প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
|
|
|
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে! This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি তো আমার শপথ রেখেছি অক্ষরে অক্ষরে
যারা প্রতিবাদী তাদের জীবন দিয়েছি নরক করে।
দাপিয়ে বেড়াবে আমাদের দল অন্যে কবে না কথা
বজ্র কঠিন রাজ্যশাসনে সেটাই স্বাভাবিকতা।
গুলির জন্য সমস্ত রাত সমস্ত দিন খোলা
বজ্র কঠিন রাজ্যে এটাই শান্তি শৃঙ্খলা।
যে মরে মরুক, অথবা জীবন কেটে যাক শোক করে---
আমি আজ জয়ী, সবার জীবন দিয়েছি নরক করে।
সবিনয় নিবেদন
কবি শঙ্খ ঘোষ (৫.২.১৯৩২ - ২১.৪.২০২১), সুর - জলি বাগচী। ২০০৬ সালে শুরু হওয়া
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত কবিতা। আমরা কবিতাটি
নিয়েছি ২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত, “গণবিষাণের
গানের স্বরলিপি” গ্রন্থ থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার কথা কি বলতে চাও না? নিশ্চিত তুমি বহিরাগত।
উঁচু স্বর তুলে কথা বলে যারা জেনে নাও তারা বহিরাগত।
গাঁয়ে কোণে কোণে গাঁয়ের মানুষ খেতে বা খামারে বহিরাগত।
মরা মানুষের মুখাচ্ছাদন সরিয়ো না, ও তো বহিরাগত।
মাঠে মাঠে ধরে যেটুকু ফসল সেসবও এখন বহিরাগত।
চালার উপরে ঝুঁকে পড়ে চাঁদ বহুদূর থেকে বহিরাগত।
বর্ষাফলকে বিষ মেখে নিয়ে কালো মুখোশের আড়ালে যত
বহিরাগতরা এসে ঠিক ঠিকই বুঝে নেয় কারা বহিরাহত।
বহিরাগত
কবি শঙ্খ ঘোষ (৫.২.১৯৩২ - ২১.৪.২০২১)
২০০৬ সালে শুরু হওয়া সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি যখন লাঠি মারি
তখন সেটা মিষ্টি ভারি
তখন সেটা ন্যায়ের ধ্বজাধারী
আমি যখন চালাই গুলি
বুলেট তো নয় ক্ষীরের পুলি
লক্ষ্যে ঠিকই থাকে মাথার খুলি
চোখ যা দেখে বেবাক ফাঁকি
বুব্ লা বুবু সিনসিনাকি
উল্টো বল্লে হবেই তা গোস্তাকি
আমি যখন মারছি তোমায়
বুঝতে হবে সে সব সময়
মরছ কেবল নিজের নিজের বোমায়
গোটা মগজ আমায় দিয়ো
তবেই হবে দেশপ্রিয়
দেশও হবে অবিস্মরণীয়
এই কথাটা ইতস্তত
ছড়িয়ে দিলে গানের মতো
মনের মধ্যে থাকবে না আর ক্ষত
আমি যখন লাঠি মারি কবি শঙ্খ ঘোষ (৫.২.১৯৩২ - ২১.৪.২০২১), সুর - জলি বাগচী। ২০০৬
সালে শুরু হওয়া সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত কবিতা। সেই সময় কবি শঙ্খ ঘোষের
লেখা এই কবিতাটিকে গণবিষাণ সুরারোপ করে। আমরা কবিতাটি নিয়েছি ২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি
বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত, “গণবিষাণের গানের স্বরলিপি” গ্রন্থ থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এখনও তুমি প্রতিবাদ করো?
---মাওবাদী।
প্রশ্ন করার সাহস করেছো?
---মাওবাদী।
চোখে চোখ রেখে কথা বলো যদি
ঘড়ি ঘড়ি সাজ মানবদরদী
আদরের ঠাঁই দেবে এ-গারদই
---মাওবাদী।
সহজ চলার ছন্দটা আজ
একটু না হয় দাও বাদই।
দুই চোখে দেখি সর্ষেফুলের মতো থোকা
থোকা
---মাওবাদী।
এখানে-ওখানে দোকানে-বাজারে হাজারে
হাজারে
---মাওবাদী।
বাঁকা হাসি দেখে ঠিকই চিনে যাই
মাওবাদী, তুমি মাওবাদী!!
মাওবাদী
কবি শঙ্খ ঘোষ (৫.২.১৯৩২ - ২১.৪.২০২১)
পশ্চিমবঙ্গে “পরিবর্তনে”-এর পরবর্তী পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রচিত কবিতা। প্রকাশিত
হয়েছে অনিল আচার্য সম্পাদিত, ১৪১৯ (২০১২খৃঃ) “অনুষ্টুপ” পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বুঝি তোমার চাউনি বুঝি
থাকবে না আর গলিঘুঁজি
. থাকবে না আর ছাউনি আমার
কোথাও
ও প্রমোটার ও প্রমোটার
তোমার হাতে সব ক্ষমতার
. দিচ্ছি চাবি, ওঠাও আমায় ওঠাও।
তুমিই চিরনমস্য, তাই
তোমার পায়ে রত্ন জোটাই
. তোমার পায়েই বিলিয়ে দিই
শরীর---
যাঁর যা খুশি বলুন তিনি
করবে তুমি কল্লোলিনী
. ভরসা কেবল কলসি এবং দড়ির।
আমার বলে রইলো শুধু
বুকের ভেতর মস্ত ধু ধু
. দিয়েছি সব যেটুকু ছিল দেবার
ঘর ছেড়ে আজ বাইরে আসি
আমরা কজন অন্তেবাসী
. শবসাধনার রাত কাটাব এবার।
শবসাধনা
কবি শঙ্খ ঘোষ (৫.২.১৯৩২ - ২১.৪.২০২১)
শহরের ঝুপড়ি উচ্ছেদ নিয়ে রচিত কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পেটের কাছে উঁচিয়ে আছো ছুরি
কাজেই এখন স্বাধীনমতো ঘুরি
. এখন সবই শান্ত, সবই ভালো।
তরল আগুন ভরে পাকস্থলী
যে-কথাটাই বলাতে চাও বলি
. সত্য এবার হয়েছে জমকালো।
গলায় যদি ঝুলিয়ে দাও পাথর
হালকা হাওয়ার গন্ধ সে তো আতর
. তাই নিয়ে যাই অবাধ জলস্রোতে—
সবাই বলে, হা হা রে রঙ্গিলা
জলের উপর ভাসে কেমন শিলা
. শূন্যে দেখো নৌকো ভেসে ওঠে।
এখন সবই শান্ত ,বই ভালো
সত্য এবার হয়েছে জমকালো
. বজ্র থেকে পাঁজর গেছে খুলে
এ-দুই চোখে দেখতে দিন বা না দিন
আমরা সবাই ব্যক্তি এবং স্বাধীন
. আকাশ থেকে ঝোলা গাছের মূলে।
আপাতত শান্তিকল্যাণ
কবি শঙ্খ ঘোষ (৫.২.১৯৩২ - ২১.৪.২০২১)। ২০০৭ সালে প্রকাশিত,
ছাত্রসংগ্রাম প্রকাশনী প্রকাশিত “প্রতিবাদী বাংলা কবিতা সংকলন”
থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি এই শতাব্দীর শেষ প্রান্ত থেকে কথা বলি
আমি এই শালপ্রাংশু মধ্যরাত্রি থেকে কথা বলি
আমার মায়ের রক্ত হাতে নিয়ে আমি কথা বলি
হোলি খেলেছিল যারা আমার মেয়ের রক্ত নিয়ে।
আগুন জ্বালিয়ে যারা শবের উপরে নেচেছিল
এই শেষ অন্ধকারে তাদের সবার কথা বলি
আর যারা চুপ ছিল যারা কিছু দেখেও দেখেনি
একাকার মনে যারা অনায়াসে ছিল অন্যমনে
গলের ভিতরে যারা দলবৃত্তে অন্ধ হয়ে ছিল
অথবা মৃতই ছিল---সেই সব প্রাক্তন হৃদয়ে
একমুঠো ছাই ছুড়ে পিছনে না চেয়ে ফিরে এসে
নক্ষত্রের ক্ষত বুকে রক্ষাবাহিনীর ব্যূহমুখে
এই শতাব্দীর শেষ ভূমিহারদের কথা বলি
বলি যে জাতক বীজে মাটির কেশর মেখে মেখে
এক মরণের থেকে আরেক মরণে যেতে যেতে
আমার আমির থেকে জেগে ওঠে আরো আরো আমি
আমিই শতাব্দী আমি আদিঅন্তহারা মহাদেশ
আমি এই শতাব্দীর শহিদশিখর থেকে বলি
মৃত্যুর ভিতরে আজ কোথাও মৃত্যুর নেই লেশ
দেখো এ মৃত্যুর মধ্যে কোথাও মৃত্যুর নেই লেশ!
শহিদশিখর
কবি শঙ্খ ঘোষ (৫.২.১৯৩২ - ২১.৪.২০২১)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমাদের ডান পাশে ধ্বস
আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ
আমাদের মাথায় বোমারু
পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ
আমাদের পথ নেই কোনো
আমাদের ঘর গেছে উড়ে
আমাদের শিশুদের শব
ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!
আমরাও তবে এইভাবে
এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?
আমাদের পথ নেই আর
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি
কবি শঙ্খ ঘোষ (৫.২.১৯৩২ - ২১.৪.২০২১)। ২০০৪ সালে প্রকাশিত কবির “জলই পাষাণ হয়ে আছে”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা কৃতজ্ঞ “বাংলা-সহায়ক.কম” ওয়েবসাইটের কাছে, যাঁদের কাছ থেকে
আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি। তাঁদের ওয়েবসাইটে যেতে . . .।
আমাদের ইতিহাস নেই
অথবা এমন ইতিহাস
আমাদের চোখমুখ ঢাকা
আমরা ভিখারি বারোমাস
পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে
পৃথিবী হয়তো গেছে মরে
আমাদের কথা কে-বা জানে
আমরা ফিরেছি দোরে দোরে।
কিছুই কোথাও যদি নেই
তবু তো কজন আছি বাকি
আয় আরো হাতে হাত রেখে
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এইভাবে হতে থাকে ক্রমাগত
কেউ মারে কেউ মার খায়
ভিতরে সবাই খুব স্বাভাবিক কথা বলে
জ্ঞানদান করে
এইদিকে ঐ দিকে তিন চার পাঁচ দিকে
টেনে নেয় গোপন আখড়ায়
কিছু-বা গলির কোণে অ্যাসফল্ট রাজপথে
সোনার ছেলেরা ছারখার
অল্প দু-চারজন বাকি থাকে যারা
তেল দেয় নিজের চরকায়
মাঝে মাঝে খড়খড়ি তুলে দেখে নেয়
বিপ্লব এসেছে কতদূর
এইভাবে, ক্রমাগত
এইভাবে, এইভাবে ক্রমাগত
ক্রমাগত
কবি শঙ্খ ঘোষ (৫.২.১৯৩২ - ২১.৪.২০২১)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঘুমটা ভেঙ্গে গেল হঠাৎ। বাইরে কি ঝড় হচ্ছে?
দাপাদাপি করছে জানলার পাল্লাদুটো
মাঝে মাঝে বিজলি ঝলকাচ্ছে।
ফের শুয়ে পড়তে গিয়ে সেই বিদ্যুতের ছটফটে আলোয় মনে হল ঘরের
মধ্যে যেন হামা দিচ্ছে কেউ।
'কে ওখানে? কে?'
হামা কোনো শব্দই করে না।
উঠে আসি কাছে, আবারও জিজ্ঞেস করিঃ 'কে আপনি? কী চান?'
সে তবু নিশ্চুপ থেকে এ - কোণে ও -কোণে ঘুরছে
মাথা তুলছে না কিছুতেই, চোখে চোখ নয়।
'কিছু কি খুঁজছেন আপনি?'
শুনতে পাচ্ছিঃ 'খুঁজছি ঠিকই, খুঁজতে তো হবেই -
পেলেই বেরিয়ে যাব, নিজে নিজে হেঁটে।'
'কি খুঁজছেন?'
মিহি স্বরে বললেন তিনি : 'মেরুদণ্ডখানা।'
সেই মুহুর্তে বিদ্যুৎ ঝলকালো ফের। চমকে উঠে দেখি :
একা নয়, বহু বহু জন
একই খোঁজে হামা দিচ্ছে এ-কোণে ও কোণে ঘর জুড়ে।
হামাগুড়ি
কবি শঙ্খ ঘোষ (৫.২.১৯৩২ - ২১.৪.২০২১)
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২১.৩.২০১৯ তারিখে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সবাই শুধু মিথ্যে রটায়
পথগুলি সব দেদার খোলা
যার খুশি আয় বিরুদ্ধতায়
যথার্থ এই বীরভূমি
উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে এসে
পেয়েছি শেষ তীরভূমি
দেখ খুলে তোর তিন নয়ন
রাস্তা জুড়ে খড়্গ হাতে
দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন
সবাই আমায় কর তোয়াজ
ছড়িয়ে যাবে দিগ্বিদিকে
মুক্ত গণতন্ত্র আজ।
মুক্ত উন্নয়ন কবি শঙ্খ ঘোষ (৫.২.১৯৩২ - ২১.৪.২০২১)। কবিতাটি প্রকাশিত
হয়েছিল দেবেশ রায় সম্পাদিত 'সেতুবন্ধন' পত্রিকায়। ২০১৬ সালের পঞ্চায়েত ভোট
ঘিরে শাসক দলের ‘হিংসা’কে ব্যঙ্গ করেছেন কবি। কবিতাটি
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২১.৩.২০১৯ তারিখে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এইখানে ছিল সরস্বতীর স্রোত দূর যাত্রায়
জাহাজ ভাসিয়ে পৌঁছে যেতাম বালি না সুমাত্রায়,
. ডাকাবুকো যুবা বিজয় সিংহ
. যেন মৈনাক পাহাড় শৃঙ্গ,
সঙ্গী সঙ্গে ছাড়িয়ে বঙ্গ সিংহলে বাঁধে ঘর
আজকে সিঙ্গুর, যা ছিল দেখছো প্রত্ন-সিংহগড়।
টাটাদের নিয়ে কথা কাটাকাটি, পারস্য থেকে ওরা,
গুজরাটে কবে ডেরা বেঁধেছিল আত্মরক্ষা করায়,
. বলেছিল তারা ভারতে মাটিতে
. গড় গড়বে না বিরোধ ঘাঁটিতে,
পারসিকদের জনবসতিও হবে শান্তিতে গড়া,
আজ দেখো কথা খেলাপি সিঙ্গুরে ধরাকে ভাবছে সরা।
. আর কালিমাটি আদিবাসী গ্রাম
. ভেঙে দিয়ে লেখে টাটাদের নাম,
লোহার আকর কয়লা বাখর জামসেদজীর ধ্বজা
সাপ আড়কাঠি লুঠে নেয় মাটি কে আর তখন ওঝা।
রাঢ় বঙ্গের বুক বরাবর সিংগগড়ের মাটি,
বাঙালির বাসই গড়তে চলেছে পুঁজিদম্ভের ঘাঁটি।
. 'কমুনিস্ট-খুনি' সালেমের সাথে
. দেশী বিভিষণ হাত রেখে হাতে
ভাগচাষি মেরে জমির মালিক চষা মাটি করে চাটি,
তাপসী মালিকের জন্য ব্যালাড কবি তরুণ সান্যাল (২৯.১০.১৯৩২ - ২৮.৮.২০১৭) । ২০০৬ সালে শুরু হওয়া সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত কবিতা। সিঙ্গুরে,
আন্দোলনকারী তাপসী মালিককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারা হয়। বিচারের নামে প্রহসনে, অভিযুক্ত অপরাধীরা সব বেকসুর খালাস পেয়ে যায়। তদানীন্তন সরকার পক্ষের কবি-সাহিত্যিক-ফিল্ম-মেকারগণ
মিলিত হয়ে মৃতা তাপসী মালিকের চরিত্রহননের খোলাখুলি চেষ্টা করেন লেখালেখি ক’রে, সিনেমা তৈরী করে, নাটক লিখে উপস্থাপন করে। তাঁদের মধ্যে খ্যাতনামা বিশিষ্ট নারী বুদ্ধিজীবীরাও ছিলেন!
.ত্রিশ তঙ্কায় মা মাটি বিকায় পোড়ায় ধানের আঁটি।
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
. পঞ্চাশে গেল জমি গা-গতর
তবু তে-ভাগার দাবীতে মরেছি ধরেছি শক্ত লাঠি
গ্রাম বধুরাও ধরেছে কাটারি বটি বল্লম ঝাঁটি।
লাল নিশানের ভক্ত এখন টাটাদের দাস দাসী
ভুলেছিতো রায়বেঁশে নাচ হয়ে বাঁশ-ডলা বুক চাষি,
. জোতদার নয় হচ্ছে গাঁ ছাড়া
. পাট্টা বিকোয় এপাড়া ও পাড়া
ভুখা ভাগচাষি বা খাই খালাসি ক্লিস্ট সিঙ্গুরবাসী
ঢোল মহরতে শনির মদতে নাচন সর্বনাশীর।
. পোড়াচ্ছে বাড়ি ধানের পালই
. হাজার পুলিশ খুনি হৈ চৈ
বুড়োবুড়ি শিশু নারী মরে ঐ মুখে তথাগত হাসি
বন্দি সিঙ্গুর বুঝছে শিখছে রাষ্ট্রই সন্ত্রাসী।
মেধা তো ছিলেন গুজরাটে আদিবাসীর আশার বাতি
মারাঠা ভঊবনে তুলা চাষিদের বামশক্তির সাথী,
. তাঁর গতিরোধ ঘটেছে সিঙ্গুরে
. মহাশ্বেতাকে ঠেলে দেয় দূরে,
একশো চুয়াল্লিশের বিষের খরিশের মাতামাতি,
অরুন্ধতীর দিল্লী-ধর্না কাটায় ভয়ের রাতি।
নারীশক্তির এ উজ্জীবন মোদীর গদির সখা
গুজরাট করে সিঙ্গুর, উরাকও বুশ হয়ে একরোখা,
. তাপসী মালিক নমুনা নারীর
. মোদীরা সিঙ্গুরে পোড়াচ্ছে বাড়ি
ওয়াশিংটন সেবক দেখছে বাড়াভাতে পড়ে পোকা
পুঁজির ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর চলে মাঠময় তাল ঠোকা।
তরুণ-তরুণী এখনো অন্ধ ধন্ধে রয়েছো চুপ?
ওরা তো ওজরে সরায় নজর পেতেছে খুনের যূপ।
. তোমরা গড়বে নতুন ভারত
. ওরা বেইমান আটকাবে পথ
ভগত সিং-এর শতবর্ষেও ওরা ধরে বহুরূপ,
বিশ্বায়নের বাঁধনে সিঙ্গুরও হবে না অন্ধকূপ।
বাজারে ডঙ্কা কে করে শঙ্কা মিছিল কম্বু শাঁখে
কোটি কোটি হাত বিশ্বের সাথ নতুন জমানা ডাকে
. বুলেটে লাথিতে কে জিতিবে কবে
. জানি মানুষেরই জয় হতে হবে,
দ্যাখো ইতিহাস হতেছে প্রকাশ সিঙ্গুরে পথের বাঁকে
বাম মুখোশের গোপনে বিশ্বপুঁজির নাকিব হাঁকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চৈত্রের পূর্ণিমা কেমন দরিয়ায় মাতন নাচায়
একটি ঢেউ উঠে এল তার ঘাড়ে বাইসন মহিষ
দৌড়ে আসছে তীর ধরতে, জ্যোত্স্না হয়তো বাড়বাগ্নি চায়
দীর্ঘ একটি সাদা হলকা আর তার ফিসফাস শিস
যা রে নন্দীগ্রাম ঐ হলদী নাচায় রক্ত ও লবণ,
ক্ষার শুষে নিচ্ছে ডাঙা মানুষের হাড় রসায়নে---
দূর এই শহরতলিও গলা শুকোয়, বলি যা "ওরে মন্ পবন
ঐ ফেনায় আয়না করে মুখ দেখিস অয়নে শয়নে।"
এখন বাগুইআটি বাসিন্দা আমার মধ্য রাতে
ঢেউ খেলে না, কলকাতার ট্র্যাফিকের অসহ্য গোলামি
কানে আসছে দূর থেকে বাঁশির হঙ্কের হল্লা তাতে
সুনামি সমুদ্রে ঘটে, এখানে দক্ষিণী হাওয়া দামি।
সমুদ্র ভরাট হয়ে পূর্ণিমায় টানা টান জোয়ার
এখানে সে জ্যোত্স্না তবু রূপকথার আশ্চর্য ভূবন
ক-দশক পরে এই মৃত্জগৎ সমুদ্র হওয়ার
খবর নিজেই হবে, মেরুদেশে বরফ লবণ
মেশামেশি হয়ে হবে আকাশের ঘেমে ওঠা তাপে
জ্যোত্স্না ও পূর্ণিমা থাকবে, মানুষই, থাকবে না তার তাপে।
পাপকথন
কবি তরুণ সান্যাল (২৯.১০.১৯৩২ - ২৮.৮.২০১৭)
২০০৬ সালে শুরু হওয়া সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা
ও আমার, দুই চোখে দুই জলের ধারা মেঘনা, যমুনা
গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা
একই আকাশ একই বাতাস
একই হৃদয়ে একই তো শ্বাস
দোয়েল কোয়েল পাখির ঠোঁটে
একই মূর্ছনা একই মূর্ছনা
ও আমার, দুই চোখে দুই জলের ধারা মেঘনা, যমুনা
গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা
আমি এ-পার ও-পার কোন্ পারে জানি না
ও আমি সবখানেতে আছি
গাঙের জলে ভাসিয়ে ডিঙ্গা
ও আমি পদ্মা তে ওই মাঝি
আমি এ-পার ও-পার কোন্ পারে জানি না
শংখচিলের ভাসিয়ে ডানা
ও আমি দুই নদীতে নাচি
আমি এ-পার ও-পার কোন্ পারে জানি না
গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭.১২.১৯৩২ - ৮.৮.২০০৭), সুর ও শিল্পী - ভূপেন
হাজারিকা। গানটি বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনের সমর্থনে রচিত। এই গানটি শুনে লেখা। কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি ভূপেন
হাজারিকার অনেক গানের অনবদ্য বাংলা রূপান্তর করেছিলেন যা বাংলা গানের জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেছে। এই সংকলনে কবি
ভূপেন হাজারিকার গানে যেতে এখানে ক্সিক করুন . . . । ভিডিওটি সৌজন্যে pulak parijat YouTube Channel.
