চলো যাই, চলো যাই, চলো যাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গীতবিতান,
স্বদেশ পর্যায়। শিল্পী - উৎপলা সেন ও মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়। VDOটি সৌজন্যে সুরজিত সেনের YouTube Channel.
চলো যাই, চলো যাই, চলো যাই-----
. চলো পদে পদে সত্যের ছন্দে
. চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে।
. চলো মুক্তিপথে,
. চলো বিঘ্নবিপদজয়ী মনোরথে
করো ছিন্ন, করো ছিন্ন, করো ছিন্ন-----
. স্বপ্নকুহক করো ছিন্ন।
. থেকো না জড়িত অবরুদ্ধ
. জড়তার জর্জর বন্ধে।
বলো জয় বলো, জয় বলো, জয়-------
. মুক্তির জয় বলো ভাই॥
চলো দুর্গমদূরপথযাত্রী চলো দিবারাত্রি,
. করো জয়যাত্রা,
চলো বহি নির্ভয় বীর্যের বার্তা,
. বলো জয় বলো, জয় বলো, জয়-----
. সত্যের জয় বলো ভাই॥
দূর করো সংশয়শঙ্কার ভার,
. যাও চলি তিমিরদিগন্তের পার।
কেন যায় দিন হায় দুশ্চিন্তার দ্বন্দ্বে-----
. চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে।
. চলো জ্যোতির্লোকে জাগ্রত চোখে-----
. বলো জয় বলো, জয় বলো, জয়-------
বলো নির্মল জ্যোতির জয় বলো ভাই॥
. হও মৃত্যুতোরণ উত্তীর্ণ,
. যাক, যাক ভেঙে যাক যাহা জীর্ণ।
চলো অভয় অমৃতময় লোকে, অজর অশোকে,
. বলো জয় বলো, জয় বলো, জয়------
. অমৃতের জয় বলো ভাই॥
সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গীতবিতান, স্বদেশ পর্যায়।
শিল্পী - পূবালী দেবনাথ। VDOটি সৌজন্যে Badal Mondal YouTube Channel.
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গীতবিতান, স্বদেশ পর্যায়। শিল্পী - প্রমিতা মল্লিক। VDOটি সৌজন্যে mh music archive - Tagore's YouTube Channel.
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে॥
যদি কেউ কথা না কয়, ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়-----
. তবে পরান খুলে
ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা একলা বলো রে॥
যদি সবাই ফিরে যায়, ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়-----
. তবে পথের কাঁটা
ও তুই রক্তমাখা চরণতলে একলা দলো রে॥
যদি আলো না ধরে, ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে দুয়ার দেয় ঘরে-----
. তবে বজ্রানলে
আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা জ্বলো রে॥
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই গানটির ইতিহাস - সৌজন্যে উইকিপেডিয়া . . .
১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে ভাণ্ডার পত্রিকায় একা শিরোনামে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গানটি হরিনাম দিয়ে জগত মাতালে আমার একলা নিতাই রে, নামক একটি জনপ্রিয় মনোহরশাহি ঘরানার
বাংলা ধাপকীর্তন দ্বারা প্রভাবিত ছিল। মহাত্মা গান্ধী এই গানের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং এটিকে তিনি তাঁর অন্যতম প্রিয় গান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। গান্ধীজী লবণের উপর
কর ধার্য্য করার বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ শুরু করেন ১৯৩০ সালের মার্চে। ১২ই মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৮৫ কিলোমিটার হেঁটে সাবরমতী আশ্রম থেকে ডাণ্ডিতে পৌছান, নিজের হাতে লবণ তৈরির জন্য।
হাজার হাজার দেশবাসী তাঁর সাথে হেঁটে আরব সাগরের তীরের পৌছান যা বিখ্যাত "ডাণ্ডী মার্চ" নামে বিশ্বব্যাপি খ্যাত হয়েছিল। সেই ডাণ্ডী মার্চ বা পদযাত্রার কালে এই গানটিও গাওয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ
সরকার এই সময়ে ৬০,০০০ জন সত্যাগ্রহীকে গ্রেপ্তার করে। পরে সরকার গান্ধীজীর সাথে সমঝোতা করতে বাধ্য হয়ে লর্ড আরউইনকে প্রতিনিধি নিয়োগ করে যার ফল গান্ধী-আরউইন প্যাক্ট।
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
|
|
|
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে! This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান,
সঙ্কটের কল্পনাতে হোয়ো না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।
দুর্বলেরে রক্ষা করো, দুর্জনেরে হানো,
নিজেরে দীন নিঃসহায় যেন কভু না জানো।
মুক্ত করো ভয়, নিজের ‘পরে করিতে ভর না রেখো সংশয়।
ধর্ম যবে শঙ্খরবে করিবে আহ্বান
নীরব হয়ে, নম্র হয়ে, পণ করিয়ো প্রাণ।
মুক্ত করো ভয়, দুরূহ কাজে নিজেরই দিয়ো কঠিন পরিচয়॥
বাধা দিলে বাধবে লড়াই, মরতে হবে
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গীতবিতান, স্বদেশ পর্যায়।
শিল্পী - দেবব্রত বিশ্বাস। VDOটি সৌজন্যে Anjan Chakraborty YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাধা দিলে বাধবে লড়াই, মরতে হবে।
পথ জুড়ে কি করবি বড়াই, সরতে হবে॥
লুঠ--করা ধন ক’রে জড়ো কে হতে চাস সবার বড়ো---
এক নিমেষে পথের ধুলায় পড়তে হবে।
নাড়া দিতে গিয়ে তোমায় নড়তে হবে॥
নীচে বসে আছিস কে রে, কাঁদিস কেন ?
লজ্জাডোরে আপনাকে রে বাঁধিস কেন ?
ধনী যে তুই দুঃখধনে সেই কথাটি রাখিস মনে-------
ধুলার ‘পরে স্বর্গ তোমায় গড়তে হবে------
বিনা অস্ত্র, বিনা সহায়, লড়তে হবে॥
আমি ভয় করব না ভয় করব না
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গীতবিতান, স্বদেশ পর্যায়।
শিল্পী - সুচিত্রা মিত্র। VDOটি সৌজন্যে pujan kumar daripa YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি ভয় করব না ভয় করব না |
দু বেলা মরার আগে মরব না, ভাই, মরব না॥
তরীখানা বাইতে গেলে মাঝে মাঝে তুফান মেলে---
তাই ব’লে হাল ছেড়ে দিয়ে ধরব না, কান্নাকাটি ধরব না॥
শক্ত যা তাই সাধতে হবে, মাথা তুলে রইব ভবে----
সহজ পথে চলব ভেবে পড়ব না, পাঁকের ‘পরে পড়ব না॥
ধর্ম আমার মাথায় রেখে চলব সিধে রাস্তা দেখে------
বিপদ যদি এসে পড়ে সরব না, ঘরের কোণে সরব না॥
ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে ততই বাঁধন টুটবে
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গীতবিতান, স্বদেশ পর্যায়।
শিল্পী আচার্য শান্তিদেব ঘোষের কণ্ঠে গানটি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে Shantideb
Ghosh - Topic YouTube Channel
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে ততই বাঁধন টুটবে,
মোদের ততই বাঁধন টুটবে।
ওদের যতই আঁখি রক্ত হবে মোদের আঁখি ফুটবে,
ততই মোদের আঁখি ফুটবে॥
আজকে যে তোর কাজ করা চাই, স্বপ্ন দেখার সময় তো নাই---
এখন ওরা যতই গর্জাবে, ভাই, তন্দ্রা ততই ছুটবে,
মোদের তন্দ্রা ততই ছুটবে॥
ওরা ভাঙতে যতই চাবে জোরে গড়বে ততই দ্বিগুণ করে,
ওরা যতই রাগে মারবে রে ঘা ততই যে ঢেউ উঠবে।
তোরা ভরসা না ছাড়িস কভু, জেগে আছেন জগৎ-প্রভু---
ওরা ধর্ম যতই দলবে ততই ধুলায় ধ্বজা লুটবে,
ওদের ধুলায় ধ্বজা লুটবে॥
নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়, খুলে যাবে এই দ্বার
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গীতবিতান, স্বদেশ পর্যায়।
শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। VDOটি সৌজন্যে Gaaner Dali YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়, খুলে যাবে এই দ্বার-----
জানি জানি তোর বন্ধনডোর ছিঁড়ে যাবে বারে বার॥
খনে খনে তুই হারায়ে আপনা সুপ্তিনিশীথ করিস যাপনা----
বারে বারে তোরে ফিরে পেতে হবে বিশ্বের অধিকার॥
স্থলে জলে তোর আছে আহ্বান, আহ্বান লোকালয়ে-----
চিরদিন তুই গাহিবি যে গান সুখে দুখে লাজে ভয়ে।
ফুলপল্লব নদীনির্ঝর সুরে সুরে তোর মিলাইবে স্বর----
ছন্দে যে তোর স্পন্দিত হবে আলোক অন্ধকার॥
বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমন শক্তিমান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গীতবিতান, স্বদেশ পর্যায়।
দৃশ্যায়ন - ১৯৬৮ সালে নির্মল চৌধুরী নির্দেশিত, সবিতাব্রত দত্ত, ছায়া দেবী, তৃপ্তি
মিত্র, গুরুদাস ব্যানার্জী, দিলীপ রায়, গীতা দে অভিনীত "চারণকবি মুকুন্দদাস"
ছায়াছবি থেকে। VDOটি সৌজন্যে Rabindranath Tagore YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমন শক্তিমান-----
তুমি কি এমনি শক্তিমান !
আমাদের ভাঙাগড়া তোমার হাতে এমন অভিমান----
তোমাদের এমনি অভিমান॥
চিরদিন টানবে পিছে, চিরদিন রাখবে নীচে----
এত বল নাই রে তোমার, সবে না সেই টান॥
শাসনে যতই ঘেরো আছে বল দুর্বলেরও,
হও-না যতই বড়ো আছেন ভগবান।
আমাদের শক্তি মেরে তোরাও বাঁচবি নে রে,
বোঝা তোর ভারী হলেই ডুববে তরীখান॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাংলার মাটি বাংলার জল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গীতবিতান, স্বদেশ পর্যায়।
কবিকণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে Shimul Chandra Das YouTube Channel.
