ঠিকানা  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। সুর - সলিল চৌধুরী, শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির
“ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আবৃত্তি শুনুন বদরুল আহসান খান-এর কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
M. Majumder YouTube Channel.
.
.
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে!
This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
.            প্রতিবাদী
.        কবিতার
.    আগের
পাতায় যেতে
.    এখানে .
.
        ক্লিক
.               করুন
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার জেলের,
যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম
নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মিলনসাগরের এই প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার কবিদের সাজানো
হয়েছে পাতার পর পাতা কালানুক্রমিকভাবে বাঁ থেকে ডান দিকে।
পাঠকের সুবিধার জন্য কবিদের সূচীটি বর্ণানুক্রমিক রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার সূচীতে যেতে >>>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এই পাতার প্রতিবাদী কবিরা ---
সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (৩০)
উত্তমকুমার (১)
ভূপেন হাজারিকা (৫)
অনল চট্টোপাধ্যায় (১)
সরোজলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (৫)
কৃষ্ণ ধর (২)
অমিতাভ চৌধুরী (১)
শামসুর রাহমান (৩)
খান আতাউর রহমান (১)
প্রবীর মজুমদার (১)
দিলীপ সেনগুপ্ত (১)
নরবাহাদুর লামা (২)
সুধীন দাশগুপ্ত (৩)
গোবিন্দ হালদার (২)
অরুণ চট্টোপাধ্যায় (২)
পূর্ণেন্দু পত্রী (৯)
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় ((১৩)
অপরাজিতা গোপ্পী (১)
কবিতা সিংহ (৫)
॥ ১৯৪০॥
অবাক পৃথিবী ! অবাক করলে তুমি
জন্মেই দেখি ক্ষুদ্ধ স্বদেশভূমি।
অবাক পৃথিবী !  আমরা যে পরাধীন
অবাক,  কী দ্রুত জমে ক্রোধ দিন দিন ;
অবাক পৃথিবী অবাক যে করলে আরো---
দেখি এই দেশে অন্ন নেইকো কারো।
অবাক পৃথিবী !  অবাক যে বারবার
দেখি এই দেশে মৃত্যুরই কারবার।
হিসেবের খাতা যখনি নিয়েছি হাতে
দেখেছি লিখিত --- ‘রক্ত খরচ’ তাতে ;
এদেশে জন্মে পদাঘাতই শধু পেলাম,
অবাক পৃথিবী !  সেলাম, তোমাকে সেলাম !
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
অনুভব কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
কথা - সুকান্ত ভট্টাচার্য্য, সুর - সলিল চৌধুরী, কণ্ঠ - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ভিডিও টি সৌজন্যে
Saroj Sanyal YouTube Channel.
.
.
.
মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার .
. . . পরের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন
প্রতিবাদী            .
কবিতার        .
পরের    .
পাতায় যেতে
এখানে    .
ক্লিক         .
করুন              .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার জেলের,
যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম
নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মিলনসাগরের এই প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার কবিদের সাজানো
হয়েছে পাতার পর পাতা কালানুক্রমিকভাবে বাঁ থেকে ডান দিকে।
পাঠকের সুবিধার জন্য কবিদের সূচীটি বর্ণানুক্রমিক রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার সূচীতে যেতে >>>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার প্রতিবাদী কবিরা ---
সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (৩০)
উত্তমকুমার (১)
ভূপেন হাজারিকা (৫)
অনল চট্টোপাধ্যায় (১)
সরোজলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (৫)
কৃষ্ণ ধর (২)
অমিতাভ চৌধুরী (১)
শামসুর রাহমান (৩)
খান আতাউর রহমান (১)
প্রবীর মজুমদার (১)
দিলীপ সেনগুপ্ত (১)
নরবাহাদুর লামা (২)
সুধীন দাশগুপ্ত (৩)
গোবিন্দ হালদার (২)
অরুণ চট্টোপাধ্যায় (২)
পূর্ণেন্দু পত্রী (৯)
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় ((১৩)
অপরাজিতা গোপ্পী (১)
কবিতা সিংহ (৫)
মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার
আগের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
॥ ১৯৪৬॥
বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে,
আমি যাই তারি দিন-পঞ্জিকা লিখে,
এত বিদ্রোহ কখনো দেখেনি কেউ,
দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ ;
স্বপ্ন-চূড়ার থেকে নেমে এসো সব---
শুনেছ ?  শুনছ উদ্দাম কলরব ?
নয়া ইতিহাস লিখছে ধর্মঘট,
রক্তে রক্তে আঁকা প্রচ্ছদ-পট।
প্রত্যহযারা ঘৃণিত ও পদানত,
দেখ আজ তারা সবেগে সমুদ্যত ;
তাদেরই দলের পিছনে আমিও আছি,
তাদেরই মধ্যে আমিও যে মরি-বাঁচি।
তাইতো চলেছি দিন-পঞ্জিকা লিখে-----
বিদ্রোহ আজ !  বিপ্লব চারিদিকে॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
রানার ছুটেছে তাই ঝুম্ ঝুম্ ঘন্টা বাজছে রাতে
রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে,
রানার চলেছে, রানার !
রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার।
দিগন্ত থেকে দিগন্ত ছোটে রানার---
কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার।
রানার !  রানার!
জানা- অজানার
বোঝা আজ তার কাঁধে,
বোঝাই জাহাজ রানার চলেছে চিঠি আর সংবাদে ;
রানার চলেছে, বুঝি ভোর হয় হয়,
আরো জোরে,  আরো জোরে, এ রানার দুর্বার দুর্জয়।
তার জীবনের স্বপ্নের মতো পিছে স’রে যায় বন,
আরো পথ, আরো পথ --- বুঝি হয় লাল ও--পূর্ব কোণ।
অবাক রাতের তারারা, আকাশে মিট্ মিট্ ক’রে চায় :
কেমন ক’রে এ রানার সবেগে হরিণের মতো যায় !
কত গ্রাম, কত পথ যায় স’রে স’রে---
শহরে রানার যাবেই পৌঁছে ভোরে ;
হাতে লন্ঠন করে ঠন্ ঠন্ , জোনাকিরা দেয় আলো
মাভৈঃ রানার !  এখনো রাতের কালো।

এমনি ক’রেই জীবনের বহু বছরকে পিছু ফেলে,
পৃথিবীর বোঝা ক্ষুধিত রানার পৌঁছে দিয়েছে ‘মেলে’।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
রানার কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কথা - সুকান্ত ভট্টাচার্য্য, সুর - সলিল চৌধুরী, কণ্ঠ - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ভিডিও টি সৌজন্যে S D YouTube Channel.
আবৃত্তি শুনুন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে Bhavna Records & Cassettes YouTube Channel.
.
ক্লান্তশ্বাস ছুঁয়েছে আকাশ, মাটি ভিজে গেছে ঘামে
জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে।
অনেক দুঃখে, বহু  বেদনায়, অভিমানে, অনুরাগে,
ঘরে তার প্রিয়া একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে।

রানার !  রানার !
এ বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে?
রাত শেষ হয়ে সূর্য উঠবে কবে?
ঘরেতে অভাব ;  পৃথিবীটা তাই মনে হয় কালো ধোঁয়া,
পিঠেতে টাকার বোঝা, তবু এই টাকাকে যাবে না ছোঁয়া,
রাত নির্জন, পথে কত ভয়, তবুও রানার ছোটে,
দস্যুর ভয় , তারো চেয়ে ভয় কখন সূর্য ওঠে।
কত চিঠি লেখে লোকে---
কত সুখে,  প্রেমে, আবেগে, স্মৃতিতে, কত দুঃখে ও শোকে।
এর দুঃখের চিঠি পড়বে না জানি কেউ কোনো দিনও,
এর জীবনের দুঃখ কেবল জানবে পথের তৃণ,
এর দুঃখের কথা জানবে না কেউ শহরে ও গ্রামে,
এর কথা ঢাকা পড়ে থাকবেই কালো রাত্রির খামে।
দরদে তারার চোখ কাঁপে মিটিমিটি,---
এ-কে যে ভোরের আকাশ পাঠাবে সহানুভূতির চিঠি---
রানার !  রানার !  কি হবে এ বোঝা ব’য়ে?
কি হবে ক্ষুধার ক্লান্তিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে?
রানার !  রানার !  ভোর তো হয়েছে --- আকাশ হয়েছে লাল,
আলোর স্পর্শে কবে কেটে যাবে এই দুঃখের কাল?

রানার !    গ্রামের রানার !
সময় হয়েছে নতুন খবর আনার ;
শপথের চিঠি নিয়ে চলো আজ
.           ভীরুতা পিছনে ফেলে---
পৌঁছে দাও এ নতুন খবর,
.           অগ্রগতির ‘মেলে’,
দেখা দেবে বুঝি প্রভাত এখুনি---
.           নেই, দেরি নেই আর,
ছুটে চলো, ছুটে চলো আরো বেগে
.             দুর্দম, হে রানার॥
আবৃত্তি শুনুন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে
সলিল চৌধুরী সুরে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো !
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা---
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় :
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্ সানো রুটি॥
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
হে মহাজীবন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)।
১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আবৃত্তি শুনুন
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Bhavna Records & Cassettes
YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
হে মহামানব, একবার এসো ফিরে
শুধু একবার চোখ মেলো এই গ্রাম নগরের ভিড়ে,
এখানে মৃত্যু হানা দেয় বারবার ;
লোকচক্ষুর আড়ালে এখানে জমেছে অন্ধকার।
এই যে আকাশ , দিগন্ত , মাঠ স্বপ্নে সবুজ মাটি
নীরবে মৃত্যু গেড়েছে এখানে ঘাঁটি ;
কোথাও নেইকো পার
মারী ও মড়ক, মন্বন্তর, ঘন ঘন বন্যার
আঘাতে আঘাতে ছিন্নভিন্ন ভাঙা নৌকার পাল,
এখানে চরম দুঃখ কেটেছে সর্বনাশের খাল,
ভাঙা ঘর, ফাঁকা ভিটেতে জমেছে নির্জনতার কালো,
হে মহামানব, এখানে শুকনো পাতায় আগুন জ্বালো |

ব্যাহত জীবনযাত্রা, চুপি চুপি কান্না বও বুকে,
হে নীড়-বিহারী সঙ্গী ! আজ শুধু মনে মনে ধুঁকে
ভেবেছ সংসারসিন্ধু কোনোমতে হয়ে যাবে পার
পায়ে পায়ে বাধা ঠেলে |  তবু আজো বিস্ময় আমার-----
ধূর্ত , প্রবঞ্চক যারা কেড়েছে মুখের গ্রাস
তাদের করেছ ক্ষমা, ডেকেছ নিজের সর্বনাশ।
তোমার ক্ষেতের শস্য
চুরি ক’রে যারা গুপ্তকক্ষেতে জমায়
তাদেরি দুপায়ে প্রাণ ঢেলে দিলে দুঃসহ ক্ষমায় ;
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
বোধন  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। গান শুনুন দিলীপ সেনগুপ্তর সুরে, গণনাট্য সংঘের প্রদীপ রায়চৌধুরী, নরেন মুখোপাধ্যায়, কঙ্কণ ভট্টাচার্য,
মণিলাল মজুমদার, হীরণ্ময় ঘোষাল, শঙ্কর মুখোপাধ্যায়, দেবদাস তরফদার, সঙ্গীতা রায়চৌধুরী, তন্দ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়,
তপতী চক্রবর্তী ও গোপা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Dipankar Sinha YouTube Channel.
.
লোভের পাপের দুর্গ গম্বুজ ও প্রসাদে মিনারে
তুমি যে পেতেছ হাত ;  আজ মাথা ঠুকে বারে বারে
অভিশাপ দাও যদি, বারংবার হবে তা নিষ্ফল------
তোমার অন্যায়ে জেনো এ অন্যায় হয়েছে প্রবল।
তুমি তো প্রহর গোনো ,
তারা মুদ্রা গোনে কোটি কোটি,
তাদের ভান্ডার পূর্ণ ;  শূন্য মাঠে কঙ্কাল-করোটি
তোমাকে বিদ্রুপ করে, হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকে----
কুজ্ঝটি তোমার চোখে, তুমি ঘুরে ফেরো দুর্বিপাকে।

পৃথিবী উদাস, শোনো হে দুনিয়াদার !
সামনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু-কালো পাহাড়
দগ্ধ হৃদয়ে যদিও ফেরাও ঘাড়
সামনে পেছনে কোথাও পাবে না পার :
কি করে খুলবে মৃত্যু-ঠেকানো দ্বার-----
এই মুহূর্তে জবাব দেবে কি তার ?

লক্ষ লক্ষ প্রাণের দাম
অনেক দিয়েছি ; উজার গ্রাম।
সুদ ও আসলে আজকে তাই
যুদ্ধশেষের প্রাপ্য চাই।

কৃপণ পৃথিবী , লোভের অস্ত্র
নিয়ে কেড়ে নেয় অন্নবস্ত্র,
লোলুপ রসনা মেলা পৃথিবীতে
বাড়াও ও-হাত তাকে ছিঁড়ে নিতে।
লোভের মাথায় পদাঘাত হানো---
আনো, রক্তের ভাগীরথী আনো।
দৈত্যরাজের যত অনুচর
মৃত্যুর ফাঁদ পাতে পর পর ;
মেলো চোখ আজ ভাঙো সে ফাঁদ---
হাঁকো দিকে দিকে সিংহনাদ।
তোমার ফসল, তোমার মাটি
তাদের জীয়ন ও মরণকাঠি
তোমার চেতনা চালিত হাতে।
এখনও কাঁপবে আশঙ্কাতে ?
স্বদেশপ্রেমের ব্যাঙ্গমা পাখি
মারণমন্ত্র বলে , শোনো তা কি ?
এখনো কি তুমি আমি স্বতন্ত্র ?

কারো আবৃত্তি, হাঁকো সে মন্ত্র :
শোন্ রে মালিক, শোন্ রে মজুতদার !
তোদের প্রাসাদে জমা হল কত মৃত মানুষের হাড়---
হিসাব কি দিবি তার ?
প্রিয়াকে আমার কেড়েছিস তোরা,
.                     ভেঙেছিস ঘড়বাড়ি,
সে কথা কি আমি জীবনে মরণে
.                     কখনো ভুলতে পারি?
আদিম হিংস্র মানবিকতার যদি আমি কেউ হই
স্বজনহারানো শ্মশানে তোদের
.                     চিতা আমি তুলবই।
শোন্ রে মজুতদার ,
ফসল ফলানো মাটিতে রোপণ
.                       করব তোকে এবার।

তারপর বহুশত যুগ পরে
ভবিষ্যতের কোনো যাদুঘরে
নৃতত্ত্ববিদ্ হয়রান হয়ে মুছবে কপাল তার,
মজুতদার ও মানুষের হাড়ে মিল খুঁজে পাওয়া ভার।
তেরোশো সালের মধ্যবর্তী মালিক , মজুতদার
মানুষ ছিল কি ? জবাব মেলে না তার।

আজ আর বিমূঢ় আস্ফালন নয়,
দিগন্তে প্রত্যাসন্ন সর্বনাশের ঝড় ;
আজকের নৈঃশব্দ হোক যুদ্ধারম্ভের স্বীকৃতি।
দু হাতে বাজাও প্রতিশোধের উন্মত্ত দামামা, প্রার্থনা করো :
হে জীবন , হে যুগ-সন্ধিকালের চেতনা----
আজকে শক্তি দাও, যুগ যুগ বাঞ্ছিত দুর্দমনীয় শক্তি,
প্রাণে আর মনে দাও শীতের শেষের
.                           তুষার-গলানো উত্তাপ।
টুকরো টুকরো ক’রে ছেঁড়ো তোমার
অন্যায় আর ভীরতার কলঙ্কিত কাহিনী।
শোষক আর শাসকের নিষ্ঠুর একতার বিরুদ্ধে
একত্রিত হোক আমাদের সংহতি।

তা যদি না হয় , মাথার উপরে ভয়ঙ্কর
বিপদ নামুক, ঝড়ে বন্যায় ভাঙুক ঘর ;
তা যদি না হয়, বুঝব তুমি তো মানুষ নও-----
গোপনে গোপনে দেশদ্রোহীর পতাকা বও।
ভারতবর্ষ মাটি দেয়নিকো, দেয়নি জল
দেয় নি তোমার মুখেতে অন্ন, বাহুতে বল
পূর্বপুরুষ অনুপস্থিত রক্তে, তাই
ভারতবর্ষে আজকে তোমার নেইকো ঠাঁই॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কত যুগ, কত বর্ষান্তের শেষে
.                জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী :
আকাশে মেঘের তাড়াহুড়ো দিকে দিকে
.                বজ্রের কানাকানি।
সহসা ঘুমের তল্লাট ছেড়ে
.                শান্তি পালাল আজ।
দিন ও রাত্রি হল অস্থির
.                কাজ, আর শুধু কাজ !
জনসিংহের ক্ষুব্ধ নখর
.                হয়েছে তীক্ষ্ণ, হয়েছে প্রখর
.                ওঠে তার গর্জন---
প্রতিশোধ, প্রতিশোধ !

হাজার হাজার শহীদ ও বীর
স্বপ্নে নিবিড় স্মরণে গভীর
.                ভুলি নি তাদের আত্মবিসর্জন।
ঠোঁটে ঠোঁটে কাঁপে প্রতিজ্ঞা দুর্বোধ :
.                কানে বাজে শুধু শিকলের ঝন্ ঝন্।
প্রশ্ন নয়কো পারার না পারার,
অত্যাচারীর রুদ্ধ কারার
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৫০ সালে প্রকাশিত কবির “ঘুম নেই” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আবৃত্তি শুনুন কুনাল ঘোষের কণ্ঠে। ভিডিওটি
সৌজন্যে
bang tube86 YouTube Channel. সুরকার - দিলীপ সেনগুপ্ত। যন্ত্রানুসঙ্গ পরিচালনা ভি বালসারা। শিল্পী - ভারতীয় গণনাট্য সংঘের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির শিল্পীবৃন্দ -প্রদীপ রায়চৌধুরী, নরেন মুখোপাধ্যায়,
কঙ্কন ভট্টাচার্য, মণিলাল মজুমদার, হিরন্ময় ঘোষাল, শংকর মুখোপাধ্যায়, শুভংকর চট্টোপাধ্যায়, দেবীদাস তরফদার, সঙ্গীতা রায়চৌধুরী, তন্দ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, তপতী চক্রবর্তী, গোপা চক্রবর্তী। ভিডিওটি সৌজন্যে
Dipankar Sinha YouTube Channel.
.
ভারতীয় গণনাট্য সংঘের শিল্পীবৃন্দের কণ্ঠে গান
আবৃত্তি কুনাল ঘোষের কণ্ঠে
.                দ্বার ভাঙা আজ পণ ;
এতদিন ধ’রে শুনেছি কেবল শিকলের ঝন্ ঝন্।

ওরা বীর, ওরা আকাশে জাগাত ঝড়,
ওদের কাহিনী বিদেশীর খুনে
গুলি, বন্দুক, বোমার আগুনে
.                আজো রোমাঞ্চকর ;
ওদের স্মৃতিরা শিরায় শিরায়
কে আছে আজকে ওদের ফিরায়
.                কে ভাবে ওদের পর?
ওরা বীর,   ওরা আকাশে জাগাত ঝড় !

নিদ্রায়,  কাজকর্মের ফাঁকে
ওরা দিনরাত আমাদের ডাকে
.                ওদের ফিরাব কবে?
কবে আমাদের বাহুর প্রতাপে
কোটি মানুষের দুর্বার চাপে
.                শৃঙ্খল গত হবে?
কবে আমাদের প্রাণকোলাহলে
কোটি জনতার জোয়ারের জলে
.                ভেসে যাবে কারাগার |
কবে হবে ওরা দুঃখসাগর পার?
মহাজন ওরা, আমরা ওদের চিনি ;
ওরা আমাদের রক্ত দিয়েছে,
বদলে দুহাতে শিকল নিয়েছে
.                গোপন করেছে ঋণী।
মহাজন ওরা, আমরা ওদের চিনি !
.                হে খাতক নির্বোধ,
রক্ত দিয়েই  সব ঋণ করো শোধ !
শোনো, পৃথিবীর মানুষেরা শোনো,
.                শোনো স্বদেশের ভাই,
রক্তের বিনিময় হয় হোক
.                আমরা ওদের চাই॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এখনো আমার মনে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি,
প্রত্যেক নিভৃত ক্ষণে মত্ততা ছড়ায় যথারীতি,
এখনো তোমার গানে সহসা উদ্বেল হয়ে উঠি,
নির্ভয়ে উপেক্ষা করি জঠরের নিঃশব্দ ভ্রূকুটি।
এখনো প্রাণের স্তরে স্তরে,
তোমার দানের মাটি সোনার ফসল তুলে ধরে।
এখনো স্বগত ভাবাবেগে,
মনের গভীর অন্ধকারে তোমার সৃষ্টিরা থাকে জেগে।
তবুও ক্ষুধিত দিন ক্রমশ সাম্রাজ্য গড়ে তোলে,
গোপনে লাঞ্ছিত হই হানাদারী মৃত্যর কবলে ;
যদিও রক্তাক্ত দিন, তবু দৃপ্ত তোমার সৃষ্টিকে
এখনো প্রতিষ্ঠা করি আমার মনের দিকে দিকে।

তবুও নিশ্চিন্ত উপবাস
আমার মনের প্রান্তে নিয়ত ছড়ায় দীর্ঘশ্বাস----
আমি এক দুর্ভিক্ষের কবি,

আমার বিনিদ্র রাতে সতর্ক সাইরেন ডেকে যায়,
আমার রোমাঞ্চ লাগে অযথা নিষ্ঠুর রক্তপাতে,
আমার বিস্ময় জাগে নিষ্ঠুর শৃঙ্খল দুই হাতে।

তাই আজ আমারো বিশ্বাস,
“শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস।”
তাই আমি চেয়ে দেখি প্রতিজ্ঞা প্রস্তুত ঘরে ঘরে,
দানবের সাথে আজ সংগ্রামের তরে॥
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
রবীন্দ্রনাথের প্রতি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আবৃত্তি শুনুন সৌমিত্র
চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Bhavna Records & Cassettes YouTube Channel.
.
সলিল চৌধুরীর সুরে ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গান
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আবৃত্তি
গান শুনুন সলিল চৌধুরীর সুরে ও হেমন্ত
মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
M. Majumder YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুম ;
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চিত্কারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
সে ভাষা বোঝেনা কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা
পেয়েছি নতন চিঠি আসন্ন যুগের-----
পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর
অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান ;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ , মৃত আর ধ্বংসস্তুপ--পিঠে
চলে  যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব----তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি-----
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
অবশেষে সব কাজ সেরে,
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস॥
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
ছাড়পত্র  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আবৃত্তি শুনুন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি
সৌজন্যে
Bhavna Records & Cassettes YouTube Channel. অমিতাভ ঘোষের সুরে ও কণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে Amitava Ghosh YouTube Channel.
.
অমিতাভ ঘোষের সুরে ও কণ্ঠে গান
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আবৃত্তি
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.            হে সূর্য  !  শীতের সূর্য  !
হিম শীতল সুদীর্ঘ রাত তোমার প্রতীক্ষায়
.                       আমরা থাকি,
যেমন প্রতীক্ষা ক’রে থাকে কৃষকদের চঞ্চল চোখ,
.         ধানকাটার রোমাঞ্চকর দিনগুলির জন্যে।

.             হে সূর্য, তুমি তো জানো,
আমাদের গরম কাপড়ের কত অভাব !
.           সারারাত খড়কুটো জ্বালিয়ে,
.           এক-টুকরো কাপড়ে কান ঢেকে,
কত কষ্টে আমরা শীত আটকাই !