একই আশা ভালবাসা
কান্না-হাসির একই ভাষা
দুঃখ-সুখের বুকের মাঝে
দুঃখ-সুখের বুকের মাঝে একই যন্ত্রণা
একই যন্ত্রণা
ও আমার, দুই চোখে দুই জলের ধারা মেঘনা, যমুনা
গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা
গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ও বেহুলা বাংলা
বেহুলা বাংলা আমার দুখিনী বাংলা
তোর কপালের সিঁদুরে টিপ মুছিয়ে দিল ঝড়
বানভাসি তোর নদীর বুকে আমরা লখিন্দর
তোর কপালের সিঁদুরে টিপ মুছিয়ে দিল ঝড়
চোখের জলে বুক ভেসে যায়, ঘর ভেসে যায় বানে
তুল্ সী তলায় পিদিম জ্বেলে, কে দেবে উঠোনে
কার অভিষাপ এমন করে
কার অভিষাপ এমন করে দিল দ্বীপান্তর
তোর কপালের সিঁদুরে টিপ মুছিয়ে দিল ঝড়
রূপসী বাংলা আমার শ্যামলী বাংলা
ও তোর ফুলেশ্বরী ধানের খেতে নেই তো কলরব
নদীর জলে ভাসছে হাজার
নদীর জলে ভাসছে হাজার লখিন্দরের শব
ও বেহুলা বাংলা কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭.১২.১৯৩২ - ৮.৮.২০০৭), সুর ও শিল্পী - ভূপেন হাজারিকা। গানটি
বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনের সমর্থনে রচিত। এই গানটি শুনে লেখা। কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি ভূপেন হাজারিকার
অনেক গানের অনবদ্য বাংলা রূপান্তর করেছিলেন যা বাংলা গানের জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেছে। এই সংকলনে কবি ভূপেন
হাজারিকার গানে যেতে এখানে ক্সিক করুন . . . । ভিডিওটি সৌজন্যে Saregama Bengali YouTube Channel.
লক্ষ্ণী পেঁচা, চড়ুই পাখি বসে না আর ঘরে
চন্ডীতলার, আটচালা তোর ভেঙে গেছে ঝড়ে
চূর্ণী নদীর ঘূর্ণী জলে
চূর্ণী নদীর ঘূর্ণী জলে ভাসছে তেপান্তর
তোর কপালের সিঁদুরে টিপ মুছিয়ে দিল ঝড়
বানভাসি তোর নদীর বুকে আমরা লখিন্দর
তোর কপালের সিঁদুরে টিপ মুছিয়ে দিল ঝড়
বেহুলা বেহুলা বাংলা
বেহুলা বাংলা আমার দুখিনী বাংলা
তোর কপালের সিঁদুরে টিপ মুছিয়ে দিল ঝড়
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঝড় উঠেছিল ঝড়, নীল-সমুদ্রে ঝড়
ঝড় উঠেছিল ঝড়, নীল-সমুদ্রে ঝড়
আরব সাগর থেকে উঠে এসেছিলো
ছেচল্লিশের ঝড়
আরব সাগর থেকে উঠে এসেছিলো
ছেচল্লিশের ঝড়
ঝড় উঠেছিল ঝড়, নীল-সমুদ্রে ঝড়
ঝড় উঠেছিল ঝড়, নীল-সমুদ্রে ঝড়
ঘুমন্ত নদী ছুটন্ত হয় জীবন্ত রণসাজে
বিদ্রোহ নৌ-বিদ্রোহ জাগে তলোয়ার জাহাজে
ঘুমন্ত নদী ছুটন্ত হয় জীবন্ত রণসাজে
বিদ্রোহ নৌ-বিদ্রোহ জাগে তলোয়ার জাহাজে
বিদেশী-আসন, শাসন স-ভয়ে
কেঁপে ওঠে থরোথর
ঝড় উঠেছিল ঝড়, নীল-সমুদ্রে ঝড়
সেনানী তোমরা নাবিক-বন্ধু পরাধীনতার কালো
জল-তরঙ্গে জ্বালিয়েছিলে স্বাধীনতার আলো
সেনানী তোমরা নাবিক-বন্ধু পরাধীনতার কালো
জল-তরঙ্গে জ্বালিয়েছিলে স্বাধীনতার আলো
ঝড় উঠেছিল ঝড় কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭.১২.১৯৩২ - ৮.৮.২০০৭), সুর ও শিল্পী - অজিত পাণ্ডে। ১৯৪৬ এর
নৌবিদ্রোহের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে রচিত ১৯৯৬ সালে। গানটি এই ওয়েবসাইটে গিয়ে শুনতে হবে https://wynk.in ওয়েবসাইট।
শৃংখল ভাঙো, শৃংখল ভাঙো সারা দেশে সাড়া জাগে
বিপ্লব, মহা-বিপ্লব আসে মুক্তির দোলা লাগে
শৃংখল ভাঙো, শৃংখল ভাঙো সারা দেশে সাড়া জাগে
বিপ্লব, মহা-বিপ্লব আসে মুক্তির দোলা লাগে
ঝোড়ো হাওয়া এসে ভেঙে দিয়ে গেল
বিদেশী তাসের ঘর
ঝড় উঠেছিল ঝড়, নীল-সমুদ্রে ঝড়
আরব সাগর থেকে উঠে এসেছিলো
ছেচল্লিশের ঝড়
আরব সাগর থেকে উঠে এসেছিলো
ছেচল্লিশের ঝড়
ঝড় উঠেছিল ঝড়, নীল-সমুদ্রে ঝড়
ঝড় উঠেছিল ঝড়, নীল-সমুদ্রে ঝড়
ঝড় উঠেছিল ঝড়, নীল-সমুদ্রে ঝড়
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই ভারতের শহরে নগরে গ্রামে
রক্তপিপাসু দানবের করাঘাত
ভয় কি বন্ধু, জীবনের সংগ্রামে
পঞ্চাস কোটি মিলিয়েছি হাতে হাত॥
পায়ে পায়ে আজ দুরন্ত পথ যদি
রক্তের বানে ভেসে যায় সব নদী
আমাদের চোখ রয়েছি প্রহরী হয়ে
মিছিলে মিছিলে গরজায় প্রতিবাদ॥
জীবনকে আজ দস্যুরা কেড়ে নেয়
কোটি কোটি প্রাণে জমে শুধু বিক্ষোভ
একসার হয়ে একতার গান গেয়ে
আমরা গড়েছি দুর্জয় প্রতিরোধ॥
সব রাস্তাই এক রাস্তায় মেশে
এই দুর্যোগে, স্বদেশ’ কে ভালবেসে
আমরা রয়েছি চোখের ইশারা হয়ে
শত্রুকে বুকে হানতেই পদাঘাত॥
এই ভারতের শহরে নগরে গ্রামে
কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭.১২.১৯৩২ - ৮.৮.২০০৭)
রচনা ১৯৬২ সাল। চীনের ভারত আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত গান। আমরা গানটি
পেয়েছি ২০০৬ সালে প্রকাশিত, কবির “গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা” কাব্যগ্রন্থ থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তুমি বিপ্লবী চেতনার রক্ত গোলাপ
তুমি সংগ্রামী মানুষের দৃঢ় সংলাপ
বঞ্চিত প্রাণে তুমি কঠিন শপথ
আলোর প্রতীক তুমি মুক্তির পথ॥
তুমি দুঃখিনী মার বুকে করুণ সোহাগ
তুমি লাখো লাখো উইনির শুধু অনুরাগ
তুমি নতুন আলোর পাখি মেলেছ পাখা
সেই পথ ধরে চলে কালো আফ্রিকা॥
তুমি প্রাণ থেকে প্রিয় আরো যে আপন
তুমি কোটি কোটি মানুষের বেশি প্রয়োজন
তাই সারা দুনিয়ায় আজ এই আলোড়ন
চাই মুক্তি তোমার এই বন্দী-জীবন॥
তুমি বিপ্লবী চেতনার রক্ত গোলাপ
কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭.১২.১৯৩২ - ৮.৮.২০০৭), সুর - হিল্লোল মণ্ডল, শিল্পী -
ক্যালকাটা ইউথ কয়্যার। গানটি ১৯৮৮ সালে লেখা হয়েছিল নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তি দাবী
করে। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যবাদী সরকার, নেলসন ম্যাণ্ডেলাকে, বিশ্ববাসীর চাপে
পড়ে ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারী মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
স্বাগত ম্যান্ডেলা স্বাগত ম্যান্ডেলা
তোমাকে স্বাগত জানাতে আজকে
কলকাতা চঞ্চলা॥
সূর্যের নাম বদলে রেখেছি নেলসন ম্যান্ডেলা
ঝড়ে হাওয়াকে আমরা জেনেছি নেলসন ম্যান্ডেলা
“উম্ খোন্তো উই সিজোয়ে” শাণিত বর্শাফলা
রক্তকরবী কৃষ্ণচূড়ার দেশ আজ চঞ্চলা
স্বাগত ম্যান্ডেলা॥
কি নামে তোমাকে ডাক্ ব আমরা পিম্পার্নেল ফুল
দুরন্ত নদী’ অথবা সাগর সেও তো অপ্রতুল
নতজানু আজ তোমার কাছে পোল্ স মূর’ কারাগার
কালো আফ্রিকা, সারা বিশ্ব মুখরিত চারিধার
জীবনকে বাজী রেখে খেলেছো তে মৃত্যুর সাথে খেলা
স্বাগত ম্যান্ডেলা॥
কি নামে তোমাকে ডাকবো আমরা তোমার অনেক নাম
দেশ জাতি আর সময় পেরিয়ে মুক্তির সংগ্রাম
খোলা-আকাশের নীচে দাঁড়িয়েছো সাতাশ বছর পরে
আবার তুমি তো বন্দী হয়েছো মানুষের অন্তরে
তুমি আমাদের বড় গর্বের আদরের ম্যন্ডেলা
স্বাগত ম্যান্ডেলা॥
স্বাগত ম্যান্ডেলা স্বাগত ম্যান্ডেলা কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭.১২.১৯৩২ - ৮.৮.২০০৭), সুর - হিল্লোল মণ্ডল,
শিল্পী - রুমা গুহঠাকুরতার নেতৃত্তে ক্যালকাটা ইউথ কয়্যার। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যবাদী সরকার, নেলসন ম্যাণ্ডেলাকে,
বিশ্ববাসীর চাপে পড়ে ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারী মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। সেই বছরেরই ১৮.১০.১৯৯০ তারিখের বেলা ৩-টের সময়ে
ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়ামে নেলসন ম্যান্ডেলার সম্বর্ধনা সভায় এই গানটি পরিবেশিত হয়। সভাপতি ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কারও কেনা নয় এই পৃথিবী
আমাদের-জেনে রেখো বন্ধু
ঘাম আর রক্তকে ঝরিয়ে
পৃথিবীকে সাজিয়েছি বন্ধু॥
হাতের মুঠোয় করে পৃথিবী
যারা চায় অধিকার রাখতে
পৃথিবী তাঁদের কেনা নহে তো
পদতলে পারবে না রাখতে॥
ঈগলের ডানা-মেলা ছায়াতে
আমদানী করে যারা যুদ্ধ
আরবে, ইরাকে, ইরানে
নিজেরাই হবে অবরুদ্ধ॥
আমাদের সুন্দর পৃথিবী
ভাসমান রক্ত-সমুদ্রে
লালসা-লালিত থাবা মাটিতে
ওঠাও ওঠাও হাত ঊর্ধ্বে॥
স্বাধীনতা, শান্তির শত্রু
আসে ওই চিনে রাখো, বন্ধু
জনতার একতার হাতিয়ার
প্রস্তুত করে রাখো বন্ধু॥
কারও কেনা নয় এই পৃথিবী কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭.১২.১৯৩২ -
৮.৮.২০০৭)। সুর ও শিল্পী : অংশুমান রায় কিউবা যুব সম্মেলনে পরিবেশিত। আমরা গানটি
পেয়েছি ২০০৬ সালে প্রকাশিত, কবির “গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা” কাব্যগ্রন্থ থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এ কোন ভারতবর্ষে আমরা আছি
জীবন যেখানে মৃত্যুর কাছাকাছি
অন্ধকার অন্ধকার
আঁধারেই খেলি কানামাছি॥
দেশের পতাকা যারা আজ তুলে ধরে
দেশদ্রোহীর গুলিতেই তারা মরে
মীরজাফর জগৎ শেঠ
তোমাদের নিয়ে বেঁচে আছি॥
নতুন সূর্য ওঠে না আগামী ভোরে
মেয়েরা হয়তো রয়েছে দূরে সরে
যায় না রাত, আসে না দিন
তার পথ চেয়ে বসে আছি॥
এ কোন ভারতবর্ষে আমরা আছি
কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭.১২.১৯৩২ - ৮.৮.২০০৭)। আমরা গানটি পেয়েছি ২০০৬ সালে
প্রকাশিত, কবির “গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা” কাব্যগ্রন্থ থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কে মনে রেখে লেখা গান।
কবিতা কি তাই?
কবিতা কি শুধু তাই?
মনের খেয়ালে কাগজে-কলমে
. শব্দ সাজাই?
কবিতা কি শুধু রম্য-রচনা
ফুল পাখি আর চাঁদের জোছোনা
প্রিয়ার সঙ্গে জল-তরঙ্গ
. নৌকো ভাসাই?
কবিতা কি শুধু “ওমর খয়াম”
অথবা বিরহী যক্ষের নাম
প্রেমের অনলে একাকিনী জ্বলে
. “বিরহিনী রাই”?
কবিতা বন্দী চার-দেওয়ালে
তোমার আমার চোখের আড়ালে
কবিতাকে আনো রাজপথে আজ
. মিছিলে চাই॥
কবিতা কি তাই? কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭.১২.১৯৩২ - ৮.৮.২০০৭), সুর -
অলোকনাথ দে, শিল্পী - ভূপেন হাজারিকা। আমরা গানটি পেয়েছি ২০০৬ সালে প্রকাশিত, কবির
“গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা” কাব্যগ্রন্থ থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শরৎবাবু,
খোলা চিঠি দিলাম তোমার কাছে
তোমার ‘গফুর’ এখন
. কোথায় কেমন আছে?
. তুমি জানো না
হারিয়ে গেছে কোথায় কখন
. তোমার ‘আমিনা’।
শরৎবাবু, এ’ চিঠি পাবে কি-না জানি না॥
গত বছর বন্যা হল, এ-বছর খরা
ক্ষেতের ফসল পুড়িয়ে দিল মাঠ শুকিয়ে ‘মরা’
একমুঠো ঘাস পায় না ‘মহেশ’
. দুঃখ ঘোচে না
. তুমি জানো না॥
শরৎবাবু, খোলা চিঠি দিলাম তোমার কাছে কথা - কবি শিবদাস
বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭.১২.১৯৩২ - ৮.৮.২০০৭), সুর - অংশুমান রায়, শিল্পী- ভূপেন হাজারিকা।
আমরা গানটি পেয়েছি ২০০৬ সালে প্রকাশিত, কবির “গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা” কাব্যগ্রন্থ থেকে।
বর্গীরা আর দেয় না হানা নেইতো জমিদার
তবু এ-দেশ জুড়ে নিত্য হাহাকার॥
ভাবছো তুমি দেশ তো স্বাধীন
. আছে ‘ওরা’ বেশ
তোমার ‘গফুর’ ‘আমনা’ আর
. তোমারই মহেশ
এক মুঠো ভাত পায় না খেতে
. গফুর আমিনা
. তুমি জানো না॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কেউ বা করে চণ্ডীপাঠ
কেউ দেয় “আজান”
কেই বা বলে --- “আ-মেন”
সবই তো সমান
পাশাপাশি আছেন যিশু আল্লাহ্ ভগবান॥
কেউ ছুটে যায় “মক্কাতে”
কেউ বা “মদিনায়”
কেউ ছুটে যায় “জেরুজালেম”
কেউ বা “অযোধ্যায়”
সবাই খোঁজে যে যার পথে কোথায় ভগবান?
পাশাপাশি আছেন যিশু আল্লাহ্ ভগবান॥
কেউ ছুটে যায় মন্দিরে
পাথরে খোঁড়ে মাথা
কেউ ছুটে যায় মসজিদে
খোলে কোরানের পাতা
কেউ বোঝে না আসল কথা-মানুষই ভগবান
পাশাপাশি আছেন যিশু আল্লাহ্ ভগবান॥
কেউ বা করে চণ্ডীপাঠ
কথা - কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭.১২.১৯৩২ - ৮.৮.২০০৭), শিল্পী - ক্যালকাটা ইউথ কয়্যার।
১৯৯০ সালে লেখা এই গানটি আমরা পেয়েছি ২০০৬ সালে প্রকাশিত, কবির “গঙ্গা আমার মা
পদ্মা আমার মা” কাব্যগ্রন্থ থেকে।
কেউ বা “আম্মা” বলে কাঁদে
কেউ বা “মাদার”, মা
চোখের জলের রং তো সাদা
কেউ আলাদা না
রক্ত দেখে যায় কি চেনা
রাম না রহমান?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সবার হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনাতে নজরুল
যতই আসুক বিঘ্ন-বিপদ হাওয়া হোক্ প্রতিকূল
এক হাতে বাজে অগ্নিবীণা কন্ঠে গীতাঞ্জলি
হাজার সূর্য চোখের তারায় আমরা যে পথ চলি॥
এই সেই দেশ একদা যেখানে উপনিষদের ঋষি
সমতার গান গেয়েছিল আর শুনেছিল দশ-দিশি
প্রপিতামহের ভাষাতে আজো আমরা যে কথা বলি
হাজার সূর্য চোখের তারায় আমরা যে পথ চলি॥
এই সেই দেশ এখনও এখানে শুনি আজানের ধ্বনি
গীতা বাইবেল ত্রিপিটক আর শোনা যায় রামায়ণী
কবি কালিদাস ইকবাল আর গালিবের পদাবলি
হাজার সূর্য চোখের তারায় আমরা যে পথ চলি॥
সবার হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনাতে নজরুল
কথা - কবি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭.১২.১৯৩২ - ৮.৮.২০০৭), সুর ও শিল্পী- ভূপেন হাজারিকা। আমরা গানটি পেয়েছি ২০০৬
সালে প্রকাশিত, কবির “গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা” কাব্যগ্রন্থ থেকে। ভিডিওটি সৌজন্যে Gaaner Dali YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একটা গল্প বলি শোনো
দিনের গোড়ায় রাত্রি যেমন তেমনি গল্পের গোড়া
এক দেশের এক রাজার ছিলো আট আটটি ঘোড়া।
সাতটা ঘোড়ায় প্রাণপণ লড়তো ছিলো কাজের কাজী
আট নম্বর ঘোড়া ছিলো কুঁড়ে এবং পাজী
তবু রাজা বলতো তাকে তুমি সেরা ঘোড়া
যুদ্ধের কাজ দেখতে শুনতে নেইকো তোমার জোড়া
. একটা গল্প বলি---
জোর কদম জোর কদম জোর কদম
টগবগ টগবগ টগবগ টগবগ--
ভোর হবার আগে রাজার যুদ্ধ জেতা চাই
রাজা বাঁচলে সবাই বাঁচবে ভরসা একটাই
. নয়তো জীবন যাবে
সাতটা ঘোড়া প্রাণপণ লড়ে জীবনটুকু বাজি
আট নম্বর ঘোড়া করে যুদ্ধ তদারকি
. একটা গল্প বলি---
আঁধার রাতে ঝরঝর ঝরে সাতটা ঘোড়ার রক্ত
আট নম্বর পতাকা বয় রাজার ভীষণ ভক্ত
জোর সে লড়ো জোর সে লড়ো জোর সে লড়ো
টগবগ টগবগ টগবগ টগবগ --
একটা গল্প বলি শোনো অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় (৩০.৯.১৯৩৩ - ১.১০.১৯৮৩)> মূল কবিতা : বের্টোল্ট ব্রেখ্
ট। রূপান্তর ও সুর : অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। শিল্পী - অজিত পাণ্ডে। ভিডিওটি সৌজন্যে HINDUSTHAN BHAKTISAGAR
YouTube Channel.