স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্তর কণ্ঠে গান শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে Swagatalakshmi - Topic YouTube Channel.
বাংলায় হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বকে ফুটিয়ে তুলতে এই গানটির রচনা যা সফল বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের
ভাষা হয়ে ওঠে। অন্তত সেবার বাংলাকে ভাগ করা যায়নি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল---
পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণা হউক হে ভগবান॥
বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ---
পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক হে ভগবান॥
বাঙালির পণ, বাঙালির আশা, বাঙালির কাজ, বাঙালির ভাষা---
সত্য হউক, সত্য হউক, সত্য হউক হে ভগবান॥
বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন---
এক হউক, এক হউক, এক হউক হে ভগবান॥
<<<<< কবিকণ্ঠে আবৃত্তি।
<<<<< স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্তর কণ্ঠে গান।
ওরে আগুন আমার ভাই
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গীতবিতান, স্বদেশ পর্যায়।
শিল্পী - সুমিত্রা চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে
গানঘর GAANGHAWR YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওরে আগুন আমার ভাই,
আমি তোমারই জয় গাই।
তোমার ওই শিকল-ভাঙা এমন রাঙা মূর্তি দেখি নাই॥
তুমি দু হাত তুলে আকাশ-পানে মেতেছ আজ কিসের গানে,
একি আনন্দময় নৃত্য অভয় বলিহারি যাই॥
যেদিন ভবের মেয়াদ ফুরোবে ভাই, আগল যাবে সরে---
সে দিন হাতের দড়ি, পায়ের বেড়ি, দিবি রে ছাই করে।
সে দিন আমার অঙ্গ তোমার অঙ্কে ওই নাচনে নাচবে রঙ্গে,
সকল দাহ মিটবে দাহে, ঘুচবে সব বালাই॥
একদিন যারা মেরেছিল তাঁরে গিয়ে
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গীতবিতান, আনুষ্ঠানিক সংগীত পর্যায়। কণ্ঠশিল্পী:
পীযূষকান্তি সরকার। রচনাকাল - বঙ্গাব্দ ৯ পৌষ, ১৩৪৬ (খৃষ্টাব্দ ২৫ ডিসেম্বর, ১৩৩৯), শান্তিনিকেতন।
স্বরলিপিকার - শৈলজারঞ্জন মজুমদার। আজকের সময়ের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও বোধোদ্দীপক,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত এই বড়দিনের গান। VDOটি সৌজন্যে Anupam Saha YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
॥ মিশ্র ইমন - দাদরা॥
একদিন যারা মেরেছিল তাঁরে গিয়ে
রাজার দোহাই দিয়ে,
এ যুগে তারাই জন্ম নিয়েছে আজি,
মন্দিরে তারা এসেছে ভক্ত সাজি---
ঘাতক সৈন্যে ডাকি
‘মারো মারো’ ওঠে হাঁকি।
গর্জনে মিশে পূজামন্ত্রের স্বর---
মানবপুত্র তীব্র ব্যথায় কহেন, হে ঈশ্বর !
এ পানপাত্র নিদারুণ বিষে ভরা
দূরে ফেলে দাও, দূরে ফেলে দাও ত্বরা॥
ভাঙো বাঁধ ভেঙে দাও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)।
গীতবিতান, স্বদেশ পর্যায়। শ্রীকান্ত আচার্য্যর সঙ্গীত পরিচালনায় মাদল-এর নিবেদন শুনুন ভিডিওতে।
VDOটি সৌজন্যে Maadal - Topic YouTube Channel.।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভাঙো বাঁধ ভেঙে দাও, বাঁধ ভেঙে দাও, বাঁধ ভেঙে দাও
বন্দী প্রাণ মন হোক উধাও॥
শুকনো গাঙে আসক
জীবনের বন্যার উদ্দাম কৌতুক---
ভাঙনের জয়গান গাও।
জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক,
যাক ভেসে যাক, যাক ভেসে যাক।
আমরা শুনেছি ওই মাভৈঃ মাভৈঃ মাভৈঃ
কোন্ নূতনেরই জাক।
ভয় করি না অজানারে,
রুদ্ধ তাহারি দ্বারে দুর্দাড় বেগে ধাও॥
ধর্মমোহ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। ১৯৩২ সালে প্রকাশিত কবির “পরিশেষ” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। আজকের সময়ের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও বোধোদ্দীপক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত এই বড়দিনের গান।
আমরা কৃতজ্ঞ ট্যাগোরওয়েব.ইন ওয়েবসাইটের কাছে, যেখান থেকে আমরা এই কবিতার কথা টাইপ করা অবস্থায় পেয়েছি,
তাঁদের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . । অদিতি চক্রবর্তীর কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে Kobita sketch
YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে
অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে।
নাস্তিক সেও পায়ে বিধাতার বর,
ধার্মিকতার করে না আড়ম্বর।
শ্রদ্ধা করিয়া জ্বালে বুদ্ধির আলো,
শাস্ত্রে মানে না, মানে মানুষের ভালো।
বিধর্ম বলি মারে পরধর্মেরে,
নিজ ধর্মের অপমান করি ফেরে,
পিতার নামেতে হানে তাঁর সন্তানে,
আচার লইয়া বিচার নাহিকো জানে,
পূজাগৃহে তোলে রক্তমাখানো ধ্বজা,---
দেবতার নামে এ যে শয়তান ভজা।
অনেক যুগের লজ্জা ও লাঞ্ছনা,
বর্বরতার বিকারবিড়ম্বনা
ধর্মের মাঝে আশ্রয় দিল যারা
আবর্জনায় রচে তারা নিজ কারা।---
প্রলয়ের ওই শুনি শৃঙ্গধ্বনি,
মহাকাল আসে লয়ে সম্মার্জনী।
যে দেবে মুক্তি তারে খুঁটিরূপে গাড়া,
যে মিলাবে তারে করিল ভেদের খাঁড়া,
নিশীথেরে লজ্জা দিল অন্ধকারে রবির বন্দন
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১) । রচনা ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩৮, দার্জ্জিলিং। বক্সা দুর্গস্থিত রাজবন্দিদের
উদ্দেশে প্রত্যভিনন্দন। ১৯৩১ সালের মে মাসে বক্সা দুর্গে কারারুদ্ধ রাজবন্দিরা কবির কাছে তাঁর সত্তরতম জন্মদিন
পূর্তি উপলক্ষে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছিলেন। অভিনন্দনপত্রটি শুরু হয়েছিল এইভাবে ---
"ওগো কবি, আমরা তোমায় করিগো নমস্কার। সুদূর অতীতের যে পুণ্য প্রভাতক্ষণে তোমার আবির্ভাব, আজ বাংলার
সীমান্তে বসিয়া আমরা বন্দীদল তোমার এই জন্মক্ষণটিকে বন্দনা করি।...."