সকালের এক-টুকরো রোদ্দুর----
.          এক- টুকরো সোনার চেয়েও মনে হয় দামী।
ঘর ছেড়ে আমরা এদিক-এদিক যাই----
.          এক-টুকরো রোদ্দুরের তৃষ্ণায়।

.             হে সূর্য !
তুমি আমাদের স্যাঁতসেঁতে ভিজে ঘরে
.           উত্তাপ আর আলো দিও,
.           আর উত্তাপ দিও,
রাস্তার ধারে ঐ উলঙ্গ ছেলেটাকে।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
প্রার্থী   কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
আবৃত্তি শুনুন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Bhavna Records & Cassettes YouTube Channel.
.
 হে সূর্য !
তুমি আমাদের উত্তাপ দিও---
শুনেছি, তুমি এক জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ড,
.          তোমার কাছে উত্তাপ পেয়ে পেয়ে
একদিন হয়তো আমরা প্রত্যেকেই এক একটা জ্বলন্ত
অগ্নিপিন্ডে
.          পরিণত হব !
তারপর সেই উত্তাপে যখন পুড়বে আমাদের জড়তা,
.         তখন হয়তো গরম কাপড়ে ঢেকে দিতে পারবো
.        রাস্তার ধারের ঐ উলঙ্গ ছেলেটাকে।
আজ কিন্ত আমরা তোমার অকৃপণ উত্তাপের প্রার্থী॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
একটি মোরগ হঠাৎ আশ্রয় পেয়ে গেল
.   বিরাট প্রসাদের ছোট্ট এক কোণে,
.        ভাঙা প্যাকিং বাক্সের গাদায়---
.            আরো দু’তিনটি মুরগীর সঙ্গে।

আশ্রয় যদিও মিলল,
.        উপযুক্ত আহার মিলল না।
সুতীক্ষ্ম চিৎকারে প্রতিবাদ জানিয়ে
.        গলা ফাটাল সেই মোরগ
.             ভোর থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত---
তবুও সহানুভূতি জানাল না সেই বিরাট শক্ত ইমারত।

তারপর শুরু হল তার আঁস্তাকুড়ে আনাগোনা :
.        আশ্চর্য !সেখানে প্রতিদিন মিলতে লাগল
ফেলে দেওয়া ভাত-রুটির চমৎকার প্রচুর খাবার !

তারপর এক সময় আঁস্তাকুড়েও এল অংশীদার----
.        ময়লা ছেঁড়া ন্যাকড়া পরা দু’তিনটে মানুষ ;
.   কাজেই দুর্বলতর মোরগের খাবার গেল বন্ধ হয়ে।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
একটি মোরগের কাহিনী  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আবৃত্তি শুনুন সৌমিত্র
চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Bhavna Records & Cassettes YouTube Channel. গান শুনুন শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে Zakir Hossain YouTube Channel.
.
খাবার ! খাবার ! খানিকটা খাবার !
.        অসহায় মোরগ খাবারের সন্ধানে
.             বার বার চেষ্টা ক’রল প্রাসাদে ঢুকতে,
.                প্রত্যেকবারই তাড়া খেলো প্রচন্ড।
ছোট্ট মোরগ ঘাড় উঁচু করে স্বপ্ন দেখে---
.        ‘প্রাসাদের ভেতরে রাশি রাশি খাবার !’

তারপর সত্যিই সে একদিন প্রাসাদে ঢুকতে পেল,
.        একেবারে সোজা চলে এল
ধব্ ধপে সাদা দামী কাপড়ে ঢাকা খাবার টেবিলে ;
.            অবশ্য খাবার খেতে নয়---
.                খাবার হিসেবে॥
শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গান
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আবৃত্তি
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সেই  বিশ্রী দম-আটকানো কুয়াশা আর নেই
নেই সেই একটানা তুষার-বৃষ্টি,
হঠাৎ জেগে উঠেছে----
সূর্যের ছোঁয়ায় চমকে উঠছে  ভূস্বর্গ।
দুহাতে তষারের পর্দা সরিয়ে ফেলে
মুঠো মুঠো হলদে পাতাকে দিয়েছে উড়িয়ে,
ডেকেছে রৌদ্রকে,
ডেকেছে তুষার-উড়িয়ে-নেওয়া বৈশাখী ঝড়কে,
পৃথিবীর নন্দন-কানন কাশ্মীর।

কাশ্মীরের সুন্দর মুখ কঠোর হল
প্রচন্ড সূর্যের উত্তাপে।
গলে গলে পড়ছে বরফ----
ঝরে ঝরে পড়ছে জীবনের স্পন্দন :
শ্যামল আর সমতল মাটির
স্পর্শ লেগেছে ওর মুখে,
দক্ষিণ সমুদ্রের হাওয়ায় উড়ছে ওর চুল  :
আন্দোলিত শাল, পাইন আর দেবদারুর বনে
ঝড়ের পক্ষে আজ সুস্পষ্ট সম্মতি।
কাশ্মীর আজ আর জমাট-বাঁধা বরফ নয় :
সূর্য-করোত্তোপে জাগা কঠোর গ্রীষ্মে
হাজার হাজার চঞ্চল স্রোত।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
কাশ্মীর  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আবৃত্তি শুনুন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে।
ভিডিওটি সৌজন্যে
Bhavna Records & Cassettes YouTube Channel.
.
তাই আজ কাল-বৈশাখীর পতাকা উড়ছে
ক্ষুব্ধ কাশ্মীরের উদ্দাম হাওয়ায় হাওয়ায় ;
দুলে দুলে উঠছে
লক্ষ লক্ষ বছর ধরে ঘুমন্ত , নিস্তব্ধ
বিরাট ব্যাপ্ত হিমালয়ের বুক॥

॥ ২॥
দম-আটকানো কুয়াশা তো আর নেই
নেই আর সেই বিশ্রী তুষার-বৃষ্টি,
সূর্য ছুঁয়েছে ‘ভূস্বর্গ চঞ্চল’
সহসা জেগেই চমকে উঠেছে দৃষ্টি।
তাই আজ কাল-বৈশাখীর পতাকা উড়ছে
ক্ষুব্ধ কাশ্মীরের উদ্দাম হাওয়ায় হাওয়ায় ;
দুলে দুলে উঠছে
লক্ষ লক্ষ বছর ধরে ঘুমন্ত , নিস্তব্ধ
বিরাট ব্যাপ্ত হিমালয়ের বুক॥

॥ ২॥
দম-আটকানো কুয়াশা তো আর নেই
নেই আর সেই বিশ্রী তুষার-বৃষ্টি,
সূর্য ছুঁয়েছে ‘ভূস্বর্গ চঞ্চল’
সহসা জেগেই চমকে উঠেছে দৃষ্টি।

দুহাতে তুষার-পর্দা সরিয়ে ফেলে
হঠাৎ হলদে পাতাকে দিয়েছে উড়িয়ে,
রোদকে ডেকেছে নন্দনবন পৃথিবীর
বৈশাখী ঝড় দিয়েছে বরফ গুঁড়িয়ে।

সুন্দর মুখ কঠোর করেছে কাশ্মীর
তীক্ষ্ণ চাহনি সূর্যের উত্তাপে,
গলিত বরফে জীবনের স্পন্দন
শ্যামল মাটির স্পর্শে ও আজ কাঁপে।
সাগর-বাতাসে উড়ছে আজ ওর চুল
শাল দেবদারু পাইনের বনে ক্ষোভ,
ঝড়ের পক্ষে চূড়ান্ত সম্মতি-----
কাশ্মীর নয়, জমাট বাঁধা বরফ।

কঠোর গ্রীষ্মে সূর্যোত্তাপে জাগা----
কাশ্মীর আজ চঞ্চল-,স্রোত লক্ষ :
দিগ্ দিগন্তে ছুটে ছুটে চলে দুর্বার
দুঃসহ ক্রোধে ফুলে ফুলে ওঠে বক্ষ।

ক্ষুব্ধ হাওয়ায় উদ্দাম উঁচু কাশ্মীর
কালবোশেখীর উতাকা উড়ছে নভে,
দুলে দুলে ওঠে ঘুমন্ত হিমালয়
বহু যুগ পরে বুঝি জাগ্রত হবে॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

আঠারো বছর বয়সেই নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়---
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা |

এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।

আঠারো বছর বয়স ভয়ঙ্কর
তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা,
এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর
এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা।

আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার
পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান,
দুর্যোগে হাল ঠিক মতো রাখা ভার
ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
আঠারো বছর বয়স কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। আবৃত্তি শুনুন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Bhavna Records & Cassettes YouTube Channel.
.
আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে
অবিশ্রান্ত ;  একে একে হয় জড়ো,
এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে
এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো।

তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি,
এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে,
বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী
এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে।

এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়
পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,
এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়---
এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বেজে উঠল কি সময়ের ঘড়ি?
এসো তে আজ বিদ্রোহ করি,
আমরা সবাই যে যার প্রহরী
.                  উঠুক ডাক।
উঠুক তুফান মাটিতে পাহাড়ে
জ্বলুক আগুন গরিবের হাড়ে
কোটি করাঘাত পৌঁছোক দ্বারে ;
.                   ভীরুরা থাক।

মানবো না বাধা, মানবো না ক্ষতি,
চোখে যুদ্ধের দৃঢ় সম্মতি
রুখবে কে আর এ অগ্রগতি,
.                    সাধ্য কার?
রুটি দেবে নাকো? দেবে না অন্ন?
এ লড়াইয়ে তুমি নও প্রসন্ন?
চোখ-রাঙানিকে করি না গণ্য
.                     ধারি না ধার।

খ্যাতির মুখেতে পদাঘাত করি,
গড়ি, আমরা যে বিদ্রোহ গড়ি,
ছিঁড়ি দুহাতের শৃঙ্খলদড়ি,
.                       মৃত্যুপণ।
দিক থেকে দিকে বিদ্রোহ ছোটে,
বসে থাকবার বেলা নেই মোটে,
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
বিদ্রোহের গান কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। কবির “ঘুম নেই” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
আবৃত্তি শুনুন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Bhavna Records & Cassettes YouTube Channel.
.
রক্তে রক্তে লাল হয়ে ওঠে
.                        পূর্বকোণ।

ছিঁড়ি, গোলামির দলিলকে ছিঁড়ি,
বেপরোয়াদের দলে গিয়ে ভিড়ি
খুঁজি কোনখানে স্বর্গের সিঁড়ি,
.                        কোথায় প্রাণ !
দেখব, ওপরে আজো আছে কারা,
খসাব আঘাতে আকাশের তারা,
সারা দুনিয়াকে দেব শেষ নাড়া,
.                        ছড়াব ধান।
জানি রক্তের পেছনে ডাকবে সুখের বান॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কলম, তুমি কত না যুগ কত না কাল ধরে
অক্ষরে অক্ষরে
গিয়েছ শুধু ক্লান্তিহীন কাহিনী শুরু করে।
কলম, তুমি কাহিনী লেখো, তোমার কাহিনী কি
দুঃখে জ্বলে তলোয়ারের মতন ঝিকিমিকি?
কলম, তুমি শুধু বারংবার,
আনত ক’রে ক্লান্ত ঘাড়
গিয়েছ লিখে স্বপ্ন আর পুরনো কত কথা,
সাহিত্যের দাসত্বের ক্ষুধিত বশ্যতা।
ভগ্ন নিব,  রুগ্ন দেহ,  জলের মতো কালি,
কলম,  তুমি নিরপরাধ,  তবুও গালাগালি
খেয়েছ আর সয়েছ কত লেখকদের ঘৃণা,
কলম, তুমি চেষ্টা কর, দাঁড়াতে পারো কি না।

হে কলম ! তুমি কত ইতিহাস গিয়েছ লিখে
লিখে লিখে শুধু ছড়িয়ে দিয়েছ চতুর্দিকে।
তবু ইতিহাস মূল্য দেবে না, এতটুকু কোণ
দেবে না তোমায়, জেনো ইতিহাস বড়ই কৃপণ ;
কত লাঞ্ছনা , খাটুনি গিয়েছে  লেখকের হাতে
ঘুমহীন চোখে অবিশ্রান্ত অজস্র রাতে।
তোমার গোপন অশ্রু তাইতো ফসল ফলায়
বহু সাহিত্য বহু কাব্যের বুকের তলা।
তবু দেখ বোধ নেই লেখকের কৃতজ্ঞতা,
কেন চলবে এ প্রভুর খেয়ালে, লিখবে কথা?
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
কলম  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আবৃত্তি শুনুন বদরুল আহসান খান-এর কণ্ঠে।
ভিডিওটি সৌজন্যে
Badrul Ahsan Khan YouTube Channel.
.
হে কলম ! হে লেখনী  ! আর কত দিন
ঘর্ষণে ঘর্ষণে হবে ক্ষীণ?
আর কত মৌন-মূক, শব্দহীন দ্বিধান্বিত বুকে
কালির কলঙ্ক চিহ্ন রেখে দেবে মুখে?
আর কত আর
কাটবে দুঃসহ দিন দুর্বার লজ্জার?
এ দাসত্ব ঘুচে যাক, এ কলঙ্ক মুছে যাক আজ,
কাজ কর---কাজ.

মজুর দেখ নি তুমি?  হে কলম, দেখনি বেকার?
বিদ্রোহ দেখনি তুমি? রক্তে কিছ পাও নি শেখার?
কত না শতাব্দী , যুগ থেকে তুমি আজো আছ দাস,
প্রত্যেক লেখায় শুনি কেবল তোমার দীর্ঘশ্বাস !
দিন নেই, রাত্রি নেই, শ্রান্তিহীন , নেই কোনো ছুটি,
একটু অবাধ্য হলে তখুনি ভ্রূকুটি ;
এমনি করেই কাটে দুর্ভাগা তোমার বারো মাস,
কয়েকটি পয়সায় কেনা,  হে কলম, তুমি ক্রীতদাস।
তাই যত লেখ, তত পরিশ্রম এসে হয় জড়ো :
----কলম ! বিদ্রোহ আজ ! দল  বেঁধে ধর্মঘট করো।
লেখক স্তম্ভিত হোক, কেরানীরা ছেড়ে দিক হাঁফ,
মহাজনী বন্ধ হোক,  বন্ধ হোক মজুরের পাপ ;
উদ্বেগে-আকুল হোক প্রিয়া যত দূর দূর দেশে,
কলম !  বিদ্রোহ আজ, ধর্মঘট হোক অবশেষে ;
আর কালো কালি নয়,  রক্তে আজ ইতিহাস লিখে
দেওয়ালে দেওয়ালে এঁটে,  হে কলম,
আনো দিকে দিকে॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
ঠিকানা আমার চেয়েছ বন্ধু---
ঠিকানার সন্ধান,
আজও পাও নি? দুঃখ যে দিলে
করব না অভিমান?
ঠিকানা না হয় না নিলে বন্ধু,
পথে পথে বাস করি
কখনো গাছের তলাতে
কখনো পর্ণকুটির গড়ি।
আমি যাযাবর, কুড়াই পথের নুড়ি,
হাজার জনতা যেখানে, সেখানে
আমি প্রতিদিন ঘুরি।
বন্ধু, ঘরের খুঁজে পাই নাকো পথ,
তাইতো পথের নুড়িতে গড়ব
মজবুত ইমারত।

বন্ধু, আজকে আঘাত দিও না
তোমাদের দেওয়া ক্ষতে,
আমার ঠিকানা খোঁজ ক’রো শুধু
সূর্যোদয়ের পথে।
ইন্দোনেশিয়া, যুগোশ্লোভিয়া,
রুশ ও চীনের কাছে,
আমার ঠিকানা বহুকাল ধ’রে
জেনো গচ্ছিত আছে।
.
আমাকে কি তুমি খুঁজেছ কখনো
সমস্ত দেশ জুড়ে?
তবুও পাওনি? তাহলে ফিরেছ
ভুল পথে ঘুরে ঘুরে।
আমার হদিশ জীবনের পথে
মন্বন্তর থেকে
ঘুরে গিয়েছে যে কিছু দূর গিয়ে
মুক্তির পথে বেঁকে।
বন্ধু,  কুয়াশা,  সাবধান এই
সূর্যোদয়ের ভোরে :
পথ হারিও না আলোর আশায়
তুমি একা ভূল ক’রে।
বন্ধু, আজকে জানি অস্থির
রক্ত, নদীর  জল,
নীড়ে পাখি আর সমুদ্র চঞ্চল।
বন্ধু, সময় হয়েছে এখনো
ঠিকানা অবজ্ঞাত
বন্ধু, তোমার ভুল হয় কেন এত?
আর কতদিন দু’চক্ষু কচ্ লাবে,
জালিয়ানওয়ালার যে পথের শুরু
সে পথে আমাকে পাবে,
জালালাবাদের পথ ধ’রে ভাই
ধর্মতলার পরে,
দেখবে ঠিকানা লেখা প্রত্যেক ঘরে
ক্ষুদ্ধ এদেশে রক্তের অক্ষরে।
বন্ধু, আজকে বিদায় !
দেখেছ উঠল যে হাওয়া ঝোড়ো,
ঠিকানা রইল ,
এবার মুক্ত স্বদেশেই দেখা ক’রো॥
শত্রু এক  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। সুর- দিলীপ সেনগুপ্ত। কন্ঠ: ভারতীয় গণনাট্য সংঘের শিল্পীরা, যাঁদের মধ্যে ছিলেন কংকন ভট্টাচার্য,  মণিলাল
মজুমদার, নরেন মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্যরা। গানটি শুনুন বদরুল আহসান খান-এর কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Dipankar
Sinha YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
এদেশ বিপন্ন আজ ; জানি আজ নিরন্ন জীবন----
মৃত্যুরা প্রত্যহ সঙ্গী,  নিয়ত শত্রুর আক্রমণ
রক্তের আল্পনা আঁকে, কানে বাজে আর্তনাদ সুর ;
তবুও সুদৃঢ় আমি,  আমি এক ক্ষুধিত মজুর।
আমার সম্মুখে আজ এক শত্রু  :  এক লাল পথ,
শত্রুর আঘাত আর বুভুক্ষায় উদ্দীপ্ত শপথ।
কঠিন প্রতিজ্ঞা-স্তব্ধ আমাদের দৃপ্ত কারখানায়,
প্রত্যেক নির্বাক যন্ত্র প্রতিরোধ সংকল্প জানায়।
আমার হাতের স্পর্শে প্রতিদিন যন্ত্রের গর্জন
স্মরণ করায় পণ ; আবসাদ দিই বিসর্জন।
বিক্ষুব্ধ যন্ত্রের বুকে প্রতিদিন যে যুদ্ধ ঘোষণা,
সে যুদ্ধ আমার যুদ্ধ, তারই পথে স্তব্ধ দিন গোনা।
অদূর দিগন্তে আসে ক্ষিপ্র দিন, জয়োন্মত্ত পাখা----
আমার দৃষ্টিতে লাল প্রতিবিম্ব মুক্তির পতাকা।
আমার বেগান্ধ হাত, অবিরাম যন্ত্রের প্রসব
প্রচুর প্রচুর সৃষ্টি, শেষ বজ্র সৃষ্টির উত্সব॥
.
ফসলের ডাক : ১৩৫১
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
কাস্তে দাও আমার এ হাতে
সোনালী সমুদ্র সামনে, ঝাঁপ দেব তাতে।
শক্তির উন্মুক্ত হাওয়া আমার পেশীতে
স্নায়ুতে স্নায়ুতে দেখি চেতনার বিদ্যুৎ বিকাশ :
দু পায়ে অস্থির  আজ বলিষ্ঠ কদম ;
কাস্তে দাও আমার এ হাতে।

দু চোখে আমার আজ বিচ্ছুরিত মাঠের আগুন,
নি-শব্দে বিস্তীর্ণ ক্ষেতে তরঙ্গিত প্রাণের জোয়ার
মৌসুমি হাওয়ায় আসে জীবনের ডাক ;
শহরের চুল্লী ঘিরে পতঙ্গের কানে।

বহুদিন উপবাসী নিঃস্ব জনপদে,
মাঠে মাঠে আমাদের ছড়ানো সম্পদ,
কাস্তে দাও আমার এ হাতে।
মনে আছে একদিন তোমাদের ঘরে
নবান্ন উজাড় ক’রে পাঠিয়েছি সোনার বছরে,
নির্ভাবনার হাসি ছড়িয়েছি মুখে
তৃপ্তির প্রগাঢ় চিহ্ন এনেছি সম্মুখে,
সেদিনের অলক্ষ্য সেবার বিনিময়ে
আজ শুধু কাস্তে দাও আমার এ হাতে।
.
আমার পুরনো কাস্তে পুড়ে গেছে ক্ষুধার আগুনে,
তাই দাও দীপ্ত কাস্তে চৈতন্যপ্রখর ---
যে কাস্তে ঝল্ সাবে নিত্য উগ্র দেশপ্রেমে।

