মুক্তিযুদ্ধের গান ও কবিতার দেয়ালিকা
|
|
|
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে! This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
সোনা সোনা সোনা
লোকে বলে সোনা
সোনা নয় ততো খাঁটি
বলো যতো খাঁটি
তার চেয়ে খাঁটি বাংলাদেশের মাটিরে
আমার জন্মভূমির মাটি॥
ধন জন মন যত ধন দুনিয়াতে
হয় কি তুলনা বাংলার কারো সাথে।
কত মার ধন মানিক রতন
কত জ্ঞানীগুণী কত মহাজন।
এনেছে আলোর সূর্য এখানে
আঁধারের পথ পাতি রে
আমার বাংলা .... .... ....॥
সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা কবি আব্দুল লতিফ। শিল্পী:শাহনাজ রহমতুল্লাহ। ১৯৭১
সালে 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে গানটি প্রথম সম্প্রচারিত হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে Best 5 BD YouTube
Channel. । গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন
প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। পাঠক ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি পাবেন
“মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে। এই গানটি বিপ্রদাশ বড়ুয়া সংকলিত ও সম্পাদিত “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও
শব্দসৈনিক” গ্রন্থে সংকলিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রচারিত গানেও সংকলিত হয়েছে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
এই মাটির তলে ঘুমায়েছে অবিরাম
রফিক, শফিক, বরকত কত নাম
কত তিতুমীর, কত ঈশা খান
দিয়েছে জীবন, দেয়নি তো মান।
রক্ত শয্যা পাতিয়া এখানে
ঘুমায়েছে পরিপাটি রে
আমার বাংলাদেশের মাটি
আমার জন্মভূমির মাটি।
বিজয় নিশান উড়ছে ঐ
খুশির হাওয়ায় ঐ উড়ছে
বাংলার ঘরে ঘরে
মুক্তির আলো ঐ ঝরছে।
আজ জীবনের জয়োল্লাসে
জমছে শিশির দূর্বাঘাসে
পাশে নেই আমাদের মহান নেতা
হাসির মাঝে তাই ঝরে ব্যথা
সাত কোটি প্রাণ দিকে দিকে ঐ
দীপ্ত মশাল জ্বেলে চলছে॥
শত্র-কারার আঁধার খেকে
ছিনিয়ে আনব বঙ্গবন্ধুকে
উচ্ছল বন্যার কলগ্রাসে
শক্ররা নিশ্চল হয়েছে
মহাশক্তিতে কোটি কোটি প্রাণ
বন্ধ কারার দ্বার খুলছে॥
বিজয় নিশান উড়ছে ওই কথা: কবি শহীদুল ইসলাম। সুরকার: সুজেয় শ্যাম। কণ্ঠশিল্পী: অজিত রায়।
'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে সম্প্রচারিত এই গানখানি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পরে প্রথম
প্রচারিত গান। গানটি প্রসঙ্গে সুরকার সুজেয় শ্যাম বলেন, "এটি যেমন স্বাধীন বাংলা বেতারের শেষ গান, তেমনি স্বাধীন
বাংলাদেশের ও বিজয়ের পর প্রথম গান। অজিত রায়ের নেতৃত্বে গানটি গাওয়া হয়। দেড় ঘণ্টার অনুশীলন শেষে এটি
রেকর্ড করা হয়।" ভিডিওটি সৌজন্যে Atique YouTube Channel. । গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন
বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান”
সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। পাঠক ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
জনতার সংগ্রাম চলবেই,
আমাদের সংগ্রাম চলবেই।
জনতার সংগ্রাম চলবেই॥
হতমানে অপমানে নয়, সুখ সম্মানে
ৰাঁচবার অধিকার কাড়তে
দাস্যের নির্মোক ছাড়তে
অগণিত মানুষের প্রাণপণ যুদ্ধ
চলবেই চলবেই,
জনতার সংগ্রাম চলবেই।
আমাদের সংগ্রাম চলবেই।
প্রতারণা প্রলোভন প্রলেপে
হোক না আঁধার নিশ্চিদ্র
আমরা তো সময়ের সারথী
নিশিদিন কাটাব বিনিন্দ্র।
জনতার সংগ্রাম চলবেই কথা কবি সিকান্দার আবু জাফর, সুর - শেখ লুৎফর রহমান। শিল্পী - সমবেত শিল্পীবৃন্দ। ১৯৭১ সালে 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে
সম্প্রচারিত। এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে atkia oishi YouTube Channel. । গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ
হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। পাঠক ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে। এই গানটি
তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত 'মুক্তির গান' তথ্যচিত্র থেকেও সংগৃহীত। ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে 'বাংলাদেশ মুক্তি
সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা' নামক সংগঠনটি বিভিন্ন জায়গায় গান গেয়ে মুক্তিকামী বাঙালীদের অনুপ্রেরনা যোগাতো। বিপুল ভট্টাচার্য ছাড়াও “মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থায়” আরো যাঁরা
ছিলেন তাঁরা হলেন লুবনা মরিয়ম, তারেক আলী, মাহমুদুর রহমান বেণু, নায়লা খান ,স্বপন চৌধুরী, শাহিন সামাদ, দেবব্রত চৌধুরী, দুলালচন্দ্র শীল, মোশাদ আলী প্রমুখ কণ্ঠযোদ্ধারা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
দিয়েছি তো শান্তি আরও দেব স্বস্তি
দিয়েছি তো সন্ত্রম আরও দেব অস্থি
প্রয়োজন হলে দেব একনদী রক্ত।
হোক না পথের বাধা প্রস্তর শক্ত,
অবিরাম যাত্রার চির সংঘর্ষে
একদিন সে পাহাড় টলবেই।
চলবেই চলবেই
জনতার সংগ্রাম চলবেই
আমাদের সংগ্রাম চলবেই।
হতে পারি পর্থশ্রমে আরও বিধ্বস্ত
ধিকৃত নয় তবু চিত্ত
আমরা তো সুস্থির লক্ষ্যের যাত্রী
চলবার আবেগেই তৃপ্ত।
আমাদের পথরেখা দুস্তর দুর্গম
সাথে তবু অগণিত সঙ্গী
বেদনার কোটি কোটি অংশী
আমাদের চোখে চোখে লেলিহান অগ্নি
সকল বিরোধ-বিধ্বংসী।
जाने वाले सिपाही से पूछो
वह कहां जा रहा है
जाने वाले सिपाही से पूछो
वह कहां जा रहा है
इश्क है कातिले जिन्दगानी
खून से तर है उसकी कहानी
हाय मासूम बचपन की यादें
हाय दो रोज की नौजवानी
जाने वाले सिपाही से पूछो
वह कहां जा रहा है
जाने वाले सिपाही से पूछो
वह कहां जा रहा है
कवि मख्दूम मोहिउद्दीन और शैलेन्द्र
|
জানেওয়ালে সিপাহী সে পুছো কবি মকদুম মোহুউদদীন এর একটি গীতকে অবলম্বন করে শৈলেন্দ্রের লেখা গীত। সুর সলিল চৌধুরী। শিল্পী মান্না দে। ১৯৭২
সালে মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের জন্যে ফান্ড রেইসিং-এর উদ্দেশে পশ্চিমবঙ্গের বহু সংগীতশিল্পী ভারতের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠান করতেন। ভারতের পশ্চিমাংশের বহু প্রদেশে
অনেক অনুষ্ঠানে “জানেওয়ালে সিপাহীসে পুঁছো” হিন্দি গানটি মান্না দে তখন খুব গাইতেন। এই গানটি মান্না দে, সলিল চৌধুরীর সুরে, কবি মকদুম মৈহুউদদীন রচিত, বিমল রায়
পরিচালিত "উসনে কাহা থা" নামের, সুনীল দত্ত-নন্দা-তরুণ বোস অভিনীত হিন্দি ছায়াছবিতে গেয়েছিলেন ১৯৬১ সালে। সমকালীন সময়ে ভারত-চীন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই গানখানি
অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ছিল। পরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও একই রকম জনপ্রিয় হয়। এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে crazyoldsongs YouTube Channel. ।
इस पन्ना का पृष्ठभूमि छवि बंगलादेश के मुक्तियुद्ध के कई प्रसिद्ध छविओं का गुलदस्ता है। इस में बंगलादेश के बीर नारी तथा पुरुषों के साथ भारतीय सेना के जवानों के छवि भी रखा गया है, जिनका निःस्वार्थ आत्म- बलिदान हम कभी नहीं भूल सकते। यह पन्ना कवि राजेश दत्ता के अनुसंधान का फल है।
|
|
|
जाने वाले सिपाही से पूछो - गीतकार मख्दूम मोहिउद्दीन के नज़्म के आधार पर शैलेन्द्र ने "उसने कहा था" फिल्म के लिए यह गीत लिखा था,
1961 में। संगीतकार थे सलिल चौधुरी। कलाकार थे मन्ना दे। उन दिनों 1962 में यह गीत भारत-चीन युद्ध के सन्दर्भ में बहुत प्रासंगिक हुआ था। 1971 के
बंगलादेश के मुक्तियुद्ध के दरमियान भी यह गीत फिर से प्रासंगिक हुआ। मन्ना दे साहब देश के हिन्दी भाषी प्रदेशों में, बंगलादेश के शरणार्थियों के लिए फंड जुटाने
के जलसों मे, इस गीत को अकसर गाया करते थे। गाने का वीडियो crazyoldsongs YouTube Channel. के सौजन्य से। कथा hindi.lyricsgram.com के सौजन्य से।
जाने वाले सिपाही से पूछो
वह कहां जा रहा है
जाने वाले सिपाही से पूछो
वह कहां जा रहा है
कौन दुखिया है जो गा रही है
भूखे बच्चों को बहला रही है
लाश जलने की बू आ रही है
जिंदगी है की चिल्ला रही है
जाने वाले सिपाही से पूछो
वह कहा जा रहा है
जाने वाले सिपाही से पूछो
वह कहां जा रहा है
कैसे सहमे हुए हैं नज़ारे
कैसे दर दर के चलते हैं तारे
क्या जवानी का खून हो रहा है
सुर्ख है आंचलों के किनारे
जाने वाले सिपाही से पूछो
वह कहां जा रहा है
जाने वाले सिपाही से पूछो
वह कहां जा रहा है
ধনধান্য পুষ্পেভরা আমাদেরই বসুন্ধরা ;
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা ;
ও যে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা ;
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রাণী সে যে --- আমার জন্মভূমি।
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা, কোথায় উজল এমন ধারা!
কোথায় এমন খেলে তড়িৎ এমন কালো মেঘে!
তার পাখির ডাকে ঘুমিয়ে উঠি, পাখির ডাকে জেগে---
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রাণী সে যে --- আমার জন্মভূমি।
এমন স্নিগ্ধ নদী কাহার, কোথায় এমন ধূম্র পাহাড়।
কোথায় এমন হরিক্ষেত্র আকাশতলে মেশে।
এমন ধানের উপর @ ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রাণী সে যে --- আমার জন্মভূমি।
@ - এই রেকর্ডে "উপর" এর বদলে "খেতে" গাওয়া হয়েছে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
ধনধান্যে পুষ্পে ভরা - কথা ও সুর: কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। কণ্ঠ - সমবেত শিল্পীবৃন্দ। ১৯৭২ সালে 'হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি'র
থেকে প্রকাশিত 'বিক্ষুব্ধ বাংলা' রেকর্ডের গান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরের বছর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় 'হিন্দুস্তান রেকর্ড
কোম্পানি'র থেকে 'বিক্ষুব্ধ বাংলা' নামে ১১টি গানের সংকলন। কণ্ঠশিল্পীরা ছিলেন করবী নাথ, অংশুমান রায়, আপেল মাহমুদ ও সহশিল্পীবৃন্দ।
ভাষ্যপাঠে প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী ও সংবাদ পাঠক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগীত পরিচালনা করেন আপেল মাহমুদ ও মোহাম্মদ আবদুল
জব্বার। ভিডিওটি সৌজন্যে HINDUSTHAN MUSIC - YouTube Channel. । গানটি ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্র থেকেও প্রচারিত
হয়েছিল। গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত,
“স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। পাঠক ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে।
পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখী ; কুঞ্জে কুঞ্জে গাহে পাখি,
গুঞ্জরিয়া আসে অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে---
তারা ফুলের উপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে |
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রাণী সে যে --- আমার জন্মভূমি |
ভায়ের মায়ের এত স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ?
ওমা তোমার চরণ দুটি বক্ষে আমার ধরি |
আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি---
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রাণী সে যে --- আমার জন্মভূমি |
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলতে পারি
আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলতে পারি॥
জাগো নাগিনীরা জাগো নাগিনীরা জাগো কালবোশেখীরা
শিশুহত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা,
দেশের সোনার ছেলে খুন করে রোখে মানুষের দাবি
দিন বদলের ক্রান্তি লগনে তবু তোরা পার পাবি?
না, না, না, না খুন রাঙা ইতিহাসে শেষ রায় দেওয়া তারই
একুশে ফেব্রুয়ারি, একুশে ফেব্রুয়ারি॥
সেদিনও এমনি নীল গগনের বসনে শীতের শেষে
রাত জাগা চাঁদ চুমো খেয়েছিল হেসে,
পথে পথে ফোটে রজনীগন্ধা, অলকনন্দা, যেনো,
এমন সময় ঝড় এল এক, ঝড় এল ক্ষ্যাপা বুনো॥
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি কথা - কবি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী (জন্ম ১২.১২.১৯৩৪)। সুর - আবদুল লতিফ। কণ্ঠ: সমবেত শিল্পীবৃন্দ।
(১৯৭২ সালে "হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি"র থেকে প্রকাশিত "বিক্ষুব্ধ বাংলা" রেকর্ডের গান। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে HINDUSTHAN MUSIC YouTube Channel. বাংলাদেশের
স্বাধীনতা লাভের পরের বছর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় "হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি"র থেকে "বিক্ষুব্ধ বাংলা" নামে ১১টি গানের সংকলন। কণ্ঠশিল্পীরা ছিলেন করবী নাথ, অংশুমান রায়,
আপেল মাহমুদ ও সহশিল্পীবৃন্দ। ভাষ্যপাঠে প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী ও সংবাদ পাঠক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগীত পরিচালনা করেন আপেল মাহমুদ ও মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। প্রসঙ্গত
উল্লেখ্য, আলতাফ মাহমুদের সুরেও ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি লোকপ্রিয় হয়। সমবেত কণ্ঠে গানের ভিডিওটি সৌজন্যে Golden Song Lyrics YouTube Channel.
সেই আঁধারের পশুদের মুখ চেনা,
তাহাদের তরে মায়ের, বোনের, ভায়ের চরম ঘৃণা
ওরা গুলি ছোড়ে এদেশের প্রাণে দেশের দাবিকে রুখে
ওদের ঘৃণ্য পদাঘাত এই সারা বাংলার বুকে।
ওরা এদেশের নয়,
দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়
ওরা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শান্তি নিয়েছে কাড়ি
একুশে ফেব্রুয়ারি, একুশে ফেব্রুয়ারি॥
তুমি আজ জাগো তুমি আজ জাগো একুশে ফেব্রুয়ারি
আজো জালিমের কারাগারে মরে বীর ছেলে বীর নারী
আমার শহীদ ভাইয়ের আত্মা ডাকে
জাগো মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাঁকে
দারুণ ক্রোধের আগুনে আবার জ্বালাবো ফেব্রুয়ারি॥
একুশে ফেব্রুয়ারি, একুশে ফেব্রুয়ারি॥
ও আমার জন্মভূমি জননী গো
তোমার দুঃখে কাঁদে আমার প্রাণ
তোমাতে জন্ম নিয়ে ধন্য হলেম
তোমারি বন্দনাতে নিঃশেষ হবো
তোমার এ লাঞ্ছনা মা সয় না প্রাণে
তোমারি কান্না শুনি গানে গানে
জলে ভাসে আমার দুনয়ন
ও আমার জন্মভূমি জননী গো
তোমার জ্ঞানে ধন্য হলো এই পৃথিবী
মাগো তোমার জ্ঞানের আলোয় উজল হলো সবই
সব বিলায়ে বিলীন হলে বাংলা মাগো
তোমার সোনার ধানের গোলা শূন্য করে
ও আমার জন্মভূমি জননী গো
ও আমার জন্মভূমি জননী গো কথা কবি আপেল মাহমুদ। কণ্ঠশিল্পী: করবী নাথ ও অংশুমান রায়। ১৯৭২ সালে 'হিন্দুস্তান
রেকর্ড কোম্পানি'র থেকে প্রকাশিত 'বিক্ষুব্ধ বাংলা' রেকর্ডের গান। এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে HINDUSTHAN MUSIC YouTube Channel. ।
গানটি শুনে লেখা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরের বছর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় "হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি"র থেকে "বিক্ষুব্ধ বাংলা"
নামে ১১টি গানের সংকলন। কণ্ঠশিল্পীরা ছিলেন করবী নাথ, অংশুমান রায়, আপেল মাহমুদ ও সহশিল্পীবৃন্দ। ভাষ্যপাঠে প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী ও
সংবাদ পাঠক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগীত পরিচালনা করেন আপেল মাহমুদ ও মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
যুগে যুগে চেনা জানা ডাকাত এসে
মাগো তোমার ঘরের সোনা দানা সবই নিল
দেখেছো তুমি নীরব ছিলে অভিমানে
তোমার দেশের সোনার ছেলেরা
চৈতি চাঁদের আলোয় সেদিন অনেক রক্ত দিয়েছিল
তারা তোমার দুঃখ বুঝেছিল
বিধির এ কি নিঠুর খেলা তোমায় নিয়ে
মাগো তোমার কাঁধে ভিক্ষা-ঝুলি সাজিয়ে দিয়ে
তোমার সোনার হাতে ভিক্ষা দিলে যাদের সেদিন
তাদের দানে তোমায় দেখে অশ্রু ঝরে
ও আমার জন্মভূমি জননী গো
শোনো শোনো শোনো শোনো
শোনো বাংলার জনসমুদ্রে জোয়ারের হুংকার
জোয়ারের হুংকার জোয়ারের হুংকার
বিপ্লব স্রোতে নিঃশেষ হবে দুশমন জনতার
জয় বাংলা জয় বাংলা জয় বাংলার জয়
মুজিবের ডাকে এক হয়ে গেছে হিন্দু মুসলমান
অমানিশা গেছে উঠেছে সূর্য আঁধারের অবসান
মুজিবের ডাকে এক হয়ে গেছে হিন্দু মুসলমান
অমানিশা গেছে উঠেছে সূর্য আঁধারের অবসান
বাংলাদেশের জনতার জয় এবারে সুনিশ্চয়
জয় বাংলা জয় বাংলা জয় বাংলার জয়
বাংলা ভাষা সে জননী মোদের তারে কভু যায় ভোলা?
রবীন্দ্রবানী অভয়মন্ত্র নীতি প্রাণে দেয় দোলা
নীতি প্রাণে দেয় দোলা
বাংলা ভাষা সে জননী মোদের তারে কভু যায় ভোলা?