ভোর হবার আগে রাজার যুদ্ধ জেতা চাই
রাজা বাঁচলে সবাই বাঁচবে ভরসা একটাই
. নয়তো জীবন যাবে।
যুদ্ধ জেতা হলে পরে হবে কানাকানি
আট নম্বর ঘোড়া পাবে অনেক দানাপানি
. একটা গল্প বলি--
সাতটা ঘোড়ার দানাপানি এক জাগাতে জড়ো
রাইফেল হাতে একটি ঘোড়া
. সাতজনার চেয়ে বড়ো।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও
মানুষই ফাঁদ পাতছে, তুমি পাখির মতো পাশে দাঁড়াও
মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও।
তোমাকে সেই সকাল থেকে তোমার মতো মনে পড়ছে
সন্ধে হলে মনে পড়ছে, রাতের বেলা মনে পড়ছে
মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও।
এসে দাঁড়াও ভেসে দাঁড়াও এবং ভালোবেসে দাঁড়াও
মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও
মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও।
দাঁড়াও কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় (২৬.১১.১৯৩৩ - ২৩.৩.১৯৯৫)। কবিকণ্ঠে আবৃত্তি ও শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে ও
কণ্ঠে গান শুনুন ভিডিওটিতে। কথা ২০১৫ সালে প্রকাশিত, ডঃ ঝুমা রায়চৌধুরী সম্পাদিত “প্রিয় কবিতা-২” কাব্য-সংকলন
থেকে নেওয়া। ভিডিওটি সৌজন্যে SREERADHA BANERJEE YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভাবছি, ঘুরে দাঁড়ানোই ভাল
এত কালো মেখেছি দু হাতে
এত কাল ধরে।
কখনো তোমার করে, তোমাকে ভাবিনি।
এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে
চাঁদ্ ডাকে আয়, আয়, আয়।
এখন গঙ্গার তীরে ঘুমন্ত দাঁড়ালে
চিতা কাঠ ডাকে আয়, আয়, আয়।
যেতে পারি,
যেকোনো দিকেই আমি চলে যেতে পারি
কিন্তু, কেন যাবো?
সন্তানের মুখ ধরে একটি চুমো খাবো
যাবো
কিন্তু, এখনি যাবো না
তোমাদেরও সঙ্গে নিয়ে যাবো
একাকী যাবো না অসময়ে।
যেতে পারি, কিন্তু কেন যাব কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় (২৬.১১.১৯৩৩ - ২৩.৩.১৯৯৫)। ১৯৯৩ সালে
প্রকাশিত, অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, “বাংলা কবিতা সমচ্চয়” ২য় খণ্ড, সংকলন থেকে নেওয়া। কবিকণ্ঠে
আবৃত্তি শুনুন ভিডিওটিতে। ভিডিওটি সৌজন্যে Shakti Chattopadhyay - Topic YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমাদের শেষ নেই, যবে শুরু ফসলক্ষেতের
বুক ভরে গর্ত খোঁড়া, একপ্রান্ত মেলানো পল্লীতে।
মরাই, গুদোম কিংবা আট-চালা অতিপ্রাদেশিক ;
ইঁদুর, বিহগশ্রেষ্ঠ গান করো কাতারে, সিঁড়িতে।
হেম্ লিনের বাঁশিঅলা, এ-সশব্দ কলকাতা আমার
সানাইয়ে সংগীতে যন্ত্রে ট্রিস্টানের নবম সিম্ফনি
কতদূর যাবে, এ-যে ঢের বড়ো সমুচ্চ বিহার
সেনেটের শতপ্রান্তে মেথি খোঁজে ইঁদুরের শ্রেণী।
তোমার সারা গা বড়ো ধুলো-মাখা, বড়ো কষ্টকর
তোমার আলাদা করে দেখা স্তব্ধ অন্ধকার থেকে ;
অথচ তীরের চেয়ে স্বচ্ছগতি, চেতনা তোমার
আধুনিক, নিষ্ঠুরতা যত জানো, কেবা তত জানে?
রাজবাড়ি দেখা যায়, রাজা ঐ সিংহের আড়ালে
রয়ে গেছে, বহমান, পারায় ধাতুতে স্তব্ধ-থাবা
সেনেটের, হে পাণ্ডিত্য, তুমি ক্ষিপ্র ইঁদুরের গালে
গ্রন্থের বদলে দিচ্ছো, দীর্ঘ শক্ত দুর্গের কাঠামো
পাণ্ডিত্য এমনই, শুধু ব্রাহ্মণের উদ্বৃত্ত-উদ্বেল
বাংলাদেশের মতো, এত বড়ো, সুস্নিগ্ধ গড়ন।
আজ সূক্ষ্মতর তৃষ্ণা তুলে ফেলেছে স্ট্রিম্ লাইন্ ড বাড়ি
কুপিয়ে বুকের মাটি সাধ্য করে সংযোগ স্থাপন।
সেনেট কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় (২৬.১১.১৯৩৩ - ২৩.৩.১৯৯৫) । ২০০৭ সালে প্রকাশিত, ছাত্রসংগ্রাম
প্রকাশনী প্রকাশিত “প্রতিবাদী বাংলা কবিতা সংকলন” থেকে নেওয়া।
তোমাদের শেষ নেই, তৎপর কর্নিক নিয়ে হাতে
সংস্কারপান্থ, হে বন্ধু, ভেঙে যাচ্ছো পুরোনো কলকাতা।
সেনেটের ষাট সাল বুকে তুলবে তুলসীধারা রাতে
সহসা ঝড়ের মাঝে আশ্রয়ার্থে দেখবো না তোমায়।
আজ বড়ো দুঃখ হলো হয়তো তুমি মনেও পড়বে না
সেনেট, মাথার পরে শুধু কিছু সংবাদ-কাগজ
উড়বে কিছুদিন, ভুলবো, সন্ধ্যা থেকে রাতের ঠিকানা
জপে ফিরবো নিজবাড়ি, চার বন্ধু ছিন্ন চতুর্দিকে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঈশ্বর আছেন একা।
উৎখাত করা চলে যে কোনো সময়---
কোনো কাজ নেই শুধু দৃষ্টিপাতে যেন জগন্নাথ !
মানুষের প্রতিহিংসা-বোধ থেকে দূরে থেকে যান,
সদা ও সর্বদা দূরে, নিরস্ত্রের উপরে হিংসার
তর্জনী উঠলেও তিনি, স্থির অবিচল।
মানুষের রোষমুক্তি কোন্ কালে হবে?
আকাঙ্ক্ষা থাকবে না তার পরের বৈভবে !
ঈশ্বর আছেন একা কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় (২৬.১১.১৯৩৩ -
২৩.৩.১৯৯৫)। ডিসেম্বর ১৯৯৬ এ দে'জ পাবলিশিং দ্বারা প্রকাশিত (প্রথম
প্রকাশ - মার্চ ১৯৭৩), “শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা”, ৭ম সংস্করণ থেকে
নেওয়া। ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদ বিরোধী কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মন্দিরের থেকে বহু শতাব্দীর অন্ধকার আজ
বেরিয়ে পড়েছে পথে, এক অংশ ঢুকেছে জঙ্গলে
বাদুড়ের মতো ঝুলে রয়েছে গাছের ডালে ডালে
কিছুটা আঁধার গেছে মিশে এ সবুজ পাতায়।
পাতাকুড়ানিরা কিছু অন্ধকার ঝুড়িতে রেখেছে
শুকনো পাতার সঙ্গে, কুচো কাঠ তাদের সঙ্গেও
মিলেমিশে আছে, ভুল আগুনে পুড়বে বলে আছে
ভিক্ষে-করা ভাত হবে বলে ওরা মিলেমিশে আছে
মানুষের মধ্যে নেই মিলেমিশে থাকার সভ্যতা
জন্তুদের মধ্যে আছে মিলেমিশে থাকার সভ্যতা
মন্দিরের থেকে বহু শতাব্দীর অন্ধকার আজ
বেরিয়ে পড়েছে পথে, ইঁদুর ছুঁচোর মতো পথে॥
মন্দিরের থেকে বহু শতাব্দীর অন্ধকার
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় (২৬.১১.১৯৩৩ - ২৩.৩.১৯৯৫)
ডিসেম্বর ১৯৯৬ এ দে'জ পাবলিশিং দ্বারা প্রকাশিত (প্রথম প্রকাশ - মার্চ
১৯৭৩), “শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা”, ৭ম সংস্করণ থেকে নেওয়া। ধর্মান্ধতা ও
মৌলবাদ বিরোধী কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মানুষ কীভাবে মৃত হয়ে আছে, নিজেও জানে না!
জানে না বলেই মৃত, তার উপর বৃষ্টি দেয় মেঘ---
বান দেয়, টান দেয়---কাছে থেকে দূরে নিয়ে যাবে
এটুকু শপথ তার, স্মৃতি বলে রাখবে না কিছুই,
ফটোগ্রাফ, পা দুখানি, কোনোমতে আল্ তায় রাঙানো---
পা দুখানি বড়ো-ছোটো, মৃত্যুর অত্যন্ত পরে-তোলা
রাড ভাঙা পদচ্ছাপ, জল সরে গেলে অভিমান
পড়ে থাকে যার নাম প্রতিষ্ঠান, পৃষ্টপোষকতা---
মানুষ কীভাবে মৃত হয়ে আছে নিজেও জানে না।
নিজেও জানে না ব'লে মরে যায় বিবাহের পর
সন্তানের বিশ্বরূপ দেখার পরেও মানুষের
মৃত্যু হয়, পুনর্জন্ম আশা ক'রে, জলে মরে, বানে!
বন্যা খুব তীক্ষ্ণ শব্দ, ও শব্দ আমার ক্ষতি করে
মনে হয়, ভেসে যাই কোনমতে শুয়োরের সাথে---
ডাঙ্গা থেকে টেনে-আনা-সাপ চলে সাঁতারে আবার
বেনোজল খুঁড়ে যায় মানুষের সংসারের সবই।
বাঁচায় দুঃখের কিছু খুঁদকুড়ো, বাবুদের-দেওয়া
বাঁহাতের দান-ধ্যান এবং নারীর মৃতদেহ।
মানুষ কিভাবে মরে
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় (২৬.১১.১৯৩৩ - ২৩.৩.১৯৯৫)। ডিসেম্বর ১৯৯৬ এ দে'জ
পাবলিশিং দ্বারা প্রকাশিত (প্রথম প্রকাশ - মার্চ ১৯৭৩), “শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ
কবিতা”, ৭ম সংস্করণ থেকে নেওয়া। মানবতার কবিতা বা মানবিক মূল্যবোধের
কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বিষণ্ণ রক্তের দাগ রেখে গেছে অন্ধকারে ফেলে
মুণ্ডহীন তরুণের উজ্জ্বল বিষুঢ় এক দেহ।
খোলা ছিলো গলির গৃহস্থ জানলা আর
কোষমুক্ত তরবারি ঘাতকের হিংস্র সাংঘাতিক
একটি জিজ্ঞাসা নেই ওই দৃষ্টিহীন দর্শকের
চোখে বা কণ্ঠেও নেই একটি অস্পষ্ট উচ্চারণ :
কেন এই নিদারুণ হত্যা? কেন মায়াহীন ক্রোধ !
এই বাল্যকালে ওই আমার সন্তান কী করেছে?
কোন্ অপরাধে এক প্রাণবন্ত জীবন আঁধারে?
বাক্তিগত স্বার্থে নয়, ও শুধু বিপ্লব চেয়ে দোষী॥
রক্তের দাগ
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় (২৬.১১.১৯৩৩ - ২৩.৩.১৯৯৫)
ডিসেম্বর ১৯৯৬ এ দে'জ পাবলিশিং দ্বারা প্রকাশিত (প্রথম প্রকাশ - মার্চ
১৯৭৩), “শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা”, ৭ম সংস্করণ থেকে নেওয়া। মানবতার
কবিতা বা মানবিক মূল্যবোধের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তীরে কি প্রচণ্ড কলরব
'জলে ভেসে যায় কার শব
কোথা ছিলো বাড়ি?'
রাতের কল্লোল শুধু বলে যায় --- 'আমি স্বেচ্ছাচারী।'
সমুদ্র কি জীবিত ও মৃতে
এভাবে সম্পূর্ণ অতর্কিতে
সমাদরণীয়?
কে জানে গরল কিনা প্রকৃত পানীয়
অমৃতই বিষ !
মেধার ভিতর শ্রান্তি বাড়ে অহর্নিশ।
তীরে কি প্রচণ্ড কলরব
'জলে ভেসে যায় কার শব
কোথা ছিলো বাড়ি?'
রাতের কল্লোল শুধু বলে যায় --- 'আমি স্বেচ্ছাচারী।'
আমি স্বেচ্ছাচারী কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় (২৬.১১.১৯৩৩ - ২৩.৩.১৯৯৫)। ১০.৫.২০২১ তারিখ থেকে, উত্তর
প্রদেশ ও বিহারে, যমুনা ও গঙ্গায় করোনা মহামারীতে মৃতদের শব ভেসে আসার সংবাদে আমরা অত্যন্ত বিচলিত বোধ
করছি। এই "শব ভেসে যাওয়া" নিয়ে কবি শক্তি চট্টেপাধ্যায়ের এই কবিতাটি এখন সোসিয়াল মিডিয়ায় মানুষ পোস্ট
করছেন। এই কবিতাটিকে কিছুটা বদলে বর্তমান নৃশংস অবস্থার কথা বর্তমান কবিদের অনেকেই বলার চেষ্টা করছেন।
আমরা তাই এই কবিতাটি এখানে তুলে দিলাম। কবিতাটি অবশ্যই রয়েছে মিলনসাগরে, ১২৫টি কবিতা নিয়ে, কবি শক্তি
চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার পাতাতেও . . . ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কোথায় চলেছি এই নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে!
জন্ম-মরণ-কুঁড়ে ছেড়ে অনির্দেশ পথে নেমে পড়া
আমার কি সাজে অবিবেক বালকের মত পালিয়ে বেড়ানো!
আমি যেটা পারি সরু আলপথ বেয়ে শিশির মাড়িয়ে
গভীর নলকূপের গায়ে ঠ্যাং ছড়িয়ে বসা---স্বচ্ছ ঝর্নার কলকল
জলধারা, মাঠের শেষে প্রান্তের জমি টউ-টুম্বুর
সরু আল ঝাঁপিয়ে অনিলের জমি ডুবিয়ে দিলীপের
দু-বিঘেয় ঢুকে পড়েছে। অথচ সে মাঠে কোন ফসল নেই।
পড়া জমিতে জল পাইয়ে কী লাভ? "অযথা জল নষ্ট করবেন না"---
সতর্ক নির্দেশে কে কান দেয়। ব্লকের কর্তার দেখা নেই।
তাহলে কি অফিসে বসেই তৈরি রিপোর্ট চলে যাচ্ছে সেচ দপ্তরে?
ফাঁকি দেওয়া নাকি এখন জন্মগত অধিকার। কোনো-এক যুবা
প্রাণপণ চেষ্টায় রুখতে চাইছে ঘুষের ধান্দায় ঘোরা মানুষগুলিকে
চহ্নিত করাতে। জনগণের কাছে তাদের মুখোশ খুলে দিতে।
আমি কী নির্বোধ, মূল্যবোধ বিবেক এই সব পুরানো
কথায় বিশ্বাস রেখে ঘুরে মরছি দু-বেলা দু-মুঠো
ভাত জোটাতে পেটের আগুনে। ---বরাত হলে জুটে যায়, না হলে
নিঢাল উপোস---মাঠে এখন কোন কাজ নেই দিনমজুর খাটার।
স্বধীনতার পঞ্চাশ বছরে আমরা সাবালক হতে পারি নি।
পরের দোরে শান্ কি বাড়িয়ে দিচ্ছি--- আরও ঋণ দাও
উন্নয়নশীল দেশকে। বিশাল এই গণতন্ত্রের দেশ
আরও কতকাল পর অর্জন করবে স্বাবালকত্ব?
স্বাধীনতার হীরন্ময় আলোকে কবি নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সংসাময়িক)। ১৯৯৮ সালে ভারবি থেকে প্রকাশিত,
নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া।
হাজারো ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকি, বিনয়-বাদল-দিনেশের মত
তরুণ যুবক-যুবতীরা নিঃশব্দে রক্ত ঝরিয়েছে।
গ্রামে-গঞ্জে হাজারো মানুষের রক্তে লাল হয়েছে নদী ;
আমি সেই অখ্যাত শহীদদের প্রাণাম জানিয়ে চিত্কার করে বলতে চাই---
তাদের পরিবার এখনও নিরন্ন কেন? শিক্ষা-সংস্কৃতির
তলানিটুকুও দেশের সবখানে পৌঁছায়নি কেন?
শহীদের রক্তের উপযুক্ত মূল্য আমরা দিতে পারিনি---পারিনি তাদের
হৃদয়ের গভীরে ডুব দিয়ে রক্তস্নানে মুক্তি তুলে আনতে।
অকৃতজ্ঞ আমরা সব পথে নেমেছি হৃদয়হীন বিত্ত-সঞ্চয়ে,
তাল-তাল সোনা তুলে আনার প্রতিযোগিতায়।
"সোনাকে জমিয়ে তুলে তো পরশমণি হয় না"---
মানুষ উধাও। এখন সব হরিলুঠ চলছে বন্দরে-বন্দরে
পাল না তুলেই ভেসে যাওয়া নির্বোধের।
এখন হাজারো প্রেতাত্মা ঘুরে বেড়াচ্ছে নিরীহ মানুষের ঘরে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কোথায় দাঁড়াব আমি মাটিতে আগুন
সর্বনাশা হাওয়া বয়, মেঘেরা উধাও
কুমারীরা ঋতুমতী না হলে বৃথা আস্ফালন
আকাঙ্খার বোনা বীজ অঙ্কুরে অঙ্গার।
কোথায় দাঁড়াব বল মাটি যদি করে প্রবঞ্চনা
পেটেতে আগুন জ্বলে জল-রেখা সুদূর নাগাল
পাতালে বালির স্তূপ মজানদী অসহায় বক
বর্ষণ-উধাও নদী কোন সনে স্রোতস্বিনী হবে?
বুকেতে পাথর বেঁধে বেঁচে আছি উচ্ছিষ্ট কুড়িয়ে
এ জীবন মরুভূমি হলে উটেদের পৌষ-পার্বণ
ধরিত্রীর বক্ষলগ্না সীমন্তিনী সীতার ক্রন্দন
কোথা তুমি ভগীরথ? শঙ্খনাদে ধরিত্রীতে জলস্রোত আনো।
খরা কবি নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সংসাময়িক)
১৯৯৮ সালে ভারবি থেকে প্রকাশিত, নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাব্যসংকলন থেকে
নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বন্ধু, চেয়েছ কেন "সহস্রাব্দের অসি"?
হে বন্ধু কেন? শতবর্ষের শত জটিলতার
ঘর্ষণে, ঘষে ঘষে হয়ে গেছে ক্ষয়,
কেন তারে চাও পেতে সহস্রাব্দেতে?