জানি আমি মৃত্যু আজ ঘুরে যায় তোমাদেরও দ্বারে,
দুর্ভিক্ষ ফেলেছে ছায়া তোমাদের দৈনিক ভান্ডারে ;
তোমাদের বাঁচানোর প্রতিজ্ঞা আমার,
শুধু আজ কাস্তে দাও আমার এ হাতে।
পরাস্ত অনেক চাষী ; ক্ষিপ্রগতি নিঃশব্দ মরণ---
জলন্ত মৃত্যুর হাতে দেখা গেল বুভুক্ষের আত্মসমর্পণ,
তাদের ফসল প’ড়ে দৃষ্টি জ্বলে সুদূরসন্ধানী
তাদের ক্ষেতের হাওয়া চুপিচুপি করে কানাকানি---
আমাকেই কাস্তে নিতে হবে।
নিয়ত আমার কানে গুঞ্জরিত ক্ষুধার যন্ত্রণা,
উদ্বেলিত হাওয়া আনে মাঠের সে উচ্ছ্বসিত ডাক,
সুস্পষ্ট আমার কাছে জীবনের সুতীব্র সংকেত ;
তাই আজ একবার কাস্তে দাও আমার এ হাতে॥
কৃষকের গান  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত
কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আবৃত্তি শুনুন বদরুল আহসান খান-এর কণ্ঠে। ভিডিওটি
সৌজন্যে
Badrul Ahsan Khan YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
এ বন্ধ্যা মাটির বুক চিরে
এইবার ফলাব ফসল----
আমার এ বলিষ্ঠ বাহুতে
আজ তার নির্জন বোধন।
এ মাটির গর্ভে আজ আমি
দেখেছি আসন্ন জন্মেরা
ক্রমশ সুপুষ্ট ইঙ্গিতে ;
দুর্ভিক্ষের অন্তিম কবর !
আমার প্রতিজ্ঞা শুনেছ কি?
( গোপন একান্ত এক পণ )
এ মাটির জন্ম দেব আমি
অগণিত পল্টন-ফসল।
ঘনায় ভাঙন দুই চোখে
ধ্বংসস্রোত জনতা জীবনে ;
আমার প্রতিজ্ঞা গ’ড়ে তোলে
ক্ষুধিত সহস্র হাতছানি।
দুয়ারে শত্রুর হানা
মুঠিতে আমার দুঃসাহস।
কর্ষিত মাটির পথে পথে
নতুন সভ্যতা গড়ে পথ॥
.
এই নবান্নে  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। সুর - দিলীপ সেনগুপ্ত। কন্ঠ: ভারতীয় গণনাট্য সংঘের শিল্পীরা, যাঁদের মধ্যে ছিলেন কংকন ভট্টাচার্য,  মণিলাল
মজুমদার, নরেন মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্যরা। ভিডিওটি সৌজন্যে
Dipankar Sinha YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
এই হেমন্তে কাটা হবে ধান,
আবার শূন্য গোলায় ডাকবে ফসলের বান----
পৌষপার্বণের প্রাণ-কোলাহলে ভরবে গ্রামের নীরব শ্মশান।
তবুও এ হাতে কাস্তে তুলতে কান্না ঘনায় :
হালকা হাওয়ায় বিগত স্মৃতিকে ভুলে থাকা দা.য় ;
গত হেমন্তে মরে গেছে ভাই,  ছেড়ে গেছে বোন,
পথে-প্রান্তরে খামারে মরেছে যত পরিজন ;
নিজের হাতের জমি ধান-বোনা
বৃথাই ধুলোতে ছড়িয়েছে সোনা,
কারোরই ঘরেতে ধান তোলবার আসে নি শুভক্ষণ---
তোমার আমার ক্ষেত ফসলের অতি ঘনিষ্ঠ জন।
এবার নতুন জোরালো বাতাসে
জয়যাত্রার ধ্বনি ভেসে আসে,.
পিছে মৃত্যুর ক্ষতির নির্বচন---
এই হেমন্তে ফসলেরা বলে :  কোথায় আপন জন?
তারা কি কেবল লুকোনো থাকবে,
অক্ষমতার গ্লানিকে ঢাকবে,
প্রাণের বদলে যারা প্রতিবাদ করেছে উচ্চারণ?
এই নবান্নে প্রতারিতদের হবে না নিমন্ত্রণ?
.
পুরনো ধাঁধা  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৫২ সালে প্রকাশিত কবির “মিঠেকড়া” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আবৃত্তি শুনুন। ভিডিওটি
সৌজন্যে
Bhavna Records & Cassettes YouTube Channel.। সুর - দিলীপ সেনগুপ্ত। শিল্পী - রোমি দাশগুপ্ত। ভিডিওটি সৌজন্যে Romi dasgupta YouTube Channel.  । শিল্পী - শুভাশীষ মুখোপাধ্যায়
ও নূতন ভৌমিক, সুর - শুভাশীষ মুখোপাধ্যায়। ভিডিওটি সৌজন্যে
indrasishnaihati YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
বলতে পার বড়মানুষ মোটর কেন চড়বে?
গরীব কেন সেই মোটরের তলায় চাপা পড়বে?
বড়মানুষ ভোজের পাতে ফেলে লুচি-মিষ্টি,
গরীবরা পায় খোলামকুচি, একি অনাসৃষ্টি?
বলতে পার ধনীর বাড়ি তৈরি যারা করছে,
কুঁড়েঘরেই তারা কেন মাছির মতো মরছে?
ধনীর মেয়ের দামী পুতুল হরেক রকম খেলনা,
গরীব মেয়ে পায় না আদর, সবার কাছে ফ্যালনা।
বলতে পার ধনীর মুখে যারা যোগায় খাদ্য,
ধনীর পায়ের তলায় তারা থাকতে কেন বাধ্য?
‘হিং-টিং-ছট্’ প্রশ্ন এসব, মাথার মধ্যে কামড়ায়,
বড়লোকের ঢাক তৈরি গরীব লোকের চামড়ায়॥
.
ভালখাবার কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৫২ সালে প্রকাশিত কবির “মিঠেকড়া” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আবৃত্তি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে
Bhavna Records & Cassettes YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
ধনপতি পাল, তিনি জমিদার মস্ত ;
সূর্য রাজ্যে তাঁর যায় নাকো অস্ত
তার ওপর ফুলে উঠে কারখানা-ব্যাঙ্কে
আয়তনে হারালেন মোটা কোলা ব্যাঙকে।
সবার “হুজুর” তিনি, সকলের কর্তা,
হাজার সেলাম পান দিনে গড়পরতা।
সদাই পাহারা দেয় বাইরে সেপাই তাঁর,
কাজ নেই, তাই শুধু ‘খাই-খাই’ বাই তাঁর।
এটা খান, সেটা খান, সব লাগে বিদ্ ঘুটে,
টান মেরে ফেলে দেন একটু খাবার খুঁটে ;
খাদ্যে অরুচি তাঁর, সব লাগে তিক্ত,
খাওয়া ফেলে ধমকান শেষে অতিরিক্ত।
দিনরাত চিৎকার : আরো বেশি টাকা চাই,
আরো কিছু তহবিলে জমা হয়ে থাকা চাই।
সব ভয়ে জড়োসড়ো, রোগ বড় প্যাঁচানো।
খাওয়া ফেলে দিন রাত টাকা ব’লে চ্যাঁচানো।
ডাক্তার কবিরাজ ফিরে গেল বাড়িতে ;
চিন্তা পাকালো জট নায়েবের দাড়িতে।
নায়েব অনেক ভেবে বলে হুজুরের প্রতি :
কী খাদ্য চাই? কী সে খেতে উত্তম অতি?
নায়েবের অনুরোধে ধনপতি চারিদিক
দেখে নিয়ে বার কয় হাসলেন ফিক্-ফিক্ ;
তারপর বললেন : বলা ভারি শক্ত,
সব চেয়ে ভালো খেতে গরীবের রক্ত॥
.
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আবৃত্তি
দিলীপ সেনগুপ্তর সুরে শিল্পী রোমি দাশগুপ্তর গান
শুভাশীষ মুখোপাধ্যায় ও নূতন ভৌমিক গান
বিক্ষোভ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৫০ সালে প্রকাশিত কবির “ঘুম নেই” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। আবৃত্তি শুনুন বদরুল আহসান খান-এর কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Badrul Ahsan Khan YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
দৃঢ় সত্যের দিতে হবে খাঁটি দাম,
হে স্বদেশ, ফের সেই কথা জানলাম
জানে না তো কেউ পৃথিবী উঠছে কেঁপে
ধরেছে মিথ্যা সত্যের টুঁটি চেপে,
কখনো কেউ কি ভূমিকম্পের আগে
হাতে শাঁখ নেয়, হঠাৎ সবাই জাগে?
যারা আজ এত মিথ্যার দায়ভাগী,
আজকে তাদের ঘৃণার কামান দাগি।
ইতিহাস, জানি নীরব সাক্ষী তুমি,
আমরা চেয়েছি স্বাধীন স্বদেশভূমি,
অনেকে বিরূপ, কানে দেয় হাত চাপা,
তাতেই কি হয় আসল নকল মাপা?
বিদ্রোহী মন ! আজকে ক’রো না মানা,
দেব প্রেম আর পাব কলসীর কানা,
দেব, প্রাণ দেব মুক্তির কোলাহলে,
জীন্ ডার্ক, যীশু, সোক্রোটিসের দলে।
কুয়াশা কাটছে, কাটবে আজ কি কাল,
ধুয়ে ধুয়ে যাবে কুৎসার জঞ্জাল,
ততদিন প্রাণ দেব শত্রুর হাতে,
মুক্তির ফুল ফুটবে সে সংঘাতে।
ইতিহাস ! নেই অমরত্বের লোভ,
আজ রেখে যাই আজকের বিক্ষোভ॥
.
১লা মে-র কবিতা ’৪৬ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৫০ সালে প্রকাশিত কবির
“ঘুম নেই” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আবৃত্তি শুনুন ফয়সাল আজিজ-এর কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
VoiceArt YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
লাল আগুন ছড়িয়ে পড়েছে দিগন্ত থেকে দিগন্তে,
কী হবে আর কুকুরের মতো বেঁচে থাকার?
কতদিন তুষ্ট থাকবে আর
অপরের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট হাড়ে?
মনের কথা ব্যক্ত করবে
ক্ষীণ অস্পষ্ট কেঁউ-কেঁউ শব্দে?
ক্ষুদিত পেটে ধুঁকে ধুঁকে চলবে কত দিন?
ঝুলে পড়া তোমার জিভ,
শ্বাসে প্রশ্বাসে ক্লান্তি টেনে কাঁপতে থাকবে কত কাল?
মাথায় মৃদ চাপড় আর পিঠে হাতের স্পর্শে
কতক্ষণ নাড়তে থাকবে লেজ?
তার চেয়ে পোষমানাকে অস্বীকার করো,
অস্বীকার করো বশ্যতাকে।
চলো, শুকনো হাড়ের বদলে
সন্ধান করি তাজা রক্তের ,
তৈরি হোক লাল আগুনে ঝল্ সানো আমাদের খাদ্য।
শিকলের দাগ ঢেকে দিয়ে গজিয়ে উঠুক
সিংহের কেশর প্রত্যেকের ঘাড়ে॥
.
অভিবাদন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৫০ সালে প্রকাশিত কবির “ঘুম
নেই” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে, অমিত ব্যানার্জীর সঙ্গীতায়োজনে, সমবেত কণ্ঠে গানটি শুনুন
ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Amit Banerjee Music Composer YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
হে সাথী, আজকে স্বপ্নের দিন গোনা
ব্যর্ত নয় তো, বিপুল সম্ভাবনা
দিকে দিকে উদ্ যাপন করছে লগ্ন,
পৃথিবী সূর্য-তপস্যাতেই মগ্ন।

আজকে সামনে নিরুচ্চারিত প্রশ্ন,
মনের কোমল মহল ঘিরে কবোষ্ণ ;
ক্রমশ পুষ্ট মিলিত উন্মাদনা,
ক্রমশ সফল স্বপ্নের দিন গোনা।

স্বপ্নের বীজ বপন করেছি সদ্য,
বিদ্যুৎবেগে ফসল সংঘবদ্ধ !
হে সাথী, ফসলে শুনেছো প্রাণের গান
দুরন্ত হাওয়া ছড়ায় ঐকতান।

বন্ধু , আজকে দোদুল্যমান পৃথ্বী,
আমরা গঠন করব নতুন ভিত্তি ;
তারই সূত্রপাতকে করেছি সাধন,
হে সাথী, আজকে রক্তিম অভিবাদন॥
.
উদ্যোগ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৫০ সালে প্রকাশিত কবির “পূর্বাভাস” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। আবৃত্তি শুনুন ফয়সাল আজিজ-এর কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
VoiceArt YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
বন্ধু, তোমার ছাড় উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ণ কর চিত্ত,
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।
মূঢ় শত্রুকে হানো স্রোত রুখে, তন্দ্রাকে কর ছিন্ন,
একাগ্র দেশে শত্রুরা এসে হয়ে যাক নিশ্চিহ্ন।
ঘরে তোল ধান, বিপ্লবী প্রাণ প্রস্তুত রাখো কাস্তে,
গাও সারিগান, হাতিয়ারে শান দাও আজ উদয়াস্তে।
আজ দৃঢ় দাঁতে পুঞ্জিত হাতে প্রতিরোধ কর শক্ত,
প্রতি ঘাসে ঘাসে বিদ্যুৎ আসে জাগে সাড়া অব্যক্ত।
আজকে মজুর হাতুড়ির সুর ক্রমসই করে দৃপ্ত,
আসে সংহতি ; শত্রুর প্রতি ঘৃণা হয় নিক্ষিপ্ত।
ভীরু অন্যায় প্রাণ-বন্যায় জেন আজ উচ্ছেদ্য,
বিপন্ন দেশে তাই নিঃশেষে ঢালো প্রাণ দুর্ভেদ্য।
সব প্রস্তুত যুদ্ধের দূত হানা দেয় পূব-দরজায়,
ফেণী ও আসামে, চট্টগ্রামে ক্ষিপ্ত জনতা গর্জায়।
বন্ধু, তোমার ছাড় উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ণ কর চিত্ত,
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত॥
.
জাগবার দিন আজ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৫০ সালে প্রকাশিত কবির
“পূর্বাভাস” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অনুপ মুখোপাধ্যায়ের সুরে ও কণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে।  ভিডিওটি সৌজন্যে
INRECO BENGALI YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
জাগবার দিন আজ, দুর্দিন চুপি চুপি আসছে ;
যাদের চোখেতে আজো স্বপ্নের ছায়া ছবি ভাসছে---
তাদেরই যে দুর্দিন পরিণামে আরো বেশী জানবে,
মৃত্যুর সঙ্গীন তাদেরই বুকেতে শেল হানবে।
.        আজকের দিন নয় কাব্যের ---
আজকের সব কথা পরিণাম আর সম্ভাব্যের ;
শরতের অবকাশে শোনা যায় আকাশের বাঁশরী,
কিন্তু বাঁশরী বৃথা, জমবে না আজ কোন আসর-ই।
আকাশের প্রান্তে যে মৃত্যুর কালো পাখা বিস্তার---
মৃত্যু ঘরের কোণে, আজ আর নেই জেনো নিস্তার,
মৃত্যুর কথা আজ ভাবতেও পাও বুঝি কষ্ট,
আজকের এই কথা জানি লাগবেই অস্পষ্ট।
.        তবুও তোমার চাই চেতনা,
চেতনা থাকলে আজ দুর্দিন আশ্রয় পেত না,
আজকে যে প্রয়োজনে প্রকৃত দেশপ্রেম অর্জন ;
.        তাই এসো চেয়ে দেখি পৃথ্বী
কোনখানে ভাঙে আর কোনখানে গড়ে তার ভিক্তি।
কোনখানে লাঞ্ছিত মানুষের প্রিয় ব্যক্তিত্ব,
কোনখানে দানবের ‘মরণ-যজ্ঞ’ চলে নিত্য ;
.
.        পণ করো, দৈত্যের অঙ্গে
হানবো বজ্রাঘাত, মিলবো সবাই এক সঙ্গে;
.        সংগ্রাম শুরু করো মুক্তির,
.        দিন নেই তর্ক ও যুক্তির।
.        আজকে শপথ করো সকলে
বাঁচাব আমার দেশ, যাবে না তা শত্রুর দখলে ;
তাই আজ ফেলে দিয়ে তুলি আর লেখনী,
.        একতাবদ্ধ হও এখনি॥
মৃত পৃথিবী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৫০ সালে প্রকাশিত কবির “পূর্বাভাস”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অমিতাভ ঘোষের সুরে ও কণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Amitava Ghosh
YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
পৃথিবী কি আজ শেষে নিঃস্ব
ক্ষুধাতুর কাঁদে সারা বিশ্ব,
চারিদিকে ঝরে পড়া রক্ত,
জীবন আজকে উত্যক্ত।
আজকের দিন নয় কাব্যের
পরিণাম আর সম্ভাব্যের
ভয় নিয়ে দিন কাটে নিত্য,
জীবনে গোপন-দুর্বৃত্ত।
তাইতো জীবন আজ রিক্ত,
অলস হৃদয় স্বেদসিক্ত ;
আজকে প্রাচীর গড়া ভিন্ন
পৃথিবী ছড়াবে ক্ষতচিহ্ন।
অগোচরে নামে হিম-শৈত্য,
কোথায় পালাবে মরু দৈত্য?
জীবন যদিও উৎক্ষিপ্ত,
তবু তো হৃদয় উদ্দীপ্ত,
বোধহয় আগামী কোনো বন্যায়,
ভেসে যাবে আনশন, অন্যায়॥
.
দুর্মর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৫০ সালে প্রকাশিত কবির “পূর্বাভাস” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
আবৃত্তি শুনুন ফয়সাল আজিজ-এর কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
VoiceArt YouTube Channel. গান শুনুন শেখ লুথফর রহমানের
সুরে ও অমিত ব্যানার্জীর সঙ্গীতায়োজনে। ভিডিওটি সৌদন্যে
Amit Banerjee Music Composer YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলা দেশ
কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছাসে,
সে কোলাহলের রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ
জলে ও মাটিতে ভাঙনের বেগ আসে।

হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন
জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান,
গত আকালের মৃত্যুকে মুছে
আবার এসেছে বাংলা দেশের প্রাণ।

“হয় ধান নয় প্রাণ” এ শব্দে
সারাদেশ দিশাহারা,
একবার মরে ভুলে গেছে আজ
মৃত্যুর ভয় তারা.

সাবাস, বাংলা দেশ, এ পৃথিবী
আবাক তাকিয়ে রয় :
জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।

এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালি নয়কো, রক্তে রঙিন ধান,
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলা দেশের প্রাণ॥
.
ফয়সাল আজিজ-এর আবৃত্তি
শেখ লুথফর রহমানের সুরে ও অমিত ব্যানার্জীর সঙ্গীতায়োজনে
চিরদিনের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৫০ সালে প্রকাশিত কবির “ঘুম নেই” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। অভিজিৎ সরকারের সুরে ও কণ্ঠে গানটি সুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Abhijit Sarkar YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
এখানে বৃষ্টিমুখর লাজুক গাঁয়ে
এসে থেমে গেছে ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা,
সবুজ মাঠেরা পথ দেয় পায়ে পায়ে
পথ নেই, তবু  এখানে যে পথ হাঁটা।

জোড়া দীঘি, তার পাড়েতে তালের সারি
দূরে বাঁশঝাড়ে আত্মদানের সাড়া,
পচা জল আর মশার অহংকারী
নীরব এখানে অমর কিষাণপাড়া।

এ গ্রামের পাশে মজা নদী বারো মাস
বর্ষায় আজ বিদ্রোহ বুঝি করে,
গোয়ালে পাঠায় ইশারা সবুজ ঘাস
এ গ্রাম নতুন সবুজ ঘাগরা পরে।

রাত্রি এখানে স্বাগত সান্ধ্য শাঁখে
কিষাণকে ঘরে পাঠায় যে আল-পথ ;
বুড়ো বটতলা পরস্পরকে ডাকে
সন্ধ্যা সেখানে জড়ো করে জনমত।

দুর্ভিক্ষের আঁচল জড়ানো গায়ে
এ গ্রামের লোক আজো সব কাজ করে,
কৃষক-বধূরা ঢেঁকিকে নাচায় পায়ে
প্রতি সন্ধ্যায় দীপ জ্বলে ঘরে ঘরে।
.
রাত্রি হলেই দাওয়ার অন্ধকারে
ঠাকুমা গল্প শোনায় যে নাতনীকে,
কেমন ক’রে সে আকালেতে গতবার
চলে গেল লোক দিশাহারা দিকে দিকে।

এখানে সকাল ঘোষিত পাখির গানে
কামার, কুমোর, তাঁতী তার কাজে জোটে,
সারাটা দুপুর ক্ষেতের চাষীর কানে
একটানা আর বিচিত্র ধ্বনি ওঠে।

হঠাৎ সেদিন জল আনবার পথে
কৃষক-বধূ সে থমকে তাকায় পাশে,
ঘোমটা তুলে সে দেখে নেয় কোনোমতে,
সবুজ ফসলে সুবর্ণ  যুগ আসে॥
আহ্বান কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। কবির “আভিযান” গ্রন্থের “সূর্য-প্রণাম” কাব্যনাটিকার গান
। শিল্পী ডালিয়া দাসের কণ্ঠে গানটি সুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Sitansu De YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
আমাদের ডাক এসেছে
এবার পথে চলতে হবে,
ডাক দিয়েছে গগন-রবি
ঘরের কোণে  কেই বা রবে।

ডাক এসেছে চলতে হবে আজ সকালে
বিশ্বপথে সবার সাথে সমান তালে,
পথের সাথী আমরা রবির
সাঁঝ সকালে চলরে সবে।

ঘুম থেকে আজ সকালবেলা ওঠ রে
ডাক দিল কে পথের পানে ছোট রে,
পিছন পানে তাকাস নি আজ চল সমুখে
জয়ের বাণী নূতন প্রাতে বল ও-মুখে
তোদের চোখে সোনারআলো
সফল হয়ে ফুটবে কবে॥
.
লেনিন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য (১৫.৮.১৯২৬ - ১৩.৫.১৯৪৭)। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত কবির “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। সুর-
রত্না ভট্টাচার্য। কন্ঠ: ভারতীয় গণনাট্য সংঘের শিল্পীরা। ২১ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে প্রয়াত হন কমরেড রত্না ভট্টাচার্য, তার পরের
দিন ছিলো লেনিনের ১৪৬তম জন্মদিন। এই সমাপতনকে কে মনে রেখে রত্নাদির সঙ্গীতানুরাগীদের অনুরোধে রত্নাদিরই
সুরারোপিত এই গানটি উপস্থাপন করেছেন দীপঙ্কর সিনহা। ভিডিওটি সৌজন্যে
Dipankar Sinha YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
মিলনসাগরে কবির
কবিতা সমগ্রর পাতা . . .   
লেনিন ভেঙেছে রুশে জনস্রোতে অন্যায়ের বাঁধ,
অন্যায়ের মুখোমুখি লেনিন প্রথম প্রতিবাদ।
আজকেও রশিয়ার গ্রামে ও নগরে
হাজার লেনিন যুদ্ধ করে,
মুক্তির সীমান্ত ঘিরে বিস্তীর্ণ প্রান্তরে।
বিদ্যুৎ-ইশারা চোখে, আজকেও অযুত লেনিন
ক্রমশ সংক্ষিপ্ত করে বিশ্বব্যাপী প্রতীক্ষিত দিন,---
বিপর্যস্ত ধনতন্ত্র , কন্ঠরুদ্ধ, বুকে আর্তনাদ ;
--- আসে শত্রুজয়ের সংবাদ।

