সে সুযোগ নিয়ে রাজার ভক্ত,
বিরোধী নিকেশে করেন ছক তো,
রাজা আর দেশ মানে এক করে স্তব কত হলো পেশ,
পারলে রাখে না সে দেশে রাজার বিরোধীর কোনো লেশ
কাঁটাতার যদি দেশের ভেতরে, সেই দেশ তবে উঠবে কী করে
দেশের ভেতরে দেশ বেঁধে বেঁধে গোটা দেশ হলো শেষ।
যদিও এসব মার-মার-কাট-এ রাজা’র কিছু না ক্লেশ।
রোজ প্রজা ভাগ করা কথা বলে যাওয়া ,
তাঁর স্রেফ অভ্যেস।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
ভিনরাজ্যে বাঙালি বিতাড়ণের বিরুদ্ধে কবিতার দেয়ালিকা
|
|
|
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে! This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
|
একসাথে চল গড়বো মোরা রাঙ্গা দুনিয়া
সবে মিলে থাকবো সেথা/মোরা বিভেদ ভুলিয়া
বিভেদ ভুলিয়া...
কসাথে চল গড়বো মোরা রাঙ্গা দুনিয়া...
ভাবি সমাজ গড়বো মোরা দুঃখ করবো দূর
হাটে মাঠে তুলবো রে ভাই আনন্দেরি সুর
আলো করবো আঁধার রাতি, ঘরে ঘরে জ্বালবো বাতি
আলো করবো আঁধার রাতি, ঘরে ঘরে জ্বালবো বাতি
গাইবো নব গান দুঃখ করবো অবসান
নূতন সমাজ গড়বে কে রে, আয় রে ছুটিয়া
আয় রে ছুটিয়া...
একসাথে চল গড়বো মোরা রাঙ্গা দুনিয়া
শ্রমিক কৃষক সবাই সমান, সবার দুঃখ এক...
এক অবস্থায় দেশবাসী পড়েছি অনেক
দুঃখ সহিয়াছি ঢের, ভয় পাব না কিসের
দুঃখ সহিয়াছি ঢের, ভয় পাব না কিসের
আয় রে যত কৃষক শ্রমিক উঠ রে জাগিয়া
উঠ রে জাগিয়া...
একসাথে চল গড়বো মোরা রাঙ্গা দুনিয়া কবি নিবারণ পণ্ডিত (২৭.২.১৯১২ - ১.১১.১৯৮৪)
১৯৬২ সালে কবির, আসামের বঙ্গাল খেদা আন্দোলনের সময় রচিত গান ও কবিতার “সেই দিনগুলির কথা” কাব্যগ্রন্থের গান। গানটি
আমরা পেয়েছি বরাক বুলেটিন এর ওয়েবসাইট থেকে আংশিক ও শ্রী দিপঙ্কর সিনহার ইউটিউব চ্যানেল থেকে পুরোটা। দুঃখের
বিষয় এই যে আমরা এই গ্রন্থটি হাতে পাইনি। বরাক বুলেটিন এর ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন... শ্রী দিপঙ্কর সিনহার
ইউটিউব চ্যানেলে যেতে এখানে ক্লিক করুন...
যে কোনো কবিতায় ক্লিক্ করলেই সেই কবিতাটি আপনার ব্রাওজারের ডান দিক ঘেঁষে ফুটে উঠবে
|
একসাথে চল গড়বো মোরা রাঙ্গা দুনিয়া
একসাথে চল গড়বো মোরা রাঙ্গা দুনিয়া
একসাথে চল একসাথে চল
একসাথে চল একসাথে চল
একসাথে চল একসাথে চল
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
গলাবন্ধ টাইট করে
নিয়ম করে লেজ নাড়ি।
পাছে বলে দেশদ্রোহি
চালান করে মামাবাড়ি!
রোজ বিকেলে হিন্দি শেখান
মাইনে করা ম্যাস্টরে
গুজরাটিটাও ঠিক করেছি
শিখেই নেব তারপরে।
বন্ধু বলল হিন্দি নামে
আসলে কোন ভাষাই নেই ;
বিশ্বোয়াস তো হয় না বাবা
মন কি বাত বলতে নেই।
ভয় পেও না, বাঙালি কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবি একজন বিশিষ্ট অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ। তাঁর সুদীর্ঘ অধ্যাপক জীবনে
পড়িয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে। নেট ম্যাগাজিন কক্ষপথ-
এর তিনি সম্পাদক। কবির ইমেল - editors.kokshopoth@gmail.com
রাজা বললেন, ‘ধর্ম ‘।
অমনি দেশের সব ঈশ্বর তুললেন গায়ে বর্ম।
কিছু ঈশ্বর রাজার পক্ষে ,বাকিরা উল্টোতরফে,
কী প্রতীক হলে দেশভক্ত সে লেখা হলো বোল্ড হরফে,
রক্ত বইলো দুইদিক,
কচুকাটা হলো হলো যে ভিড়ে যেখানে লঘু ছিলো যার সৈনিক..
রাজা বললেন, ‘ধর্ম’।
হিত ও বিপরীত বেছে নিতে হয় প্রজারা গলদঘর্ম,
কে শহীদ আর কে টেররিস্ট মিডিয়া বোঝায় মর্ম,
ঘামে ভেজা যত রুটির কুটিরে,
রক্ততে ভেজা লাশ এলো ফিরে,
মোল্লা-পুরুত-পাদ্রী অচিরে সারলেন ইহকর্ম।
এত কিছু হলো, কী বা এলো গেলো,
শীতাতপ সব সামলিয়ে নিয়ে শান্ত রাজার হর্ম্য।
রাজা বললেন ‘ভাষা’।
অমনি পালিত মাস্তান করে জনে জনে জিজ্ঞাসা।
কারা কথা বলে স্থানীয় লব্জে,
ঠুসে বের করা তা হলো সব যে,
যারা নড়বড়ে ,
দুই থাপ্পড়ে রাজ-গুন্ডারা দিলো সিধা করে,
কোতোয়াল ঘাসি বাকি ভাষাভাষী খুঁজে দিলো সাজা কত না ওজরে..
রাজা বললেন কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৯ই জুলাই ২০২৫।
রাজা বললেন ‘ভাষা’।
অলিতে গলিতে ভরায় গালিতে এক-ভাষা-ভালোবাসা!
কোথাও শ্রমিক, কোথাও দোকানি,
লাল গালে শোনে দুর্বাসা-বাণী,
ভাষা কাঁটাতারে মার-এ হয়রান শ্রমজীবী ভুষোচাষা,
ভাষার সঙ্গে ভাষা না মিশলে,
আগামীতে ভাষা যায় যে পিছলে,
কে বোঝাবে বলো ,
যত ভাষা আসে তত ভাষা কথা-ঠাসা,
ভাষা বেড়া দিলে মরে যায় সেই ভাষা বাঁচাবার আশা।
জোর করে দেশী করে ভিনদেশী,
প্রজা আর প্রজা চলে রেষারেষি,
কে ফোলায় পেশি বয়ে গেছে তাঁর,রাজা নাক ডাকে খাসা ।
রাজা বললেন ‘দেশ’।
সোশ্যাল মিডিয়া পরলো অমনি সেনাবাহিনীর বেশ।
বলছে না যারা যুদ্ধকে ভালো,
ট্রোলের বাহিনী এসে ধমকালো,
চর বলে ঘোর গালাগালি দিয়ে পাঠালো সীমার ওপারে,
শ্লীলতা মাড়িয়ে কত কী ‘মারালো ‘ তাদের অযুত চোপা রে!
হেট স্পিচ স্রেফ রাজা খেলে গালি
এবেলা আইন ফাঁকা বুলি খালি
যুদ্ধবিরোধী যেন অপরাধী, হলো তার দফারফা রে।
রাজা বললেন ‘দেশ।’
পড়শির দ্বেষ ঘরে টেনে এনে কাজিয়া চললো বেশ।
এক দেশ এক ভোট এক ভাষা’ হলে,
অন্যরা কোণঠাসা হবে এর ফলে।
বহুত্ববাদের ধারা যাবে ভেসে জলে।
‘হিন্দি- হিন্দু- হিন্দুস্তান’ এই কৌশলে।
পেটে- পেটে শাসকের এই হল আশা,
সব ভাষা ছেড়ে তাই চাই ‘এক’ ভাষা।
হিন্দির বিস্তার এর মূল লক্ষ্য,
ইংরেজি বিরোধিতা এ তো উপলক্ষ।
একতার নামে এই মুচমুচে ধোঁকা
খাবে না তো কেউ আজ নয় এত বোকা।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
একতার নামে কবি সুব্রত দেব
রচনা - ২৮ জুন ২০২৫
বাংলাভাষা বললে নাকি
‘বাংলাদেশি’!
এই বলে তো পুলিশ এসে
দেখায় পেশি!
বাহুবলী রে রে করে
আসে তেড়ে!
তাদের নাকি যেতেই হবে
ভারত ছেড়ে!
বাংলাভাষী পরিযায়ী
কাঁপেন ভয়ে!
জেলে তাদের হচ্ছে যেতে
শ’য়ে শ’য়ে!
‘ভারতীয়’র প্রমাণপত্র
আছে হাতে,
তবু এমন হেনস্থা আজ
উড়িষ্যাতে!
আসামেও হচ্ছে এসব
কে না জানে !