শত বরষের যুদ্ধের কত রক্তক্ষয়ের
করেছে রচনা। যুদ্ধের পরিণাম ধ্বংস লুণ্ঠন
ব্যাভিচার! তৈমুরলঙ্গের অসিরে ফিরিয়ে
আবার কেন চাও আনতে? যে দিয়েছে
শুধুই ধ্বংস লুণ্ঠন ব্যাধিচার।
নরপশু যত নৃশংসতায় শৃগাল গৃধিনী সম,
করেছে রচনা রক্তের আল্পনা।
নারী ধর্ষণে, মাতৃজঠরে ভ্রুণকে করেছে হত্যা।
চেওনা বন্ধু চেওনা সে "অসি"।
শ্মশানের বুকে শ্মশান-কালীর নৃত্যেরে কর স্তব্ধ।
শবের বুকে শিবেরে জাগাও, রুদ্রের রথ থামাও।
ধ্যানের মন্ত্রে কর সচেতন, অচেতন মূঢ় প্রাণ।
নরকাগ্নীর নিভাও আগুন, আগুনে ফুটুক ফুল।
সহস্রাব্দের অসি কবি দীপালী সেনগুপ্তা (১৮.১.১৯৩৪ - ১৫.২.২০১৩)---১
এই কবিতাটি শুভঙ্কর সম্পাদিত, ১৪০৭ (২০০০ খৃঃ) এর "সহস্রাব্দের অসি" নামক কবিতা সংকলনে প্রকাশিত হয়েছিল।
দাও খুলে দাও স্বর্গের দ্বার, লয়ে স্বর্গের ফুল পারিজাতের
মৃত্যুঞ্জয়ী আশির্বাদ। "সহস্রাব্দের অসি"
হোক আজি অরিফিউসের বাঁশী!
মৃত্যুর পার হতে জীবনকে আনতে যে পারে ফিরায়ে।
সত্যম্ শিবম্ সুন্দরমের মন্ত্রে
উজ্জীবিত করতে পারে ধরিত্রীরে।
সে যে "অরিফিউসের" বাঁশী,
"সহস্রাব্দের অসি" নয়, অসি নয়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পাত তুলতে যে যাবি টুসু দেশে কি আর বন আছে,
শালমহুল গাছ কাটি নিয়ে পরদেশী পালাই গেছে।
দেখনু মুড়াতাড়া
কাঠ জুটে না পোড়াতে বাসি মড়া
ভাঙ্গা ইট বনাবি কিসে, টুটা বটা আধভাঙ্গা
হাল ভরাই চাষ করতে দিল খাল ধারের শুকনা ডাঙা।
থোত্ না লাড়িস্ না আর
কামারশালে কাম পাতে নাই জাত কামার
থোত্ না লাড়িস্ না আর।
হামার টুসুর একটা বেটা গো গরু চরায় ইঁদৃ কাড়ে
ভখে শকে কাঁদে বাছার, পেট ভরে নাই জল মারে।
মায়ের মনটা কাঁদে।
হায় গো মায়ের মনটা কাঁদে
হড়কা বহি ঠেকাই কী বালির বাঁধে।
উপরের পাড়ে ওদের কুড়ায়
সাফা সুত্ রা লক গিলা
যে ডাকে ভাই সইতে লারে রাইতে মাথায় পায় দিলা ,
ছি ছি লাজের কথা
মানুষ ভুলায় ভোট নিতে ভাঁড়ুক নেতা
ছি ছি লাজের কথা।
পাত তুলতে যে যাবি টুসু দেশে কি আর বন আছে
কথা - কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
সুর ও কণ্ঠ - কবি গণসঙ্গীতকার বিজয় মাহাতো। স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত, এবং জলার্ক
প্রকাশিত, “যুদ্ধ জয়ের গান” গ্রন্থের “বিদ্রোহী ঝুমুর : বিজয় মাহাতো” প্রবন্ধ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
॥ তাল - ঝিঙাফুলিআ॥
অমুক দাদা, তমুক দাদা
ডাব্ লা লাড়্যেঁঞ্ উঠায় চাঁদা।
কুচ্ লা গাছে কুইলি বাঁধে বাসা হে—
. ||রং|| যেমন পইসার তেমন ভালঅবাসা।
উপ্ রা-উপ্ রি হচ্ছে ভোট---
যেমন পাঁজরা গড়ায় কুঢ়ার চট্।
দিনে মাছি রাইতে সাঁতায় মশা হে॥ রং||
বিকতে গেলে কুলা ঠেকা—
পরের বেগার খাটে বকা।
হাঁড়্যা-মদ খাঁঞে হারায় দিশা হে॥ রং||
ঢপর্-ঢপর্ ফাটা ঢোলে—
তালকানা বাজায় বে-তা’লে।
কাইলা কাঁইদ্ ছে হাঁইস্ ছে বালি হাঁসা হে॥ রং॥
অমুক দাদা, তমুক দাদা
কবি ভবতোষ শতপথী
ঝুমুর গান। সোমনাথ নন্দী ও মুরারি সিংহ সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থ “লোককবি ভবতোষ” থেকে নেওয়া। ভিডিওটি সৌজন্য টাঁড়টিকরের
জলসাঘর YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঘরে বিবিজান, খেতে বাসমতী ধান,
কাস্তে প্রেমিক কিষাণের ভালোবাসা ;
মনে পড়ে গত ভাদরের অভিমান,
উপোসী উঠোনে পাকা পৌষের আশা !
নতুন ফসলে পুলকিত কুঁড়ে ঘর,
বহুদিন পরে মাদলের ঝঙ্কার।
নবজাতকের তীক্ষ্ণ কন্ঠস্বর।
জন্মের দাবী ‘ জীবনের অধিকার।
বাঁচার জন্য অবিরাম সংগ্রাম
হাড়ভাঙা মাঠে হলধর স্বামী খাটে।
গর্জন করে গরীব গণ্ডগ্রাম
চাবুকের দাগ, বিবর্ণ বুকে-পিঠে !
সুদে ও আসলে পাহাড় প্রমাণ ঋণ
মহাজন ক্ষমা করে না অক্ষমতা !
অনাহারে ভুগে দুর্বল দেহক্ষীণ
দমনে পীড়নে আদিম বর্বরতা।
গ্রাম গ্রামান্তে প্রেরিত জরুরী চিঠি
শেষ সম্বল্ লাঙলে বজ্র মুঠি।
খোলা চিঠি
কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যসংকলন “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কামড়ে ধরেছি কাঁটা চাবুক
প্রাণ চেতনায় দিয়েছি শান
আগুন আবেগে জ্বলছে বুক
মাটির মুলুকে কবি-কিষাণ।
ক্ষত-বিক্ষত ক্ষেত-খামার
উপোসী উঠোনে তামসী রাত
জন-সমুদ্রে জাগে জোয়ার
দু’বেলা দু’মুঠো জোটাতে ভাত।
কৃষক শ্রমিক করছে কাজ
ঝরছে রক্ত, ঝরছে ঘাম
ভয়ে পলাতক মামলা বাজ
হামলা করছে কেনা গোলাম।
উঠছে সূর্য লাল সকাল
মানুষে মানুষে ঐক্য চাই।
সামনে সুদিন আগামীকাল
সংগ্রাম ছাড়া উপায় নাই॥
আগামীকাল
কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যসংকলন “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমরা গড়বো সুস্থ সমাজ
ভাঙবো ভীরুতা কুসংস্কার
বিচ্ছিন্নতা বিভেদ বাঁধিয়ে
ভীরু দুর্বল হবো না আর।
আমরা ওড়াবো শ্বেত পারাবত
শান্তির দূত ভালোবাসায়
নীচের মহলে দৃঢ় জনমত
গঠন করবো গেঁয়ো ভাষায়।
আমরা পোড়াবো কুশপুত্তলি
কামুক কালের স্বৈরাচার
বলবো, লিখবো, সব খোলাখুলি
জাতি ধর্মের ধারি না ধার !
গ্রাম গ্রামান্তে গড়বো দূর্গ
যেখানে শোষিত মানুষজন
তুচ্ছতা থেকে উচ্চমার্গে
সংগ্রাম ক’রে উত্তরণ।
নগদ টাকায় গণ্যমান্য
লুকিয়ে রেখেছে লুঠের মাল
সমাজ করবো শোষণ শূন্য
আজ মরে আছি, বাঁচবো কাল॥
আমরা কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যসংকলন “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কিষাণের ধান, আমার কবিতা
অল্প মূল্য জানি,
তার ঘামে, আর আমার রক্তে,
ভিজে গ্যাছে রাজধানী ;
পৌষের প্রাণ, প্রাণাধিক ধান
দ্যায় সে দেনার দায়ে,
আমি পোকা-কাটা পাণ্ডুলিপিটি,
ফেরি করি গাঁয়ে-গাঁয়ে।
কিষাণীর সাথে, কবির গৃহীণী
অভাবের ঘরে ভাবে,
এত অনটন সারাটা বছর
কি করে কাটানো যাবে ?
ক্ষুধিত শিশুর কান্নার সুর---
রাতে নিদ্রায় বাধা,
ভুখা-বস্তির জ্বালা-যন্ত্রণা
চলার ছন্দে বাঁধা ;
আমার কবিতা কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যসংকলন “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
কাতর রাতের কানা গলিটার
দু’পিঠ অন্ধকারে,
অজ্ঞাতবাসে বন্দী রয়েছি
কবিতার কারাগারে।
লাঙলের ফলা, লেখনীর জ্বালা,
ফসলের অনুরাগ।
কিষাণের সাথে সমান সমান
দুঃখের দায় ভাগ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আসামী হাজির প্রকাশ্য আদালতে
ধুঁকছে নীরবে ক্লান্ত কাঠ-গড়ায়
যুক্তি-তর্ক আইনের অজুহাতে
আধমরা যত অপরাধী অসহায়।
কোলের ছেলেটা বন্দী বাপ্ কে দেখে
হাত-পা ছুঁড়ছে অসহ যন্ত্রণায়
ঝাঁপিয়ে পড়ছে বৌ-টার কোল থেকে
ভবিষ্যতে এ শিুকে ঠেকানো দায়।
অক্ষমতার আগুন জ্বলছে বুকে
দুখী জীবনের জোটে না জামিনদার
কাঁদছে বৌটা, বন্দিনী সাতপাকে,
সুখ-দুঃখের সমান অংশীদার।
অট্টালিকার ভীষণ অট্টহাসি
বিলাস-বহুল বিকৃত বিজ্ঞাপন
জীর্ণ শীর্ণ গরীব বস্তিবাসী
মেটাতে পারে না, দু’বেলার প্রয়োজন।
উপর মহলে ঠুংরী গজল গান
নীচের মানুষ হাতিয়ারে দেয় শান।
আসামী হাজির
কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যসংকলন “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
লাঙ্গলের ফলাটাই জীবনের উত্স
কিষাণীর শান-দেয়া কাস্তে,
ফসলের উত্সবের যোগ দাও বত্স !
ক্ষেত-খামারের-উদয়াস্তে।
খেটে-খাওয়া মানুষের ফুটো ঘরকন্না
মান্ধাতা আমলের আসবাব,
কাল গ্যাছে উপবাস, আজ হবে রান্না
অনাহারে অস্থির হাবভাব।
অভাবের সংসারে আধমরা যৌবন
বিড় বিড় করে বুড়ী পৃথিবী !
খরা আর বন্যার রাক্ষসী আচরণ
বছর বছর, আসে মায়াবী।
রোজ ক্ষুৎ-পিপাসার খাপ-খোলা তলোয়ার
সংগ্রাম শুরু কর সৈনিক।
জীবনের দাবী-দাওয়া বাঁচবার অধিকার
দু’বেলায় মরবোনা, দৈনিক।
কানা গলিটার সাথে মিশে গ্যাছে রাজপথ
জীবনে জীবনে সেতু-বন্ধন।
মিছিলে কবিতায় মানুষের অভিমত
ছাই চাপা আগুনের ইন্ধন।
উত্স কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যসংকলন “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দ্যেশ কাঁদে দ্যেশবাসী কাঁদে
. পরব-ভাঙা হাট
মড়ার উপ্ রে খাঁড়ার ঘায়ে
. কাঁইদ্ ছে শ্মশান ঘাট
হাঁসা লকের হিঁসার হাঁসি
. চাষাভুষার ঘাম
ঠক্ বাইছ্ তে গাঁ উজ্যেড়্ হল্যঅ
. ছাপু রহিইল্ নাম।
সউব হারায়েঁ কাইদ্ ছে মানুষ
. পাহাড়-ডুংরী-বন
শুখ্ না ঠুঁঠে বস্যেঁ কাঁইদ্ ছে
. বিহালী যৈবন !
কাঁদ্ না শুন্যেঁ শুন্যেঁ রাগে গর্ গরাছে গা,
হাড়ে হাড়ে বজ্ ড়াবজ্ ড়ি দুখাছে হাত-পা॥
কাঁদনা
কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যসংকলন “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
খর্ হা খর্ হা খর্ হা
শুখাঁয় গেছে নাড়ি-ভুঁড়ি
চইখে নাযঁখ ধার্ হা
মইর্ ছে মইর্ বেক চাষাভুষা
চইল্ বেক মাহাজনী
ছাগল-ভেড়া, গরু-কাড়া
হাট চালায় আমদানি।
গহনা-গাঁঠি ঘটি-বাটি
বন্ধক দিয়েঁ দিয়েঁ
রুঁজি পুঁজি সউব্ সিব়্যাল
পড়া পেটের দায়ে।
খাতে নাঁয় পাঁয় মইর্ ল তাঁতি
কানা গণক ঠাকুর
জ্যাত মইর্ ল ন মানুষ মইর্ ল
ভাইল্ ছে নাঁয় কেউ চতুর।
খর্ হা কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যসংকলন “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
খর্ হা খর্ হা খর্ হা
ডেড় বিঘা চাষ শুখ্ না উপাস
ইপাশ-উপাশ মরা।
শুখাঁয় শুখাঁয় মইর্ ছে মানুষ
বার বন্নি জ্যাত
ভখা-দুখা গুইটায়ঁ লেইগ্ ছে
আঁইঠা-জুঁঠা ভাত॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গর্জ্যেঁ উইঠ্ ছে পাহাড়-ডুংরী
. গতর-খাটা গাঁ।
গর্জ্যেঁ উইঠ্ ছে হেলকা-বাঁকার
. দখ্যল ছাড়া ছা !
গর্জ্যেঁ উইঠ্ ছে বাঁধনা-ঘরের
. আঁধার কুণের মাঁয়
শুখ্ না চইখে ভইখ্ ল্যা ভখে
. কাঁদ্ না ঝইর্ ছে নাঁয়।
গর্জ্যেঁ উইঠ্ ছে মুনিস-ভাথুয়া
. কামিন পাজায় ‘দা’
গর্জ্যেঁ উইঠ্ ছে জুয়ান ছক্ রা
. রাগে গর্ গর্ রা
গর্জ্যেঁ উইঠ্ ছে রুখ্ হা-শুখ্ হা
. খর্ হায়-মরা দিন !
গর্জ্যেঁ উইঠ্ ছে রকত-ঝরা
. জনম মাটির ঋণ॥
গর্জ্যেঁ উইঠ্ ছে
কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যসংকলন “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দোহাই তোকে ভাতের হাঁড়ি
. আছড়ে ভাঙিস না !
ভুখা ছেলের মা হয়েছিস
. কিছুই বুঝিস না।
পোড়া কপাল ! বন্যা, খরায়—
. বিপন্ন সংসার,
আকালী বউ, বন্য-লীলায়
. শূন্য ক্ষেত-খামার।
করুণ চোখের অশ্রু দেখে
. কোলের ছেলেটা,
দুধেল হেসে, আধো আধো
. কথা বলছে না !
বুক ঝাঁঝরা হাড়-পাঁজরা
. জড়িয়ে ধরে সে !
অনুভবের কড়া নাড়ছে---
. বাইরে থেকে কে ?
জোয়ার জেগেছে
কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যসংকলন “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
দীর্ঘ দিনের নীরবতা,
. দারুণ দোটানায় !
আয় মানুষের বাচ্চারা সব
. আমার কাছে আয়।
আকালী বউ, তোর ছেলেটা
. আমার কোলে দে
ক্ষুব্ধ বুকে সাত সাগরের ---
. জোয়ার জেগেছে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সজ্ নে গাছের ছায়ার নীচে
ছড়িয়ে ফুলের ডালি,
আকালে, কোল আলো ক’রে
তুই কেন জন্মালি?
রক্তে বোনা ধান মরেছে,
দেনার ওপর দেনা,
সারা বছর হলো না হায় !
ঢেঁকিতে ধান ভানা।
উপোসে মুখ শুকিয়ে গ্যাছে
রক্ত-মাংস রূপ
রাক্ষুসী রাত শুনতে পাবে
কাঁদিস্ নে আর চুপ।
অনাদরে কষ্ট ক’রে
বেঁচে বর্তে থাক।
কয়েক বছর ক্ষুৎ-পিপাসায়—
যাক্ না কেটে যাক্।
ধার আছে কিনা?
কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যসংকলন “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
আগামী সন অন্য জীবন !
অনেক আয়োজন !
তোর শরীরে আসবে নেমে
অশান্ত যৌবন।
মাংসাশী ঐ মানুষগুলো
জড়িয়ে ধরবে পা,
তখন কাস্তে পরখ করিস্
ধার আছে কিনা?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আইস্ ছে যাছে মানুষ গিলা—
ভটের বাজার লোটের খেলা—
ঢেম্ না গুরুর ঢেম্ না চেলা
জল্ দি যা বাহিরাঁয়ঁ—
হামকে কি হবেক্ শিখাঁয়—
হামকে কি হবেক বুঝাঁয়---
দেশী খুখ্ ড়া বিলাতি ডাক--- ডাইক্ তে পার্ ব নায়ঁ---
মাটি মায়ের চইখের জল—
ফুরাঁয়ঁ গেল বন জঙ্গল—
কেঁদ্ পাকা আর ভুঁড়্যুর ফল একটাও পাওয়া দায়।
বন কুঁদ্ রি আর কাড়্ হান্ ছাতু—
একদিন কুড়্ হাঁয় আইন্ থঅ লধা ফাতু—
মহুলবনি গাঁয়ে একটাও মহুল গাছ নাঁয় ভায়।
দরবারী ঝুম্যুর
কবি ভবতোষ শতপথী (৮.৫.১৯৩৪ - ১৫.১.২০১৭)
অরুণকুমার দে প্রকাশিত ১৯৮৮, কাব্যসংকলন “অরণ্যের কাব্য” থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
“রাজনীতি চুরির জন্য নয়, দেশ গড়তে হবে”
বসু / বর্তমান / ১৯ জানুয়ারী ১৯৯৭
আপনার সুভাষিত খেয়ে কারও কি পেট ভরবে, বসু মহাশয় ?
এই সব উচ্চ উচ্চারণে কতো জলে কতো দুধ আপনিই বলুন।
আপনি কি আর একটি মুহুর্তও আয়নার সামনে দাঁড়াবেন না।
. আমাদের প্রবঞ্চনা করছেন করুন
. কিন্তু আত্মপ্রবঞ্চনা আরও কত দিন?
. দুঃস্বপ্নেও কি কোনও দিন মিথ্যার মুখোশ খুলে
. সত্যের মুখশ্রী আপনি দেখবেন না॥
মুখোশ
কবি কবিরুল ইসলাম (২৪.৮.১৯৩৪ - ১৯.৭.২০১২)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যতদিন যাচ্ছে ঠেকে শিখি
এ-পৃথিবী পান্থশালা নয়
বিশেষত, দুঃখে দুঃসময়ে
কেউ হাত বাড়িয়ে দেবে না !
যতদিন যাচ্ছে ঠকে শিখি
মুখোশের মোহন আড়ালে
রুটি খায় তপস্বী বিড়াল
কেউ হাত বাড়িয়ে দেবে না ||
হাত
কবি কবিরুল ইসলাম (২৪.৮.১৯৩৪ - ১৯.৭.২০১২)
১৯৮২ সালে প্রকাশিত, উত্তম দাশ, মৃত্যুঞ্জয় সেন ও পরেশ মণ্ডল সম্পাদিত
কবিতা : ষাট সত্তর কাব্য সঙ্কল থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়
আমার ঠোঁট শুকনো হয়ে আসে, বুকের ভেতরটা ফাঁকা
আত্মায় অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপতনের শব্দ
শৈশব থেকে বিষণ্ণ দীর্ঘশ্বাস
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়---
বোলিভিয়ার জঙ্গলে নীল প্যাম্টালুন পরা
তোমার ছিন্নভিন্ন শরীর
তোমার খোলা বুকের মধ্যখান দিয়ে
নেমে গেছে
শুকনো রক্তের রেখা
চোখ দুটি চেয়ে আছে
সেই দৃষ্টি এক গোলার্ধ থেকে ছুটে আসে অন্য গোলার্ধে
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়।
শৈশব থেকে মধ্য যৌবন পর্যন্ত দীর্ঘ দৃষ্টিপাত---
আমারও কথা ছিল হাতিয়ার নিয়ে তোমার পাশে দাঁড়াবার
আমারও কথা ছিল জঙ্গলে কাদায় পাথরের গুহায়
লুকিয়ে থেকে
সংগ্রামের চরম মুহূর্তটির জন্য প্রস্তুত হওয়ার
আমারও কথা ছিল রাইফেলের কুঁদো বুকে চেপে প্রবল হুংকারে
ছুটে যাওয়ার
আমারও কথা ছিল ছিন্নভিন্ন লাশ ও গরম রক্তের ফোয়ারার মধ্যে
বিজয়-সঙ্গীত শোনাবার---
কিন্তু আমার অনবরত দেরি হয়ে যাচ্ছে।
চে গুয়েভারার প্রতি কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (৭.৯.১৯৩৪ - ২৩.১০.২০১২)। ২০০৭ সালে প্রকাশিত, ভারতের ছাত্র ফেডারেশন,
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি দ্বারা সম্পাদিত ও সংকলিত “প্রতিবাদী বাংলা কবিতার সংকলন” থেকে নেওয়া।
এতকাল আমি একা, আমি অপমান সয়ে মুখ নিচু করেছি
কিন্তু আমি হেরে যাইনি, আমি মেনে নিইনি
আমি ট্রেনের জানলার পাশে, নদীর নির্জন রাস্তায়, ফাঁকা
মাঠের আলপথে, শ্মশানতলায়
আকাশের কাছে, বৃষ্টির কাছে, বৃক্ষের কাছে, হঠাৎ-ওঠা
ঘূর্ণি ধুলোর ঝড়ের কাছে
আমার শপথ শুনিয়েছি, আমি প্রস্তুত হচ্ছি, আমি
সব কিছুর নিজস্ব প্রতিশোধ নেবো
আমি আবার ফিরে আসবো
আমার হাতিয়ারহীন হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়েছে, শক্ত হয়েছে চোয়াল,
মনে মনে বারবার বলেছি, ফিরে আসবো!