সযত্ন মুখোশধারী ধনিকেরও বন্ধ আস্ফালন,
কাঁপে হৃৎযন্ত্র তার, চোখে মুখে চিহ্নিত মরণ।
বিপ্লব হয়েছে শুরু, পদানত জনতার ব্যগ্র গাত্রোথ্বানে,
দেশে দেশে বিস্ফোরণ অতর্কিতে অগ্ন্যুৎপাত হানে।
দিকে দিকে কোণে কোণে লেনিনের পদধ্বনি
.                         আজো যায় শোনা,
দলিত হাজার কন্ঠে বিপ্লবের আজো সম্বর্ধনা।
পৃথিবীর প্রতি ঘরে ঘরে,
লেনিন সমৃদ্ধ হয় সম্ভাবিত উর্বর জঠরে।
আশ্চর্য উদ্দাম বেগে বিপ্লবের প্রত্যেক আকাশে
লেনিনের সূর্যদীপ্তি রক্তের তরঙ্গে ভেসে আসে ;
ইতালী, জার্মান , জাপ, ইংলন্ড, আমেরিকা, চীন
যেখানে মুক্তির যুদ্ধ সেখানেই কমরেড লেনিন।
.
অন্ধকার ভারতবর্ষ : বুভুক্ষায় পথে মৃতদেহ---
অনৈক্যের চোরাবালি ;  পরস্পর অযথা সন্দেহ ;
দরজায় চিহ্নিত নিত্য শত্রুর উদ্ধত পদাঘাত,
অদৃষ্ট ভৎর্সনা-ক্লান্ত কাটে দিন, বিমর্ষ রাত
বিদেশী শৃঙ্খলে পিষ্ট, শ্বাস তার ক্রমাগত ক্ষীণ---
এখানেও আয়োজন পূর্ণ করে নিঃশব্দে লেনিন।
লেনিন ভেঙেছে বিশ্বে জনস্রোতে অন্যায়ের বাঁধ,
অন্যায়ের মুখোমুখি লেনিন জানায় প্রতিবাদ।
মৃত্যুর সমুদ্র শেষ ; পালে লাগে উদ্দাম বাতাস
মুক্তির শ্যামল তীর চোখে পড়ে,  আন্দোলিত ঘাস।
লেনিন ভূমিষ্ঠ রক্তে, ক্লীবতার কাছে নেই ঋণ,
বিপ্লব স্পন্দিত বুকে, মনে হয় আমিই লেনিন॥
হিন্দুস্তান মে কেয়া হ্যায় তুমারা
কবি উত্তম কুমার (৩.৯.১৯২৬ - ২৪.৭.১৯৮০)
১৫ই অগাস্ট ১৯৪৭ স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগ দিয়ে গানটি রচনা করে, সুর দিয়ে,
দাঙ্গা-বিধ্বস্ত কলকাতার পাড়ায় পাড়ায় দল বেঁধে গেয়ে বেড়িয়েছেন, কবি নিজে।
পরেও গানটি তাঁকে অনেক জায়গায় গেয়ে শোনাতে হতো। অনুলেখক গৌরাঙ্গপ্রসাদ
ঘোষের, উত্তমকুমারের আত্মজীবনী "আমার আমি" গ্রন্থ থেকে নেওয়া।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি উত্তম কুমার
হিন্দুস্তান মে কেয়া হ্যায় তুমারা
ও ব্রিটিশ বেচারা
আভি চলি যাও ইংল্যাণ্ড বজা কর ব্যাণ্ড
মন্দির মন্দির মে পূজা আরতি
মসজিদ মে শুনো আজান পুকার্তি
দিলকে দিলাও মিল হিন্দু মুসলমান
সারি হিন্দুস্তান মে আই তুফান
গরীবোঁ কো দুখো কি হোগী আসান।
.
हिन्दुसान में क्या है तुम्हारा
कवि उत्तम कुमार (3.9.1926 - 24.7.1980)
15 अगस्त 1947 आज़ादी के कुछ पहले, उत्तम कुमार नें इस गीत की रचना कर,
कलकत्ता के हिन्दु-मुसलमान दंगा पीड़ीत इलाके में अपने दल के साथ गाये फीरते थे।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
इस पन्ना का बैकग्राउंड
छवि अंडमान सेलुलर
जेल का एक भीतरी
बरामदा का है, जो
किसी भी राष्ट्र द्वारा
अपने नागरिकों पर
चरम अत्याचार का
प्रतीक है। यही दीवारें
और सलाखों स्वतंत्रता-
प्रेमी लोगों की जान को
दाँव पर लगाकर विरोध
का प्रतीक भी है!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
कवि उत्तम कुमार
हिन्दुसान में क्या है तुम्हारा
ओ ब्रिटिश बेचारा
अभी चली जाओ इंलैन्ड बजाकर बैंड
मंदिर मंदिर में पूजा आरती
मसजिद में सुनो आजान पुकारती
दिल के दिलाओ मिल हिन्दु मुसलमान
सारी हिन्दुस्तान में आई तुफान
गरीबों को दुखों की होगी आसान।
.
বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও কথা ও সুর - কবি ভূপেন হাজারিকা (৮.৯.১৯২৬ - ৫.১১.২০১১)। বাংলায় - কবি শিবদাস
বন্দ্যোপাধ্যায়। শিল্পী - রুমা গুহঠাকুরতার পরিচালনায় ক্যালকাটা ইউথ কয়্যার এবং পরে ভূপেন হাজারিকা। কবি গানগুলি নিজের মাতৃভাষা অসমিয়া তে লিখেছিলেন। আমরা
এখানে সেই ভাষায় গানগুলি দিতে পারছিনা কারণ আমরা অসমিয়া ভাষা জানি না। কিন্তু তাঁর গান আমরা বাংলা ভাষায় পেয়েছি কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য
অনুবাদে। তাই আমরা এখানে কবি ভূপেন হাজারিকার প্রতিবাদী গানগুলি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনায় তুলে দিচ্ছি। এই সংকলনের পাতায় কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের
রচিত প্রতিবাদী গানও রয়েছে।
সেই পাতায় যেতে . . .। এই গানটি শুনে লেখা। ভিডিওটি সৌজন্যে Saregama Bengali YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি ভূপেন হাজারিকা
বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও
নিঃশব্দে নিরবে, ও গঙ্গা তুমি গঙ্গা বইছো কেন?
বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও
নিঃশব্দে নিরবে, ও গঙ্গা তুমি গঙ্গা বইছো কেন?
বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও
নিঃশব্দে নিরবে, ও গঙ্গা তুমি গঙ্গা বইছো কেন?

নৈতিকতার স্খলন দেখেও, মানবতার পতন দেখেও
নির্লজ্জ অলসভাবে বইছো কেন ?
সহস্র বরষার উন্মাদনার মন্ত্র দিয়ে লক্ষজনেরে
সবল সংগ্রামী আর অগ্রগামী করে তোলোনা কেন?
বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও
নিঃশব্দে নিরবে, ও গঙ্গা তুমি গঙ্গা বইছো কেন?

জ্ঞান-বিহীন নিরক্ষরের, খাদ্যবিহীন নাগরিকের
নেতৃবিহীনতায় মৌন কেন?
সহস্র বরষার উন্মাদনার মন্ত্র দিয়ে লক্ষজনেরে
সবল সংগ্রামী আর অগ্রগামী করে তোলোনা কেন?
বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও
নিঃশব্দে নিরবে, ও গঙ্গা তুমি গঙ্গা বইছো কেন?
.
বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও
নিঃশব্দে নিরবে, ও গঙ্গা তুমি গঙ্গা বইছো কেন?
বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও
নিঃশব্দে নিরবে, ও গঙ্গা তুমি গঙ্গা বইছো কেন?

ব্যক্তি যদি ব্যক্তিকেন্দ্রিক, সমষ্টি যদি ব্যক্তিত্বরহিত
তবে, শিথিল সমাজকে ভাঙো না কেন ?
সহস্র বরষার উন্মাদনার মন্ত্র দিয়ে লক্ষজনেরে
সবল সংগ্রামী আর অগ্রগামী করে তোলোনা কেন?
বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও
নিঃশব্দে নিরবে, ও গঙ্গা তুমি গঙ্গা বইছো কেন?
স্রোতস্বিনী কেন নাহি বও, তুমি নিশ্চয়ই জাহ্নবী নও
তা হলে প্রেরণা দাও না কেন?
উন্মত্ত ধরার কুরুক্ষেত্রের শরশয্যাকে আলিঙ্গন করা
লক্ষ কোটি ভারতবাসীকে জাগালে না কেন?
বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও
নিঃশব্দে নিরবে, ও গঙ্গা তুমি গঙ্গা বইছো কেন?
বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও
নিঃশব্দে নিরবে, ও গঙ্গা তুমি গঙ্গা বইছো কেন?
আমি এক যাযাবর কথা, সুর ও শিল্পী - কবি ভূপেন হাজারিকা (৮.৯.১৯২৬ - ৫.১১.২০১১)। বাংলায় - কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
। কবি গানগুলি নিজের মাতৃভাষা অসমিয়া তে লিখেছিলেন। আমরা এখানে সেই ভাষায় গানগুলি দিতে পারছিনা কারণ আমরা অসমিয়া
ভাষা জানি না। কিন্তু তাঁর গান আমরা বাংলা ভাষায় পেয়েছি কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য অনুবাদে। তাই আমরা এখানে কবি
ভূপেন হাজারিকার প্রতিবাদী গানগুলি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনায় তুলে দিচ্ছি। এই সংকলনের পাতায় কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের
রচিত প্রতিবাদী গানও রয়েছে।
সেই পাতায় যেতে . . .। এই গানটি শুনে লেখা। ভিডিওটি সৌজন্যে Saregama Bengali YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি ভূপেন হাজারিকা
আমি এক যাযাবর, আমি এক যাযাবর
পৃথিবী আমাকে আপন করেছে ভুলেছি নিজের ঘর
আমি এক যাযাবর, আমি এক যাযাবর

আমি গঙ্গার থেকে মিসিসিপি হয়ে ভলগার রূপ দেখেছি
অটোয়ার থেকে অষ্ট্রিয়া হয়ে প্যারিসের ধুলো মেখেছি।
আমি ইলোরার থেকে রং নিয়ে দূরে শিকাগো শহরে গিয়েছি
গালিবের ‘শের’ তাসখন্দের মিনারে বসে শুনেছি।
মার্ক টোয়েনের সমাধিতে বসে গোর্কির কথা বলেছি
বারে বারে আমি পথের টানেই পথকে করেছি ঘর॥
তাই আমি যাযাবর, তাই আমি যাযাবর

বহু যাযাবর লক্ষ্যবিহীন আমার রয়েছে পণ,
রঙের খনি যেখানে দেখেছি রাঙিয়ে নিয়েছি মন।
আমি দেখেছি অনেক গগনচুম্বী অট্টালিকার সারি
তার ছায়াতে দেখেছি অনেক গৃহহীন নর নারী
.
আমি দেখেছি অনেক গোলাপ বকুল ফুটে আছে থরে থরে,
আবার দেখেছি না ফোটা ফুলের কলিরা ঝরে গেছে অনাদরে,
প্রেমহীন ভালবাসা দেশে দেশে ভেঙেছে সুখের ঘর।
পথের মানুষ আপন হয়েছে, আপন হয়েছে পর, তাই আমি যাযাবর॥
আমি এক যাযাবর, আমি এক যাযাবর
আমি এক যাযাবর, আমি এক যাযাবর
হে দোলা হে দোলা হে দোলা হে দোলা কথা, সুর ও শিল্পী - কবি ভূপেন হাজারিকা (৮.৯.১৯২৬ - ৫.১১.২০১১)। বাংলায় - কবি
শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। কবি গানগুলি নিজের মাতৃভাষা অসমিয়া তে লিখেছিলেন। আমরা এখানে সেই ভাষায় গানগুলি দিতে পারছিনা কারণ আমরা
অসমিয়া ভাষা জানি না। কিন্তু তাঁর গান আমরা বাংলা ভাষায় পেয়েছি কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য অনুবাদে। তাই আমরা এখানে কবি
ভূপেন হাজারিকার প্রতিবাদী গানগুলি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনায় তুলে দিচ্ছি। এই সংকলনের পাতায় কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের
রচিত প্রতিবাদী গানও রয়েছে।
সেই পাতায় যেতে . . .। এই গানটি শুনে লেখা। ভিডিওটি সৌজন্যে Saregama Bengali YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি ভূপেন হাজারিকা
হে দোলা হে দোলা হে দোলা হে দোলা
আঁকা বাঁকা পথে মোরা কাঁধে নিয়ে ছুটে যাই
রাজা-মহারাজাদের দোলা ও দোলা
আমাদের জীবনের ঘামে ভেজা শরীরের
বিনিময়ে পথ চলে দোলা ও দোলা
হেঁইয়া না হেঁইয়া না হেঁইয়া না হেঁইয়া
এই হেঁইয়া না হেঁইয়া না হেঁইয়া না হেঁইয়া
হে দোলা হে দোলা হে দোলা হে দোলা

দোলার ভেতরে ঝল্ মল্ করে যে
সুন্দর পোশাকের সাজ
আর ফিরে ফিরে দেখি তাই ঝিকিমিকি করে যে
মাথায় রেশমের তাজ
হায়, মোর ছেলেটির উলঙ্গ শরীরে
একটুও জামা নেই---খোলা
দু’চোখে জল এলে মনটাকে বেঁধে যে
তবুও বয়ে যায় দোলা
হে দোলা হে দোলা হে দোলা হে দোলা

যুগে যুগে চলি মোরা কাঁধে নিয়ে দোলাটি
দেহ ভেঙে ভেঙে পড়ে ও পড়ে
.
যুগে যুগে চলি মোরা কাঁধে নিয়ে দোলাটি
দেহ ভেঙে ভেঙে পড়ে ও পড়ে
ও ঘুমে চোখ ঢুলু ঢুলু রাজা-মহারাজাদের
আমাদের ঘাম ঝরে পড়ে ও পড়ে
উঁচু ঐ পাহাড়ে ধীরে ধীরে উঠে যাই
ভাল ক’রে পায়ে পা মেলা
হঠাৎ কাঁধের থেকে পিছলিয়ে যদি পড়ে
আর দোলা যাবে না তো তোলা
রাজা-মহারাজার দোলা
বড় বড় মানুষের দোলা ও দোলা
আঁকা বাঁকা পথে মোরা কাঁধে নিয়ে ছুটে যাই
রাজা-মহারাজাদের দোলা ও দোলা
হে দোলা হে দোলা হে দোলা হে দোলা
হেঁইয়া না হেঁইয়া না হেঁইয়া না হেঁইয়া
এই হেঁইয়া না হেঁইয়া না হেঁইয়া না হেঁইয়া
মানুষ মানুষের জন্য কথা, সুর ও শিল্পী - কবি ভূপেন হাজারিকা (৮.৯.১৯২৬ - ৫.১১.২০১১)। বাংলায় - কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। কবি
গানগুলি নিজের মাতৃভাষা অসমিয়া তে লিখেছিলেন। আমরা এখানে সেই ভাষায় গানগুলি দিতে পারছিনা কারণ আমরা অসমিয়া ভাষা জানি না।
কিন্তু তাঁর গান আমরা বাংলা ভাষায় পেয়েছি কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য অনুবাদে। তাই আমরা এখানে কবি ভূপেন হাজারিকার প্রতিবাদী
গানগুলি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনায় তুলে দিচ্ছি। এই সংকলনের পাতায় কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রতিবাদী গানও রয়েছে।
সেই পাতায়
যেতে . . .। এই গানটি শুনে লেখা। ভিডিওটি সৌজন্যে Saregama Bengali YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি ভূপেন হাজারিকা
মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে
একটু সহনাভুতি কি, মানুষ পেতে পারে না? ও বন্ধু।
মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে
একটু সহনাভুতি কি, মানুষ পেতে পারে না? ও বন্ধু
মানুষ মানুষের জন্যে . . .

মানুষ মানুষকে পণ্য করে, মানুষ মানুষকে জীবিকা করে
মানুষ মানুষকে পণ্য করে, মানুষ মানুষকে জীবিকা করে
পুরনো ইতিহাস ফিরে এলে, লজ্জা কি তুমি পাবে না? ও বন্ধু
মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে
একটু সহনাভুতি কি, মানুষ পেতে পারে না? ও বন্ধু
মানুষ মানুষের জন্যে . . .

বলো কি তোমার ক্ষতি, জীবনের অথৈ নদী
পার হয় তোমাকে ধ’রে, দুর্বল মানুষ যদি
বলো কি তোমার ক্ষতি, জীবনের অথৈ নদী
পার হয় তোমাকে ধ’রে, দুর্বল মানুষ যদি
মানুষ যদি সে না হয় মানুষ, দানব কখনো হয় না মানুষ
মানুষ যদি সে না হয় মানুষ, দানব কখনো হয় না মানুষ
.
যদি দানব কখনো বা হয় মানুষ, লজ্জা কি তুমি পাবে না? ও বন্ধু
মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে
একটু সহনাভুতি কি, মানুষ পেতে পারে না? ও বন্ধু
মানুষ মানুষের জন্যে . . .
আজ বাংলার বুকে দারুণ হাহাকার কথা ও সুর - অনল চট্টোপাধ্যায় (২৪.১০.১৯২৭ - ১৭.৪.২০১৪)। মরা
গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। আমরা দুঃখিত যে এই
ভিডিওটিতে কণ্ঠশিল্পীদের নাম অজ্ঞাত রয়েছে। ভিডিওটি সৌজন্যে  
Ipta west bengal YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি অনল চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আজ বাংলার বুকে দারুণ হাহাকার
চাষের জমি পড়ে আছে চাষীর ঘরে অনাহার
গ্রামের লোকে পায় না খেতে জমিদারের গোলায় ধান
গোপন পথে আঁধার রাতে শহর মুখে যায় চালান
শহরেতে চালের পাহাড় লুকিয়ে রাখে মজুতদার

গ্রামে গ্রামে নেমে এল মহামারীর ছায়া
পেটের জ্বালায় পাগল মানুষ ভোলে স্নেহ মায়া
কোথায় গেল গোলা ভরা রূপশালী সোনার ধান
ঘাসপাতাও মানুষে খায় এমনি বিধির বিধান
কত যে ঘর ভেঙে গেল দেখেও দেখে না সরকার

না --- না --- না --- না ---
এমন করে শুকিয়ে মরা চলবে না।
দুর্ভিক্ষে সোনার মানুষ মরবে না, মরবে না, মরবে না
(মোরা) তুলবো ধান পরের গোলায়---
দুলবো না আর মরণ দোলায় রে
পঞ্চাশের ঐ বিভীষিকা আবার ডেকে আনবো না
চাষী মজুর একসাথে আজ রুখবো আকালকে
কোটি বুকের পাঁজর ভেঙে গড়ব বাংলাকে
কাস্তে ধরা রুক্ষ হাতে রুখবো সবাই অত্যাচার।
.
ভারতবর্ষের মা সরোজলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ১৯২৭)। ২০০৫
সালে প্রকাশিত, অর্জুন গোস্বামী সম্পাদিত “রক্ত ঝরাতে পারিনাতো একা”
কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সরোজলাল
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ওভারব্রিজের ধারে কাপড় শুকাচ্ছে এক বুড়ি,
অন্তত ভাগ্য ভাল তার,
এখন যৌবন নেই, তাই
বুকের খুঁটের অংশ তুলে নিয়ে শুকুচ্ছে সে আগে,
তারপর ফেরতা পাল্টে নেবে।
হে রৌদ্র বাতাস
অন্তত তোমরা তাকে সাহায্য করছ,
কিন্তু যারা ভাত কাপড় কেড়ে নেয়
তাদের শাস্তি দিতে কেউ নেই আজো।
.
সার্থক মরণ : কাশীপুর উদ্বাস্তু শিবিরে
কবি সরোজলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ১৯২৭)
রচনা ১৯৭৮। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত, কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত
“ব্রাত্য পদাবলী” সংকলন থেকে নেওয়া।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সরোজলাল
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এখন বুলেটে আঁকা কাস্তে হাতুড়ী
এতদিন চরকা ছিল আঁকা,
এখন বন্দুক লাল সালুর আনন্দে মোড়া আছে
এতদিন খদ্দরে ছিল ঢাকা ;
রক্তিম বুলেটে বুক বেঁধে নিয়ে
কী সুখে যে কাৎ হ’য়ে পড়ি,
যেমন গান্ধীর গান ঠোঁটে তুলে
গান্ধীরই শিষ্যের হাতে মরি!
.
তারা ছিল কমরেড
কবি সরোজলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ১৯২৭)
২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা"
কবিতা সংকলন গ্রন্থ থেকে আমরা পেয়েছি। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা"
পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সরোজলাল
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
তারা ছিল কমরেড
তারা গেল মন্ত্রীসভায়
তারা গেল জেলখানায়

কমরেড কমরেডের হাতে পরাল শিকল

তারা ছিল কমরেড
তারা গেল মন্ত্রীসভায়
তারা গেল জেলখানায়...
.
ভারতবর্ষকে কবি সরোজলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ১৯২৭)
২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থ
থেকে আমরা পেয়েছি। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সরোজলাল
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
গ্রামের চালাঘরে আছ কে?
দেখ তোমার মানুষ
কারাগারে নিক্ষিপ্ত!
বস্তির অন্ধকার গর্তে আছ কে?
দেখ তোমার মানুষ
কারাগারে উৎপীড়িত!
তোমার হাত-পাগুলি সরু আর দুর্বল?
দেখ ভাঙা আয়নায়, পচা পুকুরের জলে,
তার হাতে শিকল, পায়ে বেড়ি!
তোমার গোলা খালি? কারখানার গেটে তালা?
দেখ তার থালায় অর্ধেক ভাত, পাঁচিলের অবরোধের ভেতর চলাফেরা রুদ্ধ !
ম্যানেজারের চোখরাঙানিতে তুমি ছোট হ’য়ে আছ?
দেখ বুক চাপা গর্তের সমান সেলে সে পাশ ফিরতে পারে না!
মাথা নিচু করবার জন্য দিনরাত তোমার হৃদয় থেকে রক্ত ঝরছে?
শস্য পেটে নেই তাই তোমার ফুসফুস থেকে রক্ত ঝরছে?
দেখ সাইরেনবাজা সন্ত্রাসের ভেতর সে রক্ত ওগরাতে ওগরাতে
স্থির হ'য়ে আছে!

ভারতবর্ষ, তুমি কেঁপে উঠছ না কেন?
ভারতবর্ষ, তুমি আকাশের দিকে চোখ ফেলছো না কেন?