আর যেখানে এই দলটি
সিংহাসনে।
ঃঃঃঃঃঃঃঃ
বাংলাভাষা বললে কবি সুব্রত দেব
রচনা - ১১ জুলাই ২০২৫
তিন ভাষা বাদে উনিশ ভাষার দশটা এমন বাক্য শেখানো বই,
সিলেবাসে যোগ করা যদি যায়, ফাইভের থেকে টেনে,
হয়তো তাহলে আর ঘটবে না ভাষা নিয়ে হইচই,
উপরি পাওনা,
প্রতিটি প্রদেশে ছোটো থেকে শিশু ভারতকে তবে চেনে।
বিবিধের মাঝে শেখাবে মিলন সে একশো নব্বই,
কিন্তু ভাগেই যারা লাভবান, তারা কি নেবে তা মেনে?
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
মারাঠি চাইছে মহারাষ্ট্র,
কর্নাটকের দাবী কন্নড়, জেগে উঠছে তমীঢ় আর তেলুগু-পন্থীরাও,
সকলেরই দাবী এক.. থাকতে চাইলে ভাষাখানা শিখে নাও।
অবস্থা এমনই আজ , বাইশটা স্বীকৃত ভাষার
বাকিরাও বাধ্য হবে ধরতে সে পথ,
গুজরাটিকে মহারাষ্ট্রে মারাঠি বলতে হলে,
গুজরাটের মারাঠিদের গুজরাটি বলার পক্ষে হবে জনমত,
কলকাতার কান্নাডিগাকে কোনো না কোনো বাঙালি জোর করবে বাংলা বলতে,
বোমগুলো বাঁধা হয়ে গেছে,
তুচ্ছ কোনো চকমকি ঘটনায় দুম করে ধরে যাবে সলতে।
অথচ ভাবতে গেলে, ভাষা-পন্থীরাও পুরোপুরি নন অযৌক্তিক,
ভাষাই তো কথোপকথনের আঞ্চলিক বাহন,
না শিখলে বাধ্যবাধক হতে হয় অসামাজিক,
নিজের ভাষাভাষীর সাথে ঘেঁষাঘেষি করে ঘেটো বানিয়ে থাকেন যে সব অন্য-
অঞ্চলবাসী,
তাঁরাই বা কেন বোঝেন না,
রোজকার জীবন ছোঁয়া মানুষগুলো মাতৃভাষার শ্রবণ-প্রত্যাশী?
একশো নব্বই কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৯ই জুলাই ২০২৫।
তবুও কাঁটাতার আর পরিখাগুলো একবার তৈরী হলে,
সেটা বাইশে থামবে না , আরো আরো আরো
বিভাজন হয়ে যাবে তার
ভারতে মাতৃভাষার সংখ্যা সাড়ে উনিশ হাজার,
একবার স্রোত এলে সে বান সামলাতে দেশ হবে জেরবার,
হিন্দি আগ্রাসনের মতো এটাকেও থামানো নিতান্ত দরকার।
তাহলে উপায়? ইংরাজি হিন্দি ও মাতৃভাষার সাথে আরো
ভাষা করা যোগ?
ফোর্থ ফিফথ করে কতগুলো ভাষা শেখালে কাটবে
এই প্রাদেশিক পরিখার দুর্ভোগ ?
শেখাবেও যদি, কোনটা শেখাবে, কোনটা ছাড়বে
সেটা স্থির করে দেবে কে?
‘বিবিধের মাঝে মিলন মহান’
সে কবি এখন রোজ গালি খান,
সেখানে সবার হৃদয়ে কে দেবে দেশ বলে ছবি এঁকে?
ভেবে দেখো তুমি, যে কোনো ভাষায় ঠিক কী কী কথা হয়..
এই আমার নাম, কী তোমার নাম , সেইভাবে পরিচয়।
এ জায়গা যাওয়া যাবে কোনভাবে , ভাড়া ও দামটা কত,
আঞ্চলিকেই না জানলে সেটা খেতে হবে থতমত।
এরকমই আরো দশ বা বারোটা প্রশ্ন ও উত্তরে,
মানুষ এবং মানুষের মাঝে আলাপেরা ঘোরে ফেরে।
দেশব্যাপী আক্রান্ত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের দল ।
না,কেন্দ্র,না,রাজ্য সরকার কেউ পাশে নেই
আক্রমণের তীব্রতা প্রতিদিন বাড়ে বিদ্যুৎ গতিতে
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে
বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।
কারও ঠাঁই হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্পে বা জেলে
কাউকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে পদ্মা পার করে দেওয়া হচ্ছে -
ইংরেজিতে বলছে পুশব্যাক।
ভারতের নাগরিকত্বের বৈধ কাগজ পত্র থাকলেও
ঘটছে এই হৃদয় বিদারক ঘটনা।
দুই মুঠো অন্ন ও পরিধেয় র জন্য যাদের গৃহ ত্যাগ -
যারা রাস্তা, ব্রিজ, রেললাইন পাতার কাজ করে
যারা সুরম্য বাড়িঘর,উদ্যান,গবেষণাগার বানিয়ে সুন্দর করে সাজায় শহরের পর শহর,
কলে কারখানায় সস্তায় শ্রমকে বিক্রি করে দেশের জিডিপিকে বাড়িয়ে চলে,
সভ্যতার প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করে যারা -
যারা সভ্যতার পিলসুজ -
তারাই আজ আক্রান্ত!
কোথাও বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য আক্রান্ত
কোথাও সংখ্যা লঘু মুসলমান হবার জন্য আক্রান্ত
মানবতা আজ লাঞ্ছিত অপমানিত!
পরিযায়ী শ্রমিক কবি উজ্জ্বল কান্তি দে
কান্দি,মুর্শিদাবাদ, রচনা ২০ জুলাই ২০২৫। নেট থেকে পাওয়া।
এ লজ্জা বাংলার ,এ লজ্জা সমগ্র বাঙালির
এ লজ্জা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের মডেল ভারতের।
এসো ,যুথবদ্ধ হই -
এসো,জীবনের গান গাই
এসো,মানুষকে ভাগ করার,
প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতার টুঁটি টিপে ধরি,
ভারতের মহান সংবিধানকে রক্ষা করি।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
দেশটা আমার বাংলা ভাষা,
আঘাত কেন এত নির্লজ্জভাবে আসে?
বাঙালির গর্ব, রক্তে লেখা,
বিভাজনের পথ কেউ কেন রাখে খোলা?
নামে ধর্ম, বর্ণের ভোলে,
ভাগ করো না বাঙালিকে দলে দলে।
একই মাটির সন্তান সকল,
ভেদাভেদে পোড়ে হৃদয়, মরে বল।
প্রশাসনের ছত্রছায়ায়,
চুপ কেন শিল্পী, কবি, রায়?
উঠুক আজ কলম বিদ্রোহে,
ভাঙুক শিকল জাতিগত বোঝে।
আমরা বাঙালি, গর্বের নাম,
ভাগ করো না বিভেদের কাম।
সাম্প্রদায়িক বিষাক্ত বাণী,
নির্মূল করো আজই, হোক বাণী।
রক্ত ঝরেছে ভাষার জন্য,
ভুলে যাবে কি সেই ইতিহাস অন্তর?
এখনো সময়, জেগে উঠো,
বাংলার নামে দাঁড়াও শক্ত।
দেশ জুড়ে বঙ্গবিরোধী চক্রান্তে প্রতিবাদ কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা ২৪ জুলাই ২০২৫। কবির হোয়াটসঅযাপ - +৯১ ৬২৯৫১৮১৫৯৯
যে বাঙালী স্বাধীনতা আনলো সবার দোর,
মৃত্যু বরণ সবার আগে,
মূল্য দিয়ে বাংলা ভাগে,
তারাই নাকি আজ ভারতে “ঘুসপৈঠী” চোর?
ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।
ছাই-চাপা যে আগুন আছে, বুকের ভিতর তোর,
দাবানলে উস্ কে দে তা,
তুই ক্ষেপেছিস, বুঝিয়ে দে তা,
ভাল মানুষ হলেও আছে বিরুদ্ধতার জোর।
ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।
গা ঝাড়া দিয়ে লাফিয়ে উঠে কণ্ঠ ছাড়্ রে জোর।
ভীড় করে সব নাম্ রে পথে,
ঘুমিয়ে যে জন ডাক্ রে সাথে,
বিদ্বেষীরা বলছে এবার কাড়বে এ দেশ তোর।
ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।
“ঘুসপৈঠী” বাঙালী দুষ্ট কবি
রচনা ২৮ নভেম্বর ২০১৯। হোয়াটসঅযাপ - +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭
বৌদ্ধ খৃষ্ট মুসলমানী হিন্দু ঘোর-অঘোর
বাংলা ভাষাই জুড়ছে তোদের,
সেই কারণেই কাড়ছে রে ফের,
জমি-জমা-ভিটে-মাটি-স্বদেশ-জীবন তোর।
ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।
বাংলা মায়ের দুর্দিনে আজ, এই অপমান ঘোর।
কে ঘোচাবে মায়ের এ হাল?
কে ঠেকাবে দেশ-কাড়া চাল?
দুষ্টকবি সুধায় --- কই রে তেমন নেতা তোর?
ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
প্রতিদিন কেউ না কেউ দেয় কিছু প্রশ্নকে ছুঁড়ে
কোমলবচনে নয়, ভয়ানক হুমকির সুরে
বল কে তোর ঈশ্বর অথবা কী তোর মাতৃভাষা,
রোজ কেউ না কেউ এসে করে জিজ্ঞাসা
নথি বের করে দেখা জন্মের কালে ছিলি কোন দেশে তুই,
রুটি দেওয়া চেনা মাটি হঠাৎ লাগতে থাকে বিদেশ বিভুঁই।
উত্তর মনোমত না হলে, রাষ্ট্রটি যার হাতে ধৃত,
সে চেনা মন্দ্রস্বর বেজে ওঠে অন্ধ আঘাতে,
‘গলত জবাব! আঙুল বেঁকিয়ে উঠে এসেছে এ ঘৃত,
মূল উপকরণটি পেয়ে গেছি হাতে,
জরুরি যা দেশপ্রেম বটিকা বানাতে ‘
তুই তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া আর কিছু নোস,
তবুও নিজেকে করা দেশী বলে দাবী,
এতটা সাহস! ‘
কাঁপতে কাঁপতে বলি ‘হুজুর মা বাপ,
ধর্ম ভাষার দোষ করে দিন মাফ,
আজন্ম এইখানে
আর কোনো ভূমি দেশ বলে চিনি না যে..