রবীন্দ্রবানী অভয়মন্ত্র নীতি প্রাণে দেয় দোলা
নীতি প্রাণে দেয় দোলা
শোনো বাংলার জনসমুদ্রে জোয়ার হুঙ্কার কথা ও সুর: কবি সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর (৮.১০.১৯০১ - ২২.৯.১৯৭৪)।
শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাস। ১৯৭২ সালে "হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি" থেকে প্রকাশিত। এই গানের ভিডিওটি সৌজন্যে Anjan Chakraborty YouTube
Channel. । কবি সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানকে নিয়ে দুটো গান লিখে সুর দিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে 'হিন্দুস্তান
রেকর্ড কোম্পানি' থেকে প্রকাশিত ৪৫ আরপিএম রেকর্ডটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাস। সৌম্যেন্দ্রনাথ
ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পৌত্র ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের বড়দা দ্বিজেন্দ্রনাথের পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্র ছিলেন তিনি। ঠাকুর
পরিবারের কৃতী সন্তান সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরএকজন সাম্যবাদী বিপ্লবী রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ১৪টি ভাষায় কৃতবিদ্য ভাষাবিদ,
সংগীতজ্ঞ ও যুক্তিবাদী মুক্তচিন্তক ছিলেন। তথ্যসূত্র - শামিম আমিনুর খান, একাত্তরের গানে বঙ্গবন্ধু, সমকাল.অর্গ ওয়েবসাইট।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
শোনো বাংলার মাঠে ঘাটে আজ আগুনের জয়গান
মুক্তি লভিতে বুকের রক্ত ঢালে তারা অফুরান
শোনো বাংলার মাঠে ঘাটে আজ আগুনের জয়গান
মুক্তি লভিতে বুকের রক্ত ঢালে তারা অফুরান
বিশ্বের লোক বাংলার পানে বিস্ময়ে চেয়ে রয়
জয় বাংলা জয় বাংলা জয় বাংলার জয়
জয় বাংলা জয় বাংলা জয় বাংলার জয়
জয় বাংলা জয় বাংলা জয় বাংলার জয়
ওই তারা চলে দলে দলে, চলে দলে দলে
চলে দলে দলে মুক্তি পতাকা তলে
ওই তারা চলে দলে দলে, চলে দলে দলে
চলে দলে দলে মুক্তি পতাকা তলে
পরাধিনতার কারা, ধূলিতে মিশায় তারা
পরাধিনতার কারা, ধূলিতে মিশায় তারা
হাতে হাত দিয়ে প্রাণে প্রাণে মিশে মুক্তিবাহিনী চলে
হাতে হাত দিয়ে প্রাণে প্রাণে মিশে মুক্তিবাহিনী চলে
ওই তারা চলে দলে দলে, চলে দলে দলে
চলে দলে দলে মুক্তি পতাকা তলে
মুক্তিবাহিনী নাশিছে শত্রু বাংলার হবে জয়
স্বাধীন হইবে বাংলার লোক জয় বাংলার জয়
মুক্তিবাহিনী নাশিছে শত্রু বাংলার হবে জয়
স্বাধীন হইবে বাংলার লোক জয় বাংলার জয়
জয় বাংলা জয় বাংলা জয় বাংলা
শোনো বিপ্লব হুংকার বাংলার জনতার
শোনো বিপ্লব হুংকার বাংলার জনতার
ওই তারা চলে দলে দলে কথা ও সুর: কবি সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর (৮.১০.১৯০১ - ২২.৯.১৯৭৪)। শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাস। এই
গানের ভিডিওটি সৌজন্যে Anjan Chakraborty YouTube Channel. । কবি সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানকে নিয়ে
দুটো গান লিখে সুর দিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে 'হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি' থেকে প্রকাশিত ৪৫ আরপিএম রেকর্ডটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন প্রখ্যাত
রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাস। সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পৌত্র ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের বড়দা দ্বিজেন্দ্রনাথের পুত্র
সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্র ছিলেন তিনি। ঠাকুর পরিবারের কৃতী সন্তান সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরএকজন সাম্যবাদী বিপ্লবী রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক,
গবেষক, ১৪টি ভাষায় কৃতবিদ্য ভাষাবিদ, সংগীতজ্ঞ ও যুক্তিবাদী মুক্তচিন্তক ছিলেন। তথ্যসূত্র - শামিম আমিনুর খান, একাত্তরের গানে
বঙ্গবন্ধু, সমকাল.অর্গ ওয়েবসাইট।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
লক্ষ লোকের চলার আগুনে বাংলার পথ জ্বলে
লক্ষ লোকের চলার আগুনে বাংলার পথ জ্বলে
ওই তারা চলে দলে দলে, চলে দলে দলে
চলে দলে দলে মুক্তি পতাকা তলে
ওই তারা চলে দলে দলে, চলে দলে দলে
চলে দলে দলে মুক্তি পতাকা তলে
সারা বাংলা জেলখানা, সারা বাংলা জেলখানা
সারা বাংলা জেলখানা, সারা বাংলা জেলখানা
শিকল পায়ে রাখবো না, না শিকল পায়ে রাখবো না
না শিকল পায়ে রাখবো না, না শিকল পায়ে রাখবো না
না, লৌহকারার বন্দীদশা, লৌহকারার বন্দীদশা
মানবো না, না, মানবো না, না মানবো না
উপড়ি খেলো ওই আকাশ জমি,
আঁধার প্রাচীর, আঁধার প্রাচীর
হাত মেলা ভাই ধ্বংসযজ্ঞে ওই অত্যাচারীর
অত্যাচারীর
করতে ওরা দেয় না মানুষ
করতে ওরা দেয় না মানুষ ঘরে মারার কারখানা
আসছে দেখো ওই দিনবদলের, এবার পালা
বজ্রকঠিন হাতে হাতে রক্তমশাল জ্বালা
মশাল জ্বালা
এবার ওদের মৃত্যুপ্রহর
এবার ওদের মৃত্যুপ্রহর, অতর্কিতে দেয় হানা
সারা বাংলা জেলখানা, সারা বাংলা জেলখানা
সারা বাংলা জেলখানা, সারা বাংলা জেলখানা
সারা বাংলা জেলখানা কথা - অজ্ঞাত কবি। কণ্ঠশিল্পী: করবী নাথ ও অংশুমান রায়। ১৯৭২ সালে 'হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি'র থেকে
প্রকাশিত 'বিক্ষুব্ধ বাংলা' রেকর্ডের গান। এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে HINDUSTHAN MUSIC YouTube Channel. । গানটি শুনে লেখা। বাংলাদেশের
স্বাধীনতা লাভের পরের বছর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় "হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি"র থেকে "বিক্ষুব্ধ বাংলা" নামে ১১টি গানের সংকলন। কণ্ঠশিল্পীরা
ছিলেন করবী নাথ, অংশুমান রায়, আপেল মাহমুদ ও সহশিল্পীবৃন্দ। ভাষ্যপাঠে প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী ও সংবাদ পাঠক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়।
সংগীত পরিচালনা করেন আপেল মাহমুদ ও মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
শিকল পায়ে রাখবো না, না শিকল পায়ে রাখবো না
না শিকল পায়ে রাখবো না, না শিকল পায়ে রাখবো না
না, লৌহকারার বন্দীদশা, লৌহকারার বন্দীদশা
মানবো না, না, মানবো না, না মানবো না
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
বাংলার মাটি আজ দুর্জয়
দুর্জয় প্রতিরোধ দুর্গ
পালাবার পথ নেই নেই আর, নেই আর
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
ঝরছে তো রক্ত রক্ত
ঝরছে তো রক্ত রক্ত
রক্ত ঝরছে ঝরছে রক্ত
ঝরছে তো রক্ত রক্ত
পথে পথে বাধা তবু প্রস্তর শক্ত---রক্ত
রক্ত রক্ত
ঝরছে তো রক্ত রক্ত
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! কবি গোবিন্দ হালদার। সুর: আপেল মাহমুদ। শিল্পী: করবী নাথ, অংশুমান রায়, আপেল মাহমুদ ও সমবেত শিল্পীবৃন্দ।
১৯৭২ সালে 'হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি'র থেকে প্রকাশিত "বিক্ষুব্ধ বাংলা" রেকর্ডের গান। এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে HINDUSTHAN MUSIC YouTube Channel. ।
গানটি শুনে লেখা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরের বছর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় "হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি"র থেকে "বিক্ষুব্ধ বাংলা" নামে ১১টি গানের সংকলন।
কণ্ঠশিল্পীরা ছিলেন করবী নাথ, অংশুমান রায়, আপেল মাহমুদ ও সহশিল্পীবৃন্দ। ভাষ্যপাঠে প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী ও সংবাদ পাঠক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগীত
পরিচালনা করেন আপেল মাহমুদ ও মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ
হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত কিন্তু সেখানে কবির নাম শহীদুল ইসলাম দেওয়া রয়েছে। কিন্তু গানের সুরকার
আপেল মাহমুদ স্বয়ং আমাদের এই ভ্রম সংশোধন করে দিয়েছেন সমকাল.অর্গ ওয়েবসাইটে তাঁর লেখা "গীতিকথার এক জাদুকর" প্রবন্ধে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
দুর্জয় শপথের আগুনে
পদ্মা-মেঘনা আজ দুরন্ত দুর্বার
দুর্জয় শপথের আগুনে
পদ্মা-মেঘনা আজ দুরন্ত দুর্বার
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
বাংলার মাটি আজ দুর্জয়
দুর্জয় প্রতিরোধ দুর্গ
পালাবার পথ নেই নেই আর, নেই আর
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
সংগ্রামী জনতার ঐক্য
সংগ্রামী জনতার ঐক্য
এপার ওপার গড়ে বিপ্লবী সখ্য ঐক্য
জনতার ঐক্য জনতার ঐক্য
সংগ্রামী জনতার ঐক্য
এপার ওপার গড়ে বিপ্লবী সখ্য ঐক্য
জনতার ঐক্য জনতার ঐক্য
দানবের দম্ভ ভাঙতে
নতুন প্রভাত ছিঁড়ে আনতে
দানবের দম্ভ ভাঙতে
নতুন প্রভাত ছিঁড়ে আনতে
মুক্তি সেনানী সব প্রস্তুত
মুক্তি সেনানী সব প্রস্তুত
হাতে হাতে বেয়নেট তৈয়ার তৈয়ার
হাতে হাতে বেয়নেট তৈয়ার তৈয়ার
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার! হুঁশিয়ার!
এবার উঠেছে মহাঝড় আলোড়ন
বাংলার ঘরে ঘরে
জ্বলছে আগুন বাংলার জনপদে
স্বপ্নেতে ঘেরা আমার শান্ত নীড়ে
এবার উঠেছে মহাঝড় আলোড়ন
বাংলার ঘরে ঘরে
জ্বলছে আগুন বাংলার জনপদে
স্বপ্নেতে ঘেরা আমার শান্ত নীড়ে
এবার উঠেছে মহাঝড় আলোড়ন
ঠিকানা আমার রক্তের প্রান্তরে
সঙ্গীত মোর বজ্র কণ্ঠস্বরে
ঠিকানা আমার রক্তের প্রান্তরে
সঙ্গীত মোর বজ্র কণ্ঠস্বরে
জন্ম আমার পদ্মা নদীর পাড়ে
জন্ম আমার পদ্মা নদীর পাড়ে
জ্বলছে আগুন বাংলার জনপদে
স্বপ্নেতে ঘেরা আমার শান্ত নীড়ে
এবার উঠেছে মহাঝড় আলোড়ন
এবার উঠেছে মহাঝড় আলোড়ন কথা - কবি প্রণোদিৎ কুমার বড়ুয়া। সুর: আপেল মাহমুদ। কণ্ঠশিল্পী: করবী নাথ, অংশুমান রায়, আবদুল জব্বার,
আপেল মাহমুদ ও অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ। ১৯৭২ সালে 'হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি'র থেকে প্রকাশিত "বিক্ষুব্ধ বাংলা" রেকর্ডের গান। এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে
HINDUSTHAN MUSIC YouTube Channel. । গানটি শুনে লেখা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরের বছর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় "হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি"র থেকে
"বিক্ষুব্ধ বাংলা" নামে ১১টি গানের সংকলন। কণ্ঠশিল্পীরা ছিলেন করবী নাথ, অংশুমান রায়, আপেল মাহমুদ ও সহশিল্পীবৃন্দ। ভাষ্যপাঠে প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী ও সংবাদ
পাঠক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগীত পরিচালনা করেন আপেল মাহমুদ ও মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার
কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
মুক্তির পথে আমরা চলেছি যাত্রী
সমুখে বিঘ্ন হিংস্র তমসা রাত্রি
মুক্তির পথে আমরা চলেছি যাত্রী
সমুখে বিঘ্ন হিংস্র তমসা রাত্রি
এবার শপথ মৃত্যু অথবা মুক্তি
মানি না আমরা গোলামির কোনো যুক্তি
এবার শপথ মৃত্যু অথবা মুক্তি
মানি না আমরা গোলামির কোনো যুক্তি
আমরা জেগেছি মুজিব কণ্ঠস্বরে
আমরা জেগেছি মুজিব কণ্ঠস্বরে
জ্বলছে আগুন বাংলার জনপদে
স্বপ্নেতে ঘেরা আমার শান্ত নীড়ে
এবার উঠেছে মহাঝড় আলোড়ন
বাংলার ঘরে ঘরে
জ্বলছে আগুন বাংলার জনপদে
স্বপ্নেতে ঘেরা আমার শান্ত নীড়ে
এবার উঠেছে মহাঝড় আলোড়ন
রক্তের প্রতিশোধ রক্তেই নেবে তোমরা
রক্তের প্রতিশোধ রক্তেই নেবো আমরা
রাত্রির অন্ধকারে আলোর অভিযাত্রীরা
তোমার মায়ের ভায়ের বোনের পরে অন্যায়
অবিচার হত্যার উত্সবে মিলেছে দস্যুরা
রক্তের প্রতিশোধ রক্তেই নেবে তোমরা
রক্তের প্রতিশোধ রক্তেই নেবো আমরা
রক্তেই নেবো আমরা রক্তেই নেবো আমরা
তোমার মায়ের হাসি ধানের সবুজ শীষ
ঘৃণ্য পশুর ঘায়ে এক হয়ে গেছে ভুলো না
না না না না
তোমার সবুজ গাঁও স্নিগ্ধ নদীর জল
দস্যুর আঘাতে রক্তে লাল হলো ভুল না
প্রতিশোধ নেবো আমরা
প্রতিশোধ নেবো আমরা
সঙ্গিন সঙ্গী মোদের
রক্তে লিখে যাবো নতুন ইস্তেহার আমরা
সঙ্গিন সঙ্গী মোদের
রক্তে লিখে যাবো নতুন ইস্তেহার আমরা
রাত্রির অন্ধকারে আলোর অভিযাত্রীরা
রক্তের প্রতিশোধ রক্তেই নেবো কথা ও সুর: কবি আপেল মাহমুদ। কণ্ঠশিল্পী: অংশুমান রায়, আপেল মাহমুদ, করবী নাথ ও সমবেত শিল্পীবৃন্দ।
১৯৭২ সালে 'হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি'র থেকে প্রকাশিত "বিক্ষুব্ধ বাংলা" রেকর্ডের গান। এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে HINDUSTHAN MUSIC YouTube Channel. ।
গানটি শুনে লেখা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরের বছর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় "হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি"র থেকে "বিক্ষুব্ধ বাংলা" নামে ১১টি গানের
সংকলন। কণ্ঠশিল্পীরা ছিলেন করবী নাথ, অংশুমান রায়, আপেল মাহমুদ ও সহশিল্পীবৃন্দ। ভাষ্যপাঠে প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী ও সংবাদ পাঠক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়।
সংগীত পরিচালনা করেন আপেল মাহমুদ ও মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। গানটি শুনে লেখা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
তোমার মায়ের ভাইয়ের বোনের পরে অন্যায়
অবিচার হত্যার উত্সবে মিলেছে দস্যুরা
রক্তের প্রতিশোধ রক্তেই নেবে তোমরা
রক্তের প্রতিশোধ রক্তেই নেবো আমরা
রক্তেই নেবো আমরা রক্তেই নেবো আমরা
ইতিহাস জানো তুমি, আমরা
আমরা পরাজিত হই নি
সূর্য পাতাল হতে আমরা
জীবন জয়ের পথে কভু থামিনি
ইতিহাস জানি সবই আমরা
অগ্নিদাহনে জ্বলে তোমার স্নেহের নীড়
পথে পথে সব নিরন্নদের ভীড় ভুলো না
না না না না
সদ্য বধুর লাঞ্ছিতা বাসরঘর,
তোমার শিশুর হত্যার উৎসব ভুলো না
না না না না
প্রতিশোধের অগ্নি জ্বলুক চারিদিকে
ছিন্নভিন্ন নিশ্চিহ্ন করবো
শত্রুর ছাউনি আমরা
প্রতিশোধের অগ্নি জ্বলুক চারিদিকে
ছিন্ন ভিন্ন নিশ্চিহ্ন করবো
শত্রুর ছাউনি আমরা
রাত্রির অন্ধকারে আলোর অভিযাত্রীরা
তোমার মায়ের ভাইয়ের বোনের পরে অন্যায়
অবিচার হত্যার উত্সবে মিলেছে দস্যুরা
রক্তের প্রতিশোধ রক্তেই নেবে তোমরা
রক্তের প্রতিশোধ রক্তেই নেবো আমরা
রক্তেই নেবো আমরা রক্তেই নেবো আমরা
এ ঘর দুর্গ ও ঘর দুর্গ
প্রাণে প্রাণে বহ্নি দুর্বার
. এ নহে ফানুস
. বাংলার মানুষ
তুলেছে প্রাণের ঝংকার।
যুগে যুগে জীবন পথে সয়ে বিষম জ্বালা
. নিয়েই সূর্য শপথ
. লালে লাল হোক না এ পথ
এবার মোদের জীবন দিয়ে জীবন গড়ার পালা
. নাই শক্তি পথ রুধিবার॥
দিকে দিকে জীবন পথে আঁকি জযটীকা
. আঁধার এ বন্দীশালায়
. মানি না সন্ধি চলার
ক্ষুব্ধতা আজ সবার চোখে ছড়ায় অগ্নিশিখা
চাই মুক্তি---বাঁচার অধিকার।
এ ঘর দুর্গ, ও ঘর দুর্গ কথা কবি শহীদুল ইসলাম। সুর: আপেল মাহমুদ। কণ্ঠশিল্পী: করবী নাথ, অংশুমান রায়
ও সমবেত শিল্পীবৃন্দ। ১৯৭২ সালে 'হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি'র থেকে প্রকাশিত "বিক্ষুব্ধ বাংলা" রেকর্ডের গান।
এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে HINDUSTHAN MUSIC YouTube Channel. । বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরের বছর
১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় "হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি"র থেকে "বিক্ষুব্ধ বাংলা" নামে ১১টি গানের সংকলন। কণ্ঠশিল্পীরা
ছিলেন করবী নাথ, অংশুমান রায়, আপেল মাহমুদ ও সহশিল্পীবৃন্দ। ভাষ্যপাঠে প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী ও সংবাদ পাঠক
দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগীত পরিচালনা করেন আপেল মাহমুদ ও মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭
সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা
বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। গানের কথা এই গ্রন্থ থেকেই নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
আমি এক বাংলার মুক্তিসেনা
মৃত্যুর পথ চলিতে
ভয় করি না ভয় করি না
মৃত্যুরে পায়ে দলে চলি হাসিতে
আমি এক বাংলার মুক্তিসেনা
মৃত্যুর পথ চলিতে
ভয় করি না ভয় করি না
মৃত্যুরে পায়ে দলে চলি হাসিতে
আমি এক বাংলার মুক্তিসেনা
মৃত্যুর পথ চলিতে
দুঃসহ জীবনের রাহমুক্তি
প্রাণে মেখে সূর্যের নবশক্তি
বজ্র শপথে নেমেছি এ যুদ্ধে
বাংলার জয় হবে নিশ্চয়
বাংলার জয় হবে নিশ্চয়
আমি এক বাংলার মুক্তিসেনা কথা কবি নেওয়াজিস হোসেন। সুর: আপেল মাহমুদ (সম্ভবত), “স্বাধীন বাংলা বেতার
কেন্দ্রের গান” সংকলনে সুরকারের নাম মোঃ আব্দুল জব্বার দেওয়া আছে। কণ্ঠশিল্পী: করবী নাথ, অংশুমান রায় ও সমবেত শিল্পীবৃন্দ।
১৯৭২ সালে 'হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি'র থেকে প্রকাশিত "বিক্ষুব্ধ বাংলা" রেকর্ডের গান। এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে HINDUSTHAN
MUSIC YouTube Channel. । বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরের বছর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় "হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি"র থেকে
"বিক্ষুব্ধ বাংলা" নামে ১১টি গানের সংকলন। কণ্ঠশিল্পীরা ছিলেন করবী নাথ, অংশুমান রায়, আপেল মাহমুদ ও সহশিল্পীবৃন্দ। ভাষ্যপাঠে
প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী ও সংবাদ পাঠক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগীত পরিচালনা করেন আপেল মাহমুদ ও মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।
গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন
বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। গানের কথা শুনে লেখা। উল্লেখনীয় এই যে গ্রন্থের ৫১২-পৃষ্ঠার পাদটীকায় রয়েছে
যে ১৯৭১ সালে নেওয়াজিস হোসেনের বয়স ১৫ বছরের বেশি ছিল না!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
বাংলার তরে আমি সঁপেছি এ মন
নেই জ্বালা হাহাকার নেই হুতাশন
রক্তে রাঙা আজ বিপ্লবী মন
ক্ষমা নেই বাংলার গণদুশমন
বজ্রের তূর্যে সূর্যের মন্ত্রে
বজ্রের তূর্যে সূর্যের মন্ত্রে
মারব এবার মরব না আর
মারব এবার মরব না আর
চলেছি যে শত্রুকে পায়ে দলিতে
আমি এক বাংলার মুক্তিসেনা
মৃত্যুর পথ চলিতে
ভয় করি না ভয় করি না
মৃত্যুরে পায়ে দলে চলি হাসিতে
মৃত্যুরে পায়ে দলে চলি হাসিতে
মৃত্যুরে পায়ে দলে চলি হাসিতে
চলেছি এ দুর্জয় মুক্তির পথে
আমি এক বাংলার মুক্তিসেনা
মৃত্যুর পথ চলিতে
বাংলার তরে আমি সঁপেছি এ মন
নেই জ্বালা হাহাকার নেই হুতাশন
জন্ম আমার ধন্য হলো
জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো
এমন করে আকুল হয়ে আমায় তুমি ডাকো
জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো
এমন করে আকুল হয়ে আমায় তুমি ডাকো
তোমার কথায় হাসতে পারি,
তোমার কথায় কাঁদতে পারি
তোমার কথায় হাসতে পারি,
তোমার কথায় কাঁদতে পারি
বলতে পারি তোমার বুকে
বলতে পারি তোমার বুকে
ঘুমিয়ে যদি রাখ আমায়
ঘুমিয়ে যদি রাখ মাগো
এমন করে আকুল হয়ে আমায় তুমি ডাকো
জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো
এমন করে আকুল হয়ে আমায় তুমি ডাকো
জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো কথা কবি নঈম গওহর। সুর: আজাদ রহমান। শিল্পী: ফিরোজা বেগম, সাবিনা ইয়াসমিন, মোহাম্মদ আলী ও অন্যান্য
শিল্পীবৃন্দ। গানটি ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের করাচিতে "ইএমআই" স্টুডিওতে রেকর্ড করা হয়েছিল। এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে Niharika YouTube Channel. ।
উল্লেখনীয় এই যে শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের তখন মাত্র ১৮ বছর বয়স ছিল!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
তোমার প্রেমে তোমার গন্ধে পরাণ ভরে রাখি
তোমার প্রেমে তোমার গন্ধে পরাণ ভরে রাখি
এই তো আমার জীবন মরণ এমনি যেন থাকি
তোমার প্রেমে তোমার গন্ধে পরাণ ভরে রাখি
এই তো আমার জীবন মরণ এমনি যেন থাকি
বুকে তোমার
বুকে তোমার ঘুমিয়ে গেলে
জাগিয়ে দিয়ো নাকো আমায়
জাগিয়ে দিয়ো নাকো মাগো
এমন করে আপন হয়ে আমায় তুমি ডাকো
জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো
জন্ম আমার ধন্য হলো
জন্ম আমার ধন্য হলো . . .
