কবি তসলিমা নাসরিন - তাঁর জন্ম বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। পিতা ডঃ রজব আলি এবং মাতা
এদুল আরা। ১৯৮১ সালের ২৯ জানুয়ারি, কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সঙ্গে তিনি বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন।
১৯৮৮ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে।
কবি চিকিত্সাবিদ্যার স্নাতক। নির্ভিক সাংবাদিকতা এবং নারীবাদী চিন্তার অন্যতমা মুখপাত্রী। তাঁর অনেক
লেখা পাঠক মহলে তীব্র আলোড়ণ এবং প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তিনি একাধারে বন্দিতা এবং নিন্দিতা।
তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে নষ্ট মেয়ের নষ্ট গদ্য (১৯৯২), নির্বাচিত কলাম (১৯৯৩), লজ্জা (১৯৯৩),
দ্বিখণ্ডিত, ইত্যাদি।
তাঁর নামে ইসলাম ও নবী বিরোধী লেখার অভিযোগ এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের দুর্দশার কথা
লেখার ফলে সে দেশের মৌলবাদীদের ফতোয়ার শিকার হয়ে, এবং বাংলাদেশ সরকারের মৌলবাদী তোষণ
নীতির ফলে তাঁকে দেশ ছেড়ে সুইডেনে বসবাস করতে হয়।
মাঝে মাঝে তিনি ভারতে এসে কলকাতায় থেকে তাঁর লেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর বই দ্বিখণ্ডিত
পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত মার্ক্সবাদী, প্রগতিশীল সরকার আগেই নিষিদ্ধ করলেও তা মহামান্য কলকাতা
হাইকোর্ট খারিজ করে দেন। আপাতদৃষ্টিতে ভারতের গণতন্ত্র, ব্যক্তি সাধীনতা ইত্যাদির খানিকটা থাকলেও
২০০৭ সালে জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভারত সরকার এবং বামফ্রন্ট শাসিত পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের
মুখোশ খসে বেরিয়ে আসে মৌলবাদের ভয়ংকর রূপ।
সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের আন্দোলনে জেরবার, রিজওয়ানুর রহমানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর সরকারের
কার্যকলাপ, সাচার কমিশনের রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের দুরবস্থার আসল ছবি বেরিয়ে পড়া
এবং নন্দীগ্রামে দু-দুটি গণহত্যার পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার মুসলমান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে
জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেন। ভোটের বাক্সের দিকে তাকিয়ে কলকাতার কিছু মুসলমান ধর্মীয় নেতাদের
কাজে লাগিয়ে, কলকাতার পার্ক সার্কাস অঞ্চলে লোক দেখানো দাঙ্গার সূচনা করে, ডিসেম্বর ২০০৭ এর শেষে
তসলিমাকে বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন। তসলিমাকে এর পর ভারত সরকার সুরক্ষার নামে কার্যত
নিঃসঙ্গভাবে গৃহবন্দী করে রাখেন দিল্লীতে কোন এক অজ্ঞাত স্থানে। মার্চ ২০০৮ এ শারীরিক ও
মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় হতাশ হয়ে দুঃখে-অভিমানে তিনি ভারত ছেড়ে চলে যান। দেশের সুশীল
সমাজ নানাভাবে বহু প্রতিবাদ সভা, পদযাত্রা, আন্দোলন করেও কিছু সুরাহা করতে ব্যার্থ হন।
পরিবর্তনের পরে ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও তসলিমা নাসরিনের জন্য
তেমন কিছু করেন নি যাতে তিনি নির্ভয়ে ভারতে ও পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে খোলামেলাভাবে চলাফেরা
করতে পারেন। কারণ ততদিনে তিনি শাসকের ভূমিকায় মৌলবাদী মুসলমান তোষণের নীতির শিকার হয়ে
যান।
দিল্লীতে তসলিমা নাসরিনের গৃহবন্দী অবস্থায় তিনি কিছু কবিতা লিখেছিলেন। কলকাতার
দৈনিক স্টেটসম্যান পত্রিকা তা নিয়মিত ছেপে বার করতে থাকেন। আমরা এখানে দৈনিক
স্টেটসম্যান পত্রিকার সৌজন্যে, সেই কবিতাগুলি হুবহু তুলে ধরছি মাত্র।
আমরা মিলনসাগরে কবি তসলিমা নাসরিনের কবিতা তুলে আনন্দিত।
কবির সঙ্গে যোগাযোগ ---
চলভাষ - ৯১৯৪৩৬১৩৮০৬৭
উত্স –
কবি তসলিমা নাসলিমের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১.২.২০০৮
পাতার পরিমার্জিত রূপ - ৭.৯.২০২২
...