অমনি ধমক আসে ‘রাখ কথা বাজে,
সত্যি তা যদি হয় কই তার নথি?
প্রশ্নোত্তর কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১৮ই জুলাই ২০২৫।
ছবিওলা কিছু কার্ড, পরিচয় বলে যারা পাওয়া সম্প্রতি,
সেসব দেখাই..
ভাষা বা ধর্ম কিছু এতে তো লেখা না কিছু রাজামশাই,
এই ভূমি বাপ-পিতেমো’র ঘর,
এইখানে জন্ম-শেকড়..
রাষ্ট-ধৃতটি বেশ চিবিয়ে জবাব দেন,
কোন নথি মানা হবে , সেটা নির্ভর করে আমার ওপর।
বুঝে যাই ,
মূল থেকে যার থাকে ভুল ভাষা, ভুল ঈশ্বর,
দেশ বলে কিছু নেই তার।
যাবতীয় নথি স্রেফ কালি’র আঁচড়।
একই চাঁদ ওঠে রাশ-পূর্ণিমায়
একই চাঁদ ওঠে ঈদে
একই সে বেদনা মাথা কুটে মরে
মন্দিরে, মসজিদে
একই সে মানুষ –
ভাঙা-চোরা মুখ
একই সে মানুষ –
বেঁকে যাওয়া, ন্যুব্জ
একই আকাশের নিচে আমাদের
জঠরের একই খিদে
কেন অকারণ কেন এ মারণ
কেন এ মরণখেলা
হাসে যুদ্ধের ফেরিওয়ালা
হাসে মৃত্যুর ফেরিওয়ালা
একই সে মানুষ –
একই প্রাণ-মন
একই সে মানুষ –
একই নিপীড়ন
একই গান বাঁধে বাউল ফকির
দরবেশ মুরশিদে
একই চাঁদ ওঠে কবি বিপুল চক্রবর্তী
২০০০ সালে প্রকাশিত "এলোমেলো বৃষ্টি" ক্যাসেটের গান।
একই চাঁদ ওঠে রাশ-পূর্ণিমায়
একই চাঁদ ওঠে ঈদে
একই সে বেদনা মাথা কুটে মরে
মন্দিরে, মসজিদে
ঃঃঃঃঃঃঃঃ
আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই,
আমি আমার আমিকে চিরদিন এই বাংলায় খুঁজে পাই
আমি বাংলায় দেখি স্বপ্ন, আমি বাংলায় বাঁধি সুর
আমি এই বাংলার মায়াভরা পথে হেঁটেছি এতটা দূর
বাংলা আমার জীবনানন্দ বাংলা প্রাণের সুখ
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।
আমি বাংলায় কথা কই, আমি বাংলার কথা কই
আমি বাংলায় ভাসি, বাংলায় হাসি, বাংলায় জেগে রই
আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
আমি সব দেখে শুনে ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিত্কার
বাংলা আমার দৃপ্ত স্লোগান ক্ষিপ্ত তীর ধনুক,
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।
আমি বাংলায় ভালবাসি, আমি বাংলাকে ভালবাসি
আমি তারি হাত ধরে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে আসি
আমি যা'কিছু মহান বরণ করেছি বিনম্র শ্রদ্ধায়
মেশে তেরো নদী সাত সাগরের জল গঙ্গায় পদ্মায়
বাংলা আমার তৃষ্ণার জল তৃপ্ত শেষ চুমুক
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।
আমি বাংলায় গান গাই কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায় (২৫.৬.১৯৪২ – ১৫.২.২০২৫)
আগুন নিয়ে খেলতে গেলে হাত পুড়বেই শেষে
মজা দেখার মেলায় গিয়ে বিষাক্ত নিশ্বাসে
জ্বলবে বপু প্রলয় শিখায়। খেলার শেষে নতুন খেলা
শুরু হবে দিনের শেষে জেগে ওঠার অবহেলায়
পড়ে থাকা, মার খেয়ে দিন মাস বছরের বদলা নিতে
জাগবে যখন ছাই মাখা সেই নটরাজের নেত্য গীতে
উথাল পাতাল আকাশ বাতাস বাংলা আমার জন্ম ভিটে
জাতিদ্বেষী বর্ণদ্বেষী নরকবাসী ক্রিমিকীটের
নিপাত করার দিন আসছে ঘুমের শেষে জাগরণের স্তুতি
এবার তুমি দেখবে শুরু স্বদেশ জুড়ে দাবানলের অভিন্ন প্রস্তুতি…
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
দাবানল, জ্বলুক দাবানল কবি অশোক চট্টোপাধ্যায়
রচনা ১৫ই জুলাই ২০২৫।
মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মোসলমান। মুসলিম তার নয়ণ-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ॥ এক সে আকাশ মায়ের কোলে যেন রবি শশী দোলে, এক রক্ত বুকের তলে, এক সে নাড়ির টান॥ এক সে দেশের খাই গো হাওয়া, এক সে দেশের জল, এক সে মায়ের বক্ষে ফলে একই ফুল ও ফল। এক সে দেশের মাটিতে পাই কেউ গোরে কেউ শ্মশানে ঠাঁই, মোরা এক ভাষাতে মাকে ডাকি, এক সুরে গাই গান॥ চিনতে নেরে আঁধার রাতে করি মোরা হানাহানি, সকাল হলে হবে রে ভাই ভায়ে ভায়ে জানাজানি। কাঁদব তখন গলা ধরে, চাইব ক্ষমা পরস্পরে, হাসবে সেদিন গরব ভরে এই হিন্দুস্থান॥
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
|
মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মোসলমান
কবি কাজী নজরুল ইসলাম (২৫.৫.১৮৮৯ – ২৯.৮.১৯৭৬)
মোদের গরব, মোদের আশ, আ মরি বাঙ্গলা ভাষা! তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালবাসা !
কি যাদু বাঙ্গলা গানে! গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে! ( এমন কোথা আর আছে গো! ) গেয়ে গান নাচে বাউল, গান গেয়ে ধান কাটে চাষা।
এ ভাষাতেই নিতাই গোরা, আন্ ল দেশে ভক্তিধারা ( মরি হায়, হায় রে! ) আছে কৈ এমন ভাষা এমন দুঃখ-শ্রান্তিনাশা।
বিদ্যাপতি, চণ্ডি, গোবিন, হেম, মধু বঙ্কিম, নবীন ; ( আরও কত মধুপ গো! ) ঐ ফুলেরই মধুর রসে বাঁধ্ল সুখে মধুর বাসা!
বাজিয়ে রবি তোমার বীণে, আন্ ল মালা জগৎ জিনে! ( গরব কোথায় রাখি গো! ) তোমার চরণ-তীর্থে আজি জগত করে যাওয়া-আসা।
ঐ ভাষাতেই প্রথম বোলে, ডাক্ নু মায়ে 'মা, মা’ বলে ; ঐ ভাষাতেই বল্ ব ‘হরি’ সাঙ্গ হলে কাঁদা-হাসা! ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
|
মোদের গরব, মোদের আশা
কবি অতুলপ্রসাদ সেন ২০. ১০. ১৮৭১ ~ ২৬. ০৮. ১৯৩৪।
কবির “কয়েকটি গান” গীতিগ্রন্থের, “স্বদেশ” পর্বের গান।
আয় ছুটে ভাই, হিন্দু-মুসলমান!
ঐ দেখ ঝ'র্ ছে মায়ের দু-নয়ান।
আজ, এক ক'রে সে সন্ধ্যা-নমাজ,
মিশিয়ে দে আজ, বেদ-কোরাণ !
(জাতিধর্ম্ম ভুলে গিয়ে রে) (হিংসাবিদ্বেষ ভুলে গিয়ে রে)
থাকি একই মায়ের কোলে, করি
একই মায়ের স্তন্যপান।
(এক মায়ের কোলে জুড়ে আছি রে) (এক মায়ের দুধ খেয়ে বাঁচি রে)
আমরা পাশাপাশি, প্রতিবাসী,
দুই গোলারি একই ধান।
(একই ক্ষেতে সে ধান ফলে রে) (একই ভাতে একই রক্ত বয়ে যায়)
এক ভাই না খেতে পেলে,
কাঁদে না কোন্ ভায়ের প্রাণ?
(এমন পাষাণ কেবা আছে রে) (এমন কঠিন কেবা আছে রে)
বিলেত ভারত দু'টো বটে, দুয়েরি এক ভগবান্।
(দুই চ'খে যে দু'দেশ দেখে না) (তার কাছে তো সবাই সমান রে)
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
মিলন
কবি রজনীকান্ত সেন (২৬. ৭. ১৮৬৫ ~ ১৩. ৯. ১৯১০)
১৯০২ সালে প্রকাশিত কবির "বাণী" কাব্যগ্রন্থের, আলাপে পর্বের গান।
বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল
পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান॥
বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ
পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক হে ভগবান॥
বাঙালির পণ, বাঙালির আশা, বাঙালির কাজ, বাঙালির ভাষা
সত্য হউক, সত্য হউক, সত্য হউক হে ভগবান॥
বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন
এক হউক, এক হউক, এক হউক হে ভগবান॥
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
বাংলার মাটি, বাংলার জল
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭. ৫. ১৮৬১ ~ ৭. ৮. ১৯৪১)
১৯০৫ সালের অবিভক্ত বাংলায়, "বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ আন্দোলন" কে সমর্থন করে লেখা গান।
বঙ্গ আমার, জননী আমার, ধাত্রী আমার, আমার দেশ !