তোমার কথায় কথা বলি পাখির গানের মতো
তোমার কথায় কথা বলি পাখির গানের মতো
তোমার দেখায় বিশ্ব দেখি বল কত শত
তোমার কথায় কথা বলি পাখির গানের মতো
তোমার দেখায় বিশ্ব দেখি বল কত শত
তুমি আমার
তুমি আমার খেলার পুতুল
তুমি আমার খেলার পুতুল আমার পাশে থাকো মাগো
আমার পাশে থাকো মাগো
এমন করে আকুল হয়ে আমায় তুমি ডাকো
জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো
এমন করে আকুল হয়ে আমায় তুমি ডাকো
ও বগিলারে,
কেন বা আলু বাংলাদেশে মাছের আশা নিয়া
কেন বা আলু বাংলাদেশে মাছের আশা নিয়া
শিয়াল কান্দে, কুত্তা কান্দে, কান্দে ইয়াহিয়া হায়
ঘরত বসি ফুফরি কান্দে ভুট্টো বড় মিয়া
কান্দে ভুট্টো বড় মিয়া
ও বগিলারে
আপন ফান্দে আপনি বন্দি টিক্কার চৌখত পানি
আরে, আপন ফান্দে আপনি বন্দি টিক্কার চৌখত পানি
আন্ধার দ্যাখে মাইরের চোটে
আন্ধার দ্যাখে মাইরের চোটে, মিছাই বন্দুক টানি
হায় হায় মিছাই বন্দুক টানি
হায় হায় মিছাই বন্দুক টানি
বৈশাখ জ্যাঠে বাংলার মাটি ঠুকরি ভাংলু গাহার।
আষাড় মাসে কাদোৎ পড়ি
হলু নাজেহাল, ও তুই হলু নাজেহাল
শাওন মাসে ফালগুন ছাড়ি
নেংটি করলুঁ ছাড়
বৈঠার গুঁতাৎ বাপরে মারে
জান বাঁচে না আর
ও তোর জান বাঁচে না আর
ও বগিলা রে কথা কবি হরলাল রায়। সুরকার ও শিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়। ১৯৭১ সালে "স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র" থেকে সম্প্রচারিত গান। গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭
সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। পাঠক
ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে। গানের কথা শুনে লেখা। এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে Md. Mansur Ali Biswas YouTube Channel. ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
কেন বা আলু বাংলাদেশে মাছের আশা নিয়া।
ও কেন বা আলু বাংলাদেশে মাছের আশা নিয়া
ও বগিলা রে
কেন বা আলু বাংলাদেশে মাছের আশা নিয়া।
মরদ মরদ কাওলাস খালি
কেমন তোর মরদানি ঐ
ও মরদ মরদ কাওলাস খালি
কেমন তোর মরদানি
আরে বন্দুক ছাড়ি ঘর উদাসী
হেই বন্দুক ছাড়ি ঘর উদাসী
বউয়ের আগে কেরদানি
বৈঠার গুঁতাৎ কোমর ভাংগী ছেচির জলে মিয়া
হাত ধরিয়া কান্দে এখন ভুট্টো-ইয়হিয়া, টিক্কা-ইয়াহিয়া
ভুট্টো-ইয়হিযা
অনেক রক্ত দিয়েছি আমরা
দেবো যে আরো, এ জীবন পণ
আকাশে বাতাসে লেগেছে কাঁপন
আয়রে বাঙালি ডাকিছে রণ
অনেক রক্ত দিয়েছি আমরা
দেবো যে আরো, এ জীবন পণ
আকাশে বাতাসে লেগেছে কাঁপন
আয়রে বাঙালি ডাকিছে রণ
অনেক রক্ত দিয়েছি আমরা
দেবো যে আরো, এ জীবন পণ
আকাশে বাতাসে লেগেছে কাঁপন
আয়রে বাঙালি ডাকিছে রণ
ঘরে ঘরে ঐ জ্বলছে অগ্নিশিখা
শহীদের খুনে লিখছে রক্ত লেখা
ঘরে ঘরে ঐ জ্বলছে অগ্নিশিখা
শহীদের খুনে লিখছে রক্ত লেখা
আঘাতে আঘাতে ভেঙ্গেদে পাহাড়
ভেঙেদে ওরে বন্ধুগন
আঘাতে আঘাতে ভেঙ্গেদে পাহাড়
ভেঙেদে ওরে বন্ধুগন
অনেক রক্ত দিয়েছি আমরা কথা কবি টি. এইচ. শিকদার। সুরকার ও শিল্পী: মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। ১৯৭১ সালে "স্বাধীন বাংলা
বেতার কেন্দ্র" থেকে সম্প্রচারিত গান। গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান
দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। পাঠক ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে।
গানটি বিপ্রদাশ বড়ুয়া সংকলিত ও সম্পাদিত “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও শব্দসৈনিক” গ্রন্থে সংকলিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রচারিত গানেও
সংকলিত হয়েছে (পৃষ্ঠা ৫১২-৫২৭)। গানের কথা শুনে লেখা। এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে Neazul, Lost World YouTube Channel. ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
ভেঙেদে ভেঙেদে পথের বাঁধন
ওরে ও বাঙ্গালি শোন্ রে শোন
অনেক রক্ত দিয়েছি আমরা
দেবো যে আরো এ জীবন পণ
আকাশে বাতাসে জেগেছে কাঁপন
আয়রে বাঙালি ডাকিছে রণ
আয়রে বাঙালি ডাকিছে রণ
আয়রে বাঙালি ডাকিছে রণ
অনেক রক্ত দিয়েছি আমরা
দেবো যে আরো, এ জীবন পণ
আকাশে বাতাসে লেগেছে কাঁপন
আয়রে বাঙালি ডাকিছে রণ
দিকে দিকে তোরা আয়রে সর্বহারা,
মুক্তি শপথে ভেঙ্গেদে বন্দি কারা
দিকে দিকে তোরা আয়রে সর্বহারা,
মুক্তি শপথে ভেঙ্গেদে বন্দি কারা
ভেঙেদে ভেঙেদে পথের বাঁধন
ওরে ও বাঙ্গালি শোন্ রে শোন
ছোটদের বড়দের সকলের
ছোটদের বড়দের সকলের
গরিবের নিঃস্বের ফকিরের
আমার এ দেশ,
সব মানুষের, সব মানুষের সব মানুষের
বড়দের ছোটদের সকলের
ছোটদের বড়দের সকলের
গরিবের নিঃস্বের ফকিরের
আমার এ দেশ,
সব মানুষের, সব মানুষের সব মানুষের
নেই ভেদাভেদ হেথা চাষা আর চামারে
নেই ভেদাভেদ হেথা কুলি আর কামারে
নেই ভেদাভেদ হেথা চাষা আর চামারে
নেই ভেদাভেদ হেথা কুলি আর কামারে
হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান
হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান
দেশ মাতা এক সকলের
ছোটদের বড়দের সকলের কথা আলী-মহসিন-রাজা, সুর খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়া রথীন্দ্রনাথ রায়, শিল্পী - রথীন্দ্রনাথ রায়। গানটি লিখেছিলেন বন্দে আলী, মহসিন আলী এবং জেড এ
রাজা মিলে। এই তিনজনে মিলে গীতিকারের নাম আলী-মহসিন-রাজা। গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ১৯৭১ সালে রেকর্ড করা হয়। gaanwala YouTube Channel এর তথ্য অনুযায়ী গানটি
১৯৬৪ সালে রচনা করা হয়েছিল। গানটি শুনে লেখা। ভিডিওটি সৌজন্যে Arshad Ali YouTube Channel. ।
গানটি বিপ্রদাশ বড়ুয়া সংকলিত ও সম্পাদিত “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও শব্দসৈনিক” গ্রন্থে সংকলিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রচারিত গানে সংকলিত হয়েছে (পৃষ্ঠা ৫১২-৫২৭)। গানটি ফেব্রুয়ারী
২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনেরও অন্তর্ভুক্ত। পাঠক ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি
পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
ছোটদের বড়দের সকলের
ছোটদের বড়দের সকলের
গরিবের নিঃস্বের ফকিরের
আমার এ দেশ
সব মানুষের, সব মানুষের, সব মানুষের
বড়দের ছোটদের সকলের
ছোটদের বড়দের সকলের
গরিবের নিঃস্বের ফকিরের
আমার এ দেশ,
সব মানুষের, সব মানুষের সব মানুষের
নেই ভেদাভেদ হেথা চাষা আর চামারে
নেই ভেদাভেদ হেথা কুলি আর কামারে
নেই ভেদাভেদ হেথা চাষা আর চামারে
নেই ভেদাভেদ হেথা কুলি আর কামারে
হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান
হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান
দেশ মাতা এক সকলের
লাঙ্গলের সাথে আজ চাকা ঘোরে এক তালে
এক হয়ে মিশে গেছি আমরা সে যে কোন কালে
লাঙ্গলের সাথে আজ চাকা ঘোরে এক তালে
এক হয়ে মিশে গেছি আমরা সে যে কোন কালে
মন্দির, মসজিদ, গির্জার আবাহনে
মন্দির, মসজিদ, গির্জার আবাহনে
বাণী শুনি একই সুরের
চাষাদের মুটেদের মজুরের
চাষাদের মুটেদের মজুরের
গরিবের নিঃস্বের ফকিরের
আমার এ দেশ,
সব মানুষের, সব মানুষের, সব মানুষের
ছোটদের বড়দের সকলের
ছোটদের বড়দের সকলের
গরিবের নিঃস্বের ফকিরের
আমার এদেশ
সব মানুষের, সব মানুষের, সব মানুষের
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম
অনাচার অবিচার শোষণের বিরুদ্ধে
অনাচার অবিচার শোষণের বিরুদ্ধে
বিদ্রাহ-বিক্ষোভ-ঝংকার-হুংকার
আমরণ সংঘাত
আমরণ সংঘাত প্রচণ্ড উদ্দাম
সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম
সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম
অনাচার অবিচার শোষণের বিরুদ্ধে
অনাচার অবিচার শোষণের বিরুদ্ধে
বিদ্রাহ-বিক্ষোভ-ঝংকার-হুংকার
আমরণ সংঘাত
আমরণ সংঘাত প্রচণ্ড উদ্দাম
সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম
সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম
সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম
সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম কথা - কবি শহীদুল ইসলাম, সুর - সুজেয় শ্যাম, সমবেত কণ্ঠে গীত। বিপ্রদাশ বড়ুয়া সংকলিত ও সম্পাদিত “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও
শব্দসৈনিক” গ্রন্থে সংকলিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রচারিত গান (পৃষ্ঠা ৫১২-৫২৭)। ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ
হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনেও অন্তর্ভুক্ত। পাঠক ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে। গানটি শুনে লেখা।
ভিডিওটি সৌজন্যে Neazul, Lost World YouTube Channel. ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
যারা মানুষের রত চুষে,
মনুষের মাঝে আনে ব্যনধান
যারা মানুষের রত চুষে,
মনুষের মাঝে আনে ব্যনধান
যারা পৃথিবীর কলঙ্ক কালিমা,
কেড়ে নেয় মা-বোনের সম্মান
এসো দীপ্তশপথে আজ আঘাতে আঘাতে
এসো দীপ্তশপথে আজ আঘাতে আঘাতে
তাদের করি খান খান
ক্ষমতা দম্ভ লোভ লালাসায় যারা
জনতার অধিকার করে খর্ব
ঘরে ঘরে গড়েছি দুর্জয় প্রতিরোধ দুর্গ
তাদের আজ প্রতিহত করবোই করবো
প্রতিহত করবোই করবো
প্রতিহত করবোই করবো
প্রতিহত করবোই করবো
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম
বাঁচার জন্য ভয় সংশয় রেখে
প্রতিজ্ঞা করেছি আজ মোরা লড়বো
বাঁচার জন্য ভয় সংশয় রেখে
প্রতিজ্ঞা করেছি আজ মোরা লড়বো
কাটিয়ে জীবনের দুর্যোগ ঝরা রাত্রি
কাটিয়ে জীবনের দুর্যোগ ঝরা রাত্রি
নতুন এক পৃথিবী গড়বোই গড়বো
আমরা লড়বোই লড়বো
পৃথিবী গড়বোই গড়বো
আমরা লড়বোই লড়বো
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম
অনাচার অবিচার শোষণের বিরুদ্ধে
অনাচার অবিচার শোষণের বিরুদ্ধে
বিদ্রাহ-বিক্ষোভ-ঝংকার-হুংকার
আমরণ সংঘাত
আমরণ সংঘাত প্রচণ্ড উদ্দাম
সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম
সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম
সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম
সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম
ব্যারিকেড বেয়নেট বেড়াজাল
পাকে পাকে তড়পায় সমকাল
মারীভয় সংশয় ত্রাসে
অতিকায় অজগর গ্রাসে
মানুষের কলিজা
ছেঁড়ে খুড়ে খাবলায়
খাবলায় নরপাল॥
ব্যারিকেড বেয়নেট বেড়াজাল
ঘুম নয় এই খাঁটি ক্রান্তি
ভাঙো ভাই খোয়ারির ক্লান্তি
হালখাতা বৈশাখে
শিষ দেয় সৈনিক হরিয়াল॥
ব্যারিকেড বেয়নেট বেড়াজাল
ব্যারিকেড বেয়নেট বেড়াজাল
পাকে পাকে তড়পায় সমকাল
মারীভয় সংশয় ত্রাসে
অতিকায় অজগর গ্রাসে
মানুষের কলিজা
ছেঁড়ে খুড়ে খাবলায়
খাবলায় নরপাল॥
ব্যারিকেড বেয়নেট বেড়াজাল
ব্যারিকেড বেয়নেট বেড়াজাল কথা - কবি আবুবকর সিদ্দিকী, সুর ও স্বরলিপি - সাধন সরকার। বিপ্রদাশ
বড়ুয়া সংকলিত ও সম্পাদিত “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও শব্দসৈনিক” গ্রন্থে সংকলিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রচারিত
গান (পৃষ্ঠা ৫১২-৫২৭)। গানটি শুনে লেখা। গানটি শুনুন নিহাররঞ্জন হাওলাদারের কণ্ঠে, ভিডিওটি সৌজন্যে Ganoshongrami Nihar
YouTube Channel. ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
সংগ্রামী ব্যালাডে
ডাক দেয় কমরেড কবিয়াল
ব্যারিকেড বেয়নেট বেড়াজাল
পাকে পাকে তড়পায় সমকাল
মারীভয় সংশয় ত্রাসে
অতিকায় অজগর গ্রাসে
মানুষের কলিজা
ছেঁড়ে খুড়ে খাবলায়
খাবলায় নরপাল
ব্যারিকেড বেয়নেট বেড়াজাল
দুর্বার বন্যার তোড়জোড়
মুখরিত করে এই রাঙা ভোর
দুর্বার বন্যার তোড়জোড়
মুখরিত করে এই রাঙা ভোর
নায়ে ঠেলা মারো হেই এইবার
তোলো পাল তোলো পাল ধরো হাল॥
নায়ে ঠেলা মারো হেই এইবার
তোলো পাল তোলো পাল ধরো হাল॥
কড়া হাতে ধরে আছি কবিতার
হাতিয়ার কলমের তলোয়ার
কড়া হাতে ধরে আছি কবিতার
হাতিয়ার কলমের তলোয়ার
তোমার নেতা শেখ মুজিব,
আমার নেতা শেখ মুজিব,
দেশের নেতা শেখ মুজিব,
দশের নেতা শেখ মুজিব,
আহা বাংলা মা’র কোল কইরাছে উজল।
বাংলা মা’র কোল কইরাছে উজল।
ওরে মনের আশা আল্লায় তাঁরে কইরা দিক সফল রে
আশার আলো করতাছে ঝলমল,
ও দ্যাখো আশার আলো করতাছে ঝলমল॥
সবার নেতা শেষ মুজিব,
আশার নেতা শেখ মুজিব,
যুগের নেতা শেখ মুজিব,
দিশার নেতা শেখ মুজিব,
আজি নেতার নেতা হইছে শেখের ব্যাটা হায়।
নেতার নেতা হইছে শেখের ব্যাটা।
ওই ওরে সাবাস ব্যাটার বুকের পাটা, যেমন বিজলী ঠাটা রে
চুকবে যত সমস্যার ল্যাটা,
ও এবার চুকবে যত সমস্যার ল্যাটা॥
তোমার নেতা শেখ মুজিব কথা ও সুর - কবি হাফিজুর রহমান। হাফিজুর রহমান, সরদার আলাউদ্দীন, রথীন্দ্রনাথ রায়, শাহিন, জলি, লিলি প্রমুখ
কণ্ঠযোদ্ধার কণ্ঠে ১৯৭১ সালে 'এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি' থেকে প্রকাশিত গান। গানটির ভিডিও, সৌজন্যে Tar Taranagu YouTube Channel. । গানের কথা
আমরা পেয়েছি বিপ্রদাশ বড়ুয়া সংকলিত ও সম্পাদিত “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও শব্দসৈনিক” গ্রন্থে সংকলিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রচারিত গান থেকে
(পৃষ্ঠা ৫১২-৫২৭)। এবং গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন
বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনেও অন্তর্ভুক্ত। এখানে রচয়িতার নাম রয়েছে কবি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী যা সঠিক নয়। পাঠক ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি
পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
হাইলার বন্ধু শেখ মুজিব,
জাইলার বন্ধু শেখ মুজিব,
কুলির বন্ধু শেখ মুজিব,
ঢুলির বন্ধু শেখ মুজিব,
ভাই এমন বন্ধুর তুলনা আর নাই।
এমন বন্ধুর তুলনা আর নাই।
ওই ওরে নিজের প্রাণ বিলাইযা করে দ্যাশেরি ভালাই রে,
আইসো ভাই তাঁর কাতারে দাঁড়াই
ও এবার আইসো ভাই তাঁর কাতারে দাঁড়াই॥
তোমার নেতা শেখ মুজিব,
আমার নেতা শেখ মুজিব,
দেশের নেতা শেখ মুজিব,
দশের নেতা শেখ মুজিব,
সবার নেতা শেষ মুজিব,
আশার নেতা শেখ মুজিব,
যুগের নেতা শেখ মুজিব,
দিশার নেতা শেখ মুজিব,
হাইলার বন্ধু শেখ মুজিব,
জাইলার বন্ধু শেখ মুজিব,
কুলির বন্ধু শেখ মুজিব,
ঢুলির বন্ধু শেখ মুজিব . . .
বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা
আজ জেগেছে এই জনতা
তোমার গুলির তোমার ফাঁসির
তোমার কারাগারের পেষণ
শুধবে তারা ওজনে তা --- এই জনতা॥
তোমার সভায় আমীর যারা
ফাঁসির কাঠে ঝুলবে তারা
তোমার রাজা মহারাজ করজোড়ে মাগবে বিচার
ঠিক জেনো তা --- এই জনতা॥
তারা নতুন প্রাতে প্রাণ পেয়েছে
তারা ক্ষুদিরামের রক্তবীজে প্রাণ পেয়েছে
তারা জালিয়ানের রক্তস্নানে প্রাণ পেয়েছে
তারা গুলির ঘায়ে কলজে ছিঁড়ে প্রাণ পেয়েছে
প্রাণ পেয়েছে এই জনতা॥
নিঃস্ব যারা সর্বহারা, তোমার বিচারে
সেই নিপিড়িত জনগণের পায়ের ধারে
ক্ষমা তোমায় চাইতে হবে নামিয়ে মাথা হে বিধাতা
রক্ত দিয়ে শুধতে হবে নামিয়ে মাথা হে বিধাতা।
ঠিক জেনো তা --- এই জনতা॥
বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা কথা ও সুর - কবি সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে গানটি প্রচারিত
হয় শিল্পী আব্দুল লতিফ (?) ও সহ শিল্পীবৃন্দের কণ্ঠে, ভিডিওটি সৌজন্যে BUSHRA CHANNEL YouTube Channel । শিল্পী - সলিল চৌধুরী, সবিতা চৌধুরী, অভিজিত
বন্দ্যোপাধ্যায়, অনল চট্টোপাধ্যায়, প্রবীর মজুমদার গেয়েছিলেন কলকাতা দূরদর্শনের একটি অনুষ্ঠানে। ভিডিওটি সৌজন্যে Hemanta Mukherjee & His Contemporaries YouTube
Channel. গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান”
সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। পাঠক ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে। গানটি আজাদ হিন্দ ফৌজের বন্দীদের বিচার নিয়ে লেখা তাঁর প্রথম গণসংগীত।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
আমার দেশের মান দেব না প্রাণ থাকিতে॥
সোনার দেশ যদি মোর না আর চে
আমি পারব না যে বাচিতে,
পরাণ থাকিতে ॥
এমন পরাণ জুড়ানো শীতল চাযা
কোথায় আছে সবুজ মাযারে,
এমন শস্য-শ্যামল জন্মভূমি
বলো পারে কি কেউ ভুলিতে,
থা বাচিতে।
'আমার ভাইয়ের রক রাঙা ভুমি
(বোনকে ওরা করলো ধূলি রে
মার আর্তনাদ কাদে ভুবন
ও ভাই পারে না আর সহিতে ॥
রা থাকিতে।
অনেক না এই বুকে আছে
দুঃখ বিনে সুখ কি আসে রে,
বার কারা চেপে করতে হবে রে,
ক্ষয় হানাদার এ দসাকে।
শরণ থাকিতে।
আমার দেশের মান দেব না প্রাণ থাকিতে কথা ও সুর - কবি শহীদুল ইসলাম, সুরঃ প্রচলিত,
শিল্পী - মোঃ আব্দুল জব্বার। গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৭১ সালে। গানটি
ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত,
“স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। এই গ্রন্থে কথা ও সুর - কবি সলিল চৌধুরী দেওয়া রয়েছে, যা
সঠিক নয়। পাঠক ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে। ভিডিওটি সৌজন্যে Arshad Ali
YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
হায়, শেখ মুজিবর, সত্য যুগের সত্য রাজা
প্রকাশ হয়েছে চার যুগের শেষে
ভবনদী পার করিতে জয় বাংলা নৌকা
বাংলায় ভাসায়েছে জয়
জয় বাংলা নৌকা
বাংলায় ভাসায়েছে
চার যুগের শেষে
হায়, শেখ মুজিবর, সত্য যুগের সত্য রাজা
প্রকাশ হয়েছে চার যুগের শেষে
হায় মন মোহিনী শেখ মুজিবর
জগতের মন হোরে নেছে
হায় মন মোহিনী শেখ মুজিবর
জগতের মন হোরে নেছে
সারা দুনিয়ার মুক্তি দিতে
সারা দুনিয়ার মুক্তি দিতে
মুক্তিবাহিনী সঙ্গে লয়ে বাংলায়
জন্ম নিয়েছে চার যুগের শেষে
শেখ মুজিবর, সত্য যুগের সত্য রাজা কথা, সুর ও শিল্পী - বাউল কবি তোরাব আলী শাহ্। গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার
কেন্দ্রে রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৭১ সালে। বিশ্ববরেণ্য সংগীত সংগ্রাহক দেবেন ভট্টাচার্য সংগৃহীত এই গানটির আলোকে ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬৬,
১৯৬৯, ১৯৭০ ও ১৯৭১-এর ঘটনাবহুল ইতিহাস এবং শেখ মুজিবুর রহমান-এর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এই প্রামাণ্যচিত্রে বিধৃত হয়েছে। প্রসঙ্গত,
১৯৭১ সালে ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ যোগেও এই গানটি সম্প্রচারিত হয়েছিল। তথ্য সৌজন্যে nahidur rahim chowdhury YouTube Channel.