রবীন্দ্রনাথ রাজবন্দিদের প্রেরিত সেই অভিনন্দনবাণীর প্রত্যুত্তরে এই কবিতাটি তাঁদের কাছে পাঠান। কবিতাটি রয়েছে
রবীন্দ্র রচনাবলী (২য় খণ্ড), পশ্চিমবঙ্গ সরকার, পৃষ্ঠা : ৮৯৬-৯৭-এ। [তথ্যসূত্র: 'মানবাধিকার' -- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
প্রবন্ধ, ভাষণ, কবিতা, পত্র ও বিবৃতির সংকলন গ্রন্থ। সম্পাদনা: নীলাঞ্জন দত্ত, এপিডিআর, কলকাতা। পরিবর্তিত ও
পরিমার্জিত সংস্করণ-এর প্রকাশকাল: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮। আমরা তাঁদের কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ থাকলাম। তাঁদের
ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নিশীথেরে লজ্জা দিল অন্ধকারে রবির বন্দন।
পিঞ্জরে বিহঙ্গ বাঁধা, সঙ্গীত না মানিল বন্ধন।
ফোয়ারার রন্ধ্র হোতে
উন্মুখর ঊর্ধ্বস্রোতে
বন্দীবারি উচ্চারিল আলোকের কী অভিনন্দন॥
মৃত্তিকার ভিত্তি ভেদি' অঙ্কুর আকাশে দিল আনি'
স্বসমুত্থ শক্তিবলে গভীর মুক্তির মন্ত্রবাণী।
মহাক্ষণে রুদ্রাণীর
কী বর লভিল বীর,
মৃত্যু দিয়ে বিরচিল অমর্ত্ত্য নরের রাজধানী॥
“অমৃতের পুত্র মোরা”----- কাহারা শুনালো বিশ্বময়।
আত্মবিসর্জন করি' আত্মারে কে জানিল অক্ষয়।
ভৈরবের আনন্দেরে
দুঃখেতে জিনিল কে রে,
বন্দীর শৃঙ্খলচ্ছন্দে মুক্তের কে দিল পরিচয়॥
সর্ব খর্বতারে দহে তব ক্রোধদাহ
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)
শিল্পী - উৎপলা সেন ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গানটি শুনুন নীচের
প্লেয়ারে ক্লিক করে। অঞ্জনগড় (১৯৪৮) ছায়াছবির গান। কারাগারে অনশন
আন্দোলনে শহিদ বিপ্লবী যতীন দাসকে উৎসর্গ করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
গান। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ ট্যাগোরওয়েব.ইন ওয়েবসাইটের কাছে যাঁদের
থেকে আমরা এই গানের কথা পেয়েছি। তাঁদের ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক
করুন . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সর্ব খর্বতারে দহে তব ক্রোধদাহ---
হে ভৈরব, শক্তি দাও, ভক্ত-পানে চাহো॥
দূর করো মহারুদ্র যাহা মুগ্ধ, যাহা ক্ষুদ্র---
মৃত্যুরে করিবে তুচ্ছ প্রাণের উৎসাহ॥
দুঃখের মন্থনবেগে উঠিবে অমৃত,
শঙ্কা হতে রক্ষা পাবে যারা মৃত্যুভীত।
তব দীপ্ত রৌদ্র তেজে নির্ঝরিয়া গলিবে যে
প্রস্তরশৃঙ্খলোন্মুক্ত ত্যাগের প্রবাহ॥
হে মোর চিত্ত, পূণ্য তীর্থে
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)
বাংলা গীতাঞ্জলির রচনা সংখ্যা ১০৬। রচনাকাল - ১৮ আষাঢ় ১৩১৭ (১৯১০)।
কবিকণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে Santanu Hazra YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হে মোর চিত্ত, পূণ্য তীর্থে
. জাগো রে ধীরে---
এই ভারতের মহামানবের
. সাগরতীরে।
হেথায় দাঁড়ায়ে দু বাহু বাড়ায়ে
নমি নরদেবতারে,
উদার ছন্দে পরমানন্দে
বন্দন করি তাঁরে।
ধ্যানগম্ভীর এই-যে ভূধর,
নদীজপমালাধৃত প্রান্তর,
হেথায় নিত্য হেরো পবিত্র
ধরিত্রীরে
এই ভারতের মহামানবের
সাগরতীরে।
কেহ নাহি জানে কার আহ্বানে
. কত মানুষের ধারা
দুর্বার স্রোতে এলো কোথা হতে
. সমুদ্রে হল হারা।
হেথায় আর্য হেথা অনার্য,
হেথায় দ্রাবিড় চিন---
শকহুনদল পাঠান মোগল
এক দেহে হল লীন।
পশ্চিম আজি খুলিয়াছে দ্বার,
সেথা হতে সবে আনে উপহার,
দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে,
যাবে না ফিরে---
এই ভারতের মহামানবের
সাগরতীরে।
রণধারা বাহি জয়গান গাহি
. উন্মাদ কলরবে
ভেদি মরুপথ গিরিপর্বত
. যারা এসেছিল সবে,
তারা মোর মাঝে সবাই বিরাজে
কেহ নহে নহে দূর,
আমার শোণিতে রয়েছে ধ্বনিতে
তারি বিচিত্র সুর।
হে রুদ্রবীণা, বাজো বাজো বাজো,
ঘৃণা করি দূরে আছে যারা আজও
বন্ধ নাশিবে, তারাও আসিবে,
দাঁড়াবে ঘিরে
এই ভারতের মহামানবের
সাগরতীরে।
হেথা একদিন বিরামবিহীন
. মহা ওঙ্কারধ্বনি
হৃদয়তন্ত্রে একের মন্ত্রে
. উঠেছিল রনরনি।
তপস্যাবলে একের অনলে
বহুরে আহুতি দিয়া
বিভেদ ভুলিল, জাগায়ে তুলিল
একটি বিরাট হিয়া।
সেই সাধনার সে আরাধনার
যজ্ঞশালায় খোলা আজি দ্বার,
হেথায় সবারে হবে মিলিবারে
আনতশিরে।
এই ভারতের মহামানবের
সাগরতীরে।
সেই হোমানলে হেরো আজি জ্বলে
. দুখের রক্তশিখা।
হবে তা সহিতে, মর্মে দহিতে---
. আছে সে ভাগ্যে লিখা।
এ দুখবহন করো মোর মন,
শোনো রে একের ডাক।
যত লাজ ভয় করো কোরো জয়,
অপমান দূরে যাক।
দুঃসহ ব্যথা হয়ে অবসান
জন্ম লভিবে কী বিশাল প্রাণ।
পোহায় রজনী, জাগিছে জননী
বিপুল নীড়ে
এই ভারতের মহামানবের
সাগরতীরে।
এসো হে আর্য, এসো অনার্য,
. হিন্দু মুসলমান।
এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ,
. এসো এসো খৃস্টান।
এসো ব্রাহ্মণ, শুচি করি মন
ধরো হাত সবাকার।
এসো হে পতিত, করো অপনীত
সব অপমান ভার।
মার অভিষেকে এসো এসো ত্বরা
মঙ্গলঘট হয়নি যে ভরা
সবার-পরশে-পবিত্র-করা
তীর্থনীরে
এই ভারতের মহামানবের
সাগরতীরে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভগবান, তুমি যুগে যুগে দূত পাঠায়েছ বারে বারে
দয়াহীন সংসারে---
তারা বলে গেল “ক্ষমা করো সবে”, বলে গেল “ভালোবাসো---
অন্তর হতে বিদ্বেষবিষ নাশো”।
বরণীয় তারা, স্মরণীয় তারা, তবুও বাহির-দ্বারে
আজি দুর্দিনে ফিরান্থ তাদের ব্যর্থ নমস্কারে॥
আমি যে দেখেছি গোপন হিংসা কপটরাত্রি-ছাঁয়ে
হেনেছে নিঃসহায়ে।
আমি যে দেখেছি---প্রতিকারহীন, শক্তের অপরাধে
বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।
আমি যে দেখিনু তরুণ বালক উন্মাদ হয়ে ছুটে
কী যন্ত্রণায় মরেছে পাথরে নিষ্ফল মাথা কুটে॥
কণ্ঠ আমার রুদ্ধ আজিকে, বাঁশি“সংগীতহারা,
অমাবস্যার কারা
লুপ্ত করেছে আমার ভুবন দুঃস্বপনের তলে।
তাই তো তোমায় শুধাই অশ্রজলে---
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?
দুঃসময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)
রচনা জোড়াসাঁকো, কলিকাতা, ১৫ বৈশাখ ১৩০৪। ১৩০৭ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত কবির
“কল্পনা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। সঞ্চয়িতা “কল্পনা”। কবিতাটি লেখা হয় ১৩০৪ সালে,
ছাপা হয় ১৩০৫ সালের বৈশাখ মাসের ভারতী পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায়। এর কিঠুদিন
আগে লোকমান্য বালগঙ্গাধর তিলকের কারাদণ্ড হয়েছিল। সেটাকেই কবি সম্ভবতঃ
দুঃসময় বলেছেন। কবিকণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্য sheuli
nath YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে,
সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া,
যদিও সঙ্গী নাহি অনন্ত অন্বরে,
যদিও ক্লান্তি আসিছে অঙ্গে নামিয়া,
মহা-আশঙ্কা জপিছে মৌন মন্তরে,
দিক্-দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা---
তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর,
এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা॥
এ নহে মুখর বনমর্মরগুঞ্জিত,
এ যে অজাগর-গরজে সাগর ফুলিছে।
এ নহে কুঞ্জ কুন্দকুসুমরঞ্জিত,
ফেনহিল্লোল কলকল্লোলে দুলিছে।
কোথা রে সে তীর ফুলপল্লবপুঞ্জিত,
কোথা রে সে নীড়, কোথা আশ্রয়শাখা!
তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর,
এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা॥
এখনো সমুখে রয়েছে সুচির শর্বরী,
ঘুমায় অরুণ সুদূর অস্ত-অচলে।
বিশ্বজগৎ নিশ্বাসবায়ু সম্বরি
স্তব্ধ আসনে প্রহর গণিছে বিরলে।
সবে দেখা দিল অকূল তিমির সন্তরি
দূর দিগন্তে ক্ষীণ শশাঙ্ক বাঁকা।
ওরে বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর,
এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা॥
উর্ধ্ব আকাশে তারাগুলি মেলি অঙ্গুলি,
ইঙ্গিত করি তোমা-পানে আছে চাহিয়া।
নিয়ে গভীর অধীর মরণ উচ্ছ্বলি
শত তরঙ্গে তোমা-পানে উঠে ধাইয়া।
বহুদূর তীরে কারা ডাকে বাঁধি অঞ্জলি---
“এসো এসো” সুরে করুণমিনতি-মাখা।
ওরে বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর,
এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা॥
ওরে ভয় নাই, নাই স্নেহমোহবন্ধন---
ওরে আশা নাই, আশা শুধু মিছে ছলনা।
ওরে ভাষা নাই, নাই বৃথা বসে ক্রন্দন---
ওরে গৃহ নাই, নাই ফুলশেজ-রচনা।
আছে শুধু পাখা, আছে মহানভ-অঙ্গন
উষা-দিশাহারা নিবিড়-তিমির-আঁকা।
ওরে বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর,
এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরে না পাখা॥
হতভাগ্যের গান কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)
রচনা পতিসর, ৭ আষাঢ় ১৩০৫। ১৩০৭ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত কবির “কল্পনা”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। সঞ্চয়িতা “কল্পনা”।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কিসের তরে অশ্রু ঝরে, কিসের লাগি দীর্ঘশ্বাস?
হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস।
রক্ত যারা সর্বহারা সর্বজয়ী বিশ্বে তারা,
গর্বময়ী ভাগ্যদেবীর নয়কো তারা ক্রীতদাস
হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস॥
আমরা সুখের স্ফীত বুকের ছায়ার তলে নাহি চরি।
আমরা দুখের বক্র মুখের চক্র দেখে ভয় না করি।
ভগ্ন ঢাকে যথাসাধ্য বাজিয়ে যাব জয়বাদ্য,
ছিন্ন আশার ধ্বজা তুলে ভিন্ন করব নালাকাশ।
হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস॥
হে অলক্ষ্মী, রুক্ষকেশী, তুমি দেবী অচঞ্চলা।
তোমার রীতি সরল অতি, নাহি জানো ছলাকলা।
জালাও পেটে অগ্নিকণা, নাইকো তাহে প্রতারণা---
টানে যখন মরণফাঁসি বল নাকো মিষ্টভাষ
হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস॥
ধরার যারা সেরা সেরা মানুষ তারা তোমার ঘরে---
তাদের কঠিন শয্যাখানি তাই পেতেছ মোদের তরে।
আমরা বরপুত্র তব, যাহাই দিবে তাহাই লব---
তোমায় দিব ধন্যধ্বনি মাথায় বহি সর্বনাশ।
হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস॥
যৌবরাজ্যে বসিয়ে দে মা, লক্ষ্মীছাড়ার সিংহাসনে।
ভাঙা কুলোয় করুক পাখা তোমার যত ভৃত্যগণে।
দগ্ধভালে প্রলয়শিখা দিক্, মা, এঁকে তোমার টিকা---
পরাও সঙ্জা লজ্জাহারা জীর্ণকন্থা ছিন্নবাস।
হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস॥
লুকোক তোমার ডঙ্কা শুনে কপট সখার শূন্য হাসি।
পালাক ছুটে পূচ্ছ তুলে মিথ্যে চাটু মক্কা-কাশী।
আত্মপরের-প্রভেদ-ভোলা জীর্ণ দুয়োর নিত্য খোলা---
থাকবে তুমি, থাকব আমি সমানভাবে বারো মাস।
হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস॥
শঙ্কাতরাস লঙ্জাশরম চুকিয়ে দিলেম স্তুতিনিন্দে।
ধুলো, সে তোর পায়ের ধুলো, তাই মেখেছি ভক্তবৃন্দে।
আশারে কই, ‘ঠাকুরানি, তোমার খেলা অনেক জানি,
যাহার ভাগ্যে সকল ফাঁকি তারেও ফাঁকি দিতে চাস !’
হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস॥
মৃত্যু যেদিন বলবে ‘জাগো, প্রভাত হল তোমার রাতি’
নিবিয়ে যাব আমার ঘরের চন্দ্র সূর্য দুটো বাতি।
আমরা দোঁহে ঘেঁষাঘেঁষি চিরদিনের প্রতিবেশী,
বন্ধুভাবে কণ্ঠে সে মোর জড়িয়ে দেবে বাহুপাশ---
বিদায়কালে অদৃষ্টেরে করে যাব পরিহাস॥
দুরন্ত আশা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)।
রচনা ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৮৮৮। ১২৯৭ বঙ্গাব্দে (১৮৯০ খৃঃ) প্রকাশিত কবির “মানসী” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মর্মে যবে মত্ত আশা
সর্পসম ফোঁসে,
অদৃষ্টের বন্ধনেতে
দাপিয়া বৃথা রোষে,
তখনো ভালোমানুষ সেজে
বাঁধানো হুঁকা যতনে মেজে
মলিন তাস সজোরে ভেঁজে
খেলিতে হবে কষে !
অন্নপায়ী বঙ্গবাসী
স্তন্যপায়ী জীব
জন-দশেক জটলা করি
তক্তপোশে ব’সে।
ভদ্র মোরা, শান্ত বড়ো,
পোষ-মানা এ প্রাণ
বোতাম-আঁটা জামার নীচে
শান্তিতে শয়ান।
দেখা হলেই মিষ্ট অতি
মুখের ভাব শিষ্ট অতি,
অলস দেহ ক্লিষ্টগতি---
গৃহের প্রতি টান।
তৈল-ঢালা স্নিগ্ধ তনু
নিদ্রারসে ভরা,
মাথায় ছোটো বহরে বড়ো
বাঙালি সন্তান।
ইহার চেয়ে হতেম যদি
আরব বেদুয়িন !
চরণতলে বিশাল মরু
দিগন্তে বিলীন।
ছুটেছে ঘোড়া, উড়েছে বালি,
জীবনস্রোত আকাশে ঢালি
হৃদয়তলে বহ্নি জ্বালি
চলেছি নিশিদিন।
বর্শা হাতে, ভর্ সা প্রাণে,
সদাই নিরুদ্দেশ,
মরুর ঝড় যেমন বহে
সকল বাধা হীন।
বিপদ-মাঝে ঝাঁপায়ে প’ড়ে
শোণিত উঠে ফুটে,
সকল দেহে সকল মনে
জীবন জেগে উঠে---
অন্ধকারে সূর্যালোতে
সন্তরিয়া মৃত্যুস্রোতে
নৃত্যময় চিত্ত হতে
মত্ত হাসি টুটে।
বিশ্বমাঝে মহান যাহা
সঙ্গী পরানের,
ঝঞ্ঝা মাঝে ধায় সে প্রাণ
সিন্ধুমাঝে লুটে।
নিমেষতরে ইচ্ছা করে
বিকট উল্লাসে
সকল টুটে যাইতে ছুটে
জীবন-উচ্ছ্বাসে ---
শূন্য ব্যোম অপরিমাণ
মদ্যসম করিতে পান
মুক্ত করি রুদ্ধ প্রাণ
ঊর্দ্ধে নীলাকাশে।
থাকিতে নারি ক্ষুদ্র কোণে
আম্রবনছায়ে
সুপ্ত হয়ে লুপ্ত হয়ে
গুপ্ত গৃহবাসে।
বেহালাখানা বাঁকায়ে ধরি
বাজাও ওকি সুর---
তবলা-বাঁয়া কোলেতে টেনে
বাদ্য ভরপুর !
কাগজ নেড়ে উচ্চস্বরে
পোলিটিকাল তর্ক করে,
জানালা দিয়ে পশিছে ঘরে
বাতাস ঝুরুঝুর।
পানের বাটা, ফুলের মালা,
তবলা-বাঁয়া দুটো,
দন্ত-ভরা কাগজগুলো
করিয়া দাও দূর।
কিসের এত অহংকার !
দম্ভ নাহি সাজে----
বরং থাকো মৌন হয়ে
সসংকোচে লাজে।
অত্যাচারে মত্ত-পারা
কভু কি হও আত্মহারা ?
তপ্ত হয়ে রক্তধারা
ফুটে কি দেহমাঝে ?
অহর্নিশি হেলায় হাসি
তীব্র অপমান
মর্মতল বিদ্ধ করি
বজ্রসম বাজে ?
দাস্যসুখে হাস্যমুখ,
বিনীত জোড়-কর,
প্রভুর পদে সোহাগ-মদে
দোদুল কলেবর।
পাদুকাতলে পড়িয়া লুটি
ঘৃণায়-মাখা অন্ন খুঁটি
ব্যগ্র হয়ে ভরিয়া মুঠি
যেতেছে ফিরি ঘর।
ঘরেতে ব’সে গর্ব কর
পূর্বপুরুষের,
আর্যতেজদর্পভরে
পৃথ্বী থরহর !
হেলায়ে মাথা, দাঁতের আগে
মিষ্টি হাসি টানি
বলিতে আমি পারিব না তো
ভদ্রতার বাণী।
উচ্ছ্বসিত রক্ত আসি
বক্ষতল ফেলিছে গ্রাসি,
প্রকাশহীন চিন্তারাশি
করিছে হানাহানি।
কোথাও যদি ছুটিতে পাই
বাঁচিয়া যাই তবে---
ভব্যতার গণ্ডিমাঝে
শান্তি নাহি মানি।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
মৃত্যুঞ্জয়
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। রচনা ১৭ আষাঢ় ১৩৩৯ (১লা জুলাই ১৯৩২)
। ১৯৩২ সালে প্রকাশিত কবির “পরিশেষ” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দুর হতে ভেবেছিনু মনে---
দুর্জয় নির্দয় তুমি, কাঁপে পৃথ্বী তোমারু শাসনে।
তুমি বিভীষিকা,
দুঃখীর বিদীর্ণ বক্ষে জ্বলে তব লেলিহান শিখা।
দক্ষিণ হাতের শেল উঠেছে ঝড়ের মেঘ-পানে,
সেথা হতে বজ্র টেনে আনে।
ভয়ে ভয়ে এসেছিনু দুরুদুরু বুকে
তোমার সম্মুখে ৷
তোমার ভ্রকুটিভঙ্গে তরঙ্গিল আসন্ন উৎপাত,
নামিল আঘাত।
পাঁজর উঠিল কেঁপে,
বক্ষে হাত চেপে
শুধালেম, “আরো কিছু আছে নাকি---
আছে বাকি
শেষ বজ্রপাত?
নামিল আঘাত।
এইমাত্র? আর-কিছু নয়?
ভেঙে গেল ভয়।
যখন উদ্যত ছিল তোমার অশনি
তোমারে আমার চেয়ে বড়ো বলে নিয়েছিনু গণি।
তোমার আঘাত-সাথে নেমে এলে তুমি
যেথা মোর আপনার ভূমি।
ছোটো হয়ে গেছ আজ।
আমার টুটিল সব লাজ।
যত বড়ো হও,
তুমি তো মৃত্যুর চেয়ে বড়ো নও।
আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়ো এই শেষ কথা বলে
যাব আমি চলে।
চিত্ত যেথা ভয়শূণ্য, উচ্চ যেথা শির জরুরী অবস্থার (১৯৭৫ -১৯৭৭) সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত!