কেন গো মা তোর শুষ্ক নয়ন, কেন গো মা তোর রুক্ষ কেশ!
কেন গো মা তোর ধূলায় আসন,
কেন গো মা তোর মলিন বেশ!
সপ্তকোটি সন্তান যার ডাকে উচ্চে ‘আমার দেশ’ !
(কোরাস) কিসের দুঃখ, কিসের দৈন্য, কিসের লজ্জা, কিসের ক্লেশ,
সপ্তকোটি মিলিত কণ্ঠে ডাকে উচ্চে 'আমার দেশ’।
উদিল যেখানে বুদ্ধ আত্মা মুক্ত করিতে মোক্ষ-দ্বার,
আজিও জুড়িয়া অর্ধ জগৎ ভক্তি প্রণত চরণে যাঁর।
অশোক যাহার কীর্তি ছাইল গান্ধার হ'তে জলধি শেষ,
তুই কি না মাগো তাদের জননী,
তুই কি না মাগো তাদের দেশ!
(কোরাস) কিসের দুঃখ---ইত্যাদি।
একদা যাহার বিজয় সেনানী হেলায় লঙ্কা করিল জয়,
একদা যাহার অর্ণবপোত ভ্রমিল ভারত সাগরময়,
সন্তান যার তিব্বত চীন জাপানে গঠিল উপনিবেশ,
তার কিনা এই ধূলায় আসন, তার কিনা এই ছিন্ন বেশ !
(কোরাস) কিসের দুঃখ---ইত্যাদি।
বঙ্গ আমার, জননী আমার কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৯.৭.১৮৬৩ - ১৭.৫.১৯১৩)
১৯০২ সালে প্রকাশিত, কবির “মন্দ্র” কাব্যসংকলনের কবিতা।
উঠিল যেখানে মুরজ মন্দ্রে নিমাই-কণ্ঠে মধুর তান,
ন্যায়ের বিধান দিল রঘুমণি, চণ্ডিদাস গাহিল গান।
যুদ্ধ করিল প্রতাপাদিত্য তুই তো না সেই ধন্য দেশ।
ধন্য আমরা যদি এ শিরায় থাকে তাঁদের রক্ত লেশ।
(কোরাস) কিসের দুঃখ---ইত্যাদি।
যদিও মা তোর দিব্য আলোকে
ঘেরে আছে আজি আঁধার ঘোর,
কেটে যাবে মেঘ, নবীন গরিমা, ভাতিবে আবার ললাটে তোর।
আমরা ঘুচাব মা তোর কালিমা, মানুষ আমরা নহি তো মেষ !
দেবী আমার, সাধনা আমার, স্বর্গ আমার, আমার দেশ।
(কোরাস) কিসের দুঃখ---ইত্যাদি।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
ভিনরাজ্যে
বাঙালি বিতাড়ণের
বিরুদ্ধে প্রতিবাদী
কবিতা >>>>>
আমি বাংলা বলি দাদা,
আমার ঠিকানা নয় ধাঁধা
আমি বঙ্গ-অধিবাসী,
বাপ মালদা জেলার চাষী,
কিংবা শ্রমিক দিনাজপুরে ,
আমার বাড়ির থেকে দূরে,
এক ভিন্ন -প্রদেশ থাকা,
আমার পাকস্থলী ফাঁকা,
আমার খুব জরুরি টাকা,
ঘরে বন্ধ কলের চাকা,
কেবল অনুদানে বাঁচা,
তাই পাশের বাড়ি চাচা,
আমায় নিয়ে এলো সাথে,
কাজে ভাত পড়ে আজ পাতে।
আমি বাংলা বলি দাদা কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৬ জুলাই ২০২৫।
আমি কাজ করি অস্থায়ী,
নিজের দেশেই পরিযায়ী,
আমার নথি আছে সবই,
ভোটার কার্ডে নাম ও ছবি
আর বাদবাকি হয় যা যা,
তবু শুনছি সেসব বাঁজা,
ওদের কাজ হয়েছে খোঁজা,
কাদের রমজানে হয় রোজা,
কাদের আল্লাহ ওপরওয়ালা,
আবার বাংলা বলে শালা,
কাজেই বাংলাদেশী ব্যাটা,
তবু কেমন দেখো ঠ্যাঁটা,
নথি সব করেছে জাল,
হটা হটা এ জঞ্জাল,
ওকে সীমানা পার কর,
ওর পাশের দেশে ঘর।
আমি বাংলা বলি দাদা,
আমার জন্ম শেকড় বাঁধা,
এই দেশ ভারতের সাথে,
আমি ভাত পেতে চাই পাতে
তাই ভিন-প্রদেশে আসা,
আমার এই শুধু জিজ্ঞাসা,
কেন ওপার ফেলেন ছুঁড়ে,
নিজের দেশের থেকে দূরে,
যদি ওদেশ থেকে লোকে,
এত পিলপিলিয়ে ঢোকে,
সে দোষটা তবে কার,
সীমার যারা নজরদার
তাদের শাস্তি কেন নয়,
কেবল বাংলা বলায় ভয়,
যারা জাল করে সব নথি,
কেউ গ্রেপ্তার সম্প্রতি
এমন খবর তো নেই জানা..
তাদের ফুড়ুৎ হওয়ার ডানা
তাতে বাতাস জোগায় যারা,
বেশ তোফায় বাঁচে তারা।
আমার ঠিকানা জেলখানা,
আমার বাংলা বলায় মানা,
আমার শেকড়ে আজ হানা,
আমার নথিরা সব কানা
কারণ একটুও না ধাঁধা,
আমরা প্রদেশ ছাড়া হাঁদা,
তাই সহজ গায়ে কাদা,
নেই পার করাতে বাধা..
আমি বাংলা বলি দাদা ,
আমি ভোট-বিভাজন গাধা...
ঃঃঃঃঃঃঃঃ
মূলে ফিরে এসো এইবারে। একবার একসাথে লড়ি
ওখানে কাজ আছে মান নেই, এখানে উল্টো ঠিক,
রোজগার খাড়া বড়ি থোড় থেকে থোড় খাড়া বড়ি,
তবুও ফেরত এসো। অন্তত এইখানে তুমি নাগরিক।
দেশটা ধর্মশালা কোন শালা বলে! বিদেশী অবাঞ্ছিত,
আপনি পাইনা শুতে , কেন বা শঙ্করাকে দেবো ডাক,
তবু ঠিক নাগরিককে বিদেশি দাগানো হলে শাস্তিরহিত,
তাও ঘোর অন্যায় । ভুল বুকে কেন হবে বন্দুক তাক?
এদিকে বাংলাভূমি কাজহীন, বাঁজা। কারখানা ভরা আগাছায়
যে কটি রয়েছে কাজ পার্টির দাদা আর চাঁদা নির্ভর,
লাল , সাদা নীল পরে হয়তো গেরুয়া,
কী রং রাজার তাতে কার আসে যায়,
এখানে শুকিয়ে গেছে যোগ্যতা মেধা। চাকরির ভিত গড়া ঘুষের ওপর।
তোমার ক্ষমতা নেই জানি । সংসারে হালে নেই পানি,
নয়তো কে খামোখা খাটতে যেতো বিদেশ বিভুঁই, অবাংলা-প্রদেশে?
অশন-বসন-ভাষা আলাদা সেখানে, গালি সয়ে তাও টেনে যেতে হয় ঘানি,
শেকড়ে যে রস নেই, ঘর ভেসে গেলে কে বা ডাকে ভালোবেসে!
মূলে ফেরো কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৮ জুলাই ২০২৫।
এই সব গায়ে নিয়ে কাজ করা যেতো, বাঙালির সাথে তুমি ভারতীয় বটে,
সংবিধানের মতে গোটা দেশে কাজ আর বসবাস করতেই পারো,
তবে যারা গদিধারী, সে বই পড়ে না তারা। কোনো বিভাজনে পেলে ফুটেজ ফোকটে,
সেইমতো কাজ করে, ধর্ম প্রদেশ ভাষা..
কত কী যে আরো!
আপাতত তুমি টার্গেট।
গোটা দেশে বেড়েছে বেকার,যুবদের চাকরি উধাও,
দেড়শো কোটির ভিড়ে বাংলাদেশীর ভিড় অত নয় কিছু আহামরি,
যাতে এত কাজ যেতে পারে।
কার দোষে তারা এই দেশে, চিৎকারে ঢাকা পড়ে উত্তরটাও,
যত ভিত নড়ে তত মারা ভোটে দাঁও,
তাই হয়ে নাগরিক ঠিক তাও কাঁপো থরহরি।
তুমি ভুল নও ওহে পরিযায়ী বাঙালী,
তবুও চোখ-শূল কেন বোঝো আশা করি,
নজর ঘোরাতে হবে আজ যেন তেন।
হতমানে ওইখানে আর থাকা কেন,
ফিরে এসো মূলে।
এসো একসাথে লড়ি,
পুরনো দিনের মতো বাংলার নাম নিয়ে ,
দরকারে এসো আজ একসাথে মরি।
যে বাংলা মুছে গেছে নানা তেল-রঙে,
এ সুযোগে সেই মা’কে পুনরায় গড়ি।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
নদীর ভাষা কলধ্বনি, পাখির ভাষা শিস
পরিযায়ীর মুখের ভাষায় চাবুক অহর্নিশ
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
নদীর ভাষা কলধ্বনি, পাখির ভাষা শিস
কবি প্রসুন ভৌমিক। রচনা ২৮ জুলাই ২০২৫।
আজ তুমি ভাবো অপ্রতিরোধ্য তুমি
কাল ভেসে যাবে কোটি জনতার ঝড়ে
আজ তুমি যত চাবুক মারছ মারো
কাল তুমি একা অন্ধ কুঠুরী ঘরে
আজ যত তুমি পাপের কলস ভরো
যত তুমি রোজ বিক্রি করেছ দেশ
যত প্রতিদিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
নিয়তি লিখনে হারবেই বিদ্বেষ
আজ তুমি যত ঘৃণা-মন্দির গড়
আজ তুমি যত অপমান অনাচার
নিঃশেষ হবে, মাটি কাঁপে থরোথরো
ইতিহাসে তা-ই ঘটেছে বারংবার
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
নিয়তি কবি প্রসুন ভৌমিক। ২০২৪ এর লোক সভা নির্বাচনের সময়ে
রচিত কবিতা। সুর ও কণ্ঠ শিল্পী সৈকত মিত্র। YouTube এ শুনতে . . .
