্ণ রস-ব্যাখ্যা হইতে সহজ
ও স্বাভাবিক অনুভবকেই কবি শ্রেষ্ঠ বলিয়া প্রচারিত করিয়াছেন, তাহাও বুঝা যায়। বস্তুতঃ প্রথম কলির
যেরূপ অর্থই হউক না কেন, পদকল্পতরুর প্রমাণের বিরুদ্ধে আমরা সারদা বাবুর কিংবা নগেন্দ্র বাবুর
প্রকাশিত পূর্ব্বোক্ত অপ্রচুর প্রমাণের উপর নির্ভর করিয়া এই পদটিকে বিদ্যাপতির রচিত বলিয়া স্বীকার
করিতে পারি না।”
নগেন্দ্রনাথ মিত্রের মতে এই পদটি বিদ্যাপতির সর্ব্বোত্কৃষ্ট পদ। কিন্তু সতীশচন্দ্র রায় ভিন্ন মত পোষণ
করতেন। তাঁর মতে “সখি হে কি পুছসি পদটি” তো বিদ্যাপতি পদ নয়ই, উপরন্তু সর্বশ্রেষ্ট পদও নয়। তাঁর
মতে এই বিষয়টিকে নিয়ে লেখা সর্বশ্রেষ্ঠ পদ হল গোবিন্দদাসের “আধক আধ-আধ দিঠি-অঞ্চলে”! তিনি এই
বিষয়ে পদকল্পতরু গ্রন্থের পঞ্চম খণ্ডের ভূমিকায় এর বিস্তারিত যুক্তিও দিয়েছেন। আমরা এখানে তা উদ্ধৃত
করা থেকে বিরত থাকছি। পাঠকগণ চাইলে গোবিন্দদাসের এই পদটি আমাদের গোবিন্দদাসের পাতায় গিয়ে
পড়তে পারেন এখানে ক্লিক করে . . . ।
১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত পাঁচশত বত্সরের পদাবলী ১৪১০-১৯১০, পদসংখ্যা
১২৬, কবিবল্লভ এর ‘সখি হে কি পুছসি অনুভব মোর’ এর টীকায় তিনি লিখেছেন . . .
“সারদাচরণ মিত্র মহোদয় এই পদটি বিদ্যাপতি ঊণিতায় পাইয়াছিলেন। যিনিই ইহা লিখুন তিনি যে
উচ্চস্তরের কবি ছিলেন সন্দেহ নাই। রসকদম্ব-এর লেখক কবিবল্লভ অথবা নরোত্তম ঠাকুরের শিষ্য
বল্লভদাসের পক্ষে এ ধরণের পদ লেখা সম্ভব মনে হয় না। অথচ ‘সোই পিরিতি অনুরাগ বাখানিয়ে / অনুখণ
নৌতুন হোয়’ অর্থাৎ সেই প্রেমকেই অনুরাগ বলিয়া ব্যাখ্যা করি যাহা ক্ষণে ক্ষণে নূতন বলিয়া মনে হয়
--- এই ভাবটি শ্রীরূপের প্রদত্ত অনুরাগের সংজ্ঞার যেন অনুবাদ।
উজ্জ্বলনীলমণিতে (১৪। ১৪৬) আছে ---
সদানুভূতমপি যঃ কুর্ষ্যান্নবনবং প্রিয়ম্।
রাগো ভভন্নবনবঃ সোহনুরাগ ইতীর্য্যতে॥
অর্থাৎ, যে রাগ নবনবায়মান হইয়া সর্বদা অনুভূত প্রিয়জনকেও অননুভবৎ প্রতীয়মান করায়, প্রতিক্ষণে
নবীনতা দান করে --- তাহাকেই অনুরাগ বলে। সেই জন্য পদটি কোন চৈতন্যোত্তর কবির বলিয়া অনেকে
মনে করেন।” বিমানবিহারী মজুমদার, পাঁচশত বত্সরের পদাবলী।”
আমরা মিলনসাগরে কবি কবিবল্লভের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।
“বল্লভ”।
"বল্লভ দাস"।
“বীর বল্লভ দাস”।
“বল্লভ দাসিয়া”।
“দাস বল্লভী”।
“শ্রীবল্লভ”।
“রাধাবল্লভ”।
“কবিবল্লভ”।
“হরিবল্লভ”।
কবি কবিবল্লভের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২৩.৩.২০১৭
দুটি নতুন পদ যুক্ত করে, পরিবর্ধিত সংস্করণ - ২৪.৪.২০১৭
...