দুর্ঙাগ্যজনকভাবে এই ভিডিওটির উপর age-restriction রয়েছে বলে আমরা এখানে ভিডিওটি তুলেছি Md. Mansur Ali Biswas YouTube Channel.
থেকে। আমরা তাঁদের সবার কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
হায় শেখ মুজিবর, সত্য যুগের সত্য রাজা
প্রকাশ হয়েছে চার যুগের শেষে
হায় কত রাজা এল গেল
সোনার ও বাংলার জন্যে না কাদিল গো
বাংলায় এসে জন্ম নিল
সারা দুনিয়ার জন্যে কানতেছে
সারা দুনিয়ার জন্যে কানতেছে
চার যুগের শেষে
হায় শেখ মুজিবর সত্য যুগের সত্য রাজা
প্রকাশ হয়েছে চার যুগের শেষে
হায় জগতের জয় সত্য কথার
শেখ মুজিবর বিধির বিধি নেতা
হায় জগতের জয় সত্য কথার
শেখ মুজিবর বিধির বিধি নেতা
তোরাব শাহ্ কয়, বাংলার ব্যথা
শেখ মুজিবর জেনেছে, হায়
শেখ মুজিবর জেনেছে
চার যুগের শেষে
হায় শেখ মুজিবর, সত্য যুগের সত্য রাজা
প্রকাশ হয়েছে চার যুগের শেষে
আহা ধন্য আমার জন্মভূমি
পুণ্য সলিলে
ধন্য আমার জীবন মাগো
জন্মেছি তোর কোলে॥
উষার কিরণ শিয়রে তোর
পাখির গানে গানে
তৃষার বুকে পদ্মা যে ঐ
বইছে কলতানে
অতসী জুঁই গোলাপ বকুল
সাজায় শতদলে॥
বার মাসে তের পাবন
আম কাঁঠালে আষাঢ় শ্রাবণ
অঘ্রানে তোর নতুন ধানে
আশীষ বরিষণ
কবি বিশ্বপ্রিয় চট্টোপাধ্যায়
|
আহা ধন্য আমার জন্মভূমি কথা কবি বিশ্বপ্রিয় চট্টোপাধ্যায়। সুর - সুজেয় শ্যাম। শিল্পী - লিজা। বাংলাদেশ আই টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানের
পরিবেশন। ভিডিওটি সৌজন্যে Impress Audio YouTube Channel. । গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত করা হয়েছিল ১৯৭১ সালে।
গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের
গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। এই গ্রন্থে কথা - কবি রশীদ চৌধুরীর দেওয়া রয়েছে যা সঠিক নয়। পাঠক ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ”
ওয়েবসাইটে। আমরা সবার কাছেই ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
আকাশ ভরা তোর যে হাসি
চাঁদের মুখে ঝরে
সোনার ফসল সোহাগে তোর
সবুজ আঁচল ভরে।
জন্ম আমার হয় যেন মা
তোর ঐ আঁচল তলে॥
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে থেকে প্রচারিত
|
কলকাতা দূরদর্শনের একটি অনুষ্ঠানে
|
Bangladesh Bangladesh
Bangladesh Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh
The story of Bangladesh
Is an ancient one again made fresh
By blind men who carry out commands
Which flow out of the laws upon which nation stands
Which say to sacrifice a people for a land
Bangladesh Bangladesh
Bangladesh Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh
Once again we stand aside
And watch the families crucified
See a teenage mother's vacant eyes
As she watches her feeble baby try
To fight the monsoon rains and the cholera flies
And the students at the university
Asleep at night quite peacefully
The soldiers came and shot them in their beds
And terror took the dorm awakening shrieks of dread
And silent frozen forms and pillows drenched in red
THE SONG OF BANGLADESH Lyricist, Composer and Singer: Joan Baez .
Joan Baez wrote "The Story of Bangladesh" in 1971. This song was based on the Pakistan Army crackdown on unarmed sleeping Bengali students at Dhaka University
on March 25, 1971, which ignited the prolonged nine-month Bangladesh Liberation War. The song was later entitled 'The Song of Bangladesh' and released in a 1972
album titled 'Come From the Shadows' by Chandos Music. The VDO, courtesy of Joan Baez - Topic YouTube Channel.
The background photograph is a darkened collage of famous photos of the Bangladesh War of Liberation or Mukti Juddho, of brave men and women of Bangladesh alongside the photos of the Indian Soldiers whose selfless sacrifice and martyrdom should never be forgotten. This page is the outcome of the research work carried out by Poet Rajesh Datta.
|
|
|
Bangladesh Bangladesh
Bangladesh Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh
Did you read about the army officer's plea
For donor's blood it was given willingly
By boys who took the needles in their veins
And from their bodies every drop of blood was drained
No time to comprehend and there was little pain
And so the story of Bangladesh
Is an ancient one again made fresh
By all who carry out commands
Which flow out of the laws upon which nations stand
Which say to sacrifice a people for a land
Bangladesh Bangladesh
Bangladesh Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh
সুরকার সুজেয় শ্যাম নিজে লিখেছেন -- 'আহা ধন্য আমার
জন্মভূমি' গানটির গীতিকার কবি বিশ্বপ্রিয় চট্টোপাধ্যায়।
তিনি লিখছেন, "স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত আমার
প্রথম সুর করা গান ‘আয় রে চাষা মজুর কুলি মেথর কুমার
কামার’ গানটি। লিখেছিলেন কবি দিলওয়ার। তিনি সিলেটের।
সমবেত কণ্ঠে গাওয়া এই গান নিয়মিত প্রচারিত হতে থাকে।
এর কিছু দিন পর দ্বিতীয় যে গানটি করি, সেটি ‘রক্ত দিয়ে নাম
লিখেছি বাংলাদেশের নাম’ গানটি। লিখেছিলেন আবুল কাশেম
সন্দ্বীপ।
এরপর আমি বেশকিছু গান করি। এর মধ্যে বিশ্বপ্রিয়
চট্টোপাধ্যায়ের লেখা চারটি গান ছিল। প্রথমে তাঁর লেখা ‘আহা
ধন্য আমার জন্মভূমি পুণ্য সলিলে’ গানটি করি। গানটি প্রবাল
চৌধুরী ও কল্যাণী ঘোষ দ্বৈত কণ্ঠে গেয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলা
বেতার কেন্দ্রে আমার সুর করা সব গানই সমবেত। একমাত্র
দ্বৈত গান এটিই। ভদ্রলোকের আরও তিনটা গান করি। ‘আজ
রণ সাজে সাজিয়ে বিষাদ এসেছে বৈশাখ’। তারপর ‘ওরে শোন
রে তোরা শোন’ এবং ‘সইব না আর সইব না’।"
---তথ্যসূত্র . . .
সুজেয় শ্যাম, গানের সুরে আমার মুক্তিযুদ্ধ, প্রথমআলো.কম
ওয়েবসাইট, ২৯ মে ২০২১॥
এই না বাংলাদেশের গান গাইতে রে
দয়াল দুঃখে আমার পরাণ কান্দে রে
চেনা সোনার বাংলা রে আজ রক্তে রক্তে ভরা
চেনা সোনার বাংলা রে আজ রক্তে রক্তে ভরা
মানুষের এই দুঃখ দেইখা
মানুষের এই দুঃখ দেইখা
কান্দে চন্দ্র তারা রে
দয়াল দুঃখে আমার পরাণ কান্দে রে
নদীর দেশে বাংলাদেশে ভাই সবুজ মায়া ভরা
আজ পদ্মা মেঘনা যমুনাতে
আজ পদ্মা মেঘনা যমুনাতে
বহে রক্তের ধারা রে
দয়াল দুঃখে আমার পরাণ কান্দে রে
কত সাধের ছাওয়াল আমার রাস্তায় পইরা মরে
কত সাধের ছাওয়াল আমার রাস্তায় পইরা মরে
এই না বাংলাদেশের গান গাইতেরে দয়াল কথা: কবি মোশাদ আলী। সুর: প্রচলিত। কণ্ঠশিল্পী: বিপুল ভট্টাচার্য। এই গানটি তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ
পরিচালিত 'মুক্তির গান' তথ্যচিত্র থেকে সংগৃহীত। ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে 'বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা' নামক সংগঠনটি
বিভিন্ন জায়গায় গান গেয়ে মুক্তিকামী বাঙালীদের অনুপ্রেরনা যোগাতো। বিপুল ভট্টাচার্য ছাড়াও “মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থায়” আরো যাঁরা ছিলেন তাঁরা হলেন লুবনা মরিয়ম, তারেক
আলী, মাহমুদুর রহমান বেণু, নায়লা খান ,স্বপন চৌধুরী, শাহিন সামাদ, দেবব্রত চৌধুরী, দুলালচন্দ্র শীল, মোশাদ আলী প্রমুখ কণ্ঠযোদ্ধারা। তাঁদের পরিবেশিত বিভিন্ন গানের মাঝে বিপুল
ভট্টাচার্যের কণ্ঠে এই গানটিও ছিল। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় মাত্র ১৬ বছর বয়সে গানে গানে বাংলার মুক্তিকামী মানুষের মনে প্রেরণা যুগিয়েছেন বিপুল ভট্টাচার্য। গানটির ভিডিও
সৌজন্যে Md. Mansur Ali Biswas YouTube Channel. 'মুক্তির গান' তথ্যচিত্রে এই গানটি শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে S.I. Raju YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
শকুনীর দল ছিঁড়িয়া খায়
শকুনীর দল ছিঁড়িয়া খায়
বাঁচায় না কেউ তারে রে
দয়াল দুঃখে আমার পরাণ কান্দে রে
বাংলাদেশের গান গাইতে রে
দয়াল দুঃখে আমার পরাণ কান্দে রে
এই না বাংলাদেশের গান গাইতে রে
দয়াল দুঃখে আমার পরাণ কান্দে রে
'মুক্তির গান' তথ্যচিত্রে এই গানটির ভিডিও অংশ
|
এই কালো রাত্রির সুকঠিন অর্গল
কোনোদিন আমরা যে ভাঙবই
মুক্ত প্রাণের সাড়া জানবই,
আমাদের শপথের প্রদীপ স্বাক্ষরে
নূতন সূর্যশিখা জ্বলবেই।
চলহেই চলবেই
জনতার সংগ্রাম চলবেই
আমাদের সংগ্রাম চলবেই।
'মুক্তির গান' তথ্যচিত্রে এই গানটির ভিডিও অংশ
|
রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি
বাংলাদেশের নাম
মুক্তি ছাড়া তুচ্ছ মোদের
এই জীবনের দাম॥
সংকটে আর সংঘাতে,
আমরা চলি সব একসাথে,
জীবন মরণ পণ করে সব
লড়ছি অবিরাম॥
রক্ত যখন দিয়েছি আরও রক্ত দেব,
রক্তের প্রতিশোধ মোরা নেবই নেব,
ঘরে ঘরে আজ দূর্গ গড়েছি
বাংলার সন্তান,
সইবনা মোরা, সইবনা আর
জীবনের অপমান॥
রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি কথা - কবি আবুল কাশেম সন্দীপ। সুরকার - সুজেয় শ্যাম।শিল্পী: সমবেত
কণ্ঠে কল্যাণী ঘোষ, রূপা ফরহাদ, মালা খুররম, মঞ্জুলা দাশগুপ্ত, নমিতা ঘোষ, মনোরঞ্জন ঘোষাল, কাদেরী কিবরিয়া,
মলয় কুমার গাঙ্গুলী, বুলবুল মহলানবীশ, শীলা ভদ্র, কামাল উদ্দিন, তিমির নন্দী, ফকির আলমগীর, আবু নওশের,
মনোয়ার হোসেন। (মূল সংগীত- সুজেয় শ্যাম)। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান। তথ্য সৌজন্যে
Poraner Ganbd YouTube Channel., ইউটিউব ভিডিও লিঙ্ক . . . । দুর্ভাগ্যবশত সেই চ্যানেলে এই গানটিকে অন্য
ওয়েবসাইটে দেখাবার অনুমতি নেই। তাই অন্য চ্যানেল থেকে এখানে রাখা হচ্ছে, ভিডিওটি সৌজন্যে Mujib100
mediacell YouTube Channel.। গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের
সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। পাঠক
ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে। আমরা সবার কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
জীবন জয়ের গৌরবে,
নতুন দিনের সৌরভে
মুক্ত স্বাধীন জীবন গড়া
মোদের মনস্কাম॥
বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী পরিত্রাতা কে?
নেই নেই
সাড়ে সাত কোটি বাঙালির আজ ভাগ্যবিধাতা কে?
নেই নেই
একটি সুরেতে কে দিয়েছে বেঁধে বাঙালির অন্তর?
নেই শেখ মুজিবর
ধন্য হে মুজিবর
এপার বাংলা ওপার বাংলা নদীর যেন দুই কূল
যেমন এসেছে রবীন্দ্রনাথ আর কবি নজরুল
তফাৎ কোথায় জলা আর পানি আল্লাহ ঈশ্বর
তফাৎ কোথায় জলা আর পানি আল্লাহ ঈশ্বর
একটি সুরেতে বাঁধা আছে তাই বাঙালীর অন্তর
ধন্য যে মুজিবর
যুগ যুগ ধরে বীরের জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ
বুলেটের মুখে সেই বিপ্লবী বাঙালি হবে না শেষ
বাংলাদেশের পথে প্রান্তরে শহরেতে আর গ্রামে
মেতেছে বাঙালি বীর বিক্রমে স্বাধীনতা সংগ্রামে
বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী পরিত্রাতা কে? কথা - কবি লক্ষ্মীকান্ত রায়। সুর - প্রার্থনা মুখোপাধ্যায়। কণ্ঠশিল্পী: দীপেন মুখোপাধ্যায়। ১৯৭১ সালে 'ওপারের গান...এপারের শিল্পী'
নামের রেকর্ডে প্রকাশিত এই ঐতিহাসিক গানটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে এপার বাংলায় রচিত প্রথম গান। গীতিকার লক্ষ্মীকান্ত রায় নিজে দাবিটি করেছেন, ইউটিউবে একটি ভিডিও বার্তায় এবং
বাংলাদেশের সব সাংবাদিকের উদ্দেশে তাঁর নিজ নামাঙ্কিত প্যাডের পাতায় লেখা একটি চিঠিতে যে, তাঁর এই গানটি লেখার আটাশ দিন পর অংশুমান রায়ের ‘শোন একটি মুজিবের থেকে’ গানটি লেখা ও
রেকর্ড করা হয়েছিল। অথচ তাঁর গানটিকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম গান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ৭৭ বছর বয়সে নিজে হাতে চিঠি লিখে তিনি বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি তুলে
ধরে জানান, তিনি তৎকালীন অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী নজরুল ইসলাম-সহ তাজউদ্দীনের কাছেও পৌঁছে দিয়েছিলেন তাঁর লেখা গানের রেকর্ডটি। এমনকি ১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রচারিত ‘স্বাধীন
বাংলা বেতারকেন্দ্র’ তাঁর এই গান নিয়মিত প্রচারও করেছে। অথচ ‘জয় বাংলা’ গানটির কোনো স্বীকৃতি তিনি আজ পর্যন্ত পাননি।" এখানে উল্লিখিত ভিডিওটি সৌজন্যে Soumyen Adhikari YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
১৯৭১ সালে 'ওপারের গান...এপারের শিল্পী' নামের রেকর্ডে প্রকাশিত এই ঐতিহাসিক গানটি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে এপার বাংলায় রচিত প্রথম গান। তথ্য সৌজন্য: সৌম্যেন
অধিকারী ও শামীম আমিনুর রহমান-এর লেখা নিবন্ধ 'একাত্তরের গানে বঙ্গবন্ধু'। নিবন্ধটি ২০২১
সালের ১৩ অগাস্ট 'সমকাল ডট কম' ওয়েবসাইটে প্রকাশিত। আরেকটি তথ্যসূত্র: তৌহিন হাসানের
লেখা নিবন্ধ '৭১-এ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বিস্মৃত কিছু গান', ২০২০ সালের ১৭ মার্চ, 'দেশরূপান্তর ডট
কম' ওয়েবসাইটে প্রকাশিত। এই নিবন্ধে তৌহিন হাসান লিখেছেন, "গ্রামোফোন কোম্পানি হিন্দুস্তান
রেকর্ড থেকে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা আরেকটি গানকে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুকে
নিয়ে লেখা প্রথম গান হিসেবে দাবি করা হয়। গানের শিরোনাম ‘জয় বাংলা’ (হিন্দুস্তান রেকর্ড:
এসএলএইচ-১৭৭)। গানটি লিখেছেন লক্ষ্মীকান্ত রায়, সুর করেছেন প্রার্থনা মুখোপাধ্যায় আর গানটিতে
কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী দীপেন মুখোপাধ্যায়। দাবিটি করেছেন গানের গীতিকার লক্ষ্মীকান্ত রায় নিজে,
ইউটিউবে একটি ভিডিও বার্তায় এবং বাংলাদেশের সব সাংবাদিকের উদ্দেশে তাঁর নিজ নামাঙ্কিত
প্যাডের পাতায় লেখা একটি চিঠিতে। সেখানে তিনি জানান, গানটি লেখার আটাশ দিন পর অংশুমান
রায়ের ‘শোন একটি মুজিবের থেকে’ গানটি লেখা ও রেকর্ড করা হয়েছিল। অথচ তাঁর গানটিকে
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম গান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। লক্ষ্মীকান্ত রায় ইউটিউব ভিডিওবার্তায়
জানান, তাঁর লেখা গানটির রেকর্ড প্রকাশিত হওয়ার কয়েক দিন পরই শেখ মুজিবুর রহমানের দুই
মেয়ের উপস্থিতিতে তদানীন্তন বাংলাদেশ হাইকমিশনার হোসেন আলীর হাতে সেই রেকর্ডের কপি
তিনি নিজ হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ৭৭ বছর বয়সে নিজে হাতে চিঠি লিখে তিনি বাংলাদেশের
সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে জানান, তিনি তৎকালীন অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী
নজরুল ইসলাম-সহ তাজউদ্দীনের কাছেও পৌঁছে দিয়েছিলেন তাঁর লেখা গানের রেকর্ডটি। এমনকি
১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রচারিত ‘স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র’ তাঁর এই গান নিয়মিত প্রচারও
করেছে। অথচ ‘জয় বাংলা’ গানটির কোনো স্বীকৃতি তিনি আজ পর্যন্ত পাননি।"
---তথ্যসূত্র . . .