বাংলা কথা শুনলে পরেই
হা রে রে রে রে রে!
‘ডাবল ইঞ্জিন’ যে যেখানে
আসে দেখি তেড়ে!
‘একটি ঢিলে দুইটি পাখি
হবেই এতে বধ’,
এইটা ভেবে সনাতনী
খুশিতে গদগদ!
‘বাংলাভাষী মাত্রেই তো
বাংলাদেশী হয়’
এই কথাটা রটান প্রধান
কর্তা মহাশয়।
বাংলাভাষীজনের যে রে
শিরদাঁড়াটা সোজা,
তাইতো তারা তাদের কাছে
সম্পদ নয়, বোঝা।
বাংলাদেশি কবি সুব্রত দেব
রচনা - ১৮ জুলাই ২০২৫
পরিযায়ী বাঙালি তাই
শিকার হেনস্থার,
মুসলিম সে হয় যদি তো
দু’য়ে দু’য়ে চার।
পত্রপাঠ ভারতছাড়া
গলাধাক্কা দিয়ে,
হিন্দুরাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন
ভাজেন গব্য ঘিয়ে।
এ- স্বপ্ন যে দিবাস্বপ্ন
তবেই হবে হুঁশ,
বাংলাভাষী এক হয়ে সব
করেন যদি ফোঁস।
ঃঃঃঃঃঃঃঃ
সকল কথা হোক বলা
সকল কথা হোক শোনা
আমরা চাই আকাশ-মাটি—
গান বোনা, ধান বোনা
গান বোনা আর ধান বোনা
এ শর্ত যে মানতে নারাজ
আমরা তাকে মানব না .
যে জন আছে পুবদিকে আর
যে জন আছে পশ্চিমে
তাদের মতো থাকুক তারা
সঙ্গে তাদের বসছিনে
তাদের আকাশ তাদের দিক
সূর্য-সোনা, চাঁদ-সোনা
আমরা চাই আকাশ-মাটি—
গান বোনা, ধান বোনা
গান বোনা আর ধান বোনা...
সকল কথা হোক বলা কথা ও সুর: বিপুল চক্রবর্তী কণ্ঠ: অনুশ্রী চক্রবর্তী ও বিপুল চক্রবর্তী।
আমরা অতি সামান্য
আমরা অতি সামান্য
তবু বাঁচি, আমরা বাঁচি
জীবনই তার প্রামাণ্য
যে জন আছে উত্তরে আর
যে জন আছে দক্ষিণে
তাদের মতো থাকুক তারা
তাতেও কোন ঝক্কি নেই
তারায় তারায় আঁকুক তারা
আকাশ-ভরা আল্পনা
আমরা চাই আকাশ-মাটি—
গান বোনা, ধান বোনা
গান বোনা আর ধান বোনা...
ঃঃঃঃঃঃঃঃ
দেশ, নেশন, সংবিধান
ওসব জেনে কী হবে!
সরকার ই জানে না সব
স্বয়ংসেবক সব জানেন।
চন্দ্র যাঁহার চূড়ায় থাকেন
তেনার গলায় সাপ দোলে
হামলে পড়ে কামড়ে দেবে
‘মিথ্যে অমন ভয় পেলে’।
ঃঃঃঃঃঃঃঃ
অভুক্ত মোর শরীর জুড়ে
যখন কেবল খিদে,
তুমি আমায় ব্যাস্ত রাখো
মন্দির - মসজিদে।
চাকরি চেয়ে যখন আমি
উঁচিয়ে কথা কই,
তখন আমি রাষ্ট্র বিহীন
ডিটেনশনে রই।
ঃঃঃঃঃঃঃ
অভুক্ত মোর শরীর জুড়ে অজ্ঞাত কবি
কবিতাটি ইনটানেটে ঘুরছে দীর্ঘকাল ধরে। আমরা UCRC (The United
Central Refugee Council), ভারতের রিফিউজিদের অধিকার নিয়ে
কাজ করা সংস্থা এবং জানুয়ারী ২০২০ তে প্রকাশিত বাঁকুড়ার CPIM
এর ফেসবুক পোস্ট থেকে পেয়েছি। কিন্তু কবির নাম পাইনি।
হাতিটাকে কেউ দেখতে পাচ্ছে না।
একটা ঠাসাঠাসি ভিড় ঘরে হাতিটা ঘুরে বেড়াচ্ছে,
নিয়মিত শুঁড়ের আঘাতে তছনছ করে দিচ্ছে স্বপ্ন,
পায়ের নিচে পিষে দিচ্ছে আশা,
কাটা কলাগাছের মতো খেয়ে ফেলছে ভবিষ্যৎ,
তবু, হাতিটাকে কেউ দেখতে পাচ্ছে না।
অথচ , হাতিটা রয়েছে, সেটা সবাই জানে।
রাজা জানেন, প্রজারা জানে,
যারা এদেশীয় প্রজার শেকড় উপড়ে অন্য দেশে গাছ হয়েছে,
আর অন্য দেশের বেনোজলে ভেসে এই দেশে আগাছা,
তারাও সবাই জানে,
হাতিটা ঘুরে বেড়াচ্ছে চারপাশে,
কখনো শুঁড়ে পেঁচিয়ে,
কখনো পায়ে পিষে,
কখনো বা স্রেফ ওজন দিয়ে ভেঙেচুরে দিচ্ছে ঘরটার বাসিন্দাদের।
রাজা বললেন, আগের রাজার ভুলে হাতিটা
এমন বেয়াড়া হয়েছে,
একটু যুদ্ধ আর কয়েকটা বিগ্রহ ,
তাহলেই হাতিটা ধরা পড়ে যাবে।
যুদ্ধ হলো .. খুউব জবর জং।
হাতি কবি আর্যতীর্থ । রচনা ৩১ জুলাই ২০২৫। The elephant in
the room.. পাশের ছবি চ্যাটজিপিটি দিয়ে করেছেন কবি।
ওরই মধ্যে হাতিটা ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে।
সেই মতো ধরপাকড় চললো,
কটা দিনমজুর,
ঠিকে কাজের লোক,
ছোটো রেঁস্তোরার ওয়েটার
আর পরিযায়ী কিছু গাছ,
যাদের আগাছা’র মতোই দেখতে,
সব দেশ থেকে ডাম্পারে তুলে সীমানার ওপারে
ছুঁড়ে ফেলা হলো।
যদিও আগাছাগুলোর’র মালি আর সারজল-
বিক্রেতাদের ধরা হলো না,
তবুও খুব একটা ধুন্দুমার হলো।
কিন্তু হাতিটাকে কেউ দেখতে পেলো না,
শুঁড়ে উন্নয়ন উপড়ে ফেলে,
ল্যাজের ঝাপটায় খিদে-সূচক বাড়িয়ে,
পা দিয়ে পার-ক্যাপিটা ইনকাম মাড়িয়ে
হাতিটা জানান দিতে লাগলো সে আছে।
সেনাপতি বললেন,
মহারাজ , জি ডি পি’র ভেরীটা বাজালে সেই ডাকে
হাতিটা কাছে চলে আসবে,
তখন নাহয় বেঁধে ফেলা যাবে।
সেই মতো দেশের দুই প্রধান শ্রেষ্ঠী বিশাল
বিশাল সোনার ভেঁপু বাজালেন,
স্বর্গ থেকে পুষ্পবৃষ্টি হবে,
সেরকমই খবর ছিলো সোশ্যাল মিডিয়ায়,
কিন্তু হঠাৎই শোনা গেলো আবার তীব্র বৃংহণ..
সেই আওয়াজে আমরা ওরা করতে করতে
বেশ কিছু মানুষ রক্তের জন্য পাগল হয়ে গেলো,
কে একটা খুব হাসতে হাসতে বলে উঠলো
‘ প্রতি ঘন্টায় ধর্ষণের সংখ্যা একটুও কমেনি, জানো,
পথ দুর্ঘটনায় মৃত’র সংখ্যাও দিন দিন বেড়েই চলেছে..’
ভিড়ের মধ্য থেকে ক্ষীণজীবী একটা গলা বলে উঠলো
‘ সরকারি স্কুল কিন্তু কমে গেছে প্রায় নব্বই হাজার’।
এই সব ঝুটঝামেলার মধ্যেখানে,
কখনো জলজ্যান্ত অরণ্য চলে গেলো প্রাইভেট কারখানার
দখলে,
কখনো আইন আর নিরাপত্তার ব্যানারে যাদের কিছু নেই
তাদের সব কেড়ে নেওয়া হলো,
কখনো আবার রাজার পোঁ না ধরা মানুষের বাড়ি ভেঙে
দিয়ে গেলো বুলডোজার,
আর দেশময় নিয়মিত প্রচার হতে থাকলো
‘ এই হাতি ধরা পড়লো ‘ বলে….