ভারতবর্ষ, তুমি নিজের মুখের দিকে তাকাও!
ভারতবর্ষ, তুমি ন’ড়ে চ’ড়ে ওঠ!
.
বাবলুর জন্য কবিতা কবি সরোজলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ১৯২৭)। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা"
কবিতা সংকলন গ্রন্থ থেকে আমরা পেয়েছি। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি সরোজলাল
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
( কোনো মুক্ত রাজবন্দীর উদ্দেশ্যে )

একদিন গুলি ট'পকে
তুমি কারাগারে নিক্ষিপ্ত হ'য়েছিলে
শহরের দেয়ালে তোমার রক্তের ফোয়ারা উপচে পড়েনি
বরানগরের গঙ্গায়
তোমার আলকাতরা মাখানো চক্ষুকোটর ঢেউয়ের চুম্বন খায়নি
তুমি টপকে গিয়ে প'ড়েছিলে কারালৌহপাচিলের অন্তরালে
পরপর গুলির বর্ষণ
তোমার খুলি এড়িয়ে গেছে
হয়ত তোমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আজও অসাড়
হয়ত সারাগায়ে বসন্তের চেয়ে বড় বড় জ্বলন্ত চুরুটের ছ্যাঁকার দাগ
হয়ত তুমি বেরিয়ে আসছ সমুদ্রের চেয়ে অনন্ত জনকল্লোলের ঢউয়ে
যে জনকল্লোলের ঢেউ
পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়ছে দুর্দর্মনীয় ক্রোধে
যদি না তুমি স্মৃতিভ্রষ্ট হও
স্মৃতিকে যারা ভয় করে সেই অত্যাচারীর দারুণ থাবায়
যদি না তুমি নজরুলের মত পাষাণমূর্তিতে থমকে দাঁড়াও
অবশ্যই মনে পড়বে সেই সব সঙ্গীসাথীদের
যারা কালো গাড়ির ভেতর থেকে টপকে প’ড়েছিল মৃত্যুর তুহিনশীতল কোলে
.
নিশীথ রাত্রির সহসা গর্জনে
যাদের আত্মা জেলের পাচিলের মধ্যে আজো সমানে ঘুরপাক খাচ্ছে
লক-আপের ভুতুড়ে অন্ধকারের মধ্য থেকে যাদের আত্মা এখনো মুক্তি পায়নি
তাদের সেই ছলছল চোখে, চোখের মণিতে পতাকার ভাষা
ঠোঁটের দৃঢ়তা মাখানো সংঘবদ্ধতা
সারা জীবন তোমাকে অনন্ত কাজের ভিতর
একান্তভাবে সংলগ্ন করে রাখবে।
কাটাকুটি
অমিতাভ চৌধুরী (১৬.৭.১৯২৮ - ২.৫.২০১৫)
উত্থানপদ বিজলী সম্পাদিত “ছোটদের আবৃত্তির ছড়া ও কবিতা” কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া।
এই কবিতাটি আজ ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে! এটি কে “ছোটদের ছড়া” বলে এড়িয়ে
যাবার ক্ষমতা আমাদের নেই! কিছু রাজনৈতিক নেতা তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে, বা
নিজেরা যাতে সেই খণ্ডিত রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পায়, তার জন্য পুনরায়
বাংলা ভাগ করার ডাক দিয়েছে। এই কবিতাটি তার প্রতিবাদ।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি অমিতাভ চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
লম্বা এবং চওড়া ছিল বাংলা নামে দেশ,
এক কলমের খোঁচায় কেটে দুই টুকরোয় শেষ।
কোথায় গেল ঢাকা শহর কোথায় বরিশাল,
পদ্মা এবং মেঘনা গেল রূপসা আড়িয়াল।
কাটাকুটি চলল অনেক সব কিছু খান খান,
স্বাধীনতার নামে কাটি নিজের নাক ও কান।
দু-কান কেটে হইনি খুশি আবার কাটার ঝোঁক,
যা পেয়েছি তাকে কাটেন মনে অনেক লোক।
উপর দিকে আছে তরাই নীচে সোঁদরবন,
উত্তরে আর দক্ষিণেতে ফারাক করার পণ।
দক্ষিণকেই পশ্চিম কই ওটা উত্তর বং,
অনেক দূরের শহর যেন মালদা কালিম্পং।
কোচবিহার আর শিলিগুড়ি ডুয়ার্স বালুরঘাট,
উপেক্ষিতার অভিমানে কেঁদে ভাসায় মাঠ!
দূরে আরও নিকট টেনে না যদি নিই, পরে
কলকাতাটাই বাংলা হয়ে রইবে কেবল পড়ে।
.
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
কবি শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। কবির “নিজ বাসভূমে” কাব্য সংকলনের কবিতা। আমরা পেয়েছি দেজ থেকে ২০০৫ সালে প্রকাশিত
(প্রথম প্রকাশ ১৯৮৫) “শামসুর রাহমানের শ্রেষ্ঠ কবিতা” সংকলন থেকে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি শামসুর রাহমান
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
নক্ষত্রপুঞ্জের মতো জলজ্বলে পতাকা উড়িয়ে আছো আমার সত্তায়।
মমতা নামের প্রুত  প্রদেশের শ্যামলিমা তোমাকে নিবিড়
ঘিরে রয় সর্বদাই। কালো রাত পোহানোর পরের প্রহরে
শিউলিশৈশবে 'পাখী সব করে রব' ব'লে মদনমোহন
তর্কালঙ্কার কী ধীরোদাত্ত স্বরে প্রত্যহ দিতেন ডাক। তুমি আর আমি,
অবিচ্ছিন্ন পরস্পর মমতায় লীন,
ঘুরেছি কাননে তাঁ নেচে নেচে, যেখানে কুসুম-কলি সবই
ফোটে, জোটে অলি ঋতুর সংকেতে।

আজন্ম আমার সাথী তুমি,
আমাকে স্বপ্নের সেতু দিয়েছিলে গ'ড়ে পলে পলে,
তাইতো ত্রিলোক আজ সুনন্দ জাহাজ হয়ে ভেড়ে
আমারই বন্দরে।

গলিত কাচের মতো জলে ফাত্না দেখে দেখে রঙিন মাছের
আশায় চিকন ছিপ ধরে গেছে বেলা। মনে পড়ে কাঁচি দিয়ে
নক্সা কাটা কাগজ এবং বোতলের ছিপি ফেলে
সেই কবে আমি হাসিখুশির খেয়া বেয়ে
পৌঁছে গেছি রত্নদীপে কম্পাস বিহনে।

তুমি আসো আমার ঘুমের বাগানেও
সে কোন্ বিশাল
.
গাছের কোটর থেকে লাফাতে লাফাতে নেমে আসো,
আসো কাঠবিড়ালির রূপে,
ফুল্ল মেঘমালা থেকে চকিতে ঝাঁপিয়ে পড়ো ঐরাবত সেজে,
সুদূর পাঠশালার একান্নটি সতত সবুজ
মুখের মতোই দুলে দুলে ওঠো তুমি
বার বার কিম্বা টুকটুকে লঙ্কা ঠোঁট টিয়ে হ'য়ে
কেমন দুলিয়ে দাও স্বপ্নময়তায় চৈতন্যের দাঁড়।

আমার এ অক্ষিগোলকের মধ্যে তুমি আঁখিতারা।
যুদ্ধের আগুণে,
মারীর তাণ্ডবে,
প্রবল বর্ষায়
কি অনাবৃষ্টিতে,
বারবনিতার
নূপুর নিক্কনে
বনিতার শান্ত
বাহুর বন্ধনে,
ঘৃণায় ধিক্কারে,
নৈরাজ্যের এলো-
ধাবাড়ি চিত্কারে,
সৃষ্টির ফাল্গুনে
হে আমার আঁখিতারা তুমি উন্মিলিত সর্বক্ষণজাগরণে।

তোমাকে উপড়ে নিলে, বলো তবে, কী থাকে আমার?
উনিশ শো' বাহন্নোর দারুণ রক্তিম পুষ্পাঞ্জলি
বুকে নিয়ে আছো সগৌরবে মহীয়সী।
সে ফুলের একটি পাপড়িও ছিন্ন হ'লে আমার সত্তার দিকে
কতো নোংরা হাতের হিংশ্রতা ধেয়ে আসে।
এখন তোমাকে নিয়ে খেঙরার নোংরামি,
এখন তোমাকে ঘিরে খিস্তি-খেউড়ের পৌষমাস !
তোমার মুখের দিকে আজ আর যায় না তাকানো,
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। কবির “বন্দী শিবির থেকে” কাব্য
সংকলনের কবিতা। আমরা পেয়েছি দেজ থেকে ২০০৫ সালে প্রকাশিত (প্রথম প্রকাশ ১৯৮৫) “শামসুর রাহমানের শ্রেষ্ঠ কবিতা” সংকলন থেকে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি শামসুর রাহমান
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?

তুমি আসবে ব'লে, হে স্বাধীনতা,
সাকিনা বিবির কপাল ভাঙলো,
সিঁথির সিঁদুর গেল হরিদাসীর।
তুমি আসবে ব'লে, হে স্বাধীনতা,
শহরের বুকে জলপাইয়ের রঙের ট্যাঙ্ক এলো
দানবের মত চিত্কার করতে করতে
তুমি আসবে ব'লে, হে স্বাধীনতা,
ছাত্রাবাস বস্তি উজাড় হলো। রিকয়েললেস রাইফেল
আর মেশিনগান খই ফোটালো যত্রতত্র।
তুমি আসবে ব'লে, ছাই হলো গ্রামের পর গ্রাম।
তুমি আসবে ব'লে, বিধ্বস্ত পাড়ায় প্রভূর বাস্তুভিটার
ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে একটানা আর্তনাদ করলো একটা কুকুর।
তুমি আসবে ব'লে, হে স্বাধীনতা,
অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিলো পিতামাতার লাশের উপর।

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে এক থুত্থুরে বুড়ো
উদাস দাওয়ায় ব'সে আছেন - তাঁর চোখের নিচে অপরাহ্ণের
.
দুর্বল আলোর ঝিলিক, বাতাসে নড়ছে চুল।
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে
মোল্লাবাড়ির এক বিধবা দাঁড়িয়ে আছে
নড়বড়ে খুঁটি ধ'রে দগ্ধ ঘরের।

স্বাধীনতা, তোমার জন্যে
হাড্ডিসার এক অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে
বসে আছে পথের ধারে।
তোমার জন্যে,
সগীর আলী, শাহবাজপুরের সেই জোয়ান কৃষক,
কেষ্ট দাস, জেলেপাড়ার সবচেয়ে সাহসী লোকটা,
মতলব মিয়া, মেঘনা নদীর দক্ষ মাঝি,
গাজী গাজী ব'লে নৌকা চালায় উদ্দান ঝড়ে
রুস্তম শেখ, ঢাকার রিকশাওয়ালা, যার ফুসফুস
এখন পোকার দখলে
আর রাইফেল কাঁধে বনে জঙ্গলে ঘুড়ে বেড়ানো
সেই তেজী তরুণ যার পদভারে
একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হ'তে চলেছে --
সবাই অধীর প্রতীক্ষা করছে তোমার জন্যে, হে স্বাধীনতা।

পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
মতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায়
তোমাকেই আসতে হবে, হে স্বাধীনতা।
বন্দী-শিবির থেকে শামসুর রাহমান (২৪.১০.১৯২৮ - ১৭.৮.২০০৬)। কবির “বন্দী শিবির থেকে” কাব্য সংকলনের কবিতা। আমরা পেয়েছি দেজ
থেকে ২০০৫ সালে প্রকাশিত (প্রথম প্রকাশ ১৯৮৫) “শামসুর রাহমানের শ্রেষ্ঠ কবিতা” সংকলন থেকে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি শামসুর রাহমান
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ঈর্ষাতুর নই, তবু আমি
তোমাদের আজ বড়ো ঈর্ষা করি। তোমরা সুন্দর
জামা পরো, পার্কের বেঞ্চিতে বসে আলাপ জমাও,
কখনো সেজন্য নয়। ভালো খাওদাও
ফুর্তি করো সবান্ধব, সেজন্যেও নয়।

বন্ধুরা তোমরা যারা কবি,
স্বাধীন দেশের কবি, তাদের সৌভাগ্যে
আমি বড়ো ঈর্ষান্বিত আজ।
যখন যা খুশি
মনের মতন শব্দ কী সহজে করো ব্যবহার
তোমরা সবাই।
যখন যে-শব্দ চাও, এসে গেলে সাজাও পয়ারে,
কখনো অমিত্রাক্ষরে, ক্ষিপ্র মাত্রাবৃত্তে কখনো-বা।
সেসব কবিতাবলী যেন রাজহাঁস,
দৃপ্ত ভঙ্গিমায় মানুষের
অত্যন্ত নিকটে যায়, কুড়ায় আদর
অথচ এ দেশে আমি আজ দমবন্ধ
এ বন্দী-শিবিরে
.
মাথা খুঁড়ে মড়লেও পারি না করতে উচ্চারণ
মনের মতন শব্দ কোনো।
মনের মতন সব কবিতা লেখার
অধিকার ওরা
করেছে হরণ।
প্রকাশ্য রাস্তায় যদি তারস্বরে চাঁদ ফুল পাখি
এমন কি ‘নারী’ ইত্যাকার শব্দাবলী
করি উচ্চারণ, কেউ করবে না বারণ কখনো।
কিন্তু কিছু শব্দকে করেছে
বেআইনী ওরা
ভয়ানক বিস্ফোরক ভেবে
স্বাধীনতা নামক শব্দটি
ভরাট গলায় দীপ্ত উচ্চারণ ক’রে বারবার
তৃপ্তি পেতে চাই। শহরের আনাচে কানাচে
প্রতিটি রাস্তায়
অলিতে গলিতে
রঙিন সাইনবোর্ডে, প্রত্যেক বাড়িতে
স্বাধীনতা নামক শব্দটি
লিখে দিতে চাই
বিশাল অক্ষরে
স্বাধীনতা শব্দ এত প্রিয় যে আমার
কখনো জানি নি আগে। উঁচিয়ে বন্দুক
স্বাধীনতা, বাংলা দেশ---- এই মতো শব্দ থেকে ওরা
আমাকে বিচ্ছিন্ন ক’রে রাখছে সর্বদা।

অথচ জানে না ওরা কেউ
গাছের পাতায়, ফুটপাতে
পাখির পালকে কিংবা নারীর দু-চোখে
পথের ধুলোয়,
বস্তির দুরন্ত ছেলেটার
হাতের মুঠোয়
সর্বদাই দেখি জ্বলে স্বাধীনতা নামক শব্দটি।
গাছ পাখি জলাভূমি
কবি কৃষ্ণ ধর (জন্ম ১.২.২০২৮)। ২০০৯ সালে প্রকাশিত, দেবদুলাল
বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “সেরা আবৃত্তির কবিতা সংগ্রহ” থেকে নেওয়া।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি কৃষ্ণ ধর
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ও গাছ শোনো, বন্ধু তুমি আমার
গাছ তাকে বলে, আমি তোমার সখা
নয়তো সোনা, নয়তো রূপো তামার
বাকল আমার রূক্ষ রোদে সেঁকা।

পাখির সঙ্গে চলে এমনি আলাপ
গাছের বন্ধু পাখি সেটা জানে
শাখায় পাতায় ছায়াতে ছয়লাপ
বন্ধু দুজন বুঝে নেয় তার মানে।

মানুষ যদি এই কথাটা বোঝে
গাছ তো তারও জীবনপথের সাথী
তারই জন্য সব দিয়ে সে নিজে
মাটির তলায় শেকড় আছে পাতি।

শহর গাঁয়ের গাছ দিচ্ছে কেটে
জলাভূমির করছে সর্বনাশ
পাখির ঠোঁটে খবর গেছে রটে
আর দেরি নয়, আসছে মরুর ত্রাস।

বাঁচতে চাইলে মানুষ তোমরা শোনো
গাছ ও পাখি জলাভূমির বিকল্প নেই কোনো।
.
নির্ভয় কবি কৃষ্ণ ধর (জন্ম ১.২.২০২৮)। কবি দৈনিক বসুমতী ও যুগান্তর
পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এশিয়াটিক সোসাইটির মাসিক বুলেটিনের এপ্রিল ২০২০
সংখ্যায় প্রকাশিত, রচনা - ৪ এপ্রিল, ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ - ১৯.৮.২০২০।
কবির করোনা-কালের কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি কৃষ্ণ ধর
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ব্যাঙ্গমা বলছে ব্যাঙ্গমিকে
শোনো শোনো কান পেতে শোনো
ব্যাঙ্গমি বলে কী আর শুনবো
সবই তো পুরনো পুথির বাক্য একই ছাঁদে ঢালা
সবারই এক কথা- পালা পালা পালা
কোথায় পালাবে তারা? কার কাছে যাবে?
কে আছে ডেকে নিতে ছাদহীন ঘুঘুচরা ভিটেতে তাদের
একদিন শিখেছিল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে থাকো
এখন ত্রস্ত তারা দিশেহারা পরিযায়ী পাখিদের মতো।
ব্যাঙ্গমা বলছে, এত ঘৃণা, এত বিষ, জমা ছিল
তবে কেন একদিন জেনেছিল মানুষ মানুষের জন্য
মানুষের মাপেই সব কিছুর বাছ ও বিচার
মৃত্যুনীল বিষের অক্ষরে ধ্বংস ও বিনাশের ভয়
আকাশে বাতাসে ছড়ায়
ব্যর্থ করো ব্যর্থ করো তারে
মানুষই ফেরাবে তাকে শুভ চেতনায়
.
এক নদী রক্ত পেরিয়ে কথা ও সুর - খান আতাউর রহমান (১১.১২.১৯২৮ - ১.১২.২০০৪)। অজ্ঞাত
শিল্পী ও অজ্ঞাত সমবেত শিল্পীদের কণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Golden Song Lyricsi YouTube
Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি খান আতাউর
রহমান
এক নদী রক্ত পেরিয়ে
বাংলার আকাশে রক্তিম সূর্য আনলে যারা
তোমাদের এই ঋণ কোনো দিন শোধ হবে না
না না না শোধ হবে না
মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সাত কোটি মানুষের
জীবনের সন্ধান আনলে যারা
সে দানের মহিমা কোনো দিন ম্লান হবে না
না না না ম্লান হবে না

হয়তো বা ইতিহাসে তোমারদের নাম লেখা রবে না
হয়তো বা ইতিহাসে তোমারদের নাম লেখা রবে না
বড় বড় লোকেদের ভীড়ে
জ্ঞানী আর গুণীদের আসরে
তোমাদের কথা কেউ কবে না
তবু হে বিজয়ী বীর মুক্তিসেনা
তোমাদের এই ঋণ কোনো দিন শোধ হবে না
না না না শোধ হবে না

থাক ওরা পড়ে থাক ইতিহাস নিয়ে
জীবনের দীনতা হীনতা নিয়ে
থাক ওরা পড়ে থাক ইতিহাস নিয়ে
জীবনের দীনতা হীনতা নিয়ে
তোমাদের কথা রবে সাধারণ মানুষের ভিড়ে
তোমাদের কথা রবে সাধারণ মানুষের ভিড়ে
.
মাঠে মাঠে কিসানের মুখে
ঘরে ঘরে কিষাণীর বুকে
স্মৃতি বেদনার আঁখি নীড়ে
তবু হে বিজয়ী বীর মুক্তিসেনা
তোমাদের এই ঋণ কোনো দিন শোধ হবে না
না না না শোধ হবে না
এক নদী রক্ত পেরিয়ে
বাংলার আকাশে রক্তিম সূর্য আনলে যারা
তোমাদের এই ঋণ কোনো দিন শোধ হবে না
না না না শোধ হবে না
শোন গো ও দূরের পথিক কবি প্রবীর মজুমদার
(৬.১.১৯২৯ - ১০.১০.১৯৯০), সুর - কৃষ্ণ বসু। আমরা গানটি
পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত
গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি প্রবীর মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শোন গো ও দূরের পথিক ! এপথে যেতে
একবার থেমে যাওগো॥
এই যে সমাধি পরে তারার প্রদীপ জ্বলে,
কত শহীদ ঘুমে মগন এরই মাটির তলে।
আমার ক্ষেতের ধান বাঁচাতে যাদের খুনে রাঙালো মাটি
তাদেরকে আজ একটু আশা দাও গো।
এখানে এই বটের শাখে ভোরের পাখীর গাওয়া,
ধানের শীষের দোল জাগানো ঝিরঝিরি এই হাওয়া।
ওরাই এদের সান্ত্বনা দেয়, সারা দিনের ভাষা যোগায়
তোমার সুরে তাদেরই গান গাও গো॥
রুধির রাঙ্গা এই প্রাঙ্গণে ধূলিকণার মাঝে,
অহল্যা মার প্রসব ব্যথা আজো জেগে আছে ( ভাইরে )
ঘরে ঘরে বধূ যখন সিঁথেয় সিঁদুর পরে,
অহল্যা মার রক্ত লেখায় সে দাগ যেন ভরে।
প্রতিরোধের যে আগুনে অহল্যা মার জ্বলল চিতা
সবার প্রাণে সেই আগুন জ্বালাও গো ॥
.
এ লড়াই বাঁচার লড়াই
কথা ও সুর - কবি দিলীপ সেনগুপ্ত (১৯.৮.১৯২৯ - ১৭.৭.১৯৯৯)
আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও
সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
দিলীপ সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এ লড়াই বাঁচার লড়াই, এ লড়াই জিততে হবে
এ লড়াই খেতখামারে কারখানাতে লেগেই রবে॥

যতদিন শত্রুকে না মেশাতে পারি ধূলায়
ততদিন জ্বলবে বুকে ক্রোধের আগুন দ্বিগুণ জ্বালায়।
যতদিন ক্ষেতে কিষাণ কলে মজুর মরবে ধুঁকে
ততদিন চলবে লড়াই মৃত্যু জয়ের শপথ রেখে।
এ লড়াই দিকবিদিকে সবার প্রাণে ছড়িয়ে যাবে॥

ক্ষমা তোর নেইরে পিশাচ, জোতদার, মুনাফাখোর
ক্ষমা নেই বেইমানেরে সাধু সেজে ঠকায় যে চোর।
চেয়ে দেখ্ কল-খামারে জাগছে মজুর-কিষাণ
দিন বদলের পালারে ভাই, তারি আজি বাজছে বিষাণ
জেনে রাখ দেশের মানুষ তোদের আজি কবর দেবে॥
.
পুলিশ কেন দূরে
কবি নরবাহাদুর লামা (৭.৯.১৯২৯ - ৩১.৫.২০১৯)। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কবির “শান্তির কবচ” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। এই কবি
জন্মসূত্রে ছিলেন নেপালী কিন্তু বাংলা ভাষা শিখে রাংলাকে মাতৃভাষা জ্ঞান করে কবিতা রচনা করে গিয়েছেন। কবি পশ্চিমবঙ্গ
পুলিশে কর্মরত ছিলেন।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
নরবাহাদুর লামা
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
সমাজের কাছে প্রশ্ন করি---
.     কাহারও বিচার আছে?
সারাটা জীবন দাসত্য করে ,
.      সুখ মেলে না পাছে ॥

একের দোষ চাপিয়ে দিয়ে---
.       লক্ষ লক্ষ শিরে,
তিনটি যুগে বোঝা তো উচিত,
.       সবাই ! ধীরে, ধীরে॥

তোমার আমারই ঘরের ছেলে---
.        অথবা কাহারো ভাই !
সুখ ও  দুঃখ ; ভাল ও মন্দ
.         বলতে কি কিছুই নাই?