১। সৌম্যেন অধিকারী ও শামীম আমিনুর রহমান-এর লেখা নিবন্ধ 'একাত্তরের গানে বঙ্গবন্ধু'। নিবন্ধটি
২০২১ সালের ১৩ অগাস্ট 'সমকাল ডট কম' ওয়েবসাইটে প্রকাশিত।
৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এপার বাংলায় রচিত ও রেকর্ড করা প্রথম গীত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে।
|
সাগর পাড়িতে ঝড় জাগে যদি
জাগতে দাও জাগতে দাও
বজ্রের গানে গানে কণ্ঠ মিলায়ে
শপথ নাও, শপথ নাও॥
আমার এ তরী ডুবতে দেব না, দেব না, দেব না।
জীবনকে ছেড়ে মরণ নেব না, নেব না, নেব না॥
ঝড়ের পাহাড় চুরমার করে
এগিয়ে যাও এগিয়ে যাও॥
বাংলাদেশের সাত কোটি প্রাণ
মেলেছি মোরা মিলেছি,
পূর্ব তোরণে আলোর নিশান
দেখেছি মোরা দেখেছি॥
বিজয়ের গান প্রদীপ্ত কণ্ঠে
ছড়িয়ে দাও ছড়িয়ে দাও॥
সাগর পাড়িতে ঝড় জাগে যদি কথা - কবি নঈম গওহর, সুর - আজাদ রহমান। গানটি স্বাধীন
বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে। গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন
বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের
গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Manize Kalam
YouTube Channel.। গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ
জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। পাঠক ইন্টারনেটে
এই গ্রন্থটি পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে। আমরা সবার কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
পুবের ওই আকাশে সূর্য উঠেছে
আলোকে আলোকময়
পুবের ওই আকাশে সূর্য উঠেছে
আলোকে আলোকময়
জয় জয় জয় জয় জয় জয় জয় জয় জয় জয় বাংলা।
জয় জয় জয় জয় জয় জয় জয় জয় জয় জয় বাংলা।
ঘুম পাড়ানী মাসি-পিসি বেরিয়ে এসো সবে।
বেরিয়ে এসো বেরিয়ে এসো বেরিয়ে এসো সবে
বর্গী যদি আসেই তাদের তাড়িয়ে দিতে হবে
তাড়িয়ে দেবো তাড়িয়ে দেবো তাড়িয়ে দেবো
ঘুম পাড়ানী মাসি-পিসি বেরিয়ে এসো সবে।
বেরিয়ে এসো বেরিয়ে এসো বেরিয়ে এসো সবে
বর্গী যদি আসেই তাদের তাড়িয়ে দেবো
তাড়িয়ে দেবো তাড়িয়ে দিতে হবে
বুলবুলিকে ধান দেব আদর সোহাগ করে,
সেই তো আমার খাজনা দেওয়া ভালোবাসায় ভরে।
বুলবুলিকে ধান দেব আদর সোহাগ করে,
সেই তো আমার খাজনা দেওয়া ভালোবাসায় ভরে।
পুবের ওই আকাশে সূর্য উঠেছে কথা কবি নঈম গওহর। সুর - আজাদ রহমান। শিল্পী: ফিরোজা বেগম, সাবিনা ইয়াসমিন, মোহাম্মদ আলী ও অন্যান্য
শিল্পীবৃন্দ। গানটি ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের করাচিতে "ইএমআই" স্টুডিওতে রেকর্ড করা হয়েছিল। এই গানটির ভিডিওটি সৌজন্যে Niharika YouTube Channel. ।
উল্লেখনীয় এই যে শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের তখন মাত্র ১৮ বছর বয়স ছিল! গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত করা হয়েছিল ১৯৭১ সালে।
গানটি ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে প্রকাশিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সভাপতি ডঃ জাহিদ হোসেন প্রধান দ্বারা সম্পাদিত, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান”
সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। এই গ্রন্থে সুরকারের নাম - সমর দাস দেওয়া রয়েছে যা সঠিক নয়। পাঠক ইন্টারনেটে এই গ্রন্থটি পাবেন “মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ” ওয়েবসাইটে।
আমরা সবার কাছেই ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। তথ্য সৌজন্যে Maestro Azad Rahaman Facebook. গানটিতে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর পূর্বেই "জয় বাংলা" স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
সেই শক্তি সেই সত্য সেই মুক্তি মন্ত্রে
গরজে মহাকাল গরজে মহাকাল
কান পেতে শোনো কান পেতে শোনো
জয় বাংলা জয় বাংলা জয় বাংলা
জয় বাংলা জয় বাংলা জয় বাংলা
রক্তের ঋণ ফিরায়ে নিয়েছি
আজ আর কোনো কথা নয়
রক্তের ঋণ ফিরায়ে নিয়েছি
আজ আর কোনো কথা নয়
জয় জয় জয় জয় বাংলা
জয় জয় জয় জয় বাংলা
জয় জয় জয় জয় বাংলা
জয় জয় জয় জয় বাংলা
জয় জয় জয় জয় বাংলা
জয় জয় জয় জয় বাংলা
জয় বাংলা জয় বাংলা
দস্যুগুলো পালিয়ে গেছে আঁধার হয়েছে ক্ষয়।
দস্যুগুলো পালিয়ে গেছে আঁধার হয়েছে ক্ষয়
জয় জয় জয় জয় জয় বাংলা
জয় জয় জয় জয় জয় বাংলা
পদ্মা, মেঘনা, যমুনা মুক্তিধারার সীমানা
পদ্মা, মেঘনা, যমুনা মুক্তিধারার সীমানা
সেই পদ্মা, সেই মেঘনা, সেই যমুনা,
আজ জোয়োরে উত্তাল জোয়োরে উত্তাল
কান পেতে শোনো কান পেতে শোনো
পদ্মা, মেঘনা, যমুনা মুক্তিধারার সীমানা
স্বাধীনতা তুমি কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। কবিকণ্ঠে আবৃত্তি। কবির “বন্দী শিবির থেকে” কাব্য
সংকলনের কবিতা। আমরা পেয়েছি দেজ থেকে ২০০৫ সালে প্রকাশিত (প্রথম প্রকাশ ১৯৮৫) “শামসুর রাহমানের শ্রেষ্ঠ কবিতা” সংকলন
থেকে। কবিকণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে J Times tv - জে টাইমস টিভি YouTube Channel .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত স্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল
স্বাধীনতা তুমি ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।
স্বাধীনতা তুমি
রোদেলা দুপুরে মধ্যপুকুরে গ্রাম্য মেয়ের অবাধ সাঁতার।
স্বাধীনতা তুমি
মজুর যুবার রোদে ঝলসিত দক্ষ বাহুর গ্রন্থিল পেশী।
স্বাধীনতা তুমি
অন্ধকারের খাঁ খাঁ সীমান্তে মুক্তিসেনার চোখের ঝিলিক।
স্বাধীনতা তুমি
বটের ছায়ায় তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর
শাণিত-কথার ঝলসানি-লাগা সতেজ ভাষণ।
স্বাধীনতা তুমি
চা-খানায় আর মাঠে-ময়দানে ঝোড়ো সংলাপ।
স্বাধীনতা তুমি
কালবোশেখীর দিগন্ত জোড়া মত্ত ঝাপটা।
স্বাধীনতা তুমি
শ্রাবণে অকূল মেঘনার বুক
স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন।
স্বাধীনতা তুমি
উঠানে ছড়ানো মায়ের শুভ্র শাড়ির কাঁপন।
স্বাধীনতা তুমি
বোনের হাতের নম্র পাতায় মেহেদীর রঙ।
স্বাধীনতা তুমি
বন্ধুর হাতে তারার মতন জ্বলজ্বলে এক রাঙা পোস্টার।
স্বাধীনতা তুমি
গৃহিনীর ঘন খোলা কালোচুল,
হাওয়ায় হাওয়ায় বুনো উদ্দাম।
স্বাধীনতা তুমি
খোকার গায়ের রঙিন কোর্তা
খুকীর অমন তুলতুলে গালে
রৌদ্রের খেলা।
স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর, কোকিলের গান
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা
পথের কুকুর কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। রচনা ২১.৭.১৯৭১। কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কবির স্বনামে, "প্রতিশ্রুতি" শিরোনামের অপর একটি কবিতার সঙ্গে,
অশোককুমার সরকার ও সাগরময় ঘোষ সম্পাদিত দেশ পত্রিকার ৯ই পৌষ ১৩৭৮ সংখ্যায় (২৩শে ডিসেম্বর ১৯৭১)। বাচিক শিল্পী সুমন্ত গুপ্তর কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে Sumanta Gupta's
Diary YouTube Channel .। কবির “বন্দী শিবির থেকে” কাব্য সংকলনের কবিতা।
"দেশ" পত্রিকার ২রা পৌষ ১৩৭৮ সংখ্যায় (১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১) "বন্দী শিবির থেকে" ও "কাক" শিরোনামের দুটি কবিতার পাতায় সম্পাদক লিখেছিলেন --- "কবিতাগুলি আশুপ্রকাশিতব্য একটি কাব্যসংকলনের অন্তর্ভুক্ত। সংকলন গ্রন্থটি গত আট
মাসকাল যাবৎ পাকিস্তানী সামরিক যন্ত্রের অকথ্য নিষ্পেষণের মধ্যে রচিত। কোথাও খোলাখুলি কোথাও আভাসে ইঙ্গিতে এমন ক্রোধ-ধিক্কার বিক্ষোভ বেদনা ব্যক্ত হযেছে যে লেখকের স্বনামে প্রকাশ করে বাংলাদেশে বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল না।
মজলুম আদীব অর্থাৎ নির্যাতিত লেখক যাঁর ছদ্মনাম তিনি বাংলা দেশের একজন স্বনামধন্য কবি, এখনো স্বদেশেই আছেন। পাণ্ডুলিপি মুক্তিফৌজের এক তরুণ ছাত্রের হাতে পাঠিয়েছেন কলকাতায় --- সম্পাদক"
পরের ৯ই পৌষ ১৩৭৮ সংখ্যায় (২৩শে ডিসেম্বর ১৯৭১) এই কবির এই কবিতাটি এবং "প্রতিশ্রুতি" শিরোনামের অপর একটি কবিতার পাতায় লেখা ছিল --- "গত সপ্তাহে মজলুম আদীব এই ছদ্মনামে দুটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল, তার কারণ
তখনও তিনি হানাদার দখলীকৃত বাংলাদেশের ভেতর থেকেই তাঁর কবিতা লিখে পাঠিয়েছিলেন। আজ আর সে দিন নেই বলে তিনি এ সংখায় স্বনামে কবিতা লিখেছেন। মজলুম আদীবই বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি শামসুর রাহমান।--- সম্পাদক"
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
অবশ্য সে পথের কুকুর। সারাদিন
এদিক ওদিকে ছোটে, কখনোবা ডাস্টবিন খুঁটে
জুড়ায় জঠরজ্বালা, কখনো আবার প্রেমিকার
মনোরঞ্জনের জন্য দেয় লাফ হরেক রকম।
হাড় নিয়ে মুখে বসে গাছের ছায়ায়,
লেজ নাড়ে মাঝে-মধ্যে ফুর্তিবাজ প্রহরের, কখনো
ধুলায় গড়ায়। কখনো সে
শূন্যতাকে সাজায় চিৎকারে
আমি বন্দি নিজ ঘরে। শুধু
নিজের নিঃশ্বাস শুনি, এত স্তব্ধ ঘর।
আমরা কজন শ্বাসজীবী।
ঠায় বসে আছি
সেই কবে থেকে। আমি, মানে
একজন ভয়ার্ত পুরুষ,
সে, অর্থাৎ সন্ত্রস্ত মহিলা,
ওরা মানে কয়েকটি অতি মৌন বালক-বালিকা-
আমরা ক’জন
সৈন্যের টহল দিচ্ছে, যথেচ্ছ করছে গুলি, দাগছে কামান
এবং চালাচ্ছে ট্যাঙ্ক যত্রতত্র। মরছে মানুষ
পথে ঘাটে ঘরে, যেন প্লেগবিদ্ধ রক্তাক্ত ইঁদুর।
আমরা ক'জন শ্বাসজীবী---
ঠায় বসে আছি
সেই কবে থেকে। অকস্মাৎ কুকুরের
শাণিত চিৎকার
কানে আসে, যাই জানলার কাছে, ছায়াপ্রায়। সেই
পথের কুকুর দেখি বারংবার তেড়ে যাচ্ছে জলপাইরঙ
একটি জিপের দিকে, জিপে
সশস্ত্র সৈনিক কতিপয়। ভাবি, যদি
অন্তত হতাম আমি পথের কুকুর।
আসাদের শার্ট কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। বাচিক শিল্পী ফয়সাল আজিজ-এর কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন,
ভিডিওটি সৌজন্যে VoiceArt YouTube Channel . ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি গুলিস্তানে একটি মিছিলের সামনে একটি লাঠিতে শহীদ
আসাদের রক্তাক্ত শার্ট দিয়ে বানানো পতাকা দেখে মানসিকভাবে মারাত্মক আলোড়িত হন শামসুর রাহমান। তিনি লেখেন ‘আসাদের
শার্ট’ কবিতাটি। ১৯৭১ সালে প্রকাশিত “নিজ বাসভূমে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিম্বা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
. উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।
বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে
নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো
. হৃদয়ের সোনালি তন্তুর সূক্ষ্মতায় ;
বার্ষিয়সী জননী সে-শার্ট
উঠোনের রৌদ্রে নিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে।
ডালিম গাছের মৃদু ছায়া আর রোদ্দুর-শোভিত
মায়ের উঠোন ছেড়ে এখন সে-শার্ট
. শহরের প্রধান সড়কে
. কারখানার চিমনি-চুড়োয়
. গমগমে এভেন্যুর আনাচে কানাচে
উড়ছে, উড়ছে আবিরাম
আমাদের হৃদয়ের রৌদ্র-ঝলসিত প্রতিধ্বনিময় মাঠে,
চৈতন্যের প্রাতিটি মোর্চায়।
আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্র মানবিক ;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।
তুমি বলেছিলে কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। বাচিক শিল্পী ফয়সাল আজিজ-এর কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন,
ভিডিওটি সৌজন্যে VoiceArt YouTube Channel .। তিনি লেখেন ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটি। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত “বন্দী শিবির থেকে”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে ঐ নয়াবাজার।
পুড়ছে দোকানপাট, কাঠ,
লোহালক্কড়ের স্তূপ, মসজিদ এবং মন্দির।
দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে এ নয়াবাজার।
বিষম পুড়ছে চতুর্দিকে ঘরবাড়ি।
পুড়ছে টিয়ের খাঁচা, রবীন্দ্র রচনাবলি, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার,
মানচিত্র, পুরোনো দলিল।
মৌচাকে আগুন দিলে যেমন সশব্দে
সাধের আশ্রয়ত্যাগী হয়
মৌমাছির ঝাঁক
তেমনি সবাই
পালাচ্ছে শহর ছেড়ে দিগ্বিদিক। নবজাতককে
বুকে নিয়ে উদ্রান্ত জননী
বনপোড়া হরিণীর মতো যাচ্ছে ছুটে।
অদূরে গুলির শব্দ, রাস্তা চষে জঙ্গি জিপ। আর্ত
শব্দ সবখানে। আমাদের দুজনের
মুখে আগুনের খরতাপ। আলিঙ্গনে থরথর
তুমি বলেছিলে,
“আমাকে বাঁচাও এই বর্বর আগুন থেকে, আমাকে বাঁচাও”
আমাকে লুকিয়ে ফেল চোখের পাতায়
বুকের অতলে কিংবা একান্ত পাঁজরে,
শুষে নাও নিমেষে আমাকে
চুম্বনে চুম্বনে।
দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে এ নয়াবাজার,
আমাদের চৌদিকে আগুন,
গুলির ইস্পাতি শিলাবৃষ্টি অবিরাম।
তুমি বলেছিলে,
“আমাকে বাঁচাও।”
অসহায় আমি তা-ও বলতে পারিনি।
মধুস্মৃতি কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
কবি শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের একটি উলেস্নখযোগ্য স্মৃতিচারণমূলক কবিতা হচ্ছে ‘মধুস্মৃতি’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি রেস্তোরাঁ ছিল 'মধুর ক্যান্টিন'। যার নাম অনুসারে এই রেস্তোরাঁর নামকরণ করা হয়েছিল, তিনি হলেন ‘শ্রী মধুসূদন দে’। মধুদা বলে তিনি সকলের কাছে
অতিপরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সকলের প্রিয় মানুষ। এই মধুর ক্যান্টিন ছিল আমাদের সকল জাতীয় আন্দোলনের সূতিকাগার। একাত্তরের ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে মধুদাকে ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করে। তাই মধুদার স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে শামসুর রাহমান
লিখলেন অমর কবিতা ‘মধুস্মৃতি’ কবিতাটি। তথ্যসূত্র: চৌধুরী শাহজাহান, শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধের কবিতা, কালিওকলম.কম
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
দু'দশক পরেও স্কটিক মনে পড়ে---
বৈশাখের খটখটে স্বেদাক্ত দুপুরে,
প্রথম কদম শিহরিত
আষাঢ়ের জলজ দিবসে
ব্রাউন পাখির মতো অঘ্রাণের রেশমি বিকেলে
ক্যান্টিনে ঢুকেই বলতাম তৃষ্ণাতুর,
মধুদা চা দিন তাড়াতাড়ি,
গরম সিঙাড়া চাই, চাই স্বাদু শীতল সন্দেশ।
ক্লাস শেষ হলে, লাইব্রেরি ঘরে না বসলে মন
আপনার ক্যান্টিনে আস্রয় খুঁজতাম
বিবর্ণ চেয়ারে
চায়ের তৃষ্ণায় নয় তত
যতটা আড্ডার লোভে আমরা ক’জন।
একে একে অনেকেই জুটত সেখানে---
মদনরাজ্যের অনুগত প্রজা কেউ কেউ, কেউবা নবীন
সামন্ত প্রতাপশালী। কেউ
ক্ষীণকায়, প্রায় রোগী, কবি,
কেউবা বিপ্লবী নেতা, কেউবা বৃত্তিভোগী
মসৃণ দালাল। আমাদের কারো কারো
মনে ছিল ব্যাপ্ত কার্ল মার্কস-এর মহিমা।
টেবিলে টেবিলে কত তর্কের তুফান
যেত বয়ে, আপনি সামলাতের শেড।
কাউন্টারে বসে হাসতেন মৃদু, নাড়তেন মাথা
মাঝে-মধ্যে। এক কোণে চেয়ারে এলিয়ে
কখনো আওড়াতাম ডানের তির্যক পঙ্ক্তি, সদ্যপড়া, আর
হ্যামলেটি স্বগত ভাষণে
উঠতাম মেতে লরেন্স অলিভিয়ারের মতোই।
নিজের কবিতা
দিতাম ব্যাকুল ঢেকে বন্ধুর শ্রুতিতে কখনো-বা। অন্য কোণে
বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদ অথবা বাঙালি মানসের বিবর্তন
উঠত ঝলমলিয়ে দিব্যি তার্কিকের
জাগর মনস্বিতায়। কখনো আবার
সাম্য মৈত্রী স্বাধীনতা ইত্যাদি শব্দের
কোলাহলে প্রবল উঠত কেঁপে শেড্।
কখনোবা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে, গণ-আন্দোলনে
থরথর শহুরে রাস্তায়
কি আশ্চর্য, যেত উড়ে আপনার অলৌকিক মধুর ক্যান্টিন।
আপনাকে মনে হতো বৃক্ষের মতন,
উদার নিরুপদ্রব ডালে যার কাটায় সময়
নানান পাখির ঝাঁক, তারপর সহসা উধাও
কত যে বিচিত্র দিকে ফেরে না কখনো।
আমতলা এখনও হৃদয়ে
সবুজ দাঁড়িয়ে আছে এখনও রোদ্দুরলিপ্ত পাতা
শিহরিত হয়, প্রতিবাদী সভা, উত্তোলিত হাত,
প্রথর পোস্টার
চকিতে ঝলসে ওঠে এখনও হৃদয়ে। এখনও তো
আমতলা, মোহন টিনের শেড, ক্লাসরুম আর
নিঝুম পুকুর পাড়ে জ্বলে
দামি পাথরের মতো আপনার চক্ষুদ্বয়।
আপনি ছিলেন প্রিয়জন আমাদের
বড় অন্তরঙ্গ নানা ঘটনায়
উত্সব এবং দুর্বিপাকে। বুঝি তাই
আপনার রক্তে ওরা মিটিয়েছে তৃষ্ণা।
আমাদের প্রিয় যা কিছু সবই তো ওরা
হত্যা করে একে একে। শহীদ মিনার
অপবিত্র করে, ভাঙে মর্টারের ঘায়ে,
ফারুকের সমাধিস্থ লাশ খুঁড়ে তোলে
দারুণ আক্রোশে
ছুঁড়ে ফেলে দেয় দূরে, কে জানে কোথায়
বটতলা করে ছারখার।
আমাদের প্রিয় যা কিছু সবই তো ওরা
হত্যা করে একে একে।
আপনার নীল লুঙ্গি মিশেছে আকাশে,
মেঘে ভাসমান কাউন্টার। বেলা যায়, বেলা যায়
ত্রিকালজ্ঞ পাখি ওড়ে, কখনো স্মৃতির খড়কুটো
ব্যাকুল জমায়। আপনার স্বাধীন সহিষ্ণু মুখ---
হায়, আমরা তো বন্দি আজও--- মেঘের কুসুম থেকে
জেগে ওঠে, ক্যাশবাক্স রঙিন বেলুন হয়ে ওড়ে।
বিশ্বাস করুন,
ভার্সিটি পাড়ায় গিয়ে আজও মধুদা মধুদা বলে খুব
ঘনিষ্ঠ ডাকতে সাধ হয়।
গেরিলা কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। বাচিক শিল্পী মুজিবুর রহমান দিলু ও শান্তা ইসলামের কণ্ঠে আবৃত্তি
শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে Creative Space BD YouTube Channel .। তিনি লেখেন ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটি। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত
“বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
দেখতে কেমন তুমি? কী রকম পোশাক-আশাক
পরে করো চলাফেরা? মাথায় আছে কি জটাজাল?
পেছনে দেখতে পাব জ্যোতিশ্চক্র সন্তের মতন?