বিগ্রহ হলো.. আকাশকে টক্কর দিতে।
তবু হাতিটা দাপিয়ে বেড়াতে লাগলো।
মন্ত্রী বললেন,
বেনোজলে পুষ্ট আগাছার বনগুলো
সাফ করলেই কেল্লা ফতে,
কিন্তু হাতিটাকে কেউ দেখতে পেলো না আজও।
রাজার বিদূষকের কাজ গেছে, কারণ দেশে কমেডি
করা নিষিদ্ধ।
সে এখন হাতিটার খোঁজে অবিকল মেহের আলির
সাজে পথে পথে ঘুরে বেড়ায়,
আর হাতি ধরা পড়বার খবর পেলেই ঠিক তেমনই
চেঁচিয়ে বলে
‘ সব ঝুট হ্যায়, সব ঝুট হ্যায়য়য় …..’
হাতিটা যে বহাল তবিয়তে আছে,
রোজের খবরে সেটা টের পাওয়া যায়।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
এ বিষয়ে মিলনের কার্টুন... বড় করে দেখতে কার্টুনের উপর ক্লিক করুন...
|
কবিতায় আমি এত বাঙালি বিতাড়ণ,
পরিযায়ী শ্রমিক এসব কথা বলতে চাই না...
শুধু আমার ঘরের পাশে যাদবের ছেলেটা
যখন বলে তিন পুরুষ ধরে এ শহরে থেকেও
আমাদের বাড়িতে কেউ বাংলায় কথা বলে না
তখন বুকের মধ্যেটা কেমন যেন কেঁপে ওঠে
ওপাশের ফ্লাটের গুপ্তা আঙ্কেলের ছোট নাতিটা
বাঙ্গালীদের নামে বড্ড গালাগালি দেয়
ওর নিজের ভাষাতেই দেয়
ছোট বলে আমরা ক্ষমা করে দিই।
আসলে আমরা জানি গুপ্তা আঙ্কেলের বিরুদ্ধে
কিছু বলা যাবে না
বললে আমাদের নিজেদের পাড়ায়
আমাদের তিন পুরুষের ভিটে মাটি থেকে
আমাদেরই উচ্ছেদ হয়ে যেতে হবে ...
ওইদিকে ওই মাঠের ওপারে
জয়সওয়ালদের চব্বিশ বছরের নব্য যুবকটি যখন
কলার উঁচিয়ে হু হু করে বাইক চালিয়ে
আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাবার সময়
বিরক্ত করার জন্যই জোরে জোরে হর্ন বাজায়
কবিতায় ভিন রাজ্যে বাঙালি বিতাড়নের কথা বলবো না
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী। রচনা ১লা অগাস্ট ২০২৫।
আমরা ওটাকে যৌবনের ধর্ম বলে মেনে নিই
আসলে আমরা জানি এই মেনে নেওয়ার বিরুদ্ধে
লড়াই করার ক্ষমতা আমরা বহুবছর আগেই হারিয়ে ফেলেছি ...
তবু আমাদের কাজের মাসি কৃষ্ণাদির ছোট নাতিটা সেদিন যখন
আমাদের প্রিয় শহর ছেড়ে বম্বে চলে গেল কাজ খুঁজতে
দুচোখ ভরা জল নিয়ে কৃষ্ণাদি খুব কান্নাকাটি করছিল।
আমরা ওকে বোঝাতে পারিনি আমাদের রাজ্যে কাজ নেই।
আমাদের রাজ্যে শিল্প নেই।
আমাদের রাজ্যে বেকাররা কেবলই ভাতা পায়।
তবে মাত্র দুদিন আগে যখন
বুবলাইয়ের ছোটবেলার বন্ধুটা
বেঙ্গালুরু থেকে কাজ ছেড়ে চলে আসার পথে
আটক হয়ে গেল বাংলা ভাষা বলার অপরাধে
বাংলাদেশী বলে যখন তাকে চালান করার চেষ্টা শুরু করা হলো
তখন আমরা বুঝলাম আমাদের কোন দেশ নেই
আমাদের কোন ভূমি নেই
আমাদের কোন ভাষা নেই
সারা দুনিয়ার কাছে আমরা হেরো মানুষের দল
আমাদের কোনো পরিচয় নেই
আমরা বাঙালি অথবা বাংলাদেশি অথবা অন্য কিছু
তা নিয়ে যখন খুশি রাষ্ট্রনায়করা লোফালুফি খেলতে পারে
আমাদের মতো মানুষদের সারা বিশ্বেই কোনো পরিচয় নেই
আসলে গোটা পথিবীতেই মানুষের দুটো পরিচয়
একদল শাসক আর অন্য দল শোষিত...
শোষিতের অস্তিত্ব রক্ষার নামে
শোষন বারবার ই রঙ বদলায়...
চরিত্র বদলে দেয়... শুধু শাসকের পথ বদলায় না...
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
একই বৃন্তে না হোক, দু'টি বৃন্তে
যেন পারি পরস্পরকে চিনতে
দু'টি কুসুম - সহস্রের ভিড়ে
পরস্পর যেন তাকাই ফিরে
দু'টি কুসুম - না-যেন করি ভুল
মাথায় থাক রবীন্দ্র-নজরুল
দু'টি কুসুম - হিন্দু-মুসলমান
মাথায় থাক বাংলার আসমান
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
দু'টি কুসুম কবি বিপুল চক্রবর্তী
রচনা - ১ অগাস্ট ২০২৫।
আগুন নিয়ে খেলতে গেলে হাত পুড়বেই শেষে
মজা দেখার মেলায় গিয়ে বিষাক্ত নিশ্বাসে
জ্বলবে বপু প্রলয় শিখায়। খেলার শেষে নতুন খেলা
শুরু হবে দিনের শেষে জেগে ওঠার অবহেলায়
পড়ে থাকা, মার খেয়ে দিন মাস বছরের বদলা নিতে
জাগবে যখন ছাই মাখা সেই নটরাজের নেত্য গীতে
উথাল পাতাল আকাশ বাতাস বাংলা আমার জন্ম ভিটে
জাতিদ্বেষী বর্ণদ্বেষী নরকবাসী ক্রিমিকীটের
নিপাত করার দিন আসছে ঘুমের শেষে জাগরণের স্তুতি
এবার তুমি দেখবে শুরু স্বদেশ জুড়ে দাবানলের অভিন্ন প্রস্তুতি…
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
দাবানল, জ্বলুক দাবানল কবি অশোক চট্টোপাধ্যায়
রচনা ১৫ই জুলাই ২০২৫।
কত রঙ্গ দেখায় ভদি আলতা মেখে পায়
পায়ে নূপুর চুরির পুকুর বস্তা ভরে যায়
কোদাল কোদাল মিথ্যে কথা প্রকাশ্যে চাষ করে
হিন্দি-বাংলা দ্বন্দ্বরেখার সীমান্তে বাস করে
‘সার’-এর গোড়ায় বিলিতি সার
ফলন চমৎকার
আলতা পরে সিঁদুর হাতে হিন্দু হিন্দু করে
ভঙ্গি সেচে, রঙ্গ বেচে বিন্দু বিন্দু করে
বিষ ছিটিয়ে দায় মিটিয়ে
বিষাদসিন্ধু গড়ে
বিদেশি চড় হজম করে দেশে দেখায় রোষ
যেন শিং ভাঙা এক মোষ
ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যে কথার সর্ব অঙ্গ জুড়ে
দুষ্ট ক্ষত নানা কিসিম মাছিরা যায় খুঁড়ে
কান্নাহাসির এই মেলাতে
দিনের শেষে সাঁঝবেলাতে
বাংলা-বিহার-অসম জুড়ে আকাশের মুখ ভার
ভদির পায়ের আলতা জুড়ে বীভৎস মুখ কার?
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কত রঙ্গ দেখায় ভদি আলতা মেখে পায়
কবি অশোক চট্টোপাধ্যায়। রচনা ১ অগাস্ট ২০২৫।
রেল থেকে ফেলে দেওয়া ষোল বছরের জুনায়েদ
কিংবা দাদরির গোরস্থানে আখলাকের মাংস
ধ্রুপদি সংগীত হয়ে মিশে গেছে কবে -
নৃশংসরা এখন রাষ্ট্রীয় বীর !
গুরুর আদর্শ মেনে
যৌবন ক্রমশ বিষধর হয়ে উঠছে
এখন চুনোপুঁটির গন্ধও অসহ্য লাগে
অসহ্য লাগে প্রতিবেশীর ভাষা
এক দেশ, এক ভাষা, এক আহার....
সব এক আকার হবে!
আর অবাধে খেলে যাবে বুলডোজার।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
অসহ্য
কবি জাহির আব্বাস আপন। রচনা ২ অগাস্ট ২০২৫।
হাত ঝমঝম পা ঝমঝম নূপুর নূপুর সন্ধ্যে
কন্যে রে তুই এইবেলা তোর মানুষটাকে মন দে।
অসম হলো বিদেশ রে তোর কালকে হবে হামলা
কন্যে রে তুই এইবেলা তোর শপথ নে রে বাংলায় ।
রবিঠাকুর দেয়াল জুড়ে লালন মাটির গন্ধে
শিলচর আর বরাক কাঁদে আলো-ছায়ার দ্বন্দ্বে।
চুক্তি জুড়ে বিকোয় মাটি অলক্ষিতে দেশ
বিকোয় নীলের সমুদ্দুর আর কালো মেঘের কেশ।
পা ঝমঝম হাত ঝমঝম চেনা-অচেনার সন্ধ্যে
কন্যেরে তুই এইবেলা তোর মানুষটাকে মন দে।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
হাত ঝমঝম পা ঝমঝম নূপুর নূপুর সন্ধ্যে
কবি অশোক চট্টোপাধ্যায়। রচনা ১ অগাস্ট ২০১৮।
ধন্য তোমারে হে ভাষাচার্য, চরণপদ্মে নমস্কার --
তোমার বচন শুনে যে এখন হল সবকিছু পরিষ্কার!