সবার ! তরে, ঝঞ্ঝার মুখে---
.         ঝাঁপ দিয়ে পড়ে যারা !
অকারণে  বিলায় জীবন !
.         সেই হয় সর্ব্বহারা॥
.
মাতা ও পিতা !  যৌবন সহ
.         হারায় কত কিছু,
তৃষ্ণার  ছোটে জল ভাবিয়া ;
.          মরিচীকার পিছু ! পিছু !

প্রখর রোদে ! ঝড় তুফানে----
.          খাটিয়া অবিরত,
কঠিন !   শীতে কর্মে রত
.          বদন করিয়া নত।

সর্পের মুখে , ব্যাগ্রসনে----
.          দুষ্টুর  সাথেও লড়ে,
ধন  বাঁচাতে ,  প্রাণ বাঁচাতে ;
.          তবুও রক্ষা করে॥

নিশিতে হয়না,  চোখের ঘুম !
.           দিবায় পেটেরও দানা
ভাই বলিয়া  কেহ কি ভাবে?
চোখেও পড়েছে ছানা?
একই বাপের পাঁচটি ছেলে----
.            সবাই কি সমান হয়?
তাইতো বলি এ সংসারে
.            কাহারও বিচার নাই॥

জীবন  দিয়ে  ভালবাসে !
.            তবুও ফেলে ছুঁড়ে
পুলিশ বলে আজিও সমাজ
.             রাখছে কেন দূরে?
লেখক ও কবিদের প্রতি
নরবাহাদুর লামা (৭.৯.১৯২৯ - ৩১.৫.২০১৯)
২০১০ সালে প্রকাশিত, কবির “সবার তরে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। এই কবি জন্মসূত্রে ছিলেন নেপালী কিন্তু বাংলা
ভাষা শিখে রাংলাকে মাতৃভাষা জ্ঞান করে কবিতা রচনা করে গিয়েছেন। কবি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কর্মরত ছিলেন।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
নরবাহাদুর লামা
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বলো হে প্রিয় লেখক ও কবি, এহেন ভীত কেন?
বরফ নাকি ননীর পুতুল, ছুলেই গলিবে যেন !
শিক্ষা ও দীক্ষায় বি এ, এম এ রয়েছে অনেক ডিগ্রি
দেশদ্রোহী দুষ্টদের কাছে, মাথ কি করেছ বিক্রি?

সারা দেশ জুড়ে কত অনাচার, চলিছে অবক্ষয়।
সত্য কথা প্রকাশ করিতে ,কর কেন এতো ভয়?
দেশপ্রেমিকেরা দেশের তরে, দিয়েছে কত না প্রাণ
জীবন ধন সর্বস্ব দিয়ে রেখে গেছে অবদান।

মোরা তো কেহ অমর নই, একদা মরিতে হবে
একশত কোটি ঘুমন্ত জনে, জাগাও না কেন তবে ?
ঊগ্রপন্থী গুন্ডা বা ডাকাত, তারাও মোদের ভাই !
অবুঝ ভেবে প্রতিটি জনে, বুঝিয়ে বলা চাই।

মুনাফা-খোর মাফিয়া চোর, সমাজ-বিরোধী যত
সমাজে ফিরিয়ে আনিতে হবে, বুঝিয়ে ভাইয়ের মতো।
সমাজ হতে বঞ্চিত কেন? বলো না এদোষ কার
সবার মতো তোমারও আছে, বাঁচার অধিকার।
.
পরের কথায় আপন জনেও হত্যা কর তুমি
বুঝাতে হবে এ দেশ তোমার, বাঁচাও মাতৃভূমি।
ভ্রষ্টাচার নেতা ও আমলা ভাঙবে তাদেরও ভুল
রক্ষা করো দেশ ও জাতি বাঁচাও নিজেরও কুল।

এমনভাবে বোঝালে হয়তো, অনেকেই জাগতেও পারে
জীবনে যারা অন্যায় করেছে, বুঝিবে হাড়ে হাড়ে !
অতীব মন্দও হতে পারে, হয়তো ভীষণ ভালো
লেখক ও কবিরা নিষ্ঠাভাবে দেখালে  জ্ঞানের আলো।
ঐ উজ্জ্বল দিন ডাকে স্বপ্ন রঙীন
কথা ও সুর - কবি সুধীন দাশগুপ্ত (৯.১০.১৯২৯ - ১০.১.১৯৮২)
শিল্পী - সুবীর সেন। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও
সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Gaaner Dali YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
সুধীন দাশগুপ্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ঐ উজ্জ্বল দিন ডাকে স্বপ্ন রঙীন,
ছুটে আয়রে লগন বয়ে যায়রে মিলন বিন
ঐ তো তুলেছে তান, শোনো ঐ আহ্বান
তারই সুরে সুরে বাজে গুরু গুরু হোক গানে গানে পথ চলা শুরু শুরু
আজ অন্তর অন্তরে প্রান্তরে প্রান্তরে কন্ঠে ছড়াব এই গান। ছুটে আয়রে------
আয় আয়রে ছুটে আয় বাঁধন টুটে আনি মুক্তো আলোর বন্যা,
আয় সুখকে ছুটে আয় শান্তি জাগাই, শ্যামলী ধরণী হবে ধন্যা
এ আকাশ বাতাসে দোলা লাগলো আজ জীবনে জোয়ার বুঝি জাগলো,
নব উচ্ছল উচ্ছালে উদ্দাম উল্লাসে ছন্দে জাগাবো এই প্রাণ। ছুটে আয়রে--
.
স্বর্ণঝরা সূর্যরঙে আকাশ যে ঐ রাঙলো রে
কথা ও সুর - কবি সুধীন দাশগুপ্ত (৯.১০.১৯২৯ - ১০.১.১৯৮২)। শিল্পী - সুবীর সেন। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Gaaner Dali YouTube
Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
সুধীন দাশগুপ্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
স্বর্ণঝরা সূর্যরঙে আকাশ যে ঐ রাঙলো রে
ঝর্ণাধারার বন্যা যেন পাষাণ হৃদয় ভাঙলো রে।
চম্পা জাগো জাগো রে
কেন গো পারুল ডাকোরে॥

গান বেঁধে নিই সুর সেধে নিই
.                সূর্য ওঠার লগনে
জুঃখে দিন করবো বিলীন
.                মুক্ত আলোয় প্লাবনে
চম্পা জাগো ভাই
পারুল ডাকে তাই॥

আজকে ধরা স্বপ্নে ভরা
.                বাজলো রে বীণ ঝঙ্কারে
আয়রো তোরা ক্লান্তিহারা
.                জয় করে নে শঙ্কারে।
.
চম্পা জাগো জাগোরে
এলো যে ঢেউ সাগরে।

আনবো জোয়ার খুলবো দুয়ার
.                রইবো না আর বন্ধনে
ফিরবো প্রাণের ছন্দে গানের
.                এই জীবনের সন্ধানে
চম্পা জাগো ভাই
সময় যে আর নাই॥
এই ছায়াঘেরা কালো রাতে
কথা ও সুর - কবি সুধীন দাশগুপ্ত (৯.১০.১৯২৯ - ১০.১.১৯৮২), শিল্পী - দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়। ভিডিওটি সৌজন্যে Ritwik
Bhattacharya YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
সুধীন দাশগুপ্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এই ছায়াঘেরা কালো রাতে
স্তব্ধ ধরা বেদনাতে
মিটিমিটি জ্বলে তারা আকাশের গায়
যেন কথা বলে কার সাথে
স্তব্ধ ধরা বেদনাতে
এই ছায়াঘেরা কালো রাতে

দিনের পৃথিবী যেন
পথের দিশা না পেয়ে
দিনের পৃথিবী যেন
পথের দিশা না পেয়ে
রাতের আকাশ পানে চেয়ে
থেমে গেছে চলার পথে
বুঝি কার ইশারাতে
স্তব্ধ ধরা বেদনাতে
এই ছায়াঘেরা কালো রাতে

থমথমে এই রাত
কালো মেঘের দৈত্য যেন
বাড়াইছে তার হাত
থমথমে এই রাত
সূর্য আবার উঠবে
খুলবে আলোর দ্বার
.
ভেঙে যাবে এ আঁধার
নতুন ভোরে পৃথিবী সে
জাগবে নবীন আশা তে
স্তব্ধ ধরা বেদনাতে
এই ছায়াঘেরা কালো রাতে
এই ছায়াঘেরা কালো রাতে
পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে
কবি গোবিন্দ হালদার (জন্ম ২১.২.১৯৩০)। সুর - সমর দাস। সমবেত অজ্ঞাত শিল্পীদের কণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে।
ভিডিওটি সৌজন্যে
Golden Song Lyricsi YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
গোবিন্দ হালদার
পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল,
জোয়ার এসেছে জন-সমুদ্রে
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল

বাঁধন ছেঁড়ার হয়েছে কাল
হয়েছে কাল, হয়েছে কাল, হয়েছে কাল
জোয়ার এসেছে জন-সমুদ্রে
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল

শোষণের দিন শেষ হয়ে আসে
অত্যাচারীরা কাঁপে আজ ত্রাসে
শোষণের দিন শেষ হয়ে আসে
অত্যাচারীরা কাঁপে আজ ত্রাসে
রক্তে আগুন প্রতিরোধ গড়ে
রক্তে আগুন প্রতিরোধ গড়ে
রক্তে আগুন প্রতিরোধ গড়ে
রক্তে আগুন প্রতিরোধ গড়ে
নয়া বাংলার নয়া সকাল
নয়া সকাল, নয়া সকাল
পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল,
.
জোয়ার এসেছে জন-সমুদ্রে
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল

আর দেরি নয় উড়াও নিশান
রক্তে বাজুক প্রলয় বিষাণ
আর দেরি নয় উড়াও নিশান
রক্তে বাজুক প্রলয় বিষাণ
বিদ্যুৎ গতি হউক অভিযান
বিদ্যুৎ গতি হউক অভিযান
বিদ্যুৎ গতি হউক অভিযান
বিদ্যুৎ গতি হউক অভিযান
ছিঁড়ে ফেলো সব শত্রু জাল
শত্রু জাল, শত্রু জাল
পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল,
জোয়ার এসেছে জন-সমুদ্রে
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে কবি গোবিন্দ হালদার (জন্ম ২১.২.১৯৩০)। সুর - আপেল মাহমুদ।
গানটি প্রথম প্রচারিত হয় ডিসেম্বর ১৯৭১ এ স্বাধীন বাংলা বেতারে। সমবেত অজ্ঞাত কণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে।
ভিডিওটি সৌজন্যে
Golden Song Lyrics YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
গোবিন্দ হালদার
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলবো না
আমরা তোমাদের ভুলবো না
দুঃসহ বেদনার এ কণ্টক পথ বেয়ে
শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা
আমরা তোমাদের ভুলবো না
আমরা তোমাদের ভুলবো না

যুগের নিষ্ঠুর বন্ধন হতে
মুক্তির এ বারতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলবো না
ভুলবো না ভুলবো না
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলবো না
আমরা তোমাদের ভুলবো না

কৃষাণ-কৃষাণীর গানে গানে
পদ্মা-মেঘনার কলতানে
বাউলের একতারাতে
আনন্দ ঝংকারে
.
তোমাদের নাম ঝংতৃত হবে
ঝংকৃত হবে
নতুম স্বদেশে হড়ার পথে
তোমরা চিরদিন দিশারী রবে
আমরা তোমাদের ভুলবো না
ভুলবো না ভুলবো না
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলবো না
আমরা তোমাদের ভুলবো না
ভারতবর্ষের মা কবি অরুণ চট্টোপাধ্যায় (১.৩.১৯৩০ - ২৯.৪.২০১২)। ২০০৪ সালে প্রকাশিত, শ্যামলকান্তি
দাশ ও বিমল গুহ সম্পাদিত “হাজার কবির হাজার কবিতা” সংকলন থেকে নেওয়া।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
অরুণ চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বিদেশী ডলার পাউণ্ডের ঢল নামছে
তবু ছেলেটার মুখে হাসি নেই . . .।
ও দেখেছে অনেক রাতে দরজা খুলে ওর মা
কোথায় যেন যায় . . . ও দেখেছে
মেলট্রেন-ঝাঁকানো শেষরাতে ফিরে আসে ওর মা।

অদূরেই মৃত কাচকলের চিমনি।
ওর বাবা বন্ধ গেটের কপাটে মাথা খোঁড়ে
এদোর ওদোর ঘুরে ফিরে আসে . . . তারপর
শুকনো খড়ের মত পড়ে থাকে দাবার কোণে।
বিদেশভ্রমণের সুখস্মৃতি বিস্তার করেন নেতা
কনফারেন্সের টেবিলে। অঢেল বাণিজ্যের
জাহাজ ভাসবে সমুদ্র থেকে সমুদ্রে . . . সীমান্ত
পেরিয়ে আসবে ফুলেল খুশবুর পসরা . . .।

কে যেন ভারতরত্ন . . . কে যে অস্কার বিজয়ী . . .
কে যেন জ্ঞানপীঠ . . . এতকাণ্ডেও ছেলেটার হাসি নেই।
কালো কালো বিষণ্ণ বাঁয়াতবলার মত
উবু হয়ে বসে থাকে . . . আর দেখে
ভোররাতে কোঁচড়ভরা চাল এনেছে ওর মা
চ্যালাকাঠের আঙরায় হাঁড়ি উপছে ফেন গড়াচ্ছে . . .

সমস্ত ভারতবর্ষের মা শেষ রাতে ফিরছে চারটি চাল নিয়ে
সমস্ত ভারতবর্ষের ছেলেদের মুখে তবু হাসি নেই . . . ।
.
দেশ হইয়াছে ভাগ রে মণি কথা - কবি অরুণ চট্টোপাধ্যায়,
সুর - বিনয় চক্রবর্তী। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র
সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
অরুণ চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
দেশ হইয়াছে ভাগ রে মণি
.                পরাণ পুইড়্যা খাক্,
আর দেশের মাইনষে বলি দিয়া
.                নেপোয় মারে ভাগ, রে মণি---
.                দেশ হইয়াছে ভাগ।

সুখ কন্যা ঘুমায় যাদু
.                তেপান্তরের পার ;
আর সোনার কাঠি চুরি কইরা
.                দানোয় পগার পার, রে যাদু---
.                কন্যা তেপান্তরের পার।

আইস আমার যাদুমণি
.                কও নূতন রূপকথা
আর তরোয়ালের ঝিলিক হাইনা
.                কাইটো দানোর মাথা,
রে যাদু, রে মণি ---
.                কও নূতন রূপকথা।
.
হে স্তন্যদায়িনী কবি পূর্ণেন্দু পত্রী (২.২.১৯৩১ - ১১.৩.১৯৯৭)। কবির ১৯৫০ সালে
প্রকাশিত, “জেগে আছি, বীজে বৃক্ষে ফুলে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
পূর্ণেন্দু পত্রী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
তোমার দুধের মধ্যে এত জল কেন?
তোমার দুধের মধ্যে এত ঘন বিশৃঙ্খলা কেন?

রক্ত ঝরে না ভেজালে
কোনো সুখ দরজা খোলে না।
ময়ূরও নাচে না তাকে দু-নম্বরী সেলামী না দিলে।
হাতুড়ির ঘায়ে না ফাটালে
রাজার ভাঁড়ার থেকে এক মুঠু খুদ খেতে
পায় না চড়ুই।
স্বপ্নে যারা পেয়ে গেছে সচেতন ফাউন্টেন পেন
তাদেরও কলমে দেখ
সূর্য কীরণের মত কোনো কালি নেই।

হে স্তন্যদায়িনী
তোমার দুধের মধ্যে এত জল কেন?
তোমার দুধের মধ্যে প্রতিশ্রুত ভাস্কর্যের পাথর কেবল।
.
যুদ্ধ
কবি পূর্ণেন্দু পত্রী (২.২.১৯৩১ - ১১.৩.১৯৯৭)। কবির ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত,
“রক্তিম বিষয়ে আলোচনা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
পূর্ণেন্দু পত্রী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
যে  আমাকে অমরতা দেবে
সে তোমার ছাপাখানা নয়,
সে আমার সত্তার সংগ্রাম
নিজের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়।
.
হালুম
কবি পূর্ণেন্দু পত্রী (২.২.১৯৩১ - ১১.৩.১৯৯৭)। কবির ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত, “হে সময় অশ্বারোহী
হও” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। ইবেঙ্গলিলাইব্রেরী.কম ওয়েবসাইট-এর কাছে কারণ আমরা এই
কবিতাটি সেখান থেকেই পেয়েছি। সেই এয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
পূর্ণেন্দু পত্রী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মাথায় মুকুটটা পরিয়ে দিতেই রাজা হয়ে গেলেন তিনি।
আর সিংহাসনে পাছা রেখেই হাঁক পাড়লেন
হালুম।
অমনি মন্ত্রীরা ছুটলো ঘুরঘুট্টি বনে হরিণের মাংস সেকতে
সেনাপতিরা ছুটলো খলখলে সমুদ্রে ফিস-ফ্রাইয়ের খোঁজে
কোতোয়ালরা ছুটলো হাটে-বাজারে যেখান থেকে যা আনা যায় উপড়ে
বরকন্দাজেরা ক্ষেত খামার লণ্ড ভণ্ড করে বানালো ফ্রুটস্যালাড।
রাজা সারলেন ব্রেক ফাস্ট।
তারপরেই সিং-দুয়ারে বেজে উঠলো সাত-মণ সোনার ঘন্টা।
এবার রাজদরবার।
আসমুদ্র-হিমাচলের ন্যাংটো, আধ ন্যাংটো জন্তু-জানোয়ারের ঝাঁক
পিলপিলিয়ে জড়ো হল রাজ-চত্বরে।
মন্ত্রী জানালো, প্রভু!
জনতা হাজির। ওরা প্রসাদ পেতে চায় আপনার অমৃত ভাষণের।
অমনি উত্তরে, দক্ষিণে, পুবে, পশ্চিমে, ঈশানে, নৈঋতে,
গাছে, পাতায়, শিশিরে, শ্মশানে, ধুলোয়, ধোঁয়ায়, কুয়াশায়
আকাশে, বাতাসে, হাড়ে মাংসে, পেটে, পাঁজরে
গর্জন করে উঠলো, সাড়ে সাতশো অ্যামপ্লিফায়ার
---হালুম।
.
কয়েকটি জরুরী ঘোষণা কবি পূর্ণেন্দু পত্রী (২.২.১৯৩১ - ১১.৩.১৯৯৭)। কবির ১৯৭৯ সালে
প্রকাশিত, “হে সময় অশ্বারোহী হও” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। ইবেঙ্গলিলাইব্রেরী.কম ওয়েবসাইট-এর কাছে
কারণ আমরা এই কবিতাটি সেখান থেকেই পেয়েছি। সেই এয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
পূর্ণেন্দু পত্রী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আগামী চোদ্দ বছর মহিষ কিংবা নেউল রঙের মেঘের মুখদর্শন করব না কেউ।
আগামী চোদ্দ বছর আমাদের কবিতা থেকে হিজড়ে-নাচন বৃষ্টির নির্বাসন।
স্বেচ্ছাচারী এবং হামলাবাজ হাওয়াকে চোদ্দ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছি আমি
আর পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় টেলিফোনে ট্রাঙ্কলে
রেডিওগ্রামে জানিয়ে দিয়েছি
সমস্ত বিক্ষুব্ধ জলস্রোত যেন মাটিতে নাক-খত দিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেয়
দুর্গত মানুষের কাদা-পায়ে।
প্রত্যেক নদীর বাঁধকে বলে দিয়েছি হতে হবে হিমালয়ের কাঁধ সমান
প্রত্যেকটা নদীকে হতে হবে পাড়াগার লাজুক বৌ
প্রত্যেকটা ব্যারেজকে জননীর গর্ভ।
ভবিষ্যতে আর কোনদিন যদি মানুষকে ভাসতে দেখি শিকড়হীন উলঙ্গ
আর কোনদিন যদি মানুষের সাজানো-নিকোনো স্বপ্নসাধের ভিতরে ঢুকে পড়ে
দুঃস্বপ্নের খল-খল হাসি, আঁকাবাঁকা সাপ, মরা কুকুরের কান্না আর ভাঙা শাঁখা
আর কোনদিন যদি মানুষের শ্রেষ্ঠতম সংলাপ হয়ে ওঠে হাহাকার
আর কোনদিন যদি মানুষের আলতা সিঁদুর পরা সতী-লক্ষ্মী গৃহস্থলিকে
আমি বাধ্য হবো সভ্যতার বিরুদ্ধে ফাঁসীর হুকুম দিতে।
যতদিন মানুষের গায়ে দুর্দিনের দুর্গন্ধ এবং নষ্ট জলরেখা
রোদের কামাই করা চলবে না একদিনও।

মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত আমি দেখে যেতে চাই।
সমন্ত পুরুষ সূর্যযুখী, নারীরা ঝুমকো জবা আর শিশুরা
কমলা রঙের বোঁটায় শাদা শিউলি।
.
কোনো কোনো যুবক যুবতি
কবি পূর্ণেন্দু পত্রী (২.২.১৯৩১ - ১১.৩.১৯৯৭)। কবির ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত, “হে সময় অশ্বারোহী হও” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। ইবেঙ্গলিলাইব্রেরী.কম ওয়েবসাইট-এর কাছে কারণ আমরা এই কবিতাটি সেখান থেকেই পেয়েছি। সেই
এয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
পূর্ণেন্দু পত্রী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
একালের কোনো কোনো যুবক বা যুবতীর মুখে
সেকালের মোমমাখা ঝাড়লষ্ঠন
স্তম্ভ ও গমবুজ দেখা ঘায়।
দেখে হিংসা জাগে।

মানুষ এখন যেন কোনো এক বড় উনোনের
ভাত-ডাল-তরকারির তলপেটে ভাইনীর চুলের
আগুনকে অহরহ জ্বালিয়ে রাখার
চেলা কাঠ, কাঠ-কয়লা-ঘুটে।

মানুষ এখন তার আগেকার মানুষ-জন্মের
কবচ, কুণ্ডল, হার, শিরস্ত্রাণ, বর্ম ও মুকুট
বৃষের মতন কাঁধ, সিংহ-কটি, অশ্বের কদম
পিঠে তৃণ, চোখে অহংকার
.
সব ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে একটা গগলস্‌ পেয়ে খুশি।
প্লাসটিকের মানিব্যাগ, নাইলনের জামা পেয়ে খুশি।
বোবা টেলিফোন পুষে তরতাজা বিল পেয়ে খুশি।
চারকোণা সংসারের চতুর্দিকে গ্রীল এটে খুশি।
বনহংসী উড়ে যায়, সে বাতাসে কাশের কত্থক
এয়ারকুলারে সেই বাতাসের বাসী গন্ধ পেয়ে বড় খুশি।

একালের কোনো কোনো যুবক বা যুবতীকে দেখে
অতীতের রাজশ্রীর, হর্ষবর্ষনের মতো লাগে।
দেখে হিংসা জাগে।
সোনার মেডেল
কবি পূর্ণেন্দু পত্রী (২.২.১৯৩১ - ১১.৩.১৯৯৭)
কবির ১৯৮০ সালে প্রকাশিত, “প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। ইবেঙ্গলিলাইব্রেরী.কম ওয়েবসাইট-এর কাছে
কারণ আমরা এই কবিতাটি সেখান থেকেই পেয়েছি। সেই এয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
পূর্ণেন্দু পত্রী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বাবুমশাইরা
গাঁগেরাম থেকে ধুলোমাটি ঘসটে ঘসটে
আপনাদের কাছে এয়েচি।
কি চাকচিকন শহর বানিয়েছেন গো বাবুরা
রোদ পড়লে জোছনা লাগলে মনে হয়
কাল-কেউটের গা থেকে খসেপড়া
রুপোর তৈরি একখান্‌ লম্বা খোলস।
মনের উনোনে ভাতের হাঁড়ি হাঁ হয়ে আছে খিদেয়
চালডাল তরিতরকারি শাকপাতা কিছু নেই
কিন্তু জল ফুটছে টগবগিয়ে।

বাবুমশাইয়া,
লোকে বলেছিল, ভালুকের নাচ দেখালে
আপনারা নাকি পয়সা দেন!
যখন যেমন বললেন, লেচে নেচে হদ্দ।
পয়সা দিবেন নি?
লোকে বলেছিল ভানুমতীর খেল দেখালে
আপনারা নাকি সোনার ম্যাডেল দেন।
.
নিজের করাতে নিজেকে দুখান করে
আবার জুড়ে দেখালুম,
আকাশ থেকে সোনালী পাখির ডিম পেড়ে
আপনাদের ভেজে খাওয়ালুম গরম ওমলেট,
বাঁজা গাছে বাজিয়ে দিলুম ফুলের ঘুঙুর।
সোনার ম্যাডেল দিবেন নি?