টুপিতে পালক গুঁজে অথবা জবরজং ঢোলা
পাজামা কামিজ গায়ে মগডালে একা শিস দাও
পাখির মতন কিংবা চাখানায় বসো ছায়াচ্ছন্ন।
দেখতে কেমন তুমি?---অনেকেই প্রশ্ন করে, খোঁজে
কুলুজি তোমার আঁতিপাঁতি ৷ তোমার সন্ধানে ঘোরে
ঝানু গুপ্তচর, সৈন্য, পাড়ায় পাড়ায়। তন্ন তন্ন
করে খোঁজে প্রতি ঘর। পারলে নীলিমা চিরে বের
করত তোমাকে ওরা, দিত ডুব গহন পাতালে।
তুমি আর ভবিষ্যৎ যাচ্ছ হাত ধরে পরস্পর
সর্বত্র তোমার পদধ্বনি শুনি, দুঃখ-তাড়ানিয়া ;
তুমি তো আমার ভাই, হে নতুন, সন্তান আমার।
বারবার ফিরে আসে কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। বাচিক শিল্পী আজহারুল ইসলাম রনির কণ্ঠে
আবৃত্তি শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে Fa Multimedia YouTube Channel .। তিনি লেখেন ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটি। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত
“বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবিতার কথা সৌজন্যে সবুজসাথী ব্লগ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
বার বার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট
ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে,
ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে।
হাওয়ায় হাওয়ায় ওড়ে, ঘোরে হাতে হাতে,
মিছিলে পতাকা হয় বারবার রক্তাপ্লুত শার্ট।
বিষম দামাল দিনগুলি ফিরে আসে বারবার,
বারবার কল্লোলিত আমাদের শহর ও গ্রাম।
‘আবার আসবো ফিরে’ ব’লে সজীব কিশোর
শার্টের আস্তিন দ্রুত গোটাতে গোটাতে
শ্লোগানের নিভাঁজ উল্লাসে
বারবার মিশে যায় নতুন মিছিলে, ফেরে না যে আর।
একটি মায়ের চোখ থেকে
করুণ প্লাবন মুছে যেতে না যেতেই
আরেক মায়ের চোখ শ্রাবণের অঝোরে আকাশ হ’য়ে যায়।
একটি বধূর
সংসার উজাড়-করা হাহাকার থামতে না থামতেই, হায়,
আরেক বধূর বুক খাঁ-খাঁ গোরস্থান হ’য়ে যায়,
একটি পিতার হাত থেকে কবরের কাঁচা মাটি
ঝ’রে পড়তে না পড়তেই
আরেক পিতার বুক-শূন্য-করা গুলিবিদ্ধ সন্তানের লাশ
নেমে যায় নীরন্ধ্র কবরে।
বারবার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট,
ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে,
ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে।
উনিশ শো উনসত্তরের
তরুণ চীৎকৃত রৌদ্রে যে-ছেলেটা খেলতো রাস্তায়,
বানাতো ধুলোর দুর্গ, খেতো লুটোপুটি নর্দমার ধারে
বিস্ময়ে দেখতো চেয়ে ট্রাক, জীপ,
রাইফেল, টিউনিক, বেয়োনেট, বুট, হেলমেট,
এখন সে টলমল পদভরে শরীক মিছিলে।
লাজনম্র যে মেয়েটি থাকতো আড়ালে সর্বক্ষণ,
যে ছিল অসূর্যস্পশ্যা, এখন সে ঝলসায় মিছিলে মিছিলে।
তাদের পায়ের নিচে করে জ্বলজ্বল নীল নকশা নব্য সভ্যতার।
বারবার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট,
ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে,
ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে।
হতাশাকে লাথি মেরে, ভয়কে বেদম লাঠি পেটা ক’রে
সবখানের শ্লোগানের ফুলকি ছড়াই।
বারবার আমাদের হাত হয় উদ্দাম নিশান,
বারবার ঝড়ক্ষুব্ধ পদ্মা হই আমরা সবাই।
আমাকেই হত্যা করে ওরা, বায়ান্নোর রৌদ্রময় পথে,
আমাকেই হত্যা করে ওরা
উনসত্তরের বিদ্রোহী প্রহরে,
একাত্তরে পুনরায় হত্যা করে ওরা আমাকেই
আমাকেই হত্যা করে ওরা
পথের কিনারে
এএভন্যুর মোড়ে
মিছিলে, সভায়-
আমাকেই হত্যা করে, ওরা হত্যা করে বারবার।
তবে কি আমার
বাংলাদেশ শুধু এক সুবিশাল শহীদ মিনার হ’য়ে যাবে?
স্বাধীনতা একটি বিদ্রোহী কবিতার মতো কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত “দুঃসময়ে
মুখোমুখি” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবিতার কথা, সৌজন্যে ইবেঙ্গললাইব্রেরি.কম
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
সে এক সময় ছিল আমাদের, সন্ত্রাসের কণ্টকিত হাতে
সমর্পিত সারাক্ষণ। আমরা কখনো
আহত পশুর মতো নিজস্ব গুহায় স্বেচ্ছাবন্দি, কখনোবা
পলাতক গ্রাম-গঞ্জে, মফস্বলে, নদীতীরে, রাইফেল আর
বেয়নেট থেকে দূরে। গেরস্ত কুটিরে, স্কুলঘরে গাদাগাদি
অনেক সংসার একাকার। দুর্বিপাকে
হয়তো এমনই হয়। কোথাও নিস্তার নেই; খাকি
সন্ত্রাসে আচ্ছন্ন হয় নদীতীর, সর্ষেক্ষেত, তাল-সুপুরির
গাছ, বাঁশবন, বেতফল আর বাবুইপাখির বাসা। প্রহরে প্রহরে
রাইফেল গর্জে ওঠে, যেন বদমেজাজী মোড়ল
ভীষণ শাসাচ্ছে অধস্তন পাড়া-পড়শিকে। আবার গুটিয়ে
পাততাড়ি ফিরে আসি বিকলাঙ্গ শহরেই যূথচারী লেমিং যেমন
ছুটে যায় দুর্নিবার ধ্বংসের চূড়ায়।
সে এক সময় ছিল আমাদের। লুপ্ত স্বাভাবিক
কথোপকথন, হাসি তামাশা ইত্যাদি।
কেবল ভয়ার্ত চোখে চাওয়া,
কড়িকাঠ গোনা,
অন্ধকার ঘরে
কখনো নিঃশব্দ ব’সে থাকা, কখনোবা
রুলিপরা একটি হাতের
বন্দরে ভিড়িয়ে
ঝঞ্ঝাহত নিজের একলা হাত আবার চমকে ওঠা অভ্যাসবশত-
সে এক সময় ছিল আমাদের ভয়ানক আহত ঢাকায়।
তখন খেলার প্রতি ছিল বড় বেশি উদাসীন
বালক-বালিকা;
করাল বেলায় নিমজ্জিত
আপাদমস্তক
সন্ত্রাসে ওরাও যেন আমাদের সমান রয়সী!
আমাদের দিনগুলি, আমাদের রাত্রিগুলি শেয়াল-শকুন
ক্রমাগত খেল চেটেপুটে
দিব্যি সভ্যতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে।
একটি গণ্ডার, শিং যার রক্তমাখা, বারবার
হানা দেয় ঘরে,
দরজা-জানালা ভাঙে; আসবাবপত্র
করে তছনছ,
চালায় ধারালো শিং উদরে আমার;
বন্য পদতলে, হায়, দলিত সন্তান,
দ্বিখণ্ডিতা জীবন-সঙ্গিনী।
পরদিন সে গণ্ডার আবার উদিত হয় সগৌরবে সব
সংবাদপত্রের
প্রথম পৃষ্ঠায় চমৎকার ফটোরূপে,
ফটোর তলায় নামাঙ্কিত টিক্কা খান।
কখনো নিঝুম পথে হঠাৎ লুটিয়ে পড়ে কেউ গুলির আঘাতে,
মনে হয়, ওরা গুলিবিদ্ধ করে স্বাধীনতাকেই।
দিনদুপুরেই জিপে একজন তরুণকে কানামাছি করে
নিয়ে যায় ওরা;
মনে হয়, চোখ-বাঁধা স্বাধীনতা যাচ্ছে বধ্যভূমিতে।
বেয়নেটবিদ্ধ লাশ বুড়িগঙ্গা কি শীতলক্ষ্যায় ভাসে;
মনে হয়, স্বাধীনতা লখিন্দর যেন,
বেহুলাবিহীন,
জলেরই ভেলায় ভাসমান।
যখন শহরে ফাটে বোমা, হাতবোমা, অকস্মাৎ
ফাটে ফৌজি ট্রাকের ভেতর,
মনে হয়, স্বাধীনতা গর্জে ওঠে ক্রোধান্বিত দেবতার মতো।
এরই মধ্যে মৃত্যুগন্ধময় শহরে যখন খুব
কুঁকড়ে থাকা কোনো শীর্ণ গলির ভেতর
আঁধারের নাড়ি ছেঁড়া নবজাতকের
প্রথম চিৎকার জেগে ওঠে,
মনে হয়, স্বাধীনতা একটি বিদ্রোহী
কবিতার মতো
তুমুল ঘোষণা করে অলৌকিক সজীব সংবাদ।
উদ্ধার কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। বাচিক শিল্পী অনন্যা হকের কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে Ananya
Haque YouTube Channel .। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
কখনো বারান্দা থেকে চমত্কার ডাগর গোলাপ
দেখে, কখনো বা
ছায়ার প্রলেপ দেখে চৈত্রের দুপুরে
কিংবা দারুমূর্তি দেখে সিদ্ধার্থের শেল্ ফ-এর ওপর
মনে করতুম,
যুদ্ধের বিপক্ষে আমি, আজীবন বড়ো শান্তিপ্রিয়।
যখন আমার ছোট্ট মেয়ে
এই কোণে ব’সে
পুতুলকে সাজায় যতনে, হেসে ওঠে
ভালুকের নাচ দেখে, চালায় মোটর, রেলগাড়ি
ঘরময়, ভাবি,
যুদ্ধের বিপক্ষে আমি, আজীবন বড়ো শান্তিপ্রিয়।
যখন গৃহিণী সংসারের কাজ সেরে
অন্য সাজে রাত্রিবেলা পাশে এসে এলিয়ে পড়েন,
অতীতকে উসকে দেন কেমন মাধুর্যে
অরব বচনাতীত, ভাবি-----
যুদ্ধের বিপক্ষে আমি, আজীবন শান্তিপ্রিয়।
আজন্ম যুদ্ধকে করি ঘৃণা।
অস্ত্রের ঝনঝনা
ধমনীর রক্তের ধারায়
ধরায় নি নেশা কোনোদিন
যদিও ছিলেন পিতা সুদক্ষ শিকারী
নদীর কিনারে আর হাঁসময় বিলে,
মারিনি কখনো পাখি একটিও বাগিয়ে বন্দুক
নৌকোর গলুই থেকে অথবা দাঁড়িয়ে
একগলা জলে। বাস্তবিক
কস্মিনকালেও আমি ছুঁই নি কার্তুজ।
গান্ধিবাদী নই, তবু হিংসাকে ডরাই
চিরদিন ; বাধলে লড়াই কোনোখানে
বিষাদে নিমগ্ন হই। আজন্ম যুদ্ধকে করি ঘৃণা।
মারী আর মন্বন্তর লোক শ্রুত ঘোড়সওয়ারের
মতোই যুদ্ধের অনুগামী । আবালবৃদ্ধবনিতা
মৃত্যুর কন্দরে পড়ে গড়িয়ে গড়িয়ে
অবিরাম। মূল্যবোধ নামক বৃক্ষের
প্রাচীন শিকড় যায় ছিঁড়ে, ধ্বংস
চতুর্দিকে বাজায় দুন্দুভি।
আজন্ম যুদ্ধকে করি ঘৃণা ।
বিষম দখলীকৃত এ ছিন্ন শহরে
পুত্রহীন বৃদ্ধ ভদ্রলোকটিকে জিগ্যেস করুন,
সৈনিক ধর্সিতা তরুণীকে
জিগ্যেস করুন,
কান্নাক্লান্ত সদ্য-
বিধবাকে জিগ্যেস করুন,
যন্ত্রণাজর্জর ঐ বাণীহীন বিমর্ষ কবিকে
জিগ্যেস করুন,
বাঙালি শবের স্তূপ দেখে দেখে যিনি
বিড়বিড় করছেন সারাক্ষণ, কখনো হাসিতে
কখনো কান্নায় পড়েছেন ভেঙে----তাকে
জিগ্যেস করুন,
দগ্ধ, স্তব্ধ পাড়ার নিঃসঙ্গ যে-ছেলেটা
বুলেটের ঝড়ে
জননীকে হারিয়ে সম্প্রতি খাপছাড়া
ঘোড়ে ইতস্তত, তাকে জিগ্যেস করুন,
হায়, শান্তিপ্রিয় ভদ্রজন,
এখন বলবে তারা সমস্বরে যুদ্ধই উদ্ধার।
ধ্বস্ত দ্বারকায় কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। ১৯৭২ স৩লে
প্রকাশিত “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
আবার ঘর ছেড়ে তুমি তো আসবে না।
বাইরে নীল শাড়ি যাবে না দেখা রাতে।
মধ্যরাতে আজ তোমার শয্যায়
তীব্র আগুনের ফুলকি নেই কোনো,
এখন তুমি ঘরে নিভাঁজ ঘুমে কাদা।
তোমার বুকে আর যমুনা দুলবে না?
দুয়ারে মঙ্গল কলস দুটি শুধু
প্রতীক্ষায় থাকে। রয়েছি আমি দূরে
পথের ধারে একা নিসর্গেরই কেউ?
হয়তো আরেকটি বৃক্ষ বনানীর।
ঘুমের বনে মুখ রেখেছ ঢেকে তুমি,
আমার শিরা উপশিরায় টর্নেডো।
দৃশ্য থেকে চোখ ফেরানো দায় তবু।
কাঁপছে থর থর শেমিজ জ্যোত্স্নার---
মর্ত ঘাতকের অট্টহাসি বাজে
ঠেকাতে অক্ষম নানীর লাঞ্ছনা
ব্যর্থতার এই দারুণ দংশন
লুকিয়ে চলে যাব, ফেরারি যেন কেউ।
এখনও আঙুলের শীর্ষভূমি আর
দীর্ণ হৃদয়ের গুপ্ত তটরেখা
সুরের নন্দিত জোয়ারে যায় ভেসে।
অথচ অপারগ তুলতে কোনো সুর ;
আমার বাঁশি এই ধ্বস্ত দ্বারকায়
নিয়েছে কেড়ে সেই দস্যু বর্বর।
প্রাত্যহিক কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। ১৯৭২ স৩লে প্রকাশিত “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
যথারীতি বিষম নিয়মপরায়ণ
কাক চেরে ঘুম ভোরে। শয্যাত্যাগী আমি
দাঁত মাজি, করি পায়চারি, মাঝে-মধ্যে
আওয়াই তর্জমায় এলিয়টি পঙক্তি---
এপ্রিল নিষ্ঠুরতম মাস। প্রাতরাশ
যৎসামান্য, চা আর বাকরখানির গন্ধে
অভ্যস্ত গার্হস্থ্য দিন। সংবাদপত্রের মিথ্যা গেলি
একরাশ, তাকাই কখনো
আকাশের দিকে। অকস্থাৎ জঙ্গি জেট
ছিঁড়ে খুঁড়ে যায় নীলিমাকে।
নিরানন্দ ডালভাত নাকে মুখে গুঁজে
মন দিই আপিস যাত্রায়
বেলা দশটায়।
মুখের প্রতিটি খাঁজে সন্ত্রাস কাঁকড়া হয়ে আছে।
পথে দেখি,
ধাঁ করে একটি ট্রাক যাচ্ছে ছুটে, আরোহী ক'জন
চোখ-বাঁধা, হাত-বাঁধা আবছা মানুষ,
পাশে রাইফেলধারী পাঞ্জাবী সৈনিক।
ছাত্র নই, মুক্তিসেনা নই কোনো, তবু
হঠাৎ হ্যান্ডস আপ বলে
পশ্চিমা জোয়ান আসে তেড়ে
স্টেনগান হাতে আর প্রশ্ন দেয় ছুঁড়ে ঘাড় ধরে---
বঙালি হো তুম। আমি রুদ্ধবাক, কি দেব জবাব?
জ্যোতির্ময় রৌদ্রালোকে বীরদর্পী সেনা
নিমেষেই হয়ে যায় লুটেরা, তস্কর।
খুইয়ে সামান্য টাকা কড়ি,
স্বশুর প্রদত্ত হাতঘড়ি কোনোমতে
প্রাণপক্ষী নিয়ে ফিরি আপিস-কন্দরে।
এদিকে বিষম
পানাসক্ত প্রেসিডেন্ট--- ইনিও সৈনিক---
দিচ্ছেন ভাষণ
বেতার টেলিভিশনে, ঢুলু ঢুলু গলায় কেমন
গাইছেন গণ-
হত্যার সাফাই।
বিদেশী সংবাদদাতাগণ মিছেমিছি করছেন বাড়াবাড়ি
অর্থাৎ তিলকে তাল। লক্ষ লক্ষ নিরস্ত্র লোককে
নাকি তাঁর বীর সৈনিকেরা
কখনো করেনি হত্যা, পোড়ায়নি শহর ও গ্রাম।
সব ঝুট হ্যায়, সব ফালতু গুজব।
সত্যের মৌরসীপাট্টা একা তারই। একেই তো বলে
কসাইখানার হেকমত। মাইরি হুজুর বটে
ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির।
দুনিয়ার সব শৃঙ্খলিত কৃষক মজুর শোনো,
সর্বহারা নিধনের জন্যে অবিরাম
আসছে বারুদ বোমা স্বৈরাচারী শাসকের হাতে,
কখনো-বা, বলিহারি যাই, গুঁড়া দুধ।
খাসা কূটনীতি,
চীনা ও মার্কিন কালোরাতি ৷
বড় আটপৌরে এ জীবন,
প্রশংসা অথবা নিন্দা কিছুই জোটে না
এ পোড়া কপালে।
সত্যের বলাৎকার দেখে, নিরপরাধের হত্যা
দেখেও কিছুতে মুখ পারি না খুলতে।
বুটের তলায় পিষ্ট সারাদেশ, বেয়নেটবিদ্ধ
যাচ্ছে বয়ে রক্তস্রোতে, কত যে মায়ের অশ্রুধারা।
পাড়ায় পাড়ায় খাল কেটে
কুমির আনছে কেউ কেউ। রাত হলে,
এমনকি দিনদুপুরেই
কেবলি দৌরাত্ম্য বাড়ে রাজাকার, পুলিশ এবং
সৈনিকের। ধরপাকড়ের নেই শেষ। মাঝে-মাঝে
মধ্য রাতে নারীর চিৎকারে ভাঙে ঘুম,
তাকাই বিহ্বলা গৃহিণীর দিকে। ভাবি,
জান দিয়ে মান রাখা যাবে তো আখের?