"বাংলাভাষায় কথা বলে যদি শ্রমিকেরা হয় আক্রান্ত,
বাংলা ভাষার বিপদ একে ভেবে চলবে না হওয়া বিভ্রান্ত!"
ঠিক কথাই তো! বাংলাভাষা ও বাংলাভাষীরা এক তো নয়,
বাঙালি শ্রমিক লাঞ্ছিত হলে বাকি বাঙালির তাতে কী ভয়?
বাঙালি ইঞ্জিনিয়ার, ছাত্র, ডাক্তারদের টিকিটি কেউ
ছোঁয়নি যখন, কেন মিছিমিছি করে চেঁচামেচি তোলা এ ঢেউ??
আজ যদি পোড়ে ঘুঁটেগুলো, তাতে গোবরগুলোর ভয় কিসের!
ওটাই তো কাজ ঘুঁটেদের আর ঘরে বসে হাসা গোবরদের॥
ভিন রাজ্যের শ্রমিকেরা যদি রুজি কেড়ে নেয় স্থানীয়দের,
তাদের হিংসা হতেই তো পারে, প্রাণ যে নেয়নি, এই তো ঢের।
মজুরেরা গলাধাক্কা যে খাবে এ নয় কিছুই বিচিত্র,
তাদের গায়ে তো ঘামের গন্ধ, তারা তো নয় আর 'পবিত্র'!
বাংলাভাষায় কথা বলে যদি শ্রমিকেরা গলাধাক্কা খায়,
বাংলাভাষার কবি, লেখক আর গবেষকদের কী আসে যায়!
উটপাখি সম তারাও বালিতে মুখ গুঁজে থাক চমৎকার --
ধন্য তোমারে ওগো ভাষাবিদ, তোমার খুরেতে নমস্কার।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
ধন্য তোমারে হে ভাষাচার্য, চরণপদ্মে নমস্কার
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী। রচনা ২ অগাস্ট ২০১৮।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। ব্যাস, থেমে যাও, দাঁড়ি।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। ভারত আমার বাড়ি।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। হাজার উপশাখা।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। যেই দেশে না ঢাকা।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। জাতীয় সংগীতও।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। কে তাতে শংকিত?
বাংলা দেশের একটা ভাষা। বিবেক সুভাষ রবি’র।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। শেকড় দেশে গভীর।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। মোদের গরব, আশা।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। কোটি’র ভালোবাসা।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। প্রারম্ভ যার চর্যায়।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। সত্যজিতের আয়নায়।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। নিজের দমে বাঁচে।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। পুড়বে ছুঁলে আঁচে।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। কাব্যে দ্রোহে গানে ।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। জেল সেলুলার জানে।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। পারলে নিও শিখে।
বাংলা দেশের এক ভাষা। ছড়িয়ে চতুর্দিকে।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। থাকবেও তাই, দৃঢ়।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। ফালতু নথি ছিঁড়ো।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। তথ্য সোজাসাপটা।
বাংলা দেশের একটা ভাষা। খোলা কঠিন খাপটা।
বাংলা ও দেশ বলার মাঝে খেয়াল রেখো ফাঁকটা।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
বাংলা দেশের একটা ভাষা কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৪ অগাস্ট ২০২৫।
বাবুর ভাষায় লেবার, পরিযায়ী
পুলিশ পেটায় বাংলাদেশী বলে
বাবুরা সব দেখেও না দেখার
ভান করে যায় নানান ছলেবলে
দেহের আঘাত শোষণ করে গাছ
গাছের দেশ তো, পিতৃপুরুষ চাষা!
বৃষ্টি পড়ে চোখে জলের ছাট
বাপদাদাদের ভিটেয় ফিরে আসা
বাবু, তোমার অনেক পড়াশোনা
মগজ তোমার অনেক উন্নত
সহজ শিকার আমরা খাই মার
তুমিও ঠিক পাবে সময় মতো
তখন ত্রাহি আর্তনাদ করে
কাকে তোমার পাশে পাবে তুমি
ডাকবে ভাষার আকুল দোহাই দিয়ে
বাংলা ভাষার মেধাবী ঝুমঝুমি!
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
ঝুমঝুমি কবি প্রসুন ভৌমিক। রচনা - ৫.৮.২০২৫।
বাংলা কোনো ভাষাই না.. সত্যি কথাই, আর কিছুতে ভাবনা আমার ভাসাই না,
তার মানে সে অথৈ সাগর, রত্ন পোষে বুকের ভেতর,
ডুব দিয়ে ধন পায় না যেজন,
তার জীবনের আশাই না.. বাংলা কেবল ভাষাই না।
বাংলা কোনো ভাষাই না.. ভিন্ন কারো কথায় জারি হয় যে ভালোবাসাই না,
ভাব আর আড়ির এই তো বাড়ি , তাবত কুমীর এবং খাঁড়ি,
এরই মাঝে তৈরি তা যে
অন্য কোনো বাসাই না.. বাংলা কেবল ভাষাই না।
বাংলা কোনো ভাষাই না.. অন্য জিভে কথা বলে রাগাই, কাঁদাই হাসাই না,
শুরুর কথার গুরু যে সে, শেষ কথা দেয় জীবন-শেষে,
অন্য কোনো লব্জে আবেগ
এমন ঝেড়ে কাশাই না.. বাংলা কেবল ভাষাই না।
বাংলা কোনো ভাষাই না কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৬ অগাস্ট ২০২৫। বিজেপির আই.টি. সেলের প্রধাণ অমিত মালবীয় বলেছেন ---
"বাংলা নামের কোনো ভাষা নেই" ...
বাংলা কোনো ভাষাই না.. বস্ত্রহরণ করার ছুতোয় খেলতে বসা পাশাই না,
জীবন জুড়ে মা’এর ছোঁয়া, নক্সীকাঁথার এক চাঁদোয়া,
ভিতের মাটি’র মতন খাঁটি
যা ছাড়া দিন খাসাই না.. বাংলা কেবল ভাষাই না।
বাংলা কোনো ভাষাই না.. বলতে হবে বলে গলায় ছুরি ধরে শাসাই না,
রবীন্দ্র আর কাজী দু-থাম, আকাশছোঁয়া প্রাসাদ সুঠাম,
কামরাগুলোয় মানিক ভরা,
জঞ্জালে ভাই ঠাসাই না.. বাংলা কেবল ভাষাই না।
যার না জানা, সে বোঝে না, দেশ স্বাধীনে কেমন দেনা,
ইতিহাসের খোঁজ রাখে না
আছে কত চাষাই না..
বাংলা আমার মাতৃজঠর, বাংলা কেবল ভাষাই না।
কাঁটাতারের এপারে ভারতীয় মা ;
সঙ্গে আট-দশ বছরের দুটি বাচ্চা।
মাকে ছেড়ে যেতে হবে ওদের,
বেড়ার ওপারে যে দেশ, ওই তাদের দেশ ;
এপারের এ দেশ শুধু তাদের মা-র।
হাপুস নয়নে কাঁদছে বাচ্চা দুটি,
মার চোখেও প্রবোধ না-মানা জল।
মাকে ছেড়ে থাকতে চায় না তারা,
মা-ও সন্তানদের ছাড়তে চায় না।
কিন্তু এ দেশ নেবে না বাচ্চাদের,
ও দেশ নেবে না তাদের মাকে ;
মা ও সন্তান দুই দেশের দুই ভিন্ন নাগরিক।
মাঝে দুই দেশের কাঁটাতারের সুদীর্ঘ বেড়া ;
এপারে আইনের শাসন, ওপারেও আইনের শাসন ;
কাঁটাতারে ছিন্নভিন্ন মানুষের হৃদয়ের আকুলতা।
দুই দেশের বুক চিরে চলে গেছে অলঙ্ঘ্য বেড়া ;
এপারে ভারতীয় মা ; ওপারে পেটের নাড়ী-ছেঁড়া সন্তান।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কাঁটাতারের বেড়া কবি অজিত বাইরী।
রচনা - ২.৫.২০২৫।
ভাঙনের শব্দ পাই ; দহনের পাই গন্ধ
ভাঙছে ভালেবাসা ; পুড়ছে প্রেম ; সংসারও
বর্ষা মেখে পোয়াতি নদীর তীরে আহেলি চোখ রাখি
জলের প্রেমে ; পাড়ের ভাঙনে
পুড়ছে বন ; পুড়ছে রেল ; বাস ; ট্রাম, বিমানও
ভাঙছে মন ; রাজ্য ; রাজা; দেশও
জুড়বে কে? দু'পক্ষের মুখ যদি থাকে দু'দিকে
তুমি আমি সামান্য অতি
আবার তিলে তিলে তিলোত্তমা ; এগোয় শিল্প ; প্রগতি
অণুতে অণুতে দহন ; পলে পলে ভাঙন
দল, ধর্ম, রাজনীতি সবারই একই গতি
জুড়বে কে? কোথায় সে? নাগাল পাইনে যে
তুমি তো সুমতি ; শুভ্রজ্যোতি ; সুবোধ অতি
জানলা খুলে ; দরজা খুলে ; মন খুলে বুঝে নাও দেখি –
কিসে ক্ষতি আর কিসে উন্নতি
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
জুড়বে কে কবি আদিত্য মুখোপাধ্যায়।
রচনা - ২.৫.২০২৫।
কবি - ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সমর্থকরা
|
ভারত স্বাধীন করতে সেদিন পরেছিলাম ফাঁসি
কবি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সমর্থকরা (East Bengal Fans)। বুধবার ৬ অগাস্ট ২০২৫ তারিখের সন্ধেবেলা, ডুরান্ড
কাপে (Durand Cup 2025) নামধারী স্পোর্টস অ্যাকাডেমির (Namdhari Sports Academy) বিরুদ্ধে ম্যাচে বিজেপি
নেতা অমিত মালবীয় ও দিল্লী পুলিশের মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা এই ব্যানারে।
এ বিষয়ে মিলনের কার্টুন... বড় করে দেখতে কার্টুনের উপর ক্লিক করুন...
|
বাংলা ভাষা নিয়ে কবিতা... >>>>
|
কোন গোয়ালের ডিগ্রী নিয়ে যে এলে তুমি নেমে হে বাবা শমিক!