বাবুমশাইরা
সেই ল্যাংটোবেলা থেকে বড় শখ
ঘরে ফিরবো বুকে সোনার ম্যাডেল টাঙিয়ে
আর বৌ-বাচ্চাদের মুখে
ফাটা কাপাসতুলোর হাসি ফুটিয়ে বলবো
দেখিস! আমি মারা গেলে
আমার গা থেকে গজাবে
চন্দন-গন্ধের বন।
সোনার ম্যাডেল দিবেন নি?
মানুষ পেলে আর ইলিশমাছ খায় না
কবি পূর্ণেন্দু পত্রী (২.২.১৯৩১ - ১১.৩.১৯৯৭)
কবির ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত, “প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ ইবেঙ্গলিলাইব্রেরী.কম ওয়েবসাইট-
এর কাছে কারণ আমরা এই কবিতাটি সেখান থেকেই পেয়েছি। সেই এয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
পূর্ণেন্দু পত্রী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আমি খুব চিকেন খেতে ভালোবাসি
চিকেনগুলো নালা-নর্দমা খেতে ভালোবাসে
নালা নর্দমাগুলো ভালোবাসে কলকাতার চিতল-পেটি আ্যাভিনিউ
অ্যাভিনিউগুলো ভালোবাসে সমুদ্র-কাঁকড়ার মতো বাঁকড়া গাছের কাবাব।
তবে কলকাতার এখন ডায়াবেটিস।
কলকাতার ইউরিনে এখন বিরানব্বই পার্সেস্ট সুগার।
কলকাতার গলব্লাডারে ডাঁই ডাঁই পাথর
গাছপালা খেয়ে আগের মতো হজম করতে পারে না বলে
কলকাতা এখন মানুষ খায়।
আগে বছরে একবার কোটালের হাঁক পেড়ে
নদীগুলো ঢুকে পড়তো গ্রাম-গঞ্জের তলপেটে
ভাঙা তক্তাপোষ থেকে ঘুমন্ত বৌ-বাচ্চাদের তুলে নিয়েই
লাল-ঘূর্ণীর হেঁসেলে।
এখন নদীর দেখাদেখি বড় বড় হাইওয়ে
হাইওয়ের গণ্ডারদের দেখাদেখি ইলেকট্রিক ট্রেনের চিতাবাঘ
ডাঙার চিতাবাঘের দেখাদেখি আকাশের পেট্রোল চালিত ঈগল
সকলেরই মানুষ খাওয়ার খিদে বেড়ে গেছে সাঁই সাঁই।
.
কেবল কলকাতা নয়
পৃথিবীর সমস্ত বৈদ্যুতিক শহর
এখন মানুষ পেলে আর ইলিশমাছ খায় না।

তরতাজা যৌবন পেলে ছুড়ে দেয় হ্যামবার্গারের ডিস
পোর্সেলিনের বাটিতে হাড়-মাস-ভাসানো তরল স্যূপ পেলে
মাদ্রিদ থেকে মোরাদাবাদ
তেহেরোন থেকে ত্রিপুরা
গের্নিকা থেকে গৌহাটির
শিয়াল-শকুনের মুখে
বিসর্জনের রঘুপতি খিলখিল করে হেসে ওঠেন যেন।
নতুন শব্দ : সফদার হাসমি
কবি পূর্ণেন্দু পত্রী (২.২.১৯৩১ - ১১.৩.১৯৯৭)
কবির ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত, “রক্তিম বিষয়ে আলোচনা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ ইবেঙ্গলিলাইব্রেরী.কম ওয়েবসাইট-এর কাছে কারণ
আমরা এই কবিতাটি সেখান থেকেই পেয়েছি। সেই এয়েবসাইটে যেতে
এখানে
ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
পূর্ণেন্দু পত্রী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এই মৃত্যুশোক
কাঁধ থেকে নামানো যাবে না কোনোদিন।
আর বর্বরতা কি নির্বোধ।
যেন মৃত্যু হলেই মুছে যায়
প্রতিজ্ঞার প্রাণ।
আক্রমণ কোনো নতুন শব্দ নয়।
হিংসা কোনো নতুন শব্দ নয়।
নতুন শব্দ --- সফদার হাসমি।

সফদার হাসমি মানে জাগা,
জেগে থাকা,
জাগানো।
.
আবহমান ভগ্মী-ভ্রাতা
কবি পূর্ণেন্দু পত্রী (২.২.১৯৩১ - ১১.৩.১৯৯৭)
কবির ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত, “শব্দের বিছানা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা ভীষণভাবে
কৃতজ্ঞ ইবেঙ্গলিলাইব্রেরী.কম ওয়েবসাইট-এর কাছে কারণ আমরা এই কবিতাটি সেখান
থেকেই পেয়েছি। সেই এয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি
পূর্ণেন্দু পত্রী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ডাইনে বাঁয়ে দুইদিকে দুই বাংলা আমার
আপন স্বজন দুজন মাতা।
ভালোবাসার সাঁকোর ওপর পা টলমল পা টলমল
পা বাড়ালেই পদ্মা নদী
হাত বাড়ালেই পদ্ম পাতা
এবার পাবো।
আজান-বাজান ভাটিয়ালীর কণ্ঠনাসীর ছন্দগাথা
প্রবহমান নদীনালায় গুনতে যাবো।
পাঁজর পোড়া গর্ত খোঁড়া হাটের মাঠের ঘরের ঘাটের
সব দরজা জানলা খুলে খুঁজতে যাবো
অগ্নিবরণ ভোরবেলাতে আমরা কজন আবহমান
ভগ্রি-ভ্রাতা।

ভাইনে বাঁয়ে দুই দিকে দুই বাংলা আমার
আপন স্বজন দুজন মাতা।
.
আমাদের কলকাতা আমাদের নেই কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)। সুর - যতীন-
ললিত। কণ্ঠ - কুমার শানু। গানটি আমরা পেয়েছি কবির ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয় গান” গীতি-সংকলন গ্রন্থ থেকে।
গানটি শুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে
kotha O sur YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আমাদের কলকাতা আমাদের নেই
বাঙালীর কোলকাতা বাঙালীর নেই
কোলকাতা বেচে দিয়ে আমরা যাচ্ছি দূরে দূরে
আমতলা মল্লিকপুরে !

চিনিনা ওদের ওরা কারা
সেরে ফেলে ভাগ বাঁটোয়ারা
কোলকাতা সাজাতে করছে লড়াই
কোলকাতা নিয়ে আজ করছে বড়াই
লাটাই ওদের দিয়ে ঘুঁড়িটার কাঁপ ছুঁয়ে
আমরা শুধু যে তাতে দিচ্ছি ধরাই!
ওদের বসিয়ে দিয়ে আমরা যাচ্ছি দূরে দূরে
মুড়াগাছা বেল পুকুরে!

মোদের গরব মোদের আশা
আমরি বাংলার এই ভাষা
কোলকাতা শহরেতে ক'জন শেখায়
বাঙালীর অ আ ক খ ক’জন লেখায়
.
বিধাতা পুরুষও নিজে বাংলা লেখেন না যে
কোলকাতা বাসীদের ভাগ্য রেখায়
কোলকাতা ছেড়ে দিয়ে আমরা যাচ্ছি দূরে দূরে
জঙ্গলে আঁস্তাকুড়ে!!

আমাদের কলকাতা আমাদের নেই
বাঙালীর কোলকাতা বাঙালীর নেই
বাঙালীর গড়া এই বাংলা কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)। সুর - বাবুল বসু। কণ্ঠ - মিঠুন
চক্রবর্তী। গানটি আমরা পেয়েছি কবির ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয় গান” গীতি-সংকলন গ্রন্থ থেকে। গানটি শুনুন
ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Melorhyth Orchestra - Topic YouTube Channel.। কবির গানের বইতে পাওয়া কথার
সাথে গানে গীত কথার কিছু অমিল থাকতে পারে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম!

বাঙালীর / আমাদের গড়া এই বাংলা
শস্য সবুজ চির শ্যামলা
আজ কেন হয়ে গেলো ক্যাংলা
যদি প্রশ্ন করে বীর নেতাজী
কী তার জবাব দেবো আমরা?
আমাদের বিনয় বাদল
দীনেশ বাঘা যতীন
রক্তে রাঙা ওই ঝাণ্ডা
স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালীর রক্ত
ইতিহাসে হোক আরো অমলিন!
লক্ষ শহীদের খুনে
ভেজানো এই যে মাটি
জগতের যতো সোনা আছে
সকলের চাই তে খাঁটি
যে বাঁশের লাঠিভাঙে অনাচার অবিচার
হঙ্কার দিক্ সেই লাঠি!!
.
সাগর সঙ্গমে
কথা -কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯) এবং কবি ভূপেন হাজারিকা (৮.৯.১৯২৬ - ৫.১১.২০১১)। সুর ও শিল্পী - ভূপেন
হাজারিকা। “জীবনতৃষ্ণা” ছায়াছবির এই গানটি আমরা পেয়েছি কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয় গান” গীতি-
সংকলন গ্রন্থ থেকে। ভূপেন হাজারিকার কন্ঠে জীবনতৃষ্ণা ছায়াছবির গানটি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে
Angel Bengali Songs Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সাগর সঙ্গমে সাঁতার কেটেছি কত কখন তো হই নাই ক্লান্ত
সাগর সঙ্গমে সাঁতার কেটেছি কত কখন তো হই নাই ক্লান্ত
তথাপি মনের মোর প্রশান্ত সাগরের উর্মিমালা অশান্ত
সাগর সঙ্গমে

মোর মনের প্রশান্ত সাগরের বক্ষে জোয়ারের নাই আজি অন্তঃ
অজস্র লহরী নব নব গতিতে এনে দেয় আশা অফুরন্ত
সাগর সঙ্গমে

মোর প্রশান্ত পারেরো কত মহাজীবনের শান্তি আজি আক্রান্ত
নব নব সৃষ্টিকে দৈত্য দানবে করে নিষ্ঠুরাঘাত অবিশ্রান্ত
তাইতো মনের মোর প্রশান্ত সাগরের উর্মিমালা অশান্ত
সাগর সঙ্গমে

ধ্বংসের আঘাতে দিয়ে যায় প্রতিঘাত, সৃষ্টির সেনানী অনন্ত
সেই সংঘাত আনে মোর প্রশান্ত সাগরে প্রগতির নূতন দিগন্ত
তাইতো মনের মোর প্রশান্ত সাগরের উর্মিমালা অশান্ত
সাগর সঙ্গমে সাগর সঙ্গমে
.
মোর গভীর প্রশান্ত সাগরের শক্তি ধ্বংসকে করে দিকভ্রান্ত
অগমন মানুষের শান্তির অভিযান সৃষ্টিকামী জীবন্ত
তাইতো মনের মোর প্রশান্ত সাগরের উর্মিমালা অশান্ত
সাগর সঙ্গমে সাগর সঙ্গমে

সাগর সঙ্গমে সাঁতার কেটেছি কত কখন তো হই নাই ক্লান্ত
তথাপি মনের মোর প্রশান্ত সাগরের উর্মিমালা অশান্ত
সাগর সঙ্গমে
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
সাগর সঙ্গমে
কথা - কবি ভূপেন হাজারিকা (৮.৯.১৯২৬ - ৫.১১.২০১১) এবং কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)। সুর ও শিল্পী - ভূপেন
হাজারিকা। “জীবনতৃষ্ণা” ছায়াছবির এই গানটি আমরা পেয়েছি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয় গান” গীতি-
সংকলন গ্রন্থ থেকে। ভূপেন হাজারিকার কন্ঠে জীবনতৃষ্ণা ছায়াছবির গানটি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে
Angel Bengali Songs Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সাগর সঙ্গমে সাঁতার কেটেছি কত কখন তো হই নাই ক্লান্ত
সাগর সঙ্গমে সাঁতার কেটেছি কত কখন তো হই নাই ক্লান্ত
তথাপি মনের মোর প্রশান্ত সাগরের উর্মিমালা অশান্ত
সাগর সঙ্গমে

মোর মনের প্রশান্ত সাগরের বক্ষে জোয়ারের নাই আজি অন্তঃ
অজস্র লহরী নব নব গতিতে এনে দেয় আশা অফুরন্ত
সাগর সঙ্গমে

মোর প্রশান্ত পারেরো কত মহাজীবনের শান্তি আজি আক্রান্ত
নব নব সৃষ্টিকে দৈত্য দানবে করে নিষ্ঠুরাঘাত অবিশ্রান্ত
তাইতো মনের মোর প্রশান্ত সাগরের উর্মিমালা অশান্ত
সাগর সঙ্গমে

ধ্বংসের আঘাতে দিয়ে যায় প্রতিঘাত, সৃষ্টির সেনানী অনন্ত
সেই সংঘাত আনে মোর প্রশান্ত সাগরে প্রগতির নূতন দিগন্ত
তাইতো মনের মোর প্রশান্ত সাগরের উর্মিমালা অশান্ত
সাগর সঙ্গমে সাগর সঙ্গমে
.
মোর গভীর প্রশান্ত সাগরের শক্তি ধ্বংসকে করে দিকভ্রান্ত
অগমন মানুষের শান্তির অভিযান সৃষ্টিকামী জীবন্ত
তাইতো মনের মোর প্রশান্ত সাগরের উর্মিমালা অশান্ত
সাগর সঙ্গমে সাগর সঙ্গমে

সাগর সঙ্গমে সাঁতার কেটেছি কত কখন তো হই নাই ক্লান্ত
তথাপি মনের মোর প্রশান্ত সাগরের উর্মিমালা অশান্ত
সাগর সঙ্গমে
কবি ভূপেন হাজারিকা
এক যে ছিল দুষ্টু ছেলে মায়ের কথা মানতো না কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)।
সুর - অমল মুখোপাধ্যায়। কণ্ঠ - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ভিডিওটি সৌজন্যে
Hemant Kumar - Topic YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এক যে ছিল দুষ্টু ছেলে মায়ের কথা মানতো না
মায়ের মতন এত আপন কেউ কোখা নেই জানতো না
এক যে ছিল দুষ্টু ছেলে মায়ের কথা মানতো না
মায়ের মতন এত আপন কেউ কোখা নেই জানতো না
অকালে সে পথ হারালো গোলোক ধাঁধায় পা বাড়ালো
খোলা পথের মানুষ তাকে কাছেতে আর ডাকতো না
ফুলের মতো ছেলের দলে সে পেলো আজ সান্ত্বনা
বড় হবো আমরা তবে বুড়ো হবো না
কেউ কোনো দিন মায়ের মনে দুঃখ দেবো না
মান অপমান কেউ কোনো দিন মেনে নেবো না
বড় হবো আমরা তবে বুড়ো হবো না

বলতো
মায়ের ডাকে দামাল ছেলে বিপদ বাধা দূরে ঠেলে
ঝড়ের রাতে দামোদরে সাঁতার দিলো কে
বলতো
মায়ের ডাকে দামাল ছেলে বিপদ বাধা দূরে ঠেলে
ঝড়ের রাতে দামোদরে সাঁতার দিলো কে?
জানি তাঁর বিদ্যাসগর নাম নিবাস বীরসিংহ গ্রাম

হাসিমুখে ফাঁসীকাঠে দাঁড়িয়েছিল কে?
ছোট্ট হাতেই রাজার আসন নাড়িয়েছিল কে?
বলতো কি ছিল তাঁর নাম?
শহীদ খুদিরাম শহীদ খুদিরাম
.
ছুটবো সবাই, খেলবো সবাই, দস্যি হবো, শান্ত না।
শৃঙ্খলটা ভাঙবো সবাই, শৃঙ্খলা কেউ ভাঙবো না।
ছুটবো সবাই, খেলবো সবাই, দস্যি হবো, শান্ত না।
শৃঙ্খলটা ভাঙবো সবাই, শৃঙ্খলা কেউ ভাঙবো না॥

রক্ত দিয়ে শুধতে চেয়ে দেশের মায়ের ঋণ,
আজাদ সেনা সাজিয়ে নিয়ে এল সে একদিন ---
লিখলো কে এই নতুন ইতিহাস?
সে যে নেতাজী সুভাষ, নেতাজী সুভাষ।
নেতাজী সুভাষ, নেতাজী সুভাষ॥

ছুটবো সবাই, খেলবো সবাই, দস্যি হবো, শান্ত না।
শৃঙ্খলটা ভাঙবো সবাই, শৃঙ্খলা কেউ ভাঙবো না।
ছুটবো সবাই, খেলবো সবাই, দস্যি হবো, শান্ত না।
শৃঙ্খলটা ভাঙবো সবাই, শৃঙ্খলা কেউ ভাঙবো না॥
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এ বেজায় ভারী শহর কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)। সুর - অনল চট্টোপাধ্যায়। কণ্ঠ - সতীনাথ
মুখোপাধ্যায় ও উৎপলা সেন। “মায়াবিনী লেন” ছায়াছবির এই গানটি আমরা পেয়েছি কবির ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয় গান”
গীতি-সংকলন গ্রন্থ থেকে। ভিডিওটি সৌজন্যে
pujan kumar daripa YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এ বেজায় ভারী শহর গাড়ীরবহর চোখ ধাঁধানো মেলা
রং-বেরঙের চাঁদির চমক লাখ-বেলাখের খেলা
হায় রাম জী রাম জী  তেরা জয় জয় জয় জয়কার
হায় রাম জী রাম জী  একী অবিচার!
কে কোথায়  পথের ধারে ভূখা কাঁদে  কে জানে তার নাম
প্রাণের কেন  নেইকো হেথায়  কানাকড়ির দাম
কেন উল্টা বুঝলি রাম।
দুনিয়ার ভেতরটা সব কালোয় ভরা বাইরেতে চুণকাম!!

এশহর  হাজার বাতির আলোয় মাতাল
তাল-বেতালে ভরা
খোলস পরা ফানুস ঘোরে মানুষ ক’জন তারা
এখানে দিন মজুরেরি বরাতে হায় মেলে নাকো কাম
বস্তি ভরা কান্না শুধু মহলে ধুমধাম।
কেন উল্টা বুঝলি রাম!
দুনিয়ার ভেতরটা সব কালোয় ভরা বাইরেতে চুণকাম!!

শহরে সাজা রাজার কদর আছে আসলের দাম নেই
ঝুট্ করে হায় বাজী মাৎ সাচ্চা কাঁদে তাই।
হায়রে হায় সিধে পথে চলতে গেলে হবেরে বদ্নাম
আলো কেন করে হেথায় আঁধারকে সেলাম
কেন উল্টা বুঝলি রাম!
দুনিয়ার ভেতরটা সব কালোয় ভরা বাইরেতে চুণকাম!!
.
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এখানে যক্ষপুরীর বন্দীশালায় কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)। সুর - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।
কণ্ঠ - আরতি মুখোপাধ্যায়। “নদী থেকে সাগরে” ছায়াছবির এই গানটি আমরা পেয়েছি কবির ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয়
গান” গীতি-সংকলন গ্রন্থ থেকে। ভিডিওটি সৌজন্যে
eladey1949 YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এখানে যক্ষপুরীর বন্দীশালায় গানগেয়ে যায় স্বর্ণসীতা
ভালোবাসার পন্য সাজায় কন্যা মাতা বধূ মিতা
যারা মায়ের জাতির মুক্তি নিয়ে সভায় করো আন্দোলন
তারা সব কোথায় এখন?
এখানে যক্ষপুরীর বন্দীশালায়

এখানে নকল হাসির তুফান ওঠে বুকের কান্না পাথর করে
সন্তান রয় অন্ধকারে হাজার আলো মায়ের ঘরে
যারা পনমান্ন সাজিয়ে করো গোপাল ভোগের আয়োজন
তারা সন কোথায় এখন??
এখানে যক্ষপুরীর বন্দীশালায়

এখানে দ্রৌপদীরা লজ্জা হারায় ওই নারায়ণ নীরব থাকে
নারীর দুচোখ মায়ের ছায়া নীল কাজলে লুকিয়ে রাখে
যারা মাতৃনামের দোহাই নিয়ে পার হয়ে যাও তিন ভুবন!
তারা সব কোথায় এখন??
এখানে যক্ষপুরীর বন্দীশালায় গানগেয়ে যায় স্বর্ণসীতা
ভালোবাসার পন্য সাজায় কন্যা মাতা বধূ মিতা
এখানে যক্ষপুরীর বন্দীশালায়
.
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ও আমার সমাজপতি কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)। সুর - মান্না দে। কণ্ঠ - আরতি মুখোপাধ্যায়
। “শেষ পৃষ্ঠায় দেখুন” ছায়াছবির এই গানটি আমরা পেয়েছি কবির ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয় গান” গীতি-সংকলন গ্রন্থ থেকে
। ভিডিওটি সৌজন্যে
Aarti Mukherji - Topic YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ও আমার সমাজপতি
সেলাম তোমায় সেলাম
আমি যেই পথের খোঁজে বাইরে এলাম
তোমার দয়ায় অমনি হঠাৎ ভেসে গেলাম !
ও আমার সমাজপতি
সেলাম তোমায় সেলাম

যেটা গলার জোরে বললে ভালো
সেটাই ভালো
তুমি কালো বলে যা দেখালে
সেটাই কালো
না চেয়েই তোমার নিদান
তোমার বিধান এমনি পেলাম !
ও আমার সমাজপতি
সেলাম তোমায় সেলাম

তুমি যে রাগেতে যা গাওয়ালে
সেটাই গাওয়া
তুমি যুগের হাওয়ায় যা খাওয়ালে
সেটাই খাওয়া
আমি শুধু নিজের দোষে
খেতে বসে বিষম খেলাম !!
.
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ও আমার সমাজপতি
সেলাম তোমায় সেলাম
আমি যেই পথের খোঁজে বাইরে এলাম
তোমার দয়ায় অমনি হঠাৎ ভেসে গেলাম !
ও আমার সমাজপতি
সেলাম তোমায় সেলাম
ও বাঙালী ভুল কোরো না কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)। সুর - অজয় দাস। কণ্ঠ - শিবাজী
চট্টোপাধ্যায় । “শ্রীমতী হংসরাজ” ছায়াছবির এই গানটি আমরা পেয়েছি কবির ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয় গান” গীতি-
সংকলন গ্রন্থ থেকে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Shivaji Chattopadhyaya - Topic YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ও বাঙালী ভুল কোরো না    গেয়োনা এমন গান
যাতে জগৎসভায় লুটিয়ে পড়ে   বাংলা ভাষার মান !