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। রচনাকাল ১৩০৮ বঙ্গাব্দ (১৯০১)। কবিতাটি “প্রার্থনা” শিরোনামে ১৯০১ সালেই কবির “নৈবেদ্য”
কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়। কবিতাটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯১০ সালে, কবির বাংলা গীতাঞ্জলি গ্রন্থেও প্রকাশিত হয়েছিল। এই কবিতাটি ১৯১৩ সালের
নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত, কবির ইংরেজী “Gitanjali” গ্রন্থের "Where the mind is without fear", (রচনা সংখ্যা ৩৫) এর মূল বাংলা গীত। মিলনসাগরের
প্রতিবাদী কবিতার সংকলনে তোলার কারণ হলো এই যে, ১৯৭৫ সালে, শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর চালু করা “আভ্যন্তরীন জরুরী অবস্থা”-র (Emergency)
সময়ে "Where the mind is without fear" কবিতাটি, সেই বছরের ২৭-এ জুন, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে ছাপার পর থেকে, রবীন্দ্রনাথের
আরও ২৫টি কবিতার সাথে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল! ---তথ্যসূত্র: বিশিষ্ট সাংবাদিক নিরঞ্জন হালদারের লেখা ‘জরুরি অবস্থায় বাঙালী বুদ্ধিজীবীর
ভূমিকা’, জ্যোতির্ময় দত্ত সম্পাদিত ‘কলকাতা’ পত্রিকার দ্বিতীয় রাজনীতি সংখ্যায় প্রকাশিত (বসন্ত-১৯৭৭)॥ কবিতাটি শুনুন ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ের
কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে Bratati Banerjee - Topic YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চিত্ত যেথা ভয়শূণ্য, উচ্চ যেথা শির,
জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর
আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী
বসুধারে রাখে নাই খণ্ড খুদ্র করি,
যেথা বাক্য হৃদয়ের উত্সমুখ হতে
উচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে
দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়
অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়---
যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি
বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি,
পৌরুষেরে করেনি শতধা ; নিত্য যেথা
তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা---
নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি পিতঃ,
ভারতের সেই স্বর্গে কর জাগরিত।
"Where the mind is without fear" কবিতাটি, সারা বিশ্বের নিরিখে, রবীন্দ্রনাথের সম্ভবতঃ সবচেয়ে বেশী পঠিত ও আবৃত্তি
করা কবিতা। আমার জাহাজের কর্মজীবনে, মহাসমুদ্রের মাঝে, সুদূর য়োগোস্লাভিয়ার (তখনও সে দেশ টুকরো টুকরো হয়ে
যায় নি) এক চীফ ইঞ্জিনিয়ার, এই কবিতাটি মুখস্থ, আবৃত্তি করে শুনিয়ে আমাকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন,
কারণ তাঁর কাছে আমি ছিলাম ট্যাগোরের দেশের মানুষ! এখানে আরও উল্লেখনীয় হলো এই যে সেই ভদ্রলোক
ভালো করে ইংরেজী ভাষা বলতে পারতেন না।---মিলন সেনগুপ্ত, এই প্রতিবাদী সংকলনের এক বিনীত সহ-সংকলক॥
Where the mind is without fear
Poet Rabindra Nath Tagore (7.5.1861 - 7.8.1941)
This poem of Tagore was Banned in India during Emergency (1975-1977)!
A poem from Tagore’s Nobel winning book “Gitanjali”. Serial Number of the song - 35. Tagore's Gitanjali (Song Offerings) was first
published from Shantiniketan in West Bengal, India in 1912 in Bengali. It contained 157 songs. Later on, the English translation, by
Tagore himself, of the Bengali book with the same name, with an introduction by poet William Butler Yeats, was published from India
Society, London on 1st Nov 1912. The book contained 103 songs out of which 53 were taken from the Bengali version. Gitanjali in
English earned Tagore The Nobel Prize in 1913. Listen to Recitation of this poem by Sharmila Tagore, first in Bengali and then in
English. Vedio courtesy Muktdhara YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
Where the mind is without fear
and the head is held high;
Where knowledge is free ;
Where the world has not been
broken up into fragments by
narrow domestic walls ;
Where words come out
from the depth of truth ;
Where tireless striving
stretches its arms towards perfection ;
Where the clear stream of reason
has not lost its way
into the dreary desert sand of dead habit ;
Where the mind is led forward
by thee into ever-widening
thought and action ---
Into that heaven of freedom,
my Father, let my country awake.
This is perhaps one of the most read and recited poems of Tagore all over the World!
Once I met a Yogoslavian Chief Engineer on one of my ships, during my Sea life as a
Marine Engineer, (long before Yougoslavia was broken apart) who recited the entire
poem from memory to greet me, because to him I was a man from Tagore’s land !
--- Milan Sengupta, one of the humble Collectors of this Collection of “Poetry of Protest”.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছো অপমান
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
মানুষের অধিকারে
বঞ্চিত করেছ যারে,
সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান,
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে
ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে।
বিধাতার রুদ্ররোষে
দুর্ভিক্ষের দ্বারে ব'সে
ভাগ করে খেতে হবে সকলের সাথে অন্নপান।
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
তোমার আসন হতে যেথায় তাদের দিলে ঠেলে
সেথায় শক্তিরে তব নির্বাসন দিলে অবহেলে।
চরণে দলিত হয়ে
ধুলায় সে যায় বয়ে---
সেই নিম্নে নেমে এসো, নহিলে নাহিরে পরিত্রাণ।
অপমানে হতে হবে আজি তোরে সবার সমান।
যারে তুমি নিচে ফেল' সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে,
পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।
অজ্ঞানের অন্ধকারে
আড়ালে ঢাকিছ যারে
তোমার মঙ্গল ঢাকি গড়িছে সে ঘোর ব্যবধান।
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
শতেক শতাব্দী ধরে নামে শিরে অসম্মানভার,
মানুষের নারায়ণে তবুও কর না নমস্কার।
তবু নত করি আঁখি
দেখিবারে পাও না কি
নেমেছে ধুলার তলে হীন-পতিতের ভগবান।
অপমানে হতে হবে সেথা তোরে সবার সমান।
দেখিতে পাও না তুমি মৃত্যুদূত দাঁড়ায়েছে দ্বারে,
অভিশাপ আঁকি দিল তোমার জাতির অহংকারে।
সবারে না যদি ডাক'
এখনো সরিয়া থাক'
আপনারে বেঁধে রাখ' চৌদিকে জড়ায়ে অভিমান---
মৃত্যুমাঝে হবে তবে চিতাভস্মে সবার সমান।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আবৃত্তি
|
এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান”
গ্রন্থের “স্বদেশ” পর্যায়ের। গানটি পঙ্কজকুমার মল্লিকের কন্ঠে শুনুন।
ভিডিওটি সৌজন্যে Anjan Chakraborty YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে, "জয় মা” ব’লে ভাসা তরী॥
ওরে রে ওরে মাঝি, কোথায় মাঝি, প্রাণপণে, ভাই, ভাক দে আজি---
তোরা সবাই মিলে বৈঠা নে রে, খুলে ফেল্ সব দড়াদড়ি॥
দিনে দিনে বাড়ল দেনা, ও ভাই, করলি নে কেউ বেচা কেনা---
হাতে নাই রে কড়া কড়ি।
ঘাটে বাঁধা দিন গেল রে, মুখ দেখাবি কেমন ক'রে---
ওরে, দে খুলে দে, পাল তুলে দে, যা হয় হবে বাঁচি মরি॥
নিশিদিন ভরসা রাখিস
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)
গানটি “গীতবিতান” গ্রন্থের “স্বদেশ” পর্যায়ের। গানটি রাজেশ্বরী দত্তের কন্ঠে
শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে Saroj Sanyal YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নিশিদিন ভরসা রাখিস, ওরে মন, হবেই হবে।
যদি পণ করে খাকিস সে পণ তোমার রবেই রবে।
ওরে মন, হবেই হবে॥
পাষাণসমান আছে পড়ে, প্রাণ পেয়ে সে উঠবে ওরে,
আছে যারা বোবার মতন তারাও কথা কবেই কবে॥
সময় হল, সময় হল--- যে যার আপন বোঝা তোলো রে---
দুঃখ যদি মাথায় ধরিস সে দুঃখ তোর সবেই সবে।
ঘণ্টা যখন উঠবে বেজে দেখবি সবাই আসবে সেজে---
এক সাথে সব যাত্রী যত একই রাস্তা লবেই লবে॥
একসূত্রে বাঁধিয়াছি সহস্রটি মন
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান”
গ্রন্থের “জাতীয় সঙ্গীত” পর্যায়ের। গানটি দেবব্রত বিশ্বাসের কন্ঠে শুনুন।