বাঙালি যদিও, তবু ভাগ্যিস নও তুমি পরিযায়ী শ্রমিক,
যাওনি তো আর ভিনমুলুকেতে পেটের জোগাড় করার জন্য,
পদ্মহস্তে বঙ্গে বসেই বাণী দিয়ে দিয়ে তুমি যে ধন্য!
ধন্য তোমার গবেষণা ওগো, ধন্য তোমার এ জ্ঞানের বাণী :---
বাঙালির ভাষা দু'রকম নাকি - বাংলাদেশী আর হিঁদুস্তানি!
পদ্মকুলের আরেক নেতাও বলে দিয়েছেন যে জোর গলায় :---
"সব প্রান্তের বাঙালির ভাষা আসে নাকো এক ছাতার তলায়,
বেঙ্গলি নামে জাতি হতে পারে, বেঙ্গলি নামে হয় না ভাষা!" ---
মাতব্বর এক নেতার বাণী এ, বলেনি নিছক কোন বোকা চাষা!
নানা প্রান্তের বাঙালি কথা যে বলেনা এক ধরনের ভাষায়,
সকল ভাষার কথ্যরূপ যে কিছু দূরে দূরে বদলিয়ে যায় --
পাগলে ছাগলে গুগলে যা জানে, তোমরা সেকথা জানো না হায় !
একটি ভাষার নানা উপভাষা থাকে, তা পড়নি পাঠশালায়?
তুমি বলেছিলে, মুসলমানের হাতে তুলে দেবে গোলাপ ফুল,
তোমার হাতে কে বই তুলে দেবে, সেকথা আমরা ভেবে আকুল!
গডফাদারের কথামৃতের টীকাকার তুমি কী চমৎকার!
পদ্মকুলের ওগো মহাজ্ঞানী, শ্রীপাদপদ্মে প্রণাম তোমার॥
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কোন গোয়ালের ডিগ্রী নিয়ে কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী।
রচনা ২ অগাস্ট ২০২৫।
◆ আজ যদি থাকতেন, কোন সুর বাঁধতেন....
■ বাংলা আমার মুখের জবান...
আমি বাংলায় গান গাই,
আমি বাংলার গান গাই,
(তবু) বাংলা ও বাঙালির হেনস্থা
যুগে যুগে দেখে যাই।
আমি বাংলায় দেখি স্বপ্ন,
ভাঁজি বাংলায় কত সুর-
শুধু জীবিকার দায়ে বাংলাকে ছেড়ে
যেতে হয় বহুদূর !
বাংলা আমার মায়ের ভাষা যে,
বাংলা বলেই সুখ,
তবু আমাদের হেনস্থা দেখে
বাঙালি বাবুরা মূক!
আমি বাংলায় কথা কই,
যখন যেখানে রই,
তাইতো 'বিদেশি', 'রোহিঙ্গা' বলে
অপবাদ শিরে বই॥
আজ যদি থাকতেন, কোন সুর বাঁধতেন...
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী। রচনা ৪ অগাস্ট ২০২৫।
বাংলা আমার মুখের জবান,
বাংলা জিভের স্বাদ,
আমি একবার করি, বারবার করি
বাংলায় প্রতিবাদ।
আমি বাংলাই ভালবাসি,
যখন যেখানে আসি--
ভিন রাজ্যতে লাঞ্ছিত হয়ে
নয়নের জলে ভাসি।
আমি যা কিছু বিপদ, তাকে যে যুঝেছি
জোর পেয়ে বাংলায় --
মেশে আমার রক্ত, ঘাম ও অশ্রু
পথের ধুলোতে হায়॥
বাংলা আমার বাঁচার রসদ,
বাংলা মায়ের মুখ,
আমি একবার বলি, বারবার বলি
বাংলা ভ'রে এ বুক॥
আমি দিনভর খাটি, বহুদূর হাঁটি
গান গেয়ে বাংলায় --
যতদিন বাঁচি, বাংলাই যেন
বয় আমার এ শিরায়॥
ঃঃঃঃঃঃঃ
ঋণস্বীকার --- প্রতুল মুখোপাধ্যায়
ছবি --- মিলন সেনগুপ্ত
আমি বাংলায় লেখা কাগজ দেখিয়ে
করি রুজি-রোজগার,
করি বাংলায় বলে উৎখাত হলে
বাংলায় হাহাকার॥
লোক দেখানো ভন্ড যোগীর, বাঁদর নাচা ধর্ম রোগীর,
স্কুল পালানো গুটখা ভোগীর নির্দেশে লোক হাসাই না।
বাংলা কোনো ভাষাই না।
আমার ভাষা নোবেল আনে, ভাষার শহীদ বিশ্ব জানে,
বোকার মত জোকার সেজে ভিনভাষা কে শাসাই না।
বাংলা কোনো ভাষাই না।
শিরায় ভাষা রক্তে বয়ে, বাংলা থাকুক আবেগ হয়ে,
মূর্খগুলো বুঝবে এসব, তেমন আমার আশা ই না।
বাংলা কোনো ভাষাই না।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
লোক দেখানো ভন্ড যোগীর
কবি রোমিত বোস। রচনা - ৬.৮.২০২৫।
দিল্লি দরবার আমাকে মারবার
করেছ ছক তাই সেলাম জাঁহাপনা।
দিল্লি দরবার আমাকে মারবার
করেছ ছক তাই সেলাম জাঁহাপনা।
আমাকে নাগরিক ভাব না তাও ঠিক
আমাকে নাগরিক ভাব না তাও ঠিক
তা বলে চোখে চোখ রেখে কি তাকাবো না
দিল্লি দরবার আমাকে মারবার
করেছ ছক তাই সেলাম জাঁহাপনা।
দিল্লি দরবার ...
তোমার তাণ্ডবে নতুন কি বা যাবে
তোমার তাণ্ডবে নতুন কি বা যাবে
প্রতাপ দেখে শিরদাঁড়া তো বাঁকাবো না
কাড়ছো ভীট মাটি মুণ্ড কাট যদি
কাড়ছো ভীট মাটি মুণ্ড কাট যদি
কেটেই নাও তবে মাথা তো ঝোঁকাবো না
দিল্লি দরবার আমাকে মারবার
করেছ ছক তাই সেলাম জাঁহাপনা।
দিল্লি দরবার ...
দিল্লি দরবার আমাকে মারবার করেছ ছক তাই সেলাম জাঁহাপনা
কবি সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়। রচনা - ৬.৮.২০২৫।
অনেক জ্ঞান বাণী দিয়েছ সবই জানি
অনেক জ্ঞান বাণী দিয়েছ সবই জানি
পালটা আমি আর কিছুই শেখাবো না
মাথা তো আছে নিচু যুদ্ধ নেই কিছু
মাথা তো আছে নিচু যুদ্ধ নেই কিছু
নতুন করে শুধু কাগজ দেখাবো না
দিল্লি দরবার আমাকে মারবার
করেছ ছক তাই সেলাম জাঁহাপনা।
দিল্লি দরবার ...
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কবি - মোহনবাগান ক্লাবের সমর্থকরা
|
দেশটা কারোর বাপের নয়, নয়কো জাতের খেলা
কবি মোহনবাগান ক্লাবের সমর্থকরা (Mohun Bagan Fans)। শনিবার ৯ অগাস্ট ২০২৫ তারিখে, বিজেপি নেতা
অমিত মালবীয় ও দিল্লী পুলিশের মন্তব্যের প্রতিবাদে যুবভারতী স্টেডিয়ামে, মোহনবাগান গ্যালারিতে ভাষার
ঐতিহ্য রক্ষায় গর্জে উঠলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা এই ব্যানারে।
বাবুর ভাষায় লেবার, পরিযায়ী
পুলিশ পেটায় বাংলাদেশী বলে
বাবুরা সব দেখেও না দেখার
ভান করে যায় নানান ছলেবলে
দেহের আঘাত শোষণ করে গাছ
গাছের দেশ তো, পিতৃপুরুষ চাষা!
বৃষ্টি পড়ে চোখে জলের ছাট
বাপদাদাদের ভিটেয় ফিরে আসা
বাবু, তোমার অনেক পড়াশোনা
মগজ তোমার অনেক উন্নত
সহজ শিকার আমরা খাই মার
তুমিও ঠিক পাবে সময়মতো
তখন ত্রাহি আর্তনাদ করে
কাকে তোমার পাশে পাবে তুমি
ডাকবে ভাষার আকুল দোহাই দিয়ে
বাংলা ভাষার মেধাবী ঝুমঝুমি!
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
ঝুমঝুমি কবি প্রসুন ভৌমিক।
রচনা - ৫.৮.২০২৫।