বলো   কে বলে এই   গানের দেশে
ঝুলি তোমার খালি
তোমার আছে কীর্তন বাউল
ঝুমুর ভাটিয়ালী
তুমি সমাদরে   দাও ফিরিয়ে   পরের দেওয়া দান
যাতে   জগৎ সভায়   বেঁচে থাকে
বাংলা ভাষার মান!
ও বাঙালী ভুল কোরো না    গেয়োনা এমন গান
যাতে জগৎসভায় লুটিয়ে পড়ে   বাংলা ভাষার মান !

তোমার চণ্ডীদাসের গান রয়েছে
করছো কেন ভুল
আছে লালন ফকির রবি ঠাকুর
কবি নজরুল
কেন   নিজের হাতে ছুরি মেরে
নিচ্ছো নিজের প্রাণ?
তুমি বেঁচে থাকো বাঁচিয়ে রাখো
বাংলা ভাষার মান!!
ও বাঙালী ভুল কোরো না    গেয়োনা এমন গান
যাতে জগৎসভায় লুটিয়ে পড়ে   বাংলা ভাষার মান !
.
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
খিড়কি থেকে সিংহ দুয়ার কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)। সুর - নচিকেতা ঘোষ।
কণ্ঠ - হেমন্ত মুখোপাধ্যায় । “স্ত্রী” ছায়াছবির এই গানটি আমরা পেয়েছি কবির ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয় গান” গীতি-সংকলন
গ্রন্থ থেকে। গানটি শুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Music Is Love YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
খিড়কি থেকে সিংহ দুয়ার
এই তোমাদের পৃথিবী
এর বাইরে জগৎ আছে---তোমরা মানো না !
তোমাদের কোনটা হাসি কোনটা ব্যথা
কোনটা প্রলাপ কোনটা কথা
তোমরা নিজেই জানো না !

তোমরা পায়রা ওড়াও বাজী পোড়াও
কপালে আগুন দিয়ে মনও পোড়াও
তোমাদের কোনটা বাসর কোনটা হারেম---
কোনটা নেশা কোনটা যে প্রেম
তোমরা নিজেই জানোনা---!

জানলার ঝিলমিলিটার পাখী তুলে
তোমরা তাকাও শুধু চোখের ভুলে
তোমাদের কোনটা আসল কোনটা নকল
কোনটা শুধুই জবর দখল
তোমরা নিজেই জানো না !!
.
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মানুষ যে আজ নেইকো মানুষ কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)। সুর - বাপী লাহিড়ী । কণ্ঠ -
কুমার শানু । “বলিদান” ছায়াছবির এই গানটি আমরা পেয়েছি কবির ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয় গান” গীতি-সংকলন গ্রন্থ থেকে
। গানটি শুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Kumar Sanu - Topic YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মানুষ যে আজ নেইকো মানুষ
দুনিয়াটা শুধু স্বার্থের
পর আজ ভাই বোন
সবাই নিজের নিজের !
নেই তো কোথাও ভালোবাসা
স্নেহ করুণা প্রীতির ভাষা
সবাই যে আজ টাকার গোলাম
অর্থ-ই বড়ো সকলের !
ভয়ে ভয়ে তাই সূর্য ওঠে
অসহায় ফুল গাছেতে ফোটে
চোখের ওপর যে হয় বলিদান
মায়া নেই তবু মানুষের !!
.
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
লাথি খেয়ে আর কতদিন মরবি তোরা কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)। সুর - হেমন্ত
মুখোপাধ্যায় । কণ্ঠ - মান্না দে ও সমবেত । “গণদেবতা” ছায়াছবির এই গানটি আমরা পেয়েছি কবির ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয়
গান” গীতি-সংকলন গ্রন্থ থেকে। মান্না দে'র কন্ঠে গণদেবতা ছায়াছবির গান শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে
Gaaner Dali YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
লাথি খেয়ে আর কতদিন মরবি তোরা
একবার রুখে দাঁড়া!
শোন্ শোন্‌ ওই ভৈরব ডমরু বাজায়
শিকল ভেঙে বুক ফুলিয়ে আয় এগিয়ে আয়
এইবার জোট বেঁধে আয় ওদের তাড়া!
ভুলিস কেনরে ভাই মানুষের মধ্যে আছেন ভগবান
তারে কোন সাহসে করিস তোরা অপমান ;
শেষ হোক্ সব আনাচার সুরু হোক্‌ কালের বিচার
কিছুতেই কেউ যেন আর পায় না ছাড়া !!
.
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শুধু একটা শহীদ ক্ষুদিরাম কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)। সুর - বাবুল বসু। কণ্ঠ - মিঠুন চক্রবর্তী।
এই গানটি আমরা পেয়েছি কবির ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয় গান” গীতি-সংকলন গ্রন্থ থেকে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Melorhyth
Orchestra - Topic Channel. কবির গানের বইতে পাওয়া কথার সাথে গানে গীত কথার কিছু অমিল থাকতে পারে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
শুধু একটা শহীদ ক্ষুদিরাম
লক্ষ বছর ধরে একটা জাতিকে দেয়
শ্রেষ্ঠ জাতির শিরোনাম!
ও বাঙালী ক্ষুদিরাম ক্ষুদিরাম
প্রণাম তোমায় প্রণাম!
স্বাধীনতার ওই সূর্য তোরণে
তোমার প্রাণের আলো
ধুয়ে দিয়ে গেছে রক্ত শিখায়
অনেক আঁধার কালো
অন্ধ যারা দ্যাখো না তাকে ইতিহাস শুধু নীরবে লেখে
সূর্যের অক্ষরে তোমার-ই নাম!
হাসি মুখে ফাঁসি গলায় পরে যে
পথের নিশানা দিলে
সেই পথে চলে যারা ভুলে যায়
এ-পথথ তুমিই দ্যাখালে
তাদের ক্ষমা করবো না তো শোধ দিতে কেউ পারবো না তো
মরণের ভাঙা হাটে জীবনের দাম!!
.
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শোনাও আবার আমাকে রক্ত দাও কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২.৫.১৯৩১ - ৭.৯.১৯৯৯)। সুর - মধুগোপাল বর্মন ।
কণ্ঠ - অভিজিৎ। “ভাগ্য দেবতা” ছায়াছবির এই গানটি আমরা পেয়েছি কবির ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “আমার প্রিয় গান” গীতি-সংকলন গ্রন্থ
থেকে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Various Artists - Topic YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
শোনাও আবার আমাকে রক্ত দাও
আমি দেবো স্বাধীনতা
টাকার-ই অধীনে মাথা হেঁট করা
শোনো মানুষের ব্যাথা!
বড়ো একালাগে কেউ নেই বলে
ফেলে চলে গেছো তোমরা সকলে
নেতাজী স্বামীজী রবীন্দ্রনাথ
ফিরে এসো রাখো কথা!
কাণ্ডারী নেই তরী বেসামাল
অতলে হারাবো কেউ ধরো হাল
যা-কিছু মহান হলো বলি দান
কেঁদে মরে সভ্যতা !!
.
কবি পুলক
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ক্ষমতার পিরামিড কবি অপরাজিতা গোপ্পী (জন্ম ১৬.৬.১৯৩১)। কবি ফরওয়ার্ড ব্লক দলের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্যা। এই কবিতাটি,
নন্দীগ্রামে ১৪ই মার্চ ২০০৭ এর গণহত্তার পর, “দৈনিক স্টেটসম্যান” পত্রিকাতে ১৯ এপ্রিল ২০০৭ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ফাগুণের আকাশভরা এত আনন্দ
পলাশের রঙে অরণ্য উঠেছে রাঙা হয়ে
কোকিলের কুহুতান রোমাঞ্চিত প্রকৃতি।
কিন্তু হঠাত্ এত শোনিতধারা
কোথা থেকে বয়ে আনে জিঘাংসার ভয়ঙ্কর বার্তা?
সবুজ ধানের ক্ষেত হয়ে ওঠে রক্তনদী।
এ নদী কোনদিকে হবে প্রবাহিত?
রুদ্ধ হবে স্রোত, নাকি সমুদ্রে হবে হারা?
ফাগুনের আগুন হয়ে ঝরে পড়ছে
বুলেটবিদ্ধ মানুষের আর্তনাদ---
মৃত্যুর মিছিলে অরণ্যের অন্ধকারে
শকুনের ডানা ঝাপটার শব্দ।
এ কোন গ্রহ? কোন গ্রহের অধিবাসী আমরা?
নরমেধ যজ্ঞের আগুনে ধরিত্রী আজ ধর্ষিতা।
গড়ে উঠেছে পিরামিড সাম্যবাদ-পুঁজিবাদের সমন্বয়ে,
কৃষকের মৃতদেহের উপর গড়ে ওঠা
পিরামিড বেয়ে কারা যেন চূড়ায় উঠছে।
চূড়ায় বসে দূরবীন নিয়ে রাজা
নব আবিষ্কারে আহ্লাদিত
পারিষদ-বেষ্টিত কস্তুরীর গন্ধে বিমোহিত।
.
কবি অপরাজিতা
গোপ্পী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   

গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে রকেট ছুটছে
দূরবীনে দৃশ্যের পর দৃশ্য ভেসে উঠছে।
অদূরে ওরা কারা? কতগুলি উলঙ্গ নারীদেহ
বুলেটে বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে মুখ থুবড়ে
পড়ে আছে রক্তমাখা সবুজ ধান ক্ষেতে,
স্বপ্নের দিশারী অর্ধউলঙ্গ শিশুরা
রক্তের নিরানি দিয়ে ফসলের উত্সবে উঠেছে মেতে।
নারী-শিশুর রক্তে সোনালী ধানক্ষেত হয়ে ওঠে
ফাগুনের আগুনঝরা বিদ্রোহের বহ্নিশিখা,
পিরামিড ঘিরে পড়ে থাকে সারি সারি লাশ!
সমাজতন্ত্রের কবরের উপর
জ্বলে ওঠে পুঁজিবাদের পিলসুজ!

রাজা তুমি কি শুনতে পাচ্ছ
স্বৈরাচারী শাসকের পাশবিক উল্লাস?
শুনতে পাচ্ছ, অত্যাচারিত পদদলিত
মানুষের কান্নার হাহাকার?
সমতলের অরণ্য অন্ধকারে ধর্ষিতা নারীর
আগুনে ঝলসানো মৃতদেহ দেখতে পাচ্ছ?
দেখতে পাচ্ছ মাতৃত্বের নিরাভরণ বিমুক্তি?
জীবিতাবস্থায় যাদের ছবি
কেউ তোলে না তারা আজ টিভি-র পর্দায়
সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় জ্বলজ্বল করছে।
রাজা, পিরামিডের চূড়া কি আকাশ ছুঁয়েছে?
সূর্যের আলো কি রক্তনদীর বুকে রামধনুর
মতো দৃষ্টি নন্দন হয়ে উঠেছে?
রক্ত ঝরছে, অন্ধকারে ঢেকে গেছে ধরিত্রী,
ধর্ষিতা নারীর মৃতদেহ বেওয়ারিশ লাশ
হয়ে পড়ে আছে মাঠের গহ্বরে।
আর রাজা পিরামিডের চূড়ায় বসে স্বপ্ন দেখছে---
রাশি রাশি লাশ মানে রাশি রাশি অর্থ, রাশি রাশি বুলেট
এবং প্রচুর উল্লাস।
ভাঙ্গী রমণীর ক্রোধে কবি কবিতা সিংহ (১৬.১০.১৯৩১ ~ ১৫.১০.১৯৯৮)। কবির প্রস্তাবিত কাব্যগ্রন্থ
“বিমল হাওয়ার হাত ধরে”-এর কবিতা। আমরা পেয়েছি দে’জ পাবলিশিং এর ২০০৯ সালে প্রকাশিত “কবিতা
সিংহের শ্রেষ্ঠ কবিতা” ৩য় সংস্করণ থেকে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ধুউশ করে জ্বলে গেল ভিত থেকে চাল
মুহূর্তেই সংসার জঞ্জাল
ভাঙ্গী রমণী একা তাকাল ঊরুর দিকে তার
কালো ত্বক বেয়ে ক্রমে অর্থহীন নামে রক্তধারা।
এতদিন তার,---চোখের কোটরে শুধু গাঢ় ভয় ছিল
বড় অন্ধ, অসহায় ভয়
গভীর সন্ত্রাস ছিল সঙ্কোচ বেদনা
নিজের আজন্ম পাপ জন্ম অস্পৃশ্যতা
অপবিত্র শিশু স্বামী আত্ম পরিজন
আকাশ নদী ও ভূমি শস্যের মতন
.                 মৌল শুদ্ধতাকে--
দখল করেছে বলে অপরাধে বড় ছোট ছিল
রক্তের মোড়কে রাখা মজ্জাগত গাঢ় অশৌচ
যাঁতার মতনতার বুক ভেঙে পিষেছে বিস্বাদ!
তবু আজ, তার নগ্নতার আর--বাকি নেই
কোনো ঘোর ভয়---ব্রাহ্মণ বাটপাড়---
ধরনীর মত তাকে কর্ষণে করেছে রজস্বলা
শাড়ির সঙ্গে তার উড়েছে ভীরুতা
এখন ভিতরে তার শুধু ক্রোধ শুদ্ধ ঘোর ক্রোধ!
.
কবি কবিতা সিংহ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   

মন্দিরে যায় নি নারী দেখে নি সে অবিকল
তারই
নগ্ন কালো রক্তজিহ্ব প্রতিমার
.           অদ্ভুত বিশাল
এলো চুলে কাল স্তর! খড়্গে জ্বলে লাল
স্পৃশ্যতার কূটকচাল আজ জেনে গেছে ভাঙ্গী রমণী।

শুধু দুই চক্ষু নয় ধ্বক্ ধ্বক্ কপালের চোখ
জ্বলে উঠে পেতে চায় পদতলে রাজপুত লোক
ক্রোধ তার জ্বলে উঠে বুক থেকে অন্য বুকে যায়
উরন্ত সর্পের মত ভয়হীন পায়ের তলায়
পিষে যায় লোক নয় পোক্
ভাঙ্গী রমণীর শাপে খাক্ হোক
ব্রাহ্মণের দর্প খাক্ হোক!
ভ্রূণা
কবি কবিতা সিংহ (১৬.১০.১৯৩১ ~ ১৫.১০.১৯৯৮)। ১৯৮৫ সালে
প্রকাশিত কবির “হরিণাবৈরী” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
(যখন গর্ভস্থ ভ্রূণের লিঙ্গনির্ণয় সম্ভব হলো)

আমরা ভ্রূণ না    ভ্রূণা
জন্ম দিও না      মা!
মা আমার জেনে শুনে কখনো উদরে
ধরোনা এ বৃথা মাংস
অযাচিত কখনো ধরোনা।

আর ভয় নেই কোনো ভয়
যত গর্ভবতী ভাঙো শোক
নিশ্চিন্ত হোক সর্বলোক
হলুদ-বসন্ত পাখি ডাকুক নির্ভীক স্বরে হোক
গেরস্তের  ঘরে ঘরে
খোকা হোক! খোকা হোক! শুধু খোকা হোক!
.
কবি কবিতা সিংহ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আজীবন পাথর-প্রতিমা
কবি কবিতা সিংহ (১৬.১০.১৯৩১ ~ ১৫.১০.১৯৯৮)। ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত কবির “কবিতা পরমেশ্বরী”-কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মা, হাতের উল্টোপিঠে মুছে নিয়েছি শেষবারের মত
দু’চোখ ছাপিয়ে নামা,চোখের জলের বৃথা দাগ
বেণীর সাটিন খুলে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে গেছি আমি
অশ্বক্ষুরে ঝন্ ঝন্ নারীদের দর্পণ ফাটায়ে
খরকরবালে একা   পিতার  রক্ষিতার মুন্ড এনে দিতে।

তাই ঘৃণা, দুই চোখ কাজল জানেনি
নারীর শৃঙ্গার ছলা দর্পণের পায়ে পায়ে ক্লিন্ন অধীনতা
কার জন্য এত সাজ? বক্ষ বাঁধা? নীবি?
সমস্ত পুরুষ সেই আদি পিতা, নিষ্ঠুর অশুচি
তোমার স্তনের থেকে ছিন্ন করে ভুবন ঘোরাবে।

মা, আমি কি তেমন হব? রক্ষিকতামন্যস্ফীত স্তনিত শঙ্খিনী?
মেডেলে পদকে স্বর্ণে ব্যর্থ বিজয়িনী?
শয্যায় পুরুষ হত্যা, পিতৃহত্যা শুদ্ধ নয় মাতা
রণক্ষেত্রে দেখা হবে সম্মুখ সমরে তীব্র ইস্পাতের অচিত্র-অঙ্গদে।
আমি ত শিখিনি মাতা রমণীয় পশ্চাদপসরণ।

মা, হাতের উল্টোপিঠে মুছে নিয়েছি শেষবারের মত
ঠোঁটের কোণার থেকে তোমার দুধের খাঁটি স্বাদ
সেই থেকে সব প্রেম সব দুঃখ সমস্ত বিচ্ছেদ
.
কবি কবিতা সিংহ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
উদ্ধত অশ্বের ক্ষুরে খান্ খান্ করুণ আস্থায়ী
আমি শুধু ছুটে যাই, ছিলাটান, এক অক্টেভ থেকে
অক্টেভ অন্তরে স্থায়ী রাগে
আর ক্রুদ্ধ প্রতিশোধী, গ্রীবা ফেরালেই পাই ওই মুখ
গরীয়সী যেন স্বর্গাদপি।
হে আমার আদিপিতা, হে আমার আদিম প্রেমিক
তোমার বিচ্ছেদ দষ্ট যেন কালসর্পদষ্ট দয়িতার ওই মুখ
কোনোদিন তুমি দেখলে না।

এসো মা, তোমায় দেখি,  আমি তোর ব্রাত্যকন্যা
আজীবন পাথর প্রতিমা।
বৃদ্ধ বেশ্যা তপস্বিনী
কবি কবিতা সিংহ (১৬.১০.১৯৩১ ~ ১৫.১০.১৯৯৮)। ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত কবির
“কবিতা পরমেশ্বরী”-কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
হঠাৎ তোমাকে কেন রঙীন ‘অফসেট্’ মনে হ’ল?
হঠাতই ল্যাকারকরা চুল
সিল্ক স্ক্রীন শাড়ী?
বহু বর্ণে সুশোভিত ‘লেদার বাউন্ড’---
শরীরে নিখুঁত ‘লাইনো’
মলাটে ‘মেডেন ফর্ম’হল্ দে লাল বিবাহ মরশুম
বুদ্ধি করে কে এঁকেছে তোমার ‘কভার’?

বিয়ের বাজারে তুমি পড়তে পাবে না নারী
পড়ার আগেই বিকে যাবে

এযাবত সব বাত্সায়ন কে শেখালো? কখন শেখালো?
বলল সে, ---‘শিখিয়েছে হীরামালিনী গো’!

বিঘে সুন্দর কেচ্ছা তুমি কি পড়োনি?
মাসীর মেয়েতে আজ ছেয়ে গেছে পেনেটি
টেরিটি!

এ বয়সে আর কিবা পারি?
ভদ্রবেশ্যা বানানোর টিপস্ বলে দিই হপ্তায় হপ্তায়
যেভাবে ঘোড়ার টিপস্ বলে দেয় দেউলে-ঘোড়েল

সেইভাবে কচি কচি খুকিদের ব্যবসা শেখাই।
.
কবি কবিতা সিংহ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কোনো এক কূপমন্ডূকের উক্তি কবি কবিতা সিংহ (১৬.১০.১৯৩১ ~ ১৫.১০.১৯৯৮)। কবিতাটি
প্রকাশিত হয় “দেশ” পত্রিকার ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ তারিখের সংখ্যায়।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমার বিষয় নয় ‘বাংলাদেশ’
দায়হীন নীরক্ত উচ্ছাস
এ-জন্য মার্জনা চাই, শাস্তি দিন---যেমন বিধান !
কেবল সীমান্তপারে আমি কোনো বিশেষ আলাদা
‘বাংলাদেশ’আছে বলে স্বীকার করি না।
আমার স্বদেশ তবে কোন্ দেশ?
আমি তবে কেমন বাঙালী?

আমার বিষয় নয় চৌরাস্তার বোমার দাপটে
ভয়ে মূত্রপাত করে সবিক্রমে চৌরঙ্গীর মোড়ে
দিব্য সামিয়ানা তুলে যে-কোনো ছুতোয় শান দেওয়া
রক্তের ভিতরশায়ী জন্মগত-ভিখিরির পেশা !

আমার বিষয় নয় ভানযুদ্ধ
সুরক্ষিত বহুদূর থেকে
বাস্তব নিকটব্যাপী গৃহভেদে পিঠ পেতে
কানে তুলো---দুই চক্ষু বুজে
চতুর আয়াসে সারা বিশ্বকে জানিয়ে বাহ্বাস্ফোট।

আমার বিষয় নয় দলীয় প্রমেহদুষ্ট নাক
অন্যের রুধির শুদ্ধ সংগ্রামের ভিতরে গলানো।
আমার বিষয় নয় এ-মুহূর্তে যাবতীয় বিশ্বের সংবাদ
লাওস, ভিয়েতনাম, চেকভূমে কুম্ভীরাশ্রুপাত।
.
কবি কবিতা সিংহ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আমার বিষয় শুধু নিজ বাসভূমে
শিরে ঘোর সংক্রান্তির স্তম্ভিত সংবাদ।
এই ঘোর গুরুদশা, গৃহদাহ, রক্তে মহামারী
সন্তানের, বন্ধুর, পিতার মৃতদেহে টালমাটাল
ঘর, গলি, বড় রাস্তা, কাশীপুর, বরাহনগর
এর বেশি দৃষ্টি নেই, অদ্ভুত বধির

আমার বিষয় আজ নিজ কূপ
দুখিনী স্বদেশ।