ভিডিওটি সৌজন্যে Anjan Chakraborty YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এক সূত্রে বাঁধিয়াছি সহস্রটি মন,
এক কার্যে সঁপিয়াছি সহস্র জীবন---
বন্দে মাতরম্॥
আসুক সহস্র বাধা, বাধুক প্রলয়,
আমরা সহস্র প্রাণ রহিব নির্ভয়---
বন্দে মাতরম্॥
আমরা ডরাইব না ঝটিকা-ঝঞ্ঝায়,
অযুত তরঙ্গ বক্ষে সহিব-হেলায়।
টুটে তো টুটুক এই নশ্বর জীবন,
তবু না ছিঁড়িবে কভু এ দৃঢ় বন্ধন---
বন্দে মাতরম্॥
কেন চেয়ে আছ গো মা মুখপানে
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান” গ্রন্থের “জাতীয়
সঙ্গীত” পর্যায়ের। ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত 'যুক্তি তক্কো আর
গপ্পো' চলচ্চিত্রে দেবব্রত বিশ্বাসের কন্ঠে গানটি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে Angel Bengali
Songs YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কেন চেয়ে আছ, গো মা, মুখপানে।
এরা চাহে না তোমারে চাহে না যে, আপন মায়েরে নাহি জানে।
এরা তোমায় কিছু দেবে না, দেবে না--- মিথ্যা কহে শুধু কত কী ভাণে॥
তুমি তো দিতেছ, মা, যা আছে তোমারি--- স্বর্ণশস্য তব, জাহ্নবীবারি,
জ্ঞান ধর্ম কত পুণ্যকাহিনী।
এরা কী দেবে তোরে ! কিছু না, কিছু না। মিথ্যা কবে শুধু হীনপরানে॥
মনের বেদনা রাখো, মা, মনে। নয়নবারি নিবারো নয়নে॥
মুখ লুকাও, মা, ধুলিশয়নে--- ভুলে থাকো যত হীন সন্তানে।
শূন্য-পানে চেয়ে প্রহর গণি গণি দেখো কাটে কিনা দীর্ঘ রজনী।
দুঃখ জানায়ে কী হবে, জননী, নির্মম চেতনাহীন পাষাণে॥
আজি এ ভারত লজ্জিত হে
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)
গানটি “গীতবিতান” গ্রন্থের “স্বদেশ” পর্যায়ের। লোপামুদ্রা মিত্র ও শ্রীকান্ত আচার্যর
কন্ঠে গানটি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে Various Artists - Topic YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আজি এ ভারত লজ্জিত হে,
হীনতাপঙ্কে মজ্জিত হে॥
নাহি পৌরুষ, নাহি বিচারণা, কঠিন তপস্যা, সত্যসাধনা---
অন্তরে বাহিরে ধর্মে কর্মে সকলই ব্রহ্মবিবর্জিত হে॥
ধিকৃত লাঞ্ছিত পৃথ্বী’পরে, ধূলিবিলুণ্ঠিত সুপ্তিভরে---
রুদ্র, তোমার নিদারুণ বজ্রে করো তারে সহসা তর্জিত হে॥
পর্বতে প্রান্তরে নগরে গ্রামে জাগ্রত ভারত ব্রহ্মের নামে,
পূণ্যে বীর্যে অভয়ে অমৃতে হইবে পলকে সজ্জিত হে॥
ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো
জরুরী অবস্থার (১৯৭৫ -১৯৭৭) সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত গান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান” গ্রন্থের “স্বদেশ” পর্যায়ের
। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কন্ঠে গানটি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে eladey1949 YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো
একলা রাতের অন্ধকারে আমি চাই পথের আলো॥
দুন্দুভিতে হল রে কার আঘাত শুরু,
বুকের মধো উঠল বেজে গুরুগুর---
পালায় ছুটে সুপ্তিরাতের স্বপ্নে-দেখা মন্দ ভালো॥
নিরুদ্দেশের পথিক আমায় ডাক দিলে কি---
দেখতে তোমায় না যদি পাই নাই-বা দেখি।
ভিতর থেকে ঘুচিয়ে দিলে চাওয়া পাওয়া,
ভাব্ নাতে মোর লাগিয়ে দিলে ঝড়ের হাওয়া
বজ্রশিখায় এক পলকে মিলিয়ে দিলে সাদা কালো॥
আমারে বাঁধবি তোরা সেই বাঁধন কি তোদের আছে
জরুরী অবস্থার (১৯৭৫ -১৯৭৭) সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত গান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান” গ্রন্থের “বিচিত্র” পর্যায়ের।
১৯৫৫ সালে রেকর্ড করা এই গানটি সুচিত্রা মিত্রের কন্ঠে শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে Gaaner Dali
YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমারে বাঁধবি তোরা সেই বাধন কি তোদের আছে
আমি যে বন্দী হতে সন্ধি করি সবার কাছে॥
সন্ধ্যা-আকাশ বিনা ডোরে বাঁধল মোরে গো,
নিশিদিন বন্ধহারা নদীর ধারা আমায় যাচে।
যে কুসুম আপনি ফোটে, আপনি ঝরে, রয় না ঘরে গো---
তারা যে সঙ্গী আমার, বন্ধু আমার, চায় না পাছে॥
আমারে ধরবি ব’লে মিথ্যে সাধা।
আমি যে নিজের কাছে নিজের গানের সুরে বাঁধা।
আপনি যাহার প্রাণ দুলিল, মন ভুলিল গো---
সে মানুষ আগুন-ভরা, পড়লে ধরা সে কি বাঁচে।
সে যে ভাই, হাওয়ার সখা, ঢেউয়ের সাথি, দিবারাতি গো
কেবলই এড়িয়ে চলার ছন্দে তাহার রক্ত নাচে॥
আমরা নূতন যৌবনেরই দূত
জরুরী অবস্থার (১৯৭৫ -১৯৭৭) সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত গান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১) । গানটি “গীতবিতান” গ্রন্থের
“বিচিত্র” পর্যায়ের। গানটি কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের কন্ঠে
শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে Surajit Sen YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমরা নূতন যৌবনেরই দূত।
আমরা চঞ্চল, আমরা অদ্ভুত।
আমরা বেড়া ভাঙি,
আমরা অশোকবনের রাঙা নেশায় রাঙি।
ঝঞ্চার বন্ধন ছিন্ন করে দিই--- আমরা বিদ্যুৎ॥
আমরা করি ভুল---
অগাধ জলে ঝাঁপ দিয়ে যুঝিয়ে পাই কূল।
যেখানে ডাক পড়ে জীবন-মরণ-ঝড়ে আমরা প্রস্তুত॥
এ কী অন্ধকার এ ভারতভূমি জরুরী অবস্থার (১৯৭৫ -১৯৭৭) সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত গান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান” গ্রন্থের “বিচিত্র” পর্যায়ের। গানটি স্বাগতালক্ষ্মী
দাশগুপ্তর কন্ঠে শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে Swagatalakshmi - Topic YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এ কী অন্ধকার এ ভারতভূমি
বুঝি, পিতা, তারে ছেড়ে গেছ তুমি।
প্রতি পলে পলে ডুবে রস'তিলে--- কে তারে উদ্ধার করিবে॥
চারি দিকে চাই, নাহি হেরি গতি। নাহি যে আশ্রয়, অসহায় অতি।
আজি এ আঁধারে বিপদপাথারে কাহার চরণ ধরিবে।
তুমি চাও পিতা, ঘুচাও এ দুখ। অভাগা দেশেরে হোয়ো না বিমুখ---
নহিলে আঁধারে বিপদপাথারে কাহার চরণ ধরিবে।
দেখো চেয়ে তব সহস্র সন্তান লাজে নতশির, ভয়ে কম্পমান,
কাঁদিছে সহিছে শত অপমান--- লাজ মান আর থাকে না।
হীনতা লয়েছে মাথায় তুলিয়া, তোমারেও তাই গিয়েছে ভুলিয়া,
দয়াময় ব'লে আকুলহৃদয়ে তোমারেও তারা ডাকে না।
তুমি চাও পিতা, তুমি চাও চাও। এ হীনতা-পাপ এ দুখ ঘুচাও।
ললাটের কলঙ্ক মুছাও মুছাও--- নহিলে এ দেশ থাকে না।
তুমি যবে ছিলে এ পুণ্যভবনে কী সৌরভসুধা বহিত পবনে,
কী আনন্দগান উঠিত গগনে, কী প্রতিভাজ্যোতি জ্বলিত।
ভারত-অরণ্যে ঋষিদের গান অনন্তসদনে করিত প্রয়াণ---
তোমারে চাহিয়া পুণ্যপথ দিয়া সকলে মিলিয়া চলিত।
আজ কী হয়েছে! চাও পিতা, চাও। এ তাপ এ পাপ এ দুখ ঘুচাও।
মোরা তো রয়েছি তোমারি সন্তান
যদিও হয়েছি পতিত॥
দেশ দেশ নন্দিত করি জরুরী অবস্থার (১৯৭৫ -১৯৭৭) সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত গান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান” গ্রন্থের “স্বদেশ” পর্যায়ের। গানটি সমবেত কণ্ঠে
জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, দেবব্রত বিশ্বাস, সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুপ্রীতি ঘোষের কন্ঠে শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে
Rajib Chakraborty YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দেশ দেশ নন্দিত করি মন্দ্রিত তৰ ভেরী
আসিল যত বীরবৃন্দ আসন তব ঘেরি।
দিন আগত ওই, ভারত তবু কই?
সেকি রহিল লুপ্ত আজি সব-জন পশ্চাতে?
লউক ৰিশ্বকর্মভার মিলি সবার সাথে।
প্রেরণ কর’ ভৈরব তব দুর্জয় আহ্বান হে, জাগ্রত ভগবান হে॥
বিঘ্নবিপদ দুঃখদহন তুচ্ছ করিল যারা
মৃত্যুগহন পার হইল, টুটিল মোহকারা।
দিন আগত ওই, ভারত তবু কই?
নিশ্চল নিবীর্যবাহু কর্মকীর্তিহীনে
ব্যর্থশক্তি নিরানন্দ জীবনধনদীনে
প্রাণ দাও, প্রাণ দাও, দাও দাও প্রাণ হে, জাগ্রত ভগবান হে॥
নূতনযুগসূর্য উঠিল, ছুটিল তিমিররাত্রি,
তব মন্দির-অঙ্গন ভরি মিলিল সকল যাত্রী।
দিন আগত ওই, ভারত তবু কই?
গতগৌরব, হৃত-আসন, নতমস্তক লাজে---
গ্লানি তার মোচন কর’ নরসমাজমাঝে।
স্থান দাও, স্থান দাও, দাও দাও স্থান হে, জাগ্রত ভগবান হে॥
জনগণপথ তব জয়রথচক্রমুখর আজি,
স্পন্দিত করি দিগ্ দিগন্ত উঠিল শঙ্খ বাজি। .
দিন আগত ওই, ভারত তবু কই?
দৈন্যজীর্ণ কক্ষ তার, মলিন শীর্ণ আশা,
ত্রাসরুদ্ধ চিত্ত তার, নাহি নাহি ভাষা।
কোটিমৌনকণ্ঠপূর্ণ বাণী কর’ দান হে, জাগ্রত ভগবান হে॥
যারা তব শক্তি লভিল নিজ অন্তরমাঝে
বর্জিল ভয়, অর্জিল জয়, সার্থক হুল কাজে।
দিন আগত ওই, ভারত তবু কই?