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়---
আমি এখনও প্রস্তুত হতে পারিনি, আমার অনবরত
দেরি হয়ে যাচ্ছে
আমি এখনও সুড়ঙ্গের মধ্যে আধো-আলো ছায়ার দিকে রয়ে গেছি,
আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্ত্রী, বেশ সেজেগুজে এসেছে
কিন্তু আমাদের সঙ্গে খেতে বসবে না
আজ তার নীল ষষ্ঠী
যৌবন বয়েসে এই নিয়ে কত না চটুল রঙ্গ করতাম
এখন শুধু একটু পাতলা হাসি,
অন্যের বিশ্বাসে নাকি আঘাত দিতে নেই
আর এক বন্ধু, যে প্রথম আমায় ছাত্র রাজনীতিতে টেনেছিল
তার আঙুলে দেখি একটা নতুন পাথর-বসানো আঙটি
আমার কুঞ্চিত ভুরু দেখে সে দুর্বল গলায় বললো
শরীরটা ভালো যাচ্ছে না,
তাই শাশুড়ি এটা পরতে বললেন, মুনস্টোন
না বলা যায় না
আমার মনে হলো, এ যেন আমার নিজস্ব পরাজয়!
শ্রদ্ধেয় অধ্যাপকের বাড়ি, মাঝে মাঝে যাই তাঁর আলাপচারি শুনতে
এখনো কত কিছু শেখার আছে
আজই প্রথম দেখলাম, তাঁর দরজায় পেছন দিকে,
গণেশের মূর্তি আটকানো
প্রশ্ন করিনি, তিনি নিজেই জানালেন,
দক্ষিণ ভারত থেকে ছেলে এনেছে, কী দারুণ কাজ না?
সর্বহারা অবিশ্বাসী কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (৭.৯.১৯৩৪ - ২৩.১০.২০১২)।২০০৭ সালে প্রকাশিত, ভারতের ছাত্র ফেডারেশন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি দ্বারা সম্পাদিত ও সংকলিত
“প্রতিবাদী বাংলা কবিতার সংকলন” থেকে নেওয়া। শিল্পী প্রণব ঘোষের কণ্ঠে কবিতাটির আবৃত্তি শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে Pranab Ghosh YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রবীন্দ্রনাথ সঠিক বলে গিয়েছিলেন রামের জন্মস্থান কোথায়
যারা তা মানতে চায় না
তাদের কবিতা ও গানে, শিল্পে ও মনোসুষমায় কোনো অধিকার নেই
যারা পুতুল-দেবতা মানে না, তারা ভুলে যায়
মসজিদ-গীর্জা-গুরুদোয়ারগুলিও আসলে পুতুল
তারা আত্ম-ছলনাময় পুতুল-খেলা খেলতে চায় তো খেলুক
তারা বিশ্ব নিখিলের মধুরে-মধুর চিনবে না কোনোদিন!
এতগুলো শতাব্দী গড়িয়ে গেল, মানুষ তবু ছেলেমানুষ থেকে গেল
কিছুতেই বড় হতে চায় না
এখনো বুঝলো না যে ‘আকাশ’ শব্দটার মানে
চট্টগ্রাম কিংবা বাঁকুড়া জেলার আকাশ নয়
মানুষ শব্দটাতে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই
ঈশ্বর নামে কোনো বড়বাবু এই বিশ্বসংসার চালাচ্ছেন না
ধর্মগুলো সব রূপকথা
যারা সেই রূপকথায় বিভোর হয়ে থাকে
তারা প্রতিবেশীর উঠোনের ধুলোমাখা শিশুটির কান্না শুনতে পায় না
তারা গর্জন-বিলাসী, অনুভব করতে পারে না ঐকতান
কিছু কিছু মানুষ আমাদের সাবালক করার জন্য মাথা খুঁড়ে গেলেন
তাদের বড় বড় ছবি ঝোলানো হয়, আসলে গ্রাহ্য করে না কেউ
আয় কানাই, আয় কামাল, তোরা আয়
পৃথিবী ভর্তি বুড়ো-খোকাদের পাগলামি দেখে
আমরা একটা গাছতলায় দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করি!
একটা গাছতলায় দাঁড়িয়ে কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (৭.৯.১৯৩৪ - ২৩.১০.২০১২)। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ বাংলা লাইব্রেরি
ওয়েবসাইট এর কাছে কারণ আমরা সেখান থেকে এই কবিতাটি পেয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . । শিল্পী প্রণব
ঘোষের কণ্ঠে কবিতাটির আবৃত্তি শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে Pranab Ghosh YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি সেই মানুষ, আমাকে চেয়ে দ্যাখো
আমি ফিরে এসেছি
আমার কপালে রক্ত;
বাষ্প-জমা গলায় বাস-ওল্টানো ভাঙা রাস্তা দিয়ে
ফিরে এলাম-
আমি মাছহীন ভাতের থালার সামনে বসেছি
আমি দাঁড়িয়েছি চালের দোকানের লাইনে
আমার চুলে ভেজাল তেলের গন্ধ
আমার নিশ্বাস-।
রাস্তায় একটা বাচ্চা ছেলে বমি করলো
আমি ওর মৃত্যুর জন্য দায়ী-
পিছনের দরজায় বস্তাভর্তি টাকা ঘুষ নিচ্ছিল যে লোকটা
আমি তার হত্যার জন্য দায়ী-
আমি পুলিশের বোকামি দেখে প্রকাশ্যে হাসাহাসি করবো
আমি নেহেরুর উইল সম্পর্কে শুনবো ট্রামের লোকের ইয়ার্কি
কম্যুনিষ্টদের শ্লোগানের শবযাত্রা দেখে আমার দয়াও হবে না ;
আমি ভয়ের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে জেগে উঠবো মমতায়
আমি মেয়েটির কাছে গিয়ে নিঃশব্দে মুখ চুম্বন করবো
সশরীরে বিছানায় শুয়ে দু’জনে কাঁদবো নানা ধরনে
পরদিন ঠিকঠাক বেঁচে উঠতে হবে, এই জেনে।
সাবধান কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (৭.৯.১৯৩৪ - ২৩.১০.২০১২)। কবির আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ বাংলাকবিতা.কম ওয়েবসাইটের কাছে, যেখান থেকে এই কবিতাটি আমরা পেয়েছি। সেই ওয়বসাইটে
যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
আমার গলা পরিস্কার, আমি স্পষ্ট করে কথা বলবো
সমস্ত পৃথিবীর মেঘলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে একজন মানুষ
ক্রোধ ও কান্নার পর স্নান সেরে শুদ্ধভাবে
আমি
আজ উচ্চারণ করবো সেই পরম মন্ত্র
আমাকে চাঁচাতে না দিলে এ পৃথিবীও আর বাঁচবে না।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলতে পারি
আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলতে পারি॥
জাগো নাগিনীরা জাগো নাগিনীরা জাগো কালবোশেখীরা
শিশুহত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা,
দেশের সোনার ছেলে খুন করে রোখে মানুষের দাবি
দিন বদলের ক্রান্তি লগনে তবু তোরা পার পাবি?
না, না, না, না খুন রাঙা ইতিহাসে শেষ রায় দেওয়া তারই
একুশে ফেব্রুয়ারি, একুশে ফেব্রুয়ারি॥
সেদিনও এমনি নীল গগনের বসনে শীতের শেষে
রাত জাগা চাঁদ চুমো খেয়েছিল হেসে,
পথে পথে ফোটে রজনীগন্ধা। অলকনন্দা, যেনো,
এমন সময় ঝড় এল এক, ঝড় এল ক্ষ্যাপা বুনো॥
সেই আঁধারের পশুদের মুখ চেনা,
তাহাদের তরে মায়ের, বোনের, ভায়ের চরম ঘৃণা
ওরা গুলি ছোড়ে এদেশের প্রাণে দেশের দাবিকে রুখে
ওদের ঘৃণ্য পদাঘাত এই সারা বাংলার বুকে।
ওরা এদেশের নয়,
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি কথা - কবি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী (জন্ম ১২.১২.১৯৩৪), সুর - আলতাফ মাহমুদ। রচনা ২১শে ফেব্রুয়ারী
১৯৫২। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে Sakib Ahmed YouTube Channel. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে, ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যাবয়ের (BRAC Bangladesh Rural Advancement Committee) বিদেশী
শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে গানটি আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। নীচের ভিডিওটি সৌজন্যে BRAC University YouTube Channel.
দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়
ওরা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শান্তি নিয়েছে কাড়ি
একুশে ফেব্রুয়ারি, একুশে ফেব্রুয়ারি॥
তুমি আজ জাগো তুমি আজ জাগো একুশে ফেব্রুয়ারি
আজো জালিমের কারাগারে মরে বীর ছেলে বীর নারী
আমার শহীদ ভাইয়ের আত্মা ডাকে
জাগো মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাঁকে
দারুণ ক্রোধের আগুনে আবার জ্বালাবো ফেব্রুয়ারি॥
একুশে ফেব্রুয়ারি, একুশে ফেব্রুয়ারি॥
JalshaBD.com এর উপস্থাপনা
|
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যাবয়ের বিদেশী শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শহীদ মিনার ভেঙেছ আমার ভাইয়ের রক্তে গড়া
বাংলার হৃদয় এখন শহীদ মিনারে ভরা
কালো যামিনীর কুন্তলে লেখা প্রাণ বিদ্যুৎময়
কালো যামিনীর কুন্তলে লেখা প্রাণ বিদ্যুৎময়
অন্ধকারে অমানিশা শেষে হবে সূর্যোদয়
অত রক্তের প্রাণ কল্যাণ সাগরে দেবে ধরা
বাংলার হৃদয় এখন শহীদ মিনারে ভরা
হায় হায় রে হায় হায় রে
কেঁদোনা জননী কেঁদেনা গো বোন
সাত কোটি নর নারী
সাত কোটি নর নারী
লাখো শহীদের স্মৃতি কি আমরা
কখনও ভুলিতে পারি
কখনও ভুলিতে পারি
না না না ভুলবো না ভুলবো না
না না না ভুলবো না ভুলবো না
মুক্তি সূর্য ছিনিয়ে আমার জয়যাত্রা থামবে না
মুক্তি সূর্য ছিনিয়ে আমার জয়যাত্রা থামবে না
বিজয় মিনার ভায়ের রক্ত বোনের অশ্রু ভরা
বিজয় মিনার ভায়ের রক্ত বোনের অশ্রু ভরা
এই মাটিতেই সূর্য ওঠার লাল ভোর দেবে ধরা
না না না ভুলবো না ভুলবো না
মুক্তি সূর্য ছিনিয়ে আমার জয়যাত্রা থামবে না
থামবে না, থামবে না, থামবে না, থামবে না, থামবে না
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এ কোন সকাল রাতের চেয়েও অন্ধকার
ওকি সূর্য নাকি স্বপনের চিতা !
ওকি পাখির কুজন নাকি হাহাকার॥
রাত্রি সে তো স্বভাবে মলিন
তাকে স’য়ে থাকা যায়
ভোরের পথের দিকে
চেয়ে থাকা যায়
সে ভোর অন্ধ হল নিজেই এখন
সে ভোর অন্ধ হল কি হবে এখন
তার যে কথা ছিল আলো দেবার॥
আজ থেকে বুঝি আমার রাত্রি ফুরিয়ে যাওয়া ফুরাল
আজ থেকে বুঝি আমার দিনেরা আকাশ-পথ হারাল॥
সূর্যটাকে কি জানি কি ভেবে
চেয়ে দুহাতে নিয়ে
জ্বেলে আবার সে
গেছে নিভিয়ে
যাবার সময় গেছে তাকে মাড়িয়ে
জ্বলতে না পেরে যেন কখনও আবার॥
এ কোন সকাল রাতের চেয়েও অন্ধকার কথা, সুর ও কণ্ঠ - কবি জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায় (১৩.১২.১৯৩৪ -
২১.১২.২০১৭)। ২০০১ সালে প্রকাশিত, কবির “এ কোন সকাল” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া। গানটি এইচ.এম.ভি. থেকে ১৯৭৪ সালে রেকর্ড
করা হয়। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে pujan kumar daripa YouTube Channel. গানটি শুনে লেখা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হিমালয়ের সোনাগলা জলের ছোঁয়ায় ফসল দোলে
আষাঢ় শাওন আসে রে,
ধানের ফুলের বাসে রে,
আমার মনের আশা রে,
আমার সোনার বাসা রে---
তরাইয়ের ধান তুলবে আধিয়া রে।
ধানের গান গাইবে ঘরে ঘরে॥
হো হো (২) হোইরে ! হো হো (২) হোই !
নাগিনী নিশাস লাগে ধানে রে !
লালা ঝরে গিরির নয়ানে রে !
আঁকা বাঁকা সড়ক ধরিয়া ওরা আসে রে !
ওরা মারিবারে চাহে ধনে প্রাণে রে !!
ধান না দিম, মান না দিম, দিম্ হাঁসুয়ার ঘা !
তীরের ফলাত লোভখান মিটাম্ ! দূর হাটিয়া যা !
তর পুলিশ লয়্যা যা ! তর মন্ত্রী লয়্যা যা !
হামার মাটি, হামার ফসল, হামার লাল নিশান রে
লাঠির আগাৎ মাটিখান্ নিম্ ভাঙ্গিন্ গদিখান রে।
হিমালয়ের সোনাগলা জলের ছোঁয়ায় ফসল দোলে কথা ও সুর - কবি দিলীপ বাগচী (১৯৩৪ -
১১.১.২০০৭)। নকশালবাড়ী আন্দোলনের গান। আমরা গানটি পেয়েছি শংকর সান্যাল ও তাপস চক্রবর্তী সংকলিত ও সম্পাদিত “এক
আসাধারণ সাধারণ মানুষ দিলীপ বাগচী : জীবন ও সৃষ্টি” থেকে। স্বরলিপি সহকারে গণসংগীতের সংকলন (হ-১০৯) এর সৌজন্যে।
নিশান্তিকা গণসঙ্গীত গোষ্ঠি প্রকাশিত সি.ডি. "তরাইয়ের গান" থেকে গানটি শুনুন কবিকণ্ঠ ও সমবেত কণ্ঠে প্লেয়ারে ক্লিক করে
মিলনসাগর থেকে।
হিমালয়ের চূড়ায় চূড়ায় রোদের ছোঁয়ায় মানিক জ্বলে।
রক্ত রাঙ্গা চুনী রে,
মুক্ত দিনের মণি রে,
ডায়না নদীর জলে রে,
হোয়াংহো ঢেউ তোলে রে !
তরাইয়ের গান দুনিয়ার ঘরে ঘরে !
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মাগো, তোমার বুকে ঝরলো যে খুন,
তাই আমার চোখে জ্বলে আগুন।
ওদের করবো না ক্ষমা (৪)
মোদের ক্ষেতের সোনালী ঐ ধান,
ওরা চুরি করে ঢুকিয়ে দ্যাছে নোনা জলের বান।
মোদের কোলের সোনার শিশু কেড়ে
ওরা নেকড়ের মুখে দিয়েছে যে ছেড়ে,
তাই ওদের সুখের স্বপ্নের আল ছিঁড়ে ফেলে
করবো যে খান খান ---
মোদের ক্ষেতের ---
ওগো গ্রাম বাংলার কিষানী মা শোন
ওদের সুখের ঘরে প্রদীপ দিতে রাখবো না কোন জন।
গণশিল্পী মোরা ডাক দিয়ে যাই বাংলার ঘরে ঘরে
পিশাচের শেষ করিতে তোমরা
. শান দাও হাতিয়ারে (৩)।
শান দাও হাতিয়ারে শান দাও
কাস্তে হাতুড়ীটা তুলে নাও
শত্রুকে চিহ্নিত করে নাও,
. হাতিয়ারে শান দাও (৩)।
মাগো, তোমার বুকে ঝরলো যে খুন কথা ও সুর - কবি দিলীপ বাগচী (১৯৩৪ - ১১.১.২০০৭)।
নকশালবাড়ী আন্দোলনের গান। শংকর সান্যাল ও তাপস চক্রবর্তী সংকলিত ও সম্পাদিত “এক আসাধারণ সাধারণ মানুষ
দিলীপ বাগচী : জীবন ও সৃষ্টি” থেকে নেওয়া। জলার্ক (ত্রয়োবিংশ সংকলন) পত্রিকার সৌজন্যে। নিশান্তিকা গণসঙ্গীত গোষ্ঠি
প্রকাশিত সি.ডি. "তরাইয়ের গান" থেকে গানটি শুনুন মিলনসাগর থেকে, প্লেয়ারে ক্লিক করে . . . ।
বন্ধু তোমার ছাড়ো উদ্বেগ
সুতীক্ষ্ণ করে নাও চিত্ত,
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি
. বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।
আমার সোনার ধান আমার মাটি
কারখানা কলে ক্ষেতে আমরা খাটি
শত্রুর লক্ লকে জিভখানা টেনে নিয়ে
ছিঁড়ে ফেলো (২) আরবার ----
. শান দাও হাতিয়ারে ---।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সুবর্ণরেখার সোনা সোনা জলে----
সাগরের নোনা নোনা হাওয়া,
শাল-গমহারের ছায়া কাঁপে---
. কাঁপে কাঁপে কাঁপে রে॥
শোলা বাঁধা ভেলার খেলা খেলা নায়ে ---
জেলেদের ভেসে ভেসে যাওয়া,
রূপালী ইলিশের রূপে॥
. কাঁপে কাঁপে কাঁপে রে --- ছায়া কাঁপে॥
ঢেউ খেলানো নদী, আর ঢেউ খেলানো জমি,
ধানের শীষে ঢেউ ঝাঁপে।
ঝিলিমিলি গ্রামে মেঘ ভাঙ্গা রোদ নামে,
সাঁওতালী মাদলের আলাপে॥
. কাঁপে কাঁপে কাঁপে রে ---- ছায়া কাঁপে॥
সুবর্ণরেখার রাঙ্গা রাঙ্গা জলে
পাহাড়ের থরো থরো যৌবন –
দু’পারের গাঁয়ের সীমায় ঝাঁপে॥
. কাঁপে কাঁপে কাঁপে রে ---- ছায়া কাঁপে॥
তীর ভাঙ্গানো ঢেউ, আর ঘর ভাঙ্গানো ঢেউ
ধানভাসি ঢেউয়ের বিলাপে।
সুবর্ণরেখার সোনা সোনা জলে কথা ও সুর : দিলীপ বাগচী (১৯৩৪ - ১১.১.২০০৭)। নকশালবাড়ী আন্দোলনের গান।
শংকর সান্যাল ও তাপস চক্রবর্তী সংকলিত ও সম্পাদিত “এক আসাধারণ সাধারণ মানুষ দিলীপ বাগচী : জীবন ও সৃষ্টি” থেকে নেওয়া।
অনীক (জুন ১৯৮১) পত্রিকার সৌজন্যে। গণবিষাণ গণসঙ্গীত গোষ্ঠির গাওয়া গানটি শুনুন, মিলনসাগর থেকে, প্লেয়ারে ক্লিক করে . . .।
ঝিলিমিলি গ্রামে রক্ত ঝরা ঘামে
হেঁইয়া হো বাঁধ বাঁধে দাঁত চেপে
হাজারো ভুখা হাতে রে. --- হেঁইয়া হো বাঁধ বাঁধে দাঁত
চেপে॥
সুবর্ণরেখা রে----
আমার ঘরভাঙ্গা নদী,
আমার বুকভাঙ্গা নদী,
আমার ধানভাসি নদী---
আমার ঘর গড়া নদী রে,
বুক বাঁধা নদী রে,
সোনার ধানের নদী রে--সুবর্ণরেখা রে!!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
(ও) নকশাল নকশাল নকশালবাড়ীর মা
ও মা তোর বুগত্ অক্ত ঝরে
তর খুনত্ আঙ্গা নিশান লইয়া
বাংলার চাষী জয়রধ্বনি করে।
ও মা রে----
জমি চাছেন ফসল চাছেন তোমার আধিয়ারে
গুলি মারিয়ার শিক্ষা দিছেন
যুক্তফন্ টর দরদী সরকারে।
ও মা রে----
তর বুগত খুনত শিক্ষা পাছি
হামরা দ্যাশের চাষী
হাত বদলাইলে বদলায় নারে
হামরার গলার ফাঁসী মা রে।
(ও) নকশাল নকশাল নকশালবাড়ীর মা
ও মা তর বুগত্ অক্ত ঝরে
সেই অক্ত হইতে জন্ম নিবে
জঙ্গল সাঁওতাল বাংলার ঘরে ঘরে॥
(ও) নকশাল নকশাল নকশালবাড়ীর মা কথা ও সুর : দিলীপ বাগচী (১৯৩৪ - ১১.১.২০০৭)।
নকশালবাড়ী আন্দোলনের গান। শংকর সান্যাল ও তাপস চক্রবর্তী সংকলিত ও সম্পাদিত এক আসাধারণ সাধারণ মানুষ
দিলীপ বাগচী : জীবন ও সৃষ্টি থেকে নেওয়া। রচনা – ২৫ মে ১৯৬৭। ‘স্বরলিপি সহকারে গণসংগীতের সংকলন’ (ন—১৭) এর
সৌজন্যে। নিশান্তিকা গণসঙ্গীত গোষ্ঠি প্রকাশিত সি.ডি. "তরাইয়ের গান" থেকে গানটি শুনুন প্লেয়ারে, মিলনসাগর থেকে . . . ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
‘প্রতিজ্ঞার ফাইলটা একবার
খোলো দেখি সহকারী
জানা খুব দরকারি
কি কি ছিল অঙ্গীকার
কার কার কাছে----‘
‘কি দেখবেন ফাইল
সবই তো পুড়ে খাক হয়ে গেছে
হাজার মাইল
শুধু মরুভূমি পড়ে আছে
কোনো ছায়া নেই কোনো মন মুগ্ধ ছবি
মিছিমিছি হাত কালি
কেন করবেন? ভুলে যান, গেছে সবি
কি হবে আউড়ে আফসোসের পাঁচালি----‘
‘বলো কিহে কবে পুড়ল এ অরণ্য খান্ডব
পাতায় পাতায় ইতিহাস কত কি------‘
খান্ডব দহনের পরে সংলাপ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (১৯.১.১৯৩৫ - ১৫.১১.২০২০)। কবির
“ব্যক্তিগত নক্ষত্রমালা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা পেয়েছি ২০০৬ সালে প্রকাশিত দে’জ পাবলিশিং থেকে
প্রকাশিত “সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা” সংকলন থেকে।
‘ন্যাকামি রাখুন। কত কলরব
করেছিলেন মনে নেই? আবেদন দরখাস্ত কত লেখালিখি
শেষ কালে প্রতিজ্ঞা ভাঙতে হলেন নিমরাজি’
‘হায় সহকারী, তবে সব শেষ?