তুমুল গাইছে গুণ কেউ কেউ কুণ্ঠাহীন খুনি
সরকারের, কেউ কেউ ইসলামী বুলি ঝেড়ে তোফা
বুলবুল হতে চায় মৃতের বাগানে।
কেউবা জমায় দোস্তি নিবিড় মস্তিতে
ভ্রাতৃঘাতকের সাথে। গদগদে দালাল,
বখাটে যুবক আর ভাড়াটে গুণ্ডারা
রটাচ্ছে শান্তির বাণী লাঠিসোটা নিয়ে।
অলিতে গলিতে দলে দলে
মোহাম্মদী বেগ ঘোরে, ঝলসিত নাঙা তলোয়ার।
নেপথ্যে মীরজাফর বঙ্কিম গোঁফের নিচে মুচকি হাসেন।
শমীবৃক্ষ কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। ১৯৭২ স৩লে প্রকাশিত “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
হাওয়ায় হাওয়ায় দুঃসংবাদ প্রতিদিন, প্রতিরাত্রি
শব্দহীন মর্শিয়ায় মর্শিয়ায় কেমন শীতল
সমাচ্ছন্ন, অত্যন্ত বিধুর। কে কোথায় গুম খুন
হয়ে যায়, মেলে না হদিস। লোকজন
পথ চলে, অবনত মাথা, যেন মৃতের মিছিল
সকাল সন্ধ্যায়। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সন্দেহভাজন অকম্মাৎ
কখনো গভীর রাতে যাত্রাবাড়ী, গ্রিন রোডগুলির ধমকে
কেঁপে ওঠে, কখনো-বা বুড়িগঙ্গা নদীর সুশান্ত
প্রতিবেশী গ্রাম দগ্ধ ; আহত গাছের
ডালে ঝোলে বৃদ্ধ মৃতদেহ। আলে রক্তরাঙা শাড়ি। বন্দুকের
নলের হুকুমে গ্রাম্যজন নেয় মেনে অবরুদ্ধ যন্ত্রণায়
যান্ত্রিক কাতারবন্দি মৃত্যু।
সহসা শহরে কারফিউ, সবখানে
সন্ত্রাস দখলদার। পাড়ায় পাড়ায় ঢুকে পড়ে
নরকের ডালকুত্তাগুলো : সঙ্গে নেড়ী
কুকুরের দল, ধার-করা তেজে আপাত-তুখোড়।
ঘরে ঘরে জোর
চলেছে তল্লাশি। মারণাস্ত্র খোঁজে ওরা
অলিতে গলিতে, গাছতলায়, আড়তে,
ছায়াচ্ছন্ন প্রাঙ্গণে, পুকুরে এমনকি
বনেদী ভবনে
খোঁজে রাইফেল
গ্রেনেড, মেশিনগান, মুক্তিফৌজ, বিদ্রোহী তরুণ।
খাঁচার টিয়েটা
সবুজ চিৎকারে দিচ্ছে গুঁড়িয়ে অদ্ভুত
স্তব্ধতার ঘাঁটি ; টবে উদ্ভিন্ন গোলাপ
ভীষণ ফ্যাকাশে ভয়ে। হঠাৎ কপাটে
বুটের বেদম লাথি, হাঁক-ডাক। তুই-তোকারির
ডাকে বান, নিমেষে উঠোনে
খাকি উর্দি কতিপয় ; মরণলোলুপ কারবাইন
গচ্ছিত সবার কাঁধে, কারোবা বাহুতে
চওড়া সবুজ ব্যাজ। ভয়-পাওয়া জননী তাকান
তরুণ পুত্রের দিকে, লাফাচ্ছে বাঁ চোখ
ঘন ঘন ; বিমূঢ় জনক প্রস্তরিত
তরুণী কন্যার হাত ধরে ত্রস্ত খুব,
ঘরের চেয়েও বেশি নিরাপদ আশ্রয় খোঁজেন
দিগ্বিদিক। যদি পারতেন
আত্মজ ও আত্মজাকে
রাখতেন লুকিয়ে পাতালে
নক্ষত্রবীথির অন্তরালে কিংবা রক্তকণিকায়,
হৃদয়ের গহন স্পন্দনে।
পাড়ায় পাড়ায় ওরা মাতে অস্ত্রোদ্ধারে,
নিত্য করে তছনছ যখন যা খুশি।
শহরের খাঁ খাঁ বুকে চেপে ধরে বুট,
ঘাতক সঙ্গিন।
লুকানো অস্ত্রের লোভে ওরা বার বার
দেয় হানা মহল্লায় মহল্লায়, খোঁজে
শস্ত্রপাণি যত্রতত্র শমীবৃক্ষ
বাংলাদেশের হৃদয়ে হৃদয়ে
ঝলকিত। চোখগুলো গ্রেনেডের চেয়ে
বিস্ফোরক বেশি আর শূন্য কোটি হাত
যতটা বিপজ্জনক, ক্রূর মারণাস্ত্র নয় তত।
এখানে দরজা ছিল কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। ১৯৭২ স৩লে প্রকাশিত “বন্দী
শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
এখানে দরজা ছিল, দরজার ওপর মাধবী-
লতার একান্ত শোভা। বারান্দায় টব, সাইকেল
ছিল, তিন চাকা-অলা, সবুজ কথক একজন
দ্বারবন্দী। রান্নাঘর থেকে উঠত রেশমী ধোঁয়া।
মখমল গায়ে কেউ, টোটকাজীবী, অন্ধকারে
রাখত কখনো জ্বেলে একজোড়া চোখ। ভোরবেলা
খবর কাগজে মগ্ন কে নীরব বিশ্ব-পর্যটক
অকস্মাৎ তাকাতেন কাকময় দেয়ালের দিকে।
ভাবতেন শৈশবের মাঠ, বল-হারানোর খেদ
বাজত নতুন হয়ে। মুহূর্তে মুহূর্তে শুধু বল
হারাতেই থাকে, কোনো হুইসিল পারে না রুখতে।
ক্ষতির খাতায় হিজিবিজি অঙ্কগুলি নৃত্যপর।
এখানে দরজা ছিল, দরজার ওপর মাধবী-
লতার একান্ত শোভা। এখন এখানে কিছু নেই,
কিচ্ছু নেই। শুধু এক বেকুব দেয়াল, শেল-খাওয়া,
কেমন দাঁড়ানো, একা। কতিপয় কলঙ্কিত ইঁট
আছে পড়ে ইতস্তত। বাঁ দিকে তাকালে ভাঙাচোরা
একটি পুতুল পাবে, তা ছাড়া এখানে কিছু নেই।
ভগ্নস্তূপে স্থির আমি ধ্বংসচিহ্ন নিজেই যেনবা ;
ভগ্ন নাড়ি জুতো দিয়ে, যদি ছাই থেকে অকস্মাৎ
জেগে ওঠে অবিনাশী কোনো পাখি, যদি দেখা যায়
কারুর হাসির ছটা, উন্মীলিত স্নেহ, ভালোবাসা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি- গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
মুজিবর রহমান।
ওই নাম যেন বিসুভিয়াসের অগ্নি-উগারী বান।
বঙ্গদেশের এ প্রান্ত হতে সকল প্রান্ত ছেয়ে,
জ্বালায় জ্বলিছে মহা-কালানল ঝঞঝা-অশনি বেয়ে ।
বিগত দিনের যত অন্যায় অবিচার ভরা-মার।
হৃদয়ে হৃদয়ে সঞ্চিত হয়ে সহ্যে অঙ্গার ;
দিনে দিনে হয়ে বর্ধিত স্ফীত শত মজলুম বুকে,
দগ্ধিত হয়ে শত লেলিহান ছিল প্রকাশের মুখে ;
তাহাই যেন বা প্রমূর্ত হয়ে জ্বলন্ত শিখা ধরি
ওই নামে আজ অশনি দাপটে ফিরিছে ধরণী ভরি।
মুজিবর রহমান।
তব অশ্বেরে মোদের রক্তে করায়েছি পূত-স্নান।
পীড়িত-জনের নিশ্বাস তারে দিয়েছে চলার গতি,
বুলেটে নিহত শহীদেরা তার অঙ্গে দিয়েছে জ্যেতি।
দুর্ভিক্ষের দানব তাহারে অদম্য বল,
জঠরে জঠরে অনাহার-জ্বালা করে তারে চঞ্চল।
শত ক্ষতে লেখা অমর কাব্য হাসপাতালের ঘরে,
মুর্হুমুহু যে ধবনিত হইছে তোমার পথের পরে।
মায়ের বুকের ভায়ের বুকের বোনের বুকের জ্বালা,
তব সম্মুখ পথে পথে আজ দেখায়ে চলিছে আলা।
জীবন দানের প্রতিজ্ঞা লয়ে লক্ষ সেনানী পাছে,
তোমার হুকুম তামিলের লাগি সাথে তব চলিয়াছে।
বঙ্গ-বন্ধু কবি জসীমউদ্দীন মোল্লা (১৯০৪ - ১৪.৩.১৯৭৬)। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত, কবির “ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। রচনা ১৬ই মার্চ, ১৯৭১। আবৃত্তি শুনুন আব্দুল্লাহ আল হাদীর কণ্ঠে, ভিডিওটি সৌজন্যে Abdullah Al
Hadi YouTube Channel .। কবিতার কথা সৌজন্য বাংলারকবিতা.কম ওয়েবসাইট ।
রাজভয় আর কারাশৃঙ্কল হেলায় করেছ জয়।
ফাঁসির মঞ্চে-মহত্ব তব কখনো হয়নি ক্ষয়।
বাঙলাদেশের মুকুটবিহীন তুমি প্রমুর্ত রাজ,
প্রতি বাঙালীর হৃদয়ে হৃদয়ে তোমার তক্ত-তাজ।
তোমার একটি আঙ্গুল হেলনে অচল যে সরকার।
অফিসে অফিসে তালা লেগে গেছে-স্তব্ধ হুকুমদার।
এই বাঙলায় শুনেছি আমরা সকল করিয়া ত্যাগ,
সন্ন্যাসী বেশে দেশ-বন্ধুর শান্ত-মধুর ডাক।
শুনেছি আমরা গান্ধীর বাণী-জীবন করিয়া দান,
মিলাতে পারেনি প্রেম-বন্ধনে হিন্দু-মুসলমান।
তারা যা পারেনি তুমি তা করেছ, ধর্মে ধর্মে আর,
জাতিতে জাতিতে ভুলিয়াছে ভেদ সন্তান বাঙলার।
আরো একদিন ধন্য হইব, ধন-ধান্যেতে ভরা,
জ্ঞানে-গরিমায় হাসিবে এদেশ সীমিত-বসুন্ধরা।
মাঠের পাত্রে ফসলেরা আসি ঋতুর বসনে শোভি,
বরণে সুবাসে আঁকিয়া যাইবে নকসী-কাঁথার ছবি।
মানুষ মানুষ রহিবে না ভেদ, সকলে সকলকার,
এক সাথে ভাগ করিয়া খাইবে সম্পদ যত মার।
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নদীর রুপালীর তার পরে,
পরাণ ভুলানো ভাটিয়ালী সুর বাজিবে বিশ্বভরে।
আম-কাঁঠালের ছায়ায় শীতল কুটিরগুলির তলে,
সুখ যে আসিয়া গড়াগড়ি করি খেলাইবে কুতুহলে।
আরো একদিন ধন্য হইব চির-নির্ভীকভাবে,
আমাদরে জাতি নেতার পাগড়ি ধরিয়া জবাব চাবে,
“কোন অধিকারে জাতির স্বার্থ করিয়াছ বিক্রয়?”
আমার এদেশ হয় যেন সদা সেইরুপ নির্ভয়।
গীতারা চলিয়া যাবে ছাড়িয়া পাকিস্তান,
সেই গীতা যার অঙ্গ ঝলকে ঝলমল-মল
করিত সবার প্রাণ।
যার রঙিন মুখের শুভ্র হাসিতে
শেফালী কুসুম ছড়াইত পাছে পাছে,
নাচিত যে পথ ঝামুর ঝুমুর
নূপুরে-জড়িত তাহার পায়ের কাছে।
ওরা চলে যাবে, গেঁয়ো নদীতীরে জল ভরণীর সুরে,
দু হাতের চুড়ি বাজিবে না আর মাটির কলসি ঘুরে।
সিঁদুর কৌটা খালি করে আজ সিঁদুর উড়িয়া যাবে,
কাজল লতায় কাজল কি আর সে দুটি আঁখিরে পাবে?
রঙিন ঝিনুক জলে ভেসে যাবে, মতির স্বপন তার,
ভেঙে যাবে হায় কোন সে অজানা কোন-বা নদীর পার!
কাননে কাননে কুসুমে ফুটিয়া সাজায়ে হাসির ডালা,
ঝোপে ঝাড়ে আর ঘন পাতা জালে বৃথাই রহিবে
অপেক্ষমাণ হইতে ফুলের মালা।
কাঁদিতে কাঁদিতে খেজুর পাকিবে, কুড়াতে কেউ না রবে,
আমের আঁটির বাঁশি সুরে আর পাড়া না মুখর হবে।
ঘরে ঘরে আর ফুলের বাগান হবে না রচিত
পূজার ফুলের তরে,
উলু-ধ্বনিতে বধূদের আর লইবে না কেউ
বরণ করিয়া ঘরে।
গীতারা চলিয়া যাবে কবি জসীমউদ্দীন মোল্লা (১৯০৪ - ১৪.৩.১৯৭৬)। রচনা ঢাকা, ৫ই জানুয়ারী, ১৯৭১। কবির “ভয়াবহ সেই
দিনগুলিতে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। এই কাবিতাটি লেখার পরেই গীতারা পাকিস্তান ত্যাগ করে নি। কারণ তখনও ইয়াহিয়ার গণগত্যা শুরু হয়নি। কিন্তু কবিতার সাথে
লেখা রয়েছে যে ২৫শে মার্চের পর তারা পাকিস্তান ছেড়ে যায়। তাদের যাকিছু গহনা পত্র, টাকা পয়সা পাক সেনারা সব অপহরণ করে নেয়।
ধামরাই রথ, কোন অতীতের বৃদ্ধ সুত্রধর,
কতকাল ধরে গড়েছিল এরে করি অতি মনোহর।
সূক্ষ্ম হাতের বাটালি ধরিয়া কঠিন কাঠেরে কাটি,
কত পরী আর লতাপাতা ফুল গড়েছিল পরিপাটি।
রথের সামনে যুগল অশ্ব, সেই কত কাল হতে,
ছুটিয়া চলেছে আজিও তাহারা আসে নাই কোন মতে।
তারপর এলো নিপুণ পটুয়া, সূক্ষ্ম তুলির ঘায়,
স্বর্গ হতে কত দেবদেবী আনিয়া রথের গায়।
রঙের রেখার মায়ায় বাঁধিয়া চির জনমের তরে,
মহা সান্ত্বনা গড়িয়া রেখেছে ভঙ্গুর ধরা পরে।
কৃষ্ণ চলেছে মথুরার পথে, গোপীরা রথের তলে,
পড়িয়া কহিছে, যেওনা বন্ধু মোদের ছাড়িয়া চলে।
অভাগিনী রাধা, আহা তার ব্যথা যুগ যুগ পার হয়ে,
অঝোরে ঝরিছে গ্রাম্য পোটোর কয়েকটি রেখা লয়ে।
সীতারে হরিয়া নেছে দশানন, নারীর নির্যাতন
সারা দেশ ভরি হৃদয়ে হৃদয়ে জ্বালায়েছে হুতাশন।
রাম-লক্ষ্মণ সুগ্রীব আর নর বানরের দল,
দশমুন্ড সে রাবণে বধিয়া বহালো লহুর ঢল।
ধামরাই রথ কবি জসীমউদ্দীন মোল্লা (১৯০৪ - ১৪.৩.১৯৭৬)। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত, কবির “ভয়াবহ সেই
দিনগুলিতে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ বাংলারকবিতা.কম ওয়েবসাইটের কাছে কারণ এই
কবিতাটি আমরা সেখান থেকে পেয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . ।
বস্ত্র হরণে দ্রৌপদী কাঁদে, এ অপমানের দাদ,
লইবারে সাজে দেশে দেশে বীর করিয়া ভীষণ নাদ।
কত বীর দিল আত্ম-আহুতী, ভগ্ন শঙ্খ শাঁখা।
বোঝায় বোঝায় পড়িয়া কত যে নারীর বিলাপ মাথা।
শ্মশান ঘাটা যে রহিয়া রহিয়া মায়েদের ক্রদনে,
শিখায় শিখায় জ্বলিছে নির্বিছে নব নব ইন্ধনে।
একদল মরে, আর দল পড়ে ঝাপায়ে শক্র মাঝে,
আকাশ ধরণী সাজিল সে-দিন রক্তাশ্বর সাজে।
তারপর সেই দুর্যধনের সবংশ নিধনিয়া,
ধর্ম রাজ্য প্রতিষ্ঠিত যে হলো সারা দেশ নিয়া।
এই ছবিগুলি রথের কাঠের লিলায়িত রেখা হতে,
কালে কালে তাহা রুপায়িত হতো জীবন দানের ব্রতে।
নারীরা জানিত, এমনি ছেলেরা সাজিবে যুদ্ধ সাজে,
নারী-নির্যাতন-কারীদের মহানিধনের কাজে।
বছরে দু-বার বসিত হেথায় রথ-যাত্রার মেলা,
কত যে দোকান পসারী আসিত কত সার্কাস খেলা।
কোথাও গাজীর গানের আসরে খোলের মধুর সুরে।
কত যে বাদশা বাদশাজাদীরা হেথায় যাইত ঘুরে।
শ্রোতাদের মনে জাগায়ে তুলিত কত মহিমার কথা,
কত আদর্শ নীতির ন্যায়ের গাঁথিয়া সুরের লতা।
পুতুলের মত ছেলেরা মেয়েরা পুতুল লইয়া হাতে।
খুশীর কুসুম ছড়ায়ে চলিত বাপ ভাইদের সাথে।
কোন যাদুকর গড়েছিল রথ তুচ্ছ কি কাঠ নিয়া,
কি মায়া তাহাতে মেখে দিয়েছিল নিজ হৃদি নিঙাড়িয়া।
তাহারি মায়ায় বছর বছর কোটী কোটী লোক আসি,
রথের সামনে দোলায়ে যাইত প্রীতির প্রদীপ হাসি।
পাকিস্তানের রক্ষাকারীরা পরিয়া নীতির বেশ,
এই রথখানি আগুনে পোড়ায়ে করিল ভস্মশেষ।
শিল্পী হাতের মহা সান্ত্বনা যুগের যুগের তরে,
একটি নিমেষে শেষ করে গেল এসে কোন বর্বরে।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
বস্তীর বোন, তোমারে আজিকে ছেড়ে চলে যেতে হবে,
যত দূরে যাব তোমাদের কথা চিরদিন মনে রবে।
মনে রবে, সেই ভ্যাঁপসা গন্ধ অন্ধ-গলির মাঝে,
আমার সে ছোট বোনটির দিন কাটিছে মলিন সাজে।
পেটভরা সে যে পায় না আহার, পরনে ছিন্নবাস,
দারুণ দৈন্য অভাবের মাঝে কাটে তার বারোমাস।
আরো মনে রবে, সুযোগ পাইলে তার সে ফুলের প্রাণ,
ফুটিয়া উঠিত নানা রঙ লয়ে আলো করি ধরাখান।
পড়িবার তার কত আগ্রহ, একটু আদর দিয়ে,
কেউ যদি তারে ভর্তি করিত কোন ইস্কুলে নিয়ে;
কত বই সে যে পড়িয়া ফেলিত জানিত সে কত কিছু,
পথ দিয়ে যেতে জ্ঞানের আলোক ছড়াইত, পিছু পিছু!
নিজে সে পড়িয়া পরেরে পড়াত, তাহার আদর পেয়ে,
লেখাপড়া জেনে হাসিত খেলিত ধরনীর ছেলেমেয়ে।
হায়রে দুরাশা, কেউ তারে কোন দেবে না সুযোগ করি,
অজ্ঞানতার অন্ধকারায় রবে সে জীবন ভরি।
তারপর কোন মূর্খ স্বামীর ঘরের ঘরনী হয়ে,
দিনগুলি তার কাটিবে অসহ দৈন্যের বোঝা বয়ে।
এ পরিনামের হয় না বদল? এই অন্যায় হতে
বস্তীর বোন, তোমারে বাঁচাতে পারিবনা কোনমতে?
বস্তীর মেয়ে কবি জসীমউদ্দীন মোল্লা (১৯০৪ - ১৪.৩.১৯৭৬)। ১৯৫১ সালে প্রকাশিত, কবির “মাটির কান্না” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা ভীষণভাবে
কৃতজ্ঞ বাংলারকবিতা.কম ওয়েবসাইটের কাছে কারণ এই কবিতাটি আমরা সেখান থেকে পেয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . ।
ফুলের মতন হাসিখুশী মুখে চাঁদ ঝিকি মিকি করে,
নিজেরে গলায়ে আদর করিয়া দিতে সাধ দেহ ভরে।
তুমি ত কারুর কর নাই দোষ, তবে কেন হায়, হায়,
এই ভয়াবহ পরিনাম তব নামিছে জীবনটায়।
এ যে অন্যায়, এ যে অবিচার, কে রুখে দাঁড়াবে আজ,
কার হুঙ্কারে আকাশ হইতে নামিয়া আসিবে বাজ।
কে পোড়াবে এই অসাম্য-ভরা মিথ্যা সমাজ বাঁধ,
তার তরে আজ লিখিয়া গেলাম আমর আর্তনাদ।
আকাশে বাতাসে ফিরিবে এ ধ্বনি, দেশ হতে আর দেশে,
হৃদয় হইতে হৃদয়ে পশিয়া আঘাত হানিবে এসে।
অশনি পাখির পাখায় চড়িয়া আছাড়ি মেঘের গায়,
টুটিয়া পড়িবে অগ্নি জ্বালায় অসাম্য ধারাটায়!
কেউটে সাপের ফণায় বসিয়া হানিবে বিষের শ্বাস,
দগ্ধ করিবে যারা দশ হাতে কাড়িছে পরের গ্রাস।
আলো-বাতাসের দেশ হতে কাড়ি, নোংরা বস্তী মাঝে,
যারা ইহাদের করেছে ভিখারী অভাবের হীন সাজে;
তাহাদের তরে জ্বালায়ে গেলাম শ্মাশানে চিতার কাঠ,
গোরস্তানেতে খুঁড়িয়া গেলাম কবরের মহা-পাঠ।
কাল হতে কালে যুগ হতে যুগে ভীষণ ভীষণতর,
যতদিন যাবে ততজ্বালা ভরা হবে এ কন্ঠস্বর।
অনাহারী মার বুভুক্ষা জ্বালা দেবে এরে ইন্ধন,
দিনে দিনে এরে বিষায়ে তুলিবে পীড়িতের ক্রন্দন।
দুর্ভিক্ষের স্তন পিয়ে পিয়ে লেলিহা জিহ্বা মেলি,
আকাশ-বাতাস ধরণী ঘুরিয়া করিবে রক্ত কেলি।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
বিশ্ববাসীরা শোন,
মোদের কাহিনী শুনিয়া কাঁদিবে নাই কি দরদী কোন?