আত্ম-অবিশ্বাস তার নাশ’ কঠিন ঘাতে,
পুঞ্জিত অবসাদভার হান' অশনিপাতে।
ছায়াভয়চকিতমূঢ় করছ পরিত্রাণ হে, জাগ্রত ভগবান হে॥
হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী জরুরী অবস্থার (১৯৭৫ -১৯৭৭) সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত গান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান” গ্রন্থের “প্রেম” পর্যায়ের। গানটি
দেবব্রত বিশ্বাস ও কনক দাসের কন্ঠে শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে Anjan Chakraborty YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী, নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব ;
ঘোর কুটিল পন্থ তার, লোভজটিল বন্ধ॥
নূতন তব জন্ম লাগি কাতর যত প্রাণী---
কর' ত্রাণ মহাপ্রাণ, আন’ অমৃতবাণী,
বিকশিত কর' প্রেমপদ্ম চিরমধুনিষ্যন্দ।
শান্ত হে, মুক্ত হে, হে অনন্তপুণ্য,
করুণাঘন, ধরণীতল কর’ কলঙ্কশূন্য।
এস’ দানবীর, দাও ত্যাগকঠিন দীক্ষা।
মহাভিক্ষু, লও সবার অহঙ্কারভিক্ষা।
লোক লোক ভুলুক শোক, খণ্ডন কর’ মোহ,
উজ্জ্বল হোক জ্ঞানসূর্য-উদয়সমারোহ---
প্রাণ লভুক সকল ভুবন, নয়ন লভুক অন্ধ।
শান্ত হে, মুক্ত হে, হে অনন্তপুণ্য,
করুণাঘন, ধরণীতল কর’ কলঙ্কশূন্য।
ক্রন্দনময় নিখিলহৃদয় তাপদহনদীপ্ত
বিষয়বিষবিকারজীর্ণ খিন্ন অপরিতৃপ্ত।
দেশ দেশ পরিল তিলক রক্তকলুষগ্লানি,
তব মঙ্গলশঙ্খ আন’ তব দক্ষিণপাণি---
তব শুভসঙ্গীতরাগ, তব সুন্দর ছন্দ।
শান্ত হে, মুক্ত হে, হে অনন্তপুণ্য,
করুণাঘন, ধরণীতল কর’ কলঙ্কশূণ্য॥
বাঁধন ছেঁড়ার সাধন হবে
জরুরী অবস্থার (১৯৭৫ -১৯৭৭) সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত গান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান”
গ্রন্থের “পূজা” পর্যায়ের। গানটি শান্তিদেব ঘোষের কন্ঠে শুনুন। ভিডিওটি
সৌজন্যে mh music archive - Tagore's YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাঁধন ছেঁড়ার সাধন হবে,
ছেড়ে যাব তীর মাভৈ-রবে।
যাঁহার হাতের বিজয়মালা
রুদ্রদাহের বহ্নিজ্বালা
নমি নমি নমি সে ভৈরবে॥
কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী
শূন্যে যে ধায় দিবস-রাত্রি।
ডাক এল তার তরঙ্গেরই,
বাজুক বক্ষে বজ্রভেরী
অকূল প্রাণের সে উৎসবে॥
এখন আর দেরি নয় ধর গো তোরা
জরুরী অবস্থার (১৯৭৫ -১৯৭৭) সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত গান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান”
গ্রন্থের “স্বদেশ” পর্যায়ের। গানটি অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্ঠে শুনুন।
ভিডিওটি সৌজন্যে mh music archive - Tagore's YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এখন আর দেরি নয়, ধর গো তোরা হাতে হাতে ধর্ গো।
আজ আপন পথে ফিরতে হবে সামনে মিলন-স্বর্গ॥
ওরে ওই উঠেছে শঙ্খ বেজে, খুলল দুয়ার মন্দিরে যে---
লগ্ন বয়ে যায় পাছে, ভাই, কোথায় পুজার অর্ঘ্য?
এখন যার যা-কিছু আছে ঘরে সাজা পুজার থালার ’পরে,
আত্মদানের উৎসধারায় মঙ্গলঘট ভর্ গো।
আজ নিতেও হবে, আজ দিতেও হবে, দেরি কেন করিস তবে---
বাচতে যদি হয় বেঁচে নে, মর্ তে হয় তো মর্ গো॥
আমি মারের সাগর পাড়ি দেব
জরুরী অবস্থার (১৯৭৫ -১৯৭৭) সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত গান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান”
গ্রন্থের “পূজা” পর্যায়ের। গানটি সুচিত্রা মিত্রর কন্ঠে শুনুন। ভিডিওটি
সৌজন্যে Anjan Chakraborty YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি মারের সাগর পাড়ি দেব বিষম ঝড়ের বায়ে
আমার ভয়ভাঙা এই নায়ে॥
মাভৈঃবাণীর ভরসা নিয়ে ছেঁড়া পালে বুক ফুলিয়ে
তোমার ওই পারেতেই যাবে তরী ছায়াবটের ছায়ে॥
পথ আমারে সেই দেখাবে ঘে আমারে চায়---
আমি অভয় মনে ছাড়ব তরী, এই শুধু মোর দায়।
দিন ফুরালে, জানি জানি, পৌঁছে ঘাটে দেব আনি
আমার দুঃখদিনের রক্তকমল তোমার করুণ পায়ে॥
ওরে নূতন যুগের ভোরে
জরুরী অবস্থার (১৯৭৫ -১৯৭৭) সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত গান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান”
গ্রন্থের “পূজা” পর্যায়ের। গানটি শান্তিদেব ঘোষের কন্ঠে শুনুন। ভিডিওটি
সৌজন্যে Shantideb Ghosh - Topic YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওরে, নূতন যুগের ভোরে
দিস নে সময় কাটিয়ে বৃথা সময় বিচার করে॥
কী রবে আর কী রবে না, কী হবে আর কী হবে না
ওরে হিসাবি,
এ সংশয়ের মাঝে কি তোর ভাবনা মিশাবি?
যেমন করে ঝর্না নামে দুর্গম পর্বতে
নির্ভাবনায় ঝাঁপ দিয়ে পড় অজানিতের পথে।
জাগবে ততই শক্তি যতই হানবে তোরে মানা,
অজানাকে বশ ক’রে তুই করবি আপন জানা।
চলায় চলায় বাজবে জয়ের ভেরী---
পায়ের বেগেই পথ কেটে যায়, করিস নে আর দেরি॥
উলঙ্গিনী নাচে রণরঙ্গে
জরুরী অবস্থার (১৯৭৫ -১৯৭৭) সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত গান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান”
গ্রন্থের “নাট্যগাতি” পর্যায়ের। গানটি স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্তর কন্ঠে শুনুন।
ভিডিওটি সৌজন্যে Swagatalakshmi Dasgupta - Topic YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
উলঙ্গিনী নাচে রণরঙ্গে।
আমরা নৃত্য করি সঙ্গে॥
দশদিক আঁধার ক’রে মাঁতিল দিক্-বসনা,
জলে বহ্নিশিখা রাঙা রসনা---
দেখে মরিবারে ধাইছে পতঙ্গে॥
কালো কেশ উড়িল আকাশে,
রবি সৌম লুকালো তরাসে।
রাঙা বক্তধারা ঝরে কালো অঙ্গে---
ত্রিভুবন কাঁপে ভুরুভঙ্গে॥
দুই বিঘা জমি
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)
রচনা ১৩০২ বঙ্গাব্দ (১৮৯৫)। ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত “চিত্রা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। সঞ্চয়িতা থেকে নেওয়া।
কবিতাটির আবৃত্তি শুনুন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে Rong Berong YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, “বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।”
কহিলাম আমি, তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই---
চেয়ে দেখো মোর আছে বড়োজোর মরিবার মতো ঠাঁই।
শুনি রাজা কহে, “বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখানা,
পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে সমান হইবে টানা---
ওটা দিতে হবে।” কহিলাম তবে বক্ষে জুডিয়া পাণি
সজল চক্ষে, “করুন রক্ষে গরিবের ভিটেখানি।
সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ সে মাটি সোনার বাড়া,
দৈন্যের দায়ে বেচিব সে মায়ে এমনি লক্ষ্মীছাড়া !”
আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল রহিল মৌনভাবে,
কহিলেন শেষে ক্রূর হাসি হেসে, “আচ্ছা, সে দেখা যাবে।”
পরে মাস-দেড়ে ভিটে মাটি ছেড়ে বাহির হইনু পথে---
করিল ডিক্রি, সকলই বিক্রি মিথ্যা দেনার খতে।
এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি,
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
মনে ভাবিলাম, মোরে ভগবান রাখিবে না মোহগর্তে,
তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু বিঘার পরিবর্তে।
সন্ন্যাসীবেশে ফিরি দেশে দেশে হুইয়া সাধুর শিষ্য---
কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য।
ভূধরে সাগরে বিজনে নগরে যখন যেখানে ভ্রমি
তবু নিশিদিনে ভুলিতে পারি নে সেই দুই বিঘা জমি।
হাটে মাঠে বাটে এইমত কাটে বছর পনেরো-ষোলো,
একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে বড়োই বাসনা হল॥
নমোনমো নম, সুন্দরী মম জননী বঙ্গতৃমি !
গঙ্গার তীর, স্নিগ্ধ সমীর জীবন জুড়ালে তুমি।
অবারিত মাঠ, গগনললাট চুমে তব পদধূলি---
ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড় ছোটো ছোটো গ্রামগুলি।
পল্লবঘন আম্রকানন, রাখালের খেলাগেহ---
স্তব্ধ অতল দিঘি কালোজল নিশীথশীতলস্নেহ।
বুক-ভরা-মধু বঙ্গের বধূ জল লয়ে যায় ঘরে
মা বলিতে প্রাণ করে আনচান, চোখে আসে জল ভরে।
দুই দিন পরে দ্বিতীয় প্রহরে প্রবেশিনু নিজগ্রামে---
কুমোরের বাড়ি দক্ষিণে ছাড়ি, রথতলা করি বামে,
রাখি হাটখোলা নন্দীর গোলা, মন্দির করি পাছে
তৃষাতুর শেষে পঁহুছিনু এসে আমার বাড়ির কাছে॥
ধিক্ ধিক্ ওরে, শত ধিক্ তোরে নিলাজ কুলটা ভূমি,
যখনি যাহার তখনি তাহার--- এই কি জননী তুমি!
সে কি মনে হবে একদিন যবে ছিলে দরিদ্রমাতা
আচল ভরিয়া রাখিতে ধরিয়া ফলফুল শাক-পাত!