না না এ নিশ্চয়ই তোমারই কারসাজি’
‘আবার ধাপ্পা কেন স্যার যুগলে যুক্তি ক’রে উল্টিয়ে গণেশ?’
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শব ছুঁয়ে বসে আছে কেউ
চলে গেছে শ্মশানের মিতা
আগুনের ভালবাসা চেয়ে
পড়ে আছে চন্দনের চিতা
কতদিন এই ভাবে যাবে
শবের উপরে রেখে জানু
অহল্যা পাথর কবে পাবে
বারুদের ক্রুদ্ধ পরমাণু
পড়ে আছে চন্দনের চিতা কবি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (১৯.১.১৯৩৫ - ১৫.১১.২০২০)।
কবির “পড়ে আছে চন্দনের চিতা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা পেয়েছি ২০০৬ সালে প্রকাশিত দে’জ
পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত “সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা” সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কে খাবে গরু, কে খাবে শুয়োর, মত্ত রাজনীতি এই নিয়ে।
মত্ত সমাজ, মত্ত বিশ্ব, মত্ত সবাই, আজব আফিম এ।
কিন্তু এরা কি ভাবেছে, কি খাবে ছোট্ট বাচ্ছাটা?
শীতের রাতে, তিলোত্তমার বুকে, পেট আঁকড়ে যে শুয়ে থাকে?
যে একটা রুটির জন্য কাঁদে ক্রমাগত?
ভাবেনি,
যারা ধর্ম নিয়ে বড় বড় কথা বলে, কেউ কি থাকে সেই পর্ণকুটিরে?
যেখানে সাধক করেছিলেন তপস্যা?
না,
লড়াইটা জাত নিয়ে নয়, ভাত নিয়ে হোক
লড়াইটা দীক্ষা নিয়ে নয়, শিক্ষা নিয়ে হোক
লড়াইটা বাবরি বা রাম মন্দিরের জমি নিয়ে নয়,
হাসপাতাল বা স্কুলের জন্য রাখা হোক॥
কে খাবে গরু, কে খাবে শুয়োর এই কবিতাটি কবি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নামে
সোসিয়াল মিডিয়ায় ঘুরছে। আমরা এর রচয়িতা সম্বন্ধে নিশ্চিত নই। কেউ যদি প্রমাণ সহ তা
আমাদের জানান তাহলে আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর নাম এখানে উল্লেখ করবো।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দোতলার বারান্দায় বসে আছি।
সম্মুখে প্রসারিত রাজপথ,
সেই পথ দিয়ে চলেছে জনতার মিছিল,
আঁকা-বাঁকা।
নানা বিচিত্র স্লোগানের ধবনি আসছে কানে-
ওরা দাবী জানাচ্ছে-
ভাত কাপড় আর কাজের,
ওদের হাতে পতাকা-ফেস্টুন।
জানিনা একটু পরেই
শাসকের গুলি, সমাজ বিরোধীর লাঠি-ছুরি-বোমা
পতাকার রং কে মলিন করে দেবে কিনা,
অথবা ক্লান্তি আর অবসাদে মিছিল যাবে ভেঙ্গে।
একটু আগে
এই পথ ধরেই গিয়েছিল আর একটা মিছিল;
তাদের পতাকার রং ছিল অন্য
তারা ধ্বনি দিয়েছিল-“এদেশ তোমার-আমার”;
আর,
পরে যারা যাচ্ছে
তাদের উদ্দেশ্যে বিদ্রুপের ধ্বনি ছুঁড়ে দিয়েছিল।
আমি মনে ভাবি-
আমিও ত’ রাজনীতি করি,
ভুখা মানুষের কথা বলি,
এদেশ আমার আমি তাও জানি।
নেতা কবি শম্ভুনাথ মুখোপাধ্যায় (জন্ম ৫.৫.১৯৩৫)। কবি অল-বেঙ্গল-টীচার্স- আসোসিয়েশন এর আজীবন সদস্য ও শিবপুর
অঞ্চলের সভাপতি ছিলেন। কবিতাটি আমাদের পাঠিয়েছিলেন শ্রীমতি সংহিতা মুখার্জী।
কিন্তু সভায় যাই মোটরে চেপে (কত ব্যস্ত মানুষ আমি!)
তাই জানিনা---
ওই খালি গায়ে, খালি পায়ে যারাচলেছে,
ওরাও কি আমার আত্মার আত্মীয়?
সভা -মঞ্চে যখন বক্তৃতা দিই
গলায় আমার আগুন ঝরে;
অজস্র হাত তালি থেমে গেলে
দু’একটা বেড়ালের ডাকও কানেআসে;
উপেক্ষা করি রপ্ত করা ঔদাসিন্যে।
বাড়ী ফিরে
ঠান্ডা পাণীয় অথবা উষ্ণ চায়ের কাপে
চুমুক দিতে দিতে
স্তাবক দের মুখে শুনি-
“দারুন বলেছেন স্যার”
---আত্মপ্রসাদ অনুভব করি।
তারপর,
গভীর রাত্রে যখন ঘুম ভেঙ্গে
নিজের খোলস ছাড়া উলঙ্গ মুর্তিটার দিকে তাকাই
শিউরে উঠি
সর্বাঙ্গে লোভ আর বজ্জাতির দগদগে ঘা দেখে,
তখন নিজের মুখেই লাথি মারতে ইছে হয়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এবার ভারতবর্ষে রাষ্ট্র আর সমাজের কাছে
নেমে এসে দাঁড়াবেন বুঝি ধর্মরাজ।
এবার ভারতবর্ষে মনুষ্যত্ববিরোধী উৎকোচে
শৃগালের রৈ রৈ দলসংঘবদ্ধতা চিৎকার
স্পষ্ট শোনা যাবে বাশবাগানের জমানো আঁধারে।
আমি নিস্পুহ যুগের মতো সারারাত জানলা খোলা রাখব ভাবি ;
আমি জানলা খুলে শুধুমাত্র প্যাঁচায় সাহসী ওই
নৈশ প্রেতলোকভরা দীর্ঘ দীর্ঘ লোলুপ উদ্ভিদে
জ্যোত্সনাতিরস্কার এনে দেখতে চাই কোন
অলীক ঈর্ষার শোক সমাধিক্ষেত্রের কাছে হতে পারে প্রস্তুত চণ্ডাল।
দেশ বা বিদেশে আজ ভারতবর্ষের
আত্মসংগঠনছলে এ-ধরন জাতীয়তাবাদী রক্তপাত
কেন ইতিহাসে যোগ্য পাতা পৃথক সাজাতে পারছে না, সেই
অন্বেষণ আমার বুকের মধ্যে এবার জাগাতে হবে জেনে,
চলি কবিতার মতো দূরে, কাশ্মীর থেকেও দূর
ব্যগ্র অমরনাথের শৈলচূড় বরফের হিম
দিল্লীর উত্তাপে চাই তৃষ্ণা মেটাবার জন্য জল করে নিতে।
আমার শিয়রে কোনো অদীন দণ্ডাজ্ঞা জেগে নেই ;
আমি ইচ্ছে হলে পাখিদের, শাপলাপাতার নিচে মৌরালার
ফুল ফোটানো বা ঝরানোর ছলে আমি
এনে দিতে পারি. বাগানের প্রয়োজনীয় বাঁতাস ;
---আমার জীবনে মনে কোনো জেল নেই।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কবি সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত (৫.৫.১৯৩৫ - ৬.৩.২০১১)। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ে সম্পাদিত “কৃত্তিবাস” পত্রিকার মে ১৯৬৪ সংখ্যার কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশকাল - ২৮.১২.২০২০।
হে ভারতবর্ষ, হায় ভারতবর্ষ, এ-রকম শোচনা
মনীষীর বাণী হয়ে আজ শুধু স্কুলপাঠ্য মুখস্থ অক্ষরে
বালকের মুখ ভরা দেবালয় নষ্ট করে, এ কি
আত্মহত্যা নয়, যৌবন, জাতির নামে
এ কি গানের সহজ কণ্ঠ চেপে ধরা নয়?
নালন্দায় সেবার আশ্বিনে আমি ক্ষমা খুঁজতে গিয়ে
আযত্ন জঙ্গলে ঘেরা বুদ্ধের পায়ের কাছে ফোটা এক ফুল
ভীষণ নিঃসঙ্গ তবু অনুতপ্ত দেখে বুকে তুলে নিয়েছিলাম।
চোখের লবণ তাকে করেছিল ম্লান,
সন্ধ্যার বাতাস তাকে করেছিল গান ;
যুগ থেকে যুগান্তের শব্দবিবর্তনে
বালকের কাছে কোনো মহিমার পাঠতেদ নেই।
মহিমা? মিনতি করি মহিমার কথা তুমি আর শিখিয়ো না।
বাবার মহিমা ছিল, পরীক্ষার আগে ইতিহাসে
নেপোলিয়নের ছিল কম কি মহিমা!
বালক ভালোই শেখে পরবশ “সদা সত্য কথাগুলি” বলে যেতে যেতে
কখন অস্থির গন্ধে শরীর চৌকস হয়,
. হঠাৎ হৃদয়ে লাগে গোলাপের জ্বালা ;
যৌবন সমস্ত জানে, জানে ওই যৌথ যৌনমন্ত্রণায় ভরা,
মুহূর্তপ্রবাসগুলি, মহিমারও চাই আজ তেমন প্রবাস।
কেন না মুদ্রিত হলে মন্ত্রীদের চরিত্রচর্চার
স্বাদু রিপোর্টের নেশা ইংলণ্ডের মতন দেশেও
রাজনীতি থেকে কত প্রিয় হতে পারে,
‘কিলার’, তুখড় বেশ্যা কয়েকবার ঊরুর ব্যাদানে
তুমি দেখিয়ে দিয়েছ কেন মানুষের মুক্তি নেই
মহিমার যুক্তি নেই টেলিগ্রামের মতো সুস্থ সাজানো অক্ষরে।
এ-বিষয়ে সংবাদপত্রের কিছু স্বাধীনতা ছিল
শুধু বালকের জন্য নয় --- ভারতের আত্মার পরুষ
প্রকৃত কোথায়? জীবনীর ছল মেখে যন্ত্রণার জ্বালা দিয়ে
তাকে স্পষ্ট গভীর জানানো গেলে, দেশ, কাল, সমসাময়িক
. বেদনা --- বিদ্রোহ
কিছুটা সাবধান হত ; গোলন্দাজ কামানের হাত
রাজতন্ত্র, গণতন্ত্র সরিয়ে ক্রমশ সেনাবাহিনীর ক্ষমতাদখলে
পর্যবসিত হত না, বিশেষত দক্ষিণ বা পূর্ব-এশিয়ার এ-উতরোল আগুনে
আরো একবার প্রয়োজন প্রকৃতির ঐশী সত্ত্বে নিজস্ব ক্ষমতাগুলি
ঝড়ে উদ্ভিদের দেহে, ক্ষিপ্ত জলে নদীর বন্যায়
মানুষকে তার সামগ্রিক স্থিতি আর ধ্বংস মধ্যবর্তী অনিশ্চিত ভূমি
ম্পষ্ট না দেখালে সূর্য কোনোদিন বুঝি
জনসাধারণভাবে তত উজ্জ্বল হবে না।
আমিও দেখব না চুম্বনের আগে মুখ
অচেনা রেখার ভিড়ে ভরে ওঠে কিনা? যেন রূপ
রচিত হয়নি শুধু ধর্মাধিকরণ কবিতার
প্রাণান্ত অক্ষরগুলি শরীরে ছড়িয়ে দিয়ে শেষে বোঝা গেল
প্রেম কোনো জাতি নয়, বুঝি রাজনীতি, তাই শৃগালক্ষুধায়
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জে ব্রিটেনের সঙ্গী আমেরিকা।
মনে হয় সংবাদপত্রের যুগ এইভাবে বিবেকের দৈনিক হত্যার
বিবরণ বুকে নিয়ে বেড়ে ওঠে, ক্রমে
এক লাভজনক ব্যাবসা দাঁড়িয়ে গিয়েছে বলে
কবির সংবাদদাতা নিজস্ব সংকেতে
বিছ্যুৎবিক্ষোভ ছেড়ে, আকাশের কাছে ফের ফেরত পাঠায় ;
আর জানুময় মলিনতাগুলি সব ক্লেদের প্রমেহ ভরা গর্ভের উদ্যমে
অনৃত আঁধার এনে জন্মের শুদ্ধতা পেতে চায়।
জন্মদিন থেকে কান খোলা থাকে, থাকাই নিয়ম বলে বুঝি
মানুষ শুনতে বাধ্য মৃত্যুর সংবাদ,
চোখ খোলা আছে বলে দশ-কলাম বোল্ড-টাইপে
রাজনৈতিক হত্যার লাল পড়ে যেতে হবে।
আমি গত বছরের
প্রেস-ফোটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত
ছবিটি দেখেছি --- এক শ্বেত পাদরি, গুলিতে আহত
নিগ্রোর দেহকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে চাইছেন।
ক্যামেরার ও-রকম অবিস্মরণীয় উত্তরণ
দেখে সেই নিমন্ত্রিত ভিড়ের সন্ধ্যায়
আমি আফ্রিকার মতো একা, রুমালের অস্থির আড়ালে দুটি
দগ্ধ চোখ মুছে নিয়েছিলাম।
মনে হয়েছিল আরো একবার পৃথিবীকে নিশ্বাসের যোগ্য করে দিতে
সংবাদপত্রের যেন সঠিক ভূমিকা ছিল ; আজো যাকে রোজ
সুর্যবরণের ছলে পাখির ডাকের সঙ্গে খুলে পাঠ করি
সে কি জন্মের বিরুদ্ধযাত্রা, শুধু কলামে-কলামে খোঁজা নিজের কবর?
এবার ভারতবর্ষে রাষ্ট্র আর সমাজের কাছে
প্রকৃতির নিজস্ব ক্ষমতা ভূমিকম্প, জলে বন্যা, মেঘে বজ্র
অক্ষরে একত্র করে তাই বুঝি নেমে এসে দাঁড়াবেন দৃশ্যে ধর্মরাজ্জ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গান্ধীজীর সময়েই আমাদের চোখের সমস্ত জল শুকিয়ে গেছে
এখন তোমার জন্য চোখ দিয়ে শুধু রক্ত পড়ছে রাজা। আমি
টেলিপ্রিন্টার দূরত্বের এক কালো মানুষ, অসহ
অনুতাপে পুড়তে-পুড়তে
বোবা মানুষগুলোর পাশে আমার সতীর্থ মুখ
বারবার তুলে দেখছি, তোমার
অহেতুক অন্যায় নিদ্রার দুইপাশে
সারা আমেরিকার বাগান থেকে ফুল হয়ে উঠে আসছে প্রকৃতি। কিন্তু
তোমার বুকের উপর তো এই
নানাবর্ণ কুসুম সম্মিলনের কোন প্রয়োজন
ছিল না! কেননা তুমি সাদা আর কালো এই দুই মূল বর্ণ
কেবল মেলাতে চেয়েছিলে ; চেয়েছিলে মানুষের পূণ্য নিঃশ্বাসের সঙ্গে
একই পৃথিবীর নাগরিকতায় মানুষের বিশ্বাস মেলাতে!
এখন গভীর প্রশান্তিতে চোখ মেলে আছ তাই
দেখছ না কখন আকাশ আমাদের বিবর্ণ মুখের থেকেও
অনেক বেশী নীল হয়ে গেছে
আর দু-চোখের চেয়ে বড় এবং গভীর দর্পণ নেই বলে
আমরা কেউই কারো দিকে তাকাতে পারছি না। হায় ভালবাসা!