সীমান্ত পার হয়ে যারা গেছে হয়ত বেঁচেছে যবে,
এখানে যাহারা রয়েছি জানিনে কিবা পরিণাম হবে।
প্রতিদিন শুনি ভীষণ হইতে খবর ভীষণতর,
শিহরিয়া উঠি থাপড়াই বুক জীয়ন্তে মরমর,
রাত্র দিনের দু-খানি পাখায় লিখি অসহ্য গাথা,
চোখের সামনে দোলায় দেশের নিষ্ঠুর শাসন-দাতা।
কবির নিবেদন কবি জসীমউদ্দীন মোল্লা (১৯০৪ - ১৪.৩.১৯৭৬)। ১৯৭২ সালে
প্রকাশিত, কবির “ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা ভীষণভাবে
কৃতজ্ঞ বাংলারকবিতা.কম ওয়েবসাইটের কাছে কারণ এই কবিতাটি আমরা সেখান
থেকে পেয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . ।
এইখানে ছিল কালো গ্রামখানি, আম কাঁঠালের ছায়া,
টানিয়া আনিত শীতল বাতাস কত যেন করি মায়া।
তাহারই তলায় ঘরগুলি ভরে মমতা মুরতি হয়ে,
ছিল যে তাহারা ভাইবোন আর বউ ছেলেমেয়ে লয়ে।
সুখের স্বপন জড়ায়ে ঘুরায়েছিল যে তাদের বেড়ে,
আকাশ হইতে আসিত আশিস দেবর ভবন ছেড়ে।
গঞ্জের হটে সওদা বেচিতে বউ যে কহিত কানে,
“আমার জন্য নয়ানজুড়ির শাড়ি যেন কিনে আনে।”
হাটের ফিরতি পিতারে বেড়িয়া ছোট ছোট ছেলেমেয়ে,
হাসিত নাচিত বিস্কুট আর চিনির পুতুল পেয়ে।
গাজীর গানের বসিত আসর, গায়েনের সুর ধরি,
যুগ যুগান্ত পার হয়ে কত আসিত কাহিনী পরী।
কিসে কী হইল, পশ্চিম হতে নরঘাতকেরা আসি,
সারা গাঁও ভরি আগুন জ্বালায়ে হাসিল অট্টহাসি।
মার কোল হতে শিশুরে কাড়িয়া কাটিল যে খানখান,
পিতার সামনে মেয়েরে কাটিয়া করিল রক্তস্নান।
কে কাহার তরে কাঁদিবে কোথায়; যূপকাষ্ঠের গায়,
শত সহস্র পড়িল মানুষ ভীষণ খড়গ ধায়।
দগ্ধ গ্রাম কবি জসীমউদ্দীন মোল্লা (১৯০৪ - ১৪.৩.১৯৭৬)। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত, কবির “ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ জ্যোতিরজগৎ.ওয়ার্ডপ্রেস.কম ওয়েবসাইটের কাছে কারণ এই কবিতাটি
আমরা সেখান থেকে পেয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . ।
শত শিখা মেলি অগ্নিদাহন চাহি আকাশের পানে,
হয়তো-বা এর ফরিয়াদ করি ঊর্ধ্বে নিশ্বাস হানে।
আকাশে আজিকে নাহি কোনো পাখি, সুনীল আরোসি তার,
দিগন্তে মেলি এ ভীষণ রূপ দগ্ধি হে অনিবার।
মুহূর্তে সব শেষ হয়ে গেল ভস্মাবশেষ গ্রাম,
দাঁড়ায়ে রয়েছে বিষাদ-মলিন দগ্ধ দুটি আধপোড়া খাম।
ওইখানে ছিল কুলের গাছটি, স্খলিত দগ্ধ-শাখ,
পাড়ার যত-না ছেলেমেয়েদের নীরবে পড়িছে ডাক।
আর তো তাহারা ফিরে আসিবে না, নাড়িয়া তাহার ডাল,
পাড়িবে না ফল দস্যু ছেলেরা অবহেলি মার গাল।
সিঁদুরে আমের গাছ ছিল হোথা, বছরের শেষ সনে,
শাখা ভরা আম সিঁদুর পরিয়া সাজিত বিয়ের কনে।
সে গাছে তো আর ধরিবে না আম বোশেখ মাসের ঝড়;
সে ছেলেমেয়েরা আসিবে না পুনঃ আম কুড়াবার তরে।
সারা গাঁওখানি দগ্ধ শ্মশান, দমকা হাওয়ার ঘায়,
দীর্ঘনিশ্বাস আকাশে পাতালে ভস্মে উড়িয়া যায়।
দেউলে দেউলে কাঁদিছে দেবতা পূজারীরে খোঁজ করি,
মন্দিরে আজ বাজেনাকো শাঁখ সন্ধ্যা-সকাল ভরি।
তুলসীতলা সে জঙ্গলে ভরা, সোনার প্রদীপ লয়ে,
রচে না প্রণাম গাঁয়ের রূপসী মঙ্গল কথা কয়ে।
হাজরাতলায় শেয়ালের বাসা, শেওড়া গাছের গোড়ে,
সিঁদুর মাখান, সেই স্থান আজি বুনো শুয়োরেরা কোড়ে।
আঙিনার ফুর কুড়াইয়া কেউ যতনে গাঁথে না মালা,
ভোরের শিশিরে কাঁদিছে পুজার দুর্বাশীষের থালা।
দোল-মঞ্চ যে ফাটিলে ফাটিছে, ঝুলনের দোলাখানি,
ইঁদুরে কেটেছে, নাটমঞ্চের উড়েছে চালের ছানি।
কাক-চোখ জল পদ্মদীঘিতে কবে কোন রাঙা মেয়ে,
আলতা ছোপান চরণ দুখানি মেলেছিল ঘাটে যেয়ে।
সেই রাঙা রঙ ভোলে নাই দীঘি, হিজলের ফুল বুকে,
মাখাইয়া সেই রঙিন পায়েরে রাখিয়াছে জলে টুকে।
আজি ঢেউহীন অপলক চোখে করিতেছে তাহা ধ্যান,
ঘন-বন-তলে বিহগ কন্ঠে জাগে তার স্তব গান।
এই দীঘি-জলে সাঁতার খেলিতে ফিরে এসো গাঁর মেয়ে,
কলমি-লতা যে ফুটাইবে ফুল তোমারে নিকটে পেয়ে।
ঘুঘুরা কাঁদিছে উহু উহু করি, ডাহুকেরা ডাক ছাড়ি,
গুমরায় বন সবুজ শাড়ীরে দীঘল নিশাসে ফাড়ি।
বাস্তু ত্যাগী কবি জসীমউদ্দীন মোল্লা (১৯০৪ - ১৪.৩.১৯৭৬) । ১৯৫১ সালে প্রকাশিত, কবির “মাটির কান্না”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ বাংলা-কবিতা.কম ওয়েবসাইটের কাছে কারণ এই কবিতাটি আমরা সেখান
থেকে পেয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . ।
ফিরে এসো যারা গাঁও ছেড়ে গেছো, তরুলতিকার বাঁধে,
তোমাদের কত অতীত-দিনের মায়া ও মমতা কাঁদে।
সুপারির বন শুন্যে ছিঁড়িছে দীঘল মাথার কেশ,
নারকেল তরু উর্ধ্বে খুঁজিছে তোমাদের উদ্দেশ।
বুনো পাখিগুলি এডালে ওডালে, কইরে কইরে কাঁদে,
দীঘল রজনী খন্ডিত হয় পোষা কুকুরের নামে।
কার মায়া পেয়ে ছাড়িলে , এদেশ, শস্যের থালা ভরি,
অন্নপূর্ণা আজো যে জাগিছে তোমাদের কথা স্মরি।
আঁকাবাঁকা রাকা শত নদীপথে ডিঙি তরীর পাখি,
তোমাদের পিতা-পিতামহদের আদরিয়া বুকে রাখি ;
কত নমহীন অথই সাগরে যুঝিয়া ঝড়ের সনে,
লক্ষীর ঝাঁপি লুটিয়া এনেছে তোমাদের গেহ-কোণে।
আজি কি তোমরা শুনিতে পাও না সে নদীর কলগীতি,
দেখিতে পাও না ঢেউএর আখরে লিখিত মনের প্রীতি?
হিন্দু-মুসলমানের এ দেশ, এ দেশের গাঁয়ে কবি,
কত কাহিনীর সোনার সুত্রে গেঁথেছে সে রাঙা ছবি।
এদেশ কাহারো হবে না একার, যতখানি ভালোবাসা,
যতখানি ত্যাগ যে দেবে, হেথায় পাবে ততখানি বাসা।
বেহুলার শোকে কাঁদিয়াছি মোরা, গংকিনী নদীসোঁতে,
কত কাহিনীর ভেলায় ভাসিয়া গেছি দেশে দেশ হতে।
এমাম হোসেন, সকিনার শোকে ভেসেছে হলুদপাটা,
রাধিকার পার নুপুরে মুখর আমাদের পার-ঘাটা।
অতীতে হয়ত কিছু ব্যথা দেছি পেয়ে বা কিছুটা ব্যথা,
আজকের দিনে ভুলে যাও ভাই, সে সব অতীত কথা।
এখন আমরা স্বাধীন হয়েছি, নুতন দৃষ্টি দিয়ে,
নুতন রাষ্ট্র গুড়িব আমরা তোমাদের সাথে নিয়ে।
ভাঙ্গা ইস্কুল আবার গড়িব, ফিরে এসো মাস্টার।
হুঙ্কারে ভাই তাড়াইয়া দিব কালি অজ্ঞানতার।
বনের ছায়ায় গাছের তলায় শীতল স্নেহের নীড়ে,
খুঁজিয়া পাইব হারাইয়া যাওয়া আদরের ভাইটিরে।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি- গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি- গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি- গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি- গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি- গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি- গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
সেনাবাহিনীর অশ্বে চড়িয়া দম্ভ-স্ফীত ত্রাস,
কামান গোলার বুলেটের জোরে হানে বিষাক্ত শ্বাস।
তোমার হুকুমে তুচ্ছ করিয়া শাসন ত্রাসন ভয়,
আমরা বাঙালীর মৃত্যুর পথে চলেছি আনিতে জয়।
ধন্য এ কবি ধন্য এ যুগে রয়েছে জীবন লয়ে,
সম্মুখে তার মহাগৌরবে ইতিহাস চলে বয়ে।
ভুলিব না সেই মহিমার দিন, ভাষার আন্দোলনে ।
বুলেটের ভয় তুচ্ছ করিয়া ছেলেরা দাঁড়াল রণে ।
বরকত আর জব্বার আর সালাম পথের মাঝে,
পড়ে বলে গেলো, “আমরা চলিনু ভাইরা আসিও পাছে।”
উত্তর তার দিয়েছে বাঙালী, জানুয়ারী সত্তরে,
ঘরের বাহির হইল ছেলেরা বুলেটের মহা-ঝড়ে।
পথে পথে তারা লিখিল লেখন বুকের রক্ত দিয়ে,
লক্ষ লক্ষ ছুটিল বাঙালী সেই বাণী ফুকারিয়ে।
মরিবার সে কি উন্মাদনা যে, ভয় পালাইল ভয়ে,
পাগলের মত ছোট নর-নারী মৃত্যুরে হাতে লয়ে।
আরো একদিন ধন্য হইনু সে মহাদৃশ্য হেরি,
দিকে দিগনে- বাজিল যেদিন বাঙালীর জয়ভেরী।
মহাহুঙ্কারে কংস-কারার ভাঙিয়া পাষাণ দ্বার,
বঙ্গ-বঙ্গ শেখ মুজিবেরে করিয়া আনিল বার।
এপার বাংলার কলকাতায়, ভারতমাতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির সামনে, ভারতবর্ষের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।
দিল্লীর গেটওয়ে অফ ইণ্ডিয়াতে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া ভারতীয় সেনার স্মৃতিতে বিগত ৫০ বছর যাবৎ প্রজ্বলিত "অমর জওয়ান জ্যোতি" নামক অনির্বাণ অগ্নিশিখাকে নিভিয়ে দিয়ে, আমাদের ইতিহাস থেকে, মুক্তিযূদ্ধের কালে, ভারত ও বাংলাদেশের মৈত্রী, সহযোগিতা ও ভারতীয় সেনার আত্মবলিদান এবং ইন্দিরা গান্ধীর অবিস্মরণীয় অবদান মুছে ফেলার বর্তমান ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের আপ্রাণ চেষ্টার প্রতিবাদে আমরা এই ছবিটি এখানে তুলে দিলাম।
মোদী সরকার বলছেন যে তাঁরা নাকি ওই অনির্বাণ অগ্নিশিখাটিকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে অন্যান্য সেনাদের সৌধের অগ্নিশিখার সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছেন। যা আমরা হাস্যকর মনে করি।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সারা ভারত তথা এপার বাংলায়, দেশের শাসকদলের ছড়ানো বিদ্বেষ-বিষে বুঁদ হয়ে থাকা নাগরিক সমাজ ও বিরোধী দলগুলি থেকে এই সিদ্ধান্তের কোনো জোরালো প্রতিবাদ চোখে পড়ে নি।
|
প্রতিশ্রুতি কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। রচনা ২৯.৭.১৯৭১। কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কবির স্বনামে, "পথের কুকুর"
শিরোনামের অপর একটি কবিতার সঙ্গে, অশোককুমার সরকার ও সাগরময় ঘোষ সম্পাদিত দেশ পত্রিকার ৯ই পৌষ ১৩৭৮ সংখ্যায় (২৩শে ডিসেম্বর ১৯৭১)।
বাচিক শিল্পী মাসুমা নিতু-র কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে MONER JANALA YouTube Channel .। কবির “বন্দী শিবির থেকে” কাব্য সংকলনের কবিতা।
"দেশ" পত্রিকার ২রা পৌষ ১৩৭৮ সংখ্যায় (১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১) "বন্দী শিবির থেকে" ও "কাক" শিরোনামের দুটি কবিতার পাতায় সম্পাদক লিখেছিলেন --- "কবিতাগুলি আশুপ্রকাশিতব্য একটি
কাব্যসংকলনের অন্তর্ভুক্ত। সংকলন গ্রন্থটি গত আট মাসকাল যাবৎ পাকিস্তানী সামরিক যন্ত্রের অকথ্য নিষ্পেষণের মধ্যে রচিত। কোথাও খোলাখুলি কোথাও আভাসে ইঙ্গিতে এমন ক্রোধ-ধিক্কার
বিক্ষোভ বেদনা ব্যক্ত হযেছে যে লেখকের স্বনামে প্রকাশ করে বাংলাদেশে বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল না। মজলুম আদীব অর্থাৎ নির্যাতিত লেখক যাঁর ছদ্মনাম তিনি বাংলা দেশের একজন স্বনামধন্য
কবি, এখনো স্বদেশেই আছেন। পাণ্ডুলিপি মুক্তিফৌজের এক তরুণ ছাত্রের হাতে পাঠিয়েছেন কলকাতায় --- সম্পাদক"
পরের ৯ই পৌষ ১৩৭৮ সংখ্যায় (২৩শে ডিসেম্বর ১৯৭১) এই কবির এই কবিতাটি এবং "পথের কুকুর" শিরোনামের অপর একটি কবিতার পাতায় লেখা ছিল --- "গত সপ্তাহে মজলুম আদীব এই
ছদ্মনামে দুটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল, তার কারণ তখনও তিনি হানাদার দখলীকৃত বাংলাদেশের ভেতর থেকেই তাঁর কবিতা লিখে পাঠিয়েছিলেন। আজ আর সে দিন নেই বলে তিনি এ সংখায়
স্বনামে কবিতা লিখেছেন। মজলুম আদীবই বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি শামসুর রাহমান।--- সম্পাদক"
. এখানে তোলা মূল কবিতার শেষ দুটি পঙ্ক্তি এই আবৃত্তিকার পাঠ করেন নি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
কথা দিচ্ছি, তোমার কাছেই যাবো, গেলে
তুমি খুশী হবে খুব, মেলে
দেবে ধীরে অনাবিল আপন গহন সত্তা। আজ
আমাকে ডেকো না বৃথা! তোমার সলাজ
সান্নিধ্যে যাওয়ার মতো মন নেই শহুরে বাগান
রাখুক দরজা খুলে, তোমার ত্বকের মূদু ঘ্রাণ
পারবো না নিতে। যখন সময় হবে, দিচ্ছি কথা,
অঞ্জলিতে নেবো তুলে মুখ হে রঙিন কোমলতা।
আমাদের বৃকে জ্বলে টকটকে ক্ষত
অনেকে নিহত আর বিষম আহত
অনেকেই। প্রেমালাপ সাজে না বাগানে
বর্তমানে আমাদের। ভ্রমরের গানে
কান পেতে থাকাও ভীষণ বেমানান
আজকাল। সৈন্যদল অদূরেই দাগছে কামান।
কবরে স্তব্ধতা নিয়ে বসে আছি। নড়ি না চড়ি না
একটুকু, এমনকি দেয়াল-বিহারী টিকটিকি
চকিতে উঠলে ডেকে, তাকেও থামিয়ে দিতে চাই,
পাছে কেউ শব্দ শুনে ঢুকে পড়ে ফালি ফালি চিরে মধ্যবিত্ত
নিরাপত্তা আমাদের! সমস্ত শহরে
আমাদের ক্ষত সেরে গেলে
কোনো এক বিনম্র বিকেলে
তোমার কাছেই যাবো হে আমার সবচেয়ে আপন গোলাপ,
করবো না কথার খেলাপ।
আমি প্রারম্ভে, ভাই তুমি করো শেষ
দূর্ভাগ্য, তোমার আমার একই স্বদেশ।
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংকলক, কবি গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর কী সম্পর্ক?
|
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মিলনসাগর.কম এর পরিচালক মিলন সেনগুপ্তর কী সম্পর্ক?
|
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংকলক, কবি গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর কী সম্পর্ক?
|
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মিলনসাগর.কম এর পরিচালক মিলন সেনগুপ্তর কী সম্পর্ক?
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
॥ গান॥
ও নাও সাজাইয়া,
ও গান বাজাইয়া,
ওই কারা গাঙে বাইয়া যায়।
স্বাধীন-বাংলার সৈন্য ওরা লড়াই করতে যায়,
আকাশ-জমিন কাঁইপা উঠছে ঠাঁটার বইঠার ঘায়;
ওরা, ঝড় মানে না ডর জানে না বাতাসের আগে ধায়,
বজ্র আটন মারে যদি দস্যু দুশমন পায় ;
. ভাই-ভাইরে॥
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নদীর শুষায় হন্যা বুলি,
তারো চাইতে হন্যা আজি ওদের পরাণগুলি ;
মা-বোনের ইজ্জত লইয়া খেলছে যারা পাশা,
তাদের বুকের ছিড়বে পাঁজড় ওরা সর্বনাশা ;
. ভাই-ভাইরে॥
মোদের বুকে আশার বাতাস ওদের পালে ভরা,
বইঠা ওদের মোদের দেহের হিম্মতে হল-করা ;
ওরা যাবে নায়ে নায়ে আমরা যাব তড়ে
ডাঙায় বইঠা পানিতে বইঠা ( শত্রু ) বাঁচবি কেমন করে।
. ভাই-ভাইরে॥
আকাশেতে পালাস যদি ধরব বজ্র হয়ে,
পাতালে গেলে মারব তোদের সহস্র সাপ লয়ে ;
সুন্দরবনে খাড়া আছি আমরা হাজার বাঘ,
পূর্ব আকাশে জ্বলছে আগুন ( তোদের ) কপালে দিতে আগ।
. হায় হায় রে।
ও নাও সাজাইয়া পল্লীকবি জসীমউদ্দীন মোল্লা। রচনা ঢাকা, ৮ই জুলাই, ১৯৭১।
গীতারা কোথায় গেলো,
আহা সেই পুতুলের মতো রাঙা টুকটুকে মেয়ে।
দেখলে তাহারে মায়া মমতার ধারা বয়ে যায়
সারা বুকখানি ছেয়ে,
আদরি তাহারে কথা না ফুরায়
কথার কুসুম আকাশে বাতাসে উঠে বেয়ে,
দেখলে তাহারে ছাড়ায় ছড়ায় ছড়ায় যে মন
গড়ায় ধরণী ছেয়ে।
ওদের গ্রামের চারিদিক বেড়ি ঘিরেছে দস্যুদল,
ঘরে ঘরে তারা আগুন জ্বালায়ে ফুকারে অগ্নিকল।
সেই কচি মেয়ে কোলে তুলে নিতে কোল যে জুড়িয়ে যেত,
কে মারিল তারে ? মানুষ কি পারে নিষ্ঠুর হতে এত।
অফুট কুসুম কে দলেছে পায়ে? কথার সে বুলবুলি,
কোন নিষ্ঠুর বধেছে তাহারে গলায় আঙ্গুল তুলি ?
সে বন-হরিণী নিষ্ঠুর হতে পালাবার লাগি
হেথায় হোথায় কত না ঘুরেছে হায়।
সারা গাঁও করি উথাল পাথাল বাণ-বিদ্ধ যে করিয়াছে ব্যাধ তায়।
আহারে আমার ছোট গীতামণি,
তোর তরে আজ কেঁদে ফিরি সবখানে,
মোর ক্রদন নিঠুর দেশের সীমানা পেরিয়ে
পারিবে কি যেতে কোন দরদীয় কানে।
গীতারা কোথায় গেলো কবি জসীমউদ্দীন মোল্লা (১৯০৪ - ১৪.৩.১৯৭৬)। রচনা ৬ই জুলাই ১৯৭১। ১৯৭২ সালে
প্রকাশিত, কবির “ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ বাংলারকবিতা.
কম ওয়েবসাইটের কাছে কারণ এই কবিতাটি আমরা সেখান থেকে পেয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি- গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
গীতারা চলিয়া যাবে হলদে পাখিটি ছাড়িবে রাজার দেশ,
কোথা উড়ে যাবে কোন দূর দেশে কে করিবে সন্দেশ।
শখের বেনে ঘুরিবেনা আর
বধূদের হাতে পরাইতে শুভ শাঁখ,
আকাশ হইতে দেবতারা নামি আসবে না আর,
শুনিতে শুনিতে চৈত্র পূজার ঢাক।
আলপনা আঁকা আঙিনার কোলে
রেখার বাঁধন পরে,
স্বর্গ হইতে লক্ষ্মী আসিয়া হবে না বন্দী
চির জনমে তরে।
গীতারা চলিয়া যাবে---
কেন যাবে তারা?
বুকের বাঁশীতে আরও কিছ, সুর ভরে,
আরও কিছু, স্নেহ আরও কিছু প্রাণ
আরও কিছু গান রচিব মনের ঘরে।
আরও কিছু ভাষা আরও কিছু আশা
আরও কিছু বাসা --- গড়িয়া কুহক ফাঁদ,
ধরিয়া রাখিব আজিকে যে পাখি,
উড়িয়া যাইতে করিয়াছে মনে সাধ।
গীতারা কোথায় যাবে?
কোথায় যাইয়া পাবে আশ্রয় ঠাঁই
সামনে পেছনে ডাহিনে ও বামে
তাহাদের ধরে কোনো বান্ধব নাই
মানুষ বাঘেরা ফিরিছে ঘুরিয়া
প্রসারি হিংশ্র দাঁত
যে দেবে তাদের আশ্রয়
তার ঘর বাড়ি সব পুড়িবে অকস্মাৎ
বনে পলাইলে বন হতে তারে
খুঁজিয়া বাহিরে আনি
নিমেষের মাঝে করে দেবে শেষ
বুলেটে আঘাত হানি
বনের বাঘের ঘা থামিতো যে থাবা
হয়তো ফিরিয়া সেই চাঁদমুখো পানে
সাপেরা হয়তো গুটাইতো ফণা
বাঁশীর মতন সে মুখের কথা
শুনিয়া লইতে কানে
মানুষ বাঘেরা এসব বোঝে না
মানুষ সাপেরা কত যে হিংশ্র হায়
গীতারা কোথায় যাবে? কবি জসীমউদ্দীন মোল্লা (১৯০৪ - ১৪.৩.১৯৭৬)। আবৃত্তি শুনুন বাচিক
শিল্পী দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র এর কণ্ঠে, ভিডিওটি সৌজন্যে Debasish Talukder YouTube Channel । ১৯৭২
সালে প্রকাশিত, কবির “ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবিতাটি শুনে লেখা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিখ্যাত ছবির কৃষ্ণকায় করা কোলাজ! রয়েছে বাংলাদেশের বীর নারী ও পুরুষ স্বাধীনতা সৈনিকদের ছবির পাশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিও, যাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কথা কখনোই ভুলবার নয়। এই পাতার গান কবিতা ও তথ্য, কবি- গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্তর গবেষণালব্ধ সংগ্রহ।
|
|
|
গীতার মতন শত ছেলে মেয়ে
আছাড়িয়া মারি দলিছে নিঠুর পায়
তারা আর কভু মা বোল বলিয়া
জুড়াবে না মার কোল
তারা আর কভু ঘরে ফিরবে না
সন্ধে বেলায় করিয়া কাকলী রোল
গীতারা কোথায় যাবে?
কোথায় মমতা, কোথা স্নেহ আর মায়া,
কাহারা আজিকে এদেশ হইতে মুছিয়া
ফেলিছে
সকল শীতল ছায়া।