আজ কোন্ রীতে কারে ভুলাইতে ধরেছ বিলাসবেশ---
পাঁচরঙা পাতা অঞ্চলে গাঁথা, পুষ্পে খচিত কেশ !
আমি তোর লাগি ফিরেছি বিবাগি গৃহহারা সুখহীন,
তুই হেথা বসি ওরে রাক্ষসী, হাসিয়া কাটাস দিন !
ধনীর আদরে গরব না ধরে ! এতই হয়েছ ভিন্ন---
কোনোখানে লেশ নাহি অবশেষ সে দিনের কোনো চিহ্ন!
কল্যাণময়ী ছিলে তুমি অয়ি, ক্ষুধাহরা সুধারাশি।
যত হাসো আজ, যত করো সাজ, ছিলে দেবী--- হলে দাসী।
বিদীর্ণহিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারি দিকে চেয়ে দেখি---
প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে সেই আমগাছ একি !
বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যথা,
একে একে মনে উদিল স্মরণে বালককালের কখা।
সেই মনে পড়ে, জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে রাত্রে নাহিকো ঘুম,
অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি আম কুড়াবার ধুম।
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন---
ভাবিলাম হায়, আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন !
সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস শাখা দুলাইয়া গাছে,
দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল আমার কোলের কাছে।
ভাবিলাম মনে, বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা।
স্নেহের সে দানে বহু সম্মানে বারেক ঠেকানু মাথা॥
হেনকালে হায় যমদূতপ্রায় কোথা হতে এল মালী।
ঝুঁটিবাঁধা উড়ে সপ্তম সুরে পাড়িতে লাগিল গালি।
কহিলাম তবে, “আমি তো নীরবে দিয়েছি আমার সব---
দুটি ফল তার করি অধিকার, এত তারি কলরব।”
চিনিল না মোরে, নিয়ে গেল ধরে কাঁধে তুলি লাঠিগাছ ;
বাবু ছিপ হাতে পারিষদ-সাথে ধরিতেছিলেন মাছ---
শুনি বিবরণ ক্রোধে তিনি কন, “মারিয়া করিব খুন।”
বাবু যত বলে পারিষদ-দলে বলে তার শতগুণ।
আমি কহিলাম, "শুধু দুটি আম ভিখ মাগি মহাশয়!”
বাবু কহে হেসে, “বেটা সাধুবেশে পাকা চোর অতিশয়!”
আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে---
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে॥
আফ্রিকা
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। রচনা ২৬ মাঘ ১৩৪৩ বঙ্গাব্দ (ফেব্রুয়ারী ১৯৩৭),
শান্তিনিকেতন। সেই বছরেই একটি সাময়িক পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়। আমরা “সঞ্চয়িতা” থেকে
নিয়েছি। কবিতাটির আবৃত্তি শুনুন দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে Debkumar
Mukhopadhyay YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
উদভ্রান্ত সেই আদিম যুগে
স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে
নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত,
তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা নাড়ার দিনে
রুদ্র সমুদ্রের বাহু
প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে
ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা---
বাঁধলে তোমাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায়
কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে।
সেখানে নিভৃত অবকাশে তুমি
সংগ্রহ করছিলে দুর্গমের রহস্য,
চিনছিলে জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত,
প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু
মন্ত্র জাগাচ্ছিল, তোমার চেতনাতীত মনে।
বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে
বিরূপের ছদ্মবেশে,
শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে
আপনাকে উগ্র ক'রে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়
তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে॥
হায় ছায়াবৃতা,
কালো ঘোমটার নীচে
অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ
উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে।
এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে,
নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে,
এল মানুষ-ধরার দল
গর্বে যারা অন্ধ তোমার সুর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।
সভ্যের বর্বর লোভ
নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।
তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকুল অরণ্যপথে
পঙ্কিল হল ধূলি তোমার রক্তে অশ্রতে মিশে,
দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলায়
বীভৎস কাদার পিণ্ড
চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে॥
সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায়
মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘণ্টা
সকালে সন্ধ্যায় দয়াময় দেবতার নামে ;
শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে ;
কবির সংগীতে বেজে উঠছিল
সুন্দরের আরাধনা॥
আজ যখন পশ্চিম দিগন্তে
'প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস,
যখন গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল---
অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল,
এসো যুগান্তের কবি,
আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে
দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে ;
বলো ‘ক্ষমা করো’---
হিংস্র প্রলাপের মধ্যে
সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী॥
সবলা
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)
১৩৩৫ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত “মহুয়া” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। রচনা ৭ই ভাদ্র ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ। সদ্য প্রয়াত আবৃত্তিকার
গৌরী ঘোষের কণ্ঠে এই কবিতাটির আবৃত্তি শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে Gouri Ghosh - Topic YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার
কেন নাহি দিবে অধিকার
হে বিধাতা?
নত করি মাথা
পথপ্রান্তে কেন রব জাগি
ক্লান্তধৈর্য প্রত্যাশার পূরণের লাগি
দৈবাগত দিনে?
শুধু শূন্যে চেয়ে রব? কেন নিজে নাহি লব চিনে
সার্থকের পথ?
কেন না ছুটাব তেজে সন্ধানের রথ
দুর্ধর্ষ অশ্বেরে বাঁধি দৃঢ় বল্গাপাশে?
দূর্জয় আশ্বাসে
দুর্গমের দুর্গ হতে সাধনার ধন
কেন নাহি করি আহরণ
প্রাণ করি পণ?।
যাব না বাসরকক্ষে বধূবেশে বাজায়ে কিঙ্কিণী---
আমারে প্রেমের বীর্যে করো অশঙ্কিনী।
বীরহস্তে বরমাল্য লব একদিন,
সে লগ্ন কি একান্তে বিলীন
ক্ষীণদীপ্তি গোধূলিতে?
কভু তারে দিব না ভুলিতে
মোর দৃপ্ত কঠিনতা।
বিনম্র দীনতা
সম্মানের যোগ্য নহে তার---
ফেলে দেব আচ্ছাদন দুর্বল লজ্জার॥
দেখা হবে ক্ষুব্ধসিন্ধুতীরে ;
তরঙ্গগর্জনোচ্ছ্বাস মিলনের বিজয়ধ্বনিরে
দিগন্তের বক্ষে নিক্ষেপিবে
মাথার গুঠন খুলি কব তারে, “মর্তে বা ত্রিদিবে
একমাত্র তুমিই আমার।"
সমূদ্রপাখির পক্ষে সেই ক্ষণে উঠিবে হুংকার
পশ্চিম পবন হানি
সপ্তর্ষি-আালোকে যবে যাবে তারা পন্থা অনুমানি॥
হে বিধাতা, আমারে রেখো না বাক্যহীনা---
রক্তে মোর জাগে রুদ্রবীণা।
উত্তরিয়া জীবনের সর্বোন্নত মুহূর্তের ’পরে
জীবনের সর্বোত্তম বাণী যেন ঝরে
কণ্ঠ হতে
নির্বারিত স্রোতে।
যাহা মোর অনির্বচনীয়
তারে যেন চিত্তমাঝে পায় মোর প্রিয়।
সময় ফুরায় যদি, তবে তার পরে
শান্ত হোক সে নির্ঝর নৈঃশব্দের নিস্তব্ধ সাগরে।
আমাদের যাত্রা হল শুরু এবার ওগো কর্ণধার
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭.৫.১৮৬১ - ৭.৮.১৯৪১)। গানটি “গীতবিতান” গ্রন্থের “স্বদেশ” পর্যায়ের।
গানটি কানন দেবী ও সুচিত্রা মিত্রের কণ্ঠে শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে Saroj Sanyal YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমাদের যারা হল শুরু এখন, ওগো কর্ণধার। তোমারে করি নমস্কার। এখন বাতাস ছুটুক, তুফান উঠুক, ফিরব না গো আর--- তোমারে করি নমস্কার॥ আমবা দিয়ে তোমার জয়ধ্বনি বিপদ বাধা নাহি গণি ওগো কর্ণধার। এখন মাভৈঃ বলি ভাসাই তরী, দাও গো করি পার--- তোমারে করি নমস্কার॥ এখন রইল যারা আপন ঘরে চাব না পথ তাদের তরে ওগো কর্ণধার। যখন তোমার সময় এল কাছে তখন কে'বা কার--- তোমারে করি নমস্কার। মোদের কেবা আপন, কে বা অপর, কোথায় বাহির, কোথা বা ঘর, ওগো কর্ণধার। চেয়ে তোমার মুখে মনের সুখে নেব সকল ভার--- তোমারে করি নমস্কার॥ আমরা নিয়েছি দাঁড়, তুলেছি পাল, তুমি এখন ধরো গো হাল ওগো কর্ণধার। মোদের মবণ বাঁচন ঢেউয়ের নাচন, ভাবনা কী বা তার--- তোমারে করি নমস্কার। আমরা সহায় খুঁজে পরের দ্বারে ফিরব না আর বারে বারে ওগো কর্ণধার। কেবল তুমিই আছ আমরা আছি এই জেনেছি সার--- তোমারে করি নমস্কার॥
|
যে আনিবে প্রেম অমৃত-উৎস হতে
তারি নামে ধরা ভাসায় বিষের স্রোতে,
তরী ফুটা করি পার হতে গিয়ে ডোবে---
তবু এরা কারে অপবাদ দেয় ক্ষোভে।
হে ধর্মরাজ, ধর্মবিকার নাশি
ধর্মমূঢ়জনেরে বাঁচাও আসি।
যে পূজার বেদি রক্তে গিয়েছে ভেসে
ভাঙো ভাঙো, আজি ভাঙো তারে নিঃশেষে---
ধর্মকারার প্রাচীরে বজ্র হানো,
এ অভাগা দেশে জ্ঞানের আলোক আনো।