মানুষের অভিধানে আর তোমার জন্য কোনো জায়গা রইল না।
রাজা কবি সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত (৫.৫.১৯৩৫ - ৬.৩.২০১১)। কবিতাটি মার্টিন লুথার কিং-এর স্মরণে লেখা।
১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, সাগরময় ঘোষ সম্পাদিত “দেশ সুবর্ণ জয়ন্তী কবিতা সংকলন ১৯৩৩-১৯৮৩” কাব্য
সংকলনের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বুকের রক্ত মুখে তুলে যারা মরে
ওপারে ঢাকায় এপারের শিলচরে
তারা ভালোবাসা-বাংলাভাষার জুড়ি---
উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি।
সিঁদুর কুড়িয়ে নেওয়া যায় এক আলো
প্রাণের পুণ্যে হয়ে ওঠে জমকালো
সে-আলোয় দেয় মারের সাগর পাড়ি
উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি।
সে-আলো টলে না মৃত্যুর কালো ঝড়ে
তর্জনি তুলে জেগে থাকে ঘরে ঘরে,
দুলিয়ে গলায় তাজা বুলেটের মালা
পার হয়ে শত শ্মশান ও কারবালা
হাজার মুখের মিছুলে দিয়েছে পাড়ি
উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি।
উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি
কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত (২৫.১১.১৯৩৫ - ২৯/৩০.১১.২০০৭)
২০০৬ সালে প্রকাশিত, কালিদাস ভদ্র সংকলিত “ছোটদের আবৃত্তির কবিতা”
কাব্যসংকলনের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
স্টেন গানের বুলেটে বুলেটে
আমার ঝাঁঝরা বুকের উপরে ফুটে উঠেছে যে মানচিত্র---
তার নাম ভারতবর্ষ।
আমার প্রতিটি রক্তের ফোঁটা দিয়ে
চা-বাগিচায় কফি খেতে,
কয়লা-খাদানে, পাহাড়ে-অরণ্যে
লেখা হয়েছে যে ভালোবাসা---
তার নাম ভারতবর্ষ।
আমার অশ্রুর জলসেচে আর হাড়ের ফসফেট-এ
খুনীর চেয়েও রুক্ষ কঠোর মাটিতে
বোনা হয়েছে যে-অন্তহীন ধান ও গানের স্বপ্ন---
তার নাম ভারতবর্ষ।
আমার ঠাণ্ডা মুখের ওপর
এখন গাঢ় হয়ে জমে আছে
ভাক্ রা নাঙ্গালের পাথুরে বাঁধের গমেভীর ছায়া।
ডিগবয়ের বুক থেকে
মায়ের দুধের মত উঠে আসা তোলো ভেসে যাচ্ছে
আমার সারা শরীর।
আমার নাম ভারতবর্ষ
কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত (২৫.১১.১৯৩৫ - ২৯/৩০.১১.২০০৭)। ২০১৩ সালে প্রকাশিত (নবম প্রকাশ) ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলিত শুধু আবৃত্তির জন্য সংতলনের কবিতা।
কপাল থেকে দাঙ্গার রক্ত মুছে ফেলে
আমাকে বুকে ক’রে তুলে নিতে এসেছে
আমেদাবাদের সুতোকলের জঙ্গী মজুর।
আমার মৃতদেহের পাহারাদার আজ
প্রতিটি হাল বহনকারী বলরাম।
প্রতিটি ধর্ষিতা আদিবাসী যুবতীর
শোক নয় ক্রোধের আগুনে
দাউ দাউ জ্বলে যাচ্ছে আমার শেষ শয্যা।
ভরাট গর্ভের মত
আকাশে আকাশে কেঁপে উঠছে মেঘ।
বৃষ্টি আসবে।
ঘাতকের স্টেনগান আর আমার মাঝবরাবর
ঝরে যাবে বরফ-গলা গঙ্গোত্রী।
আর একটু পরেই প্রতিটি মরা খাল-বিল-পুকুর
কানায় কানায় ভরে উঠবে আমার মায়ের চোখের মত।
প্রতিটি পাথর ঢেকে যাবে উদ্ভিদের সবুদ চুম্বনে।
ওড়িশির ছন্দে ভারতনাট্যমের মুদ্রায়
সাঁওতালী মাদলে আর ভাঙরার আলোড়নে
জেগে উঠবে তুমুল উত্সবের রাত।
সেই রাতে
সেই তারায় ফেটে পরা মেহফিলের রাতে
তোমরা ভুলে যেও না আমাকে
যার ছেঁড়া হাত, ফাঁসা জঠর, উপড়ে আনা কল্ জে,
ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু, রক্ত, ঘাম
মাইল-মাইল অভিমান আর ভালোবাসার নাম
স্বদেশ
স্বাধীনতা
ভারতবর্ষ॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শীর্ণ দুটি মনিবন্ধে
লোহার ভালোবাসা---
আশায় বাঁচো,
উজ্জীবনের আশা।
সেলের ঘন অন্ধকারে
মমতা হয়ে নামুক
উদোম পিঠে
সোহাগমাখা চাবুক।
বজ্রো বাজো বাঁশি,
ঝাঝারা বুকে
ফুল ছুঁড়ে, দিক
বুলেট-ভরা হাসি।
আলো আমার আলো,
এই কি তোমার
তীব্রদহন
মরণে জমকালো!
শিকল খোঁজে স্পর্শ
কংস-কারায়
কৃষ্ণে ঠাসা
গোটা ভারতবর্ষ॥
আলো আমার আলো কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত (২৫.১১.১৯৩৫ - ২৯/৩০.১১.২০০৭)
২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি সব্যসাচী দেব সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাজপথ আলো করা লেনিন এর মূর্তি
রয়েছে এখানে
কাছাকাছি রয়েছেন মার্ক্স এঙ্গেলসও
ঘরে ঘরে সাজানো তাঁদের বই,
তবু গ্রামে গঞ্জে এই বইগুলি
আপত্তিকর হিসাবে চিহ্নিত।
আপনি একটু সতর্ক থাকবেন।
দেওয়ালে দোওয়ালে
মার্ক্সবাদ বিজ্ঞান যদিও
আর মোড়ে মোড়ে গড়ে ওঠা
শনি ঠাকুরের মন্দিরগুলোর সঙ্গে
তাদের বিচিত্র সহ-অবস্থান, তবুও
আপনি একটু সতর্ক থাকবেন।
এখানে সরণি রয়েছে লেনিনের নামে
হো চি মিনের নামে
কানু সিধুর ডহরও রয়েছে,
কিন্তু কানু সিধুদের আঙ্গিনায় পা দিলেই
পুলিশ ছেঁকে তুলবে আপনাকে
তার পর থার্ড ডিগ্রী থেকে সংঘর্ষে মৃত্যু
কিছুই হতে পারে আপনার।
আপনি একটু সতর্ক থাকবেন কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। এই কবিতাটি কবির ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০৭ এ প্রকাশিত "সিঙ্গুর
নন্দীগ্রামের মিছিলে" বইটি থেকে নেয়া।
আপনি একটু সতর্ক থাকবেন।
শ্রেণী সংগ্রাম পবিত্র শব্দ হলেও
মনে রাখবেন পবিত্রতারও সীমা আছে
তা লঙ্ঘন করে অনুশীলনের পরিণতি
ভিখারী পাশোয়ান,
ছোট আঙারিয়া,
কেউ লাশ খুঁজে পাবে না।
আপনি একটু সতর্ক থাকবেন।
সীমান্তে নয়, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স
ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস টহল দিচ্ছে
মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায়,
পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলিতে
উন্নয়নের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে
তিনটি থানা ভেঙ্গে
হচ্ছে ছটি থানা
গড়া হচ্ছে তিনটি নতুন জেল আর
গণতন্ত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিদ্র করতে এসেছে
আরও সাত ব্যাটালিয়ান সি আর পি।
আপনি একটু সতর্ক থাকবেন।
দ্বন্দ্ব নয়, উন্নয়ন নিয়ে
রেষারেষি চলছে কেন্দ্রের সাথে
রাজ্য ও কেন্দ্রের সম্পর্ক এমনই যে
মুখ্যমন্ত্রী মুখ খুললেই
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শ্রীমুখের পদ্মগন্ধ
ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে.
ব্যক্তি মালিকানার পবিত্রতা
কেন্দ্রের মতই এ রাজ্যেও স্বীকৃত
তাই মনে হতেই পারে
গোয়েঙ্কা নেওটিয়ে টোডিদের
মৃগয়াক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বাংলা ;
কিন্তু আসলে
শিল্পায়নের উজ্জ্বল স্থপতি ওরাই
নালা-জলা-খানা-ডোবা ভরাট হয়ে
ওদের হাতে শহরে শহরে
চলছে উন্নয়নের মহোত্সব
লেখা হচ্ছে কংক্রিটের কবিতা।
শিক্ষা স্বাস্থ সম্পদ লুণ্ঠনের মত
ছোটখাট ব্যাপারে
বুদ্ধিজীবিরা বিব্রত হন না মোটেই,
আপত্তিকর বইপত্র থেকে মুক্তি পাওয়ার
মুখ্যমন্ত্রীর কৌশল সম্পর্কে
একমত হতে তাঁরা ব্যস্ত থাকেন ;
তাই বন্ধ কারখানা বা চা বাগানের
শ্রমিকদের পেটে ভাত জুটুক বা না জুটুক
নাচ গান নাটক সিনেমার তরজায়
সারা বছর বুদ্ধিজীবিরা
মাতিয়ে রাখেন নন্দন চত্তর।
আপনি একটু সতর্ক থাকবেন।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হুজুরকে তোফা দিতে
সাঙ্কোপাঞ্জাকে সঙ্গে নিয়ে
বল্লম তাক করে
কৃষি জমিতে থাবা বসালো
শিল্পায়ণের ডন কিহেতো।
কালো মেঘ দেখে
উত্তাল হয়ে উঠলো সিঙ্গুর
জমি বাঁচানোর আন্দোলন
টেনে আনলো সবাইকে।
গোপন সার্কুলারে মুখ বন্ধ ওদের :
সিঙ্গুর নিয়ে কোন কথা নয়।
শোষণের জমি ফুঁড়ে ওঠা কুঁড়ি
ভূমিহীনের কন্যা-কিশোরী
বাজেমেলিয়ার তাপসী মালিক
দারিদ্র তাকে স্কুল ছাড়িয়েছিল আগেই
তার নতুন স্বপ্ন জড়িয়ে গেল
মাটি আর মানুষের লড়াইয়ে
কচি কাঁচাদের গণ আন্দোলনে
অনশনরত ছিল সেও
পাঁপড়ি মেলে উঠে আসছিল নতুন নেত্রী।
যদিও তাপসী মালিক কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। এই কবিতাটি কবির ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০৭ এ প্রকাশিত "সিঙ্গুর
নন্দীগ্রামের মিছিলে" বইটি থেকে নেয়া। সিঙ্গুরে, আন্দোলনকারী তাপসী মালিককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারা হয়। বিচারের নামে প্রহসনে, অভিযুক্ত
অপরাধীরা সব বেকসুর খালাস হয়ে যায়। তদানীন্তন সরকার পক্ষের কবি-সাহিত্যিক-ফিল্ম-মেকারগণ মিলিত হয়ে মৃতা তাপসী মালিকের চরিত্রহননের
খোলাখুলি চেষ্টা করেন লেখালেখি ক’রে, সিনেমা তৈরী করে, নাটক লিখে উপস্থাপন করে। তাঁদের মধ্যে খ্যাতনামা বিশিষ্ট নারী বুদ্ধিজীবীরাও ছিলেন!
রবিবারের আলো ফোটেনি তখনও
বাঁধের ধারে গিয়েছিল তাপসী
যেমন যায় গাঁয়ের মেয়েরা
সাত সকালে।
আন্দোলনের উপর নজর রাখা দাদারা
রাত পাহারাদার
একলা পেয়ে তাকে বেড়ার ও দিকে
তুলে নিয়ে গিয়েছিল
নেকড়ের দল।
খোঁড়া মাটির জ্বলন্ত উনুনে চিৎ করে
শোয়ান, জিভ বেরনো তাপসীর
আধপোড়া দেহ দেখেছিল গ্রামবাসীরা।
তদন্কে ডোবাতে কুত্সিত চক্রান্ত সক্রিয়
তাই পোস্টমর্টম বলতে পারবেনা
ধর্ষণ হয়েছিল কি না
সত্য প্রকাশ পেলে, অপরাধীরা
শনাক্ত হলে, ওদের কি হবে
যাদের ঈশারায় ঘটেছে এ ঘটনা
তাই রহস্যাবৃত থাকবে সব কিছু।
রাজকুমার ভুলের হত্যা
স্বাভাবিক মৃত্যু, তাদের কাছে। তাই তাপসীর
এই নৃশংস হত্যাকে ঘাতকরা যে
আত্মহত্যা, অস্বাভাবিক মৃত্যু
বলে পার পেতে চাইবে
তাতে আশ্চর্যের আর কি আছে ?
তাপসীকে পুড়িয়ে ছাই করতে চেয়েছিল ওরা
কিন্তু ওদের মৃত্যুবাণ হয়ে ফিরে এসেছে সে
সারা রাস্তা জুড়ে শুয়ে ধিক্কার জানাচ্ছে মেয়েরা
আর এ দাবী আজ নয় কাল উঠবেই
ঐ হিংস্র জানোয়ারগুলোর দাঁত আর নখ
এখনই উপড়ে ফেলা দরকার।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তিরিশ বছর ধরে
ওরা শিখিয়েছে শুধু জবরদখল।
জান দেব, তবু জমি দেবেনা
এ যুদ্ধঘোষ
কেড়ে নিল ওদের ঘুম।
আড়াই মাস ধরে।
ঘনীভূত হয়েছে
ক্ষুধার্ত নেকড়েদের হামলা প্রস্তুতি।
নন্দীগ্রাম দখলের দিন
হিংস্র পুলিশ-প্রশাসক
উর্দিপরা ক্যাডার ও ভাড়াটে বাহিনীর
হত্যালীলার হাড়-হীম করা বীভত্সতায়,
শিউরে উঠল সারা দেশ
ওদের মুখোশহীন মুখ দেখে।
আহত, নিহত, নিখোঁজ
গণধর্ষিতা ও অত্যাচারিতের
দীর্ঘ সূচী হাতে
শোককে ঘৃণায় বদলে
উঠে দাঁড়ান নন্দীগ্রাম
আজ ঘুম ভাঙ্গানিয়া।
নন্দীগ্রাম কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। এই কবিতাটি কবির ১১ই সেপ্টেম্বর
২০০৭ এ প্রকাশিত "সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের মিছিলে" বইটি থেকে নেয়া। নন্দীগ্রামে ১৪ই মার্চ ২০০৬
সালে ঘটে যাওয়া, জমির দখল নেবার জন্য, জনতার উপরে পুলিসী আক্রমণের প্রকিবাদ।
গণ আন্দোলনের জোয়ারে
থর থর করছে সারা বাংলা
ভাঙন ধরেছে অচলায়তনে
মানুষ শিখতে চাইছে
অস্ত্রের ব্যবহার।
ফিরে আসছে ব্যারিকেডের দিন।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সকাল থেকেই
পাকা ধানের জমি
কপির ক্ষেত
আলুর ক্ষেতের উপর দিয়ে
দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল
ভারী বুটের দল।
গুলির কান ফাটানো আওয়াজ
ধোঁয়ায় ধোঁয়ায়
কাঁদানো গ্যাসের ত্রাস।
বাজেমেলিয়া, খাসেরভেড়ি, বেড়াবেড়ির
যে চাষিরা জমি দিতে চায় নি
উর্দিপরা ক্যাডার বাহিনী
চিনিয়ে দিচ্ছিল তাদের ঘর।
"শুয়োরের বাচ্চারা বেরিয়ে আয়"
রণহুঙ্কার দিয়ে
শান্তিরক্ষকরা ঘরে ঢুকে ঢুকে
টেনে বের করছিল যুবকদের,
বর্বর পুলিশ আর উন্মত্ত ক্যাডারদের
অত্যাচার থেকে
মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ
বাদ পড়েনি কেউই।
সমুদ্রের দিকে কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। এই কবিতাটি কবির ১১ই
সেপ্টেম্বর ২০০৭ এ প্রকাশিত "সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের মিছিলে" বইটি থেকে নেয়া।
ধানের গোলায় আগুন
ঘরে আগুন, ক্ষেতে আগুন
সব কিছু তছনছ করলো
লাঠি, বন্দুক, ঢাল হাতে
পুলিশ, পুলিশ আর পুরলিশ।
বেড়া পোঁতা হচ্ছে
না যুদ্ধ চলছে
বোঝা যাচ্ছিল না।
পুলিশী তাণ্ডব চলবে
অথচ মহিলাদের শ্লীলতাহানি হবেনা
তাও কি হয় কখনো ?
বিভিন্ন চ্যানেলে
এ সবকিছুই
দেখেছেন আপনারা
প্রতিরোধে প্রস্তুত চাষিদের
মারমুখি পুলিশের দিকে
ঢিল ছুঁড়তেও দেখেছেন।
চাষিদের ছোঁড়া ইঁট
তীর, এসিড বাল্ব, বোমা
অথবা মহিলা পুলিশের ঘাড়ে
ক্ষুর চালানোর দৃশ্য
যাতে আহত হয়েছিল
একজন ডি এস পি সহ
কয়েকজন পুলিশ
দেখেনি কেউই।
দিব্যদৃষ্টিতে দেখেছে
মুখ্যমন্ত্রী, ফ্রন্টের চেয়ারম্যান
পার্টির রাঘব বোয়াল থেকে
চুনোপুঁটিরা
তাই তাদের ঘোষণা :
পুলিশ যা করেছে ঠিক করেছে।
বলা যায়
জয় হয়েছে ওদেরই।
যেমন জয় হয়েছিল আডবানীদের
মন্দির ওখানেই বানাবো
সদম্ভ ঘোষণায়
রক্তে ভিজেছিল দেশের মানচিত্র।
একই দম্ভোক্তি শোনা যাচ্ছে
টাটার কারখানা সিঙ্গুরেই হবে।
রক্তে ভিজতে শুরু করেছে
বাংলার মাটি।
যুদ্ধক্ষেত্র এখন শান্ত
চাষিরা ছত্রভঙ্গ
বহু লড়াকু বন্দী
সংগ্রামী চাষীদের দেখা যাচ্ছে না
পার্টির সেই সব ক্যাডাররা
যারা মাথা তুলতে পারেনি এতদিন
বেরিয়েছে এলাকা দখলে।
মহাকরণের মহাপাতককে
মুকুট পরিয়ে বসিয়ে দেওয়া যায়
সিঙ্গুরের সিংহাসনে
তিনি চাইলে
অনশনরত চাষিদের বুকের উপর দিয়েই
বের করা যেতে পারে
বিজয় মিছিল।
এমন কি
শিল্পায়নের প্রশ্নে
বামফ্রন্টে যে কোন মতভেদ নেই
প্রমাণ করতে
শরিকদের পাশে নিয়ে
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউণ্ডেই
বিশাল জনসভা করা যেতে পারে।
সিঙ্গুর সিমিত নেই সিঙ্গুরেই
বিক্ষোভের আঁচ এখন
সারা বাংলায়।
এদের কানামাছি খেলা
বন্ধ করতে চায় যারা
তাদের কেউ কেউ
খোঁজ নিচ্ছে জঙ্গলের,
ঝাঁটা, লাঠি, বঁটি হাতে
পুলিশ তাড়িয়েছিল যারা
গেরিলার পোষাক পরে
রাইফেল হাতে
জাগরী বাস্কের মত তারা
এগোতে চাইছে কিনা
তা কেউ জানে না।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হাজার খানেক মজুর
পার্টির নেতা, কর্মী, প্রশাসক
যুদ্ধকালীন তত্পরতায়
অসহায় কৃষকদের চোখের সামনে
তাদেরই জমিতে খুঁটি পুঁতে
বেড়া বেঁধে দিল
পুলিশের ছত্রছায়ায়।
বুক ভরা হাহাকার
আক্রোশে ফেটে পড়া চোখের আগুন
ঘরে ঘরে কালো পতাকা হয়ে উড়ছে।
কালিজ্ঞ দুর্গের অবরোধ
ভেঙ্গে দিয়েছেন বুদ্ধবাবু।
জমি সরকারের দখলে
টাটারা চাইলেই আসতে পারেন।
পাথর হওয়া চাষিরা
কালিজ্ঞ দুর্গের মত
বিস্ফোরণে চারিদিক কাঁপিয়ে
সব স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ করে দিলে
কোন শেরশাহের দেহ কিন্তু
খুঁজে পাওয়া যাবে না।
স্মৃতি-সৌধ কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। এই কবিতাটি কবির ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০৭ এ প্রকাশিত "সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের মিছিলে" বইটি থেকে নেয়া।
ওহে রতন,
ঘৃণার পাহাড় ঘিরে রয়েছে তোমাকে
শুধু সিঙ্গুরের চাষিদের
কলিঙ্গনগরের আদিবাসীদেরই নয়,
এ ঘৃণা সারা বাংলার, সারা দেশের।
জমি কেড়ে নেওয়ার সময়
কোন রেয়াৎ করেনি ওরা
খেত খামার হাড়গোড়ই নয়
গুঁড়িয়ে দিয়েছে সাধ আর স্বপ্নও।
ভাঙ্গা স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে
ধিকি ধিকি জ্বলা আগুনের মুখোমুখি
হতেই হবে তোমায়।
মার খেয়ে রা কাড়েনি যারা
পাল্টা মারের সময়
রেয়াৎ করবে না কেউই।
পুলিশ রয়েছে
ভবিষ্যতেও থাকবে জানি।
তাতে কি সন্ধ্যা হওয়া
রাত নামা আটকায় ?
সিঙ্গুরেও সন্ধ্যা হবে
পাখিদের সঙ্গে সঙ্গে শিবিরে
ফিরে যাবে পুলিশও।
নিরাপত্তা ফালা ফালা করে
তোমার ঘুম কেড়ে নিয়ে
বেরিয়ে আসবে রাতের সিঙ্গুর
আলো ফোটার আগেই উবে যাবে
কর্পুরের মত।
হঠাৎকোনদিন নিভে যাবে আলো
আক্রমণ হবে অতর্কিতে
একবার দুবার নয় বারবার।
প্রতিটি আক্রমণ থেকে
বেঁচে ফিরতে হবে তোমায়
কারখানায় ধোঁয়া ওড়ার আগেই
অফিসে অফিসে তোমার ছবি
টাঙ্গিয়ে দিতে পারে সিঙ্গুর।
তুমি তো সিঙ্গুর ছাড়বে না
তাতে অসুবিধা একটাই
এখানে টাওয়ার অফ সাইলেন্স নেই
খুঁটি দিয়ে ক্রস তৈরী করে
যীশুখৃষ্টের ভঙ্গিমায়
উঁচুতে তুলে দিলেই হল
বাংলার শকুন
সত্কার করবে সানন্দে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চারদিক ঘিরে
নন্দীগ্রামের লাইফ হেল
করে দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা হতেই
দেওয়ালে পিঠ ঠেকা মানুষ
গড়ে তুলেছিল প্রতিরোধ।
কয়েকটা লাশ ফেলেই
পালাতে হয়েছিল
পুলিশ ক্যাডার বাহিনীকে।
গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল
ওদের বাঙ্কার।
তারপরও হার্মাদবাহিনী
হানা দিয়েছে বার বার
কিন্তু পেছতে হয়েছে প্রতিবারই।
মরিচঝাঁপি, কেশপুর, গড়বেতা
দখলের ধাঁচেই তৈরী হয়েছিল
নন্দীগ্রাম দখলের নীল-নকশা।
পাঁচ দিন আগে থেকেই
কেশপুর, গড়বেতা, খেজুরি,
পটাশপুর, হলদিয়ার বাছাই করা
খুনেরা জমায়েত হয়েছিল
কুঞ্জপুর পার্টি দপ্তরে।
নন্দীগ্রাম অভিযান কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। এই কবিতাটি কবির ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০৭ এ প্রকাশিত "সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের মিছিলে" বইটি থেকে নেয়া।
পানখাই, মসজিদবার,
এক ও দুই নম্বর শের খাঁ চক ও
খেজুরির পাঁচটি পয়েন্টে
মতায়েন হয়েছিল ওদের
যেখানে মজুত ছিল প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র
পুলিশের উর্দি আর ঢালাও মদ।
পার্টি, পুলিশ, প্রশাসন
বহুদিন ধরে একটু একটু করে
তৈরী করেছিল নন্দীগ্রাম দখলের ছক।
চণ্ডীপুর, তেরপাখা, হেড়িয়া, হলদিয়া
তিরিশ মাইল ব্যাসে
সব দিক থেকেই ক্যাডার বাহিনী
ঘিরে রেখেছিল নন্দীগ্রাম।
যুদ্ধ প্রস্তুতিতে ঘাতকরা
যখন অস্ত্র শানাচ্ছিল
সাংবাদিক, রাজনীতিজ্ঞ ও জনগণের
প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল নন্দীগ্রামে।
বিভিন্ন জেলা থেকে আনানো হয়েছিল
পুলিশ প্রশাসনের
দলদাস আধিকারিকদের
কুঞ্জপুর কন্ট্রোল রুম
নিয়ন্ত্রিত করছিল অভিযান।
শাঁখ বাজিয়ে
অশনি সংকেত জানাল মেয়েরা
উলেমারা আজানে ছড়িয়ে দিল সেই বার্তা
সাবধান। সাবধান।
কার কত ক্ষমতা
দেখতে আসছে শয়তান।
নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া,
গাঙরা, সাত নম্বর জলপাই,
গড়চক্রবেড়িয়া ও আশের পাশের গ্রাম থেকে
জমি রক্ষার ডাকে গ্রামবাসীরা
ছুটে এসেছিলেন ভাঙাবেড়ায়।
তালপাটি খালের ওপারে
দেখা দিল ধীরে ধীরে
পুলিশ বাহিনীর বিশাল কনভয়
পার্টির ক্যাডার বাহিনী
ভাড়াটে খুনের দল
পুলিশের পোষাকে সবাই
কোন নেমপ্লেট নাই
চটি কারো কারো পায়।
কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায়
বুলেট বৃষ্টির পৈশাচিক তাণ্ডবে
নন্দীগ্রামকে লাশে মুড়ে দিল
হার্মাদ বাহিনী।
অভিযান শেষ হবার পর
অবাধ লুটপাট, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের জন্য
আরও চব্বিশ ঘন্টা
এলাকা ঘিরে রেখেছিল পুলিশ।
নম্বরহীন টাটা সুমো,
অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রাক ভরে ভরে
কোথায় নিয়ে গেল লাশগুলো ?
নিপীড়িতদের আর্তনাদের মাঝে
ঘরে ঘরে লাল পতাকা তুলে
মুখ্যমন্ত্রীকে নন্দীগ্রাম উপহার দিতেই
ধস নামলো
পতাকা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে
সারা দেশের বুকে এখন নন্দীগ্রাম।
ধিক্কার জানিয়ে
পদ আর সম্মানে লাথি মেরে
লেখক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীরা
নেমেছেন রাস্তায়।
নন্দীগ্রাম তার বুকে বেঁধা
প্রতিটি বুলেট
তুলে রেখে দিয়েছে।
মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার
জলপাই জঙ্গল যেদিন এখানে আসবে
তাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে
ঘাতকদের বুকে তারা
ফিরিয়ে দেবে
এক একটি বুলেট।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সত্যিই পালাবদল হয়েছে
দলতন্ত্র কে পরাস্ত করে
বিজয়ী হয়েছে গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র তোমায় স্বাগত জানাই।
তিন কুড়ি চার বছর ধরে
তোমার আসার পথ চেয়ে বসে আমি।
কথা ছিল তুমি এলেই
প্রত্যাহার করা হবে যৌথবাহিনী
তুলে নেওয়া হবে ১৪৪ ধারা,
বন্ধ হবে পুলিশি হয়রানি
মিথ্যা মামলা,
বারবার উচ্চারিত হয়েছিল
বন্দিমুক্তির কথা ।
গণতন্ত্র তুমি এসেছো।
কিন্তু রাজনৈতিক বন্দির নিঃশর্ত মুক্তির বদলে
‘বাঞ্ছিত’ ‘অবাঞ্ছিত’ বাছাইয়ের ব্যস্ত
তোমার সমিতি, তোমার পুলিশ, তোমার প্রশাসন।
আর গ্রেপ্তারের নতুন সূচি হাতে
এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে
হায়েনার দল।
স্বাগত গণতন্ত্র কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। কবিতাটি পশ্চিমবঙ্গে “পরিবর্তন”-এর পরে রচিত।
গণতন্ত্র, তুমি বদলে গেছ মাইরি।
তোমার টাল বাহানায়
অস্থির হয়ে উঠেছে জঙ্গল মহল
গমতন্ত্র, তোমার ভৈরব বাহিনীকে আটকাও।
গণতন্ত্র নয়, জঙ্গলমহলে বাড়ছে থানার পর থানা
উন্নয়ণের ঠেলায় বাক্যহারা ছিতামণি।
হায়দ্রাবাদ বা কাঁকের না পাঠিয়েই
‘গ্রেহাউন্ড’ ‘কোবরা’ ব্রান্ডের
আস্ত নরপশু গড়া যাবে বাংলাতেই।
উন্নয়ণের এই দ্যুতিতে
চোখ ধাঁধাচ্ছে সবার।
গণতন্ত্র তোমার বন্ধুরা
আমার আশেপাশেই আছে
আমার ‘বন্ধুরা’ তো তোমার পায়েরই কাছে।
তোমার লুকানো নখ দাঁত যে ভাবে
বেরতে শুরু করেছে মাইরি
ওরা আতঙ্কিত হবে না ত ?
বড় আশা নিয়ে গ্যাছে ওরা তোমার কাছে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তেত্রিশ বছর আগে
ঘর ছেড়েছিল যেদিন
নিজের মৃত্যু পরোয়ানায়
তো সাক্ষর করেই এসেছিল সে
তাই আজ কোন শোকগীত নয়
আজ শপথ নেওয়ার দিন।
প্রতিটি হত্যার বদলা আমরা নিয়েছি
বড়িশোল হত্যার বদলাও আমরা নেব।
শ্যাম, মুরলী, মহেশ হত্যার
ঠিক এক বছর পর
জনগণের গেরিলা সেনা গড়তেই
শুকিয়ে গিয়েছিল তোমাদের মুখ।
বেম্পুতাপু সত্যম, আদিভট্টালা কৈলাশম
হত্যার সঙ্গে সঙ্গে
শ্রীকাকুলমের সংগ্রাম শেষ হয়ে গেছে ভেবে
পৈশাচিক হাসি হেসেছিলে তোমরা
সেই রক্তের ঋণ শোধে
অন্ধ্র ওড়িশা সীমান্ত অঞ্চল পেরিয়ে
বিপ্লবী আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে
লেগেছিল পঁচিশ বছর।
আজ কোন শোকগীত নয় কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। ২০১২ সালে প্রকাশিত,
কবি কাঞ্চন কুমার সম্পাদিত “যুদ্ধে ছিলে স্বপ্নে আছো” কাব্য সংকলন থেকে নেওয়া।
লালগড় আন্দোলনের বহ্নিশিখায়
জঙ্গলমহল উত্তাল করে
চারু মজুমদার সরোজ দত্ত হত্যার
বদলা নিতে লাগল চার দশক।
যেখানে সেখানে পড়েছে শহিদের রক্ত
সে জমি আমাদের
জনগণের বিরুদ্ধে তোমাদের বর্বরতম যুদ্ধ ও
ঠেকাতে পারেনি তা
আমাদের স্বপ্ন ছড়িয়েছে জেলায় জেলায়
শুধু মালকানগিরি থেকেই নয়
প্রতিটি সংগ্রামী এলাকা থেকে
কুচকাওয়াজ করবে গেরিলাসেনা
তোমার জ্বলন্ত চিতার অগ্নিশিখার কাছে
আমাদের শপথ
তোমার হত্যার বদলা আমরা নেব
দিকে দিকে লালগড় গড়ে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তুমি প্রতিবাদী, তুমি প্রতিরোধী
তা সত্ত্বেও কি করে বিশ্বাস করি
তুমি নও মাওবাদী ?
মাওবাদীই যদি না হলে
অস্বীকারের এত সাহস
কোথা থেকে তুমি পেলে ?
বল কে কে আছে তোমার দলে ।
না, বলতে সে কিছুই পারেনি
আসলে বোবা যে।
এই সামান্য অসুবিধায় কি
ন্যায় বিচার আটকাবে ?
একই নামের আর একজন
উঠেছিল কাঠগড়ায়
উত্তর দিয়েছিল অবলীলায়
বোবা কালাদের নাই বা রইল শত্রু
অবধারিত দন্ডাদেশের ধারাবিবরণী
কান পাতলেই শোনা যায়।
নিয়ম
কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)
তুমি মানসিক প্রতিবন্ধী
কাজগপত্রে প্রমাণ থাকলেও
ব্যাপারটা পুরোপুরি
মাওবাদী অভিসন্ধি।
গ্রেপ্তার যখন হয়েছ
তখন তুমি গেরিলাই হবে
আধিকারিক পুরস্কার পাবে।
এই তো নিয়ম।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বসে না থেকে
ওঠ পাহাড়ে
না পারিস নিজে যদি
ওঠ যৌবনের কাঁধে ভর করে
তুই ওঠ পাহাড়ে।
দুঃখের যে নদীগুলি
পেরিয়ে এলি
লুকোচুরি খেলে সেথা
আলো আঁধারি।
বয়ে চলে জীবন
জঙ্গলের ভিতরে ভিতরে
তাকে স্তব্ধ করতে
চারিদিকে
যৌথবাহিনী ঘোরে
গুলি খায় জওয়ান
হাতে আসে
রাতের প্লাস্টিক।
দীঘির পাড়ের স্বপ্ন
কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)।
দীঘি পারের
শিশু চারা গাছগুলিকে
অন্ধকার জড়িয়ে ধরে
দেয় না বৃষ্টি ওদের
শুকিয়ে যেতে।
যৌবনের গাঁথা স্বপ্ন
লুকিয়ে অন্তরে
জেগে আছি দীঘির পারে
রাইফেল ধরে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এটা ভাগনাডিহির মাঠ নয়
তীর ধনুক হাতে যোদ্ধারা
. কেউ নেই এখানে
তবুও ঘুরে গেছে যৌথবাহিনী
. তিন দিন আগে।
. শহীদ স্তম্ভ
কথা বলছে আকাশের সঙ্গে
. স্মৃতির গহণ থেকে
, নেমে এসেছেন
উত্তরাধিকারীদের মাঝে
. সিধু কানহু চাঁদ ভৈরব
বিরসা মুন্ডা তিলকা মাঝি
. নতুন করে
. হুলের স্বপ্ন গেঁথে দিতে।
. শাল গিরার ডাকে
এসেছিলেন চারু মজুমদার
. হাসি মুখে
. শশধর, সিধু সরেন
. উমাকান্ত মাহাত
. লালমোহন টুডু কাছ থেকে
. লালগড়ের যুদ্ধ গাথা শুনতে।
হুল দিবসের শপথ
কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)।
ধামসা মাদলের তালে তালে
. গান নাচের ছন্দে
. তীর ধনুক খেলার মাঝে
. হুল দিবসের শপফ
একাকার হয়ে গেছে মিলে মিশে
. উঠেছে মুষ্টিবদ্ধ হাত
. তার সাথে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমাদের ত্রান শিবির থেকে
‘মাওবাদী’ বলে
যৌথবাহিনী যখন
তুলে নিয়ে গিয়েছিল ওকে
তখন বিরোধ করেছিলে
বলেছিলে, ও মাওবাদী নয়
তোমাদেরই লোক।
টেমস নয়, গঙ্গা-তিস্তা দিয়েই
গড়িয়েছে অনেক জল
হয়েছে পালাবদল
চিক চিক করে উঠেছিল
ছেলেটির চোখ দুটি।
পথ দেখতে দেখতে
প্রতীক্ষায় পাথর হল চোখ
তবু কোন হেলদোল না দেখে
কম্বলে মুখ লুকায় ছেলেটি
দুরন্ত আবেগে।
জেল থেকে
একদিন তো ও বেরোবে
সেদিন ও কোথায় যাবে ?
কোথায় যাবে
কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বঙ্গ সংস্কৃতি কর
ধুতি পাঞ্জাবি পরে
দেখলে বিপ্লবের স্বপ্ন
পচবে শ্রীঘরে।
বঙ্গ সংস্কৃতি কর ধুতি পাঞ্জাবি পরে
ভজহরি গড়গড়ির ছড়া ও মালিকের ছবি। ২০০২ সালে প্রকাশিত "যাতনা
শিবির" ছড়া ও কার্টুনের বই থেকে নেওয়া। ছড়াগুলি ভজহরি ছদ্মনামে লিখেছিলেন
কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। কার্টুনের শিল্পী মালিক।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
উন্নয়ন উন্নয়ন
উন্নয়ন চাই
উচ্ছেদ হবে
বস্তি, হকার তাই।
উন্নয়ন উন্নয়ন উন্নয়ন চাই
ভজহরি গড়গড়ির ছড়া ও মালিকের ছবি। ২০০২ সালে প্রকাশিত "যাতনা শিবির"
ছড়া ও কার্টুনের বই থেকে নেওয়া। ছড়াগুলি ভজহরি ছদ্মনামে লিখেছিলেন কবি
কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। কার্টুনের শিল্পী মালিক।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ইকড়ি মিকড়ি চাম চিকড়ি
চাম কাটে মনমোহন,
মনমোহনের উদার বাঁশি
বুদ্ধ বাজায় অহর্নিশি।
বুদ্ধর লেজে তারাবাজি
লাগিয়ে আগুন হাসছে পুঁজি।
পুঁজির নাচন তা থই থই
বাদ্যি বাজে হা হৈ হৈ,
বাদ্যি বাজে বিশ্বায়ন,
শিল্পায়ন, উন্নয়ন।
উন্নয়নের রথের চাকা
গরিব যত পড়ল চাপা।
প্রতিবাদে প্রতিশোধ
এবার হবে অবরোধ।
চোপরাও স্পিকটি নট
নো পেছনো ইস্টপ হল্ট।
ইকড়ি মিকড়ি চাম চিকড়ি নিন্দুকের ছড়া ও আরবির কার্টুন
২৫শে বৈশাখ ১৪১৪ এ প্রকাশিত, "ছড়ায় ছড়ায় ছড়রা" বইটি থেকে নেওয়া। ছড়াগুলি "নিন্দুক"
ছদ্মনামে লিখেছেন কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। এবং বইটিতে ছড়ার সাথে কার্টুন
এঁকেছেন "আরবি"।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দাদাগো ! দেখছি ভেবে অনেক দূর---
বাম জমানায় সকল ভালো,
আসল ভালো, নকল ভালো,
শ্রমিক ভালো, মালিক ভালো,
পুঁজি ভালো শ্রমও ভালো,
শ্রমিক তোষণ য্যায়সা ভালো,
মালিক তোষণ ত্যায়সা ভালো,
লড়াই ভালো, আপোষ ভালো,
লড়াই লড়াই খেলাও ভালো,
লাঠি ভালো, গুলি ভালো,
ব্যাটন হাতে পুলিশ ভালো,
আইন ভালো, শেকল ভালো,
শেকল ভাঙার সাজাও ভালো,
মজুর ভালো, কৃষক ভালো,
মজুর কৃষক মারাও ভালো,
চাষীর হাতে জমিন ভালো,
চাষীর জমি কাড়াও ভালো,
টাটা ভালো, বিড়লা ভালো,
সালিম দাদা কী যে ভালো,
শোষণ ভালো, শাসন ভালো,
পুঁজির সেবা অধিক ভালো,
কিন্তু সবার চাইতে ভালো---
পুঁজির চাট্ আর সোহাগ সুর।
দাদাগো! দেখছি ভেবে অনেক দূর নিন্দুকের ছড়া ও আরবির কার্টুন। ২৫শে
বৈশাখ ১৪১৪ এ প্রকাশিত, "ছড়ায় ছড়ায় ছড়রা" বইটি থেকে নেওয়া। ছড়াগুলি "নিন্দুক" ছদ্মনামে
লিখেছেন কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। কার্টুন এঁকেছেন "আরবি"।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আজগুবি নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা---
পুঁজির সঙ্গে কুস্তি করে গাত্রে হল ব্যাথা।
পুঁজি ধরার ব্যাবসা করি, তাও জানো না বুঝি ?
রাঘব পুঁজি, বোয়াল পুঁজি, হরেক রকম পুঁজি।
ঢপের পুঁজি, বেঢপ পুঁজি, পুঁজি চমত্কার
পুঁজির জন্য হন্যে হয়ে খুঁজি বারংবার।
অবশেষে পেলাম পুঁজি দেশবিদেশে ঘুরে,
অমনি কারা গাইছে যে গান বেয়াড়া সুরে।
যাহার সঙ্গে কুস্তি করে গাত্রে হল ব্যথা
তাহার নবীন আগমনে জাগল প্রসন্নতা।
মোদ্দা জেনো, সমজতন্ত্র যদিও মোদের লক্ষ্য,
আপাতত পুঁজি ধর্ম, পুঁজিবাদই মোক্ষ।
দোষ দিও না কী আর করি, এটাই যুগের দাবি,
মাইরি বলছি, একদিন মোরা আনবো সমাজবাদই !
আজগুবি নয়, আজগুবি নয় নিন্দুকের ছড়া ও আরবির কার্টুন। ২৫শে বৈশাখ
১৪১৪ এ প্রকাশিত, "ছড়ায় ছড়ায় ছড়রা" বইটি থেকে নেওয়া। ছড়াগুলি "নিন্দুক" ছদ্মনামে লিখেছেন
কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। কার্টুন এঁকেছেন "আরবি"।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চলে যাব---তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ নিন্দুকের ছড়া ও আরবির কার্টুন।
২৫শে বৈশাখ ১৪১৪ এ প্রকাশিত, "ছড়ায় ছড়ায় ছড়রা" বইটি থেকে নেওয়া। ছড়াগুলি "নিন্দুক" ছদ্মনামে
লিখেছেন কবি কাঞ্চন কুমার (জন্ম অক্টোবর ১৯৩৬)। কার্টুন এঁকেছেন "আরবি"।
সুন্দর মূর্তির স্থান শো-কেসের বদলে দরজার ওপরে কেন
বলিনি সে কথা, সেই ফক্কুড়ির বয়েস আর নেই
বয়েস হয়েছে তাই হেরে যাচ্ছি, অনবরত হেরে যাচ্ছি
অন্যের বিশ্বাসে আঘাত দিতে নেই, অন্যের বিশ্বাসে আঘাত দিতে নেই
চতুর্দিকে এত বিশ্বাস, দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে কত রকম বিশ্বাস
যে গেরুয়াবাদী ঠিক করেছে, পরধর্মের শিশুরও রক্ত
গড়াবে মাটিতে, চাটবে কুকুরে
সেটাও তার দৃঢ় বিশ্বাস
ধর্মের যে ধ্বজাধারী মনে করে, মেয়েরা গান গাইলে গলার নলি
কেটে দেওয়া হবে
টেনিস খেলতে চাইলেও পরতে হবে বোরখা
সেটাও তার দৃঢ় বিশ্বাস
যে পেটে বোমা বেঁধে যাচ্ছে ধ্বংসের দিকে
যে পেশি ফুলিয়ে, দেঁতো হাসি হেসে
পদানত করতে চাইছে গোটা বিশ্বকে
এরা সবাই তো বিশ্বাসীর দল
সবাই বিশ্বাসী, বিশ্বাসী, বিশ্বাসী…
এক একবার ভাঙা গলায় বলতে ইচ্ছে করে
অবিশ্বাসীর দল জাগো
দুনিয়ার সর্বহারা অবিশ্বাসীরা এক হও!